আজ- মঙ্গলবার | ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
১ পৌষ, ১৪৩২ | রাত ১২:২৯
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
১ পৌষ, ১৪৩২
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১ পৌষ, ১৪৩২

টাঙ্গাইলে সরকারি কর্মচারীদের কর্মবিরতি ॥ ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

দৃষ্টি নিউজ:

সারাদেশে সরকারি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায় টাঙ্গাইলেও পদবী পরিবর্তনের দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন শুরু করা হয়েছে। এ আন্দোলন আগামি ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

গত মঙ্গলবার(২৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) ডাকে টাঙ্গাইল জেলার সরকারি কর্মচারীরা এ কর্মবিরতিতে অংশ নেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। কর্মবিরতির কারণে তারা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না।

আন্দোলনকারীরা জানান, তারা ২০০১ সাল থেকে কালেক্টরেটে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদবী পরিবর্তন এবং বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী এ পদবী পরিবর্তন সংক্রান্ত সার সংক্ষেপ অনুমোদন দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এর পরিপ্র্রেক্ষিতে সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলনের এ কর্মসূচি তারা দিয়েছেন।

https://youtu.be/lVmnK–CgJQ

শহরের আকুর টাকুর পাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শহরের লৌহজং নদী উদ্ধারের কাজ চলছে। আমিও নদীর পাড়ের মানুষ। যে জায়গায় ভাংচুর করা হচ্ছে সেই জায়গায় আমার জমিও পড়েছে। সেই বিষয়ে নিয়ে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলতে এসেছিলাম। কিন্তু কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলতে পারছি না। আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

হালিমা বেগম বলেন, আমি খুব গরীব মানুষ। ডিসি স্যারের কাছে এসেছিলাম কথা বলতে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তার সাথে কোন কথা বলতে পারলাম না।
ঢাকা থেকে আসা এক সেবা গ্রহীতা রুমা আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলা আমার খুব প্রয়োজন। কিন্তু এখানে এসে দেখি আন্দোলন চলমান। আমি কি চলে যাবো না কি করবো আমি সঠিক বুঝতে পারছি না। তাদের আন্দোলনের কারণে আমাদের কেন ভোগান্তি পোহাতে হবে।

আন্দোলনকারী বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদদক মোতালেব সিদ্দিকী ও সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, গত দেড় যুগে একাধিকবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব কমিটির মাধ্যমে একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। সারা বাংলাদেশে ৫০টি ডিপার্টমেন্টের পদ-পদবী পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে কোন প্রকার কমিটি লাগেনি। আমাদের ক্ষেত্রে কেন এতো তালবাহানা? আমাদের আন্দোলনের জন্য সাধারণ জনগনের ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার জন্য আসিনি। আমরা মানুষকে সেবা দিতে এসেছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের কারণে আমরা অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছি। অনেক দূর থেকে অনেক সেবা প্রার্থীরা এখানে এসে ফেরত যাচ্ছেন। কারণ, আমাদের কার্যালয়ের যারা ফাইল ওয়ার্ক করেন তারা স্ট্রাইক করেছেন। এটা তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন। এ দাবিটি তাদের যৌক্তিক দাবি বলে আমি মনে করি।

শেয়ার করুন স্যোশাল মিডিয়াতে

Facebook
Twitter
LinkedIn
X
Print
WhatsApp
Telegram
Skype

সর্বশেষ খবর

এই সম্পর্কিত আরও খবর পড়