আজ- ২২শে মার্চ, ২০১৯ ইং, ৮ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ শুক্রবার  রাত ১১:৩৪

বাংলাদেশকে কেউ দরিদ্র দেশ বলে অবহেলা করতে পারে না :: প্রধানমন্ত্রী

 

দৃষ্টি নিউজ:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই আমার যাত্রা শুরু। মা-বাবা-ভাই হারিয়েছিল। তখন একটাই আলো পেয়েছিলাম তা হলো জনগণের ভালোবাসা। জনগণের ভালোবাসা পেয়েছি, জনগনের আস্থা পেয়েছি। জনসেবা করার জন্যই কাজ করছি। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত একটা সমাজ উপহার দেবার আকাঙ্খা নিয়ে সোনার বাংলা গড়তে আমার বাবা সারাটা জীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি সেই কথা মনে রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে যেতে পারেননি। তাঁর সে কাজের একটুও যদি করতে পারি তাহলে মনে করবো- সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
বৃহস্পতিবার(১৪ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল(বিডি) আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান ও কুমুদিনীর ৮৬তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আজকে কেউ দরিদ্র দেশ হিসেবে অবহেলা করতে পারে না। কেউ করুণার চোখে দেখে না। বরং সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ১০ বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন আমরা আনতে পেরেছি। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। এদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আজকের শিশুদের জন্য আগামিতে সুন্দর জীবন, সুন্দর ভবিষ্যত রেখে যেতে চাই।
রণদা প্রসাদ সাহা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা এক হাতে অর্থ উপার্জন করতেন, আরেক হাতে বিলিয়ে দিতেন। মানুষের কল্যাণে তিনি দান করেছেন। মেয়েদের শিক্ষায়, চিকিৎসায় তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। কুমুদিনী ট্রাস্টের মাধ্যমে অনেক কাজ করা হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহাকে ১৯৭১ সালের ৭ই মে নারায়ণগঞ্জ কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের হেড অফিস থেকে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও এ দেশীয় বর্বর দোসররা অপহরণ করে। তখন থেকে তাঁরা নিখোঁজ হন। হানাদার বাহিনী তাঁদের হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলে। রণদা প্রসাদ সাহার পরিবার ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিচিত। দানবীরের বড় মেয়ে বিজয়া খানকে আমি ফুফু বলে ডাকতাম। ছোট মেয়ে জয়াপতি মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এবং পরবর্তীতে সকল প্রতিকূলতায় পরিবার ও ট্রাস্টকে আগলে রেখেছিলেন। তাঁরা আজ নেই। আমি তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, আমরা আজ জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করছি। বিগত ১০ বছরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্য-প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কূটনৈতিক সাফল্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি সেক্টরে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’।
ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা। সারাদেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, পাতাল সড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেল, নৌ ও যোগাযোগে অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি। মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি।
অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বের ৫টি দেশের একটি বাংলাদেশ। উন্নয়নের ৯০ ভাগ কাজই নিজস্ব অর্থায়নে করছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করেছি। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য পরিচালনা করছি. বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামি প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ।
সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিপুলভাবে বিজয়ী করেছে। আমাদের ওপর দেশের মানুষ যে দৃঢ় আস্থা রেখেছে, আমরা তার পরিপূর্ণ মূল্যায়ন করব। আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি পালন করব। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে পরিণত করব, ইনশাআল্লাহ।
কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক (শিক্ষা) প্রতিভা মুৎসুদ্দির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, স্থানীয় সাংসদ একাব্বর হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংস্থার পরিচালক ও রণদা প্রসাদ সাহার পূত্রবধূ শ্রীমতি সাহা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা। অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, আতাউর রহমান খান এমপি সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মনোঙ্গ ডিসপ্লে উপভোগ করেন। পরে তিনি দুপুরের খাওয়া শেষে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 

0 Comments

You can be the first one to leave a comment.

 
 

Leave a Comment

 




 
 

 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno