আজ- সোমবার | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
৫ মাঘ, ১৪৩২ | বিকাল ৩:১৯
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
৫ মাঘ, ১৪৩২
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫ মাঘ, ১৪৩২

ভূঞাপুরে ধর্ষণের সালিশ করায় তিন চেয়ারম্যান সহ চারজনের নামে মামলা

দৃষ্টি নিউজ:

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে হ্রাম্য সালিশ করায় ধর্ষক রেজাউল করিম সহ তিন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার(২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধর্ষিতার বাবা বাদি হয়ে ভূঞাপুর থানায় মামলা(নং-৮, তাং-২৪/০৯/২০১৭ইং) দায়ের করেছেন। ধর্ষক রেজাউল করিম উপজেলার ধুবলিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানাগেছে, উপজেলার ধুবলিয়া গ্রামের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রেজাউল করিম ধর্ষণ করে। এর আগে ওই শিক্ষার্থীকে প্রায় ৬মাস আগ থেকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল রেজাউল করিম। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মোবাইলে ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ির বাইরে আসতে বলে। পরে বাড়ির পাশের নির্জনস্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে রেজাউল। এসময় মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ধর্ষককে আটক করে। পরে ধর্ষকের সমর্থকরা দেশিয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ধর্ষণের বিষয়টি স্থানীয় ফলদা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদুকে জানানো হয়।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফলদা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদুর বাড়িতে পাশের গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির ও ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফসহ এলাকার গণ্যমান্যব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশী সিদ্ধান্ত না মেনে থানায় মামলা দায়ের করায় ধর্ষিতার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।
ধর্ষিতার বাবা জানান, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় তিন ইউপি চেয়ারম্যান সালিশের আয়োজন করে। সালিশে ধর্ষকের সাথে বিয়ের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করা হয়- যা তার সামর্থের বাইরে। এ ঘটনায় থানায় মামলা না করার জন্য ধর্ষকসহ তার পরিবার নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল। হুমকি উপেক্ষা করে মামলা দায়ের করায় তারা আরো ক্ষুব্ধ হয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার হুশিয়ারি দিচ্ছে।
ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ একেএম কাউছার চৌধুরী জানান, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় চেয়ারম্যানরা সালিশের আয়োজন করেছিল বলে বাদি মামলায় উল্লেখ করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন স্যোশাল মিডিয়াতে

Facebook
Twitter
LinkedIn
X
Print
WhatsApp
Telegram
Skype

সর্বশেষ খবর

এই সম্পর্কিত আরও খবর পড়