আজ- ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার  বিকাল ৫:৩৫

টাঙ্গাইলকে আবার অশান্ত করার পায়তারা চলছে ॥ সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে

 

দৃষ্টি নিউজ:

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে সোমবার(৭ জুন) দুপুর ও সকালে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে দুই গ্রুপ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।

এক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন টাঙ্গাইলের চাঞ্চল্যকর বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের স্ত্রী ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক নাহার আহমদ এবং অপরপক্ষে রয়েছেন ওই মামলায় জামিনপ্রাপ্ত আওয়ামীলীগ সমর্থিত সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা।

এ সময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব এলাকায় পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোষাকের পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য নিরাপত্তায় অংশ নেন। টাঙ্গাইল শহরের জেলা সদর রোডে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক নাহার আহমদ অভিযোগ করেন, চাঞ্চল্যকর বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে আবার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা করছে।

সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা জামিনে মুক্ত হয়ে শহরে ঘাপটি মেরে থাকা সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও খুনিদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। গত ৩১ মে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যার প্রতিবাদকারী তপন রবি দাসকে পেটে রিভলভার ঠেকিয়ে প্রকাশ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।

এ বিষয়ে ওই ছাত্র টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে এবং গত ১ জুন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি সবাইকে জানিয়েছে।

তিনি দাবি করেন, টাঙ্গাইলের কুখ্যাত খান পরিবারের প্রধান আমানুর রহমান খান রানার নেতৃত্বে পুরো টাঙ্গাইলে আবার অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়েছে।

তিনি সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার জামিন বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

চাঞ্চল্যকর বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামি আমানুর রহমান খান রানার জামিন বাতিল চেয়ে আহ্বানকৃত সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক নাহার আহমদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব ও জেলা আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি

গোলাম কিবরিয়া বড়মনি, টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম আমিন, আতিকুর রহমান মোর্শেদ, সদর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুর মোহম্মদ সিকদার মানিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের মেয়ে ফারজানা আহমদ মিথুন প্রমুখ।

অপরদিকে, টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) আসনের আওয়ামীলীগ সমর্থিত সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা ১ জুন সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদ করে জানান, তপন রবি দাস নামে কোন ছেলেকে তিনি চিনেন না- কোনদিন দেখেনও নি।

সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার নামে থানায় জিডি করে সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে- যার কুশীলবরা পর্দার আড়ালে রয়েছেন।

বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলাটিকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, ওই মামলায় তিনি দীর্ঘ ৩৪ মাস ২১দিন কারাবন্দি থেকে ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই জামিনে মুক্ত হন। এমন কোন ষড়যন্ত্র নাই- যা তাকে আটকে রাখার জন্য করা হয় নাই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে হাইব্রিড নেতারা স্থান করে নিয়ে তাদের মতো করে দল চালাচ্ছে।

২০১৪ সালের আগেও তাদের অনেককেই আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক দলের মিছিল-মিটিং ও সভা-সমাবেশে দেখা গেছে। এ সময় তিনি কিছু স্থিরচিত্র(ছবি) সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন।

তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, টাঙ্গাইল বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব

গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরা টাঙ্গাইলে সুকৌশলে আরও একটি অপকর্ম করে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজিয়ে তাকে নতুন করে ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়েছিল।

বিষয়টি তিনি জানতে পেরে স্থানীয় প্রশাসন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডকে অবগত করেন। তাদের সতর্ক নজরদারিতে কুচক্রীমহলের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

কিন্তু এরপরও তারা থেমে থাকেনি। তপন রবি দাসের সংবাদ সম্মেলনটিও এই কুচক্রীমহলের ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ।

সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইলে হত্যা, লুট, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে অন্যায়ের রাজত্ব কায়েমকারী হাইব্রিড মার্কা আওয়ামী লীগারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এবং দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সোমবার সকালে বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামি সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মির্জা আনোয়ার হোসেন বাবুল, জেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি ও সদর

উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্বাস আলী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ রাজীব, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মোতালিব হোসেন, ঘাটাইলের আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মো.

শাহজাহান, দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন তালুকদার, লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শরিফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno