সর্বশেষ
টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি ২৭ মিনিট আগে

টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান ওই দণ্ডাদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল গফুর (৪২) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মালেঙ্গা (জোয়াহের আলীর চালা) গ্রামের মৃত কানছু সেখের ছেলে।টাঙ্গাইলের পিপি অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে আব্দুল গফুরের সাথে ঘাটাইলের মাকড়াই গ্রামের মৃত কোপাত আলীর মেয়ে সেলিনা খাতুনের বিয়ে হয়। পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত। বিগত ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় সেলিনা নিখোঁজ হন। পরদিন ২১ নভেম্বর বিকালে মাকড়াই গ্রামের একটি জঙ্গলের ড্রেন থেকে সেলিনার মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। পারিবারিক কলহের জের ধরে সেলিনা খাতুনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী আব্দুল গফুর।এ ঘটনায় সেলিনার ভাই আব্দুল মান্নান ২২ নভেম্বর ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ গফুরকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। একই বছর ৩১ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ।বিচার শেষে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জোবায়ের হোসেন জয়।

পৌজান বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ছয় দোকান ভস্মীভুত
ছবি ২ ঘণ্টা আগে

পৌজান বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ছয় দোকান ভস্মীভুত

কালিহাতী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভুত হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের পৌজান বাজারে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানায়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে বাজারের সজল চন্দ্র সাহা ও গৌতম কুমার দেবের মুরগির ফিডের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডে সজল চন্দ্র সাহা ও গৌতম কুমার দেবের মুরগির ফিডের দোকান, বাবুর টেলিভিশন মেকানিকের দোকান, আব্দুল কাদেরের জুতার দোকান, রাজীব কুমারের সেলুন, সোহেল রানার মুরগির ফিডের দোকান এবং সাধন চন্দ্র সাহার মনোহরি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে কালিহাতী ও এলেঙ্গা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- ছয়টি দোকান ভস্মীভুত হয়ে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এ বিষয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান জানান, তারা রাত ১২টা ৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। ফায়ার সার্ভিসের এক ইউনিটে আটজন সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ আরও যাচাই করা হচ্ছে।

দুর্গম শুশুয়াচরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ছবি ২২ আগস্ট ২০২৬

দুর্গম শুশুয়াচরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের দুর্গম শুশুয়াচরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(২২ আগস্ট) দিনব্যাপী যমুনা নদীর চরাঞ্চল ভূঞাপুরের অর্জুণা ইউনিয়নের শুশুয়াচরে হিউম্যান কনসার্ন আমেরিকার উদ্যোগে ওই মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশুদের অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমে সাধারণ রোগ, নারী ও শিশু রোগ, চর্ম ও যৌন রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ওজন পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।এদিন দুপুরে দুর্গম শুশুয়াচরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার সামি হামদি, হিউম্যান কনসাল্ট ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল সিইও মাহমুদা খান, হিউম্যান কনসার্ন আমেরিকার সিইও মাসুম মাহবুব। এসময় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ৭০ বছরের বৃদ্ধ বছির খা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা হাতের পাখনায় ব্যথায় ভুগছি। ডাক্তার দেখানোর জন্য নৌকাপাড়ি দিয়ে ভূঞাপুর কিংবা সিরাজগঞ্জ যেতে হয়। আজকে এখানে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখলাম এবং ওষুধ পেলাম। খুব ভালো লাগছে।৬০ বছরের বৃদ্ধা জরিনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোমরও পায়ের ব্যাথা রয়েছে। টাকার অভাবে শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারি নাই। আজকে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখলাম। একইসঙ্গে ওষুধও দেওয়া হয়েছে।মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সোনিয়া ইসলাম ফারিন বলেন, ২-৩ বছর ধরে আমি কোমর ও পেটের ব্যথায় ভুগছি। কোনো ডাক্তার দেখিয়েও ব্যথা কমেনি- তাই আজকে এখানে ডাক্তার দেখাতে এসেছি।হিউম্যান কনসার্ন আমেরিকার সিইও মাসুম মাহবুব বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ। ভূঞাপুর উপজেলার দুর্গম চরের গ্রামগুলোতে তেমন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই। সে হিসেবে আমরা চিন্তা করলাম কীভাবে এসব মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া যায়। তারই ধারাবাহিকতায় ভূঞাপুরে দুর্গমচরে ৪টি গ্রামে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। প্রথমদিন আজকে চরশুশুয়া গ্রামের ৩০০ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।

‘আটিয়া বন অধ্যাদেশ’ বাতিল করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
রাজনীতি ২২ আগস্ট ২০২৬

‘আটিয়া বন অধ্যাদেশ’ বাতিল করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি বলেছেন, আটিয়া বন অধ্যাদেশ ৮২’র একটি কালো আইন। এই আইন বাতিল করার জন্য আমি বন ও পরিবেশ মন্ত্রীকে বলেছি, বারবার বলব; বহুবার সংসদে বলেছি। যতবার সুযোগ পাবো ততবারই সংসদে বলবো, এই কালো আইন বাতিল করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। বন বিভাগের লোকজন আপনারা আপনাদের কাজ করবেন জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ঐতিহ্যবাহী তালতলা চত্বরে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, এ সরকার সিল মেরে, রাতে ভোট দিয়ে, জোর করে নির্বাচিত হয় নাই- জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তন করতে পেরেছি। তাই জনগণের চোখের ভাষা বুঝে জনগণকে ভালবেসে তার কাজ করে দিতে হবে। আপনারা জনগণকে ভালোবাসবেন আমি জনগণের উন্নয়ন করব। কেউ দখলদারি চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হবেন না।তিনি বন বিভাগের লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সখীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরকার শহীদ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিমুদ্দিন মাস্টার, সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মাস্টার, টাঙ্গাইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম ঝলক, সদস্য সচিব সালহে মোহাম্মদ শাফী ইথেন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হাসান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ডালিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম সিকদার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বুলবুল আহমেদ প্রমুখ।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
জাতীয়

শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

দৃষ্টি নিউজ:গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে তিনি এ শপথ গ্রহণ করেন। নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, অন্তবর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা।এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি কূটনীতিক, তিন বাহিনী প্রধান, সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে বাজানো হয় জাতীয় সংগীত। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় শপথের মূল আনুষ্ঠানিকতা। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।রাষ্ট্রপতির শপথ ও নতুন মন্ত্রীদের শপথকে কেন্দ্র করে পুরো বঙ্গভবন এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। মূলভবনসহ পুরো বঙ্গভবন এলাকা নতুন সাজে সাজানো হয়।নিরাপত্তার স্বার্থে বঙ্গভবন ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পোশাকে ও সাদা পোশাকে নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের নির্দিষ্ট পাস ও কয়েক দফা গাড়ি চেকিংয়ের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়েছে।

২১ আগস্ট ২০২৬

৯০ ভোট জেনেও কেন অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী!

দৃষ্টি নিউজ:রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট না থাকার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও অলি আহমদকে সরিয়ে নেয়নি জোট। বরং ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।জামায়াত নেতাদের বক্তব্য, এই নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের প্রার্থী থাকা এবং সংসদ সদস্যদের ভোটে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। অলি আহমদের প্রার্থিতার বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ইতোমধ্যে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।তিনি বলেন, ১১ দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চার ধারা তৈরির জন্য। তার ভাষায়, এখানে জয়-পরাজয় মুখ্য নয়; প্রতিদ্বন্দ্বিতাই মূল বিষয়।জামায়াতের এই নেতা বলেন, অতীতে সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিত। এবার সেই ধারার বাইরে গিয়ে ১১ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী থাকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।অলি আহমদের প্রার্থিতা নিয়ে জামায়াতের আরেকটি যুক্তি হলো, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ থাকলে নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেন, গণভোটের রায় কার্যকর হলে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ পেতেন এবং সেক্ষেত্রে অলি আহমাদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন।জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও বলা হচ্ছে, এই নির্বাচন শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সংসদে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান জানান দেওয়ার একটি সুযোগ। ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের পাওয়া ভোট ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তাদের শক্তির একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হবে। তবে বাস্তব ভোটের হিসাবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৯০ জন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে রয়েছেন। বিপরীতে বিএনপির রয়েছে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন। ফলে অলি আহমদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এরপরও প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে ভোটে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট।২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের জন্য ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ রেখে তফসিল ঘোষণা করে ইসি। বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাইয়ে বৈধ হলে কোনো প্রার্থীই প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ভোটগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

২০ আগস্ট ২০২৬
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির দূত

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::২০২৬ সালের বিশ্ব রাজনীতি ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চালচিত্র এক গভীর ও অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের তীব্র প্রভাব প্রমাণ করেছে সনাতন ধারার আবেগসর্বস্ব ও স্লোগানভিত্তিক রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ কার্যকারিতা হারিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার, জলবায়ু বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক নব্য-বাস্তবতার এই যুগে বাংলাদেশের টিকে থাকা এবং এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে সম্পূর্ণ নতুন এক রাজনৈতিক দর্শনের ওপর। বর্তমান বাস্তবতায় আবেগ নয় বরং বিজ্ঞানমনস্ক, দূরদর্শী এবং গবেষণানির্ভর ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা’-ই সংকটের গোলকধাঁধা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চলছে তীব্র মেরুকরণ। পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যুদ্ধ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক প্রভাবের বাইরে নয়। এই অবস্থায় কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন গভীর কৌশলগত বিশ্লেষণ, দক্ষ কূটনীতি এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি নির্ধারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়াতে হলে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে গবেষণালব্ধ। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের প্রচলিত কর্মসংস্থান কাঠামোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সনাতন শ্রমশক্তির ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার দিন শেষ। এখন প্রয়োজন মেধা-ভিত্তিক অর্থনীতি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে জাতি হিসেবে আমরা এক বিশাল বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুখে পড়ব। বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা এখানে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কারিগরি দক্ষতার উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল তৈরিতে পথ দেখাবে। তদুপরি, মহামারী-উত্তর অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আমাদের নব্য-বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাজার নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে বৈদেশিক ঋণের ব্যবস্থাপনা- সব ক্ষেত্রেই আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি খাতের নীতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রতিফলন এবং ডেটা-চালিত (data-driven) সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।চলতি ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং প্রযুক্তি, তথ্য ও অর্থনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ধারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের সস্তা শ্রমের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে মেধা ও দক্ষতার ওপর জোর দিতে হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জেনারেটিভ এআই এবং রোবোটিক অটোমেশনের কারণে শ্রমবাজার দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। যে সব দেশ প্রযুক্তির এই গতিপ্রকৃতি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে- তারা তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ছে। দেশের ভেতরে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে তুঙ্গে। সমকালীন তরুণ সমাজ সস্তা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবমুখী ও প্রায়োগিক রূপরেখা দেখতে চায়।টেকসই উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মেধাভিত্তিক ও তথ্য-উপাত্তনির্ভর রোডম্যাপের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান তিনটি চালিকাশক্তির নিরিখে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যেতে পারে- ক) আইটি সেক্টর: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও মেধার বিশ্বায়নে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিনির্ভর। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) সাম্প্রতিক সমীক্ষা ও ২০২৬ সালের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও করপোরেট খাতের প্রায় ২৫% মধ্যম সারির চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়বে, যদি না আমরা দ্রুত দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারি। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেঙ্গালুরু যেখানে বার্ষিক আইটি রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি এখনো ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বৃত্তে আটকে আছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০,০০০ আইটি গ্র্যাজুয়েট বের হলেও, বৈশ্বিক চাহিদার সাথে কারিকুলামের অমিলের কারণে প্রায় ৪২% গ্র্যাজুয়েট সরাসরি আন্তর্জাতিক মানের কাজ পাওয়ার যোগ্যতা হারাচ্ছেন। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় এজেন্ডায় এআই গভর্ন্যান্স, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং সেমিকন্ডাক্টর মাইক্রোচিপ ডিজাইনে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি। ভারতের আইআইটি (IIT) বা সিলিকন ভ্যালির আদলে বিশেষায়িত টেক-হাব তৈরি করে তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং থেকে উদ্যোক্তায় রূপান্তর করার মহাপরিকল্পনা নিতে হবে।খ) বৈদেশিক রেমিট্যান্স: বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রধানতম উৎস হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। তবে গত কয়েক দশক ধরে অনুসৃত ‘শুধু অদক্ষ শ্রমিক’ পাঠানোর কৌশল ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো (যেমন- সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০) এখন মেগা সিটি, পর্যটন ও হাই-টেক প্রজেক্টের দিকে ঝুঁঁকছে, যার ফলে সেখানে সাধারণ নির্মাণ শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত কমছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি দিলেও তাদের প্রায় ৭৫% থেকে ৮০% সম্পূর্ণ অদক্ষ। ফলে ফিলিপাইন বা শ্রীলঙ্কার একজন দক্ষ নার্স, প্রকৌশলী বা আইটি কর্মী যেখানে প্রতি মাসে গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ডলার দেশে পাঠান, সেখানে একজন বাংলাদেশি সাধারণ শ্রমিক কঠোর পরিশ্রম করেও পাঠাতে পারেন মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার। আমাদের রেমিট্যান্স নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নার্সিং, কেয়ার-গিভিং, আধুনিক ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রযুক্তিতে ডিপ্লোমাধারী দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করতে হবে। মেধাভিত্তিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন নতুন উন্নত দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করাই হবে আগামী দিনের রেমিট্যান্স সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। মুদ্দা কথা, অদক্ষ শ্রমের অবসান করে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।গ) কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। অসময়ী বন্যা, দীর্ঘায়িত খরা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ দেশের খাদ্য উৎপাদনকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছর দেশে আবাদি কৃষি জমি কমছে প্রায় ০.৫% হারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, স্মার্ট ও প্রিসিশন এগ্রিকালচার (Precision Agriculture) তথা প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে প্রবর্তন না করলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে প্রধান দানাদার শস্যের উৎপাদন ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এটি ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁঁকিতে ফেলবে। নেদারল্যান্ডসের মতো একটি ক্ষুদ্র দেশ যেখানে শুধু বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, গ্রিনহাউস প্রযুক্তি এবং ডাটানির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, আমাদেরও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, আইওটি (IoT) সেন্সর দিয়ে মাটির আর্দ্রতা মাপা এবং লবণাক্ততা ও খরা-সহিষ্ণু হাইব্রিড জাতের বীজ উদ্ভাবনে গবেষণাগারে বরাদ্দ দ্বিগুণ করতে হবে। রাজনীতি কেবল ক্ষমতা কেন্দ্রিক কৌশল বা জনসভার সস্তা করতালির মাধ্যম নয়; আধুনিক যুগে রাজনীতি হলো রাষ্ট্রপরিচালনা ও জনকল্যাণের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনটি বুদ্ধিবৃত্তিক স্তম্ভ অত্যন্ত জরুরি। যেমন- ১. থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতি (গবেষণা ও তথ্যনির্ভর পলিসি), ২. যাগ্যতার মূল্যায়ন (মেধাবীদের নীতি-নির্ধারণে আনা) এবং ৩. প্রযুক্তি-বান্ধব সুশাসন (দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল সেবা)। থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতির বিকাশ: রাজনৈতিক দলগুলোকে পেশী শক্তি ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা উইং বা ‘থিঙ্ক-ট্যাংক’ গড়ে তুলতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিদদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় পলিসি খসড়া তৈরি করতে হবে। যোগ্যতার মূল্যায়ন (Meritocracy): নীতিনির্ধারণী ও সংসদীয় পর্যায়ে চাটুকারিতা কিংবা আর্থিক লেনদেনের বদলে খাঁটি মেধা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হলে রাষ্ট্র পরিচালনার চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ সুশাসন: সরকারি ও প্রশাসনিক সব ধরনের সেবা সম্পূর্ণভাবে ব্লকচেইন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে একদিকে যেমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ হবে। এই রূপান্তরের জন্য তীব্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাহসের প্রয়োজন।বর্তমানে জটিল ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অর্থনৈতিক সমীকরণের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আবেগ কিংবা তাৎক্ষণিক লোকদেখানো সস্তা সিদ্ধান্ত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকট দূর করা অসম্ভব। অতীতে ভুল পরিকল্পনার মাশুল এই জাতিকে বহু বছর ধরে গুনতে হয়েছে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য সুনিশ্চিত করতে হলে আমাদের রাজনীতিকে হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক এবং রাষ্ট্রপরিচালনাকে হতে হবে দূরদর্শী ও বিজ্ঞানমনস্ক। মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং সুপরিকল্পিত রোডম্যাপের মাধ্যমেই বাংলাদেশ একটি স্বাবলম্বী, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে। তাই সময় ও ইতিহাসের অমোঘ দাবি মেনে দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়- চলমান সব সংকটের আবর্তে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির একমাত্র দূত’।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

২০ আগস্ট ২০২৬
বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির দূত

বিন্না ঘাস বা ছন কী ও কেন এ নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের

দৃষ্টি ডেস্ক:বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে, পতিত জমি কিংবা চরাঞ্চলে অনায়াসে বেড়ে ওঠে এক ধরনের লম্বা ঘাস। নাম বিন্না ঘাস, যার পরিচিতি ভেটিভার নামেও। এতদিন পথের ধারে কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে পড়ে থাকা এই ঘাসই এবার নদীভাঙন, মাটির ক্ষয়, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন অবকাঠামো রক্ষায় বড় পরিসরে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মাটি শক্তভাবে আটকে থাকে এবং বৃষ্টির পানি বা স্রোতের কারণে মাটির ক্ষয় কমে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ঢাল, নদীর তীর, রাস্তার পাশ ও বাঁধ রক্ষায় এই ঘাস ব্যবহার করা হয়।এ কারণেই বাংলাদেশে কোন কোন প্রকল্পে বিন্না ঘাস ব্যবহার করা সম্ভব, তা যাচাই করতে সরকার টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে এই ঘাস ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম প্রায় দুই দশক ধরে বিন্না ঘাস নিয়ে গবেষণা করছেন। সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত এই গবেষক মনে করেন, প্রকৌশলগতভাবে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা গেলে বিন্না ঘাস সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে মাটির ক্ষয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।অধ্যাপক শরীফুল ইসলামের গবেষণা অনুযায়ী, বিন্না ঘাসের শিকড় অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা দুই থেকে চার মিটার পর্যন্ত মাটির গভীরে যেতে পারে। এই শিকড় মাটির কণাগুলোকে শক্তভাবে আটকে রাখে। ফলে ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশের মাটি সহজে ধসে পড়তে পারে না।বাংলাদেশে বিন্না ঘাস বেন্না ঘাস, খসখস কিংবা ছন নামেও পরিচিত। এটি একটি বহুবর্ষজীবী ঘাস। লম্বা ও সরু পাতার এই ঘাস ঘন ঝোপের মতো বেড়ে ওঠে এবং সাধারণত দেড় থেকে তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদের মতে, দেখতে সাধারণ হলেও বিন্না ঘাসের শিকড়ের কার্যকারিতা অসাধারণ। মাটির নিচে এর শিকড় জালের মতো ছড়িয়ে গিয়ে ভূমির বিভিন্ন স্তরকে ধরে রাখে। এ কারণেই ভূমিক্ষয় ও পাহাড়ধস ঠেকাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।শুধু মাটি ও অবকাঠামো রক্ষাই নয়, বিন্না ঘাসের অর্থনৈতিক ব্যবহারও রয়েছে। এর শিকড় থেকে সুগন্ধযুক্ত তেল পাওয়া যায়। সুগন্ধি, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সুগন্ধি পণ্য তৈরিতে এই তেল ব্যবহার করা হয়।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরেই ভেটিভার বা বিন্না ঘাসকে ভূমিক্ষয় নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে নদীর তীর, রাস্তার ঢাল, বাঁধ, পাহাড়ি এলাকা ও কৃষিজমি রক্ষায় এর ব্যবহার রয়েছে। দ্য ভেটিভার নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনালও ঢাল স্থিতিশীলতা ও ভূমিক্ষয় রোধে ভেটিভার ব্যবহারের জন্য প্রকৌশলভিত্তিক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।গবেষকদের মতে, বিন্না ঘাস লাগানোর কয়েক মাসের মধ্যেই এর শিকড় মাটির গভীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বৃষ্টির সময় ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশ দিয়ে পানির স্রোত নামার সময় শিকড়গুলো মাটিকে ধরে রেখে ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চরম ঠান্ডা থেকে প্রচণ্ড গরম-বিভিন্ন ধরনের পরিবেশেও এই ঘাস টিকে থাকতে পারে। বাংলাদেশে বিন্না ঘাসের ওপর দীর্ঘদিনের গবেষণায় ভূমিক্ষয়, পাহাড়ধস ও বাঁধ রক্ষায় এর সম্ভাবনা নিয়ে একাধিক কাজ হয়েছে।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সব জায়গায় বিন্না ঘাস দিয়ে বাঁধ বা মাটি রক্ষা করা সম্ভব নয়। খরস্রোতা নদীর তীব্র স্রোতের মুখে থাকা বাঁধে শুধু বিন্না ঘাস যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ, কংক্রিট ব্লক, রড বা অন্যান্য প্রকৌশলগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে পাহাড়ের ঢাল, রাস্তার পাশ, খালের পাড় কিংবা অপেক্ষাকৃত কম স্রোতের এলাকায় এটি কার্যকর হতে পারে।এই ঘাস ব্যবহারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো কম খরচ। প্রচলিত রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ব্লক বা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার অনেক সাশ্রয়ী হতে পারে বলে গবেষকদের দাবি। একই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাবও তুলনামূলক কম।বাংলাদেশে বিন্না ঘাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পেছনে রয়েছে নদীভাঙন, খাল রক্ষা ও অবকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের পাশাপাশি খালের পাড়, নদীর তীর, বাঁধ ও রাস্তার মাটি ক্ষয় থেকে রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।গত ৬ আগস্ট সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বিন্না ঘাসকে কংক্রিট ব্লক ও জিও-ব্লকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। নদী ও খালের পাড়, উপকূলীয় বাঁধ, চর ও হাওর এলাকার রাস্তা এবং সড়ক ও রেলপথের পাশের মাটি রক্ষায় এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বিন্না ঘাস ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এসব ফলাফলের ভিত্তিতে এখন বড় পরিসরে প্রকল্প নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবিত ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে নদীর তীর ও খালের পাড়ের ক্ষয়রোধ, উপকূলীয় বাঁধ সুরক্ষা, চর ও হাওর এলাকার রাস্তা স্থিতিশীল রাখা, পাহাড়ি ঢাল রক্ষা এবং সড়ক ও রেলপথের পাশের মাটি ক্ষয় কমানো। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রকল্পেও পর্যায়ক্রমে এর ব্যবহার বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।বুয়েটের গবেষকদের দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং দেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ইতিবাচক ফলের পর এবার সরকারি পর্যায়ে বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এতদিন মাঠে-ঘাটে অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই সাধারণ ঘাসই এখন বাংলাদেশের নদী, পাহাড়, বাঁধ ও সড়ক রক্ষায় একটি সাশ্রয়ী ‘প্রাকৃতিক প্রযুক্তি’ হিসেবে নতুন গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে।সূত্র: বিবিসি

২০ আগস্ট ২০২৬
বিন্না ঘাস বা ছন কী ও কেন এ নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের

প্রতিটি মানুষের কাছে টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দিতে হবে: আইসিটি মন্ত্রী

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত ও মানসম্মত মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল অপারেটর রবি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি। বুধবার(১৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবি’র করপোরেট কার্যালয়ে ‘ঢাকা নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন- শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রাম পর্যায়ে উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নয়নে মোবাইল অপারেটরদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এসব উদ্যোগের সুফল যেন সরাসরি সাধারণ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা মডার্নাইজেশন প্রকল্পের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সারাদেশের গ্রাহকরাও একই ধরনের উন্নত সেবা পাবেন।গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কল ড্রপ, প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়া, ডাটা ও ব্যালান্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের আরও কার্যকর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্যাকেজের শর্ত, মেয়াদ এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা একা সবকিছু করতে পারে না; শিল্পখাতের সবাইকে একটি টিম হিসেবে কাজ করতে হবে। গত ছয় মাসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করা হয়েছে।উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ মোবাইল অপারেটরদের ডেটা প্যাকেজের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাদারা এবং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।রবির তথ্যমতে, বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে, কল ড্রপ ২০ শতাংশ কমেছে এবং বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরে ইনডোর কভারেজ ও সংযোগ আগের তুলনায় তিন গুণ উন্নত হয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্কের কারণে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচও ২০ শতাংশ কমেছে।

১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রতিটি মানুষের কাছে টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দিতে হবে: আইসিটি মন্ত্রী

টাঙ্গাইল এর আঞ্চলিক খবর

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির দূত

বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির দূত

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::২০২৬ সালের বিশ্ব রাজনীতি ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চালচিত্র এক গভীর ও অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের তীব্র প্রভাব প্রমাণ করেছে সনাতন ধারার আবেগসর্বস্ব ও স্লোগানভিত্তিক রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ কার্যকারিতা হারিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার, জলবায়ু বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক নব্য-বাস্তবতার এই যুগে বাংলাদেশের টিকে থাকা এবং এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে সম্পূর্ণ নতুন এক রাজনৈতিক দর্শনের ওপর। বর্তমান বাস্তবতায় আবেগ নয় বরং বিজ্ঞানমনস্ক, দূরদর্শী এবং গবেষণানির্ভর ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা’-ই সংকটের গোলকধাঁধা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চলছে তীব্র মেরুকরণ। পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যুদ্ধ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক প্রভাবের বাইরে নয়। এই অবস্থায় কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন গভীর কৌশলগত বিশ্লেষণ, দক্ষ কূটনীতি এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি নির্ধারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়াতে হলে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে গবেষণালব্ধ। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের প্রচলিত কর্মসংস্থান কাঠামোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সনাতন শ্রমশক্তির ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার দিন শেষ। এখন প্রয়োজন মেধা-ভিত্তিক অর্থনীতি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে জাতি হিসেবে আমরা এক বিশাল বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুখে পড়ব। বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা এখানে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কারিগরি দক্ষতার উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল তৈরিতে পথ দেখাবে। তদুপরি, মহামারী-উত্তর অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আমাদের নব্য-বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাজার নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে বৈদেশিক ঋণের ব্যবস্থাপনা- সব ক্ষেত্রেই আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি খাতের নীতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রতিফলন এবং ডেটা-চালিত (data-driven) সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।চলতি ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং প্রযুক্তি, তথ্য ও অর্থনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ধারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের সস্তা শ্রমের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে মেধা ও দক্ষতার ওপর জোর দিতে হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জেনারেটিভ এআই এবং রোবোটিক অটোমেশনের কারণে শ্রমবাজার দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। যে সব দেশ প্রযুক্তির এই গতিপ্রকৃতি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে- তারা তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ছে। দেশের ভেতরে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে তুঙ্গে। সমকালীন তরুণ সমাজ সস্তা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবমুখী ও প্রায়োগিক রূপরেখা দেখতে চায়।টেকসই উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মেধাভিত্তিক ও তথ্য-উপাত্তনির্ভর রোডম্যাপের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান তিনটি চালিকাশক্তির নিরিখে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যেতে পারে- ক) আইটি সেক্টর: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও মেধার বিশ্বায়নে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিনির্ভর। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) সাম্প্রতিক সমীক্ষা ও ২০২৬ সালের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও করপোরেট খাতের প্রায় ২৫% মধ্যম সারির চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়বে, যদি না আমরা দ্রুত দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারি। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেঙ্গালুরু যেখানে বার্ষিক আইটি রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি এখনো ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বৃত্তে আটকে আছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০,০০০ আইটি গ্র্যাজুয়েট বের হলেও, বৈশ্বিক চাহিদার সাথে কারিকুলামের অমিলের কারণে প্রায় ৪২% গ্র্যাজুয়েট সরাসরি আন্তর্জাতিক মানের কাজ পাওয়ার যোগ্যতা হারাচ্ছেন। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় এজেন্ডায় এআই গভর্ন্যান্স, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং সেমিকন্ডাক্টর মাইক্রোচিপ ডিজাইনে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি। ভারতের আইআইটি (IIT) বা সিলিকন ভ্যালির আদলে বিশেষায়িত টেক-হাব তৈরি করে তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং থেকে উদ্যোক্তায় রূপান্তর করার মহাপরিকল্পনা নিতে হবে।খ) বৈদেশিক রেমিট্যান্স: বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রধানতম উৎস হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। তবে গত কয়েক দশক ধরে অনুসৃত ‘শুধু অদক্ষ শ্রমিক’ পাঠানোর কৌশল ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো (যেমন- সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০) এখন মেগা সিটি, পর্যটন ও হাই-টেক প্রজেক্টের দিকে ঝুঁঁকছে, যার ফলে সেখানে সাধারণ নির্মাণ শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত কমছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি দিলেও তাদের প্রায় ৭৫% থেকে ৮০% সম্পূর্ণ অদক্ষ। ফলে ফিলিপাইন বা শ্রীলঙ্কার একজন দক্ষ নার্স, প্রকৌশলী বা আইটি কর্মী যেখানে প্রতি মাসে গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ডলার দেশে পাঠান, সেখানে একজন বাংলাদেশি সাধারণ শ্রমিক কঠোর পরিশ্রম করেও পাঠাতে পারেন মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার। আমাদের রেমিট্যান্স নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নার্সিং, কেয়ার-গিভিং, আধুনিক ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রযুক্তিতে ডিপ্লোমাধারী দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করতে হবে। মেধাভিত্তিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন নতুন উন্নত দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করাই হবে আগামী দিনের রেমিট্যান্স সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। মুদ্দা কথা, অদক্ষ শ্রমের অবসান করে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।গ) কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। অসময়ী বন্যা, দীর্ঘায়িত খরা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ দেশের খাদ্য উৎপাদনকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছর দেশে আবাদি কৃষি জমি কমছে প্রায় ০.৫% হারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, স্মার্ট ও প্রিসিশন এগ্রিকালচার (Precision Agriculture) তথা প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে প্রবর্তন না করলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে প্রধান দানাদার শস্যের উৎপাদন ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এটি ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁঁকিতে ফেলবে। নেদারল্যান্ডসের মতো একটি ক্ষুদ্র দেশ যেখানে শুধু বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, গ্রিনহাউস প্রযুক্তি এবং ডাটানির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, আমাদেরও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, আইওটি (IoT) সেন্সর দিয়ে মাটির আর্দ্রতা মাপা এবং লবণাক্ততা ও খরা-সহিষ্ণু হাইব্রিড জাতের বীজ উদ্ভাবনে গবেষণাগারে বরাদ্দ দ্বিগুণ করতে হবে। রাজনীতি কেবল ক্ষমতা কেন্দ্রিক কৌশল বা জনসভার সস্তা করতালির মাধ্যম নয়; আধুনিক যুগে রাজনীতি হলো রাষ্ট্রপরিচালনা ও জনকল্যাণের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনটি বুদ্ধিবৃত্তিক স্তম্ভ অত্যন্ত জরুরি। যেমন- ১. থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতি (গবেষণা ও তথ্যনির্ভর পলিসি), ২. যাগ্যতার মূল্যায়ন (মেধাবীদের নীতি-নির্ধারণে আনা) এবং ৩. প্রযুক্তি-বান্ধব সুশাসন (দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল সেবা)। থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতির বিকাশ: রাজনৈতিক দলগুলোকে পেশী শক্তি ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা উইং বা ‘থিঙ্ক-ট্যাংক’ গড়ে তুলতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিদদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় পলিসি খসড়া তৈরি করতে হবে। যোগ্যতার মূল্যায়ন (Meritocracy): নীতিনির্ধারণী ও সংসদীয় পর্যায়ে চাটুকারিতা কিংবা আর্থিক লেনদেনের বদলে খাঁটি মেধা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হলে রাষ্ট্র পরিচালনার চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ সুশাসন: সরকারি ও প্রশাসনিক সব ধরনের সেবা সম্পূর্ণভাবে ব্লকচেইন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে একদিকে যেমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ হবে। এই রূপান্তরের জন্য তীব্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাহসের প্রয়োজন।বর্তমানে জটিল ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অর্থনৈতিক সমীকরণের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আবেগ কিংবা তাৎক্ষণিক লোকদেখানো সস্তা সিদ্ধান্ত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকট দূর করা অসম্ভব। অতীতে ভুল পরিকল্পনার মাশুল এই জাতিকে বহু বছর ধরে গুনতে হয়েছে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য সুনিশ্চিত করতে হলে আমাদের রাজনীতিকে হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক এবং রাষ্ট্রপরিচালনাকে হতে হবে দূরদর্শী ও বিজ্ঞানমনস্ক। মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং সুপরিকল্পিত রোডম্যাপের মাধ্যমেই বাংলাদেশ একটি স্বাবলম্বী, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে। তাই সময় ও ইতিহাসের অমোঘ দাবি মেনে দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়- চলমান সব সংকটের আবর্তে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির একমাত্র দূত’।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

২০ আগস্ট ২০২৬

বিন্না ঘাস বা ছন কী ও কেন এ নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের

দৃষ্টি ডেস্ক:বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে, পতিত জমি কিংবা চরাঞ্চলে অনায়াসে বেড়ে ওঠে এক ধরনের লম্বা ঘাস। নাম বিন্না ঘাস, যার পরিচিতি ভেটিভার নামেও। এতদিন পথের ধারে কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে পড়ে থাকা এই ঘাসই এবার নদীভাঙন, মাটির ক্ষয়, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন অবকাঠামো রক্ষায় বড় পরিসরে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মাটি শক্তভাবে আটকে থাকে এবং বৃষ্টির পানি বা স্রোতের কারণে মাটির ক্ষয় কমে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ঢাল, নদীর তীর, রাস্তার পাশ ও বাঁধ রক্ষায় এই ঘাস ব্যবহার করা হয়।এ কারণেই বাংলাদেশে কোন কোন প্রকল্পে বিন্না ঘাস ব্যবহার করা সম্ভব, তা যাচাই করতে সরকার টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে এই ঘাস ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম প্রায় দুই দশক ধরে বিন্না ঘাস নিয়ে গবেষণা করছেন। সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত এই গবেষক মনে করেন, প্রকৌশলগতভাবে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা গেলে বিন্না ঘাস সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে মাটির ক্ষয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।অধ্যাপক শরীফুল ইসলামের গবেষণা অনুযায়ী, বিন্না ঘাসের শিকড় অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা দুই থেকে চার মিটার পর্যন্ত মাটির গভীরে যেতে পারে। এই শিকড় মাটির কণাগুলোকে শক্তভাবে আটকে রাখে। ফলে ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশের মাটি সহজে ধসে পড়তে পারে না।বাংলাদেশে বিন্না ঘাস বেন্না ঘাস, খসখস কিংবা ছন নামেও পরিচিত। এটি একটি বহুবর্ষজীবী ঘাস। লম্বা ও সরু পাতার এই ঘাস ঘন ঝোপের মতো বেড়ে ওঠে এবং সাধারণত দেড় থেকে তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদের মতে, দেখতে সাধারণ হলেও বিন্না ঘাসের শিকড়ের কার্যকারিতা অসাধারণ। মাটির নিচে এর শিকড় জালের মতো ছড়িয়ে গিয়ে ভূমির বিভিন্ন স্তরকে ধরে রাখে। এ কারণেই ভূমিক্ষয় ও পাহাড়ধস ঠেকাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।শুধু মাটি ও অবকাঠামো রক্ষাই নয়, বিন্না ঘাসের অর্থনৈতিক ব্যবহারও রয়েছে। এর শিকড় থেকে সুগন্ধযুক্ত তেল পাওয়া যায়। সুগন্ধি, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সুগন্ধি পণ্য তৈরিতে এই তেল ব্যবহার করা হয়।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরেই ভেটিভার বা বিন্না ঘাসকে ভূমিক্ষয় নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে নদীর তীর, রাস্তার ঢাল, বাঁধ, পাহাড়ি এলাকা ও কৃষিজমি রক্ষায় এর ব্যবহার রয়েছে। দ্য ভেটিভার নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনালও ঢাল স্থিতিশীলতা ও ভূমিক্ষয় রোধে ভেটিভার ব্যবহারের জন্য প্রকৌশলভিত্তিক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।গবেষকদের মতে, বিন্না ঘাস লাগানোর কয়েক মাসের মধ্যেই এর শিকড় মাটির গভীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বৃষ্টির সময় ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশ দিয়ে পানির স্রোত নামার সময় শিকড়গুলো মাটিকে ধরে রেখে ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চরম ঠান্ডা থেকে প্রচণ্ড গরম-বিভিন্ন ধরনের পরিবেশেও এই ঘাস টিকে থাকতে পারে। বাংলাদেশে বিন্না ঘাসের ওপর দীর্ঘদিনের গবেষণায় ভূমিক্ষয়, পাহাড়ধস ও বাঁধ রক্ষায় এর সম্ভাবনা নিয়ে একাধিক কাজ হয়েছে।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সব জায়গায় বিন্না ঘাস দিয়ে বাঁধ বা মাটি রক্ষা করা সম্ভব নয়। খরস্রোতা নদীর তীব্র স্রোতের মুখে থাকা বাঁধে শুধু বিন্না ঘাস যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ, কংক্রিট ব্লক, রড বা অন্যান্য প্রকৌশলগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে পাহাড়ের ঢাল, রাস্তার পাশ, খালের পাড় কিংবা অপেক্ষাকৃত কম স্রোতের এলাকায় এটি কার্যকর হতে পারে।এই ঘাস ব্যবহারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো কম খরচ। প্রচলিত রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ব্লক বা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার অনেক সাশ্রয়ী হতে পারে বলে গবেষকদের দাবি। একই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাবও তুলনামূলক কম।বাংলাদেশে বিন্না ঘাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পেছনে রয়েছে নদীভাঙন, খাল রক্ষা ও অবকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের পাশাপাশি খালের পাড়, নদীর তীর, বাঁধ ও রাস্তার মাটি ক্ষয় থেকে রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।গত ৬ আগস্ট সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বিন্না ঘাসকে কংক্রিট ব্লক ও জিও-ব্লকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। নদী ও খালের পাড়, উপকূলীয় বাঁধ, চর ও হাওর এলাকার রাস্তা এবং সড়ক ও রেলপথের পাশের মাটি রক্ষায় এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বিন্না ঘাস ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এসব ফলাফলের ভিত্তিতে এখন বড় পরিসরে প্রকল্প নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবিত ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে নদীর তীর ও খালের পাড়ের ক্ষয়রোধ, উপকূলীয় বাঁধ সুরক্ষা, চর ও হাওর এলাকার রাস্তা স্থিতিশীল রাখা, পাহাড়ি ঢাল রক্ষা এবং সড়ক ও রেলপথের পাশের মাটি ক্ষয় কমানো। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রকল্পেও পর্যায়ক্রমে এর ব্যবহার বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।বুয়েটের গবেষকদের দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং দেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ইতিবাচক ফলের পর এবার সরকারি পর্যায়ে বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এতদিন মাঠে-ঘাটে অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই সাধারণ ঘাসই এখন বাংলাদেশের নদী, পাহাড়, বাঁধ ও সড়ক রক্ষায় একটি সাশ্রয়ী ‘প্রাকৃতিক প্রযুক্তি’ হিসেবে নতুন গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে।সূত্র: বিবিসি

২০ আগস্ট ২০২৬
বিন্না ঘাস বা ছন কী ও কেন এ নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের

প্রতিটি মানুষের কাছে টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দিতে হবে: আইসিটি মন্ত্রী

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত ও মানসম্মত মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল অপারেটর রবি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি। বুধবার(১৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবি’র করপোরেট কার্যালয়ে ‘ঢাকা নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন- শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রাম পর্যায়ে উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নয়নে মোবাইল অপারেটরদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এসব উদ্যোগের সুফল যেন সরাসরি সাধারণ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা মডার্নাইজেশন প্রকল্পের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সারাদেশের গ্রাহকরাও একই ধরনের উন্নত সেবা পাবেন।গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কল ড্রপ, প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়া, ডাটা ও ব্যালান্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের আরও কার্যকর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্যাকেজের শর্ত, মেয়াদ এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা একা সবকিছু করতে পারে না; শিল্পখাতের সবাইকে একটি টিম হিসেবে কাজ করতে হবে। গত ছয় মাসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করা হয়েছে।উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ মোবাইল অপারেটরদের ডেটা প্যাকেজের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাদারা এবং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।রবির তথ্যমতে, বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে, কল ড্রপ ২০ শতাংশ কমেছে এবং বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরে ইনডোর কভারেজ ও সংযোগ আগের তুলনায় তিন গুণ উন্নত হয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্কের কারণে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচও ২০ শতাংশ কমেছে।

১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রতিটি মানুষের কাছে টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দিতে হবে: আইসিটি মন্ত্রী

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

মোস্তফা কামাল নান্নু: এক সময় ব্যাট হাতে মাঠ মাতানো ক্রিকেটার ইকবাল খান এখন শয্যাশায়ী। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দুই পায়ে স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কথা বলাও। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। এর মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এখন বৃদ্ধ বাবা-মা, বন্ধু ও স্বজনরাই তাঁর একমাত্র ভরসা।ইকবাল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রতন খানের ছেলে। এক সময় বিকেল হলেই ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে ছুটতেন তিনি। ক্রিকেট ও ফুটবলে পারদর্শী ইকবালের খেলা দেখতে গ্রামের মানুষ ভিড় করতেন। পাশাপাশি ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে করে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইকবাল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। ধারদেনা করে কয়েকবার চিকিৎসা করানো হলেও অর্থের অভাবে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে যান। এখন বাড়ির একটি ঘরেই কাটছে তাঁর দিন। কথা বলতে না পারলেও চোখের দৃষ্টিতে নিজের কষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।ইকবালের বাবা রতন খানের বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও চায়ের দোকান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে ওষুধ ও পরিবারের খাবার জোগাড় করেন। ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করতে করতে নিঃস্ব পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বসতভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। ইকবালের বন্ধু ও স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তাঁকে সহায়তা করেছেন। তবে চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়।পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ইকবাল তাঁর বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। মেধাবী ও বিনয়ী এই তরুণের এমন অবস্থা দেখে কষ্ট হয়। তাঁর চিকিৎসায় সরকারি ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, ইকবালের অসুস্থতার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তাঁকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।ইকবাল এখন শুধু চিকিৎসা ও মানুষের সহযোগিতা চান। তাঁর পরিবারের আশা, সহায়তা পেলে আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন তিনি।

১৯ আগস্ট ২০২৬
অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

টাঙ্গাইলে খালেদা জিয়ার জন্মদিনে প্রজন্ম দলের দোয়া মাহফিল

দৃষ্টি রিপোর্ট:সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের উদ্যোগে কেককাটা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(১৫ আগস্ট) বিকালে জেলা সদর রোডের লেককর্ণারের অস্থায়ী কার্যালয়ে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইল জেলা শাখার নাসিম এম খান রুনু, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক সোহেল আহমেদ, সদস্য সচিব চঞ্চল চৌধুরী, যুগ্ম-আহ্বায়ক ফেরদৌস আলম, যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম সেলিম সহ জেলা কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠ^ানে প্রথমে কেক কেটে বেগম খালেদা জিয়ার শুভ জন্মদিন উদযাপন করা হয়। পরে মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

১৬ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলে খালেদা জিয়ার জন্মদিনে প্রজন্ম দলের দোয়া মাহফিল
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।
বিনোদন

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

আব্দুস সাত্তার:নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

২০ আগস্ট ২০২৬

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

মোস্তফা কামাল নান্নু: এক সময় ব্যাট হাতে মাঠ মাতানো ক্রিকেটার ইকবাল খান এখন শয্যাশায়ী। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দুই পায়ে স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কথা বলাও। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। এর মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এখন বৃদ্ধ বাবা-মা, বন্ধু ও স্বজনরাই তাঁর একমাত্র ভরসা।ইকবাল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রতন খানের ছেলে। এক সময় বিকেল হলেই ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে ছুটতেন তিনি। ক্রিকেট ও ফুটবলে পারদর্শী ইকবালের খেলা দেখতে গ্রামের মানুষ ভিড় করতেন। পাশাপাশি ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে করে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইকবাল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। ধারদেনা করে কয়েকবার চিকিৎসা করানো হলেও অর্থের অভাবে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে যান। এখন বাড়ির একটি ঘরেই কাটছে তাঁর দিন। কথা বলতে না পারলেও চোখের দৃষ্টিতে নিজের কষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।ইকবালের বাবা রতন খানের বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও চায়ের দোকান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে ওষুধ ও পরিবারের খাবার জোগাড় করেন। ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করতে করতে নিঃস্ব পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বসতভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। ইকবালের বন্ধু ও স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তাঁকে সহায়তা করেছেন। তবে চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়।পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ইকবাল তাঁর বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। মেধাবী ও বিনয়ী এই তরুণের এমন অবস্থা দেখে কষ্ট হয়। তাঁর চিকিৎসায় সরকারি ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, ইকবালের অসুস্থতার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তাঁকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।ইকবাল এখন শুধু চিকিৎসা ও মানুষের সহযোগিতা চান। তাঁর পরিবারের আশা, সহায়তা পেলে আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন তিনি।

১৯ আগস্ট ২০২৬
অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইল শহরের একসময়ের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী ‘ভাসানী হল’ আজ ধুলোবালি, ভাঙাচোরা দেয়াল আর তালাবদ্ধ কক্ষের নিস্তব্ধতায় ঢাকা। দীর্ঘদিনের অযত্ন, অবহেলা, সংস্কারের অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এই মিলনায়তনটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। যে প্রাঙ্গণ একসময় নাটক, সংগীত, নৃত্য, কবিতা, বইমেলা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক নানা আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকত, সেখানে এখন চেপে বসেছে এক ভীতিকর পরিবেশ। বর্তমানে দিনে হলটির বারান্দায় বসেছে পানের দোকান আর প্রাঙ্গণটি ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাকস্ট্যান্ড হিসেবে। সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা চলে যায় অন্ধকার ও অপরাধীদের দখলে; হয়ে ওঠে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড্ডাখানা। এতে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ বাড়ছে।জানাগেছে, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ‘টাঙ্গাইল টাউন হল’ নামে এটি নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ হাবিবুল্লাহ্-এর অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র দুই বছরে এটি বাস্তব রূপ লাভ করে। পরে ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান। পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে সর্বসম্মতিক্রমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ভাসানী হল’। এরপর থেকেই এটি জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায় এবং অনন্য ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।স্থানীয় প্রবীণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, আগে পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল। বিভিন্ন উপলক্ষে তারা নাটকের আয়োজন করত এবং পুরো টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই ভাসানী হলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। প্রায় ১,০০০ আসনবিশিষ্ট এই আধুনিক মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দশক ধরে টাঙ্গাইলের নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক সমাবেশের প্রধান ভেন্যু ছিল এটি। প্রতি বছর ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল এখানে এসে নাট্যোৎসব করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সংগঠনগুলো হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ভবনটি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অবশেষে প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় জেলার অন্যতম বড় এই মিলনায়তনের কার্যক্রম।স্থানীয়রা মনে করেন, ভাসানী হল শুধু একটি কংক্রিটের ভবন নয়; এটি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারকটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে প্রায় এক দশক আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ২০১৫ সালেও একবার এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে হলের দেয়ালে দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে, ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। হলের ভেতরের অধিকাংশ কক্ষ দীর্ঘ বছর ধরে তালাবদ্ধ ও ধুলোবালির স্তূপে পরিণত হয়েছে।টাঙ্গাইলের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মতে, ভাসানী হল বন্ধ হওয়ার পর থেকে জেলার বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বড় পরিসরে কোনো অনুষ্ঠান বা নাটক মঞ্চস্থ করার মতো বিকল্প কোনো আধুনিক মিলনায়তন পুরো শহরে আর নেই। ২০১৫ সালে একবার হলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন আজ অবধি দেখা যায়নি। দীর্ঘ অবহেলার পর চলতি বছরের ১২ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক হলটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন।টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুরকার-গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু জানান, ভাসানী হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এক হাজার আসন বিশিষ্ট এই মিলনায়তনটিতেই জেলার সব সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। শুধু তাই নয়, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করতো। এছাড়া এ ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র ছিল হলটি।তিনি আক্ষেপ করে জানান, আগের মতো বড় বড় অনুষ্ঠান তারা করতে পারেন না। অনুষ্ঠান করতে এখন শিল্পকলা একাডেমিতে যেতে হয়- শিল্পকলা একাডেমির অবস্থান শহরের কেন্দ্রবিন্দুর বাইরে, সেখানে রাতে মানুষ যেতে চায়না।কবি মাহমুদ কামাল জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত এ হলটিকে পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করার দাবি ছিল। হলটি মওলানা ভাসানীর নামে থাকায় বিগত সরকার সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, ভাসানী হলটি পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হোক।টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান জানান, টাঙ্গাইল একটি সাংস্কৃতিক নগরী এবং পুরাতন জেলা। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিকচর্চার অন্যতম প্রধান জায়গা হচ্ছে ভাসানী হল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে গতিশীল রাখার জন্য ভাসানী হল খুবই প্রয়োজন।তিনি আরো জানান, মাদকের ছোবল এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে ক্রীড়া অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তার জন্য একটি ভালো অডিটরিয়াম প্রয়োজন। তিনি দ্রুত ভাসানী হলের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের দাবি করেন।টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুননির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

১৭ আগস্ট ২০২৬
অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু:সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে পরিচালিত সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশ শুক্রবার(৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।এদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ মহাসমাবেশে নিরাপদ সড়ক, রেলপথ ও নৌপথ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নীতি, গবেষণা, প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে নিসচা প্রণীত ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।দিনব্যাপী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়।ফিরে দেখা- ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয় সহধর্মিণী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় দায়িত্বে রূপ দেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর গত ৩৩ বছরে নিসচা শুধু একটি সংগঠন নয় বরং একটি জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এই পথচলায় সংগঠনটি জনসচেতনতা সৃষ্টি, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কার্যক্রম, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, নীতিগত সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন এবং দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়’নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চলচ্চিত্রের মহানায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ৩৩ বছরের এ আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীর আত্মত্যাগ আন্দোলনটিকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের জীবন রক্ষার এই আন্দোলনে আরও কিছুদিন কাজ করার তৌফিক দান করেন। আমিও দেশের প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করছি।’চিত্র নয়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো দাবি নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই; আমরা মানুষের জীবনের পক্ষে।’তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও দৃঢ় বাস্তবায়ন।’তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে না পারবে, ততদিন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য কোনো সমালোচনা নয় বরং সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে একটি দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’গবেষণা, প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা এখন আর শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নির্ভুল তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।’তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তারা দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তারা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।’মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে একটি কেন্দ্রীয় সড়ক দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার (National Road Crash Database) গড়ে তোলার, যেখানে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, রেলওয়ে এবং নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার তথ্য সমন্বিত হবে। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’তিনি বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগ, স্পিড ক্যামেরা, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল-টাইম দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ তথ্য ও জনসম্পৃক্ততা সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া ১২ দফা সুপারিশপত্র কোনো দাবিপত্র নয় বরং একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা।’নিসচার তথ্যভান্ডার কাজে লাগানোর আহ্বাননিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত দুর্ঘটনার তথ্য, জনমত, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা নিসচার অন্যতম বড় শক্তি।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করেন না; তারা দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, স্থানীয় সমস্যা এবং মানুষের প্রত্যাশা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত করেন। এই বিশাল তথ্যভান্ডার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার প্রায় ১২০টি শাখা এবং হাজারো সড়কযোদ্ধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। সরকার চাইলে এই স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।’সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগতনিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত 'Safe System Approach'-এর আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা, গতি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়ন, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালীকরণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জাতীয় অঙ্গীকারকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।নিসচার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ নিরাপদ, টেকসই ও মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।সংস্কৃতির মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানপ্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নয়; মানুষের মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমেও সম্ভব। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি বলেন, ‘নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি, পথনাটক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন হয়ে উঠবে।’মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরাপদ সড়ক বিষয়ক সচেতনতামূলক নাট্যোৎসব, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রচারণা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। নিরাপদ সড়ক একটি সামাজিক আন্দোলন আর সামাজিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সংস্কৃতির বিকল্প নেই।’আইন, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বউদ্বোধরী বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি বলেন, ‘সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’তিনি বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মতো সংগঠনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।’গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয়ের আহ্বানবিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদান অনন্য। ব্যক্তিগত বেদনাকে তিনি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন, যা আজ নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরঅনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর পক্ষ থেকে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ তুলে দেওয়া হবে।সুপারিশপত্রে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, চাঁদাবাজি ও পরিবহন সিন্ডিকেট নির্মূল, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ, সড়ক-রেল-নৌপথের সমন্বিত নিরাপত্তা, শিক্ষাক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপদ সড়ককে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) মনে করে, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। রাষ্ট্রের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, সুশাসন, গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নিসচা সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। সংগঠনটি আশা করে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মানবিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবহন খাতের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নিসচার প্রায় ১২০টি শাখার প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রতিনিধি ও সড়কযোদ্ধা এতে অংশ নেন। পরে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

০৮ আগস্ট ২০২৬
নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

দৃষ্টি বিনোদন: ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও দক্ষিণী সিনেমার তারকা থালাপাতি বিজয় অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’। গত ৯ জানুয়ারি সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল। নানা জটিলতার কারণে থমকে যায় মুক্তি। দীর্ঘ ৭ মাস অপেক্ষার পর, গত ২৩ জুলাই বিশ্বের ৫ হাজার পর্দায় মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। ‘জন নায়াগান’ সিনেমা মুক্তির পর দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এনডিটিভির চলচ্চিত্র বিশ্লেষক লতা শ্রীনিবাস লিখেছেন, “থালাপাতি বিজয়ের জন্য ‘জন নায়াগান’ অবশ্যই দেখা উচিত। কারণ শেষবারের মতো তাকে পর্দায় দেখা যাবে। বিজয় কীভাবে একজন ‘জন নায়াগান’ (জনগণের নেতা) হয়ে উঠেছেন, তা টাইটেল কার্ড দেখিয়েছে। ত্রুটি থাকার পরও ‘জন নায়াগান’ দুর্দান্ত।” পাঁচে ৩ রেটিং দিয়েছেন লতা। ইন্ডিয়া টুডের জননী কে সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তবে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন ২। দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও বক্স অফিসে কতটা রাজত্ব করলেন বিজয়? যদিও বক্স অফিস বিশ্লেষক রমেশ বালা মুক্তির আগেই বলেছিলেন, মুক্তির প্রথম দিনে ৭৫-১০০ কোটি রুপি আয় করবে সিনেমাটি। তার এই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে ফলেছে। চলুন জেনে নিই, ৭ দিনে কত টাকা আয় করল সিনেমাটি- বলি মুভি রিভিউজের তথ্য মতে, মুক্তির প্রথম দিনে ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ভারতে আয় করেছে ৪৪ কোটি রুপি (নিট), দ্বিতীয় দিনে আয় করেছে ২১ কোটি রুপি (নিট), তৃতীয় দিনে আয় করেছে ৩০ কোটি রুপি (নিট), চতুর্থ দিনে আয় করেছে ৩২ কোটি রুপি (নিট), পঞ্চম দিনে আয় করেছে ১০ কোটি রুপি (নিট), ৬ষ্ঠ দিনে আয় করেছে ৮ কোটি রুপি (নিট), সপ্তম দিনে আয় করেছে ৬ কোটি রুপি (নিট)। যার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৫১ কোটি রুপি (নিট)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৬.২ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ৭ দিনে ভারতে আয় করেছে ১৪৯.৫০ কোটি রুপি (নিট)। বিদেশে আয় করেছে ৮১ কোটি রুপি (গ্রস)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৫.৬৩ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এইচ. বিনোথ। এতে থালাপাতি বিজয় অভিনয় করেছেন ভেত্রি কোন্ডান নামে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। দত্তক কন্যা ভিজিকে (মমিতা বাইজু) সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। কিন্তু মেয়েটির অতীতের মানসিক ট্রমা সেই পথকে কঠিন করে তোলে। বলিউড অভিনেতা ববি দেওল সিনেমাটিতে খলনায়ক জন হিমলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে আসেন। এরপরই শুরু হয় বিজয় ও ববি দেওলের মুখোমুখি লড়াই। তাদের লড়াইকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির মূল সংঘাত। ‘জন নায়াগান’ সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন বিজয়-পূজা। তাছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- প্রকাশ রাজ, প্রিয়ামণি, গৌতম বাসুদেব মেনন প্রমুখ। জানা যায়, সিনেমাটির বাজেট ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি রুপি। কোনো কোনো প্রতিবেদনে ৪০০ কোটি রুপিও পাওয়া গেছে। এটি প্রযোজনা করছে কেভিএন প্রোডাকশন্স।

৩০ জুলাই ২০২৬
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

ভিডিও গ্যালারি