সর্বশেষ
• উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে : প্রতিমন্ত্রী টুকু • নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমনিকে নোটিশ • গুঞ্জন, গুজব ও ডিসেম্বরের রাজনীতি • লাল পতাকা উড়িয়ে ট্রেন থামালেন গেটম্যান :: রক্ষা পেল বালুবাহী ট্রাক ও সহস্রাধিক যাত্রী • এ সপ্তাহের রাশিফল • ‘কোথায় সেই পলোই বাওয়া, কোথায় ঝাঁকি জাল, শুকিয়ে গেছে নদী-নালা, বদলে গেছে কাল’ • মূর্খ সংঘের তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন • অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন • বল্লায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার • ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসডিজি অর্জনে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে : প্রতিমন্ত্রী টুকু
রাজনীতি • ২ মিনিট আগে

উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে : প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট:মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সমবায়ের মূল শক্তিই হলো পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও আত্মনির্ভরশীলতা। তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি গড়ে তুলে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। রোববার (৮ নভেম্বর) টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষায় একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত সমবায়ীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে তাদের হাতে ঋণের চেক হস্তান্তর করেন। এরপর তিনি শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত ‘সমবায় পণ্য মেলা’র স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি মেলায় বিভিন্ন সমবায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে অংশ নেওয়া নান্দনিক পণ্যের স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করেন।‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’- প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসাইন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু সহ সমবায়ীরা।অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলার সমবায়ী নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমনিকে নোটিশ
বিনোদন • ২ ঘণ্টা আগে

নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমনিকে নোটিশ

দৃষ্টি নিউজ:জাতীয় সংগীত অবমাননা ও সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগে ক্ষমা চাইতে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে সব রকম অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার। রোববার (৮ নভেম্বর) শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঠিকানায় এ নোটিশ পাঠানো হয়।নোটিশে আগামি সাত দিনের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত ঘটনার জন্য লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমনিকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সব ধরনের অশ্লীল কথা বা সংলাপ, হুমকি, অশ্লীল অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি এবং নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নোটিশে আরও বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র, ভিডিও, অডিও-ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনো মাধ্যমে ধারণ ও প্রদর্শনযোগ্য এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যার শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার(৫ নভেম্বর) চিত্রনায়িকা পরীমনি ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সেই সঙ্গে, পরীমনির সঙ্গে আসা তার নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় আদালতে আসা এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায় বলে জানা গেছে। এদিন পরীমনির আদালতে আসাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।আগের দিন আদালত পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। পরে আদালতে হাজির হয়ে ৫০০ টাকা মুচলেকা দিয়ে তিনি জামিন পান।

গুঞ্জন, গুজব ও ডিসেম্বরের রাজনীতি
জাতীয় • ৩ ঘণ্টা আগে

গুঞ্জন, গুজব ও ডিসেম্বরের রাজনীতি

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::বাংলাদেশ এক অভূতপূর্ব এবং জটিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সন্ধিক্ষণ পার করছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে দেশে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন এলেও জনমানসের উদ্বেগ আর রাজপথের ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে বছর ঘুরে আরেকটি ‘ডিসেম্বর’ যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আড্ডায় ‘ডিসেম্বরে কী হতে যাচ্ছে’- এই প্রশ্নটি সাধারণে নানামুখী গুঞ্জন, গুজব আর গভীর আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ডিসেম্বর’ মাসটি সবসময়ই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলোর নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েন এই মাসেই দানা বেঁধেছে। চলমান প্রেক্ষাপটে শাসক দলগুলোর আত্মবিশ্বাস, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রত্যাবর্তনের প্রোপাগান্ডা এবং খেটে খাওয়া মানুষের বাস্তব জীবনযাত্রার চরম সংকট- এই তিন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ডিসেম্বরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি।বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দলগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায় এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে, ডিসেম্বরে কোনো ধরণের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নেই। তাদের যুক্তি ও অবস্থান মূলত কয়েকটি স্তরে বিন্যস্ত: যেমন- (ক) প্রশাসনিক সুসংহতি: অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের নির্বাচনী ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হয়েছে এবং একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশ, এসআরবি(র‌্যাব) এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেইন অব কমান্ড এখন অনেকটাই পুনর্বিন্যস্ত ও সুসংহত। ফলে রাজপথে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বা অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। (খ) রাজনৈতিক শূন্যতার অবসান: সরকারি দলের নেতারা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে বিরোধী শিবিরের যে ক্ষোভ বা রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা যেত, নির্বাচিত সরকার আসায় তা এখন আর নেই। জনগণের একটি বড় অংশের ম্যান্ডেট সরকারের পক্ষে রয়েছে। (গ) পর্দার আড়ালের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ: তবে দৃশ্যমান এই আত্মবিশ্বাসের ভেতরেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরণের পারস্পরিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও অবিশ্বাস চলছে। অতি সম্প্রতি ঢাকার শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে পর্দার আড়ালে নিষিদ্ধ বা সাবেক ফ্যাসিবাদী শক্তির সাথে সমঝোতা কিংবা এককভাবে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অভিযোগ তুলছেন। একে অপরকে রাজপথে প্রতিহত করার রাজনৈতিক হুংকার চললেও, তারা কেউই মনে করছেন না যে দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলার কোনো বড় বিপর্যয় ঘটবে। তাদের মূল লক্ষ্য ডিসেম্বরের সম্ভাব্য জমায়েতগুলোকে ঘিরে নিজেদের শক্তির মহড়া দেওয়া।চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে সবচেয়ে বড় কৌতুহল ও গুঞ্জন তৈরি করছে সাবেক স্বৈরাচারী শাসক দল ও বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বক্তব্য ও প্রচারণা। দলটির তৃণমূল, পলাতক নেতাকর্মী এবং বিশেষ করে প্রবাসী একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করছে যে, ডিসেম্বরেই তাদের নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। আন্তর্জাতিক কিছু সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনাও চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে ফেরার একটি সম্ভাব্য সময়সীমার কথা ঘোষণা করেছিলেন। দলটির নেতাকর্মীরা কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে বিশ্বাস ছড়াচ্ছেন যে, তিনি ‘বীরের বেশে’ দেশে ফিরে সরাসরি দলের হাল ধরবেন এবং রাজনীতির চিত্র বদলে দেবেন। তবে নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং আইনি উপদেষ্টারা এই দাবির পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি দেখছেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) এবং দেশের বিভিন্ন আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধসহ একাধিক গুরুতর মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ভারত থেকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের (Extradition) আইনি প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। আইনি ও বাস্তব প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি যদি কোনোভাবে দেশের সীমান্তে বা বিমানবন্দরে উপস্থিত হন, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করে সরাসরি আইনি হেফাজতে বা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। রাজপথে তাকে ‘বীরের বেশে’ স্বাগত জানানোর মতো সাংগঠনিক শক্তি বা জনসমর্থন বর্তমানে দলটির নেই বলে অনেকেই মনে করেন। ফলে, এই প্রচারণাটি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হতে পারে। যার উদ্দেশ্য, ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের ধরে রাখা এবং বর্তমান সরকারের ওপর একটি কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি করা।সবচেয়ে সংবেদনশীল, চিন্তার খোরাক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য বিপদের সংকেত জোগাচ্ছে এদেশের সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক, তৈরি পোশাক শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই বিশাল শ্রেণীর মানুষ রাজনীতির তাত্ত্বিক সংস্কার বা গণতন্ত্রের সংজ্ঞার চেয়ে প্রতিদিনের বাজারের থলে, পকেটের টাকা আর ব্যবসার লাভ-লোকসান দিয়ে দেশের পরিস্থিতি বিচার করেন। কৃষিপ্রধান এই দেশে ডিসেম্বরের রবিশস্য ও বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ডিলারদের কারসাজি এবং আমদানির ধীরগতির কারণে প্রান্তিক কৃষকেরা চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন- যা আগামি দিনের খাদ্য সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অতি সম্প্রতি জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ এবং শিল্প উৎপাদন ব্যয় এক লাফে অনেক বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। মূল্যস্ফীতির এই আগুনে পুড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কেনাবেচায় ভয়াবহ মন্দা চলছে- কারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা একদম কমে গেছে। পোশাক খাতের ধারাবাহিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক অর্ডারের ঘাটতির কারণে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও জনমত বিশ্লেষণ করলে তাদের গভীর অসন্তোষের কয়েকটি মূল কারণ ফুটে ওঠে: (১) চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের (চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ) উচ্চমূল্য ক্ষুদ্র আয়ের মানুষের জীবনকে ওষ্ঠাগত করে তুলেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা তাদের সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কেনাবেচায় ভয়াবহ মন্দা চলছে। (২) গার্মেন্টস খাতের ধারাবাহিক সংকট: বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (RMG) খাতে গত কয়েক মাস ধরে চলা অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষ এবং আন্তর্জাতিক অর্ডারের ঘাটতির কারণে অনেক মাঝারি ও ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা লে-অফ ঘোষণা করা হচ্ছে। এর ফলে তৈরি পোশাক শ্রমিক এবং এর ওপর নির্ভরশীল ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবসাগুলো মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে। (৩) বিদেশি সহায়তার ধীরগতি: সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং অর্থনৈতিক মহলে একটি বড় হতাশা রয়েছে- নতুন সরকার আসার পরও দেশ আশানুরূপ বড় ধরণের বিদেশি আর্থিক সহায়তা, বেলআউট প্যাকেজ বা নতুন কোনো বড় বিনিয়োগ টানতে পারছে না। রেমিট্যান্সের প্রবাহ ইতিবাচক হলেও তা এই বিশাল অর্থনৈতিক গর্ত পূরণের জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না। (৪) বিকল্প হিসেবে ‘সেনা শাসনের’ গুঞ্জন: রাজনীতি নিয়ে চরম হতাশ এবং অর্থনৈতিকভাবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন প্রকাশ্যেই বলতে শুরু করেছে ‘দেশের অবস্থা ভালো নেই’। তারা আশঙ্কা করছেন, এই অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা যদি ডিসেম্বরের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সহিংসতায় রূপ নেয়, তবে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং জানমালের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ বা শাসনভার গ্রহণ করার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।সাধারণ মানুষের এই সেনা শাসনের গুঞ্জন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ বা সামরিক প্রীতির কারণে নয়; বরং এটি চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা থেকে উদ্ভূত একটি মনস্তাত্ত্বিক বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা গেছে- যখনই বেসামরিক রাজনীতি সাধারণ মানুষের মৌলিক অর্থনৈতিক ও জানমালের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খায়, তখনই অবদমিত জনমনে অরাজনৈতিক বা সামরিক ব্যবস্থার প্রতি একটি সাময়িক মোহ তৈরি হয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমান ভূ-রাজনীতি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যের শর্ত এবং খোদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের কারণে সরাসরি সামরিক শাসনের বা সামরিক অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। তবে জনমানসের এই গুঞ্জন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি মারাত্মক রেড অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তাও বটে। সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সূচক এবং মাঠপর্যায়ের সামাজিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগামি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে কোনো আকস্মিক ‘শাসন পরিবর্তন’ বা ‘মহাবিপর্যয়ের’ কোনো বাস্তব পূর্বাভাসের আশঙ্কা নেই। তবে রাজপথের রাজনীতিতে কিছুটা উত্তাপ ছড়াবে। নিষিদ্ধ বা কোণঠাসা দলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে এক ধরণের কৃত্রিম আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। তবে সেটিকে প্রতিহত করার মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর রয়েছে এবং প্রশাসনিকভাবে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকবে- এটাই বাস্তবতা।ডিসেম্বরের আসল যুদ্ধটি রাজপথে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে নয়, বরং সরকারের আসল যুদ্ধ নিজের ‘অর্থনীতি’র সাথে। সরকার যদি দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস, গার্মেন্টস খাতের অসন্তোষ স্থায়ীভাবে দূরীকরণ এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমন করতে না পারে- তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে জনমানসের এই অর্থনৈতিক হাহাকারই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে। পরিশেষে বলা যায়, ডিসেম্বরে বাংলাদেশের আকাশে গুজবের মেঘ জমলেও কোনো বড় রাজনৈতিক ঝড়ের আশঙ্কা কম। তবে টেকসই স্থিতিশীলতার জন্য সরকারকে রাজপথ পাহারার চেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেই রাষ্ট্রীয় শক্তির শতভাগ মনোযোগ দিতে হবে। অন্যথায়, রাজনীতির মোড়ক পাল্টেও সাধারণ মানুষের ভাগ্য না পাল্টালে, জনঅসন্তোষ যেকোনো সময় নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

লাল পতাকা উড়িয়ে ট্রেন থামালেন গেটম্যান :: রক্ষা পেল বালুবাহী ট্রাক ও সহস্রাধিক যাত্রী
ছবি • ২১ ঘণ্টা আগে

লাল পতাকা উড়িয়ে ট্রেন থামালেন গেটম্যান :: রক্ষা পেল বালুবাহী ট্রাক ও সহস্রাধিক যাত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাল পতাকা উড়িয়ে চলন্ত ট্রেন থামিয়ে দিয়েছেন এক রেলওয়ে গেটম্যান। এর ফলে রেললাইনে বিকল হয়ে পড়া একটি বালুবাহী ট্রাকের সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ঢাকাগামী 'সিল্কসিটি এক্সপ্রেস' ট্রেনের সহস্রাধিক যাত্রী এবং ট্রাকের চালক ও হেলপার। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে জেলার কালিহাতী উপজেলার সল্লা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেলক্রসিংয়ে এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা সেতু পার হয়ে আসা একটি বালুবাহী ট্রাক সল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বালু আনলোড করার জন্য রেলক্রসিং পার হচ্ছিল। ঠিক রেললাইনের ওপর ওঠার পরপরই হঠাৎ ট্রাকটির সামনের চাকার এক্সেল ভেঙে যায়। এতে ট্রাকটি লাইনের ওপর আটকা পড়ে সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়।ঠিক ওই মুহূর্তেই উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর 'সিল্কসিটি এক্সপ্রেস' ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার কথা ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সল্লা রেলওয়ের গেটম্যান মিজান স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত লাইনের ওপর বেশ কিছু দূর সামনে এগিয়ে যান এবং লাল পতাকা ওড়াতে থাকেন। লাল পতাকা দেখে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক (লোকোমোটিভ মাস্টার) দ্রুত ব্রেক চেপে দুর্ঘটনাস্থলের ঠিক কাছাকাছি এসে ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হন।এদিকে ট্রেনটি থামার পর রেললাইনে আটকে থাকা ট্রাকটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়। প্রথমে অন্য একটি ট্রাক এনে সেটির সাথে দড়ি বেঁধে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিকে টেনে সরানোর চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে সল্লা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে থাকা একটি মাটি কাটার ভেকু (ব্যাকহো) মেশিন ঘটনাস্থলে আনা হয়। ভেকু মেশিন দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটিকে রেললাইন থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া হয়। লাইন নিরাপদ হওয়ার পর এদিন দুপুর ১২টার দিকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।এ বিষয়ে রেলওয়ে গেটম্যান মিজান জানান, উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে একটি বড়সড় ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন ও যাত্রীদের রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় ট্রেন বা রেললাইনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
গুঞ্জন, গুজব ও ডিসেম্বরের রাজনীতি
জাতীয়

গুঞ্জন, গুজব ও ডিসেম্বরের রাজনীতি

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::বাংলাদেশ এক অভূতপূর্ব এবং জটিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সন্ধিক্ষণ পার করছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে দেশে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন এলেও জনমানসের উদ্বেগ আর রাজপথের ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে বছর ঘুরে আরেকটি ‘ডিসেম্বর’ যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আড্ডায় ‘ডিসেম্বরে কী হতে যাচ্ছে’- এই প্রশ্নটি সাধারণে নানামুখী গুঞ্জন, গুজব আর গভীর আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ডিসেম্বর’ মাসটি সবসময়ই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলোর নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েন এই মাসেই দানা বেঁধেছে। চলমান প্রেক্ষাপটে শাসক দলগুলোর আত্মবিশ্বাস, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রত্যাবর্তনের প্রোপাগান্ডা এবং খেটে খাওয়া মানুষের বাস্তব জীবনযাত্রার চরম সংকট- এই তিন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ডিসেম্বরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি।বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দলগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায় এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে, ডিসেম্বরে কোনো ধরণের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নেই। তাদের যুক্তি ও অবস্থান মূলত কয়েকটি স্তরে বিন্যস্ত: যেমন- (ক) প্রশাসনিক সুসংহতি: অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের নির্বাচনী ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হয়েছে এবং একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশ, এসআরবি(র‌্যাব) এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেইন অব কমান্ড এখন অনেকটাই পুনর্বিন্যস্ত ও সুসংহত। ফলে রাজপথে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বা অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। (খ) রাজনৈতিক শূন্যতার অবসান: সরকারি দলের নেতারা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে বিরোধী শিবিরের যে ক্ষোভ বা রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা যেত, নির্বাচিত সরকার আসায় তা এখন আর নেই। জনগণের একটি বড় অংশের ম্যান্ডেট সরকারের পক্ষে রয়েছে। (গ) পর্দার আড়ালের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ: তবে দৃশ্যমান এই আত্মবিশ্বাসের ভেতরেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরণের পারস্পরিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও অবিশ্বাস চলছে। অতি সম্প্রতি ঢাকার শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে পর্দার আড়ালে নিষিদ্ধ বা সাবেক ফ্যাসিবাদী শক্তির সাথে সমঝোতা কিংবা এককভাবে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অভিযোগ তুলছেন। একে অপরকে রাজপথে প্রতিহত করার রাজনৈতিক হুংকার চললেও, তারা কেউই মনে করছেন না যে দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলার কোনো বড় বিপর্যয় ঘটবে। তাদের মূল লক্ষ্য ডিসেম্বরের সম্ভাব্য জমায়েতগুলোকে ঘিরে নিজেদের শক্তির মহড়া দেওয়া।চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে সবচেয়ে বড় কৌতুহল ও গুঞ্জন তৈরি করছে সাবেক স্বৈরাচারী শাসক দল ও বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বক্তব্য ও প্রচারণা। দলটির তৃণমূল, পলাতক নেতাকর্মী এবং বিশেষ করে প্রবাসী একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করছে যে, ডিসেম্বরেই তাদের নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। আন্তর্জাতিক কিছু সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনাও চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে ফেরার একটি সম্ভাব্য সময়সীমার কথা ঘোষণা করেছিলেন। দলটির নেতাকর্মীরা কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে বিশ্বাস ছড়াচ্ছেন যে, তিনি ‘বীরের বেশে’ দেশে ফিরে সরাসরি দলের হাল ধরবেন এবং রাজনীতির চিত্র বদলে দেবেন। তবে নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং আইনি উপদেষ্টারা এই দাবির পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি দেখছেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) এবং দেশের বিভিন্ন আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধসহ একাধিক গুরুতর মামলায় সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ভারত থেকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের (Extradition) আইনি প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। আইনি ও বাস্তব প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি যদি কোনোভাবে দেশের সীমান্তে বা বিমানবন্দরে উপস্থিত হন, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করে সরাসরি আইনি হেফাজতে বা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। রাজপথে তাকে ‘বীরের বেশে’ স্বাগত জানানোর মতো সাংগঠনিক শক্তি বা জনসমর্থন বর্তমানে দলটির নেই বলে অনেকেই মনে করেন। ফলে, এই প্রচারণাটি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হতে পারে। যার উদ্দেশ্য, ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের ধরে রাখা এবং বর্তমান সরকারের ওপর একটি কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি করা।সবচেয়ে সংবেদনশীল, চিন্তার খোরাক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য বিপদের সংকেত জোগাচ্ছে এদেশের সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক, তৈরি পোশাক শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই বিশাল শ্রেণীর মানুষ রাজনীতির তাত্ত্বিক সংস্কার বা গণতন্ত্রের সংজ্ঞার চেয়ে প্রতিদিনের বাজারের থলে, পকেটের টাকা আর ব্যবসার লাভ-লোকসান দিয়ে দেশের পরিস্থিতি বিচার করেন। কৃষিপ্রধান এই দেশে ডিসেম্বরের রবিশস্য ও বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ডিলারদের কারসাজি এবং আমদানির ধীরগতির কারণে প্রান্তিক কৃষকেরা চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন- যা আগামি দিনের খাদ্য সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অতি সম্প্রতি জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ এবং শিল্প উৎপাদন ব্যয় এক লাফে অনেক বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। মূল্যস্ফীতির এই আগুনে পুড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কেনাবেচায় ভয়াবহ মন্দা চলছে- কারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা একদম কমে গেছে। পোশাক খাতের ধারাবাহিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক অর্ডারের ঘাটতির কারণে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও জনমত বিশ্লেষণ করলে তাদের গভীর অসন্তোষের কয়েকটি মূল কারণ ফুটে ওঠে: (১) চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের (চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ) উচ্চমূল্য ক্ষুদ্র আয়ের মানুষের জীবনকে ওষ্ঠাগত করে তুলেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা তাদের সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কেনাবেচায় ভয়াবহ মন্দা চলছে। (২) গার্মেন্টস খাতের ধারাবাহিক সংকট: বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (RMG) খাতে গত কয়েক মাস ধরে চলা অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষ এবং আন্তর্জাতিক অর্ডারের ঘাটতির কারণে অনেক মাঝারি ও ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা লে-অফ ঘোষণা করা হচ্ছে। এর ফলে তৈরি পোশাক শ্রমিক এবং এর ওপর নির্ভরশীল ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবসাগুলো মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে। (৩) বিদেশি সহায়তার ধীরগতি: সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং অর্থনৈতিক মহলে একটি বড় হতাশা রয়েছে- নতুন সরকার আসার পরও দেশ আশানুরূপ বড় ধরণের বিদেশি আর্থিক সহায়তা, বেলআউট প্যাকেজ বা নতুন কোনো বড় বিনিয়োগ টানতে পারছে না। রেমিট্যান্সের প্রবাহ ইতিবাচক হলেও তা এই বিশাল অর্থনৈতিক গর্ত পূরণের জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না। (৪) বিকল্প হিসেবে ‘সেনা শাসনের’ গুঞ্জন: রাজনীতি নিয়ে চরম হতাশ এবং অর্থনৈতিকভাবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন প্রকাশ্যেই বলতে শুরু করেছে ‘দেশের অবস্থা ভালো নেই’। তারা আশঙ্কা করছেন, এই অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা যদি ডিসেম্বরের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সহিংসতায় রূপ নেয়, তবে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং জানমালের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ বা শাসনভার গ্রহণ করার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।সাধারণ মানুষের এই সেনা শাসনের গুঞ্জন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ বা সামরিক প্রীতির কারণে নয়; বরং এটি চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা থেকে উদ্ভূত একটি মনস্তাত্ত্বিক বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা গেছে- যখনই বেসামরিক রাজনীতি সাধারণ মানুষের মৌলিক অর্থনৈতিক ও জানমালের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খায়, তখনই অবদমিত জনমনে অরাজনৈতিক বা সামরিক ব্যবস্থার প্রতি একটি সাময়িক মোহ তৈরি হয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমান ভূ-রাজনীতি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যের শর্ত এবং খোদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের কারণে সরাসরি সামরিক শাসনের বা সামরিক অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। তবে জনমানসের এই গুঞ্জন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি মারাত্মক রেড অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তাও বটে। সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সূচক এবং মাঠপর্যায়ের সামাজিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগামি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে কোনো আকস্মিক ‘শাসন পরিবর্তন’ বা ‘মহাবিপর্যয়ের’ কোনো বাস্তব পূর্বাভাসের আশঙ্কা নেই। তবে রাজপথের রাজনীতিতে কিছুটা উত্তাপ ছড়াবে। নিষিদ্ধ বা কোণঠাসা দলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে এক ধরণের কৃত্রিম আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। তবে সেটিকে প্রতিহত করার মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর রয়েছে এবং প্রশাসনিকভাবে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকবে- এটাই বাস্তবতা।ডিসেম্বরের আসল যুদ্ধটি রাজপথে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে নয়, বরং সরকারের আসল যুদ্ধ নিজের ‘অর্থনীতি’র সাথে। সরকার যদি দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস, গার্মেন্টস খাতের অসন্তোষ স্থায়ীভাবে দূরীকরণ এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমন করতে না পারে- তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে জনমানসের এই অর্থনৈতিক হাহাকারই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে। পরিশেষে বলা যায়, ডিসেম্বরে বাংলাদেশের আকাশে গুজবের মেঘ জমলেও কোনো বড় রাজনৈতিক ঝড়ের আশঙ্কা কম। তবে টেকসই স্থিতিশীলতার জন্য সরকারকে রাজপথ পাহারার চেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেই রাষ্ট্রীয় শক্তির শতভাগ মনোযোগ দিতে হবে। অন্যথায়, রাজনীতির মোড়ক পাল্টেও সাধারণ মানুষের ভাগ্য না পাল্টালে, জনঅসন্তোষ যেকোনো সময় নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

৩ ঘণ্টা আগে

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন।পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন-জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০এপ্রিল): কোনো ধরনের অলসতা ও দীর্ঘসূত্রিতাকে প্রশ্রয় দেবেন না। এ সপ্তাহে ব্যবসায়িক ও অংশীদারি কাজে সফলতা পাবেন। সৃজনশীল কাজে যুক্তদের জন্য ভালো সময়। কোনো আত্মীয়-স্বজনের অসুস্থজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকুন। সামগ্রিক বিষয়ে সফলতার জন্য ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধি করুন। প্রতিটি কাজকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করুন।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): খামখেয়ালিপনার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। জীবন সম্পর্কে নতুন ধ্যান ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা করুন। ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায় যুক্তদের জন্য অনুকূল সময়। দৈনন্দিন জীবনে ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রবাসীদের কাজের জায়গায় সাফল্য লাভের সম্ভাবনা আছে। শারীরিকভাবে চাঙা থাকবেন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। রোমান্স শুভ। সহকর্মীর সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখুন।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): অস্থির ও অতি উৎসাহী লোকজনের কাছ থেকে দূরে থাকুন। শারীরিক ও মানসিক দিকে আনন্দে থাকার চেষ্টা করুন। ব্যবসায়িক কাজে সফলতা পাবেন। আর্থিক বিষয়ে সফলতা আসার সম্ভবনা আছে। পারিবারিক সম্পর্ক ভালো যাবে। বেসরকারি চাকরিজীবীরা কর্মস্থলে ভালো সংবাদ পেতে পারেন। মানসিক প্রশান্তির জন্য বিনোদনমূলক কাজে সময় কাটান।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): মনোযোগ ও ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি কাজ করার চেষ্টা করুন। স্পষ্টবাদিতার জন্য ভুল বোঝাবুঝির পরিবেশ তৈরি হতে পারে, সেদিকে বিশেষ সচেতন হোন। পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন ভালো যাবে। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একটু সময় নিন। অর্থ বিনিয়োগে সতর্ক থাকুন। প্রতিটি কর্ম প্রচেষ্টায় আন্তরিক থাকার চেষ্টা করুন।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): পরিচিত পরিমণ্ডলে যোগাযোগ বাড়বে। প্রতিটি কাজ পরিকল্পনা ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিয়ে এগিয়ে চললে আপনি সফলতা পাবেন। অস্থিরতা, হতাশাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আশাবাদী মনোভাবকে আরো উজ্জীবিত করুন। পারিবারের সদস্যদের প্রতি মনোযোগী হোন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। রোমান্স শুভ।.কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): কল্পনা ও আবেগ নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করুন। সিদ্ধান্তহীনতার জন্য সাফল্য লাভে বঞ্চিত হতে পারেন। পরিবর্তনশীল মানসিকতা ও অলসতা পরিহার করুন। শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য কিছুক্ষণ নীরবে ধ্যান করুন। ব্যবসায়িক লেনদেনে সফলতা পাবেন। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন। বৈদেশিক সূত্রে লাভবান হতে পারেন।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ আপনাকে অবসন্ন করতে পারে। আপনার পেশায় আগ্রহী নয়, এমন ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলুন। জীবনসঙ্গী/প্রিয়জনের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে তুলার চেষ্টা করুন। পারিবারিক জীবনে সমালোচনা ও খুঁতখুঁতে মানসিকতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কর্মজীবনে সফলতা পাবেন। শারীরিক বিষয় নিয়ে যথেষ্ট সচেতন থাকার চেষ্টা করুন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): আপনার কর্মউদ্যম ও কর্মস্পৃহা বাড়বে। কাজে ও পরিকল্পনায় সফলতা পাবেন। তবে আপনার সেন্টিমেন্ট ও খামখেয়ালিপনা পারিবারিক জীবনের শান্তির অন্তরায় হতে পারে। আপনার রোমান্টিকতার জন্য বিপরীত লিঙ্গ আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে। তবে আপনাকে প্রতিটি বিষয়ে সহনশীল ও কুশলী হতে হবে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): সৃজনশীল কাজে সফলতা পাবেন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। প্রিয়জনের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আন্তরিকতা বাজায় থাকবে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত যোগাযোগ শুভ। দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি পাবেন। পরিবার পরিজনের কাছে আপনার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। নিজেকে সমৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার চেষ্টা করুন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্রয় দেবেন না।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): সবদিক থেকে আপনার যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সফলতা আসার সম্ভবনা আছে। পারিবারিক জীবনে কোনো সুখবর পেতে পারেন। রোমান্স শুভ। মানসিকভাবে সতেজ থাকবেন। নেতিবাচক পরিবেশ ও লোকদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): পারিবারিক সম্পর্ক ভালো যাবে। প্রিয়জনের সঙ্গে আন্তরিক ও নিবিড় সম্পর্ক থাকবে। বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকা উচিত। নিজের উত্তেজনা ও অস্থিরতাকে প্রশমিত করার চেষ্টা করুন। শারীরিক বিষয়ে সতর্ক থাকার চেষ্টা করুন। যানবাহন চলাচলে সাবধান থাকুন। বিদেশ থেকে ভালো খবর পেতে পারেন। ব্যবসায়ীদের আয় রোজগার বাড়বে।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): ক্যারিয়ার সম্পর্কিত বিষয়ে কোনো সুখবর পেতে পারেন। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে চমৎকার সময় কাটবে। পেশাগত কাজে সফলতা ও সুনাম বৃদ্ধি পাবে। শারীরিক বিষয়ে অবহেলা করবেন না। আপনার পরিচিত মহলে যোগাযোগ বাড়বে। বিনিয়োগের জন্য ভালো সময়। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন।

২১ ঘণ্টা আগে
এ সপ্তাহের রাশিফল

দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

দৃষ্টি নিউজ:বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের দাবি, ঘটনার রাতে কিছু লোক ধাওয়া দিলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। তবে এ দাবি বিশ্বাস করছেন না তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। তার মতে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন দ্বীপ। গতকাল রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠ পরিদর্শন করছে পিবিআই। সেখানে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ বলেন, ‘দূর থেকে আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। ভাই (তাহসিফ) দৌড় দেন। আমি তখন পিলারের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং আশা করতে থাকি দুজন ইউনিফর্ম পরা লোক আমাকে দেখতে না পায়। আমি দৌড় দেইনি, হেঁটে হেঁটে আসি।’দ্বীপের বরাতে পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দ্বীপ তুরাগ নদের পাশের মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করে। তখন দ্বীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এখনো তার (দ্বীপের) বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছি না। মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দ্বীপের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতেই তদন্ত চলছে। তাহসিফ সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। রহস্য উদ্ঘাটন হলে বিস্তারিত জানানো হবে।তবে দ্বীপের দেওয়া তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘না না, এ ধরনের কিছু হতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।মাজারসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের মালিক জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কে পড়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলটি দেখছি। কিন্তু এটা নেয়নি। আমরা ভেবেছি কেউ হয়তো রেখে গেছে। আজ সকালে পুলিশ একটি ভ্যানে করে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে তারা আবার নিয়ে আসে।’পিবিআইয়ের আরেক পুলিশ সুপার জানান, দ্বীপের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাহসিফও বাসা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন।গত মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। সেদিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর ফেরেননি।পরদিন বুধবার(২৮ অক্টোবর) বিকালে উত্তরখান থানা এলাকার রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দ্বীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

৩০ অক্টোবর ২০২৬
দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন-জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল): ইতিবাচক দৃষ্টিতে নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন। সচেতনভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন।আয়ের নতুন শুভ যোগ লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যার্থীদের আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ার জন্য আরো মনোযোগী হওয়া উচিত।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): কথাবর্তায় কৌশলী হোন। শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। কারো কাছ থেকে আর্থিক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দাম্পত্য জীবন ভালো যাবে, তবে মনমেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পেশাগত কাজে যথেষ্ট ব্যস্ততা বাড়বে। শারীরিক বিষয় নিয়ে যত্নশীল হোন।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মনের প্রশান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করুন। শারীরিক বিষয়ে সাবধানে থাকতে হবে। প্রেমের দিক থেকে কারো ক্ষেত্রে নতুন সমস্যার সম্ভাবনা আছে। পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): এ সপ্তাহে আপনার যথেষ্ট ব্যস্ততা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত উত্তেজিত অবস্থায় নেওয়া ঠিক হবে না। ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। লেনদেনে আরো সতর্ক হওয়া উচিত। শারীরিক বিষয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): আর্থিক বিনিয়োগে সচেতনতা প্রয়োজন। কারো ক্ষেত্রে নতুন প্রেমের সম্ভাবনা আছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন যোগাযোগ বাড়বে। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): সবধরনের পরিস্থিতিতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখুন। প্রেমের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। শরীরের প্রতি আরো যত্নশীল হতে হবে। পিতা-মাতার স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। সামাজিক কাজে সম্মান লাভ করবেন। দাম্পত্য জীবন আগের তুলনায় অনেক ভালো যাবে।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): মানসিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পারিবারিক বিষয় শুভ ও স্বাভাবিক যাবে। আর্থিক লেনদেনে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ কোনো কাজে ব্যয় বাড়বে। পেশাগত কাজে সহকর্মীর সঙ্গে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রোমান্টিক সম্পর্কে আনন্দ অনুভব করবেন।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): সামাজিক কাজে সুনাম পাবেন। রাগ, জেদ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কোনো কারণে মানসিক অস্থিরতা, চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাবে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মনোমালিন্য বাড়তে পারে। প্রেমের ক্ষেত্রে সুখ-শান্তি, মতবিরোধ সবই চলবে এ সপ্তাহে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): শারীরিক সুস্থতার মনোযোগী হোন। এ সপ্তাহ আপনার যথেষ্ট ভালো যাবে। দূর থেকে শুভ সংবাদ পাবেন। ঘনিষ্ঠ কারো আচরণে মানসিক কষ্ট পেতে পারেন। প্রেমের জন্য এ সপ্তাহটি উঞ্চ। তবে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। পেশাগত কাজে মতবিরোধ থাকবে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। অপ্রিয় কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। এ সপ্তাহ আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীত লিঙ্গের কারো সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে। স্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে আরো যত্নশীল হোন। পেশাগত কাজে আরো মনোযোগী হলে সফলতা পাবেন।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): কর্মক্ষেত্রে সফলতা পাবেন। পুরোনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। মানসিক শক্তির পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বৃদ্ধি করুন। প্রিয়জনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক ভালো যাবে। ভ্রমণ শুভ।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): প্রিয়জনের সঙ্গে মান-অভিমান হতে পারে। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। পুরোনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে। শারীরিক বিষয়ে সাবধানে থাকতে হবে। ভ্রমণ শুভ। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

২৪ অক্টোবর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল

ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিক উৎপাদন যাচ্ছে

দৃষ্টি ডেস্ক:প্রায় ২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের পর এবার বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটি কার্পাস তুলা শনাক্তকরণ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের পর তা বাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি খাতে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মসলিন দেখে দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।একসময় বাংলার রাজদরবার ও অভিজাতদের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত ঢাকাই মসলিন ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। সূক্ষ্ম বুনন ও মিহি সুতার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক কদর ছিল।নানা কারণে হারিয়ে যাওয়া এই শিল্প ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগে ২০১৩ সালে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক মো. আইয়ুব আলী বলেন, পাঠ্যবইয়ে পড়া বাঙালির ঐতিহ্য এখন নিজেরা তৈরি করতে পারছি। শুধু মসলিন তৈরি নয়, এর সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিও আমাদের হাতে এসেছে।তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের উদ্যোক্তা ও ক্রেতারা মসলিনে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফ্রান্সে মুঘল ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন, এমন কয়েকজনও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ গজ মসলিন নেওয়ার অনুরোধ এসেছে।তিনি বলেন, দেশে বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি চেয়ে ১৫ জন উদ্যোক্তা আবেদন করেছেন। উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের নিয়ম ও পদ্ধতিও নথিভুক্ত করা হয়েছে।আংটির মধ্যদিয়ে মসলিন শাড়ির অতিক্রমবিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে মসলিন দেখে দেশীয় শৌখিন ও সচ্ছল ক্রেতারাও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এখনই প্রকল্পের তৈরি কাপড় বিক্রির পরিকল্পনা নেই। বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা গড়ে উঠলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ঢাকাই মসলিন কাপড় বাজারে ছাড়া হবে।প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২৭টি শাড়ি, ২০টি স্কার্ফ ও রুমালের মতো ১১টি নমুনা কাপড় তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে তৈরি হয় আরও ৩১টি শাড়ি ও ১৪টি স্কার্ফ। এসব নমুনা বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে।কীভাবে ফিরল ঢাকাই মসলিনপুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ঐতিহাসিক নথি, গবেষণাপত্র ও জাদুঘরে সংরক্ষিত মসলিনের নমুনা পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্পের মুখ্য গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মঞ্জুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, জেমস টেলরের ‘এ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা’, অধ্যাপক আবদুল করিমের ‘ঢাকাই মসলিন’ এবং সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াসের ‘স্পিসিস প্ল্যান্টারাম’ বই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঐতিহাসিক কাপড়ের নমুনা পরীক্ষায় যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের সহায়তা নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা ৩৯টি তুলার নমুনার মধ্যে ছয়টি জাত শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষায় গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকার তুলার সঙ্গে ঐতিহাসিক মসলিনে ব্যবহৃত ফুটি কার্পাস তুলার ডিএনএর প্রায় ৯৬ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।ঐতিহাসিক নথি ও জেমস টেলরের বিবরণ পর্যালোচনা করে কাপাসিয়ায় ফুটি কার্পাস তুলা পাওয়ার সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়। কাপাসিয়ার পাশাপাশি তিতাবাদি নামের একটি স্থান নিয়েও অনুসন্ধান হয়। এসব গবেষণার ভিত্তিতে তুলা চাষ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।সাধারণ মসলিন থেকে ঢাকাই মসলিন কেনো আলাদাঢাকাই মসলিনের বিশেষত্ব ছিল নির্দিষ্ট জাতের তুলা, হাতে কাটা সূক্ষ্ম সুতা, দক্ষ কারিগর ও বিশেষ ধরনের তাঁতের সমন্বয়। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল, বিশেষ করে সোনারগাঁ, কাপাসিয়া এবং শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর অববাহিকার উর্বর পলল মাটিতে ফুটি কার্পাস তুলা জন্মাত।অতিসূক্ষ্ম সুতা কাটতে আর্দ্র পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শীতলক্ষ্যার তীরবর্তী অঞ্চলে সকাল বা সন্ধ্যায় সুতা কাটার কাজ হতো। শুষ্ক বাতাসে সূক্ষ্ম সুতা ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় পরিবেশের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেত। দক্ষ নারী ও পুরুষ কারিগররা বংশপরম্পরায় অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সুতা তৈরি ও কাপড় বুনতেন।প্রকল্প পরিচালক আইয়ুব আলী জানান, কাপাসিয়ার তুলার সুতায় সিল্কের মতো স্পর্শ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক মসলিনের সূক্ষ্মতা ও বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে ফুটি কার্পাসের জাত শনাক্ত করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।কারিগর তৈরি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরমসলিন তৈরির জন্য ফুটি কার্পাস তুলা, হাতে কাটা সুতা এবং তাঁতে কাপড় বোনা- এই তিনটি বিষয় অপরিহার্য বলে জানান আইয়ুব আলী। তুলার জাত শনাক্ত হওয়ার পর গাজীপুরে তুলা বোর্ডের জমি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে তুলা চাষ করা হয়।কারিগর তৈরির জন্য কুমিল্লার চান্দিনায় খাদি কাপড় তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪০০ জনের মধ্য থেকে বাছাই করে ছয়জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হাতে সুতা কাটার চরকা তৈরি থেকে শুরু করে সুতা প্রস্তুত, নাটাই করা, তাঁতে সুতা সাজানো ও কাপড় বোনার বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।আইয়ুব আলী জানান, প্রশিক্ষিত কারিগরদের পাশাপাশি মসলিন হাউসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৩০ জন তাঁতি ও কারিগরকেও উৎপাদনে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।অধ্যাপক মঞ্জুর হোসেন বলেন, বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য ফুটি কার্পাস তুলার জোগান বাড়াতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তুলা চাষের প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং চুক্তিভিত্তিক তুলা উৎপাদনের মাধ্যমে চাষি ও উৎপাদকদের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।কর্মসংস্থান ও বাজারের সম্ভাবনাবাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি খাতে মসলিন উৎপাদন শুরু হলে তুলা চাষ, সুতা কাটা, কাপড় বোনা, মান নিয়ন্ত্রণ ও বিপণনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গ্রামীণ পর্যায়ে তুলাচাষি ও কারিগরদের যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের পুনরুদ্ধার যুক্ত হলে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।তবে উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত ফুটি কার্পাস তুলা, দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে অতিসূক্ষ্ম মসলিন তৈরি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এর দাম সাধারণ কাপড়ের তুলনায় বেশি হতে পারে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে এর দাম কতটা থাকবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারজাতকরণ কৌশলের ওপর। তবে ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে সংগ্রহের জন্যও মসলিনের চাহিদা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।পুনরুদ্ধার করা প্রযুক্তি, দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ এবং ১৫ উদ্যোক্তার আবেদনে বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু ও দীর্ঘমেয়াদে তা সম্প্রসারণের সাফল্য নির্ভর করবে পর্যাপ্ত তুলা, দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ের ওপর।তথ্যসূত্র: সংগৃহীত

২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিক উৎপাদন যাচ্ছে

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
দুপাশে পাকা সড়ক, মাঝখানে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

দুপাশে পাকা সড়ক, মাঝখানে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল- এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত ‘পরেশ সাধুর দহ’র ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলার নান্দুরিয়া চকবাজার ও পাথরাইলের টেঘুরি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই দহটি এখন ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো হওয়ায় প্রতিদিন চরম বিপাকে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। উপজেলার গাদতলা-টেগুরি সড়কের আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল- এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত পরেশ সাধুর দহ’র দুপাশেই রয়েছে চমৎকার পাকা সড়ক। কিন্তু মাঝখানে দহের ওপর কোনো সেতু না থাকায় এই পাকা সড়ক দিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুপাশের পাকা সড়কটি এখন স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছে না। যানবাহন না চলায় সড়কটি তার কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।স্থানীয়রা জানায়, এই অঞ্চলে প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সেতুর অভাবে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে বা জেলা সদরে নিয়ে যেতে পারেন না। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া এলাকায় কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হলে এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসাসেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় ভুক্তভোগীদের প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।এলাকাবাসীর বড় অভিযোগ, বর্তমানে এই অঞ্চলের মানুষকে টাঙ্গাইল জেলা সদরে যেতে হলে বিকল্প সড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াত ও পরিবহন খরচও বাড়ছে কয়েক গুণ। অথচ পরেশ সাধুর দহের ওপর মাত্র একটি সেতু নির্মাণ করা হলে জেলা সদরের দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় দুই-ই এক ধাক্কায় অর্ধেকে নেমে আসত। বাঁচত মানুষের শ্রম, সময় ও অর্থ।নান্দুরিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন আগে গাদতলা-টেগুরি সড়কটি পাকা করা হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের দুঃখ ঘুচবে। কিন্তু পরেশ সাধুর দহে কোনো সেতু না থাকায় এ সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। একান্ত প্রয়োজনে আমাদের মতো কিছু মানুষ শুধু পায়ে হেঁটে এই রাস্তায় চলাচল করে। পণ্য আনা-নেওয়া বা জরুরি যাতায়াতের কোনো সুযোগ এখানে নেই। এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে আমরা দ্রুত এখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।জাঙ্গালিয়া গ্রামের সাগর মিয়া, মুকুল হোসেন, আবেদ আলী সহ অনেকেই জানান, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে এই জায়গায় সেতু নির্মাণের বড় বড় গালভরা আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট চলে গেলে কাজের কাজ কিছুই হয় না- সবাই সব ভুলে যান। তাদেরকে অনেক কষ্ট করে পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। তাদের এই কষ্ট ও কান্না দেখার মতো যেন কেউ নেই। এসব এলাকার অবহেলিত জনগণের ভোগান্তি লাঘবে আর কোনো ফাঁকা আশ্বাস নয়, তারা অবিলম্বে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ ও সেতু নির্মাণ দেখতে চান।তিন ইউনিয়নের হাজারো ভুক্তভোগী মানুষের এখন একটাই দাবি- জনস্বার্থে, এলাকার অর্থনৈতিক স্বার্থে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে পরেশ সাধুর দহের ওপর আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত একটি স্থায়ী ও মজবুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী জানান, তিনি বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হয়েছেন এবং এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওইস্থানে সেতু নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগ্রহণ ও বাস্তবায়নে এবং একটি সেতু অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০৪ নভেম্বর ২০২৬

গোপালপুরে নিহত রাকিবের বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের পরিবর্তে কুলখানি অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অপহরণ করে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে জীবিত দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের শিকার সেই মেধাবী ছাত্র রাকিবুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে ছেলের এমন চোখধাঁধানো সাফল্যে বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের পরিবর্তে আয়োজন করা হয়েছে কুলখানি। রোববার(১ নভেম্বর) এতিম শিশুদের খাওয়ানো ও রাকিবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেছেন তার বন্ধু ও স্বজনরা।জানা যায়, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে আনন্দের বদলে কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের খাদেমুল ইসলামের পরিবার। ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেধাবী সন্তান রাকিবুল ইসলাম পেয়েছেন জিপিএ-৫। কিন্তু এই সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আর কোনো দিন বাড়ি ফিরবেন না তিনি। ফলাফলের সংবাদ পরিবারকে গর্বিত করলেও সেই গর্বের সঙ্গে মিশে আছে অসহনীয় কষ্ট। যে বাড়িতে আজ আনন্দের উৎসব হওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর হারানোর বেদনা।সরেজমিনে নিহত রাকিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রাকিব যে ঘরে লেখাপড়া করত, সেই বই-খাতা ও টেবিল সাজিয়ে রেখেছেন তার মা জহুরা বেগম। সাথে রেখে দিয়েছেন রাকিবের ছবি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কার পাওয়া সম্মাননা স্মারক। এই স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরেই এখন বেঁচে থাকার লড়াই করছে তার পরিবার।ছেলের অকাল মৃতত্যু ও এমন অভাবনীয় ফলাফলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা খাদেমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের অনেক স্বপ্ন ছিল, সে ব্যারিস্টার হবে। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। স্কুলজীবনে ছয়টি বৃত্তি পেয়েছে। সরকারের কাছে আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। আসামিদের ফাঁসি দাবি করছি।’রাকিবের মা জহুরা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা মেরে ফেলেছে, আমি তাদের বিচার চাই। অনেক কষ্ট করে তাকে মানুষ করছিলাম। স্কুলে সব সময় প্রথম হতো। অনেক আশা নিয়ে ঢাকায় ভর্তির প্রস্তুতি নিতে গিয়েছিল। আমার ছেলের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করে দিয়েছে তারা।’একইভাবে ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে রাকিবের চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাকিব আজ বেঁচে থাকলে আমাদের মিষ্টি খাওয়াত। আমি চাই, আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আজ ভাতিজার জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার পরিবর্তে কুলখানির আয়োজন করেছি। এতিম শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি, যেন তারা আমার ভাতিজার জন্য দোয়া করে।’ভাইকে হারিয়ে দিশেহারা বড় ভাই জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আর আমার ভাই একসঙ্গে ঘুমাতাম, লেখাপড়া করতাম। আমার ভাইয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল, বড় হয়ে ব্যারিস্টার হবে। আজ ভাইয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও মিষ্টি খাওয়ানোর মতো অবস্থা আমাদের নেই। তাই এতিম শিশুদের খাবারের আয়োজন করেছি, যেন তারা আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করে।’পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাকিবকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও তাকে আর ফিরে পায়নি। পরে নীলফামারীর ডিমলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

০১ নভেম্বর ২০২৬
গোপালপুরে নিহত রাকিবের বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের পরিবর্তে কুলখানি অনুষ্ঠিত

দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

দৃষ্টি নিউজ:বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের দাবি, ঘটনার রাতে কিছু লোক ধাওয়া দিলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। তবে এ দাবি বিশ্বাস করছেন না তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। তার মতে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন দ্বীপ। গতকাল রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠ পরিদর্শন করছে পিবিআই। সেখানে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ বলেন, ‘দূর থেকে আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। ভাই (তাহসিফ) দৌড় দেন। আমি তখন পিলারের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং আশা করতে থাকি দুজন ইউনিফর্ম পরা লোক আমাকে দেখতে না পায়। আমি দৌড় দেইনি, হেঁটে হেঁটে আসি।’দ্বীপের বরাতে পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দ্বীপ তুরাগ নদের পাশের মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করে। তখন দ্বীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এখনো তার (দ্বীপের) বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছি না। মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দ্বীপের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতেই তদন্ত চলছে। তাহসিফ সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। রহস্য উদ্ঘাটন হলে বিস্তারিত জানানো হবে।তবে দ্বীপের দেওয়া তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘না না, এ ধরনের কিছু হতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।মাজারসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের মালিক জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কে পড়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলটি দেখছি। কিন্তু এটা নেয়নি। আমরা ভেবেছি কেউ হয়তো রেখে গেছে। আজ সকালে পুলিশ একটি ভ্যানে করে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে তারা আবার নিয়ে আসে।’পিবিআইয়ের আরেক পুলিশ সুপার জানান, দ্বীপের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাহসিফও বাসা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন।গত মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। সেদিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর ফেরেননি।পরদিন বুধবার(২৮ অক্টোবর) বিকালে উত্তরখান থানা এলাকার রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দ্বীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

৩০ অক্টোবর ২০২৬
দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দৃষ্টি নিউজ:পাবনা সদর উপজেলায় বৃষ্টির সময় বিলের একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল কয়েকজন। এ সময় বজ্রপাতে আশ্রয় নেওয়া ছয়জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার গোবিন্দপুরের সোনাপাতি বিলে এ ঘটনা ঘটে বলে মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু জানিয়েছেন।তিনি বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সময় তারা একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘরটি ছিল পলিথিনের। সেখানেই বজ্রপাত ঘটে। যারা নিহত হয়েছেন, তারা সবাই কিশোর ও তরুণ।চেয়ারম্যান বলেন, বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা গেছেন। আহত তিনজনকে আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

৩০ অক্টোবর ২০২৬
বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

লাইনচ্যুতির ছয় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগি বৃহস্পতিবার(২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লাইনচ্যুত হওয়ার ছয় ঘণ্টা পর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মহেড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় লাইনচ্যুতির কারণে রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারীর চিলাহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া রেল স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের কোনো বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। তবে বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার সময় রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে পুরো লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে। হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেলস্টেশনগুলোতে আটকা পড়া হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার হন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হওয়ায় তাদের কষ্ট আরও তীব্র রূপ নেয়।দুর্ঘটনার পর লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের জন্য দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী ট্রেন পাঠানো হয়। পরে ঈশ্বরদী থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বগি উদ্ধার ও রেললাইন মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।মহেড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রকিবুল হাসান জানান, বর্তমানে ব্রডগেজ রেললাইন চালু আছে। তবে মিটার গেজ এখনও বন্ধ রয়েছে। এতে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক কিলোমিটার এলাকায় ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করছে।

২৯ অক্টোবর ২০২৬
লাইনচ্যুতির ছয় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমনিকে নোটিশ
বিনোদন

নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমনিকে নোটিশ

দৃষ্টি নিউজ:জাতীয় সংগীত অবমাননা ও সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগে ক্ষমা চাইতে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে সব রকম অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার। রোববার (৮ নভেম্বর) শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঠিকানায় এ নোটিশ পাঠানো হয়।নোটিশে আগামি সাত দিনের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত ঘটনার জন্য লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমনিকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সব ধরনের অশ্লীল কথা বা সংলাপ, হুমকি, অশ্লীল অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি এবং নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নোটিশে আরও বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র, ভিডিও, অডিও-ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনো মাধ্যমে ধারণ ও প্রদর্শনযোগ্য এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যার শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার(৫ নভেম্বর) চিত্রনায়িকা পরীমনি ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সেই সঙ্গে, পরীমনির সঙ্গে আসা তার নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় আদালতে আসা এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায় বলে জানা গেছে। এদিন পরীমনির আদালতে আসাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।আগের দিন আদালত পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। পরে আদালতে হাজির হয়ে ৫০০ টাকা মুচলেকা দিয়ে তিনি জামিন পান।

২ ঘণ্টা আগে

টাঙ্গাইলে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকবর্তিকা, আধ্যাত্মিক সাধক ও বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এদিন বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। লালনভক্ত ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘জনসেবা চত্বরে’ এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক আলোচনা সভা ও লালনগীতির আসর অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. সেলিম মিয়া। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান তুহীন, টাঙ্গাইল ল’ কলেজের অধ্যক্ষ খান মোহাম্মদ খালেদ ও স্থানীয় লালনভক্ত, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন, শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দা সেলিনা আক্তার ও জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুন হোসাইন।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি বলেন, ‘লালন সাঁইজির দর্শন কেবল গান বা সুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের আত্মিক মুক্তির পথ দেখায়। জাত-পাত ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে তিনি যে মানবতার বাণী প্রচার করে গেছেন- তা বর্তমান সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে অত্যন্ত জরুরি।’সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, ‘লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে জেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একাডেমি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি কেবল একজন সাধকই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন বাঙালি সংস্কৃতির এক আলোকবর্তিকা।’আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী ও আমন্ত্রিত লালনভক্ত বাউল শিল্পীরা একতারা-দোতারার সুরে লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক ও দেহতত্ত্বের গান পরিবেশন করেন।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক লালন অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
টাঙ্গাইলে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত

ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

দৃষ্টি বিনোদন:আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও পুরস্কৃত হলো বাংলাদেশের সিনেমা। ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’। ২০০৫ সাল থেকে ইতালির লুকা শহরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই উৎসব। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চার অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের ২২তম আসর। শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম।এবারের লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে ‘মাস্টার’ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি সিনেমা প্রতিযোগিতা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’, ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি। এসব সিনেমাকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’।উৎসবের জুরিবোর্ড তাদের ঘোষণায় ‘মাস্টার’ সিনেমার প্রশংসা করে জানিয়েছে, একটি স্থানীয় গল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বর্তমান সংকটকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।জুরিদের মতে, বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন একজন শিক্ষকের গল্প দেখতে পান, যিনি ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের বদলে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে দৌড়ানো এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফাদে পড়ে তার সেই নীতি কীভাবে ফিকে হয়ে যায়, সেটিই সাবলীলভাবে দেখানো হয়েছে ‘মাস্টার’ সিনেমায়।রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ও প্রযোজিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ নিয়ে আসা একজন আদর্শবান শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতা ও আপসের যাতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, তা নিয়েই এগিয়েছে ‘মাস্টার’-এর গল্প। আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ, তাসনুভা তামান্না প্রমুখ।লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা সুমিত। তিনি বলেন, ‘লুকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই অর্জন মাস্টার সিনেমাটির সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে এ বছর বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। এতগুলো দুর্দান্ত কাজের মাঝে আমার টিমের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করার জন্য বিচারকমণ্ডলীর কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে সেরা নির্বাচিত হয় ‘মাস্টার’। নির্মাতা সুমিত জানিয়েছেন, সিনেমাটি দেশের দর্শকদের দেখানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পদার্থ বিজ্ঞানের বন্ধনে, প্রাক্তনদের মিলনে- আগামীর পথে একসাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়।এদিন সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের হলরুমে গিয়ে অ্যালামনাই ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সচিব মাসুম বেগ, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক সাব্বির হাসান পল সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। দিনব্যাপী ওই পুনর্মিলনীকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

ভিডিও গ্যালারি