আজ- ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার  রাত ২:১৬

বঙ্গবন্ধু বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতা ছিলেন :: শেখ হাসিনা বিশ্বের মহান নেতা

 

দৃষ্টি নিউজ:

জাতীয় সংসদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় ও বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মঙ্গলবার(১০ নভেম্বর) রাতে সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয় নেতা নন, ছিলেন আন্তর্জাতিক বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতা।

জাতির পিতা সপরিবারে রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতির রক্তের ঋণ শোধ করে গেছেন। আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো হবে।

আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, শাজাহান খান, আবুল হাসান মাহমুদ আলী, মির্জা আজম ও নূরুল ইসলাম নাহিদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মো. ফখরুল ইমাম।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‌“বঙ্গবন্ধু জাতীয় নেতা নন, ছিলেন আন্তর্জাতিক বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতা। জাতির পিতা সপরিবারে রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতির রক্তের ঋণ শোধ করে গেছেন।’

জন্মশতবার্ষিকীতে বলতে চাই ‘জাতির পিতা, এই জাতি কোনো দিন আপনাকে ভুলবে না’। ‘আপনার স্বপ্নের বাংলাদেশ’ আপনার কন্যা গড়ে তুলছেন। তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে একটি সম্মানিত রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক বিশ্বের মহান নেতা।”

ডাকসুর তৎকালীন ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের মত-পথের ভিন্নতা ছিল। তারপরও আমরা এক হতে পেরেছিলাম। বঙ্গবন্ধুর ছয় দফাকে আমরা ১১ দফায় (সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের) অন্তর্ভুক্ত করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই’ এটা আমরা লিখতে পারিনি। কেউ কেউ আপত্তি করেছিলেন। এজন্য আমরা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার চেয়েছিলাম। তবে আমরা মনে করেছিলাম, এই দাবি এক দফায় চলে আসবে। ঠিকই পল্টনের জনসভার পর আন্দোলন এক দফায় পরিণত হলো।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, একইভাবে ১৯৬৭ সালে যখন আমরা জেলে গেলাম তখন আমি রুমে ছিলাম, বঙ্গবন্ধু দেওয়ানিতে ছিলেন। সেই সময় রটে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হবে। জেলখানায় ইতোমধ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের কামাল উদ্দিন, সিকদার উদ্দিনদের জেলে নিয়ে আসা হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু ও আমার আর একটি মামলা ছিল। আমাকে প্রায় প্রতিদিন বাইরে কোর্টে যেতে হতো। বঙ্গবন্ধু যিনি ছিলেন জেলের রাজা। তাকে কেউ আটকাতে পারতো না। তখন তিনি ওই গেটে এসে দাঁড়াতেন, আমাকে দিয়ে খবর পাঠাতেন। বাইরের খবর নিতেন। একথাটা আমি স্মরণ করছি এই কারণে যে, বঙ্গবন্ধু ওই সঙ্কটকালে আমাকে বিশ্বাস করেছিলেন।

আমার মনে আছে, ঈদের দিন তিনি আমার কাঁধে হাত রেখে ঈদগাহ মাঠে গেলেন। তিনি যেতে যেতে আমাকে বললেন, ‘দেখ মেনন ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। ওরা ষড়যন্ত্র করছে, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু আমি মাথানত করব না।’

তার কিছুদিন পরই ১৭ জানুয়ারি তাকে নেয়া হলো ক্যান্টনমেন্টে, জেলখানায় আর রাখা হলো না। বাঙালি জাতির স্বাধীনতাই বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যার জন্য ১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। কারণ হত্যাকারীরা জানতো বঙ্গবন্ধু’র রক্ত যদি ছিটে ফোঁটাও বেঁচে থাকে তাহলে বাঙালি জাতি আবারও তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হবে।

বাস্তবে সেটাই হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতি আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তার নেতৃত্বেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর কখনও মৃত্যু হয় না। বঙ্গবন্ধু কখনও হারিয়ে যায় না। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে খুনিরা তার আদর্শকে বিলুপ্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আজও আমাদের পথ দেখাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের কাণ্ডারি। তার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তার নেতৃত্বে দ্রুতই আমরা উন্নত দেশে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, পৃথিবীতে অনেক নেতা আছে, অনেক মানুষ আছে যাদের মৃত্যু হয় না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মৃত্যুবরণ করেননি তিনি আছেন এবং চিরদিন থাকবেন।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে তোমরা আমাকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছ, যদি কোন দিন পারি নিজের রক্ত দিয়ে সেই রক্তের ঋণ শোধ করে দিয়ে যাব।

তিনি একাই রক্ত দেননি সপরিবারে রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতির রক্তের ঋণ শোধ করে গেছেন। এখন তারই কন্যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অনেকে মুখে বললেও বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা বাস্তবায়নে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক পরিশ্রম করলেও সবার সহযোগিতা ছাড়া এই চেতনা বাস্তবায়ন অসম্ভব। তাই জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno