সর্বশেষ
• লাল পতাকা উড়িয়ে ট্রেন থামালেন গেটম্যান :: রক্ষা পেল বালুবাহী ট্রাক ও সহস্রাধিক যাত্রী • এ সপ্তাহের রাশিফল • ‘কোথায় সেই পলোই বাওয়া, কোথায় ঝাঁকি জাল, শুকিয়ে গেছে নদী-নালা, বদলে গেছে কাল’ • মূর্খ সংঘের তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন • অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন • বল্লায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার • ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসডিজি অর্জনে কর্মশালা অনুষ্ঠিত • দুপাশে পাকা সড়ক, মাঝখানে বাঁশের সাঁকোই ভরসা • গোপালপুরে নিহত রাকিবের বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের পরিবর্তে কুলখানি অনুষ্ঠিত • সাংবাদিক শেখরের মায়ের পরলোকগমণে প্রতিমন্ত্রী সহ বিভিন্ন সংগঠনের শোক
লাল পতাকা উড়িয়ে ট্রেন থামালেন গেটম্যান :: রক্ষা পেল বালুবাহী ট্রাক ও সহস্রাধিক যাত্রী
ছবি • ৮ মিনিট আগে

লাল পতাকা উড়িয়ে ট্রেন থামালেন গেটম্যান :: রক্ষা পেল বালুবাহী ট্রাক ও সহস্রাধিক যাত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাল পতাকা উড়িয়ে চলন্ত ট্রেন থামিয়ে দিয়েছেন এক রেলওয়ে গেটম্যান। এর ফলে রেললাইনে বিকল হয়ে পড়া একটি বালুবাহী ট্রাকের সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ঢাকাগামী 'সিল্কসিটি এক্সপ্রেস' ট্রেনের সহস্রাধিক যাত্রী এবং ট্রাকের চালক ও হেলপার। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে জেলার কালিহাতী উপজেলার সল্লা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেলক্রসিংয়ে এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা সেতু পার হয়ে আসা একটি বালুবাহী ট্রাক সল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বালু আনলোড করার জন্য রেলক্রসিং পার হচ্ছিল। ঠিক রেললাইনের ওপর ওঠার পরপরই হঠাৎ ট্রাকটির সামনের চাকার এক্সেল ভেঙে যায়। এতে ট্রাকটি লাইনের ওপর আটকা পড়ে সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়।ঠিক ওই মুহূর্তেই উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর 'সিল্কসিটি এক্সপ্রেস' ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার কথা ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সল্লা রেলওয়ের গেটম্যান মিজান স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত লাইনের ওপর বেশ কিছু দূর সামনে এগিয়ে যান এবং লাল পতাকা ওড়াতে থাকেন। লাল পতাকা দেখে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক (লোকোমোটিভ মাস্টার) দ্রুত ব্রেক চেপে দুর্ঘটনাস্থলের ঠিক কাছাকাছি এসে ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হন।এদিকে ট্রেনটি থামার পর রেললাইনে আটকে থাকা ট্রাকটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়। প্রথমে অন্য একটি ট্রাক এনে সেটির সাথে দড়ি বেঁধে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিকে টেনে সরানোর চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে সল্লা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে থাকা একটি মাটি কাটার ভেকু (ব্যাকহো) মেশিন ঘটনাস্থলে আনা হয়। ভেকু মেশিন দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটিকে রেললাইন থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া হয়। লাইন নিরাপদ হওয়ার পর এদিন দুপুর ১২টার দিকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।এ বিষয়ে রেলওয়ে গেটম্যান মিজান জানান, উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে একটি বড়সড় ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন ও যাত্রীদের রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় ট্রেন বা রেললাইনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এ সপ্তাহের রাশিফল
জাতীয় • ২৪ মিনিট আগে

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন।পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন-জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০এপ্রিল): কোনো ধরনের অলসতা ও দীর্ঘসূত্রিতাকে প্রশ্রয় দেবেন না। এ সপ্তাহে ব্যবসায়িক ও অংশীদারি কাজে সফলতা পাবেন। সৃজনশীল কাজে যুক্তদের জন্য ভালো সময়। কোনো আত্মীয়-স্বজনের অসুস্থজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকুন। সামগ্রিক বিষয়ে সফলতার জন্য ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধি করুন। প্রতিটি কাজকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করুন।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): খামখেয়ালিপনার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। জীবন সম্পর্কে নতুন ধ্যান ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা করুন। ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায় যুক্তদের জন্য অনুকূল সময়। দৈনন্দিন জীবনে ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রবাসীদের কাজের জায়গায় সাফল্য লাভের সম্ভাবনা আছে। শারীরিকভাবে চাঙা থাকবেন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। রোমান্স শুভ। সহকর্মীর সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখুন।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): অস্থির ও অতি উৎসাহী লোকজনের কাছ থেকে দূরে থাকুন। শারীরিক ও মানসিক দিকে আনন্দে থাকার চেষ্টা করুন। ব্যবসায়িক কাজে সফলতা পাবেন। আর্থিক বিষয়ে সফলতা আসার সম্ভবনা আছে। পারিবারিক সম্পর্ক ভালো যাবে। বেসরকারি চাকরিজীবীরা কর্মস্থলে ভালো সংবাদ পেতে পারেন। মানসিক প্রশান্তির জন্য বিনোদনমূলক কাজে সময় কাটান।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): মনোযোগ ও ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি কাজ করার চেষ্টা করুন। স্পষ্টবাদিতার জন্য ভুল বোঝাবুঝির পরিবেশ তৈরি হতে পারে, সেদিকে বিশেষ সচেতন হোন। পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন ভালো যাবে। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একটু সময় নিন। অর্থ বিনিয়োগে সতর্ক থাকুন। প্রতিটি কর্ম প্রচেষ্টায় আন্তরিক থাকার চেষ্টা করুন।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): পরিচিত পরিমণ্ডলে যোগাযোগ বাড়বে। প্রতিটি কাজ পরিকল্পনা ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিয়ে এগিয়ে চললে আপনি সফলতা পাবেন। অস্থিরতা, হতাশাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আশাবাদী মনোভাবকে আরো উজ্জীবিত করুন। পারিবারের সদস্যদের প্রতি মনোযোগী হোন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। রোমান্স শুভ।.কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): কল্পনা ও আবেগ নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করুন। সিদ্ধান্তহীনতার জন্য সাফল্য লাভে বঞ্চিত হতে পারেন। পরিবর্তনশীল মানসিকতা ও অলসতা পরিহার করুন। শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য কিছুক্ষণ নীরবে ধ্যান করুন। ব্যবসায়িক লেনদেনে সফলতা পাবেন। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন। বৈদেশিক সূত্রে লাভবান হতে পারেন।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ আপনাকে অবসন্ন করতে পারে। আপনার পেশায় আগ্রহী নয়, এমন ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলুন। জীবনসঙ্গী/প্রিয়জনের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে তুলার চেষ্টা করুন। পারিবারিক জীবনে সমালোচনা ও খুঁতখুঁতে মানসিকতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কর্মজীবনে সফলতা পাবেন। শারীরিক বিষয় নিয়ে যথেষ্ট সচেতন থাকার চেষ্টা করুন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): আপনার কর্মউদ্যম ও কর্মস্পৃহা বাড়বে। কাজে ও পরিকল্পনায় সফলতা পাবেন। তবে আপনার সেন্টিমেন্ট ও খামখেয়ালিপনা পারিবারিক জীবনের শান্তির অন্তরায় হতে পারে। আপনার রোমান্টিকতার জন্য বিপরীত লিঙ্গ আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে। তবে আপনাকে প্রতিটি বিষয়ে সহনশীল ও কুশলী হতে হবে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): সৃজনশীল কাজে সফলতা পাবেন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। প্রিয়জনের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আন্তরিকতা বাজায় থাকবে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত যোগাযোগ শুভ। দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি পাবেন। পরিবার পরিজনের কাছে আপনার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। নিজেকে সমৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার চেষ্টা করুন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্রয় দেবেন না।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): সবদিক থেকে আপনার যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সফলতা আসার সম্ভবনা আছে। পারিবারিক জীবনে কোনো সুখবর পেতে পারেন। রোমান্স শুভ। মানসিকভাবে সতেজ থাকবেন। নেতিবাচক পরিবেশ ও লোকদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): পারিবারিক সম্পর্ক ভালো যাবে। প্রিয়জনের সঙ্গে আন্তরিক ও নিবিড় সম্পর্ক থাকবে। বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকা উচিত। নিজের উত্তেজনা ও অস্থিরতাকে প্রশমিত করার চেষ্টা করুন। শারীরিক বিষয়ে সতর্ক থাকার চেষ্টা করুন। যানবাহন চলাচলে সাবধান থাকুন। বিদেশ থেকে ভালো খবর পেতে পারেন। ব্যবসায়ীদের আয় রোজগার বাড়বে।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): ক্যারিয়ার সম্পর্কিত বিষয়ে কোনো সুখবর পেতে পারেন। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে চমৎকার সময় কাটবে। পেশাগত কাজে সফলতা ও সুনাম বৃদ্ধি পাবে। শারীরিক বিষয়ে অবহেলা করবেন না। আপনার পরিচিত মহলে যোগাযোগ বাড়বে। বিনিয়োগের জন্য ভালো সময়। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন।

‘কোথায় সেই পলোই বাওয়া, কোথায় ঝাঁকি জাল, শুকিয়ে গেছে নদী-নালা, বদলে গেছে কাল’
অর্থনীতি • ৩৩ মিনিট আগে

‘কোথায় সেই পলোই বাওয়া, কোথায় ঝাঁকি জাল, শুকিয়ে গেছে নদী-নালা, বদলে গেছে কাল’

মু. আবিদ মল্লিক জয়:‘কোথায় সেই পলোই বাওয়া, কোথায় ঝাঁকি জাল, শুকিয়ে গেছে নদী-নালা, বদলে গেছে কাল’ পঙতির আদলে এখন আর মাছ ধরার উৎসব নেই। মিঠাপানির দেশীয় মাছের আকালে সেই সুখের ‘সময়’ বদলে গেছে। রূপসী বাংলার জলছলোছল খালের পাড় আর রূপালী মাছের মায়াবী খেলা আজ যেন কেবলই ধূসর স্মৃতি। টাঙ্গাইলে কৃত্রিমভাবে পুকুরে মাছ চাষে সাফল্য এলেও, প্রাকৃতিক উৎস নদী-নালা, খাল-বিল থেকে দেশীয় মুক্ত জলাশয়ের মাছের উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধির গতি ক্রমেই নিম্নমুখী। ফলে আমাদের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও সহজলভ্যতা এখন মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। এই বৈশ্বিক ও জাতীয় সংকটের নেতিবাচক প্রতিচ্ছবি এখন টাঙ্গাইল জেলায়ও স্পষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাভূমি সংকোচন, কৃষিজমিতে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জালের নিষ্ঠুর থাবায় টাঙ্গাইল জেলায় দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে এসে দাঁড়িয়েছে। মুক্ত জলাশয়ে দেশি মাছের আকাল তৈরি হওয়ায় জেলার ঐতিহ্যবাহী মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো এখন অস্তিত্বের সংকটে ধুঁকছে, আর সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি।স্থানীয় প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কার্তিক মাসের হালকা শীত আর প্রখর রোদে নদ-নদীর পানি, খাল-নালা ও নিচু জমির পানি দ্রুত শুকিয়ে যেতে থাকে। ডুবে থাকা ডোবা, নালা, খাল-বিলের পানি কমে গেলে এসব নিচু স্থানে আটকা পড়ে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। সে সময় কাদা পানিতে নেমে হাত দিয়ে মাছ শিকার করা গ্রাম-বাংলার এক চিরায়ত রূপ। তবে যুগ পরিবর্তনের হাওয়ায় দূরন্ত কৈশোরে দল বেঁধে এখন আর খাল-বিল-জলাশয়ে কিশোর-কিশোরীদের মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ে না। কদাচিৎ দৃষ্টি কাড়ে।সরেজমিনে দেখা যায়, কালিহাতী উপজেলার রৌহা গ্রামের শুকনি বিলের এক কোণায় ছোট অংশ সেচে দেশীয় মাছ ধরায় ব্যস্ত রয়েছে ওই গ্রামের চার কিশোর- রিফাত, মাসফিকুর রহমান, মফিরুল ইসলাম ও সেলিম মিয়া। সারা শরীরে কাদা মাটি মেখে আনন্দের সাথে মাছ ধরায় মত্ত তারা।তারা জানায়, সকাল নয়টার সময় বিলের ছোট অংশে পানি সেচ শুরু করে বেলা ১২টার দিকে শেষ করে। এরপর কাদা মাটি থেকে তারা পুঁটি, চাটা, টাকি, শিং ও বাইম মাছসহ প্রায় ১০ কেজির মতো মাছ ধরে ভীষণ খুশি। অপরদিকে, সম্প্রতি ঘাটাইলের ধলাপাড়া ইউনিয়নের চাপড়া বিলে হঠাৎ চোখে পড়ে এমন আরেকটি দৃশ্য। সেখানে রবিন নামে এক কিশোর তার সঙ্গীদের নিয়ে শোল, টাকি, পুঁটি, খলশে, কৈ, মাগুর, শিং, ট্যাংরা সহ দেশীয় প্রজাতির নানা মাছ ধরে উল্লাসে মেতে ওঠে। শৈশবের এই অনাবিল হাসি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মনে করিয়ে দেয় আমরা মূলত আমাদের শেকড়কেই হারাচ্ছি।টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মিঠা পানির মাছের অন্যতম প্রধান উৎস এই জেলায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংখ্যা বিপুল। জেলায় মোট পুকুরের সংখ্যা ৪১ হাজার ৪৯৫টি। তবে মুক্ত জলাশয় হিসেবে জেলাটিতে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে ২৯৮টি বিল, ১২৮টি খাল, ৩টি বাওড় এবং ৪টি পেন কালচার। কিন্তু প্রতিনিয়ত আবাসিক এলাকা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং কৃষিজমির সম্প্রসারণের কারণে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল, বিল, পুকুর এবং ডোবা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাছের স্বাভাবিক বাসস্থান ও প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে।একদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, অসময়ে বন্যা এবং খরার কারণে জলাশয় দ্রুত শুকিয়ে মাছের ডিম ছাড়ার প্রাকৃতিক চক্র ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শীত ও গ্রীষ্মকালে চাষাবাদের সুবিধার্থে অনেক বিল বা খাল সম্পূর্ণ সেচে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। এতে মা মাছগুলোর বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ থাকছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়ন্ত্রিত ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার, কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জাল বা মশারি জালের মতো ক্ষতিকর ফাঁদ ব্যবহার করে ডিমওয়ালা মাছ এবং রেণু পোনা নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে।স্থানীয় প্রবীণ জেলেরা জানায়, টাঙ্গাইলের নদ-নদী ও খাল-বিলে একসময় শতাধিক প্রজাতির বর্ণিল দেশি মাছের সমারোহ ছিল। বর্তমানে বেশকিছু প্রজাতি চরম সংকটাপন্ন এবং আরও বহু প্রজাতি বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে। সংকটাপন্ন মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে- চিতল, রিটা, গুজি আইড়, বাঘাইড়, বামোশ, রানি মাছ, টেংরা, পাবদা, চাপিলা, শিং, মাগুর, দেশি কৈ, খলিসে, ভেদা (মেনী), ফলি, গজার, চেং, খরকাটি, বালিয়া, চেলা, শাল চোপরা, পোয়া ও শৌল মাছ ইত্যাদি।বছরের কোনো সময়েই এখন বাজারে আর আগের মতো মুক্ত জলাশয়ের সুস্বাদু দেশি মাছের দেখা মেলে না। যা-ও বা কখনো অল্পস্বল্প পাওয়া যায়, তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে জেলার মানুষের রূপালী পুষ্টির আদিম স্বাদ ও চাহিদা মেটাতে এখন কৃত্রিমভাবে চাষ করা হাইব্রিড জাতের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া কিংবা চাষের রুই-কাতলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের আকালে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন টাঙ্গাইলের চিরদুখী পেশাদার জেলেরা। জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত মৎস্যজীবীর সংখ্যা ৩০ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া আরও প্রায় ২০ হাজার মানুষ পরোক্ষভাবে এই মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কালিহাতীর ঐতিহ্যবাহী চারান বিল এলাকার জেলেরা জানায়, বংশপরম্পরায় মাছ ধরে সংসার চালালেও এখন সারা দিন জাল ফেলেও কয়েক কেজি মাছ মেলা ভার। জলের বুক থেকে লক্ষ্মী বিদায় নেওয়ায় বাধ্য হয়ে বিপুল সংখ্যক মৎস্যজীবী তাদের পৈত্রিক পেশা পরিবর্তন করে রিকশা চালনা, দিনমজুর বা অন্য কোনো কঠিন শ্রমে যুক্ত হচ্ছেন।টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর বলেন, মিঠা পানির সুস্বাদু দেশীয় মাছের বিলুপ্তি রোধে মৎস্য বিভাগ বদ্ধপরিকর। উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশি মাছের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির জন্য জেলায় ইতিমধ্যে ১৩টি মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। তবে মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থলগুলো রক্ষায় এই অভয়াশ্রমের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমানে টাঙ্গাইলের অধিকাংশ খাল-বিল-নালা পলি জমার কারণে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এসব প্রাকৃতিক জলাশয় পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করে গভীরতা বাড়ানো এবং সর্বস্তরের দখল-দূষণ প্রতিরোধ করা জরুরি।

মূর্খ সংঘের তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
ছবি • ০৫ নভেম্বর ২০২৬

মূর্খ সংঘের তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট:বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মূর্খ সংঘ’ এর আয়োজনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজ প্রকৃতি ফিরিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ভয়াবহ বজ্রপাত রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় টাঙ্গাইল জেলাব্যাপী তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৫ নভেম্বর) দুপুরে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে তালবীজ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আশেক পারভেজ।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তাই সকলকে যার যার অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাড়াতে কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বজ্রপাত রোধে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মূর্খ সংঘ’ এর উদ্যোগে তালবীজ লাগানোর যে কার্যক্রম শুরু করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।এ সময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদ হাসান খান টিটন, মো. চঞ্চল চৌধুরী, শামীম আলম মামুন, মূর্খ সংঘের উদ্যোক্তা মোস্তাক আহমেদ রানা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
এ সপ্তাহের রাশিফল
জাতীয়

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন।পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন-জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০এপ্রিল): কোনো ধরনের অলসতা ও দীর্ঘসূত্রিতাকে প্রশ্রয় দেবেন না। এ সপ্তাহে ব্যবসায়িক ও অংশীদারি কাজে সফলতা পাবেন। সৃজনশীল কাজে যুক্তদের জন্য ভালো সময়। কোনো আত্মীয়-স্বজনের অসুস্থজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকুন। সামগ্রিক বিষয়ে সফলতার জন্য ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধি করুন। প্রতিটি কাজকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করুন।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): খামখেয়ালিপনার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। জীবন সম্পর্কে নতুন ধ্যান ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা করুন। ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায় যুক্তদের জন্য অনুকূল সময়। দৈনন্দিন জীবনে ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রবাসীদের কাজের জায়গায় সাফল্য লাভের সম্ভাবনা আছে। শারীরিকভাবে চাঙা থাকবেন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। রোমান্স শুভ। সহকর্মীর সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখুন।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): অস্থির ও অতি উৎসাহী লোকজনের কাছ থেকে দূরে থাকুন। শারীরিক ও মানসিক দিকে আনন্দে থাকার চেষ্টা করুন। ব্যবসায়িক কাজে সফলতা পাবেন। আর্থিক বিষয়ে সফলতা আসার সম্ভবনা আছে। পারিবারিক সম্পর্ক ভালো যাবে। বেসরকারি চাকরিজীবীরা কর্মস্থলে ভালো সংবাদ পেতে পারেন। মানসিক প্রশান্তির জন্য বিনোদনমূলক কাজে সময় কাটান।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): মনোযোগ ও ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি কাজ করার চেষ্টা করুন। স্পষ্টবাদিতার জন্য ভুল বোঝাবুঝির পরিবেশ তৈরি হতে পারে, সেদিকে বিশেষ সচেতন হোন। পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন ভালো যাবে। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একটু সময় নিন। অর্থ বিনিয়োগে সতর্ক থাকুন। প্রতিটি কর্ম প্রচেষ্টায় আন্তরিক থাকার চেষ্টা করুন।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): পরিচিত পরিমণ্ডলে যোগাযোগ বাড়বে। প্রতিটি কাজ পরিকল্পনা ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিয়ে এগিয়ে চললে আপনি সফলতা পাবেন। অস্থিরতা, হতাশাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আশাবাদী মনোভাবকে আরো উজ্জীবিত করুন। পারিবারের সদস্যদের প্রতি মনোযোগী হোন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। রোমান্স শুভ।.কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): কল্পনা ও আবেগ নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করুন। সিদ্ধান্তহীনতার জন্য সাফল্য লাভে বঞ্চিত হতে পারেন। পরিবর্তনশীল মানসিকতা ও অলসতা পরিহার করুন। শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য কিছুক্ষণ নীরবে ধ্যান করুন। ব্যবসায়িক লেনদেনে সফলতা পাবেন। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন। বৈদেশিক সূত্রে লাভবান হতে পারেন।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ আপনাকে অবসন্ন করতে পারে। আপনার পেশায় আগ্রহী নয়, এমন ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলুন। জীবনসঙ্গী/প্রিয়জনের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে তুলার চেষ্টা করুন। পারিবারিক জীবনে সমালোচনা ও খুঁতখুঁতে মানসিকতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কর্মজীবনে সফলতা পাবেন। শারীরিক বিষয় নিয়ে যথেষ্ট সচেতন থাকার চেষ্টা করুন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): আপনার কর্মউদ্যম ও কর্মস্পৃহা বাড়বে। কাজে ও পরিকল্পনায় সফলতা পাবেন। তবে আপনার সেন্টিমেন্ট ও খামখেয়ালিপনা পারিবারিক জীবনের শান্তির অন্তরায় হতে পারে। আপনার রোমান্টিকতার জন্য বিপরীত লিঙ্গ আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে। তবে আপনাকে প্রতিটি বিষয়ে সহনশীল ও কুশলী হতে হবে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): সৃজনশীল কাজে সফলতা পাবেন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। প্রিয়জনের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আন্তরিকতা বাজায় থাকবে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত যোগাযোগ শুভ। দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি পাবেন। পরিবার পরিজনের কাছে আপনার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। নিজেকে সমৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার চেষ্টা করুন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্রয় দেবেন না।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): সবদিক থেকে আপনার যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সফলতা আসার সম্ভবনা আছে। পারিবারিক জীবনে কোনো সুখবর পেতে পারেন। রোমান্স শুভ। মানসিকভাবে সতেজ থাকবেন। নেতিবাচক পরিবেশ ও লোকদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): পারিবারিক সম্পর্ক ভালো যাবে। প্রিয়জনের সঙ্গে আন্তরিক ও নিবিড় সম্পর্ক থাকবে। বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকা উচিত। নিজের উত্তেজনা ও অস্থিরতাকে প্রশমিত করার চেষ্টা করুন। শারীরিক বিষয়ে সতর্ক থাকার চেষ্টা করুন। যানবাহন চলাচলে সাবধান থাকুন। বিদেশ থেকে ভালো খবর পেতে পারেন। ব্যবসায়ীদের আয় রোজগার বাড়বে।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): ক্যারিয়ার সম্পর্কিত বিষয়ে কোনো সুখবর পেতে পারেন। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে চমৎকার সময় কাটবে। পেশাগত কাজে সফলতা ও সুনাম বৃদ্ধি পাবে। শারীরিক বিষয়ে অবহেলা করবেন না। আপনার পরিচিত মহলে যোগাযোগ বাড়বে। বিনিয়োগের জন্য ভালো সময়। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন।

২৪ মিনিট আগে

দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

দৃষ্টি নিউজ:বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের দাবি, ঘটনার রাতে কিছু লোক ধাওয়া দিলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। তবে এ দাবি বিশ্বাস করছেন না তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। তার মতে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন দ্বীপ। গতকাল রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠ পরিদর্শন করছে পিবিআই। সেখানে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ বলেন, ‘দূর থেকে আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। ভাই (তাহসিফ) দৌড় দেন। আমি তখন পিলারের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং আশা করতে থাকি দুজন ইউনিফর্ম পরা লোক আমাকে দেখতে না পায়। আমি দৌড় দেইনি, হেঁটে হেঁটে আসি।’দ্বীপের বরাতে পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দ্বীপ তুরাগ নদের পাশের মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করে। তখন দ্বীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এখনো তার (দ্বীপের) বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছি না। মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দ্বীপের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতেই তদন্ত চলছে। তাহসিফ সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। রহস্য উদ্ঘাটন হলে বিস্তারিত জানানো হবে।তবে দ্বীপের দেওয়া তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘না না, এ ধরনের কিছু হতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।মাজারসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের মালিক জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কে পড়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলটি দেখছি। কিন্তু এটা নেয়নি। আমরা ভেবেছি কেউ হয়তো রেখে গেছে। আজ সকালে পুলিশ একটি ভ্যানে করে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে তারা আবার নিয়ে আসে।’পিবিআইয়ের আরেক পুলিশ সুপার জানান, দ্বীপের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাহসিফও বাসা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন।গত মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। সেদিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর ফেরেননি।পরদিন বুধবার(২৮ অক্টোবর) বিকালে উত্তরখান থানা এলাকার রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দ্বীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

৩০ অক্টোবর ২০২৬
দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন-জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল): ইতিবাচক দৃষ্টিতে নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন। সচেতনভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন।আয়ের নতুন শুভ যোগ লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যার্থীদের আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ার জন্য আরো মনোযোগী হওয়া উচিত।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): কথাবর্তায় কৌশলী হোন। শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। কারো কাছ থেকে আর্থিক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দাম্পত্য জীবন ভালো যাবে, তবে মনমেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পেশাগত কাজে যথেষ্ট ব্যস্ততা বাড়বে। শারীরিক বিষয় নিয়ে যত্নশীল হোন।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মনের প্রশান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করুন। শারীরিক বিষয়ে সাবধানে থাকতে হবে। প্রেমের দিক থেকে কারো ক্ষেত্রে নতুন সমস্যার সম্ভাবনা আছে। পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): এ সপ্তাহে আপনার যথেষ্ট ব্যস্ততা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত উত্তেজিত অবস্থায় নেওয়া ঠিক হবে না। ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। লেনদেনে আরো সতর্ক হওয়া উচিত। শারীরিক বিষয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): আর্থিক বিনিয়োগে সচেতনতা প্রয়োজন। কারো ক্ষেত্রে নতুন প্রেমের সম্ভাবনা আছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন যোগাযোগ বাড়বে। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): সবধরনের পরিস্থিতিতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখুন। প্রেমের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। শরীরের প্রতি আরো যত্নশীল হতে হবে। পিতা-মাতার স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। সামাজিক কাজে সম্মান লাভ করবেন। দাম্পত্য জীবন আগের তুলনায় অনেক ভালো যাবে।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): মানসিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পারিবারিক বিষয় শুভ ও স্বাভাবিক যাবে। আর্থিক লেনদেনে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ কোনো কাজে ব্যয় বাড়বে। পেশাগত কাজে সহকর্মীর সঙ্গে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রোমান্টিক সম্পর্কে আনন্দ অনুভব করবেন।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): সামাজিক কাজে সুনাম পাবেন। রাগ, জেদ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কোনো কারণে মানসিক অস্থিরতা, চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাবে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মনোমালিন্য বাড়তে পারে। প্রেমের ক্ষেত্রে সুখ-শান্তি, মতবিরোধ সবই চলবে এ সপ্তাহে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): শারীরিক সুস্থতার মনোযোগী হোন। এ সপ্তাহ আপনার যথেষ্ট ভালো যাবে। দূর থেকে শুভ সংবাদ পাবেন। ঘনিষ্ঠ কারো আচরণে মানসিক কষ্ট পেতে পারেন। প্রেমের জন্য এ সপ্তাহটি উঞ্চ। তবে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। পেশাগত কাজে মতবিরোধ থাকবে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। অপ্রিয় কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। এ সপ্তাহ আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীত লিঙ্গের কারো সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে। স্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে আরো যত্নশীল হোন। পেশাগত কাজে আরো মনোযোগী হলে সফলতা পাবেন।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): কর্মক্ষেত্রে সফলতা পাবেন। পুরোনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। মানসিক শক্তির পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বৃদ্ধি করুন। প্রিয়জনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক ভালো যাবে। ভ্রমণ শুভ।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): প্রিয়জনের সঙ্গে মান-অভিমান হতে পারে। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। পুরোনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে। শারীরিক বিষয়ে সাবধানে থাকতে হবে। ভ্রমণ শুভ। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

২৪ অক্টোবর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল

ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিক উৎপাদন যাচ্ছে

দৃষ্টি ডেস্ক:প্রায় ২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের পর এবার বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটি কার্পাস তুলা শনাক্তকরণ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের পর তা বাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি খাতে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মসলিন দেখে দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।একসময় বাংলার রাজদরবার ও অভিজাতদের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত ঢাকাই মসলিন ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। সূক্ষ্ম বুনন ও মিহি সুতার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক কদর ছিল।নানা কারণে হারিয়ে যাওয়া এই শিল্প ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগে ২০১৩ সালে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক মো. আইয়ুব আলী বলেন, পাঠ্যবইয়ে পড়া বাঙালির ঐতিহ্য এখন নিজেরা তৈরি করতে পারছি। শুধু মসলিন তৈরি নয়, এর সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিও আমাদের হাতে এসেছে।তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের উদ্যোক্তা ও ক্রেতারা মসলিনে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফ্রান্সে মুঘল ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন, এমন কয়েকজনও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ গজ মসলিন নেওয়ার অনুরোধ এসেছে।তিনি বলেন, দেশে বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি চেয়ে ১৫ জন উদ্যোক্তা আবেদন করেছেন। উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের নিয়ম ও পদ্ধতিও নথিভুক্ত করা হয়েছে।আংটির মধ্যদিয়ে মসলিন শাড়ির অতিক্রমবিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে মসলিন দেখে দেশীয় শৌখিন ও সচ্ছল ক্রেতারাও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এখনই প্রকল্পের তৈরি কাপড় বিক্রির পরিকল্পনা নেই। বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা গড়ে উঠলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ঢাকাই মসলিন কাপড় বাজারে ছাড়া হবে।প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২৭টি শাড়ি, ২০টি স্কার্ফ ও রুমালের মতো ১১টি নমুনা কাপড় তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে তৈরি হয় আরও ৩১টি শাড়ি ও ১৪টি স্কার্ফ। এসব নমুনা বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে।কীভাবে ফিরল ঢাকাই মসলিনপুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ঐতিহাসিক নথি, গবেষণাপত্র ও জাদুঘরে সংরক্ষিত মসলিনের নমুনা পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্পের মুখ্য গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মঞ্জুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, জেমস টেলরের ‘এ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা’, অধ্যাপক আবদুল করিমের ‘ঢাকাই মসলিন’ এবং সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াসের ‘স্পিসিস প্ল্যান্টারাম’ বই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঐতিহাসিক কাপড়ের নমুনা পরীক্ষায় যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের সহায়তা নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা ৩৯টি তুলার নমুনার মধ্যে ছয়টি জাত শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষায় গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকার তুলার সঙ্গে ঐতিহাসিক মসলিনে ব্যবহৃত ফুটি কার্পাস তুলার ডিএনএর প্রায় ৯৬ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।ঐতিহাসিক নথি ও জেমস টেলরের বিবরণ পর্যালোচনা করে কাপাসিয়ায় ফুটি কার্পাস তুলা পাওয়ার সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়। কাপাসিয়ার পাশাপাশি তিতাবাদি নামের একটি স্থান নিয়েও অনুসন্ধান হয়। এসব গবেষণার ভিত্তিতে তুলা চাষ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।সাধারণ মসলিন থেকে ঢাকাই মসলিন কেনো আলাদাঢাকাই মসলিনের বিশেষত্ব ছিল নির্দিষ্ট জাতের তুলা, হাতে কাটা সূক্ষ্ম সুতা, দক্ষ কারিগর ও বিশেষ ধরনের তাঁতের সমন্বয়। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল, বিশেষ করে সোনারগাঁ, কাপাসিয়া এবং শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর অববাহিকার উর্বর পলল মাটিতে ফুটি কার্পাস তুলা জন্মাত।অতিসূক্ষ্ম সুতা কাটতে আর্দ্র পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শীতলক্ষ্যার তীরবর্তী অঞ্চলে সকাল বা সন্ধ্যায় সুতা কাটার কাজ হতো। শুষ্ক বাতাসে সূক্ষ্ম সুতা ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় পরিবেশের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেত। দক্ষ নারী ও পুরুষ কারিগররা বংশপরম্পরায় অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সুতা তৈরি ও কাপড় বুনতেন।প্রকল্প পরিচালক আইয়ুব আলী জানান, কাপাসিয়ার তুলার সুতায় সিল্কের মতো স্পর্শ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক মসলিনের সূক্ষ্মতা ও বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে ফুটি কার্পাসের জাত শনাক্ত করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।কারিগর তৈরি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরমসলিন তৈরির জন্য ফুটি কার্পাস তুলা, হাতে কাটা সুতা এবং তাঁতে কাপড় বোনা- এই তিনটি বিষয় অপরিহার্য বলে জানান আইয়ুব আলী। তুলার জাত শনাক্ত হওয়ার পর গাজীপুরে তুলা বোর্ডের জমি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে তুলা চাষ করা হয়।কারিগর তৈরির জন্য কুমিল্লার চান্দিনায় খাদি কাপড় তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪০০ জনের মধ্য থেকে বাছাই করে ছয়জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হাতে সুতা কাটার চরকা তৈরি থেকে শুরু করে সুতা প্রস্তুত, নাটাই করা, তাঁতে সুতা সাজানো ও কাপড় বোনার বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।আইয়ুব আলী জানান, প্রশিক্ষিত কারিগরদের পাশাপাশি মসলিন হাউসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৩০ জন তাঁতি ও কারিগরকেও উৎপাদনে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।অধ্যাপক মঞ্জুর হোসেন বলেন, বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য ফুটি কার্পাস তুলার জোগান বাড়াতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তুলা চাষের প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং চুক্তিভিত্তিক তুলা উৎপাদনের মাধ্যমে চাষি ও উৎপাদকদের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।কর্মসংস্থান ও বাজারের সম্ভাবনাবাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি খাতে মসলিন উৎপাদন শুরু হলে তুলা চাষ, সুতা কাটা, কাপড় বোনা, মান নিয়ন্ত্রণ ও বিপণনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গ্রামীণ পর্যায়ে তুলাচাষি ও কারিগরদের যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের পুনরুদ্ধার যুক্ত হলে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।তবে উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত ফুটি কার্পাস তুলা, দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে অতিসূক্ষ্ম মসলিন তৈরি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এর দাম সাধারণ কাপড়ের তুলনায় বেশি হতে পারে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে এর দাম কতটা থাকবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারজাতকরণ কৌশলের ওপর। তবে ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে সংগ্রহের জন্যও মসলিনের চাহিদা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।পুনরুদ্ধার করা প্রযুক্তি, দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ এবং ১৫ উদ্যোক্তার আবেদনে বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু ও দীর্ঘমেয়াদে তা সম্প্রসারণের সাফল্য নির্ভর করবে পর্যাপ্ত তুলা, দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ের ওপর।তথ্যসূত্র: সংগৃহীত

২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিক উৎপাদন যাচ্ছে

আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায়

দৃষ্টি নিউজ:শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমী আজ বুধবার (২১ অক্টোবর)। দিন শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পাচ দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে বিদায়ের সুর। ঢাক-ঢোল ও শঙ্খের ধ্বনির সঙ্গে ভক্তদের চোখের জলে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকালে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বিহিত পূজা। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। এরপর স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন ভক্তরা।হিন্দুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। দেবীর বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে দেখা দেয় বিষাদের আবহ। কয়েক দিনের উৎসবমুখর পরিবেশের পর প্রিয় দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক ভক্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাক ও শঙ্খের ধ্বনি সেই বিদায়ের আবহকে আরও গভীর করে তোলে।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়া। এসব নেতিবাচক প্রবৃত্তি পরিহার করে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ় করা এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ই এ আয়োজনের অন্যতম শিক্ষা।বিজয়া দশমীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন সিঁদুর খেলা। দেবী দুর্গার বিদায়ের আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সনাতনী নারীরা এ আয়োজনে অংশ নেবেন। দেবীর চরণে অর্পিত সিঁদুর নিয়ে নিজেদের রাঙিয়ে তোলার পাশাপাশি একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেবেন তারা।প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, স্বামীর মঙ্গল কামনায় নারীরা দশমীর দিন দেবী দুর্গার সিথিতে দেওয়া সিদুর নিজের সিথিতে ধারণ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পান ও মিষ্টি দিয়ে দেবীকে সিদুর স্পর্শ করানোর পর নারীরা পরস্পরের সিথি ও মুখে সিঁদুর লাগিয়ে দেন। সিঁদুর খেলা শেষে দেবীর আরাধনা করে তাকে শেষবারের মতো প্রণাম জানাবেন ভক্তরা।ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে এবং গমন করবেন নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা।বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানালেও ভক্তদের মনে রয়ে যাবে আগামী বছরের পূজার অপেক্ষা।

২১ অক্টোবর ২০২৬
আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায়

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

দৃষ্টি নিউজ:বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের দাবি, ঘটনার রাতে কিছু লোক ধাওয়া দিলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। তবে এ দাবি বিশ্বাস করছেন না তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। তার মতে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন দ্বীপ। গতকাল রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠ পরিদর্শন করছে পিবিআই। সেখানে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ বলেন, ‘দূর থেকে আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। ভাই (তাহসিফ) দৌড় দেন। আমি তখন পিলারের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং আশা করতে থাকি দুজন ইউনিফর্ম পরা লোক আমাকে দেখতে না পায়। আমি দৌড় দেইনি, হেঁটে হেঁটে আসি।’দ্বীপের বরাতে পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দ্বীপ তুরাগ নদের পাশের মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করে। তখন দ্বীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এখনো তার (দ্বীপের) বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছি না। মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দ্বীপের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতেই তদন্ত চলছে। তাহসিফ সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। রহস্য উদ্ঘাটন হলে বিস্তারিত জানানো হবে।তবে দ্বীপের দেওয়া তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘না না, এ ধরনের কিছু হতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।মাজারসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের মালিক জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কে পড়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলটি দেখছি। কিন্তু এটা নেয়নি। আমরা ভেবেছি কেউ হয়তো রেখে গেছে। আজ সকালে পুলিশ একটি ভ্যানে করে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে তারা আবার নিয়ে আসে।’পিবিআইয়ের আরেক পুলিশ সুপার জানান, দ্বীপের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাহসিফও বাসা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন।গত মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। সেদিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর ফেরেননি।পরদিন বুধবার(২৮ অক্টোবর) বিকালে উত্তরখান থানা এলাকার রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দ্বীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

৩০ অক্টোবর ২০২৬

বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দৃষ্টি নিউজ:পাবনা সদর উপজেলায় বৃষ্টির সময় বিলের একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল কয়েকজন। এ সময় বজ্রপাতে আশ্রয় নেওয়া ছয়জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার গোবিন্দপুরের সোনাপাতি বিলে এ ঘটনা ঘটে বলে মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু জানিয়েছেন।তিনি বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সময় তারা একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘরটি ছিল পলিথিনের। সেখানেই বজ্রপাত ঘটে। যারা নিহত হয়েছেন, তারা সবাই কিশোর ও তরুণ।চেয়ারম্যান বলেন, বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা গেছেন। আহত তিনজনকে আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

৩০ অক্টোবর ২০২৬
বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

লাইনচ্যুতির ছয় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগি বৃহস্পতিবার(২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লাইনচ্যুত হওয়ার ছয় ঘণ্টা পর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মহেড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় লাইনচ্যুতির কারণে রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারীর চিলাহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া রেল স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের কোনো বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। তবে বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার সময় রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে পুরো লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে। হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেলস্টেশনগুলোতে আটকা পড়া হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার হন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হওয়ায় তাদের কষ্ট আরও তীব্র রূপ নেয়।দুর্ঘটনার পর লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের জন্য দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী ট্রেন পাঠানো হয়। পরে ঈশ্বরদী থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বগি উদ্ধার ও রেললাইন মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।মহেড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রকিবুল হাসান জানান, বর্তমানে ব্রডগেজ রেললাইন চালু আছে। তবে মিটার গেজ এখনও বন্ধ রয়েছে। এতে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক কিলোমিটার এলাকায় ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করছে।

২৯ অক্টোবর ২০২৬
লাইনচ্যুতির ছয় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

মির্জাপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ

মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মহেড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। লাইনচ্যুতির কারণে রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারীর চিলাহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি যখন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া রেল স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের কোনো বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। তবে বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার সময় রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে পুরো লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়েছে। হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেলস্টেশনগুলোতে আটকা পড়া হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হওয়ায় তাদের কষ্ট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।মহেড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেসটি চিলাহাটির দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনটি আমাদের মহেড়া রেল স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে এর পেছনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে সরে যায় এবং ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই অঞ্চলের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে।’লাইন সচল করার বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশন মাস্টার সোহেল রানা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বগিটি উদ্ধার এবং লাইন মেরামত করার জন্য রিলিফ ট্রেনের (উদ্ধারকারী ট্রেন) প্রয়োজন। বিষয়টি ইতিমধ্যে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুতই রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাবে। উদ্ধারকারী ট্রেন এসে পৌঁছালেই লাইচ্যুত বগিটি সরিয়ে লাইনের মেরামত কাজ শুরু করা হবে।স্টেশনের লাইনে কোনো ত্রুটি ছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল রানা স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের স্টেশনে বা লাইনে কোনো ধরনের সমস্যা বা ত্রুটি ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের ভেতরের কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ বা ত্রুটির কারণেই এই আকস্মিক লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্তের পর বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’এদিকে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী এবং উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ করে রেললাইন পুরোপুরি সচল করতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। লাইন সচল না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

২৯ অক্টোবর ২০২৬
মির্জাপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ

ষড়যন্ত্রের শিকার ভূঞাপুরের রাজপথের লড়াকু সৈনিক জাহাঙ্গীর

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের রাজপথের দীর্ঘ ১৭ বছরের পরীক্ষিত ও সাহসী ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়কে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহলের ইন্ধনে টার্গেটেড ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সুবিধাভোগী ও হাইব্রিডদের উত্থান এবং দলীয় একাংশের পরোক্ষ সহযোগিতায় এই লড়াকু সৈনিকের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় একজন খাঁটি বিএনপি পরিবারের সন্তান। হাই স্কুল জীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে তার সম্পৃক্ততা। বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে হরতালের সমর্থনে মশাল মিছিলের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তৎকালীন কঠিন সময়ে তাকে ছাড়া মিছিল করতে ছাত্রদলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা ভয় পেত- এমনই এক সাহসী ও রাজপথ কাঁপানো নেতা ছিলেন তিনি। ১৯৯৭-১৯৯৮ মেয়াদে ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি পৌর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার রফিক, আমিনুল, মোঃ হাফিজুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, মহসিন এবং আব্দুল খালেক সহ অনেকেই জানান, জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত সুশীল এবং পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি একজন আইকন। তার নামে এই টার্গেটেড ফ্রেমিং একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে করা হচ্ছে।রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সর্বপ্রথম ‘ভ্যান, রিকশা, শ্রমিক সমিতি ভূঞাপুর বাজার’ নামে একটি অরাজনৈতিক ও কল্যাণমুখী সংগঠন গড়ে তোলেন এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা অটোরিকশা ভ্যান শ্রমিক সমিতির ভূঞাপুর শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ পোল্টি ইন্ডাট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন ভূঞাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং ভূঞাপুর উপজেলা পরিবেশক মালিক সমিতির একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।আগামি ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ভূঞাপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং যমুনা নদীর ‘ভাবীর ঘাট’ নামে খ্যাত বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে দখল করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভাবীর ঘাটের মালিক পক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে বড় ধরনের কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ করতে এবং প্রকৃত ঘাটের মালিক যাচাই করার লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান এবং ভূঞাপুর থানার ওসি একেএম রেজাউল করিম নিজে সশরীরে স্পটে হাজির হন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রশাসন থেকে তাৎক্ষণিক ঘাটটির সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রশাসনের এই দূরদর্শী পদক্ষেপের পর থেকেই ওই এলাকায় বর্তমানে শান্তি বিরাজ করছে। বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত শত্রুতা চরিতার্থ করতে কুচক্রী মহলটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রকে ব্যবহার করছে। ওই প্রতারক চক্রটি স্থানীয় মাহিন, নিজাম ও শাকিল মিয়া সহ আরো কয়েকজনের সমন্বয়ে গঠিত। তারা দেশে এবং প্রবাসে ডেটিং অ্যাপসের মাধ্যমে বড় ধরনের স্ক্যামিং বা প্রতারণার সাথে জড়িত। নিজেদের এই অপকর্ম আড়াল করতে এবং ভূঞাপুরের একটি বিশেষ মহলের হয়ে দাবার ঘুঁটি হিসেবে কাজ করতে প্রতারক মাহিনকে বাদী করে ভূঞাপুর থানায় একটি ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করানো হয়েছে (ভূঞাপুর থানার মামলা নং-৯, জি,আর ১৩৫/২০২৬)। ওই মামলায়ও ত্যাগী নেতা জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়কে জড়ানোর পায়তারা করা হচ্ছে।এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, দলের জন্য দুর্দিনের পরীক্ষিত এই সকল কর্মীকে ম্লান করতে বিএনপিরই একটি অংশ বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার ও কুৎসিত কৌশল অবলম্বন করে ব্যক্তি ইমেজ নষ্ট করার পায়তারা করছে। যার সর্বশেষ শিকার হিসেবে বিএনপির একজন অত্যন্ত সক্রিয় কর্মীকে টার্গেট করা হয়েছে। তৃণমূলের রাজনীতি ও দলের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এই বিষয়ে অবিলম্বে বিএনপির হাই কমান্ডের কঠোর ও সরাসরি দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু জানান, বিএনপি ঘরাণার একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় অত্যন্ত সক্রিয়। সরাসরি বিএনপির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তিনি বিএনপি ঘরাণার শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের হয়ে কাজ করে থাকেন। সম্প্রতি ফেসবুকের অস্বস্তিকর কিছু বক্তব্য তাকে বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মী এবং মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত সৎ, কর্মঠ ও নিবেদিত।

২৫ অক্টোবর ২০২৬
ষড়যন্ত্রের শিকার ভূঞাপুরের রাজপথের লড়াকু সৈনিক জাহাঙ্গীর
টাঙ্গাইলে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত
বিনোদন

টাঙ্গাইলে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকবর্তিকা, আধ্যাত্মিক সাধক ও বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এদিন বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। লালনভক্ত ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘জনসেবা চত্বরে’ এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক আলোচনা সভা ও লালনগীতির আসর অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. সেলিম মিয়া। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান তুহীন, টাঙ্গাইল ল’ কলেজের অধ্যক্ষ খান মোহাম্মদ খালেদ ও স্থানীয় লালনভক্ত, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন, শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দা সেলিনা আক্তার ও জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুন হোসাইন।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি বলেন, ‘লালন সাঁইজির দর্শন কেবল গান বা সুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের আত্মিক মুক্তির পথ দেখায়। জাত-পাত ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে তিনি যে মানবতার বাণী প্রচার করে গেছেন- তা বর্তমান সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে অত্যন্ত জরুরি।’সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, ‘লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে জেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একাডেমি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি কেবল একজন সাধকই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন বাঙালি সংস্কৃতির এক আলোকবর্তিকা।’আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী ও আমন্ত্রিত লালনভক্ত বাউল শিল্পীরা একতারা-দোতারার সুরে লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক ও দেহতত্ত্বের গান পরিবেশন করেন।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক লালন অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।

১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

দৃষ্টি বিনোদন:আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও পুরস্কৃত হলো বাংলাদেশের সিনেমা। ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’। ২০০৫ সাল থেকে ইতালির লুকা শহরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই উৎসব। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চার অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের ২২তম আসর। শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম।এবারের লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে ‘মাস্টার’ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি সিনেমা প্রতিযোগিতা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’, ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি। এসব সিনেমাকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’।উৎসবের জুরিবোর্ড তাদের ঘোষণায় ‘মাস্টার’ সিনেমার প্রশংসা করে জানিয়েছে, একটি স্থানীয় গল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বর্তমান সংকটকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।জুরিদের মতে, বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন একজন শিক্ষকের গল্প দেখতে পান, যিনি ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের বদলে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে দৌড়ানো এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফাদে পড়ে তার সেই নীতি কীভাবে ফিকে হয়ে যায়, সেটিই সাবলীলভাবে দেখানো হয়েছে ‘মাস্টার’ সিনেমায়।রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ও প্রযোজিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ নিয়ে আসা একজন আদর্শবান শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতা ও আপসের যাতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, তা নিয়েই এগিয়েছে ‘মাস্টার’-এর গল্প। আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ, তাসনুভা তামান্না প্রমুখ।লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা সুমিত। তিনি বলেন, ‘লুকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই অর্জন মাস্টার সিনেমাটির সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে এ বছর বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। এতগুলো দুর্দান্ত কাজের মাঝে আমার টিমের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করার জন্য বিচারকমণ্ডলীর কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে সেরা নির্বাচিত হয় ‘মাস্টার’। নির্মাতা সুমিত জানিয়েছেন, সিনেমাটি দেশের দর্শকদের দেখানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পদার্থ বিজ্ঞানের বন্ধনে, প্রাক্তনদের মিলনে- আগামীর পথে একসাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়।এদিন সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের হলরুমে গিয়ে অ্যালামনাই ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সচিব মাসুম বেগ, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক সাব্বির হাসান পল সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। দিনব্যাপী ওই পুনর্মিলনীকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

আব্দুস সাত্তার:নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

২০ আগস্ট ২০২৬
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।

ভিডিও গ্যালারি