সর্বশেষ
কালোবাজারে পাচারকালে ৩৯৫ বস্তা সারসহ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার
অর্থনীতি এইমাত্র

কালোবাজারে পাচারকালে ৩৯৫ বস্তা সারসহ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

মধুপুর প্রতিনিধি:কালোবাজারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া ৩৯৫ বস্তা সারসহ মিঠু নামে এক ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সার ও ট্রাক জব্দ করে মধুপুর থানায় রাখা হয়েছে। জব্দকৃত সারের আনুমানিক মূল্য চার লাখ ৩৯ হাজার ৪৫০ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার মেসার্স মেজবাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ১২৭ বস্তা টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও ২৬৮ বস্তা এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার শুক্রবার(৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পাচার করছিলেন। খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার জলছত্র এলাকা থেকে সারসহ ট্রাকটি আটক করে। এ সময় ট্রাকচালক মিঠু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে।কালোবাজারে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যরা হচ্ছেন- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকার মো. আবু ইসহাকের ছেলে মো. আসাদুজ্জামান এবং মো. রুবেল মিয়া নামে এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন। আসাদুজ্জামান মেসার্স মা-বাবা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। ওই ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক(এসআই) বিমলচন্দ্র পাইন বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি-তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রাক ও সার জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে চালক মিঠুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সার পাচারে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কালিহাতীতে সরকারের ১৫ কোটি টাকা গচ্চার আশঙ্কা!
অর্থনীতি ২২ মিনিট আগে

কালিহাতীতে সরকারের ১৫ কোটি টাকা গচ্চার আশঙ্কা!

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কোনো প্রকার পানি প্রবাহ না থাকা সত্ত্বেও একটি পরিত্যক্ত ডোবার ওপর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। পানি প্রবাহহীন এই স্থানে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন করে সেতু নির্মাণকে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার ‘মহাপচয়’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো জনস্বার্থ ছাড়াই কেবল কাগজ-কলমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখানে সেতু না করে স্থানটি মাটি ভরাট করে সোজা সড়ক নির্মাণ করলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা কমবে, অন্যদিকে সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।সংশ্লিষ্ট সওজ বিভাগ ও দরপত্র সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নতুন একটি ৩৮ মিটার দীর্ঘ আরসিসি-পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য প্রথমে ১৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরবর্তীতে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ শেষে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ‘তুর্ন এন্টাপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে জানা যায়, প্রস্তাবিত সেতু এলাকার চারপাশে এখন ঘনবসতি এবং অসংখ্য পাকা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর গড়ে উঠেছে। ভৌগোলিক বাস্তবতায় এখানে কোনো নদী, খাল বা বিলের অস্তিত্ব নেই। এমনকি অর্ধশত বছর আগেই এই এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে এটি একটি সাধারণ ডোবা ছাড়া আর কিছুই নয়।উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম, আজগর আলী, শামীম মন্ডল সহ অনেকেই জানান, এমন একটি মৃত ডোবার ওপর পুরাতন জরাজীর্ণ সেতুটি ভেঙে নতুন করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি সেতু নির্মাণের এই বিশাল আয়োজন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এটিকে স্রেফ সরকারি অর্থের অপচয়ের একটি নতুন প্রকল্প বলে আখ্যায়িত করেছে স্থানীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ।এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বর্তমানে থাকা সেতুটির কারণে ব্যস্ততম এই আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড অংশে একটি বিপজ্জনক মোড়ের (ব্লাইন্ড স্পট) সৃষ্টি হয়েছে। এই ত্রুটিপূর্ণ বাঁকের কারণে প্রতিনিয়ত এখানে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ঝরছে তাজা প্রাণ। এছাড়া সেতুর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আশেপাশের বাণিজ্যিক এলাকার সার্বিক উন্নয়নও থমকে রয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের জোর দাবি, সেতুর পরিবর্তে এই স্থানে মাটি ভরাট করে সোজা ও প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হোক। এতে মহাসড়কটি নিরাপদ হবে, দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামবে এবং যানজটমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়ে নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ‘ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং’ (বিএমডব্লিউ)-এর নিয়মিত পরিদর্শন, সমীক্ষা ও টেকনিক্যাল প্রতিবেদন অনুযায়ীই এই সেতুটি পুনর্নিমাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক মহাসড়কের চেইনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ডিজাইন অনুমোদন করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে এই আত্মঘাতী ও অপচয়মূলক প্রকল্পটি দ্রুত পুনঃমূল্যায়ন করা হোক। সেই সাথে সেতুর পরিবর্তে সোজা সড়ক নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি মো. আবুল মনছুর জানান, রাষ্ট্রের টাকা অপচয়রোধসহ দুঘর্টনারোধে সেতুরস্থানে সোজা করে সড়ক নির্মাণ করা হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ হবে একই সঙ্গে সরকারি অর্থ জনগনের কাজে আসবে। যেখানে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা কমার বদলে আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরী খান জানান, কোন জলাশয় বন্ধ করার এখতিয়ার তাদের নেই। ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা কমবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।তিনি জানান, গত ৭ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন নতুন সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন।

কালিহাতীতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত
ছবি ৩৪ মিনিট আগে

কালিহাতীতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

​কালিহাতী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মহেলা গ্রামে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘মহেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহেলা রাবেয়া সিরাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ওই হাইভোল্টেজ খেলায় ভাবলা স্পোর্টিং ক্লাবকে টাইব্রেকারে ৯-৮ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে হিন্নাইপাড়া ফুটবল একাদশ।‘খেলাধুলায় বাড়ে মনোবল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল’ স্লগোনে গ্রামবাসীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও যৌথ উদ্যোগে টুর্নামেন্টটির আয়োজন করা হয়।​খেলার শুরু থেকেই উভয় দলের খেলোয়াড়দের নান্দনিক আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণে পুরো মাঠ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময়ের খেলা সমতায় শেষ হলে ম্যাচটি গড়ায় রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে। চরম উত্তেজনাপূর্ণ পেনাল্টি শুটআউটে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় হিন্নাইপাড়া ফুটবল একাদশ। হাজারো দর্শকের মুহুর্মুহু করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ।​ফাইনাল খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া পরিষদের সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন।​মহেলা রাবেয়া সিরাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আলহাজ্ব নূর বাদশা সরকারের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ​এলেঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শাফি খান, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালযয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ​মো. মোজাম্মেল হক হিরো, সহদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ​মো. মাসুদুর রহমান বালা।অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, এলেঙ্গা পৌর যুবদলের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন। খেলায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়ামোদীরা উপস্থিত ছিলেন ।​

টাঙ্গাইল সহ সারাদেশে বাড়তে পারে বৃষ্টি
ছবি ৩ ঘণ্টা আগে

টাঙ্গাইল সহ সারাদেশে বাড়তে পারে বৃষ্টি

দৃষ্টি রিপোর্ট:আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামি পাঁচদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে আগামি ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু কিছু জায়গায় ঝড়ো হাওয়া এবং দমকা বাতাস বইতে পারে বলে জানানো হয়েছে।পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গাজীপুর, রংপুর, ঢাকা, যশোর ও ময়মনসিংহের অনেক এলাকায় এবং টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। এসব অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাতের এই ধারা সপ্তাহজুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বেশি হতে পারে।দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিনে কিছু এলাকায় ‘গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি’, আবার কিছু এলাকায় ‘মাঝারি ধরনের’ ও ‘ভারী’ বৃষ্টির আভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাতের এ ধারা অব্যাহত থাকলে কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, তবে জলাবদ্ধতার কারণেও দুর্ভোগ তৈরি হতে পারে। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে নিম্নাঞ্চলের মানুষদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।টাঙ্গাইল অঞ্চল সহ সারাদেশের ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস রোববার (৬ সেপ্টেম্বর): আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। দিনভর বজ্রঝড় ও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর): দেশের বিভিন্ন বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। টাঙ্গাইলে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে সর্বোচ্চ ৩২° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬° সেলসিয়াস হতে পারে।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর): আকাশ মেঘলা থাকবে এবং কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় ও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা ৩১° থেকে ২৬° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর): কিছু এলাকায় রোদের দেখা মিললেও রাতের দিকে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে সর্বোচ্চ ৩৩° সেলসিয়াস হতে পারে।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর): দিনভর আকাশ মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বাড়তে পারে এবং রাতে বজ্রপাতের শঙ্কা রয়েছে।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
এ সপ্তাহের রাশিফল
জাতীয়

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি রিপোর্ট:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্র মতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন-মেষ রাশি (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল): পেশাগত কাজে মানসিক অস্থিরতা বাড়বে। আর্থিক দিক থেকে সমৃদ্ধ থাকবেন। পেশাগত বিষয়ে সফলতা আসার সম্ভাবনা আছে। প্রতিযোগিতামূলক কাজে সফলতা পাবেন। সহকর্মীর সহযোগিতা পেতে পারেন। রোমান্টিক যোগাযোগ শুভ।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল - ২১ মে): পারিবারিক পরিবেশ আপনার অনুকূলে থাকবে। প্রেম ও রোমাঞ্চ শুভ। নেতিবাচক চিন্তাভাবনা পরিহার করুন। ব্যবসা-বাণিজ্যে লোকসান হতে পারে। শত্রু সম্পর্কে সচেতন হোন। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে।মিথুন রাশি (২২ মে - ২১ জুন): পেশাগত সফলতা পাবেন। ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়বে। আর্থিক ভাগ্য বেশ সুপ্রসন্ন। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য অনুকূল সময়। প্রেম ও রোমাঞ্চ শুভ। নেতিবাচক চিন্তাভাবনা পরিহার করুন।কর্কট রাশি (২২ জুন - ২৩ জুলাই): আর্থিক ভাগ্য বেশ সুপ্রসন্ন। কারো কারোর চাকরি লাভের সম্ভাবনা আছে। দূর থেকে শুভ সংবাদ পাবেন। ঘনিষ্ঠ কারো আচরণে মানসিক কষ্ট পেতে পারেন। প্রেমের জন্য এ সপ্তাহটি উষ্ণ। তবে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। পেশাগত কাজে মতবিরোধ থাকবে।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই - ২৩ আগস্ট): পেশাগত কাজে সফলতা আসবে। সামাজিক কাজে সুনাম পাবেন। রাগ, জেদ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করুন। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মনোমালিন্য বাড়তে পারে। প্রেমের ক্ষেত্রে সুখ-শান্তি, মতবিরোধ সবই চলবে এ সপ্তাহে।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট - ২৩ সেপ্টেম্বর): অংশীদারি ব্যবসায়যুক্তদের জন্য ভালো সময়। দাম্পত্য জীবনে সুখ অনুভব করবেন। অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে মানসিক চাপ অনুভব করবেন। প্রিয়জনের সঙ্গে সন্দেহমূলক আচরণের জন্য দূরত্ব তৈরি হতে পারে। শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করতে পারেন। ভ্রমণ শুভ।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর - ২৩ অক্টোবর): আপনার সুনাম ও মর্যাদা বাড়বে। কর্মসূত্রে লাভবান হবেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করুন। বৈদেশিক সূত্রে লাভবান হবেন। শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করতে পারেন।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর - ২২ নভেম্বর): একাকীত্ব অনুভব করবেন। আর্থিক বিষয়ে সফলতা আসবে। কর্পোরেট কাজে সফলতা পাবেন। শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করতে পারেন। প্রেমে ভুল বোঝাবুঝি বাড়বে। পারিবারিক বিষয়ে নমনীয়তা প্রয়োজন। অমিতব্যয়ীয়তার কারণে দুশ্চিন্তা বাড়বে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর - ২১ ডিসেম্বর): আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তখন গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত উত্তেজিত অবস্থায় নেয়া ঠিক হবে না। ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। লেনদেনে আরো সতর্ক হওয়া উচিত। শারীরিক বিষয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর - ২০ জানুয়ারি): আর্থিক যোগাযোগ শুভ। প্রিয়জনের সঙ্গে মান অভিমান বাড়বে। মানসিক প্রশান্তির জন্য ধ্যান, যোগব্যায়াম করুন। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সফলতা পাবেন। অনেকে দূর ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি - ১৮ ফেব্রুয়ারি): অর্থ সম্পদের সঠিক ব্যবহার করুন। ধৈর্য ও সহিষ্ণু আচরণের জন্য কর্মজীবনে সফলতা পাবেন। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। সম্পর্কে কিছু টানাপড়েন থাকবে। শারীরিকভাবে কিছুটা সমস্যায় থাকতে পারে। সুস্বাস্থ্যের জন্য সঠিক ডায়েট মেনে চলুন। ভ্রমণ শুভ।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি - ২০ মার্চ): পেশাগত কাজে মানসিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। পারিবারিক জীবনে প্রাণবন্ত থাকার চেষ্টা করুন। আত্মকেন্দ্রিক লোকদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়বে। ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে।শারীরিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লিটারে পাঁচ টাকা বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

দৃষ্টি রিপোর্ট:বোতলজাত সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীদের মূল্য সমন্বয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে সরকারের কাছে ১০ টাকা বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কক্ষে ভোজ্যতলের ব্যবসায়ীরা বৈঠক করে। বৈঠকে লিটারপ্রতি ৫ টাকা তেলের মূল্য সমন্বয়ের অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এখন ৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে বাজারে এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম হবে ২০৪ টাকা। যা আগে ছিল ১৯৯ টাকা।এদিকে দাম বাড়ানোর পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে আমদানিকারকরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি দাম বাড়ানোর। এটা আমরা সমন্বয় করে দিয়েছি।বাণিজ্য সচিব বলেন, বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম আবার বাড়ানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা তখনকার বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।’নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পাশাপাশি সম্প্রতি চিনির দাম বাড়ার পর এবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।’

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লিটারে পাঁচ টাকা বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে মালয়েশিয়ার ভিন্নমত

দৃষ্টি ডেস্ক:আগামি ছয় মাসে মালয়েশিয়া প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ করবে-বাংলাদেশের এক প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্য মালয়েশিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারি মুখপাত্র দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান তাকে জানিয়েছেন, ওই বক্তব্য একজন জুনিয়র মন্ত্রী দিয়েছেন। তাই এটিকে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।’সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রতিনিধিত্ব করে না। মানবসম্পদ মন্ত্রী আমাকে এটাই জানিয়েছেন। সুতরাং এটি কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছিলেন, আগামী ছয় মাসে মালয়েশিয়া প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এসব কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।এর আগে গত জুন মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।শ্রমিকদের শোষণ, ঋণের দায়ে জিম্মি করে রাখা, জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা এবং প্রতিশ্রুত চাকরি ছাড়াই কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মতো অভিযোগের পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল মালয়েশিয়া।দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ স্ট্রেইটস টাইমস (এনএসটি) বলছে, মালয়েশিয়া বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার সময় নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের এই দাবি সামনে এসেছে। এদিকে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট শ্রমশক্তিতে বিদেশি কর্মীর হার প্রায় ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে মালয়েশিয়ার ভিন্নমত

আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪৮০৯ কোটি টাকা

দৃষ্টি ডেস্ক:আগস্ট মাসের ৩০ দিনে দেশে ২৮৩ কোটি বা ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রোববার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৯৮০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চলতি বছরের আগস্টের প্রথম ৩০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৩ কোটি ডলার। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ৩০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ।চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত দেশে ৫৬৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।চলতি আগস্টের প্রথম ২৯ দিনেও ৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এই ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল), বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক পিএলসি, বিদেশি খাতের ব্যাংক আল ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪৮০৯ কোটি টাকা

টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা সদরের জনসেবা চত্বরে প্রথমবারের মতো জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(১ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরীফা হক ওই জব ফেয়ারের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। এসময় পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) সুমাইয়া মমিন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।জনসেবা চত্বরের ওই জব ফেয়ারে ৫১টি স্টলে দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিয়েছে এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীদের নির্বাচনের জন্য রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে সিভি জমা নিচ্ছেন।এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, চাকুরি করতে আগ্রহী এমন অনেক শিক্ষিত মানুষ বিভিন্ন সময় এসে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এসব বিষয় চিন্তা করেই এই জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে। এই জব ফেয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবেন এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হবে। পরবর্তীতেও এ ধরনের জব ফেয়ারের আয়োজন করা হবে।

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

টাঙ্গাইল এর খবর

স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
টাঙ্গাইল এর খবর

টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
কালিহাতীতে ঘুষ নিয়ে সাজানো হয় মাদকের নাটক!

কালিহাতীতে ঘুষ নিয়ে সাজানো হয় মাদকের নাটক!

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে তল্লাশির নামে ৬৫ বছরের প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্য রাস্তায় চড়-থাপ্পড় মেরে থানায় নিয়ে নির্যাতন, পকেট থেকে টাকা ছিনতাই এবং পরিবারের কাছ থেকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ আদায়ের এক লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত এসআই মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বর্তমানে কালিহাতী থানার বল্লা ইউনিয়ন বিটের দায়িত্বে রয়েছেন। এই অন্যায়ের প্রতিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী আ. ছালামের অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট বিকালে বল্লা বাজারের মেইন রোডে দাঁড়িয়ে ছিলেন বল্লা চকপাড়া গ্রামের মৃত লেবু মিয়ার ছেলে প্রতিবন্ধী আ. ছালাম। এ সময় এসআই আসাদুজ্জামান অপর এক পুলিশ সদস্যসহ মোটরসাইকেলে এসে তাকে তল্লাশি করতে চান। ছালাম নিজের কাছে অবৈধ কিছু নেই বলা মাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন ওই এসআই। পরে হাতকড়া পরিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানার দোতলায় আটকে রেখে তাকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ বানানোর জন্য চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। এক পর্যায়ে নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে প্রতিবন্ধী আ. ছালাম নিজের কাছে ‘২ পুরিয়া গাঁজা’ থাকার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। স্বীকারোক্তি আদায়ের পর এসআই আসাদুজ্জামান প্রথমে ছালামের পকেটে থাকা ১৯ হাজার ৫০০ টাকা কেরে নেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার অসহায় পরিবারের কাছ থেকে আরও ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু মোট ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ পকেটে ভরেও শেষ রক্ষা হয়নি ওই প্রতিবন্ধীর। ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং নিজের পিঠ বাঁচাতে পরদিন ৩ আগস্ট তাকে এসিল্যান্ড অফিসে হাজির করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের সাজা দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৫ দিন কারাভোগের পর গত ১৮ আগস্ট মুক্তি পেয়েই এই আইনি লড়াইয়ে নামেন তিনি।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআই আসাদুজ্জামান বল্লা ইউনিয়ন বিটের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় সাধারণ মানুষকে নানাভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছেন। তার এই লাগামহীন হয়রানিতে বল্লা এলাকায় তীব্র গণরোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্ত এই পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।এ বিষয়ে প্রতিবন্ধী আ. ছালামের দেওয়া অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার(কালিহাতী সার্কেল) মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটির বিষয়ে তিনি সাক্ষ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন। তিনি যথাসময়ে পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবেন।

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মির্জাপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যালয় উদ্বোধন

মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার(১ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে বাইপাস মুশফিকা টাওয়ারে উপজেলা অফিসের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অফিস উদ্বোধন করেন এনসিপি টাঙ্গাইল জেলা আহবায়ক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন।এনসিপি মির্জাপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক আকাশ বাবু উজ্জলের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট লিটন হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, এনসিপি টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহবায়ক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ইয়াহইয়া খান মারুফ, খেলাফত মজলিশের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান সিটু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মির্জাপুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মুনরুজ্জামন, এনসিপি টাঙ্গাইল জেলা যুগ্ম আহবায়ক স্থপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদকজ নাজমুল হোসেন, যুব শক্তির জেলা যুগ্ম আহবায়ক জোবাইদুল ইসলাম নিঝুম প্রমুখ।

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মির্জাপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যালয় উদ্বোধন

লিটারে পাঁচ টাকা বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

দৃষ্টি রিপোর্ট:বোতলজাত সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীদের মূল্য সমন্বয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে সরকারের কাছে ১০ টাকা বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কক্ষে ভোজ্যতলের ব্যবসায়ীরা বৈঠক করে। বৈঠকে লিটারপ্রতি ৫ টাকা তেলের মূল্য সমন্বয়ের অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এখন ৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে বাজারে এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম হবে ২০৪ টাকা। যা আগে ছিল ১৯৯ টাকা।এদিকে দাম বাড়ানোর পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে আমদানিকারকরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি দাম বাড়ানোর। এটা আমরা সমন্বয় করে দিয়েছি।বাণিজ্য সচিব বলেন, বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম আবার বাড়ানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা তখনকার বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।’নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পাশাপাশি সম্প্রতি চিনির দাম বাড়ার পর এবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।’

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লিটারে পাঁচ টাকা বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪৮০৯ কোটি টাকা

দৃষ্টি ডেস্ক:আগস্ট মাসের ৩০ দিনে দেশে ২৮৩ কোটি বা ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রোববার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৯৮০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চলতি বছরের আগস্টের প্রথম ৩০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৩ কোটি ডলার। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ৩০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ।চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত দেশে ৫৬৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।চলতি আগস্টের প্রথম ২৯ দিনেও ৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এই ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল), বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক পিএলসি, বিদেশি খাতের ব্যাংক আল ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪৮০৯ কোটি টাকা

বাসাইলে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত বাড়িতে ১০ ঘোড়া জবাই

বাসাইল প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা সদরের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে ১০টি ঘোড়া দুর্র্বৃত্তরা জবাই করে ৭টির মাংস নিয়ে গেছে এবং ৩টি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে গেছে। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার(৩০ আগস্ট) ভোরে বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী এলাকার পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী এলাকার পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ১০টি ঘোড়া জবাই করে। এসময় ৭টি ঘোড়ার মাংস নিতে পারলেও তিনটি জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস নিতে পারেনি। সকালে স্থানীয়রা তিনটি জবাই করা ঘোড়া ও ৭টি ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুড়ি পড়ে থাকতে দেখতে পায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।ধারণা করা হচ্ছে- অন্য জায়গা থেকে ঘোড়া নিয়ে এসে এই নির্জন পরিত্যক্ত জায়গায় মাংস বিক্রির জন্য জবাই করা হয়েছে। ভোর হওয়ার কারণে ৭টি ঘোড়ার মাংস নিতে পারলেও তিনটি জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস নিতে পারেনি।স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ মিয়া জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দেখতে যান। ওখানে ১০টি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে। এরমধ্যে ৭টির মাংস নিয়ে গেছে আর তিনটি রেখে গেছে। তারা হয়তো কোন হোটেলে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে গেছে। এরআগেও উপজেলার নাইকানীবাড়ী ও গাজীর ভাঙ্গা এলাকায় ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া ফেলে গিয়েছিল।বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আলমগীর কবির জানান, পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে ১০টি ঘোড়া জবাই করেছে দুর্বৃত্তরা। রাত ১টা থেকে ৪টার মধ্যে ঘোড়াগুলো জবাই করা হয়েছে। ভোর হয়ে যাওয়ায় ৭টি ঘোড়ার মাংস নিয়ে তিনটি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে রেখে চলে গেছে।বাসাইল পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ৩টি জবাইকৃত ঘোড়াসহ ৭টির মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুড়ি সেখান থেকে এনে অন্যত্র পুতে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিস্কার করা হয়েছে।

৩০ আগস্ট ২০২৬
বাসাইলে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত বাড়িতে ১০ ঘোড়া জবাই
সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
বিনোদন

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পদার্থ বিজ্ঞানের বন্ধনে, প্রাক্তনদের মিলনে- আগামীর পথে একসাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়।এদিন সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের হলরুমে গিয়ে অ্যালামনাই ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সচিব মাসুম বেগ, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক সাব্বির হাসান পল সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। দিনব্যাপী ওই পুনর্মিলনীকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

আব্দুস সাত্তার:নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

২০ আগস্ট ২০২৬
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

মোস্তফা কামাল নান্নু: এক সময় ব্যাট হাতে মাঠ মাতানো ক্রিকেটার ইকবাল খান এখন শয্যাশায়ী। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দুই পায়ে স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কথা বলাও। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। এর মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এখন বৃদ্ধ বাবা-মা, বন্ধু ও স্বজনরাই তাঁর একমাত্র ভরসা।ইকবাল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রতন খানের ছেলে। এক সময় বিকেল হলেই ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে ছুটতেন তিনি। ক্রিকেট ও ফুটবলে পারদর্শী ইকবালের খেলা দেখতে গ্রামের মানুষ ভিড় করতেন। পাশাপাশি ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে করে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইকবাল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। ধারদেনা করে কয়েকবার চিকিৎসা করানো হলেও অর্থের অভাবে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে যান। এখন বাড়ির একটি ঘরেই কাটছে তাঁর দিন। কথা বলতে না পারলেও চোখের দৃষ্টিতে নিজের কষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।ইকবালের বাবা রতন খানের বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও চায়ের দোকান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে ওষুধ ও পরিবারের খাবার জোগাড় করেন। ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করতে করতে নিঃস্ব পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বসতভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। ইকবালের বন্ধু ও স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তাঁকে সহায়তা করেছেন। তবে চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়।পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ইকবাল তাঁর বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। মেধাবী ও বিনয়ী এই তরুণের এমন অবস্থা দেখে কষ্ট হয়। তাঁর চিকিৎসায় সরকারি ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, ইকবালের অসুস্থতার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তাঁকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।ইকবাল এখন শুধু চিকিৎসা ও মানুষের সহযোগিতা চান। তাঁর পরিবারের আশা, সহায়তা পেলে আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন তিনি।

১৯ আগস্ট ২০২৬
অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইল শহরের একসময়ের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী ‘ভাসানী হল’ আজ ধুলোবালি, ভাঙাচোরা দেয়াল আর তালাবদ্ধ কক্ষের নিস্তব্ধতায় ঢাকা। দীর্ঘদিনের অযত্ন, অবহেলা, সংস্কারের অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এই মিলনায়তনটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। যে প্রাঙ্গণ একসময় নাটক, সংগীত, নৃত্য, কবিতা, বইমেলা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক নানা আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকত, সেখানে এখন চেপে বসেছে এক ভীতিকর পরিবেশ। বর্তমানে দিনে হলটির বারান্দায় বসেছে পানের দোকান আর প্রাঙ্গণটি ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাকস্ট্যান্ড হিসেবে। সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা চলে যায় অন্ধকার ও অপরাধীদের দখলে; হয়ে ওঠে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড্ডাখানা। এতে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ বাড়ছে।জানাগেছে, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ‘টাঙ্গাইল টাউন হল’ নামে এটি নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ হাবিবুল্লাহ্-এর অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র দুই বছরে এটি বাস্তব রূপ লাভ করে। পরে ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান। পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে সর্বসম্মতিক্রমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ভাসানী হল’। এরপর থেকেই এটি জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায় এবং অনন্য ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।স্থানীয় প্রবীণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, আগে পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল। বিভিন্ন উপলক্ষে তারা নাটকের আয়োজন করত এবং পুরো টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই ভাসানী হলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। প্রায় ১,০০০ আসনবিশিষ্ট এই আধুনিক মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দশক ধরে টাঙ্গাইলের নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক সমাবেশের প্রধান ভেন্যু ছিল এটি। প্রতি বছর ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল এখানে এসে নাট্যোৎসব করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সংগঠনগুলো হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ভবনটি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অবশেষে প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় জেলার অন্যতম বড় এই মিলনায়তনের কার্যক্রম।স্থানীয়রা মনে করেন, ভাসানী হল শুধু একটি কংক্রিটের ভবন নয়; এটি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারকটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে প্রায় এক দশক আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ২০১৫ সালেও একবার এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে হলের দেয়ালে দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে, ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। হলের ভেতরের অধিকাংশ কক্ষ দীর্ঘ বছর ধরে তালাবদ্ধ ও ধুলোবালির স্তূপে পরিণত হয়েছে।টাঙ্গাইলের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মতে, ভাসানী হল বন্ধ হওয়ার পর থেকে জেলার বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বড় পরিসরে কোনো অনুষ্ঠান বা নাটক মঞ্চস্থ করার মতো বিকল্প কোনো আধুনিক মিলনায়তন পুরো শহরে আর নেই। ২০১৫ সালে একবার হলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন আজ অবধি দেখা যায়নি। দীর্ঘ অবহেলার পর চলতি বছরের ১২ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক হলটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন।টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুরকার-গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু জানান, ভাসানী হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এক হাজার আসন বিশিষ্ট এই মিলনায়তনটিতেই জেলার সব সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। শুধু তাই নয়, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করতো। এছাড়া এ ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র ছিল হলটি।তিনি আক্ষেপ করে জানান, আগের মতো বড় বড় অনুষ্ঠান তারা করতে পারেন না। অনুষ্ঠান করতে এখন শিল্পকলা একাডেমিতে যেতে হয়- শিল্পকলা একাডেমির অবস্থান শহরের কেন্দ্রবিন্দুর বাইরে, সেখানে রাতে মানুষ যেতে চায়না।কবি মাহমুদ কামাল জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত এ হলটিকে পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করার দাবি ছিল। হলটি মওলানা ভাসানীর নামে থাকায় বিগত সরকার সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, ভাসানী হলটি পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হোক।টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান জানান, টাঙ্গাইল একটি সাংস্কৃতিক নগরী এবং পুরাতন জেলা। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিকচর্চার অন্যতম প্রধান জায়গা হচ্ছে ভাসানী হল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে গতিশীল রাখার জন্য ভাসানী হল খুবই প্রয়োজন।তিনি আরো জানান, মাদকের ছোবল এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে ক্রীড়া অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তার জন্য একটি ভালো অডিটরিয়াম প্রয়োজন। তিনি দ্রুত ভাসানী হলের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের দাবি করেন।টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুননির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

১৭ আগস্ট ২০২৬
অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু:সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে পরিচালিত সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশ শুক্রবার(৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।এদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ মহাসমাবেশে নিরাপদ সড়ক, রেলপথ ও নৌপথ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নীতি, গবেষণা, প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে নিসচা প্রণীত ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।দিনব্যাপী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়।ফিরে দেখা- ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয় সহধর্মিণী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় দায়িত্বে রূপ দেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর গত ৩৩ বছরে নিসচা শুধু একটি সংগঠন নয় বরং একটি জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এই পথচলায় সংগঠনটি জনসচেতনতা সৃষ্টি, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কার্যক্রম, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, নীতিগত সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন এবং দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়’নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চলচ্চিত্রের মহানায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ৩৩ বছরের এ আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীর আত্মত্যাগ আন্দোলনটিকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের জীবন রক্ষার এই আন্দোলনে আরও কিছুদিন কাজ করার তৌফিক দান করেন। আমিও দেশের প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করছি।’চিত্র নয়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো দাবি নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই; আমরা মানুষের জীবনের পক্ষে।’তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও দৃঢ় বাস্তবায়ন।’তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে না পারবে, ততদিন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য কোনো সমালোচনা নয় বরং সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে একটি দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’গবেষণা, প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা এখন আর শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নির্ভুল তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।’তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তারা দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তারা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।’মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে একটি কেন্দ্রীয় সড়ক দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার (National Road Crash Database) গড়ে তোলার, যেখানে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, রেলওয়ে এবং নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার তথ্য সমন্বিত হবে। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’তিনি বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগ, স্পিড ক্যামেরা, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল-টাইম দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ তথ্য ও জনসম্পৃক্ততা সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া ১২ দফা সুপারিশপত্র কোনো দাবিপত্র নয় বরং একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা।’নিসচার তথ্যভান্ডার কাজে লাগানোর আহ্বাননিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত দুর্ঘটনার তথ্য, জনমত, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা নিসচার অন্যতম বড় শক্তি।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করেন না; তারা দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, স্থানীয় সমস্যা এবং মানুষের প্রত্যাশা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত করেন। এই বিশাল তথ্যভান্ডার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার প্রায় ১২০টি শাখা এবং হাজারো সড়কযোদ্ধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। সরকার চাইলে এই স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।’সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগতনিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত 'Safe System Approach'-এর আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা, গতি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়ন, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালীকরণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জাতীয় অঙ্গীকারকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।নিসচার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ নিরাপদ, টেকসই ও মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।সংস্কৃতির মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানপ্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নয়; মানুষের মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমেও সম্ভব। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি বলেন, ‘নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি, পথনাটক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন হয়ে উঠবে।’মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরাপদ সড়ক বিষয়ক সচেতনতামূলক নাট্যোৎসব, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রচারণা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। নিরাপদ সড়ক একটি সামাজিক আন্দোলন আর সামাজিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সংস্কৃতির বিকল্প নেই।’আইন, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বউদ্বোধরী বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি বলেন, ‘সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’তিনি বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মতো সংগঠনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।’গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয়ের আহ্বানবিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদান অনন্য। ব্যক্তিগত বেদনাকে তিনি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন, যা আজ নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরঅনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর পক্ষ থেকে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ তুলে দেওয়া হবে।সুপারিশপত্রে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, চাঁদাবাজি ও পরিবহন সিন্ডিকেট নির্মূল, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ, সড়ক-রেল-নৌপথের সমন্বিত নিরাপত্তা, শিক্ষাক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপদ সড়ককে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) মনে করে, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। রাষ্ট্রের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, সুশাসন, গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নিসচা সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। সংগঠনটি আশা করে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মানবিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবহন খাতের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নিসচার প্রায় ১২০টি শাখার প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রতিনিধি ও সড়কযোদ্ধা এতে অংশ নেন। পরে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

০৮ আগস্ট ২০২৬
নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

ভিডিও গ্যালারি