শিক্ষাঙ্গন

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নে কৌশল ও করণীয় নিয়ে সেমিনার

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নে কৌশল ও করণীয় নিয়ে সেমিনার

দৃষ্টি রিপোর্ট:‎‎আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও উন্নত করতে কৌশলগত পরিকল্পনা ও করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নের জন্য কৌশলগত শিক্ষা ও কাঠামো’ (Strategic Lessons and Frameworks for University Ranking Improvement) শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) কনফারেন্স রুমে আইকিউএসি’র উদ্যোগে ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার টেইলর্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. গাজী মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির।প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নত করা শুধু একটি সূচকে ভালো করার বিষয় নয়; বরং শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রভাব ও আন্তর্জাতিকীকরণ, শিল্প ও সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য-উপাত্তের যথাযথ ব্যবস্থাপনার সমন্বিত ফল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মানোন্নয়নের সঙ্গে র‌্যাঙ্কিং কার্যক্রমকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।মূলপ্রবন্ধে অধ্যাপক ড. গাজী মাহবুবুল আলম আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন সূচক, র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নের কৌশল, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা, তথ্যের মান ও নির্ভরযোগ্যতা এবং অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

০৫ অক্টোবর ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং ও একাডেমিক উৎকর্ষতা অর্জনে সেমিনার অনুষ্ঠিত

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং ও একাডেমিক উৎকর্ষতা অর্জনে সেমিনার অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ‘Roadmap to Academic Excellence: Mastering BAC Accreditation and International Ranking Frameworks’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় একাডেমিক ভবনের ১২ তলাস্থ সেমিনার হলে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (IQAC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন IQAC-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (BAC) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ্‌ এমরান। অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়ার টেইলরস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. গাজী মাহবুবুল আলম।সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মানদণ্ড নির্ধারিত হয় তার গবেষণা, গুণগত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে হলে আমাদের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন এবং গ্লোবাল র‍্যাংকিং ফ্রেমওয়ার্ক সম্পর্কে শুধু জানলেই হবে না, সে অনুযায়ী বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আজকের এই সেমিনার আমাদের শিক্ষকদের সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে সাহায্য করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষক ও অফিস প্রধানরা অংশগ্রহন করেন।

০৪ অক্টোবর ২০২৬

কালিহাতীর বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কালিহাতীর বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

এলেঙ্গা প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি ও পাসের লক্ষ্যে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ওবায়দুল হক নাসির।ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে মা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মোল্লাসহ অন্যান্যরা।সমাবেশে বক্তারা এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ ফলাফল নিশ্চিত করতে মায়েদের সচেতন ভূমিকা ও নিয়মিত তদারকির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা শেষে বিদ্যালয়ে অতি সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া মিড-ডে মিল কার্যক্রম পরিদর্শন করেন অতিথিরা।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও তাদের মায়েরা উপস্থিত ছিলেন।

০১ অক্টোবর ২০২৬

মাদক-জুয়া ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

মাদক-জুয়া ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

দৃষ্টি নিউজ:শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ও জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। তবে কমিটিগুলো কবে গঠন করা হবে এবং এর কাঠামোতে কারা থাকবেন, বিজ্ঞপ্তিতে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত ৩০ জুন মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত কমিটির কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।এদিকে চলতি বছর প্রণীত জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এও জুয়া প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুয়ার কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আইন প্রয়োগ, সমন্বয়, তদারকি ও নীতিগত নির্দেশনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু

দৃষ্টি নিউজ:২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সশরীরে কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। এ কার্যক্রম চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে মাইগ্রেশনের ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তা চূড়ান্তভাবে জানানো হয়েছে।একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু:একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট ও সনদের কপি, এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, দুই থেকে চার কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, অনলাইন আবেদন নিশ্চায়নের কপি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর।কোন কলেজে ভর্তি ফি কত:শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিও ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান, বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন এবং বিভাগীয় শহর, জেলা ও মফস্বল এলাকার ভিত্তিতে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর বা বিভাগীয় শহরের প্রতিষ্ঠানে এ ফি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নেওয়া যাবে।নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদর এলাকায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে ৪ হাজার টাকা। উপজেলা ও মফস্বল এলাকার কলেজে বাংলা ভার্সনে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।ভর্তিতে ৭ শতাংশ কোটা:ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।নিশ্চায়ন করেনি ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী:গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জনকে কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।মনোনীত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে বলা হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন করেছে। তবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৪ জন নিশ্চায়ন না করায় প্রথম ধাপের ভর্তি থেকে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, যারা নিশ্চায়ন করেনি, তাদের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন তাদের ভর্তির জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে।তিনি বলেন, প্রথম ধাপে নির্বাচিত ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি শেষ হওয়ার পর আবার আবেদন নেওয়া হবে। তখন যারা প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন করেনি, তারা নতুন করে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পাবে।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন বিভাগের ১২ একর জমি দখলের অভিযোগ

বন বিভাগের ১২ একর জমি দখলের অভিযোগ

দৃষ্টি রিপোর্ট:প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সুশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুর্নীতির এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুল। বিভাগীয় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য ও বিত্তবানদের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে গত এক দশকে তিনি কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এছাড়া বন বিভাগের প্রায় ১২ একর জমি দখল করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ধলিপাড়া এলাকার সাবেক ফরেস্টগার্ড মৃত ছামান আলীর ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুল নিজ এলাকায় বন বিভাগের প্রায় ১২ একর শাল বন জবরদখল করেছেন। দামি দামি গজারি গাছ কেটে সরকারি বনের সেই জমিতেই গড়ে তুলেছেন মাল্টা বাগান, গরুর খামার ও একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন। মাল্টা বাগানটি আবার লিজ দিয়েছেন স্থানীয় সাইফুল ইসলামকে। শিক্ষা প্রশাসনে নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নূর মোহাম্মদ গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী পাবনা সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা শবনম। ঢাকা ও পাবনা- এই দুই অঞ্চলের শিক্ষা প্রশাসনকে কার্যত জিম্মি করে রেখেছেন এই দুই কর্মকর্তা।অভিযোগ রয়েছে- সাধারণ শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, নিয়মবহির্ভূত পদায়ন এবং অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। বদলি ও পদোন্নতির ফাঁদে ফেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে এই সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছে।অনুসন্ধানে নূর মোহাম্মদের বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সখীপুর পৌরসভায় একাধিক বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি, অভিজাত ফ্ল্যাট ও নামীদামি ব্র্যান্ডের গাড়ির মালিক বনে গেছেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের ও বেনামে জমা রয়েছে কোটি কোটি টাকা। একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয় দিয়ে এত অল্প সময়ে কীভাবে এই পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হওয়া সম্ভব- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ শিক্ষা অধিদপ্তরের সৎ কর্মকর্তারা।এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরও ভয়ংকর অভিযোগ রয়েছে। নূর মোহাম্মদ ও শাহিদা শবনম সুকৌশলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের অনৈতিক ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিং করতেন। পরবর্তীতে সম্মানহানি ও মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে এই চক্র।লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন অনেকেই মুখ না খুললেও, সম্প্রতি তাদের এই বেপরোয়া অপকর্মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ভুক্তভোগী কতিপয় ব্যক্তি এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। ওই শিক্ষা কর্মকর্তা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় থাকলেও নির্বিকার প্রশাসন। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পার পেয়ে যাচ্ছেন তারা। তদন্ত থমকে যাওয়া কিংবা ধামাচাপা পড়ার কারণে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।এদিকে নুর মোহাম্মদ ওরফে বাবুলের মাল্টা বাগান লিজ নেওয়া সাইফুল ইসলাম জানান, আটিয়া বন অধ্যাদেশের কারণে জমির কাগজপত্রে জটিলতা রয়েছে। এ কারণে ভূমি অফিস খাজনা নিচ্ছেনা এবং এজন্যই ওই জমির উপর ব্যাংক ঋণও দিচ্ছেনা।সরেজমিনে নানাজনের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুলের সাক্ষাত না পেয়ে তার মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।কালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জামাল মিয়া জানান- নুর মোহাম্মদ নামে নয়, এলাকায় তিনি বাবুল হিসেবে পরিচিত। এলাকায় তাকে ভালো মানুষ হিসেবেই জানে। তবে বনের জায়গা দখলের বিষয়ে তিনি জানান, এতদাঞ্চলের সবারই ‘আটিয়া বন অধ্যাদেশ’র কারণে খাজনা-খারিজ(নামজারি) করতে পারছেনা।টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব জানান, বনের জয়গা জবরদখল করার এখতিয়ার কারো নেই। যদি জবরদখলের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামি দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামি দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট:মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না। জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামি দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিবে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘গত বছরের ন্যায় এবারও জিপিএ-৫ পাওয়া সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আয়োজন করেছি। আগামিতেও এ ধারা অব্যাহত রাখব ইনশাআল্লাহ। কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সবাইকে বড় স্বপ্ন দেখে তা বাস্তবায়নে মনোযোগী ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো মাদক। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।’১১ দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে সবারই কর্মসূচি পালন করার অধিকার রয়েছে। তবে জনগণ বিচার করবে তাদের এই কর্মসূচি করা ঠিক হচ্ছে কি না।’তিনি আরো বলেন, ‘সরকারপ্রধান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে খাতটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। সরকারের কোনো গাফিলতি থাকলে তারা সেটি নিয়ে কথা বলতে পারত।’অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজুয়ান সিদ্দিকীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. জোবায়দুর রহমান জনি।অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ৮৫০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। তাদের কলেজ ব্যাগ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রীও দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে ফাহাদ’স টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা ও অনলাইন শিক্ষক মো. ফাহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি, লক্ষ্য নির্ধারণ ও ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মেফতাউল আলম সিয়াম এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী জাহাঙ্গীর আলম শান্ত নিজেদের সফলতার কৌশল ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. জে আলী স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

সা’দত কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পদার্থ বিজ্ঞানের বন্ধনে, প্রাক্তনদের মিলনে- আগামীর পথে একসাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলেজের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়।এদিন সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের হলরুমে গিয়ে অ্যালামনাই ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।সা’দত কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সচিব মাসুম বেগ, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সরকারি সা’দত কলেজের শিক্ষক সাব্বির হাসান পল সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। দিনব্যাপী ওই পুনর্মিলনীকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কুলের পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

স্কুলের পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

আব্দুস সাত্তার:টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা করোনেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে আশিক(১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আশিক কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বাসিন্দা মাইদুল ইসলামের ছেলে। তার বাবা পরিবার নিয়ে কালিহাতী উপজেলার বল্লা পশ্চিমপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বল্লা করোনেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুকুরে সাঁতার কাটতে নামে আশিক। একপর্যায়ে সে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে উদ্ধার করতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানের পর পুকুর থেকে আশিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আশিকের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

২৭ আগস্ট ২০২৬

দেশে যে সংকট চলছে তা আমাদের নয়- পতিত সরকারের :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী

দেশে যে সংকট চলছে তা আমাদের নয়- পতিত সরকারের :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি বলেছেন, দেশে যে সংকট এখন চলছে এটা আমাদের সংকট নয়, ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদ এই সংকট তৈরি করে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সংকট উত্তোলনের জন্যে প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন- ইনশাআল্লাহ অতিদ্রুত এই সংকট থেকে আমরা উত্তরণ করব। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, গত ১৮ বছরে আমাদের দেশের লেখাপড়ার মান ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা জানি যে একটা জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সবার আগে তার শিক্ষাকে ধ্বংস করতে হবে। হাসিনার রেজিম সেই কাজটি করেছে। যখন দেশটা মেধার ভিত্তিতে চলবে না, লেখাপড়ার মান নিচে নেমে যাবে। দেশ নেশায় ভরে যাবে। দেশে দুর্নীতির আকণ্ঠ নেমে যাবে। তখন এই দেশটাকে শোষণ ও লুটপাট করা সহজ হবে- আর সেই কাজটি হাসিনার রেজিম ১৮ বছর করেছে।তিনি বলেন, আজকে আমরা শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা বলছি। শুধু শিক্ষার মান উন্নয়ন নয়, আজকে অর্থনীতি তলানিতে। এই যে আমরা দেখি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা, কেন? বাংলাদেশ তো একসময় গ্যাসের উপর ভাসতো। বিদ্যুতের তো সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না। তাহলে কেন আজকে সমস্যা? এই হাসিনার রেজিম, ফ্যাসিবাদি রেজিম এগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিদ্যুতের নামে লুটপাট করেছে। গ্যাস উত্তোলন না করে শুধু ইনপুট করেছে। আমাদের একটা প্রতিষ্ঠান আছে বেপজা সেটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এসে গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা করছে। আমরা বিদ্যুত উৎপাদনের ব্যবস্থা করছি দ্রুত।বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও অভিভাবক সদস্য সফিকুল ইসলাম লোটাসের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী’র সহধর্মিণী বেগম নার্গিস সিদ্দিকা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইকবাল হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান মুনসীফ, বাসাইল ও সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার একেএম মামুনুর রশীদ, বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক নূরনবী আবু হায়াত খান নবু, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু প্রমুখ।

২৫ আগস্ট ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ বছরের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ বছরের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ থেকে ২০৭৫ সাল পর্যন্ত ৫০ বছরের একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি প্রতিনিধিদের (সিআর) সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের সেমিনার কক্ষে একাডেমিক মাষ্টার প্ল্যান প্রণয়ন কমিটির(Academic Master Plan Formulation Committee) আয়োজনে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) ও একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। সভায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির এক্সপার্ট সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ এবং কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন মো. তারিক একাডেমিক মাস্টার প্ল্যানের খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।এ সময় কমিটির সদস্য ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মহিউদ্দিন, সদস্য সচিব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সিআরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীদের সিআররা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ, বিভাগভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি সুবিধা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কারিকুলাম আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিকীকরণ, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা, আবাসন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ আগামি ৫০ বছরের একাডেমিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা, যুগোপযোগী কারিকুলাম, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব একাডেমিক পরিবেশ। আগামী ৫০ বছরে মাভাবিপ্রবিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের, গবেষণানির্ভর ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে এই একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

২৫ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে প্রাইমারি স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষকের পদ শূণ্য!

টাঙ্গাইলে প্রাইমারি স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষকের পদ শূণ্য!

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল জেলার এক হাজার ৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক হাজার ৪৫৯টি শিকক্ষের পদ শূণ্য রয়েছে। এরমধ্যে ৮৮৮ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এবং ৫৭১ টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি। নিয়োগ ও পদন্নোতিসহ নানা জটিলতায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সমাধানের দাবি করেছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়- টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে ঘাটাইল উপজেলায় ১৭২ জনের মধ্যে ১১০জন, সখীপুর উপজেলায় ১৪৭ জনের মধ্যে ২৪, গোপালপুর উপজেলায় ১৬১ জনের মধ্যে ১২৬, বাসাইল উপজেলায় ৭৯ জনের মধ্যে ৩০, সদর উপজেলায় ১৬৩ জনের মধ্যে ৭৪ জন, দেলদুয়ার উপজেলায় ১০০ জনের মধ্যে ৬৩, মির্জাপুর উপজেলায় ১৭০ জনের মধ্যে ৬০, কালিহাতী উপজেলায় ১৭০ জনের মধ্যে ১১২, মধুপুর উপজেলায় ১১০ জনের মধ্যে ৭৩, নাগরপুর উপজেলায় ১৫৬ জনের মধ্যে ১০৫, ভূঞাপুর উপজেলায় ১১০ জনের মধ্যে ৭৫ এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ৮৫ জনের মধ্যে ৩৬ জনের মোট ৮৮৮ টি পদ শূন্য রয়েছে। কর্মরত রয়েছেন ৭৩৫ জন প্রধান শিক্ষক।সূত্রমতে, জেলায় সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ স্যংখ্যা ৯ হাজার ৬৮টি। এরমধ্যে ঘাটাইল উপজেলায় ৮৫, সখীপুর উপজেলায় ২৯, গোপালপুর উপজেলায় ৮১, বাসাইল উপজেলায় ১৩, সদর উপজেলায় ৪১, দেলদুয়ার উপজেলায় ৪৬, মির্জাপুর উপজেলায় ৫০, কালিহাতী উপজেলায় ৬৪, মধুপুর উপজেলায় ২৭, নাগরপুর উপজেলায় ৬৫, ভূঞাপুর উপজেলায় ৫৪ ও ধনবাড়ী উপজেলায় ১৬ জনসহ মোট ৫৭১টি পদ শূন্য আছে। কর্মরত আছেন ৮ হাজার ৪৯৭ জন সহকারী শিক্ষক।ঘাটাইল উপজেলার খাজনাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহাকরী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) নাসির উদ্দিন জানান, ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১২ জন। তাদের দুই শিফটে পাঠদান হয়ে থাকে। শিক্ষক পদসংখ্যা ৫ জন হলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন। অফিশিয়াল অনেক নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ব্যস্ত থাকতে হয়। বাকি একজন শিক্ষকের পক্ষে পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে। তেমনি বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়ছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছে। তিনি সমস্যার দ্রুত সমাধান চান।বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা শাখার সভাপতি বাশিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যপূরণ এবং মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। একজন শিক্ষককে সপ্তাহে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষক ঘাটতি থাকা বিদ্যালয়ে ৩৫ থেকে ৪০টি নিতে হয়। ফলে শিক্ষকের শ্রেণিকক্ষে শেখানো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও শিক্ষার্থীর শিখন নিশ্চিত করা যায় না। বেইজ লাইন সার্ভে পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। তিনি আশা করেন, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামান মিয়া জানান, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং আজকের শিশুরাই আগামির ভবিষ্যৎ। তাই প্রতিটি শিশুকে মানসম্মত শিক্ষায় গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। কোমলমতী শিক্ষার্থীরা যেনো বিশ্বায়নের প্রতিয়োগিতায় পিছিয়ে না পড়ে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষাদান পদ্ধতির উন্নতির জন্যে শিক্ষকদের বাস্তবভিত্তিক যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দরকার।টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহীন মিয়া জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোয় পাঠদাসসহ নানা সমস্যা হচ্ছে। শূণ্যপদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রান্তিক ও দুর্গম অঞ্চলের। সংযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষক সমন্বয় করে সমাধান করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারকে শূন্যপদ পূরণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মঠ এবং মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষকতা করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতার নিয়ম আনা জরুরি। সেইসাথে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে সহকারী শিক্ষকের পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

২৪ আগস্ট ২০২৬

জাপানের ইয়োমিকাতা ও ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

জাপানের ইয়োমিকাতা ও ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাপানে উচ্চশিক্ষা, জাপানি ভাষা শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাপানের টোকিওভিত্তিক ‘ইয়োমিকাতা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টার’-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার(১৯ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ এবং ইয়োমিকাতা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টারের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ওই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির, গবেষণা সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।চুক্তির আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা, জাপানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং, মেন্টরিং ও পেশাগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাডেমিক নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধিতে কাজ করবে। এ ছাড়া দুই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে যৌথ সেমিনার, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ হচ্ছে- ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাপানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও কারিগরি পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা।

২০ আগস্ট ২০২৬

মওলানা ভাসানীর একটি স্মৃতিও নষ্ট হতে দিব না: ভিসি

মওলানা ভাসানীর একটি স্মৃতিও নষ্ট হতে দিব না: ভিসি

দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর যা যা স্মৃতি আছে- ইনশাআল্লাহ একটিও আমি নষ্ট হতে দিব না।’ বুধবার(১৯ আগস্ট) বিকালে মওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখিত, ভাবতেই পারিনি এই রিসার্চ সেন্টারের করুন অবস্থা। এখানে পরিচালক আছে, দুইজন ডেপুটি ডাইরেক্টর আছে, একজন কর্মচারীও আছে। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতিগুলো খারাপ অবস্থায় থাকবে- এটা কল্পনাই করা যায় না।তিনি আরও বলেন, মওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টারের একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান অলমোস্ট শেষ। আগামী ২৫ তারিখে ফাইনাল প্রেজেন্টেশন হবে। এইখানে মওলানা ভাসানীর আলাদা রিসার্চ সেন্টার এর জন্য ১০ তলা ভবনের একটি প্রস্তাব দেওয়া আছে।প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওনার মত ব্যক্তিত্বকে যে, আমরা সংরক্ষণ করতে পারি নাই, এটা জাতি হিসেবে আমাদের ব্যর্থতা। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ব্যাপারে সারা পৃথিবীতে যারা যারা গবেষণা করেছে তাদের প্রত্যেকের সাথে আমি যোগাযোগের চেষ্টা করছি এবং সবাইকে বলেছি আমাকে লিংক দিতে। আমরা একটা স্মারক গ্রন্থ বের করব, যে স্মারক গ্রন্থের ভেতরে মওলানা ভাসানীর উপরে যারা যারা কাজ করেছে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউক্রেন তাদের লেখা আমি আহ্বান করছি এবং আমি কমিটিকে বলেছি সব ধরনের সহযোগিতা করবো ইনশাল্লাহ। যারা মওলানা ভাসানীকে ভালোবাসে ওনাকে নিয়ে দেশে-বিদেশে গবেষণা করে তাদেরকে নিয়ে মওলানা ভাসানী রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান।এসময় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. আনিছুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ, আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল নাসির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

১৯ আগস্ট ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (BAC) কর্তৃক স্বীকৃতি অর্জনে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘BAC অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য কারিকুলাম ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত নিশ্চয়তা সেলের (IQAC) কনফারেন্স রুমে IQAC-এর উদ্যোগে ওই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। ‘BAC অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য কারিকুলামের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন IQAC-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. শাহ আদিল ইশতিয়াক আহমদ। পরবর্তীতে তিনি ‘কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতির হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ’ পরিচালনা করেন।এছাড়া IQAC-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. খায়রুল ইসলাম ‘কোর্স ফাইল প্রস্তুত ও সংরক্ষণ’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রশিক্ষণে IQAC-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির ‘CLO/PLO সংশোধন ও CLO অর্জন নিশ্চিতকরণে মূল্যায়ন কৌশল’ এবং ‘কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতি’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।প্রশিক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। এতে অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সহায়তা, কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতি, কোর্স ফাইল সংরক্ষণ, CLO/PLO সংশোধন, মূল্যায়ন কৌশল এবং গুণগত নিশ্চয়তা (QA) কার্যক্রমসহ BAC অ্যাক্রেডিটেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

১৮ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে নিখোঁজের একদিন পর শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইলে নিখোঁজের একদিন পর শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে নিখোঁজের একদিন পর জিহাদ হোসেন আসিফ (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার টাঙ্গাইল-কালামপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের গাড়াইল আন্ডারপাস এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আসিফ টাঙ্গাইল সদরের চর পাতুলীস্থ কচুয়াডাঙ্গা এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি হাজী আবুল হোসেন ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের (হ্যাবিট) ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আঞ্চলিক মহাসড়কের গাড়াইল আন্ডারপাস এলাকার একটি ডোবার পানিতে অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার(১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মুরগি বিক্রির জন্য আসিফ পুটিয়াজানি হাটে যান। সেখানে চাচাতো ভাই তামিমকে কাজের কথা বলে চলে আসে আসিফ। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে রাত ৮টা পর্যন্ত তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা থানায় যোগাযোগ করেন।টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ রাহাদুজ্জামান আকন্দ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আসিফ শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

১৫ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সচেতনতামূলক সেমিনার

টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সচেতনতামূলক সেমিনার

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী:টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলমান প্রক্রিয়ার ২য় সপ্তাহের ২য় দিনে ‘যুব সমাজের নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও স্বেচ্ছাসেবার গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) টাঙ্গাইল পৌরসভার আশেকপুরস্থ জোবায়দা উচ্চ বিদ্যালয়ে ওই সচেতনতামূলক সেমিনার ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তানভীর হাসান খান রুবেলের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য উপস্থাপন করেন, জোবায়দা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছিয়া আক্তার, কামরুন নাহার, হোসাইন আকন্দ, আব্দুর রহিম, নজরুল ইসলাম, সজল চন্দ্র আর্য্য, বুলবুল আহমেদ, রুপা ঘোষ, সম্পা দে, ফরিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহিদুল ইরলাম মোহিত, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ মিয়া, সদস্য মো. সিয়াম প্রমুখ।সেমিনারে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।বক্তারা বলেন- একটি সুন্দর, মানবিক পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।সেমিনারে সংগঠনের সকল পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

১৩ আগস্ট ২০২৬

জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি বলেছেন, আজকে বিরোধীদল অযথা কাল্পনিক আস্ফালন করেছে। আমরা বিরোধীদলের উদ্দেশে বলতে চাই- শান্ত থাকুন, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র, অহেতুক জ্বালাও পোড়াও করে ফ্যাসিবাদের চরিত্রে যাবেন না। মঙ্গলবার(১১ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে আর জ্বালাও পোড়াও দেখতে চাই না। আমরা কোন সিলের নির্বাচন দেখতে চাই না। আমরা কোন জোর-জবরদস্তির শাসন দেখতে চাই না।বিরোধী দলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন- আপনারা শান্ত হোন, হুশে আসেন; বেহুশ হবেন না। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। এই সরকারকে হটাতে হলে পাঁচ বছর পর আবারও যে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে ভোটে এসে তারপর যদি বেশি ভোট পান তাহলে সরকারে যাবেন, নইলে এই সরকারই আবারও নির্বাচিত হবে।আহমেদ আযম খান বলেন, আপনারা তো আবারও পাপাচার করবেন। ভোট দিলে বেহেশত দেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন, সে ক্ষমতা আপনারা কোথায় পেলেন, নাউজুবিল্লাহ মিন জালেক। জনগণ বুঝে আপনাদের ওই বেহেশতের টিকেট মানে পাপাচার। এখানে আমরা যাবো না বলেই জনগণ ৩০০ আসনের মধ্যে সোয়া ২০০ আসনে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে।মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমাদের সরকার সেবকের সরকার। আমরা সেবা করব। পাঁচ বছর পরে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আবার জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়- ক্ষমতায় আসবো। আপনাদের ভোট দিলে আপনারা আসবেন। জ্বালাও পোড়াও করে অযথা ওই সচিবালয়-মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না। কথা খুব পরিস্কার।তিনি আরো বলেন, যেমন পার্লামেন্টে দায়িত্বশীল আচরণ করেন আমরা বারবার ধন্যবাদ জানিয়েছি। তেমনি পার্লামেন্টের বাইরে মাঠের আন্দোলনে দায়িত্বশীল আচরণ করেন। এটাই বাংলাদেশের মানুষ চায়, বাংলাদেশের মানুষ আশা করে। আপনাদেরকে বলবো আমাদের সরকারের সঙ্গে থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। আমরা একটা সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আপনাদেরকে ইনশাআল্লাহ উপহার দেব।বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সৈয়দ মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন, বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, বাসাইল পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু প্রমুখ।

১১ আগস্ট ২০২৬

মধুপুর গড়ের বিপন্ন ‘আচিক’ ভাষা রক্ষার দাবি

মধুপুর গড়ের বিপন্ন ‘আচিক’ ভাষা রক্ষার দাবি

বুলবুল মল্লিক: বৈশ্বিক ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সংগতি রেখে টাঙ্গাইলের আদিবাসী-অধ্যুষিত মধুপুর গড় অঞ্চলেও রোববার(৯ আগস্ট) নানা আয়োজনে পালন করা হবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। আদিবাসীদের হাজার বছরের ঐতিহ্যগত জ্ঞান, জীবন ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে জাতিসংঘ এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান ও স্বীকৃতি: জীবন ও কল্যাণ সুরক্ষা’ (Honouring Indigenous Midwives: Safeguarding Life and Well-being)। দিবসটি উপলক্ষে মধুপুরের কয়েকটি আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আদিবাসী দিবসের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এমপি।দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আনন্দের আবহেও মধুপুরের আদিবাসীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় তাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির মূল ধারক ও মাতৃভাষা ‘আচিক’ (Achik) আজ নিজ ভূখণ্ডেই চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার মুখে পড়েছে। মধুপুর গড় অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী পাড়া ও গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, দিবসটি ঘিরে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ শিশুই তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা বলতে পারছে না। স্থানীয় প্রবীণদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, অতীতে এ অঞ্চলের গারো আদিবাসীরা আচিক ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানতেন না বা ব্যবহার করতেন না। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং বেঁচে থাকার তাগিদে এসেছে আমূল পরিবর্তন। জীবন-জীবিকা ও উচ্চশিক্ষার জন্য বনের সন্তানরা আশপাশের বাঙালিপ্রধান এলাকায় আসতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে আদিবাসী জনপদেও বাঙালিরা এসে বসতি স্থাপন করায় এক সময়ের এই বনাঞ্চলের মূল অধিবাসীরা আজ নিজ ভূমিতেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছেন। তারা জানায়, গারো শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে সম্পূর্ণ বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করতে হয়। কর্মজীবনে এসেও অফিস-আদালতসহ সব প্রাত্যহিক কাজেই তাদের বাংলা ব্যবহার করতে হয়। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের অভাবে পরিবার ও সমাজ থেকে আচিক ভাষার চর্চা প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে যাচ্ছে।আদিবাসী নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সোয়া লাখ গারো আদিবাসী রয়েছেন- যার মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারের বসবাস টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় অঞ্চলে। সম্প্রতি জলছত্র ও জয়েনশাহী সংলগ্ন পাড়াগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলপড়ুয়া শিশুরা তাদের মাতৃভাষা ভালোভাবে বলতেই পারে না। কেউ কেউ নিজ বাড়িতে মা-বাবার মুখে শুনে এই ভাষা কিছুটা বুঝতে শিখলেও, তারা নিজেরা আচিক ভাষায় কোনো উত্তর দিতে পারে না। মা-বাবা নিজের ভাষায় ডাকলেও উত্তর আসে বাংলায়।আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে মধুপুরের জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের নেতারা জানায়, জাতিসংঘের মূল থিম বা প্রতিপাদ্যের চেতনা তখনই সার্থক হবে যখন আদিবাসীদের ভাষা ও জীবন সুরক্ষার বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হবে। তারা অবিলম্বে জলছত্রসহ মধুপুর গড়ের সব সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গারো শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।মধুপুরের আদিবাসী নেতা অজয় এ মৃ জানান, আচিক ভাষার লিখিত কোনো বর্ণমালা নেই। কথিত আছে, দুর্ভিক্ষপীড়িত তিব্বত অঞ্চল ত্যাগ করে গারোরা যখন ভারতীয় উপমহাদেশে আসছিলেন, তখন যাঁর কাছে পশুর চামড়ায় লিখিত আচিক ভাষার পুঁথি-পুস্তকাদি ছিল, সেই ব্যক্তি পথে ক্ষুধার জ্বালায় সব পুঁথি-পুস্তক সেদ্ধ করে খেয়ে ফেলেন। তিনি সম্পূর্ণ ব্যাপারটি গোপন রাখেন। এ উপমহাদেশে আগমন ও বসতি স্থাপনের দীর্ঘদিন পরে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। কিন্তু তত দিনে গারো বর্ণমালা বিস্মৃতির অতল গর্ভে হারিয়ে যায়। কারণ, এ উপমহাদেশে প্রবেশের পর নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং স্থায়ী বাসযোগ্য স্থান নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ করে অভিজ্ঞ গারোরা প্রাণ হারান। ফলে আচিক ভাষার বর্ণমালা চিরতরে হারিয়ে যায়। তবে গারোদের মুখে মুখে আচিক ভাষার প্রচলন ছিল।এ প্রসঙ্গে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন মধুপুর শাখার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ঝুমুর মৃ জানান, মাতৃভাষা ধরে রাখার জন্য তারা নিজেরা বাড়িতে সব সময় আচিক ভাষায় কথা বলেন। তবু তাদের ভাষা রক্ষা করা যাচ্ছে না। বাংলার সঙ্গে ক্রমেই মিশে যাচ্ছে।জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে গড় এলাকায় ১২টি স্কুল চালু করা হয়েছিল; যেখানে গারো শিশুদের আচিক ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হতো। তিন বছর চলার পর দাতা সংস্থার অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়।আদিবাসী লেখক রাখী ম্রং জানান, ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষা নীতিমালায় শিশুদের তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় শিক্ষাব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গারো শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো এ ভাষা হারিয়ে ফেলবে।

০৮ আগস্ট ২০২৬