সর্বশেষ
‘দূষণ’ হয়ে উঠছে সম্পদ
জাতীয় ১৪ মিনিট আগে

‘দূষণ’ হয়ে উঠছে সম্পদ

:: সৈয়দা বদরুন নেসা ::ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দাঁড়ালে যা দেখা যায় তা শুধু দূষণ নয়, সেখানে আসলে কোটি টাকার কাঁচামালও ভাসছে। প্রতিটি পানির বোতল, প্রতিটি পলিথিন ব্যাগ, প্রতিটি প্লাস্টিকের চেয়ার- শুধু বর্জ্য নয়, এক একটি নতুন শিল্পের ভিত্তি হতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে ‘দূষণকে’ সম্পদে পরিণত করেছে। অথচ বহুমুখী দূষণে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশের এই অপার সুযোগ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।বিষয়টি শুধু পরিবেশ সুরক্ষার নয়, বরং তিনস্তরীয় একটি ব্যবসায়িক মডেল। যেখানে একই প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে একসঙ্গে তিনটি আয়ের উৎস তৈরি করা সম্ভব। প্রথমত, ফার্নিচার হিসেবে বিক্রি করা যাবে। দ্বিতীয়ত, কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করা যাবে। আর তৃতীয়ত সরকারি পরিবেশ প্রণোদনা। এসব মিলিয়ে যে মডেল দাঁড়ায়, তা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক চেয়ার তৈরিতে যতটুকু কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয়, তা কার্বন ক্রেডিট হিসেবে বিক্রি করলে চেয়ারের দামের অতিরিক্ত ২০-৩০ শতাংশ আয় আসতে পারে।প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে ফার্নিচার তৈরির মূল প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ। সংগ্রহ করা এইচডিপিই (উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন) ও পিপি (পলিপ্রোপিলিন) ধরনের প্লাস্টিক প্রথমে পরিষ্কার করা হয়। তারপর নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলিয়ে মোল্ডে ঢালা হয়। ঠান্ডা হলে বেরিয়ে আসে মজবুত ফার্নিচার, যা কাঠের চেয়ে টেকসই, পানিরোধী এবং পোকামাকড়মুক্ত।এসব পণ্যের বিশেষত্ব হলো এগুলো পুনরায় গলিয়ে নতুন করে ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ এটি সত্যিকারের সার্কুলার ইকোনমি বর্জ্য। যা শেষ হয় না, রবং রূপান্তরিত হয়।বাজারে এই পণ্যগুলোর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি অফিস ও পার্কে এই ধরনের টেকসই ফার্নিচারের জন্য ক্রয় নীতি তৈরি হচ্ছে। ইউরোপে এসব পণ্যের বাজার ইতোমধ্যে বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বিশেষত কম দামের কারণে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অনেক বেশি।দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে কার্বন ক্রেডিটের কথা। যা পরিবেশ রক্ষার আন্তর্জাতিক মুদ্রা। যখন কোনো উদ্যোগ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করে বা কার্বন শোষণ করে, তখন সেই পরিমাণটি একটি ক্রেডিট হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা যায়। প্রতিটি ক্রেডিটের অর্থ হচ্ছে এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয়।প্রশ্ন হচ্ছে, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং এখানে কীভাবে কাজ করছে। মূলত, নতুন প্লাস্টিক তৈরিতে যে কার্বন ডাই-অক্সাইড খরচ হতো, তা রিসাইক্লিং দিয়ে বাঁচানো হচ্ছে। এই ‘বাঁচানো’ কার্বন ডাই-অক্সাইড-ই হলো ক্রেডিটের উৎস। এক টন প্লাস্টিক রিসাইকেল করলে প্রায় ১ দশমিক পাঁচ থেকে দুই টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সাশ্রয় হয় অর্থাৎ সমপরিমাণ ক্রেডিট।কার্বন ক্রেডিট বিক্রির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে স্বীকৃত দুটি সংস্থা হচ্ছে- গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড এবং ভেরা (ভিসিএস-ভেরিফায়েড কার্বন স্ট্যান্ডার্ড)। সংস্থা দুটো প্রকল্প যাচাই করে সার্টিফিকেট দেয়। একবার সার্টিফিকেট পেলে ‘এক্সপ্যানসিভ’, ‘সাউথ পোল’ বা ‘ক্লাইমেট ট্রেডের’ মতো আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে ক্রেডিট বিক্রি করা যায়।অবশ্য, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া বেশ জটিল হলেও অসম্ভব নয়। একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ৬-১২ মাসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। সহজ বিকল্প হিসেবে দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি যেমন গার্মেন্টস রপ্তানিকারক বা ব্যাংক তাদের ইএসজি (পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসন) লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরাসরি কার্বন ক্রেডিট কিনতে পারে।বেশি নয়, মাত্র ৫-১০ লাখ টাকা বিনিয়োগে দেশে প্লাস্টিক ফার্নিচার ইউনিট চালু করা সম্ভব। যেখানে প্রথম বছর ফার্নিচার বিক্রিতে মনোযোগ দিতে হবে। দ্বিতীয় বছরে এসে শুরু করতে হবে উৎপাদন ডেটা সংগ্রহ। তৃতীয় বছরে কার্বন ক্রেডিট নিবন্ধনের আবেদন করা যেতে পারে। এভাবে তিন বছরের রোডম্যাপ অনুসরণ করলে দেশেই একটি স্থায়ী ও লাভজনক সবুজ ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব।বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার ক্রমেই সবুজ উদ্যোগকে নীতিগত সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন ‘সবুজ সাপ্লাই চেইন’ চাইছেন। বিশেষত ইউরোপীয় ক্রেতারা পণ্যের কার্বন ফুটপ্রিন্ট দেখছেন।এই প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক থেকে ফার্নিচার ও কার্বন ক্রেডিটের মডেলটি শুধু একটি ব্যবসা নয় দেশের বৃহত্তর পরিবেশগত রূপান্তরেরই একটি অংশ। যেসব উদ্যোক্তা এই পথে হাঁটবেন, তারা কেবল মুনাফাই করবেন না, হয়ে উঠবেন একটি নতুন শিল্পের পথপ্রদর্শকও।বর্জ্য বিষয়ে আমাদের গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই বদলাতে হবে। সময়েরও দাবি সেটাই।কারণ বর্জ্য এখন আর আমাদের সমস্যা নয়, বরং সম্ভাবনাময় এক শিল্পের কাঁচামাল। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, পানি ও জলবায়ু গবেষক।

স্মৃতির ক্যানভাসে বিস্মৃতির দাগ
জাতীয় ২৪ মিনিট আগে

স্মৃতির ক্যানভাসে বিস্মৃতির দাগ

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::বাঙালির জাতিগত মনস্তত্ত্বের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো তার বিস্মৃতিপ্রবণতা। তীব্র আবেগ এবং দ্রুত সবকিছু ভুলে যাওয়ার এক আত্মঘাতী মানসিকতা এই জনপদের মানুষের মজ্জাগত। ফরাসি দার্শনিক আর্নেস্ট রেনান তাঁর বিখ্যাত ‘হোয়াট ইজ এ নেশন?’ প্রবন্ধে বলেছিলেন, ‘জাতি গঠনে যেমন যৌথ স্মৃতি প্রয়োজন, তেমনি অনেক কিছু ভুলে যাওয়াও দরকার।’ কিন্তু বাঙালির ক্ষেত্রে এই ‘ভুলে যাওয়া’ কোনো দার্শনিক প্রয়োজন নয় বরং এক রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাধি। যে জাতি রক্তের নদী পেরিয়ে তার অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষা করে, সেই জাতিই কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই রক্তের ঋণ এবং ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা বিস্মৃত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকবদলে বাঙালির এই বিস্মৃতির ধরণ এবং তার চড়া মূল্য দেওয়ার খতিয়ান বিশ্লেষণ করা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এক অতীব জরুরি বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণাধর্মী তাগিদ।১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের আত্মত্যাগ বাঙালিকে একটি নতুন ধর্মনিরপেক্ষ জাতিসত্তার পরিচয় দেয়। এই আন্দোলন শুধু ভাষার ছিল না, এটি ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম তীব্র সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আঘাত। ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালি রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার ঠিকই আদায় করেছিল, কিন্তু তার মূল চেতনা ধরে রাখতে পারেনি। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর যে আইনি ও নৈতিক অঙ্গীকার ছিল, তা আজ দীর্ঘ সাত দশকেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের উচ্চ আদালত, উচ্চশিক্ষা এবং করপোরেট ও প্রশাসনিক স্তরে বাংলা ভাষার পদাঙ্ক নিশ্চিত করা যায়নি। একুশে ফেব্রুয়ারি এলে আমরা যে তীব্র আবেগ দেখাই, বছরের বাকি ৩৬৪ দিন তা ইংরেজি বা ভিনদেশি ভাষার আগ্রাসনে হারিয়ে যায়। ভাষা আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ভুলে গিয়ে সমাজ বারবার মৌলবাদ ও সংকীর্ণতার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা এবং ছাত্র সমাজের ১১ দফার ভিত্তিতে সংঘটিত হয় এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান। আসাদ, ডক্টর শামসুজ্জোহা, মতিউরের আত্মত্যাগের মুখে আইয়ুব খানের লৌহকঠিন সামরিক জান্তা পতন ঘটাতে বাধ্য হয় এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু সসম্মানে মুক্তি পান। এই আন্দোলন বাঙালিকে শিখিয়েছিল কীভাবে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করতে হয়। ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছিল নাগরিক অধিকার ও ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে আপসহীন হতে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা দ্রুতই ভুলে যাই আইয়ুবীয় স্টাইলের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার কুফল। ফলে স্বাধীন রাষ্ট্রেও বারবার সামরিক শাসন বা বেসামরিক একনায়কতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। যে ছাত্র সমাজ ও জনতা স্বৈরাচারের তখত উল্টে দিয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলের পর তারাই আবার নতুন কোনো শাসকের অন্ধ ভক্তে পরিণত হয়েছে। স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ের মূল মন্ত্র- ‘গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ বাঙালি বারবার ভুলে গেছে।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে শুরু হওয়া গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অর্জিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম এবং কোটি মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর মধ্য দিয়ে এই স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল তিনটি- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। স্বাধীনতার পর বাঙালির ভুলে যাওয়ার অভ্যাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও বীভৎস বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। যে জাতি কিছুদিন আগেও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়েছিল, তারা এক অদ্ভুত জড়তা, উদাসীনতা ও বিস্মৃতির শিকার হলো। এরপর শুরু হলো ইতিহাসের উল্টোরথ যাত্রা। মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নিত ঘাতক-দালাল, রাজাকার ও আলবদরদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুনর্বাসিত করা হলো; তাদের গাড়িতে ওড়ানো হলো লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকা। দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ঢেকে তরুণ প্রজন্মকে রাখা হলো সত্য থেকে দূরে। সবচেয়ে বড় বিস্মৃতি ঘটল মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাক্সক্ষায়- সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাষ্ট্রে এক চরম ক্রনি-ক্যাপিটালিজম বা লুণ্ঠনমূলক অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হলো।নয় বছরের সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদ সরকারের পতনের লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে গড়ে ওঠে এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট এবং বামপন্থীদের ৫ দলীয় জোট মিলে ঘোষণা করে ‘তিন জোটের রূপরেখা’। এই রূপরেখার মূল ভিত্তি ছিল- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, স্বৈরাচারী ও কালো আইন বাতিল এবং টেকসই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা। নূর হোসেন, ডা. মিলনের রক্তের বিনিময়ে ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারের পতন ঘটে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর তিন জোটের সেই ঐতিহাসিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ক্ষমতার চেয়ারে বসার পরপরই দলগুলো আবার পরমতসহিষ্ণুতা ভুলে গিয়ে পারস্পরিক প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করে। সংসদকে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে চলে একের পর এক সংসদ বয়কট ও রাজপথের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি। রূপরেখায় যে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা রূপ নেয় দলীয়করণ, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র এবং বিচার বিভাগের টুঁটি চেপে ধরার খেলায়। বাঙালি ভুলে গেল যে, গণতন্ত্র কেবল পাঁচ বছর পর পর ভোট দেওয়ার উৎসব নয়, এটি একটি নিত্যদিনের চর্চা ও সংস্কৃতির নাম।দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একচ্ছত্র কর্তৃত্ববাদী শাসন, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, গুম-খুন, তীব্র অর্থনৈতিক লুণ্ঠন, মেগা প্রজেক্টের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে দেশে এক চরম ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছিল। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গর্জে ওঠে দেশের ছাত্র-জনতা। কোটা সংস্কার আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া এই সংগ্রাম সরকারি বাহিনীর নজিরবিহীন ও নৃশংস দমনপীড়নের মুখে রূপ নেয় এক দফার গণঅভ্যুত্থানে। আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ফারহান ফাইয়াজ, ওয়াসিমসহ শত শত শহীদের আত্মত্যাগ এবং হাজারো মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ছাত্র-জনতার এই নজিরবিহীন বিজয়কে অভিহিত করা হয় ‘চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে। এই আন্দোলন রাষ্ট্র মেরামতের এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট দেয়।বাঙালির ভুলে যাওয়ার সহজাত অভ্যাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন চলছে। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি ফ্যাসিবাদের স্থায়ী অবসান এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আন্দোলনের রক্ত শুকানোর আগেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষাক্ত লক্ষণগুলো আবার দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দলীয়করণ এবং ভিন্নমতের ওপর চড়াও হওয়ার প্রবণতা সমাজ থেকে পুরোপুরি দূর করা যায়নি। যে তরুণরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রকে নতুন পথ দেখাল, তাদের সেই পবিত্র আত্মত্যাগকে ভুলে গিয়ে সমাজ যদি আবার দলীয় সংকীর্ণতা, সুবিধাবাদ ও মেরুকরণের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়, তবে এই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনও ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। পূর্বসূরিদের মতো চব্বিশের প্রজন্মও যদি ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায়, তবে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও বেদনাদায়ক বিস্মৃতি।ইতিহাসের খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যায়, বাঙালি লড়তে জানে, বুক পেতে রক্ত দিতে জানে, কিন্তু অর্জিত বিজয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে ধরে রাখতে জানে না। এর প্রধান কারণ- আমরা ইতিহাসের আবেগকে সস্তা স্লোগানে রূপান্তর করি, কিন্তু তার গভীর শিক্ষাকে ধারণ করি না। বিজয়ের পর আমরা এক ধরনের সাময়িক আত্মতুষ্টিতে ভুগি এবং দ্রুতই সব ভুলে গিয়ে আবার পুরোনো ভুলের ফাঁদে পা দিই। যদি আমরা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে আগের আন্দোলনগুলোর মতো বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে দিতে না চাই, তবে আমাদের এই ‘সহজাত ভুলে যাওয়ার রোগ’ থেকে চিরতরে মুক্ত হতে হবে। প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁকবদলের শহীদদের স্মৃতি কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায়, স্মৃতিসৌধে বা নামফলকে বন্দী না রেখে- তাদের মূল আকাক্সক্ষাকে রাষ্ট্রীয় নীতি, সংবিধান ও নাগরিক জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। বাঙালিকে ‘স্মৃতিভুক’ জাতি হওয়া বন্ধ করতে হবে; কারণ যে জাতি বারবার ইতিহাস ভুলে যায়, ইতিহাস তাকে বারবার স্বৈরাচারের শৃঙ্খলে বন্দী করে শাস্তি দেয়।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
রাজনীতি ১৫ ঘণ্টা আগে

জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি বলেছেন, আজকে বিরোধীদল অযথা কাল্পনিক আস্ফালন করেছে। আমরা বিরোধীদলের উদ্দেশে বলতে চাই- শান্ত থাকুন, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র, অহেতুক জ্বালাও পোড়াও করে ফ্যাসিবাদের চরিত্রে যাবেন না। মঙ্গলবার(১১ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে আর জ্বালাও পোড়াও দেখতে চাই না। আমরা কোন সিলের নির্বাচন দেখতে চাই না। আমরা কোন জোর-জবরদস্তির শাসন দেখতে চাই না।বিরোধী দলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন- আপনারা শান্ত হোন, হুশে আসেন; বেহুশ হবেন না। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। এই সরকারকে হটাতে হলে পাঁচ বছর পর আবারও যে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে ভোটে এসে তারপর যদি বেশি ভোট পান তাহলে সরকারে যাবেন, নইলে এই সরকারই আবারও নির্বাচিত হবে।আহমেদ আযম খান বলেন, আপনারা তো আবারও পাপাচার করবেন। ভোট দিলে বেহেশত দেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন, সে ক্ষমতা আপনারা কোথায় পেলেন, নাউজুবিল্লাহ মিন জালেক। জনগণ বুঝে আপনাদের ওই বেহেশতের টিকেট মানে পাপাচার। এখানে আমরা যাবো না বলেই জনগণ ৩০০ আসনের মধ্যে সোয়া ২০০ আসনে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে।মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমাদের সরকার সেবকের সরকার। আমরা সেবা করব। পাঁচ বছর পরে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আবার জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়- ক্ষমতায় আসবো। আপনাদের ভোট দিলে আপনারা আসবেন। জ্বালাও পোড়াও করে অযথা ওই সচিবালয়-মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না। কথা খুব পরিস্কার।তিনি আরো বলেন, যেমন পার্লামেন্টে দায়িত্বশীল আচরণ করেন আমরা বারবার ধন্যবাদ জানিয়েছি। তেমনি পার্লামেন্টের বাইরে মাঠের আন্দোলনে দায়িত্বশীল আচরণ করেন। এটাই বাংলাদেশের মানুষ চায়, বাংলাদেশের মানুষ আশা করে। আপনাদেরকে বলবো আমাদের সরকারের সঙ্গে থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। আমরা একটা সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আপনাদেরকে ইনশাআল্লাহ উপহার দেব।বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সৈয়দ মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন, বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, বাসাইল পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু প্রমুখ।

টাঙ্গাইলে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার নিয়ে মতবিনিময়
ছবি ১০ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার নিয়ে মতবিনিময়

দৃষ্টি রিপোর্ট:নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নারীপক্ষ’ শহরের হবিবুর রহমান প্লাজার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। নারীপক্ষের ‘স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারীর কর্মসংস্থান প্রসার’ প্রকল্পের আওতায় ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার : জেন্ডার-সংবেদনশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই মতবিনিময় সভায় নারীর অর্থনৈতিক অধিকার, কর্মসংস্থান, সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া, উদ্যোক্তা হিসেবে নারীর বিকাশ এবং সমাজে নারীর প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।মতবিনিময় সভায় ‘স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারীর কর্মসংস্থান প্রসার’ প্রকল্পের পরিচালক রওশনারা আক্তার প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, টাঙ্গাইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আরপিডিও’র নির্বাহী পরিচালক রওশানা লিলি, স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারী কর্মজীবী সংস্থার সহ-ব্যবস্থাপক লিপি লিলিয়ান রোজারিও প্রমুখ।বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নারীদের উন্নয়নের বিষয় নয়, এটি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অধিকার ও সম্ভাবনাকে গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নারীকে কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন না করে, সমাজে তাদের সাফল্য, সম্ভাবনা, নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক অবদানকেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
টাঙ্গাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
জাতীয়

টাঙ্গাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল- জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন, হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, র‌্যালি, আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, মোনাজাত ইত্যাদি। এদিন সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে জেলা সদরের হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, জুলাই শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন ও মোনাজাত শেষে র‌্যালি নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতি মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ। এছাড়া আলোচনা সভায় প্রায় ৩৫জন জুলাইযোদ্ধা বক্তব্য রাখেন।ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল- স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মোনাজাত ও শিক্ষার্থীদের হলসমূহে বিশেষ খাবারের আয়োজন ইত্যাদি।কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

০৫ আগস্ট ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ও আর্থিক অনুদান বেড়েছে

দৃষ্টি নিউজ:বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের মাসিক সম্মানি ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রদেয় বিশেষ অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সুরক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ও কল্যাণ আরও জোরদার করতেই সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।নতুন হার অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। এছাড়া তারা উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা পাবেন। এছাড়া শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও মাসিক ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

০৪ আগস্ট ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ও আর্থিক অনুদান বেড়েছে

যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে

দৃষ্টি নিউজ:যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম। বোর্ড সদস্যরা সশরীরে এবং ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাবের ওপর মতামত দেন।বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু সাইটে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি ইজারা দেওয়া হবে। সেখানে ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।সভার শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বোর্ডের আলোচ্যসূচি এবং পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পরে বোর্ড সদস্যরা বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।এ ছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন আরও কার্যকর করতে পুনর্বাসন ভিলেজে ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বহাল এবং সেতু নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণায় দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে সেন্টার ফর ব্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (সিবিআরটি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমূলক সুবিধা আরও যুগোপযোগী করতে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট বিধিমালা, ২০১০’-এ ‘বার্ষিক বৃত্তি প্রদান’-এর পরিবর্তে ‘বার্ষিক শিক্ষা অনুদান সহায়তা’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি সময়ের দাবি এবং এ ধরনের প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মন্ত্রী বোর্ডের গৃহীত সব সিদ্ধান্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, যমুনা সেতু এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে অব্যবহৃত সরকারি জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

০৪ আগস্ট ২০২৬
গোপালপুরকে ০-১ গোলে হারিয়ে টাঙ্গাইল সদর চ্যাম্পিয়ন

গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা: সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা শনিবার (১ আগস্ট) থেকে বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। জিপিএস সংযুক্ত না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া কিংবা ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ডিভাইস সচল থাকার তথ্য বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রদর্শন করতে হবে। জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি বিবরণ বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় এবং সংস্থাটির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।

০১ আগস্ট ২০২৬
গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় তাঁতশিল্পকে সমৃদ্ধ করা হবে :: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি বলেছেন, টাঙ্গাইলে তাঁতের শাড়ি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে শুধু টিকিয়ে রাখা নয়, সমৃদ্ধ করতে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার(১ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাজিতপুরে তাঁত শিল্পের উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার শুভ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এওসব কথা বলেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি উপস্থিত ছিলেন। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাঁতিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তরুণ প্রজন্মকে তাঁত শিল্পের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। তাছাড়া প্রান্তিক তাঁতিদের মূলধন হিসেবে সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা সহায়তার কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, তাঁত ডিশল্পের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন- সেই নির্দেশনার আলোকে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে আধুনিকতার পর্যায়ে আনতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, টাঙ্গাইলে শাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকার সকল ধরনের সহযোগিতা করবে। আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁত শিল্পের উৎপাদন বাড়ানোর হবে। টাঙ্গাইলে যে কোনো শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। উদ্বোধনের সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের(বাতাঁবো) চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা নবনির্মিত বাজিতপুর তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার পরিদর্শন করেন।

০১ আগস্ট ২০২৬
আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় তাঁতশিল্পকে সমৃদ্ধ করা হবে :: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
ঘাটাইলে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

ঘাটাইলে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

ঘাটাইল প্রতিনিধি:টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘাটাইলের ক্যান্টনমেন্ট মোড় এলাকায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক মজনু মিয়া নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত মজনু মিয়া জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়ড়া পাটাদহ গ্রামের জহুরুল আকন্দের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা মালঞ্চ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মঙ্গলবার সকালে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট মোড় এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপভ্যানটি দুমরে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক মজনু মিয়ার মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এলাহী জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মালঞ্চ পরিবহনের বাসটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০৪ আগস্ট ২০২৬

গোপালপুরকে ০-১ গোলে হারিয়ে টাঙ্গাইল সদর চ্যাম্পিয়ন

দৃষ্টি স্পোর্টস:বালির বাঁধ ভেঙ্গে সমুদ্রের ঢেউ যখন উপচে পড়ে, তখন বালির বাঁধটি হারিয়ে যায়। ঠিক তেমনি টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে দর্শকের ঢল কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া রক্ষা করতে পারেনি। ফুটবলের ভালোবাসায় ৩৫ হাজার দর্শকের ঢল সরাসরি মাঠের পাশে। গ্রাম্য অঞ্চলে যেমন কর্ণার ফ্লাগের কাছে দর্শক বসে খেলা দেখে, এখানে তার থেকে ব্যতিক্রম। মাঠের চর্তুপাশে দর্শকের ঠাসা একটি স্টেডিয়াম। সেই দশর্কের জোয়ারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অধিনায়ক সুমন রেজার একমাত্র গোলে গোপালপুর উপজেলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ১ আগষ্ট (শনিবার) বিকেলে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় তিল ধারনের জায়গা ছিলনা, কিছু দর্শক খেলা দেখতে না পেরে মাঠে শুধু হাঁটছে, দর্শকের ভিড়ের কোন ফাঁকে যদি একটু খেলা দেখা যায়।খেলা শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দর্শকের উপস্থিতি খুবই উৎফুল্ল ছিলেন। তিনি স্টেডিয়ামের দক্ষিণের গ্যালারি সংস্কারের পাশাপাশি নিকটের পুকুরটি সুইমিং পুল তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়ামে তৈরির পাশাপাশি টাঙ্গাইলে জিমনেসিয়াম খেলাধূলার জন্য মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, টাঙ্গাইল-২(গোপালপুর-ভূঞাপর) আসনের এমপি আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনের এমপি লুৎফর রহমান মতিন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।মাঠের লাইন ঘেঁষে দর্শক বসে খেলা দেখলেও মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল খেলাই হয়েছে। দুটি দলই শুরুতে একটু অগোছালো খেললেও ধীরে ধীরে তারা স্বাভাবিক খেলায় ফিরে আসে। দুটি দলই নিজ দলের রক্ষণ সামলে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করার চেষ্টা করেছেন। যে কারণে প্রথমার্থে গোল করার মতো কোন আক্রমনই হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় মোরসালিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, সুমন রেজা ও সৌরভ দেওয়ান গোছানো ফুটবল খেলে গোল করার চেষ্টা করতে থাকে। খেলার ৫৮ মিনিটে গোপালপুরের ডি-বক্সের বাইরে থেকে সুমন রেজা গোলবারমুখী শট একজন ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হয়ে গোপালপুরের জালে জড়ায়(১-০) ।খেলায় পিছিয়ে পড়ে গোপালপুরের রবিউল, মামুন, সিবি কয়েকবার গোল পরিশোধের চেষ্টা করেন। বিশেষ করে প্রায় ৩২ গজ দূর থেকে সদরের গোলবারমুখী স্যামুয়েলের দূরন্ত শট টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক মজনু ফিস্ট করে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা সদরের সুমন রেজা, ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় গোপালপুরের মারুফ। খেলায় ধারাভাষ্য প্রদান করেন, আব্দুল আলিম ও অনীক রহমান বুলবুল।টাঙ্গাইল সদর উপজেলা দলে ছিলেন- মজনু(গোলরক্ষক), বাম্বা(নাইজেরিয়া), মেহেদী হাসান মিঠু(আবাহনী), মুন্না, রেজাউল, অনিক, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম(মোহামেডান), শেখ মোরসালিন(আবাহনী), সৌরভ দেওয়ান, সুমন রেজা(অধিনায়ক), সুলেমান কান্তে(নাইজেরিয়ান)।গোপালপুর উপজেলা দলে ছিলেন- সুমন, তপু, হৃদয়, ইউসুফ, স্যামুয়েল(নাইজেরিয়া), সিবি(নাইজেরিয়া), রবিউল, ফিরোজ, মামুন, মিশু ও মারুফ ।টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার মাঠে রেফারীরর দায়িত্ব পালন করেন, সায়মন।

০৪ আগস্ট ২০২৬
গোপালপুরকে ০-১ গোলে হারিয়ে টাঙ্গাইল সদর চ্যাম্পিয়ন

মধুপুরে বিএনপি নেতার মাকে কুপিয়ে খুন

মধুপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের মা জলেমন বেওয়াকে কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার(৩১ জুলাই) রাতে উপজেলার শোলাকুড়ি দিঘির পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার মৃত আয়েজ উদ্দিনের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানায়, জালেমন বেওয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। শুক্রবার রাতে প্রতিবেশি রেজাউল করিমের স্ত্রী পান খাওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে জালেমনকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে এলাকাবাসী মধুপুর থানায় খবর দেয়। এ বিষয়ে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কি কারণে হত্যা করা হয়েছে তা জানা যায়নি। শনিবার(১ আগস্ট) সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

০১ আগস্ট ২০২৬
মধুপুরে বিএনপি নেতার মাকে কুপিয়ে খুন

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

দৃষ্টি বিনোদন: ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও দক্ষিণী সিনেমার তারকা থালাপাতি বিজয় অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’। গত ৯ জানুয়ারি সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল। নানা জটিলতার কারণে থমকে যায় মুক্তি। দীর্ঘ ৭ মাস অপেক্ষার পর, গত ২৩ জুলাই বিশ্বের ৫ হাজার পর্দায় মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। ‘জন নায়াগান’ সিনেমা মুক্তির পর দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এনডিটিভির চলচ্চিত্র বিশ্লেষক লতা শ্রীনিবাস লিখেছেন, “থালাপাতি বিজয়ের জন্য ‘জন নায়াগান’ অবশ্যই দেখা উচিত। কারণ শেষবারের মতো তাকে পর্দায় দেখা যাবে। বিজয় কীভাবে একজন ‘জন নায়াগান’ (জনগণের নেতা) হয়ে উঠেছেন, তা টাইটেল কার্ড দেখিয়েছে। ত্রুটি থাকার পরও ‘জন নায়াগান’ দুর্দান্ত।” পাঁচে ৩ রেটিং দিয়েছেন লতা। ইন্ডিয়া টুডের জননী কে সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তবে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন ২। দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও বক্স অফিসে কতটা রাজত্ব করলেন বিজয়? যদিও বক্স অফিস বিশ্লেষক রমেশ বালা মুক্তির আগেই বলেছিলেন, মুক্তির প্রথম দিনে ৭৫-১০০ কোটি রুপি আয় করবে সিনেমাটি। তার এই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে ফলেছে। চলুন জেনে নিই, ৭ দিনে কত টাকা আয় করল সিনেমাটি- বলি মুভি রিভিউজের তথ্য মতে, মুক্তির প্রথম দিনে ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ভারতে আয় করেছে ৪৪ কোটি রুপি (নিট), দ্বিতীয় দিনে আয় করেছে ২১ কোটি রুপি (নিট), তৃতীয় দিনে আয় করেছে ৩০ কোটি রুপি (নিট), চতুর্থ দিনে আয় করেছে ৩২ কোটি রুপি (নিট), পঞ্চম দিনে আয় করেছে ১০ কোটি রুপি (নিট), ৬ষ্ঠ দিনে আয় করেছে ৮ কোটি রুপি (নিট), সপ্তম দিনে আয় করেছে ৬ কোটি রুপি (নিট)। যার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৫১ কোটি রুপি (নিট)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৬.২ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ৭ দিনে ভারতে আয় করেছে ১৪৯.৫০ কোটি রুপি (নিট)। বিদেশে আয় করেছে ৮১ কোটি রুপি (গ্রস)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৫.৬৩ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এইচ. বিনোথ। এতে থালাপাতি বিজয় অভিনয় করেছেন ভেত্রি কোন্ডান নামে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। দত্তক কন্যা ভিজিকে (মমিতা বাইজু) সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। কিন্তু মেয়েটির অতীতের মানসিক ট্রমা সেই পথকে কঠিন করে তোলে। বলিউড অভিনেতা ববি দেওল সিনেমাটিতে খলনায়ক জন হিমলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে আসেন। এরপরই শুরু হয় বিজয় ও ববি দেওলের মুখোমুখি লড়াই। তাদের লড়াইকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির মূল সংঘাত। ‘জন নায়াগান’ সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন বিজয়-পূজা। তাছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- প্রকাশ রাজ, প্রিয়ামণি, গৌতম বাসুদেব মেনন প্রমুখ। জানা যায়, সিনেমাটির বাজেট ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি রুপি। কোনো কোনো প্রতিবেদনে ৪০০ কোটি রুপিও পাওয়া গেছে। এটি প্রযোজনা করছে কেভিএন প্রোডাকশন্স।

৩০ জুলাই ২০২৬
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে চালু হচ্ছে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা: যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দক্ষতায় গড়ে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের অধিকতর দক্ষ হিসেবে প্রমাণ করতে দেশব্যাপী অধিভুক্ত সব কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হতে যাচ্ছে 'ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব' (Language Club)। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষা বিশেষ করে ইংরেজি, মান্দারিন, জাপানিসহ অন্যান্য ভাষায় নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবে নিয়মিত ভাষাচর্চা ও স্পিকিং সেশন ছাড়াও পাবলিক স্পিকিং, বিতর্ক, উপস্থাপনা, বইপাঠ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, সেমিনার, কর্মশালা এবং ভাষাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সরাসরি পাঠদানের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভাষা শিক্ষার উপকরণ ব্যবহারের সুযোগও থাকবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালুর পেছনে নিজের লক্ষ্য ও স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় শুধু ভাষার দক্ষতার অভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়ে। কলেজ পর্যায়ে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো- শিক্ষার্থীদের ভেতরে থাকা জড়তা ও ভয় দূর করা, যাতে তারা সাবলীলভাবে ইংরেজি বা অন্য কোনো একটি তৃতীয় ভাষায় কথা বলা এবং ভাব প্রকাশ করতে পারে। আমরা চাই আমাদের প্রতিটি কলেজ থেকে এমন এক প্রজন্ম গড়ে উঠুক, যারা যেকোনো বৈশ্বিক পরিবেশে নিজেদের আত্মবিশ্বাসী ও সফলভাবে উপস্থাপন করতে পারবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা, যারা সাধারণত ল্যাঙ্গুয়েজ প্র্যাকটিসের পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না, এই ক্লাবগুলো তাদের ভাষিক দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে ভাষাগত দক্ষতা একটি অপরিহার্য যোগ্যতা। কলেজ পর্যায় থেকেই এ ধরনের কার্যক্রম চালু করার ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে।খুব শিগগিরই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব নিয়ে ঢাকা মহানগরের কলেজসমূহকে যুক্ত করে একটি কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

৩০ জুলাই ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে চালু হচ্ছে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব
২৮ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
বিনোদন

২৮ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

দৃষ্টি নিউজ: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংবাদিকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দিয়েছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) নামের একটি সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে এ অভিযোগ জমা দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস। অভিযোগকারী অন্যরা হলেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহ্যমান শাহ্ আলম বাদশা, কেন্দ্রীয় সংগঠক মহাসিন, জুলাই আহত আবু বকর ছিদ্দিক ওরকে তুহিন ফরাজী। অভিযুক্তরা হলেন- অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, আজিজুল হাকিম, ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ আহমেদ, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, অভিনেতা, সাজু খাদেম, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, আশনা হাবীব ভাবনা, হিরো আলম, সুজাতা আজিম, চন্দন রেজা, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, মোমিন মেহেদী ও সোমা ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা, উসকানি বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত রয়েছেন এসব তারকারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্তের স্বার্থে এ অভিযোগ দাখিল করেছি। এ বিষয়ে আল নূর মোহাম্মদ আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, বরাবরের মতোই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করছেন শান্তা ফারজানা, মোমিন মেহেদীসহ বেশ কিছু তারকা। অথচ ৫ আগস্টের দিনই শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের পতন হয়েছিল। আগামীতে আওয়ামী লীগ কোনোভাবে ফিরবে না। কিন্তু এই দোসররা মাঝে মাঝে আইনজীবী বা শিক্ষাবিদ হয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। আমরা সেটি হতে দেবো না।

২৬ জুলাই ২০২৬

জাহ্নবী কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁসের গুঞ্জন

দৃষ্টি বিনোদন: জাহ্নবী কাপুরকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সামাজিক মাধ্যমে ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস’ শিরোনামে যে দাবি ছড়িয়েছে, ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তার সমর্থনে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তার অভিনীত তেলেগু সিনেমা ‘পেড্ডি’তে ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন এবং তার নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘পাগলাইট’খ্যাত নির্মাতা উমেশ বিস্তের নতুন একটি সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন জাহ্নবী কাপুর। ছবিটির নাম এখনও চূড়ান্ত না হলেও এটি প্রযোজনা করবে একতা কাপুরের বালাজি মোশন পিকচার্স এবং অস্কারজয়ী প্রযোজক গুনীত মঙ্গার সিখ্যা এন্টারটেইনমেন্ট। চলতি বছরের অক্টোবর বা নভেম্বরে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গল্প, ঘরানা কিংবা সহ-অভিনয়শিল্পীদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উমেশ বিস্তের পরিচালনায় কাজ করবেন জাহ্নবী। একই সঙ্গে নির্মাতা উমেশ বিস্ত ‘পাগলাইট ২’-এর কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন। ২০২১ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রশংসিত সিনেমাটির সিক্যুয়েলে সানিয়া মালহোত্রার ফেরার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। ‘পেড্ডি’ সিনেমায় জাহ্নবীর ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক দর্শকের অভিযোগ, অতিরিক্ত ক্লোজআপ, নির্দিষ্ট ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল এবং কিছু রোমান্টিক দৃশ্যের মাধ্যমে চরিত্রটির গভীরতার চেয়ে তার শারীরিক উপস্থিতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে মতভেদও রয়েছে। একাংশের মতে, কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে নির্মাতার সৃজনশীল সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী করা উচিত নয়। জাহ্নবী কাপুর এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জয়া বচ্চন, কারিনা কাপুর খান, নিত্যা মেনন, জগপতি বাবু ও ডিম্পল হায়াথিসহ কয়েকজন তারকাও এ বিতর্ক নিয়ে মতামত দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে মূলধারার সিনেমায় নারীদের আরও শক্তিশালী, স্বতন্ত্র ও অর্থবহ চরিত্রে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে। সমালোচনার মুখে ‘পেড্ডি’র পরিচালক বুচি বাবু সানা সামাজিক মাধ্যমে ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিতর্কিত দৃশ্যগুলো সিনেমা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল বিভিন্ন ভিডিওকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের দাবি ছড়ালেও, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জাহ্নবী কাপুরের কোনো ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস’এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

২৬ জুলাই ২০২৬
জাহ্নবী কাপুরের অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁসের গুঞ্জন

কোয়েলের পর দেব-রচনা-সায়নীসহ ১৯ তারকা সাংসদের পদত্যাগ

দৃষ্টি বিনোদন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একসঙ্গে একাধিক তারকা সাংসদের পদত্যাগের খবর। টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব), অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষসহ মোট ১৯ জন সংসদ সদস্য রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। এমন একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, একটি চিঠিতে এই ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় শুধু টলিউড তারকারাই নন, সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই ‘গণপদত্যাগ’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক। চিঠির তারিখ ও জমা দেওয়ার সময় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। একটি পক্ষ দাবি করছে, চিঠিটি স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে আগেই। অন্যদিকে অন্য একটি পক্ষ এর আইনি বৈধতা ও তারিখ নিয়ে আপত্তি তুলেছে। সূত্র অনুযায়ী, চিঠির তারিখে অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি এখন আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া নথি ও স্বাক্ষর যাচাই নিয়েও চলছে আলোচনা। এদিকে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা গ্রহণযোগ্য পদত্যাগপত্রের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। সব মিলিয়ে দেব-রচনা-সায়নীসহ তারকা সাংসদদের ‘গণপদত্যাগ’ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

১২ জুন ২০২৬
কোয়েলের পর দেব-রচনা-সায়নীসহ ১৯ তারকা সাংসদের পদত্যাগ

সামান্থার সঙ্গে প্রতারণা ও পর্নোসাইটে বিকৃত ছবি প্রচারের অভিযোগ

দৃষ্টি বিনোদন ডেস্ক: ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নাগা চৈতন্য নিজের নাম, ছবি ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এই অভিনেতা। নাগা চৈতন্য ও অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর বিয়ে হয়েছিল ২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর। চার বছরের দাম্পত্যজীবনের পর ২০২১ সালের ২ অক্টোবর বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তারা। বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন নাগা। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এমন কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে, সামান্থার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন নাগা চৈতন্য। এমনকি তার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও তোলা হচ্ছে। তবে অভিনেতার দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে। নাগার পক্ষে আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবী বৈভব গগ্গর বলেন, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভিনেতার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও বিকৃত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং অভিনেতার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মামলাটির শুনানি করছেন বিচারপতি জ্যোতি সিং। আদালতে নাগার আইনজীবী দাবি করেন, কয়েকটি ওয়েবসাইট অভিনেতার নামকে অশালীন ও আপত্তিকর সার্চ টার্মের সঙ্গে যুক্ত করে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভুয়া ও মানহানিকর তথ্যও প্রচার করা হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত কনটেন্টে নাগা চৈতন্যের ছবি ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। আদালতে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তার আইনজীবী। সামান্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ প্রসঙ্গে বৈভব গগ্গর বলেন, এটা একটা ট্রলের অংশমাত্র, কোনো ন্যায্য সমালোচনা নয়। তিনি আরও দাবি করেন, ডিপফেক প্রযুক্তি, ভয়েস ক্লোনিং সফটওয়্যার এবং অন্যান্য ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন টুল ব্যবহার করে নাগা চৈতন্যকে ঘিরে ভুয়া অডিও-ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আদালতে নাগাকে নিয়ে তৈরি কয়েকটি মানহানিকর ইউটিউব ভিডিওর অংশও উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে অভিযোগ ওঠার পর ইতোমধ্যে কিছু লিংক সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নাগা চৈতন্য। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ডিপফেক কনটেন্টের বিরুদ্ধে তাঁর এই আইনি পদক্ষেপ নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

০১ জুন ২০২৬
সামান্থার সঙ্গে প্রতারণা ও পর্নোসাইটে বিকৃত ছবি প্রচারের অভিযোগ

পাত্র খুঁজছেন বাঁধন

দৃষ্টি বিনোদন: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি মাল্টিমিডিয়া অনুষ্ঠানে প্রেম, বিয়ে এবং জীবনের নানা সময় ও অভিজ্ঞতা নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, নতুন সম্পর্ক বা বিয়ে নিয়ে কোনো ভাবনা আছে কি না? উত্তরে বাঁধন বলেন, তিনি বিয়ের কথা চিন্তা করছিলেন। তার মনে হয়েছিল বিয়ে করার মতো একজন মানুষ তিনি খুঁজেও পেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কটি পরিণতি পায়নি। বাঁধনের উক্তি, ‘সত্যি বলছি, গত বছর বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। পরিকল্পনা থাকলেও আমার পছন্দমতো মানুষ পেতে হবে। বিয়ে করার মতো একজনকে পেয়েও ছিলাম। যার মা আমাকে খুব পছন্দ করেছিল। কিন্তু সে আসলে ভেগে গেছে !’ এখন বিয়ের জন্য উপযুক্ত কাউকে পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি। তবে প্রেম করার মত আছে সেটি অকপটে স্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রী। তার কথায়, ‘এখন বিয়ে করার মতো পাত্র আমার আশপাশে পাই নাই। প্রেম করার জন্য দুই একজনকে পেয়েছিলাম। তার মধ্যে একজনের সঙ্গে প্রেমও করেছি। কিন্তু বিয়ে করার জন্য পাত্র আসলেই গুরুত্বপূর্ণ।’ অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, ‘বিয়ে তো আমি দুইবার করে ফেলেছি। এখন আর নিশ্চয়ই সেই ভুলটা করা যাবে না।’ আলোচনায় তিনি বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ঈদকে ঘিরে শৈশবের স্মৃতিও তুলে ধরেন। বাঁধন বলেন, ছোটবেলায় কো রবানির ঈদ ছিল অনেক আনন্দের। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আনন্দমুখর সময় কাটানো। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বা ড়িতে কাটানো ঈ দের সময় তাঁর আজও মনে জ্বলজ্বল করে। তবে সময়ের সাথে মানুষের অনুভূতি বদলে যায়, দায়িত্ববোধের জায়গাটি বেশি অনুভূত হয়। তারও ঠিক একই রকম হয়েছে। অতীতের আনন্দ এখন বিশেষ স্মৃতি। তিনি বলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দের চেয়ে দায়িত্ববোধই বেশি অনুভূত হয়। আর রোজার ঈদের সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখা, যা এখনও আমার স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা করে আছে।’

৩১ মে ২০২৬
পাত্র খুঁজছেন বাঁধন