জাতীয়
মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ও আর্থিক অনুদান বেড়েছে
দৃষ্টি নিউজ:বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের মাসিক সম্মানি ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রদেয় বিশেষ অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সুরক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ও কল্যাণ আরও জোরদার করতেই সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।নতুন হার অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। এছাড়া তারা উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা পাবেন। এছাড়া শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও মাসিক ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
০৪ আগস্ট ২০২৬
যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে
দৃষ্টি নিউজ:যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম। বোর্ড সদস্যরা সশরীরে এবং ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাবের ওপর মতামত দেন।বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু সাইটে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি ইজারা দেওয়া হবে। সেখানে ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।সভার শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বোর্ডের আলোচ্যসূচি এবং পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পরে বোর্ড সদস্যরা বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।এ ছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন আরও কার্যকর করতে পুনর্বাসন ভিলেজে ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বহাল এবং সেতু নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণায় দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে সেন্টার ফর ব্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (সিবিআরটি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমূলক সুবিধা আরও যুগোপযোগী করতে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট বিধিমালা, ২০১০’-এ ‘বার্ষিক বৃত্তি প্রদান’-এর পরিবর্তে ‘বার্ষিক শিক্ষা অনুদান সহায়তা’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি সময়ের দাবি এবং এ ধরনের প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মন্ত্রী বোর্ডের গৃহীত সব সিদ্ধান্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, যমুনা সেতু এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে অব্যবহৃত সরকারি জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
০৪ আগস্ট ২০২৬
গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক
লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা: সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা শনিবার (১ আগস্ট) থেকে বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। জিপিএস সংযুক্ত না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া কিংবা ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ডিভাইস সচল থাকার তথ্য বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রদর্শন করতে হবে। জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি বিবরণ বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় এবং সংস্থাটির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।
০১ আগস্ট ২০২৬
আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় তাঁতশিল্পকে সমৃদ্ধ করা হবে :: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
দৃষ্টি রিপোর্ট: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি বলেছেন, টাঙ্গাইলে তাঁতের শাড়ি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে শুধু টিকিয়ে রাখা নয়, সমৃদ্ধ করতে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার(১ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাজিতপুরে তাঁত শিল্পের উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার শুভ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এওসব কথা বলেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি উপস্থিত ছিলেন। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাঁতিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তরুণ প্রজন্মকে তাঁত শিল্পের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। তাছাড়া প্রান্তিক তাঁতিদের মূলধন হিসেবে সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা সহায়তার কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, তাঁত ডিশল্পের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন- সেই নির্দেশনার আলোকে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে আধুনিকতার পর্যায়ে আনতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, টাঙ্গাইলে শাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকার সকল ধরনের সহযোগিতা করবে। আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁত শিল্পের উৎপাদন বাড়ানোর হবে। টাঙ্গাইলে যে কোনো শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। উদ্বোধনের সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের(বাতাঁবো) চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা নবনির্মিত বাজিতপুর তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার পরিদর্শন করেন।
০১ আগস্ট ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে চালু হচ্ছে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব
লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা: যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দক্ষতায় গড়ে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের অধিকতর দক্ষ হিসেবে প্রমাণ করতে দেশব্যাপী অধিভুক্ত সব কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হতে যাচ্ছে 'ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব' (Language Club)। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষা বিশেষ করে ইংরেজি, মান্দারিন, জাপানিসহ অন্যান্য ভাষায় নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবে নিয়মিত ভাষাচর্চা ও স্পিকিং সেশন ছাড়াও পাবলিক স্পিকিং, বিতর্ক, উপস্থাপনা, বইপাঠ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, সেমিনার, কর্মশালা এবং ভাষাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সরাসরি পাঠদানের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভাষা শিক্ষার উপকরণ ব্যবহারের সুযোগও থাকবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালুর পেছনে নিজের লক্ষ্য ও স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় শুধু ভাষার দক্ষতার অভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়ে। কলেজ পর্যায়ে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো- শিক্ষার্থীদের ভেতরে থাকা জড়তা ও ভয় দূর করা, যাতে তারা সাবলীলভাবে ইংরেজি বা অন্য কোনো একটি তৃতীয় ভাষায় কথা বলা এবং ভাব প্রকাশ করতে পারে। আমরা চাই আমাদের প্রতিটি কলেজ থেকে এমন এক প্রজন্ম গড়ে উঠুক, যারা যেকোনো বৈশ্বিক পরিবেশে নিজেদের আত্মবিশ্বাসী ও সফলভাবে উপস্থাপন করতে পারবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা, যারা সাধারণত ল্যাঙ্গুয়েজ প্র্যাকটিসের পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না, এই ক্লাবগুলো তাদের ভাষিক দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে ভাষাগত দক্ষতা একটি অপরিহার্য যোগ্যতা। কলেজ পর্যায় থেকেই এ ধরনের কার্যক্রম চালু করার ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে।খুব শিগগিরই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব নিয়ে ঢাকা মহানগরের কলেজসমূহকে যুক্ত করে একটি কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
৩০ জুলাই ২০২৬
বাঘ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী :: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দৃষ্টি নিউজ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, বাঘ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী এবং জীববৈচিত্র্যের অপরিহার্য অংশ। এ প্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংরক্ষণবিষয়ক মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বুধবার(২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আয়োজিত র্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় একশ বছর আগে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। বর্তমানে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারের মতো। এ পরিসংখ্যান বাঘের অস্তিত্ব যে হুমকির মুখে রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। তিনি বলেন, আমরা যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করি এবং মানুষকে সচেতন করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে এ প্রজাতি আরও সংকটের মুখে পড়বে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৪টি বাঘ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রায় ১৫টি এবং দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় মোট প্রায় ৫০টি বাঘ রয়েছে। তিনি বলেন, বাঘ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ প্রাণী সংরক্ষণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঘ সম্পর্কে জানতে পারে এবং এর সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে। বাঘ গণনায় বরাদ্দকৃত বাজেট ও এ সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাঘ গণনার বিষয়টি বন বিভাগের আওতাধীন। এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বাধীন নয়। তবে বন বিভাগ তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার সঙ্গে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার স্যুভেনির শপ উদ্বোধন করেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহীনুর আলম, চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ-সহ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৯ জুলাই ২০২৬
শতভাগ নির্ভুল প্রতিবেদনের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা: সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন মূল্যায়নে কর্মসংস্থান, সুশাসন, নারী ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্ভুল অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৮০ দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, নগর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি এবং জনগণের জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব তথ্যভিত্তিক ও নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন- কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ক্ষমতায়ন, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং জনজীবনের উন্নয়নে গৃহীত কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে, যাতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো জরুরি। মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর অর্জন, চলমান প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবসম্মত ও তথ্যনির্ভরভাবে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে গৃহীত কার্যকর পদক্ষেপগুলোও ১৮০ দিনের অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জনকল্যাণভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। সভায় প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ দর্শনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও টেকসই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন- পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি)-এর মহাপরিচালক ড. রওশন আরা বেগম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহান, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ওয়াসাগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
২৮ জুলাই ২০২৬
ছয় বছরে তিন পিলারে আটকে আছে সেতু নির্মাণ
মু. আবিদ মল্লিক জয়: ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতা, কাজে গাফলতি ও প্রতারণার কারণে টাঙ্গাইলের নিউ ধলেশ্বরী নদীর উপর কালিহাতী উপজেলার জোকারচরে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে মুখ থুবরে পরে রয়েছে। সামান্য একটু কাজ করেই প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ঠিকাদার। ছয় বছরে মাত্র তিনটি পিলারে আটকে আছে সেতু নির্মাণ। এতে দুটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মুখ থুবরে পড়েছে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ। টাঙ্গাইল এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমে চরাঞ্চলের মাহমুদ নগরের গোল চত্ত্বর থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়েছে। জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে জোকারচরে ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মাণে এলজিইডি ৩৪ কোটি ১৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৬৪ মিটার পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে। হায়দার কন্সট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড, অবনী এন্টারপ্রাইজ ও সৈয়দ মজিবুর রহমান নামক তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয়েন্টভেঞ্চারে সেতু নির্মাণের কাজ পায়। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তাদের কার্যাদেশ (ওয়ার্কঅর্ডার) দেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা যায়- জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর বামতীরে দুইটি ও ডানতীরে একটি পিলার নির্মাণ করেই মূল ঠিকাদার মো. হেকমত আলী এলজিইডি থেকে ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৩ টাকা বিল উঠিয়ে নিয়েছেন। এলাকাবাসী জানায়, একেক সময় একেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সাইটে আসে, মাপ-ঝোক করে, ইট-রড আনে আবার চলে যায়। তারা জানেইনা সেতু নির্মাণের মূল ঠিকাদার কে? ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলজিইডির চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা। কিন্ত অংশিদারদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি, মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় দেড় বছরে তারা কাজই শুরু করেনি। কার্যাদেশ পাওয়ার দেড় বছর পর জয়েন্টভেঞ্চারের এক অংশিদার সৈয়দ মজিবুর রহমান সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ২০২১ সালে এপ্রিল তিনি ওই সেতুতে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। হঠাৎ করে অপর এক অংশিদার অবনী এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী হেকমত আলী সেই কাজ বন্ধ করে দেয় এমন অভিযোগ করেন সৈয়দ মুজিবুর রহমান। এসব ঘটনায় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। সৈয়দ মুজিবুর রহমান টাকা ফেরত চেয়ে প্রশাসনসহ বিভিন্নস্থানে চিঠি দেন। তাদের মধ্যে মামলা পাল্টা মামলা হয়। মো. হেকমত আলী অপর দুই ঠিকাদার হায়দার ও সৈয়দ মজিবুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে গাজিপুরের এক ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের কাছে কাজটি বিক্রি করে দেন। জয়েন্টভেঞ্চারের অংশিদার সৈয়দ মজিবুর রহমান বলেন, দুই অংশিদার হেকমত ও হায়দার কাজ করবেন না বলে আমাকে স্ট্যাম্পে লিখে দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করার দায়িত্ব দেয়। ২০২১ সালে এপ্রিল মাসে আমি সেখানে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করি। হঠাৎ করে এক অংশিদার হেকমত সন্ত্রাসী বাহিনী এনে আমার কাজ বন্ধ করে দেয়। সেতুর নির্মাণ সে করবে বলে জানায়। গাজিপুরের ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, হেকমত আলী তার সাথে প্রতারণা করছেন। তিনি পাইলিং সহ ওই সেতু নির্মাণে দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকা হেকমতকে দিয়েছেন। জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলেঙ্গা রিসোর্টে আটকিয়ে সব চুক্তিপত্র ফেরত নেন। তার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা ফেরত পাননি। এদিকে হেকমত সেতুর তিনটি পিলার নির্মাণ করেই ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৩ টাকা বিল উঠিয়ে নেন। ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পর হেকমত আলী আত্মগোপণে চলে যান। বন্ধ হয়ে যায় অতিগুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণ কাজ। এদিকে জনগণের যাতায়াতে ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে এলজিইডি কর্র্তৃপক্ষ চলতি বছরের ৯ মার্চ জোকারচরে ওই সেতুর নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়- ৩৪ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৯ টাকা। নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী-এলহোজ জয়েনভেঞ্চার(জেভি)। তাদের আগামী ২২ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। জোকারচর গ্রামের ইউনুস শেখ, বিদ্যুত মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাসুদ রানা জানান, সেতুটি মূলত যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথের সেতুবন্ধন। সেতুটি নির্মিত হলে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ তৈরি হবে। টাঙ্গাইল শহর সহ পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সহজেই এই সেতু দিয়ে উত্তরাঞ্চলে যেতে পারবে। এতে প্রতি ঈদে মহাসড়কে যানজটও হবেনা। বিকল্প পথ দিয়ে এলেঙ্গা যেতে পারবে। জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানার পারভীন জানান, ঠিকাদারদের একে অপরের মধ্যে মিল না থাকা ও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হয়নি। তবে তারা যতটুকু কাজ করেছিল তার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারও নির্বাচন করা হয়েছে। এবার নির্দিষ্ট সময়েই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
২৭ জুলাই ২০২৬
এই সপ্তাহের রাশিফল
দৃষ্টি নিউজ: অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনিই আপনার ভাগ্যনিয়ন্ত্রক। গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব জীবনে ভূমিকা রাখলেও আপনার সিদ্ধান্ত ও কর্মই চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে। সাহস, ধৈর্য ও সঠিক মানসিকতা আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ‘এ সপ্তাহের রাশিফল’ লিখছেন জ্যোতিষী চিন্ময় বড়ুয়া- মেষ রাশি: এ সপ্তাহে ঘর-সংসার, পারিবারিক দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য আপনার প্রধান মনোযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে এবং বাড়ির পরিবেশকে আরও আরামদায়ক করার চেষ্টা করবেন। কর্মজীবনে সৃজনশীল চিন্তা ও নেতৃত্বের গুণ আপনাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিতে পারে। আর্থিকভাবে আয়ের নতুন উৎস নিয়ে ভাবার সময় এসেছে, তবে বড় বিনিয়োগের আগে সব দিক ভালোভাবে যাচাই করুন। বন্ধু বা বড় ভাইবোনের মাধ্যমে লাভজনক সুযোগ আসতে পারে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবেগ ও বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন। স্বাস্থ্যের দিক থেকে মানসিক চাপ কমিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিনের কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি দেখা দিতে পারে। সপ্তাহের শেষভাগে পারিবারিক সমর্থন ও নিজের বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে। বৃষ রাশি: চলতি সপ্তাহে ভ্রমণ, জ্ঞানার্জন এবং কর্মজীবনের অগ্রগতি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ছোট ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ বা নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, ফলে নতুন দায়িত্ব বা নেতৃত্বের সুযোগ আসতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় ভবিষ্যতে লাভজনক হতে পারে। পরিবারের ছোট সদস্য বা ভাইবোনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। আর্থিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, তবে অতিরিক্ত কাজের চাপে বিশ্রাম অবহেলা করবেন না। কোনো পুরোনো পরিকল্পনা আবার সক্রিয় হতে পারে এবং ধৈর্যের সঙ্গে এগোলে ইতিবাচক ফল মিলবে। সপ্তাহের শেষভাগে আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতা আপনার সাফল্যের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠবে। মিথুন রাশি: অর্থনৈতিক বিষয়, আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব পড়বে। নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে অথবা পূর্বের কোনো প্রচেষ্টার আর্থিক ফল হাতে আসতে পারে। নিজের দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। কর্মক্ষেত্রে যুক্তিবোধ ও বিশ্লেষণক্ষমতা আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। পরিবারে আর্থিক পরিকল্পনা বা সম্পদ-সংক্রান্ত আলোচনা হতে পারে। ব্যক্তিগত সম্পর্কে আন্তরিকতা বজায় রাখলে ভুল–বোঝাবুঝি সহজেই দূর হবে। স্বাস্থ্যগতভাবে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া উপকারী হবে। শিক্ষার্থী ও গবেষণার সঙ্গে যুক্তদের জন্য এটি মনোযোগ বৃদ্ধির সময়। সপ্তাহের শেষদিকে নতুন কোনো পরিকল্পনা বা বিনিয়োগের সুযোগ এলেও তাড়াহুড়া না করে বাস্তবতা যাচাই করুন। বিচক্ষণতা ও ধৈর্য বজায় রাখলে এই সময় ভবিষ্যতের আর্থিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করবে। কর্কট রাশি: সপ্তাহটি আপনার জন্য আত্মপ্রকাশ, নতুন সূচনা এবং ব্যক্তিগত উন্নতির সময়। আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং নিজের সিদ্ধান্তের ওপর দৃঢ়তা অনুভব করবেন। কর্মজীবনে নতুন দায়িত্ব বা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ আসতে পারে, যা ভবিষ্যতের উন্নতির পথ খুলে দেবে। ব্যক্তিত্বের আকর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া পাবেন। পরিবার ও প্রিয়জনের কাছ থেকে মানসিক সমর্থন লাভ করবেন, যদিও অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযম বজায় রাখা জরুরি। বিদেশ, গবেষণা বা আধ্যাত্মিক বিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে পারে। স্বাস্থ্য মোটামুটি অনুকূলে থাকবে, তবে অতিরিক্ত আবেগ বা দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলা ভালো। অবিবাহিতদের জন্য নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে এবং দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে। সপ্তাহের শেষভাগে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আগামী কয়েক মাসের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনা করে এগিয়ে যান। সিংহ রাশি: ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক শান্তি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সুযোগ পাবেন এ সপ্তাহে। কিছু কাজ নীরবে সম্পন্ন করাই আপনার জন্য বেশি ফলপ্রসূ হবে। বিদেশ, ভ্রমণ, গবেষণা বা আধ্যাত্মিক বিষয়ে আগ্রহ বাড়তে পারে এবং একান্তে সময় কাটানোর ইচ্ছাও বৃদ্ধি পাবে। কর্মক্ষেত্রে পর্দার আড়ালে করা পরিশ্রম ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি এনে দিতে পারে। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযম প্রয়োজন, বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা এড়িয়ে চলুন। পরিবারের সদস্যদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ মানসিক প্রশান্তি দেবে। স্বাস্থ্যগতভাবে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করুন। পুরোনো কোনো অসমাপ্ত কাজ শেষ করার সুযোগ আসতে পারে। সপ্তাহের শেষ দিকে নতুন পরিকল্পনা তৈরি হলেও তা ধীরে ও বাস্তবসম্মতভাবে এগিয়ে নেওয়াই শ্রেয়। ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ এই সপ্তাহে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি হবে। কন্যা রাশি: এই সপ্তাহে বন্ধু, সামাজিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের দিকে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাবে। নতুন পরিচিতি ভবিষ্যতে কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দলগত কাজ বা কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলে আপনার মতামত গুরুত্ব পাবে। দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা পূরণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আর্থিকভাবে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ এলেও পরিকল্পিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। ব্যক্তিগত সম্পর্কে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। কর্মক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব বা পদোন্নতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, তবে অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে বিশ্রাম যেন অবহেলিত না হয়। সপ্তাহের শেষভাগে কোনো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বা প্রস্তাব আপনার ভবিষ্যতের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। ইতিবাচক মানসিকতা ও সহযোগিতার মনোভাব আপনাকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে। তুলা রাশি: কর্মজীবন, সামাজিক মর্যাদা এবং দায়িত্বের বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে এ সপ্তাহে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার সুযোগ রয়েছে, তাই প্রতিটি কাজ মনোযোগ দিয়ে সম্পন্ন করুন। নতুন দায়িত্ব, পদোন্নতি বা কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। অর্থনৈতিক দিক স্থিতিশীল থাকলেও ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করা উচিত। অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ আপনার জন্য উপকারী হবে। স্বাস্থ্যগতভাবে কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। যারা নতুন পেশাগত উদ্যোগ শুরু করতে চান, তাদের জন্য সময়টি সম্ভাবনাময়। সপ্তাহের শেষভাগে আপনার পরিশ্রমের মূল্যায়ন হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাবে। আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলাই হবে আপনার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বৃশ্চিক রাশি: উচ্চশিক্ষা, ভ্রমণ, নতুন অভিজ্ঞতা এবং জীবনের দর্শন নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। দূরযাত্রা, বিদেশ-সংক্রান্ত কাজ বা উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় অগ্রগতি হতে পারে। নতুন কোনো বিষয় শেখা বা দক্ষতা অর্জনের আগ্রহ বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং মানসিক প্রশান্তি লাভ করবেন। আর্থিকভাবে বড় ঝুঁকি না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিন। পরিবারে প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো উপকারী হবে। স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো থাকবে, তবে ভ্রমণের সময় খাবার ও বিশ্রামের প্রতি সচেতন থাকুন। সপ্তাহের শেষভাগে নতুন সুযোগ আপনার সামনে আসতে পারে, যা ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেবে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছাই এই সপ্তাহে আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ। ধনু রাশি: কর্মজীবনে পরিবর্তন, নতুন দায়িত্ব এবং আর্থিক বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত রয়েছে। যৌথ সম্পদ, কর, বিমা, ঋণ বা বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ের সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কোনো কাজ বা আর্থিক বিষয় ধীরে ধীরে এগোতে শুরু করবে। ব্যক্তিগত সম্পর্কে আন্তরিকতা ও বিশ্বাস বজায় রাখলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। স্বাস্থ্যগতভাবে নিয়মিত জীবনযাপন ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি। মানসিকভাবে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা পাবেন এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন। সপ্তাহের শেষভাগে কোনো অপ্রত্যাশিত সুযোগ ভবিষ্যতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত এই সপ্তাহে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি হবে। মকর রাশি: দাম্পত্য জীবন, অংশীদারত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে নতুন এই সপ্তাহে। জীবনসঙ্গী বা ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে, যা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়ক হবে। একসঙ্গে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কর্মক্ষেত্রে নতুন চুক্তি, সমঝোতা বা সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। যোগাযোগের দক্ষতা আপনার অন্যতম শক্তি হয়ে উঠবে এবং বহুদিনের ভুল–বোঝাবুঝির অবসান ঘটতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে, তবে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্যের মতামত বিবেচনা করা ভালো। স্বাস্থ্যগতভাবে অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত বিশ্রাম নিন। সপ্তাহের শেষ দিকে নতুন সম্পর্ক বা পেশাগত সহযোগিতা দীর্ঘ মেয়াদে ইতিবাচক ফল দিতে পারে। ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক বিশ্বাসই এই সপ্তাহে আপনার সাফল্যের মূল ভিত্তি হবে। কুম্ভ রাশি: মাসের শেষ এই সপ্তাহে দৈনন্দিন কাজ, স্বাস্থ্য এবং কর্মজীবনের শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততা বাড়লেও পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে ভালো ফল পাবেন। সহকর্মীদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং পুরোনো কোনো সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্বাস্থ্যগতভাবে খাদ্যাভ্যাস, ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়ামের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। ছোটখাটো শারীরিক অসুবিধা অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। আর্থিকভাবে নিয়মিত আয়ের প্রবাহ বজায় থাকবে, তবে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যাঁরা চাকরি পরিবর্তন বা নতুন কর্মক্ষেত্রের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত রয়েছে। সপ্তাহের শেষভাগে নিজের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ আসবে, যা ভবিষ্যতে বড় সাফল্যের পথ খুলে দিতে পারে। নিয়মানুবর্তিতা ও অধ্যবসায় এই সপ্তাহে আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ হবে। মীন রাশি: এই সপ্তাহ আপনার জন্য সৃজনশীলতা এবং আত্মপ্রকাশের সময়। নতুন কোনো সৃজনশীল কাজ, শিল্পচর্চা বা ব্যক্তিগত প্রকল্পে সাফল্যের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেমের সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে এবং অবিবাহিতদের জন্য নতুন পরিচয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সন্তানদের শিক্ষা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কর্মজীবনে নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনী চিন্তা আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে। আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে এগোনো ভালো। স্বাস্থ্য মোটামুটি অনুকূলে থাকলেও অতিরিক্ত আবেগ বা মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন। বিনোদন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখলে মানসিক প্রশান্তি পাবেন। সপ্তাহের শেষদিকে কোনো সুখবর বা দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণের সম্ভাবনা রয়েছে। আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক মনোভাব এবং নিজের প্রতিভার সঠিক ব্যবহার এই সপ্তাহে আপনার অগ্রগতির প্রধান চাবিকাঠি হবে।
২৫ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ
দৃষ্টি নিউজ: দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং স্পিকার ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল চারটার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে এই পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েই পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। পরে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষপদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।
২৪ জুলাই ২০২৬
গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিইসির পর স্পিকারকে জামায়াতের চিঠি
দৃষ্টি নিউজ: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর আগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনকেও আলাদা চিঠি দেয় জামায়াত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার চিঠিটি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, গত ২২ জুলাই আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গোলাম পরওয়ার স্পিকারকে লেখা চিঠিতে বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি তার অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাখিল করা হলো। চিঠির অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। দল থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে কী ধরনের সাংবিধানিক বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখন স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে।
২৩ জুলাই ২০২৬
৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬১৬৫ জন
দৃষ্টি নিউজ: ৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ হাজার ১৬৫ জন প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ওয়েবসাইটে এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ৫০তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের একটি সম্ভাব্য ক্যালেন্ডার আগে থেকেই নির্ধারণ করা রয়েছে পিএসসির। ঘোষিত সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, চলতি মাসের ৩০ তারিখ (৩০ জুলাই ২০২৬) ৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারিত আছে। তবে তার আগেই ফল প্রকাশিত হলো।
২৩ জুলাই ২০২৬
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ল
দৃষ্টি নিউজ: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম আরেক দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। সোনারঅলঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। সর্বশেষ গত ২১ জুলাই সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৪৫ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪৭ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
২২ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলে ‘নজরুল বর্ষে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭ উদ্বোধন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি। বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষে আয়োজিত জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। এ সময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষ থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক। এ সময় অন্যদের মধ্যে পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. সেলিম মিঞা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুহম্মদ আজিজুল হক, জেলা কালচারাল অফিসার সেলিনা সাঈয়েদা সুলতানা আক্তার, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুণ হোসাইন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ সহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য ও শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।
০২ জুলাই ২০২৬
সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস :: ১৮৬৭ সালের আইন রহিত
দৃষ্টি নিউজ: জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এ আইনের মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ রহিতকরণ করা হয়েছে। আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং (বাজি বা পণ), বাজিকর (Bookmaker), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট, ভিপিএনসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের পর মঙ্গলবার বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ‘The Public Gambling Act, 1867’ দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো আইন এবং বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার ধরন মোকাবিলায় এটি আর যথেষ্ট নয়। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আইনটি যুগোপযোগী করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হওয়ায় নতুন আইনটি আনা হয়েছে। নতুন আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৪ ধরনের অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা, অনলাইন বেটিং, জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ বা ব্যবহার, জুয়ার সামগ্রী প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বিক্রি, বিতরণ বা ব্যবহার, বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং, জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস বা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা এবং জুয়ার অর্থ লেনদেন, অর্থপাচার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার। আইনে সাধারণ জুয়ার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অনলাইন বেটিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও চার লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট ভবন, কক্ষ, যানবাহন, সার্ভার অবকাঠামো বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রি, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং আদালতের মাধ্যমে এসব সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন। একইভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রতিশ্রুতি, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটিকে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস, ক্লাউড অবকাঠামো বা কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টা করলে তা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate Offence) হিসেবে গণ্য হবে। আইনে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি, করপোরেট সংস্থা, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার, পেমেন্ট গেটওয়ে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, অংশীদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করা যাবে, যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে অপরাধটি তার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে এবং তা প্রতিরোধে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিকেও পৃথকভাবে অভিযুক্ত করা যাবে এবং আদালত প্রয়োজনে তাদের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করতে পারবেন। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির দ্বিগুণ পর্যন্ত দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ, সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, ডিভাইসসহ অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে, অন্য অপরাধের বিচার হবে এখতিয়ারসম্পন্ন ফৌজদারি আদালতে। আইনের অধীন সব অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টরের নিচের পদমর্যাদার কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করা যাবে। এছাড়া সরকার বা সরকার-নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে জুয়া বা বেটিং-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, ইউআরএল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ, চ্যানেল এবং ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম ব্লক, অপসারণ বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। জুয়ার অর্থে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস, পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট বন্ধের নির্দেশও আদালত দিতে পারবেন। পাশাপাশি জুয়া, অনলাইন জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে একটি জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ প্রণয়ন, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম বাস্তবায়ন, বায়োমেট্রিক ও ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালু এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, নতুন এই আইন কার্যকর হলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে কার্যকর আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৩০ জুন ২০২৬
মাছ চাষে বিশ্বসেরা পাঁচে বাংলাদেশ
দৃষ্টি নিউজ: ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশের অবস্থানও ধরে রেখেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্য ও মৎস্যচাষ খাতে মোট উৎপাদন রেকর্ড ২৩ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জলজ প্রাণীর উৎপাদন ছিল ১৯ কোটি ৫০ লাখ টন এবং শৈবালের উৎপাদন ৪ কোটি টন। ২০২২ সালের তুলনায় মোট উৎপাদন বেড়েছে ৫.২ শতাংশ। এ উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট উৎপাদনের ৬৭ শতাংশ এসেছে সামুদ্রিক জলসীমা থেকে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ এবং ৪৯ শতাংশ মৎস্যচাষ থেকে এসেছে। বাকি ৩৩ শতাংশ উৎপাদন হয়েছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে, যার ৮৪ শতাংশই পাওয়া যায় মৎস্যচাষ থেকে। বিশ্বের মৎস্য ও জলজ চাষ উৎপাদনে এখনো শীর্ষস্থানে রয়েছে এশিয়া। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৭৬ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল ৮ শতাংশ, ইউরোপ ৭ শতাংশ, আফ্রিকা ৬ শতাংশ, উত্তর আমেরিকা ২ শতাংশ এবং ওশেনিয়া ১ শতাংশ। ২০২৪ সালে জলজ প্রাণির উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৯ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছায়। এর ৫৩ শতাংশ এসেছে মৎস্যচাষ থেকে এবং ৪৭ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ থেকে। এই উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। মোট জলজ প্রাণি উৎপাদনের ৬১ শতাংশ বা ১১ কোটি ৮০ লাখ টন এসেছে সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে। বাকি ৩৯ শতাংশ বা ৭ কোটি ৭০ লাখ টন এসেছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে। অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে ২০২৪ সালে ২২ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে শীর্ষে ছিল ভারত। ১৪ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্যচাষ খাতে উৎপাদন রেকর্ড ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছেছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। মোট উৎপাদনের মধ্যে জলজ প্রাণী ১০ কোটি ৩০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর শৈবাল উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৯০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্বের মোট মৎস্য উৎপাদনের ৯২ শতাংশই হয়েছে এশিয়ায়। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং ওশেনিয়া। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশ হল- চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। এসব দেশ বিশ্বের ৮৪ শতাংশ মাছ উৎপাদন করেছে। ২০২৪ সালে জলজ প্রাণীর চাষও রেকর্ড ১০ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এটি বৈশ্বিক জলজ খাদ্যের চাহিদা মেটাতে এই খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টিই তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে মাছ উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। দেশটি বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫৬ শতাংশের জোগান দিয়েছে। এরপর রয়েছে ভারত ১২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৩ শতাংশ। এই পাঁচ দেশ মিলে মোট উৎপাদনের ৮২ শতাংশ সরবরাহ করেছে। মৎস্যচাষে উৎপাদিত জলজ প্রাণীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯ শতাংশই ছিল পাখনাযুক্ত মাছ। ৯ শতাংশ ছিল খোলসযুক্ত জলজ প্রাণি। আর বাকি অংশ ছিল জলজ কচ্ছপ, ব্যাঙ, মোলাস্ক ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণি। সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্যচাষে ২০২৪ সালে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন জলজ প্রাণি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ ছিল মোলাস্ক, ২৪ শতাংশ পাখনাযুক্ত মাছ, ২২ শতাংশ খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী এবং ২ শতাংশ অন্যান্য সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণি।
২৭ জুন ২০২৬
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে
দৃষ্টি নিউজ: দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা বা ভিশন নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় এই মহাপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে- যার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বমানের যোগ্য নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে সম্পূর্ণ কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা। মঙ্গলবার(১৬ জুন) ঢাকায় র্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন’ আয়োজিত ক্যামব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। শিক্ষা ব্যবস্থার এই আমূল রূপান্তরের জন্য প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ চারটি মূল স্তম্ভ এবং একটি আধুনিক উপাদানের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এখন থেকে কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং বিভিন্ন শিক্ষা ধারার সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক শিক্ষা এগোবে। এর সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের (ফিউচার জবস) উপযোগী বিশেষ শিক্ষা। বর্তমানে দেশে মাদ্রাসা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৭টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা ধারা বিদ্যমান রয়েছে। এই ব্যবস্থার সংস্কার এনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে, যাতে প্রতিটি শিশু মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে সমমানের সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের বৈষম্য পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে। শিক্ষার এই গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি যোগ্য শিক্ষক ছাড়াও কোনো কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা চলতে পারে না। দেশের বিপুলসংখ্যক প্রাথমিক শিক্ষকের জন্য বিশ্বমানের আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে ক্যামব্রিজের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে সরাসরি কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৬ জুন ২০২৬
ঢাকার সড়কে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন করার নির্দেশ
দৃষ্টি নিউজ: যানজট নিরসনে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে সড়কে দ্রুত এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। বৈঠকের বরাতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ঢাকার যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বৈঠক। ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে দ্রুত এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের বলেছেন। এছাড়া রাজধানীর পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনগুলো সরানোর বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে চালু থাকা সিগন্যাল লাইট পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘন হলেই সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে গাড়ির মালিককে। ফলে, এসব সড়কে যান চলাচলে পর্যায়ক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে এবং যানজট সমস্যাও কমছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ জুন ২০২৬
পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজিরকে আটক করেছে দুবাই পুলিশ :: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দৃষ্টি নিউজ: পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাই পুলিশ আটক করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (১৪ জুন) বিকালে সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ মে বেনজীর আহমেদ দেশ ছেড়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে, সেদিন তিনি কোন দেশে গিয়েছিলেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। এরপর থেকে লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন সাবেক এ আইজিপি। বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় র্যাবের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এই বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন। যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। যুক্তরাষ্ট্র যখন নিষেধাজ্ঞা দেয়, তখন আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন বেনজীর আহমেদ।
১৪ জুন ২০২৬