আজ- সোমবার | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
৫ মাঘ, ১৪৩২ | দুপুর ১:৫৬
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
৫ মাঘ, ১৪৩২
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫ মাঘ, ১৪৩২

দেলদুয়ারে পরকীয়ার বলি গৃহবধূ সীমা!

দৃষ্টি নিউজ:


টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মাইঝাইল টেউরিয়া গ্রামে সীমা আক্তার(২৫) নামে এক গৃহবধূ পরকীয়ার বলি হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে! রোববার( নভেম্বর) সকালে স্বামী মোরশেদ আল মামুন তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে জানা যায়। পুলিশ দুপুরে সীমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেলদুয়ার উপজেলার মাইঝাইল টেউরিয়া গ্রামের আমিনুর রহমানের মেয়ে সীমা আক্তারের সাথে প্রায় চার বছর আগে একই গ্রামের মৃত আ. খালেকের বেকার ছেলে মোরশেদ আল মামুন ওরফে ওয়াসিমের সাথে সামাজিকভাবে বিয়ে বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছর পর্যন্ত তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করছিল। এরমধ্যে তাদের সংসারে সাজিদ(২) নামে এক ছেলের জন্ম হয়। ২০১৫ সালে মোরশেদ আল মামুন দেউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন। স্বামী বিদেশে চলে গেলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সাথে সহকারী শিক্ষক মোরশেদ আল মামুন ওরফে ওয়াসিমের সখ্যতা গড়ে ওঠে। প্রধান শিক্ষিকাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়া ওয়াসিমের নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়। ওই সখ্যতা এক পর্যায়ে পরকীয়ায় রূপ নেয়। পরকীয়ার কারণে ওয়াসিম তার স্ত্রী-সন্তানকে ঘরে তালাবদ্ধ করে বাইরে চলে যেতেন। এ নিয়ে একাধিকবার তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। ওয়াসিম দু’বার সীমা আক্তারকে পিটিয়ে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। পরে ক্ষমা চেয়ে আবার তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। গত শনিবার(৪ নভেম্বর) স্কুল থেকে গভীর রাতে বাড়ি ফিরলে ওই পরকীয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। রোববার সকালে গৃহবধূ সীমা আক্তার আত্মহত্যা করেছে বলে ওয়াসিম প্রচার করে। প্রতিবেশি কাজী সরোয়ার হোসেন, সোহেল আরমান, মোস্তাক আহম্মেদ সহ অন্যরা এগিয়ে এসে ঘরের বারান্দায় সীমা আক্তারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।       [vsw id=”kzyZ8JbARpw” source=”youtube” width=”425″ height=”344″ autoplay=”no”]
নিহত সীমার বাবা আমিনুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষিকার সাথে পরকীয়ার কারণে ওয়াসিম তার মেয়ে সীমা আক্তারকে ইতোপূর্বে মৌখিকভাবে তালাক দেয়। পরে তওবা পড়ে পুনরায় তাকে ঘরে তুলে নেয়। ওয়াসিমই তার মেয়েকে শ্বরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি ওয়াসিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সীমাআক্তারের মা শাহিদা সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সীমা আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে নয়। প্রধান শিক্ষিকার কারণে ওয়াসিম তার মেয়েকে খুন করেছে। তিনি এ হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার চান।
দেউলী ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম সাচ্চু জানান, মেয়েটি ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে তিনি শুনেছেন। উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা হক ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে বারান্দায় রাখেন।
দেলদুয়ার থানার ওসি(তদন্ত) আরিফুজ্জামান আরিফ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় ইউডি মামলা দায়ের পূর্বক ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শেয়ার করুন স্যোশাল মিডিয়াতে

Facebook
Twitter
LinkedIn
X
Print
WhatsApp
Telegram
Skype

সর্বশেষ খবর

এই সম্পর্কিত আরও খবর পড়