আজ- ১১ই ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ সোমবার  রাত ১০:১৯

টাঙ্গাইলের বিএনপি নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িছাড়া!

 

বুলবুল মল্লিক:

টাঙ্গাইলে বিএনপির ১৯৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দায়েরকৃত এই ছয়টি মামলায় অজ্ঞাত আরও পাঁচশ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৬৬ জন। তারা এখন টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন।


বিএনপি নেতারা জানান, সারা জেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারছেন না। সবাই গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে।


পুলিশ ও বিএনপির নেতারা জানান, ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি ও মির্জাপুর থানায় একটি নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করে।

সদর থানায় দায়েরকৃত মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরও ১২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এ মামলায় আলামত হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে ককটেল উদ্ধার হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে শফিকুল ইসলাম নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালককে। তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মহিষানন্দলাল গ্রামের বাসিন্দা।


মির্জাপুর থানায় দায়ের করা মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩৫ জন অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। একইভাবে ৩০ অক্টোবর নাগরপুর থানায় ৪৮ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ১৫০জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ৩১ অক্টোবর কালিহাতী থানায় ১৬জন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ৯০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

দেলদুয়ার থানায় ২ অক্টোবর ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও ৩৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সবশেষ গোপালপুর থানায় দায়েরকৃত মামলায় ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় আরও ৭০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।


বিএনপির নেতারা জানান, এসব মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মামলাগুলোতে যে ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা কাল্পনিক। ককটেল বিস্ফোরণ-গুলি বর্ষণের মত ঘটনার কথাও কোনো কোনো মামলায় রয়েছে। অথচ ঘটনাস্থলে বা আশপাশের কেউ গুলি বা ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজ পায়নি। এগুলো সব গায়েবি ঘটনা।


কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ জানান, একেএম আব্দুল আউয়াল কালিহাতী কলেজের সহকারী অধ্যাপক। মঙ্গলবার(৭ নভেম্বর) দুপুরের পর কলেজের কাজ সেরে তিনি বাইরে এলে পুলিশ তাকে নাশকতার পরিকল্পনাকারী হিসেবে ধরে নিয়ে যায়। পরে কালিহাতী থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। তিনি টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদ ও জেলা শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি।


এ বিষয়ে কালিহাতী থানার এসআই মাহবুল ইসলাম জানান, তিনি থানায় দায়ের করা মামলার আসামি ছিলেন। নাশকতার পরিকল্পনাকারী হিসেবে উপজেলা সদরের বেতডোবা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


নাগরপুর থানায় দায়ের করা মামলার আসামি রেজাউল ইসলাম জানান, এক মাসেরও বেশি হয় তিনি নাগরপুরে যান না। তবুও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাকে আসামি করা হয়েছে।


নাগরপুর থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, তারা এগুলো বলবেই। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আসামিরা নানা কথাই বলে থাকেন। সুনির্দিষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। যারা জড়িত- তাদেরই আসামি করা হয়েছে। কাউকে কোন প্রকার হয়রানি করা হচ্ছে না।


ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদুর রহমান জানান, গত রোববার(৫ নভেম্বর) ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক কাজী আনোয়ারকে গত বছরের ২২ নভেম্বর দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ আদালতে পাঠায়। আদালতে যাওয়ার পর পুলিশ জানতে পারে ওই মামলায় কাজী আনোয়ার জামিনে আছেন। পরে পাশের কালিহাতী থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়।


জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক জানান, পুরো জেলায় কয়েক হাজার বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িতে থাকতে পারছেন না। পুলিশ প্রতি রাতেই জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি করছে।


জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল জানান, তার বিরুদ্ধেও নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিনি আড়ালে-আবডালে চলাফেরা করছেন। মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।


তিনি জানান, আন্দোলনের মাঠ থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্যই সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে এসব মিথ্যা-গায়েবি মামলা দিচ্ছে।


টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ অ্যান্ড অপস) মো. শরফুদ্দিন জানান, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদেরকেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কাউকে কোনভাবেই হয়রানি করা হচ্ছে না।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno