আজ- শনিবার | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ | রাত ৪:১০
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
৮ ফাল্গুন, ১৪৩২
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

রসিকতায় শ্যালকের লাঠির আঘাতে দুলাভাই নিহত

নাগরপুর প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে রসিকতাকে কেন্দ্র করে গোলাম মিরাজ সিদ্দিক (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার শ্যালক জয়নাল খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মিতু বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 

 

 

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি বিকালে নাগরপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে গোলাম মিরাজ সিদ্দিকের বাড়িতে স্থানীয় ‘পাগল সেন্টু’ নামে এক ব্যক্তি এসে প্রতিবেশী ও নিহতের শ্যালক জয়নাল খানকে(৪৫) ডাকাডাকি করেন। এ সময় গোলাম মিরাজ রসিকতা করে জয়নালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোর বন্ধু আসিয়াছে’। এই তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে জয়নাল খান ওই দিনই বিকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় গোলাম মিরাজকে একা পেয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহতাবস্থায় স্বজনরা তাকে প্রথমে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকার ডেল্টা হেলথ কেয়ার লিমিটেড (রামপুরা)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জানুয়ারি বিকাল ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মিতু বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 

 

 

 

 

নিহতের পরিবার জানায়, ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা অবস্থায় জয়নাল খান মোবাইলের মাধ্যমে মামলার বাদী মিতু, তার স্বামী এবং তার ছোট ভাই আশিককে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। ফলে পুরো পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

 

 

 

 

নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদি মিতু জানান, তার বাবাকে জয়নাল খান পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এখন মামলা করায় তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এক মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তারা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তিনি হত্যাকারীকে দ্রæত গ্রেপ্তারে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

 

 

 

 

 

 

এ বিষয়ে সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সামান্য একটা কথা কাটাকাটির জেরে এমন হত্যাকান্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছেন এবং অপরাধীকে দ্রæত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

 

 

 

 

 

নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন জানান, মামলাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন স্যোশাল মিডিয়াতে

Facebook
Twitter
LinkedIn
X
Print
WhatsApp
Telegram
Skype

সর্বশেষ খবর

এই সম্পর্কিত আরও খবর পড়