শিক্ষাঙ্গন
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ বছরের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ থেকে ২০৭৫ সাল পর্যন্ত ৫০ বছরের একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি প্রতিনিধিদের (সিআর) সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের সেমিনার কক্ষে একাডেমিক মাষ্টার প্ল্যান প্রণয়ন কমিটির(Academic Master Plan Formulation Committee) আয়োজনে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) ও একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। সভায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির এক্সপার্ট সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ এবং কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন মো. তারিক একাডেমিক মাস্টার প্ল্যানের খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।এ সময় কমিটির সদস্য ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মহিউদ্দিন, সদস্য সচিব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সিআরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীদের সিআররা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ, বিভাগভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি সুবিধা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কারিকুলাম আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিকীকরণ, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা, আবাসন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ আগামি ৫০ বছরের একাডেমিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা, যুগোপযোগী কারিকুলাম, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব একাডেমিক পরিবেশ। আগামী ৫০ বছরে মাভাবিপ্রবিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের, গবেষণানির্ভর ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে এই একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
১০ ঘণ্টা আগে
টাঙ্গাইলে প্রাইমারি স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষকের পদ শূণ্য!
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল জেলার এক হাজার ৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক হাজার ৪৫৯টি শিকক্ষের পদ শূণ্য রয়েছে। এরমধ্যে ৮৮৮ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এবং ৫৭১ টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি। নিয়োগ ও পদন্নোতিসহ নানা জটিলতায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সমাধানের দাবি করেছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়- টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে ঘাটাইল উপজেলায় ১৭২ জনের মধ্যে ১১০জন, সখীপুর উপজেলায় ১৪৭ জনের মধ্যে ২৪, গোপালপুর উপজেলায় ১৬১ জনের মধ্যে ১২৬, বাসাইল উপজেলায় ৭৯ জনের মধ্যে ৩০, সদর উপজেলায় ১৬৩ জনের মধ্যে ৭৪ জন, দেলদুয়ার উপজেলায় ১০০ জনের মধ্যে ৬৩, মির্জাপুর উপজেলায় ১৭০ জনের মধ্যে ৬০, কালিহাতী উপজেলায় ১৭০ জনের মধ্যে ১১২, মধুপুর উপজেলায় ১১০ জনের মধ্যে ৭৩, নাগরপুর উপজেলায় ১৫৬ জনের মধ্যে ১০৫, ভূঞাপুর উপজেলায় ১১০ জনের মধ্যে ৭৫ এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ৮৫ জনের মধ্যে ৩৬ জনের মোট ৮৮৮ টি পদ শূন্য রয়েছে। কর্মরত রয়েছেন ৭৩৫ জন প্রধান শিক্ষক।সূত্রমতে, জেলায় সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ স্যংখ্যা ৯ হাজার ৬৮টি। এরমধ্যে ঘাটাইল উপজেলায় ৮৫, সখীপুর উপজেলায় ২৯, গোপালপুর উপজেলায় ৮১, বাসাইল উপজেলায় ১৩, সদর উপজেলায় ৪১, দেলদুয়ার উপজেলায় ৪৬, মির্জাপুর উপজেলায় ৫০, কালিহাতী উপজেলায় ৬৪, মধুপুর উপজেলায় ২৭, নাগরপুর উপজেলায় ৬৫, ভূঞাপুর উপজেলায় ৫৪ ও ধনবাড়ী উপজেলায় ১৬ জনসহ মোট ৫৭১টি পদ শূন্য আছে। কর্মরত আছেন ৮ হাজার ৪৯৭ জন সহকারী শিক্ষক।ঘাটাইল উপজেলার খাজনাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহাকরী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) নাসির উদ্দিন জানান, ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১২ জন। তাদের দুই শিফটে পাঠদান হয়ে থাকে। শিক্ষক পদসংখ্যা ৫ জন হলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন। অফিশিয়াল অনেক নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ব্যস্ত থাকতে হয়। বাকি একজন শিক্ষকের পক্ষে পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে। তেমনি বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়ছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছে। তিনি সমস্যার দ্রুত সমাধান চান।বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা শাখার সভাপতি বাশিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যপূরণ এবং মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। একজন শিক্ষককে সপ্তাহে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষক ঘাটতি থাকা বিদ্যালয়ে ৩৫ থেকে ৪০টি নিতে হয়। ফলে শিক্ষকের শ্রেণিকক্ষে শেখানো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও শিক্ষার্থীর শিখন নিশ্চিত করা যায় না। বেইজ লাইন সার্ভে পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। তিনি আশা করেন, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামান মিয়া জানান, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং আজকের শিশুরাই আগামির ভবিষ্যৎ। তাই প্রতিটি শিশুকে মানসম্মত শিক্ষায় গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। কোমলমতী শিক্ষার্থীরা যেনো বিশ্বায়নের প্রতিয়োগিতায় পিছিয়ে না পড়ে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষাদান পদ্ধতির উন্নতির জন্যে শিক্ষকদের বাস্তবভিত্তিক যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দরকার।টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহীন মিয়া জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোয় পাঠদাসসহ নানা সমস্যা হচ্ছে। শূণ্যপদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রান্তিক ও দুর্গম অঞ্চলের। সংযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষক সমন্বয় করে সমাধান করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারকে শূন্যপদ পূরণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মঠ এবং মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষকতা করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতার নিয়ম আনা জরুরি। সেইসাথে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে সহকারী শিক্ষকের পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
২৪ আগস্ট ২০২৬
জাপানের ইয়োমিকাতা ও ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাপানে উচ্চশিক্ষা, জাপানি ভাষা শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাপানের টোকিওভিত্তিক ‘ইয়োমিকাতা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টার’-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার(১৯ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ এবং ইয়োমিকাতা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টারের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ওই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির, গবেষণা সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।চুক্তির আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা, জাপানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং, মেন্টরিং ও পেশাগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাডেমিক নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধিতে কাজ করবে। এ ছাড়া দুই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে যৌথ সেমিনার, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ হচ্ছে- ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাপানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও কারিগরি পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা।
২০ আগস্ট ২০২৬
মওলানা ভাসানীর একটি স্মৃতিও নষ্ট হতে দিব না: ভিসি
দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর যা যা স্মৃতি আছে- ইনশাআল্লাহ একটিও আমি নষ্ট হতে দিব না।’ বুধবার(১৯ আগস্ট) বিকালে মওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখিত, ভাবতেই পারিনি এই রিসার্চ সেন্টারের করুন অবস্থা। এখানে পরিচালক আছে, দুইজন ডেপুটি ডাইরেক্টর আছে, একজন কর্মচারীও আছে। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতিগুলো খারাপ অবস্থায় থাকবে- এটা কল্পনাই করা যায় না।তিনি আরও বলেন, মওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টারের একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান অলমোস্ট শেষ। আগামী ২৫ তারিখে ফাইনাল প্রেজেন্টেশন হবে। এইখানে মওলানা ভাসানীর আলাদা রিসার্চ সেন্টার এর জন্য ১০ তলা ভবনের একটি প্রস্তাব দেওয়া আছে।প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওনার মত ব্যক্তিত্বকে যে, আমরা সংরক্ষণ করতে পারি নাই, এটা জাতি হিসেবে আমাদের ব্যর্থতা। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ব্যাপারে সারা পৃথিবীতে যারা যারা গবেষণা করেছে তাদের প্রত্যেকের সাথে আমি যোগাযোগের চেষ্টা করছি এবং সবাইকে বলেছি আমাকে লিংক দিতে। আমরা একটা স্মারক গ্রন্থ বের করব, যে স্মারক গ্রন্থের ভেতরে মওলানা ভাসানীর উপরে যারা যারা কাজ করেছে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউক্রেন তাদের লেখা আমি আহ্বান করছি এবং আমি কমিটিকে বলেছি সব ধরনের সহযোগিতা করবো ইনশাল্লাহ। যারা মওলানা ভাসানীকে ভালোবাসে ওনাকে নিয়ে দেশে-বিদেশে গবেষণা করে তাদেরকে নিয়ে মওলানা ভাসানী রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান।এসময় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. আনিছুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ, আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল নাসির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৯ আগস্ট ২০২৬
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (BAC) কর্তৃক স্বীকৃতি অর্জনে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘BAC অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য কারিকুলাম ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত নিশ্চয়তা সেলের (IQAC) কনফারেন্স রুমে IQAC-এর উদ্যোগে ওই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। ‘BAC অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য কারিকুলামের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন IQAC-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. শাহ আদিল ইশতিয়াক আহমদ। পরবর্তীতে তিনি ‘কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতির হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ’ পরিচালনা করেন।এছাড়া IQAC-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. খায়রুল ইসলাম ‘কোর্স ফাইল প্রস্তুত ও সংরক্ষণ’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রশিক্ষণে IQAC-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির ‘CLO/PLO সংশোধন ও CLO অর্জন নিশ্চিতকরণে মূল্যায়ন কৌশল’ এবং ‘কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতি’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।প্রশিক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। এতে অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সহায়তা, কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতি, কোর্স ফাইল সংরক্ষণ, CLO/PLO সংশোধন, মূল্যায়ন কৌশল এবং গুণগত নিশ্চয়তা (QA) কার্যক্রমসহ BAC অ্যাক্রেডিটেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
১৮ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলে নিখোঁজের একদিন পর শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে নিখোঁজের একদিন পর জিহাদ হোসেন আসিফ (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার টাঙ্গাইল-কালামপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের গাড়াইল আন্ডারপাস এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আসিফ টাঙ্গাইল সদরের চর পাতুলীস্থ কচুয়াডাঙ্গা এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি হাজী আবুল হোসেন ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের (হ্যাবিট) ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আঞ্চলিক মহাসড়কের গাড়াইল আন্ডারপাস এলাকার একটি ডোবার পানিতে অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার(১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মুরগি বিক্রির জন্য আসিফ পুটিয়াজানি হাটে যান। সেখানে চাচাতো ভাই তামিমকে কাজের কথা বলে চলে আসে আসিফ। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে রাত ৮টা পর্যন্ত তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা থানায় যোগাযোগ করেন।টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ রাহাদুজ্জামান আকন্দ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আসিফ শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১৫ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সচেতনতামূলক সেমিনার
বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী:টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলমান প্রক্রিয়ার ২য় সপ্তাহের ২য় দিনে ‘যুব সমাজের নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও স্বেচ্ছাসেবার গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) টাঙ্গাইল পৌরসভার আশেকপুরস্থ জোবায়দা উচ্চ বিদ্যালয়ে ওই সচেতনতামূলক সেমিনার ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তানভীর হাসান খান রুবেলের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য উপস্থাপন করেন, জোবায়দা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছিয়া আক্তার, কামরুন নাহার, হোসাইন আকন্দ, আব্দুর রহিম, নজরুল ইসলাম, সজল চন্দ্র আর্য্য, বুলবুল আহমেদ, রুপা ঘোষ, সম্পা দে, ফরিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহিদুল ইরলাম মোহিত, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ মিয়া, সদস্য মো. সিয়াম প্রমুখ।সেমিনারে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।বক্তারা বলেন- একটি সুন্দর, মানবিক পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।সেমিনারে সংগঠনের সকল পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
১৩ আগস্ট ২০২৬
জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
দৃষ্টি রিপোর্ট:মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি বলেছেন, আজকে বিরোধীদল অযথা কাল্পনিক আস্ফালন করেছে। আমরা বিরোধীদলের উদ্দেশে বলতে চাই- শান্ত থাকুন, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র, অহেতুক জ্বালাও পোড়াও করে ফ্যাসিবাদের চরিত্রে যাবেন না। মঙ্গলবার(১১ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে আর জ্বালাও পোড়াও দেখতে চাই না। আমরা কোন সিলের নির্বাচন দেখতে চাই না। আমরা কোন জোর-জবরদস্তির শাসন দেখতে চাই না।বিরোধী দলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন- আপনারা শান্ত হোন, হুশে আসেন; বেহুশ হবেন না। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। এই সরকারকে হটাতে হলে পাঁচ বছর পর আবারও যে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে ভোটে এসে তারপর যদি বেশি ভোট পান তাহলে সরকারে যাবেন, নইলে এই সরকারই আবারও নির্বাচিত হবে।আহমেদ আযম খান বলেন, আপনারা তো আবারও পাপাচার করবেন। ভোট দিলে বেহেশত দেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন, সে ক্ষমতা আপনারা কোথায় পেলেন, নাউজুবিল্লাহ মিন জালেক। জনগণ বুঝে আপনাদের ওই বেহেশতের টিকেট মানে পাপাচার। এখানে আমরা যাবো না বলেই জনগণ ৩০০ আসনের মধ্যে সোয়া ২০০ আসনে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে।মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমাদের সরকার সেবকের সরকার। আমরা সেবা করব। পাঁচ বছর পরে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আবার জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়- ক্ষমতায় আসবো। আপনাদের ভোট দিলে আপনারা আসবেন। জ্বালাও পোড়াও করে অযথা ওই সচিবালয়-মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না। কথা খুব পরিস্কার।তিনি আরো বলেন, যেমন পার্লামেন্টে দায়িত্বশীল আচরণ করেন আমরা বারবার ধন্যবাদ জানিয়েছি। তেমনি পার্লামেন্টের বাইরে মাঠের আন্দোলনে দায়িত্বশীল আচরণ করেন। এটাই বাংলাদেশের মানুষ চায়, বাংলাদেশের মানুষ আশা করে। আপনাদেরকে বলবো আমাদের সরকারের সঙ্গে থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। আমরা একটা সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আপনাদেরকে ইনশাআল্লাহ উপহার দেব।বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সৈয়দ মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন, বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, বাসাইল পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু প্রমুখ।
১১ আগস্ট ২০২৬
মধুপুর গড়ের বিপন্ন ‘আচিক’ ভাষা রক্ষার দাবি
বুলবুল মল্লিক: বৈশ্বিক ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সংগতি রেখে টাঙ্গাইলের আদিবাসী-অধ্যুষিত মধুপুর গড় অঞ্চলেও রোববার(৯ আগস্ট) নানা আয়োজনে পালন করা হবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। আদিবাসীদের হাজার বছরের ঐতিহ্যগত জ্ঞান, জীবন ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে জাতিসংঘ এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান ও স্বীকৃতি: জীবন ও কল্যাণ সুরক্ষা’ (Honouring Indigenous Midwives: Safeguarding Life and Well-being)। দিবসটি উপলক্ষে মধুপুরের কয়েকটি আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আদিবাসী দিবসের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এমপি।দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আনন্দের আবহেও মধুপুরের আদিবাসীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় তাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির মূল ধারক ও মাতৃভাষা ‘আচিক’ (Achik) আজ নিজ ভূখণ্ডেই চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার মুখে পড়েছে। মধুপুর গড় অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী পাড়া ও গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, দিবসটি ঘিরে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ শিশুই তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা বলতে পারছে না। স্থানীয় প্রবীণদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, অতীতে এ অঞ্চলের গারো আদিবাসীরা আচিক ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানতেন না বা ব্যবহার করতেন না। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং বেঁচে থাকার তাগিদে এসেছে আমূল পরিবর্তন। জীবন-জীবিকা ও উচ্চশিক্ষার জন্য বনের সন্তানরা আশপাশের বাঙালিপ্রধান এলাকায় আসতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে আদিবাসী জনপদেও বাঙালিরা এসে বসতি স্থাপন করায় এক সময়ের এই বনাঞ্চলের মূল অধিবাসীরা আজ নিজ ভূমিতেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছেন। তারা জানায়, গারো শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে সম্পূর্ণ বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করতে হয়। কর্মজীবনে এসেও অফিস-আদালতসহ সব প্রাত্যহিক কাজেই তাদের বাংলা ব্যবহার করতে হয়। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের অভাবে পরিবার ও সমাজ থেকে আচিক ভাষার চর্চা প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে যাচ্ছে।আদিবাসী নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সোয়া লাখ গারো আদিবাসী রয়েছেন- যার মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারের বসবাস টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় অঞ্চলে। সম্প্রতি জলছত্র ও জয়েনশাহী সংলগ্ন পাড়াগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলপড়ুয়া শিশুরা তাদের মাতৃভাষা ভালোভাবে বলতেই পারে না। কেউ কেউ নিজ বাড়িতে মা-বাবার মুখে শুনে এই ভাষা কিছুটা বুঝতে শিখলেও, তারা নিজেরা আচিক ভাষায় কোনো উত্তর দিতে পারে না। মা-বাবা নিজের ভাষায় ডাকলেও উত্তর আসে বাংলায়।আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে মধুপুরের জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের নেতারা জানায়, জাতিসংঘের মূল থিম বা প্রতিপাদ্যের চেতনা তখনই সার্থক হবে যখন আদিবাসীদের ভাষা ও জীবন সুরক্ষার বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হবে। তারা অবিলম্বে জলছত্রসহ মধুপুর গড়ের সব সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গারো শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।মধুপুরের আদিবাসী নেতা অজয় এ মৃ জানান, আচিক ভাষার লিখিত কোনো বর্ণমালা নেই। কথিত আছে, দুর্ভিক্ষপীড়িত তিব্বত অঞ্চল ত্যাগ করে গারোরা যখন ভারতীয় উপমহাদেশে আসছিলেন, তখন যাঁর কাছে পশুর চামড়ায় লিখিত আচিক ভাষার পুঁথি-পুস্তকাদি ছিল, সেই ব্যক্তি পথে ক্ষুধার জ্বালায় সব পুঁথি-পুস্তক সেদ্ধ করে খেয়ে ফেলেন। তিনি সম্পূর্ণ ব্যাপারটি গোপন রাখেন। এ উপমহাদেশে আগমন ও বসতি স্থাপনের দীর্ঘদিন পরে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। কিন্তু তত দিনে গারো বর্ণমালা বিস্মৃতির অতল গর্ভে হারিয়ে যায়। কারণ, এ উপমহাদেশে প্রবেশের পর নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং স্থায়ী বাসযোগ্য স্থান নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ করে অভিজ্ঞ গারোরা প্রাণ হারান। ফলে আচিক ভাষার বর্ণমালা চিরতরে হারিয়ে যায়। তবে গারোদের মুখে মুখে আচিক ভাষার প্রচলন ছিল।এ প্রসঙ্গে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন মধুপুর শাখার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ঝুমুর মৃ জানান, মাতৃভাষা ধরে রাখার জন্য তারা নিজেরা বাড়িতে সব সময় আচিক ভাষায় কথা বলেন। তবু তাদের ভাষা রক্ষা করা যাচ্ছে না। বাংলার সঙ্গে ক্রমেই মিশে যাচ্ছে।জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে গড় এলাকায় ১২টি স্কুল চালু করা হয়েছিল; যেখানে গারো শিশুদের আচিক ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হতো। তিন বছর চলার পর দাতা সংস্থার অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়।আদিবাসী লেখক রাখী ম্রং জানান, ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষা নীতিমালায় শিশুদের তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় শিক্ষাব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গারো শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো এ ভাষা হারিয়ে ফেলবে।
০৮ আগস্ট ২০২৬
মহিষমারা কলেজে খুন্তি-কোদালে তরুণদের নতুন বিপ্লব!
মু. আবিদ মল্লিক জয়:বর্তমান প্রজন্মে বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়ে ও শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার এবং স্ক্রিন টাইমের ফলে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে অনলাইন ক্লাসের পর থেকেই নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ চরম মোবাইল আসক্তিতে পড়েছে। সারা দেশের শিক্ষার্থীরা যখন এমন ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, ঠিক তখনই এর সম্পূর্ণ বিপরীত ও ব্যতিক্রমী এক চিত্র দেখা গেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা কলেজে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা মোবাইল ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছে খুন্তি, কোদাল, কাস্তেসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি। তারা ফসলি মাঠে নেমে হাতে-কলমে শিখছে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের নানা কৌশল।খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ব্যতিক্রমী এই জীবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে মধুপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার মহিষমারা গ্রামে। ২০১৩ সালে গ্রামেরই এক আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১৩৫ শতাংশ জমির ওপর এই ‘মহিষমারা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। টাঙ্গাইল শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই মহিষমারা গ্রাম। অঞ্চলটি মূলত কৃষিনির্ভর এবং মধুপুরের বিখ্যাত আনারস চাষের অন্যতম প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র কৃষক। অর্থাভাব ও দূরত্বের কারণে স্কুল শেষ করার পর অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের কলেজে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারতেন না। এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করতেই কৃষক ছানোয়ার হোসেন এই কলেজটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই কলেজে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ডিজিটাল আসক্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে উৎপাদনমুখী ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার এই উদ্যোগটি এখন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কার্যক্রম একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করছে, অন্যদিকে তেমনি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপর উপজেলা সদর থেকেই পাকা সড়ক। অজপাড়াগাঁ পেড়িয়ে সোজা গারো বাজার। যাওয়ার পথে বিল সবুজ ধান ক্ষেতের অবারিত দিগন্ত। যেন চোখ জুড়ানো। গারো বাজারের পাশের বৃহত্তর গ্রামটির নাম মহিষমারা। মহিষমারা গ্রামের শুরুতেই কলেজটির অবস্থান। কলেজে প্রবেশ করে দেখা যায়, দুটি শ্রেণিতে ক্লাস চলছে। আর উৎপাদনমুখী শিক্ষা কর্ণারে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী কাজ করছেন।কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছানোয়ার হোসেন তাদের সবজি বীজ বোনার আগে মাটি তৈরি ব্যবস্থাপনা শেখাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা তার নির্দেশনাতে মাটি তৈরির কাজ করছেন।জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯২ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি সিলেটের একটি স্কুলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ বছর চাকরি করে ফিরে আসেন গ্রামে। গ্রামের স্কুলে দুই বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কৃষির আকর্ষণে তিনি সেই চাকরিও ছেড়ে দেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আনারস, কলা, হলুদ, ভুট্টা, মাল্টা, ড্রাগন, পেয়ারা, কফিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন।তিনি জানান, তার গ্রাম মহিষমারা এলাকার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কলেজ নেই। দরিদ্র কৃষক পরিবার তাদের সন্তানদের দূরে ছাত্রাবাসে রেখে পড়াতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নেন, নিজ এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন।আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, তার বাবার ৯৫ শতাংশ জমি আর তার নিজের ৪০ শতাংশ মিলে ১৩৫ শতাংশের উপর ২০১৩ সালে মহিষমারা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিগত ২০২২ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এই কলেজে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। সরকারের শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি পাকা ভবনও এই কলেজে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।কলেজের শিক্ষক ও এলাকাবাসী জানায়, ২০১৮ সালে কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য উৎপাদনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। এ জন্য কলেজের পূর্ব দিকে ৪০ শতাংশ জায়গায় একটি কর্ণার গড়ে তোলা হয়। শিক্ষার্থীদের ছানোয়ার হোসেন পড়াশোনার ফাঁকে হাতে-কলমে বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদন শেখান। সেখানে বিভিন্ন মৌসুমের সবজি, ফল, মসলার চারা তৈরিও শেখানো হয়। এখানে চাষবাস শিখে শিক্ষার্থীরা তাদের বাড়িতেও সবজি বাগান করতে পারেন।কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা কলেজের এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে কীটনাশকমুক্ত সবজি আবাদ শিখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করছেন। এ কারণে তাদের পিতা-মাতা অনেক খুশি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বড় হয়ে কৃষি অফিসার হবে।কলেজের প্রভাষক শহিদুল ইসলাম জানান, কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কৃষিতে উৎপাদনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। কলেজে ক্লাসের বিরতিতে এবং ছুটির পর বিভিন্ন গ্রুপ করে শিক্ষার্থীদের কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে এ কাজে অংশ নেয়।মহিষমারা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক হানান, কলেজের শিক্ষকরা অনেক পরিশ্রমী। পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষা শিক্ষার্থীদের একদিকে মোবাইল ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক থেকে যেমন রেহাই পাচ্ছে। অন্যদিকে বাড়িতেও মা-বাবাকে কৃষি কাজে সহযোগিতা করার মনোভাব সৃষ্টি তৈরি হচ্ছে।কলেজের সভাপতি ও মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকদের আন্তরিকতার ফলেই প্রান্তিক পর্যায়ের একটি কলেজ এত অল্প সময়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করলেই যে চাকরি পাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই এসব শিক্ষার্থীরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে পারে তাহলে কৃষিনির্ভর এ দেশে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
০৬ আগস্ট ২০২৬
বিবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী:‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইলের স্বনামধন্য বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তন কক্ষে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক এসএম আনোয়ার সাদত, সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান প্রমুখ।এসময় প্রভাতী শিফট ইনচার্জ অনামিকা ভদ্র, দিবা শিফট ইনচার্জ জাহানারা তরফদার, সিনিয়র শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, আরিফুর রহমান প্রমুখ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন, সিনিয়র শিক্ষক মো. ছামছুল হক সাগর।অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আগে ছাত্রীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
০৫ আগস্ট ২০২৬
বাসাইলের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন
বাসাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রচনা-আবৃতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে দিবসের আলোচনায় অংশ নেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বেলায়েত হোসেন, সহকারী শিক্ষক আলেকজান্ডার আজাদ মিয়া, আলমগীর হোসেন, মিনহাজ উদ্দিন, লিটন মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, নার্গিস আক্তার প্রমুখ।বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র- ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
০৫ আগস্ট ২০২৬
লেখাপড়ার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার :: প্রতিমন্ত্রী টুকু
কালিহাতী প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে এবং ভবিষ্যতে একাধিক পেশায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, সে লক্ষ্যেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, মিড-ডে মিল একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগ সফল করতে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন প্রাথমিক স্তর থেকেই শুরু করতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা পরে ডিগ্রি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। এর পাশাপাশি আমাদের সরকার বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি কার্যক্রমও চালু করেছে। কাজেই শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক ধাপ থেকেই কাজ শুরু করতে হবে এবং ধীরে ধীরে তা সব পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টির বিষয়টি বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিদ্যালয়গুলোতে কীভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্তানের লেখাপড়ার জন্য বাবা-মা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। অনেক পরিবার ধান, জমি কিংবা গবাদিপশু বিক্রি করেও সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বহন করে। সেই সন্তান যদি মাদকে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিবারের সব ত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যায়। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান মোল্লা বক্তব্য রাখেন। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। শেষে অতিথিরা বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, মিড-ডে মিল কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশিত খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
০১ আগস্ট ২০২৬
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট: জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের ১২ তলার সেমিনার কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসিরের সভাপতিত্বে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম। প্রধান আলোচক ছিলেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। আলোচক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজিই বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম মহিউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. দেলোয়ার জাহান মলয়। সভায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন- শহীদ আহনাফ আবীর আশরাফুল্লাহ’র বড় বোন অ্যাডভোকেট সাঈদা আক্তার, কর্মকর্তা প্রতিনিধি আজাদ খান ভাসানী, শিক্ষার্থীদের পক্ষে জামিল হোসেন, ইমরান হোসেন নাদভী, আশরাফুল আলম হৃদয়, মেহেদী হাসান রাকিব, রাহাদুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম ও সমাপ্তি খান প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এই আন্দোলনের শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায় ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ আলোচনা শেষে অতিথিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পক্ষে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে সম্মাননা প্রদান করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহত চারজন গেজেটভুক্ত শিক্ষার্থী- মো. ফোরকান হোসেন, ইমরান হোসেন নাদভী, আশরাফুল আলম হৃদয় ও মেহেদী হাসান রাকিব এবং আন্দোলনে অবদান রাখায় সিনিয়র ড্রাইভার আয়নাল হোসেন ও মো. জাহিদুল ইসলামকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। আলোচনা সভায় শহীদ আহনাফ আবীর আশরাফুল্লাহর মা-সহ তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২৬ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে টিচার্স ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে প্লে গ্রুপ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল ও মাদ্রাসার বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫০০ কৃতি শিক্ষার্থীর মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে শহরের সোনার বাংলা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। টিচার্স ফাউন্ডেশনের টাঙ্গাইলের সভাপতি ড. খন্দকার আনিছুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ইউপিইটিসির ইন্সট্রাক্টর মো. ইসলাম মিয়া। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ‘আজকের কৃতি শিক্ষার্থীরাই আগামি দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের মেধা বিকাশে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ আদর্শ মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে।’ তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু লেখাপড়ায়ই নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫০০ কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এ সময় টিচার্স ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটি টাঙ্গাইলের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ, সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক ভবেশ মুকুট পালসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ জুলাই ২০২৬
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দিনব্যাপী নবীন শিক্ষার্থীদের ‘গ্রুমিং’ সম্পন্ন
দৃষ্টি রিপোর্ট: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে সফলভাবে অভিযোজিত হতে সহায়তার লক্ষ্যে আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘স্টুডেন্ট গ্রুমিং অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি অ্যাডাপটেশন প্রোগ্রাম’ সম্মন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৮ থেকে ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি FutureNation Ges UNDP Bangladesh -এর সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ এবং FutureNation, UNDP Bangladesh I Quazi Consultancy -এর বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনামূলক সেশন পরিচালনা করেন। চার দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, একাডেমিক পরিবেশ, নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ কৌশল, মানসিক স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বৃত্তি, ইন্টার্নশিপ এবং বৈশ্বিক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কেবল একটি ডিগ্রি অর্জনের যাত্রা নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু জুবাইর, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মুছা মিয়া, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম লিটন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কানিজ মরিয়ম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
২১ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ
দৃষ্টি রিপোর্ট: এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও দুর্যোগের মধ্যে কঠিন পদ্ধতিতে জোরপূর্বক পরীক্ষার নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ নানা দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পরীক্ষার্থীরা। এ সময় উত্তরবঙ্গগামী লেনে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী ও যানবাহন চালকরা। মঙ্গলবার(১৪ জুলাই) দুপুর ১টা ২১ থেকে ২টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের নগরজালফৈ এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তার পদত্যাগসহ নানা স্লোগান দেয় আন্দোলনকারীরা। এর আগে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পরীক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিরালা মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। পরে সেখান থেকে আবারও বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পরীক্ষার্থীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করেন। আন্দোলনে কুমুদিনী সরকারি মহিলা কলেজ, মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এসময় আন্দোলনকারীরা বক্তব্যে বলেন, দেশজুড়ের ভয়াবহ বন্যা এবং অতিবৃষ্টির কারণে অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গতকালের এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত না করে উল্টো কঠিন প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী নানা মন্তব্য করার এর প্রতিবাদ জানায় আন্দোলনকারীরা। এছাড়া তাদের দাবি মেনে না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন এবং পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। এদিকে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আলোচনা করেন। তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ তুলে নেন।
১৪ জুলাই ২০২৬
প্রিয়ন্তী ভট্টাচার্য্যের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিলাভ
এলেঙ্গা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে প্রিয়ন্তী ভট্টাচার্য্য (বর্ণ)। প্রিয়ন্তী ভট্টাচার্য্য (বর্ণ) এলেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে। তার রোল নম্বর ৩০২২৬৫৭। প্রিয়ন্তী এলেঙ্গা জমিদার বাড়ির সন্তান। তার বাবা প্রবাল কমল ভট্টাচার্য্য ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক এবং মা অনামিকা গোস্বামী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। বর্তমানে প্রিয়ন্তী টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রিয়ন্তী ভট্টাচার্য্য (বর্ণ) লেখাপড়ার পাশাপাশি সংগীতেও তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা এবং প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় জেলা ও ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে। প্রিয়ন্তীর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনের খবরে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দের আবহ বিরাজ করছে। প্রিয়ন্তীর বাবা-মা বলেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা, শাসন ও ভালোবাসার ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তারা এলেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে প্রিয়ন্তীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া কামনা করেন। এদিকে প্রিয়ন্তীর এ অর্জনে তার দাদা প্রদীপ কমল ভট্টাচার্য্য ও নানা মুক্তিযোদ্ধা অমল কুমার গোস্বামী শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রিয়ন্তী ভবিষ্যতেও তার মেধার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
১৪ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের খেলা দেখা নিয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র
দৃষ্টি রিপোর্ট: বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ দেখা কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরবর্তীতে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগে ফিরে গেলেও রাত ১টার দিকে প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যান ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও তৃতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষ থেমে গেলেও বুধবার(৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত এই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় এবং এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
০৮ জুলাই ২০২৬