জাতীয়
দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই
দৃষ্টি নিউজ:বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের দাবি, ঘটনার রাতে কিছু লোক ধাওয়া দিলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। তবে এ দাবি বিশ্বাস করছেন না তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। তার মতে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন দ্বীপ। গতকাল রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠ পরিদর্শন করছে পিবিআই। সেখানে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ বলেন, ‘দূর থেকে আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। ভাই (তাহসিফ) দৌড় দেন। আমি তখন পিলারের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং আশা করতে থাকি দুজন ইউনিফর্ম পরা লোক আমাকে দেখতে না পায়। আমি দৌড় দেইনি, হেঁটে হেঁটে আসি।’দ্বীপের বরাতে পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দ্বীপ তুরাগ নদের পাশের মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করে। তখন দ্বীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এখনো তার (দ্বীপের) বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছি না। মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দ্বীপের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতেই তদন্ত চলছে। তাহসিফ সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। রহস্য উদ্ঘাটন হলে বিস্তারিত জানানো হবে।তবে দ্বীপের দেওয়া তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘না না, এ ধরনের কিছু হতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।মাজারসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের মালিক জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কে পড়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলটি দেখছি। কিন্তু এটা নেয়নি। আমরা ভেবেছি কেউ হয়তো রেখে গেছে। আজ সকালে পুলিশ একটি ভ্যানে করে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে তারা আবার নিয়ে আসে।’পিবিআইয়ের আরেক পুলিশ সুপার জানান, দ্বীপের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাহসিফও বাসা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন।গত মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। সেদিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর ফেরেননি।পরদিন বুধবার(২৮ অক্টোবর) বিকালে উত্তরখান থানা এলাকার রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দ্বীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।
৩০ অক্টোবর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল
দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন-জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল): ইতিবাচক দৃষ্টিতে নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন। সচেতনভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন।আয়ের নতুন শুভ যোগ লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যার্থীদের আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ার জন্য আরো মনোযোগী হওয়া উচিত।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): কথাবর্তায় কৌশলী হোন। শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। কারো কাছ থেকে আর্থিক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দাম্পত্য জীবন ভালো যাবে, তবে মনমেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পেশাগত কাজে যথেষ্ট ব্যস্ততা বাড়বে। শারীরিক বিষয় নিয়ে যত্নশীল হোন।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মনের প্রশান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করুন। শারীরিক বিষয়ে সাবধানে থাকতে হবে। প্রেমের দিক থেকে কারো ক্ষেত্রে নতুন সমস্যার সম্ভাবনা আছে। পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): এ সপ্তাহে আপনার যথেষ্ট ব্যস্ততা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত উত্তেজিত অবস্থায় নেওয়া ঠিক হবে না। ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। লেনদেনে আরো সতর্ক হওয়া উচিত। শারীরিক বিষয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): আর্থিক বিনিয়োগে সচেতনতা প্রয়োজন। কারো ক্ষেত্রে নতুন প্রেমের সম্ভাবনা আছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন যোগাযোগ বাড়বে। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): সবধরনের পরিস্থিতিতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখুন। প্রেমের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। শরীরের প্রতি আরো যত্নশীল হতে হবে। পিতা-মাতার স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। সামাজিক কাজে সম্মান লাভ করবেন। দাম্পত্য জীবন আগের তুলনায় অনেক ভালো যাবে।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): মানসিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পারিবারিক বিষয় শুভ ও স্বাভাবিক যাবে। আর্থিক লেনদেনে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ কোনো কাজে ব্যয় বাড়বে। পেশাগত কাজে সহকর্মীর সঙ্গে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রোমান্টিক সম্পর্কে আনন্দ অনুভব করবেন।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): সামাজিক কাজে সুনাম পাবেন। রাগ, জেদ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কোনো কারণে মানসিক অস্থিরতা, চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাবে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মনোমালিন্য বাড়তে পারে। প্রেমের ক্ষেত্রে সুখ-শান্তি, মতবিরোধ সবই চলবে এ সপ্তাহে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): শারীরিক সুস্থতার মনোযোগী হোন। এ সপ্তাহ আপনার যথেষ্ট ভালো যাবে। দূর থেকে শুভ সংবাদ পাবেন। ঘনিষ্ঠ কারো আচরণে মানসিক কষ্ট পেতে পারেন। প্রেমের জন্য এ সপ্তাহটি উঞ্চ। তবে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। পেশাগত কাজে মতবিরোধ থাকবে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। অপ্রিয় কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। এ সপ্তাহ আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীত লিঙ্গের কারো সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে। স্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে আরো যত্নশীল হোন। পেশাগত কাজে আরো মনোযোগী হলে সফলতা পাবেন।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): কর্মক্ষেত্রে সফলতা পাবেন। পুরোনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। মানসিক শক্তির পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বৃদ্ধি করুন। প্রিয়জনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক ভালো যাবে। ভ্রমণ শুভ।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): প্রিয়জনের সঙ্গে মান-অভিমান হতে পারে। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। পুরোনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে। শারীরিক বিষয়ে সাবধানে থাকতে হবে। ভ্রমণ শুভ। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।
২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিক উৎপাদন যাচ্ছে
দৃষ্টি ডেস্ক:প্রায় ২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের পর এবার বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটি কার্পাস তুলা শনাক্তকরণ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের পর তা বাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি খাতে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মসলিন দেখে দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।একসময় বাংলার রাজদরবার ও অভিজাতদের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত ঢাকাই মসলিন ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। সূক্ষ্ম বুনন ও মিহি সুতার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক কদর ছিল।নানা কারণে হারিয়ে যাওয়া এই শিল্প ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগে ২০১৩ সালে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক মো. আইয়ুব আলী বলেন, পাঠ্যবইয়ে পড়া বাঙালির ঐতিহ্য এখন নিজেরা তৈরি করতে পারছি। শুধু মসলিন তৈরি নয়, এর সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিও আমাদের হাতে এসেছে।তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের উদ্যোক্তা ও ক্রেতারা মসলিনে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফ্রান্সে মুঘল ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন, এমন কয়েকজনও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ গজ মসলিন নেওয়ার অনুরোধ এসেছে।তিনি বলেন, দেশে বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি চেয়ে ১৫ জন উদ্যোক্তা আবেদন করেছেন। উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের নিয়ম ও পদ্ধতিও নথিভুক্ত করা হয়েছে।আংটির মধ্যদিয়ে মসলিন শাড়ির অতিক্রমবিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে মসলিন দেখে দেশীয় শৌখিন ও সচ্ছল ক্রেতারাও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এখনই প্রকল্পের তৈরি কাপড় বিক্রির পরিকল্পনা নেই। বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা গড়ে উঠলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ঢাকাই মসলিন কাপড় বাজারে ছাড়া হবে।প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২৭টি শাড়ি, ২০টি স্কার্ফ ও রুমালের মতো ১১টি নমুনা কাপড় তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে তৈরি হয় আরও ৩১টি শাড়ি ও ১৪টি স্কার্ফ। এসব নমুনা বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে।কীভাবে ফিরল ঢাকাই মসলিনপুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ঐতিহাসিক নথি, গবেষণাপত্র ও জাদুঘরে সংরক্ষিত মসলিনের নমুনা পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্পের মুখ্য গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মঞ্জুর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, জেমস টেলরের ‘এ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা’, অধ্যাপক আবদুল করিমের ‘ঢাকাই মসলিন’ এবং সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াসের ‘স্পিসিস প্ল্যান্টারাম’ বই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঐতিহাসিক কাপড়ের নমুনা পরীক্ষায় যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের সহায়তা নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা ৩৯টি তুলার নমুনার মধ্যে ছয়টি জাত শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষায় গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকার তুলার সঙ্গে ঐতিহাসিক মসলিনে ব্যবহৃত ফুটি কার্পাস তুলার ডিএনএর প্রায় ৯৬ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।ঐতিহাসিক নথি ও জেমস টেলরের বিবরণ পর্যালোচনা করে কাপাসিয়ায় ফুটি কার্পাস তুলা পাওয়ার সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়। কাপাসিয়ার পাশাপাশি তিতাবাদি নামের একটি স্থান নিয়েও অনুসন্ধান হয়। এসব গবেষণার ভিত্তিতে তুলা চাষ, হাতে সুতা কাটা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।সাধারণ মসলিন থেকে ঢাকাই মসলিন কেনো আলাদাঢাকাই মসলিনের বিশেষত্ব ছিল নির্দিষ্ট জাতের তুলা, হাতে কাটা সূক্ষ্ম সুতা, দক্ষ কারিগর ও বিশেষ ধরনের তাঁতের সমন্বয়। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল, বিশেষ করে সোনারগাঁ, কাপাসিয়া এবং শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর অববাহিকার উর্বর পলল মাটিতে ফুটি কার্পাস তুলা জন্মাত।অতিসূক্ষ্ম সুতা কাটতে আর্দ্র পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শীতলক্ষ্যার তীরবর্তী অঞ্চলে সকাল বা সন্ধ্যায় সুতা কাটার কাজ হতো। শুষ্ক বাতাসে সূক্ষ্ম সুতা ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় পরিবেশের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেত। দক্ষ নারী ও পুরুষ কারিগররা বংশপরম্পরায় অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সুতা তৈরি ও কাপড় বুনতেন।প্রকল্প পরিচালক আইয়ুব আলী জানান, কাপাসিয়ার তুলার সুতায় সিল্কের মতো স্পর্শ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক মসলিনের সূক্ষ্মতা ও বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে ফুটি কার্পাসের জাত শনাক্ত করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।কারিগর তৈরি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরমসলিন তৈরির জন্য ফুটি কার্পাস তুলা, হাতে কাটা সুতা এবং তাঁতে কাপড় বোনা- এই তিনটি বিষয় অপরিহার্য বলে জানান আইয়ুব আলী। তুলার জাত শনাক্ত হওয়ার পর গাজীপুরে তুলা বোর্ডের জমি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে তুলা চাষ করা হয়।কারিগর তৈরির জন্য কুমিল্লার চান্দিনায় খাদি কাপড় তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪০০ জনের মধ্য থেকে বাছাই করে ছয়জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হাতে সুতা কাটার চরকা তৈরি থেকে শুরু করে সুতা প্রস্তুত, নাটাই করা, তাঁতে সুতা সাজানো ও কাপড় বোনার বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।আইয়ুব আলী জানান, প্রশিক্ষিত কারিগরদের পাশাপাশি মসলিন হাউসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৩০ জন তাঁতি ও কারিগরকেও উৎপাদনে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।অধ্যাপক মঞ্জুর হোসেন বলেন, বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য ফুটি কার্পাস তুলার জোগান বাড়াতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তুলা চাষের প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং চুক্তিভিত্তিক তুলা উৎপাদনের মাধ্যমে চাষি ও উৎপাদকদের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।কর্মসংস্থান ও বাজারের সম্ভাবনাবাণিজ্যিকভাবে বেসরকারি খাতে মসলিন উৎপাদন শুরু হলে তুলা চাষ, সুতা কাটা, কাপড় বোনা, মান নিয়ন্ত্রণ ও বিপণনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গ্রামীণ পর্যায়ে তুলাচাষি ও কারিগরদের যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের পুনরুদ্ধার যুক্ত হলে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।তবে উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত ফুটি কার্পাস তুলা, দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে অতিসূক্ষ্ম মসলিন তৈরি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এর দাম সাধারণ কাপড়ের তুলনায় বেশি হতে পারে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে এর দাম কতটা থাকবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারজাতকরণ কৌশলের ওপর। তবে ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে সংগ্রহের জন্যও মসলিনের চাহিদা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।পুনরুদ্ধার করা প্রযুক্তি, দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ এবং ১৫ উদ্যোক্তার আবেদনে বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু ও দীর্ঘমেয়াদে তা সম্প্রসারণের সাফল্য নির্ভর করবে পর্যাপ্ত তুলা, দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ের ওপর।তথ্যসূত্র: সংগৃহীত
২৪ অক্টোবর ২০২৬
আজ বিজয়া দশমী, বিহিত পূজায় দেবী দুর্গার বিদায়
দৃষ্টি নিউজ:শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমী আজ বুধবার (২১ অক্টোবর)। দিন শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পাচ দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে বিদায়ের সুর। ঢাক-ঢোল ও শঙ্খের ধ্বনির সঙ্গে ভক্তদের চোখের জলে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকালে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বিহিত পূজা। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। এরপর স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন ভক্তরা।হিন্দুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। দেবীর বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে দেখা দেয় বিষাদের আবহ। কয়েক দিনের উৎসবমুখর পরিবেশের পর প্রিয় দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক ভক্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাক ও শঙ্খের ধ্বনি সেই বিদায়ের আবহকে আরও গভীর করে তোলে।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়া। এসব নেতিবাচক প্রবৃত্তি পরিহার করে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ় করা এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ই এ আয়োজনের অন্যতম শিক্ষা।বিজয়া দশমীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন সিঁদুর খেলা। দেবী দুর্গার বিদায়ের আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সনাতনী নারীরা এ আয়োজনে অংশ নেবেন। দেবীর চরণে অর্পিত সিঁদুর নিয়ে নিজেদের রাঙিয়ে তোলার পাশাপাশি একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেবেন তারা।প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, স্বামীর মঙ্গল কামনায় নারীরা দশমীর দিন দেবী দুর্গার সিথিতে দেওয়া সিদুর নিজের সিথিতে ধারণ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পান ও মিষ্টি দিয়ে দেবীকে সিদুর স্পর্শ করানোর পর নারীরা পরস্পরের সিথি ও মুখে সিঁদুর লাগিয়ে দেন। সিঁদুর খেলা শেষে দেবীর আরাধনা করে তাকে শেষবারের মতো প্রণাম জানাবেন ভক্তরা।ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে এবং গমন করবেন নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা।বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানালেও ভক্তদের মনে রয়ে যাবে আগামী বছরের পূজার অপেক্ষা।
২১ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গোৎসব : আত্ম-উপলব্ধি ও আত্মোন্নয়নের শিক্ষা
:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::শরতের শান্ত-স্নিগ্ধ প্রকৃতি, কুয়াশাভেজা ভোর, নদীর কূলে কূলে শুভ্র কাশফুলের দোলা আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের কাঠির মিষ্টি ধ্বনিলয় ‘মা দুর্গা’র মর্ত্যে আগমনের বার্তা পৌঁছে দেয়। আশ্বিন ও কার্তিক মাসের সূচনালগ্নে অনুষ্ঠিত এই শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধানতম ধর্মীয় মহোৎসবই নয় বরং এটি বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অনবদ্য সামাজিক প্রপঞ্চ। বাহ্যিক কোলাহল, আলোকের ঝরনাধারা, নতুন বস্ত্র পরিধান আর প্রতিমা বিসর্জনের প্রথাগত আড়ম্বরের গভীরে ডুব দিলে দেখা যায়- দুর্গোৎসবের মূল বার্তা লুকিয়ে রয়েছে মানব জীবনের চরম আধ্যাত্মিক দর্শনে। এটি মানুষের ভেতরকার সুপ্ত আত্ম-উপলব্ধিকে জাগ্রত করার এবং ব্যক্তি থেকে সমাজ জীবন পর্যন্ত সার্বিক আত্মোন্নয়ন সাধনের এক মহান জীবনমুখী শিক্ষা প্রদান করে। ইতিহাস ও শাস্ত্রীয় দর্শনের আলোয় এই উৎসবের ভেতরের সত্য ও তাৎপর্য অনুধাবন করা আজকের পরিবর্তিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি।উৎসবের গভীরে প্রবেশ করতে হলে প্রথমেই পূজা ও উৎসব- এ দুটি মূল শব্দবন্ধের ব্যাকরণগত ও বুৎপত্তিগত অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা প্রয়োজন। ‘পূজা’ শব্দটি সংস্কৃত ‘পূজ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত। এই পূজ ধাতুর মূলার্থ হচ্ছে ‘বর্ধনশীলতা’ বা বৃদ্ধিসাধন। অর্থাৎ, যে প্রক্রিয়া বা আচারের মাধ্যমে মানুষের ভেতরের সৎ চিন্তা, বিবেক, প্রজ্ঞা এবং আত্মিক গুণাবলির পরম বৃদ্ধি ও উৎকর্ষ ঘটে, তা-ই পূজা। অপরদিকে, ‘উৎসব’ শব্দটির উৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে ‘উৎস অভিমুখে গমন’। উৎসব মানুষের চেতনাকে জড়তা থেকে মুক্ত করে কল্যাণময় পরম উৎসের দিকে পরিচালিত করে। অতএব, গভীর দর্শনের বিচারে পূজা বা উৎসব- দুটি শব্দই মূলতঃ একই অর্থ ও উদ্দেশ্য বহন করে। দুটি শব্দই মানুষকে তার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে সত্তার প্রকৃত উৎসের দিকে নিয়ে যায় এবং জীবনের শুভ ভাবগুলোকে বর্ধিত করে। এ কারণেই ভারতীয় দর্শনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে- ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আচারের বিষয় হলেও, ‘উৎসব’ সর্বজনীন এবং সবার।হাজার বছরের আবহমান সংস্কৃতির ধারায় হিন্দু শাস্ত্রের এই পবিত্র পার্বণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আনন্দ-উৎসবে একাত্ম হয়ে মেতে ওঠে সমগ্র বাঙালি হৃদয়। সেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক মর্যাদার কোনো প্রাচীর থাকে না। ভেদাভেদ, জাত-পাত ও হিন্দু-মুসলিম পরিচয় ‘উৎসবের’ এই মিলনমেলায় এসে একাকার হয়ে যায়। দুর্গাপূজা তাই কেবল একটি সম্প্রদায়ের পুজো থাকে না, তা রূপান্তরিত হয় সম্প্রীতির এক অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন মিলন মহোৎসভে।সনাতন শাস্ত্র ও প্রাচীন গ্রন্থাবলীতে দেবী দুর্গার মহিমা ও স্বকীয় রূপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর গূঢ় অর্থে বিবৃত হয়েছে। ‘দুর্গা’ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘দুর্গতি-নাশিনী’- যিনি জীবের জীবনের সকল প্রকার দুর্গতি, আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক দুঃখ দূর করেন। দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসবের প্রকৃত তত্ত্বার্থে পূজা শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- যা সম্পাদন করলে জীবনে বাস্তব ও আত্মিক উভয় ক্ষেত্রের উন্নয়নের পথ সুপ্রশস্ত হয়। শাস্ত্রীয় সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্গা নামের প্রতিটি বর্ণ ও ধ্বনি নির্দিষ্ট প্রতীকী শক্তির বাহক- ‘দ’ অক্ষর: দৈত্যনাশক (অসুরবৃত্তি বা হিংস্রতার বিনাশক)। ‘উ-কার’: বিঘ্ননাশক (জীবনের সব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা দূরকারী)। ‘রেফ’: রোগনাশক (শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি দূরকারী)। ‘গ’ অক্ষর: পাপনাশক (অন্যায় ও অপরাধবোধ প্রক্ষালনকারী)। ‘অ-কার’: ভয় ও শত্রুনাশক (সকল ভয় ও বহিঃ-অন্তঃ শত্রু বিনাশকারী)। অর্থাৎ দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ এবং ভয়-শত্রুর হাত থেকে যিনি জীবকে নিরন্তর রক্ষা করেন এবং সার্বিক কল্যাণ দান করেন- তিনিই দুর্গা।সংস্কৃত অভিধান ‘শব্দকল্পদ্রুম’-এর পংক্তিতে দেবীর পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে- ‘দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা’ যার অর্থ- দুর্গ নামক অত্যাচারী অসুরকে যিনি বিনাশ করেন, তিনি শাস্ত্রে নিত্য ‘দুর্গা’ নামে অভিহিত হন। আবার সনাতন ধর্মশাস্ত্র ‘শ্রীশ্রীচণ্ডী’ বা ‘দেবী মাহাত্ম্যম’-এর ভাষ্য অনুসারে, দেবী দুর্গা কোনো একক ব্যক্তি বা সীমিত দেবী সত্তা নন; বরং তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল দেবতার শক্তি, তেজ ও শুভ ভাবনার একীভূত ও একসূত্রে গঠিত এক মহাশক্তির প্রতিমূর্তি। যুগে যুগে জগতে যখনই অন্যায়, অধর্ম, স্বৈরাচার ও পাপের আধিক্য ঘটেছে, তখনই দুষ্টের বিনাশ এবং সৃষ্টের পালনে দেবী দুর্গা ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকট হয়েছেন। শাস্ত্রানুসারে শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর অজস্র নাম রয়েছে, যার মধ্যে- মহাশক্তি, ব্রহ্মময়ী, আদ্যাশক্তি, নারায়ণী, চণ্ডী, মহিষ-মর্দিনী ও অসুর নাশিনী- এই নামগুলো বিশেষ পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।দুর্গাপূজার ইতিহাস অতি প্রাচীন। বৈদিক যুগ থেকে শুরু করে পৌরাণিক কাল এবং মধ্যযুগ পার হয়ে আধুনিক কাল পর্যন্ত এর ঐতিহাসিক বিবর্তন লক্ষণীয়। (ক) সত্য যুগ- সুরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য মহামায়ার আরাধনা করে হারানো রাজ্য ও জ্ঞান লাভ করেন (বসন্তকালের ‘বাসন্তী পূজা’)। (খ) ত্রেতা যুগ- শ্রী রামচন্দ্র লঙ্কার অধিপতি রাবণ বধের উদ্দেশ্যে শরৎকালে দেবীর অকালবোধন করেন, যা ‘শারদীয় পূজা’ নামে পরিচিত হয়। (গ) মধ্যযুগ- বাংলার রাজা ও ভূস্বামীরা (যেমন কংসনারায়ণ, ভবানন্দ মজুমদার) দুর্গাপূজাকে সামন্তীয় আড়ম্বরে রূপ দেন। এবং (ঘ) আধুনিক যুগ- বারোয়ারি ও সার্বজনীন পূজার সূচনা; ব্যক্তিকেন্দ্রিক আড়ম্বর পেরিয়ে দুর্গাপূজা গণমানুষের উৎসবে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক বিবর্তনের এই ধারা প্রমাণ করে- দুর্গাপূজা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতার নাম নয় বরং এটি যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে।দুর্গোৎসবের সবচেয়ে প্রাঞ্জল ও গভীর শিক্ষাটি লুকিয়ে রয়েছে দেবী দুর্গার রণরঙ্গিনী রূপ এবং তাঁর পদাশ্রিত ‘মহিষাসুর’- এর প্রতীকী যুদ্ধের মধ্যে। দেবীর দশহাতে দশটি অস্ত্র, চরণে দলিত মহিষাসুর, বাহন সিংহ- এই প্রতিটি উপাদানের অন্তরালে রয়েছে সুগভীর মানসিক ও আত্মিক দর্শন। বাহ্য দৃষ্টিতে মহিষাসুর একটি বাহ্যিক দানব হলেও, প্রকৃত তত্ত্ব দর্শনে মহিষাসুর হলো মানুষের নিজস্ব মনের কুপ্রবৃত্তি বা ‘ষড়রিপু’-র প্রতীক। মানুষের আত্মোন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো তার নিজস্ব অন্তরের ছয়টি শত্রু: (১) কাম (অনিয়ন্ত্রিত কামনা), (২) ক্রোধ (উন্মাদ হিংস্রতা), (৩) লোভ (অন্যের বস্তুর প্রতি লালসা), (৪) মোহ (অজ্ঞানতা ও অন্ধত্ব), (৫) মদ (অহংকার ও দম্ভ) এবং (৬) মাৎসর্য (ঈর্ষা ও পরশ্রীকাতরতা)। দেবী দুর্গার সিংহবাহন রূপটি হলো অনুভূতির সংযম ও বলের প্রতীক। যখন মানুষ দুর্গারূপী আত্মচেতনা বা পরম প্রজ্ঞাকে জাগ্রত করে, তখন সে তার ভেতরের পাশবিক মহিষাসুরকে বধ করতে সক্ষম হয়। আত্ম-উপলব্ধি ব্যতিরেকে জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য অনুধাবন করা অসম্ভব। পূজা কেবল বাইরের মৃণ¥য়ী প্রতিমায় পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার নাম নয় বরং মৃণ¥য়ীর মাঝে চিন্ময়ী শক্তিকে অনুভব করে নিজের মনের সমস্ত কলুষতা, সংকীর্ণতা ও অহংকারকে বিসর্জন দেওয়াই হলো প্রকৃত আত্ম-উপলব্ধি।আজকের পৃথিবী প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক দূর এগিয়ে গেলেও, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে হিংসা, বিদ্বেষ, ধর্মান্ধতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং পরমতঅসহিষ্ণুতা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সংঘাতময় বাস্তবতায় দুর্গোৎসবের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও কালোপযোগী। (ক) সংযম ও আত্মশুদ্ধি: দুর্গোৎসব আমাদের শিক্ষা দেয় কীভাবে ভোগের মধ্য দিয়েও ত্যাগের অনুশীলন করা যায়। দেবীর শক্তি আমাদের আত্মশুদ্ধির পথ দেখায়। (খ) নারীশক্তির মর্যাদা (স্ত্রীশক্তি সম্মান): দেবী দুর্গা স্বয়ং নারীশক্তির সর্বোচ্চ প্রতীক। আজকের সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দুর্গাপূজার দর্শন আমাদের প্রেরণা জোগায়। (গ) সামাজিক সম্প্রীতি: দেবীর দশহাতের দশটি অস্ত্র আমাদের শেখায়—সব সামাজিক অনাচার, অসমতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। যেভাবে বিভিন্ন দেব-দেবীর সম্মিলিত তেজ থেকে দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল, ঠিক তেমনি সমাজের সব ভালো মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই কেবল কুসংস্কার, বিভেদ ও অন্যায়-অবিচার প্রতিহত করা সম্ভব।শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটে প্রতিমা বিসর্জনের করুণ সুরের মধ্য দিয়ে। বিজয়া দশমীতে দেবী প্রতিমাকে জলে বিসর্জন দেওয়া হলেও মূলত তা বস্তুর নশ্বরতা ও চেতনার অবিনশ্বরতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। বিসর্জনের আসল বার্তা হলো- প্রতিমার সাথে সাথে আমাদের অন্তরের ঘৃণা, অহংকার, হিংসা ও ক্ষদ্র স্বার্থচিন্তাকে বিসর্জন দেওয়া। যদি দেবী বিসর্জনের পর মানুষের ভেতরের পশুত্ব জীবিত থেকে যায়, তবে সেই পূজার আয়োজন সার্থক হয় না।পরিশেষে বলা যায়, দুর্গাপূজা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সাময়িক সামাজিক আনন্দ-প্রদর্শন নয়; এটি আত্মচেতনা ও প্রজ্ঞার পরম তীর্থক্ষেত্র। দুর্গোৎসবের এই মহতী তিথিতে জাত-পাত ও ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়া আবশ্যক। দেবী দুর্গার আরাধনার মাধ্যমে ভেতরের সত্য ও শুভ শক্তিকে জাগিয়ে তুলে, আত্ম-উপলব্ধির পরম আলোয় জীবনকে উদ্ভাসিত করে এবং একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও সম্প্রীতিময় সমাজ গঠনে আত্মোন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়াই হোক পাথেয়।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
২১ অক্টোবর ২০২৬
সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো তত্ত্ব নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৃষ্টি নিউজ: ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো তত্ত্বে বিএনপি বিশ্বাস করে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী সবার একটাই পরিচয়- আমরা বাংলাদেশি। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের আব্দুল ওয়াছেক মিলনায়তনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় সরকার বরাদ্দকৃত চাল ও ঢাকা জেলা পরিষদ বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘আমরা পূজাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছি। বিগত দিনগুলোতে বিএনপির পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি জায়গায় পাশে থেকে সহযোগিতা করেছি। এবারও দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। ইতোমধ্যে প্রতিটি পূজামণ্ডপভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।’আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি করা যাবে না। প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদেরও সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, দেশের মানুষকে নির্যাতন করেছে, গুলি চালিয়েছে, তাদের বাংলাদেশের জনগণই বিদায় করেছে। তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করার কথা বলছে।’তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের মানুষ কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেনি, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। তারা আবার আসতে চাইলে বাংলাদেশের জনগণই তার জবাব দেবে। আগে নিজেদের পরিশুদ্ধ হতে হবে। কেউ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইলে কিংবা ষড়যন্ত্র করলে তা বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। ষড়যন্ত্র করতে পারবে, কিন্তু সফল হতে পারবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ ষড়যন্ত্র করে সফল হতে পারবে না।’মাদক নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে মাদক গ্রহণ বা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে অন্যতম বড় সমস্যা মাদক। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। পূজার সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে।ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক-দক্ষিণ) মো. তরিকুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখে, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার। এ সময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ অক্টোবর ২০২৬
ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’
দৃষ্টি বিনোদন:আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও পুরস্কৃত হলো বাংলাদেশের সিনেমা। ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’। ২০০৫ সাল থেকে ইতালির লুকা শহরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই উৎসব। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চার অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের ২২তম আসর। শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম।এবারের লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে ‘মাস্টার’ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি সিনেমা প্রতিযোগিতা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’, ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি। এসব সিনেমাকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’।উৎসবের জুরিবোর্ড তাদের ঘোষণায় ‘মাস্টার’ সিনেমার প্রশংসা করে জানিয়েছে, একটি স্থানীয় গল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বর্তমান সংকটকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।জুরিদের মতে, বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন একজন শিক্ষকের গল্প দেখতে পান, যিনি ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের বদলে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে দৌড়ানো এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফাদে পড়ে তার সেই নীতি কীভাবে ফিকে হয়ে যায়, সেটিই সাবলীলভাবে দেখানো হয়েছে ‘মাস্টার’ সিনেমায়।রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ও প্রযোজিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ নিয়ে আসা একজন আদর্শবান শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতা ও আপসের যাতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, তা নিয়েই এগিয়েছে ‘মাস্টার’-এর গল্প। আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ, তাসনুভা তামান্না প্রমুখ।লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা সুমিত। তিনি বলেন, ‘লুকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই অর্জন মাস্টার সিনেমাটির সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে এ বছর বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। এতগুলো দুর্দান্ত কাজের মাঝে আমার টিমের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করার জন্য বিচারকমণ্ডলীর কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে সেরা নির্বাচিত হয় ‘মাস্টার’। নির্মাতা সুমিত জানিয়েছেন, সিনেমাটি দেশের দর্শকদের দেখানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
০৬ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপূজায় ছুটি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নির্দেশনা
দৃষ্টি নিউজ:দুর্গাপূজার ছুটি টানা পাঁচ দিন করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। আগামি ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মদিবস হিসেবে অফিস করতে হবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন।সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে সরকারি ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হয়েছে। এরপর ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) ও ২৪ অক্টোবর(শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি।২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ভোগ করবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে এই টানা ছুটি নিশ্চিত করতে ১৭ অক্টোবরকে (শনিবার) কর্মদিবস হিসেবে রাখা হয়েছে। ওই দিন সরকারি অফিস-আদালতের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে।চলতি বছর ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।অতিরিক্ত এক দিনের সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবার দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিমন্ত্রী টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সহ দুই নেতা রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে
দৃষ্টি নিউজ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মোকলেস মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সদস্য এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। অপর আসামি জাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২২ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ার সময় তাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ঈদগাহের প্রথম গেটের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬-এর বিচারক শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুব দল নেতা জাহিদুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্য ধারাগুলো থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়।এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম। আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়েছে।এদিকে সোমবার আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আত্মসমর্পণের পর তাদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম।তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকার সাজা দিয়েছিল। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমরা পরবর্তী সময়ে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আইনগতভাবে আবারও আবেদন করব।’অপরদিকে, আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।
০৫ অক্টোবর ২০২৬
মুক্তচিন্তার দেয়াল ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব
মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় দশকে এসে মানবসভ্যতা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জটিল প্যারাডক্স বা বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। একদিকে আমাদের হাতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বায়োটেকনোলজি এবং বিগ ডেটার মতো মহাবিস্ফোরণ; অন্যদিকে ঠিক সমান্তরালভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে মানুষের স্বাধীন, মৌলিক ও মুক্তচিন্তার পরিধি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, ইন্টারনেটের চশমায় তথ্যের অবাধ প্রবাহে পৃথিবী এখন সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত, গণতান্ত্রিক এবং সংযুক্ত। কিন্তু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এক অদৃশ্য দেয়াল আমাদের সামষ্টিক চিন্তাশক্তিকে বন্দি করে ফেলছে- যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটছে এক গভীর, সর্বগ্রাসী বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বে। এই সংকটটি কেবল রাজনৈতিক মেরুকরণ বা সামাজিক অস্থিরতার অংশ নয়; এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিবর্তন, নিউরো-বায়োলজিক্যাল রূপান্তর এবং আধুনিক পুঁজিবাদের প্রযুক্তিগত কার্যকারণ। যখন কোনো সমাজে প্রশ্ন করার সাহস হারিয়ে যায় এবং চিন্তার ওপর স্থবিরতা ভর করে, তখন সভ্যতার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। বিজ্ঞান বলে- মানুষের মস্তিষ্ক কোনো স্থির বা জড় বস্তু নয়, এটি সদা পরিবর্তনশীল এবং অভিযোজনক্ষম- যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ (Neuroplasticity)। আমরা যখন কোনো নতুন, জটিল বা আমাদের বিশ্বাসের বিপরীতধর্মী চিন্তার মুখোমুখি হই, তখন মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর মধ্যে নতুন সিন্যাপটিক সংযোগ বা পথ তৈরি হয়। একেই বলে মুক্তচিন্তার এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জৈবিক ভিত্তি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের কগনিটিভ ক্ষমতা বা বোধশক্তি বিকশিত হয়। কিন্তু সমসাময়িক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবসায়িক অ্যালগরিদম এই নিউরোপ্লাস্টিসিটিকে উল্টো পথে চালিত করছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং সার্চ ইঞ্জিনগুলো আমাদের মনের অজান্তেই তৈরি করছে ‘ইকো চেম্বার’ (Echo Chamber) এবং ‘ফিল্টার বাবল’ (Filter Bubble)। সিলিকন ভ্যালির তৈরি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের ঠিক সেই তথ্য, সংবাদ বা মতামতগুলোই বারবার আমাদের স্ক্রিনে নিয়ে আসে- যা আমাদের পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ক্ষোভ বা মতাদর্শের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কে এক ধরনের ক্ষতিকর ‘কনফরমেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা নিজের মতকে অন্ধভাবে সত্য বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা চূড়ান্ত রূপ নেয়। যখন একজন মানুষ বছরের পর বছর ধরে কেবল তার নিজের মতের প্রতিধ্বনি শুনতে পায়, তখন তার মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (Prefrontal Cortex)- যা যুক্তিবাদী চিন্তা, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দায়ী, তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা ও নমনীয়তা হারাতে শুরু করে। মানুষ তখন ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এটিই মুক্তচিন্তার প্রথম এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক দেয়াল- যা আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের ব্রেইনের ভেতর অলক্ষ্যে তৈরি করে দিচ্ছে।আমরা এখন বাস করছি ‘ইনফরমেশন ওভারলোড’ বা তথ্যের অতিপ্রবাহের এক উন্মাদ যুগে। মানব ইতিহাসের আর কোনো সময়ে মানুষ এত তথ্যের সংস্পর্শে আসেনি। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, তথ্যের এই মাত্রাতিরিক্ত সুনামি মানুষের মনোযোগের পরিধি বা ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ (Attention Span) নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে মানুষের গভীর মনোযোগ ধরে রাখার গড় সময়কাল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তথ্যের এই মহাসমুদ্র মানুষকে ‘তথ্যসমৃদ্ধ’ (Informed) করছে ঠিকই, কিন্তু তাকে ‘প্রজ্ঞাবান’ (Wise) বা ‘জ্ঞানী’ করে তুলছে না। গভীর অধ্যয়ন, দীর্ঘমেয়াদী মননশীলতা এবং কোনো বিষয়ের গভীরে গিয়ে কার্যকারণ সম্পর্ক বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আধুনিক মানুষের ভেতর লোপ পাচ্ছে। কোনো বিষয়ের মূল জেনেসিস বা উৎস না জেনে, কেবল ওপর ওপর ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে সোশ্যালে তর্ক করার এবং রায় দিয়ে দেওয়ার এই সর্বজনীন প্রবণতাই হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব। আমরা এখন সত্য অনুসন্ধান করছি না বরং হেডলাইন এবং রিলস বা শর্টস-এর ১৫ সেকেন্ডের ভিজ্যুয়াল বিনোদনে নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষুধা মেটানোর সস্তা চেষ্টা করছি। এর ফলে সমাজে এমন এক শ্রেণির ইনফ্লুয়েন্সার তৈরি হচ্ছে- যাদের চিন্তায় কোনো মৌলিকত্ব নেই, আছে কেবল জনপ্রিয় সস্তা আবেগের অন্ধ অনুকরণ। প্রজ্ঞার স্থান দখল করে নিয়েছে সস্তা তথ্যের আসক্তি।মুক্তচিন্তার দ্বিতীয় বড় দেয়ালটি মনস্তাত্ত্বিক নয় বরং এটি সমাজতাত্ত্বিক। একে আমরা বলতে পারি আধুনিক ‘ক্যান্সেল কালচার’ (Cancel Culture) বা ভিন্নমত বর্জনের সংস্কৃতি। সমাজবিজ্ঞানের বুনিয়াদি তত্ত্ব অনুযায়ী- একটি সুস্থ, গতিশীল ও প্রগতিশীল সমাজের মেরুদণ্ড হলো ভিন্নমতের সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভিন্নমতকে যুক্তির দ্বারা খণ্ডন করার ধৈর্য বা মেধা সমাজ হারিয়ে ফেলছে। এর বদলে ভিন্নমতাবলম্বীকে সামাজিকভাবে বয়কট, ডিজিটাল মবলিং (অনলাইন আক্রমণ), চরিত্রহনন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক চাপ প্রয়োগ করে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। যখন কোনো সমাজে বা রাষ্ট্রে প্রশ্ন করার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় কিংবা কোনো প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করাকে বিপজ্জনক করে তোলা হয়, তখন সেখানে বিজ্ঞান, দর্শন এবং সাহিত্যের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ইতিহাস সাক্ষী- গ্যালিলিও, সক্রেটিস বা জর্দানো ব্রুনোদের যুগেও শাসকেরা মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে কঠোর দেয়াল তুলেছিল। আজকের ডিজিটাল যুগেও ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন মোড়কে সেই একই দেয়াল তোলা হচ্ছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম কোনো নতুন বা প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ভয় পাচ্ছে। এই ভয় এবং এর থেকে জন্ম নেওয়া ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ (Self-censorship) সমাজকে এক স্থবির, অনুকরণপ্রিয় এবং মেরুদণ্ডহীন প্রজন্মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে- যা দীর্ঘমেয়াদে বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।আমাদের প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থাও এই বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব ও স্থবিরতা তৈরির জন্য সমভাবে দায়ী। আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান (Pedagogy) বলে, শিক্ষার মূল ও প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানো। অর্থাৎ শিক্ষার্থীকে শেখানো হবে কোনো কিছুকে অন্ধভাবে না মেনে ‘কেন’, ‘কীভাবে’, ‘কার স্বার্থে’ এবং ‘কোথায়’- এই মৌলিক প্রশ্নগুলো উত্থাপন করতে। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে উঠেছে মাত্রাতিরিক্ত জিপিএ কেন্দ্রিক, মুখস্থনির্ভর এবং নিখাদ বাজারমুখী। আমরা শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্ককে একেকটি ডেটা স্টোরেজ বা কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বানিয়ে ফেলছি, যেখানে বছরের শুরুতে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য ইনপুট দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার খাতায় তা হুবহু আউটপুট হিসেবে উগরে দেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সৃজনশীলতা, মৌলিক দর্শন বা মানবিক মূল্যবোধের কোনো স্থান নেই। এই যান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক করপোরেট বিশ্বের জন্য হয়তো খুব দক্ষ ‘কেরানি’, ‘ক্যাডার’ বা ‘শ্রমিক’ তৈরি করতে পারছে; কিন্তু সমাজ পরিচালনার জন্য, ঐতিহাসিক সংকট উত্তরণের জন্য কিংবা মানবতাকে পথ দেখানোর জন্য কোনো দূরদর্শী ‘বুদ্ধিজীবী’, ‘চিন্তাবিদ’ বা ‘দার্শনিক’ তৈরি করতে পারছে না। জ্ঞান যেখানে কেবল জীবিকা অর্জনের হাতিয়ার, সেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব অবধারিত।এই গভীর অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ কী? বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান এবং মানবসভ্যতার ইতিহাস আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পথ দেখায়- (ক) কগনিটিভ ডাইভারসিটি (Cognitive Diversity) বা চিন্তার বৈচিত্র্যকে আলিঙ্গন করা: আমাদের সচেতনভাবে এমন সব বই, প্রবন্ধ, ইতিহাস বা মনস্তাত্ত্বিক মতামত পড়তে হবে, যা আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি মস্তিষ্কের নিউরনের কার্যকারিতা ও সিন্যাপটিক সংযোগ বাড়ায়, মনকে নমনীয় করে এবং অন্ধ গোঁড়ামি দূর করে। (খ) ডিজিটাল ডিটক্স এবং গভীর পঠন (Deep Reading): স্ক্রিন ও সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশনের দাসত্ব কমিয়ে বই পড়ার মূল ধারায় ফিরে আসতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো জটিল বা তাত্ত্বিক বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার চর্চা-যাকে ক্যাল নিউপোর্ট ‘ডিপ ওয়ার্ক’ (Deep Work) বলেছেন-তা আমাদের চিন্তার হারিয়ে যাওয়া গভীরতা ও ধারণক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারে। (গ) প্রশ্ন করার স্বাধীনতার প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক স্বীকৃতি: পরিবার, বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রশ্ন করার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং উৎসাহিত করতে হবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে- ভুল প্রশ্ন বা অবান্তর প্রশ্নও সমাজের জন্য কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয়, কিন্তু প্রশ্ন না করার সংস্কৃতি বা প্রশ্ন করতে ভয় পাওয়া একটি জীবন্ত সভ্যতার জন্য সবচেয়ে আত্মঘাতী।মুক্তচিন্তা কোনো তাত্ত্বিক বিলাসিতা বা কেতাবি শব্দ নয়; এটি মানবসভ্যতার টিকে থাকার, বিকশিত হওয়ার এবং বিবর্তিত হওয়ার সবচেয়ে মৌলিক ও অপরিহার্য শর্ত। চার্লস ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বিবর্তনবাদ যেমন বলে- পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে যে প্রজাতি খাপ খাওয়াতে পারে না, সে প্রকৃতির নিয়মেই বিলুপ্ত হয়ে যায়; ঠিক তেমনি সমাজতত্ত্ব ও ইতিহাসের দর্শন বলে- যে সমাজ বা জাতি সময়ের সাথে সাথে চিন্তার বিবর্তন ঘটাতে পারে না, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে পারে না, সেই জাতি সভ্যতার প্রতিযোগিতায় জরায়ুতেই মারা যায় বা অন্যের বুদ্ধিবৃত্তিক দাসে পরিণত হয়। মুক্তচিন্তার যে অদৃশ্য দেয়ালগুলো আজকে প্রযুক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের হাত ধরে আমাদের চারপাশে অবলীলায় গড়ে উঠছে, তা যদি আমরা আমাদের যৌথ প্রজ্ঞা, নৈতিক সাহস এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আঘাত করে ভাঙতে না পারি, তবে একবিংশ শতাব্দীর এই চোখধাঁধানো প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কেবলই এক কংক্রিটের প্রাণহীন কঙ্কাল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে। আর তার ভেতরে বাস করবে এক দিশাহীন, প্রজ্ঞাহীন, যুক্তিহীন এবং চরম দেউলিয়া মানবসমাজ। এখনই সময় সেই দেয়ালগুলো ভেঙে চিন্তার আকাশকে উন্মুক্ত করার, মানুষের মগজকে অ্যালগরিদমের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
০১ অক্টোবর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল
দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:-মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল): কোনো সুসংবাদ পেতে পারেন। আটকে থাকা কাজ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বড় অর্থলাভ অথবা কোনো বড় চুক্তির মধ্যে যাওয়ার সুযোগ আসতে পারে। এ সপ্তাহটি মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য সার্বিকভাবে অত্যন্ত শুভ।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সময়টা খুব একটা ভালো নয়। টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারেন। প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কোনো শুভ কাজ বা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজে না যাওয়াই ভালো। গৃহে অশান্তি অথবা অসুস্থতা লেগে থাকতে পারে।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): যারা চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সেই কাজ সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি তরফ থেকেও সাহায্য পেতে পারেন। তবে পেটের সমস্যা অথবা মাথাব্যথা এই সময় আপনাদের কষ্ট দিতে পারে।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): সন্তান সম্পর্কিত বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। সন্তানের শারীরিক অবস্থা এবং শিক্ষার বিষয়েও নজর রাখা প্রয়োজন। তবে ক্যারিয়ার ও অর্থপ্রাপ্তির দিক থেকে সময়টি ভালো যেতে পারে।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): কিছুটা টেনশনের মধ্যে কাটতে পারে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে পরিবারে অশান্তির সম্ভাবনা রয়েছে। গৃহে এবং কর্মক্ষেত্রের বাইরের পরিবেশেও অশান্তিময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই এ সপ্তাহে যতটা সম্ভব বিতর্ক এড়িয়ে চলুন।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): ভালো কোনো পদ, প্রমোশন, সুযোগ অথবা নতুন কোনো সম্ভাবনা সামনে আসতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন ধরে যে সমস্যাগুলো নিয়ে চলছিলেন, সেগুলোর কিছুটা সুরাহার পথ দেখতে পারেন।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): কোথাও অর্থ বিনিয়োগ করবেন না। কারো প্রলোভনে পড়ে অর্থ নষ্ট করবেন না। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শেয়ারে একেবারেই অর্থ বিনিয়োগ না করাই ভালো। অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কারো সঙ্গে ঝামেলাও হতে পারে। হঠাৎ করে খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): শারীরিক বিষয় ভালো যাবে। এ সপ্তাহে ভাগ্য খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আটকে থাকা কাজগুলো সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে সেই কাজ সম্পন্ন করতে আপনাদের কিছুটা দৌড়ঝাঁপ করতে হতে পারে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): আর্থিক উপার্জনের ক্ষেত্রে মানসিক তৃপ্তি কম থাকবে। অর্থনৈতিক লাভ এবং পদোন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। তীর্থযাত্রার সম্ভাবনাও অত্যন্ত প্রবল। ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): দীর্ঘদিনের আটকে থাকা কাজ এই সময় সম্পন্ন হতে পারে। প্রফেশনাল জীবনের ক্ষেত্রে ভালো সময়। শিক্ষার্থীরদের পড়াশোনার বিষয়ে গভীর মনোযোগ প্রয়োজন। ভূমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমস্যা থাকতে পারে।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লাভবান হতে পারেন। ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থান পরিবর্তন অথবা নতুন চাকরির সুযোগও আসতে পারে। যারা চাকরি পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই সময়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): যেকোনো বাধা বিঘ্নকে ইতিবাচক হিসেবে দেখুন। ক্যারিয়ার, বাড়ি এবং কোর্ট-কাছারির বিষয়ের জন্য এই সময়টি ভালো যেতে পারে। অফিসে যথেষ্ট মান-সম্মান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সন্তান অথবা পরিবারের কোনো সদস্যকে নিয়ে সুসংবাদ পেতে পারেন।
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটে ১১ কর্মকর্তার রদবদল
দৃষ্টি নিউজ:ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গোয়েন্দা বিভাগে এবং কয়েকজনকে ট্র্যাফিক ও বিভিন্ন জোনে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি আদেশে এসব বদলি করা হয়।বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিএমপির পিওএম দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সাগর দিপা বিশ্বাসকে পিঅ্যান্ডআরএইচআরডি বিভাগে এবং আরিফা আশরাফ পিংকিকে পিওএম দক্ষিণ বিভাগে বদলি করা হয়েছে।অন্য এক আদেশে ট্র্যাফিক শাহবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মেহেদি হাসান শাকিলকে নিউ মার্কেট জোনে, নিউ মার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাসিম এ গুলশানকে গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগে এবং মো. নাদিম হায়দার চৌধুরীকে ট্র্যাফিক শাহবাগ জোনে বদলি করা হয়েছে।এছাড়া সহকারী পুলিশ কমিশনার মিস স্বপ্না বেগমকে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগে, ওই বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মনোয়ার আকতার রিফাতকে ট্র্যাফিক শেরেবাংলা নগর জোনে, দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুলকে গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগে এবং ট্র্যাফিক শেরেবাংলা নগর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেনকে দারুসসালাম জোনে বদলি করা হয়েছে।আরও বদলি করা হয়েছে ট্র্যাফিক লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহতাব হোসেনকে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগে এবং পেট্রোল-লালবাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. তারেকুল ইসলামকে ট্র্যাফিক লালবাগ জোনে।আদেশে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক
দৃষ্টি নিউজ:আগামী বছরের (২০২৭ সালের) ৩১ জানুয়ারি মধ্যে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)।চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি হাট ও বাজারের স্থায়ী শেড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন বাজারে নির্মিত চার-পাঁচতলা ভবনের ছাদের আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।এতে আরও বলা হয়েছে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান দাপ্তরিক মূল ভবন ও আওতাধীন ভবনগুলোতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ রাখতে হবে বলেও চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ বলেছে, ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়া যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় বাড়বে।‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫’ এর বিধি ১০-এর (ঙ) ও (চ) অনুযায়ী হাট ও বাজার থেকে পাওয়া ইজারার আয়ের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে এবং আরও ১০ শতাংশ উপজেলার অন্তর্গত হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়।নির্দেশনা অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হবে সংশ্লিষ্ট হাট-বাজার কর্তৃপক্ষকে।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের টানা সাত দিন ছুটির সুযোগ
দৃষ্টি নিউজ:দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী অক্টোবর মাসে সরকারি ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ৭ দিন পর্যন্ত ছুটি ভোগ করতে পারবেন। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার)। এদিন মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকবে সাধারণ ছুটি।সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি। ১৮ অক্টোবর (রোববার) মহাসপ্তমী এবং (১৯ অক্টোবর) সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে এই ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন তারা।১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটি এবং ২০ ও ২১ অক্টোবরের সরকারি ছুটি মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা চারদিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন।২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এক দিনের ছুটি নিতে পারলে এরপরের দুইদিনের সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। ফলে, সব মিলিয়ে একটানা ৭ দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য।এই সুবিধা কেবল সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্য সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির এই সুযোগ থাকবে না।দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা চালু থাকতে পারে। এছাড়া, এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালুই থাকে।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাদক-জুয়া ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
দৃষ্টি নিউজ:শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ও জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। তবে কমিটিগুলো কবে গঠন করা হবে এবং এর কাঠামোতে কারা থাকবেন, বিজ্ঞপ্তিতে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত ৩০ জুন মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত কমিটির কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।এদিকে চলতি বছর প্রণীত জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এও জুয়া প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুয়ার কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আইন প্রয়োগ, সমন্বয়, তদারকি ও নীতিগত নির্দেশনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু
দৃষ্টি নিউজ:২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সশরীরে কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। এ কার্যক্রম চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে মাইগ্রেশনের ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তা চূড়ান্তভাবে জানানো হয়েছে।একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু:একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট ও সনদের কপি, এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, দুই থেকে চার কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, অনলাইন আবেদন নিশ্চায়নের কপি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর।কোন কলেজে ভর্তি ফি কত:শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিও ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান, বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন এবং বিভাগীয় শহর, জেলা ও মফস্বল এলাকার ভিত্তিতে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর বা বিভাগীয় শহরের প্রতিষ্ঠানে এ ফি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নেওয়া যাবে।নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদর এলাকায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে ৪ হাজার টাকা। উপজেলা ও মফস্বল এলাকার কলেজে বাংলা ভার্সনে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।ভর্তিতে ৭ শতাংশ কোটা:ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।নিশ্চায়ন করেনি ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী:গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জনকে কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।মনোনীত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে বলা হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন করেছে। তবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৪ জন নিশ্চায়ন না করায় প্রথম ধাপের ভর্তি থেকে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, যারা নিশ্চায়ন করেনি, তাদের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন তাদের ভর্তির জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে।তিনি বলেন, প্রথম ধাপে নির্বাচিত ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি শেষ হওয়ার পর আবার আবেদন নেওয়া হবে। তখন যারা প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন করেনি, তারা নতুন করে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পাবে।
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন
দৃষ্টি রিপোর্ট:বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমান এমপি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন। বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছেন। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, জ্বালানির চরম সংকটে মানুষ অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে। আপনারা জনগনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেননি। আট দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যেজোটের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের অংশ হিসেবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি আট দফা মেনে না নেয়, জনগণের প্রয়োজনে জনদাবির মুখে তা এক দফায় রূপান্তর করা হবে।তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট এ লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে। জনতার যৌক্তিক দাবি না মানলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অব্যাহত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি ।এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি এবং টাঙ্গাইল জেলার এনসিপি নেতা রাসেল আহমেদ, তুষার আহমেদ সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা।
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পোল্ট্রি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৃষ্টি রিপোর্ট: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরা। তাদের টিকিয়ে রাখা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সদরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন-২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, পোল্ট্রি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় কমানো, মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে খামারিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তারাও সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্রোটিন পাবেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনেছেন, যাতে তারা কৃষির মতো সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা পেতে পারেন।নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরে টুকু বলেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ও ওষুধ ব্যবহারে সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। ভেজাল খাদ্য ও মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আয়োজিত কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাকিল আহমেদ এবং বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ফিয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন
দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইলে শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে রশিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দণ্ডিত আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ ওই রায় দেন। এছাড়াও আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত রশিদ মিয়া (৫৫) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামি যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভিকটিমকে দেওয়া হবে। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়ার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমান অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরো বলেন, যৌননিগ্রহের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা আসামি রশিদ মিয়া, তাকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেন এবং শিশুর ভরনপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে প্রকাশ করেন। শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরনপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ পূর্বক ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন আদালত।টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। এসময় প্রতিবেশি(সম্পর্কে দাদা) দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে। পরে শিশুটিকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং জোর পূর্বক যৌননিগ্রহ চালায়। এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে শিশুটি তার মায়ের কাছে যৌননিগ্রহের কথা খুলে বলে। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভিকটিম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দণ্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ভিকটিমের কন্যা সন্তানের পিতা বলে নিশ্চিত হয়।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬