আজ- ২৬শে মে, ২০১৯ ইং, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ রবিবার  রাত ১০:৪৮

ধর্ষিতা পাকিস্তানি কিশোরী নিরাপত্তাহীনতায়!

 
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মায়ের সাথে চিকিৎসাধীন ধর্ষিতা পকিস্তানি কিশোরী

দৃষ্টি নিউজ:

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ধর্ষিতা কিশোরী ও তার মা সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। শনিবার(২০ এপ্রিল) দুপুরে উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের মেয়ে মর্জিনার সহায়তায় ধর্ষিতা কন্যাকে নিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আসেন মা। বর্তমানে ধর্ষিতা পাকিস্তানি কিশোরী জেনারেল হাসপাতালের ৭নং ওয়ার্ডের এক্সট্রা-২ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ধর্ষিতা কিশোরী পাকিস্তানের নিউ করাচি হাদিকা তুলিব ফান্ড স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
পকিস্তানি নাগরিক ও ধর্ষিতার মা জানান, গত ২০ বছর আগে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীরকে সামাজিক রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন তিনি। এরপর বেশ কয়েক বছর তাদের সংসার জীবন ভালোই কাটছিল। এ সময় তাদের সংসারে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। হঠাৎ গত ১৫ বছর আগে হঠাৎ তিনি জানতে পারেন তার স্বামী হুমায়ুন আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে এ সংবাদটি পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয় ও তার স্বামী জীবিত এবং পকিস্তানেই আছেন বলেও জানতে পারেন তিনি।
এদিকে, তবে গত বছর তিনি সংবাদ পান বাংলাদেশে বসবাসকারী তার শ্বাশুড়ি খুব অসুস্থ। এ কারণে ছয় মাসের ভিসা ও নবম শ্রেণিতে পড়–য়া কন্যাকে সাথে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওঠেন উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে। সেখানে ওঠার পর থেকেই আরেক ভাসুর আবুল হোসেনের বখাটে ছেলে আল-আমিন ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। বেশ কয়েকবার শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করে। ওই ঘটনার পরপরই পারিবারিকভাবে বিষয়টির ফয়সালা করে দেন তারা। তবে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসার খবর পেয়ে বখাটে আল-আমিন ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে। গত ১৬ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় তাকে কাকার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। অপহরণের পর আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এরপরও কন্যাকে ফিরে পেতে নানাভাবে চেষ্টা চালান তার মা। এমতাবস্থায় গত ১৭ এপ্রিল আল-আমিনসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধর্ষিতা পকিস্তানি কিশোরী

মামলা দায়েরে করার পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রধান আসামির মা আনোয়ারা বেগমকে(৪৭) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধর্ষকের মায়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার(১৮ এপ্রিল) ভোরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসায় অভিযান চালিয়ে বন্দিদশা থেকে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করা হয়। ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষা করানোর জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের পরীক্ষা বা হাসপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত কোন তথ্য তিনি জানেন না।
অপরদিকে, ধর্ষণের পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও ধর্ষক গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিচার প্রাপ্তির শঙ্কায় রয়েছেন পাকিস্তানি মা-মেয়ে। এছাড়া, ধর্ষক আল আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে নানাভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। উপর্যুপরি ধর্ষণের ফলে শারিরীকভাবে অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ওই কিশোরী। ডাক্তারী পরীক্ষায় আলামত নেয়ার পর তার আর কোন চিকিৎসা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেয়নি। অসুস্থ হওয়ায় পুনরায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ রোগীর মতোই ভর্তি করা হয়েছে। তবে হাসপাতালেও তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
ধর্ষিতার সুচিকিৎসা প্রাপ্তির সহায়তাকারী ও ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের মেয়ে মর্জিনা জানান, তার চাচাত বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মামলার প্রধান আসামিও তার চাচাত ভাই। অভিযুক্ত আল-আমিনকে না পেয়ে তার মা আনোয়ারা বেগমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় ও ধর্ষিতার পরিবারকে সহায়তা করায় তার বাবা ওয়াদুদসহ সকলকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ধর্ষক আল-আমিনের পরিবার।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, ধর্ষক আল-আমিনকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি পকিস্তানি পরিবারের নিরাপত্তায় পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাসপাতালে ধর্ষিতা পাকিস্তানি কিশোরীর ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে তত্ত্বাবধায় ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, ধর্ষণের আলামতে নেয়া ‘সোয়াব’ পরীক্ষার ফলাফল এখনও তারা পাননি। নানা শারীরিক সমস্যা জনিত কারণে ভর্তিরত ধর্ষিতার সুচিকিৎসায় সকল ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ, গত ১৬ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় পাকিস্তানি কিশোরীকে তার কাকার বাড়ি থেকে কৌশলে অপহরণ করে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে তারই কাকাত ভাই আল আমিন। এমতাবস্থায় গত ১৭ এপ্রিল আল আমীনসহ তিনজনকে আসামি করে পাকিস্তানি নাগরিক ধর্ষিতার মা গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ১৯ এপ্রিল ভোরে ধর্ষক আল-আমিনের মা আনোয়ারা বেগমকে(৪৭) গ্রেপ্তার করে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসা থেকে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 

0 Comments

You can be the first one to leave a comment.

 
 

Leave a Comment

 




 
 

 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno