তদন্ত কমিটি গঠন ও ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের বাসাইলে এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জালিয়াতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সাথে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই ভেঙে নতুন করে কাজ করার অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর ও টাঙ্গাইল এলজিইডি’র পক্ষ থেকে গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। মঙ্গলবার(২২ সেপ্টেম্বর) দিনভার প্রকল্প এলাকায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন ও অংশীজনদের মতামত-বক্তব্য গ্রহণ করেছে।এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর কর্তৃক গঠিত ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাকিল হোসেন ও একই দপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকিউল আলম। টাঙ্গাইল এলজিইডি কর্তক ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- টাঙ্গাইল এলজিইডি ভবনের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. তৌহিদুর রহমান(আহ্বায়ক), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী ইফতেখার আহম্মেদ(সদস্য সচিব), টাঙ্গাইল এলজিইডি ভবনের সহকারী প্রকৌশলী সাকিব-উল-হাফিজ(সদস্য), উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান(সদস্য) ও ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. আলোব্বর হোসেন(সদস্য)। এছাড়াও বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকেও ৩ সদস্যের পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর) গঠিত তদন্ত কমিটি তিনটিকেই আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ‘বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া সড়কে ৯০.০৬ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজ’ নির্মাণ কাজ চলছে। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ যৌথভাবে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মো. ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেভি)’।অভিযোগ উঠেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলা প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে না জানিয়ে অন্ধকারে তড়িঘড়ি করে ব্রিজের ঢালাই কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ঢালাইয়ের ভেতর রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাইল উপজেলা প্রকৌশলী ফাত্তাউর রহমান উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে শো’কজ করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এই অনিয়মের খবর গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে অবহিত না করে রাতের অন্ধকারে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত।নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পত্র প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে ওই ত্রুটিপূর্ণ ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ঢালাই ভেঙে সাইট থেকে অপসারণ করতে হবে। পরবর্তীতে ল্যাবের গুণগত মালামাল এনে উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নিয়ম মোতাবেক পুনরায় ঢালাই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ঠিকাদারি চুক্তি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৮ মিনিট আগে