সর্বশেষ
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু
জাতীয় ১ মিনিট আগে

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু

দৃষ্টি নিউজ:২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সশরীরে কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। এ কার্যক্রম চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে মাইগ্রেশনের ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তা চূড়ান্তভাবে জানানো হয়েছে।একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু:একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট ও সনদের কপি, এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, দুই থেকে চার কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, অনলাইন আবেদন নিশ্চায়নের কপি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর।কোন কলেজে ভর্তি ফি কত:শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিও ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান, বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন এবং বিভাগীয় শহর, জেলা ও মফস্বল এলাকার ভিত্তিতে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর বা বিভাগীয় শহরের প্রতিষ্ঠানে এ ফি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নেওয়া যাবে।নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদর এলাকায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে ৪ হাজার টাকা। উপজেলা ও মফস্বল এলাকার কলেজে বাংলা ভার্সনে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।ভর্তিতে ৭ শতাংশ কোটা:ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।নিশ্চায়ন করেনি ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী:গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জনকে কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।মনোনীত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে বলা হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন করেছে। তবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৪ জন নিশ্চায়ন না করায় প্রথম ধাপের ভর্তি থেকে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, যারা নিশ্চায়ন করেনি, তাদের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন তাদের ভর্তির জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে।তিনি বলেন, প্রথম ধাপে নির্বাচিত ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি শেষ হওয়ার পর আবার আবেদন নেওয়া হবে। তখন যারা প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন করেনি, তারা নতুন করে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পাবে।

সখীপুরের কালিয়া ইউনিয়নের ধলিপাড়া এলাকায় বনভূমি দখল করে নুর মোহাম্মদ বাবুলের নির্মিত ডুপ্লেক্স বাড়ি।
ছবি ১০ মিনিট আগে

বন বিভাগের ১২ একর জমি দখলের অভিযোগ

দৃষ্টি রিপোর্ট:প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সুশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুর্নীতির এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুল। বিভাগীয় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য ও বিত্তবানদের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে গত এক দশকে তিনি কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এছাড়া বন বিভাগের প্রায় ১২ একর জমি দখল করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ধলিপাড়া এলাকার সাবেক ফরেস্টগার্ড মৃত ছামান আলীর ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুল নিজ এলাকায় বন বিভাগের প্রায় ১২ একর শাল বন জবরদখল করেছেন। দামি দামি গজারি গাছ কেটে সরকারি বনের সেই জমিতেই গড়ে তুলেছেন মাল্টা বাগান, গরুর খামার ও একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন। মাল্টা বাগানটি আবার লিজ দিয়েছেন স্থানীয় সাইফুল ইসলামকে। শিক্ষা প্রশাসনে নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নূর মোহাম্মদ গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী পাবনা সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা শবনম। ঢাকা ও পাবনা- এই দুই অঞ্চলের শিক্ষা প্রশাসনকে কার্যত জিম্মি করে রেখেছেন এই দুই কর্মকর্তা।অভিযোগ রয়েছে- সাধারণ শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, নিয়মবহির্ভূত পদায়ন এবং অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। বদলি ও পদোন্নতির ফাঁদে ফেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে এই সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছে।অনুসন্ধানে নূর মোহাম্মদের বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সখীপুর পৌরসভায় একাধিক বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি, অভিজাত ফ্ল্যাট ও নামীদামি ব্র্যান্ডের গাড়ির মালিক বনে গেছেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের ও বেনামে জমা রয়েছে কোটি কোটি টাকা। একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয় দিয়ে এত অল্প সময়ে কীভাবে এই পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হওয়া সম্ভব- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ শিক্ষা অধিদপ্তরের সৎ কর্মকর্তারা।এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরও ভয়ংকর অভিযোগ রয়েছে। নূর মোহাম্মদ ও শাহিদা শবনম সুকৌশলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের অনৈতিক ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিং করতেন। পরবর্তীতে সম্মানহানি ও মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে এই চক্র।লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন অনেকেই মুখ না খুললেও, সম্প্রতি তাদের এই বেপরোয়া অপকর্মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ভুক্তভোগী কতিপয় ব্যক্তি এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। ওই শিক্ষা কর্মকর্তা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় থাকলেও নির্বিকার প্রশাসন। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পার পেয়ে যাচ্ছেন তারা। তদন্ত থমকে যাওয়া কিংবা ধামাচাপা পড়ার কারণে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।এদিকে নুর মোহাম্মদ ওরফে বাবুলের মাল্টা বাগান লিজ নেওয়া সাইফুল ইসলাম জানান, আটিয়া বন অধ্যাদেশের কারণে জমির কাগজপত্রে জটিলতা রয়েছে। এ কারণে ভূমি অফিস খাজনা নিচ্ছেনা এবং এজন্যই ওই জমির উপর ব্যাংক ঋণও দিচ্ছেনা।সরেজমিনে নানাজনের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুলের সাক্ষাত না পেয়ে তার মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।কালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জামাল মিয়া জানান- নুর মোহাম্মদ নামে নয়, এলাকায় তিনি বাবুল হিসেবে পরিচিত। এলাকায় তাকে ভালো মানুষ হিসেবেই জানে। তবে বনের জায়গা দখলের বিষয়ে তিনি জানান, এতদাঞ্চলের সবারই ‘আটিয়া বন অধ্যাদেশ’র কারণে খাজনা-খারিজ(নামজারি) করতে পারছেনা।টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব জানান, বনের জয়গা জবরদখল করার এখতিয়ার কারো নেই। যদি জবরদখলের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিহত সাবেক ইউপি সদস্য ছুরমান রেজা
রাজনীতি ৪১ মিনিট আগে

টাঙ্গাইলে প্রকাশ্যে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

দৃষ্টি রিপোর্ট:ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দরুণ এলাকার পরিত্যক্ত একটি ফিলিং স্টেশনে রোববার(২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছুরমান রেজা নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ছুরমান রেজা সদর উপজেলার ভাটচান্দা গ্রামের হানিফ রেজার ছেলে ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য। এ বিষয়ে ছুরমান রেজার ভাই হালিম রেজা জানান, তিনি ব্যবসার পাশাপাশি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কি থেকে কি হলো কিছুই বুঝতে পারছেন না। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্বৃত্তদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মূল রহস্য জানানো যাবে।

মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলায় গ্রেপ্তার ১
অর্থনীতি ৪৪ মিনিট আগে

মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলায় গ্রেপ্তার ১

মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলা চালিয়ে তিন কর্মচারীকে মারধর করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত হৃদয় খান ওরফে সেকেন্দার (২৪) উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কাবেল মিয়ার ছেলে।স্থানীয়রা জানায়, একটি ট্রাক হাটুভাঙ্গা সেতু পার হওয়ার সময় চালক টোল পরিশোধের জন্য এক হাজার টাকার নোট দেন। ওই নোটের ভাংতি দিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় চালক ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাকটি রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় টোল আদায়ের কর্মচারীরা ট্রাকটি সরিয়ে নিতে বললে চালক ও হেলপার তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা টোলকর্মীদের মারধর করেন। পরে ওই চালক আরও কয়েকজনকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে এসে টোল আদায়ের কর্মচারীদের ওপর হামলা চালান।এ সময় টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমানের স্ত্রীর বোন হামলা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানির করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমানের স্ত্রী মোছা. ফারহানা বেগম বাদী হয়ে শনিবার রাতে মির্জাপুর থানায় দুই জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।মামলায় অভিযুক্ত লাভলু ওরফে লখাইয়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর ট্রাকের চালক টোল দিতে এক হাজার টাকার নোট দিলে টোলপ্লাজার কর্মীরা ৯০০ টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাঁর চালক ও হেলপারকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।হাটুভাঙ্গা টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমান জানান, একটি কুচক্রী মহল হাটুভাঙা সেতুর টোল আদায় বন্ধ করতে নানা ধরনের পাঁয়তারা করছে। হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেও দাবি করেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাশেদ ফজল জানান, ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হৃদয় খান ওরফে সেকেন্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু
জাতীয়

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু

দৃষ্টি নিউজ:২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সশরীরে কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। এ কার্যক্রম চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে মাইগ্রেশনের ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তা চূড়ান্তভাবে জানানো হয়েছে।একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু:একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট ও সনদের কপি, এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, দুই থেকে চার কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, অনলাইন আবেদন নিশ্চায়নের কপি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর।কোন কলেজে ভর্তি ফি কত:শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিও ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান, বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন এবং বিভাগীয় শহর, জেলা ও মফস্বল এলাকার ভিত্তিতে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর বা বিভাগীয় শহরের প্রতিষ্ঠানে এ ফি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নেওয়া যাবে।নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদর এলাকায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে ৪ হাজার টাকা। উপজেলা ও মফস্বল এলাকার কলেজে বাংলা ভার্সনে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।ভর্তিতে ৭ শতাংশ কোটা:ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।নিশ্চায়ন করেনি ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী:গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জনকে কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।মনোনীত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে বলা হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন করেছে। তবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৪ জন নিশ্চায়ন না করায় প্রথম ধাপের ভর্তি থেকে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, যারা নিশ্চায়ন করেনি, তাদের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন তাদের ভর্তির জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে।তিনি বলেন, প্রথম ধাপে নির্বাচিত ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি শেষ হওয়ার পর আবার আবেদন নেওয়া হবে। তখন যারা প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন করেনি, তারা নতুন করে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পাবে।

১ মিনিট আগে

আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন

দৃষ্টি রিপোর্ট:বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমান এমপি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন। বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছেন। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, জ্বালানির চরম সংকটে মানুষ অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে। আপনারা জনগনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেননি। আট দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যেজোটের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের অংশ হিসেবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি আট দফা মেনে না নেয়, জনগণের প্রয়োজনে জনদাবির মুখে তা এক দফায় রূপান্তর করা হবে।তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট এ লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে। জনতার যৌক্তিক দাবি না মানলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অব্যাহত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি ।এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি এবং টাঙ্গাইল জেলার এনসিপি নেতা রাসেল আহমেদ, তুষার আহমেদ সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন

পোল্ট্রি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরা। তাদের টিকিয়ে রাখা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সদরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন-২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, পোল্ট্রি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় কমানো, মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে খামারিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তারাও সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্রোটিন পাবেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনেছেন, যাতে তারা কৃষির মতো সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা পেতে পারেন।নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরে টুকু বলেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ও ওষুধ ব্যবহারে সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। ভেজাল খাদ্য ও মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আয়োজিত কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাকিল আহমেদ এবং বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ফিয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পোল্ট্রি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইলে শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে রশিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দণ্ডিত আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ ওই রায় দেন। এছাড়াও আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত রশিদ মিয়া (৫৫) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামি যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভিকটিমকে দেওয়া হবে। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়ার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমান অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরো বলেন, যৌননিগ্রহের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা আসামি রশিদ মিয়া, তাকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেন এবং শিশুর ভরনপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে প্রকাশ করেন। শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরনপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ পূর্বক ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন আদালত।টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। এসময় প্রতিবেশি(সম্পর্কে দাদা) দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে। পরে শিশুটিকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং জোর পূর্বক যৌননিগ্রহ চালায়। এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে শিশুটি তার মায়ের কাছে যৌননিগ্রহের কথা খুলে বলে। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভিকটিম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দণ্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ভিকটিমের কন্যা সন্তানের পিতা বলে নিশ্চিত হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

গুজব ও ডিপফেক : সত্য-মিথ্যার নতুন সংকট

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল::মানবসভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে তথ্য ও জ্ঞানের আদান-প্রদানই ছিল ক্ষমতার মূল নিয়ামক ও প্রগতির চালিকাশক্তি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর উত্তর-আধুনিক পর্বে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও পঞ্চম প্রজন্মের (5G) প্রযুক্তির জ্যামিতিক বিকাশ তথ্যপ্রবাহের চিরন্তন ব্যাকরণকে আমূল ওলটপালট করে দিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক তথ্য-বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, যেখানে তথ্যের অবাধ ও গণতান্ত্রিক অভিগম্যতার সমান্তরালে এক চরম বিপর্যয়কর সংকটের অশুভ উত্থান ঘটেছে- যার নাম ‘গুজব ও ডিপফেক’। এই যমজ সংকট আজ কেবল সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে নাড়া দিচ্ছে না বরং তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমিকতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সনাতন কাঠামোকেও এক অস্তিত্ববাদী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তির এই অনৈতিক অপব্যবহারের ফলে বস্তুনিষ্ঠ সত্য ও কৃত্রিম মিথ্যার মধ্যকার যে সুক্ষ্ম বিভাজিকা ছিল- তা আজ চরমভাবে বিলুপ্তপ্রায়। ফলশ্রুতিতে মানবসমাজ অবতীর্ণ হয়েছে এক গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক (Epistemological), সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের অতল গহ্বরে।গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য (Misinformation & Disinformation) ছড়ানোর অপকৌশল মানব ইতিহাসের এক প্রাচীন ব্যাধি। আদিম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে আধুনিক বিশ্বযুদ্ধ-সবখানেই প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সাইবার-বাস্তবতায় এর বিস্তারের গতি ও ব্যাপ্তি ভৌগোলিক সীমানাকে অতিক্রম করে মহাজাগতিক রূপ ধারণ করেছে। এই ক্ষয়িষ্ণু প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও অত্যাধুনিক সংযোজন হলো ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম শাখা ‘ডিপ লার্নিং’ (Deep Learning) এবং জালিয়াতি বা ‘ফেক’ (Fake) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রযুক্তি মূলত জেনারেটিভ অ্যাডভারসারিয়াল নেটওয়ার্কস (GANs) নামক শক্তিশালী অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর মাধ্যমে যেকোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির কণ্ঠস্বর (Voice Cloning), মুখাবয়ব (Facial Re-enactment) এবং দৈহিক অঙ্গভঙ্গি অবিকল নকল করে কৃত্রিম অডিও ও ভিডিও ফাইল প্রস্তুত করা হয়। এর ভয়াবহতা এখানেই যে, একজন ব্যক্তি যে কথা কখনো উচ্চারণ করেননি কিংবা যে কর্মকাণ্ডে কখনো লিপ্ত হননি, তাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেই দৃশ্যপটে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলস্বরূপ, টেক্সট বা লেখনীভিত্তিক গুজবের সনাতন যুগ পেরিয়ে মানবজাতি এখন প্রবেশ করেছে ‘অতি-বাস্তবসম্মত’ (Hyper-realistic) অডিও-ভিজুয়াল মিথ্যার এক গোলকধাঁধায়- যেখানে চোখের দেখা কিংবা কানের শোনাকেও আর ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়ার উপায় নেই।ডিপফেক এবং সিন্থেটিক মিডিয়ার (Synthetic Media) বিধ্বংসী প্রভাব আজ আর কোনো তাত্ত্বিক আশঙ্কা নয় বরং এক কঠোর ও নির্মম বাস্তব। আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের যে পরিসংখ্যান ও খতিয়ান পাওয়া যায়- তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ব্রুকিং ইনস্টিটিউশন (Brookings Institution) -এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারনেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা উৎপাদিত ভুয়া ও বিকৃত তথ্যের পরিমাণ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ডিপট্রেস’(Deeptrace) -এর এক বৈশ্বিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইন্টারনেটে লভ্য ডিপফেক ভিডিওর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এবং এর একটি বিশাল অংশ সমাজ ও রাজনীতির স্থিতিশীলতা বিনষ্টের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।উন্নত দেশগুলোতে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে ‘গুজব ও ডিপফেক’ আকাশচুম্বী তো বটেই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রযুক্তির এই নেতিবাচক জোয়ার থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য-যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের (যেমন: রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব, বিডি ফ্যাক্টচেক) বার্ষিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার রাজনৈতিক, ধর্মীয়, গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কুৎসাভিত্তিক গুজব ও ডিপফেক কনটেন্ট সনাতন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিগত সাধারণ নির্বাচনগুলোর সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে চরিত্র হননের এক কুৎসিত সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া, স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয়ে ভুয়া অডিও ক্লিপ ও বিকৃত ছবি প্রচার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার একাধিক নারকীয় ঘটনা ঘটেছে- যা দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর এক প্রচণ্ড আঘাত।গবেষণাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রযুক্তির উৎকর্ষের চেয়েও মানুষের আদিম মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাই গুজব ও ডিপফেক বিস্তারের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-র গবেষকদের পরিচালিত একটি যুগান্তকারী মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বস্তুনিষ্ঠ সত্য খবরের তুলনায় একটি ভুয়া বা কাল্পনিক খবর ৬ গুণ দ্রুত মানবসমাজে পরিব্যপ্ত হয় এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের দ্বারা এটি ৭০ শতাংশ বেশি শেয়ার বা পুনঃপ্রচারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর মূল কারণ হলো মানুষের ‘কনফার্মেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা ‘নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত’। মানুষ স্বভাবগতভাবেই সেই তথ্য বা বিবরণীকে অতি দ্রুত সত্য বলে গ্রহণ করে, যা তার নিজের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাস, অন্ধ আবেগ কিংবা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের অনুকূলে যায়। ডিপফেক প্রযুক্তি মূলত মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক ফ্রন্টলাইনকেই আক্রমণ করে। যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘোর বিরোধী কোনো রাজনৈতিক চরিত্রের একটি চরম আপত্তিকর বা বিতর্কিত ভিডিও স্ক্রিনে দেখতে পান, তখন তার যৌক্তিক মস্তিষ্ক সেটির সত্যতা বা কারিগরি নির্ভুলতা যাচাই করার পূর্বেই মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেটিকে সত্য বলে রায় দিয়ে দেয়। এই মানসিক অসচেতনতাই অপতথ্য ও কৃত্রিম মিথ্যার সাম্রাজ্যকে দিন দিন আরও শক্তিশালী করে তুলছে।সমাজ, রাষ্ট্র ও সামগ্রিক নৈতিকতার অবক্ষয়ে ডিপফেক- এর বহুমাত্রিক অভিঘাত লক্ষণীয়। যেমন- (১) গণতন্ত্রের সংকট ও জনমতের ভাঙন: ডিপফেক প্রযুক্তির অবাধ বিস্তারের ফলে যেকোনো রাষ্ট্রীয় নির্বাচন বা জাতীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে কোনো প্রার্থীর এমন কোনো ভুয়া ও স্পর্শকাতর স্বীকারোক্তির ভিডিও প্রকাশ করা সম্ভব, যা জনমতকে সম্পূর্ণ উল্টো খাতে প্রবাহিত করতে পারে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর অসারতা প্রমাণিত হলেও, ততক্ষণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়ে যায়। (২) নারীর নিরাপত্তা ও জেন্ডারভিত্তিক সাইবার সহিংসতা: বিশ্বব্যাপী ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এর প্রায় ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রই হলো নারীর অনুমতিবিহীন পর্নোগ্রাফি বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত। এই প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমাজের প্রভাবশালী বা সাধারণ নারীদের সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার করা হচ্ছে- যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার, মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং সামাজিক মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। (৩) গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার সংকট ও ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’: যখন নাগরিক সমাজ বুঝতে পারে যে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রমাণাদিও কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব, তখন সমাজে এক চরম সংশয়বাদের জন্ম হয়। এর ফলে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকেও মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’ (Liar’s Dividend)- যেখানে প্রকৃত অপরাধীরাও নিজেদের বাস্তব অপরাধের ভিডিওকে ‘ডিপফেক’ বা ‘সাজানো’ বলে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।এই সর্বগ্রাসী সংকট থেকে উত্তরণের পথ কোনো একক ও সরল সমীকরণে আবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রযুক্তি খাতের এক সমন্বিত, বহুমাত্রিক ও কঠোর প্রতিরোধমূলক মহাপরিকল্পনা। যেমন- (ক) প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ (Algorithmic Countermeasures): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষাক্ত ছোবল থেকে বাঁচতে আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে (AI vs AI)। মেটা, গুগল, ওপেনএআই-এর মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে- যাতে তারা এমন শক্তিশালী ওয়াটারমার্কিং এবং ক্রিপ্টোগ্রাফিক মেটাডেটা প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে যেকোনো এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ইন্টারনেটে আপলোড হওয়া মাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডিপফেক’ হিসেবে চিহ্নিত বা ফ্ল্যাগড হয়ে যায়। (খ) আইনকাঠামোর আধুনিকায়ন ও কঠোর প্রয়োগ: বাংলাদেশের বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইন বা অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আইনগুলোকে আরও সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী করতে হবে। বিশেষ করে ‘ডিপফেক জালিয়াতি’ ও ‘ডিজিটাল ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন’-কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে- যাতে অপরাধীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সৃষ্টি হয়। (গ) মূলধারার গণমাধ্যমের রূপান্তর ও ফ্যাক্ট-চেকিং সেল: মূলধারার সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে কেবল দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় না নেমে, তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি বড় গণমাধ্যমে একটি সুসজ্জিত এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ফেক নিউজ ও ডিপফেক ডিটেকশন সেল’ থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। (ঘ) ডিজিটাল লিটারেসি ও সামাজিক প্রতিরোধ: একটি সমাজকে ভেতর থেকে সচেতন না করলে কেবল আইন দিয়ে অপরাধ দমন অসম্ভব। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের পাঠ্যসূচিতে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা ‘তথ্য সাক্ষরতা’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সাধারণ নাগরিককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার পূর্বে ‘থিংক বিফোর ইউ লিঙ্ক’ (Think Before You Link) নীতি অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।ডিপফেক এবং গুজব কেবল প্রযুক্তির বিবর্তনের কোনো নিরীহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটি মূলত সত্যের চিরন্তন ধারণার ওপর এক সুপরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক আঘাত। আমরা যদি এখনই সামষ্টিক বুদ্ধিমত্তা, কঠোর আইনি কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে এই ইনফোডেমিক বা তথ্যের মহামারীকে রুখে দিতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানবসভ্যতা এক অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে- যেখানে সত্য হবে আপেক্ষিক আর মিথ্যা হবে সর্বজনীন। সত্য ও মিথ্যার এই যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষে লড়াই করাটা আজ কেবল কোনো নৈতিক দায়িত্ব নয় বরং এই ডিজিটাল মহাবিশ্বে আমাদের মানবিক অস্তিত্ব, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক চূড়ান্ত ও অনিবার্য সংগ্রাম।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গুজব ও ডিপফেক : সত্য-মিথ্যার নতুন সংকট

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

টাঙ্গাইল এর খবর

এ সপ্তাহের রাশিফল

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
মায়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তিন বছরের ছেলে খুন

মায়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তিন বছরের ছেলে খুন

সখীপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের সখীপুরে মায়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে আশরাফুল ইসলাম নামে তিন বছরের এক শিশুকে খুন হয়েছে। এ ঘটনায় তার ৯ বছরের বোন সিরজাতুন গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার(১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের খালিয়ারবাইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল ইসলাম ওই এলাকার শাহীন আলমের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধু আকলিমা আক্তার ঘরে থাকা কেক কাটার একটি ধারালো ছুরি দিয়ে তার দুই সন্তানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে শিশু আশরাফুল ও সিরজাতুন গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। তাদের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দুই শিশুকে পাশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সিরজাতুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ মাসের নির্মাণ কাজ সাড়ে ৪ বছরেও শেষ হয়নি

মু. আবিদ মল্লিক জয়:চুক্তি অনুযায়ী ৮ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সাড়ে চার বছরে আলোর মুখ দেখেনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবহেলা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঝুলে আছে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও পরিবেশবান্ধব এই প্রকল্প।এদিকে, পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরুপায় হয়ে তারা রাস্তাঘাটের পাশে, ফসলি জমির কোণে কিংবা উন্মুক্ত পুকুড়ে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। ফলে পুরো আবাসিক এলাকা এখন তীব্র দুর্গন্ধের শহরে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়ছে নানাবিধ পানিবাহিত ও বায়ুবাহিত রোগব্যাধি।পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৫.৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ৯টি ওয়ার্ড ও ১৮টি মহল্লা নিয়ে গঠিত ‘খ’ শ্রেণির কালিহাতী পৌরসভার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার জন। দিন দিন শহর উন্নত হলেও নাগরিক সেবা বাড়েনি। পৌরসভায় প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় টন কঠিন ও তরল বর্জ্য উৎপাদিত হয়। নাগরিকদের ফেলে দেওয়া এই বিপুল পরিমাণ আবর্জনা ও মানুষের মল-মূত্র থেকে শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর এলাকার তিন একর জমিতে এই মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ইনভাইরনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প বাস্তবায়নে চার কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’ এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ১ মার্চ। ঠিকাদারি কাজ পায় ঢাকার ‘টার্ন-এনসি (জেভি)’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী, আট মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে জনস্বাস্থ প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও আজ অবধি দৃশ্যমান কোনো সুফল মেলেনি।সরেজমিনে দেখা যায়, প্লান্টের চার পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শেষ হয়েছে। তবে মূল শোধন প্রক্রিয়ার অন্যতম অঙ্গ কমবাসশন মেশিনের জন্য নির্ধারিত শেড তৈরির কাজ এখনো চলছে; অর্থাৎ পুরোপুরি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি।প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সমন্বয় করে বর্জ্য শোধনের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ছক আঁকা হয়েছে। কঠিন ও মানব বর্জ্য সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিশোধনের জন্য প্ল্যান্টে তৈরি করা হয়েছে- প্ল্যান্টেড ড্রায়িং বেড ও অ্যানেরোবিক ব্যাফেল রিঅ্যাক্টর (এবিআর), যা মানববর্জ্যের তরল অংশকে ক্ষতিকারক উপাদানমুক্ত করবে। কনস্ট্রাক্টেড ওয়েটল্যান্ড ও পলিশিং পন্ড- পানিকে পুরোপুরি শোধন করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার ইউনিট। কম্পোস্ট শেড ও সর্টিং শেড- যেখানে বর্জ্য এনে জমা ও প্রক্রিয়াজাত করা হবে। লিচেট ট্যাংক ও কমবাসশন ইউনিট- ময়লা থেকে নির্গত দূষিত তরল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। এ ছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে পার্কিং শেড, অফিস রুম এবং সিকিউরিটি রুমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ইউনিট।সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্ল্যান্টটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এটি হবে এই অঞ্চলের জন্য একটি আশীর্বাদ। এখানে শহরের সমস্ত বর্জ্য এনে প্রথমে সর্টিং বা বাছাই করা হবে। বর্জ্য থেকে প্রথমেই লোহালক্কড়, প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল, কাঠ এবং কাঁচের মতো অপচনশীল দ্রব্যগুলো আলাদা করা হবে। এরপর মূল পচনশীল বর্জ্য এবং শুকনো মানব বর্জ্যকে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে অত্যন্ত উন্নতমানের উর্বর কম্পোস্ট জৈব সার উৎপাদন করা হবে। অন্যদিকে, আলাদা করা অপচনশীল অংশ এবং শোধন প্রক্রিয়া থেকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত হবে শক্তি (জ্বালানি) ও প্রাকৃতিক গ্যাস।প্রকল্পের এই দীর্ঘ বিলম্বের বিষয়ে মূল অবকাঠামো নির্মাণের ঠিকাদার নূরে আলম টিটুর কাছে জানতে চাইলে তিনি রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক নানাবিধ সমস্যার অজুহাত দেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা, স্থানীয় এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, নিচু এলাকা হওয়াতে মাটি ভরাটে সমস্যা এবং দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকার কারণে নির্মাণ কাজ অনেকখানি পিছিয়ে গেছে। নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামি দুই মাসের মধ্যে প্ল্যান্টটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।প্রকল্পের জটিলতা কেবল অবকাঠামো নির্মাণেই শেষ নয়; বর্জ্য পুড়িয়ে ধ্বংস করার মূল চালিকাশক্তি ‘কমবাসশন মেশিন’ আনার প্রক্রিয়াও থমকে আছে। চার কোটি দুই লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা ব্যয়ে এই আধুনিক মেশিন সরবরাহের জন্য ২০২৪ সালের ১২ মার্চ কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল ‘লাবণী-কেএইচটি (জেভি)’ নামে আরেকটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। এক বছরের মধ্যে মেশিন সরবরাহের চুক্তি থাকলেও তারা নির্ধারিত সময়ে তা দিতে পারেনি।মেশিন সরবরাহে ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে ঠিকাদার সাদেকুল ইসলাম কাঞ্চন জানান, এই বিশেষ কমবাসশন মেশিনটি চীন (চায়না) থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। গত বছরগুলোতে চীনের সাথে ব্যাংক এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে তীব্র বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জটিলতা ছিল। এই এলসি সমস্যার কারণেই যথাসময়ে মেশিনটি দেশে আনা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে এই জটিলতা কেটে গেছে। অলরেডি অর্ডার চূড়ান্ত করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে- আগামি দেড় মাসের মধ্যে মেশিনটি প্রকল্প এলাকায় চলে আসবে।কালিহাতী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন জানান, প্ল্যান্টে মানব বর্জ্য নিরাপদে সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য ইতোমধ্যে পৌরসভায় জন্য পাঁচটি ভ্যান সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বসত বাড়ি, অফিস-আদালত এবং বিভিন্ন স্থাপনার সেপটিক ট্যাংক থেকে ফিক্যাল সংগ্রহ করার জন্য একটি ভেকু ট্রাক ও অপচনশীল পণ্য পরিবহনের জন্য একটি গার্বেজ ট্রাক সরবরাহ করা হয়েছে- প্ল্যান্ট চালু না হওয়ায় গাড়িগুলো পৌরসভার গ্যারেজে রাখা হয়েছে।কালিহাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা মামুন বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জৈব সার উৎপাদন করা গেলে কৃষকরা কম দামে তা ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর দিক থেকে পরিবেশের যেমন উন্নতি হবে তেমনি জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে।কালিহাতী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী গাজিউর রহমান জানান, প্ল্যানটির নকশা ও ডিজাইন অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। জমি অধিগ্রহণ মাটিভরাট ও বর্ষাজনিত কারণে কাজটি শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। সঠিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে বর্জ্য পরিবেশের বোঝা না হয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।কালিহাতী পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার জানান- পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি হস্তান্তরের জন্য ইতোমধ্যে ঠিকাদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নানাবিধ কারণে এটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্প কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুতই এটির কর্যক্রম শুরু হবে। পৌর এলাকার শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে এটির উৎপাদন সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করে জৈব সার কৃষকের হাতে পৌঁছবে।

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ মাসের নির্মাণ কাজ সাড়ে ৪ বছরেও শেষ হয়নি

শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইলে শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে রশিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দণ্ডিত আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ ওই রায় দেন। এছাড়াও আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত রশিদ মিয়া (৫৫) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামি যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভিকটিমকে দেওয়া হবে। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়ার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমান অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরো বলেন, যৌননিগ্রহের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা আসামি রশিদ মিয়া, তাকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেন এবং শিশুর ভরনপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে প্রকাশ করেন। শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরনপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ পূর্বক ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন আদালত।টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। এসময় প্রতিবেশি(সম্পর্কে দাদা) দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে। পরে শিশুটিকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং জোর পূর্বক যৌননিগ্রহ চালায়। এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে শিশুটি তার মায়ের কাছে যৌননিগ্রহের কথা খুলে বলে। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভিকটিম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দণ্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ভিকটিমের কন্যা সন্তানের পিতা বলে নিশ্চিত হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

গুজব ও ডিপফেক : সত্য-মিথ্যার নতুন সংকট

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল::মানবসভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে তথ্য ও জ্ঞানের আদান-প্রদানই ছিল ক্ষমতার মূল নিয়ামক ও প্রগতির চালিকাশক্তি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর উত্তর-আধুনিক পর্বে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও পঞ্চম প্রজন্মের (5G) প্রযুক্তির জ্যামিতিক বিকাশ তথ্যপ্রবাহের চিরন্তন ব্যাকরণকে আমূল ওলটপালট করে দিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক তথ্য-বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, যেখানে তথ্যের অবাধ ও গণতান্ত্রিক অভিগম্যতার সমান্তরালে এক চরম বিপর্যয়কর সংকটের অশুভ উত্থান ঘটেছে- যার নাম ‘গুজব ও ডিপফেক’। এই যমজ সংকট আজ কেবল সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে নাড়া দিচ্ছে না বরং তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমিকতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সনাতন কাঠামোকেও এক অস্তিত্ববাদী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তির এই অনৈতিক অপব্যবহারের ফলে বস্তুনিষ্ঠ সত্য ও কৃত্রিম মিথ্যার মধ্যকার যে সুক্ষ্ম বিভাজিকা ছিল- তা আজ চরমভাবে বিলুপ্তপ্রায়। ফলশ্রুতিতে মানবসমাজ অবতীর্ণ হয়েছে এক গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক (Epistemological), সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের অতল গহ্বরে।গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য (Misinformation & Disinformation) ছড়ানোর অপকৌশল মানব ইতিহাসের এক প্রাচীন ব্যাধি। আদিম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে আধুনিক বিশ্বযুদ্ধ-সবখানেই প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সাইবার-বাস্তবতায় এর বিস্তারের গতি ও ব্যাপ্তি ভৌগোলিক সীমানাকে অতিক্রম করে মহাজাগতিক রূপ ধারণ করেছে। এই ক্ষয়িষ্ণু প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও অত্যাধুনিক সংযোজন হলো ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম শাখা ‘ডিপ লার্নিং’ (Deep Learning) এবং জালিয়াতি বা ‘ফেক’ (Fake) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রযুক্তি মূলত জেনারেটিভ অ্যাডভারসারিয়াল নেটওয়ার্কস (GANs) নামক শক্তিশালী অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর মাধ্যমে যেকোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির কণ্ঠস্বর (Voice Cloning), মুখাবয়ব (Facial Re-enactment) এবং দৈহিক অঙ্গভঙ্গি অবিকল নকল করে কৃত্রিম অডিও ও ভিডিও ফাইল প্রস্তুত করা হয়। এর ভয়াবহতা এখানেই যে, একজন ব্যক্তি যে কথা কখনো উচ্চারণ করেননি কিংবা যে কর্মকাণ্ডে কখনো লিপ্ত হননি, তাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেই দৃশ্যপটে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলস্বরূপ, টেক্সট বা লেখনীভিত্তিক গুজবের সনাতন যুগ পেরিয়ে মানবজাতি এখন প্রবেশ করেছে ‘অতি-বাস্তবসম্মত’ (Hyper-realistic) অডিও-ভিজুয়াল মিথ্যার এক গোলকধাঁধায়- যেখানে চোখের দেখা কিংবা কানের শোনাকেও আর ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়ার উপায় নেই।ডিপফেক এবং সিন্থেটিক মিডিয়ার (Synthetic Media) বিধ্বংসী প্রভাব আজ আর কোনো তাত্ত্বিক আশঙ্কা নয় বরং এক কঠোর ও নির্মম বাস্তব। আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের যে পরিসংখ্যান ও খতিয়ান পাওয়া যায়- তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ব্রুকিং ইনস্টিটিউশন (Brookings Institution) -এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারনেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা উৎপাদিত ভুয়া ও বিকৃত তথ্যের পরিমাণ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ডিপট্রেস’(Deeptrace) -এর এক বৈশ্বিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইন্টারনেটে লভ্য ডিপফেক ভিডিওর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এবং এর একটি বিশাল অংশ সমাজ ও রাজনীতির স্থিতিশীলতা বিনষ্টের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।উন্নত দেশগুলোতে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে ‘গুজব ও ডিপফেক’ আকাশচুম্বী তো বটেই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রযুক্তির এই নেতিবাচক জোয়ার থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য-যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের (যেমন: রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব, বিডি ফ্যাক্টচেক) বার্ষিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার রাজনৈতিক, ধর্মীয়, গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কুৎসাভিত্তিক গুজব ও ডিপফেক কনটেন্ট সনাতন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিগত সাধারণ নির্বাচনগুলোর সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে চরিত্র হননের এক কুৎসিত সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া, স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয়ে ভুয়া অডিও ক্লিপ ও বিকৃত ছবি প্রচার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার একাধিক নারকীয় ঘটনা ঘটেছে- যা দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর এক প্রচণ্ড আঘাত।গবেষণাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রযুক্তির উৎকর্ষের চেয়েও মানুষের আদিম মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাই গুজব ও ডিপফেক বিস্তারের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-র গবেষকদের পরিচালিত একটি যুগান্তকারী মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বস্তুনিষ্ঠ সত্য খবরের তুলনায় একটি ভুয়া বা কাল্পনিক খবর ৬ গুণ দ্রুত মানবসমাজে পরিব্যপ্ত হয় এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের দ্বারা এটি ৭০ শতাংশ বেশি শেয়ার বা পুনঃপ্রচারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর মূল কারণ হলো মানুষের ‘কনফার্মেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা ‘নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত’। মানুষ স্বভাবগতভাবেই সেই তথ্য বা বিবরণীকে অতি দ্রুত সত্য বলে গ্রহণ করে, যা তার নিজের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাস, অন্ধ আবেগ কিংবা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের অনুকূলে যায়। ডিপফেক প্রযুক্তি মূলত মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক ফ্রন্টলাইনকেই আক্রমণ করে। যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘোর বিরোধী কোনো রাজনৈতিক চরিত্রের একটি চরম আপত্তিকর বা বিতর্কিত ভিডিও স্ক্রিনে দেখতে পান, তখন তার যৌক্তিক মস্তিষ্ক সেটির সত্যতা বা কারিগরি নির্ভুলতা যাচাই করার পূর্বেই মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেটিকে সত্য বলে রায় দিয়ে দেয়। এই মানসিক অসচেতনতাই অপতথ্য ও কৃত্রিম মিথ্যার সাম্রাজ্যকে দিন দিন আরও শক্তিশালী করে তুলছে।সমাজ, রাষ্ট্র ও সামগ্রিক নৈতিকতার অবক্ষয়ে ডিপফেক- এর বহুমাত্রিক অভিঘাত লক্ষণীয়। যেমন- (১) গণতন্ত্রের সংকট ও জনমতের ভাঙন: ডিপফেক প্রযুক্তির অবাধ বিস্তারের ফলে যেকোনো রাষ্ট্রীয় নির্বাচন বা জাতীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে কোনো প্রার্থীর এমন কোনো ভুয়া ও স্পর্শকাতর স্বীকারোক্তির ভিডিও প্রকাশ করা সম্ভব, যা জনমতকে সম্পূর্ণ উল্টো খাতে প্রবাহিত করতে পারে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর অসারতা প্রমাণিত হলেও, ততক্ষণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়ে যায়। (২) নারীর নিরাপত্তা ও জেন্ডারভিত্তিক সাইবার সহিংসতা: বিশ্বব্যাপী ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এর প্রায় ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রই হলো নারীর অনুমতিবিহীন পর্নোগ্রাফি বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত। এই প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমাজের প্রভাবশালী বা সাধারণ নারীদের সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার করা হচ্ছে- যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার, মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং সামাজিক মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। (৩) গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার সংকট ও ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’: যখন নাগরিক সমাজ বুঝতে পারে যে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রমাণাদিও কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব, তখন সমাজে এক চরম সংশয়বাদের জন্ম হয়। এর ফলে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকেও মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’ (Liar’s Dividend)- যেখানে প্রকৃত অপরাধীরাও নিজেদের বাস্তব অপরাধের ভিডিওকে ‘ডিপফেক’ বা ‘সাজানো’ বলে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।এই সর্বগ্রাসী সংকট থেকে উত্তরণের পথ কোনো একক ও সরল সমীকরণে আবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রযুক্তি খাতের এক সমন্বিত, বহুমাত্রিক ও কঠোর প্রতিরোধমূলক মহাপরিকল্পনা। যেমন- (ক) প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ (Algorithmic Countermeasures): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষাক্ত ছোবল থেকে বাঁচতে আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে (AI vs AI)। মেটা, গুগল, ওপেনএআই-এর মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে- যাতে তারা এমন শক্তিশালী ওয়াটারমার্কিং এবং ক্রিপ্টোগ্রাফিক মেটাডেটা প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে যেকোনো এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ইন্টারনেটে আপলোড হওয়া মাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডিপফেক’ হিসেবে চিহ্নিত বা ফ্ল্যাগড হয়ে যায়। (খ) আইনকাঠামোর আধুনিকায়ন ও কঠোর প্রয়োগ: বাংলাদেশের বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইন বা অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আইনগুলোকে আরও সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী করতে হবে। বিশেষ করে ‘ডিপফেক জালিয়াতি’ ও ‘ডিজিটাল ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন’-কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে- যাতে অপরাধীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সৃষ্টি হয়। (গ) মূলধারার গণমাধ্যমের রূপান্তর ও ফ্যাক্ট-চেকিং সেল: মূলধারার সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে কেবল দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় না নেমে, তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি বড় গণমাধ্যমে একটি সুসজ্জিত এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ফেক নিউজ ও ডিপফেক ডিটেকশন সেল’ থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। (ঘ) ডিজিটাল লিটারেসি ও সামাজিক প্রতিরোধ: একটি সমাজকে ভেতর থেকে সচেতন না করলে কেবল আইন দিয়ে অপরাধ দমন অসম্ভব। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের পাঠ্যসূচিতে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা ‘তথ্য সাক্ষরতা’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সাধারণ নাগরিককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার পূর্বে ‘থিংক বিফোর ইউ লিঙ্ক’ (Think Before You Link) নীতি অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।ডিপফেক এবং গুজব কেবল প্রযুক্তির বিবর্তনের কোনো নিরীহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটি মূলত সত্যের চিরন্তন ধারণার ওপর এক সুপরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক আঘাত। আমরা যদি এখনই সামষ্টিক বুদ্ধিমত্তা, কঠোর আইনি কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে এই ইনফোডেমিক বা তথ্যের মহামারীকে রুখে দিতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানবসভ্যতা এক অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে- যেখানে সত্য হবে আপেক্ষিক আর মিথ্যা হবে সর্বজনীন। সত্য ও মিথ্যার এই যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষে লড়াই করাটা আজ কেবল কোনো নৈতিক দায়িত্ব নয় বরং এই ডিজিটাল মহাবিশ্বে আমাদের মানবিক অস্তিত্ব, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক চূড়ান্ত ও অনিবার্য সংগ্রাম।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গুজব ও ডিপফেক : সত্য-মিথ্যার নতুন সংকট

অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। একই সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের তৎপরতা, মাদক, জমি দখল এবং আবাসিক হোটেলগুলোতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত একটি ফ্যাসিস্ট সরকার এই রাষ্ট্রটি ভোগদখল করে রেখেছিল। তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, জনগণের ওপর জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যাপক দুর্নীতি করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। সেই অন্ধকার অবস্থা থেকে আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার গঠিত হয়েছে। দেশের এই নতুন পরিস্থিতিতে আমাদের আন্তরিকতা ও চেষ্টার কোনো কমতি নেই। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রশাসনের সকলে মিলে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে।ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে আমাদের আলাদাভাবে নজরদারি রাখতে হবে। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের অনেকে বর্তমানে ঢাকা সিটিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তারা যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে।’রাজধানী ও আশপাশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে এখন একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন এবং জেলা সিভিল সার্জন। এছাড়া বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।মাদক ও জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামি তিন মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রের চাকরি করেন। তাই রাষ্ট্রকে কীভাবে আরও ভালো রাখা যায়, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই প্রশাসনের সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত।’

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ
খেলাধুলা

প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পদার্থ বিজ্ঞানের বন্ধনে, প্রাক্তনদের মিলনে- আগামীর পথে একসাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়।এদিন সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের হলরুমে গিয়ে অ্যালামনাই ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সচিব মাসুম বেগ, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক সাব্বির হাসান পল সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। দিনব্যাপী ওই পুনর্মিলনীকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

আব্দুস সাত্তার:নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

২০ আগস্ট ২০২৬
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

মোস্তফা কামাল নান্নু: এক সময় ব্যাট হাতে মাঠ মাতানো ক্রিকেটার ইকবাল খান এখন শয্যাশায়ী। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দুই পায়ে স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কথা বলাও। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। এর মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এখন বৃদ্ধ বাবা-মা, বন্ধু ও স্বজনরাই তাঁর একমাত্র ভরসা।ইকবাল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রতন খানের ছেলে। এক সময় বিকেল হলেই ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে ছুটতেন তিনি। ক্রিকেট ও ফুটবলে পারদর্শী ইকবালের খেলা দেখতে গ্রামের মানুষ ভিড় করতেন। পাশাপাশি ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে করে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইকবাল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। ধারদেনা করে কয়েকবার চিকিৎসা করানো হলেও অর্থের অভাবে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে যান। এখন বাড়ির একটি ঘরেই কাটছে তাঁর দিন। কথা বলতে না পারলেও চোখের দৃষ্টিতে নিজের কষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।ইকবালের বাবা রতন খানের বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও চায়ের দোকান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে ওষুধ ও পরিবারের খাবার জোগাড় করেন। ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করতে করতে নিঃস্ব পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বসতভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। ইকবালের বন্ধু ও স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তাঁকে সহায়তা করেছেন। তবে চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়।পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ইকবাল তাঁর বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। মেধাবী ও বিনয়ী এই তরুণের এমন অবস্থা দেখে কষ্ট হয়। তাঁর চিকিৎসায় সরকারি ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, ইকবালের অসুস্থতার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তাঁকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।ইকবাল এখন শুধু চিকিৎসা ও মানুষের সহযোগিতা চান। তাঁর পরিবারের আশা, সহায়তা পেলে আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন তিনি।

১৯ আগস্ট ২০২৬
অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইল শহরের একসময়ের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী ‘ভাসানী হল’ আজ ধুলোবালি, ভাঙাচোরা দেয়াল আর তালাবদ্ধ কক্ষের নিস্তব্ধতায় ঢাকা। দীর্ঘদিনের অযত্ন, অবহেলা, সংস্কারের অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এই মিলনায়তনটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। যে প্রাঙ্গণ একসময় নাটক, সংগীত, নৃত্য, কবিতা, বইমেলা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক নানা আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকত, সেখানে এখন চেপে বসেছে এক ভীতিকর পরিবেশ। বর্তমানে দিনে হলটির বারান্দায় বসেছে পানের দোকান আর প্রাঙ্গণটি ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাকস্ট্যান্ড হিসেবে। সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা চলে যায় অন্ধকার ও অপরাধীদের দখলে; হয়ে ওঠে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড্ডাখানা। এতে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ বাড়ছে।জানাগেছে, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ‘টাঙ্গাইল টাউন হল’ নামে এটি নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ হাবিবুল্লাহ্-এর অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র দুই বছরে এটি বাস্তব রূপ লাভ করে। পরে ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান। পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে সর্বসম্মতিক্রমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ভাসানী হল’। এরপর থেকেই এটি জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায় এবং অনন্য ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।স্থানীয় প্রবীণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, আগে পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল। বিভিন্ন উপলক্ষে তারা নাটকের আয়োজন করত এবং পুরো টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই ভাসানী হলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। প্রায় ১,০০০ আসনবিশিষ্ট এই আধুনিক মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দশক ধরে টাঙ্গাইলের নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক সমাবেশের প্রধান ভেন্যু ছিল এটি। প্রতি বছর ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল এখানে এসে নাট্যোৎসব করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সংগঠনগুলো হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ভবনটি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অবশেষে প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় জেলার অন্যতম বড় এই মিলনায়তনের কার্যক্রম।স্থানীয়রা মনে করেন, ভাসানী হল শুধু একটি কংক্রিটের ভবন নয়; এটি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারকটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে প্রায় এক দশক আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ২০১৫ সালেও একবার এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে হলের দেয়ালে দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে, ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। হলের ভেতরের অধিকাংশ কক্ষ দীর্ঘ বছর ধরে তালাবদ্ধ ও ধুলোবালির স্তূপে পরিণত হয়েছে।টাঙ্গাইলের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মতে, ভাসানী হল বন্ধ হওয়ার পর থেকে জেলার বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বড় পরিসরে কোনো অনুষ্ঠান বা নাটক মঞ্চস্থ করার মতো বিকল্প কোনো আধুনিক মিলনায়তন পুরো শহরে আর নেই। ২০১৫ সালে একবার হলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন আজ অবধি দেখা যায়নি। দীর্ঘ অবহেলার পর চলতি বছরের ১২ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক হলটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন।টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুরকার-গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু জানান, ভাসানী হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এক হাজার আসন বিশিষ্ট এই মিলনায়তনটিতেই জেলার সব সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। শুধু তাই নয়, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করতো। এছাড়া এ ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র ছিল হলটি।তিনি আক্ষেপ করে জানান, আগের মতো বড় বড় অনুষ্ঠান তারা করতে পারেন না। অনুষ্ঠান করতে এখন শিল্পকলা একাডেমিতে যেতে হয়- শিল্পকলা একাডেমির অবস্থান শহরের কেন্দ্রবিন্দুর বাইরে, সেখানে রাতে মানুষ যেতে চায়না।কবি মাহমুদ কামাল জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত এ হলটিকে পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করার দাবি ছিল। হলটি মওলানা ভাসানীর নামে থাকায় বিগত সরকার সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, ভাসানী হলটি পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হোক।টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান জানান, টাঙ্গাইল একটি সাংস্কৃতিক নগরী এবং পুরাতন জেলা। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিকচর্চার অন্যতম প্রধান জায়গা হচ্ছে ভাসানী হল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে গতিশীল রাখার জন্য ভাসানী হল খুবই প্রয়োজন।তিনি আরো জানান, মাদকের ছোবল এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে ক্রীড়া অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তার জন্য একটি ভালো অডিটরিয়াম প্রয়োজন। তিনি দ্রুত ভাসানী হলের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের দাবি করেন।টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুননির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

১৭ আগস্ট ২০২৬
অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’