আজ- শুক্রবার | ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
২০ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ | সকাল ৬:২১
৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
২০ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২
৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

ধর্ষিতাকে দেহ ব্যবসায়ী প্রমাণের অভিযোগে আ’লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

নাগরপুর সংবাদদাতা:

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম ও ধুবড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষিতাকে দেহ ব্যবসায়ী প্রমাণের চেষ্টা করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের সাহাবুদ্দিন মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক গত ১৯ নভেম্বর মামলাটি আমলে নিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অপর অভিযুক্ত আসামিরা হচ্ছেন, নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম রঙ্গু, ধুবড়িয়া ছেফাতুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাবুল আলম দুলাল, ধুবড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান শাকিল। মামলায় ধর্ষিতাকে দেহ ব্যবসায়ী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অভিহিত করা সহ তথ্য লোপাট, প্রতারণা, মিথ্যা তথ্য প্রদান, মানহানী ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও আনা হয়েছে।

মামলা সুত্রে জানা যায়, গত বছরের ১২ জুলাই সারটিয়াগাজি গ্রামের জবেদারের ছেলে জুয়েল কলেজ পড়ুয়া জনৈক ছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনার পর ছাত্রীর বাবা নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়ামের সাথে তার বাড়িতে দেখা করে এর প্রতিকার চান। যদিও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উইলিয়াম খুবই প্রভাবশালী, ধর্ষক জুয়েল তার কর্মচারি ও অন্যান্য সহযোগীরা তার কাছের লোক হওয়ায় তিনি প্রতিকারের ব্যবস্থা না করো উল্টো ছাত্রীর বাবাকে শাসিয়ে দেন। তিনি ধর্ষিতার বাবাকে বলেন, ‘এরকম ঘটনা হয়েই থাকে। তুমি এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, করলে সুবিধা করতে পারবে না’।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উইলিয়ামের প্রভাবেই এ ঘটনায় নাগরপুর থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করেননি। অতঃপর নিরুপায় হয়ে কলেজ ছাত্রীর বাবা টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর থেকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রভাবশালী অভিযুক্ত আসামিরা বাদীকে একের পর এক হুমকি দিচ্ছে।

অপরদিকে, অভিযুক্ত আসামিদের মামলা থেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা পরস্পর যোগসাজসে ধুবড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতি পরিষদের প্যাডে ধর্ষণের বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে উল্টো ধর্ষিতাকে দেহ ব্যবসায়ী ও মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে অভিযুক্ত আসামিদের পক্ষে আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেন এবং হ্যান্ডবিল ও পোস্টার ছাপিয়ে এলাকায় বিলি করেন।

এছাড়া ধর্ষক জুয়েল রানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়ামের কর্মচারী ও অনুসারী হওয়ায় তাকে মামলা থেকে রেহাই দিতে ধর্ষিতার পরিবারকে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শণ করছেন। প্রতিনিয়ত বাদীকে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে নাগরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম জানান, সমাজে তার সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

শেয়ার করুন স্যোশাল মিডিয়াতে

Facebook
Twitter
LinkedIn
X
Print
WhatsApp
Telegram
Skype

সর্বশেষ খবর

এই সম্পর্কিত আরও খবর পড়