দৃষ্টি নিউজ:

সোমবার সকাল থেকেই মন্ডপে মন্ডপে বাজে ঢাক। টানা পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ, অঞ্জলি, শঙ্খ, কাঁসের ধ্বনি, ধূপ, উলোধ্বনি আর চারপাশের যাগযঞ্জ জানান দিচ্ছিল মহাধুমধামেই চলছে মহানবমী। কিন্তু ভক্তদের মুখে যেন বিষাদের ছাপ। মন ভালো নেই কারও। মঙ্গলবার(৮ অক্টোবর) বিজয়া দশমী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা বাপের বাড়ি ছেড়ে যাবেন কৈলাসের দেবালয়ে। তাই বিষাদের সুর যেন সবখানেই।
সোমবার মহানবমীতে দুর্গাদেবীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শেষদিনে রাজধানীসহ সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে ছিল ভক্তদের উপচেপড়া ভিড়। রাজধানীতে সহ আশপাশের জেলাগুলোতে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতীমা দর্শন করেন সব ধর্মের মানুষ। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি সনাতন সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রতীমা দর্শন করেন। বিভিন্ন পূজা কমিটির উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আজ দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী শরোদোৎসবের। বিকাল ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বের হবে বিজয়া শোভাযাত্রা। এপর ওয়াইজঘাটসহ তিনটি স্থানে হবে প্রতীমা বিসর্জন।
‘যেও না নবমী-নিশি, না হইও রে অবসান’ নবমীর দিন এলেই মনে হয়, পূজা তো শেষ। আরমাত্র কিছু সময়। এরপরই বিদায়। দরজায় কড়া নাড়ছে বিজয়া দশমী! মাকে বিদায় দেওয়ার পালা। ‘বিদায়’ কথাটি মন খারাপ করে দেয়ার মতোই। কিন্তু সত্য যে বড়ই কঠিন। তা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় কী। আবেগ আর ভালোবাসা দিয়ে তো সবকিছু ধরে রাখা যায় না। কখনো কখনো বুকে চাপা কষ্ট রেখেও সত্যিটা মেনে নিতে হয়। আবার আসবেন মা। এই সান্তনা নিয়েই ভক্তরা নিজেদের হয়তো সামলে নেবেন।
