সর্বশেষ
গুজব ও ডিপফেক : সত্য-মিথ্যার নতুন সংকট
জাতীয় ১ ঘণ্টা আগে

গুজব ও ডিপফেক : সত্য-মিথ্যার নতুন সংকট

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল::মানবসভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে তথ্য ও জ্ঞানের আদান-প্রদানই ছিল ক্ষমতার মূল নিয়ামক ও প্রগতির চালিকাশক্তি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর উত্তর-আধুনিক পর্বে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও পঞ্চম প্রজন্মের (5G) প্রযুক্তির জ্যামিতিক বিকাশ তথ্যপ্রবাহের চিরন্তন ব্যাকরণকে আমূল ওলটপালট করে দিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক তথ্য-বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, যেখানে তথ্যের অবাধ ও গণতান্ত্রিক অভিগম্যতার সমান্তরালে এক চরম বিপর্যয়কর সংকটের অশুভ উত্থান ঘটেছে- যার নাম ‘গুজব ও ডিপফেক’। এই যমজ সংকট আজ কেবল সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে নাড়া দিচ্ছে না বরং তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমিকতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সনাতন কাঠামোকেও এক অস্তিত্ববাদী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তির এই অনৈতিক অপব্যবহারের ফলে বস্তুনিষ্ঠ সত্য ও কৃত্রিম মিথ্যার মধ্যকার যে সুক্ষ্ম বিভাজিকা ছিল- তা আজ চরমভাবে বিলুপ্তপ্রায়। ফলশ্রুতিতে মানবসমাজ অবতীর্ণ হয়েছে এক গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক (Epistemological), সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের অতল গহ্বরে।গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য (Misinformation & Disinformation) ছড়ানোর অপকৌশল মানব ইতিহাসের এক প্রাচীন ব্যাধি। আদিম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে আধুনিক বিশ্বযুদ্ধ-সবখানেই প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সাইবার-বাস্তবতায় এর বিস্তারের গতি ও ব্যাপ্তি ভৌগোলিক সীমানাকে অতিক্রম করে মহাজাগতিক রূপ ধারণ করেছে। এই ক্ষয়িষ্ণু প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও অত্যাধুনিক সংযোজন হলো ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম শাখা ‘ডিপ লার্নিং’ (Deep Learning) এবং জালিয়াতি বা ‘ফেক’ (Fake) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রযুক্তি মূলত জেনারেটিভ অ্যাডভারসারিয়াল নেটওয়ার্কস (GANs) নামক শক্তিশালী অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর মাধ্যমে যেকোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির কণ্ঠস্বর (Voice Cloning), মুখাবয়ব (Facial Re-enactment) এবং দৈহিক অঙ্গভঙ্গি অবিকল নকল করে কৃত্রিম অডিও ও ভিডিও ফাইল প্রস্তুত করা হয়। এর ভয়াবহতা এখানেই যে, একজন ব্যক্তি যে কথা কখনো উচ্চারণ করেননি কিংবা যে কর্মকাণ্ডে কখনো লিপ্ত হননি, তাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেই দৃশ্যপটে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলস্বরূপ, টেক্সট বা লেখনীভিত্তিক গুজবের সনাতন যুগ পেরিয়ে মানবজাতি এখন প্রবেশ করেছে ‘অতি-বাস্তবসম্মত’ (Hyper-realistic) অডিও-ভিজুয়াল মিথ্যার এক গোলকধাঁধায়- যেখানে চোখের দেখা কিংবা কানের শোনাকেও আর ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়ার উপায় নেই।ডিপফেক এবং সিন্থেটিক মিডিয়ার (Synthetic Media) বিধ্বংসী প্রভাব আজ আর কোনো তাত্ত্বিক আশঙ্কা নয় বরং এক কঠোর ও নির্মম বাস্তব। আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের যে পরিসংখ্যান ও খতিয়ান পাওয়া যায়- তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ব্রুকিং ইনস্টিটিউশন (Brookings Institution) -এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারনেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা উৎপাদিত ভুয়া ও বিকৃত তথ্যের পরিমাণ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ডিপট্রেস’(Deeptrace) -এর এক বৈশ্বিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইন্টারনেটে লভ্য ডিপফেক ভিডিওর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এবং এর একটি বিশাল অংশ সমাজ ও রাজনীতির স্থিতিশীলতা বিনষ্টের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।উন্নত দেশগুলোতে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে ‘গুজব ও ডিপফেক’ আকাশচুম্বী তো বটেই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রযুক্তির এই নেতিবাচক জোয়ার থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য-যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের (যেমন: রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব, বিডি ফ্যাক্টচেক) বার্ষিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার রাজনৈতিক, ধর্মীয়, গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কুৎসাভিত্তিক গুজব ও ডিপফেক কনটেন্ট সনাতন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিগত সাধারণ নির্বাচনগুলোর সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে চরিত্র হননের এক কুৎসিত সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া, স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয়ে ভুয়া অডিও ক্লিপ ও বিকৃত ছবি প্রচার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার একাধিক নারকীয় ঘটনা ঘটেছে- যা দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর এক প্রচণ্ড আঘাত।গবেষণাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রযুক্তির উৎকর্ষের চেয়েও মানুষের আদিম মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাই গুজব ও ডিপফেক বিস্তারের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-র গবেষকদের পরিচালিত একটি যুগান্তকারী মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বস্তুনিষ্ঠ সত্য খবরের তুলনায় একটি ভুয়া বা কাল্পনিক খবর ৬ গুণ দ্রুত মানবসমাজে পরিব্যপ্ত হয় এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের দ্বারা এটি ৭০ শতাংশ বেশি শেয়ার বা পুনঃপ্রচারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর মূল কারণ হলো মানুষের ‘কনফার্মেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা ‘নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত’। মানুষ স্বভাবগতভাবেই সেই তথ্য বা বিবরণীকে অতি দ্রুত সত্য বলে গ্রহণ করে, যা তার নিজের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাস, অন্ধ আবেগ কিংবা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের অনুকূলে যায়। ডিপফেক প্রযুক্তি মূলত মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক ফ্রন্টলাইনকেই আক্রমণ করে। যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘোর বিরোধী কোনো রাজনৈতিক চরিত্রের একটি চরম আপত্তিকর বা বিতর্কিত ভিডিও স্ক্রিনে দেখতে পান, তখন তার যৌক্তিক মস্তিষ্ক সেটির সত্যতা বা কারিগরি নির্ভুলতা যাচাই করার পূর্বেই মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেটিকে সত্য বলে রায় দিয়ে দেয়। এই মানসিক অসচেতনতাই অপতথ্য ও কৃত্রিম মিথ্যার সাম্রাজ্যকে দিন দিন আরও শক্তিশালী করে তুলছে।সমাজ, রাষ্ট্র ও সামগ্রিক নৈতিকতার অবক্ষয়ে ডিপফেক- এর বহুমাত্রিক অভিঘাত লক্ষণীয়। যেমন- (১) গণতন্ত্রের সংকট ও জনমতের ভাঙন: ডিপফেক প্রযুক্তির অবাধ বিস্তারের ফলে যেকোনো রাষ্ট্রীয় নির্বাচন বা জাতীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে কোনো প্রার্থীর এমন কোনো ভুয়া ও স্পর্শকাতর স্বীকারোক্তির ভিডিও প্রকাশ করা সম্ভব, যা জনমতকে সম্পূর্ণ উল্টো খাতে প্রবাহিত করতে পারে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর অসারতা প্রমাণিত হলেও, ততক্ষণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়ে যায়। (২) নারীর নিরাপত্তা ও জেন্ডারভিত্তিক সাইবার সহিংসতা: বিশ্বব্যাপী ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এর প্রায় ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রই হলো নারীর অনুমতিবিহীন পর্নোগ্রাফি বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত। এই প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমাজের প্রভাবশালী বা সাধারণ নারীদের সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার করা হচ্ছে- যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার, মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং সামাজিক মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। (৩) গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার সংকট ও ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’: যখন নাগরিক সমাজ বুঝতে পারে যে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রমাণাদিও কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব, তখন সমাজে এক চরম সংশয়বাদের জন্ম হয়। এর ফলে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকেও মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’ (Liar’s Dividend)- যেখানে প্রকৃত অপরাধীরাও নিজেদের বাস্তব অপরাধের ভিডিওকে ‘ডিপফেক’ বা ‘সাজানো’ বলে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।এই সর্বগ্রাসী সংকট থেকে উত্তরণের পথ কোনো একক ও সরল সমীকরণে আবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রযুক্তি খাতের এক সমন্বিত, বহুমাত্রিক ও কঠোর প্রতিরোধমূলক মহাপরিকল্পনা। যেমন- (ক) প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ (Algorithmic Countermeasures): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষাক্ত ছোবল থেকে বাঁচতে আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে (AI vs AI)। মেটা, গুগল, ওপেনএআই-এর মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে- যাতে তারা এমন শক্তিশালী ওয়াটারমার্কিং এবং ক্রিপ্টোগ্রাফিক মেটাডেটা প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে যেকোনো এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ইন্টারনেটে আপলোড হওয়া মাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডিপফেক’ হিসেবে চিহ্নিত বা ফ্ল্যাগড হয়ে যায়। (খ) আইনকাঠামোর আধুনিকায়ন ও কঠোর প্রয়োগ: বাংলাদেশের বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইন বা অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আইনগুলোকে আরও সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী করতে হবে। বিশেষ করে ‘ডিপফেক জালিয়াতি’ ও ‘ডিজিটাল ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন’-কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে- যাতে অপরাধীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সৃষ্টি হয়। (গ) মূলধারার গণমাধ্যমের রূপান্তর ও ফ্যাক্ট-চেকিং সেল: মূলধারার সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে কেবল দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় না নেমে, তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি বড় গণমাধ্যমে একটি সুসজ্জিত এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ফেক নিউজ ও ডিপফেক ডিটেকশন সেল’ থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। (ঘ) ডিজিটাল লিটারেসি ও সামাজিক প্রতিরোধ: একটি সমাজকে ভেতর থেকে সচেতন না করলে কেবল আইন দিয়ে অপরাধ দমন অসম্ভব। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের পাঠ্যসূচিতে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা ‘তথ্য সাক্ষরতা’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সাধারণ নাগরিককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার পূর্বে ‘থিংক বিফোর ইউ লিঙ্ক’ (Think Before You Link) নীতি অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।ডিপফেক এবং গুজব কেবল প্রযুক্তির বিবর্তনের কোনো নিরীহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটি মূলত সত্যের চিরন্তন ধারণার ওপর এক সুপরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক আঘাত। আমরা যদি এখনই সামষ্টিক বুদ্ধিমত্তা, কঠোর আইনি কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে এই ইনফোডেমিক বা তথ্যের মহামারীকে রুখে দিতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানবসভ্যতা এক অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে- যেখানে সত্য হবে আপেক্ষিক আর মিথ্যা হবে সর্বজনীন। সত্য ও মিথ্যার এই যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষে লড়াই করাটা আজ কেবল কোনো নৈতিক দায়িত্ব নয় বরং এই ডিজিটাল মহাবিশ্বে আমাদের মানবিক অস্তিত্ব, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক চূড়ান্ত ও অনিবার্য সংগ্রাম।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
জাতীয় ১৮ ঘণ্টা আগে

অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। একই সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের তৎপরতা, মাদক, জমি দখল এবং আবাসিক হোটেলগুলোতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত একটি ফ্যাসিস্ট সরকার এই রাষ্ট্রটি ভোগদখল করে রেখেছিল। তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, জনগণের ওপর জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যাপক দুর্নীতি করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। সেই অন্ধকার অবস্থা থেকে আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার গঠিত হয়েছে। দেশের এই নতুন পরিস্থিতিতে আমাদের আন্তরিকতা ও চেষ্টার কোনো কমতি নেই। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রশাসনের সকলে মিলে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে।ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে আমাদের আলাদাভাবে নজরদারি রাখতে হবে। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের অনেকে বর্তমানে ঢাকা সিটিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তারা যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে।’রাজধানী ও আশপাশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে এখন একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন এবং জেলা সিভিল সার্জন। এছাড়া বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।মাদক ও জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামি তিন মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রের চাকরি করেন। তাই রাষ্ট্রকে কীভাবে আরও ভালো রাখা যায়, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই প্রশাসনের সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত।’

এ সপ্তাহের রাশিফল
জাতীয় ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন-মেষ রাশি (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল): যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষেত্রে ধীরস্থির থাকা খুব প্রয়োজন। ধৈর্য ও একগ্রতা বৃদ্ধি করুন। স্বাস্থ্যে মনোযোগী হোন। পারিবারি বিষয়ে ধৈর্য রাখতে হবে। কর্মপরিবেশে অস্থিরতা থাকতে পারে। যানবাহন চলাচলে সাবধান থাকুন। রিসার্চ রিলেটেড বিষয় নিয়ে যথেষ্ট সফলতা আসবে। ভ্রমণজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল - ২১ মে): পেশাগত কাজে সাফল্য পাবেন। আর্থিক বিষয় নিয়ে মনোযোগী হোন। তথ্যগত ত্রুটি থাকতে পারে। কেউ কেউ শারীরিক অসুস্থতাজনিত সমস্যায় ভুগতে পারেন। দাম্পত্য জীবনে যথেষ্ট সমঝোতা দরকার। বিনোদন ও সৃজনশীল কাজে সফলতা পাবেন। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সফলতা আসবে।মিথুন রাশি ‌(২২ মে - ২১ জুন): মানসিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে লাভবান হওয়ার সম্ভবনা আছে। যানবাহন চলাচলে সাবধান থাকুন। শারীরিক ও মানসিক দিকে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করার চেষ্টা করুন। দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনে মতানৈক্য এড়িয়ে চলুন। ভ্রমণ শুভ।কর্কট রাশি (২২ জুন - ২৩ জুলাই): প্রচেষ্টার সফল বাস্তবায়ন দেখবেন। সামাজিক ব্যস্ততা বাড়বে। পেশাগত কাজে ভ্রমণ হতে পারে। আকস্মিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আর্থিক লেনদেন ও বিনিয়োগে সাবধান থাকুন। সৃজনশীল কাজে সফলতা পাবেন।পারিবারিক শান্তি-শৃঙ্খলা কিছুটা বিঘ্নিত হতে পারে। রোমান্টিক সম্পর্কে সমঝোতা দরকার।সিংহ রাশি ‌‌(২৩ জুলাই - ২৩ আগস্ট): ইতিবাচক সিদ্ধান্তের জন্য প্রশংসিত হবেন। আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। রোমান্টিক যোগাযোগ শুভ। যেকোনো চুক্তি সম্পাদন করার জন্য বেশ সম্ভাবনাময় সময়। প্রতিযোগিতামূক কাজে যুক্তদের জন্য বেশ ভালো সময়। বৈদেশিক সূত্রে লাভবান হতে পারেন। শত্রু সম্পর্কে সচেতন হোন।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট - ২৩ সেপ্টেম্বর): রাগ জেদ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। পেশাগত কাজে জটিলতা এড়িয়ে চলুন। শত্রু সম্পর্কে সচেতন হোন। যানবাহন চলাচলে সাবধান থাকুন। খাদ্য নির্বাচনে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জীবনসঙ্গীর অসুস্থতা আপনাকে বিচলিত করতে পারে।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর - ২৩ অক্টোবর): শারীরিকভাবে বিশেষ খেয়াল রাখার চেষ্টা করুন। আর্থিক বিষয় নিয়ে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কিছু বিষয়ে সাহসী পদক্ষেপ নিলে সফল হবেন। প্রেমে বা রোমান্টিক বিষয়ে মান অভিমান চলবে। গৃহ পরিবেশ আপনার অনুকূলে নাও থাকতে পারে। ভ্রমণ শুভ।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর - ২২ নভেম্বর): জেদের কারণে পারিবারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। প্রিয়জনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হবে। আপনার চিন্তাভাবনার বাস্তব প্রতিফলন হবে। সহকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। আর্থিক বিষয় শুভ। রোমান্টিক সম্পর্কে সমঝোতা দরকার।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর - ২১ ডিসেম্বর): পেশাগত ও ব্যবসায়িক বিষয়ে সফলতা আসবে।আবেগ সংযত রাখার চেষ্টা করুন। নিজ পরিমণ্ডলে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। ভ্রমণ শুভ। আর্থিক লেনদেনে খুব সাবধানে থাকবেন। কোনো চুক্তি সম্পাদন করার জন্য মনোযোগ বৃদ্ধি করুন।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর - ২০ জানুয়ারি): অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। স্পষ্ট কথা বলার জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে মনোযোগী হোন। সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকুন। যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্ক হোন। ভ্রমণ শুভ।কুম্ভ রাশি ‌‌(২১ জানুয়ারি - ১৮ ফেব্রুয়ারি): আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিবেন না। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি করুন। আনন্দ ভ্রমণ হতে পারে। কোনো ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন। রোমান্টিক যোগাযোগ শুভ।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি - ২০ মার্চ): মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। নিজ কাজ ও দায়িত্ব সম্পর্কে আন্তরিক থাকার চেষ্টা করুন। নিজের ব্যক্তিগত বিষয় অন্যের সঙ্গে আলাপ করবেন না। রোমান্টিক সম্পর্কে দৃঢ়তা প্রয়োজন। ভ্রমণ শুভ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
ছবি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বশরীরে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট:প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনের পর টাঙ্গাইলে সচেতনতামূলক র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের আঙিনা নিজ হাতে পরিষ্কার করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিজে ঝাড়ু হাতে নিয়ে এই মহতী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিজ হাতে পরিষ্কার করেন। একই সঙ্গে তিনি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস এবং অপ্রয়োজনীয় পানি জমার স্থানগুলো পরিষ্কার করার কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেন। এ সময় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।এর আগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেয়।পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ সময়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা যেকোনো স্থানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে সফল করতে সারা দেশে একই সঙ্গে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নিজেরাও যদি যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।এ সময় জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আব্দুল কুদ্দুছ, জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
গুজব ও ডিপফেক : সত্য-মিথ্যার নতুন সংকট
জাতীয়

গুজব ও ডিপফেক : সত্য-মিথ্যার নতুন সংকট

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল::মানবসভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে তথ্য ও জ্ঞানের আদান-প্রদানই ছিল ক্ষমতার মূল নিয়ামক ও প্রগতির চালিকাশক্তি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর উত্তর-আধুনিক পর্বে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও পঞ্চম প্রজন্মের (5G) প্রযুক্তির জ্যামিতিক বিকাশ তথ্যপ্রবাহের চিরন্তন ব্যাকরণকে আমূল ওলটপালট করে দিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক তথ্য-বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, যেখানে তথ্যের অবাধ ও গণতান্ত্রিক অভিগম্যতার সমান্তরালে এক চরম বিপর্যয়কর সংকটের অশুভ উত্থান ঘটেছে- যার নাম ‘গুজব ও ডিপফেক’। এই যমজ সংকট আজ কেবল সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে নাড়া দিচ্ছে না বরং তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমিকতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সনাতন কাঠামোকেও এক অস্তিত্ববাদী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তির এই অনৈতিক অপব্যবহারের ফলে বস্তুনিষ্ঠ সত্য ও কৃত্রিম মিথ্যার মধ্যকার যে সুক্ষ্ম বিভাজিকা ছিল- তা আজ চরমভাবে বিলুপ্তপ্রায়। ফলশ্রুতিতে মানবসমাজ অবতীর্ণ হয়েছে এক গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক (Epistemological), সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের অতল গহ্বরে।গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য (Misinformation & Disinformation) ছড়ানোর অপকৌশল মানব ইতিহাসের এক প্রাচীন ব্যাধি। আদিম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে আধুনিক বিশ্বযুদ্ধ-সবখানেই প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সাইবার-বাস্তবতায় এর বিস্তারের গতি ও ব্যাপ্তি ভৌগোলিক সীমানাকে অতিক্রম করে মহাজাগতিক রূপ ধারণ করেছে। এই ক্ষয়িষ্ণু প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও অত্যাধুনিক সংযোজন হলো ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম শাখা ‘ডিপ লার্নিং’ (Deep Learning) এবং জালিয়াতি বা ‘ফেক’ (Fake) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রযুক্তি মূলত জেনারেটিভ অ্যাডভারসারিয়াল নেটওয়ার্কস (GANs) নামক শক্তিশালী অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর মাধ্যমে যেকোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির কণ্ঠস্বর (Voice Cloning), মুখাবয়ব (Facial Re-enactment) এবং দৈহিক অঙ্গভঙ্গি অবিকল নকল করে কৃত্রিম অডিও ও ভিডিও ফাইল প্রস্তুত করা হয়। এর ভয়াবহতা এখানেই যে, একজন ব্যক্তি যে কথা কখনো উচ্চারণ করেননি কিংবা যে কর্মকাণ্ডে কখনো লিপ্ত হননি, তাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেই দৃশ্যপটে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলস্বরূপ, টেক্সট বা লেখনীভিত্তিক গুজবের সনাতন যুগ পেরিয়ে মানবজাতি এখন প্রবেশ করেছে ‘অতি-বাস্তবসম্মত’ (Hyper-realistic) অডিও-ভিজুয়াল মিথ্যার এক গোলকধাঁধায়- যেখানে চোখের দেখা কিংবা কানের শোনাকেও আর ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়ার উপায় নেই।ডিপফেক এবং সিন্থেটিক মিডিয়ার (Synthetic Media) বিধ্বংসী প্রভাব আজ আর কোনো তাত্ত্বিক আশঙ্কা নয় বরং এক কঠোর ও নির্মম বাস্তব। আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের যে পরিসংখ্যান ও খতিয়ান পাওয়া যায়- তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ব্রুকিং ইনস্টিটিউশন (Brookings Institution) -এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারনেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা উৎপাদিত ভুয়া ও বিকৃত তথ্যের পরিমাণ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ডিপট্রেস’(Deeptrace) -এর এক বৈশ্বিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইন্টারনেটে লভ্য ডিপফেক ভিডিওর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এবং এর একটি বিশাল অংশ সমাজ ও রাজনীতির স্থিতিশীলতা বিনষ্টের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।উন্নত দেশগুলোতে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে ‘গুজব ও ডিপফেক’ আকাশচুম্বী তো বটেই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রযুক্তির এই নেতিবাচক জোয়ার থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য-যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের (যেমন: রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব, বিডি ফ্যাক্টচেক) বার্ষিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার রাজনৈতিক, ধর্মীয়, গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কুৎসাভিত্তিক গুজব ও ডিপফেক কনটেন্ট সনাতন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিগত সাধারণ নির্বাচনগুলোর সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে চরিত্র হননের এক কুৎসিত সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া, স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয়ে ভুয়া অডিও ক্লিপ ও বিকৃত ছবি প্রচার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার একাধিক নারকীয় ঘটনা ঘটেছে- যা দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর এক প্রচণ্ড আঘাত।গবেষণাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রযুক্তির উৎকর্ষের চেয়েও মানুষের আদিম মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাই গুজব ও ডিপফেক বিস্তারের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-র গবেষকদের পরিচালিত একটি যুগান্তকারী মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বস্তুনিষ্ঠ সত্য খবরের তুলনায় একটি ভুয়া বা কাল্পনিক খবর ৬ গুণ দ্রুত মানবসমাজে পরিব্যপ্ত হয় এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের দ্বারা এটি ৭০ শতাংশ বেশি শেয়ার বা পুনঃপ্রচারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর মূল কারণ হলো মানুষের ‘কনফার্মেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা ‘নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত’। মানুষ স্বভাবগতভাবেই সেই তথ্য বা বিবরণীকে অতি দ্রুত সত্য বলে গ্রহণ করে, যা তার নিজের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাস, অন্ধ আবেগ কিংবা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের অনুকূলে যায়। ডিপফেক প্রযুক্তি মূলত মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক ফ্রন্টলাইনকেই আক্রমণ করে। যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘোর বিরোধী কোনো রাজনৈতিক চরিত্রের একটি চরম আপত্তিকর বা বিতর্কিত ভিডিও স্ক্রিনে দেখতে পান, তখন তার যৌক্তিক মস্তিষ্ক সেটির সত্যতা বা কারিগরি নির্ভুলতা যাচাই করার পূর্বেই মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেটিকে সত্য বলে রায় দিয়ে দেয়। এই মানসিক অসচেতনতাই অপতথ্য ও কৃত্রিম মিথ্যার সাম্রাজ্যকে দিন দিন আরও শক্তিশালী করে তুলছে।সমাজ, রাষ্ট্র ও সামগ্রিক নৈতিকতার অবক্ষয়ে ডিপফেক- এর বহুমাত্রিক অভিঘাত লক্ষণীয়। যেমন- (১) গণতন্ত্রের সংকট ও জনমতের ভাঙন: ডিপফেক প্রযুক্তির অবাধ বিস্তারের ফলে যেকোনো রাষ্ট্রীয় নির্বাচন বা জাতীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে কোনো প্রার্থীর এমন কোনো ভুয়া ও স্পর্শকাতর স্বীকারোক্তির ভিডিও প্রকাশ করা সম্ভব, যা জনমতকে সম্পূর্ণ উল্টো খাতে প্রবাহিত করতে পারে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর অসারতা প্রমাণিত হলেও, ততক্ষণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়ে যায়। (২) নারীর নিরাপত্তা ও জেন্ডারভিত্তিক সাইবার সহিংসতা: বিশ্বব্যাপী ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এর প্রায় ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রই হলো নারীর অনুমতিবিহীন পর্নোগ্রাফি বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত। এই প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমাজের প্রভাবশালী বা সাধারণ নারীদের সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার করা হচ্ছে- যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার, মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং সামাজিক মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। (৩) গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার সংকট ও ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’: যখন নাগরিক সমাজ বুঝতে পারে যে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রমাণাদিও কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব, তখন সমাজে এক চরম সংশয়বাদের জন্ম হয়। এর ফলে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকেও মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’ (Liar’s Dividend)- যেখানে প্রকৃত অপরাধীরাও নিজেদের বাস্তব অপরাধের ভিডিওকে ‘ডিপফেক’ বা ‘সাজানো’ বলে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।এই সর্বগ্রাসী সংকট থেকে উত্তরণের পথ কোনো একক ও সরল সমীকরণে আবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রযুক্তি খাতের এক সমন্বিত, বহুমাত্রিক ও কঠোর প্রতিরোধমূলক মহাপরিকল্পনা। যেমন- (ক) প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ (Algorithmic Countermeasures): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষাক্ত ছোবল থেকে বাঁচতে আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে (AI vs AI)। মেটা, গুগল, ওপেনএআই-এর মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে- যাতে তারা এমন শক্তিশালী ওয়াটারমার্কিং এবং ক্রিপ্টোগ্রাফিক মেটাডেটা প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে যেকোনো এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ইন্টারনেটে আপলোড হওয়া মাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডিপফেক’ হিসেবে চিহ্নিত বা ফ্ল্যাগড হয়ে যায়। (খ) আইনকাঠামোর আধুনিকায়ন ও কঠোর প্রয়োগ: বাংলাদেশের বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইন বা অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আইনগুলোকে আরও সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী করতে হবে। বিশেষ করে ‘ডিপফেক জালিয়াতি’ ও ‘ডিজিটাল ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন’-কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে- যাতে অপরাধীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সৃষ্টি হয়। (গ) মূলধারার গণমাধ্যমের রূপান্তর ও ফ্যাক্ট-চেকিং সেল: মূলধারার সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে কেবল দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় না নেমে, তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি বড় গণমাধ্যমে একটি সুসজ্জিত এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ফেক নিউজ ও ডিপফেক ডিটেকশন সেল’ থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। (ঘ) ডিজিটাল লিটারেসি ও সামাজিক প্রতিরোধ: একটি সমাজকে ভেতর থেকে সচেতন না করলে কেবল আইন দিয়ে অপরাধ দমন অসম্ভব। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের পাঠ্যসূচিতে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা ‘তথ্য সাক্ষরতা’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সাধারণ নাগরিককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার পূর্বে ‘থিংক বিফোর ইউ লিঙ্ক’ (Think Before You Link) নীতি অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।ডিপফেক এবং গুজব কেবল প্রযুক্তির বিবর্তনের কোনো নিরীহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটি মূলত সত্যের চিরন্তন ধারণার ওপর এক সুপরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক আঘাত। আমরা যদি এখনই সামষ্টিক বুদ্ধিমত্তা, কঠোর আইনি কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে এই ইনফোডেমিক বা তথ্যের মহামারীকে রুখে দিতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানবসভ্যতা এক অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে- যেখানে সত্য হবে আপেক্ষিক আর মিথ্যা হবে সর্বজনীন। সত্য ও মিথ্যার এই যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষে লড়াই করাটা আজ কেবল কোনো নৈতিক দায়িত্ব নয় বরং এই ডিজিটাল মহাবিশ্বে আমাদের মানবিক অস্তিত্ব, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক চূড়ান্ত ও অনিবার্য সংগ্রাম।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

১ ঘণ্টা আগে

অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। একই সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের তৎপরতা, মাদক, জমি দখল এবং আবাসিক হোটেলগুলোতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত একটি ফ্যাসিস্ট সরকার এই রাষ্ট্রটি ভোগদখল করে রেখেছিল। তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, জনগণের ওপর জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যাপক দুর্নীতি করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। সেই অন্ধকার অবস্থা থেকে আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার গঠিত হয়েছে। দেশের এই নতুন পরিস্থিতিতে আমাদের আন্তরিকতা ও চেষ্টার কোনো কমতি নেই। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রশাসনের সকলে মিলে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে।ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে আমাদের আলাদাভাবে নজরদারি রাখতে হবে। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের অনেকে বর্তমানে ঢাকা সিটিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তারা যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে।’রাজধানী ও আশপাশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে এখন একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন এবং জেলা সিভিল সার্জন। এছাড়া বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।মাদক ও জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামি তিন মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রের চাকরি করেন। তাই রাষ্ট্রকে কীভাবে আরও ভালো রাখা যায়, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই প্রশাসনের সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত।’

১৮ ঘণ্টা আগে
অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন-মেষ রাশি (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল): যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষেত্রে ধীরস্থির থাকা খুব প্রয়োজন। ধৈর্য ও একগ্রতা বৃদ্ধি করুন। স্বাস্থ্যে মনোযোগী হোন। পারিবারি বিষয়ে ধৈর্য রাখতে হবে। কর্মপরিবেশে অস্থিরতা থাকতে পারে। যানবাহন চলাচলে সাবধান থাকুন। রিসার্চ রিলেটেড বিষয় নিয়ে যথেষ্ট সফলতা আসবে। ভ্রমণজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল - ২১ মে): পেশাগত কাজে সাফল্য পাবেন। আর্থিক বিষয় নিয়ে মনোযোগী হোন। তথ্যগত ত্রুটি থাকতে পারে। কেউ কেউ শারীরিক অসুস্থতাজনিত সমস্যায় ভুগতে পারেন। দাম্পত্য জীবনে যথেষ্ট সমঝোতা দরকার। বিনোদন ও সৃজনশীল কাজে সফলতা পাবেন। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সফলতা আসবে।মিথুন রাশি ‌(২২ মে - ২১ জুন): মানসিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে লাভবান হওয়ার সম্ভবনা আছে। যানবাহন চলাচলে সাবধান থাকুন। শারীরিক ও মানসিক দিকে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করার চেষ্টা করুন। দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনে মতানৈক্য এড়িয়ে চলুন। ভ্রমণ শুভ।কর্কট রাশি (২২ জুন - ২৩ জুলাই): প্রচেষ্টার সফল বাস্তবায়ন দেখবেন। সামাজিক ব্যস্ততা বাড়বে। পেশাগত কাজে ভ্রমণ হতে পারে। আকস্মিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আর্থিক লেনদেন ও বিনিয়োগে সাবধান থাকুন। সৃজনশীল কাজে সফলতা পাবেন।পারিবারিক শান্তি-শৃঙ্খলা কিছুটা বিঘ্নিত হতে পারে। রোমান্টিক সম্পর্কে সমঝোতা দরকার।সিংহ রাশি ‌‌(২৩ জুলাই - ২৩ আগস্ট): ইতিবাচক সিদ্ধান্তের জন্য প্রশংসিত হবেন। আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। রোমান্টিক যোগাযোগ শুভ। যেকোনো চুক্তি সম্পাদন করার জন্য বেশ সম্ভাবনাময় সময়। প্রতিযোগিতামূক কাজে যুক্তদের জন্য বেশ ভালো সময়। বৈদেশিক সূত্রে লাভবান হতে পারেন। শত্রু সম্পর্কে সচেতন হোন।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট - ২৩ সেপ্টেম্বর): রাগ জেদ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। পেশাগত কাজে জটিলতা এড়িয়ে চলুন। শত্রু সম্পর্কে সচেতন হোন। যানবাহন চলাচলে সাবধান থাকুন। খাদ্য নির্বাচনে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জীবনসঙ্গীর অসুস্থতা আপনাকে বিচলিত করতে পারে।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর - ২৩ অক্টোবর): শারীরিকভাবে বিশেষ খেয়াল রাখার চেষ্টা করুন। আর্থিক বিষয় নিয়ে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কিছু বিষয়ে সাহসী পদক্ষেপ নিলে সফল হবেন। প্রেমে বা রোমান্টিক বিষয়ে মান অভিমান চলবে। গৃহ পরিবেশ আপনার অনুকূলে নাও থাকতে পারে। ভ্রমণ শুভ।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর - ২২ নভেম্বর): জেদের কারণে পারিবারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। প্রিয়জনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হবে। আপনার চিন্তাভাবনার বাস্তব প্রতিফলন হবে। সহকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। আর্থিক বিষয় শুভ। রোমান্টিক সম্পর্কে সমঝোতা দরকার।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর - ২১ ডিসেম্বর): পেশাগত ও ব্যবসায়িক বিষয়ে সফলতা আসবে।আবেগ সংযত রাখার চেষ্টা করুন। নিজ পরিমণ্ডলে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। ভ্রমণ শুভ। আর্থিক লেনদেনে খুব সাবধানে থাকবেন। কোনো চুক্তি সম্পাদন করার জন্য মনোযোগ বৃদ্ধি করুন।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর - ২০ জানুয়ারি): অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। স্পষ্ট কথা বলার জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে মনোযোগী হোন। সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকুন। যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্ক হোন। ভ্রমণ শুভ।কুম্ভ রাশি ‌‌(২১ জানুয়ারি - ১৮ ফেব্রুয়ারি): আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিবেন না। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি করুন। আনন্দ ভ্রমণ হতে পারে। কোনো ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন। রোমান্টিক যোগাযোগ শুভ।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি - ২০ মার্চ): মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। নিজ কাজ ও দায়িত্ব সম্পর্কে আন্তরিক থাকার চেষ্টা করুন। নিজের ব্যক্তিগত বিষয় অন্যের সঙ্গে আলাপ করবেন না। রোমান্টিক সম্পর্কে দৃঢ়তা প্রয়োজন। ভ্রমণ শুভ।

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল

টাঙ্গাইলে টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় দৈনিক ‘ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের ভিআইপি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। টাইমস অব বাংলাদেশ এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পূর্বাকাশ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য জোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ এর জেলা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন সুমন ও গ্লোবাল টেলিভিশন এর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি রুমি আক্তার পলি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সাংবাদিকতা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত পেশা। তারা সমাজ ও দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনীতিবিদদের যেমন ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, তেমনি সাংবাদিকরাও দিন-রাত দায়িত্ব পালন করেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে পাঠকের বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস ধরে রাখতে হলে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ, সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা এবং কোনো ধরনের পক্ষপাত এড়িয়ে চলা জরুরি। পরিবর্তিত সময়ে পাঠকের চাহিদা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টাইমস অব বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।তিনি বলেন, টাইমস অব বাংলাদেশ পত্রিকাটি আমি নিয়মিত পড়ি। পত্রিকাটির মেকআপ, গেটআপ ও গ্রাফিক্স ডিজাইন অন্য পত্রিকার চেয়ে ব্যতিক্রম। এক বছরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পত্রিকাটি পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী দিনে টাইমস অব বাংলাদেশ বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।টাইমস অব বাংলাদেশ এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নাহিদ হোসেন বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে এক বছরে টাইমস অব বাংলাদেশ দল মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির পাঠকদের কাছে ইতোমধ্যে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। পত্রিকাটির মেকআপ, গেটআপ ও গ্রাফিক্স ডিজাইন ইতিমধ্যে পাঠকদের কাছে যথেষ্ট সারা ফেলেছে। বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ডিএফপির তালিকাভুক্ত তৃতীয় নম্বরে অবস্থান করছে টাইমস অব বাংলাদেশ।আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি সকল অতিথিদের সাথে নিয়ে পত্রিকাটির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলে টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

ডিম-মাংসের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে : প্রতিমন্ত্রী টুকু

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:কৃষির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের পোল্ট্রি খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। একই সঙ্গে প্রান্তিক খামারিদের মুরগি ও ডিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (BPICC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রি খাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মান নিশ্চিত করতে হবে। খামারিরা যেন তাদের উৎপাদিত ডিম ও মুরগির ন্যায্যমূল্য পান, আবার সাধারণ মানুষও যেন সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের ডিম ও মাংস কিনতে পারেন, সে বিষয়টি সমন্বয় করে এগোতে হবে।তিনি বলেন, ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়ানো গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং এর ফলে দামও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে পোল্ট্রি খাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং ডিম, মাংস ও পোল্ট্রি ফিডের মান নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, খামারি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে কাজ করলে এ খাত আরও শক্তিশালী হবে। দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও মানসম্মত আমিষের জোগান নিশ্চিত করতে পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (FIAB) ও বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (BPICC)-এর সভাপতি মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (BAB)-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, FIAB-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আহসানউজ্জামান, WPSA-BB-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, BPICC-এর সচিব এটিএম মোস্তফা কামাল এবং নরিশ (Nourish)-এর পরিচালক রফিকুল ইসলাম (বাবু)সহ পোল্ট্রি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিম-মাংসের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে : প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
কালোবাজারে পাচারকালে ৩৯৫ বস্তা সারসহ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

কালোবাজারে পাচারকালে ৩৯৫ বস্তা সারসহ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

মধুপুর প্রতিনিধি:কালোবাজারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া ৩৯৫ বস্তা সারসহ মিঠু নামে এক ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সার ও ট্রাক জব্দ করে মধুপুর থানায় রাখা হয়েছে। জব্দকৃত সারের আনুমানিক মূল্য চার লাখ ৩৯ হাজার ৪৫০ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার মেসার্স মেজবাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ১২৭ বস্তা টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও ২৬৮ বস্তা এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার শুক্রবার(৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পাচার করছিলেন। খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার জলছত্র এলাকা থেকে সারসহ ট্রাকটি আটক করে। এ সময় ট্রাকচালক মিঠু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে।কালোবাজারে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যরা হচ্ছেন- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকার মো. আবু ইসহাকের ছেলে মো. আসাদুজ্জামান এবং মো. রুবেল মিয়া নামে এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন। আসাদুজ্জামান মেসার্স মা-বাবা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। ওই ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক(এসআই) বিমলচন্দ্র পাইন বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি-তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রাক ও সার জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে চালক মিঠুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সার পাচারে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালিহাতীতে সরকারের ১৫ কোটি টাকা গচ্চার আশঙ্কা!

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কোনো প্রকার পানি প্রবাহ না থাকা সত্ত্বেও একটি পরিত্যক্ত ডোবার ওপর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। পানি প্রবাহহীন এই স্থানে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন করে সেতু নির্মাণকে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার ‘মহাপচয়’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো জনস্বার্থ ছাড়াই কেবল কাগজ-কলমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখানে সেতু না করে স্থানটি মাটি ভরাট করে সোজা সড়ক নির্মাণ করলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা কমবে, অন্যদিকে সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।সংশ্লিষ্ট সওজ বিভাগ ও দরপত্র সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নতুন একটি ৩৮ মিটার দীর্ঘ আরসিসি-পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য প্রথমে ১৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরবর্তীতে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ শেষে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ‘তুর্ন এন্টাপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে জানা যায়, প্রস্তাবিত সেতু এলাকার চারপাশে এখন ঘনবসতি এবং অসংখ্য পাকা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর গড়ে উঠেছে। ভৌগোলিক বাস্তবতায় এখানে কোনো নদী, খাল বা বিলের অস্তিত্ব নেই। এমনকি অর্ধশত বছর আগেই এই এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে এটি একটি সাধারণ ডোবা ছাড়া আর কিছুই নয়।উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম, আজগর আলী, শামীম মন্ডল সহ অনেকেই জানান, এমন একটি মৃত ডোবার ওপর পুরাতন জরাজীর্ণ সেতুটি ভেঙে নতুন করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি সেতু নির্মাণের এই বিশাল আয়োজন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এটিকে স্রেফ সরকারি অর্থের অপচয়ের একটি নতুন প্রকল্প বলে আখ্যায়িত করেছে স্থানীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ।এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বর্তমানে থাকা সেতুটির কারণে ব্যস্ততম এই আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড অংশে একটি বিপজ্জনক মোড়ের (ব্লাইন্ড স্পট) সৃষ্টি হয়েছে। এই ত্রুটিপূর্ণ বাঁকের কারণে প্রতিনিয়ত এখানে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ঝরছে তাজা প্রাণ। এছাড়া সেতুর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আশেপাশের বাণিজ্যিক এলাকার সার্বিক উন্নয়নও থমকে রয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের জোর দাবি, সেতুর পরিবর্তে এই স্থানে মাটি ভরাট করে সোজা ও প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হোক। এতে মহাসড়কটি নিরাপদ হবে, দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামবে এবং যানজটমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়ে নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ‘ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং’ (বিএমডব্লিউ)-এর নিয়মিত পরিদর্শন, সমীক্ষা ও টেকনিক্যাল প্রতিবেদন অনুযায়ীই এই সেতুটি পুনর্নিমাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক মহাসড়কের চেইনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ডিজাইন অনুমোদন করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে এই আত্মঘাতী ও অপচয়মূলক প্রকল্পটি দ্রুত পুনঃমূল্যায়ন করা হোক। সেই সাথে সেতুর পরিবর্তে সোজা সড়ক নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি মো. আবুল মনছুর জানান, রাষ্ট্রের টাকা অপচয়রোধসহ দুঘর্টনারোধে সেতুরস্থানে সোজা করে সড়ক নির্মাণ করা হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ হবে একই সঙ্গে সরকারি অর্থ জনগনের কাজে আসবে। যেখানে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা কমার বদলে আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরী খান জানান, কোন জলাশয় বন্ধ করার এখতিয়ার তাদের নেই। ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা কমবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।তিনি জানান, গত ৭ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন নতুন সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন।

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কালিহাতীতে সরকারের ১৫ কোটি টাকা গচ্চার আশঙ্কা!

কালিহাতীতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

​কালিহাতী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মহেলা গ্রামে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘মহেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহেলা রাবেয়া সিরাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ওই হাইভোল্টেজ খেলায় ভাবলা স্পোর্টিং ক্লাবকে টাইব্রেকারে ৯-৮ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে হিন্নাইপাড়া ফুটবল একাদশ।‘খেলাধুলায় বাড়ে মনোবল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল’ স্লগোনে গ্রামবাসীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও যৌথ উদ্যোগে টুর্নামেন্টটির আয়োজন করা হয়।​খেলার শুরু থেকেই উভয় দলের খেলোয়াড়দের নান্দনিক আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণে পুরো মাঠ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময়ের খেলা সমতায় শেষ হলে ম্যাচটি গড়ায় রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে। চরম উত্তেজনাপূর্ণ পেনাল্টি শুটআউটে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় হিন্নাইপাড়া ফুটবল একাদশ। হাজারো দর্শকের মুহুর্মুহু করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ।​ফাইনাল খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া পরিষদের সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন।​মহেলা রাবেয়া সিরাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আলহাজ্ব নূর বাদশা সরকারের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ​এলেঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শাফি খান, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালযয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ​মো. মোজাম্মেল হক হিরো, সহদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ​মো. মাসুদুর রহমান বালা।অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, এলেঙ্গা পৌর যুবদলের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন। খেলায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়ামোদীরা উপস্থিত ছিলেন ।​

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কালিহাতীতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

ঠেলাগাড়ি উল্টে চালক নিহত

কালিহাতী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতী-রতনগঞ্জ সড়কে সেতু থেকে নামার সময় লাকড়ি বোঝাই ঠেলাগাড়ি উল্টে চালক আলমাস আলী (৫০) নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের রতনগঞ্জ বাজার সেতুতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলমাস আলী সখীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা।স্থানীয়রা জানায়, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রতনগঞ্জ বাজারের নতুন সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে পাশের পুরোনো সেতুর আংশিক ঢালু অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। শনিবার সকালে আলমাস আলী লাকড়ি বোঝাই ঠেলাগাড়ি ঠেলে রতনগঞ্জ বাজারে যাচ্ছিলেন। সেতু দিয়ে নামার সময় হঠাৎ ঠেলাগাড়িটি উল্টে গেলে তিনি ওই ঠেলাগাড়ির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। আলমাস আলী সখীপুরে মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে একজন অফিসার পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঠেলাগাড়ি উল্টে চালক নিহত

কালিহাতীতে ঘুষ নিয়ে সাজানো হয় মাদকের নাটক!

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে তল্লাশির নামে ৬৫ বছরের প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্য রাস্তায় চড়-থাপ্পড় মেরে থানায় নিয়ে নির্যাতন, পকেট থেকে টাকা ছিনতাই এবং পরিবারের কাছ থেকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ আদায়ের এক লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত এসআই মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বর্তমানে কালিহাতী থানার বল্লা ইউনিয়ন বিটের দায়িত্বে রয়েছেন। এই অন্যায়ের প্রতিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী আ. ছালামের অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট বিকালে বল্লা বাজারের মেইন রোডে দাঁড়িয়ে ছিলেন বল্লা চকপাড়া গ্রামের মৃত লেবু মিয়ার ছেলে প্রতিবন্ধী আ. ছালাম। এ সময় এসআই আসাদুজ্জামান অপর এক পুলিশ সদস্যসহ মোটরসাইকেলে এসে তাকে তল্লাশি করতে চান। ছালাম নিজের কাছে অবৈধ কিছু নেই বলা মাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন ওই এসআই। পরে হাতকড়া পরিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানার দোতলায় আটকে রেখে তাকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ বানানোর জন্য চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। এক পর্যায়ে নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে প্রতিবন্ধী আ. ছালাম নিজের কাছে ‘২ পুরিয়া গাঁজা’ থাকার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। স্বীকারোক্তি আদায়ের পর এসআই আসাদুজ্জামান প্রথমে ছালামের পকেটে থাকা ১৯ হাজার ৫০০ টাকা কেরে নেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার অসহায় পরিবারের কাছ থেকে আরও ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু মোট ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ পকেটে ভরেও শেষ রক্ষা হয়নি ওই প্রতিবন্ধীর। ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং নিজের পিঠ বাঁচাতে পরদিন ৩ আগস্ট তাকে এসিল্যান্ড অফিসে হাজির করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের সাজা দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৫ দিন কারাভোগের পর গত ১৮ আগস্ট মুক্তি পেয়েই এই আইনি লড়াইয়ে নামেন তিনি।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআই আসাদুজ্জামান বল্লা ইউনিয়ন বিটের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় সাধারণ মানুষকে নানাভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছেন। তার এই লাগামহীন হয়রানিতে বল্লা এলাকায় তীব্র গণরোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্ত এই পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।এ বিষয়ে প্রতিবন্ধী আ. ছালামের দেওয়া অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার(কালিহাতী সার্কেল) মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটির বিষয়ে তিনি সাক্ষ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন। তিনি যথাসময়ে পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবেন।

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কালিহাতীতে ঘুষ নিয়ে সাজানো হয় মাদকের নাটক!
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ
খেলাধুলা

প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পদার্থ বিজ্ঞানের বন্ধনে, প্রাক্তনদের মিলনে- আগামীর পথে একসাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়।এদিন সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের হলরুমে গিয়ে অ্যালামনাই ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সচিব মাসুম বেগ, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক সাব্বির হাসান পল সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। দিনব্যাপী ওই পুনর্মিলনীকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

আব্দুস সাত্তার:নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

২০ আগস্ট ২০২৬
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

মোস্তফা কামাল নান্নু: এক সময় ব্যাট হাতে মাঠ মাতানো ক্রিকেটার ইকবাল খান এখন শয্যাশায়ী। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দুই পায়ে স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কথা বলাও। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। এর মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এখন বৃদ্ধ বাবা-মা, বন্ধু ও স্বজনরাই তাঁর একমাত্র ভরসা।ইকবাল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রতন খানের ছেলে। এক সময় বিকেল হলেই ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে ছুটতেন তিনি। ক্রিকেট ও ফুটবলে পারদর্শী ইকবালের খেলা দেখতে গ্রামের মানুষ ভিড় করতেন। পাশাপাশি ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে করে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইকবাল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। ধারদেনা করে কয়েকবার চিকিৎসা করানো হলেও অর্থের অভাবে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে যান। এখন বাড়ির একটি ঘরেই কাটছে তাঁর দিন। কথা বলতে না পারলেও চোখের দৃষ্টিতে নিজের কষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।ইকবালের বাবা রতন খানের বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও চায়ের দোকান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে ওষুধ ও পরিবারের খাবার জোগাড় করেন। ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করতে করতে নিঃস্ব পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বসতভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। ইকবালের বন্ধু ও স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তাঁকে সহায়তা করেছেন। তবে চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়।পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ইকবাল তাঁর বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। মেধাবী ও বিনয়ী এই তরুণের এমন অবস্থা দেখে কষ্ট হয়। তাঁর চিকিৎসায় সরকারি ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, ইকবালের অসুস্থতার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তাঁকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।ইকবাল এখন শুধু চিকিৎসা ও মানুষের সহযোগিতা চান। তাঁর পরিবারের আশা, সহায়তা পেলে আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন তিনি।

১৯ আগস্ট ২০২৬
অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইল শহরের একসময়ের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী ‘ভাসানী হল’ আজ ধুলোবালি, ভাঙাচোরা দেয়াল আর তালাবদ্ধ কক্ষের নিস্তব্ধতায় ঢাকা। দীর্ঘদিনের অযত্ন, অবহেলা, সংস্কারের অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এই মিলনায়তনটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। যে প্রাঙ্গণ একসময় নাটক, সংগীত, নৃত্য, কবিতা, বইমেলা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক নানা আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকত, সেখানে এখন চেপে বসেছে এক ভীতিকর পরিবেশ। বর্তমানে দিনে হলটির বারান্দায় বসেছে পানের দোকান আর প্রাঙ্গণটি ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাকস্ট্যান্ড হিসেবে। সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা চলে যায় অন্ধকার ও অপরাধীদের দখলে; হয়ে ওঠে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড্ডাখানা। এতে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ বাড়ছে।জানাগেছে, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ‘টাঙ্গাইল টাউন হল’ নামে এটি নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ হাবিবুল্লাহ্-এর অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র দুই বছরে এটি বাস্তব রূপ লাভ করে। পরে ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান। পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে সর্বসম্মতিক্রমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ভাসানী হল’। এরপর থেকেই এটি জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায় এবং অনন্য ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।স্থানীয় প্রবীণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, আগে পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল। বিভিন্ন উপলক্ষে তারা নাটকের আয়োজন করত এবং পুরো টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই ভাসানী হলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। প্রায় ১,০০০ আসনবিশিষ্ট এই আধুনিক মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দশক ধরে টাঙ্গাইলের নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক সমাবেশের প্রধান ভেন্যু ছিল এটি। প্রতি বছর ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল এখানে এসে নাট্যোৎসব করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সংগঠনগুলো হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ভবনটি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অবশেষে প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় জেলার অন্যতম বড় এই মিলনায়তনের কার্যক্রম।স্থানীয়রা মনে করেন, ভাসানী হল শুধু একটি কংক্রিটের ভবন নয়; এটি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারকটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে প্রায় এক দশক আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ২০১৫ সালেও একবার এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে হলের দেয়ালে দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে, ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। হলের ভেতরের অধিকাংশ কক্ষ দীর্ঘ বছর ধরে তালাবদ্ধ ও ধুলোবালির স্তূপে পরিণত হয়েছে।টাঙ্গাইলের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মতে, ভাসানী হল বন্ধ হওয়ার পর থেকে জেলার বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বড় পরিসরে কোনো অনুষ্ঠান বা নাটক মঞ্চস্থ করার মতো বিকল্প কোনো আধুনিক মিলনায়তন পুরো শহরে আর নেই। ২০১৫ সালে একবার হলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন আজ অবধি দেখা যায়নি। দীর্ঘ অবহেলার পর চলতি বছরের ১২ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক হলটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন।টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুরকার-গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু জানান, ভাসানী হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এক হাজার আসন বিশিষ্ট এই মিলনায়তনটিতেই জেলার সব সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। শুধু তাই নয়, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করতো। এছাড়া এ ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র ছিল হলটি।তিনি আক্ষেপ করে জানান, আগের মতো বড় বড় অনুষ্ঠান তারা করতে পারেন না। অনুষ্ঠান করতে এখন শিল্পকলা একাডেমিতে যেতে হয়- শিল্পকলা একাডেমির অবস্থান শহরের কেন্দ্রবিন্দুর বাইরে, সেখানে রাতে মানুষ যেতে চায়না।কবি মাহমুদ কামাল জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত এ হলটিকে পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করার দাবি ছিল। হলটি মওলানা ভাসানীর নামে থাকায় বিগত সরকার সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, ভাসানী হলটি পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হোক।টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান জানান, টাঙ্গাইল একটি সাংস্কৃতিক নগরী এবং পুরাতন জেলা। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিকচর্চার অন্যতম প্রধান জায়গা হচ্ছে ভাসানী হল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে গতিশীল রাখার জন্য ভাসানী হল খুবই প্রয়োজন।তিনি আরো জানান, মাদকের ছোবল এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে ক্রীড়া অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তার জন্য একটি ভালো অডিটরিয়াম প্রয়োজন। তিনি দ্রুত ভাসানী হলের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের দাবি করেন।টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুননির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

১৭ আগস্ট ২০২৬
অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’