সব খবর

দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

দ্বীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই

দৃষ্টি নিউজ:বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের দাবি, ঘটনার রাতে কিছু লোক ধাওয়া দিলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। তবে এ দাবি বিশ্বাস করছেন না তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। তার মতে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন দ্বীপ। গতকাল রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠ পরিদর্শন করছে পিবিআই। সেখানে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ বলেন, ‘দূর থেকে আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। ভাই (তাহসিফ) দৌড় দেন। আমি তখন পিলারের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং আশা করতে থাকি দুজন ইউনিফর্ম পরা লোক আমাকে দেখতে না পায়। আমি দৌড় দেইনি, হেঁটে হেঁটে আসি।’দ্বীপের বরাতে পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দ্বীপ তুরাগ নদের পাশের মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করে। তখন দ্বীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এখনো তার (দ্বীপের) বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছি না। মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দ্বীপের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতেই তদন্ত চলছে। তাহসিফ সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। রহস্য উদ্ঘাটন হলে বিস্তারিত জানানো হবে।তবে দ্বীপের দেওয়া তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘না না, এ ধরনের কিছু হতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।মাজারসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের মালিক জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কে পড়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলটি দেখছি। কিন্তু এটা নেয়নি। আমরা ভেবেছি কেউ হয়তো রেখে গেছে। আজ সকালে পুলিশ একটি ভ্যানে করে এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে তারা আবার নিয়ে আসে।’পিবিআইয়ের আরেক পুলিশ সুপার জানান, দ্বীপের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাহসিফও বাসা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন।গত মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। সেদিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর ফেরেননি।পরদিন বুধবার(২৮ অক্টোবর) বিকালে উত্তরখান থানা এলাকার রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দ্বীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

৬ ঘণ্টা আগে

বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দৃষ্টি নিউজ:পাবনা সদর উপজেলায় বৃষ্টির সময় বিলের একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল কয়েকজন। এ সময় বজ্রপাতে আশ্রয় নেওয়া ছয়জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার গোবিন্দপুরের সোনাপাতি বিলে এ ঘটনা ঘটে বলে মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু জানিয়েছেন।তিনি বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সময় তারা একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘরটি ছিল পলিথিনের। সেখানেই বজ্রপাত ঘটে। যারা নিহত হয়েছেন, তারা সবাই কিশোর ও তরুণ।চেয়ারম্যান বলেন, বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা গেছেন। আহত তিনজনকে আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

৬ ঘণ্টা আগে

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

মির্জাপুর প্রতিনিধি:ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কদিমধল্যা এলাকা থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর খণ্ডিত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরের দিকে স্থানীয় লোকজন মহাসড়কের কদিমধল্যা এলাকায় ওই নারীর খণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।নিহত ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাত কোনো দ্রুতগামী যানবাহনের চাপায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে অথবা ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড থাকতে পারে।এ বিষয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন জানান, নিহত নারী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার নাম-পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার আসল রহস্য পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

৭ ঘণ্টা আগে

অসহায়দের চিকিৎসা ও কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

অসহায়দের চিকিৎসা ও কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, অসহায় ও দুস্থ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সহায়তা ও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের চলমান বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত ছয়জন রোগীর প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিশেষ করে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রমের বাইরে থাকা অন্য ভুক্তভোগীরা আবেদন করলে আমার পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। জনগণের কল্যাণে আমাদের এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জনকল্যাণমূলক কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভাতা প্রদান এর অন্যতম উদাহরণ। তৃণমূলের মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে।তিনি বলেন, উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিগত দুর্গাপূজাতেও প্রধানমন্ত্রী রেকর্ড পরিমাণ অনুদান দিয়েছেন। আগামিতে এই সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে। সরকার সর্বদা জনগণের পাশে ছিল এবং থাকবে।টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান শফিক, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি শাহেদ প্রমুখ।চেক বিতরণ শেষে জনসাধারণের সেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারি কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ‘পরিদর্শন কক্ষ’ উদ্বোধন করা হয়।এ সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

৭ ঘণ্টা আগে

লাইনচ্যুতির ছয় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

লাইনচ্যুতির ছয় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগি বৃহস্পতিবার(২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লাইনচ্যুত হওয়ার ছয় ঘণ্টা পর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মহেড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় লাইনচ্যুতির কারণে রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারীর চিলাহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া রেল স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের কোনো বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। তবে বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার সময় রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে পুরো লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে। হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেলস্টেশনগুলোতে আটকা পড়া হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার হন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হওয়ায় তাদের কষ্ট আরও তীব্র রূপ নেয়।দুর্ঘটনার পর লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের জন্য দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী ট্রেন পাঠানো হয়। পরে ঈশ্বরদী থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বগি উদ্ধার ও রেললাইন মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।মহেড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রকিবুল হাসান জানান, বর্তমানে ব্রডগেজ রেললাইন চালু আছে। তবে মিটার গেজ এখনও বন্ধ রয়েছে। এতে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক কিলোমিটার এলাকায় ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করছে।

২৯ অক্টোবর ২০২৬

মির্জাপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ

মির্জাপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ

মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মহেড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। লাইনচ্যুতির কারণে রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারীর চিলাহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি যখন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া রেল স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের কোনো বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। তবে বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার সময় রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে পুরো লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়েছে। হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেলস্টেশনগুলোতে আটকা পড়া হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হওয়ায় তাদের কষ্ট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।মহেড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেসটি চিলাহাটির দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনটি আমাদের মহেড়া রেল স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে এর পেছনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে সরে যায় এবং ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই অঞ্চলের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে।’লাইন সচল করার বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশন মাস্টার সোহেল রানা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বগিটি উদ্ধার এবং লাইন মেরামত করার জন্য রিলিফ ট্রেনের (উদ্ধারকারী ট্রেন) প্রয়োজন। বিষয়টি ইতিমধ্যে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুতই রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাবে। উদ্ধারকারী ট্রেন এসে পৌঁছালেই লাইচ্যুত বগিটি সরিয়ে লাইনের মেরামত কাজ শুরু করা হবে।স্টেশনের লাইনে কোনো ত্রুটি ছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল রানা স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের স্টেশনে বা লাইনে কোনো ধরনের সমস্যা বা ত্রুটি ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের ভেতরের কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ বা ত্রুটির কারণেই এই আকস্মিক লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্তের পর বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’এদিকে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী এবং উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ করে রেললাইন পুরোপুরি সচল করতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। লাইন সচল না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

২৯ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ :: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ :: শিক্ষামন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি বলেছেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সঠিক শিখনফল নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের ভূমিকাই সবচেয়ে অগ্রগণ্য। শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর যত্নশীলতা বজায় রেখে একটি সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে- যেখানে শিক্ষকেরা হবেন মূল চালিকাশক্তি। মঙ্গলবার(২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অংশগ্রহণে ‘শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক ‘কনসেপ্ট পেপার’ গ্রহণ করে মন্ত্রী জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এই কনসেপ্ট পেপারে উত্থাপিত প্রস্তাবনা ও সুপারিশগুলো শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই আমরা একটি মেধাভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন আয়োজিত শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শিখনফল বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিতকরণের প্রত্যয়ে ওই বিশেষ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাবেক উপমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।বক্তারা বলেন, একটি মেধাবী ও সুশৃঙ্খল প্রজন্ম গঠনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। মতবিনিময় সভায় শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ এবং তা মোকাবিলাসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্বশীলতা, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।সভায় টাঙ্গাইল জেলার শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নের রূপরেখা সম্বলিত একটি ‘কনসেপ্ট পেপার’ প্রধান অতিথির হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।ওই বিশেষ মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

২৮ অক্টোবর ২০২৬

শুধু সার্টিফিকেটে লাভ নেই এআই-এর সঠিক নিয়ম জানতে হবে :: শিক্ষামন্ত্রী

শুধু সার্টিফিকেটে লাভ নেই এআই-এর সঠিক নিয়ম জানতে হবে :: শিক্ষামন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্প পাস করানোর আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপস’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তির আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষায় যে বাজেট দিয়েছেন, তার সদ্ব্যবহার করা আমাদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নত করার দায়িত্ব আমাদের। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের জন্য দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে (ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংক) কাজ করার আহ্বান জানান। এই প্রসঙ্গে তিনি চীনের গবেষকদের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়ার মাধ্যমে গবেষকরা কাজ করছেন।প্রথাগত সনাতন শিক্ষার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু সার্টিফিকেট দিয়ে মূল্যায়িত হয়ে লাভ নেই, বিশ্ব আজ এআইয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। এআইয়ের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, এআই অনেক সময় ভুল তথ্য দেয়, কিন্তু এআই ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানতে হবে।শিক্ষার পেছনে রাষ্ট্রের বিনিয়োগের হিসাব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকার সাড়ে ১৩ লাখ টাকা দিচ্ছে এবং এর পাশাপাশি অভিভাবকরাও অর্থ ব্যয় করছেন। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘শিক্ষায় বিলাসিতা যেন না হয়।’শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা গবেষণার মাধ্যমে যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, তা দেশের স্বার্থে এবং দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে গিয়ে তাঁদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান কাজে লাগাচ্ছেন। সরকার চায়, দেশের শিক্ষার্থীরা দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে গবেষণার ফলাফল বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করবেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও গবেষণার ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে এখন থেকেই ভাবতে হবে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জনবহুল দেশ। তাই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল উৎপাদন ও শিল্প খাতে কাজে লাগানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া দেশের ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে তৃতীয় ভাষা ইনস্টিটিউট চালু করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মানবসম্পদ উন্নয়নে। শুধু বিল্ডিং তৈরি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলে হবে না। অবকাঠামোর উন্নয়ন তখনই স্বার্থক হবে যখন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবে। তিনি মাভাবিপ্রবিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে ১০০০ আসন বিশিষ্ট একটি ছাত্র হল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে ১০০০ আসন বিশিষ্ট একটি ছাত্রী হল ও একটি স্পোর্টস জোন করার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু শিক্ষার্থী পড়ানো, ডিগ্রি প্রদান কিংবা গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলাও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এসব গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট দেশ ও অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে গবেষণার ফলাফল বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন- মাভাবিপ্রবির রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম পিন্টু এবং টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এছাড়া ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে ২৪ টি এবং বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে ১৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং ২০২৬ সালের ৩০ জন শিক্ষক ও ১৯ জন শিক্ষার্থীকে রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া ৫ জনকে ‘ইউনিভার্সিটি কমিউনিটি চিলড্রেনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।এরআগে এদিন সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ‘ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

২৭ অক্টোবর ২০২৬

টামেক হাসপাতালে ‘স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

টামেক হাসপাতালে ‘স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

দৃষ্টি রিপোর্ট:হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে এবং রোগীদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টামেক হাসপাতালের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় কোনো রোগী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক ও যত্নশীল হতে হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ (টামেক) হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের চিকিৎসায় জেনারেল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই প্রধান ভরসা। ঢাকার সমমানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় মানুষ এ হাসপাতালের ওপর আস্থা রাখছে- যা অত্যন্ত ইতিবাচক। এই আস্থা ধরে রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে এবং যার যার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল সংকট দ্রুত দূর করার আশ্বাস দেন তিনি।উচ্চপর্যায়ের এই সমন্বয় সভায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফ সংকট দূরীকরণ, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার মানোন্নয়ন, ওয়ার্ডের পরিবেশ ও খাবারের মান বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া হাসপাতাল থেকে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নির্মূল, প্রধান ফটকের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, ফরেনসিক বিভাগ চালু এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর স্বাগত বক্তব্যে হাসপাতালের সার্বিক চিত্র ও উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনা আকারে তুলে ধরেন পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস।টামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফখরুল আমিন বাদলের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রবিউল ইসলাম, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু এবং জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ড্যাব) সভাপতি ডা. আব্দুল মতিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

২৭ অক্টোবর ২০২৬

চাকরি মেলা, গবেষণা পুরষ্কার ও সাংস্কৃতিক উৎসবের বর্ণিল প্রস্তুতি সম্পন্ন

চাকরি মেলা, গবেষণা পুরষ্কার ও সাংস্কৃতিক উৎসবের বর্ণিল প্রস্তুতি সম্পন্ন

দৃষ্টি রিপোর্ট:একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের নতুন অঙ্গীকার নিয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উদযাপিত হতে যাচ্ছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬। ‘শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ সাধন, উদ্ভাবন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা জোরদার করা’- এ দূরদর্শী প্রতিপাদ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী তিন পর্বের জাঁকজমকপূর্ণ কর্মসূচির রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দিবসটি সফল করতে সকল প্রশাসনিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।প্রথম পর্বে দিনের প্রথম ভাগে সকাল ১০টায় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও আনুষ্ঠানিক কেক কাটার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হবে। এরপর সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে পর্দা উঠবে ‘মাভাবিপ্রবি ক্যারিয়ার ও চাকরি মেলা-২০২৬’-এর। যেখানে চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীদের সাথে দেশের শীর্ষস্থানীয় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সরাসরি সংযোগ, পেশাগত নেটওয়ার্কিং ও স্পট রিক্রুটমেন্টের সুযোগ থাকবে। সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে পুরোদমে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ১১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে শিল্প-নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ক্যারিয়ার বিষয়ক বিশেষ সেমিনার। এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকবে।এই গৌরবোজ্জ্বল পর্বে প্রধান অতিথি থাকবেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক(সদর দপ্তর) মোহাম্মদ ইউসুফ আলী এবং আরপি ক্রিয়েশন অ্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিতোষ চন্দ্র পাল।দ্বিতীয় পর্বে এদিন বিকাল ৩টায় বিশিষ্ট অতিথিদের অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে অ্যাকাডেমিক ও প্রায়োগিক মেলবন্ধনের বিশেষ সেশন ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপস’। এই পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলন এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এমপি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক গবেষণাকে শিল্পক্ষেত্রের সাথে যুক্ত করতে এই পর্বে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। পাশাপাশি গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মনোনীত ৩০ জন প্রথিতযশা শিক্ষক ও ১৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে মর্যাদাপূর্ণ ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ এবং ৫ জন শিশুকে ‘ইউনিভার্সিটি কমিউনিটি চিল্ড্রেনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হবে।তৃতীয় পর্বে এদিন সন্ধ্যা ৬টায় উৎসবের সমাপনী পর্বে নামবে সুরের মূর্ছনা। ‘নজরুল-সন্ধ্যা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ শীর্ষক এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া। এই সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তনদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।প্রতিটি পর্বে সভাপতিত্ব করবেন, মাভাবিপ্রবি’র উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম এবং স্বাগত সম্ভাষণ জানাবেন উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।আয়োজক কমিটি সূত্রে জানাগেছে, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমানকে আহবায়ক এবং অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিমকে সদস্য-সচিব করে ১৫টি শক্তিশালী উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম নিয়মিত এই কমিটিগুলোর কাজের তদারকি করছেন এবং সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি স্মরণীয় উৎসব উপহার দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে।মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক ও গৌরবময় মুহূর্তের সংবাদচিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন মিডিয়ার সকল সম্মানিত সাংবাদিক ও আলোকচিত্রী বৃন্দকে দিনব্যাপী এই আয়োজনে উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনীত ও সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।প্রকাশ, ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০০১ সালের ১২ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১’ পাস হয়। ২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর দুটি বিভাগ (সিইসি এবং আইসিটি) নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

২৬ অক্টোবর ২০২৬

চলন্ত বাসে নারীর ওপর যৌন নিগ্রহের দায়ে চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

চলন্ত বাসে নারীর ওপর যৌন নিগ্রহের দায়ে চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

দৃষ্টি রিপোর্ট:ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীর ওপর যৌন নিগ্রহ(ধর্ষণ) চালানোর অপরাধে বাসের চালক, চালকের সহকারী ও কন্ট্রাক্টরসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আনম ইলিয়াস ওই রায় ঘোষণা করেন। আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি দণ্ডিত প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- বাসের চালক মো. আলতাফ (২৫), চালকের সহকারী মো. রাব্বি (২১) এবং বাসের কন্ট্রাক্টর সাগর ওরফে সজিব মাতাব্বর (২৪)। এদের মধ্যে আলতাফ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে, রাব্বি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে এবং সাগর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চাঁদর হাট বাজারের চুন্নু মাতাব্বরের ছেলে।মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে যৌন নিগ্রহের(ধর্ষণের) শিকার ওই নারী ঢাকার গাবতলী থেকে আশুলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অন্য সব যাত্রী নেমে গেলে বাসটি ফাঁকা হয়ে যায়। এই সুযোগে চলন্ত বাসের ভেতর ওই তিন জন পর্যায়ক্রমে ওই নারীর ওপর যৌন নিগ্রহ(ধর্ষণ) চালায়। যৌন নিগ্রহ(ধর্ষণ) শেষে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীর কানের দুল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তারা বাসটি নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চক্কর দিতে থাকে। পরদিন সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামলে ওই নারী সেখানে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের টহল দলকে বিষয়টি জানান। হাইওয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বাসসহ অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।ঘটনার দিনই ওই নারী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভীক্টর ব্যানার্জী তদন্ত শেষে গত ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানান, এই মামলায় মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত রোববার তিন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডিতদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

২৫ অক্টোবর ২০২৬

ষড়যন্ত্রের শিকার ভূঞাপুরের রাজপথের লড়াকু সৈনিক জাহাঙ্গীর

ষড়যন্ত্রের শিকার ভূঞাপুরের রাজপথের লড়াকু সৈনিক জাহাঙ্গীর

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের রাজপথের দীর্ঘ ১৭ বছরের পরীক্ষিত ও সাহসী ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়কে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহলের ইন্ধনে টার্গেটেড ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সুবিধাভোগী ও হাইব্রিডদের উত্থান এবং দলীয় একাংশের পরোক্ষ সহযোগিতায় এই লড়াকু সৈনিকের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় একজন খাঁটি বিএনপি পরিবারের সন্তান। হাই স্কুল জীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে তার সম্পৃক্ততা। বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে হরতালের সমর্থনে মশাল মিছিলের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তৎকালীন কঠিন সময়ে তাকে ছাড়া মিছিল করতে ছাত্রদলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা ভয় পেত- এমনই এক সাহসী ও রাজপথ কাঁপানো নেতা ছিলেন তিনি। ১৯৯৭-১৯৯৮ মেয়াদে ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি পৌর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার রফিক, আমিনুল, মোঃ হাফিজুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, মহসিন এবং আব্দুল খালেক সহ অনেকেই জানান, জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত সুশীল এবং পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি একজন আইকন। তার নামে এই টার্গেটেড ফ্রেমিং একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে করা হচ্ছে।রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সর্বপ্রথম ‘ভ্যান, রিকশা, শ্রমিক সমিতি ভূঞাপুর বাজার’ নামে একটি অরাজনৈতিক ও কল্যাণমুখী সংগঠন গড়ে তোলেন এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা অটোরিকশা ভ্যান শ্রমিক সমিতির ভূঞাপুর শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ পোল্টি ইন্ডাট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন ভূঞাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং ভূঞাপুর উপজেলা পরিবেশক মালিক সমিতির একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।আগামি ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ভূঞাপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং যমুনা নদীর ‘ভাবীর ঘাট’ নামে খ্যাত বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে দখল করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভাবীর ঘাটের মালিক পক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে বড় ধরনের কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ করতে এবং প্রকৃত ঘাটের মালিক যাচাই করার লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান এবং ভূঞাপুর থানার ওসি একেএম রেজাউল করিম নিজে সশরীরে স্পটে হাজির হন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রশাসন থেকে তাৎক্ষণিক ঘাটটির সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রশাসনের এই দূরদর্শী পদক্ষেপের পর থেকেই ওই এলাকায় বর্তমানে শান্তি বিরাজ করছে। বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত শত্রুতা চরিতার্থ করতে কুচক্রী মহলটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রকে ব্যবহার করছে। ওই প্রতারক চক্রটি স্থানীয় মাহিন, নিজাম ও শাকিল মিয়া সহ আরো কয়েকজনের সমন্বয়ে গঠিত। তারা দেশে এবং প্রবাসে ডেটিং অ্যাপসের মাধ্যমে বড় ধরনের স্ক্যামিং বা প্রতারণার সাথে জড়িত। নিজেদের এই অপকর্ম আড়াল করতে এবং ভূঞাপুরের একটি বিশেষ মহলের হয়ে দাবার ঘুঁটি হিসেবে কাজ করতে প্রতারক মাহিনকে বাদী করে ভূঞাপুর থানায় একটি ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করানো হয়েছে (ভূঞাপুর থানার মামলা নং-৯, জি,আর ১৩৫/২০২৬)। ওই মামলায়ও ত্যাগী নেতা জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়কে জড়ানোর পায়তারা করা হচ্ছে।এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, দলের জন্য দুর্দিনের পরীক্ষিত এই সকল কর্মীকে ম্লান করতে বিএনপিরই একটি অংশ বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার ও কুৎসিত কৌশল অবলম্বন করে ব্যক্তি ইমেজ নষ্ট করার পায়তারা করছে। যার সর্বশেষ শিকার হিসেবে বিএনপির একজন অত্যন্ত সক্রিয় কর্মীকে টার্গেট করা হয়েছে। তৃণমূলের রাজনীতি ও দলের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এই বিষয়ে অবিলম্বে বিএনপির হাই কমান্ডের কঠোর ও সরাসরি দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু জানান, বিএনপি ঘরাণার একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় অত্যন্ত সক্রিয়। সরাসরি বিএনপির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তিনি বিএনপি ঘরাণার শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের হয়ে কাজ করে থাকেন। সম্প্রতি ফেসবুকের অস্বস্তিকর কিছু বক্তব্য তাকে বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মী এবং মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত সৎ, কর্মঠ ও নিবেদিত।

২৫ অক্টোবর ২০২৬