খবর আর্কাইভ

তদন্ত কমিটি গঠন ও ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ

তদন্ত কমিটি গঠন ও ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের বাসাইলে এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জালিয়াতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সাথে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই ভেঙে নতুন করে কাজ করার অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর ও টাঙ্গাইল এলজিইডি’র পক্ষ থেকে গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। মঙ্গলবার(২২ সেপ্টেম্বর) দিনভার প্রকল্প এলাকায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন ও অংশীজনদের মতামত-বক্তব্য গ্রহণ করেছে।এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর কর্তৃক গঠিত ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাকিল হোসেন ও একই দপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকিউল আলম। টাঙ্গাইল এলজিইডি কর্তক ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- টাঙ্গাইল এলজিইডি ভবনের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. তৌহিদুর রহমান(আহ্বায়ক), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী ইফতেখার আহম্মেদ(সদস্য সচিব), টাঙ্গাইল এলজিইডি ভবনের সহকারী প্রকৌশলী সাকিব-উল-হাফিজ(সদস্য), উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান(সদস্য) ও ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. আলোব্বর হোসেন(সদস্য)। এছাড়াও বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকেও ৩ সদস্যের পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর) গঠিত তদন্ত কমিটি তিনটিকেই আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ‘বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া সড়কে ৯০.০৬ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজ’ নির্মাণ কাজ চলছে। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ যৌথভাবে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মো. ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেভি)’।অভিযোগ উঠেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলা প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে না জানিয়ে অন্ধকারে তড়িঘড়ি করে ব্রিজের ঢালাই কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ঢালাইয়ের ভেতর রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাইল উপজেলা প্রকৌশলী ফাত্তাউর রহমান উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে শো’কজ করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এই অনিয়মের খবর গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে অবহিত না করে রাতের অন্ধকারে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত।নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পত্র প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে ওই ত্রুটিপূর্ণ ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ঢালাই ভেঙে সাইট থেকে অপসারণ করতে হবে। পরবর্তীতে ল্যাবের গুণগত মালামাল এনে উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নিয়ম মোতাবেক পুনরায় ঢালাই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ঠিকাদারি চুক্তি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৮ মিনিট আগে

'জাগ্রত কাতুলী ইউনিয়ন'-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

'জাগ্রত কাতুলী ইউনিয়ন'-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সামাজিক সংগঠন ‘জাগ্রত কাতুলী ইউনিয়ন’-এর ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। রোববার(২০ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়স্থ ‘ফুড গার্ডেন অ্যান্ড পার্টি সেন্টার’-এ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সংগঠনের সভাপতি মো. আব্দুল কাদের খান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম খানের স্বাগত বক্তব্য মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মো. আব্দুল কাদের খান।কেক কাটার আগে পরিচয় পর্ব সাথে মুক্ত আলোচনা হয়। মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা।তিনি বলেন, আমরা শুধু মানুষের কল্যাণে যেহেতু কাজ করবো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াবো। সাধ্যমত চেষ্টা করব পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাতুলীর উন্নয়নের জন্য পাশে থাকবো একই সাথে সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নেবো। এছাড়া বর্তমান সময় হচ্ছে গাছ লাগানোর সময়, আমরা গাছ লাগানো কর্মসূচি পালন করতে পারি।সভায় বক্তারা সংগঠনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনে এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক সেবামূলক কাজে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর খান।সংগঠন ও দেশের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের নিয়ে ১ম বর্ষপূর্তির কেক কাটা হয়। শেষে নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

২৩ ঘণ্টা আগে

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ৪ জনের যাবজ্জীবন

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ৪ জনের যাবজ্জীবন

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিন জনের মৃত্যুদণ্ড এবং চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন জনাকীর্ণ আদালতে ওই রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সানিয়াত খান বাপ্পা(৩০) টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়ার সাবেক এমপি আতাউর রহমান খানের ছোট ছেলে এবং সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ভাই। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হচ্ছেন- শহরের কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ ফকির(২৫) ও সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া(৩১)। তারা প্রত্যেকেই পলাতক রয়েছেন।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন হচ্ছেন- সদর উপজেলার কাঠুয়া যুগনী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মো. সুজন(৩২), দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন(৩৪)। তারা দুজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শহরের চর কাগমারা(উত্তর কাইয়ামারা) এলাকার মো. নুরুল ইসলাম ওরফে নিলু বাবুর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম শফিক(২৫) ও সদর উপজেলার ছিটকিবাড়ি গ্রামের মো. নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ওরফে ইমন(২৫) পলাতক রয়েছে। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সদর উপজেলার দাইন্যা চৌধুরী গ্রামের অমূল্য ঘোষের ছেলে হাজতী সঞ্জিত ঘোষকে এ মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই আওয়ামী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং টাঙ্গাইলের বিতর্কিত খান পরিবারের কর্মী-সমর্থক।আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর(সরকারি কৌঁসুলী) মোহাম্মদ সাইদুর রহমান স্বপন মামলার নথি সূত্রে জানান, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের তিন বারের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে শহরের আকুরটাকুর এলাকায় প্রাতঃভ্রমণে (হাঁটতে) বের হন বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফারুক। তিনি আকুরটাকুর বটতলা কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছলে একদল সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এই হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২১ ডিসেম্বর নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।পুলিশ ঘটনার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়। তবে এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডি পুলিশ পুনরায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সিআইডির অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানির পর সোমবার দুপুরে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে শহরে আনন্দ মিছিল বের করে। মিছিলটি আদালত চত্তর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে দাইন্যা ইউপি চেয়ারম্যান ও মামলার বাদী মো. লাভলু মিয়া, নিহত রফিকুল ইসলাম ফারুকের ছেলে অনিক সহ অন্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবী একেএম শামিমুল আকতার শামিম সহ অন্যরা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাচ্ছে ইজিবাইকের পেটে!

টাঙ্গাইলে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাচ্ছে ইজিবাইকের পেটে!

বুলবুল মল্লিক:টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ। একবার বিদ্যুৎ গেলে ৩-৪ ঘণ্টা পর আসে, আর আসলেও তা স্থায়ী হয় মাত্র আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা। এই তীব্র গরমে একদিকে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ, অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে স্থানীয় কলকারখানাগুলোতে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকলেও প্রতি মাসে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভুতুড়ে বিল।অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার এই ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক। বিদ্যুৎ বিভাগ ও গ্যারেজ মালিকদের তথ্যমতে, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাধারণত ১৫ অ্যাম্পিয়ারের ৪ থেকে ৫টি ব্যাটারিতে চলে। এসব ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ থেকে দেড় ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে একটি অটোরিকশার ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করতে দৈনিক ৮ থেকে ১২ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ লাগে।টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় চলাচলকারী প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রতিদিন গড়ে ৭ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। মেগাওয়াটের হিসাবে যার পরিমাণ ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রায় দুটি উপজেলার দৈনিক চাহিদার কাছাকাছি। প্রতিদিন রাত ৮টার পর যখন বিদ্যুতের জাতীয় চাহিদা (পিক আওয়ার) সবচেয়ে বেশি থাকে, ঠিক তখনই জেলার বিভিন্ন গ্যারেজে সারি সারি অটোরিকশা চার্জে বসানো হয়। শ’ শ’ যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর তীব্র বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে- যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীনে টাঙ্গাইল সদরের তিনটি ফিডারে (বৈল্লা, কচুয়াডাঙ্গা ও ময়মনসিংহ রোড) মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ জন। এখানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১০০ থেকে ১১০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট (চাহিদার ৪১ শতাংশ) বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতির মাঝেই কেবল পিডিবির আওতাধীন এলাকাতেই দৈনিক ৩৩ হাজারেরও বেশি ব্যাটারিচালিত যান চার্জ দেওয়া হচ্ছে- যার মধ্যে শহর ও আশপাশের এলাকায়ই রয়েছে ১৫ হাজার যান।অন্যদিকে, টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকা আরও বিস্তৃত। জেলা সদরের কিছু অংশ, কালিহাতী, বাসাইল, সখিপুরের কিছু অংশ, মির্জাপুর, নাগরপুর, দেলদুয়ার এবং সিরাজগঞ্জের চৌহালীর কিছু অংশ নিয়ে গঠিত পল্লী বিদ্যুতের বিশাল অঞ্চলে মোট গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ ৫১ হাজার। এসব এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ২১০ মেগাওয়াট। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় গড়ে মাত্র ৪৭ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে প্রতিদিন ৮৫ থেকে ৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।এছাড়া দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বাসাবাড়িতে ফ্যান, লাইট ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ে। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও তখন বিদ্যুতের ব্যবহার থাকে বেশি। ঠিক সেইসময় থেকেই জেলার বিভিন্ন গ্যারেজে সারি সারি ইজিবাইক ও অটোরিকশা চার্জে বসানো হয়। অথচ চার্জিং লোড বাদ দিলে ৩০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি কমতে পারত। বেশিরভাগ অটোরিকশা গ্যারেজে চার্জ দেওয়া হলেও অনেক যান বাসাবাড়িতেও চার্জ দেওয়া হয়। ফলে দিন দিন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্বক প্রকট আকার ধারণ করছে।বিদ্যুতের এমন ভয়াবহ হাহাকারে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তাদের দাবি, পিক আওয়ারে অটোরিকশা চার্জ দেওয়া বন্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে এবং জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ না বাড়ালে জেলার শিল্পোৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবন অচিরেই সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে।টাঙ্গাইল পৌরসভার একটি স্কুলের শিক্ষক রুমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গরমে রাতে ঘুমাতে পারি না। যদি দেখা যায় এক ঘণ্টা কারেন্ট থাকে, তাহলে দুই ঘণ্টা থাকে না। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে খুবই কষ্টে আছি।’দেলদুয়ারের পাহাড়পুর গ্রামের ছরোয়ার হোসেন বলেন, ‘হিসাব ছাড়াই দিনরাত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে গ্রামের গ্যারেজ গুলোতে শ’ শ’ অটো চার্জ দেওয়া হয়। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে লোডশেডিং কমানো কঠিন হবে।’নাগরপুরের নয়াপাড়া গ্রামের অটোরিক্সাচালক ছানোয়ার বলেন, ‘সারাদিন যা আয় হয়, তার বড় অংশই চার্জিংয়ে চলে যায়। প্রতিটি গাড়ি চার্জ দিতে গ্যারেজে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দিতে হয়। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এভাবে চার্জ দিচ্ছি। কারণ এই গাড়ি দিয়ে আমাদের কর্ম করে খেতে হয়।’তবে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা এখন শহর ও গ্রামীণ এলাকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম। একই সঙ্গে হাজারও মানুষের জীবিকারও উৎস। তবে নিয়ন্ত্রণহীন চার্জিং ব্যবস্থা বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় আনা, অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন তৈরি এবং বিদ্যুতের পিক আওয়ারে চার্জিং সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।টাঙ্গাইল পিডিবির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর তালুকদার বলেন, ‘যেখান আমরা গ্রাহকদের চাহিদামত বিদ্যুৎ দিতে পারছি না। সেখানে হাজার হাজার ইজিবাইক ও অটোচার্জ দিতে প্রচুর বিদ্যুত খরচ হচ্ছে। তবে আমরা তাদের বন্ধও করতে পারছিনা। পৌর কর্তৃপক্ষ এবং বিআরটিএ সরব না হলে এগুলো বন্ধ হবে না। কারণ হাজার হাজার ইজিবাইক ও অটোরিক্সা তাদের অনুমতি(!) না নিয়েই চলাচল করছে। তবে আমরা অবৈধ লাইন নিয়ে যারা চার্জিং- এর গ্যারেজ বানিয়ে চার্জ দিচ্ছে সেখানে অভিযান পরিচালনা করছি।’

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু

দৃষ্টি নিউজ:২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সশরীরে কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। এ কার্যক্রম চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে মাইগ্রেশনের ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তা চূড়ান্তভাবে জানানো হয়েছে।একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু:একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট ও সনদের কপি, এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, দুই থেকে চার কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, অনলাইন আবেদন নিশ্চায়নের কপি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর।কোন কলেজে ভর্তি ফি কত:শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিও ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান, বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন এবং বিভাগীয় শহর, জেলা ও মফস্বল এলাকার ভিত্তিতে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর বা বিভাগীয় শহরের প্রতিষ্ঠানে এ ফি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নেওয়া যাবে।নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদর এলাকায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে ৪ হাজার টাকা। উপজেলা ও মফস্বল এলাকার কলেজে বাংলা ভার্সনে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।ভর্তিতে ৭ শতাংশ কোটা:ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।নিশ্চায়ন করেনি ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী:গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জনকে কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।মনোনীত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে বলা হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন করেছে। তবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৪ জন নিশ্চায়ন না করায় প্রথম ধাপের ভর্তি থেকে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, যারা নিশ্চায়ন করেনি, তাদের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন তাদের ভর্তির জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে।তিনি বলেন, প্রথম ধাপে নির্বাচিত ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি শেষ হওয়ার পর আবার আবেদন নেওয়া হবে। তখন যারা প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন করেনি, তারা নতুন করে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পাবে।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন বিভাগের ১২ একর জমি দখলের অভিযোগ

বন বিভাগের ১২ একর জমি দখলের অভিযোগ

দৃষ্টি রিপোর্ট:প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সুশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুর্নীতির এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুল। বিভাগীয় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য ও বিত্তবানদের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে গত এক দশকে তিনি কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এছাড়া বন বিভাগের প্রায় ১২ একর জমি দখল করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ধলিপাড়া এলাকার সাবেক ফরেস্টগার্ড মৃত ছামান আলীর ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুল নিজ এলাকায় বন বিভাগের প্রায় ১২ একর শাল বন জবরদখল করেছেন। দামি দামি গজারি গাছ কেটে সরকারি বনের সেই জমিতেই গড়ে তুলেছেন মাল্টা বাগান, গরুর খামার ও একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন। মাল্টা বাগানটি আবার লিজ দিয়েছেন স্থানীয় সাইফুল ইসলামকে। শিক্ষা প্রশাসনে নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নূর মোহাম্মদ গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী পাবনা সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা শবনম। ঢাকা ও পাবনা- এই দুই অঞ্চলের শিক্ষা প্রশাসনকে কার্যত জিম্মি করে রেখেছেন এই দুই কর্মকর্তা।অভিযোগ রয়েছে- সাধারণ শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, নিয়মবহির্ভূত পদায়ন এবং অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। বদলি ও পদোন্নতির ফাঁদে ফেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে এই সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছে।অনুসন্ধানে নূর মোহাম্মদের বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সখীপুর পৌরসভায় একাধিক বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি, অভিজাত ফ্ল্যাট ও নামীদামি ব্র্যান্ডের গাড়ির মালিক বনে গেছেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের ও বেনামে জমা রয়েছে কোটি কোটি টাকা। একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয় দিয়ে এত অল্প সময়ে কীভাবে এই পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হওয়া সম্ভব- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ শিক্ষা অধিদপ্তরের সৎ কর্মকর্তারা।এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরও ভয়ংকর অভিযোগ রয়েছে। নূর মোহাম্মদ ও শাহিদা শবনম সুকৌশলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের অনৈতিক ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিং করতেন। পরবর্তীতে সম্মানহানি ও মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে এই চক্র।লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন অনেকেই মুখ না খুললেও, সম্প্রতি তাদের এই বেপরোয়া অপকর্মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ভুক্তভোগী কতিপয় ব্যক্তি এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। ওই শিক্ষা কর্মকর্তা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় থাকলেও নির্বিকার প্রশাসন। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পার পেয়ে যাচ্ছেন তারা। তদন্ত থমকে যাওয়া কিংবা ধামাচাপা পড়ার কারণে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।এদিকে নুর মোহাম্মদ ওরফে বাবুলের মাল্টা বাগান লিজ নেওয়া সাইফুল ইসলাম জানান, আটিয়া বন অধ্যাদেশের কারণে জমির কাগজপত্রে জটিলতা রয়েছে। এ কারণে ভূমি অফিস খাজনা নিচ্ছেনা এবং এজন্যই ওই জমির উপর ব্যাংক ঋণও দিচ্ছেনা।সরেজমিনে নানাজনের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুলের সাক্ষাত না পেয়ে তার মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।কালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জামাল মিয়া জানান- নুর মোহাম্মদ নামে নয়, এলাকায় তিনি বাবুল হিসেবে পরিচিত। এলাকায় তাকে ভালো মানুষ হিসেবেই জানে। তবে বনের জায়গা দখলের বিষয়ে তিনি জানান, এতদাঞ্চলের সবারই ‘আটিয়া বন অধ্যাদেশ’র কারণে খাজনা-খারিজ(নামজারি) করতে পারছেনা।টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব জানান, বনের জয়গা জবরদখল করার এখতিয়ার কারো নেই। যদি জবরদখলের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে প্রকাশ্যে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইলে প্রকাশ্যে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

দৃষ্টি রিপোর্ট:ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দরুণ এলাকার পরিত্যক্ত একটি ফিলিং স্টেশনে রোববার(২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছুরমান রেজা নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ছুরমান রেজা সদর উপজেলার ভাটচান্দা গ্রামের হানিফ রেজার ছেলে ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য। এ বিষয়ে ছুরমান রেজার ভাই হালিম রেজা জানান, তিনি ব্যবসার পাশাপাশি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কি থেকে কি হলো কিছুই বুঝতে পারছেন না। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্বৃত্তদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মূল রহস্য জানানো যাবে।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলায় গ্রেপ্তার ১

মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলায় গ্রেপ্তার ১

মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলা চালিয়ে তিন কর্মচারীকে মারধর করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত হৃদয় খান ওরফে সেকেন্দার (২৪) উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কাবেল মিয়ার ছেলে।স্থানীয়রা জানায়, একটি ট্রাক হাটুভাঙ্গা সেতু পার হওয়ার সময় চালক টোল পরিশোধের জন্য এক হাজার টাকার নোট দেন। ওই নোটের ভাংতি দিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় চালক ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাকটি রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় টোল আদায়ের কর্মচারীরা ট্রাকটি সরিয়ে নিতে বললে চালক ও হেলপার তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা টোলকর্মীদের মারধর করেন। পরে ওই চালক আরও কয়েকজনকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে এসে টোল আদায়ের কর্মচারীদের ওপর হামলা চালান।এ সময় টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমানের স্ত্রীর বোন হামলা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানির করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমানের স্ত্রী মোছা. ফারহানা বেগম বাদী হয়ে শনিবার রাতে মির্জাপুর থানায় দুই জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।মামলায় অভিযুক্ত লাভলু ওরফে লখাইয়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর ট্রাকের চালক টোল দিতে এক হাজার টাকার নোট দিলে টোলপ্লাজার কর্মীরা ৯০০ টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাঁর চালক ও হেলপারকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।হাটুভাঙ্গা টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমান জানান, একটি কুচক্রী মহল হাটুভাঙা সেতুর টোল আদায় বন্ধ করতে নানা ধরনের পাঁয়তারা করছে। হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেও দাবি করেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাশেদ ফজল জানান, ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হৃদয় খান ওরফে সেকেন্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন

আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন

দৃষ্টি রিপোর্ট:বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমান এমপি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আপনারা জাতির সাথে বেইমানি করেছেন। বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছেন। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, জ্বালানির চরম সংকটে মানুষ অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে। আপনারা জনগনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেননি। আট দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যেজোটের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের অংশ হিসেবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি আট দফা মেনে না নেয়, জনগণের প্রয়োজনে জনদাবির মুখে তা এক দফায় রূপান্তর করা হবে।তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট এ লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে। জনতার যৌক্তিক দাবি না মানলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অব্যাহত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি ।এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি এবং টাঙ্গাইল জেলার এনসিপি নেতা রাসেল আহমেদ, তুষার আহমেদ সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উৎসবমুখর পরিবেশে টাঙ্গাইল জেলা টাইলস শ্রমিক ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ চলছে

উৎসবমুখর পরিবেশে টাঙ্গাইল জেলা টাইলস শ্রমিক ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ চলছে

দৃষ্টি রিপোর্ট: অত্যন্ত আনন্দঘন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে টাঙ্গাইল জেলা মোজাইক টাইলস, মার্বেল ও গ্রানাইড, ফিটিংস শ্রমিক ইউনিয়নের(রেজি.নং-৪২৫৬ ও ৪৬২৬) ত্রি-বার্ষিক সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। শনিবার(১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শহরের বটতলাস্থ সিঅ্যান্ডবি রোডের ইউনিয়ন কার্যালয়ে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়- যা কোনো বিরতি ছাড়াই একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।জেলা মোজাইক টাইলস, মার্বেল ও গ্রানাইড, ফিটিংস শ্রমিকদের এই শীর্ষ সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের সুবিধার্থে ইউনিয়ন কার্যালয়ে ৩টি পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে- যেখানে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত করছেন। নির্বাচন কেন্দ্র ও এর আশপাশের এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং ভোটগ্রহণের সার্বিক নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে ভোটাররা কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারছেন।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৯২২ জন। সংগঠনের মোট ৯টি সাংগঠনিক পদের মধ্যে ৬টি পদের বিপরীতে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা নিজ নিজ পক্ষে ভোটারদের রায় পেতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তৎপর রয়েছেন।অন্যদিকে, ইউনিয়নের মোট ৯টি পদের মধ্যে ৩টি সাংগঠনিক পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা হচ্ছেন- সহ-সভাপতি পদে আনিছুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. শাহব উদ্দিন এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. আজিজুল হক। বাকি ৬টি গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হচ্ছে।এবারের নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন একেএম মনিরুল হক (ভিপি মনির)। এছাড়া নির্বাচন কমিশনার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ সাইফুল ইসলাম টিটু এবং সমাজসেবক আলাউদ্দিন লিটু।নির্বাচন কমিশনাররা জানিয়েছেন, ভোটারদের সার্বিক নিরাপত্তা ও একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। পুলিশের সহায়তায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হবে এবং রাতেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে।https://youtu.be/Io1Udn06rlA

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামি দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামি দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট:মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না। জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামি দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিবে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘গত বছরের ন্যায় এবারও জিপিএ-৫ পাওয়া সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আয়োজন করেছি। আগামিতেও এ ধারা অব্যাহত রাখব ইনশাআল্লাহ। কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সবাইকে বড় স্বপ্ন দেখে তা বাস্তবায়নে মনোযোগী ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো মাদক। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।’১১ দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে সবারই কর্মসূচি পালন করার অধিকার রয়েছে। তবে জনগণ বিচার করবে তাদের এই কর্মসূচি করা ঠিক হচ্ছে কি না।’তিনি আরো বলেন, ‘সরকারপ্রধান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে খাতটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। সরকারের কোনো গাফিলতি থাকলে তারা সেটি নিয়ে কথা বলতে পারত।’অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজুয়ান সিদ্দিকীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. জোবায়দুর রহমান জনি।অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ৮৫০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। তাদের কলেজ ব্যাগ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রীও দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে ফাহাদ’স টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা ও অনলাইন শিক্ষক মো. ফাহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি, লক্ষ্য নির্ধারণ ও ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মেফতাউল আলম সিয়াম এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী জাহাঙ্গীর আলম শান্ত নিজেদের সফলতার কৌশল ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. জে আলী স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পোল্ট্রি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

পোল্ট্রি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরা। তাদের টিকিয়ে রাখা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সদরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন-২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, পোল্ট্রি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় কমানো, মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে খামারিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তারাও সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্রোটিন পাবেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনেছেন, যাতে তারা কৃষির মতো সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা পেতে পারেন।নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরে টুকু বলেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ও ওষুধ ব্যবহারে সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। ভেজাল খাদ্য ও মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আয়োজিত কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাকিল আহমেদ এবং বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ফিয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬