সব খবর

গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা: সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা শনিবার (১ আগস্ট) থেকে বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। জিপিএস সংযুক্ত না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া কিংবা ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ডিভাইস সচল থাকার তথ্য বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রদর্শন করতে হবে। জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি বিবরণ বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় এবং সংস্থাটির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।

৮ ঘণ্টা আগে

আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় তাঁতশিল্পকে সমৃদ্ধ করা হবে :: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় তাঁতশিল্পকে সমৃদ্ধ করা হবে :: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি বলেছেন, টাঙ্গাইলে তাঁতের শাড়ি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে শুধু টিকিয়ে রাখা নয়, সমৃদ্ধ করতে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার(১ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাজিতপুরে তাঁত শিল্পের উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার শুভ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এওসব কথা বলেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি উপস্থিত ছিলেন। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাঁতিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তরুণ প্রজন্মকে তাঁত শিল্পের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। তাছাড়া প্রান্তিক তাঁতিদের মূলধন হিসেবে সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা সহায়তার কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, তাঁত ডিশল্পের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন- সেই নির্দেশনার আলোকে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে আধুনিকতার পর্যায়ে আনতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, টাঙ্গাইলে শাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকার সকল ধরনের সহযোগিতা করবে। আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁত শিল্পের উৎপাদন বাড়ানোর হবে। টাঙ্গাইলে যে কোনো শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। উদ্বোধনের সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের(বাতাঁবো) চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা নবনির্মিত বাজিতপুর তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার পরিদর্শন করেন।

৮ ঘণ্টা আগে

মধুপুরে বিএনপি নেতার মাকে কুপিয়ে খুন

মধুপুরে বিএনপি নেতার মাকে কুপিয়ে খুন

মধুপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের মা জলেমন বেওয়াকে কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার(৩১ জুলাই) রাতে উপজেলার শোলাকুড়ি দিঘির পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার মৃত আয়েজ উদ্দিনের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানায়, জালেমন বেওয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। শুক্রবার রাতে প্রতিবেশি রেজাউল করিমের স্ত্রী পান খাওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে জালেমনকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে এলাকাবাসী মধুপুর থানায় খবর দেয়। এ বিষয়ে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কি কারণে হত্যা করা হয়েছে তা জানা যায়নি। শনিবার(১ আগস্ট) সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

৯ ঘণ্টা আগে

লেখাপড়ার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

লেখাপড়ার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

কালিহাতী প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে এবং ভবিষ্যতে একাধিক পেশায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, সে লক্ষ্যেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, মিড-ডে মিল একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগ সফল করতে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন প্রাথমিক স্তর থেকেই শুরু করতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা পরে ডিগ্রি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। এর পাশাপাশি আমাদের সরকার বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি কার্যক্রমও চালু করেছে। কাজেই শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক ধাপ থেকেই কাজ শুরু করতে হবে এবং ধীরে ধীরে তা সব পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টির বিষয়টি বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিদ্যালয়গুলোতে কীভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্তানের লেখাপড়ার জন্য বাবা-মা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। অনেক পরিবার ধান, জমি কিংবা গবাদিপশু বিক্রি করেও সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বহন করে। সেই সন্তান যদি মাদকে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিবারের সব ত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যায়। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান মোল্লা বক্তব্য রাখেন। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। শেষে অতিথিরা বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, মিড-ডে মিল কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশিত খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

৯ ঘণ্টা আগে

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিনেমার আয় ৩২৮ কোটি টাকার বেশি

দৃষ্টি বিনোদন: ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও দক্ষিণী সিনেমার তারকা থালাপাতি বিজয় অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’। গত ৯ জানুয়ারি সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল। নানা জটিলতার কারণে থমকে যায় মুক্তি। দীর্ঘ ৭ মাস অপেক্ষার পর, গত ২৩ জুলাই বিশ্বের ৫ হাজার পর্দায় মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। ‘জন নায়াগান’ সিনেমা মুক্তির পর দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এনডিটিভির চলচ্চিত্র বিশ্লেষক লতা শ্রীনিবাস লিখেছেন, “থালাপাতি বিজয়ের জন্য ‘জন নায়াগান’ অবশ্যই দেখা উচিত। কারণ শেষবারের মতো তাকে পর্দায় দেখা যাবে। বিজয় কীভাবে একজন ‘জন নায়াগান’ (জনগণের নেতা) হয়ে উঠেছেন, তা টাইটেল কার্ড দেখিয়েছে। ত্রুটি থাকার পরও ‘জন নায়াগান’ দুর্দান্ত।” পাঁচে ৩ রেটিং দিয়েছেন লতা। ইন্ডিয়া টুডের জননী কে সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তবে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন ২। দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও বক্স অফিসে কতটা রাজত্ব করলেন বিজয়? যদিও বক্স অফিস বিশ্লেষক রমেশ বালা মুক্তির আগেই বলেছিলেন, মুক্তির প্রথম দিনে ৭৫-১০০ কোটি রুপি আয় করবে সিনেমাটি। তার এই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে ফলেছে। চলুন জেনে নিই, ৭ দিনে কত টাকা আয় করল সিনেমাটি- বলি মুভি রিভিউজের তথ্য মতে, মুক্তির প্রথম দিনে ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ভারতে আয় করেছে ৪৪ কোটি রুপি (নিট), দ্বিতীয় দিনে আয় করেছে ২১ কোটি রুপি (নিট), তৃতীয় দিনে আয় করেছে ৩০ কোটি রুপি (নিট), চতুর্থ দিনে আয় করেছে ৩২ কোটি রুপি (নিট), পঞ্চম দিনে আয় করেছে ১০ কোটি রুপি (নিট), ৬ষ্ঠ দিনে আয় করেছে ৮ কোটি রুপি (নিট), সপ্তম দিনে আয় করেছে ৬ কোটি রুপি (নিট)। যার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৫১ কোটি রুপি (নিট)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৬.২ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘জন নায়াগান’ সিনেমা ৭ দিনে ভারতে আয় করেছে ১৪৯.৫০ কোটি রুপি (নিট)। বিদেশে আয় করেছে ৮১ কোটি রুপি (গ্রস)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৫.৬৩ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এইচ. বিনোথ। এতে থালাপাতি বিজয় অভিনয় করেছেন ভেত্রি কোন্ডান নামে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। দত্তক কন্যা ভিজিকে (মমিতা বাইজু) সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। কিন্তু মেয়েটির অতীতের মানসিক ট্রমা সেই পথকে কঠিন করে তোলে। বলিউড অভিনেতা ববি দেওল সিনেমাটিতে খলনায়ক জন হিমলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে আসেন। এরপরই শুরু হয় বিজয় ও ববি দেওলের মুখোমুখি লড়াই। তাদের লড়াইকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির মূল সংঘাত। ‘জন নায়াগান’ সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন বিজয়-পূজা। তাছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- প্রকাশ রাজ, প্রিয়ামণি, গৌতম বাসুদেব মেনন প্রমুখ। জানা যায়, সিনেমাটির বাজেট ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি রুপি। কোনো কোনো প্রতিবেদনে ৪০০ কোটি রুপিও পাওয়া গেছে। এটি প্রযোজনা করছে কেভিএন প্রোডাকশন্স।

৩০ জুলাই ২০২৬

আলি ব্রাদার্স থেকে সিদ্দিকী ব্রাদার্স

আলি ব্রাদার্স থেকে সিদ্দিকী ব্রাদার্স

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল:: ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ভ্রাতৃদ্বয়’ বা ‘ব্রাদার্স’ পরিভাষাটি যখনই উচ্চারিত হয়, তা কেবল রক্ত সম্পর্কিত দুই ভাইয়ের পরিচয় বহন করে না। তা হয়ে ওঠে শোষণের বিরুদ্ধে এক সুসংগঠিত শক্তির প্রতীক, মুক্তির মিছিলে শামিল দুই নির্ভীক সেনানীর যৌথ লড়াইয়ের আখ্যান। বিশ শতকের ২০-এর দশকে অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতে ‘আলি ব্রাদার্স’ এবং ৭০-এর দশকে উত্তাল বাংলাদেশে টাঙ্গাইলের ‘সিদ্দিকী ব্রাদার্স’- উভয় পরিবারই আপন আপন সময়কালে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন। স্থান-কালের ব্যবধান থাকলেও এই দুই কিংবদন্তি ভ্রাতৃদ্বয়ের রাজনৈতিক দর্শন, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং আদর্শিক চেতনার মাঝে এক অভূতপূর্ব মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মাওলানা মুহাম্মদ আলি জওহর ও মাওলানা শওকত আলি উচ্চ শিক্ষিত ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা। দুজনেই খিলাফত আন্দোলনের মূল নেতৃবৃন্দের অন্যতম ছিলেন। মুহাম্মদ আলি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন। তারা আজীবন দেশের স্বাধীনতার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন- যা ইতিহাসে ‘আলি ভ্রাতৃদ্বয়’ বা ‘আলি ব্রাদার্স’ নামে পরিচিত। ভারতের উত্তরপ্রদেশের রামপুরের এক উচ্চবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া এই দুই ভাইয়ের (মাওলানা মুহাম্মদ আলি জওহর ও মাওলানা শওকত আলি) শিক্ষা ছিল অক্সফোর্ড ও আলিগড়ের আধুনিকতায় সমৃদ্ধ। কিন্তু তাদের হৃদয়ে ছিল পরাধীনতার গভীর ক্ষত। মাওলানা মুহাম্মদ আলী জওহর যখন ১৯১১ সালে ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘কমরেড’ (ঞযব ঈড়সৎধফব) ও উর্দু সাপ্তাহিক ‘হামদর্দ’ প্রকাশ করা শুরু করেন তখনই ব্রিটিশ শাসনের ভিত নড়বড়ে হতে শুরু করে। আলি ব্রাদার্স যখন অবিভক্ত ভারতের রাজনীতিতে আবির্ভূত হন তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর এক চরম সংকটকাল চলছে। ১৯১৯ সালে তুরস্কের খিলাফত ও সা¤্রাজ্য রক্ষার্থে এবং ভারতীয় মুসলমানদের অধিকার আদায়ে তারা ‘খিলাফত আন্দোলন’ শুরু করেন। এটি ছিল ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যবাদের ভিত্তিমূলে প্রথম তীব্র আঘাত। মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে খিলাফত আন্দোলনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে আলি ব্রাদার্স গোটা উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক অভূতপূর্ব জোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের এক বাঙালি মুসলিম পরিবার থেকে উঠে আসা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকীর রক্তে ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের জোয়ার। ষাটের দশকের উত্তাল দিনগুলোতে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তারা যখন রাজপথে নামেন, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল টাঙ্গাইলের মাটি থেকে এক নতুন বিদ্রোহের জন্ম হতে যাচ্ছে। সিদ্দিকী ব্রাদার্স (আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম) যখন বাংলার রাজনীতিতে অবতীর্ণ হন, তখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দুই দশকের শোষণ ও বঞ্চনা চরম সীমায় পৌঁছেছে। ১৯৭০-এর নির্বাচন-উত্তর রাজনৈতিক (ঢ়ড়ষরঃরপধষ) সংকট এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির পর এই দুই ভাই প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা লতিফ সিদ্দিকী ছিলেন রাজনৈতিক ফ্রন্টের অগ্রনায়ক এবং প্রবাসী সরকারের অন্যতম সংগঠক। আর কনিষ্ঠ ভ্রাতা কাদের সিদ্দিকী গড়ে তোলেন কিংবদন্তিতুল্য ‘কাদেরিয়া বাহিনী’। ১৭ হাজার নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রায় ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের এই বাহিনী টাঙ্গাইলসহ আশপাশের ৯-১০টি জেলার বিশাল অঞ্চলকে কার্যত মুক্তাঞ্চলে পরিণত করেছিল। আলি ব্রাদার্সের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ও অগ্নিপরীক্ষার অধ্যায় ছিল তাদের দীর্ঘ কারাবাস ও ঐতিহাসিক ‘করাচি ট্রায়াল’ (১৯২১)। ১৯২০-এর দশকে ব্রিটিশ সরকার তাদের উগ্র রাজদ্রোহিতার অভিযোগে বারবার কারারুদ্ধ করে। ১৯২১ সালের জুলাই মাসে খিলাফত কনফারেন্সে মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর মুসলিম সেনাদের ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ত্যাগ করার আহ্বান জানান। এই একটি ঘোষণায় ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের ভিত নড়ে ওঠে। এর জের ধরে সেপ্টেম্বর মাসে আলি ব্রাদার্সকে গ্রেপ্তার করে করাচির ঐতিহাসিক ‘খালেকদিনা হলে’ এক বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার (কধৎধপযর ঞৎরধষ) শুরু হয়। ব্রিটিশ শাসকরা তাদের রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে দুই বছরের সশ্রম কারাদ- দেয়। কিন্তু কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ আলি ব্রাদার্সকে দমাতে পারেনি বরং তাদের বন্দিত্বের খবর শুনে পুরো ভারতজুড়ে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। শওকত আলি এবং মোহাম্মদ আলি কারাগারকে বানিয়েছিলেন স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীক। তাদের মা আবিদা বানু, ইতিহাসে যিনি ‘বি-আম্মা’ নামেই বেশি পরিচিত। মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসসহ তখনকার নেতারা তাকে ‘আম্মা’ সম্বোধন করতেন। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাকামী একজন মহীয়সী নারী- যিনি স্বাধীনতার জন্য নিজেকে এবং নিজ সন্তানদের উৎসর্গ করেছিলেন। তার মধ্যে কোনো জাতিভেদ ছিল না। তিনিও রাজপথে নেমে স্লোগান দিয়েছিলেন- ‘বোলি আম্মা মোহাম্মদ আলি কী, জান দে দো খিলাফাত পার’। মহীয়সী নারী ‘বি-আম্মা’র কোলে জন্ম নেওয়া দুই ভাইয়ের দীর্ঘ কারাবাসের ত্যাগই ‘আলি ব্রাদার্স’কে উপমহাদেশের আপসহীনতার সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সিদ্দিকী ব্রাদার্সের নেতৃত্বাধীন ‘কাদেরিয়া বাহিনী’ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য এক চরম আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছিল। কাদের সিদ্দিকীকে তারা ‘টাইগার সিদ্দিকী’ বা ‘বাঘা সিদ্দিকী’ নামে ডাকতেন। জ্যেষ্ট ভাই লতিফ সিদ্দিকী যখন ভারতে গিয়ে রাজনৈতিক লবিং ও অস্ত্র সরবরাহের পথ সুগম করছেন, কনিষ্ঠ ভাই কাদের সিদ্দিকী তখন টাঙ্গাইলের বনে-জঙ্গলে থেকে একের পর এক দুঃসাহসিক অপারেশন পরিচালনা করছেন। কাদেরিয়া বাহিনীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক অপারেশনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১১ আগস্ট বহমান যমুনার ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় চালানো ‘জাহাজ বিধ্বংসী অপারেশন’। পাকিস্তানি বাহিনীর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ নিয়ে ‘এসইউএ ইঞ্জিনিয়ারিং এসটি-৩’ এবং ‘এসটি রাজন’ নামের দুটি বিশাল জাহাজ ঢাকার সদরঘাট থেকে যমুনা হয়ে নদী পথে রংপুরের দিকে যাচ্ছিল। ১৯৭১ সালের ১১ আগস্ট টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনীর অসম সাহসী যোদ্ধারা কমান্ডার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় পাকিস্তানের অস্ত্র ও রসদ বোঝাই ২টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করে দেয়। ধ্বংসের আগে মুক্তিযোদ্ধারা জাহাজ ২টি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ হস্তগত করে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ঐতিহাসিক এই যুদ্ধ ‘জাহাজমারা যুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে, মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে দেশের আর কোথাও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা এত বড় ক্ষতির শিকার হয়নি। একইসঙ্গে এই যুদ্ধটিকে মুক্তিযুদ্ধের মোড় ঘোরানো একটি ঘটনা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এটি ছিল নৌ-যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম সফল গেরিলা অপারেশন। এছাড়া টাঙ্গাইলের ‘ধলাপাড়া অপারেশন’ এবং ‘মাকরকোল যুদ্ধ’-এ কাদেরিয়া বাহিনীর বীরত্বে পাকিস্তানি সেনারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। কাদের সিদ্দিকী নিজে সম্মুখ সমরে থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করতেন এবং একটি অপারেশনে তিনি গুরুতর আহতও হন। লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকীর এই যৌথ শক্তি ও রণকৌশলের কারণেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের আগেই টাঙ্গাইলকে কার্যত মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছিল এবং মিত্রবাহিনীর প্যারাশুট ল্যান্ডিংয়ের পথ সহজ হয়েছিল। একই শতকের দুই ভিন্ন যুগের এই দুই ভ্রাতৃদ্বয়ের ঘটনাক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তাদের মধ্যে আদর্শিক মিলগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে প্রতিভাত হয়- (ক) যৌথ নেতৃত্বের শক্তি: আলি ব্রাদার্স যেমন একজন অসাধারণ বাগ্মী ও লেখক (মুহাম্মদ আলি) এবং অন্যজন দক্ষ সংগঠক (শওকত আলি) হিসেবে পরিপূরক ছিলেন, সিদ্দিকী ব্রাদার্সও তেমনি। লতিফ সিদ্দিকী ছিলেন তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক দিকপাল, আর কাদের সিদ্দিকী ছিলেন মাঠপর্যায়ের অকুতোভয় যোদ্ধা ও সেনাপতি। (খ) শোষণের বিরুদ্ধে গণজাগরণ: আলি ব্রাদার্স ভারতের কোণায় কোণায় ঘুরে সাধারণ মানুষকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলেছিলেন। একইভাবে সিদ্দিকী ব্রাদার্স টাঙ্গাইলের আপামর জনতাকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন। (গ) অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনা: আলি ব্রাদার্স ধর্মীয় খিলাফত আন্দোলন করলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অসাম্প্রদায়িক ও ভারতীয় মুক্তি। তারা গান্ধীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। অন্যদিকে, কাদেরিয়া বাহিনীতে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ (নারী-পুরুষ) যুদ্ধ করেছে। সিদ্দিকী ব্রাদার্স নিশ্চিত করেছিলেন যে, যুদ্ধকালীন মুক্তাঞ্চলে যেন কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা নিপীড়ন না ঘটে। খেলাফত আন্দোলনের অবিসংবাদিত বাগ্মী নেতা মোহাম্মদ আলি জওহর ও তার বড় ভাই শওকাত আলি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবেন। মোহাম্মদ আলি জওহর একাধারে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, কবি ও পন্ডিত ছিলেন। তিনি ১৮৭৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পরাধীন ভারতে না ফেরার শপথ নিয়েছিলেন এবং বিদেশের(লন্ডনের) মাটিতেই ১৯৩১ সালের ৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছানুযায়ী নবীদের পুণ্যভূমি বায়তুল মুকাদ্দাসে তিনি সমাহিত হন। ফিলিস্তিনের তৎকালীন প্রধান মুফতি তার জানাজা পড়িয়েছেন। মোহাম্মদ শওকত আলি ১৮৭৩ সালের ১০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট দলের অধিনায়কও ছিলেন। ছোট ভাই মুহাম্মদ আলি জওহরের সাথে মিলে তিনি ১৯১৯-১৯২৪ সালের খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৩৬ সালে জীবনের শেষভাগে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৩৮ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি দিল্লিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইতিহাসের পাতায় আলি ব্রাদার্স ও সিদ্দিকী ব্রাদার্স চিরকাল শোষিত মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। বিশ শতকের শুরুতে আলি ব্রাদার্স উপমহাদেশে যে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার গান গেয়েছিলেন, সত্তরের দশকে সিদ্দিকী ব্রাদার্স তারই চূড়ান্ত রূপ দেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনে। আলি ব্রাদার্স আজ পরলোকগত। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৫৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা সদরের কাগমারী এলাকায় ‘মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ’ নামে একটি শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করেন। মওলানা ভাসানী খিলাফত আন্দোলনের অন্যতম মহান নেতা মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহরের স্মরণে ও তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে কলেজটির নামকরণ করেছিলেন। খিলাফত আন্দোলনের অন্যতম দিকপাল ‘আলি ব্রাদার্সে’র স্মরণে জন্ম বা মৃত্যু দিবসে আমরা স্মরণসভা কিংবা দিবস পালনের মধ্য দিয়ে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করতে পারি এবং তা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। এই দুই কিংবদন্তি ভ্রাতৃদ্বয়ের ত্যাগ, সাহস এবং রাজনৈতিক দর্শন প্রমাণ করে যখন কোনো পরিবারের রক্ত শোষণের বিরুদ্ধে একীভূত হয়, তখন তা আর কেবল পারিবারিক বন্ধন থাকে না- তা হয়ে ওঠে একটি জাতির মুক্তির মহাসনদ। জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা আজও তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। ইতিহাসের দীর্ঘ ব্যবধানে এই দুই ‘ব্রাদার্স’ এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছেন- আর সেটি হলো অকুতোভয় দেশপ্রেম। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে টাঙ্গাইলের সিদ্দিকী ব্রাদার্স এবং উপমহাদেশের ইতিহাসে আলি ব্রাদার্সের অবদান তাই সমান্তরাল ও চিরভাস্বর।

৩০ জুলাই ২০২৬

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে চালু হচ্ছে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে চালু হচ্ছে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা: যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দক্ষতায় গড়ে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের অধিকতর দক্ষ হিসেবে প্রমাণ করতে দেশব্যাপী অধিভুক্ত সব কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হতে যাচ্ছে 'ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব' (Language Club)। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষা বিশেষ করে ইংরেজি, মান্দারিন, জাপানিসহ অন্যান্য ভাষায় নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবে নিয়মিত ভাষাচর্চা ও স্পিকিং সেশন ছাড়াও পাবলিক স্পিকিং, বিতর্ক, উপস্থাপনা, বইপাঠ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, সেমিনার, কর্মশালা এবং ভাষাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সরাসরি পাঠদানের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভাষা শিক্ষার উপকরণ ব্যবহারের সুযোগও থাকবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালুর পেছনে নিজের লক্ষ্য ও স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় শুধু ভাষার দক্ষতার অভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়ে। কলেজ পর্যায়ে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো- শিক্ষার্থীদের ভেতরে থাকা জড়তা ও ভয় দূর করা, যাতে তারা সাবলীলভাবে ইংরেজি বা অন্য কোনো একটি তৃতীয় ভাষায় কথা বলা এবং ভাব প্রকাশ করতে পারে। আমরা চাই আমাদের প্রতিটি কলেজ থেকে এমন এক প্রজন্ম গড়ে উঠুক, যারা যেকোনো বৈশ্বিক পরিবেশে নিজেদের আত্মবিশ্বাসী ও সফলভাবে উপস্থাপন করতে পারবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা, যারা সাধারণত ল্যাঙ্গুয়েজ প্র্যাকটিসের পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না, এই ক্লাবগুলো তাদের ভাষিক দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে ভাষাগত দক্ষতা একটি অপরিহার্য যোগ্যতা। কলেজ পর্যায় থেকেই এ ধরনের কার্যক্রম চালু করার ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে।খুব শিগগিরই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব নিয়ে ঢাকা মহানগরের কলেজসমূহকে যুক্ত করে একটি কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

৩০ জুলাই ২০২৬

কালিহাতীর শীর্ষ সন্ত্রাসী শান্ত র‌্যাবের হাতে কট

কালিহাতীর শীর্ষ সন্ত্রাসী শান্ত র‌্যাবের হাতে কট

কালিহাতী প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে হত্যা, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী আরিফুর রহমান শান্তকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩) । র‌্যাবের দাবি, তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পরে তাকে কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হলে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। র‌্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর প্রায় ২টা ৪০ মিনিটে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বটতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আরিফুর রহমান শান্তকে আটক করা হয়। র‌্যাব জানায়, বিগত ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গা পৌরসভা এলাকায় সংঘটিত নাশকতার ঘটনায় শান্তর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, তার নির্দেশনা ও সহযোগিতায় তার অনুসারীরা মহাসড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ও লাকড়ি ফেলে এবং যানবাহনের টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই আরিফুর রহমান শান্ত আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, র‌্যাবের মাধ্যমে আটক আরিফুর রহমান শান্তকে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

৩০ জুলাই ২০২৬

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

দৃষ্টি নিউজ: শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর গুলশান থেকে সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর আগে বুধবার সকালে রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা দেন সাবেক এই মন্ত্রী। পরে আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ১০ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করলে আগামি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আত্মসমর্পণ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এ মামলায় মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- শেখ হাসিনা, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শামসুল হক টুকু, হাসানুল হক ইনু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মৃনাল কান্তি দাশ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, সালাউদ্দিন মাহমুদ ও ডা. ইমরান এইচ সরকার। এ ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রুপা, হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ, মোখলেসুর রহমান, জেনারেল আজিজ আহমেদ, জিয়াউল আহসান, মজিবুর রহমান, আব্দুল জলিল মন্ডল, শেখ মো. মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মনিরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মুহা. আশরাফুজ্জামান, এস এম মেহেদী হাসান, হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, এস এম শিবলী নোমান ও বি এম ফরমান আলী। এ মামলায় বর্তমানে নয় আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।

২৯ জুলাই ২০২৬

বাঘ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী :: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বাঘ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী :: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

দৃষ্টি নিউজ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, বাঘ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী এবং জীববৈচিত্র্যের অপরিহার্য অংশ। এ প্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংরক্ষণবিষয়ক মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বুধবার(২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আয়োজিত র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় একশ বছর আগে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। বর্তমানে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারের মতো। এ পরিসংখ্যান বাঘের অস্তিত্ব যে হুমকির মুখে রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। তিনি বলেন, আমরা যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করি এবং মানুষকে সচেতন করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে এ প্রজাতি আরও সংকটের মুখে পড়বে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৪টি বাঘ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রায় ১৫টি এবং দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় মোট প্রায় ৫০টি বাঘ রয়েছে। তিনি বলেন, বাঘ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ প্রাণী সংরক্ষণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঘ সম্পর্কে জানতে পারে এবং এর সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে। বাঘ গণনায় বরাদ্দকৃত বাজেট ও এ সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাঘ গণনার বিষয়টি বন বিভাগের আওতাধীন। এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বাধীন নয়। তবে বন বিভাগ তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার সঙ্গে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার স্যুভেনির শপ উদ্বোধন করেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহীনুর আলম, চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ-সহ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৯ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি

হবিগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ শহরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জিএম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, একই সময়ে ও একই স্থানে পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণার কারণে সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জারি করা আদেশ অনুযায়ী হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ৫ (পাঁচ) বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, স্লোগান, পিকেটিং, উসকানিমূলক কার্যক্রম এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে- এমন সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

২৯ জুলাই ২০২৬

আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

দৃষ্টি নিউজ: চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ধুমধুমপুর এলাকা থেকে পাঁচ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাই শুটার। বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে দুই বছর ধরে বেশি কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে। এর আগে গত রোববার(২৬ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। তাদের মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

২৯ জুলাই ২০২৬