সর্বশেষ
মাদক-জুয়া ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
জাতীয় • ১০ মিনিট আগে

মাদক-জুয়া ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

দৃষ্টি নিউজ:শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ও জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। তবে কমিটিগুলো কবে গঠন করা হবে এবং এর কাঠামোতে কারা থাকবেন, বিজ্ঞপ্তিতে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত ৩০ জুন মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত কমিটির কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।এদিকে চলতি বছর প্রণীত জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এও জুয়া প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুয়ার কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আইন প্রয়োগ, সমন্বয়, তদারকি ও নীতিগত নির্দেশনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মির্জাপুরের কামারপাড়া ব্রিজ এক অন্তহীন দুর্ভোগের নাম
অর্থনীতি • ১৯ মিনিট আগে

মির্জাপুরের কামারপাড়া ব্রিজ এক অন্তহীন দুর্ভোগের নাম

বুলবুল মল্লিক:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর নির্মাণের ছয় বছর পার হলেও ব্রিজের সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। মূল ব্রিজের কাজ অসম্পূর্ণ রাখার পর এবার সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণকাজে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। ফলে নিত্যদিনের যাতায়াতে তীব্র ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ। বর্তমানে অচল পড়ে থাকা এই ব্রিজে উঠতে স্থানীয়দের ব্যবহার করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।এলজিইডি সূত্রে জানাগেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কামারপাড়া নদীর ওপর ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ব্রিজের রেলিং নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি পড়ে আছে। মূল কাঠামোর কাজ শেষে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন আটকে থাকে সংযোগ সড়ক নির্মাণ। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুন মাসে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হলেও গত ১৫ মাসে তার অর্ধেকও সম্পন্ন হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই স্থানীয়দের ঝুঁঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো বেয়ে ব্রিজে উঠে নদী পার হতে হচ্ছে।সরেজমিনে কামারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়- জনদুর্ভোগের এক চরম চিত্র। ব্রিজের উত্তর পাশে নামমাত্র কিছু মাটি ফেলে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হলেও তা এখন প্রায় বন্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একদিন কাজ করলে সাতদিন কাজ বন্ধ রাখে। ফলে মূল রাস্তা থেকে প্রায় ৫০ ফুট খাড়া ও আঁকাবাঁকা ঢালু পথ বেয়ে অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণভাবে মানুষ ব্রিজে উঠছেন। অন্যদিকে, ব্রিজের দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে ব্রিজের ওপর পর্যন্ত একটি বাঁশের সাঁকো দেওয়া হয়েছে। সময় ও শ্রম বাঁচাতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শ’ শ’ মানুষ এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।কামারপাড়া গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার বয়স সত্তরে পৌঁছেছে। অনেক ইচ্ছা ছিল এই ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে পার হয়ে বাজারে যাবো। কাজের যে অবস্থা তাতে সেই আশা পূরণ হবে কিনা আল্লাহই জানেন। কর্তৃপক্ষের এদিকে দ্রুত নজর দেওয়া উচিত।’একই গ্রামের বাসিন্দা আবজাল হোসেন ব্রিজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। কামারপাড়া নদীর ওপর ব্রিজটি সম্পূর্ণ হলে মির্জাপুর থেকে ধামরাই হয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়া সম্ভব হবে। এতে মির্জাপুরের সাথে ধামরাই ও মানিকগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। দক্ষিণ মির্জাপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, মির্জাপুর-কামারপাড়া-ধানতারা সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক। তাছাড়া মির্জাপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই সড়কটি একটি চমৎকার বিকল্প রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।’ধীরগতির বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর পার্টনার মো. ইসলাম বলেন, ‘মূল ব্রিজটি হতে অনেক বেশি সময় লেগেছে, তাও আবার কিছুটা অসম্পূর্ণ। আসলে সংযোগ সড়কের কাজটা একটু জটিল। তাছাড়া ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা ছিল- যা নিরসন করতে বেশ সময় লেগেছে। এর ওপর দীর্ঘ একটা সময় বৃষ্টি থাকায় কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে কাজ শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা কাজ সম্পূর্ণ করতে পারব।’ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ব্রিজের মূল কাজে এমনিতেই অনেক বেশি সময় নেওয়া হয়েছে। এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় অনেকদিন কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরবর্তীতে আমি ঠিকাদার এবং স্থানীয়দের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহা করতে সক্ষম হয়েছি। এখন জমি সংক্রান্ত সব ঝামেলা শেষ, কাজও চলছে। তবে জনভোগান্তি কমাতে কাজের গতি আরো অনেক বাড়ানো দরকার বলে আমি মনে করি।’মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি মির্জাপুরে যোগদান করেই এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিয়েছি। কামারপাড়া ব্রিজের বাকি থাকা পুরো কাজ এবং সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের ইতিপূর্বেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের জটিলতা এখন নিরসন হয়েছে।’টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বা জনভোগান্তি তৈরি করা বরদাশত করা হবে না। কামারপাড়া ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি সংক্রান্ত যেসব আইনি ও স্থানীয় জটিলতা ছিল- তা ইতোমধ্যেই সমাধান করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের গতি বাড়িয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির প্রকৌশল বিভাগ থেকে কাজের নিয়মিত তদারকি চলছে। দ্রুতই ওই সেতুটি জনগণের যোগাযোগের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা যাবে।

ঘাটাইলের সব সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ
ছবি • ২৭ মিনিট আগে

ঘাটাইলের সব সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ

ঘাটাইল প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাংবাদিকরা এবার একত্রিত হয়ে একটি অভিন্ন সংগঠনের আওতায় আসলেন। সোমবার(২১সেপ্টম্বর) বিকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সকল সাংবাদিকদের স্বতঃফুর্ত অংশ গ্রহনে আনন্দঘন মুহুর্তের মধ্য দিয়ে ঘাটাইল প্রেসক্লাব ১৯৮৫ এর নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।এক সময় ঘাটাইলে সাংবাদিকদের ৬টি সংগঠন থাকায় সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়। উপজেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন সাংবাদিকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একত্রিত করার কাজ সফলতা অর্জন করে। এখন সব সাংবাদিকদের ঠিকানা ‘ঘাটাইল প্রেসক্লাব’- যা ১৯৮৫সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিকদের ভবন উদ্বোধনী আনুষ্ঠানে ঘাটাইল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক দৈনিক ইত্তেফাক ঘাটাইল সংবাদদাতা নুরুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমানের সঞ্চালনায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স হলরুমে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক খান ফজলুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. মাহমাদুল হাসান।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঘাটাইল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম শফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন হেলাল, সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, জিবিজি সরকারি কলেজের সাবেক এজিএস মো. সেলিম রেজা, জামুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম সুলতান, যুবদল নেতা আফজাল হোসেন, ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, জামাতে ইসলাম বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহকারী সাধারণ সম্পাদক হোসেনে মোবারক বাবুল, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সারোয়ার জাহান কলি, আনোয়ার হোসেন বকুল, উত্তম কুমার আর্য্য, গোলাম মোস্তফা তালুকদার, এবিএম আতিকুর রহমান, রবিউল আলম বাদল প্রমুখ।বক্তারা স্থানীয় সমস্যা সমাধান ও জনস্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়- শিগগির সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। সাংবাদিকরা আশা প্রকাশ করেন, এই ঐক্য ঘাটাইলে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের আরও শক্তিশালী করবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত কমিটি গঠন ও ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ
অর্থনীতি • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তদন্ত কমিটি গঠন ও ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের বাসাইলে এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জালিয়াতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সাথে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দে শনা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এলজিইডি’র ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরের supRB এর প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর ও টাঙ্গাইল এলজিইডি’র পক্ষ থেকে গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। মঙ্গলবার(২২ সেপ্টেম্বর) দিনভর প্রকল্প এলাকায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন ও অংশীজনদের মতামত-বক্তব্য গ্রহণ করেছে।এলজিইডি’র সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর কর্তৃক গঠিত ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাকিল হোসেন ও একই প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকিউল আলম। টাঙ্গাইল এলজিইডি কর্তক ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- টাঙ্গাইল এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. তৌহিদুর রহমান(আহ্বায়ক), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী ইফতেখার আহম্মেদ(সদস্য সচিব), টাঙ্গাইল এলজিইড ‘র সহকারী প্রকৌশলী সাকিব-উল-হাফিজ(সদস্য), উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান(সদস্য) ও ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. আলোব্বর হোসেন(সদস্য)। সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর) গঠিত তদন্ত কমিটি সমূহকে ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ‘বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া সড়কে ৯০.০৬ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজ’ নির্মাণ কাজ চলছে। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ যৌথভাবে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মো. ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেভি)’।অভিযোগ উঠেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলা প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে না জানিয়ে অন্ধকারে তড়িঘড়ি করে ব্রিজের Wheel Guard এর স্ল্যাব ঢালাই কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ঢালাইয়ের ভেতর রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী ফাত্তাউর রহমান ব্রিজের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে শো’কজ করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এই অনিয়মের খবর গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে অবহিত না করে রাতের অন্ধকারে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত।নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পত্র প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে ওই ত্রুটিপূর্ণ ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ঢালাই ভেঙে সাইট থেকে অপসারণ করতে হবে। পরবর্তীতে ল্যাবে পরীক্ষা করে মালামালের গুণগতমান নিশ্চিত পূর্বক উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নিয়ম মোতাবেক পুনরায় ঢালাই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ঠিকাদারি চুক্তি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
মাদক-জুয়া ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
জাতীয়

মাদক-জুয়া ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

দৃষ্টি নিউজ:শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ও জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। তবে কমিটিগুলো কবে গঠন করা হবে এবং এর কাঠামোতে কারা থাকবেন, বিজ্ঞপ্তিতে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত ৩০ জুন মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত কমিটির কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।এদিকে চলতি বছর প্রণীত জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এও জুয়া প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুয়ার কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আইন প্রয়োগ, সমন্বয়, তদারকি ও নীতিগত নির্দেশনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

১০ মিনিট আগে

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু

দৃষ্টি নিউজ:২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সশরীরে কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। এ কার্যক্রম চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে মাইগ্রেশনের ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তা চূড়ান্তভাবে জানানো হয়েছে।একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু:একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট ও সনদের কপি, এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, দুই থেকে চার কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, অনলাইন আবেদন নিশ্চায়নের কপি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর।কোন কলেজে ভর্তি ফি কত:শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিও ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান, বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন এবং বিভাগীয় শহর, জেলা ও মফস্বল এলাকার ভিত্তিতে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর বা বিভাগীয় শহরের প্রতিষ্ঠানে এ ফি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নেওয়া যাবে।নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদর এলাকায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে ৪ হাজার টাকা। উপজেলা ও মফস্বল এলাকার কলেজে বাংলা ভার্সনে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।ভর্তিতে ৭ শতাংশ কোটা:ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।নিশ্চায়ন করেনি ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী:গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জনকে কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।মনোনীত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে বলা হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন করেছে। তবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৪ জন নিশ্চায়ন না করায় প্রথম ধাপের ভর্তি থেকে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, যারা নিশ্চায়ন করেনি, তাদের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন তাদের ভর্তির জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে।তিনি বলেন, প্রথম ধাপে নির্বাচিত ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি শেষ হওয়ার পর আবার আবেদন নেওয়া হবে। তখন যারা প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন করেনি, তারা নতুন করে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পাবে।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু

আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন

দৃষ্টি রিপোর্ট:বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমান এমপি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন। বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছেন। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, জ্বালানির চরম সংকটে মানুষ অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে। আপনারা জনগনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেননি। আট দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যেজোটের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের অংশ হিসেবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি আট দফা মেনে না নেয়, জনগণের প্রয়োজনে জনদাবির মুখে তা এক দফায় রূপান্তর করা হবে।তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট এ লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে। জনতার যৌক্তিক দাবি না মানলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অব্যাহত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি ।এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি এবং টাঙ্গাইল জেলার এনসিপি নেতা রাসেল আহমেদ, তুষার আহমেদ সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন

পোল্ট্রি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরা। তাদের টিকিয়ে রাখা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সদরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন-২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, পোল্ট্রি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় কমানো, মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে খামারিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তারাও সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্রোটিন পাবেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনেছেন, যাতে তারা কৃষির মতো সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা পেতে পারেন।নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরে টুকু বলেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ও ওষুধ ব্যবহারে সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। ভেজাল খাদ্য ও মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আয়োজিত কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাকিল আহমেদ এবং বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ফিয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পোল্ট্রি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইলে শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে রশিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দণ্ডিত আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ ওই রায় দেন। এছাড়াও আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত রশিদ মিয়া (৫৫) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামি যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভিকটিমকে দেওয়া হবে। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়ার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমান অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরো বলেন, যৌননিগ্রহের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা আসামি রশিদ মিয়া, তাকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেন এবং শিশুর ভরনপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে প্রকাশ করেন। শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরনপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ পূর্বক ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন আদালত।টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। এসময় প্রতিবেশি(সম্পর্কে দাদা) দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে। পরে শিশুটিকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং জোর পূর্বক যৌননিগ্রহ চালায়। এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে শিশুটি তার মায়ের কাছে যৌননিগ্রহের কথা খুলে বলে। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভিকটিম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দণ্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ভিকটিমের কন্যা সন্তানের পিতা বলে নিশ্চিত হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

টাঙ্গাইল এর খবর

৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই ‘জুলাই যোদ্ধা’ গ্রেপ্তার

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই ‘জুলাই যোদ্ধা’ গ্রেপ্তার
টাঙ্গাইল এর খবর

এ সপ্তাহের রাশিফল

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলায় গ্রেপ্তার ১

মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলায় গ্রেপ্তার ১

মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলা চালিয়ে তিন কর্মচারীকে মারধর করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত হৃদয় খান ওরফে সেকেন্দার (২৪) উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কাবেল মিয়ার ছেলে।স্থানীয়রা জানায়, একটি ট্রাক হাটুভাঙ্গা সেতু পার হওয়ার সময় চালক টোল পরিশোধের জন্য এক হাজার টাকার নোট দেন। ওই নোটের ভাংতি দিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় চালক ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাকটি রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় টোল আদায়ের কর্মচারীরা ট্রাকটি সরিয়ে নিতে বললে চালক ও হেলপার তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা টোলকর্মীদের মারধর করেন। পরে ওই চালক আরও কয়েকজনকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে এসে টোল আদায়ের কর্মচারীদের ওপর হামলা চালান।এ সময় টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমানের স্ত্রীর বোন হামলা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানির করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমানের স্ত্রী মোছা. ফারহানা বেগম বাদী হয়ে শনিবার রাতে মির্জাপুর থানায় দুই জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।মামলায় অভিযুক্ত লাভলু ওরফে লখাইয়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর ট্রাকের চালক টোল দিতে এক হাজার টাকার নোট দিলে টোলপ্লাজার কর্মীরা ৯০০ টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাঁর চালক ও হেলপারকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।হাটুভাঙ্গা টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমান জানান, একটি কুচক্রী মহল হাটুভাঙা সেতুর টোল আদায় বন্ধ করতে নানা ধরনের পাঁয়তারা করছে। হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেও দাবি করেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাশেদ ফজল জানান, ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হৃদয় খান ওরফে সেকেন্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামি দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট:মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না। জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামি দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিবে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘গত বছরের ন্যায় এবারও জিপিএ-৫ পাওয়া সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আয়োজন করেছি। আগামিতেও এ ধারা অব্যাহত রাখব ইনশাআল্লাহ। কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সবাইকে বড় স্বপ্ন দেখে তা বাস্তবায়নে মনোযোগী ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো মাদক। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।’১১ দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে সবারই কর্মসূচি পালন করার অধিকার রয়েছে। তবে জনগণ বিচার করবে তাদের এই কর্মসূচি করা ঠিক হচ্ছে কি না।’তিনি আরো বলেন, ‘সরকারপ্রধান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে খাতটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। সরকারের কোনো গাফিলতি থাকলে তারা সেটি নিয়ে কথা বলতে পারত।’অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজুয়ান সিদ্দিকীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. জোবায়দুর রহমান জনি।অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ৮৫০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। তাদের কলেজ ব্যাগ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রীও দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে ফাহাদ’স টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা ও অনলাইন শিক্ষক মো. ফাহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি, লক্ষ্য নির্ধারণ ও ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মেফতাউল আলম সিয়াম এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী জাহাঙ্গীর আলম শান্ত নিজেদের সফলতার কৌশল ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. জে আলী স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামি দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

পোল্ট্রি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরা। তাদের টিকিয়ে রাখা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সদরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন-২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, পোল্ট্রি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় কমানো, মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে খামারিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তারাও সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্রোটিন পাবেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনেছেন, যাতে তারা কৃষির মতো সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা পেতে পারেন।নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরে টুকু বলেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ও ওষুধ ব্যবহারে সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। ভেজাল খাদ্য ও মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আয়োজিত কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাকিল আহমেদ এবং বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ফিয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পোল্ট্রি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

মায়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তিন বছরের ছেলে খুন

সখীপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের সখীপুরে মায়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে আশরাফুল ইসলাম নামে তিন বছরের এক শিশুকে খুন হয়েছে। এ ঘটনায় তার ৯ বছরের বোন সিরজাতুন গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার(১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের খালিয়ারবাইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল ইসলাম ওই এলাকার শাহীন আলমের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধু আকলিমা আক্তার ঘরে থাকা কেক কাটার একটি ধারালো ছুরি দিয়ে তার দুই সন্তানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে শিশু আশরাফুল ও সিরজাতুন গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। তাদের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দুই শিশুকে পাশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সিরজাতুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মায়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তিন বছরের ছেলে খুন

৮ মাসের নির্মাণ কাজ সাড়ে ৪ বছরেও শেষ হয়নি

মু. আবিদ মল্লিক জয়:চুক্তি অনুযায়ী ৮ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সাড়ে চার বছরে আলোর মুখ দেখেনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবহেলা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঝুলে আছে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও পরিবেশবান্ধব এই প্রকল্প।এদিকে, পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরুপায় হয়ে তারা রাস্তাঘাটের পাশে, ফসলি জমির কোণে কিংবা উন্মুক্ত পুকুড়ে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। ফলে পুরো আবাসিক এলাকা এখন তীব্র দুর্গন্ধের শহরে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়ছে নানাবিধ পানিবাহিত ও বায়ুবাহিত রোগব্যাধি।পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৫.৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ৯টি ওয়ার্ড ও ১৮টি মহল্লা নিয়ে গঠিত ‘খ’ শ্রেণির কালিহাতী পৌরসভার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার জন। দিন দিন শহর উন্নত হলেও নাগরিক সেবা বাড়েনি। পৌরসভায় প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় টন কঠিন ও তরল বর্জ্য উৎপাদিত হয়। নাগরিকদের ফেলে দেওয়া এই বিপুল পরিমাণ আবর্জনা ও মানুষের মল-মূত্র থেকে শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর এলাকার তিন একর জমিতে এই মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ইনভাইরনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প বাস্তবায়নে চার কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’ এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ১ মার্চ। ঠিকাদারি কাজ পায় ঢাকার ‘টার্ন-এনসি (জেভি)’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী, আট মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে জনস্বাস্থ প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও আজ অবধি দৃশ্যমান কোনো সুফল মেলেনি।সরেজমিনে দেখা যায়, প্লান্টের চার পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শেষ হয়েছে। তবে মূল শোধন প্রক্রিয়ার অন্যতম অঙ্গ কমবাসশন মেশিনের জন্য নির্ধারিত শেড তৈরির কাজ এখনো চলছে; অর্থাৎ পুরোপুরি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি।প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সমন্বয় করে বর্জ্য শোধনের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ছক আঁকা হয়েছে। কঠিন ও মানব বর্জ্য সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিশোধনের জন্য প্ল্যান্টে তৈরি করা হয়েছে- প্ল্যান্টেড ড্রায়িং বেড ও অ্যানেরোবিক ব্যাফেল রিঅ্যাক্টর (এবিআর), যা মানববর্জ্যের তরল অংশকে ক্ষতিকারক উপাদানমুক্ত করবে। কনস্ট্রাক্টেড ওয়েটল্যান্ড ও পলিশিং পন্ড- পানিকে পুরোপুরি শোধন করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার ইউনিট। কম্পোস্ট শেড ও সর্টিং শেড- যেখানে বর্জ্য এনে জমা ও প্রক্রিয়াজাত করা হবে। লিচেট ট্যাংক ও কমবাসশন ইউনিট- ময়লা থেকে নির্গত দূষিত তরল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। এ ছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে পার্কিং শেড, অফিস রুম এবং সিকিউরিটি রুমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ইউনিট।সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্ল্যান্টটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এটি হবে এই অঞ্চলের জন্য একটি আশীর্বাদ। এখানে শহরের সমস্ত বর্জ্য এনে প্রথমে সর্টিং বা বাছাই করা হবে। বর্জ্য থেকে প্রথমেই লোহালক্কড়, প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল, কাঠ এবং কাঁচের মতো অপচনশীল দ্রব্যগুলো আলাদা করা হবে। এরপর মূল পচনশীল বর্জ্য এবং শুকনো মানব বর্জ্যকে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে অত্যন্ত উন্নতমানের উর্বর কম্পোস্ট জৈব সার উৎপাদন করা হবে। অন্যদিকে, আলাদা করা অপচনশীল অংশ এবং শোধন প্রক্রিয়া থেকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত হবে শক্তি (জ্বালানি) ও প্রাকৃতিক গ্যাস।প্রকল্পের এই দীর্ঘ বিলম্বের বিষয়ে মূল অবকাঠামো নির্মাণের ঠিকাদার নূরে আলম টিটুর কাছে জানতে চাইলে তিনি রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক নানাবিধ সমস্যার অজুহাত দেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা, স্থানীয় এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, নিচু এলাকা হওয়াতে মাটি ভরাটে সমস্যা এবং দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকার কারণে নির্মাণ কাজ অনেকখানি পিছিয়ে গেছে। নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামি দুই মাসের মধ্যে প্ল্যান্টটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।প্রকল্পের জটিলতা কেবল অবকাঠামো নির্মাণেই শেষ নয়; বর্জ্য পুড়িয়ে ধ্বংস করার মূল চালিকাশক্তি ‘কমবাসশন মেশিন’ আনার প্রক্রিয়াও থমকে আছে। চার কোটি দুই লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা ব্যয়ে এই আধুনিক মেশিন সরবরাহের জন্য ২০২৪ সালের ১২ মার্চ কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল ‘লাবণী-কেএইচটি (জেভি)’ নামে আরেকটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। এক বছরের মধ্যে মেশিন সরবরাহের চুক্তি থাকলেও তারা নির্ধারিত সময়ে তা দিতে পারেনি।মেশিন সরবরাহে ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে ঠিকাদার সাদেকুল ইসলাম কাঞ্চন জানান, এই বিশেষ কমবাসশন মেশিনটি চীন (চায়না) থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। গত বছরগুলোতে চীনের সাথে ব্যাংক এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে তীব্র বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জটিলতা ছিল। এই এলসি সমস্যার কারণেই যথাসময়ে মেশিনটি দেশে আনা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে এই জটিলতা কেটে গেছে। অলরেডি অর্ডার চূড়ান্ত করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে- আগামি দেড় মাসের মধ্যে মেশিনটি প্রকল্প এলাকায় চলে আসবে।কালিহাতী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন জানান, প্ল্যান্টে মানব বর্জ্য নিরাপদে সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য ইতোমধ্যে পৌরসভায় জন্য পাঁচটি ভ্যান সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বসত বাড়ি, অফিস-আদালত এবং বিভিন্ন স্থাপনার সেপটিক ট্যাংক থেকে ফিক্যাল সংগ্রহ করার জন্য একটি ভেকু ট্রাক ও অপচনশীল পণ্য পরিবহনের জন্য একটি গার্বেজ ট্রাক সরবরাহ করা হয়েছে- প্ল্যান্ট চালু না হওয়ায় গাড়িগুলো পৌরসভার গ্যারেজে রাখা হয়েছে।কালিহাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা মামুন বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জৈব সার উৎপাদন করা গেলে কৃষকরা কম দামে তা ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর দিক থেকে পরিবেশের যেমন উন্নতি হবে তেমনি জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে।কালিহাতী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী গাজিউর রহমান জানান, প্ল্যানটির নকশা ও ডিজাইন অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। জমি অধিগ্রহণ মাটিভরাট ও বর্ষাজনিত কারণে কাজটি শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। সঠিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে বর্জ্য পরিবেশের বোঝা না হয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।কালিহাতী পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার জানান- পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি হস্তান্তরের জন্য ইতোমধ্যে ঠিকাদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নানাবিধ কারণে এটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্প কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুতই এটির কর্যক্রম শুরু হবে। পৌর এলাকার শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে এটির উৎপাদন সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করে জৈব সার কৃষকের হাতে পৌঁছবে।

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ মাসের নির্মাণ কাজ সাড়ে ৪ বছরেও শেষ হয়নি
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ
খেলাধুলা

প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পদার্থ বিজ্ঞানের বন্ধনে, প্রাক্তনদের মিলনে- আগামীর পথে একসাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়।এদিন সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের হলরুমে গিয়ে অ্যালামনাই ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সচিব মাসুম বেগ, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক সাব্বির হাসান পল সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। দিনব্যাপী ওই পুনর্মিলনীকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

আব্দুস সাত্তার:নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

২০ আগস্ট ২০২৬
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

মোস্তফা কামাল নান্নু: এক সময় ব্যাট হাতে মাঠ মাতানো ক্রিকেটার ইকবাল খান এখন শয্যাশায়ী। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দুই পায়ে স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কথা বলাও। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। এর মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এখন বৃদ্ধ বাবা-মা, বন্ধু ও স্বজনরাই তাঁর একমাত্র ভরসা।ইকবাল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রতন খানের ছেলে। এক সময় বিকেল হলেই ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে ছুটতেন তিনি। ক্রিকেট ও ফুটবলে পারদর্শী ইকবালের খেলা দেখতে গ্রামের মানুষ ভিড় করতেন। পাশাপাশি ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে করে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইকবাল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। ধারদেনা করে কয়েকবার চিকিৎসা করানো হলেও অর্থের অভাবে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে যান। এখন বাড়ির একটি ঘরেই কাটছে তাঁর দিন। কথা বলতে না পারলেও চোখের দৃষ্টিতে নিজের কষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।ইকবালের বাবা রতন খানের বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও চায়ের দোকান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে ওষুধ ও পরিবারের খাবার জোগাড় করেন। ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করতে করতে নিঃস্ব পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বসতভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। ইকবালের বন্ধু ও স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তাঁকে সহায়তা করেছেন। তবে চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়।পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ইকবাল তাঁর বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। মেধাবী ও বিনয়ী এই তরুণের এমন অবস্থা দেখে কষ্ট হয়। তাঁর চিকিৎসায় সরকারি ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, ইকবালের অসুস্থতার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তাঁকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।ইকবাল এখন শুধু চিকিৎসা ও মানুষের সহযোগিতা চান। তাঁর পরিবারের আশা, সহায়তা পেলে আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন তিনি।

১৯ আগস্ট ২০২৬
অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইল শহরের একসময়ের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী ‘ভাসানী হল’ আজ ধুলোবালি, ভাঙাচোরা দেয়াল আর তালাবদ্ধ কক্ষের নিস্তব্ধতায় ঢাকা। দীর্ঘদিনের অযত্ন, অবহেলা, সংস্কারের অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এই মিলনায়তনটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। যে প্রাঙ্গণ একসময় নাটক, সংগীত, নৃত্য, কবিতা, বইমেলা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক নানা আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকত, সেখানে এখন চেপে বসেছে এক ভীতিকর পরিবেশ। বর্তমানে দিনে হলটির বারান্দায় বসেছে পানের দোকান আর প্রাঙ্গণটি ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাকস্ট্যান্ড হিসেবে। সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা চলে যায় অন্ধকার ও অপরাধীদের দখলে; হয়ে ওঠে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড্ডাখানা। এতে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ বাড়ছে।জানাগেছে, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ‘টাঙ্গাইল টাউন হল’ নামে এটি নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ হাবিবুল্লাহ্-এর অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র দুই বছরে এটি বাস্তব রূপ লাভ করে। পরে ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান। পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে সর্বসম্মতিক্রমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ভাসানী হল’। এরপর থেকেই এটি জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায় এবং অনন্য ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।স্থানীয় প্রবীণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, আগে পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল। বিভিন্ন উপলক্ষে তারা নাটকের আয়োজন করত এবং পুরো টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই ভাসানী হলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। প্রায় ১,০০০ আসনবিশিষ্ট এই আধুনিক মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দশক ধরে টাঙ্গাইলের নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক সমাবেশের প্রধান ভেন্যু ছিল এটি। প্রতি বছর ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল এখানে এসে নাট্যোৎসব করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সংগঠনগুলো হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ভবনটি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অবশেষে প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় জেলার অন্যতম বড় এই মিলনায়তনের কার্যক্রম।স্থানীয়রা মনে করেন, ভাসানী হল শুধু একটি কংক্রিটের ভবন নয়; এটি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারকটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে প্রায় এক দশক আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ২০১৫ সালেও একবার এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে হলের দেয়ালে দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে, ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। হলের ভেতরের অধিকাংশ কক্ষ দীর্ঘ বছর ধরে তালাবদ্ধ ও ধুলোবালির স্তূপে পরিণত হয়েছে।টাঙ্গাইলের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মতে, ভাসানী হল বন্ধ হওয়ার পর থেকে জেলার বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বড় পরিসরে কোনো অনুষ্ঠান বা নাটক মঞ্চস্থ করার মতো বিকল্প কোনো আধুনিক মিলনায়তন পুরো শহরে আর নেই। ২০১৫ সালে একবার হলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন আজ অবধি দেখা যায়নি। দীর্ঘ অবহেলার পর চলতি বছরের ১২ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক হলটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন।টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুরকার-গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু জানান, ভাসানী হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এক হাজার আসন বিশিষ্ট এই মিলনায়তনটিতেই জেলার সব সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। শুধু তাই নয়, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করতো। এছাড়া এ ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র ছিল হলটি।তিনি আক্ষেপ করে জানান, আগের মতো বড় বড় অনুষ্ঠান তারা করতে পারেন না। অনুষ্ঠান করতে এখন শিল্পকলা একাডেমিতে যেতে হয়- শিল্পকলা একাডেমির অবস্থান শহরের কেন্দ্রবিন্দুর বাইরে, সেখানে রাতে মানুষ যেতে চায়না।কবি মাহমুদ কামাল জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত এ হলটিকে পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করার দাবি ছিল। হলটি মওলানা ভাসানীর নামে থাকায় বিগত সরকার সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, ভাসানী হলটি পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হোক।টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান জানান, টাঙ্গাইল একটি সাংস্কৃতিক নগরী এবং পুরাতন জেলা। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিকচর্চার অন্যতম প্রধান জায়গা হচ্ছে ভাসানী হল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে গতিশীল রাখার জন্য ভাসানী হল খুবই প্রয়োজন।তিনি আরো জানান, মাদকের ছোবল এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে ক্রীড়া অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তার জন্য একটি ভালো অডিটরিয়াম প্রয়োজন। তিনি দ্রুত ভাসানী হলের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের দাবি করেন।টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুননির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

১৭ আগস্ট ২০২৬
অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’