খবর আর্কাইভ

লাল পতাকা উড়িয়ে ট্রেন থামালেন গেটম্যান :: রক্ষা পেল বালুবাহী ট্রাক ও সহস্রাধিক যাত্রী

লাল পতাকা উড়িয়ে ট্রেন থামালেন গেটম্যান :: রক্ষা পেল বালুবাহী ট্রাক ও সহস্রাধিক যাত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাল পতাকা উড়িয়ে চলন্ত ট্রেন থামিয়ে দিয়েছেন এক রেলওয়ে গেটম্যান। এর ফলে রেললাইনে বিকল হয়ে পড়া একটি বালুবাহী ট্রাকের সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ঢাকাগামী 'সিল্কসিটি এক্সপ্রেস' ট্রেনের সহস্রাধিক যাত্রী এবং ট্রাকের চালক ও হেলপার। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে জেলার কালিহাতী উপজেলার সল্লা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেলক্রসিংয়ে এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা সেতু পার হয়ে আসা একটি বালুবাহী ট্রাক সল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বালু আনলোড করার জন্য রেলক্রসিং পার হচ্ছিল। ঠিক রেললাইনের ওপর ওঠার পরপরই হঠাৎ ট্রাকটির সামনের চাকার এক্সেল ভেঙে যায়। এতে ট্রাকটি লাইনের ওপর আটকা পড়ে সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়।ঠিক ওই মুহূর্তেই উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর 'সিল্কসিটি এক্সপ্রেস' ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার কথা ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সল্লা রেলওয়ের গেটম্যান মিজান স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত লাইনের ওপর বেশ কিছু দূর সামনে এগিয়ে যান এবং লাল পতাকা ওড়াতে থাকেন। লাল পতাকা দেখে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক (লোকোমোটিভ মাস্টার) দ্রুত ব্রেক চেপে দুর্ঘটনাস্থলের ঠিক কাছাকাছি এসে ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হন।এদিকে ট্রেনটি থামার পর রেললাইনে আটকে থাকা ট্রাকটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়। প্রথমে অন্য একটি ট্রাক এনে সেটির সাথে দড়ি বেঁধে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিকে টেনে সরানোর চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে সল্লা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে থাকা একটি মাটি কাটার ভেকু (ব্যাকহো) মেশিন ঘটনাস্থলে আনা হয়। ভেকু মেশিন দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটিকে রেললাইন থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া হয়। লাইন নিরাপদ হওয়ার পর এদিন দুপুর ১২টার দিকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।এ বিষয়ে রেলওয়ে গেটম্যান মিজান জানান, উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে একটি বড়সড় ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন ও যাত্রীদের রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় ট্রেন বা রেললাইনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

৪ ঘণ্টা আগে

এ সপ্তাহের রাশিফল

এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন।পাশ্চাত্য রাশিচক্রমতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন-জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন:মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০এপ্রিল): কোনো ধরনের অলসতা ও দীর্ঘসূত্রিতাকে প্রশ্রয় দেবেন না। এ সপ্তাহে ব্যবসায়িক ও অংশীদারি কাজে সফলতা পাবেন। সৃজনশীল কাজে যুক্তদের জন্য ভালো সময়। কোনো আত্মীয়-স্বজনের অসুস্থজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকুন। সামগ্রিক বিষয়ে সফলতার জন্য ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধি করুন। প্রতিটি কাজকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করুন।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে): খামখেয়ালিপনার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। জীবন সম্পর্কে নতুন ধ্যান ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা করুন। ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায় যুক্তদের জন্য অনুকূল সময়। দৈনন্দিন জীবনে ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রবাসীদের কাজের জায়গায় সাফল্য লাভের সম্ভাবনা আছে। শারীরিকভাবে চাঙা থাকবেন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। রোমান্স শুভ। সহকর্মীর সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখুন।মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন): অস্থির ও অতি উৎসাহী লোকজনের কাছ থেকে দূরে থাকুন। শারীরিক ও মানসিক দিকে আনন্দে থাকার চেষ্টা করুন। ব্যবসায়িক কাজে সফলতা পাবেন। আর্থিক বিষয়ে সফলতা আসার সম্ভবনা আছে। পারিবারিক সম্পর্ক ভালো যাবে। বেসরকারি চাকরিজীবীরা কর্মস্থলে ভালো সংবাদ পেতে পারেন। মানসিক প্রশান্তির জন্য বিনোদনমূলক কাজে সময় কাটান।কর্কট রাশি (২২ জুন-২৩ জুলাই): মনোযোগ ও ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি কাজ করার চেষ্টা করুন। স্পষ্টবাদিতার জন্য ভুল বোঝাবুঝির পরিবেশ তৈরি হতে পারে, সেদিকে বিশেষ সচেতন হোন। পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন ভালো যাবে। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একটু সময় নিন। অর্থ বিনিয়োগে সতর্ক থাকুন। প্রতিটি কর্ম প্রচেষ্টায় আন্তরিক থাকার চেষ্টা করুন।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট): পরিচিত পরিমণ্ডলে যোগাযোগ বাড়বে। প্রতিটি কাজ পরিকল্পনা ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিয়ে এগিয়ে চললে আপনি সফলতা পাবেন। অস্থিরতা, হতাশাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আশাবাদী মনোভাবকে আরো উজ্জীবিত করুন। পারিবারের সদস্যদের প্রতি মনোযোগী হোন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। রোমান্স শুভ।.কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর): কল্পনা ও আবেগ নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করুন। সিদ্ধান্তহীনতার জন্য সাফল্য লাভে বঞ্চিত হতে পারেন। পরিবর্তনশীল মানসিকতা ও অলসতা পরিহার করুন। শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য কিছুক্ষণ নীরবে ধ্যান করুন। ব্যবসায়িক লেনদেনে সফলতা পাবেন। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন। বৈদেশিক সূত্রে লাভবান হতে পারেন।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর): অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ আপনাকে অবসন্ন করতে পারে। আপনার পেশায় আগ্রহী নয়, এমন ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলুন। জীবনসঙ্গী/প্রিয়জনের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে তুলার চেষ্টা করুন। পারিবারিক জীবনে সমালোচনা ও খুঁতখুঁতে মানসিকতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কর্মজীবনে সফলতা পাবেন। শারীরিক বিষয় নিয়ে যথেষ্ট সচেতন থাকার চেষ্টা করুন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর): আপনার কর্মউদ্যম ও কর্মস্পৃহা বাড়বে। কাজে ও পরিকল্পনায় সফলতা পাবেন। তবে আপনার সেন্টিমেন্ট ও খামখেয়ালিপনা পারিবারিক জীবনের শান্তির অন্তরায় হতে পারে। আপনার রোমান্টিকতার জন্য বিপরীত লিঙ্গ আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে। তবে আপনাকে প্রতিটি বিষয়ে সহনশীল ও কুশলী হতে হবে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর): সৃজনশীল কাজে সফলতা পাবেন। আর্থিক যোগাযোগ শুভ। প্রিয়জনের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আন্তরিকতা বাজায় থাকবে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত যোগাযোগ শুভ। দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি পাবেন। পরিবার পরিজনের কাছে আপনার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। নিজেকে সমৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার চেষ্টা করুন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্রয় দেবেন না।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি): সবদিক থেকে আপনার যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সফলতা আসার সম্ভবনা আছে। পারিবারিক জীবনে কোনো সুখবর পেতে পারেন। রোমান্স শুভ। মানসিকভাবে সতেজ থাকবেন। নেতিবাচক পরিবেশ ও লোকদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি): পারিবারিক সম্পর্ক ভালো যাবে। প্রিয়জনের সঙ্গে আন্তরিক ও নিবিড় সম্পর্ক থাকবে। বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকা উচিত। নিজের উত্তেজনা ও অস্থিরতাকে প্রশমিত করার চেষ্টা করুন। শারীরিক বিষয়ে সতর্ক থাকার চেষ্টা করুন। যানবাহন চলাচলে সাবধান থাকুন। বিদেশ থেকে ভালো খবর পেতে পারেন। ব্যবসায়ীদের আয় রোজগার বাড়বে।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ): ক্যারিয়ার সম্পর্কিত বিষয়ে কোনো সুখবর পেতে পারেন। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে চমৎকার সময় কাটবে। পেশাগত কাজে সফলতা ও সুনাম বৃদ্ধি পাবে। শারীরিক বিষয়ে অবহেলা করবেন না। আপনার পরিচিত মহলে যোগাযোগ বাড়বে। বিনিয়োগের জন্য ভালো সময়। আর্থিক দিক থেকে ভালো থাকবেন।

৫ ঘণ্টা আগে

‘কোথায় সেই পলোই বাওয়া, কোথায় ঝাঁকি জাল, শুকিয়ে গেছে নদী-নালা, বদলে গেছে কাল’

‘কোথায় সেই পলোই বাওয়া, কোথায় ঝাঁকি জাল, শুকিয়ে গেছে নদী-নালা, বদলে গেছে কাল’

মু. আবিদ মল্লিক জয়:‘কোথায় সেই পলোই বাওয়া, কোথায় ঝাঁকি জাল, শুকিয়ে গেছে নদী-নালা, বদলে গেছে কাল’ পঙতির আদলে এখন আর মাছ ধরার উৎসব নেই। মিঠাপানির দেশীয় মাছের আকালে সেই সুখের ‘সময়’ বদলে গেছে। রূপসী বাংলার জলছলোছল খালের পাড় আর রূপালী মাছের মায়াবী খেলা আজ যেন কেবলই ধূসর স্মৃতি। টাঙ্গাইলে কৃত্রিমভাবে পুকুরে মাছ চাষে সাফল্য এলেও, প্রাকৃতিক উৎস নদী-নালা, খাল-বিল থেকে দেশীয় মুক্ত জলাশয়ের মাছের উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধির গতি ক্রমেই নিম্নমুখী। ফলে আমাদের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও সহজলভ্যতা এখন মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। এই বৈশ্বিক ও জাতীয় সংকটের নেতিবাচক প্রতিচ্ছবি এখন টাঙ্গাইল জেলায়ও স্পষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাভূমি সংকোচন, কৃষিজমিতে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জালের নিষ্ঠুর থাবায় টাঙ্গাইল জেলায় দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে এসে দাঁড়িয়েছে। মুক্ত জলাশয়ে দেশি মাছের আকাল তৈরি হওয়ায় জেলার ঐতিহ্যবাহী মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো এখন অস্তিত্বের সংকটে ধুঁকছে, আর সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি।স্থানীয় প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কার্তিক মাসের হালকা শীত আর প্রখর রোদে নদ-নদীর পানি, খাল-নালা ও নিচু জমির পানি দ্রুত শুকিয়ে যেতে থাকে। ডুবে থাকা ডোবা, নালা, খাল-বিলের পানি কমে গেলে এসব নিচু স্থানে আটকা পড়ে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। সে সময় কাদা পানিতে নেমে হাত দিয়ে মাছ শিকার করা গ্রাম-বাংলার এক চিরায়ত রূপ। তবে যুগ পরিবর্তনের হাওয়ায় দূরন্ত কৈশোরে দল বেঁধে এখন আর খাল-বিল-জলাশয়ে কিশোর-কিশোরীদের মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ে না। কদাচিৎ দৃষ্টি কাড়ে।সরেজমিনে দেখা যায়, কালিহাতী উপজেলার রৌহা গ্রামের শুকনি বিলের এক কোণায় ছোট অংশ সেচে দেশীয় মাছ ধরায় ব্যস্ত রয়েছে ওই গ্রামের চার কিশোর- রিফাত, মাসফিকুর রহমান, মফিরুল ইসলাম ও সেলিম মিয়া। সারা শরীরে কাদা মাটি মেখে আনন্দের সাথে মাছ ধরায় মত্ত তারা।তারা জানায়, সকাল নয়টার সময় বিলের ছোট অংশে পানি সেচ শুরু করে বেলা ১২টার দিকে শেষ করে। এরপর কাদা মাটি থেকে তারা পুঁটি, চাটা, টাকি, শিং ও বাইম মাছসহ প্রায় ১০ কেজির মতো মাছ ধরে ভীষণ খুশি। অপরদিকে, সম্প্রতি ঘাটাইলের ধলাপাড়া ইউনিয়নের চাপড়া বিলে হঠাৎ চোখে পড়ে এমন আরেকটি দৃশ্য। সেখানে রবিন নামে এক কিশোর তার সঙ্গীদের নিয়ে শোল, টাকি, পুঁটি, খলশে, কৈ, মাগুর, শিং, ট্যাংরা সহ দেশীয় প্রজাতির নানা মাছ ধরে উল্লাসে মেতে ওঠে। শৈশবের এই অনাবিল হাসি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মনে করিয়ে দেয় আমরা মূলত আমাদের শেকড়কেই হারাচ্ছি।টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মিঠা পানির মাছের অন্যতম প্রধান উৎস এই জেলায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংখ্যা বিপুল। জেলায় মোট পুকুরের সংখ্যা ৪১ হাজার ৪৯৫টি। তবে মুক্ত জলাশয় হিসেবে জেলাটিতে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে ২৯৮টি বিল, ১২৮টি খাল, ৩টি বাওড় এবং ৪টি পেন কালচার। কিন্তু প্রতিনিয়ত আবাসিক এলাকা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং কৃষিজমির সম্প্রসারণের কারণে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল, বিল, পুকুর এবং ডোবা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাছের স্বাভাবিক বাসস্থান ও প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে।একদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, অসময়ে বন্যা এবং খরার কারণে জলাশয় দ্রুত শুকিয়ে মাছের ডিম ছাড়ার প্রাকৃতিক চক্র ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শীত ও গ্রীষ্মকালে চাষাবাদের সুবিধার্থে অনেক বিল বা খাল সম্পূর্ণ সেচে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। এতে মা মাছগুলোর বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ থাকছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়ন্ত্রিত ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার, কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জাল বা মশারি জালের মতো ক্ষতিকর ফাঁদ ব্যবহার করে ডিমওয়ালা মাছ এবং রেণু পোনা নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে।স্থানীয় প্রবীণ জেলেরা জানায়, টাঙ্গাইলের নদ-নদী ও খাল-বিলে একসময় শতাধিক প্রজাতির বর্ণিল দেশি মাছের সমারোহ ছিল। বর্তমানে বেশকিছু প্রজাতি চরম সংকটাপন্ন এবং আরও বহু প্রজাতি বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে। সংকটাপন্ন মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে- চিতল, রিটা, গুজি আইড়, বাঘাইড়, বামোশ, রানি মাছ, টেংরা, পাবদা, চাপিলা, শিং, মাগুর, দেশি কৈ, খলিসে, ভেদা (মেনী), ফলি, গজার, চেং, খরকাটি, বালিয়া, চেলা, শাল চোপরা, পোয়া ও শৌল মাছ ইত্যাদি।বছরের কোনো সময়েই এখন বাজারে আর আগের মতো মুক্ত জলাশয়ের সুস্বাদু দেশি মাছের দেখা মেলে না। যা-ও বা কখনো অল্পস্বল্প পাওয়া যায়, তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে জেলার মানুষের রূপালী পুষ্টির আদিম স্বাদ ও চাহিদা মেটাতে এখন কৃত্রিমভাবে চাষ করা হাইব্রিড জাতের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া কিংবা চাষের রুই-কাতলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের আকালে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন টাঙ্গাইলের চিরদুখী পেশাদার জেলেরা। জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত মৎস্যজীবীর সংখ্যা ৩০ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া আরও প্রায় ২০ হাজার মানুষ পরোক্ষভাবে এই মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কালিহাতীর ঐতিহ্যবাহী চারান বিল এলাকার জেলেরা জানায়, বংশপরম্পরায় মাছ ধরে সংসার চালালেও এখন সারা দিন জাল ফেলেও কয়েক কেজি মাছ মেলা ভার। জলের বুক থেকে লক্ষ্মী বিদায় নেওয়ায় বাধ্য হয়ে বিপুল সংখ্যক মৎস্যজীবী তাদের পৈত্রিক পেশা পরিবর্তন করে রিকশা চালনা, দিনমজুর বা অন্য কোনো কঠিন শ্রমে যুক্ত হচ্ছেন।টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর বলেন, মিঠা পানির সুস্বাদু দেশীয় মাছের বিলুপ্তি রোধে মৎস্য বিভাগ বদ্ধপরিকর। উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশি মাছের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির জন্য জেলায় ইতিমধ্যে ১৩টি মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। তবে মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থলগুলো রক্ষায় এই অভয়াশ্রমের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমানে টাঙ্গাইলের অধিকাংশ খাল-বিল-নালা পলি জমার কারণে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এসব প্রাকৃতিক জলাশয় পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করে গভীরতা বাড়ানো এবং সর্বস্তরের দখল-দূষণ প্রতিরোধ করা জরুরি।

৫ ঘণ্টা আগে

মূর্খ সংঘের তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

মূর্খ সংঘের তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট:বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মূর্খ সংঘ’ এর আয়োজনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজ প্রকৃতি ফিরিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ভয়াবহ বজ্রপাত রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় টাঙ্গাইল জেলাব্যাপী তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৫ নভেম্বর) দুপুরে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে তালবীজ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আশেক পারভেজ।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তাই সকলকে যার যার অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাড়াতে কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বজ্রপাত রোধে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মূর্খ সংঘ’ এর উদ্যোগে তালবীজ লাগানোর যে কার্যক্রম শুরু করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।এ সময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদ হাসান খান টিটন, মো. চঞ্চল চৌধুরী, শামীম আলম মামুন, মূর্খ সংঘের উদ্যোক্তা মোস্তাক আহমেদ রানা উপস্থিত ছিলেন।

০৫ নভেম্বর ২০২৬

অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন

অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী:টাঙ্গাইলে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে প্রেরিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) দ্রুত অনুমোদন ও পদোন্নতির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৪ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক টাঙ্গাইল সদর শাখার উদ্যোগে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন- পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের টাঙ্গাইল সদর শাখার ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক টিপু সুলতান, শেখ রাসেল আল মাহমুদ, মো. আব্দুল্লাহ ও শহিদুজ্জামান প্রমুখ।বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্গানোগ্রাম অনুমোদন না হওয়ায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ন্যায্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং মানবেতর কর্মজীবন করছেন। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে প্রেরিত সাংগঠনিক কাঠামোটি অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।এসময় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অন্যন্য কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

০৪ নভেম্বর ২০২৬

বল্লায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

বল্লায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

কালিহাতী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইল কালিহাতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহান আল্লাহ তা'আলা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সুজন সাহা (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কালিহাতী থানায় মামলা দায়েরের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সুজন সাহা কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের কর্মকার পাড়ার বাসিন্দা।জানা যায়, গত ২ নভেম্বর টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ভবানী বাড়ি দক্ষিণপাড়ায় আয়োজিত একটি ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে রফিকুল ইসলাম মাদানীর আগমন উপলক্ষে ‘বাসাইল সংবাদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোষ্ট করা হয়। ওই পোষ্টের মন্তব্যের ঘরে সুজন সাহার ফেসবুক আইডি থেকে মহান আল্লাহ তা'আলা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।অভিযোগে বলা হয়, ওই মন্তব্যে মহান আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বল্লা এলাকায় স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বল্লা বাজার এলাকায় স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।বিক্ষোভের খবর পেয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় অভিযুক্ত সুজন সাহা পলাতক ছিলেন।পরে এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বুধবার সকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি সুজন সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, গ্রেপ্তারকৃত সুজন সাহা বর্তমানে কালিহাতী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

০৪ নভেম্বর ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসডিজি অর্জনে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসডিজি অর্জনে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী ক্লাবগুলোর কার্যক্রমের সম্পৃক্ততা নিরূপণ এবং এসব কার্যক্রমের মানচিত্রায়ণের লক্ষ্যে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ালিটি রিভিউ অ্যান্ড র‍্যাঙ্কিং কমিটির (কিউআরআরসি) উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) ও শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের যৌথ সহযোগিতায় ‘মাভাবিপ্রবিতে এসডিজির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী ক্লাবগুলোর কার্যক্রমের সমন্বয়বিষয়ক কর্মশালা’ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজিই বিভাগের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এসডিজি অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী- সবার সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থী ক্লাবগুলোর সাবেক সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কিউআরআরসি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির কল্যাণে করা কাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইতিবাচক অবদান রাখে। আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সম্পর্ক রয়েছে। তাই মানবিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবু যুবাইর, আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিউআরআরসির সদস্যসচিব ও প্রাইমারি রিসার্চ কন্ট্রাক্টের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান।কর্মশালার প্রথম পর্বে রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান এবং কিউআরআরসির সদস্য ও পরিবেশবিজ্ঞান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা (ইএসআরএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তন্ময় রায় তুষার। দ্বিতীয় পর্বে রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. শাহ আদিল ইশতিয়াকসহ অন্যান্য সদস্য।কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর মধ্যে ছিল- এমবিএসটিইউ ডিবেটিং সোসাইটি, রোটার‍্যাক্ট ক্লাব অব মাওলানা ভাসানী টাঙ্গাইল, এমবিএসটিইউ ফিল্ম সোসাইটি, এমবিএসটিইউ সাংবাদিক সমিতি (জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন), ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ সোসাইটি, এমবিএসটিইউ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ক্লাব, শহীদস্মৃতি পাঠচক্র, চিলড্রেনস হেভেন টাঙ্গাইল, এমবিএসটিইউ ক্যারিয়ার ক্লাব, গ্রিন ক্লাব (এমবিএসটিইউ), স্পেস, টেক অ্যান্ড রিসার্চ ক্লাব, সাহিত্য সংসদ (এমবিএসটিইউ), এমবিএসটিইউ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ভয়েস রুট ক্লাব, সেন্ট্রাল ড্রামাটিক ক্লাব (সিডিসি) এবং সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক।

০৪ নভেম্বর ২০২৬

দুপাশে পাকা সড়ক, মাঝখানে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

দুপাশে পাকা সড়ক, মাঝখানে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল- এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত ‘পরেশ সাধুর দহ’র ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলার নান্দুরিয়া চকবাজার ও পাথরাইলের টেঘুরি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই দহটি এখন ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো হওয়ায় প্রতিদিন চরম বিপাকে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। উপজেলার গাদতলা-টেগুরি সড়কের আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল- এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত পরেশ সাধুর দহ’র দুপাশেই রয়েছে চমৎকার পাকা সড়ক। কিন্তু মাঝখানে দহের ওপর কোনো সেতু না থাকায় এই পাকা সড়ক দিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুপাশের পাকা সড়কটি এখন স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছে না। যানবাহন না চলায় সড়কটি তার কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।স্থানীয়রা জানায়, এই অঞ্চলে প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সেতুর অভাবে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে বা জেলা সদরে নিয়ে যেতে পারেন না। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া এলাকায় কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হলে এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসাসেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় ভুক্তভোগীদের প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।এলাকাবাসীর বড় অভিযোগ, বর্তমানে এই অঞ্চলের মানুষকে টাঙ্গাইল জেলা সদরে যেতে হলে বিকল্প সড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াত ও পরিবহন খরচও বাড়ছে কয়েক গুণ। অথচ পরেশ সাধুর দহের ওপর মাত্র একটি সেতু নির্মাণ করা হলে জেলা সদরের দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় দুই-ই এক ধাক্কায় অর্ধেকে নেমে আসত। বাঁচত মানুষের শ্রম, সময় ও অর্থ।নান্দুরিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন আগে গাদতলা-টেগুরি সড়কটি পাকা করা হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের দুঃখ ঘুচবে। কিন্তু পরেশ সাধুর দহে কোনো সেতু না থাকায় এ সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। একান্ত প্রয়োজনে আমাদের মতো কিছু মানুষ শুধু পায়ে হেঁটে এই রাস্তায় চলাচল করে। পণ্য আনা-নেওয়া বা জরুরি যাতায়াতের কোনো সুযোগ এখানে নেই। এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে আমরা দ্রুত এখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।জাঙ্গালিয়া গ্রামের সাগর মিয়া, মুকুল হোসেন, আবেদ আলী সহ অনেকেই জানান, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে এই জায়গায় সেতু নির্মাণের বড় বড় গালভরা আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট চলে গেলে কাজের কাজ কিছুই হয় না- সবাই সব ভুলে যান। তাদেরকে অনেক কষ্ট করে পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। তাদের এই কষ্ট ও কান্না দেখার মতো যেন কেউ নেই। এসব এলাকার অবহেলিত জনগণের ভোগান্তি লাঘবে আর কোনো ফাঁকা আশ্বাস নয়, তারা অবিলম্বে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ ও সেতু নির্মাণ দেখতে চান।তিন ইউনিয়নের হাজারো ভুক্তভোগী মানুষের এখন একটাই দাবি- জনস্বার্থে, এলাকার অর্থনৈতিক স্বার্থে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে পরেশ সাধুর দহের ওপর আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত একটি স্থায়ী ও মজবুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী জানান, তিনি বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হয়েছেন এবং এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওইস্থানে সেতু নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগ্রহণ ও বাস্তবায়নে এবং একটি সেতু অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০৪ নভেম্বর ২০২৬

গোপালপুরে নিহত রাকিবের বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের পরিবর্তে কুলখানি অনুষ্ঠিত

গোপালপুরে নিহত রাকিবের বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের পরিবর্তে কুলখানি অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অপহরণ করে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে জীবিত দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের শিকার সেই মেধাবী ছাত্র রাকিবুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে ছেলের এমন চোখধাঁধানো সাফল্যে বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের পরিবর্তে আয়োজন করা হয়েছে কুলখানি। রোববার(১ নভেম্বর) এতিম শিশুদের খাওয়ানো ও রাকিবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেছেন তার বন্ধু ও স্বজনরা।জানা যায়, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে আনন্দের বদলে কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের খাদেমুল ইসলামের পরিবার। ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেধাবী সন্তান রাকিবুল ইসলাম পেয়েছেন জিপিএ-৫। কিন্তু এই সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আর কোনো দিন বাড়ি ফিরবেন না তিনি। ফলাফলের সংবাদ পরিবারকে গর্বিত করলেও সেই গর্বের সঙ্গে মিশে আছে অসহনীয় কষ্ট। যে বাড়িতে আজ আনন্দের উৎসব হওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর হারানোর বেদনা।সরেজমিনে নিহত রাকিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রাকিব যে ঘরে লেখাপড়া করত, সেই বই-খাতা ও টেবিল সাজিয়ে রেখেছেন তার মা জহুরা বেগম। সাথে রেখে দিয়েছেন রাকিবের ছবি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কার পাওয়া সম্মাননা স্মারক। এই স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরেই এখন বেঁচে থাকার লড়াই করছে তার পরিবার।ছেলের অকাল মৃতত্যু ও এমন অভাবনীয় ফলাফলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা খাদেমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের অনেক স্বপ্ন ছিল, সে ব্যারিস্টার হবে। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। স্কুলজীবনে ছয়টি বৃত্তি পেয়েছে। সরকারের কাছে আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। আসামিদের ফাঁসি দাবি করছি।’রাকিবের মা জহুরা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা মেরে ফেলেছে, আমি তাদের বিচার চাই। অনেক কষ্ট করে তাকে মানুষ করছিলাম। স্কুলে সব সময় প্রথম হতো। অনেক আশা নিয়ে ঢাকায় ভর্তির প্রস্তুতি নিতে গিয়েছিল। আমার ছেলের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করে দিয়েছে তারা।’একইভাবে ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে রাকিবের চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাকিব আজ বেঁচে থাকলে আমাদের মিষ্টি খাওয়াত। আমি চাই, আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আজ ভাতিজার জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার পরিবর্তে কুলখানির আয়োজন করেছি। এতিম শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি, যেন তারা আমার ভাতিজার জন্য দোয়া করে।’ভাইকে হারিয়ে দিশেহারা বড় ভাই জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আর আমার ভাই একসঙ্গে ঘুমাতাম, লেখাপড়া করতাম। আমার ভাইয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল, বড় হয়ে ব্যারিস্টার হবে। আজ ভাইয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও মিষ্টি খাওয়ানোর মতো অবস্থা আমাদের নেই। তাই এতিম শিশুদের খাবারের আয়োজন করেছি, যেন তারা আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করে।’পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাকিবকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও তাকে আর ফিরে পায়নি। পরে নীলফামারীর ডিমলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

০১ নভেম্বর ২০২৬

সাংবাদিক শেখরের মায়ের পরলোকগমণে প্রতিমন্ত্রী সহ বিভিন্ন সংগঠনের শোক

সাংবাদিক শেখরের মায়ের পরলোকগমণে প্রতিমন্ত্রী সহ বিভিন্ন সংগঠনের শোক

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে দৈনিক প্রথমআলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামনাশীষ শেখরের মা এবং বিশিষ্ট আয়কর আইনজীবী পরলোকগত কবি যুগলপদ সাহার স্ত্রী শান্তি সাহা আর নেই। শনিবার(৩১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে শহরের সাবালীয়াস্থ পাঞ্জাপাড়ায় নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি পরলোকগমন করেন। তাঁর মৃত্যুতে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।পরলোকগমণকালে শান্তি সাহার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এদিন বেলা ১২টায় তার মরদেহ টাঙ্গাইল শ্রী শ্রী বড় কালিবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গণে নিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে দুপুর ১টায় শহরের কাগমারী রাণী দীনমনি শশ্মান ঘাটে তার অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।কামনাশীষ শেখর এর মায়ের পরলোকগমণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি, শ্রী শ্রী কালীবাড়ীর প্রধান উপদেষ্টা ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি শ্যামল হোড়, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাফর আহমেদ, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, শ্রী শ্রী কালিবাড়ির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন কৃষ্ণ চৌধুরী, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ সহ বিভিন্ন সাহিত্য-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে তার আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

৩১ অক্টোবর ২০২৬

দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

দৃষ্টি নিউজ:বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের দাবি, ঘটনার রাতে কিছু লোক ধাওয়া দিলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। তবে এ দাবি বিশ্বাস করছেন না তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। তার মতে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন দ্বীপ। গতকাল রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠ পরিদর্শন করছে পিবিআই। সেখানে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ বলেন, ‘দূর থেকে আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। ভাই (তাহসিফ) দৌড় দেন। আমি তখন পিলারের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং আশা করতে থাকি দুজন ইউনিফর্ম পরা লোক আমাকে দেখতে না পায়। আমি দৌড় দেইনি, হেঁটে হেঁটে আসি।’দ্বীপের বরাতে পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দ্বীপ তুরাগ নদের পাশের মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করে। তখন দ্বীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এখনো তার (দ্বীপের) বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছি না। মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দ্বীপের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতেই তদন্ত চলছে। তাহসিফ সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। রহস্য উদ্ঘাটন হলে বিস্তারিত জানানো হবে।তবে দ্বীপের দেওয়া তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘না না, এ ধরনের কিছু হতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।মাজারসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের মালিক জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কে পড়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলটি দেখছি। কিন্তু এটা নেয়নি। আমরা ভেবেছি কেউ হয়তো রেখে গেছে। আজ সকালে পুলিশ একটি ভ্যানে করে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে তারা আবার নিয়ে আসে।’পিবিআইয়ের আরেক পুলিশ সুপার জানান, দ্বীপের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাহসিফও বাসা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন।গত মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। সেদিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর ফেরেননি।পরদিন বুধবার(২৮ অক্টোবর) বিকালে উত্তরখান থানা এলাকার রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দ্বীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

৩০ অক্টোবর ২০২৬

বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দৃষ্টি নিউজ:পাবনা সদর উপজেলায় বৃষ্টির সময় বিলের একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল কয়েকজন। এ সময় বজ্রপাতে আশ্রয় নেওয়া ছয়জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার গোবিন্দপুরের সোনাপাতি বিলে এ ঘটনা ঘটে বলে মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু জানিয়েছেন।তিনি বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সময় তারা একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘরটি ছিল পলিথিনের। সেখানেই বজ্রপাত ঘটে। যারা নিহত হয়েছেন, তারা সবাই কিশোর ও তরুণ।চেয়ারম্যান বলেন, বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা গেছেন। আহত তিনজনকে আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

৩০ অক্টোবর ২০২৬