শিল্প ও সাহিত্য

জাপানের ইয়োমিকাতা ও ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

জাপানের ইয়োমিকাতা ও ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাপানে উচ্চশিক্ষা, জাপানি ভাষা শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাপানের টোকিওভিত্তিক ‘ইয়োমিকাতা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টার’-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার(১৯ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ এবং ইয়োমিকাতা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টারের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ওই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির, গবেষণা সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।চুক্তির আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা, জাপানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং, মেন্টরিং ও পেশাগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাডেমিক নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধিতে কাজ করবে। এ ছাড়া দুই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে যৌথ সেমিনার, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ হচ্ছে- ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাপানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও কারিগরি পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা।

২০ আগস্ট ২০২৬

অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত

অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:‘দুর্ঘটনা দুর্যোগে, সবার পাশে-সবার আগে’ স্লোগানে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন অংশীজনদের সমন্বয়ে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অনসাইড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(১৯ আগস্ট) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গনে ওই মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বিভিন্ন অংশীজনদের বাস্তবায়নে আয়োজিত ওই মক ড্রিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক শরীফা হক।এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো. এনায়েত হোসেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

১৯ আগস্ট ২০২৬

অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইল শহরের একসময়ের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী ‘ভাসানী হল’ আজ ধুলোবালি, ভাঙাচোরা দেয়াল আর তালাবদ্ধ কক্ষের নিস্তব্ধতায় ঢাকা। দীর্ঘদিনের অযত্ন, অবহেলা, সংস্কারের অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এই মিলনায়তনটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। যে প্রাঙ্গণ একসময় নাটক, সংগীত, নৃত্য, কবিতা, বইমেলা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক নানা আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকত, সেখানে এখন চেপে বসেছে এক ভীতিকর পরিবেশ। বর্তমানে দিনে হলটির বারান্দায় বসেছে পানের দোকান আর প্রাঙ্গণটি ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাকস্ট্যান্ড হিসেবে। সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা চলে যায় অন্ধকার ও অপরাধীদের দখলে; হয়ে ওঠে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড্ডাখানা। এতে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ বাড়ছে।জানাগেছে, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ‘টাঙ্গাইল টাউন হল’ নামে এটি নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ হাবিবুল্লাহ্-এর অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র দুই বছরে এটি বাস্তব রূপ লাভ করে। পরে ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান। পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে সর্বসম্মতিক্রমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ভাসানী হল’। এরপর থেকেই এটি জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায় এবং অনন্য ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।স্থানীয় প্রবীণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, আগে পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল। বিভিন্ন উপলক্ষে তারা নাটকের আয়োজন করত এবং পুরো টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই ভাসানী হলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। প্রায় ১,০০০ আসনবিশিষ্ট এই আধুনিক মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দশক ধরে টাঙ্গাইলের নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক সমাবেশের প্রধান ভেন্যু ছিল এটি। প্রতি বছর ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল এখানে এসে নাট্যোৎসব করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সংগঠনগুলো হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ভবনটি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অবশেষে প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় জেলার অন্যতম বড় এই মিলনায়তনের কার্যক্রম।স্থানীয়রা মনে করেন, ভাসানী হল শুধু একটি কংক্রিটের ভবন নয়; এটি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারকটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে প্রায় এক দশক আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ২০১৫ সালেও একবার এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে হলের দেয়ালে দেয়ালে বড় ফাটল ধরেছে, ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। হলের ভেতরের অধিকাংশ কক্ষ দীর্ঘ বছর ধরে তালাবদ্ধ ও ধুলোবালির স্তূপে পরিণত হয়েছে।টাঙ্গাইলের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মতে, ভাসানী হল বন্ধ হওয়ার পর থেকে জেলার বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বড় পরিসরে কোনো অনুষ্ঠান বা নাটক মঞ্চস্থ করার মতো বিকল্প কোনো আধুনিক মিলনায়তন পুরো শহরে আর নেই। ২০১৫ সালে একবার হলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন আজ অবধি দেখা যায়নি। দীর্ঘ অবহেলার পর চলতি বছরের ১২ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক হলটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন।টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুরকার-গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু জানান, ভাসানী হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এক হাজার আসন বিশিষ্ট এই মিলনায়তনটিতেই জেলার সব সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। শুধু তাই নয়, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করতো। এছাড়া এ ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র ছিল হলটি।তিনি আক্ষেপ করে জানান, আগের মতো বড় বড় অনুষ্ঠান তারা করতে পারেন না। অনুষ্ঠান করতে এখন শিল্পকলা একাডেমিতে যেতে হয়- শিল্পকলা একাডেমির অবস্থান শহরের কেন্দ্রবিন্দুর বাইরে, সেখানে রাতে মানুষ যেতে চায়না।কবি মাহমুদ কামাল জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত এ হলটিকে পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করার দাবি ছিল। হলটি মওলানা ভাসানীর নামে থাকায় বিগত সরকার সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, ভাসানী হলটি পুননির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হোক।টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান জানান, টাঙ্গাইল একটি সাংস্কৃতিক নগরী এবং পুরাতন জেলা। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিকচর্চার অন্যতম প্রধান জায়গা হচ্ছে ভাসানী হল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে গতিশীল রাখার জন্য ভাসানী হল খুবই প্রয়োজন।তিনি আরো জানান, মাদকের ছোবল এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে ক্রীড়া অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তার জন্য একটি ভালো অডিটরিয়াম প্রয়োজন। তিনি দ্রুত ভাসানী হলের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের দাবি করেন।টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুননির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

১৭ আগস্ট ২০২৬

কালিহাতীতে সামাজিক সচেতনতার বজ্রশপথ

কালিহাতীতে সামাজিক সচেতনতার বজ্রশপথ

কালিহাতী প্রতিনিধি:সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করে একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক অনন্য প্রচারণা সভা। বৃহস্পতিবার(১৩ আগস্ট) বিকালে উপজেলার পারখী ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ বাজারে মাদক, বাল্যবিয়ে এবং ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে তীব্র সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়েছে। কালিহাতী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিনের বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনায় আউলিয়াবাদ বাজার প্রাঙ্গণে এই ব্যতিক্রমী সভার আয়োজন করা হয়। বিকেলে বাজার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় সর্বস্তরের মানুষের এক বিশাল মিলনমেলায়, যেখানে সবাই কণ্ঠ মেলান সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে।সভায় বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভ ও উদ্বেগের সাথে সমাজ ধ্বংসকারী এই তিন ব্যাধির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ‘একটি মাদকাসক্ত তরুণ বা একটি বাল্যবিবাহ শুধু একটি জীবন নয় বরং পুরো পরিবার ও সমাজকে অন্ধকারের অতল গহ্বরে ঠেলে দেয়। একইভাবে, ইভটিজিংয়ের মতো জঘন্য অপরাধ আমাদের কিশোর-কিশোরীদের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশকে পুরোপুরি বিষাক্ত করে তুলছে।’এই সামাজিক ব্যাধিগুলো শুধু আইন দিয়ে শতভাগ নির্মূল করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে সভায় সমন্বিত প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এই চার শক্তির সমন্বয়ে প্রতিটি এলাকায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভেদ্য দুর্গ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।পারখী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আব্বাসীর সভাপতিত্বে সভায় টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক একেএম আব্দুল আউয়াল, ডা. শাহ আলম তালুকদার, কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বাবুল, কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রতন, মহিলা নেত্রী সুলতানা রাশিদা খান (প্রিয়াঙ্কা), কালিহাতী উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, আউলিয়াবাদ বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ শাজাহান, পারখী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত করিম প্রমুখ অংশ নেন।আউলিয়াবাদ বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ শত শত সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সভাটি একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। উপস্থিত সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই তিন অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার বজ্রশপথ নেন।

১৪ আগস্ট ২০২৬

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত

ধনবাড়ী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের কার্যালয়ে ওইসভা অনুষ্ঠিত হয়।ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সভাপতি কবি ইমাম হাসান সোহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি এম. মাছুদুর রহমান মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি আল আমিন শোভন, জেলা ইউনিটের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী।অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা এলেঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার, ঘাটাইল উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সোহেল, ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মো. রমজান আলী ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, মো. সোলায়মান।দ্বিতীয় পর্বে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কবি ইমাম হাসান সোহানকে সভাপতি ও রাকিব হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়।এ সময় মধুপুর ও ধনবাড়ী ইউনিটের সকল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৩ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার নিয়ে মতবিনিময়

টাঙ্গাইলে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার নিয়ে মতবিনিময়

দৃষ্টি রিপোর্ট:নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নারীপক্ষ’ শহরের হবিবুর রহমান প্লাজার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। নারীপক্ষের ‘স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারীর কর্মসংস্থান প্রসার’ প্রকল্পের আওতায় ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার : জেন্ডার-সংবেদনশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই মতবিনিময় সভায় নারীর অর্থনৈতিক অধিকার, কর্মসংস্থান, সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া, উদ্যোক্তা হিসেবে নারীর বিকাশ এবং সমাজে নারীর প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।মতবিনিময় সভায় ‘স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারীর কর্মসংস্থান প্রসার’ প্রকল্পের পরিচালক রওশনারা আক্তার প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, টাঙ্গাইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আরপিডিও’র নির্বাহী পরিচালক রওশানা লিলি, স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারী কর্মজীবী সংস্থার সহ-ব্যবস্থাপক লিপি লিলিয়ান রোজারিও প্রমুখ।বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নারীদের উন্নয়নের বিষয় নয়, এটি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অধিকার ও সম্ভাবনাকে গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নারীকে কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন না করে, সমাজে তাদের সাফল্য, সম্ভাবনা, নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক অবদানকেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

১০ আগস্ট ২০২৬

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু:সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে পরিচালিত সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশ শুক্রবার(৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।এদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ মহাসমাবেশে নিরাপদ সড়ক, রেলপথ ও নৌপথ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নীতি, গবেষণা, প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে নিসচা প্রণীত ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।দিনব্যাপী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়।ফিরে দেখা- ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয় সহধর্মিণী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় দায়িত্বে রূপ দেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর গত ৩৩ বছরে নিসচা শুধু একটি সংগঠন নয় বরং একটি জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এই পথচলায় সংগঠনটি জনসচেতনতা সৃষ্টি, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কার্যক্রম, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, নীতিগত সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন এবং দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়’নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চলচ্চিত্রের মহানায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ৩৩ বছরের এ আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীর আত্মত্যাগ আন্দোলনটিকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের জীবন রক্ষার এই আন্দোলনে আরও কিছুদিন কাজ করার তৌফিক দান করেন। আমিও দেশের প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করছি।’চিত্র নয়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো দাবি নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই; আমরা মানুষের জীবনের পক্ষে।’তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও দৃঢ় বাস্তবায়ন।’তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে না পারবে, ততদিন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য কোনো সমালোচনা নয় বরং সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে একটি দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’গবেষণা, প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা এখন আর শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নির্ভুল তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।’তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তারা দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তারা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।’মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে একটি কেন্দ্রীয় সড়ক দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার (National Road Crash Database) গড়ে তোলার, যেখানে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, রেলওয়ে এবং নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার তথ্য সমন্বিত হবে। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’তিনি বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগ, স্পিড ক্যামেরা, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল-টাইম দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ তথ্য ও জনসম্পৃক্ততা সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া ১২ দফা সুপারিশপত্র কোনো দাবিপত্র নয় বরং একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা।’নিসচার তথ্যভান্ডার কাজে লাগানোর আহ্বাননিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত দুর্ঘটনার তথ্য, জনমত, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা নিসচার অন্যতম বড় শক্তি।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করেন না; তারা দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, স্থানীয় সমস্যা এবং মানুষের প্রত্যাশা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত করেন। এই বিশাল তথ্যভান্ডার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার প্রায় ১২০টি শাখা এবং হাজারো সড়কযোদ্ধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। সরকার চাইলে এই স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।’সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগতনিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত 'Safe System Approach'-এর আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা, গতি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়ন, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালীকরণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জাতীয় অঙ্গীকারকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।নিসচার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ নিরাপদ, টেকসই ও মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।সংস্কৃতির মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানপ্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নয়; মানুষের মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমেও সম্ভব। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি বলেন, ‘নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি, পথনাটক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন হয়ে উঠবে।’মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরাপদ সড়ক বিষয়ক সচেতনতামূলক নাট্যোৎসব, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রচারণা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। নিরাপদ সড়ক একটি সামাজিক আন্দোলন আর সামাজিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সংস্কৃতির বিকল্প নেই।’আইন, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বউদ্বোধরী বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি বলেন, ‘সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’তিনি বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মতো সংগঠনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।’গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয়ের আহ্বানবিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদান অনন্য। ব্যক্তিগত বেদনাকে তিনি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন, যা আজ নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরঅনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর পক্ষ থেকে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ তুলে দেওয়া হবে।সুপারিশপত্রে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, চাঁদাবাজি ও পরিবহন সিন্ডিকেট নির্মূল, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ, সড়ক-রেল-নৌপথের সমন্বিত নিরাপত্তা, শিক্ষাক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপদ সড়ককে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) মনে করে, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। রাষ্ট্রের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, সুশাসন, গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নিসচা সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। সংগঠনটি আশা করে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মানবিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবহন খাতের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নিসচার প্রায় ১২০টি শাখার প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রতিনিধি ও সড়কযোদ্ধা এতে অংশ নেন। পরে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

০৮ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে ভাষা কর্মশালা ও পুরষ্কার বিতরণ

টাঙ্গাইলে ভাষা কর্মশালা ও পুরষ্কার বিতরণ

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের প্রকাশনা সংস্থা ছায়ানীড়ের উদ্যোগে ‘ভাষা কর্মশালা ও পুরষ্কার বিতরণ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার(৭ আগস্ট) টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- বিশিষ্ট আইনজীবী, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক ব্যারিস্টার গোলাম নবী। টাঙ্গাইলের সরকারি এমএম আলী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর খন্দকার মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আল মামুন জুয়েল, সমাজসেবী জয়িতা লুৎফা আক্তার মিতা, কবি ও সংগঠক বেগম রোকেয়া ইসলাম, শিক্ষক ও লেখক মাসুদা সুলতানা।কর্মশালার মূল আলোচক ছিলেন ছায়ানীড়ের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। এসময় টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সম্পাদক কবি মাহমুদ কামাল এবং নজরুল গবেষক ও আইনজীবী আল রুহী সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাহিত্যপ্রেমী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

০৭ আগস্ট ২০২৬

বিবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

বিবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী:‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইলের স্বনামধন্য বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তন কক্ষে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক এসএম আনোয়ার সাদত, সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান প্রমুখ।এসময় প্রভাতী শিফট ইনচার্জ অনামিকা ভদ্র, দিবা শিফট ইনচার্জ জাহানারা তরফদার, সিনিয়র শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, আরিফুর রহমান প্রমুখ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন, সিনিয়র শিক্ষক মো. ছামছুল হক সাগর।অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আগে ছাত্রীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

০৫ আগস্ট ২০২৬

বাসাইলের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

বাসাইলের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

বাসাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রচনা-আবৃতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে দিবসের আলোচনায় অংশ নেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বেলায়েত হোসেন, সহকারী শিক্ষক আলেকজান্ডার আজাদ মিয়া, আলমগীর হোসেন, মিনহাজ উদ্দিন, লিটন মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, নার্গিস আক্তার প্রমুখ।বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র- ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

০৫ আগস্ট ২০২৬

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

দৃষ্টি নিউজ: বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন) সকালে নিউমোনিয়াজনিত জটিলতা নিয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে এই গুণী শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তার মৃত্যুর খবরে সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিয়ে গত ১৪ জুন থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। সে সময় তার রক্তচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তার বাবা প্রয়াত কবি গোলাম মোস্তফা এবং মা জমিলা খাতুন। নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাসের পর তিনি কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তীতে সেখান থেকে সরে এসে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ভারত থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরার পর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পরামর্শে তিনি আর্ট কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে সেই পেশা ছেড়ে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন (বর্তমান বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভি)-এ যোগ দেন। দীর্ঘ বর্ণিল কর্মজীবনে শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাকে রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়। এছাড়া তিনি আরও অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন।

২৯ জুন ২০২৬

আধুনিকতার আগ্রাসনে কোণঠাসা আদিবাসী কৃষ্টি

আধুনিকতার আগ্রাসনে কোণঠাসা আদিবাসী কৃষ্টি

বুলবুল মল্লিক: গারো ভাষায় ‘দক’ শব্দের অর্থ শরীর আর ‘মান্দা’ মানে কাপড় বা শাড়ি। এই দুই শব্দের যুগলবন্দী থেকে জন্ম ‘দকমান্দা’র। এটি কেবল সুতা আর রঙের বুননে তৈরি কোনো সাধারণ পোশাক নয়; এটি টাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের শালবনের কোলে বেড়ে ওঠা গারো নারীদের আত্মপরিচয়- হাজার বছরের কৃষ্টি আর জাতিগত ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ক্যানভাস। একসময় গারোদের সামাজিক উৎসব, বিয়ে কিংবা ওয়ানগালার আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নারীরা একই রঙের দকমান্দা পরে হাজির হতেন। একই রঙে রাঙানো সেই উৎসবের আমেজ যেমন বাড়াত সৌহার্দ্য, তেমনি সগর্বে জানান দিত তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির উপস্থিতি। তবে কালের বিবর্তন, আধুনিকতার তীব্র স্রোত আর যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে গারোদের এই ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও মাতৃভাষা আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, একটি দকমান্দা তৈরি মোটেও সহজ কাজ নয়। এটি তৈরিতে প্রয়োজন হয় নিখুঁত বুননশৈলী, চরম ধৈর্য এবং দীর্ঘ সময়। গারো নারীরা সম্পূর্ণ নিজস্ব কারিগরি জ্ঞানে, কাঠের তৈরি আদি তাঁতযন্ত্রের (কোঁক) সাহায্যে ঘরে বসে এই পোশাক বোনেন। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর পাড় বা বর্ডারের বৈচিত্র্যময় নকশা ও হরেক রঙের সুতার কাজ। বিভিন্ন ফুল, লতা-পাতা ও জ্যামিতিক নকশার বুননে ফুটিয়ে তোলা হয় পাহাড়ের প্রাকৃতিক রূপ। এক একটি আকর্ষণীয় ও ভারী নকশার দকমান্দা তৈরি করতে একজন কারিগরের এক থেকে দুই সপ্তাহ, এমনকি নকশা জটিল হলে এক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সম্পূর্ণ হাতে বোনা এই পোশাকটি তৈরিতে যে পরিমাণ কায়িক শ্রম দিতে হয়- সেই তুলনায় এর পেছনে ব্যয়ের পরিমাণও অনেক বেশি। বর্তমানে সুতা, রঙ ও তাঁত তৈরির উপকরণের দাম বাজারে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে একটি ভালো মানের দকমান্দা তৈরিতে উৎপাদন খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি এর খুচরা বাজারমূল্যও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে বাজারে একটি সাধারণ মানের দকমান্দা ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও আকর্ষণীয় নকশার দামি দকমান্দাগুলো ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি মূল্যে বিক্রি হয়। কিন্তুটাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গারো জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই নিম্ন আয়ের হওয়ায় এই চড়া মূল্যের পোশাক নিয়মিত কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে এ বস্ত্রের কারিগররা যেমন লোকসানের মুখে পড়ছেন, তেমনি আধুনিক কাপড়ের সহজলভ্যতা ও কম দামের কাছে মার খাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী পোশাকটি। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গায়রা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আধুনিক সভ্যতার নানামুখী চাপের পরও কিছু মানুষ এখনো আঁকড়ে ধরে আছেন তাদের পুরনো কৃষ্টি। প্রখর রোদে মাঠে কাজ করার সময়ও অনেক গারো নারী অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে এক প্যাঁচে জড়িয়ে রেখেছেন নিজস্ব সংস্কৃতির এই দকমান্দা। সেখানেই কথা হয় গায়রা এলাকার গারো কিশোরী বাপ্পি বেডুলকারের সাথে। বাপ্পির চোখেমুখ জুড়ে তার সম্প্রদায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। তার কাছে এই দকমান্দা কেবল শরীর ঢাকার আবরণ নয় বরং তার সম্প্রদায়ের পরিচয়, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক পরম প্রতীক। বাপ্পি ও তার সমবয়সী কিশোরীরা আক্ষেপ করে জানান, আধুনিকতার আগ্রাসনে এই ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও তাদের মাতৃভাষা ধীরে ধীরে সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, ‘দকমান্দা আমাদের ঐতিহ্যের পোশাক। এটি এক প্যাঁচে পরতে হয়। ছোটবেলা থেকেই মা-বানিদের (নানি-দাদি) দেখে আমরা এটি পরা শিখেছি। এটি পরতে আমাদের ভীষণ ভালো লাগে।’ কাজের ক্ষেত্রে এই পোশাকের উপযোগিতা বর্ণনা করে তারা আরও বলেন, ‘পোশাকটি শরীরের সাথে এমনভাবে মিশে ও মানিয়ে যায় যে মাঠের কঠিন কাজ বা ঘরের দৈনন্দিন কাজ করতে কোনো রকম অসুবিধা হয় না। ভাড়ি কোনো পোশাক পরে আছেন- এমন অস্বস্তি কখনোই তৈরি হয় না। তবে এই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য টিকে থাকার পথটি এখন আর মসৃণ নেই। বর্তমান যুগের তরুণ-তরুণীদের একাংশের অনীহা এবং বাইরের সমাজের অবহেলামূলক দৃষ্টিভঙ্গি একে কোণঠাসা করে ফেলছে। কিশোরীরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানান, এখন অনেকেই এটি আর নিয়মিত পরতে চান না। এই পোশাক পরে বাইরে বা শহরে গেলে আমাদের নানা ধরণের আপত্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। অনেকে আমাদের দিকে আলাদা চোখে তাকায়। এর সাথে যোগ হয়েছে আর্থিক সীমাবদ্ধতা। অর্থাভাবের কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক গারো কিশোরী বা নারী এখন আর মনের মতো সুন্দর বা দামি দকমান্দা কিনে পরতে পারেন না। মধুপুরের গারো সম্প্রদায়ের সদস্য অঞ্জনা নকরেক জানান, দকমান্দার নকশা ও রঙে পাহাড়ি প্রকৃতি এবং গারো সংস্কৃতির ছাপ ফুটে ওঠে। জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনটিতে তারা আধুনিক কোনো পশ্চিমা বা ভিনদেশি পোশাক নয় বরং পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া অনন্য সুন্দর একটি দকমান্দা পরেই কনে সাজবেন, বসবেন বিয়ের পিঁড়িতে। আধুনিকতার ঝড়ো হাওয়ায় গারো সংস্কৃতির এই অমূল্য সম্পদ পরম মমতা আর ভালোবাসাই এখনো টিকিয়ে রেখেছে শত বছরের এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে। মধুপুরের আচিক মিচিক সোসাইটির পরিচালক সুলেখা ম্রং জানান, গারো সমাজে দকমান্দা শুধু পোশাক নয়, এটি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম বাহন। তবে সময়ের পরিবর্তন, কর্মসংস্থানের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এবং মূলধারার সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ব্যবহার কমছে। তবু তিনি বিশ্বাস করেন, ভাষা ও পোশাকই গারো সম্প্রদায়ের অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাই দকমান্দা টিকিয়ে রাখা মানে নিজেদের শিকড় ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা।

২১ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের দেয়ালে দেয়ালে ‘চাঁনু পাগলা’র ভালোবাসার ক্যানভাস!

টাঙ্গাইলের দেয়ালে দেয়ালে ‘চাঁনু পাগলা’র ভালোবাসার ক্যানভাস!

মু. আবিদ মল্লিক জয়: ভোর হলেই ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে বেড়িয়ে পড়েন তিনি। গন্তব্য অজানা। সারা দিন শহরের এক দেয়াল থেকে অন্য দেয়ালে ছুটে চলা। মুখে স্পষ্ট ভাষা নেই, নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। অথচ ১০-১৫ মিনিটের জাদুকরী ছোঁয়ায় ইটের ধূসর দেয়ালে ফুটিয়ে তোলেন অসাধারণ সব চিত্রকর্ম। তিনি আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে চাঁনু মিয়া (৫১)। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ‘চাঁনু পাগলা’ নামে। মানসিক ভারসাম্যহীন এই মানুষটির তুলির আঁচড়ে মুগ্ধ এখন টাঙ্গাইল শহরের সর্বস্তরের মানুষ। টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা চাঁনু মিয়া বাবা-মায়ের পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা চাঁনু ছোটবেলায় বাবার সাথে মাঠে কাজ করতেন। কাজের ফাঁকে কচুরিপানা, মাটির টুকরো আর কয়লা দিয়ে মাটিতেই আঁকিবুঁকি করতেন। সেখান থেকেই মূলত তার ছবি আঁকার হাতেখড়ি। তবে বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। তীব্র একাগ্রতা আর একাকিত্ব থেকে একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকেই ছবি আঁকাকে নিজের জীবনের একমাত্র সঙ্গী করে নেন তিনি। চাঁনু মিয়ার আঁকা ছবির মূল আকর্ষণ এক জোড়া তরুণ-তরুণী। স্থানীয়দের ধারণা, ছবির ছেলেটি স্বয়ং চাঁনু মিয়া এবং মেয়েটি তার হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকা। তবে সেই প্রেমিকার নাম বা পরিচয় আজও রহস্যই রয়ে গেছে। শুধু প্রেম নয়, চাঁনুর তুলিতে ফুটে ওঠে মসজিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের নানা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ছবির পাশাপাশি দেয়ালে দেয়ালে তিনি লিখে রাখেন চমৎকার সব উপদেশমূলক বাণী। পেশায় চিত্রশিল্পী না হলেও চাঁনু মিয়ার কাজের গতি ও নিখুঁত শৈলী যেকোনো পেশাদার শিল্পীকে হার মানাবে। কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটে তিনি এঁকে ফেলেন পূর্ণাঙ্গ ছবি। অস্পষ্ট ভাষায় কথা বলা এই মানুষটির ভেতরের সুপ্ত প্রতিভা দেখে প্রতিনিয়ত পথচারীরা থমকে দাঁড়ান, মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন তার সৃষ্টিশীলতা। দিন শেষে অন্ধকার নামলেই আবার ফিরে যান নিজের একাকী ঘরে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁনু মিয়ার সঙ্গে একটি বস্তা। বস্তার ভেতরে কয়লা ও কচুরিপানা আর কিছু কাগজের টুকরা পাশে রেখে শহরের পার্ক বাজারের মোড়ে একটি দেয়ালে চাঁনু মিয়া ছবি আঁকছেন। তার এ ছবি আঁকা দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষজন। আঁকা ছবি দেখে সবাই প্রশংসা করছেন। চাঁনু মিয়ার প্রায় সমবয়সী স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি ইসলাম বলেন, আমি ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি চাঁনু মিয়া কচুরপিানা ও কয়লা দিয়ে শহরের বিভিন্ন দেয়ালে ছবি আর্ট করে রাখেন। তার ছবি আঁকা খুবই সুন্দর। তার ছবি আঁকা দেখে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা উৎসাহিত হবেন। পার্কবাজারের ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, আমি ছোট বেলা থেকে দেখছি তিনি বিভিন্ন দেয়ালে গাছের পাতা, লকচচুরিপানা, কচুগাছের কাণ্ড, কয়লা ইত্যাদি দিয়ে ছবি আঁকেন। বিভিন্ন দেয়ালে দেখা মিলে একটি ছেলে ও একটি মেয়ের ছবি, সবাই ধারণা করছে মেয়েটি তার প্রেমিকা আর ছেলেটি তিনি। এছাড়াও তিনি স্বাধীনতার ছবিও এঁকে থাকেন। তাকে যদি সরকারিভাবে সুচিকিৎসা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়- তাহলে তিনি ভালো চিত্রশিল্পী হতে পারবেন। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক সেলিম মিয়া বলেন, আমি শহররে বিভিন্ন এলাকায় রিকশা চালাই। চাঁনু পাগলাকে শহরের বিভিন্ন দেয়ালে ছবি আঁকতে দেখি। যখন যাত্রী না থাকে রিকশা চালানো বন্ধ করে তার ছবি আঁকা দেখি, অনেক ভালো লাগে। চাঁনু দেয়ালে দেয়ালে ছবি আঁকেন। যে দেয়ালে ছবি আঁকেন অনেক সময় তাকে বাসার মালকিরা গালিগালাজ করেন। তারপরও চাঁনু মিয়া থেমে যাননি। তার প্রতিভাদেখে সবাই মুগ্ধ। টাঙ্গাইলের কবি মাহমুদ কামাল জানান, যে চিত্র আমরা আঁকতে জানি তার ছায়া স্থাপিত থাকে বিরহের মেঘ মঙ্গলে। পৃিথবীর সকল আনন্দ ডুবে থাকে তাদের নেপথ্য বেদনায়। তাই তার ছবি আঁকা যেন তার বিরহের মেঘ মঙ্গলের। টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মাহমুদা বেগম জেবু বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে চাঁনু মিয়া আমার এলাকার সন্তান। ছোট সময় দেখছি বাবার সাথে মাঠে-ঘাটে কাজ করতেন। তখন থেকেই তার মেধা ছিল তীক্ষè। তবে বাবা মারা যাওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছিল। পরিবারে সবার ছোট চাঁনু মিয়া। বাড়ির অন্য সদস্যরা আলাদা সংসারে বসবাস করায় তার তেমন কোন পরির্চযা না হওয়ায় এ অবস্থা। তাকে সবাই পাগল বললেও তিনি কিন্তু সে রকম না। সারাদিন ঘুরে ঘুরে দেওয়াল লিখেন। কখন খাচ্ছে, কি খাচ্ছে- কোন খোঁজ নেই। কারো কাছে খাবার চেয়ে খান না। কেউ দিলেও খাবেন না। শুধু কথা কম বলেন। তার ইচ্ছামত কথা বলেন। এই স্বভাবের কারণেই অনেকে তাকে পাগল হিসেবে গণ্য করছে। আসলে তিনি বোবা নন, পাগলও নন- মানসিক ভারসাম্যহীন বলা যেতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মতে, চাঁনু মিয়াকে যদি সরকারিভাবে একটু সুচিকিৎসা ও সহযোগিতা প্রদান করা যেত, তবে তিনি দেশের একজন প্রথম সারির পেশাদার চিত্রশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারতেন। টাঙ্গাইলবাসী অবহেলায় প্রায় হারিয়ে যাওয়া এই অসাধারণ প্রতিভাকে বাঁচিয়ে রাখতে সুধীসমাজ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

১৯ জুন ২০২৬

শিল্পকলায় ৮ দিনের নাট্য উৎসব শুরু

শিল্পকলায় ৮ দিনের নাট্য উৎসব শুরু

দৃষ্টি বিনোদন: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে শুক্রবার(১২ জুন) থেকে শুরু হয়েছে ৮ দিনব্যাপী ‘নতুন নাটকের উৎসব-২০২৬’। এই নাট্যউৎসব চলবে আগামি ১৯ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে উৎসবের আয়োজন। উদ্বোধনী দিনে মঞ্চস্থ হবে দিনাজপুর নাট্য সমিতির নাটক ‘চোরের নাম চরণদাস’। এবারের উৎসবে মোট ৮টি ভিন্ন ভিন্ন নাটক প্রদর্শিত হবে দেশের বিভিন্ন নাট্য দলের পরিবেশনায়। সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথা জানানো হয়েছে। উৎসবের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নতুন নাটক নতুন সময় - মঞ্চে জাগুক মানুষের কথা’। আয়োজনটি করছে শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিদিন নাটক শুরুর আগে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে বিশেষ আয়োজন ‘বাংলা নাটকের গান’। এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৮টি নাট্যদল অংশ নেবে। উৎসবে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রিনা প্লুং’, ‘ইডিপাস’, ‘ক্যাফে দ্যা ভলতে’, ‘ব্যতিক্রম ও নিয়ম’, ‘রঙমহাল’, ‘মহাকালের অন্তর্যাত্রা’ এবং সমাপনী দিনে ‘দি গ্রেট স্মাগলার’। এছাড়া উদীয়মান নাট্য নির্দেশকদের জন্য ৫ দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেবেন। আয়োজকরা মনে করছেন, এই নাট্যউৎসব দেশের মঞ্চনাটকে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনবে এবং দর্শকদের আবারও নাট্যমুখী করবে।

১২ জুন ২০২৬

ভাসানী হল সংস্কারের মাধ্যমে ‘মডেল টাঙ্গাইল’ গড়া হবে :: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ভাসানী হল সংস্কারের মাধ্যমে ‘মডেল টাঙ্গাইল’ গড়া হবে :: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ভাসানী হলকে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। শুক্রবার(১২ জুন) সকালে টাঙ্গাইলের জরাজীর্ণ ভাসানী হল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যারা বিচরণ করেন, তাদের অনুষ্ঠান করার মতো কোনো জায়গা নেই। মওলানা ভাসানী বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মহান নেতা। কাজেই তাঁর স্মৃতি বিজড়িত এই ভাসানী হলকে রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব আমাদের সবার। হলটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘ভাসানী হল’ দীর্ঘদিনের অবহেলায় জৌলুস হারিয়েছে। যেহেতু এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উদ্বোধন করেছিলেন, তাই এর গুরুত্ব অনেক। অথচ বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’ ভবনটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, টাঙ্গাইলকে এক সময় সাংস্কৃতিক নগরী বলা হতো। সেই নগরীতে এভাবে একটি মিলনায়তন বছরের পর বছর পরিত্যক্ত পড়ে থাকবে- তা হতে পারে না। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক চর্চা ফিরিয়ে আনতে এবং স্থানীয় শিল্পীদের জন্য উপযুক্ত স্থান নিশ্চিত করতে এই হলের সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে। আমরা ইতোমধ্যেই এটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। যত দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব- আমরা সেই পদক্ষেপই নেব। একটি ‘মডেল টাঙ্গাইল’ গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন, গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন মিয়া প্রমুখ। ঐতিহাসিক ভাসানী হল পরিদর্শন শেষ করে প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে যান। সেখানে তিনি দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত একটি বিজ্ঞান উদ্ভাবনী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।

১২ জুন ২০২৬

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিন মাসের জন্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিন মাসের জন্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

দৃষ্টি নিউজ: সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় আগামী সোমবার (১ জুন) থেকে টানা তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। এ নিষেধাজ্ঞা আগামি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময় জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালী ও পর্যটক কেউই সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেন না। বন বিভাগ জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে নদী-খালে মাছ ডিম ছাড়ে, বন্যপ্রাণিদের প্রজনন ঘটে এবং বিভিন্ন গাছের বীজ থেকে নতুন চারা গজায়। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্বিঘ্নে রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু করা হবে না। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বন কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যটক ও বনজীবীদের নৌযান চলাচলের কারণে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হয়। তিন মাস বনকে নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ দেওয়া গেলে মাছ, গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য আরও সমৃদ্ধ হবে। তবে এ নিষেধাজ্ঞায় সুন্দরবননির্ভর হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালী পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বনজীবীদের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়ে বন বিভাগ ও মৎস্য বিভাগ কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে পর্যটননির্ভর নৌযান মালিক ও শ্রমিকরাও দীর্ঘ তিন মাস কর্মহীন সময় পার করবেন বলে জানিয়েছেন। বুড়িগোয়ালিনী এলাকার কাঁকড়া জেলে জামাল হোসেন বলেন, তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য পাস বন্ধ করে দেওয়া মানে আমাদের মতো জেলেদের জন্য খুবই কষ্টকর। জেলে আনিসুর বলেন, সুন্দরবনে যেতে না পারলে উপকূলের জেলেদের আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। এ সময় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাতে হয়। নীলডুমুর পর্যটকবাহী ট্রলারের মাঝি রিপন গাজী বলেন, পাস পারমিট বন্ধ থাকায় এই সময়ে সুন্দরবনে কোনো পর্যটক প্রবেশ করতে পারে না। আর এই পাস বন্ধ হওয়ায় আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। বনবিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, আগামি ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় সুন্দরবন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ সময়ের মধ্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

৩১ মে ২০২৬

অবৈধ উপায়ে আসা পশুর কোরবানি কতটা সমীচীন? :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

অবৈধ উপায়ে আসা পশুর কোরবানি কতটা সমীচীন? :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট: অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন প্রশ্ন করে এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম) বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন, এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ বা চোরাই পথে পশু প্রবেশের ঘটনা ঘটে। তিনি দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে অবৈধভাবে আসা পশু বর্জনের আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে নয়, সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। যুবসমাজকে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিএনপির প্রচার সম্পাদক টুকু বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দেশীয় উৎপাদন, খামারি ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এবিএম খালেদুজ্জামান। কর্মশালায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২১ মে ২০২৬

টুং-টাং শব্দে চলছে কামারদের ব্যস্ততা

টুং-টাং শব্দে চলছে কামারদের ব্যস্ততা

দৃষ্টি রিপোর্ট: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। লোহা গরম করে পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের নিরবচ্ছিন্ন কাজ। আগুনের তাপে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। বছরের এ সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি কাজ ও আয়ের সুযোগ পান তারা। রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কামারশালাগুলোতে চলছে দা, বটি ও চাপাতি তৈরির ব্যস্ততা। ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে কাজের চাপ। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের দা, বটি, কুড়াল ও চাপাতি তৈরি করছেন কামাররা। রূপগঞ্জের পূর্বগ্রাম এলাকার কামারশালার মালিক জাকিরুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এবার কাজের চাপ কিছুটা বেশি। তবে অধিকাংশ মানুষ নতুন সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরোনো যন্ত্রপাতিও মেরামত করাচ্ছেন। তিনি বলেন, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় এবার পণ্যের দামও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে একটি বড় দা বা বঁটি আকার ও ওজনভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চাপাতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ছুরি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কামাররা জানায়, সারা বছর কাজ তুলনামূলক কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে তাদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। তবে কয়লা, লোহা ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। একটি ছুরি শান দিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং নতুন দা বা চাপাতি তৈরি করতে আকারভেদে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ঈদ মৌসুমে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সারা বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন কামারশিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষরা।

২১ মে ২০২৬

পরিবহন মালিকদের সমিতি বিএনপির দখলে!

পরিবহন মালিকদের সমিতি বিএনপির দখলে!

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান ও পৌর বিএনপির সভাপতি এসএমএ সোবহানের নেতৃত্বে বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে দখলে নেওয়া হয়েছে! তারা ধানবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও বিনিময় পরিবহনের তিনটি বাসও দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির ওই দুই নেতা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করে ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও পরিবহন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তারা মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পকেট কমিটি গঠন করে পরিবহন খাত পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ জন মালিকের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত ‘বিনিময় পরিবহন’ -এর তিনটি বাসও জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএরনপির সভাপতিদ্বয়। বর্তমানে ওই বাসগুলোর আয়ের পুরো অর্থ তারা নিজেরা নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কয়েকজন মালিক দাবি করেন, বাস মালিক শামসুল আলম ও লিটনের উপর হামলা চালিয়ে পড়ে তাদের সান্ত্বনাও দেন। পরিবহন পরিচালনায় অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধা দিলে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। হামলার শিকার বাস মালিক শামসুল আলম জানান, প্রতিবাদ করায় তার উপর হামলা করা হয়। আবার বিএনপির কয়েক নেতা শান্তনাও দেন। তারা যৌথভাবে বাস কিনেছেন। এখন বাসের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব পাচ্ছেন না। সবকিছু জোর করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান জানান, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি কখনো ওই তিন বাস দেখেন নাই এবং জানেনও না। তবে মালিকদের মধ্যে একটা সমস্যা হয়েছিল- সেটা মিমাংসা করার জন্য কয়েকবার উভয়পক্ষকে নোটিশ দিয়ে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো পক্ষই আসেননি।

২০ মে ২০২৬