আজ- ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার  রাত ৮:৪৭

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের গলার কাঁটা ‘কোচিং ফি’

 

বুলবুল মল্লিক:

টাঙ্গাইলের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিন মাসের ‘কোচিং ফি’ হিসেবে মাথাপিছু আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করছে।

ওই কোচিং ফি’র টাকা যোগার করতে অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছে। কেউ কেউ গরু-ছাগল বিক্রি করে টাকার যোগান দিচ্ছে। অনেকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দ্বারস্থ হচ্ছেন।


জানাগেছে, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৬৫টি, দাখিল মাদ্রাসা ১৭৭টি এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে ২৪টি।

এরমধ্যে বাসাইল উপজেলায় ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৭টি দাখিল মাদ্রাসা; ভূঞাপুরে ২৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২০টি দাখিল মাদ্রাসা ও একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ; দেলদুয়ার উপজেলায় ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পাঁচটি দাখিল মাদ্রাসা; ধনবাড়ীতে ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৩টি দাখিল মাদ্রাসা; ঘাটাইল উপজেলায় ৫৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৭টি দাখিল মাদ্রাসা ও তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ; গোপালপুরে ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫টি দাখিল মাদ্রাসা ও তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ; কালিহাতীতে ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৬টি দাখিল মাদ্রাসা ও দুইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ;

মধুপুরে ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১২টি দাখিল মাদ্রাসা ও দুইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ; মির্জাপুরে ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩টি দাখিল মাদ্রাসা ও চারটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ; নাগরপুরে ৩৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫টি দাখিল মাদ্রাসা ও দুইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ; সখীপুরে ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২১টি দাখিল মাদ্রাসা ও দুইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ৫১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩টি দাখিল মাদ্রাসা ও পাঁচটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে।


মাউশি ঢাকাবোর্ডের প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, স্কুলগুলো চলতি বছরের ৮ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বেতন ও সেশন চার্জের টাকা নিতে পারবে। তবে নবম ও দশম শ্রেণির মোট ২৪ মাসের বেশি বেতন ও সেশন চার্জ নিতে পারবেনা। এ বোর্ডে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফি হিসেবে মানবিক বিভাগে ২০২৪ টাকা, বাণিজ্য ২০২৪ টাকা, বিজ্ঞান বিভাগে ২১৪০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পত্রপ্রতি ১১০ টাকা, ব্যবহারিকের ফি বাবদ পত্রপ্রতি ৩০ টাকা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের ফি বাবদ পরীক্ষার্থী প্রতি ৩৫ টাকা, মূল সনদ বাবদ শিক্ষার্থী প্রতি ১০০ টাকা, বয়েজ স্কাউট ও গার্লস গাইড ফি বাবদ ১৫ টাকা এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি বাবদ পরীক্ষার্থী প্রতি ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে কোচিং ফি নেওয়ার কোন নিয়ম রাখা হয়নি। অথচ প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং ফি হিসেবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে।


সরেজমিনে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ে দেখা যায়, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার আগে তিন মাস কোচিং করানোর জন্য প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। দ্রব্যমূলের উর্ধগতির এ সময়ে ওই টাকার যোগান দিতে অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছে। কেউ কেউ ছাগল, গরু, হাঁস-মুরগী বিক্রি করে টাকা যোগার করছেন।


শিক্ষার্থীরা জানায়, তিন মাসের কোচিং ফি নেওয়া হলেও এক বা দেড় মাস কোচিং করানো হয়। কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫ দিন বা এক মাস কোচিং করিয়েই কোর্স সম্পন্ন হয়েছে বলে শেষ করা হয়।


পরীক্ষার্থী সানজিদা আক্তার, শামীমা আক্তার রতœা, রাশিদুল হাসান, হৃদয় হাসান, আজিুল হাকিম সহ অনেকেই জানান, এসএসসি পরীক্ষার আগে তিন মাস কোচিংয়ের জন্য প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই কোচিং ফি নিয়ে থাকে। কিন্তু সে অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়না।


অভিভাবকরা জানায়, এসএসসি পরীক্ষার আগে প্রতিষ্ঠানের সব ধরণের পাওনা পরিশোধ করতেই তাদের হিমশিম খেতে হয়। তার উপর কোচিং ফি’র বোঝা বহন করা অত্যন্ত কষ্টের।


অভিভাবক রাজন বিশ্বাস, আলী আজগর, হাসমত আলী, রাশেদুর রহমান, পারুল আক্তার, হাসনা বেওয়া সহ অনেকেই জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নানা রকম ফি’ সহ বোর্ড নির্ধারিত টাকা দেওয়ার পরও কেন্দ্র ফি’ এবং কোচিং ফি দেওয়া তাদের জন্য বাড়তি চাপ। তারপরও পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নানাভাবে টাকা যোগর করে তারা কোচিং ফি পরিশোধ করেছেন।


কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান জানান, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করার জন্য বাড়তি পড়ালেখা করানোর জন্যই তিন মাস কোচিংয়ের ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভায় রেজুলেশন করে কোচিং ফি নির্ধারণ করা হয়।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পেপারের আলোকে সম্ভাব্য প্রশ্নাবলীর সমাধান করাই কোচিংয়ের উদ্দেশ- যাতে তারা পরীক্ষার হলে বিব্রত না হয়ে সাবলীলভাবে লিখতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কোচিং ফি নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তাছাড়া কোচিং ফি হিসেবে যে অল্প পরিমান টাকা নেওয়া হয়- তা শিক্ষকদের হাতখরচেই চলে যায়। টাকার বিনিময়ে কোচিং করানো হয়- বিষয়টা এভাবে মূল্যায়ন করাটা সঠিক নয়।


বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জানান, পরীক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো করার জন্য সর্বশেষ প্রস্তুতি হিসেবে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। সভায় রেজুলেশন করে কোচিং ফি নির্ধারণ করা হয়।


জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা জানান, জেলায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এখনও সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়।

বোর্ড নির্ধারিত ফি’র বাইরে অভিভাবকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার কোন সুযোগ নেই। কোন প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno