আজ- ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ রবিবার  সকাল ১০:৩৯

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে শেষ শ্রদ্ধা

 

দৃষ্টি নিউজ:

গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব। সেখান থেকে নেওয়া হবে শিল্পীর নিজ এলাকা খিলগাঁওয়ে।

স্থানীয় তালতলা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের এই শব্দসৈনিকের। দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত রাখা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার(২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ফকির আলমগীর। ১৮ জুলাই চিকিৎসকেরা তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসাধীন এই শিল্পীর হার্ট অ্যাটাক হয় বলে জানান তাঁর ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। এরও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাঁর কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন তিনি।

ফকির আলমগীর সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাঁকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

ফকির আলমগীর সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন।

‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।

সংগীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ পর্যন্ত পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় ‘একুশে পদক’, ‘শেরেবাংলা পদক’, ‘ভাসানী পদক’, ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার’, ‘তর্কবাগীশ স্বর্ণপদক’, ‘জসীমউদ্‌দীন স্বর্ণপদক’, ‘কান্তকবি পদক’, ‘গণনাট্য পুরস্কার’, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক মহাসম্মাননা’, ‘ত্রিপুরা সংস্কৃতি সমন্বয় পুরস্কার’, ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড যুক্তরাষ্ট্র’, ‘জনসংযোগ সমিতি বিশেষ সম্মাননা’, ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড বিশেষ সম্মাননা’ ও ‘বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ’।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno