আজ- ২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার  রাত ৪:০২

গোপালপুরে পুলিশ এলাকাবাসী সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২৬ ॥ ফাঁকা গুলি বর্ষণ

 

দৃষ্টি নিউজ:


টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে ছয়জন পুলিশসহ ২৬জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। শনিবার রাতে পুলিশ পৌর এলাকার কোনাবাড়ি থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে রোববার(২ সেপ্টেম্বর) সকালে কোনাবাড়ি এলাকাবাসীর সাথে পুলিশের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হাসান আল মামুন জানান, শনিবার রাতে কোনাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ শফিকুল নামে এক যুবককে ৩৭পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। তার নামে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়। রোববার সকালে শফিকুলের এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করে যানবাহন ভাংচুর শুরু করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৭রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এসময় এলাকাবাসীর ইটপাটকেল নিক্ষেপে ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহতদের মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম(কনস্টেবল নং-১১৪০) ও জোবায়েরকে(কনস্টেবল নং-৮৪২) গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া গোপালপুর থানার এসআই আসলাম উদ্দিন, এএসআই আমিনুল ইসলাম(এএসআই নং- ৫৩৪), কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম(কনস্টেবল নং-১৪৬৪) ও আনিসুর রহমানকে (কনস্টেবল নং-১৮২২) প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু সরেজমিনে দুপুর আড়াইটায় গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে গিয়ে ভর্তি হওয়া কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম ও জোবায়েরকে হাসপাতালের বিছানায় দেখা যায়নি। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, ‘ভর্তিকৃত দুই পুলিশ লিখিত দিয়ে বাসায় গেছেন- গোসল ও খাওয়া দাওয়া করে আবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বেডে আসবেন’। সংঘর্ষের ঘটনায় কোনাবাড়ি গ্রামের সুমন ও সোহেল নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। সংঘর্ষে পুলিশের লাঠিপেটায় কোনাবাড়ি গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া(১০), গৃহবধূ সাহেবা আক্তার(৬০), বুলবুলী বেগম(৪০), কুলসুম বেগম(৩৫), কামাল হোসেন(৪০), মামুন মিয়া(২৫), খলিলুর রহমান(৩০) সহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা গ্রেপ্তারের ভয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে গোপণে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ওই ঘটনায় গোপালপুর থানার এসআই মো. আবু তাহের বাদি হয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রুবেল সহ কোনাবাড়ি গ্রামের ২০০-২৫০ জনের নামে যানবাহন ভাংচুর ও সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ওাস হাসান আল মামুন জানান।
গোপালপুর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হক ছানা জানান, নিরীহ মশলা মিলের মালিক শফিকুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। রোববার সকালে তার স্বজনরা গোপালপুর থানায় শফিকুলকে দেখতে গেলে পুলিশের সাথে কথাকাটির ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে। এ খবর কোনাবাড়ি গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী মিছিল নিয়ে আভুঙ্গীর মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে মুহুর্মুহু ফাঁকা গুলি করে ীবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পুলিশ কোনাবাড়ি গ্রামে গিয়ে বাড়ি বাড়ি ঢুকে নারী ও শিশুদের উপর লাঠিচার্জ করে। এসময় নারী-শিশুসহ অন্তত ২০জন এলাকাবাসী আহত হন। পুনরায় পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে তারা হাসপাতালে যেতেও সাহস পাচ্ছেনা। স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।
টাঙ্গাইল-২(গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সাংসদ খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল সহ জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 

0 Comments

You can be the first one to leave a comment.

 
 

Leave a Comment

 




 
 

 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno