সর্বশেষ
• সাইবার নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করতে চান প্রতিভাবান সোহান • আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায় • দুর্গোৎসব : আত্ম-উপলব্ধি ও আত্মোন্নয়নের শিক্ষা • দুই শতাধিক দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী • ‘আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম’ :: শিরোচ্ছেদ হওয়া সুইটির মা • গৃহবধূকে দলবদ্ধ যৌননিগ্রহের দায়ে ৬ জনের যাবজ্জীবন • নাগরপুরে আজানের সুরে থামে ঢাকের বোল • এজেন্সির কোটা ব্লক থাকায় ভারতীয় ভিসা পেতে জটিলতা :: ডেপুটি হাইকমিশনার • টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের পূজামণ্ডপে আর্থিক উপহার • টাঙ্গাইলে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত
সাইবার নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করতে চান প্রতিভাবান সোহান
আন্তর্জাতিক • ৪৫ মিনিট আগে

সাইবার নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করতে চান প্রতিভাবান সোহান

দৃষ্টি রিপোর্ট:সাইবার জগতে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি মিডিয়া ও সঙ্গীত শিল্পে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিয়মিত কাজ করতে চান সোহান আহমেদ। সোহান আহমেদ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা বল্লা গ্রামের মো. আমিনুর ইসলামের ছেলে। ইতোমধ্যে ডিজিটাল উদ্ভাবন, মিডিয়া প্রডাকশন এবং সুরের ভুবনে একই সাথে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তরুণ আইটি বিশেষজ্ঞ, ওয়েব ডিজাইনার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক সোহান আহমেদ। পেশাগত জীবনে প্রযুক্তি খাত, টেলিভিশন ব্রডকাস্ট মিডিয়া এবং ডিজিটাল মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি- ক্ষেত্রে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের শক্তিশালী অবস্থান।আইটি, ওয়েব ডিজাইন ও সাইবার সিকিউরিটি খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন সোহান আহমেদ। তিনি ওয়েবেভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘এসএআর টেক’ (SAR TECH)-এর প্রতিষ্ঠাতা। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের ওয়েবসাইট ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার সিকিউরিটি পরামর্শ এবং কারিগরি বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছেন।তিনি এটিএন বাংলা, চ্যানেল নাইনসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে এটিএন বাংলার জন্য জিএম সৈকত পরিচালিত পূজা স্পেশাল নাটক ‘দেবী’, চ্যানেল নাইনে চিত্রনায়ক শিপন মিত্র অভিনীত ও জিএম সৈকত পরিচালিত নাটক ‘ঘর জামাই’-এর অডিও-ভিডিও সম্পাদনা ও মিডিয়া প্রডাকশনের কাজ অন্যতম।এছাড়া দেশের সুপরিচিত সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি সিরিজ (G Series), সিডি চয়েজ (CD Choice) এবং সুরঞ্জলির ব্যানারে প্রচারিত কণ্ঠশিল্পী আরিয়ান হাসমি ও জিয়াদ সিদ্দিকসহ বিভিন্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সঙ্গীত শিল্পীর বেশ কিছু জনপ্রিয় গানের অডিও-ভিডিও সম্পাদনা ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণে কাজ করেছেন তিনি।স্বাধীন সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ডিজিটাল মাধ্যমে স্বত্বাধিকার রক্ষা এবং নিজস্ব প্রকাশনা সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন অডিও-ভিডিও লেবেল ‘এসএআর মিউজিক ওয়ার্ল্ড’ (SAR Music World)। এই লেবেলের অধীনে তাঁর সুরারোপিত ও পরিচালিত থেকে শুরু করে অন্যান্য জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীত শিল্পিদের একাধিক ট্র্যাক স্পোটিফাই, অ্যাপল মিউজিক, ইউটিউবসহ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে পরিবেশিত হয়ে আসছে।এ বিষয়ে টোকাই নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা, নাট্য পরিচালক ও অভিনেতা সাজু মেহেদীর সাথেও কথা হয়। তিনি সোহান আহমেদ এর ডিজিটাল কর্মকান্ডের বিষয়ে জানান, ‘সোহান আহমেদের মধ্যে আমি অসাধারণ প্রতিভা, মেধা ও সম্ভাবনা দেখতে পাই। তিনি নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি বহুদূর এগিয়ে যাবেন। তার মধ্যে ভালো কিছু করার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা সঠিকভাবে বিকশিত হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারবে।’ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সোহান আহমেদ জানান, সাইবার জগতে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি মিডিয়া ও সঙ্গীত শিল্পে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিয়মিত কাজ করে যাওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায়
জাতীয় • ৫৮ মিনিট আগে

আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায়

দৃষ্টি নিউজ:শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমী আজ বুধবার (২১ অক্টোবর)। দিন শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পাচ দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে বিদায়ের সুর। ঢাক-ঢোল ও শঙ্খের ধ্বনির সঙ্গে ভক্তদের চোখের জলে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকালে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বিহিত পূজা। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। এরপর স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন ভক্তরা।হিন্দুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। দেবীর বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে দেখা দেয় বিষাদের আবহ। কয়েক দিনের উৎসবমুখর পরিবেশের পর প্রিয় দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক ভক্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাক ও শঙ্খের ধ্বনি সেই বিদায়ের আবহকে আরও গভীর করে তোলে।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়া। এসব নেতিবাচক প্রবৃত্তি পরিহার করে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ় করা এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ই এ আয়োজনের অন্যতম শিক্ষা।বিজয়া দশমীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন সিঁদুর খেলা। দেবী দুর্গার বিদায়ের আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সনাতনী নারীরা এ আয়োজনে অংশ নেবেন। দেবীর চরণে অর্পিত সিঁদুর নিয়ে নিজেদের রাঙিয়ে তোলার পাশাপাশি একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেবেন তারা।প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, স্বামীর মঙ্গল কামনায় নারীরা দশমীর দিন দেবী দুর্গার সিথিতে দেওয়া সিদুর নিজের সিথিতে ধারণ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পান ও মিষ্টি দিয়ে দেবীকে সিদুর স্পর্শ করানোর পর নারীরা পরস্পরের সিথি ও মুখে সিঁদুর লাগিয়ে দেন। সিঁদুর খেলা শেষে দেবীর আরাধনা করে তাকে শেষবারের মতো প্রণাম জানাবেন ভক্তরা।ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে এবং গমন করবেন নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা।বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানালেও ভক্তদের মনে রয়ে যাবে আগামী বছরের পূজার অপেক্ষা।

দুর্গোৎসব : আত্ম-উপলব্ধি ও আত্মোন্নয়নের শিক্ষা
জাতীয় • ১ ঘণ্টা আগে

দুর্গোৎসব : আত্ম-উপলব্ধি ও আত্মোন্নয়নের শিক্ষা

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::শরতের শান্ত-স্নিগ্ধ প্রকৃতি, কুয়াশাভেজা ভোর, নদীর কূলে কূলে শুভ্র কাশফুলের দোলা আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের কাঠির মিষ্টি ধ্বনিলয় ‘মা দুর্গা’র মর্ত্যে আগমনের বার্তা পৌঁছে দেয়। আশ্বিন ও কার্তিক মাসের সূচনালগ্নে অনুষ্ঠিত এই শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধানতম ধর্মীয় মহোৎসবই নয় বরং এটি বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অনবদ্য সামাজিক প্রপঞ্চ। বাহ্যিক কোলাহল, আলোকের ঝরনাধারা, নতুন বস্ত্র পরিধান আর প্রতিমা বিসর্জনের প্রথাগত আড়ম্বরের গভীরে ডুব দিলে দেখা যায়- দুর্গোৎসবের মূল বার্তা লুকিয়ে রয়েছে মানব জীবনের চরম আধ্যাত্মিক দর্শনে। এটি মানুষের ভেতরকার সুপ্ত আত্ম-উপলব্ধিকে জাগ্রত করার এবং ব্যক্তি থেকে সমাজ জীবন পর্যন্ত সার্বিক আত্মোন্নয়ন সাধনের এক মহান জীবনমুখী শিক্ষা প্রদান করে। ইতিহাস ও শাস্ত্রীয় দর্শনের আলোয় এই উৎসবের ভেতরের সত্য ও তাৎপর্য অনুধাবন করা আজকের পরিবর্তিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি।উৎসবের গভীরে প্রবেশ করতে হলে প্রথমেই পূজা ও উৎসব- এ দুটি মূল শব্দবন্ধের ব্যাকরণগত ও বুৎপত্তিগত অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা প্রয়োজন। ‘পূজা’ শব্দটি সংস্কৃত ‘পূজ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত। এই পূজ ধাতুর মূলার্থ হচ্ছে ‘বর্ধনশীলতা’ বা বৃদ্ধিসাধন। অর্থাৎ, যে প্রক্রিয়া বা আচারের মাধ্যমে মানুষের ভেতরের সৎ চিন্তা, বিবেক, প্রজ্ঞা এবং আত্মিক গুণাবলির পরম বৃদ্ধি ও উৎকর্ষ ঘটে, তা-ই পূজা। অপরদিকে, ‘উৎসব’ শব্দটির উৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে ‘উৎস অভিমুখে গমন’। উৎসব মানুষের চেতনাকে জড়তা থেকে মুক্ত করে কল্যাণময় পরম উৎসের দিকে পরিচালিত করে। অতএব, গভীর দর্শনের বিচারে পূজা বা উৎসব- দুটি শব্দই মূলতঃ একই অর্থ ও উদ্দেশ্য বহন করে। দুটি শব্দই মানুষকে তার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে সত্তার প্রকৃত উৎসের দিকে নিয়ে যায় এবং জীবনের শুভ ভাবগুলোকে বর্ধিত করে। এ কারণেই ভারতীয় দর্শনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে- ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আচারের বিষয় হলেও, ‘উৎসব’ সর্বজনীন এবং সবার।হাজার বছরের আবহমান সংস্কৃতির ধারায় হিন্দু শাস্ত্রের এই পবিত্র পার্বণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আনন্দ-উৎসবে একাত্ম হয়ে মেতে ওঠে সমগ্র বাঙালি হৃদয়। সেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক মর্যাদার কোনো প্রাচীর থাকে না। ভেদাভেদ, জাত-পাত ও হিন্দু-মুসলিম পরিচয় ‘উৎসবের’ এই মিলনমেলায় এসে একাকার হয়ে যায়। দুর্গাপূজা তাই কেবল একটি সম্প্রদায়ের পুজো থাকে না, তা রূপান্তরিত হয় সম্প্রীতির এক অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন মিলন মহোৎসভে।সনাতন শাস্ত্র ও প্রাচীন গ্রন্থাবলীতে দেবী দুর্গার মহিমা ও স্বকীয় রূপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর গূঢ় অর্থে বিবৃত হয়েছে। ‘দুর্গা’ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘দুর্গতি-নাশিনী’- যিনি জীবের জীবনের সকল প্রকার দুর্গতি, আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক দুঃখ দূর করেন। দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসবের প্রকৃত তত্ত্বার্থে পূজা শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- যা সম্পাদন করলে জীবনে বাস্তব ও আত্মিক উভয় ক্ষেত্রের উন্নয়নের পথ সুপ্রশস্ত হয়। শাস্ত্রীয় সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্গা নামের প্রতিটি বর্ণ ও ধ্বনি নির্দিষ্ট প্রতীকী শক্তির বাহক- ‘দ’ অক্ষর: দৈত্যনাশক (অসুরবৃত্তি বা হিংস্রতার বিনাশক)। ‘উ-কার’: বিঘ্ননাশক (জীবনের সব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা দূরকারী)। ‘রেফ’: রোগনাশক (শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি দূরকারী)। ‘গ’ অক্ষর: পাপনাশক (অন্যায় ও অপরাধবোধ প্রক্ষালনকারী)। ‘অ-কার’: ভয় ও শত্রুনাশক (সকল ভয় ও বহিঃ-অন্তঃ শত্রু বিনাশকারী)। অর্থাৎ দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ এবং ভয়-শত্রুর হাত থেকে যিনি জীবকে নিরন্তর রক্ষা করেন এবং সার্বিক কল্যাণ দান করেন- তিনিই দুর্গা।সংস্কৃত অভিধান ‘শব্দকল্পদ্রুম’-এর পংক্তিতে দেবীর পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে- ‘দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা’ যার অর্থ- দুর্গ নামক অত্যাচারী অসুরকে যিনি বিনাশ করেন, তিনি শাস্ত্রে নিত্য ‘দুর্গা’ নামে অভিহিত হন। আবার সনাতন ধর্মশাস্ত্র ‘শ্রীশ্রীচণ্ডী’ বা ‘দেবী মাহাত্ম্যম’-এর ভাষ্য অনুসারে, দেবী দুর্গা কোনো একক ব্যক্তি বা সীমিত দেবী সত্তা নন; বরং তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল দেবতার শক্তি, তেজ ও শুভ ভাবনার একীভূত ও একসূত্রে গঠিত এক মহাশক্তির প্রতিমূর্তি। যুগে যুগে জগতে যখনই অন্যায়, অধর্ম, স্বৈরাচার ও পাপের আধিক্য ঘটেছে, তখনই দুষ্টের বিনাশ এবং সৃষ্টের পালনে দেবী দুর্গা ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকট হয়েছেন। শাস্ত্রানুসারে শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর অজস্র নাম রয়েছে, যার মধ্যে- মহাশক্তি, ব্রহ্মময়ী, আদ্যাশক্তি, নারায়ণী, চণ্ডী, মহিষ-মর্দিনী ও অসুর নাশিনী- এই নামগুলো বিশেষ পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।দুর্গাপূজার ইতিহাস অতি প্রাচীন। বৈদিক যুগ থেকে শুরু করে পৌরাণিক কাল এবং মধ্যযুগ পার হয়ে আধুনিক কাল পর্যন্ত এর ঐতিহাসিক বিবর্তন লক্ষণীয়। (ক) সত্য যুগ- সুরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য মহামায়ার আরাধনা করে হারানো রাজ্য ও জ্ঞান লাভ করেন (বসন্তকালের ‘বাসন্তী পূজা’)। (খ) ত্রেতা যুগ- শ্রী রামচন্দ্র লঙ্কার অধিপতি রাবণ বধের উদ্দেশ্যে শরৎকালে দেবীর অকালবোধন করেন, যা ‘শারদীয় পূজা’ নামে পরিচিত হয়। (গ) মধ্যযুগ- বাংলার রাজা ও ভূস্বামীরা (যেমন কংসনারায়ণ, ভবানন্দ মজুমদার) দুর্গাপূজাকে সামন্তীয় আড়ম্বরে রূপ দেন। এবং (ঘ) আধুনিক যুগ- বারোয়ারি ও সার্বজনীন পূজার সূচনা; ব্যক্তিকেন্দ্রিক আড়ম্বর পেরিয়ে দুর্গাপূজা গণমানুষের উৎসবে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক বিবর্তনের এই ধারা প্রমাণ করে- দুর্গাপূজা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতার নাম নয় বরং এটি যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে।দুর্গোৎসবের সবচেয়ে প্রাঞ্জল ও গভীর শিক্ষাটি লুকিয়ে রয়েছে দেবী দুর্গার রণরঙ্গিনী রূপ এবং তাঁর পদাশ্রিত ‘মহিষাসুর’- এর প্রতীকী যুদ্ধের মধ্যে। দেবীর দশহাতে দশটি অস্ত্র, চরণে দলিত মহিষাসুর, বাহন সিংহ- এই প্রতিটি উপাদানের অন্তরালে রয়েছে সুগভীর মানসিক ও আত্মিক দর্শন। বাহ্য দৃষ্টিতে মহিষাসুর একটি বাহ্যিক দানব হলেও, প্রকৃত তত্ত্ব দর্শনে মহিষাসুর হলো মানুষের নিজস্ব মনের কুপ্রবৃত্তি বা ‘ষড়রিপু’-র প্রতীক। মানুষের আত্মোন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো তার নিজস্ব অন্তরের ছয়টি শত্রু: (১) কাম (অনিয়ন্ত্রিত কামনা), (২) ক্রোধ (উন্মাদ হিংস্রতা), (৩) লোভ (অন্যের বস্তুর প্রতি লালসা), (৪) মোহ (অজ্ঞানতা ও অন্ধত্ব), (৫) মদ (অহংকার ও দম্ভ) এবং (৬) মাৎসর্য (ঈর্ষা ও পরশ্রীকাতরতা)। দেবী দুর্গার সিংহবাহন রূপটি হলো অনুভূতির সংযম ও বলের প্রতীক। যখন মানুষ দুর্গারূপী আত্মচেতনা বা পরম প্রজ্ঞাকে জাগ্রত করে, তখন সে তার ভেতরের পাশবিক মহিষাসুরকে বধ করতে সক্ষম হয়। আত্ম-উপলব্ধি ব্যতিরেকে জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য অনুধাবন করা অসম্ভব। পূজা কেবল বাইরের মৃণ¥য়ী প্রতিমায় পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার নাম নয় বরং মৃণ¥য়ীর মাঝে চিন্ময়ী শক্তিকে অনুভব করে নিজের মনের সমস্ত কলুষতা, সংকীর্ণতা ও অহংকারকে বিসর্জন দেওয়াই হলো প্রকৃত আত্ম-উপলব্ধি।আজকের পৃথিবী প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক দূর এগিয়ে গেলেও, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে হিংসা, বিদ্বেষ, ধর্মান্ধতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং পরমতঅসহিষ্ণুতা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সংঘাতময় বাস্তবতায় দুর্গোৎসবের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও কালোপযোগী। (ক) সংযম ও আত্মশুদ্ধি: দুর্গোৎসব আমাদের শিক্ষা দেয় কীভাবে ভোগের মধ্য দিয়েও ত্যাগের অনুশীলন করা যায়। দেবীর শক্তি আমাদের আত্মশুদ্ধির পথ দেখায়। (খ) নারীশক্তির মর্যাদা (স্ত্রীশক্তি সম্মান): দেবী দুর্গা স্বয়ং নারীশক্তির সর্বোচ্চ প্রতীক। আজকের সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দুর্গাপূজার দর্শন আমাদের প্রেরণা জোগায়। (গ) সামাজিক সম্প্রীতি: দেবীর দশহাতের দশটি অস্ত্র আমাদের শেখায়—সব সামাজিক অনাচার, অসমতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। যেভাবে বিভিন্ন দেব-দেবীর সম্মিলিত তেজ থেকে দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল, ঠিক তেমনি সমাজের সব ভালো মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই কেবল কুসংস্কার, বিভেদ ও অন্যায়-অবিচার প্রতিহত করা সম্ভব।শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটে প্রতিমা বিসর্জনের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে। বিজয়া দশমীতে দেবী প্রতিমাকে জলে বিসর্জন দেওয়া হলেও মূলত তা বস্তুর নশ্বরতা ও চেতনার অবিনশ্বরতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। বিসর্জনের আসল বার্তা হলো- প্রতিমার সাথে সাথে আমাদের অন্তরের ঘৃণা, অহংকার, হিংসা ও ক্ষদ্র স্বার্থচিন্তাকে বিসর্জন দেওয়া। যদি দেবী বিসর্জনের পর মানুষের ভেতরের পশুত্ব জীবিত থেকে যায়, তবে সেই পূজার আয়োজন সার্থক হয় না।পরিশেষে বলা যায়, দুর্গাপূজা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সাময়িক সামাজিক আনন্দ-প্রদর্শন নয়; এটি আত্মচেতনা ও প্রজ্ঞার পরম তীর্থক্ষেত্র। দুর্গোৎসবের এই মহতী তিথিতে জাত-পাত ও ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়া আবশ্যক। দেবী দুর্গার আরাধনার মাধ্যমে ভেতরের সত্য ও শুভ শক্তিকে জাগিয়ে তুলে, আত্ম-উপলব্ধির পরম আলোয় জীবনকে উদ্ভাসিত করে এবং একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও সম্প্রীতিময় সমাজ গঠনে আত্মোন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়াই হোক পাথেয়।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

দুই শতাধিক দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
রাজনীতি • ১৫ ঘণ্টা আগে

দুই শতাধিক দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:সারাদেশের মতো টাঙ্গাইল সদর উপজেলায়ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সোমবার রাত থেকে শুরু করে মঙ্গলবার(২০ অক্টোবর) দিনভর টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। তিনি এই দুই দিনে উপজেলার দুই শতাধিক দুর্গাপূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।পরিদর্শনকৃত মণ্ডপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাদত বাজার পূজামন্দির, বেতকা দাসপাড়া পূজামণ্ডপ (২টি), আদালতপাড়া পূজামণ্ডপ, শ্রী শ্রী বড় কালীবাড়ি মন্দির, বাজিতপুর সাহাপাড়া পূজামণ্ডপ, থানাপাড়া পূজামণ্ডপ, হরিজন কলোনি পূজামন্দির, কাগমাড়ির বিভিন্ন পূজামণ্ডপ, কলেজপাড়া পূজামণ্ডপ, প্যারাডাইসপাড়া পূজামণ্ডপ, ছোট কালীবাড়ি পূজামন্দির, বটতলাস্থ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম মণ্ডপ, দেওলা পূজামন্দির, সাবালিয়া হরিপাগল পূজামণ্ডপ, সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া পূজামণ্ডপ, বেতকা ধোপাপাড়া পূজামণ্ডপ এবং রেজিস্ট্রিপাড়া পূজামণ্ডপ ইত্যাদি।পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে আমরা সবাইকে নিয়ে একটি সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমাদের এই দেশে কোনো ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ বলে কিছু নেই; আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং সবাই মিলে একসাথেই এই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করব।নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, যার যার ধর্ম সে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে, আর প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। এই লক্ষ্যে দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিটি পূজামণ্ডপকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সেই সাথে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করছেন। দেশের কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে, যাতে অপশক্তির যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দেওয়া যায়।এদিকে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।মতবিনিময় সভা শেষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টাঙ্গাইল শহরের ছোট কালীবাড়ি, বড় কালীবাড়িসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা পূজার সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায়
জাতীয়

আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায়

দৃষ্টি নিউজ:শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমী আজ বুধবার (২১ অক্টোবর)। দিন শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পাচ দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে বিদায়ের সুর। ঢাক-ঢোল ও শঙ্খের ধ্বনির সঙ্গে ভক্তদের চোখের জলে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকালে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বিহিত পূজা। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। এরপর স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন ভক্তরা।হিন্দুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। দেবীর বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে দেখা দেয় বিষাদের আবহ। কয়েক দিনের উৎসবমুখর পরিবেশের পর প্রিয় দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক ভক্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাক ও শঙ্খের ধ্বনি সেই বিদায়ের আবহকে আরও গভীর করে তোলে।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়া। এসব নেতিবাচক প্রবৃত্তি পরিহার করে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ় করা এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ই এ আয়োজনের অন্যতম শিক্ষা।বিজয়া দশমীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন সিঁদুর খেলা। দেবী দুর্গার বিদায়ের আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সনাতনী নারীরা এ আয়োজনে অংশ নেবেন। দেবীর চরণে অর্পিত সিঁদুর নিয়ে নিজেদের রাঙিয়ে তোলার পাশাপাশি একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেবেন তারা।প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, স্বামীর মঙ্গল কামনায় নারীরা দশমীর দিন দেবী দুর্গার সিথিতে দেওয়া সিদুর নিজের সিথিতে ধারণ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পান ও মিষ্টি দিয়ে দেবীকে সিদুর স্পর্শ করানোর পর নারীরা পরস্পরের সিথি ও মুখে সিঁদুর লাগিয়ে দেন। সিঁদুর খেলা শেষে দেবীর আরাধনা করে তাকে শেষবারের মতো প্রণাম জানাবেন ভক্তরা।ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে এবং গমন করবেন নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা।বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানালেও ভক্তদের মনে রয়ে যাবে আগামী বছরের পূজার অপেক্ষা।

৫৮ মিনিট আগে

দুর্গোৎসব : আত্ম-উপলব্ধি ও আত্মোন্নয়নের শিক্ষা

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::শরতের শান্ত-স্নিগ্ধ প্রকৃতি, কুয়াশাভেজা ভোর, নদীর কূলে কূলে শুভ্র কাশফুলের দোলা আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের কাঠির মিষ্টি ধ্বনিলয় ‘মা দুর্গা’র মর্ত্যে আগমনের বার্তা পৌঁছে দেয়। আশ্বিন ও কার্তিক মাসের সূচনালগ্নে অনুষ্ঠিত এই শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধানতম ধর্মীয় মহোৎসবই নয় বরং এটি বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অনবদ্য সামাজিক প্রপঞ্চ। বাহ্যিক কোলাহল, আলোকের ঝরনাধারা, নতুন বস্ত্র পরিধান আর প্রতিমা বিসর্জনের প্রথাগত আড়ম্বরের গভীরে ডুব দিলে দেখা যায়- দুর্গোৎসবের মূল বার্তা লুকিয়ে রয়েছে মানব জীবনের চরম আধ্যাত্মিক দর্শনে। এটি মানুষের ভেতরকার সুপ্ত আত্ম-উপলব্ধিকে জাগ্রত করার এবং ব্যক্তি থেকে সমাজ জীবন পর্যন্ত সার্বিক আত্মোন্নয়ন সাধনের এক মহান জীবনমুখী শিক্ষা প্রদান করে। ইতিহাস ও শাস্ত্রীয় দর্শনের আলোয় এই উৎসবের ভেতরের সত্য ও তাৎপর্য অনুধাবন করা আজকের পরিবর্তিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি।উৎসবের গভীরে প্রবেশ করতে হলে প্রথমেই পূজা ও উৎসব- এ দুটি মূল শব্দবন্ধের ব্যাকরণগত ও বুৎপত্তিগত অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা প্রয়োজন। ‘পূজা’ শব্দটি সংস্কৃত ‘পূজ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত। এই পূজ ধাতুর মূলার্থ হচ্ছে ‘বর্ধনশীলতা’ বা বৃদ্ধিসাধন। অর্থাৎ, যে প্রক্রিয়া বা আচারের মাধ্যমে মানুষের ভেতরের সৎ চিন্তা, বিবেক, প্রজ্ঞা এবং আত্মিক গুণাবলির পরম বৃদ্ধি ও উৎকর্ষ ঘটে, তা-ই পূজা। অপরদিকে, ‘উৎসব’ শব্দটির উৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে ‘উৎস অভিমুখে গমন’। উৎসব মানুষের চেতনাকে জড়তা থেকে মুক্ত করে কল্যাণময় পরম উৎসের দিকে পরিচালিত করে। অতএব, গভীর দর্শনের বিচারে পূজা বা উৎসব- দুটি শব্দই মূলতঃ একই অর্থ ও উদ্দেশ্য বহন করে। দুটি শব্দই মানুষকে তার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে সত্তার প্রকৃত উৎসের দিকে নিয়ে যায় এবং জীবনের শুভ ভাবগুলোকে বর্ধিত করে। এ কারণেই ভারতীয় দর্শনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে- ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আচারের বিষয় হলেও, ‘উৎসব’ সর্বজনীন এবং সবার।হাজার বছরের আবহমান সংস্কৃতির ধারায় হিন্দু শাস্ত্রের এই পবিত্র পার্বণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আনন্দ-উৎসবে একাত্ম হয়ে মেতে ওঠে সমগ্র বাঙালি হৃদয়। সেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক মর্যাদার কোনো প্রাচীর থাকে না। ভেদাভেদ, জাত-পাত ও হিন্দু-মুসলিম পরিচয় ‘উৎসবের’ এই মিলনমেলায় এসে একাকার হয়ে যায়। দুর্গাপূজা তাই কেবল একটি সম্প্রদায়ের পুজো থাকে না, তা রূপান্তরিত হয় সম্প্রীতির এক অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন মিলন মহোৎসভে।সনাতন শাস্ত্র ও প্রাচীন গ্রন্থাবলীতে দেবী দুর্গার মহিমা ও স্বকীয় রূপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর গূঢ় অর্থে বিবৃত হয়েছে। ‘দুর্গা’ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘দুর্গতি-নাশিনী’- যিনি জীবের জীবনের সকল প্রকার দুর্গতি, আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক দুঃখ দূর করেন। দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসবের প্রকৃত তত্ত্বার্থে পূজা শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- যা সম্পাদন করলে জীবনে বাস্তব ও আত্মিক উভয় ক্ষেত্রের উন্নয়নের পথ সুপ্রশস্ত হয়। শাস্ত্রীয় সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্গা নামের প্রতিটি বর্ণ ও ধ্বনি নির্দিষ্ট প্রতীকী শক্তির বাহক- ‘দ’ অক্ষর: দৈত্যনাশক (অসুরবৃত্তি বা হিংস্রতার বিনাশক)। ‘উ-কার’: বিঘ্ননাশক (জীবনের সব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা দূরকারী)। ‘রেফ’: রোগনাশক (শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি দূরকারী)। ‘গ’ অক্ষর: পাপনাশক (অন্যায় ও অপরাধবোধ প্রক্ষালনকারী)। ‘অ-কার’: ভয় ও শত্রুনাশক (সকল ভয় ও বহিঃ-অন্তঃ শত্রু বিনাশকারী)। অর্থাৎ দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ এবং ভয়-শত্রুর হাত থেকে যিনি জীবকে নিরন্তর রক্ষা করেন এবং সার্বিক কল্যাণ দান করেন- তিনিই দুর্গা।সংস্কৃত অভিধান ‘শব্দকল্পদ্রুম’-এর পংক্তিতে দেবীর পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে- ‘দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা’ যার অর্থ- দুর্গ নামক অত্যাচারী অসুরকে যিনি বিনাশ করেন, তিনি শাস্ত্রে নিত্য ‘দুর্গা’ নামে অভিহিত হন। আবার সনাতন ধর্মশাস্ত্র ‘শ্রীশ্রীচণ্ডী’ বা ‘দেবী মাহাত্ম্যম’-এর ভাষ্য অনুসারে, দেবী দুর্গা কোনো একক ব্যক্তি বা সীমিত দেবী সত্তা নন; বরং তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল দেবতার শক্তি, তেজ ও শুভ ভাবনার একীভূত ও একসূত্রে গঠিত এক মহাশক্তির প্রতিমূর্তি। যুগে যুগে জগতে যখনই অন্যায়, অধর্ম, স্বৈরাচার ও পাপের আধিক্য ঘটেছে, তখনই দুষ্টের বিনাশ এবং সৃষ্টের পালনে দেবী দুর্গা ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকট হয়েছেন। শাস্ত্রানুসারে শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর অজস্র নাম রয়েছে, যার মধ্যে- মহাশক্তি, ব্রহ্মময়ী, আদ্যাশক্তি, নারায়ণী, চণ্ডী, মহিষ-মর্দিনী ও অসুর নাশিনী- এই নামগুলো বিশেষ পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।দুর্গাপূজার ইতিহাস অতি প্রাচীন। বৈদিক যুগ থেকে শুরু করে পৌরাণিক কাল এবং মধ্যযুগ পার হয়ে আধুনিক কাল পর্যন্ত এর ঐতিহাসিক বিবর্তন লক্ষণীয়। (ক) সত্য যুগ- সুরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য মহামায়ার আরাধনা করে হারানো রাজ্য ও জ্ঞান লাভ করেন (বসন্তকালের ‘বাসন্তী পূজা’)। (খ) ত্রেতা যুগ- শ্রী রামচন্দ্র লঙ্কার অধিপতি রাবণ বধের উদ্দেশ্যে শরৎকালে দেবীর অকালবোধন করেন, যা ‘শারদীয় পূজা’ নামে পরিচিত হয়। (গ) মধ্যযুগ- বাংলার রাজা ও ভূস্বামীরা (যেমন কংসনারায়ণ, ভবানন্দ মজুমদার) দুর্গাপূজাকে সামন্তীয় আড়ম্বরে রূপ দেন। এবং (ঘ) আধুনিক যুগ- বারোয়ারি ও সার্বজনীন পূজার সূচনা; ব্যক্তিকেন্দ্রিক আড়ম্বর পেরিয়ে দুর্গাপূজা গণমানুষের উৎসবে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক বিবর্তনের এই ধারা প্রমাণ করে- দুর্গাপূজা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতার নাম নয় বরং এটি যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে।দুর্গোৎসবের সবচেয়ে প্রাঞ্জল ও গভীর শিক্ষাটি লুকিয়ে রয়েছে দেবী দুর্গার রণরঙ্গিনী রূপ এবং তাঁর পদাশ্রিত ‘মহিষাসুর’- এর প্রতীকী যুদ্ধের মধ্যে। দেবীর দশহাতে দশটি অস্ত্র, চরণে দলিত মহিষাসুর, বাহন সিংহ- এই প্রতিটি উপাদানের অন্তরালে রয়েছে সুগভীর মানসিক ও আত্মিক দর্শন। বাহ্য দৃষ্টিতে মহিষাসুর একটি বাহ্যিক দানব হলেও, প্রকৃত তত্ত্ব দর্শনে মহিষাসুর হলো মানুষের নিজস্ব মনের কুপ্রবৃত্তি বা ‘ষড়রিপু’-র প্রতীক। মানুষের আত্মোন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো তার নিজস্ব অন্তরের ছয়টি শত্রু: (১) কাম (অনিয়ন্ত্রিত কামনা), (২) ক্রোধ (উন্মাদ হিংস্রতা), (৩) লোভ (অন্যের বস্তুর প্রতি লালসা), (৪) মোহ (অজ্ঞানতা ও অন্ধত্ব), (৫) মদ (অহংকার ও দম্ভ) এবং (৬) মাৎসর্য (ঈর্ষা ও পরশ্রীকাতরতা)। দেবী দুর্গার সিংহবাহন রূপটি হলো অনুভূতির সংযম ও বলের প্রতীক। যখন মানুষ দুর্গারূপী আত্মচেতনা বা পরম প্রজ্ঞাকে জাগ্রত করে, তখন সে তার ভেতরের পাশবিক মহিষাসুরকে বধ করতে সক্ষম হয়। আত্ম-উপলব্ধি ব্যতিরেকে জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য অনুধাবন করা অসম্ভব। পূজা কেবল বাইরের মৃণ¥য়ী প্রতিমায় পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার নাম নয় বরং মৃণ¥য়ীর মাঝে চিন্ময়ী শক্তিকে অনুভব করে নিজের মনের সমস্ত কলুষতা, সংকীর্ণতা ও অহংকারকে বিসর্জন দেওয়াই হলো প্রকৃত আত্ম-উপলব্ধি।আজকের পৃথিবী প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক দূর এগিয়ে গেলেও, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে হিংসা, বিদ্বেষ, ধর্মান্ধতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং পরমতঅসহিষ্ণুতা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সংঘাতময় বাস্তবতায় দুর্গোৎসবের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও কালোপযোগী। (ক) সংযম ও আত্মশুদ্ধি: দুর্গোৎসব আমাদের শিক্ষা দেয় কীভাবে ভোগের মধ্য দিয়েও ত্যাগের অনুশীলন করা যায়। দেবীর শক্তি আমাদের আত্মশুদ্ধির পথ দেখায়। (খ) নারীশক্তির মর্যাদা (স্ত্রীশক্তি সম্মান): দেবী দুর্গা স্বয়ং নারীশক্তির সর্বোচ্চ প্রতীক। আজকের সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দুর্গাপূজার দর্শন আমাদের প্রেরণা জোগায়। (গ) সামাজিক সম্প্রীতি: দেবীর দশহাতের দশটি অস্ত্র আমাদের শেখায়—সব সামাজিক অনাচার, অসমতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। যেভাবে বিভিন্ন দেব-দেবীর সম্মিলিত তেজ থেকে দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল, ঠিক তেমনি সমাজের সব ভালো মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই কেবল কুসংস্কার, বিভেদ ও অন্যায়-অবিচার প্রতিহত করা সম্ভব।শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটে প্রতিমা বিসর্জনের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে। বিজয়া দশমীতে দেবী প্রতিমাকে জলে বিসর্জন দেওয়া হলেও মূলত তা বস্তুর নশ্বরতা ও চেতনার অবিনশ্বরতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। বিসর্জনের আসল বার্তা হলো- প্রতিমার সাথে সাথে আমাদের অন্তরের ঘৃণা, অহংকার, হিংসা ও ক্ষদ্র স্বার্থচিন্তাকে বিসর্জন দেওয়া। যদি দেবী বিসর্জনের পর মানুষের ভেতরের পশুত্ব জীবিত থেকে যায়, তবে সেই পূজার আয়োজন সার্থক হয় না।পরিশেষে বলা যায়, দুর্গাপূজা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সাময়িক সামাজিক আনন্দ-প্রদর্শন নয়; এটি আত্মচেতনা ও প্রজ্ঞার পরম তীর্থক্ষেত্র। দুর্গোৎসবের এই মহতী তিথিতে জাত-পাত ও ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়া আবশ্যক। দেবী দুর্গার আরাধনার মাধ্যমে ভেতরের সত্য ও শুভ শক্তিকে জাগিয়ে তুলে, আত্ম-উপলব্ধির পরম আলোয় জীবনকে উদ্ভাসিত করে এবং একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও সম্প্রীতিময় সমাজ গঠনে আত্মোন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়াই হোক পাথেয়।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

১ ঘণ্টা আগে
দুর্গোৎসব : আত্ম-উপলব্ধি ও আত্মোন্নয়নের শিক্ষা

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো তত্ত্ব নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি নিউজ: ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো তত্ত্বে বিএনপি বিশ্বাস করে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী সবার একটাই পরিচয়- আমরা বাংলাদেশি। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের আব্দুল ওয়াছেক মিলনায়তনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় সরকার বরাদ্দকৃত চাল ও ঢাকা জেলা পরিষদ বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘আমরা পূজাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছি। বিগত দিনগুলোতে বিএনপির পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি জায়গায় পাশে থেকে সহযোগিতা করেছি। এবারও দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। ইতোমধ্যে প্রতিটি পূজামণ্ডপভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।’আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি করা যাবে না। প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদেরও সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, দেশের মানুষকে নির্যাতন করেছে, গুলি চালিয়েছে, তাদের বাংলাদেশের জনগণই বিদায় করেছে। তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করার কথা বলছে।’তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের মানুষ কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেনি, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। তারা আবার আসতে চাইলে বাংলাদেশের জনগণই তার জবাব দেবে। আগে নিজেদের পরিশুদ্ধ হতে হবে। কেউ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইলে কিংবা ষড়যন্ত্র করলে তা বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। ষড়যন্ত্র করতে পারবে, কিন্তু সফল হতে পারবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ ষড়যন্ত্র করে সফল হতে পারবে না।’মাদক নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে মাদক গ্রহণ বা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে অন্যতম বড় সমস্যা মাদক। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। পূজার সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে।ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক-দক্ষিণ) মো. তরিকুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখে, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার। এ সময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

১৩ অক্টোবর ২০২৬
সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো তত্ত্ব নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

দৃষ্টি বিনোদন:আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও পুরস্কৃত হলো বাংলাদেশের সিনেমা। ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’। ২০০৫ সাল থেকে ইতালির লুকা শহরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই উৎসব। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চার অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের ২২তম আসর। শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম।এবারের লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে ‘মাস্টার’ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি সিনেমা প্রতিযোগিতা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’, ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি। এসব সিনেমাকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’।উৎসবের জুরিবোর্ড তাদের ঘোষণায় ‘মাস্টার’ সিনেমার প্রশংসা করে জানিয়েছে, একটি স্থানীয় গল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বর্তমান সংকটকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।জুরিদের মতে, বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন একজন শিক্ষকের গল্প দেখতে পান, যিনি ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের বদলে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে দৌড়ানো এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফাদে পড়ে তার সেই নীতি কীভাবে ফিকে হয়ে যায়, সেটিই সাবলীলভাবে দেখানো হয়েছে ‘মাস্টার’ সিনেমায়।রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ও প্রযোজিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ নিয়ে আসা একজন আদর্শবান শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতা ও আপসের যাতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, তা নিয়েই এগিয়েছে ‘মাস্টার’-এর গল্প। আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ, তাসনুভা তামান্না প্রমুখ।লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা সুমিত। তিনি বলেন, ‘লুকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই অর্জন মাস্টার সিনেমাটির সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে এ বছর বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। এতগুলো দুর্দান্ত কাজের মাঝে আমার টিমের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করার জন্য বিচারকমণ্ডলীর কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে সেরা নির্বাচিত হয় ‘মাস্টার’। নির্মাতা সুমিত জানিয়েছেন, সিনেমাটি দেশের দর্শকদের দেখানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

দুর্গাপূজায় ছুটি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নির্দেশনা

দৃষ্টি নিউজ:দুর্গাপূজার ছুটি টানা পাঁচ দিন করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। আগামি ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মদিবস হিসেবে অফিস করতে হবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন।সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে সরকারি ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হয়েছে। এরপর ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) ও ২৪ অক্টোবর(শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি।২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ভোগ করবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে এই টানা ছুটি নিশ্চিত করতে ১৭ অক্টোবরকে (শনিবার) কর্মদিবস হিসেবে রাখা হয়েছে। ওই দিন সরকারি অফিস-আদালতের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে।চলতি বছর ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।অতিরিক্ত এক দিনের সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবার দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপূজায় ছুটি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নির্দেশনা

রাজনীতি

আরও দেখুন »
দুই শতাধিক দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
‘ফ্যাসিস্টদের নজর ছিল ঘুষে, শিক্ষাকে করেছিল বাণিজ্য’ : প্রতিমন্ত্রী টুকু
দেশে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি : প্রতিমন্ত্রী টুকু
ফ্যামিলি কার্ডের অনিয়মে কোনো ছাড় নয় : প্রতিমন্ত্রী টুকু
সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো তত্ত্ব নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রতিমন্ত্রী টুকু
‘রাজনীতি মানেই নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে জনকল্যাণ করা’

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
সখীপুরে ধানক্ষেত থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

সখীপুরে ধানক্ষেত থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

সখীপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের সখীপুরে দ্বিতীয় স্ত্রীর (তালাকপ্রাপ্ত) বাড়ির পাশের ধানক্ষেত থেকে দুলু মিয়া(৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের চটানপাড়া মগার মার্কেট এলাকার ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি পুলিশ উদ্ধার করে। নিহত দুলু মিয়া ওই গ্রামের মৃত কাঞ্জু মিয়ার ছেলে। তিনি বড়চওনা রফিকরাজু স্কুলের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।স্থানীয়রা জানায়, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশের ধানক্ষেতের কাছে দুলু মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।দুলু মিয়ার প্রথম স্ত্রী আসমা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তালাক হলেও ওই বাড়িতে দুলু মিয়ার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আমরা বার বার বলেও তাঁকে ফেরাতে পারিনি। ওরাই আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে।অন্যদিকে, দুলু মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী জরিনা বেগম জানান, তালাকের পর দুলু মিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন।নিহতের ছেলে আজহার মিয়া জানান, তাঁর বাবা দুলু মিয়া গত রাতে দোকানে চা পান করে বাড়িতে ফেরেন। পরে আবার বাইরে বের হন। এরপর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তাঁর বাবার মরদেহ ধানক্ষেতের পাশে ‘আইল’ এ পড়ে থাকতে দেখেন।সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

১৪ অক্টোবর ২০২৬

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

ভূঞাপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ডিজিটাল প্রতারকের অপকর্মের ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(১৪ অক্টোবর) ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের সামনে ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির ব্যানারে ওই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা সাংবাদিক হাদি চকদার ও আরিফুজ্জামান তপুর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং ওই ডিজিটাল প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন। একজন চিহ্নিত প্রতারকের অপকর্মের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার শামিল। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অনতিবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।মানববন্ধন চলাকালে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক কালবেলা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ও দেশের কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধি খায়রুল খন্দকার, সদস্য ও বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি শিপন মিয়া, ঘাটাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন প্রমুখ।সংহতি প্রকাশ করে ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন, বৈশাখী টেলিভিশনের রাজু আহমেদ, সাংবাদিক মাসুদুল হক মাসুদ, আবদুল্লাহ সহ স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা।বক্তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে মূল অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি অতি দ্রুত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা সাজানো মামলা প্রত্যাহার না করে, তবে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

১৪ অক্টোবর ২০২৬
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো তত্ত্ব নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি নিউজ: ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো তত্ত্বে বিএনপি বিশ্বাস করে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী সবার একটাই পরিচয়- আমরা বাংলাদেশি। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের আব্দুল ওয়াছেক মিলনায়তনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় সরকার বরাদ্দকৃত চাল ও ঢাকা জেলা পরিষদ বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘আমরা পূজাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছি। বিগত দিনগুলোতে বিএনপির পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি জায়গায় পাশে থেকে সহযোগিতা করেছি। এবারও দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। ইতোমধ্যে প্রতিটি পূজামণ্ডপভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।’আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি করা যাবে না। প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদেরও সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, দেশের মানুষকে নির্যাতন করেছে, গুলি চালিয়েছে, তাদের বাংলাদেশের জনগণই বিদায় করেছে। তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করার কথা বলছে।’তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের মানুষ কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেনি, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। তারা আবার আসতে চাইলে বাংলাদেশের জনগণই তার জবাব দেবে। আগে নিজেদের পরিশুদ্ধ হতে হবে। কেউ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইলে কিংবা ষড়যন্ত্র করলে তা বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। ষড়যন্ত্র করতে পারবে, কিন্তু সফল হতে পারবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ ষড়যন্ত্র করে সফল হতে পারবে না।’মাদক নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে মাদক গ্রহণ বা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে অন্যতম বড় সমস্যা মাদক। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। পূজার সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে।ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক-দক্ষিণ) মো. তরিকুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখে, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার। এ সময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

১৩ অক্টোবর ২০২৬
সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো তত্ত্ব নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

ভূঞাপুরে সাংবাদিকদের ফাঁসাতে প্রতারক চক্রের মিথ্যা মামলা

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখ বন্ধ করতে ও নিজেদের আন্তর্জাতিক ডিজিটাল স্ক্যামিংয়ের তথ্য ধামাচাপা দিতে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে একটি প্রতারক চক্র। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মঙ্গলবার(১৩ অক্টোবর) মামলার আসামি চ্যানেল এস-এর সাংবাদিক হাদি চকদার এবং কালের কণ্ঠের ডিজিটালের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান তপু আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।সরেজমিনে জানাগেছে, মামলার এজাহারে বাদী পক্ষ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এনেছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও সাজানো। ভূঞাপুর থানায় দায়েরকৃত মামলার(নং-৯, তাং-১০/১০/২৬ইং. ধারা-১৪৩/৩৪২/৩৬৫/৩৮৪/৩৮৬/৩৮৯/ ৩৪ পেনাল কোড) বিবরণ অনুযায়ী, ০১৬২০৯৩৬৩৪৩ নম্বরযুক্ত নগদ অ্যাকাউন্ট এবং ২৩৮১৫৭০৫৬৯৪৬৬ নম্বরযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অনুসন্ধানে দেখা গেছে তার সাথে সাংবাদিক হাদি চকদার বা আরিফুজ্জামান তপুর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।এদিকে, মামলা দায়েরের পর সাংবাদিকরা আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। দণ্ডবিধির যেসব ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে, তা নিম্ন আদালতে জামিনযোগ্য না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামিদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।এলাকায় সরেজমিনে অনুসন্ধানে মামলার বাদী মাহিনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মাহিন এখনো একজন ছাত্র হলেও তার আয়ের মূল উৎস এই ডিজিটাল প্রতারণা ও স্ক্যামিং। তার বাবা সরকারি চাকরি করেন এবং বাবার সেই চাকরির লেবাস ও পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সে দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধজগৎ চালনা করছে। কোনো বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও মাহিন সবসময় অত্যন্ত দামি স্মার্টফোন এবং বিলাসবহুল মোটরসাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়ায়- যা তার এই অবৈধ স্ক্যামিংয়ের টাকায় উপার্জিত।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিকরা ডিজিটাল প্রতারণার প্রমাণস্বরূপ ভিডিও ধারণ করায় ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে মরিয়া হয়ে ওঠে মাহিন, নিজাম ও শাকিল মিয়ার এই চক্রটি। নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং সাংবাদিকদের ওপর প্রতিশোধ নিতে তারা মোটা অঙ্কের উৎকোচ বা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ভূঞাপুর থানায় এই মিথ্যা মামলাটি রেকর্ড করায়।আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক হাদি চকদার ও আরিফুজ্জামান তপু দৃঢ়তার সাথে বলেন, বাদী মাহিন ও তার চক্রটি নিজেদের পর্নোগ্রাফি ও আন্তর্জাতিক স্ক্যামিংয়ের অপকর্ম ঢাকতে আমাদের বিরুদ্ধে এই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই আদালতে এই মিথ্যা মামলা সম্পূর্ণ ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণ করব, ইনশাআল্লাহ।ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি রুজু করা হয়েছিল। তবে মামলায় উল্লেখিত নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দুটির প্রকৃত মালিক কারা এবং সাংবাদিকরা এই লেনদেনের সাথে জড়িত কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে মামলাটি তদন্ত করছে। তদন্তে যদি বাদীর আনা অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হয় বা কোনো ভুয়া তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে, তবে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

১৩ অক্টোবর ২০২৬
ভূঞাপুরে সাংবাদিকদের ফাঁসাতে প্রতারক চক্রের মিথ্যা মামলা

তুলির শেষ আঁচড়ে মূর্ত হচ্ছেন দেবী দুর্গা

মু. আবিদ মল্লিক জয়: শরতের শেষ ভাগে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার ডামাডোল শুরু হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার ১৩৫৭টি মণ্ডপে দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ ফুটিয়ে তুলতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা শিল্পীরা চরম ব্যস্ত সময় পার করছে। রঙ-তুলির শেষ আঁচড়ে প্রতিমার প্রাণ প্রতিষ্ঠায় মগ্ন মৃৎশিল্পীরা, তাদের যাদুকরী হাতের ছোঁয়ায় মাটির ক্যানভাসে জীবন্ত হয়ে উঠছেন দেবী দুর্গা।জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলাজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের সনাতনীদের ঘরে ঘরে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জেলায় এ বছর মোট ১৩৫৭টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৭০টি মণ্ডপ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মির্জাপুর এবং সর্বনিম্ন ৩৪টি মণ্ডপ রয়েছে ভূঞাপুরে। মণ্ডপগুলো হচ্ছে- মির্জাপুর উপজেলায় ২৭০টি, টাঙ্গাইল সদরে ২৩৩টি, কালিহাতীতে ১৮২, নাগরপুরে ১৩৮, দেলদুয়ারে ১২৮, ঘাটাইলে ৯৪, বাসাইলে ৮১, মধুপুরে ৬০, গোপালপুরে ৫৭, সখীপুরে ৪৪, ধনবাড়ীতে ৩৬টি এবং ভূঞাপুর উপজেলায় ৩৪টি।সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহরের শ্রী শ্রী কালিবাড়ি, আদালত পাড়া, থানাপাড়া, সাবালিয়া, রেজিস্ট্রিপাড়া, কলেজপাড়া ও প্যারাডাইস পাড়ায় পূজা মন্দির পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রতিমা তৈরির কারিগররা বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর খড় ও মাটির প্রলেপ দিয়ে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছেন। মণ্ডপগুলোতে এখন চলছে রঙ-তুলির শেষ আঁচড়। শিল্পীরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেবীর চোখ, মুখমণ্ডল, পোশাক ও বিভিন্ন অলংকারের নকশা ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত অবিরাম শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।সনাতন ধর্মমতে, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর ঘট স্থাপনের মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এর আগে ১৫ অক্টোবর মহাপঞ্চমী এবং ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজা, ১৭-১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমী অনুষ্ঠিত হবে। ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দুর্গাদেবী ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন এবং নৌকায় চড়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন।প্রতিমা তৈরির কারিগর নিশি কান্ত পাল জানান, প্রতিবছরই এ সময়টাতে তারা অধীর আগ্রহে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকেন। এরমধ্যেই দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন রঙের শেষ আঁচড় দেওয়া হচ্ছে।তিনি জানান, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে এখন প্রতিমা তৈরিতে লাভ অনেকটা কমে গেছে। এ বছর তিনি পাঁচটি প্রতিমার কাজ করছেন। টাঙ্গাইল শহরের বড় কালীবাড়ি ও রেজিস্ট্রি পাড়া, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী ও ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গায় প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। ছোট-বড় প্রতিমা তৈরিতে কাজ ভেদে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি নেন তিনি।এদিকে, জেলার মির্জাপুর উপজেলার কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা এশিয়াখ্যাত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজা মণ্ডপটি উপজেলার সর্ববৃহৎ মণ্ডপ। এ মণ্ডপে দেশ-বিদেশের ভিআইপিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে। এ মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন, মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নৌহাটা গ্রামের চন্দ্র পালের ছেলে অচিন্ত পাল।মৃৎশিল্পী অচিন্ত পাল জানান, তিনি মির্জাপুর সাহাপাড়া ও মধ্যপাড়া সার্বজনীন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন। এতে তিনি এক লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেবেন। এছাড়া তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইলের লোকনাথ মন্দির, ঝিনাইদহ শহরে ৩টি, মাগুরা ও ফরিদপুর শহরে ২টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করেছেন।দুর্গোৎসবকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে। পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে নিয়োজিত থাকবে পূজা কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও বড় মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে এবার একটি উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অমল ব্যানার্জি জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে তাদের সব প্রস্তুতি শেষের দিকে। আসন্ন দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশের সাথে পূজা উদযাপন কমিটির একাধিক মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।তিনি জানান, পুলিশ প্রশাসন, আনসার সদস্যের পাশাপাশি প্রতিটি পূজা মণ্ডপে তাদের সেচ্ছাসেবক কর্মীরাও দায়িত্ব পালন করবে। প্রতি বছরের মতো এবারও সকলের অংশগ্রহণে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সনাতনীদের নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে জেলায় গোয়েন্দা তৎপরতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

১৩ অক্টোবর ২০২৬
তুলির শেষ আঁচড়ে মূর্ত হচ্ছেন দেবী দুর্গা
টাঙ্গাইলে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত
বিনোদন

টাঙ্গাইলে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকবর্তিকা, আধ্যাত্মিক সাধক ও বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এদিন বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। লালনভক্ত ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘জনসেবা চত্বরে’ এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক আলোচনা সভা ও লালনগীতির আসর অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. সেলিম মিয়া। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান তুহীন, টাঙ্গাইল ল’ কলেজের অধ্যক্ষ খান মোহাম্মদ খালেদ ও স্থানীয় লালনভক্ত, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন, শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দা সেলিনা আক্তার ও জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুন হোসাইন।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি বলেন, ‘লালন সাঁইজির দর্শন কেবল গান বা সুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের আত্মিক মুক্তির পথ দেখায়। জাত-পাত ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে তিনি যে মানবতার বাণী প্রচার করে গেছেন- তা বর্তমান সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে অত্যন্ত জরুরি।’সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, ‘লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে জেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একাডেমি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি কেবল একজন সাধকই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন বাঙালি সংস্কৃতির এক আলোকবর্তিকা।’আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী ও আমন্ত্রিত লালনভক্ত বাউল শিল্পীরা একতারা-দোতারার সুরে লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক ও দেহতত্ত্বের গান পরিবেশন করেন।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক লালন অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।

১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

দৃষ্টি বিনোদন:আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও পুরস্কৃত হলো বাংলাদেশের সিনেমা। ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’। ২০০৫ সাল থেকে ইতালির লুকা শহরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই উৎসব। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চার অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের ২২তম আসর। শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম।এবারের লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে ‘মাস্টার’ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি সিনেমা প্রতিযোগিতা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’, ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি। এসব সিনেমাকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’।উৎসবের জুরিবোর্ড তাদের ঘোষণায় ‘মাস্টার’ সিনেমার প্রশংসা করে জানিয়েছে, একটি স্থানীয় গল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বর্তমান সংকটকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।জুরিদের মতে, বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন একজন শিক্ষকের গল্প দেখতে পান, যিনি ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের বদলে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে দৌড়ানো এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফাদে পড়ে তার সেই নীতি কীভাবে ফিকে হয়ে যায়, সেটিই সাবলীলভাবে দেখানো হয়েছে ‘মাস্টার’ সিনেমায়।রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ও প্রযোজিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ নিয়ে আসা একজন আদর্শবান শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতা ও আপসের যাতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, তা নিয়েই এগিয়েছে ‘মাস্টার’-এর গল্প। আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ, তাসনুভা তামান্না প্রমুখ।লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা সুমিত। তিনি বলেন, ‘লুকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই অর্জন মাস্টার সিনেমাটির সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে এ বছর বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। এতগুলো দুর্দান্ত কাজের মাঝে আমার টিমের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করার জন্য বিচারকমণ্ডলীর কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে সেরা নির্বাচিত হয় ‘মাস্টার’। নির্মাতা সুমিত জানিয়েছেন, সিনেমাটি দেশের দর্শকদের দেখানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পদার্থ বিজ্ঞানের বন্ধনে, প্রাক্তনদের মিলনে- আগামীর পথে একসাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়।এদিন সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের হলরুমে গিয়ে অ্যালামনাই ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সচিব মাসুম বেগ, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক সাব্বির হাসান পল সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। দিনব্যাপী ওই পুনর্মিলনীকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

আব্দুস সাত্তার:নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

২০ আগস্ট ২০২৬
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।