সর্বশেষ
‘রাজনীতি মানেই নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে জনকল্যাণ করা’
রাজনীতি • ২৭ মিনিট আগে

‘রাজনীতি মানেই নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে জনকল্যাণ করা’

দৃষ্টি রিপোর্ট:মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং তাঁর সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর কর্মময় জীবন ও সুমহান আদর্শ নতুন বাংলাদেশ গঠনে যুগান্তকারী প্রেরণা জোগাবে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।শনিবার (১০ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের সন্তোষ দরবার হলে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্মরণসভার আগে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সন্তোষে মওলানা ভাসানী ও বেগম আলেমা খাতুনের মাজার জিয়ারত এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘আমরা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। এই লক্ষ্য অর্জনে মওলানা ভাসানীর আজীবন সংগ্রাম ও জনকল্যাণমুখী জীবন আমাদের পথ দেখাবে।’বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে মওলানা ভাসানী ও আলেমা খাতুন ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরম অবহেলায় অচল করে রাখা হয়েছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গুণীজনদের স্মৃতিধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সচল করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মওলানা ভাসানীর প্রতিটি জনকল্যাণমূলক কাজে এই মহিয়সী নারী সাহস জুগিয়েছেন এবং পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমি জনকল্যাণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে বিলিয়ে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন থেকে ত্যাগ ও জনকল্যাণের দীক্ষা নিতে হবে। রাজনীতি মানেই নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা।’ তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশপ্রেমের চেতনাকে বুকে ধারণ করে মওলানা ভাসানীর দেখানো ন্যায় ও আদর্শের পথে টাঙ্গাইলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহমুদুল হক সানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য প্রো-ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী।স্মরণসভা শেষে অতিথিরা বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর জীবন ও কর্মের ওপর রচিত একটি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

সাংবাদিকের মায়ের ইন্তেকাল
ছবি • ৩ ঘণ্টা আগে

সাংবাদিকের মায়ের ইন্তেকাল

দৃষ্টি রিপোর্ট: দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট মালেক আদনানের মাতা বিলকিস বেগম শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মুখের মাড়িতে ও ফুসফুসের ক্যান্সারে (স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা) আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্বামী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নিজ গ্রাম টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পালিমা ঈদগাঁ মাঠে নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মরহুমার ছোট ছেলে মালেক আদনান জানাযা নামাজে ইমামতি করেন।জানাযাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আহছান হাবীব মাসুদ, মরহুমার বড় ছেলে আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা আলী আজগর প্রমুখ। জানাযা নামাজে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ, সাবেক সভাপতি খান মোহাম্মদ খালেদ ও জাফর আহমেদ সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

টাঙ্গাইলে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি
ছবি • ৩ ঘণ্টা আগে

টাঙ্গাইলে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি

দৃষ্টি রিপোর্ট:‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’ এই প্রতিপাদ্যে আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপনে টাঙ্গাইলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করতে শুক্রবার(৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) টাঙ্গাইল জেলা শাখার অস্থায়ী কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।নিসচা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বাচ্চুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম তরফদারের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ২২ অক্টোবরের মূল কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত করেন। এবারের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনা সভা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ ও ত্রুটিমুক্ত করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভা, মরহুম জাহানারা কাঞ্চন সহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত ইত্যাদি।সভায় উপস্থিত থেকে দিবসটি সফল করতে নিজ নিজ অভিমত ও দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মুর্শেদুল আলম তালুকদার ও মো. আমিনুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. আকবর আলী খান, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান তারিকুল ইসলাম, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন লিংকন, সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সম্পাদক কামরুন্নাহার খান মুন্নি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী খোকন, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ইমাম হাসান সোহান, দপ্তর সম্পাদক আমীর হামজা। এছাড়াও কার্যকরী সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, এসএম শফিকুল আলম, নূরজাহান আক্তার, শাহ জামাল, আব্দুল মান্নান, খন্দকার তরিকুল আজিজ শোয়েব প্রমুখ।প্রস্তুতি সভায় বক্তারা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অকাল মৃত্যু রোধ করা এখন সময়ের দাবি। ‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’- এই স্লোগানকে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। আগামী ২২ অক্টোবরের সকল কর্মসূচি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

মোটরসাইকেলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি
অর্থনীতি • ৪ ঘণ্টা আগে

মোটরসাইকেলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি

দৃষ্টি নিউজ, গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বহনকারী প্রাইভেটকারের পথরোধ করে গুলি ছুড়ে তিন কোটি টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয় টার দিকে শ্রীপুর-গোসিঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কর্নপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা হিমেল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদ ও গাড়িচালক লাল মিয়া।পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, শ্রীপুরে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠান ভালুকা চ্যানেল এন্টারপ্রাইজের অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা হিমেল ও এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদ নরসিংদী থেকে ভাড়া করা একটি প্রাইভেটকারে করে শ্রীপুরের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের সঙ্গে বস্তায় করে তিন কোটি টাকা ছিল বলে জানা গেছে। পথে শ্রীপুরের গোসিঙ্গা-কর্নপুর এলাকার একটি গজারি বনে পৌছালে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আসা একদল ব্যক্তি তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তাঁরা প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা হিমেল গুলিবিদ্ধ হন।অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা টাকার বস্তা ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তিতে এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদ ও গাড়িচালক লাল মিয়াও আহত হন। পরে টাকার বস্তা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।গাড়িচালক লাল মিয়া জানান, গজারি বনে পৌঁছানোর পর ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আসা ব্যক্তিরা তাঁদের গাড়ির পথরোধ করে গুলি ছোড়ে। এতে হিমেল গুলিবিদ্ধ হন। পরে টাকার বস্তা নিয়ে যাওয়ার সময় ধস্তাধস্তিতে তিনিও ও ফরহাদ আহত হন।শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিক সরকার বলেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, গুলি করে টাকা ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’
জাতীয়

ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

দৃষ্টি বিনোদন:আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও পুরস্কৃত হলো বাংলাদেশের সিনেমা। ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’। ২০০৫ সাল থেকে ইতালির লুকা শহরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই উৎসব। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চার অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের ২২তম আসর। শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম।এবারের লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে ‘মাস্টার’ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি সিনেমা প্রতিযোগিতা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’, ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি। এসব সিনেমাকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’।উৎসবের জুরিবোর্ড তাদের ঘোষণায় ‘মাস্টার’ সিনেমার প্রশংসা করে জানিয়েছে, একটি স্থানীয় গল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বর্তমান সংকটকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।জুরিদের মতে, বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন একজন শিক্ষকের গল্প দেখতে পান, যিনি ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের বদলে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে দৌড়ানো এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফাদে পড়ে তার সেই নীতি কীভাবে ফিকে হয়ে যায়, সেটিই সাবলীলভাবে দেখানো হয়েছে ‘মাস্টার’ সিনেমায়।রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ও প্রযোজিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ নিয়ে আসা একজন আদর্শবান শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতা ও আপসের যাতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, তা নিয়েই এগিয়েছে ‘মাস্টার’-এর গল্প। আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ, তাসনুভা তামান্না প্রমুখ।লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা সুমিত। তিনি বলেন, ‘লুকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই অর্জন মাস্টার সিনেমাটির সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে এ বছর বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। এতগুলো দুর্দান্ত কাজের মাঝে আমার টিমের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করার জন্য বিচারকমণ্ডলীর কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে সেরা নির্বাচিত হয় ‘মাস্টার’। নির্মাতা সুমিত জানিয়েছেন, সিনেমাটি দেশের দর্শকদের দেখানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

০৬ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজায় ছুটি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নির্দেশনা

দৃষ্টি নিউজ:দুর্গাপূজার ছুটি টানা পাঁচ দিন করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। আগামি ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মদিবস হিসেবে অফিস করতে হবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন।সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে সরকারি ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হয়েছে। এরপর ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) ও ২৪ অক্টোবর(শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি।২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ভোগ করবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে এই টানা ছুটি নিশ্চিত করতে ১৭ অক্টোবরকে (শনিবার) কর্মদিবস হিসেবে রাখা হয়েছে। ওই দিন সরকারি অফিস-আদালতের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে।চলতি বছর ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।অতিরিক্ত এক দিনের সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবার দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপূজায় ছুটি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নির্দেশনা

প্রতিমন্ত্রী টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সহ দুই নেতা রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে

দৃষ্টি নিউজ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মোকলেস মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সদস্য এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। অপর আসামি জাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২২ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ার সময় তাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ঈদগাহের প্রথম গেটের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬-এর বিচারক শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুব দল নেতা জাহিদুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্য ধারাগুলো থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়।এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম। আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়েছে।এদিকে সোমবার আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আত্মসমর্পণের পর তাদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম।তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকার সাজা দিয়েছিল। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমরা পরবর্তী সময়ে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আইনগতভাবে আবারও আবেদন করব।’অপরদিকে, আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।

০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিমন্ত্রী টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সহ দুই নেতা রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে

মুক্তচিন্তার দেয়াল ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় দশকে এসে মানবসভ্যতা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জটিল প্যারাডক্স বা বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। একদিকে আমাদের হাতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বায়োটেকনোলজি এবং বিগ ডেটার মতো মহাবিস্ফোরণ; অন্যদিকে ঠিক সমান্তরালভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে মানুষের স্বাধীন, মৌলিক ও মুক্তচিন্তার পরিধি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, ইন্টারনেটের চশমায় তথ্যের অবাধ প্রবাহে পৃথিবী এখন সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত, গণতান্ত্রিক এবং সংযুক্ত। কিন্তু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এক অদৃশ্য দেয়াল আমাদের সামষ্টিক চিন্তাশক্তিকে বন্দি করে ফেলছে- যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটছে এক গভীর, সর্বগ্রাসী বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বে। এই সংকটটি কেবল রাজনৈতিক মেরুকরণ বা সামাজিক অস্থিরতার অংশ নয়; এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিবর্তন, নিউরো-বায়োলজিক্যাল রূপান্তর এবং আধুনিক পুঁজিবাদের প্রযুক্তিগত কার্যকারণ। যখন কোনো সমাজে প্রশ্ন করার সাহস হারিয়ে যায় এবং চিন্তার ওপর স্থবিরতা ভর করে, তখন সভ্যতার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। বিজ্ঞান বলে- মানুষের মস্তিষ্ক কোনো স্থির বা জড় বস্তু নয়, এটি সদা পরিবর্তনশীল এবং অভিযোজনক্ষম- যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ (Neuroplasticity)। আমরা যখন কোনো নতুন, জটিল বা আমাদের বিশ্বাসের বিপরীতধর্মী চিন্তার মুখোমুখি হই, তখন মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর মধ্যে নতুন সিন্যাপটিক সংযোগ বা পথ তৈরি হয়। একেই বলে মুক্তচিন্তার এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জৈবিক ভিত্তি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের কগনিটিভ ক্ষমতা বা বোধশক্তি বিকশিত হয়। কিন্তু সমসাময়িক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবসায়িক অ্যালগরিদম এই নিউরোপ্লাস্টিসিটিকে উল্টো পথে চালিত করছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং সার্চ ইঞ্জিনগুলো আমাদের মনের অজান্তেই তৈরি করছে ‘ইকো চেম্বার’ (Echo Chamber) এবং ‘ফিল্টার বাবল’ (Filter Bubble)। সিলিকন ভ্যালির তৈরি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের ঠিক সেই তথ্য, সংবাদ বা মতামতগুলোই বারবার আমাদের স্ক্রিনে নিয়ে আসে- যা আমাদের পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ক্ষোভ বা মতাদর্শের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কে এক ধরনের ক্ষতিকর ‘কনফরমেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা নিজের মতকে অন্ধভাবে সত্য বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা চূড়ান্ত রূপ নেয়। যখন একজন মানুষ বছরের পর বছর ধরে কেবল তার নিজের মতের প্রতিধ্বনি শুনতে পায়, তখন তার মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (Prefrontal Cortex)- যা যুক্তিবাদী চিন্তা, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দায়ী, তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা ও নমনীয়তা হারাতে শুরু করে। মানুষ তখন ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এটিই মুক্তচিন্তার প্রথম এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক দেয়াল- যা আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের ব্রেইনের ভেতর অলক্ষ্যে তৈরি করে দিচ্ছে।আমরা এখন বাস করছি ‘ইনফরমেশন ওভারলোড’ বা তথ্যের অতিপ্রবাহের এক উন্মাদ যুগে। মানব ইতিহাসের আর কোনো সময়ে মানুষ এত তথ্যের সংস্পর্শে আসেনি। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, তথ্যের এই মাত্রাতিরিক্ত সুনামি মানুষের মনোযোগের পরিধি বা ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ (Attention Span) নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে মানুষের গভীর মনোযোগ ধরে রাখার গড় সময়কাল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তথ্যের এই মহাসমুদ্র মানুষকে ‘তথ্যসমৃদ্ধ’ (Informed) করছে ঠিকই, কিন্তু তাকে ‘প্রজ্ঞাবান’ (Wise) বা ‘জ্ঞানী’ করে তুলছে না। গভীর অধ্যয়ন, দীর্ঘমেয়াদী মননশীলতা এবং কোনো বিষয়ের গভীরে গিয়ে কার্যকারণ সম্পর্ক বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আধুনিক মানুষের ভেতর লোপ পাচ্ছে। কোনো বিষয়ের মূল জেনেসিস বা উৎস না জেনে, কেবল ওপর ওপর ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে সোশ্যালে তর্ক করার এবং রায় দিয়ে দেওয়ার এই সর্বজনীন প্রবণতাই হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব। আমরা এখন সত্য অনুসন্ধান করছি না বরং হেডলাইন এবং রিলস বা শর্টস-এর ১৫ সেকেন্ডের ভিজ্যুয়াল বিনোদনে নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষুধা মেটানোর সস্তা চেষ্টা করছি। এর ফলে সমাজে এমন এক শ্রেণির ইনফ্লুয়েন্সার তৈরি হচ্ছে- যাদের চিন্তায় কোনো মৌলিকত্ব নেই, আছে কেবল জনপ্রিয় সস্তা আবেগের অন্ধ অনুকরণ। প্রজ্ঞার স্থান দখল করে নিয়েছে সস্তা তথ্যের আসক্তি।মুক্তচিন্তার দ্বিতীয় বড় দেয়ালটি মনস্তাত্ত্বিক নয় বরং এটি সমাজতাত্ত্বিক। একে আমরা বলতে পারি আধুনিক ‘ক্যান্সেল কালচার’ (Cancel Culture) বা ভিন্নমত বর্জনের সংস্কৃতি। সমাজবিজ্ঞানের বুনিয়াদি তত্ত্ব অনুযায়ী- একটি সুস্থ, গতিশীল ও প্রগতিশীল সমাজের মেরুদণ্ড হলো ভিন্নমতের সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভিন্নমতকে যুক্তির দ্বারা খণ্ডন করার ধৈর্য বা মেধা সমাজ হারিয়ে ফেলছে। এর বদলে ভিন্নমতাবলম্বীকে সামাজিকভাবে বয়কট, ডিজিটাল মবলিং (অনলাইন আক্রমণ), চরিত্রহনন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক চাপ প্রয়োগ করে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। যখন কোনো সমাজে বা রাষ্ট্রে প্রশ্ন করার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় কিংবা কোনো প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করাকে বিপজ্জনক করে তোলা হয়, তখন সেখানে বিজ্ঞান, দর্শন এবং সাহিত্যের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ইতিহাস সাক্ষী- গ্যালিলিও, সক্রেটিস বা জর্দানো ব্রুনোদের যুগেও শাসকেরা মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে কঠোর দেয়াল তুলেছিল। আজকের ডিজিটাল যুগেও ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন মোড়কে সেই একই দেয়াল তোলা হচ্ছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম কোনো নতুন বা প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ভয় পাচ্ছে। এই ভয় এবং এর থেকে জন্ম নেওয়া ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ (Self-censorship) সমাজকে এক স্থবির, অনুকরণপ্রিয় এবং মেরুদণ্ডহীন প্রজন্মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে- যা দীর্ঘমেয়াদে বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।আমাদের প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থাও এই বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব ও স্থবিরতা তৈরির জন্য সমভাবে দায়ী। আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান (Pedagogy) বলে, শিক্ষার মূল ও প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানো। অর্থাৎ শিক্ষার্থীকে শেখানো হবে কোনো কিছুকে অন্ধভাবে না মেনে ‘কেন’, ‘কীভাবে’, ‘কার স্বার্থে’ এবং ‘কোথায়’- এই মৌলিক প্রশ্নগুলো উত্থাপন করতে। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে উঠেছে মাত্রাতিরিক্ত জিপিএ কেন্দ্রিক, মুখস্থনির্ভর এবং নিখাদ বাজারমুখী। আমরা শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্ককে একেকটি ডেটা স্টোরেজ বা কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বানিয়ে ফেলছি, যেখানে বছরের শুরুতে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য ইনপুট দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার খাতায় তা হুবহু আউটপুট হিসেবে উগরে দেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সৃজনশীলতা, মৌলিক দর্শন বা মানবিক মূল্যবোধের কোনো স্থান নেই। এই যান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক করপোরেট বিশ্বের জন্য হয়তো খুব দক্ষ ‘কেরানি’, ‘ক্যাডার’ বা ‘শ্রমিক’ তৈরি করতে পারছে; কিন্তু সমাজ পরিচালনার জন্য, ঐতিহাসিক সংকট উত্তরণের জন্য কিংবা মানবতাকে পথ দেখানোর জন্য কোনো দূরদর্শী ‘বুদ্ধিজীবী’, ‘চিন্তাবিদ’ বা ‘দার্শনিক’ তৈরি করতে পারছে না। জ্ঞান যেখানে কেবল জীবিকা অর্জনের হাতিয়ার, সেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব অবধারিত।এই গভীর অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ কী? বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান এবং মানবসভ্যতার ইতিহাস আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পথ দেখায়- (ক) কগনিটিভ ডাইভারসিটি (Cognitive Diversity) বা চিন্তার বৈচিত্র্যকে আলিঙ্গন করা: আমাদের সচেতনভাবে এমন সব বই, প্রবন্ধ, ইতিহাস বা মনস্তাত্ত্বিক মতামত পড়তে হবে, যা আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি মস্তিষ্কের নিউরনের কার্যকারিতা ও সিন্যাপটিক সংযোগ বাড়ায়, মনকে নমনীয় করে এবং অন্ধ গোঁড়ামি দূর করে। (খ) ডিজিটাল ডিটক্স এবং গভীর পঠন (Deep Reading): স্ক্রিন ও সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশনের দাসত্ব কমিয়ে বই পড়ার মূল ধারায় ফিরে আসতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো জটিল বা তাত্ত্বিক বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার চর্চা-যাকে ক্যাল নিউপোর্ট ‘ডিপ ওয়ার্ক’ (Deep Work) বলেছেন-তা আমাদের চিন্তার হারিয়ে যাওয়া গভীরতা ও ধারণক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারে। (গ) প্রশ্ন করার স্বাধীনতার প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক স্বীকৃতি: পরিবার, বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রশ্ন করার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং উৎসাহিত করতে হবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে- ভুল প্রশ্ন বা অবান্তর প্রশ্নও সমাজের জন্য কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয়, কিন্তু প্রশ্ন না করার সংস্কৃতি বা প্রশ্ন করতে ভয় পাওয়া একটি জীবন্ত সভ্যতার জন্য সবচেয়ে আত্মঘাতী।মুক্তচিন্তা কোনো তাত্ত্বিক বিলাসিতা বা কেতাবি শব্দ নয়; এটি মানবসভ্যতার টিকে থাকার, বিকশিত হওয়ার এবং বিবর্তিত হওয়ার সবচেয়ে মৌলিক ও অপরিহার্য শর্ত। চার্লস ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বিবর্তনবাদ যেমন বলে- পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে যে প্রজাতি খাপ খাওয়াতে পারে না, সে প্রকৃতির নিয়মেই বিলুপ্ত হয়ে যায়; ঠিক তেমনি সমাজতত্ত্ব ও ইতিহাসের দর্শন বলে- যে সমাজ বা জাতি সময়ের সাথে সাথে চিন্তার বিবর্তন ঘটাতে পারে না, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে পারে না, সেই জাতি সভ্যতার প্রতিযোগিতায় জরায়ুতেই মারা যায় বা অন্যের বুদ্ধিবৃত্তিক দাসে পরিণত হয়। মুক্তচিন্তার যে অদৃশ্য দেয়ালগুলো আজকে প্রযুক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের হাত ধরে আমাদের চারপাশে অবলীলায় গড়ে উঠছে, তা যদি আমরা আমাদের যৌথ প্রজ্ঞা, নৈতিক সাহস এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আঘাত করে ভাঙতে না পারি, তবে একবিংশ শতাব্দীর এই চোখধাঁধানো প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কেবলই এক কংক্রিটের প্রাণহীন কঙ্কাল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে। আর তার ভেতরে বাস করবে এক দিশাহীন, প্রজ্ঞাহীন, যুক্তিহীন এবং চরম দেউলিয়া মানবসমাজ। এখনই সময় সেই দেয়ালগুলো ভেঙে চিন্তার আকাশকে উন্মুক্ত করার, মানুষের মগজকে অ্যালগরিদমের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

০১ অক্টোবর ২০২৬
মুক্তচিন্তার দেয়াল ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:-মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল): কোনো সুসংবাদ পেতে পারেন। আটকে থাকা কাজ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বড় অর্থলাভ অথবা কোনো বড় চুক্তির মধ্যে যাওয়ার সুযোগ আসতে পারে। এ সপ্তাহটি মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য সার্বিকভাবে অত্যন্ত শুভ।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সময়টা খুব একটা ভালো নয়। টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারেন। প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কোনো শুভ কাজ বা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজে না যাওয়াই ভালো। গৃহে অশান্তি অথবা অসুস্থতা লেগে থাকতে পারে।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): যারা চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সেই কাজ সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি তরফ থেকেও সাহায্য পেতে পারেন। তবে পেটের সমস্যা অথবা মাথাব্যথা এই সময় আপনাদের কষ্ট দিতে পারে।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): সন্তান সম্পর্কিত বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। সন্তানের শারীরিক অবস্থা এবং শিক্ষার বিষয়েও নজর রাখা প্রয়োজন। তবে ক্যারিয়ার ও অর্থপ্রাপ্তির দিক থেকে সময়টি ভালো যেতে পারে।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): কিছুটা টেনশনের মধ্যে কাটতে পারে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে পরিবারে অশান্তির সম্ভাবনা রয়েছে। গৃহে এবং কর্মক্ষেত্রের বাইরের পরিবেশেও অশান্তিময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই এ সপ্তাহে যতটা সম্ভব বিতর্ক এড়িয়ে চলুন।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): ভালো কোনো পদ, প্রমোশন, সুযোগ অথবা নতুন কোনো সম্ভাবনা সামনে আসতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন ধরে যে সমস্যাগুলো নিয়ে চলছিলেন, সেগুলোর কিছুটা সুরাহার পথ দেখতে পারেন।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): কোথাও অর্থ বিনিয়োগ করবেন না। কারো প্রলোভনে পড়ে অর্থ নষ্ট করবেন না। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শেয়ারে একেবারেই অর্থ বিনিয়োগ না করাই ভালো। অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কারো সঙ্গে ঝামেলাও হতে পারে। হঠাৎ করে খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): শারীরিক বিষয় ভালো যাবে। এ সপ্তাহে ভাগ্য খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আটকে থাকা কাজগুলো সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে সেই কাজ সম্পন্ন করতে আপনাদের কিছুটা দৌড়ঝাঁপ করতে হতে পারে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): আর্থিক উপার্জনের ক্ষেত্রে মানসিক তৃপ্তি কম থাকবে। অর্থনৈতিক লাভ এবং পদোন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। তীর্থযাত্রার সম্ভাবনাও অত্যন্ত প্রবল। ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): দীর্ঘদিনের আটকে থাকা কাজ এই সময় সম্পন্ন হতে পারে। প্রফেশনাল জীবনের ক্ষেত্রে ভালো সময়। শিক্ষার্থীরদের পড়াশোনার বিষয়ে গভীর মনোযোগ প্রয়োজন। ভূমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমস্যা থাকতে পারে।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লাভবান হতে পারেন। ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থান পরিবর্তন অথবা নতুন চাকরির সুযোগও আসতে পারে। যারা চাকরি পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই সময়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): যেকোনো বাধা বিঘ্নকে ইতিবাচক হিসেবে দেখুন। ক্যারিয়ার, বাড়ি এবং কোর্ট-কাছারির বিষয়ের জন্য এই সময়টি ভালো যেতে পারে। অফিসে যথেষ্ট মান-সম্মান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সন্তান অথবা পরিবারের কোনো সদস্যকে নিয়ে সুসংবাদ পেতে পারেন।

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
মির্জাপুরে ২০ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে গেল ব্যক্তি উদ্যোগে

মির্জাপুরে ২০ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে গেল ব্যক্তি উদ্যোগে

মু. আবিদ মল্লিক জয়:সরকারি কোনো প্রকল্প নয়, নেই কোনো সংস্থার অর্থায়ন। স্রেফ গ্রামীণ জনপদের মানুষের চিরচেনা দুর্ভোগ লাঘবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনন্য এক নজির সৃষ্টি করেছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার এক সমাজসেবক। মির্জাপুর উপজেলার ৯নং বহুরিয়া ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের ৬২টি গ্রামীণ সড়ক টানা তিন বছর ধরে নিজের অর্থে সংস্কার করেছেন। বর্তমানেও সড়ক সংস্কার করে চলেছেন ওই ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মরহুম জয়নাল সিকদারের ছেলে বিএনপি নেতা আব্দুস ছাত্তার সিকদার।একসময় যেসব কাদামাটির পথ, খানাখন্দ আর বর্ষার পানিতে তলিয়ে থাকা রাস্তা ছিল বহুরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নিত্যদিনের অভিশাপ। আব্দুস ছাত্তার সিকদারের কল্যাণে আজ সেখানে লেগেছে স্বস্তির ছোঁয়া। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগের ফলে বদলে গেছে পুরো গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংস্কারের পূর্বে এই ২০টি গ্রামের সড়কগুলোর অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীর ভোগান্তির কোনো শেষ ছিল না। অনেক সময় ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে গ্রামে জরুরি যানবাহন পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারত না। সাধারণ মানুষের এই অবর্ণনীয় কষ্ট ছুঁয়ে যায় আব্দুস ছাত্তার সিকদারকে। কোনো ক্ষমতার মোহে নয় বরং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি নিজ খরচে এগিয়ে আসেন। গত তিন বছরে প্রায় তিন শতাধিক মাহিন্দ্র ট্রাকে করে ভাঙা ইট(রাবিশ) ফেলে চলাচলের উপযোগী করেছেন এসব সড়ক। তাঁর বাবা মরহুম জয়নাল সিকদারও পরোপকারী ও সমাজসংস্কারক ছিলেন।বহুরিয়া ইউনিয়নের গবড়া গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলম, হাবিবুর রহমান মুন্না, চান্দুলিয়া গ্রামের লিটন মিয়া, আমজাদ হোসেন, কোট বহুরিয়া গ্রামের শরিফুল সিকদার সুজন, রফিকুল আলম, বহুরিয়া গ্রামের আল এমরান খান, আনিছুর রহমান খান, আড়াইপাড়া গ্রামের আক্কাস আলী, নাজমুল ইসলাম, গেড়ামেরা গ্রামের ময়নাল হোসেন, ইন্নছ আলী সহ অনেকেই জানান, ছাত্তার সিকদারের এই সেবামূলক কার্যক্রম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বর্ষায় বা বছরের যেকোনো সময়ে কোনো রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেই স্থানীয়রা তাঁকে খবর দেন। আর খবর পাওয়া মাত্রই তাঁর নিজস্ব ইটভাটা থেকে পৌঁছে যায় ইটের গাড়ি। এমনকি মানুষের জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় রাস্তায় ফেলার জন্য তাঁর ইটভাটায় সবসময় আলাদা করে ভাঙা ইট(রাবিশ) জমিয়ে রাখা হয়।চেয়ারম্যানের সন্তান হিসেবে বাবার জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাকে বজায় রেখে আব্দুস ছাত্তার সিকদার এলাকায় আজ এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। সরকারি বরাদ্দের আশায় বসে না থেকে একজন সাধারণ নাগরিকও যে চাইলে সমাজকে বদলে দিতে পারেন, মির্জাপুরের আব্দুস ছাত্তার সিকদার তা প্রমাণ করে দেখালেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।ওই ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমান, আরশেদ আলী, কোরবান আলী, গৃহবধু নাজমেআরা বেগম, মর্জিনা আক্তার সহ অনেকেই জানান, গ্রামীণ উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। এমন বাস্তবতায় জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের অর্থ ব্যয় করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় ছাত্তার হয়ে উঠেছেন এলাকার জনপ্রিয় একজন মানুষ। শুধু রাস্তা সংস্কারই নয়, এলাকার মানুষের বিপদে-আপদেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ হোসাইন বলেন, দক্ষিণ মির্জাপুরে বিশেষ করে বহুরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ আমলে কোন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড হয়নি। যা বরাদ্দ এসেছে তা হরিলুট করে ভাগ বাটোয়ারা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পকেট ভারি করেছেন। ছাত্তার নিজস্ব অর্থায়নে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন।মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস ছাত্তার সিকদার জানান, নিজের জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। তিন বছর ধরে এভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এলাকার মানুষ চাইলে এবং দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তবে নির্বাচনে অংশ নেই বা না নেই মানুষের সেবা করা অব্যাহত থাকবে।মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) মো. জালাল উদ্দিন খান জানান, তিনি মির্জাপুরে নতুন যোগদান করেছেন। বহুরিয়া ইউনিয়নের ছাত্তার সাহেবের সমাজসেবামূলক কাজ দেখে তিনি খুবই খুশি। সবাই যদি যার যার জায়গা থেকে সড়ক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে সচেতন হয়, তাহলে সড়কের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং জনসাধারণ সুবিধা পাবে।এ বিষয়ে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, গ্র্রামীণ সড়কগুলো সচল রাখা এবং জনগণের চলাচলের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি বা সামাজিক উদ্যোগ সব সময়ই প্রশংসনীয়। আব্দুস ছাত্তার সিকদার সাহেব জনপ্রতিনিধি না হয়েও সড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে যেভাবে অবদান রাখছেন, তা সত্যিই একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ এলজিইডির গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁর এই মহৎ কাজকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

০৭ অক্টোবর ২০২৬

ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

দৃষ্টি বিনোদন:আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও পুরস্কৃত হলো বাংলাদেশের সিনেমা। ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’। ২০০৫ সাল থেকে ইতালির লুকা শহরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই উৎসব। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চার অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের ২২তম আসর। শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম।এবারের লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে ‘মাস্টার’ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি সিনেমা প্রতিযোগিতা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’, ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি। এসব সিনেমাকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’।উৎসবের জুরিবোর্ড তাদের ঘোষণায় ‘মাস্টার’ সিনেমার প্রশংসা করে জানিয়েছে, একটি স্থানীয় গল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বর্তমান সংকটকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।জুরিদের মতে, বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন একজন শিক্ষকের গল্প দেখতে পান, যিনি ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের বদলে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে দৌড়ানো এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফাদে পড়ে তার সেই নীতি কীভাবে ফিকে হয়ে যায়, সেটিই সাবলীলভাবে দেখানো হয়েছে ‘মাস্টার’ সিনেমায়।রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ও প্রযোজিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ নিয়ে আসা একজন আদর্শবান শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতা ও আপসের যাতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, তা নিয়েই এগিয়েছে ‘মাস্টার’-এর গল্প। আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ, তাসনুভা তামান্না প্রমুখ।লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা সুমিত। তিনি বলেন, ‘লুকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই অর্জন মাস্টার সিনেমাটির সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে এ বছর বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। এতগুলো দুর্দান্ত কাজের মাঝে আমার টিমের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করার জন্য বিচারকমণ্ডলীর কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে সেরা নির্বাচিত হয় ‘মাস্টার’। নির্মাতা সুমিত জানিয়েছেন, সিনেমাটি দেশের দর্শকদের দেখানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

দুর্গাপূজায় ছুটি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নির্দেশনা

দৃষ্টি নিউজ:দুর্গাপূজার ছুটি টানা পাঁচ দিন করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। আগামি ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মদিবস হিসেবে অফিস করতে হবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন।সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে সরকারি ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হয়েছে। এরপর ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) ও ২৪ অক্টোবর(শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি।২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ভোগ করবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে এই টানা ছুটি নিশ্চিত করতে ১৭ অক্টোবরকে (শনিবার) কর্মদিবস হিসেবে রাখা হয়েছে। ওই দিন সরকারি অফিস-আদালতের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে।চলতি বছর ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।অতিরিক্ত এক দিনের সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবার দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপূজায় ছুটি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নির্দেশনা

প্রতিমন্ত্রী টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সহ দুই নেতা জামিনে মুক্ত

দৃষ্টি নিউজ:ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিকদল নেতা ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোকলেস মিয়া জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। একই মামলায় কারাগারে যাওয়া যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামও এদিন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। পরে নেতাকর্মীরা তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকালে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তারা মুক্তি পান। এ সময় কারাগারের বাইরে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীরা ফুলের মালা ও ফুল দিয়ে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপ-তত্ত্বাবধায়ক (জেলার) মো. ফখর উদ্দিন জানান, জামিনের কাগজপত্র যাচাই শেষে বিকাল ৫টার দিকে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম কারামুক্ত হয়েছেন।এর আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাদের আইনজীবী সোহেল খান নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুজনের জামিন মঞ্জুর করেন।২০১৭ সালের ২২ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্যান্য ধারায় তাদের খালাস দেওয়া হয়। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন। আপিলে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে খালাস এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিমন্ত্রী টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সহ দুই নেতা জামিনে মুক্ত

প্রতিমন্ত্রী টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সহ দুই নেতা রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে

দৃষ্টি নিউজ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মোকলেস মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সদস্য এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। অপর আসামি জাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২২ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ার সময় তাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ঈদগাহের প্রথম গেটের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬-এর বিচারক শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুব দল নেতা জাহিদুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্য ধারাগুলো থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়।এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম। আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়েছে।এদিকে সোমবার আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আত্মসমর্পণের পর তাদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম।তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকার সাজা দিয়েছিল। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমরা পরবর্তী সময়ে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আইনগতভাবে আবারও আবেদন করব।’অপরদিকে, আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।

০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিমন্ত্রী টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সহ দুই নেতা রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে
ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’
জাতীয়

ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

দৃষ্টি বিনোদন:আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও পুরস্কৃত হলো বাংলাদেশের সিনেমা। ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’। ২০০৫ সাল থেকে ইতালির লুকা শহরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই উৎসব। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চার অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের ২২তম আসর। শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম।এবারের লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে ‘মাস্টার’ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি সিনেমা প্রতিযোগিতা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’, ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি। এসব সিনেমাকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’।উৎসবের জুরিবোর্ড তাদের ঘোষণায় ‘মাস্টার’ সিনেমার প্রশংসা করে জানিয়েছে, একটি স্থানীয় গল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বর্তমান সংকটকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।জুরিদের মতে, বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন একজন শিক্ষকের গল্প দেখতে পান, যিনি ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের বদলে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে দৌড়ানো এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফাদে পড়ে তার সেই নীতি কীভাবে ফিকে হয়ে যায়, সেটিই সাবলীলভাবে দেখানো হয়েছে ‘মাস্টার’ সিনেমায়।রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ও প্রযোজিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ নিয়ে আসা একজন আদর্শবান শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতা ও আপসের যাতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, তা নিয়েই এগিয়েছে ‘মাস্টার’-এর গল্প। আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ, তাসনুভা তামান্না প্রমুখ।লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা সুমিত। তিনি বলেন, ‘লুকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই অর্জন মাস্টার সিনেমাটির সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে এ বছর বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। এতগুলো দুর্দান্ত কাজের মাঝে আমার টিমের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করার জন্য বিচারকমণ্ডলীর কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে সেরা নির্বাচিত হয় ‘মাস্টার’। নির্মাতা সুমিত জানিয়েছেন, সিনেমাটি দেশের দর্শকদের দেখানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

০৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পদার্থ বিজ্ঞানের বন্ধনে, প্রাক্তনদের মিলনে- আগামীর পথে একসাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়।এদিন সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের হলরুমে গিয়ে অ্যালামনাই ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সচিব মাসুম বেগ, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক সাব্বির হাসান পল সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। দিনব্যাপী ওই পুনর্মিলনীকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

আব্দুস সাত্তার:নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

২০ আগস্ট ২০২৬
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

মোস্তফা কামাল নান্নু: এক সময় ব্যাট হাতে মাঠ মাতানো ক্রিকেটার ইকবাল খান এখন শয্যাশায়ী। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দুই পায়ে স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কথা বলাও। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। এর মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এখন বৃদ্ধ বাবা-মা, বন্ধু ও স্বজনরাই তাঁর একমাত্র ভরসা।ইকবাল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রতন খানের ছেলে। এক সময় বিকেল হলেই ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে ছুটতেন তিনি। ক্রিকেট ও ফুটবলে পারদর্শী ইকবালের খেলা দেখতে গ্রামের মানুষ ভিড় করতেন। পাশাপাশি ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে করে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইকবাল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। ধারদেনা করে কয়েকবার চিকিৎসা করানো হলেও অর্থের অভাবে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে যান। এখন বাড়ির একটি ঘরেই কাটছে তাঁর দিন। কথা বলতে না পারলেও চোখের দৃষ্টিতে নিজের কষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।ইকবালের বাবা রতন খানের বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও চায়ের দোকান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে ওষুধ ও পরিবারের খাবার জোগাড় করেন। ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করতে করতে নিঃস্ব পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বসতভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। ইকবালের বন্ধু ও স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তাঁকে সহায়তা করেছেন। তবে চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়।পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ইকবাল তাঁর বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। মেধাবী ও বিনয়ী এই তরুণের এমন অবস্থা দেখে কষ্ট হয়। তাঁর চিকিৎসায় সরকারি ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, ইকবালের অসুস্থতার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তাঁকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।ইকবাল এখন শুধু চিকিৎসা ও মানুষের সহযোগিতা চান। তাঁর পরিবারের আশা, সহায়তা পেলে আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন তিনি।

১৯ আগস্ট ২০২৬
অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন