দৃষ্টি নিউজ:

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামে ‘এক ঘরে’ করে রাখা সেই দুই পরিবার অবশেষে মুক্তি পেল। উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় মাতব্বর ও অভিযুক্ত দুই পক্ষের লোকজন নিয়ে ডুবাইল দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদে মিমাংসা বৈঠক করে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। শনিবার(৪ নভেম্বর) ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও মামলার বাদি শহিদুল ইসলাম এ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দেয়া তথ্যে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ডুবাইল গ্রামের ইয়াসিন মিয়া (৫৩) নামে এক ব্যক্তি পুর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন হন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে ওই গ্রামের ১২জনকে অভিযুক্ত করে দেলদুয়ার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পর থেকেই হত্যা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য বাদিকে চাপ দেয়া হয়। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার না করায় ওই দুটি পরিবারকে তিন মাস ধরে ‘এক ঘরে’ করে রেখেছিল স্থানীয় মাতব্বররা। পরিবার দুটির সাথে গ্রামের কাউকে কোন প্রকার সম্পর্ক রাখতে দেয়া হয়নি। মাতব্বরদের চাপে এলাকার দোকান-পাট থেকেও তাদের কাছে কোন পণ্য বিক্রি করা নিষেধ ছিল। এ নিয়ে চরম হতাশা আর উৎকন্ঠায় ছিল ওই দুটি পরিবার।
সম্প্রতি(১ নভেম্বর) দৈনিক যায়যায়দিন সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে সম্প্রতি দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয় উপজেলা প্রশাসন।
মিমাংসা বৈঠকে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের(সদর সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোবিন্দ্র চন্দ্র পাল, দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌস আহমেদ, দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম, ডুবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস, দেলদুয়ার থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হান্নান, স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল মিয়া, স্থানীয় মাতব্বরদের মধ্যে আব্দুর রহিম, জসিম, জালাল ভূঁইয়া, দেলোয়ার ভূঁইয়া, শাহআলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
‘একঘরে’ পরিবারের সদস্য ও মামলার বাদি শহিদুল ইসলাম শনিবার জানান, এখন তারা অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তবে বেশ কিছুদিন যাবৎ সমাজের মানুষগুলোর সাথে কথোপকথন বন্ধ থাকাসহ দোকানপাটে কেনাকাটা বন্ধ থাকার নিয়মগুলো পরিবর্তন করতে একটু সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
