সর্বশেষ
• দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই • বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু • ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার • অসহায়দের চিকিৎসা ও কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী • লাইনচ্যুতির ছয় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক • মির্জাপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ • শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ :: শিক্ষামন্ত্রী • শুধু সার্টিফিকেটে লাভ নেই এআই-এর সঠিক নিয়ম জানতে হবে :: শিক্ষামন্ত্রী • টামেক হাসপাতালে ‘স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর • চাকরি মেলা, গবেষণা পুরষ্কার ও সাংস্কৃতিক উৎসবের বর্ণিল প্রস্তুতি সম্পন্ন
দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই
জাতীয় • ১ ঘণ্টা আগে

দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

দৃষ্টি নিউজ:বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের দাবি, ঘটনার রাতে কিছু লোক ধাওয়া দিলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। তবে এ দাবি বিশ্বাস করছেন না তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। তার মতে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন দ্বীপ। গতকাল রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠ পরিদর্শন করছে পিবিআই। সেখানে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ বলেন, ‘দূর থেকে আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। ভাই (তাহসিফ) দৌড় দেন। আমি তখন পিলারের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং আশা করতে থাকি দুজন ইউনিফর্ম পরা লোক আমাকে দেখতে না পায়। আমি দৌড় দেইনি, হেঁটে হেঁটে আসি।’দ্বীপের বরাতে পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দ্বীপ তুরাগ নদের পাশের মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করে। তখন দ্বীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এখনো তার (দ্বীপের) বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছি না। মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দ্বীপের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতেই তদন্ত চলছে। তাহসিফ সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। রহস্য উদ্ঘাটন হলে বিস্তারিত জানানো হবে।তবে দ্বীপের দেওয়া তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘না না, এ ধরনের কিছু হতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।মাজারসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের মালিক জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কে পড়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলটি দেখছি। কিন্তু এটা নেয়নি। আমরা ভেবেছি কেউ হয়তো রেখে গেছে। আজ সকালে পুলিশ একটি ভ্যানে করে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে তারা আবার নিয়ে আসে।’পিবিআইয়ের আরেক পুলিশ সুপার জানান, দ্বীপের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাহসিফও বাসা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন।গত মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। সেদিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর ফেরেননি।পরদিন বুধবার(২৮ অক্টোবর) বিকালে উত্তরখান থানা এলাকার রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দ্বীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
ছবি • ১ ঘণ্টা আগে

বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দৃষ্টি নিউজ:পাবনা সদর উপজেলায় বৃষ্টির সময় বিলের একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল কয়েকজন। এ সময় বজ্রপাতে আশ্রয় নেওয়া ছয়জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার গোবিন্দপুরের সোনাপাতি বিলে এ ঘটনা ঘটে বলে মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু জানিয়েছেন।তিনি বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সময় তারা একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘরটি ছিল পলিথিনের। সেখানেই বজ্রপাত ঘটে। যারা নিহত হয়েছেন, তারা সবাই কিশোর ও তরুণ।চেয়ারম্যান বলেন, বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা গেছেন। আহত তিনজনকে আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
ছবি • ২ ঘণ্টা আগে

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

মির্জাপুর প্রতিনিধি:ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কদিমধল্যা এলাকা থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর খণ্ডিত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরের দিকে স্থানীয় লোকজন মহাসড়কের কদিমধল্যা এলাকায় ওই নারীর খণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।নিহত ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাত কোনো দ্রুতগামী যানবাহনের চাপায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে অথবা ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড থাকতে পারে।এ বিষয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন জানান, নিহত নারী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার নাম-পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার আসল রহস্য পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

অসহায়দের চিকিৎসা ও কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
অর্থনীতি • ২ ঘণ্টা আগে

অসহায়দের চিকিৎসা ও কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, অসহায় ও দুস্থ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সহায়তা ও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের চলমান বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত ছয়জন রোগীর প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিশেষ করে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রমের বাইরে থাকা অন্য ভুক্তভোগীরা আবেদন করলে আমার পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। জনগণের কল্যাণে আমাদের এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জনকল্যাণমূলক কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভাতা প্রদান এর অন্যতম উদাহরণ। তৃণমূলের মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে।তিনি বলেন, উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিগত দুর্গাপূজাতেও প্রধানমন্ত্রী রেকর্ড পরিমাণ অনুদান দিয়েছেন। আগামিতে এই সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে। সরকার সর্বদা জনগণের পাশে ছিল এবং থাকবে।টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান শফিক, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি শাহেদ প্রমুখ।চেক বিতরণ শেষে জনসাধারণের সেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারি কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ‘পরিদর্শন কক্ষ’ উদ্বোধন করা হয়।এ সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

লাইনচ্যুতির ছয় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
ছবি • ২৯ অক্টোবর ২০২৬

লাইনচ্যুতির ছয় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

মির্জাপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ
ছবি • ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মির্জাপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ :: শিক্ষামন্ত্রী
রাজনীতি • ২৮ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ :: শিক্ষামন্ত্রী

শুধু সার্টিফিকেটে লাভ নেই এআই-এর সঠিক নিয়ম জানতে হবে :: শিক্ষামন্ত্রী
রাজনীতি • ২৭ অক্টোবর ২০২৬

শুধু সার্টিফিকেটে লাভ নেই এআই-এর সঠিক নিয়ম জানতে হবে :: শিক্ষামন্ত্রী

টামেক হাসপাতালে ‘স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
ছবি • ২৭ অক্টোবর ২০২৬

টামেক হাসপাতালে ‘স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

চাকরি মেলা, গবেষণা পুরষ্কার ও সাংস্কৃতিক উৎসবের বর্ণিল প্রস্তুতি সম্পন্ন
ছবি • ২৬ অক্টোবর ২০২৬

চাকরি মেলা, গবেষণা পুরষ্কার ও সাংস্কৃতিক উৎসবের বর্ণিল প্রস্তুতি সম্পন্ন

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই
জাতীয়

দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

দৃষ্টি নিউজ:বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের দাবি, ঘটনার রাতে কিছু লোক ধাওয়া দিলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। তবে এ দাবি বিশ্বাস করছেন না তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। তার মতে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন দ্বীপ। গতকাল রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠ পরিদর্শন করছে পিবিআই। সেখানে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ বলেন, ‘দূর থেকে আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। ভাই (তাহসিফ) দৌড় দেন। আমি তখন পিলারের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং আশা করতে থাকি দুজন ইউনিফর্ম পরা লোক আমাকে দেখতে না পায়। আমি দৌড় দেইনি, হেঁটে হেঁটে আসি।’দ্বীপের বরাতে পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দ্বীপ তুরাগ নদের পাশের মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করে। তখন দ্বীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এখনো তার (দ্বীপের) বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছি না। মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দ্বীপের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতেই তদন্ত চলছে। তাহসিফ সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। রহস্য উদ্ঘাটন হলে বিস্তারিত জানানো হবে।তবে দ্বীপের দেওয়া তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘না না, এ ধরনের কিছু হতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।মাজারসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের মালিক জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কে পড়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলটি দেখছি। কিন্তু এটা নেয়নি। আমরা ভেবেছি কেউ হয়তো রেখে গেছে। আজ সকালে পুলিশ একটি ভ্যানে করে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে তারা আবার নিয়ে আসে।’পিবিআইয়ের আরেক পুলিশ সুপার জানান, দ্বীপের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাহসিফও বাসা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন।গত মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। সেদিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর ফেরেননি।পরদিন বুধবার(২৮ অক্টোবর) বিকালে উত্তরখান থানা এলাকার রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দ্বীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

১ ঘণ্টা আগে

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন-জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল): ইতিবাচক দৃষ্টিতে নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন। সচেতনভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন।আয়ের নতুন শুভ যোগ লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যার্থীদের আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ার জন্য আরো মনোযোগী হওয়া উচিত।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): কথাবর্তায় কৌশলী হোন। শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। কারো কাছ থেকে আর্থিক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দাম্পত্য জীবন ভালো যাবে, তবে মনমেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পেশাগত কাজে যথেষ্ট ব্যস্ততা বাড়বে। শারীরিক বিষয় নিয়ে যত্নশীল হোন।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মনের প্রশান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করুন। শারীরিক বিষয়ে সাবধানে থাকতে হবে। প্রেমের দিক থেকে কারো ক্ষেত্রে নতুন সমস্যার সম্ভাবনা আছে। পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): এ সপ্তাহে আপনার যথেষ্ট ব্যস্ততা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত উত্তেজিত অবস্থায় নেওয়া ঠিক হবে না। ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। লেনদেনে আরো সতর্ক হওয়া উচিত। শারীরিক বিষয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): আর্থিক বিনিয়োগে সচেতনতা প্রয়োজন। কারো ক্ষেত্রে নতুন প্রেমের সম্ভাবনা আছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন যোগাযোগ বাড়বে। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): সবধরনের পরিস্থিতিতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখুন। প্রেমের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। শরীরের প্রতি আরো যত্নশীল হতে হবে। পিতা-মাতার স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। সামাজিক কাজে সম্মান লাভ করবেন। দাম্পত্য জীবন আগের তুলনায় অনেক ভালো যাবে।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): মানসিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পারিবারিক বিষয় শুভ ও স্বাভাবিক যাবে। আর্থিক লেনদেনে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ কোনো কাজে ব্যয় বাড়বে। পেশাগত কাজে সহকর্মীর সঙ্গে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রোমান্টিক সম্পর্কে আনন্দ অনুভব করবেন।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): সামাজিক কাজে সুনাম পাবেন। রাগ, জেদ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কোনো কারণে মানসিক অস্থিরতা, চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাবে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মনোমালিন্য বাড়তে পারে। প্রেমের ক্ষেত্রে সুখ-শান্তি, মতবিরোধ সবই চলবে এ সপ্তাহে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): শারীরিক সুস্থতার মনোযোগী হোন। এ সপ্তাহ আপনার যথেষ্ট ভালো যাবে। দূর থেকে শুভ সংবাদ পাবেন। ঘনিষ্ঠ কারো আচরণে মানসিক কষ্ট পেতে পারেন। প্রেমের জন্য এ সপ্তাহটি উঞ্চ। তবে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। পেশাগত কাজে মতবিরোধ থাকবে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। অপ্রিয় কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। এ সপ্তাহ আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীত লিঙ্গের কারো সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে। স্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে আরো যত্নশীল হোন। পেশাগত কাজে আরো মনোযোগী হলে সফলতা পাবেন।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): কর্মক্ষেত্রে সফলতা পাবেন। পুরোনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। মানসিক শক্তির পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বৃদ্ধি করুন। প্রিয়জনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক ভালো যাবে। ভ্রমণ শুভ।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): প্রিয়জনের সঙ্গে মান-অভিমান হতে পারে। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। পুরোনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে। শারীরিক বিষয়ে সাবধানে থাকতে হবে। ভ্রমণ শুভ। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

২৪ অক্টোবর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল

ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিক উৎপাদন যাচ্ছে

দৃষ্টি ডেস্ক:প্রায় ২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের পর এবার বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটি কার্পাস তুলা শনাক্তকরণ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের পর তা বাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি খাতে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মসলিন দেখে দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।একসময় বাংলার রাজদরবার ও অভিজাতদের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত ঢাকাই মসলিন ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। সূক্ষ্ম বুনন ও মিহি সুতার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক কদর ছিল।নানা কারণে হারিয়ে যাওয়া এই শিল্প ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগে ২০১৩ সালে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক মো. আইয়ুব আলী বলেন, পাঠ্যবইয়ে পড়া বাঙালির ঐতিহ্য এখন নিজেরা তৈরি করতে পারছি। শুধু মসলিন তৈরি নয়, এর সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিও আমাদের হাতে এসেছে।তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের উদ্যোক্তা ও ক্রেতারা মসলিনে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফ্রান্সে মুঘল ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন, এমন কয়েকজনও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ গজ মসলিন নেওয়ার অনুরোধ এসেছে।তিনি বলেন, দেশে বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি চেয়ে ১৫ জন উদ্যোক্তা আবেদন করেছেন। উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের নিয়ম ও পদ্ধতিও নথিভুক্ত করা হয়েছে।আংটির মধ্যদিয়ে মসলিন শাড়ির অতিক্রমবিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে মসলিন দেখে দেশীয় শৌখিন ও সচ্ছল ক্রেতারাও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এখনই প্রকল্পের তৈরি কাপড় বিক্রির পরিকল্পনা নেই। বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা গড়ে উঠলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ঢাকাই মসলিন কাপড় বাজারে ছাড়া হবে।প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২৭টি শাড়ি, ২০টি স্কার্ফ ও রুমালের মতো ১১টি নমুনা কাপড় তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে তৈরি হয় আরও ৩১টি শাড়ি ও ১৪টি স্কার্ফ। এসব নমুনা বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে।কীভাবে ফিরল ঢাকাই মসলিনপুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ঐতিহাসিক নথি, গবেষণাপত্র ও জাদুঘরে সংরক্ষিত মসলিনের নমুনা পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্পের মুখ্য গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মঞ্জুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, জেমস টেলরের ‘এ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা’, অধ্যাপক আবদুল করিমের ‘ঢাকাই মসলিন’ এবং সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াসের ‘স্পিসিস প্ল্যান্টারাম’ বই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঐতিহাসিক কাপড়ের নমুনা পরীক্ষায় যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের সহায়তা নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা ৩৯টি তুলার নমুনার মধ্যে ছয়টি জাত শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষায় গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকার তুলার সঙ্গে ঐতিহাসিক মসলিনে ব্যবহৃত ফুটি কার্পাস তুলার ডিএনএর প্রায় ৯৬ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।ঐতিহাসিক নথি ও জেমস টেলরের বিবরণ পর্যালোচনা করে কাপাসিয়ায় ফুটি কার্পাস তুলা পাওয়ার সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়। কাপাসিয়ার পাশাপাশি তিতাবাদি নামের একটি স্থান নিয়েও অনুসন্ধান হয়। এসব গবেষণার ভিত্তিতে তুলা চাষ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।সাধারণ মসলিন থেকে ঢাকাই মসলিন কেনো আলাদাঢাকাই মসলিনের বিশেষত্ব ছিল নির্দিষ্ট জাতের তুলা, হাতে কাটা সূক্ষ্ম সুতা, দক্ষ কারিগর ও বিশেষ ধরনের তাঁতের সমন্বয়। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল, বিশেষ করে সোনারগাঁ, কাপাসিয়া এবং শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর অববাহিকার উর্বর পলল মাটিতে ফুটি কার্পাস তুলা জন্মাত।অতিসূক্ষ্ম সুতা কাটতে আর্দ্র পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শীতলক্ষ্যার তীরবর্তী অঞ্চলে সকাল বা সন্ধ্যায় সুতা কাটার কাজ হতো। শুষ্ক বাতাসে সূক্ষ্ম সুতা ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় পরিবেশের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেত। দক্ষ নারী ও পুরুষ কারিগররা বংশপরম্পরায় অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সুতা তৈরি ও কাপড় বুনতেন।প্রকল্প পরিচালক আইয়ুব আলী জানান, কাপাসিয়ার তুলার সুতায় সিল্কের মতো স্পর্শ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক মসলিনের সূক্ষ্মতা ও বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে ফুটি কার্পাসের জাত শনাক্ত করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।কারিগর তৈরি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরমসলিন তৈরির জন্য ফুটি কার্পাস তুলা, হাতে কাটা সুতা এবং তাঁতে কাপড় বোনা- এই তিনটি বিষয় অপরিহার্য বলে জানান আইয়ুব আলী। তুলার জাত শনাক্ত হওয়ার পর গাজীপুরে তুলা বোর্ডের জমি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে তুলা চাষ করা হয়।কারিগর তৈরির জন্য কুমিল্লার চান্দিনায় খাদি কাপড় তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪০০ জনের মধ্য থেকে বাছাই করে ছয়জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হাতে সুতা কাটার চরকা তৈরি থেকে শুরু করে সুতা প্রস্তুত, নাটাই করা, তাঁতে সুতা সাজানো ও কাপড় বোনার বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।আইয়ুব আলী জানান, প্রশিক্ষিত কারিগরদের পাশাপাশি মসলিন হাউসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৩০ জন তাঁতি ও কারিগরকেও উৎপাদনে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।অধ্যাপক মঞ্জুর হোসেন বলেন, বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য ফুটি কার্পাস তুলার জোগান বাড়াতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তুলা চাষের প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং চুক্তিভিত্তিক তুলা উৎপাদনের মাধ্যমে চাষি ও উৎপাদকদের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।কর্মসংস্থান ও বাজারের সম্ভাবনাবাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি খাতে মসলিন উৎপাদন শুরু হলে তুলা চাষ, সুতা কাটা, কাপড় বোনা, মান নিয়ন্ত্রণ ও বিপণনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গ্রামীণ পর্যায়ে তুলাচাষি ও কারিগরদের যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের পুনরুদ্ধার যুক্ত হলে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।তবে উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত ফুটি কার্পাস তুলা, দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে অতিসূক্ষ্ম মসলিন তৈরি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এর দাম সাধারণ কাপড়ের তুলনায় বেশি হতে পারে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে এর দাম কতটা থাকবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারজাতকরণ কৌশলের ওপর। তবে ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে সংগ্রহের জন্যও মসলিনের চাহিদা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।পুনরুদ্ধার করা প্রযুক্তি, দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ এবং ১৫ উদ্যোক্তার আবেদনে বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু ও দীর্ঘমেয়াদে তা সম্প্রসারণের সাফল্য নির্ভর করবে পর্যাপ্ত তুলা, দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ের ওপর।তথ্যসূত্র: সংগৃহীত

২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিক উৎপাদন যাচ্ছে

আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায়

দৃষ্টি নিউজ:শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমী আজ বুধবার (২১ অক্টোবর)। দিন শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পাচ দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে বিদায়ের সুর। ঢাক-ঢোল ও শঙ্খের ধ্বনির সঙ্গে ভক্তদের চোখের জলে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকালে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বিহিত পূজা। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। এরপর স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন ভক্তরা।হিন্দুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। দেবীর বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে দেখা দেয় বিষাদের আবহ। কয়েক দিনের উৎসবমুখর পরিবেশের পর প্রিয় দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক ভক্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাক ও শঙ্খের ধ্বনি সেই বিদায়ের আবহকে আরও গভীর করে তোলে।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়া। এসব নেতিবাচক প্রবৃত্তি পরিহার করে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ় করা এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ই এ আয়োজনের অন্যতম শিক্ষা।বিজয়া দশমীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন সিঁদুর খেলা। দেবী দুর্গার বিদায়ের আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সনাতনী নারীরা এ আয়োজনে অংশ নেবেন। দেবীর চরণে অর্পিত সিঁদুর নিয়ে নিজেদের রাঙিয়ে তোলার পাশাপাশি একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেবেন তারা।প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, স্বামীর মঙ্গল কামনায় নারীরা দশমীর দিন দেবী দুর্গার সিথিতে দেওয়া সিদুর নিজের সিথিতে ধারণ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পান ও মিষ্টি দিয়ে দেবীকে সিদুর স্পর্শ করানোর পর নারীরা পরস্পরের সিথি ও মুখে সিঁদুর লাগিয়ে দেন। সিঁদুর খেলা শেষে দেবীর আরাধনা করে তাকে শেষবারের মতো প্রণাম জানাবেন ভক্তরা।ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে এবং গমন করবেন নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা।বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানালেও ভক্তদের মনে রয়ে যাবে আগামী বছরের পূজার অপেক্ষা।

২১ অক্টোবর ২০২৬
আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায়

দুর্গোৎসব : আত্ম-উপলব্ধি ও আত্মোন্নয়নের শিক্ষা

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::শরতের শান্ত-স্নিগ্ধ প্রকৃতি, কুয়াশাভেজা ভোর, নদীর কূলে কূলে শুভ্র কাশফুলের দোলা আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের কাঠির মিষ্টি ধ্বনিলয় ‘মা দুর্গা’র মর্ত্যে আগমনের বার্তা পৌঁছে দেয়। আশ্বিন ও কার্তিক মাসের সূচনালগ্নে অনুষ্ঠিত এই শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধানতম ধর্মীয় মহোৎসবই নয় বরং এটি বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অনবদ্য সামাজিক প্রপঞ্চ। বাহ্যিক কোলাহল, আলোকের ঝরনাধারা, নতুন বস্ত্র পরিধান আর প্রতিমা বিসর্জনের প্রথাগত আড়ম্বরের গভীরে ডুব দিলে দেখা যায়- দুর্গোৎসবের মূল বার্তা লুকিয়ে রয়েছে মানব জীবনের চরম আধ্যাত্মিক দর্শনে। এটি মানুষের ভেতরকার সুপ্ত আত্ম-উপলব্ধিকে জাগ্রত করার এবং ব্যক্তি থেকে সমাজ জীবন পর্যন্ত সার্বিক আত্মোন্নয়ন সাধনের এক মহান জীবনমুখী শিক্ষা প্রদান করে। ইতিহাস ও শাস্ত্রীয় দর্শনের আলোয় এই উৎসবের ভেতরের সত্য ও তাৎপর্য অনুধাবন করা আজকের পরিবর্তিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি।উৎসবের গভীরে প্রবেশ করতে হলে প্রথমেই পূজা ও উৎসব- এ দুটি মূল শব্দবন্ধের ব্যাকরণগত ও বুৎপত্তিগত অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা প্রয়োজন। ‘পূজা’ শব্দটি সংস্কৃত ‘পূজ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত। এই পূজ ধাতুর মূলার্থ হচ্ছে ‘বর্ধনশীলতা’ বা বৃদ্ধিসাধন। অর্থাৎ, যে প্রক্রিয়া বা আচারের মাধ্যমে মানুষের ভেতরের সৎ চিন্তা, বিবেক, প্রজ্ঞা এবং আত্মিক গুণাবলির পরম বৃদ্ধি ও উৎকর্ষ ঘটে, তা-ই পূজা। অপরদিকে, ‘উৎসব’ শব্দটির উৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে ‘উৎস অভিমুখে গমন’। উৎসব মানুষের চেতনাকে জড়তা থেকে মুক্ত করে কল্যাণময় পরম উৎসের দিকে পরিচালিত করে। অতএব, গভীর দর্শনের বিচারে পূজা বা উৎসব- দুটি শব্দই মূলতঃ একই অর্থ ও উদ্দেশ্য বহন করে। দুটি শব্দই মানুষকে তার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে সত্তার প্রকৃত উৎসের দিকে নিয়ে যায় এবং জীবনের শুভ ভাবগুলোকে বর্ধিত করে। এ কারণেই ভারতীয় দর্শনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে- ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আচারের বিষয় হলেও, ‘উৎসব’ সর্বজনীন এবং সবার।হাজার বছরের আবহমান সংস্কৃতির ধারায় হিন্দু শাস্ত্রের এই পবিত্র পার্বণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আনন্দ-উৎসবে একাত্ম হয়ে মেতে ওঠে সমগ্র বাঙালি হৃদয়। সেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক মর্যাদার কোনো প্রাচীর থাকে না। ভেদাভেদ, জাত-পাত ও হিন্দু-মুসলিম পরিচয় ‘উৎসবের’ এই মিলনমেলায় এসে একাকার হয়ে যায়। দুর্গাপূজা তাই কেবল একটি সম্প্রদায়ের পুজো থাকে না, তা রূপান্তরিত হয় সম্প্রীতির এক অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন মিলন মহোৎসভে।সনাতন শাস্ত্র ও প্রাচীন গ্রন্থাবলীতে দেবী দুর্গার মহিমা ও স্বকীয় রূপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর গূঢ় অর্থে বিবৃত হয়েছে। ‘দুর্গা’ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘দুর্গতি-নাশিনী’- যিনি জীবের জীবনের সকল প্রকার দুর্গতি, আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক দুঃখ দূর করেন। দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসবের প্রকৃত তত্ত্বার্থে পূজা শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- যা সম্পাদন করলে জীবনে বাস্তব ও আত্মিক উভয় ক্ষেত্রের উন্নয়নের পথ সুপ্রশস্ত হয়। শাস্ত্রীয় সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্গা নামের প্রতিটি বর্ণ ও ধ্বনি নির্দিষ্ট প্রতীকী শক্তির বাহক- ‘দ’ অক্ষর: দৈত্যনাশক (অসুরবৃত্তি বা হিংস্রতার বিনাশক)। ‘উ-কার’: বিঘ্ননাশক (জীবনের সব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা দূরকারী)। ‘রেফ’: রোগনাশক (শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি দূরকারী)। ‘গ’ অক্ষর: পাপনাশক (অন্যায় ও অপরাধবোধ প্রক্ষালনকারী)। ‘অ-কার’: ভয় ও শত্রুনাশক (সকল ভয় ও বহিঃ-অন্তঃ শত্রু বিনাশকারী)। অর্থাৎ দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ এবং ভয়-শত্রুর হাত থেকে যিনি জীবকে নিরন্তর রক্ষা করেন এবং সার্বিক কল্যাণ দান করেন- তিনিই দুর্গা।সংস্কৃত অভিধান ‘শব্দকল্পদ্রুম’-এর পংক্তিতে দেবীর পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে- ‘দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা’ যার অর্থ- দুর্গ নামক অত্যাচারী অসুরকে যিনি বিনাশ করেন, তিনি শাস্ত্রে নিত্য ‘দুর্গা’ নামে অভিহিত হন। আবার সনাতন ধর্মশাস্ত্র ‘শ্রীশ্রীচণ্ডী’ বা ‘দেবী মাহাত্ম্যম’-এর ভাষ্য অনুসারে, দেবী দুর্গা কোনো একক ব্যক্তি বা সীমিত দেবী সত্তা নন; বরং তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল দেবতার শক্তি, তেজ ও শুভ ভাবনার একীভূত ও একসূত্রে গঠিত এক মহাশক্তির প্রতিমূর্তি। যুগে যুগে জগতে যখনই অন্যায়, অধর্ম, স্বৈরাচার ও পাপের আধিক্য ঘটেছে, তখনই দুষ্টের বিনাশ এবং সৃষ্টের পালনে দেবী দুর্গা ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকট হয়েছেন। শাস্ত্রানুসারে শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর অজস্র নাম রয়েছে, যার মধ্যে- মহাশক্তি, ব্রহ্মময়ী, আদ্যাশক্তি, নারায়ণী, চণ্ডী, মহিষ-মর্দিনী ও অসুর নাশিনী- এই নামগুলো বিশেষ পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।দুর্গাপূজার ইতিহাস অতি প্রাচীন। বৈদিক যুগ থেকে শুরু করে পৌরাণিক কাল এবং মধ্যযুগ পার হয়ে আধুনিক কাল পর্যন্ত এর ঐতিহাসিক বিবর্তন লক্ষণীয়। (ক) সত্য যুগ- সুরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য মহামায়ার আরাধনা করে হারানো রাজ্য ও জ্ঞান লাভ করেন (বসন্তকালের ‘বাসন্তী পূজা’)। (খ) ত্রেতা যুগ- শ্রী রামচন্দ্র লঙ্কার অধিপতি রাবণ বধের উদ্দেশ্যে শরৎকালে দেবীর অকালবোধন করেন, যা ‘শারদীয় পূজা’ নামে পরিচিত হয়। (গ) মধ্যযুগ- বাংলার রাজা ও ভূস্বামীরা (যেমন কংসনারায়ণ, ভবানন্দ মজুমদার) দুর্গাপূজাকে সামন্তীয় আড়ম্বরে রূপ দেন। এবং (ঘ) আধুনিক যুগ- বারোয়ারি ও সার্বজনীন পূজার সূচনা; ব্যক্তিকেন্দ্রিক আড়ম্বর পেরিয়ে দুর্গাপূজা গণমানুষের উৎসবে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক বিবর্তনের এই ধারা প্রমাণ করে- দুর্গাপূজা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতার নাম নয় বরং এটি যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে।দুর্গোৎসবের সবচেয়ে প্রাঞ্জল ও গভীর শিক্ষাটি লুকিয়ে রয়েছে দেবী দুর্গার রণরঙ্গিনী রূপ এবং তাঁর পদাশ্রিত ‘মহিষাসুর’- এর প্রতীকী যুদ্ধের মধ্যে। দেবীর দশহাতে দশটি অস্ত্র, চরণে দলিত মহিষাসুর, বাহন সিংহ- এই প্রতিটি উপাদানের অন্তরালে রয়েছে সুগভীর মানসিক ও আত্মিক দর্শন। বাহ্য দৃষ্টিতে মহিষাসুর একটি বাহ্যিক দানব হলেও, প্রকৃত তত্ত্ব দর্শনে মহিষাসুর হলো মানুষের নিজস্ব মনের কুপ্রবৃত্তি বা ‘ষড়রিপু’-র প্রতীক। মানুষের আত্মোন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো তার নিজস্ব অন্তরের ছয়টি শত্রু: (১) কাম (অনিয়ন্ত্রিত কামনা), (২) ক্রোধ (উন্মাদ হিংস্রতা), (৩) লোভ (অন্যের বস্তুর প্রতি লালসা), (৪) মোহ (অজ্ঞানতা ও অন্ধত্ব), (৫) মদ (অহংকার ও দম্ভ) এবং (৬) মাৎসর্য (ঈর্ষা ও পরশ্রীকাতরতা)। দেবী দুর্গার সিংহবাহন রূপটি হলো অনুভূতির সংযম ও বলের প্রতীক। যখন মানুষ দুর্গারূপী আত্মচেতনা বা পরম প্রজ্ঞাকে জাগ্রত করে, তখন সে তার ভেতরের পাশবিক মহিষাসুরকে বধ করতে সক্ষম হয়। আত্ম-উপলব্ধি ব্যতিরেকে জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য অনুধাবন করা অসম্ভব। পূজা কেবল বাইরের মৃণ¥য়ী প্রতিমায় পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার নাম নয় বরং মৃণ¥য়ীর মাঝে চিন্ময়ী শক্তিকে অনুভব করে নিজের মনের সমস্ত কলুষতা, সংকীর্ণতা ও অহংকারকে বিসর্জন দেওয়াই হলো প্রকৃত আত্ম-উপলব্ধি।আজকের পৃথিবী প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক দূর এগিয়ে গেলেও, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে হিংসা, বিদ্বেষ, ধর্মান্ধতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং পরমতঅসহিষ্ণুতা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সংঘাতময় বাস্তবতায় দুর্গোৎসবের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও কালোপযোগী। (ক) সংযম ও আত্মশুদ্ধি: দুর্গোৎসব আমাদের শিক্ষা দেয় কীভাবে ভোগের মধ্য দিয়েও ত্যাগের অনুশীলন করা যায়। দেবীর শক্তি আমাদের আত্মশুদ্ধির পথ দেখায়। (খ) নারীশক্তির মর্যাদা (স্ত্রীশক্তি সম্মান): দেবী দুর্গা স্বয়ং নারীশক্তির সর্বোচ্চ প্রতীক। আজকের সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দুর্গাপূজার দর্শন আমাদের প্রেরণা জোগায়। (গ) সামাজিক সম্প্রীতি: দেবীর দশহাতের দশটি অস্ত্র আমাদের শেখায়—সব সামাজিক অনাচার, অসমতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। যেভাবে বিভিন্ন দেব-দেবীর সম্মিলিত তেজ থেকে দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল, ঠিক তেমনি সমাজের সব ভালো মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই কেবল কুসংস্কার, বিভেদ ও অন্যায়-অবিচার প্রতিহত করা সম্ভব।শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটে প্রতিমা বিসর্জনের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে। বিজয়া দশমীতে দেবী প্রতিমাকে জলে বিসর্জন দেওয়া হলেও মূলত তা বস্তুর নশ্বরতা ও চেতনার অবিনশ্বরতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। বিসর্জনের আসল বার্তা হলো- প্রতিমার সাথে সাথে আমাদের অন্তরের ঘৃণা, অহংকার, হিংসা ও ক্ষদ্র স্বার্থচিন্তাকে বিসর্জন দেওয়া। যদি দেবী বিসর্জনের পর মানুষের ভেতরের পশুত্ব জীবিত থেকে যায়, তবে সেই পূজার আয়োজন সার্থক হয় না।পরিশেষে বলা যায়, দুর্গাপূজা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সাময়িক সামাজিক আনন্দ-প্রদর্শন নয়; এটি আত্মচেতনা ও প্রজ্ঞার পরম তীর্থক্ষেত্র। দুর্গোৎসবের এই মহতী তিথিতে জাত-পাত ও ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়া আবশ্যক। দেবী দুর্গার আরাধনার মাধ্যমে ভেতরের সত্য ও শুভ শক্তিকে জাগিয়ে তুলে, আত্ম-উপলব্ধির পরম আলোয় জীবনকে উদ্ভাসিত করে এবং একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও সম্প্রীতিময় সমাজ গঠনে আত্মোন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়াই হোক পাথেয়।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

২১ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গোৎসব : আত্ম-উপলব্ধি ও আত্মোন্নয়নের শিক্ষা

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
ষড়যন্ত্রের শিকার ভূঞাপুরের রাজপথের লড়াকু সৈনিক জাহাঙ্গীর

ষড়যন্ত্রের শিকার ভূঞাপুরের রাজপথের লড়াকু সৈনিক জাহাঙ্গীর

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের রাজপথের দীর্ঘ ১৭ বছরের পরীক্ষিত ও সাহসী ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়কে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহলের ইন্ধনে টার্গেটেড ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সুবিধাভোগী ও হাইব্রিডদের উত্থান এবং দলীয় একাংশের পরোক্ষ সহযোগিতায় এই লড়াকু সৈনিকের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় একজন খাঁটি বিএনপি পরিবারের সন্তান। হাই স্কুল জীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে তার সম্পৃক্ততা। বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে হরতালের সমর্থনে মশাল মিছিলের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তৎকালীন কঠিন সময়ে তাকে ছাড়া মিছিল করতে ছাত্রদলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা ভয় পেত- এমনই এক সাহসী ও রাজপথ কাঁপানো নেতা ছিলেন তিনি। ১৯৯৭-১৯৯৮ মেয়াদে ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি পৌর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার রফিক, আমিনুল, মোঃ হাফিজুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, মহসিন এবং আব্দুল খালেক সহ অনেকেই জানান, জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত সুশীল এবং পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি একজন আইকন। তার নামে এই টার্গেটেড ফ্রেমিং একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে করা হচ্ছে।রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সর্বপ্রথম ‘ভ্যান, রিকশা, শ্রমিক সমিতি ভূঞাপুর বাজার’ নামে একটি অরাজনৈতিক ও কল্যাণমুখী সংগঠন গড়ে তোলেন এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা অটোরিকশা ভ্যান শ্রমিক সমিতির ভূঞাপুর শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ পোল্টি ইন্ডাট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন ভূঞাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং ভূঞাপুর উপজেলা পরিবেশক মালিক সমিতির একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।আগামি ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ভূঞাপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং যমুনা নদীর ‘ভাবীর ঘাট’ নামে খ্যাত বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে দখল করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভাবীর ঘাটের মালিক পক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে বড় ধরনের কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ করতে এবং প্রকৃত ঘাটের মালিক যাচাই করার লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান এবং ভূঞাপুর থানার ওসি একেএম রেজাউল করিম নিজে সশরীরে স্পটে হাজির হন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রশাসন থেকে তাৎক্ষণিক ঘাটটির সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রশাসনের এই দূরদর্শী পদক্ষেপের পর থেকেই ওই এলাকায় বর্তমানে শান্তি বিরাজ করছে। বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত শত্রুতা চরিতার্থ করতে কুচক্রী মহলটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রকে ব্যবহার করছে। ওই প্রতারক চক্রটি স্থানীয় মাহিন, নিজাম ও শাকিল মিয়া সহ আরো কয়েকজনের সমন্বয়ে গঠিত। তারা দেশে এবং প্রবাসে ডেটিং অ্যাপসের মাধ্যমে বড় ধরনের স্ক্যামিং বা প্রতারণার সাথে জড়িত। নিজেদের এই অপকর্ম আড়াল করতে এবং ভূঞাপুরের একটি বিশেষ মহলের হয়ে দাবার ঘুঁটি হিসেবে কাজ করতে প্রতারক মাহিনকে বাদী করে ভূঞাপুর থানায় একটি ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করানো হয়েছে (ভূঞাপুর থানার মামলা নং-৯, জি,আর ১৩৫/২০২৬)। ওই মামলায়ও ত্যাগী নেতা জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়কে জড়ানোর পায়তারা করা হচ্ছে।এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, দলের জন্য দুর্দিনের পরীক্ষিত এই সকল কর্মীকে ম্লান করতে বিএনপিরই একটি অংশ বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার ও কুৎসিত কৌশল অবলম্বন করে ব্যক্তি ইমেজ নষ্ট করার পায়তারা করছে। যার সর্বশেষ শিকার হিসেবে বিএনপির একজন অত্যন্ত সক্রিয় কর্মীকে টার্গেট করা হয়েছে। তৃণমূলের রাজনীতি ও দলের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এই বিষয়ে অবিলম্বে বিএনপির হাই কমান্ডের কঠোর ও সরাসরি দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু জানান, বিএনপি ঘরাণার একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় অত্যন্ত সক্রিয়। সরাসরি বিএনপির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তিনি বিএনপি ঘরাণার শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের হয়ে কাজ করে থাকেন। সম্প্রতি ফেসবুকের অস্বস্তিকর কিছু বক্তব্য তাকে বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মী এবং মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত সৎ, কর্মঠ ও নিবেদিত।

২৫ অক্টোবর ২০২৬

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন-জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল): ইতিবাচক দৃষ্টিতে নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন। সচেতনভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন।আয়ের নতুন শুভ যোগ লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যার্থীদের আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ার জন্য আরো মনোযোগী হওয়া উচিত।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): কথাবর্তায় কৌশলী হোন। শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। কারো কাছ থেকে আর্থিক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দাম্পত্য জীবন ভালো যাবে, তবে মনমেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পেশাগত কাজে যথেষ্ট ব্যস্ততা বাড়বে। শারীরিক বিষয় নিয়ে যত্নশীল হোন।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মনের প্রশান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করুন। শারীরিক বিষয়ে সাবধানে থাকতে হবে। প্রেমের দিক থেকে কারো ক্ষেত্রে নতুন সমস্যার সম্ভাবনা আছে। পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): এ সপ্তাহে আপনার যথেষ্ট ব্যস্ততা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত উত্তেজিত অবস্থায় নেওয়া ঠিক হবে না। ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। লেনদেনে আরো সতর্ক হওয়া উচিত। শারীরিক বিষয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): আর্থিক বিনিয়োগে সচেতনতা প্রয়োজন। কারো ক্ষেত্রে নতুন প্রেমের সম্ভাবনা আছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন যোগাযোগ বাড়বে। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): সবধরনের পরিস্থিতিতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখুন। প্রেমের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। শরীরের প্রতি আরো যত্নশীল হতে হবে। পিতা-মাতার স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। সামাজিক কাজে সম্মান লাভ করবেন। দাম্পত্য জীবন আগের তুলনায় অনেক ভালো যাবে।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): মানসিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পারিবারিক বিষয় শুভ ও স্বাভাবিক যাবে। আর্থিক লেনদেনে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ কোনো কাজে ব্যয় বাড়বে। পেশাগত কাজে সহকর্মীর সঙ্গে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রোমান্টিক সম্পর্কে আনন্দ অনুভব করবেন।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): সামাজিক কাজে সুনাম পাবেন। রাগ, জেদ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কোনো কারণে মানসিক অস্থিরতা, চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাবে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মনোমালিন্য বাড়তে পারে। প্রেমের ক্ষেত্রে সুখ-শান্তি, মতবিরোধ সবই চলবে এ সপ্তাহে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): শারীরিক সুস্থতার মনোযোগী হোন। এ সপ্তাহ আপনার যথেষ্ট ভালো যাবে। দূর থেকে শুভ সংবাদ পাবেন। ঘনিষ্ঠ কারো আচরণে মানসিক কষ্ট পেতে পারেন। প্রেমের জন্য এ সপ্তাহটি উঞ্চ। তবে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। পেশাগত কাজে মতবিরোধ থাকবে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। অপ্রিয় কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। এ সপ্তাহ আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীত লিঙ্গের কারো সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে। স্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে আরো যত্নশীল হোন। পেশাগত কাজে আরো মনোযোগী হলে সফলতা পাবেন।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): কর্মক্ষেত্রে সফলতা পাবেন। পুরোনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। মানসিক শক্তির পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বৃদ্ধি করুন। প্রিয়জনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক ভালো যাবে। ভ্রমণ শুভ।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): প্রিয়জনের সঙ্গে মান-অভিমান হতে পারে। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। পুরোনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে। শারীরিক বিষয়ে সাবধানে থাকতে হবে। ভ্রমণ শুভ। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

২৪ অক্টোবর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল

ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিক উৎপাদন যাচ্ছে

দৃষ্টি ডেস্ক:প্রায় ২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের পর এবার বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটি কার্পাস তুলা শনাক্তকরণ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের পর তা বাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি খাতে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মসলিন দেখে দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।একসময় বাংলার রাজদরবার ও অভিজাতদের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত ঢাকাই মসলিন ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। সূক্ষ্ম বুনন ও মিহি সুতার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক কদর ছিল।নানা কারণে হারিয়ে যাওয়া এই শিল্প ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগে ২০১৩ সালে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক মো. আইয়ুব আলী বলেন, পাঠ্যবইয়ে পড়া বাঙালির ঐতিহ্য এখন নিজেরা তৈরি করতে পারছি। শুধু মসলিন তৈরি নয়, এর সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিও আমাদের হাতে এসেছে।তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের উদ্যোক্তা ও ক্রেতারা মসলিনে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফ্রান্সে মুঘল ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন, এমন কয়েকজনও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ গজ মসলিন নেওয়ার অনুরোধ এসেছে।তিনি বলেন, দেশে বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি চেয়ে ১৫ জন উদ্যোক্তা আবেদন করেছেন। উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের নিয়ম ও পদ্ধতিও নথিভুক্ত করা হয়েছে।আংটির মধ্যদিয়ে মসলিন শাড়ির অতিক্রমবিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে মসলিন দেখে দেশীয় শৌখিন ও সচ্ছল ক্রেতারাও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এখনই প্রকল্পের তৈরি কাপড় বিক্রির পরিকল্পনা নেই। বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা গড়ে উঠলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ঢাকাই মসলিন কাপড় বাজারে ছাড়া হবে।প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২৭টি শাড়ি, ২০টি স্কার্ফ ও রুমালের মতো ১১টি নমুনা কাপড় তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে তৈরি হয় আরও ৩১টি শাড়ি ও ১৪টি স্কার্ফ। এসব নমুনা বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে।কীভাবে ফিরল ঢাকাই মসলিনপুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ঐতিহাসিক নথি, গবেষণাপত্র ও জাদুঘরে সংরক্ষিত মসলিনের নমুনা পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্পের মুখ্য গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মঞ্জুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, জেমস টেলরের ‘এ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা’, অধ্যাপক আবদুল করিমের ‘ঢাকাই মসলিন’ এবং সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াসের ‘স্পিসিস প্ল্যান্টারাম’ বই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঐতিহাসিক কাপড়ের নমুনা পরীক্ষায় যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের সহায়তা নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা ৩৯টি তুলার নমুনার মধ্যে ছয়টি জাত শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষায় গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকার তুলার সঙ্গে ঐতিহাসিক মসলিনে ব্যবহৃত ফুটি কার্পাস তুলার ডিএনএর প্রায় ৯৬ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।ঐতিহাসিক নথি ও জেমস টেলরের বিবরণ পর্যালোচনা করে কাপাসিয়ায় ফুটি কার্পাস তুলা পাওয়ার সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়। কাপাসিয়ার পাশাপাশি তিতাবাদি নামের একটি স্থান নিয়েও অনুসন্ধান হয়। এসব গবেষণার ভিত্তিতে তুলা চাষ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।সাধারণ মসলিন থেকে ঢাকাই মসলিন কেনো আলাদাঢাকাই মসলিনের বিশেষত্ব ছিল নির্দিষ্ট জাতের তুলা, হাতে কাটা সূক্ষ্ম সুতা, দক্ষ কারিগর ও বিশেষ ধরনের তাঁতের সমন্বয়। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল, বিশেষ করে সোনারগাঁ, কাপাসিয়া এবং শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর অববাহিকার উর্বর পলল মাটিতে ফুটি কার্পাস তুলা জন্মাত।অতিসূক্ষ্ম সুতা কাটতে আর্দ্র পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শীতলক্ষ্যার তীরবর্তী অঞ্চলে সকাল বা সন্ধ্যায় সুতা কাটার কাজ হতো। শুষ্ক বাতাসে সূক্ষ্ম সুতা ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় পরিবেশের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেত। দক্ষ নারী ও পুরুষ কারিগররা বংশপরম্পরায় অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সুতা তৈরি ও কাপড় বুনতেন।প্রকল্প পরিচালক আইয়ুব আলী জানান, কাপাসিয়ার তুলার সুতায় সিল্কের মতো স্পর্শ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক মসলিনের সূক্ষ্মতা ও বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে ফুটি কার্পাসের জাত শনাক্ত করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।কারিগর তৈরি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরমসলিন তৈরির জন্য ফুটি কার্পাস তুলা, হাতে কাটা সুতা এবং তাঁতে কাপড় বোনা- এই তিনটি বিষয় অপরিহার্য বলে জানান আইয়ুব আলী। তুলার জাত শনাক্ত হওয়ার পর গাজীপুরে তুলা বোর্ডের জমি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে তুলা চাষ করা হয়।কারিগর তৈরির জন্য কুমিল্লার চান্দিনায় খাদি কাপড় তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪০০ জনের মধ্য থেকে বাছাই করে ছয়জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হাতে সুতা কাটার চরকা তৈরি থেকে শুরু করে সুতা প্রস্তুত, নাটাই করা, তাঁতে সুতা সাজানো ও কাপড় বোনার বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।আইয়ুব আলী জানান, প্রশিক্ষিত কারিগরদের পাশাপাশি মসলিন হাউসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৩০ জন তাঁতি ও কারিগরকেও উৎপাদনে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।অধ্যাপক মঞ্জুর হোসেন বলেন, বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য ফুটি কার্পাস তুলার জোগান বাড়াতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তুলা চাষের প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং চুক্তিভিত্তিক তুলা উৎপাদনের মাধ্যমে চাষি ও উৎপাদকদের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।কর্মসংস্থান ও বাজারের সম্ভাবনাবাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি খাতে মসলিন উৎপাদন শুরু হলে তুলা চাষ, সুতা কাটা, কাপড় বোনা, মান নিয়ন্ত্রণ ও বিপণনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গ্রামীণ পর্যায়ে তুলাচাষি ও কারিগরদের যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের পুনরুদ্ধার যুক্ত হলে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।তবে উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত ফুটি কার্পাস তুলা, দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে অতিসূক্ষ্ম মসলিন তৈরি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এর দাম সাধারণ কাপড়ের তুলনায় বেশি হতে পারে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে এর দাম কতটা থাকবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারজাতকরণ কৌশলের ওপর। তবে ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে সংগ্রহের জন্যও মসলিনের চাহিদা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।পুনরুদ্ধার করা প্রযুক্তি, দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ এবং ১৫ উদ্যোক্তার আবেদনে বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু ও দীর্ঘমেয়াদে তা সম্প্রসারণের সাফল্য নির্ভর করবে পর্যাপ্ত তুলা, দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ের ওপর।তথ্যসূত্র: সংগৃহীত

২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিক উৎপাদন যাচ্ছে

সাইবার নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করতে চান প্রতিভাবান সোহান

দৃষ্টি রিপোর্ট:সাইবার জগতে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি মিডিয়া ও সঙ্গীত শিল্পে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিয়মিত কাজ করতে চান সোহান আহমেদ। সোহান আহমেদ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা বল্লা গ্রামের মো. আমিনুর ইসলামের ছেলে। ইতোমধ্যে ডিজিটাল উদ্ভাবন, মিডিয়া প্রডাকশন এবং সুরের ভুবনে একই সাথে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তরুণ আইটি বিশেষজ্ঞ, ওয়েব ডিজাইনার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক সোহান আহমেদ। পেশাগত জীবনে প্রযুক্তি খাত, টেলিভিশন ব্রডকাস্ট মিডিয়া এবং ডিজিটাল মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি- ক্ষেত্রে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের শক্তিশালী অবস্থান।আইটি, ওয়েব ডিজাইন ও সাইবার সিকিউরিটি খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন সোহান আহমেদ। তিনি ওয়েবেভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘এসএআর টেক’ (SAR TECH)-এর প্রতিষ্ঠাতা। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের ওয়েবসাইট ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার সিকিউরিটি পরামর্শ এবং কারিগরি বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছেন।তিনি এটিএন বাংলা, চ্যানেল নাইনসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে এটিএন বাংলার জন্য জিএম সৈকত পরিচালিত পূজা স্পেশাল নাটক ‘দেবী’, চ্যানেল নাইনে চিত্রনায়ক শিপন মিত্র অভিনীত ও জিএম সৈকত পরিচালিত নাটক ‘ঘর জামাই’-এর অডিও-ভিডিও সম্পাদনা ও মিডিয়া প্রডাকশনের কাজ অন্যতম।এছাড়া দেশের সুপরিচিত সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি সিরিজ (G Series), সিডি চয়েজ (CD Choice) এবং সুরঞ্জলির ব্যানারে প্রচারিত কণ্ঠশিল্পী আরিয়ান হাসমি ও জিয়াদ সিদ্দিকসহ বিভিন্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সঙ্গীত শিল্পীর বেশ কিছু জনপ্রিয় গানের অডিও-ভিডিও সম্পাদনা ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণে কাজ করেছেন তিনি।স্বাধীন সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ডিজিটাল মাধ্যমে স্বত্বাধিকার রক্ষা এবং নিজস্ব প্রকাশনা সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন অডিও-ভিডিও লেবেল ‘এসএআর মিউজিক ওয়ার্ল্ড’ (SAR Music World)। এই লেবেলের অধীনে তাঁর সুরারোপিত ও পরিচালিত থেকে শুরু করে অন্যান্য জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীত শিল্পিদের একাধিক ট্র্যাক স্পোটিফাই, অ্যাপল মিউজিক, ইউটিউবসহ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে পরিবেশিত হয়ে আসছে।এ বিষয়ে টোকাই নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা, নাট্য পরিচালক ও অভিনেতা সাজু মেহেদীর সাথেও কথা হয়। তিনি সোহান আহমেদ এর ডিজিটাল কর্মকান্ডের বিষয়ে জানান, ‘সোহান আহমেদের মধ্যে আমি অসাধারণ প্রতিভা, মেধা ও সম্ভাবনা দেখতে পাই। তিনি নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি বহুদূর এগিয়ে যাবেন। তার মধ্যে ভালো কিছু করার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা সঠিকভাবে বিকশিত হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারবে।’ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সোহান আহমেদ জানান, সাইবার জগতে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি মিডিয়া ও সঙ্গীত শিল্পে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিয়মিত কাজ করে যাওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

২১ অক্টোবর ২০২৬
সাইবার নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করতে চান প্রতিভাবান সোহান

আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায়

দৃষ্টি নিউজ:শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমী আজ বুধবার (২১ অক্টোবর)। দিন শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পাচ দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে বিদায়ের সুর। ঢাক-ঢোল ও শঙ্খের ধ্বনির সঙ্গে ভক্তদের চোখের জলে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকালে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বিহিত পূজা। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। এরপর স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন ভক্তরা।হিন্দুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। দেবীর বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে দেখা দেয় বিষাদের আবহ। কয়েক দিনের উৎসবমুখর পরিবেশের পর প্রিয় দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক ভক্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাক ও শঙ্খের ধ্বনি সেই বিদায়ের আবহকে আরও গভীর করে তোলে।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়া। এসব নেতিবাচক প্রবৃত্তি পরিহার করে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ় করা এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ই এ আয়োজনের অন্যতম শিক্ষা।বিজয়া দশমীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন সিঁদুর খেলা। দেবী দুর্গার বিদায়ের আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সনাতনী নারীরা এ আয়োজনে অংশ নেবেন। দেবীর চরণে অর্পিত সিঁদুর নিয়ে নিজেদের রাঙিয়ে তোলার পাশাপাশি একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেবেন তারা।প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, স্বামীর মঙ্গল কামনায় নারীরা দশমীর দিন দেবী দুর্গার সিথিতে দেওয়া সিদুর নিজের সিথিতে ধারণ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পান ও মিষ্টি দিয়ে দেবীকে সিদুর স্পর্শ করানোর পর নারীরা পরস্পরের সিথি ও মুখে সিঁদুর লাগিয়ে দেন। সিঁদুর খেলা শেষে দেবীর আরাধনা করে তাকে শেষবারের মতো প্রণাম জানাবেন ভক্তরা।ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে এবং গমন করবেন নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা।বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানালেও ভক্তদের মনে রয়ে যাবে আগামী বছরের পূজার অপেক্ষা।

২১ অক্টোবর ২০২৬
আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায়
টাঙ্গাইলে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত
বিনোদন

টাঙ্গাইলে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকবর্তিকা, আধ্যাত্মিক সাধক ও বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এদিন বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। লালনভক্ত ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘জনসেবা চত্বরে’ এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক আলোচনা সভা ও লালনগীতির আসর অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. সেলিম মিয়া। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান তুহীন, টাঙ্গাইল ল’ কলেজের অধ্যক্ষ খান মোহাম্মদ খালেদ ও স্থানীয় লালনভক্ত, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন, শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দা সেলিনা আক্তার ও জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুন হোসাইন।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি বলেন, ‘লালন সাঁইজির দর্শন কেবল গান বা সুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের আত্মিক মুক্তির পথ দেখায়। জাত-পাত ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে তিনি যে মানবতার বাণী প্রচার করে গেছেন- তা বর্তমান সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে অত্যন্ত জরুরি।’সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, ‘লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে জেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একাডেমি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি কেবল একজন সাধকই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন বাঙালি সংস্কৃতির এক আলোকবর্তিকা।’আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী ও আমন্ত্রিত লালনভক্ত বাউল শিল্পীরা একতারা-দোতারার সুরে লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক ও দেহতত্ত্বের গান পরিবেশন করেন।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক লালন অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।

১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

দৃষ্টি বিনোদন:আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও পুরস্কৃত হলো বাংলাদেশের সিনেমা। ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’। ২০০৫ সাল থেকে ইতালির লুকা শহরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই উৎসব। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চার অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের ২২তম আসর। শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম।এবারের লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে ‘মাস্টার’ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি সিনেমা প্রতিযোগিতা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’, ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি। এসব সিনেমাকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’।উৎসবের জুরিবোর্ড তাদের ঘোষণায় ‘মাস্টার’ সিনেমার প্রশংসা করে জানিয়েছে, একটি স্থানীয় গল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বর্তমান সংকটকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।জুরিদের মতে, বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন একজন শিক্ষকের গল্প দেখতে পান, যিনি ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের বদলে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে দৌড়ানো এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফাদে পড়ে তার সেই নীতি কীভাবে ফিকে হয়ে যায়, সেটিই সাবলীলভাবে দেখানো হয়েছে ‘মাস্টার’ সিনেমায়।রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ও প্রযোজিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ নিয়ে আসা একজন আদর্শবান শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতা ও আপসের যাতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, তা নিয়েই এগিয়েছে ‘মাস্টার’-এর গল্প। আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ, তাসনুভা তামান্না প্রমুখ।লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা সুমিত। তিনি বলেন, ‘লুকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই অর্জন মাস্টার সিনেমাটির সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে এ বছর বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। এতগুলো দুর্দান্ত কাজের মাঝে আমার টিমের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করার জন্য বিচারকমণ্ডলীর কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে সেরা নির্বাচিত হয় ‘মাস্টার’। নির্মাতা সুমিত জানিয়েছেন, সিনেমাটি দেশের দর্শকদের দেখানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পদার্থ বিজ্ঞানের বন্ধনে, প্রাক্তনদের মিলনে- আগামীর পথে একসাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়।এদিন সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের হলরুমে গিয়ে অ্যালামনাই ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সচিব মাসুম বেগ, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক সাব্বির হাসান পল সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। দিনব্যাপী ওই পুনর্মিলনীকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

আব্দুস সাত্তার:নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

২০ আগস্ট ২০২৬
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।