সর্বশেষ
মির্জাপুরে শিশুকন্যাকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা!
ছবি ১ ঘণ্টা আগে

মির্জাপুরে শিশুকন্যাকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা!

মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে চার বছরের শিশুকন্যাকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুবুরিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছেন- ওই গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী কনিকা আক্তার (২২) ও তাদের চার বছরের মেয়ে রাজিয়া। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে।জানা যায়- প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কনিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার(১৩ আগস্ট) রাতে স্বামী রাজীব সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কনিকা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি যেতে চাইলে শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে বাধা দিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। ক্ষোভে কনিকা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কণিকা আক্তার তার শিশুকন্যা রাজিয়াকে গলা টিপে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করে। স্থানীয়রা দরজা ভেঙে কনিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং শিশুকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মির্জাপুর থানা পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক ধারণায় এটিকে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যা বলে মনে করছে পুলিশ।মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কালিহাতীতে সামাজিক সচেতনতার বজ্রশপথ
রাজনীতি ২ ঘণ্টা আগে

কালিহাতীতে সামাজিক সচেতনতার বজ্রশপথ

কালিহাতী প্রতিনিধি:সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করে একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক অনন্য প্রচারণা সভা। বৃহস্পতিবার(১৩ আগস্ট) বিকালে উপজেলার পারখী ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ বাজারে মাদক, বাল্যবিয়ে এবং ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে তীব্র সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়েছে। কালিহাতী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিনের বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনায় আউলিয়াবাদ বাজার প্রাঙ্গণে এই ব্যতিক্রমী সভার আয়োজন করা হয়। বিকেলে বাজার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় সর্বস্তরের মানুষের এক বিশাল মিলনমেলায়, যেখানে সবাই কণ্ঠ মেলান সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে।সভায় বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভ ও উদ্বেগের সাথে সমাজ ধ্বংসকারী এই তিন ব্যাধির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ‘একটি মাদকাসক্ত তরুণ বা একটি বাল্যবিবাহ শুধু একটি জীবন নয় বরং পুরো পরিবার ও সমাজকে অন্ধকারের অতল গহ্বরে ঠেলে দেয়। একইভাবে, ইভটিজিংয়ের মতো জঘন্য অপরাধ আমাদের কিশোর-কিশোরীদের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশকে পুরোপুরি বিষাক্ত করে তুলছে।’এই সামাজিক ব্যাধিগুলো শুধু আইন দিয়ে শতভাগ নির্মূল করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে সভায় সমন্বিত প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এই চার শক্তির সমন্বয়ে প্রতিটি এলাকায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভেদ্য দুর্গ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।পারখী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আব্বাসীর সভাপতিত্বে সভায় টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক একেএম আব্দুল আউয়াল, ডা. শাহ আলম তালুকদার, কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বাবুল, কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রতন, মহিলা নেত্রী সুলতানা রাশিদা খান (প্রিয়াঙ্কা), কালিহাতী উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, আউলিয়াবাদ বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ শাজাহান, পারখী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত করিম প্রমুখ অংশ নেন।আউলিয়াবাদ বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ শত শত সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সভাটি একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। উপস্থিত সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই তিন অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার বজ্রশপথ নেন।

টাঙ্গাইলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
অর্থনীতি ৩ ঘণ্টা আগে

টাঙ্গাইলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

বুলবুল মল্লিক:টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিং। জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৩৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২৩ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতির কারণে দিন-রাত জুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট- এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১০ মেগাওয়াট। অপরদিকে, গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১১৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি সরবরাহ পাওয়ায় জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১ বা ২ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। বাসাবাড়িতে ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় গরমে দিনভর চরম অস্বস্তিতে থাকতে হচ্ছে সব বয়সী মানুষকে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারছেন না- যার প্রভাব পড়ছে তাদের কর্মক্ষমতা ও স্বাস্থ্যে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে মিল-ইন্ডাস্ট্রিজ ও বড় বড় কলকারখানাগুলোতে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। এতে জ্বালানি খরচ জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই বাড়তি জেনারেটর খরচ বহন করতে না পেরে সরাসরি লোকসানের মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানের ব্যবসা-বাণিজ্যও।টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পেও লোডশেডিংয়ের কালো ছায়া পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দিনের বড় অংশজুড়ে তাঁত চালানো বন্ধ রাখতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, কর্মহীন হয়ে পড়ছেন সাধারণ তাঁতশ্রমিকরা। একই অবস্থা জেলার পোলট্রি খামারগুলোতেও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো যাচ্ছে না। তীব্র গরমে দম আটকে প্রতিদিন খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে ক্ষুদ্র খামারিরা বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।এটিএম লুঙ্গি ফেব্রিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ আর উৎপাদন বন্ধ মানে লোকসান। দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, পল্লী বিদুতের আওতায় জেলায় বিদ্যুৎ চাহিদা ২০০ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ পাচ্ছেন ১১৩ মেগাওয়াট। ঘাটতির কারনে ঘন ঘন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের(বিউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবাইদুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় সাময়িক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত
ছবি ২২ ঘণ্টা আগে

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত

ধনবাড়ী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের কার্যালয়ে ওইসভা অনুষ্ঠিত হয়।ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সভাপতি কবি ইমাম হাসান সোহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি এম. মাছুদুর রহমান মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি আল আমিন শোভন, জেলা ইউনিটের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী।অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা এলেঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার, ঘাটাইল উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সোহেল, ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মো. রমজান আলী ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, মো. সোলায়মান।দ্বিতীয় পর্বে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কবি ইমাম হাসান সোহানকে সভাপতি ও রাকিব হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়।এ সময় মধুপুর ও ধনবাড়ী ইউনিটের সকল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যানি, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ
জাতীয়

নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যানি, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় সব পদ ও মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে তাকে। মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে জরুরি রদবদল এনেছে সরকার। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে সরকারের নীতি-নির্ধারণী সূত্রে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের পর এসব দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে। অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন আহমেদের জায়গায় নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের সংসদীয় ও প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তার ছেড়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই দ্রুততম সময়ে নতুন এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

১৩ আগস্ট ২০২৬

মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী

দৃষ্টি নিউজ:বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীb হওয়ার কারণে তিনি দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’রিজভী আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করেন।এ সময় দলের যুগ্ম-মহাসচিবসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

১৩ আগস্ট ২০২৬
মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী

‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায়, বাকিডি যায় না’ বলা সেই পুলিশ চাকরি থেকে বরখাস্ত

দৃষ্টি নিউজ:‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এই বক্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার ইকবাল হোসাইনকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে এ শাস্তি দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে।খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ইকবাল হোসাইন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।গণমাধ্যমের হাতে আসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও ইকবাল হোসাইন কোনো জবাব দেননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে অভিযোগ তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। পরে তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশন ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়। এরপর বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে ইকবাল হোসাইনসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড অনুমোদনের প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

১২ আগস্ট ২০২৬
‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায়, বাকিডি যায় না’ বলা সেই পুলিশ চাকরি থেকে বরখাস্ত

সুখবর দিল ফেসবুক

দৃষ্টি নিউজ:ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধের পদ্ধতিতে দেশের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ঋণ বা ডেবিট কার্ডের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। এই সুবিধা এখনো সবার জন্য চালু হয়নি, তবে পরীক্ষামূলকভাবে অনেক ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বিল সফলভাবে পরিশোধ করেছেন।বিভিন্ন ব্যবহারকারীর শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার বিল পরিশোধের অংশে ব্যাংক কার্ডের পাশাপাশি বিকাশের নামও যুক্ত হয়েছে। কয়েকজন ব্যবহারকারী এই পদ্ধতিতে বিল পরিশোধ করতে পেরেছেন বলেও জানা গেছে।বাংলাদেশে ফেসবুকের বিজ্ঞাপনের বিল দিতে আন্তর্জাতিক কার্ড, দ্বৈত মুদ্রা সুবিধা এবং বিভিন্ন ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হতো। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও এই প্রক্রিয়া ছিল ব্যয়বহুল ও জটিল। বিকাশ যুক্ত হলে স্থানীয় মুদ্রায় আরও সহজে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মেটা সাধারণত নতুন বিল পরিশোধ সুবিধা ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। তাই এখনো এটি সব ব্যবহারকারীর কাছে দৃশ্যমান না হলেও পরীক্ষা সফল হলে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মেটার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুবিধা কবে সবার জন্য চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরীক্ষামূলকভাবে এই সুবিধা চালুর উদ্যোগকে বাংলাদেশের ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১২ আগস্ট ২০২৬
সুখবর দিল ফেসবুক

‘দূষণ’ হয়ে উঠছে সম্পদ

:: সৈয়দা বদরুন নেসা ::ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দাঁড়ালে যা দেখা যায় তা শুধু দূষণ নয়, সেখানে আসলে কোটি টাকার কাঁচামালও ভাসছে। প্রতিটি পানির বোতল, প্রতিটি পলিথিন ব্যাগ, প্রতিটি প্লাস্টিকের চেয়ার- শুধু বর্জ্য নয়, এক একটি নতুন শিল্পের ভিত্তি হতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে ‘দূষণকে’ সম্পদে পরিণত করেছে। অথচ বহুমুখী দূষণে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশের এই অপার সুযোগ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।বিষয়টি শুধু পরিবেশ সুরক্ষার নয়, বরং তিনস্তরীয় একটি ব্যবসায়িক মডেল। যেখানে একই প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে একসঙ্গে তিনটি আয়ের উৎস তৈরি করা সম্ভব। প্রথমত, ফার্নিচার হিসেবে বিক্রি করা যাবে। দ্বিতীয়ত, কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করা যাবে। আর তৃতীয়ত সরকারি পরিবেশ প্রণোদনা। এসব মিলিয়ে যে মডেল দাঁড়ায়, তা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক চেয়ার তৈরিতে যতটুকু কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয়, তা কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করলে চেয়ারের দামের অতিরিক্ত ২০-৩০ শতাংশ আয় আসতে পারে।প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে ফার্নিচার তৈরির মূল প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ। সংগ্রহ করা এইচডিপিই (উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন) ও পিপি (পলিপ্রোপিলিন) ধরনের প্লাস্টিক প্রথমে পরিষ্কার করা হয়। তারপর নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলিয়ে মোল্ডে ঢালা হয়। ঠান্ডা হলে বেরিয়ে আসে মজবুত ফার্নিচার, যা কাঠের চেয়ে টেকসই, পানিরোধী এবং পোকামাকড়মুক্ত।এসব পণ্যের বিশেষত্ব হলো এগুলো পুনরায় গলিয়ে নতুন করে ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ এটি সত্যিকারের সার্কুলার ইকোনমি বর্জ্য। যা শেষ হয় না, রবং রূপান্তরিত হয়।বাজারে এই পণ্যগুলোর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি অফিস ও পার্কে এই ধরনের টেকসই ফার্নিচারের জন্য ক্রয় নীতি তৈরি হচ্ছে। ইউরোপে এসব পণ্যের বাজার ইতোমধ্যে বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বিশেষত কম দামের কারণে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অনেক বেশি।দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে কার্বন ক্রেডিটের কথা। যা পরিবেশ রক্ষার আন্তর্জাতিক মুদ্রা। যখন কোনো উদ্যোগ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করে বা কার্বন শোষণ করে, তখন সেই পরিমাণটি একটি ক্রেডিট হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা যায়। প্রতিটি ক্রেডিটের অর্থ হচ্ছে এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয়।প্রশ্ন হচ্ছে, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং এখানে কীভাবে কাজ করছে। মূলত, নতুন প্লাস্টিক তৈরিতে যে কার্বন ডাই-অক্সাইড খরচ হতো, তা রিসাইক্লিং দিয়ে বাঁচানো হচ্ছে। এই ‘বাঁচানো’ কার্বন ডাই-অক্সাইড-ই হলো ক্রেডিটের উৎস। এক টন প্লাস্টিক রিসাইকেল করলে প্রায় ১ দশমিক পাঁচ থেকে দুই টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয় অর্থাৎ সমপরিমাণ ক্রেডিট।কার্বন ক্রেডিট বিক্রির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে স্বীকৃত দুটি সংস্থা হচ্ছে- গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড এবং ভেরা (ভিসিএস-ভেরিফায়েড কার্বন স্ট্যান্ডার্ড)। সংস্থা দুটো প্রকল্প যাচাই করে সার্টিফিকেট দেয়। একবার সার্টিফিকেট পেলে ‘এক্সপ্যানসিভ’, ‘সাউথ পোল’ বা ‘ক্লাইমেট ট্রেডের’ মতো আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে ক্রেডিট বিক্রি করা যায়।অবশ্য, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া বেশ জটিল হলেও অসম্ভব নয়। একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ৬-১২ মাসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। সহজ বিকল্প হিসেবে দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি যেমন গার্মেন্টস রপ্তানিকারক বা ব্যাংক তাদের ইএসজি (পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসন) লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরাসরি কার্বন ক্রেডিট কিনতে পারে।বেশি নয়, মাত্র ৫-১০ লাখ টাকা বিনিয়োগে দেশে প্লাস্টিক ফার্নিচার ইউনিট চালু করা সম্ভব। যেখানে প্রথম বছর ফার্নিচার বিক্রিতে মনোযোগ দিতে হবে। দ্বিতীয় বছরে এসে শুরু করতে হবে উৎপাদন ডেটা সংগ্রহ। তৃতীয় বছরে কার্বন ক্রেডিট নিবন্ধনের আবেদন করা যেতে পারে। এভাবে তিন বছরের রোডম্যাপ অনুসরণ করলে দেশেই একটি স্থায়ী ও লাভজনক সবুজ ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব।বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার ক্রমেই সবুজ উদ্যোগকে নীতিগত সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন ‘সবুজ সাপ্লাই চেইন’ চাইছেন। বিশেষত ইউরোপীয় ক্রেতারা পণ্যের কার্বন ফুটপ্রিন্ট দেখছেন।এই প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক থেকে ফার্নিচার ও কার্বন ক্রেডিটের মডেলটি শুধু একটি ব্যবসা নয় দেশের বৃহত্তর পরিবেশগত রূপান্তরেরই একটি অংশ। যেসব উদ্যোক্তা এই পথে হাঁটবেন, তারা কেবল মুনাফাই করবেন না, হয়ে উঠবেন একটি নতুন শিল্পের পথপ্রদর্শকও।বর্জ্য বিষয়ে আমাদের গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই বদলাতে হবে। সময়েরও দাবি সেটাই।কারণ বর্জ্য এখন আর আমাদের সমস্যা নয়, বরং সম্ভাবনাময় এক শিল্পের কাঁচামাল। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, পানি ও জলবায়ু গবেষক।

১২ আগস্ট ২০২৬
‘দূষণ’ হয়ে উঠছে সম্পদ

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
‘দূষণ’ হয়ে উঠছে সম্পদ

‘দূষণ’ হয়ে উঠছে সম্পদ

:: সৈয়দা বদরুন নেসা ::ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দাঁড়ালে যা দেখা যায় তা শুধু দূষণ নয়, সেখানে আসলে কোটি টাকার কাঁচামালও ভাসছে। প্রতিটি পানির বোতল, প্রতিটি পলিথিন ব্যাগ, প্রতিটি প্লাস্টিকের চেয়ার- শুধু বর্জ্য নয়, এক একটি নতুন শিল্পের ভিত্তি হতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে ‘দূষণকে’ সম্পদে পরিণত করেছে। অথচ বহুমুখী দূষণে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশের এই অপার সুযোগ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।বিষয়টি শুধু পরিবেশ সুরক্ষার নয়, বরং তিনস্তরীয় একটি ব্যবসায়িক মডেল। যেখানে একই প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে একসঙ্গে তিনটি আয়ের উৎস তৈরি করা সম্ভব। প্রথমত, ফার্নিচার হিসেবে বিক্রি করা যাবে। দ্বিতীয়ত, কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করা যাবে। আর তৃতীয়ত সরকারি পরিবেশ প্রণোদনা। এসব মিলিয়ে যে মডেল দাঁড়ায়, তা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক চেয়ার তৈরিতে যতটুকু কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয়, তা কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করলে চেয়ারের দামের অতিরিক্ত ২০-৩০ শতাংশ আয় আসতে পারে।প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে ফার্নিচার তৈরির মূল প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ। সংগ্রহ করা এইচডিপিই (উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন) ও পিপি (পলিপ্রোপিলিন) ধরনের প্লাস্টিক প্রথমে পরিষ্কার করা হয়। তারপর নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলিয়ে মোল্ডে ঢালা হয়। ঠান্ডা হলে বেরিয়ে আসে মজবুত ফার্নিচার, যা কাঠের চেয়ে টেকসই, পানিরোধী এবং পোকামাকড়মুক্ত।এসব পণ্যের বিশেষত্ব হলো এগুলো পুনরায় গলিয়ে নতুন করে ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ এটি সত্যিকারের সার্কুলার ইকোনমি বর্জ্য। যা শেষ হয় না, রবং রূপান্তরিত হয়।বাজারে এই পণ্যগুলোর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি অফিস ও পার্কে এই ধরনের টেকসই ফার্নিচারের জন্য ক্রয় নীতি তৈরি হচ্ছে। ইউরোপে এসব পণ্যের বাজার ইতোমধ্যে বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বিশেষত কম দামের কারণে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অনেক বেশি।দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে কার্বন ক্রেডিটের কথা। যা পরিবেশ রক্ষার আন্তর্জাতিক মুদ্রা। যখন কোনো উদ্যোগ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করে বা কার্বন শোষণ করে, তখন সেই পরিমাণটি একটি ক্রেডিট হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা যায়। প্রতিটি ক্রেডিটের অর্থ হচ্ছে এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয়।প্রশ্ন হচ্ছে, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং এখানে কীভাবে কাজ করছে। মূলত, নতুন প্লাস্টিক তৈরিতে যে কার্বন ডাই-অক্সাইড খরচ হতো, তা রিসাইক্লিং দিয়ে বাঁচানো হচ্ছে। এই ‘বাঁচানো’ কার্বন ডাই-অক্সাইড-ই হলো ক্রেডিটের উৎস। এক টন প্লাস্টিক রিসাইকেল করলে প্রায় ১ দশমিক পাঁচ থেকে দুই টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয় অর্থাৎ সমপরিমাণ ক্রেডিট।কার্বন ক্রেডিট বিক্রির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে স্বীকৃত দুটি সংস্থা হচ্ছে- গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড এবং ভেরা (ভিসিএস-ভেরিফায়েড কার্বন স্ট্যান্ডার্ড)। সংস্থা দুটো প্রকল্প যাচাই করে সার্টিফিকেট দেয়। একবার সার্টিফিকেট পেলে ‘এক্সপ্যানসিভ’, ‘সাউথ পোল’ বা ‘ক্লাইমেট ট্রেডের’ মতো আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে ক্রেডিট বিক্রি করা যায়।অবশ্য, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া বেশ জটিল হলেও অসম্ভব নয়। একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ৬-১২ মাসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। সহজ বিকল্প হিসেবে দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি যেমন গার্মেন্টস রপ্তানিকারক বা ব্যাংক তাদের ইএসজি (পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসন) লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরাসরি কার্বন ক্রেডিট কিনতে পারে।বেশি নয়, মাত্র ৫-১০ লাখ টাকা বিনিয়োগে দেশে প্লাস্টিক ফার্নিচার ইউনিট চালু করা সম্ভব। যেখানে প্রথম বছর ফার্নিচার বিক্রিতে মনোযোগ দিতে হবে। দ্বিতীয় বছরে এসে শুরু করতে হবে উৎপাদন ডেটা সংগ্রহ। তৃতীয় বছরে কার্বন ক্রেডিট নিবন্ধনের আবেদন করা যেতে পারে। এভাবে তিন বছরের রোডম্যাপ অনুসরণ করলে দেশেই একটি স্থায়ী ও লাভজনক সবুজ ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব।বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার ক্রমেই সবুজ উদ্যোগকে নীতিগত সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন ‘সবুজ সাপ্লাই চেইন’ চাইছেন। বিশেষত ইউরোপীয় ক্রেতারা পণ্যের কার্বন ফুটপ্রিন্ট দেখছেন।এই প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক থেকে ফার্নিচার ও কার্বন ক্রেডিটের মডেলটি শুধু একটি ব্যবসা নয় দেশের বৃহত্তর পরিবেশগত রূপান্তরেরই একটি অংশ। যেসব উদ্যোক্তা এই পথে হাঁটবেন, তারা কেবল মুনাফাই করবেন না, হয়ে উঠবেন একটি নতুন শিল্পের পথপ্রদর্শকও।বর্জ্য বিষয়ে আমাদের গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই বদলাতে হবে। সময়েরও দাবি সেটাই।কারণ বর্জ্য এখন আর আমাদের সমস্যা নয়, বরং সম্ভাবনাময় এক শিল্পের কাঁচামাল। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, পানি ও জলবায়ু গবেষক।

১২ আগস্ট ২০২৬

স্মৃতির ক্যানভাসে বিস্মৃতির দাগ

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::বাঙালির জাতিগত মনস্তত্ত্বের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো তার বিস্মৃতিপ্রবণতা। তীব্র আবেগ এবং দ্রুত সবকিছু ভুলে যাওয়ার এক আত্মঘাতী মানসিকতা এই জনপদের মানুষের মজ্জাগত। ফরাসি দার্শনিক আর্নেস্ট রেনান তাঁর বিখ্যাত ‘হোয়াট ইজ এ নেশন?’ প্রবন্ধে বলেছিলেন, ‘জাতি গঠনে যেমন যৌথ স্মৃতি প্রয়োজন, তেমনি অনেক কিছু ভুলে যাওয়াও দরকার।’ কিন্তু বাঙালির ক্ষেত্রে এই ‘ভুলে যাওয়া’ কোনো দার্শনিক প্রয়োজন নয় বরং এক রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাধি। যে জাতি রক্তের নদী পেরিয়ে তার অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষা করে, সেই জাতিই কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই রক্তের ঋণ এবং ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা বিস্মৃত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকবদলে বাঙালির এই বিস্মৃতির ধরণ এবং তার চড়া মূল্য দেওয়ার খতিয়ান বিশ্লেষণ করা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এক অতীব জরুরি বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণাধর্মী তাগিদ।১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের আত্মত্যাগ বাঙালিকে একটি নতুন ধর্মনিরপেক্ষ জাতিসত্তার পরিচয় দেয়। এই আন্দোলন শুধু ভাষার ছিল না, এটি ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম তীব্র সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আঘাত। ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালি রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার ঠিকই আদায় করেছিল, কিন্তু তার মূল চেতনা ধরে রাখতে পারেনি। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর যে আইনি ও নৈতিক অঙ্গীকার ছিল, তা আজ দীর্ঘ সাত দশকেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের উচ্চ আদালত, উচ্চশিক্ষা এবং করপোরেট ও প্রশাসনিক স্তরে বাংলা ভাষার পদাঙ্ক নিশ্চিত করা যায়নি। একুশে ফেব্রুয়ারি এলে আমরা যে তীব্র আবেগ দেখাই, বছরের বাকি ৩৬৪ দিন তা ইংরেজি বা ভিনদেশি ভাষার আগ্রাসনে হারিয়ে যায়। ভাষা আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ভুলে গিয়ে সমাজ বারবার মৌলবাদ ও সংকীর্ণতার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা এবং ছাত্র সমাজের ১১ দফার ভিত্তিতে সংঘটিত হয় এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান। আসাদ, ডক্টর শামসুজ্জোহা, মতিউরের আত্মত্যাগের মুখে আইয়ুব খানের লৌহকঠিন সামরিক জান্তা পতন ঘটাতে বাধ্য হয় এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু সসম্মানে মুক্তি পান। এই আন্দোলন বাঙালিকে শিখিয়েছিল কীভাবে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করতে হয়। ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছিল নাগরিক অধিকার ও ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে আপসহীন হতে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা দ্রুতই ভুলে যাই আইয়ুবীয় স্টাইলের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার কুফল। ফলে স্বাধীন রাষ্ট্রেও বারবার সামরিক শাসন বা বেসামরিক একনায়কতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। যে ছাত্র সমাজ ও জনতা স্বৈরাচারের তখত উল্টে দিয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলের পর তারাই আবার নতুন কোনো শাসকের অন্ধ ভক্তে পরিণত হয়েছে। স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ের মূল মন্ত্র- ‘গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ বাঙালি বারবার ভুলে গেছে।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে শুরু হওয়া গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অর্জিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম এবং কোটি মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর মধ্য দিয়ে এই স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল তিনটি- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। স্বাধীনতার পর বাঙালির ভুলে যাওয়ার অভ্যাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও বীভৎস বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। যে জাতি কিছুদিন আগেও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়েছিল, তারা এক অদ্ভুত জড়তা, উদাসীনতা ও বিস্মৃতির শিকার হলো। এরপর শুরু হলো ইতিহাসের উল্টোরথ যাত্রা। মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নিত ঘাতক-দালাল, রাজাকার ও আলবদরদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুনর্বাসিত করা হলো; তাদের গাড়িতে ওড়ানো হলো লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকা। দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ঢেকে তরুণ প্রজন্মকে রাখা হলো সত্য থেকে দূরে। সবচেয়ে বড় বিস্মৃতি ঘটল মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাক্সক্ষায়- সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাষ্ট্রে এক চরম ক্রনি-ক্যাপিটালিজম বা লুণ্ঠনমূলক অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হলো।নয় বছরের সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদ সরকারের পতনের লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে গড়ে ওঠে এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট এবং বামপন্থীদের ৫ দলীয় জোট মিলে ঘোষণা করে ‘তিন জোটের রূপরেখা’। এই রূপরেখার মূল ভিত্তি ছিল- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, স্বৈরাচারী ও কালো আইন বাতিল এবং টেকসই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা। নূর হোসেন, ডা. মিলনের রক্তের বিনিময়ে ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারের পতন ঘটে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর তিন জোটের সেই ঐতিহাসিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ক্ষমতার চেয়ারে বসার পরপরই দলগুলো আবার পরমতসহিষ্ণুতা ভুলে গিয়ে পারস্পরিক প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করে। সংসদকে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে চলে একের পর এক সংসদ বয়কট ও রাজপথের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি। রূপরেখায় যে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা রূপ নেয় দলীয়করণ, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র এবং বিচার বিভাগের টুঁটি চেপে ধরার খেলায়। বাঙালি ভুলে গেল যে, গণতন্ত্র কেবল পাঁচ বছর পর পর ভোট দেওয়ার উৎসব নয়, এটি একটি নিত্যদিনের চর্চা ও সংস্কৃতির নাম।দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একচ্ছত্র কর্তৃত্ববাদী শাসন, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, গুম-খুন, তীব্র অর্থনৈতিক লুণ্ঠন, মেগা প্রজেক্টের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে দেশে এক চরম ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছিল। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গর্জে ওঠে দেশের ছাত্র-জনতা। কোটা সংস্কার আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া এই সংগ্রাম সরকারি বাহিনীর নজিরবিহীন ও নৃশংস দমনপীড়নের মুখে রূপ নেয় এক দফার গণঅভ্যুত্থানে। আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ফারহান ফাইয়াজ, ওয়াসিমসহ শত শত শহীদের আত্মত্যাগ এবং হাজারো মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ছাত্র-জনতার এই নজিরবিহীন বিজয়কে অভিহিত করা হয় ‘চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে। এই আন্দোলন রাষ্ট্র মেরামতের এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট দেয়।বাঙালির ভুলে যাওয়ার সহজাত অভ্যাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন চলছে। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি ফ্যাসিবাদের স্থায়ী অবসান এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আন্দোলনের রক্ত শুকানোর আগেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষাক্ত লক্ষণগুলো আবার দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দলীয়করণ এবং ভিন্নমতের ওপর চড়াও হওয়ার প্রবণতা সমাজ থেকে পুরোপুরি দূর করা যায়নি। যে তরুণরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রকে নতুন পথ দেখাল, তাদের সেই পবিত্র আত্মত্যাগকে ভুলে গিয়ে সমাজ যদি আবার দলীয় সংকীর্ণতা, সুবিধাবাদ ও মেরুকরণের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়, তবে এই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনও ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। পূর্বসূরিদের মতো চব্বিশের প্রজন্মও যদি ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায়, তবে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও বেদনাদায়ক বিস্মৃতি।ইতিহাসের খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যায়, বাঙালি লড়তে জানে, বুক পেতে রক্ত দিতে জানে, কিন্তু অর্জিত বিজয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে ধরে রাখতে জানে না। এর প্রধান কারণ- আমরা ইতিহাসের আবেগকে সস্তা স্লোগানে রূপান্তর করি, কিন্তু তার গভীর শিক্ষাকে ধারণ করি না। বিজয়ের পর আমরা এক ধরনের সাময়িক আত্মতুষ্টিতে ভুগি এবং দ্রুতই সব ভুলে গিয়ে আবার পুরোনো ভুলের ফাঁদে পা দিই। যদি আমরা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে আগের আন্দোলনগুলোর মতো বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে দিতে না চাই, তবে আমাদের এই ‘সহজাত ভুলে যাওয়ার রোগ’ থেকে চিরতরে মুক্ত হতে হবে। প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁকবদলের শহীদদের স্মৃতি কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায়, স্মৃতিসৌধে বা নামফলকে বন্দী না রেখে- তাদের মূল আকাক্সক্ষাকে রাষ্ট্রীয় নীতি, সংবিধান ও নাগরিক জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। বাঙালিকে ‘স্মৃতিভুক’ জাতি হওয়া বন্ধ করতে হবে; কারণ যে জাতি বারবার ইতিহাস ভুলে যায়, ইতিহাস তাকে বারবার স্বৈরাচারের শৃঙ্খলে বন্দী করে শাস্তি দেয়।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

১২ আগস্ট ২০২৬
স্মৃতির ক্যানভাসে বিস্মৃতির দাগ

জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি বলেছেন, আজকে বিরোধীদল অযথা কাল্পনিক আস্ফালন করেছে। আমরা বিরোধীদলের উদ্দেশে বলতে চাই- শান্ত থাকুন, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র, অহেতুক জ্বালাও পোড়াও করে ফ্যাসিবাদের চরিত্রে যাবেন না। মঙ্গলবার(১১ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে আর জ্বালাও পোড়াও দেখতে চাই না। আমরা কোন সিলের নির্বাচন দেখতে চাই না। আমরা কোন জোর-জবরদস্তির শাসন দেখতে চাই না।বিরোধী দলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন- আপনারা শান্ত হোন, হুশে আসেন; বেহুশ হবেন না। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। এই সরকারকে হটাতে হলে পাঁচ বছর পর আবারও যে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে ভোটে এসে তারপর যদি বেশি ভোট পান তাহলে সরকারে যাবেন, নইলে এই সরকারই আবারও নির্বাচিত হবে।আহমেদ আযম খান বলেন, আপনারা তো আবারও পাপাচার করবেন। ভোট দিলে বেহেশত দেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন, সে ক্ষমতা আপনারা কোথায় পেলেন, নাউজুবিল্লাহ মিন জালেক। জনগণ বুঝে আপনাদের ওই বেহেশতের টিকেট মানে পাপাচার। এখানে আমরা যাবো না বলেই জনগণ ৩০০ আসনের মধ্যে সোয়া ২০০ আসনে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে।মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমাদের সরকার সেবকের সরকার। আমরা সেবা করব। পাঁচ বছর পরে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আবার জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়- ক্ষমতায় আসবো। আপনাদের ভোট দিলে আপনারা আসবেন। জ্বালাও পোড়াও করে অযথা ওই সচিবালয়-মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না। কথা খুব পরিস্কার।তিনি আরো বলেন, যেমন পার্লামেন্টে দায়িত্বশীল আচরণ করেন আমরা বারবার ধন্যবাদ জানিয়েছি। তেমনি পার্লামেন্টের বাইরে মাঠের আন্দোলনে দায়িত্বশীল আচরণ করেন। এটাই বাংলাদেশের মানুষ চায়, বাংলাদেশের মানুষ আশা করে। আপনাদেরকে বলবো আমাদের সরকারের সঙ্গে থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। আমরা একটা সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আপনাদেরকে ইনশাআল্লাহ উপহার দেব।বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সৈয়দ মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন, বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, বাসাইল পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু প্রমুখ।

১১ আগস্ট ২০২৬
জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির গৃহযুদ্ধ চরমে!

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয় দখল ও পাল্টা দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিরোধের জের ধরে জেলা বাস মিনিবাস সমিতির কাছে পৃথক তিনটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা কমিটি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।সরেজমিনে জানা যায়, মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব নিয়ে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু রাজ এবং দপ্তর সম্পাদক আ. সামাদ ওরফে ছালামের পক্ষের মধ্যে বিরোধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। বাবু রাজের পক্ষের অভিযোগ, দপ্তর সম্পাদক ছালাম তার লোকজন নিয়ে সমিতির প্রধান কার্যালয়টি অবৈধভাবে জবরদখল করেছেন। দখলকারীরা কার্যালয় থেকে সাধারণ সম্পাদকের নামফলক সরিয়ে ফেলেছে এবং তার ব্যক্তিগত আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ছালামের পক্ষ দাবি করেছে, তারা কোনো কার্যালয় দখল করেননি। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বাবু রাজ নিয়মিত কার্যালয়ে আসেন না বলে তার ব্যক্তিগত আসবাবপত্রগুলো সরিয়ে রাখা হয়েছে মাত্র।খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ তাঁর মালিকানাধীন গাড়ি মধুপুর উপজেলা বিএনপির নেতা প্রিন্সের নামে এফিডেভিট করে দিয়ে সমিতির সদস্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি প্রিন্সকে বাদ দিয়ে মুকুল সিদ্দিকীকে সদস্যপদ দেন। এ নিয়েই মূলত সমিতির সদস্যদের মধ্যে মতদ্বৈততার শুরু হয়।এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস সমিতির কাছে পৃথক তিনটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে- প্রথম প্রস্তাব: মুকুল সিদ্দিকী (সভাপতি) ও মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ (সাধারণ সম্পাদক)। দ্বিতীয় প্রস্তাব: আ. সামাদ ওরফে ছালাম (সভাপতি) ও ফরহাদ হোসেন (সাধারণ সম্পাদক)। তৃতীয় প্রস্তাব: মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ (সভাপতি) ও ফরহাদ হোসেন (সাধারণ সম্পাদক)।কার্যালয় দখল এবং তিনটি পৃথক কমিটি জমার ঘটনায় সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা কমিটির হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক আল-আমিন সহ সাধারণ মালিকরা জানান, বর্তমান কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন খান আওয়ামীলীগ সমর্থিত হওয়ায় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সমিতির মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান জেলা কমিটিই করতে পারবে। তবে তাদের দাবি, সমিতিকে রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত রেখে শুধুমাত্র মালিক-ব্যবসায়ীদের দিয়ে কমিটি করে দেওয়া হোক। জেলা কমিটির সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানাবে।মধুপুর উপজেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন জানান, ২৮জন বাস মিনিবাসের মালিক নিয়ে ২০২২ সালে সমিতির মধুপুর শাখা গঠন করা হয়। মালিকরা সাধারণত সন্ধ্যার পর সমিতির কার্যালয়ে আসেন। বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক আ. সামাদ ওরফে ছালামের গ্রুপের লোকজন দুপুরের দিকে কার্যালয়টি দখলে নেয়- এটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। তবে এখানকার মালিকরা সবাই জেলা কমিটির সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।এ বিষয়ে জেলা কমিটির সদস্য সচিব নিলুফার ইয়াসমিন খান জানান, মধুপুর সমিতির বিরোধের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তিনটি পৃথক প্রস্তাবিত কমিটি তারা হাতে পেয়েছেন। তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেবেন।টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান খান জানান, সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত সংঘাত এড়াতে তারা উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সুশৃঙ্খল একক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

১০ আগস্ট ২০২৬
মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির গৃহযুদ্ধ চরমে!

স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও দেনমোহর জালিয়াতির অভিযোগ

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে যৌতুক, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং কাবিননামায় দেনমোহর জালিয়াতির অভিযোগ এনে স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সোনিয়া আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী নারী। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের বটতলায় প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পশ্চিমপাড়া এলাকার নজরুল মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী শাহিন মিয়া দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের চণ্ডী এলাকার ছানোয়ার হোসেনের ছেলে।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোনিয়া আক্তার অভিযোগ করেন- বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং ননদসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকার আসবাবপত্র, ১ লাখ টাকা মূল্যের ল্যাপটপ ও মোবাইলসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল ও অর্থ আটকে রাখা হয়েছে।দেনমোহর নিয়ে বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ তুলে সোনিয়া বলেন, ‘বিয়ের সময় আমাদের দেনমোহর ৩ লাখ টাকা নির্ধারণের কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কাবিননামা হাতে পেয়ে দেখি সেখানে মাত্র ৩০ হাজার টাকা লেখা হয়েছে। স্থানীয় কাজি এবং স্বামীর পরিবারের লোকজন যোগসাজশ করে দেনমোহরের পরিমাণ কম দেখিয়ে আমার সাথে এই প্রতারণা করেছে।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত। এই অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় তাকে নিয়মিত গালিগালাজ ও মারধর করা হতো। পরবর্তীতে স্বামীর পরিবারের অন্য সদস্যরাও তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।সোনিয়া আক্তার জানান, এই নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় তিনি দেলদুয়ার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার বেশ কিছু দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। আইনি প্রতিকার পেতে তিনি এখন আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সোনিয়া বলেন, ‘আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার ওপর হওয়া এই অন্যায়ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আমি আপনাদের (সাংবাদিকদের) সহযোগিতা কামনা করছি।’এদিকে সোনিয়া আক্তারের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার স্বামী শাহিন মিয়া। তিনি দাবি করেন, মুঠোফোনে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি সোনিয়াকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য হন। পরে তিনি জানতে পারেন, সোনিয়ার এর আগে আরও তিনটি বিয়ে হয়েছিল।শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমরা তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করিনি। সে আমাকে না জানিয়েই নিজে বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে আমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছি।’

০৮ আগস্ট ২০২৬
স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও দেনমোহর জালিয়াতির অভিযোগ
নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের
জাতীয়

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু:সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে পরিচালিত সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশ শুক্রবার(৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।এদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ মহাসমাবেশে নিরাপদ সড়ক, রেলপথ ও নৌপথ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নীতি, গবেষণা, প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে নিসচা প্রণীত ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।দিনব্যাপী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়।ফিরে দেখা- ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয় সহধর্মিণী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় দায়িত্বে রূপ দেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর গত ৩৩ বছরে নিসচা শুধু একটি সংগঠন নয় বরং একটি জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এই পথচলায় সংগঠনটি জনসচেতনতা সৃষ্টি, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কার্যক্রম, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, নীতিগত সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন এবং দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়’নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চলচ্চিত্রের মহানায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ৩৩ বছরের এ আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীর আত্মত্যাগ আন্দোলনটিকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের জীবন রক্ষার এই আন্দোলনে আরও কিছুদিন কাজ করার তৌফিক দান করেন। আমিও দেশের প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করছি।’চিত্র নয়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো দাবি নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই; আমরা মানুষের জীবনের পক্ষে।’তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও দৃঢ় বাস্তবায়ন।’তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে না পারবে, ততদিন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য কোনো সমালোচনা নয় বরং সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে একটি দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’গবেষণা, প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা এখন আর শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নির্ভুল তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।’তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তারা দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তারা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।’মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে একটি কেন্দ্রীয় সড়ক দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার (National Road Crash Database) গড়ে তোলার, যেখানে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, রেলওয়ে এবং নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার তথ্য সমন্বিত হবে। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’তিনি বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগ, স্পিড ক্যামেরা, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল-টাইম দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ তথ্য ও জনসম্পৃক্ততা সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া ১২ দফা সুপারিশপত্র কোনো দাবিপত্র নয় বরং একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা।’নিসচার তথ্যভান্ডার কাজে লাগানোর আহ্বাননিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত দুর্ঘটনার তথ্য, জনমত, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা নিসচার অন্যতম বড় শক্তি।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করেন না; তারা দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, স্থানীয় সমস্যা এবং মানুষের প্রত্যাশা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত করেন। এই বিশাল তথ্যভান্ডার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার প্রায় ১২০টি শাখা এবং হাজারো সড়কযোদ্ধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। সরকার চাইলে এই স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।’সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগতনিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত 'Safe System Approach'-এর আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা, গতি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়ন, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালীকরণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জাতীয় অঙ্গীকারকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।নিসচার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ নিরাপদ, টেকসই ও মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।সংস্কৃতির মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানপ্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নয়; মানুষের মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমেও সম্ভব। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি বলেন, ‘নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি, পথনাটক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন হয়ে উঠবে।’মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরাপদ সড়ক বিষয়ক সচেতনতামূলক নাট্যোৎসব, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রচারণা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। নিরাপদ সড়ক একটি সামাজিক আন্দোলন আর সামাজিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সংস্কৃতির বিকল্প নেই।’আইন, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বউদ্বোধরী বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি বলেন, ‘সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’তিনি বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মতো সংগঠনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।’গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয়ের আহ্বানবিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদান অনন্য। ব্যক্তিগত বেদনাকে তিনি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন, যা আজ নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরঅনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর পক্ষ থেকে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ তুলে দেওয়া হবে।সুপারিশপত্রে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, চাঁদাবাজি ও পরিবহন সিন্ডিকেট নির্মূল, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ, সড়ক-রেল-নৌপথের সমন্বিত নিরাপত্তা, শিক্ষাক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপদ সড়ককে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) মনে করে, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। রাষ্ট্রের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, সুশাসন, গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নিসচা সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। সংগঠনটি আশা করে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মানবিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবহন খাতের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নিসচার প্রায় ১২০টি শাখার প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রতিনিধি ও সড়কযোদ্ধা এতে অংশ নেন। পরে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

০৮ আগস্ট ২০২৬

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

দৃষ্টি বিনোদন: ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও দক্ষিণী সিনেমার তারকা থালাপাতি বিজয় অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’। গত ৯ জানুয়ারি সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল। নানা জটিলতার কারণে থমকে যায় মুক্তি। দীর্ঘ ৭ মাস অপেক্ষার পর, গত ২৩ জুলাই বিশ্বের ৫ হাজার পর্দায় মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। ‘জন নায়াগান’ সিনেমা মুক্তির পর দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এনডিটিভির চলচ্চিত্র বিশ্লেষক লতা শ্রীনিবাস লিখেছেন, “থালাপাতি বিজয়ের জন্য ‘জন নায়াগান’ অবশ্যই দেখা উচিত। কারণ শেষবারের মতো তাকে পর্দায় দেখা যাবে। বিজয় কীভাবে একজন ‘জন নায়াগান’ (জনগণের নেতা) হয়ে উঠেছেন, তা টাইটেল কার্ড দেখিয়েছে। ত্রুটি থাকার পরও ‘জন নায়াগান’ দুর্দান্ত।” পাঁচে ৩ রেটিং দিয়েছেন লতা। ইন্ডিয়া টুডের জননী কে সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তবে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন ২। দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও বক্স অফিসে কতটা রাজত্ব করলেন বিজয়? যদিও বক্স অফিস বিশ্লেষক রমেশ বালা মুক্তির আগেই বলেছিলেন, মুক্তির প্রথম দিনে ৭৫-১০০ কোটি রুপি আয় করবে সিনেমাটি। তার এই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে ফলেছে। চলুন জেনে নিই, ৭ দিনে কত টাকা আয় করল সিনেমাটি- বলি মুভি রিভিউজের তথ্য মতে, মুক্তির প্রথম দিনে ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ভারতে আয় করেছে ৪৪ কোটি রুপি (নিট), দ্বিতীয় দিনে আয় করেছে ২১ কোটি রুপি (নিট), তৃতীয় দিনে আয় করেছে ৩০ কোটি রুপি (নিট), চতুর্থ দিনে আয় করেছে ৩২ কোটি রুপি (নিট), পঞ্চম দিনে আয় করেছে ১০ কোটি রুপি (নিট), ৬ষ্ঠ দিনে আয় করেছে ৮ কোটি রুপি (নিট), সপ্তম দিনে আয় করেছে ৬ কোটি রুপি (নিট)। যার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৫১ কোটি রুপি (নিট)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৬.২ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ৭ দিনে ভারতে আয় করেছে ১৪৯.৫০ কোটি রুপি (নিট)। বিদেশে আয় করেছে ৮১ কোটি রুপি (গ্রস)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৫.৬৩ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এইচ. বিনোথ। এতে থালাপাতি বিজয় অভিনয় করেছেন ভেত্রি কোন্ডান নামে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। দত্তক কন্যা ভিজিকে (মমিতা বাইজু) সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। কিন্তু মেয়েটির অতীতের মানসিক ট্রমা সেই পথকে কঠিন করে তোলে। বলিউড অভিনেতা ববি দেওল সিনেমাটিতে খলনায়ক জন হিমলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে আসেন। এরপরই শুরু হয় বিজয় ও ববি দেওলের মুখোমুখি লড়াই। তাদের লড়াইকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির মূল সংঘাত। ‘জন নায়াগান’ সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন বিজয়-পূজা। তাছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- প্রকাশ রাজ, প্রিয়ামণি, গৌতম বাসুদেব মেনন প্রমুখ। জানা যায়, সিনেমাটির বাজেট ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি রুপি। কোনো কোনো প্রতিবেদনে ৪০০ কোটি রুপিও পাওয়া গেছে। এটি প্রযোজনা করছে কেভিএন প্রোডাকশন্স।

৩০ জুলাই ২০২৬
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

২৮ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

দৃষ্টি নিউজ: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দিয়েছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) নামের একটি সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে এ অভিযোগ জমা দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস। অভিযোগকারী অন্যরা হলেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহ্যমান শাহ্ আলম বাদশা, কেন্দ্রীয় সংগঠক মহাসিন, জুলাই আহত আবু বকর ছিদ্দিক ওরকে তুহিন ফরাজী। অভিযুক্তরা হলেন- অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, আজিজুল হাকিম, ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ আহমেদ, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, অভিনেতা, সাজু খাদেম, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, আশনা হাবীব ভাবনা, হিরো আলম, সুজাতা আজিম, চন্দন রেজা, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, মোমিন মেহেদী ও সোমা ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা, উসকানি বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত রয়েছেন এসব তারকারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্তের স্বার্থে এ অভিযোগ দাখিল করেছি। এ বিষয়ে আল নূর মোহাম্মদ আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, বরাবরের মতোই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করছেন শান্তা ফারজানা, মোমিন মেহেদীসহ বেশ কিছু তারকা। অথচ ৫ আগস্টের দিনই শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের পতন হয়েছিল। আগামীতে আওয়ামী লীগ কোনোভাবে ফিরবে না। কিন্তু এই দোসররা মাঝে মাঝে আইনজীবী বা শিক্ষাবিদ হয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। আমরা সেটি হতে দেবো না।

২৬ জুলাই ২০২৬
২৮ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

জাহ্নবী কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁসের গুঞ্জন

দৃষ্টি বিনোদন: জাহ্নবী কাপুরকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সামাজিক মাধ্যমে ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস’ শিরোনামে যে দাবি ছড়িয়েছে, ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তার সমর্থনে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তার অভিনীত তেলেগু সিনেমা ‘পেড্ডি’তে ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন এবং তার নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘পাগলাইট’খ্যাত নির্মাতা উমেশ বিস্তের নতুন একটি সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন জাহ্নবী কাপুর। ছবিটির নাম এখনও চূড়ান্ত না হলেও এটি প্রযোজনা করবে একতা কাপুরের বালাজি মোশন পিকচার্স এবং অস্কারজয়ী প্রযোজক গুনীত মঙ্গার সিখ্যা এন্টারটেইনমেন্ট। চলতি বছরের অক্টোবর বা নভেম্বরে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গল্প, ঘরানা কিংবা সহ-অভিনয়শিল্পীদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উমেশ বিস্তের পরিচালনায় কাজ করবেন জাহ্নবী। একই সঙ্গে নির্মাতা উমেশ বিস্ত ‘পাগলাইট ২’-এর কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন। ২০২১ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রশংসিত সিনেমাটির সিক্যুয়েলে সানিয়া মালহোত্রার ফেরার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। ‘পেড্ডি’ সিনেমায় জাহ্নবীর ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক দর্শকের অভিযোগ, অতিরিক্ত ক্লোজআপ, নির্দিষ্ট ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল এবং কিছু রোমান্টিক দৃশ্যের মাধ্যমে চরিত্রটির গভীরতার চেয়ে তার শারীরিক উপস্থিতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে মতভেদও রয়েছে। একাংশের মতে, কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে নির্মাতার সৃজনশীল সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী করা উচিত নয়। জাহ্নবী কাপুর এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জয়া বচ্চন, কারিনা কাপুর খান, নিত্যা মেনন, জগপতি বাবু ও ডিম্পল হায়াথিসহ কয়েকজন তারকাও এ বিতর্ক নিয়ে মতামত দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে মূলধারার সিনেমায় নারীদের আরও শক্তিশালী, স্বতন্ত্র ও অর্থবহ চরিত্রে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে। সমালোচনার মুখে ‘পেড্ডি’র পরিচালক বুচি বাবু সানা সামাজিক মাধ্যমে ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিতর্কিত দৃশ্যগুলো সিনেমা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল বিভিন্ন ভিডিওকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের দাবি ছড়ালেও, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জাহ্নবী কাপুরের কোনো ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস’এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

২৬ জুলাই ২০২৬
জাহ্নবী কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁসের গুঞ্জন

পক্ষকাল ব্যাপী হুমায়ুন আহমেদ চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাবে পক্ষকাল ব্যাপী অমর কথা শিল্পী হুমায়ুন আহমেদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্বোধন করা হয়েছে। ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে ওই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অত্যাধুনিক সিনে কমপ্লেক্স দ্যা নিউ রওশন টকিজ সিনেমা হলের আয়োজনে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। করোনেশন ড্রামাট্রিক ক্লাবের সভাপতি কাজী জাকেরুল মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাম্য রহমান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা এবং সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন দ্যা নিউ রওশন টকিজ সিনেমা হলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন প্রবাল। শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী দিনে অমর কথা শিল্পী হুমায়ুন আহমেদের চলচ্চিত্র ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ সিনেমাটি প্রদর্শন করা হয়। পক্ষকালব্যাপী ওই প্রদর্শনীতে হুমায়ুন আহমেদের শ্রাবন মেঘেরদিন, দারুচিনি স্বীপ, ঘেটুপুত্র কমলা, শ্যামল ছায়া সহ ১৫টি সিনেমা প্রদর্শন করা হবে।

২৫ জুলাই ২০২৬
পক্ষকাল ব্যাপী হুমায়ুন আহমেদ চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন