আজ- ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ রবিবার  সকাল ১০:১৪

টাঙ্গাইলে রবি মৌসুমে সরিষা ক্ষেতে ব্যাপক জনপ্রিয় মৌচাষ

 

দৃষ্টি নিউজ:


টাঙ্গাইলে রবি মৌসুমে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌচাষ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৌচাষিরা টাঙ্গাইলের সরিষা ক্ষেতের আশপাশে মধু সংগ্রহের জন্যে ভির করছেন। এবছর জেলার বিভিন্ন স্থানে সাত হাজারেরও বেশি মৌ-বাক্স স্থাপন করেছে মধু চাষিরা। এখান থেকে সংগৃহীত মধু তারা বাজারে বিক্রি করে লাভবানও হচ্ছেন। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা আধুনিক না হওয়ায় ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মৌ চাষিরা।
টাঙ্গাইল জেলায় চলতি মৌসুমে ২৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। জেলার সর্বত্র সরিষার আবাদের কারণে জেলার মৌচাষি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৌচাষিরা এবারও টাঙ্গাইলে মধু সংগ্রহের জন্যে ভির করেছে। জেলার ১২টি উপজেলার মধুপুর ও কালিহাতী ব্যতিত অন্য ১০টি উপজেলায়ই সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌচাষিরা সারিবদ্ধ মৌ-বাক্স স্থাপন করেছে। মৌমাছিরা ঝাঁকে ঝাঁকে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌ-বাক্সে জমা করছে। আর মৌ-চাষিরা বাক্সে জমা হওয়া মধু প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ওই মধু ছড়িয়ে পড়ছে দেশ থেকে বিদেশেও। মৌ-চাষের মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নতি না হওয়ায় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চাষিরা।
মাত্র কয়েক বছর আগেও টাঙ্গাইলের সরিষা চাষিরা ফলন কম হবে এ ধারণায় সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ-বাক্স স্থাপনে বাধা দিতেন। জেলার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তাদের সে ধারণা পাল্টেছে। এখন মৌ-বাক্স স্থাপনে বাধা না দিয়ে বরং উৎসাহ যোগাচ্ছে স্থানীয়রা।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বাসালিয়া গ্রামে মধুচাষ করতে আসা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার নিত্যানন্দ মন্ডল বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মধু সংগ্রহ শুরু হলেও এবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে একমাস দেরিতে মধু সংগ্রহ শুরু করতে হয়েছে। এবছর তার তিন টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
মির্জাপুর উপজেলার পাথরঘাটায় মৌচাষ করতে আসা সাতক্ষীরার ইসহাক মিয়া জানান, তিনি গাজিপুরে খামারের কর্মচারী হিসেবে মধু চাষ শুরু করেন। ২০১৫ সালে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে ৫০টি ফ্রেম(মৌ-বাক্স) দিয়ে নিজেই মধু চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ২৬টি কলোনি(মৌ-বাক্সের সারি) আছে। প্রতি বাক্স থেকে সিজনে সর্বোচ্চ ৭০ কেজি মধু সংগ্রহ করতে পারেন তিনি।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, মধু উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এবছর জেলায় ২৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলার ১২ উপজেলায় সাত হাজারের বেশি মৌ-বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। সরিষায় ফুল থাকা পর্যন্ত এসব বাক্সে মধু সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে। আগামিতে মৌচাষির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সকল সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি জানান, মধুচাষের ফলে সরিষার আবাদ প্রায় ১৫-২০% ফলন বৃদ্ধি পায়।
উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক আরো জানান, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি ও ক্রেতাদের কাছে মধুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। মৌচাষিদের প্রযুক্তিগত উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া গেলে দেশে যে পরিমাণ মধু উৎপাদন হবে, তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno