প্রথম পাতা / অপরাধ /
আলোচিত যৌন নিগ্রহ মামলার বাদির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বন্ধু গ্রেপ্তার
By দৃষ্টি টিভি on ১৯ নভেম্বর, ২০২৩ ৫:৩২ অপরাহ্ন / no comments
দৃষ্টি নিউজ:
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির নামে করা যৌন নিগ্রহের মামলার বাদি এশা মির্জার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ওই নারীর বন্ধু সৌরভ পালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার(১৯ নভেম্বর) দুপুরে পাঁচ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করে সৌরভকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভিকটিম এশার বড় বোন লুনা মির্জা বাদী হয়ে তাদেরই বড় ভাই মির্জা জিয়াউর হাসান জনি ও এশা’র বন্ধু সৌরভ পালের নামে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। শনিবার (১৮ নভেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করার পর রোববার(১৯ নভেম্বর) সকালে সৌরভকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সৌরভ পাল টাঙ্গাইল শহরের থানাপাড়ার শ্যামল পালের ছেলে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, শনিবার রাতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে এশা মির্জার বোন লুনা মির্জা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এশা মির্জার ভাই মির্জা জিয়াউর হাসান জনি ও সৌরভ পাল নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে। রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
এরআগে শনিবার(১৮ নভেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইল শহরের বোয়ালী এলাকার তিনতলা বাসার নিজ কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এশা মির্জার(১৭) মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ঢাকা থেকে ক্রাইমসিন দল আসার পর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও ওই নারীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঘুমানোর কথা বলে ওই নারী নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে। কক্ষে ঢোকার আগে নিজের পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে এক আত্মীয়ের কাছে রেখে যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে ওই আত্মীয় দরজায় ধাক্কা দেন। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ পাননি। খবর পেয়ে বিকাল চারটার দিকে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে এশার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়।
প্রকাশ, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় এশা মির্জা বাদি হয়ে টাঙ্গাইল-২(গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বড়ভাই গোলাম কিবরিয়া বড় মনি ও তার স্ত্রী নিগার আফতাবের নামে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় এশা মির্জা যৌন নিগ্রহের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন। পরে ৬ এপ্রিল দুপুরে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।
মামলা দায়ের করার পর গোলাম কিবরিয়া বড় মনি উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন পান। পরে নি¤œ আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ৩০ জুন টাঙ্গাইল শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন এশা মির্জা। পরে আদালতের নির্দেশে এশা মির্জার গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা যায়- অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়া বড় মনির শিশুটির বায়োলজিক্যাল বাবা নন।
আদালত গত ৯ অক্টোবর গোলাম কিবরিয়া বড় মনিকে ১১ জুলাই উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। পরে তিনি কারামুক্ত হন। যৌন নিগ্রহের মামলাটি টাঙ্গাইলের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিপিআই) তদন্ত করছে।
এরমধ্যে শনিবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এশা মির্জার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার ভাই মির্জা জিয়াউর হাসান জনিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ আপডেট
-
ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়ার তালিকা
-
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরমুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম মিয়ার দাফন সম্পন্ন
-
মওলানা ভাসানীর জীবনী পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন
-
পাহারা দিয়ে উৎসব আনন্দময় হয়না :: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
-
কালিহাতীতে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা বৈষম্যের শিকার!
-
টাঙ্গাইলে বাস-মিনিবাস মালিকদের আমানতের কুপন ফেরত
-
টাঙ্গাইলে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত
-
জেলা সদর মসজিদ ও ইসলামী পাঠাগার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির পরিচিতি সভা
-
টাঙ্গাইলে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত