সর্বশেষ
বাসাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু
ছবি • ১৯ মিনিট আগে

বাসাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

বাসাইল প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন দু’তলা ভবনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রায়হান মিয়া(২০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বাসাইল পৌরসভার প্রশিকা এলাকায় প্রবাসী আনিসের বাড়িতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রায়হান দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বাসিন্দা বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি কয়েকদিন ধরে আনিসের নির্মাণাধীন ভবনে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন। জানা গেছে, শনিবার সকালে আনিসের নির্মাণাধীন দু’তলা ভবনে রায়হান রডের কাজ করছিলেন। এ সময় রডটি ওপরের দিকে ওঠালে পল্লীবিদ্যুতের তারের সঙ্গে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রায়হান গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’

টাঙ্গাইল জেলা দলিল লেখক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
ছবি • ২২ মিনিট আগে

টাঙ্গাইল জেলা দলিল লেখক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির টাঙ্গাইল জেলা শাখার ‘দলিল লেখক সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ শেষে সংগঠনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মো. হুমায়ুন রশীদ আকন্দ সোনাকে সভাপতি এবং খন্দকার জাহিদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস প্রাঙ্গণে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হক সানু। বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির চেয়ারম্যান আলহাজ এমএ রশিদ প্রধান বক্তা এবং সংগঠনের মহাসচিব কেএস হোসেন টমাস বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।টাঙ্গাইল জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. ইমান আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল হক মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব আলহাজ ফিরোজ আলম, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল আমিন খান, মো. আরজু আকন্দ, আলহাজ খন্দকার জাহিদ হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন রশিদ আকন্দ (সোনা)।এ সময় জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি রফিক সরকার, কালিহাতী উপজেলা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকার, ঘাটাইল উপজেলা সমিতির সভাপতি ওমর ফারুক, মধুপুর উপজেলা সমিতির সভাপতি মোতালেব সরকার, বাসাইল উপজেলা সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ, ধনবাড়ী উপজেলা সমিতির সভাপতি সালমানসহ বিভিন্ন উপজেলার দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।সমাবেশের শেষ পর্যায়ে টাঙ্গাইল জেলা দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে মো. হুমায়ুন আকন্দ সোনাকে সভাপতি এবং খন্দকার জাহিদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‘সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মের ভূমিকা অপরিহার্য’
রাজনীতি • ৪০ মিনিট আগে

‘সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মের ভূমিকা অপরিহার্য’

দৃষ্টি রিপোর্ট:‘শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সুসংহত করতে ধর্মের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সুসংহত করতে ধর্মের ভূমিকা অপরিহার্য। কোন সমাজ থেকে যখন ধর্মের সঠিক শিক্ষা হারিয়ে যায়, তখন সেই সমাজ অন্যায় অবিচারে পূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমানেও তাই হয়েছে- মানুষের নৈতিক ও চারিত্রিক অধঃপতন চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে কঠোর থেকে কঠোরতর আইন করেও অপরাধ দমন করা যাচ্ছে না। শনিবার (৩ অক্টোবর) টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে হেযবুত তওহীদ ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, হেযবুত তওহীদের শীর্ষনেতা এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।টাঙ্গাইল জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি ডা. নাজম আল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান টিটুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা খাদিজা খাতুন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও নারী বিভাগের প্রধান রুফায়দাহ পন্নী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক বাপ্পা প্রমুখ।বক্তারা বলেন, ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত আমলের ধর্ম নয়, এটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। মানুষের ইহকাল ও পরকাল, উভয় জগতের সমাধান রয়েছে এখানে। রাসুলুল্লাহ (স:) ও তার সাহাবীরা ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সমাজ থেকে অন্যায় অশান্তি দূর করেছিলেন।প্রধান অতিথি হেযবুত তওহীদের শীর্ষনেতা এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম এ সময় সবাইকে ধর্মের সঠিক শিক্ষার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

মাদকের বিরুদ্ধে কোনো তদবির চলবে না : প্রতিমন্ত্রী টুকু
খেলাধুলা • ৪৩ মিনিট আগে

মাদকের বিরুদ্ধে কোনো তদবির চলবে না : প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট:আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানেই অনিয়ম দেখছে, সেখানেই ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং কোনো অন্যায়কে বিএনপি সরকার ছাড় দেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যে অন্যায় করবে, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স মাঠে জেলা পুলিশ আয়োজিত ‘১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, মাদককে কীভাবে সমাজ থেকে দূর করা যায় এসব বিষয়ে কাজ চলছে। সবাই যাতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে এবং কোনোভাবেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত না হয়, সেজন্য খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি করা হচ্ছে।’টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের এমপি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিংয়ে ইতোমধ্যে কমিটি করা হয়েছে। সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতির উন্নতি করতে চাই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সকলের অবস্থান থাকবে।’ তিনি যোগ করেন, সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিয়েছে। মাদক সেবন করলে মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।যুবসমাজকে ধ্বংস করার একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক আমাদের দেশে উৎপাদিত হয় না। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে এগুলো ঢুকিয়ে দিয়ে দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’মাদকের অপব্যবহার রোধে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাদকের ব্যাপারে কোনো তদবির চলবে না। নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পুলিশ বাহিনীও তাদের সদস্যদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে, যাতে কেউ মাদক-সম্পর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে।’টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিঞা, পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আদিবুল ইসলাম, ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী শাহনেওয়াজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম সিদ্দিক, সহকারী পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব প্রমুখ। এ সময় সদর, দেলদুয়ার, মির্জাপুর, গোপালপুর, বাসাইল ও ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা পরিচালনা করেন- প্রধান রেফারি আজগর আলী, সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শওকত ও মোস্তফা কামালসহ পাঁচজন।কাবাডি প্রতিযোগিতা শেষে পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
মুক্তচিন্তার দেয়াল ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব
জাতীয়

মুক্তচিন্তার দেয়াল ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় দশকে এসে মানবসভ্যতা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জটিল প্যারাডক্স বা বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। একদিকে আমাদের হাতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বায়োটেকনোলজি এবং বিগ ডেটার মতো মহাবিস্ফোরণ; অন্যদিকে ঠিক সমান্তরালভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে মানুষের স্বাধীন, মৌলিক ও মুক্তচিন্তার পরিধি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, ইন্টারনেটের চশমায় তথ্যের অবাধ প্রবাহে পৃথিবী এখন সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত, গণতান্ত্রিক এবং সংযুক্ত। কিন্তু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এক অদৃশ্য দেয়াল আমাদের সামষ্টিক চিন্তাশক্তিকে বন্দি করে ফেলছে- যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটছে এক গভীর, সর্বগ্রাসী বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বে। এই সংকটটি কেবল রাজনৈতিক মেরুকরণ বা সামাজিক অস্থিরতার অংশ নয়; এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিবর্তন, নিউরো-বায়োলজিক্যাল রূপান্তর এবং আধুনিক পুঁজিবাদের প্রযুক্তিগত কার্যকারণ। যখন কোনো সমাজে প্রশ্ন করার সাহস হারিয়ে যায় এবং চিন্তার ওপর স্থবিরতা ভর করে, তখন সভ্যতার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। বিজ্ঞান বলে- মানুষের মস্তিষ্ক কোনো স্থির বা জড় বস্তু নয়, এটি সদা পরিবর্তনশীল এবং অভিযোজনক্ষম- যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ (Neuroplasticity)। আমরা যখন কোনো নতুন, জটিল বা আমাদের বিশ্বাসের বিপরীতধর্মী চিন্তার মুখোমুখি হই, তখন মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর মধ্যে নতুন সিন্যাপটিক সংযোগ বা পথ তৈরি হয়। একেই বলে মুক্তচিন্তার এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জৈবিক ভিত্তি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের কগনিটিভ ক্ষমতা বা বোধশক্তি বিকশিত হয়। কিন্তু সমসাময়িক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবসায়িক অ্যালগরিদম এই নিউরোপ্লাস্টিসিটিকে উল্টো পথে চালিত করছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং সার্চ ইঞ্জিনগুলো আমাদের মনের অজান্তেই তৈরি করছে ‘ইকো চেম্বার’ (Echo Chamber) এবং ‘ফিল্টার বাবল’ (Filter Bubble)। সিলিকন ভ্যালির তৈরি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের ঠিক সেই তথ্য, সংবাদ বা মতামতগুলোই বারবার আমাদের স্ক্রিনে নিয়ে আসে- যা আমাদের পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ক্ষোভ বা মতাদর্শের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কে এক ধরনের ক্ষতিকর ‘কনফরমেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা নিজের মতকে অন্ধভাবে সত্য বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা চূড়ান্ত রূপ নেয়। যখন একজন মানুষ বছরের পর বছর ধরে কেবল তার নিজের মতের প্রতিধ্বনি শুনতে পায়, তখন তার মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (Prefrontal Cortex)- যা যুক্তিবাদী চিন্তা, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দায়ী, তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা ও নমনীয়তা হারাতে শুরু করে। মানুষ তখন ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এটিই মুক্তচিন্তার প্রথম এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক দেয়াল- যা আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের ব্রেইনের ভেতর অলক্ষ্যে তৈরি করে দিচ্ছে।আমরা এখন বাস করছি ‘ইনফরমেশন ওভারলোড’ বা তথ্যের অতিপ্রবাহের এক উন্মাদ যুগে। মানব ইতিহাসের আর কোনো সময়ে মানুষ এত তথ্যের সংস্পর্শে আসেনি। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, তথ্যের এই মাত্রাতিরিক্ত সুনামি মানুষের মনোযোগের পরিধি বা ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ (Attention Span) নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে মানুষের গভীর মনোযোগ ধরে রাখার গড় সময়কাল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তথ্যের এই মহাসমুদ্র মানুষকে ‘তথ্যসমৃদ্ধ’ (Informed) করছে ঠিকই, কিন্তু তাকে ‘প্রজ্ঞাবান’ (Wise) বা ‘জ্ঞানী’ করে তুলছে না। গভীর অধ্যয়ন, দীর্ঘমেয়াদী মননশীলতা এবং কোনো বিষয়ের গভীরে গিয়ে কার্যকারণ সম্পর্ক বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আধুনিক মানুষের ভেতর লোপ পাচ্ছে। কোনো বিষয়ের মূল জেনেসিস বা উৎস না জেনে, কেবল ওপর ওপর ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে সোশ্যালে তর্ক করার এবং রায় দিয়ে দেওয়ার এই সর্বজনীন প্রবণতাই হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব। আমরা এখন সত্য অনুসন্ধান করছি না বরং হেডলাইন এবং রিলস বা শর্টস-এর ১৫ সেকেন্ডের ভিজ্যুয়াল বিনোদনে নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষুধা মেটানোর সস্তা চেষ্টা করছি। এর ফলে সমাজে এমন এক শ্রেণির ইনফ্লুয়েন্সার তৈরি হচ্ছে- যাদের চিন্তায় কোনো মৌলিকত্ব নেই, আছে কেবল জনপ্রিয় সস্তা আবেগের অন্ধ অনুকরণ। প্রজ্ঞার স্থান দখল করে নিয়েছে সস্তা তথ্যের আসক্তি।মুক্তচিন্তার দ্বিতীয় বড় দেয়ালটি মনস্তাত্ত্বিক নয় বরং এটি সমাজতাত্ত্বিক। একে আমরা বলতে পারি আধুনিক ‘ক্যান্সেল কালচার’ (Cancel Culture) বা ভিন্নমত বর্জনের সংস্কৃতি। সমাজবিজ্ঞানের বুনিয়াদি তত্ত্ব অনুযায়ী- একটি সুস্থ, গতিশীল ও প্রগতিশীল সমাজের মেরুদণ্ড হলো ভিন্নমতের সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভিন্নমতকে যুক্তির দ্বারা খণ্ডন করার ধৈর্য বা মেধা সমাজ হারিয়ে ফেলছে। এর বদলে ভিন্নমতাবলম্বীকে সামাজিকভাবে বয়কট, ডিজিটাল মবলিং (অনলাইন আক্রমণ), চরিত্রহনন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক চাপ প্রয়োগ করে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। যখন কোনো সমাজে বা রাষ্ট্রে প্রশ্ন করার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় কিংবা কোনো প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করাকে বিপজ্জনক করে তোলা হয়, তখন সেখানে বিজ্ঞান, দর্শন এবং সাহিত্যের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ইতিহাস সাক্ষী- গ্যালিলিও, সক্রেটিস বা জর্দানো ব্রুনোদের যুগেও শাসকেরা মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে কঠোর দেয়াল তুলেছিল। আজকের ডিজিটাল যুগেও ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন মোড়কে সেই একই দেয়াল তোলা হচ্ছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম কোনো নতুন বা প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ভয় পাচ্ছে। এই ভয় এবং এর থেকে জন্ম নেওয়া ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ (Self-censorship) সমাজকে এক স্থবির, অনুকরণপ্রিয় এবং মেরুদণ্ডহীন প্রজন্মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে- যা দীর্ঘমেয়াদে বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।আমাদের প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থাও এই বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব ও স্থবিরতা তৈরির জন্য সমভাবে দায়ী। আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান (Pedagogy) বলে, শিক্ষার মূল ও প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানো। অর্থাৎ শিক্ষার্থীকে শেখানো হবে কোনো কিছুকে অন্ধভাবে না মেনে ‘কেন’, ‘কীভাবে’, ‘কার স্বার্থে’ এবং ‘কোথায়’- এই মৌলিক প্রশ্নগুলো উত্থাপন করতে। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে উঠেছে মাত্রাতিরিক্ত জিপিএ কেন্দ্রিক, মুখস্থনির্ভর এবং নিখাদ বাজারমুখী। আমরা শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্ককে একেকটি ডেটা স্টোরেজ বা কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বানিয়ে ফেলছি, যেখানে বছরের শুরুতে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য ইনপুট দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার খাতায় তা হুবহু আউটপুট হিসেবে উগরে দেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সৃজনশীলতা, মৌলিক দর্শন বা মানবিক মূল্যবোধের কোনো স্থান নেই। এই যান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক করপোরেট বিশ্বের জন্য হয়তো খুব দক্ষ ‘কেরানি’, ‘ক্যাডার’ বা ‘শ্রমিক’ তৈরি করতে পারছে; কিন্তু সমাজ পরিচালনার জন্য, ঐতিহাসিক সংকট উত্তরণের জন্য কিংবা মানবতাকে পথ দেখানোর জন্য কোনো দূরদর্শী ‘বুদ্ধিজীবী’, ‘চিন্তাবিদ’ বা ‘দার্শনিক’ তৈরি করতে পারছে না। জ্ঞান যেখানে কেবল জীবিকা অর্জনের হাতিয়ার, সেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব অবধারিত।এই গভীর অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ কী? বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান এবং মানবসভ্যতার ইতিহাস আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পথ দেখায়- (ক) কগনিটিভ ডাইভারসিটি (Cognitive Diversity) বা চিন্তার বৈচিত্র্যকে আলিঙ্গন করা: আমাদের সচেতনভাবে এমন সব বই, প্রবন্ধ, ইতিহাস বা মনস্তাত্ত্বিক মতামত পড়তে হবে, যা আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি মস্তিষ্কের নিউরনের কার্যকারিতা ও সিন্যাপটিক সংযোগ বাড়ায়, মনকে নমনীয় করে এবং অন্ধ গোঁড়ামি দূর করে। (খ) ডিজিটাল ডিটক্স এবং গভীর পঠন (Deep Reading): স্ক্রিন ও সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশনের দাসত্ব কমিয়ে বই পড়ার মূল ধারায় ফিরে আসতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো জটিল বা তাত্ত্বিক বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার চর্চা-যাকে ক্যাল নিউপোর্ট ‘ডিপ ওয়ার্ক’ (Deep Work) বলেছেন-তা আমাদের চিন্তার হারিয়ে যাওয়া গভীরতা ও ধারণক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারে। (গ) প্রশ্ন করার স্বাধীনতার প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক স্বীকৃতি: পরিবার, বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রশ্ন করার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং উৎসাহিত করতে হবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে- ভুল প্রশ্ন বা অবান্তর প্রশ্নও সমাজের জন্য কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয়, কিন্তু প্রশ্ন না করার সংস্কৃতি বা প্রশ্ন করতে ভয় পাওয়া একটি জীবন্ত সভ্যতার জন্য সবচেয়ে আত্মঘাতী।মুক্তচিন্তা কোনো তাত্ত্বিক বিলাসিতা বা কেতাবি শব্দ নয়; এটি মানবসভ্যতার টিকে থাকার, বিকশিত হওয়ার এবং বিবর্তিত হওয়ার সবচেয়ে মৌলিক ও অপরিহার্য শর্ত। চার্লস ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বিবর্তনবাদ যেমন বলে- পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে যে প্রজাতি খাপ খাওয়াতে পারে না, সে প্রকৃতির নিয়মেই বিলুপ্ত হয়ে যায়; ঠিক তেমনি সমাজতত্ত্ব ও ইতিহাসের দর্শন বলে- যে সমাজ বা জাতি সময়ের সাথে সাথে চিন্তার বিবর্তন ঘটাতে পারে না, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে পারে না, সেই জাতি সভ্যতার প্রতিযোগিতায় জরায়ুতেই মারা যায় বা অন্যের বুদ্ধিবৃত্তিক দাসে পরিণত হয়। মুক্তচিন্তার যে অদৃশ্য দেয়ালগুলো আজকে প্রযুক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের হাত ধরে আমাদের চারপাশে অবলীলায় গড়ে উঠছে, তা যদি আমরা আমাদের যৌথ প্রজ্ঞা, নৈতিক সাহস এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আঘাত করে ভাঙতে না পারি, তবে একবিংশ শতাব্দীর এই চোখধাঁধানো প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কেবলই এক কংক্রিটের প্রাণহীন কঙ্কাল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে। আর তার ভেতরে বাস করবে এক দিশাহীন, প্রজ্ঞাহীন, যুক্তিহীন এবং চরম দেউলিয়া মানবসমাজ। এখনই সময় সেই দেয়ালগুলো ভেঙে চিন্তার আকাশকে উন্মুক্ত করার, মানুষের মগজকে অ্যালগরিদমের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

০১ অক্টোবর ২০২৬

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:-মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল): কোনো সুসংবাদ পেতে পারেন। আটকে থাকা কাজ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বড় অর্থলাভ অথবা কোনো বড় চুক্তির মধ্যে যাওয়ার সুযোগ আসতে পারে। এ সপ্তাহটি মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য সার্বিকভাবে অত্যন্ত শুভ।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সময়টা খুব একটা ভালো নয়। টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারেন। প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কোনো শুভ কাজ বা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজে না যাওয়াই ভালো। গৃহে অশান্তি অথবা অসুস্থতা লেগে থাকতে পারে।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): যারা চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সেই কাজ সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি তরফ থেকেও সাহায্য পেতে পারেন। তবে পেটের সমস্যা অথবা মাথাব্যথা এই সময় আপনাদের কষ্ট দিতে পারে।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): সন্তান সম্পর্কিত বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। সন্তানের শারীরিক অবস্থা এবং শিক্ষার বিষয়েও নজর রাখা প্রয়োজন। তবে ক্যারিয়ার ও অর্থপ্রাপ্তির দিক থেকে সময়টি ভালো যেতে পারে।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): কিছুটা টেনশনের মধ্যে কাটতে পারে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে পরিবারে অশান্তির সম্ভাবনা রয়েছে। গৃহে এবং কর্মক্ষেত্রের বাইরের পরিবেশেও অশান্তিময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই এ সপ্তাহে যতটা সম্ভব বিতর্ক এড়িয়ে চলুন।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): ভালো কোনো পদ, প্রমোশন, সুযোগ অথবা নতুন কোনো সম্ভাবনা সামনে আসতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন ধরে যে সমস্যাগুলো নিয়ে চলছিলেন, সেগুলোর কিছুটা সুরাহার পথ দেখতে পারেন।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): কোথাও অর্থ বিনিয়োগ করবেন না। কারো প্রলোভনে পড়ে অর্থ নষ্ট করবেন না। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শেয়ারে একেবারেই অর্থ বিনিয়োগ না করাই ভালো। অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কারো সঙ্গে ঝামেলাও হতে পারে। হঠাৎ করে খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): শারীরিক বিষয় ভালো যাবে। এ সপ্তাহে ভাগ্য খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আটকে থাকা কাজগুলো সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে সেই কাজ সম্পন্ন করতে আপনাদের কিছুটা দৌড়ঝাঁপ করতে হতে পারে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): আর্থিক উপার্জনের ক্ষেত্রে মানসিক তৃপ্তি কম থাকবে। অর্থনৈতিক লাভ এবং পদোন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। তীর্থযাত্রার সম্ভাবনাও অত্যন্ত প্রবল। ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): দীর্ঘদিনের আটকে থাকা কাজ এই সময় সম্পন্ন হতে পারে। প্রফেশনাল জীবনের ক্ষেত্রে ভালো সময়। শিক্ষার্থীরদের পড়াশোনার বিষয়ে গভীর মনোযোগ প্রয়োজন। ভূমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমস্যা থাকতে পারে।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লাভবান হতে পারেন। ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থান পরিবর্তন অথবা নতুন চাকরির সুযোগও আসতে পারে। যারা চাকরি পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই সময়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): যেকোনো বাধা বিঘ্নকে ইতিবাচক হিসেবে দেখুন। ক্যারিয়ার, বাড়ি এবং কোর্ট-কাছারির বিষয়ের জন্য এই সময়টি ভালো যেতে পারে। অফিসে যথেষ্ট মান-সম্মান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সন্তান অথবা পরিবারের কোনো সদস্যকে নিয়ে সুসংবাদ পেতে পারেন।

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল

ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটে ১১ কর্মকর্তার রদবদল

দৃষ্টি নিউজ:ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গোয়েন্দা বিভাগে এবং কয়েকজনকে ট্র্যাফিক ও বিভিন্ন জোনে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি আদেশে এসব বদলি করা হয়।বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিএমপির পিওএম দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সাগর দিপা বিশ্বাসকে পিঅ্যান্ডআরএইচআরডি বিভাগে এবং আরিফা আশরাফ পিংকিকে পিওএম দক্ষিণ বিভাগে বদলি করা হয়েছে।অন্য এক আদেশে ট্র্যাফিক শাহবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মেহেদি হাসান শাকিলকে নিউ মার্কেট জোনে, নিউ মার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাসিম এ গুলশানকে গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগে এবং মো. নাদিম হায়দার চৌধুরীকে ট্র্যাফিক শাহবাগ জোনে বদলি করা হয়েছে।এছাড়া সহকারী পুলিশ কমিশনার মিস স্বপ্না বেগমকে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগে, ওই বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মনোয়ার আকতার রিফাতকে ট্র্যাফিক শেরেবাংলা নগর জোনে, দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুলকে গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগে এবং ট্র্যাফিক শেরেবাংলা নগর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেনকে দারুসসালাম জোনে বদলি করা হয়েছে।আরও বদলি করা হয়েছে ট্র্যাফিক লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহতাব হোসেনকে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগে এবং পেট্রোল-লালবাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. তারেকুল ইসলামকে ট্র্যাফিক লালবাগ জোনে।আদেশে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটে ১১ কর্মকর্তার রদবদল

হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক

দৃষ্টি নিউজ:আগামী বছরের (২০২৭ সালের) ৩১ জানুয়ারি মধ্যে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)।চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি হাট ও বাজারের স্থায়ী শেড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন বাজারে নির্মিত চার-পাঁচতলা ভবনের ছাদের আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।এতে আরও বলা হয়েছে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান দাপ্তরিক মূল ভবন ও আওতাধীন ভবনগুলোতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ রাখতে হবে বলেও চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ বলেছে, ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়া যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় বাড়বে।‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫’ এর বিধি ১০-এর (ঙ) ও (চ) অনুযায়ী হাট ও বাজার থেকে পাওয়া ইজারার আয়ের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে এবং আরও ১০ শতাংশ উপজেলার অন্তর্গত হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়।নির্দেশনা অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হবে সংশ্লিষ্ট হাট-বাজার কর্তৃপক্ষকে।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি- এআই দিয়ে তৈরি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের টানা সাত দিন ছুটির সুযোগ

দৃষ্টি নিউজ:দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী অক্টোবর মাসে সরকারি ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ৭ দিন পর্যন্ত ছুটি ভোগ করতে পারবেন। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার)। এদিন মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকবে সাধারণ ছুটি।সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি। ১৮ অক্টোবর (রোববার) মহাসপ্তমী এবং (১৯ অক্টোবর) সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে এই ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন তারা।১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটি এবং ২০ ও ২১ অক্টোবরের সরকারি ছুটি মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা চারদিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন।২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এক দিনের ছুটি নিতে পারলে এরপরের দুইদিনের সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। ফলে, সব মিলিয়ে একটানা ৭ দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য।এই সুবিধা কেবল সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্য সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির এই সুযোগ থাকবে না।দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা চালু থাকতে পারে। এছাড়া, এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালুই থাকে।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের টানা সাত দিন ছুটির সুযোগ

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

টাঙ্গাইল এর খবর

আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
ভূঞাপুরে ১৭ মৌজার বিআরএস জরিপ বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন

ভূঞাপুরে ১৭ মৌজার বিআরএস জরিপ বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন

‎‎আ. রশিদ তালুকদার, ভূঞাপুর:‎টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের গাবসারা ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার বিআরএস জরিপ বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে গোবিন্দাসী-টাঙ্গাইল রোডে এলাকার ১৩ গ্রামের মানুষ ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ‎জানা যায়, ১৯৯৩ সালে ভূঞাপুর উপজেলায় বিআরএস জরিপের কাজ শুরু করে ভূমি মন্ত্রণালয়। তারই ধারাবাহিকতায় গাবসারা ইউনিয়নের ১৭টি মৌজায় ১৯৯৬ সালে নকশার কাজ শেষ করে ডিপি খতিয়ান তৈরির পর ভূমি মালিকদের মধ্যে মাঠ পরচা বিতরণ করে। ১৯৯৭ সালে প্রায় ১০ হাজার খতিয়ানের উপর প্রায় ৩৩০ ধারায় আপত্তি দেওয়া হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত সেসব আপত্তি যথাযথ শুনানীর মাধ্যমে নিস্পত্তি করা হয়। ওইসব মৌজার ১৬টি সিটের নকশা ভেঙ্গে ১৭টি সিট তৈরি করায় কিছু কিছু দাগ নম্বরে জমির পরিমান সামান্য কম-বেশি পরিলক্ষিত হয়।‎ সে সময় নকশার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও পরবর্তীতে বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাধানের আর্শ্বাস দেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ‎কিন্তু পরবর্তীতে কোন সমাধান না করে গত ৩ সেপ্টেম্বর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ভূমি রেকর্ড শাখার পরিচালক মো. মোমিনুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জপির কার্যক্রম স্থগিত করে পুনরায় ডিজিটাল জরিপ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।এদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ এসব মৌজায় হাল নাগাদ খাজনা পরিশোধ রশিদ ও খারিজ বাধ্যতামূলক হওয়ায় জমি বেচা-কেনা, খাজনা-নাম খারিজ, ব্যাংক ঋণ বন্ধ থাকায় মহাবিপদে পড়েছে এলাকার মানুষ। অনেক দরিদ্র পরিবার নানা সমস্যায় জমি বিক্রি করতে চাইলেও বিক্রি করতে পারছে না। অন্যদিকে নতুন এ আদেশের কারণে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অতি সল্প সময়ের মধ্যে সম্প্রতি জারিকৃত আদেশ বাতিল করে বিআরএস জরিপ বহাল রাখা হোক।‎‎স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ এ এলাকার মানুষকে বিপদে ফেলে রাখা হয়েছে। দিন যত যাচ্ছে আরো জটিলতা বাড়ছে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান বলেন, বিষয়টি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে আলোচনা করে ঊর্দ্ধতন কর্তপক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:-মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল): কোনো সুসংবাদ পেতে পারেন। আটকে থাকা কাজ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বড় অর্থলাভ অথবা কোনো বড় চুক্তির মধ্যে যাওয়ার সুযোগ আসতে পারে। এ সপ্তাহটি মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য সার্বিকভাবে অত্যন্ত শুভ।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সময়টা খুব একটা ভালো নয়। টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারেন। প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কোনো শুভ কাজ বা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজে না যাওয়াই ভালো। গৃহে অশান্তি অথবা অসুস্থতা লেগে থাকতে পারে।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): যারা চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সেই কাজ সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি তরফ থেকেও সাহায্য পেতে পারেন। তবে পেটের সমস্যা অথবা মাথাব্যথা এই সময় আপনাদের কষ্ট দিতে পারে।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): সন্তান সম্পর্কিত বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। সন্তানের শারীরিক অবস্থা এবং শিক্ষার বিষয়েও নজর রাখা প্রয়োজন। তবে ক্যারিয়ার ও অর্থপ্রাপ্তির দিক থেকে সময়টি ভালো যেতে পারে।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): কিছুটা টেনশনের মধ্যে কাটতে পারে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে পরিবারে অশান্তির সম্ভাবনা রয়েছে। গৃহে এবং কর্মক্ষেত্রের বাইরের পরিবেশেও অশান্তিময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই এ সপ্তাহে যতটা সম্ভব বিতর্ক এড়িয়ে চলুন।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): ভালো কোনো পদ, প্রমোশন, সুযোগ অথবা নতুন কোনো সম্ভাবনা সামনে আসতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন ধরে যে সমস্যাগুলো নিয়ে চলছিলেন, সেগুলোর কিছুটা সুরাহার পথ দেখতে পারেন।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): কোথাও অর্থ বিনিয়োগ করবেন না। কারো প্রলোভনে পড়ে অর্থ নষ্ট করবেন না। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শেয়ারে একেবারেই অর্থ বিনিয়োগ না করাই ভালো। অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কারো সঙ্গে ঝামেলাও হতে পারে। হঠাৎ করে খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): শারীরিক বিষয় ভালো যাবে। এ সপ্তাহে ভাগ্য খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আটকে থাকা কাজগুলো সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে সেই কাজ সম্পন্ন করতে আপনাদের কিছুটা দৌড়ঝাঁপ করতে হতে পারে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): আর্থিক উপার্জনের ক্ষেত্রে মানসিক তৃপ্তি কম থাকবে। অর্থনৈতিক লাভ এবং পদোন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। তীর্থযাত্রার সম্ভাবনাও অত্যন্ত প্রবল। ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): দীর্ঘদিনের আটকে থাকা কাজ এই সময় সম্পন্ন হতে পারে। প্রফেশনাল জীবনের ক্ষেত্রে ভালো সময়। শিক্ষার্থীরদের পড়াশোনার বিষয়ে গভীর মনোযোগ প্রয়োজন। ভূমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমস্যা থাকতে পারে।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লাভবান হতে পারেন। ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থান পরিবর্তন অথবা নতুন চাকরির সুযোগও আসতে পারে। যারা চাকরি পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই সময়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): যেকোনো বাধা বিঘ্নকে ইতিবাচক হিসেবে দেখুন। ক্যারিয়ার, বাড়ি এবং কোর্ট-কাছারির বিষয়ের জন্য এই সময়টি ভালো যেতে পারে। অফিসে যথেষ্ট মান-সম্মান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সন্তান অথবা পরিবারের কোনো সদস্যকে নিয়ে সুসংবাদ পেতে পারেন।

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল

ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটে ১১ কর্মকর্তার রদবদল

দৃষ্টি নিউজ:ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গোয়েন্দা বিভাগে এবং কয়েকজনকে ট্র্যাফিক ও বিভিন্ন জোনে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি আদেশে এসব বদলি করা হয়।বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিএমপির পিওএম দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সাগর দিপা বিশ্বাসকে পিঅ্যান্ডআরএইচআরডি বিভাগে এবং আরিফা আশরাফ পিংকিকে পিওএম দক্ষিণ বিভাগে বদলি করা হয়েছে।অন্য এক আদেশে ট্র্যাফিক শাহবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মেহেদি হাসান শাকিলকে নিউ মার্কেট জোনে, নিউ মার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাসিম এ গুলশানকে গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগে এবং মো. নাদিম হায়দার চৌধুরীকে ট্র্যাফিক শাহবাগ জোনে বদলি করা হয়েছে।এছাড়া সহকারী পুলিশ কমিশনার মিস স্বপ্না বেগমকে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগে, ওই বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মনোয়ার আকতার রিফাতকে ট্র্যাফিক শেরেবাংলা নগর জোনে, দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুলকে গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগে এবং ট্র্যাফিক শেরেবাংলা নগর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেনকে দারুসসালাম জোনে বদলি করা হয়েছে।আরও বদলি করা হয়েছে ট্র্যাফিক লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহতাব হোসেনকে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগে এবং পেট্রোল-লালবাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. তারেকুল ইসলামকে ট্র্যাফিক লালবাগ জোনে।আদেশে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটে ১১ কর্মকর্তার রদবদল

হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক

দৃষ্টি নিউজ:আগামী বছরের (২০২৭ সালের) ৩১ জানুয়ারি মধ্যে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)।চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি হাট ও বাজারের স্থায়ী শেড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন বাজারে নির্মিত চার-পাঁচতলা ভবনের ছাদের আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।এতে আরও বলা হয়েছে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান দাপ্তরিক মূল ভবন ও আওতাধীন ভবনগুলোতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ রাখতে হবে বলেও চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ বলেছে, ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়া যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় বাড়বে।‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫’ এর বিধি ১০-এর (ঙ) ও (চ) অনুযায়ী হাট ও বাজার থেকে পাওয়া ইজারার আয়ের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে এবং আরও ১০ শতাংশ উপজেলার অন্তর্গত হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়।নির্দেশনা অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হবে সংশ্লিষ্ট হাট-বাজার কর্তৃপক্ষকে।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের টানা সাত দিন ছুটির সুযোগ

দৃষ্টি নিউজ:দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী অক্টোবর মাসে সরকারি ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ৭ দিন পর্যন্ত ছুটি ভোগ করতে পারবেন। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার)। এদিন মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকবে সাধারণ ছুটি।সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি। ১৮ অক্টোবর (রোববার) মহাসপ্তমী এবং (১৯ অক্টোবর) সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে এই ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন তারা।১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটি এবং ২০ ও ২১ অক্টোবরের সরকারি ছুটি মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা চারদিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন।২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এক দিনের ছুটি নিতে পারলে এরপরের দুইদিনের সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। ফলে, সব মিলিয়ে একটানা ৭ দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য।এই সুবিধা কেবল সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্য সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির এই সুযোগ থাকবে না।দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা চালু থাকতে পারে। এছাড়া, এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালুই থাকে।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের টানা সাত দিন ছুটির সুযোগ
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ
খেলাধুলা

প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পদার্থ বিজ্ঞানের বন্ধনে, প্রাক্তনদের মিলনে- আগামীর পথে একসাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়।এদিন সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের হলরুমে গিয়ে অ্যালামনাই ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সচিব মাসুম বেগ, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক সাব্বির হাসান পল সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। দিনব্যাপী ওই পুনর্মিলনীকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

আব্দুস সাত্তার:নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

২০ আগস্ট ২০২৬
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

মোস্তফা কামাল নান্নু: এক সময় ব্যাট হাতে মাঠ মাতানো ক্রিকেটার ইকবাল খান এখন শয্যাশায়ী। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দুই পায়ে স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কথা বলাও। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। এর মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এখন বৃদ্ধ বাবা-মা, বন্ধু ও স্বজনরাই তাঁর একমাত্র ভরসা।ইকবাল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রতন খানের ছেলে। এক সময় বিকেল হলেই ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে ছুটতেন তিনি। ক্রিকেট ও ফুটবলে পারদর্শী ইকবালের খেলা দেখতে গ্রামের মানুষ ভিড় করতেন। পাশাপাশি ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে করে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইকবাল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। ধারদেনা করে কয়েকবার চিকিৎসা করানো হলেও অর্থের অভাবে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে যান। এখন বাড়ির একটি ঘরেই কাটছে তাঁর দিন। কথা বলতে না পারলেও চোখের দৃষ্টিতে নিজের কষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।ইকবালের বাবা রতন খানের বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও চায়ের দোকান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে ওষুধ ও পরিবারের খাবার জোগাড় করেন। ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করতে করতে নিঃস্ব পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বসতভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। ইকবালের বন্ধু ও স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তাঁকে সহায়তা করেছেন। তবে চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়।পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ইকবাল তাঁর বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। মেধাবী ও বিনয়ী এই তরুণের এমন অবস্থা দেখে কষ্ট হয়। তাঁর চিকিৎসায় সরকারি ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, ইকবালের অসুস্থতার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তাঁকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।ইকবাল এখন শুধু চিকিৎসা ও মানুষের সহযোগিতা চান। তাঁর পরিবারের আশা, সহায়তা পেলে আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন তিনি।

১৯ আগস্ট ২০২৬
অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইল শহরের একসময়ের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী ‘ভাসানী হল’ আজ ধুলোবালি, ভাঙাচোরা দেয়াল আর তালাবদ্ধ কক্ষের নিস্তব্ধতায় ঢাকা। দীর্ঘদিনের অযত্ন, অবহেলা, সংস্কারের অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এই মিলনায়তনটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। যে প্রাঙ্গণ একসময় নাটক, সংগীত, নৃত্য, কবিতা, বইমেলা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক নানা আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকত, সেখানে এখন চেপে বসেছে এক ভীতিকর পরিবেশ। বর্তমানে দিনে হলটির বারান্দায় বসেছে পানের দোকান আর প্রাঙ্গণটি ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাকস্ট্যান্ড হিসেবে। সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা চলে যায় অন্ধকার ও অপরাধীদের দখলে; হয়ে ওঠে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড্ডাখানা। এতে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ বাড়ছে।জানাগেছে, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ‘টাঙ্গাইল টাউন হল’ নামে এটি নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ হাবিবুল্লাহ্-এর অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র দুই বছরে এটি বাস্তব রূপ লাভ করে। পরে ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান। পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে সর্বসম্মতিক্রমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ভাসানী হল’। এরপর থেকেই এটি জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায় এবং অনন্য ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।স্থানীয় প্রবীণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, আগে পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল। বিভিন্ন উপলক্ষে তারা নাটকের আয়োজন করত এবং পুরো টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই ভাসানী হলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। প্রায় ১,০০০ আসনবিশিষ্ট এই আধুনিক মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দশক ধরে টাঙ্গাইলের নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক সমাবেশের প্রধান ভেন্যু ছিল এটি। প্রতি বছর ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল এখানে এসে নাট্যোৎসব করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সংগঠনগুলো হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ভবনটি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অবশেষে প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় জেলার অন্যতম বড় এই মিলনায়তনের কার্যক্রম।স্থানীয়রা মনে করেন, ভাসানী হল শুধু একটি কংক্রিটের ভবন নয়; এটি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারকটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে প্রায় এক দশক আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ২০১৫ সালেও একবার এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে হলের দেয়ালে দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে, ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। হলের ভেতরের অধিকাংশ কক্ষ দীর্ঘ বছর ধরে তালাবদ্ধ ও ধুলোবালির স্তূপে পরিণত হয়েছে।টাঙ্গাইলের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মতে, ভাসানী হল বন্ধ হওয়ার পর থেকে জেলার বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বড় পরিসরে কোনো অনুষ্ঠান বা নাটক মঞ্চস্থ করার মতো বিকল্প কোনো আধুনিক মিলনায়তন পুরো শহরে আর নেই। ২০১৫ সালে একবার হলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন আজ অবধি দেখা যায়নি। দীর্ঘ অবহেলার পর চলতি বছরের ১২ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক হলটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন।টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুরকার-গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু জানান, ভাসানী হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এক হাজার আসন বিশিষ্ট এই মিলনায়তনটিতেই জেলার সব সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। শুধু তাই নয়, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করতো। এছাড়া এ ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র ছিল হলটি।তিনি আক্ষেপ করে জানান, আগের মতো বড় বড় অনুষ্ঠান তারা করতে পারেন না। অনুষ্ঠান করতে এখন শিল্পকলা একাডেমিতে যেতে হয়- শিল্পকলা একাডেমির অবস্থান শহরের কেন্দ্রবিন্দুর বাইরে, সেখানে রাতে মানুষ যেতে চায়না।কবি মাহমুদ কামাল জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত এ হলটিকে পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করার দাবি ছিল। হলটি মওলানা ভাসানীর নামে থাকায় বিগত সরকার সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, ভাসানী হলটি পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হোক।টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান জানান, টাঙ্গাইল একটি সাংস্কৃতিক নগরী এবং পুরাতন জেলা। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিকচর্চার অন্যতম প্রধান জায়গা হচ্ছে ভাসানী হল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে গতিশীল রাখার জন্য ভাসানী হল খুবই প্রয়োজন।তিনি আরো জানান, মাদকের ছোবল এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে ক্রীড়া অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তার জন্য একটি ভালো অডিটরিয়াম প্রয়োজন। তিনি দ্রুত ভাসানী হলের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের দাবি করেন।টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুননির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

১৭ আগস্ট ২০২৬
অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’