সর্বশেষ
‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায়, বাকিডি যায় না’ বলা সেই পুলিশ চাকরি থেকে বরখাস্ত
জাতীয় ১ ঘণ্টা আগে

‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায়, বাকিডি যায় না’ বলা সেই পুলিশ চাকরি থেকে বরখাস্ত

দৃষ্টি নিউজ:‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এই বক্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার ইকবাল হোসাইনকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে এ শাস্তি দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে।খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ইকবাল হোসাইন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।গণমাধ্যমের হাতে আসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও ইকবাল হোসাইন কোনো জবাব দেননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে অভিযোগ তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। পরে তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশন ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়। এরপর বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে ইকবাল হোসাইনসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড অনুমোদনের প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সুখবর দিল ফেসবুক
জাতীয় ১ ঘণ্টা আগে

সুখবর দিল ফেসবুক

দৃষ্টি নিউজ:ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধের পদ্ধতিতে দেশের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ঋণ বা ডেবিট কার্ডের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। এই সুবিধা এখনো সবার জন্য চালু হয়নি, তবে পরীক্ষামূলকভাবে অনেক ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বিল সফলভাবে পরিশোধ করেছেন।বিভিন্ন ব্যবহারকারীর শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার বিল পরিশোধের অংশে ব্যাংক কার্ডের পাশাপাশি বিকাশের নামও যুক্ত হয়েছে। কয়েকজন ব্যবহারকারী এই পদ্ধতিতে বিল পরিশোধ করতে পেরেছেন বলেও জানা গেছে।বাংলাদেশে ফেসবুকের বিজ্ঞাপনের বিল দিতে আন্তর্জাতিক কার্ড, দ্বৈত মুদ্রা সুবিধা এবং বিভিন্ন ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হতো। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও এই প্রক্রিয়া ছিল ব্যয়বহুল ও জটিল। বিকাশ যুক্ত হলে স্থানীয় মুদ্রায় আরও সহজে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মেটা সাধারণত নতুন বিল পরিশোধ সুবিধা ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। তাই এখনো এটি সব ব্যবহারকারীর কাছে দৃশ্যমান না হলেও পরীক্ষা সফল হলে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মেটার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুবিধা কবে সবার জন্য চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরীক্ষামূলকভাবে এই সুবিধা চালুর উদ্যোগকে বাংলাদেশের ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘দূষণ’ হয়ে উঠছে সম্পদ
জাতীয় ৭ ঘণ্টা আগে

‘দূষণ’ হয়ে উঠছে সম্পদ

:: সৈয়দা বদরুন নেসা ::ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দাঁড়ালে যা দেখা যায় তা শুধু দূষণ নয়, সেখানে আসলে কোটি টাকার কাঁচামালও ভাসছে। প্রতিটি পানির বোতল, প্রতিটি পলিথিন ব্যাগ, প্রতিটি প্লাস্টিকের চেয়ার- শুধু বর্জ্য নয়, এক একটি নতুন শিল্পের ভিত্তি হতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে ‘দূষণকে’ সম্পদে পরিণত করেছে। অথচ বহুমুখী দূষণে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশের এই অপার সুযোগ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।বিষয়টি শুধু পরিবেশ সুরক্ষার নয়, বরং তিনস্তরীয় একটি ব্যবসায়িক মডেল। যেখানে একই প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে একসঙ্গে তিনটি আয়ের উৎস তৈরি করা সম্ভব। প্রথমত, ফার্নিচার হিসেবে বিক্রি করা যাবে। দ্বিতীয়ত, কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করা যাবে। আর তৃতীয়ত সরকারি পরিবেশ প্রণোদনা। এসব মিলিয়ে যে মডেল দাঁড়ায়, তা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক চেয়ার তৈরিতে যতটুকু কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয়, তা কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করলে চেয়ারের দামের অতিরিক্ত ২০-৩০ শতাংশ আয় আসতে পারে।প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে ফার্নিচার তৈরির মূল প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ। সংগ্রহ করা এইচডিপিই (উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন) ও পিপি (পলিপ্রোপিলিন) ধরনের প্লাস্টিক প্রথমে পরিষ্কার করা হয়। তারপর নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলিয়ে মোল্ডে ঢালা হয়। ঠান্ডা হলে বেরিয়ে আসে মজবুত ফার্নিচার, যা কাঠের চেয়ে টেকসই, পানিরোধী এবং পোকামাকড়মুক্ত।এসব পণ্যের বিশেষত্ব হলো এগুলো পুনরায় গলিয়ে নতুন করে ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ এটি সত্যিকারের সার্কুলার ইকোনমি বর্জ্য। যা শেষ হয় না, রবং রূপান্তরিত হয়।বাজারে এই পণ্যগুলোর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি অফিস ও পার্কে এই ধরনের টেকসই ফার্নিচারের জন্য ক্রয় নীতি তৈরি হচ্ছে। ইউরোপে এসব পণ্যের বাজার ইতোমধ্যে বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বিশেষত কম দামের কারণে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অনেক বেশি।দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে কার্বন ক্রেডিটের কথা। যা পরিবেশ রক্ষার আন্তর্জাতিক মুদ্রা। যখন কোনো উদ্যোগ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করে বা কার্বন শোষণ করে, তখন সেই পরিমাণটি একটি ক্রেডিট হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা যায়। প্রতিটি ক্রেডিটের অর্থ হচ্ছে এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয়।প্রশ্ন হচ্ছে, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং এখানে কীভাবে কাজ করছে। মূলত, নতুন প্লাস্টিক তৈরিতে যে কার্বন ডাই-অক্সাইড খরচ হতো, তা রিসাইক্লিং দিয়ে বাঁচানো হচ্ছে। এই ‘বাঁচানো’ কার্বন ডাই-অক্সাইড-ই হলো ক্রেডিটের উৎস। এক টন প্লাস্টিক রিসাইকেল করলে প্রায় ১ দশমিক পাঁচ থেকে দুই টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয় অর্থাৎ সমপরিমাণ ক্রেডিট।কার্বন ক্রেডিট বিক্রির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে স্বীকৃত দুটি সংস্থা হচ্ছে- গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড এবং ভেরা (ভিসিএস-ভেরিফায়েড কার্বন স্ট্যান্ডার্ড)। সংস্থা দুটো প্রকল্প যাচাই করে সার্টিফিকেট দেয়। একবার সার্টিফিকেট পেলে ‘এক্সপ্যানসিভ’, ‘সাউথ পোল’ বা ‘ক্লাইমেট ট্রেডের’ মতো আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে ক্রেডিট বিক্রি করা যায়।অবশ্য, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া বেশ জটিল হলেও অসম্ভব নয়। একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ৬-১২ মাসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। সহজ বিকল্প হিসেবে দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি যেমন গার্মেন্টস রপ্তানিকারক বা ব্যাংক তাদের ইএসজি (পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসন) লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরাসরি কার্বন ক্রেডিট কিনতে পারে।বেশি নয়, মাত্র ৫-১০ লাখ টাকা বিনিয়োগে দেশে প্লাস্টিক ফার্নিচার ইউনিট চালু করা সম্ভব। যেখানে প্রথম বছর ফার্নিচার বিক্রিতে মনোযোগ দিতে হবে। দ্বিতীয় বছরে এসে শুরু করতে হবে উৎপাদন ডেটা সংগ্রহ। তৃতীয় বছরে কার্বন ক্রেডিট নিবন্ধনের আবেদন করা যেতে পারে। এভাবে তিন বছরের রোডম্যাপ অনুসরণ করলে দেশেই একটি স্থায়ী ও লাভজনক সবুজ ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব।বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার ক্রমেই সবুজ উদ্যোগকে নীতিগত সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন ‘সবুজ সাপ্লাই চেইন’ চাইছেন। বিশেষত ইউরোপীয় ক্রেতারা পণ্যের কার্বন ফুটপ্রিন্ট দেখছেন।এই প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক থেকে ফার্নিচার ও কার্বন ক্রেডিটের মডেলটি শুধু একটি ব্যবসা নয় দেশের বৃহত্তর পরিবেশগত রূপান্তরেরই একটি অংশ। যেসব উদ্যোক্তা এই পথে হাঁটবেন, তারা কেবল মুনাফাই করবেন না, হয়ে উঠবেন একটি নতুন শিল্পের পথপ্রদর্শকও।বর্জ্য বিষয়ে আমাদের গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই বদলাতে হবে। সময়েরও দাবি সেটাই।কারণ বর্জ্য এখন আর আমাদের সমস্যা নয়, বরং সম্ভাবনাময় এক শিল্পের কাঁচামাল। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, পানি ও জলবায়ু গবেষক।

স্মৃতির ক্যানভাসে বিস্মৃতির দাগ
জাতীয় ৮ ঘণ্টা আগে

স্মৃতির ক্যানভাসে বিস্মৃতির দাগ

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::বাঙালির জাতিগত মনস্তত্ত্বের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো তার বিস্মৃতিপ্রবণতা। তীব্র আবেগ এবং দ্রুত সবকিছু ভুলে যাওয়ার এক আত্মঘাতী মানসিকতা এই জনপদের মানুষের মজ্জাগত। ফরাসি দার্শনিক আর্নেস্ট রেনান তাঁর বিখ্যাত ‘হোয়াট ইজ এ নেশন?’ প্রবন্ধে বলেছিলেন, ‘জাতি গঠনে যেমন যৌথ স্মৃতি প্রয়োজন, তেমনি অনেক কিছু ভুলে যাওয়াও দরকার।’ কিন্তু বাঙালির ক্ষেত্রে এই ‘ভুলে যাওয়া’ কোনো দার্শনিক প্রয়োজন নয় বরং এক রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাধি। যে জাতি রক্তের নদী পেরিয়ে তার অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষা করে, সেই জাতিই কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই রক্তের ঋণ এবং ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা বিস্মৃত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকবদলে বাঙালির এই বিস্মৃতির ধরণ এবং তার চড়া মূল্য দেওয়ার খতিয়ান বিশ্লেষণ করা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এক অতীব জরুরি বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণাধর্মী তাগিদ।১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের আত্মত্যাগ বাঙালিকে একটি নতুন ধর্মনিরপেক্ষ জাতিসত্তার পরিচয় দেয়। এই আন্দোলন শুধু ভাষার ছিল না, এটি ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম তীব্র সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আঘাত। ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালি রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার ঠিকই আদায় করেছিল, কিন্তু তার মূল চেতনা ধরে রাখতে পারেনি। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর যে আইনি ও নৈতিক অঙ্গীকার ছিল, তা আজ দীর্ঘ সাত দশকেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের উচ্চ আদালত, উচ্চশিক্ষা এবং করপোরেট ও প্রশাসনিক স্তরে বাংলা ভাষার পদাঙ্ক নিশ্চিত করা যায়নি। একুশে ফেব্রুয়ারি এলে আমরা যে তীব্র আবেগ দেখাই, বছরের বাকি ৩৬৪ দিন তা ইংরেজি বা ভিনদেশি ভাষার আগ্রাসনে হারিয়ে যায়। ভাষা আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ভুলে গিয়ে সমাজ বারবার মৌলবাদ ও সংকীর্ণতার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা এবং ছাত্র সমাজের ১১ দফার ভিত্তিতে সংঘটিত হয় এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান। আসাদ, ডক্টর শামসুজ্জোহা, মতিউরের আত্মত্যাগের মুখে আইয়ুব খানের লৌহকঠিন সামরিক জান্তা পতন ঘটাতে বাধ্য হয় এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু সসম্মানে মুক্তি পান। এই আন্দোলন বাঙালিকে শিখিয়েছিল কীভাবে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করতে হয়। ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছিল নাগরিক অধিকার ও ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে আপসহীন হতে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা দ্রুতই ভুলে যাই আইয়ুবীয় স্টাইলের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার কুফল। ফলে স্বাধীন রাষ্ট্রেও বারবার সামরিক শাসন বা বেসামরিক একনায়কতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। যে ছাত্র সমাজ ও জনতা স্বৈরাচারের তখত উল্টে দিয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলের পর তারাই আবার নতুন কোনো শাসকের অন্ধ ভক্তে পরিণত হয়েছে। স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ের মূল মন্ত্র- ‘গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ বাঙালি বারবার ভুলে গেছে।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে শুরু হওয়া গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অর্জিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম এবং কোটি মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর মধ্য দিয়ে এই স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল তিনটি- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। স্বাধীনতার পর বাঙালির ভুলে যাওয়ার অভ্যাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও বীভৎস বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। যে জাতি কিছুদিন আগেও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়েছিল, তারা এক অদ্ভুত জড়তা, উদাসীনতা ও বিস্মৃতির শিকার হলো। এরপর শুরু হলো ইতিহাসের উল্টোরথ যাত্রা। মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নিত ঘাতক-দালাল, রাজাকার ও আলবদরদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুনর্বাসিত করা হলো; তাদের গাড়িতে ওড়ানো হলো লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকা। দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ঢেকে তরুণ প্রজন্মকে রাখা হলো সত্য থেকে দূরে। সবচেয়ে বড় বিস্মৃতি ঘটল মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাক্সক্ষায়- সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাষ্ট্রে এক চরম ক্রনি-ক্যাপিটালিজম বা লুণ্ঠনমূলক অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হলো।নয় বছরের সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদ সরকারের পতনের লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে গড়ে ওঠে এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট এবং বামপন্থীদের ৫ দলীয় জোট মিলে ঘোষণা করে ‘তিন জোটের রূপরেখা’। এই রূপরেখার মূল ভিত্তি ছিল- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, স্বৈরাচারী ও কালো আইন বাতিল এবং টেকসই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা। নূর হোসেন, ডা. মিলনের রক্তের বিনিময়ে ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারের পতন ঘটে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর তিন জোটের সেই ঐতিহাসিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ক্ষমতার চেয়ারে বসার পরপরই দলগুলো আবার পরমতসহিষ্ণুতা ভুলে গিয়ে পারস্পরিক প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করে। সংসদকে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে চলে একের পর এক সংসদ বয়কট ও রাজপথের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি। রূপরেখায় যে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা রূপ নেয় দলীয়করণ, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র এবং বিচার বিভাগের টুঁটি চেপে ধরার খেলায়। বাঙালি ভুলে গেল যে, গণতন্ত্র কেবল পাঁচ বছর পর পর ভোট দেওয়ার উৎসব নয়, এটি একটি নিত্যদিনের চর্চা ও সংস্কৃতির নাম।দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একচ্ছত্র কর্তৃত্ববাদী শাসন, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, গুম-খুন, তীব্র অর্থনৈতিক লুণ্ঠন, মেগা প্রজেক্টের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে দেশে এক চরম ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছিল। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গর্জে ওঠে দেশের ছাত্র-জনতা। কোটা সংস্কার আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া এই সংগ্রাম সরকারি বাহিনীর নজিরবিহীন ও নৃশংস দমনপীড়নের মুখে রূপ নেয় এক দফার গণঅভ্যুত্থানে। আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ফারহান ফাইয়াজ, ওয়াসিমসহ শত শত শহীদের আত্মত্যাগ এবং হাজারো মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ছাত্র-জনতার এই নজিরবিহীন বিজয়কে অভিহিত করা হয় ‘চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে। এই আন্দোলন রাষ্ট্র মেরামতের এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট দেয়।বাঙালির ভুলে যাওয়ার সহজাত অভ্যাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন চলছে। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি ফ্যাসিবাদের স্থায়ী অবসান এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আন্দোলনের রক্ত শুকানোর আগেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষাক্ত লক্ষণগুলো আবার দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দলীয়করণ এবং ভিন্নমতের ওপর চড়াও হওয়ার প্রবণতা সমাজ থেকে পুরোপুরি দূর করা যায়নি। যে তরুণরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রকে নতুন পথ দেখাল, তাদের সেই পবিত্র আত্মত্যাগকে ভুলে গিয়ে সমাজ যদি আবার দলীয় সংকীর্ণতা, সুবিধাবাদ ও মেরুকরণের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়, তবে এই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনও ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। পূর্বসূরিদের মতো চব্বিশের প্রজন্মও যদি ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায়, তবে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও বেদনাদায়ক বিস্মৃতি।ইতিহাসের খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যায়, বাঙালি লড়তে জানে, বুক পেতে রক্ত দিতে জানে, কিন্তু অর্জিত বিজয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে ধরে রাখতে জানে না। এর প্রধান কারণ- আমরা ইতিহাসের আবেগকে সস্তা স্লোগানে রূপান্তর করি, কিন্তু তার গভীর শিক্ষাকে ধারণ করি না। বিজয়ের পর আমরা এক ধরনের সাময়িক আত্মতুষ্টিতে ভুগি এবং দ্রুতই সব ভুলে গিয়ে আবার পুরোনো ভুলের ফাঁদে পা দিই। যদি আমরা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে আগের আন্দোলনগুলোর মতো বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে দিতে না চাই, তবে আমাদের এই ‘সহজাত ভুলে যাওয়ার রোগ’ থেকে চিরতরে মুক্ত হতে হবে। প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁকবদলের শহীদদের স্মৃতি কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায়, স্মৃতিসৌধে বা নামফলকে বন্দী না রেখে- তাদের মূল আকাক্সক্ষাকে রাষ্ট্রীয় নীতি, সংবিধান ও নাগরিক জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। বাঙালিকে ‘স্মৃতিভুক’ জাতি হওয়া বন্ধ করতে হবে; কারণ যে জাতি বারবার ইতিহাস ভুলে যায়, ইতিহাস তাকে বারবার স্বৈরাচারের শৃঙ্খলে বন্দী করে শাস্তি দেয়।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায়, বাকিডি যায় না’ বলা সেই পুলিশ চাকরি থেকে বরখাস্ত
জাতীয়

‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায়, বাকিডি যায় না’ বলা সেই পুলিশ চাকরি থেকে বরখাস্ত

দৃষ্টি নিউজ:‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এই বক্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার ইকবাল হোসাইনকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে এ শাস্তি দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে।খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ইকবাল হোসাইন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।গণমাধ্যমের হাতে আসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও ইকবাল হোসাইন কোনো জবাব দেননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে অভিযোগ তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। পরে তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশন ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়। এরপর বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে ইকবাল হোসাইনসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড অনুমোদনের প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

১ ঘণ্টা আগে

সুখবর দিল ফেসবুক

দৃষ্টি নিউজ:ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধের পদ্ধতিতে দেশের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ঋণ বা ডেবিট কার্ডের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। এই সুবিধা এখনো সবার জন্য চালু হয়নি, তবে পরীক্ষামূলকভাবে অনেক ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বিল সফলভাবে পরিশোধ করেছেন।বিভিন্ন ব্যবহারকারীর শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার বিল পরিশোধের অংশে ব্যাংক কার্ডের পাশাপাশি বিকাশের নামও যুক্ত হয়েছে। কয়েকজন ব্যবহারকারী এই পদ্ধতিতে বিল পরিশোধ করতে পেরেছেন বলেও জানা গেছে।বাংলাদেশে ফেসবুকের বিজ্ঞাপনের বিল দিতে আন্তর্জাতিক কার্ড, দ্বৈত মুদ্রা সুবিধা এবং বিভিন্ন ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হতো। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও এই প্রক্রিয়া ছিল ব্যয়বহুল ও জটিল। বিকাশ যুক্ত হলে স্থানীয় মুদ্রায় আরও সহজে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মেটা সাধারণত নতুন বিল পরিশোধ সুবিধা ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। তাই এখনো এটি সব ব্যবহারকারীর কাছে দৃশ্যমান না হলেও পরীক্ষা সফল হলে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মেটার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুবিধা কবে সবার জন্য চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরীক্ষামূলকভাবে এই সুবিধা চালুর উদ্যোগকে বাংলাদেশের ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১ ঘণ্টা আগে
সুখবর দিল ফেসবুক

‘দূষণ’ হয়ে উঠছে সম্পদ

:: সৈয়দা বদরুন নেসা ::ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দাঁড়ালে যা দেখা যায় তা শুধু দূষণ নয়, সেখানে আসলে কোটি টাকার কাঁচামালও ভাসছে। প্রতিটি পানির বোতল, প্রতিটি পলিথিন ব্যাগ, প্রতিটি প্লাস্টিকের চেয়ার- শুধু বর্জ্য নয়, এক একটি নতুন শিল্পের ভিত্তি হতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে ‘দূষণকে’ সম্পদে পরিণত করেছে। অথচ বহুমুখী দূষণে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশের এই অপার সুযোগ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।বিষয়টি শুধু পরিবেশ সুরক্ষার নয়, বরং তিনস্তরীয় একটি ব্যবসায়িক মডেল। যেখানে একই প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে একসঙ্গে তিনটি আয়ের উৎস তৈরি করা সম্ভব। প্রথমত, ফার্নিচার হিসেবে বিক্রি করা যাবে। দ্বিতীয়ত, কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করা যাবে। আর তৃতীয়ত সরকারি পরিবেশ প্রণোদনা। এসব মিলিয়ে যে মডেল দাঁড়ায়, তা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক চেয়ার তৈরিতে যতটুকু কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয়, তা কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করলে চেয়ারের দামের অতিরিক্ত ২০-৩০ শতাংশ আয় আসতে পারে।প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে ফার্নিচার তৈরির মূল প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ। সংগ্রহ করা এইচডিপিই (উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন) ও পিপি (পলিপ্রোপিলিন) ধরনের প্লাস্টিক প্রথমে পরিষ্কার করা হয়। তারপর নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলিয়ে মোল্ডে ঢালা হয়। ঠান্ডা হলে বেরিয়ে আসে মজবুত ফার্নিচার, যা কাঠের চেয়ে টেকসই, পানিরোধী এবং পোকামাকড়মুক্ত।এসব পণ্যের বিশেষত্ব হলো এগুলো পুনরায় গলিয়ে নতুন করে ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ এটি সত্যিকারের সার্কুলার ইকোনমি বর্জ্য। যা শেষ হয় না, রবং রূপান্তরিত হয়।বাজারে এই পণ্যগুলোর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি অফিস ও পার্কে এই ধরনের টেকসই ফার্নিচারের জন্য ক্রয় নীতি তৈরি হচ্ছে। ইউরোপে এসব পণ্যের বাজার ইতোমধ্যে বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বিশেষত কম দামের কারণে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অনেক বেশি।দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে কার্বন ক্রেডিটের কথা। যা পরিবেশ রক্ষার আন্তর্জাতিক মুদ্রা। যখন কোনো উদ্যোগ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করে বা কার্বন শোষণ করে, তখন সেই পরিমাণটি একটি ক্রেডিট হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা যায়। প্রতিটি ক্রেডিটের অর্থ হচ্ছে এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয়।প্রশ্ন হচ্ছে, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং এখানে কীভাবে কাজ করছে। মূলত, নতুন প্লাস্টিক তৈরিতে যে কার্বন ডাই-অক্সাইড খরচ হতো, তা রিসাইক্লিং দিয়ে বাঁচানো হচ্ছে। এই ‘বাঁচানো’ কার্বন ডাই-অক্সাইড-ই হলো ক্রেডিটের উৎস। এক টন প্লাস্টিক রিসাইকেল করলে প্রায় ১ দশমিক পাঁচ থেকে দুই টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয় অর্থাৎ সমপরিমাণ ক্রেডিট।কার্বন ক্রেডিট বিক্রির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে স্বীকৃত দুটি সংস্থা হচ্ছে- গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড এবং ভেরা (ভিসিএস-ভেরিফায়েড কার্বন স্ট্যান্ডার্ড)। সংস্থা দুটো প্রকল্প যাচাই করে সার্টিফিকেট দেয়। একবার সার্টিফিকেট পেলে ‘এক্সপ্যানসিভ’, ‘সাউথ পোল’ বা ‘ক্লাইমেট ট্রেডের’ মতো আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে ক্রেডিট বিক্রি করা যায়।অবশ্য, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া বেশ জটিল হলেও অসম্ভব নয়। একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ৬-১২ মাসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। সহজ বিকল্প হিসেবে দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি যেমন গার্মেন্টস রপ্তানিকারক বা ব্যাংক তাদের ইএসজি (পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসন) লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরাসরি কার্বন ক্রেডিট কিনতে পারে।বেশি নয়, মাত্র ৫-১০ লাখ টাকা বিনিয়োগে দেশে প্লাস্টিক ফার্নিচার ইউনিট চালু করা সম্ভব। যেখানে প্রথম বছর ফার্নিচার বিক্রিতে মনোযোগ দিতে হবে। দ্বিতীয় বছরে এসে শুরু করতে হবে উৎপাদন ডেটা সংগ্রহ। তৃতীয় বছরে কার্বন ক্রেডিট নিবন্ধনের আবেদন করা যেতে পারে। এভাবে তিন বছরের রোডম্যাপ অনুসরণ করলে দেশেই একটি স্থায়ী ও লাভজনক সবুজ ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব।বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার ক্রমেই সবুজ উদ্যোগকে নীতিগত সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন ‘সবুজ সাপ্লাই চেইন’ চাইছেন। বিশেষত ইউরোপীয় ক্রেতারা পণ্যের কার্বন ফুটপ্রিন্ট দেখছেন।এই প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক থেকে ফার্নিচার ও কার্বন ক্রেডিটের মডেলটি শুধু একটি ব্যবসা নয় দেশের বৃহত্তর পরিবেশগত রূপান্তরেরই একটি অংশ। যেসব উদ্যোক্তা এই পথে হাঁটবেন, তারা কেবল মুনাফাই করবেন না, হয়ে উঠবেন একটি নতুন শিল্পের পথপ্রদর্শকও।বর্জ্য বিষয়ে আমাদের গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই বদলাতে হবে। সময়েরও দাবি সেটাই।কারণ বর্জ্য এখন আর আমাদের সমস্যা নয়, বরং সম্ভাবনাময় এক শিল্পের কাঁচামাল। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, পানি ও জলবায়ু গবেষক।

৭ ঘণ্টা আগে
‘দূষণ’ হয়ে উঠছে সম্পদ

স্মৃতির ক্যানভাসে বিস্মৃতির দাগ

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::বাঙালির জাতিগত মনস্তত্ত্বের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো তার বিস্মৃতিপ্রবণতা। তীব্র আবেগ এবং দ্রুত সবকিছু ভুলে যাওয়ার এক আত্মঘাতী মানসিকতা এই জনপদের মানুষের মজ্জাগত। ফরাসি দার্শনিক আর্নেস্ট রেনান তাঁর বিখ্যাত ‘হোয়াট ইজ এ নেশন?’ প্রবন্ধে বলেছিলেন, ‘জাতি গঠনে যেমন যৌথ স্মৃতি প্রয়োজন, তেমনি অনেক কিছু ভুলে যাওয়াও দরকার।’ কিন্তু বাঙালির ক্ষেত্রে এই ‘ভুলে যাওয়া’ কোনো দার্শনিক প্রয়োজন নয় বরং এক রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাধি। যে জাতি রক্তের নদী পেরিয়ে তার অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষা করে, সেই জাতিই কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই রক্তের ঋণ এবং ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা বিস্মৃত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকবদলে বাঙালির এই বিস্মৃতির ধরণ এবং তার চড়া মূল্য দেওয়ার খতিয়ান বিশ্লেষণ করা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এক অতীব জরুরি বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণাধর্মী তাগিদ।১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের আত্মত্যাগ বাঙালিকে একটি নতুন ধর্মনিরপেক্ষ জাতিসত্তার পরিচয় দেয়। এই আন্দোলন শুধু ভাষার ছিল না, এটি ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম তীব্র সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আঘাত। ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালি রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার ঠিকই আদায় করেছিল, কিন্তু তার মূল চেতনা ধরে রাখতে পারেনি। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর যে আইনি ও নৈতিক অঙ্গীকার ছিল, তা আজ দীর্ঘ সাত দশকেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের উচ্চ আদালত, উচ্চশিক্ষা এবং করপোরেট ও প্রশাসনিক স্তরে বাংলা ভাষার পদাঙ্ক নিশ্চিত করা যায়নি। একুশে ফেব্রুয়ারি এলে আমরা যে তীব্র আবেগ দেখাই, বছরের বাকি ৩৬৪ দিন তা ইংরেজি বা ভিনদেশি ভাষার আগ্রাসনে হারিয়ে যায়। ভাষা আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ভুলে গিয়ে সমাজ বারবার মৌলবাদ ও সংকীর্ণতার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা এবং ছাত্র সমাজের ১১ দফার ভিত্তিতে সংঘটিত হয় এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান। আসাদ, ডক্টর শামসুজ্জোহা, মতিউরের আত্মত্যাগের মুখে আইয়ুব খানের লৌহকঠিন সামরিক জান্তা পতন ঘটাতে বাধ্য হয় এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু সসম্মানে মুক্তি পান। এই আন্দোলন বাঙালিকে শিখিয়েছিল কীভাবে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করতে হয়। ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছিল নাগরিক অধিকার ও ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে আপসহীন হতে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা দ্রুতই ভুলে যাই আইয়ুবীয় স্টাইলের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার কুফল। ফলে স্বাধীন রাষ্ট্রেও বারবার সামরিক শাসন বা বেসামরিক একনায়কতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। যে ছাত্র সমাজ ও জনতা স্বৈরাচারের তখত উল্টে দিয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলের পর তারাই আবার নতুন কোনো শাসকের অন্ধ ভক্তে পরিণত হয়েছে। স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ের মূল মন্ত্র- ‘গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ বাঙালি বারবার ভুলে গেছে।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে শুরু হওয়া গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অর্জিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম এবং কোটি মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর মধ্য দিয়ে এই স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল তিনটি- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। স্বাধীনতার পর বাঙালির ভুলে যাওয়ার অভ্যাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও বীভৎস বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। যে জাতি কিছুদিন আগেও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়েছিল, তারা এক অদ্ভুত জড়তা, উদাসীনতা ও বিস্মৃতির শিকার হলো। এরপর শুরু হলো ইতিহাসের উল্টোরথ যাত্রা। মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নিত ঘাতক-দালাল, রাজাকার ও আলবদরদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুনর্বাসিত করা হলো; তাদের গাড়িতে ওড়ানো হলো লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকা। দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ঢেকে তরুণ প্রজন্মকে রাখা হলো সত্য থেকে দূরে। সবচেয়ে বড় বিস্মৃতি ঘটল মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাক্সক্ষায়- সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাষ্ট্রে এক চরম ক্রনি-ক্যাপিটালিজম বা লুণ্ঠনমূলক অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হলো।নয় বছরের সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদ সরকারের পতনের লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে গড়ে ওঠে এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট এবং বামপন্থীদের ৫ দলীয় জোট মিলে ঘোষণা করে ‘তিন জোটের রূপরেখা’। এই রূপরেখার মূল ভিত্তি ছিল- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, স্বৈরাচারী ও কালো আইন বাতিল এবং টেকসই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা। নূর হোসেন, ডা. মিলনের রক্তের বিনিময়ে ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারের পতন ঘটে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর তিন জোটের সেই ঐতিহাসিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ক্ষমতার চেয়ারে বসার পরপরই দলগুলো আবার পরমতসহিষ্ণুতা ভুলে গিয়ে পারস্পরিক প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করে। সংসদকে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে চলে একের পর এক সংসদ বয়কট ও রাজপথের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি। রূপরেখায় যে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা রূপ নেয় দলীয়করণ, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র এবং বিচার বিভাগের টুঁটি চেপে ধরার খেলায়। বাঙালি ভুলে গেল যে, গণতন্ত্র কেবল পাঁচ বছর পর পর ভোট দেওয়ার উৎসব নয়, এটি একটি নিত্যদিনের চর্চা ও সংস্কৃতির নাম।দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একচ্ছত্র কর্তৃত্ববাদী শাসন, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, গুম-খুন, তীব্র অর্থনৈতিক লুণ্ঠন, মেগা প্রজেক্টের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে দেশে এক চরম ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছিল। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গর্জে ওঠে দেশের ছাত্র-জনতা। কোটা সংস্কার আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া এই সংগ্রাম সরকারি বাহিনীর নজিরবিহীন ও নৃশংস দমনপীড়নের মুখে রূপ নেয় এক দফার গণঅভ্যুত্থানে। আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ফারহান ফাইয়াজ, ওয়াসিমসহ শত শত শহীদের আত্মত্যাগ এবং হাজারো মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ছাত্র-জনতার এই নজিরবিহীন বিজয়কে অভিহিত করা হয় ‘চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে। এই আন্দোলন রাষ্ট্র মেরামতের এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট দেয়।বাঙালির ভুলে যাওয়ার সহজাত অভ্যাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন চলছে। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি ফ্যাসিবাদের স্থায়ী অবসান এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আন্দোলনের রক্ত শুকানোর আগেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষাক্ত লক্ষণগুলো আবার দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দলীয়করণ এবং ভিন্নমতের ওপর চড়াও হওয়ার প্রবণতা সমাজ থেকে পুরোপুরি দূর করা যায়নি। যে তরুণরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রকে নতুন পথ দেখাল, তাদের সেই পবিত্র আত্মত্যাগকে ভুলে গিয়ে সমাজ যদি আবার দলীয় সংকীর্ণতা, সুবিধাবাদ ও মেরুকরণের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়, তবে এই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনও ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। পূর্বসূরিদের মতো চব্বিশের প্রজন্মও যদি ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায়, তবে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও বেদনাদায়ক বিস্মৃতি।ইতিহাসের খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যায়, বাঙালি লড়তে জানে, বুক পেতে রক্ত দিতে জানে, কিন্তু অর্জিত বিজয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে ধরে রাখতে জানে না। এর প্রধান কারণ- আমরা ইতিহাসের আবেগকে সস্তা স্লোগানে রূপান্তর করি, কিন্তু তার গভীর শিক্ষাকে ধারণ করি না। বিজয়ের পর আমরা এক ধরনের সাময়িক আত্মতুষ্টিতে ভুগি এবং দ্রুতই সব ভুলে গিয়ে আবার পুরোনো ভুলের ফাঁদে পা দিই। যদি আমরা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে আগের আন্দোলনগুলোর মতো বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে দিতে না চাই, তবে আমাদের এই ‘সহজাত ভুলে যাওয়ার রোগ’ থেকে চিরতরে মুক্ত হতে হবে। প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁকবদলের শহীদদের স্মৃতি কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায়, স্মৃতিসৌধে বা নামফলকে বন্দী না রেখে- তাদের মূল আকাক্সক্ষাকে রাষ্ট্রীয় নীতি, সংবিধান ও নাগরিক জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। বাঙালিকে ‘স্মৃতিভুক’ জাতি হওয়া বন্ধ করতে হবে; কারণ যে জাতি বারবার ইতিহাস ভুলে যায়, ইতিহাস তাকে বারবার স্বৈরাচারের শৃঙ্খলে বন্দী করে শাস্তি দেয়।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

৮ ঘণ্টা আগে
স্মৃতির ক্যানভাসে বিস্মৃতির দাগ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু:সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে পরিচালিত সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশ শুক্রবার(৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।এদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ মহাসমাবেশে নিরাপদ সড়ক, রেলপথ ও নৌপথ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নীতি, গবেষণা, প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে নিসচা প্রণীত ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।দিনব্যাপী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়।ফিরে দেখা- ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয় সহধর্মিণী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় দায়িত্বে রূপ দেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর গত ৩৩ বছরে নিসচা শুধু একটি সংগঠন নয় বরং একটি জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এই পথচলায় সংগঠনটি জনসচেতনতা সৃষ্টি, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কার্যক্রম, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, নীতিগত সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন এবং দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়’নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চলচ্চিত্রের মহানায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ৩৩ বছরের এ আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীর আত্মত্যাগ আন্দোলনটিকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের জীবন রক্ষার এই আন্দোলনে আরও কিছুদিন কাজ করার তৌফিক দান করেন। আমিও দেশের প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করছি।’চিত্র নয়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো দাবি নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই; আমরা মানুষের জীবনের পক্ষে।’তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও দৃঢ় বাস্তবায়ন।’তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে না পারবে, ততদিন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য কোনো সমালোচনা নয় বরং সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে একটি দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’গবেষণা, প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা এখন আর শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নির্ভুল তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।’তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তারা দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তারা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।’মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে একটি কেন্দ্রীয় সড়ক দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার (National Road Crash Database) গড়ে তোলার, যেখানে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, রেলওয়ে এবং নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার তথ্য সমন্বিত হবে। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’তিনি বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগ, স্পিড ক্যামেরা, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল-টাইম দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ তথ্য ও জনসম্পৃক্ততা সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া ১২ দফা সুপারিশপত্র কোনো দাবিপত্র নয় বরং একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা।’নিসচার তথ্যভান্ডার কাজে লাগানোর আহ্বাননিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত দুর্ঘটনার তথ্য, জনমত, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা নিসচার অন্যতম বড় শক্তি।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করেন না; তারা দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, স্থানীয় সমস্যা এবং মানুষের প্রত্যাশা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত করেন। এই বিশাল তথ্যভান্ডার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার প্রায় ১২০টি শাখা এবং হাজারো সড়কযোদ্ধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। সরকার চাইলে এই স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।’সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগতনিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত 'Safe System Approach'-এর আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা, গতি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়ন, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালীকরণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জাতীয় অঙ্গীকারকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।নিসচার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ নিরাপদ, টেকসই ও মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।সংস্কৃতির মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানপ্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নয়; মানুষের মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমেও সম্ভব। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি বলেন, ‘নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি, পথনাটক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন হয়ে উঠবে।’মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরাপদ সড়ক বিষয়ক সচেতনতামূলক নাট্যোৎসব, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রচারণা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। নিরাপদ সড়ক একটি সামাজিক আন্দোলন আর সামাজিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সংস্কৃতির বিকল্প নেই।’আইন, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বউদ্বোধরী বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি বলেন, ‘সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’তিনি বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মতো সংগঠনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।’গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয়ের আহ্বানবিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদান অনন্য। ব্যক্তিগত বেদনাকে তিনি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন, যা আজ নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরঅনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর পক্ষ থেকে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ তুলে দেওয়া হবে।সুপারিশপত্রে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, চাঁদাবাজি ও পরিবহন সিন্ডিকেট নির্মূল, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ, সড়ক-রেল-নৌপথের সমন্বিত নিরাপত্তা, শিক্ষাক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপদ সড়ককে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) মনে করে, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। রাষ্ট্রের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, সুশাসন, গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নিসচা সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। সংগঠনটি আশা করে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মানবিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবহন খাতের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নিসচার প্রায় ১২০টি শাখার প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রতিনিধি ও সড়কযোদ্ধা এতে অংশ নেন। পরে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

০৮ আগস্ট ২০২৬
নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
মহিষমারা কলেজে খুন্তি-কোদালে তরুণদের নতুন বিপ্লব!

মহিষমারা কলেজে খুন্তি-কোদালে তরুণদের নতুন বিপ্লব!

মু. আবিদ মল্লিক জয়:বর্তমান প্রজন্মে বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়ে ও শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার এবং স্ক্রিন টাইমের ফলে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে অনলাইন ক্লাসের পর থেকেই নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ চরম মোবাইল আসক্তিতে পড়েছে। সারা দেশের শিক্ষার্থীরা যখন এমন ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, ঠিক তখনই এর সম্পূর্ণ বিপরীত ও ব্যতিক্রমী এক চিত্র দেখা গেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা কলেজে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা মোবাইল ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছে খুন্তি, কোদাল, কাস্তেসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি। তারা ফসলি মাঠে নেমে হাতে-কলমে শিখছে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের নানা কৌশল।খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ব্যতিক্রমী এই জীবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে মধুপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার মহিষমারা গ্রামে। ২০১৩ সালে গ্রামেরই এক আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১৩৫ শতাংশ জমির ওপর এই ‘মহিষমারা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। টাঙ্গাইল শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই মহিষমারা গ্রাম। অঞ্চলটি মূলত কৃষিনির্ভর এবং মধুপুরের বিখ্যাত আনারস চাষের অন্যতম প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র কৃষক। অর্থাভাব ও দূরত্বের কারণে স্কুল শেষ করার পর অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের কলেজে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারতেন না। এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করতেই কৃষক ছানোয়ার হোসেন এই কলেজটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই কলেজে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ডিজিটাল আসক্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে উৎপাদনমুখী ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার এই উদ্যোগটি এখন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কার্যক্রম একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করছে, অন্যদিকে তেমনি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপর উপজেলা সদর থেকেই পাকা সড়ক। অজপাড়াগাঁ পেড়িয়ে সোজা গারো বাজার। যাওয়ার পথে বিল সবুজ ধান ক্ষেতের অবারিত দিগন্ত। যেন চোখ জুড়ানো। গারো বাজারের পাশের বৃহত্তর গ্রামটির নাম মহিষমারা। মহিষমারা গ্রামের শুরুতেই কলেজটির অবস্থান। কলেজে প্রবেশ করে দেখা যায়, দুটি শ্রেণিতে ক্লাস চলছে। আর উৎপাদনমুখী শিক্ষা কর্ণারে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী কাজ করছেন।কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছানোয়ার হোসেন তাদের সবজি বীজ বোনার আগে মাটি তৈরি ব্যবস্থাপনা শেখাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা তার নির্দেশনাতে মাটি তৈরির কাজ করছেন।জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯২ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি সিলেটের একটি স্কুলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ বছর চাকরি করে ফিরে আসেন গ্রামে। গ্রামের স্কুলে দুই বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কৃষির আকর্ষণে তিনি সেই চাকরিও ছেড়ে দেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আনারস, কলা, হলুদ, ভুট্টা, মাল্টা, ড্রাগন, পেয়ারা, কফিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন।তিনি জানান, তার গ্রাম মহিষমারা এলাকার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কলেজ নেই। দরিদ্র কৃষক পরিবার তাদের সন্তানদের দূরে ছাত্রাবাসে রেখে পড়াতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নেন, নিজ এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন।আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, তার বাবার ৯৫ শতাংশ জমি আর তার নিজের ৪০ শতাংশ মিলে ১৩৫ শতাংশের উপর ২০১৩ সালে মহিষমারা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিগত ২০২২ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এই কলেজে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। সরকারের শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি পাকা ভবনও এই কলেজে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।কলেজের শিক্ষক ও এলাকাবাসী জানায়, ২০১৮ সালে কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য উৎপাদনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। এ জন্য কলেজের পূর্ব দিকে ৪০ শতাংশ জায়গায় একটি কর্ণার গড়ে তোলা হয়। শিক্ষার্থীদের ছানোয়ার হোসেন পড়াশোনার ফাঁকে হাতে-কলমে বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদন শেখান। সেখানে বিভিন্ন মৌসুমের সবজি, ফল, মসলার চারা তৈরিও শেখানো হয়। এখানে চাষবাস শিখে শিক্ষার্থীরা তাদের বাড়িতেও সবজি বাগান করতে পারেন।কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা কলেজের এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে কীটনাশকমুক্ত সবজি আবাদ শিখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করছেন। এ কারণে তাদের পিতা-মাতা অনেক খুশি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বড় হয়ে কৃষি অফিসার হবে।কলেজের প্রভাষক শহিদুল ইসলাম জানান, কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কৃষিতে উৎপাদনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। কলেজে ক্লাসের বিরতিতে এবং ছুটির পর বিভিন্ন গ্রুপ করে শিক্ষার্থীদের কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে এ কাজে অংশ নেয়।মহিষমারা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক হানান, কলেজের শিক্ষকরা অনেক পরিশ্রমী। পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষা শিক্ষার্থীদের একদিকে মোবাইল ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক থেকে যেমন রেহাই পাচ্ছে। অন্যদিকে বাড়িতেও মা-বাবাকে কৃষি কাজে সহযোগিতা করার মনোভাব সৃষ্টি তৈরি হচ্ছে।কলেজের সভাপতি ও মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকদের আন্তরিকতার ফলেই প্রান্তিক পর্যায়ের একটি কলেজ এত অল্প সময়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করলেই যে চাকরি পাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই এসব শিক্ষার্থীরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে পারে তাহলে কৃষিনির্ভর এ দেশে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

০৬ আগস্ট ২০২৬

বিবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী:‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইলের স্বনামধন্য বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তন কক্ষে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক এসএম আনোয়ার সাদত, সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান প্রমুখ।এসময় প্রভাতী শিফট ইনচার্জ অনামিকা ভদ্র, দিবা শিফট ইনচার্জ জাহানারা তরফদার, সিনিয়র শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, আরিফুর রহমান প্রমুখ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন, সিনিয়র শিক্ষক মো. ছামছুল হক সাগর।অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আগে ছাত্রীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

০৫ আগস্ট ২০২৬
বিবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

বাসাইলের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

বাসাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রচনা-আবৃতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে দিবসের আলোচনায় অংশ নেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বেলায়েত হোসেন, সহকারী শিক্ষক আলেকজান্ডার আজাদ মিয়া, আলমগীর হোসেন, মিনহাজ উদ্দিন, লিটন মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, নার্গিস আক্তার প্রমুখ।বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র- ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

০৫ আগস্ট ২০২৬
বাসাইলের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ও আর্থিক অনুদান বেড়েছে

দৃষ্টি নিউজ:বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের মাসিক সম্মানি ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রদেয় বিশেষ অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সুরক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ও কল্যাণ আরও জোরদার করতেই সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।নতুন হার অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। এছাড়া তারা উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা পাবেন। এছাড়া শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও মাসিক ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

০৪ আগস্ট ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ও আর্থিক অনুদান বেড়েছে

ঘাটাইলে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

ঘাটাইল প্রতিনিধি:টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘাটাইলের ক্যান্টনমেন্ট মোড় এলাকায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক মজনু মিয়া নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত মজনু মিয়া জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়ড়া পাটাদহ গ্রামের জহুরুল আকন্দের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা মালঞ্চ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মঙ্গলবার সকালে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট মোড় এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপভ্যানটি দুমরে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক মজনু মিয়ার মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এলাহী জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মালঞ্চ পরিবহনের বাসটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০৪ আগস্ট ২০২৬
ঘাটাইলে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত
নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের
জাতীয়

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু:সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে পরিচালিত সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশ শুক্রবার(৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।এদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ মহাসমাবেশে নিরাপদ সড়ক, রেলপথ ও নৌপথ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নীতি, গবেষণা, প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে নিসচা প্রণীত ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।দিনব্যাপী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়।ফিরে দেখা- ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয় সহধর্মিণী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় দায়িত্বে রূপ দেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর গত ৩৩ বছরে নিসচা শুধু একটি সংগঠন নয় বরং একটি জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এই পথচলায় সংগঠনটি জনসচেতনতা সৃষ্টি, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কার্যক্রম, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, নীতিগত সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন এবং দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়’নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চলচ্চিত্রের মহানায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ৩৩ বছরের এ আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীর আত্মত্যাগ আন্দোলনটিকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের জীবন রক্ষার এই আন্দোলনে আরও কিছুদিন কাজ করার তৌফিক দান করেন। আমিও দেশের প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করছি।’চিত্র নয়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো দাবি নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই; আমরা মানুষের জীবনের পক্ষে।’তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও দৃঢ় বাস্তবায়ন।’তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে না পারবে, ততদিন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য কোনো সমালোচনা নয় বরং সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে একটি দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’গবেষণা, প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা এখন আর শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নির্ভুল তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।’তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তারা দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তারা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।’মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে একটি কেন্দ্রীয় সড়ক দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার (National Road Crash Database) গড়ে তোলার, যেখানে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, রেলওয়ে এবং নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার তথ্য সমন্বিত হবে। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’তিনি বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগ, স্পিড ক্যামেরা, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল-টাইম দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ তথ্য ও জনসম্পৃক্ততা সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া ১২ দফা সুপারিশপত্র কোনো দাবিপত্র নয় বরং একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা।’নিসচার তথ্যভান্ডার কাজে লাগানোর আহ্বাননিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত দুর্ঘটনার তথ্য, জনমত, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা নিসচার অন্যতম বড় শক্তি।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করেন না; তারা দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, স্থানীয় সমস্যা এবং মানুষের প্রত্যাশা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত করেন। এই বিশাল তথ্যভান্ডার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার প্রায় ১২০টি শাখা এবং হাজারো সড়কযোদ্ধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। সরকার চাইলে এই স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।’সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগতনিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত 'Safe System Approach'-এর আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা, গতি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়ন, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালীকরণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জাতীয় অঙ্গীকারকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।নিসচার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ নিরাপদ, টেকসই ও মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।সংস্কৃতির মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানপ্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নয়; মানুষের মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমেও সম্ভব। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি বলেন, ‘নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি, পথনাটক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন হয়ে উঠবে।’মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরাপদ সড়ক বিষয়ক সচেতনতামূলক নাট্যোৎসব, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রচারণা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। নিরাপদ সড়ক একটি সামাজিক আন্দোলন আর সামাজিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সংস্কৃতির বিকল্প নেই।’আইন, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বউদ্বোধরী বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি বলেন, ‘সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’তিনি বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মতো সংগঠনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।’গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয়ের আহ্বানবিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদান অনন্য। ব্যক্তিগত বেদনাকে তিনি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন, যা আজ নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরঅনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর পক্ষ থেকে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ তুলে দেওয়া হবে।সুপারিশপত্রে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, চাঁদাবাজি ও পরিবহন সিন্ডিকেট নির্মূল, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ, সড়ক-রেল-নৌপথের সমন্বিত নিরাপত্তা, শিক্ষাক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপদ সড়ককে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) মনে করে, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। রাষ্ট্রের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, সুশাসন, গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নিসচা সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। সংগঠনটি আশা করে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মানবিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবহন খাতের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নিসচার প্রায় ১২০টি শাখার প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রতিনিধি ও সড়কযোদ্ধা এতে অংশ নেন। পরে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

০৮ আগস্ট ২০২৬

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

দৃষ্টি বিনোদন: ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও দক্ষিণী সিনেমার তারকা থালাপাতি বিজয় অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’। গত ৯ জানুয়ারি সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল। নানা জটিলতার কারণে থমকে যায় মুক্তি। দীর্ঘ ৭ মাস অপেক্ষার পর, গত ২৩ জুলাই বিশ্বের ৫ হাজার পর্দায় মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। ‘জন নায়াগান’ সিনেমা মুক্তির পর দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এনডিটিভির চলচ্চিত্র বিশ্লেষক লতা শ্রীনিবাস লিখেছেন, “থালাপাতি বিজয়ের জন্য ‘জন নায়াগান’ অবশ্যই দেখা উচিত। কারণ শেষবারের মতো তাকে পর্দায় দেখা যাবে। বিজয় কীভাবে একজন ‘জন নায়াগান’ (জনগণের নেতা) হয়ে উঠেছেন, তা টাইটেল কার্ড দেখিয়েছে। ত্রুটি থাকার পরও ‘জন নায়াগান’ দুর্দান্ত।” পাঁচে ৩ রেটিং দিয়েছেন লতা। ইন্ডিয়া টুডের জননী কে সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তবে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন ২। দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও বক্স অফিসে কতটা রাজত্ব করলেন বিজয়? যদিও বক্স অফিস বিশ্লেষক রমেশ বালা মুক্তির আগেই বলেছিলেন, মুক্তির প্রথম দিনে ৭৫-১০০ কোটি রুপি আয় করবে সিনেমাটি। তার এই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে ফলেছে। চলুন জেনে নিই, ৭ দিনে কত টাকা আয় করল সিনেমাটি- বলি মুভি রিভিউজের তথ্য মতে, মুক্তির প্রথম দিনে ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ভারতে আয় করেছে ৪৪ কোটি রুপি (নিট), দ্বিতীয় দিনে আয় করেছে ২১ কোটি রুপি (নিট), তৃতীয় দিনে আয় করেছে ৩০ কোটি রুপি (নিট), চতুর্থ দিনে আয় করেছে ৩২ কোটি রুপি (নিট), পঞ্চম দিনে আয় করেছে ১০ কোটি রুপি (নিট), ৬ষ্ঠ দিনে আয় করেছে ৮ কোটি রুপি (নিট), সপ্তম দিনে আয় করেছে ৬ কোটি রুপি (নিট)। যার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৫১ কোটি রুপি (নিট)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৬.২ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ৭ দিনে ভারতে আয় করেছে ১৪৯.৫০ কোটি রুপি (নিট)। বিদেশে আয় করেছে ৮১ কোটি রুপি (গ্রস)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৫.৬৩ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এইচ. বিনোথ। এতে থালাপাতি বিজয় অভিনয় করেছেন ভেত্রি কোন্ডান নামে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। দত্তক কন্যা ভিজিকে (মমিতা বাইজু) সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। কিন্তু মেয়েটির অতীতের মানসিক ট্রমা সেই পথকে কঠিন করে তোলে। বলিউড অভিনেতা ববি দেওল সিনেমাটিতে খলনায়ক জন হিমলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে আসেন। এরপরই শুরু হয় বিজয় ও ববি দেওলের মুখোমুখি লড়াই। তাদের লড়াইকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির মূল সংঘাত। ‘জন নায়াগান’ সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন বিজয়-পূজা। তাছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- প্রকাশ রাজ, প্রিয়ামণি, গৌতম বাসুদেব মেনন প্রমুখ। জানা যায়, সিনেমাটির বাজেট ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি রুপি। কোনো কোনো প্রতিবেদনে ৪০০ কোটি রুপিও পাওয়া গেছে। এটি প্রযোজনা করছে কেভিএন প্রোডাকশন্স।

৩০ জুলাই ২০২৬
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

২৮ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

দৃষ্টি নিউজ: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দিয়েছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) নামের একটি সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে এ অভিযোগ জমা দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস। অভিযোগকারী অন্যরা হলেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহ্যমান শাহ্ আলম বাদশা, কেন্দ্রীয় সংগঠক মহাসিন, জুলাই আহত আবু বকর ছিদ্দিক ওরকে তুহিন ফরাজী। অভিযুক্তরা হলেন- অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, আজিজুল হাকিম, ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ আহমেদ, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, অভিনেতা, সাজু খাদেম, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, আশনা হাবীব ভাবনা, হিরো আলম, সুজাতা আজিম, চন্দন রেজা, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, মোমিন মেহেদী ও সোমা ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা, উসকানি বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত রয়েছেন এসব তারকারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্তের স্বার্থে এ অভিযোগ দাখিল করেছি। এ বিষয়ে আল নূর মোহাম্মদ আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, বরাবরের মতোই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করছেন শান্তা ফারজানা, মোমিন মেহেদীসহ বেশ কিছু তারকা। অথচ ৫ আগস্টের দিনই শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের পতন হয়েছিল। আগামীতে আওয়ামী লীগ কোনোভাবে ফিরবে না। কিন্তু এই দোসররা মাঝে মাঝে আইনজীবী বা শিক্ষাবিদ হয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। আমরা সেটি হতে দেবো না।

২৬ জুলাই ২০২৬
২৮ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

জাহ্নবী কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁসের গুঞ্জন

দৃষ্টি বিনোদন: জাহ্নবী কাপুরকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সামাজিক মাধ্যমে ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস’ শিরোনামে যে দাবি ছড়িয়েছে, ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তার সমর্থনে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তার অভিনীত তেলেগু সিনেমা ‘পেড্ডি’তে ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন এবং তার নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘পাগলাইট’খ্যাত নির্মাতা উমেশ বিস্তের নতুন একটি সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন জাহ্নবী কাপুর। ছবিটির নাম এখনও চূড়ান্ত না হলেও এটি প্রযোজনা করবে একতা কাপুরের বালাজি মোশন পিকচার্স এবং অস্কারজয়ী প্রযোজক গুনীত মঙ্গার সিখ্যা এন্টারটেইনমেন্ট। চলতি বছরের অক্টোবর বা নভেম্বরে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গল্প, ঘরানা কিংবা সহ-অভিনয়শিল্পীদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উমেশ বিস্তের পরিচালনায় কাজ করবেন জাহ্নবী। একই সঙ্গে নির্মাতা উমেশ বিস্ত ‘পাগলাইট ২’-এর কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন। ২০২১ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রশংসিত সিনেমাটির সিক্যুয়েলে সানিয়া মালহোত্রার ফেরার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। ‘পেড্ডি’ সিনেমায় জাহ্নবীর ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক দর্শকের অভিযোগ, অতিরিক্ত ক্লোজআপ, নির্দিষ্ট ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল এবং কিছু রোমান্টিক দৃশ্যের মাধ্যমে চরিত্রটির গভীরতার চেয়ে তার শারীরিক উপস্থিতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে মতভেদও রয়েছে। একাংশের মতে, কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে নির্মাতার সৃজনশীল সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী করা উচিত নয়। জাহ্নবী কাপুর এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জয়া বচ্চন, কারিনা কাপুর খান, নিত্যা মেনন, জগপতি বাবু ও ডিম্পল হায়াথিসহ কয়েকজন তারকাও এ বিতর্ক নিয়ে মতামত দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে মূলধারার সিনেমায় নারীদের আরও শক্তিশালী, স্বতন্ত্র ও অর্থবহ চরিত্রে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে। সমালোচনার মুখে ‘পেড্ডি’র পরিচালক বুচি বাবু সানা সামাজিক মাধ্যমে ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিতর্কিত দৃশ্যগুলো সিনেমা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল বিভিন্ন ভিডিওকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের দাবি ছড়ালেও, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জাহ্নবী কাপুরের কোনো ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস’এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

২৬ জুলাই ২০২৬
জাহ্নবী কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁসের গুঞ্জন

পক্ষকাল ব্যাপী হুমায়ুন আহমেদ চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাবে পক্ষকাল ব্যাপী অমর কথা শিল্পী হুমায়ুন আহমেদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্বোধন করা হয়েছে। ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে ওই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অত্যাধুনিক সিনে কমপ্লেক্স দ্যা নিউ রওশন টকিজ সিনেমা হলের আয়োজনে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। করোনেশন ড্রামাট্রিক ক্লাবের সভাপতি কাজী জাকেরুল মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাম্য রহমান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা এবং সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন দ্যা নিউ রওশন টকিজ সিনেমা হলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন প্রবাল। শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী দিনে অমর কথা শিল্পী হুমায়ুন আহমেদের চলচ্চিত্র ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ সিনেমাটি প্রদর্শন করা হয়। পক্ষকালব্যাপী ওই প্রদর্শনীতে হুমায়ুন আহমেদের শ্রাবন মেঘেরদিন, দারুচিনি স্বীপ, ঘেটুপুত্র কমলা, শ্যামল ছায়া সহ ১৫টি সিনেমা প্রদর্শন করা হবে।

২৫ জুলাই ২০২৬
পক্ষকাল ব্যাপী হুমায়ুন আহমেদ চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন