আইন-আদালত
সাত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড, সাত জনের যাবজ্জীবন
দৃষ্টি নিউজ: জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা ও ভাতিজাকে হত্যার দায়ে ১০ বছর পর সাত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড ও সাত জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায়ে একই সাথে মৃতদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ওই রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- শাখাওয়াত, সোহেল, আলআমিন সাদ্দাম, অন্তর, উজ্জ্বল ও ফয়জুর এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- চান মিয়া, জিয়ার, শাহ আলম, কাওছার, সুমন, রিফাত ও মোস্তফা। সাজাপ্রাপ্তরা সবাই এবং মামলার বাদীপক্ষ জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান- পূর্বের একটি বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গানবাজনার কথা বলে শাখাওয়াত ও সোহেল নামে দুই আসামি চাচা মহর আলী ও ভাতিজা স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নিয়ে দুজনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।এ ঘটনায় নিহত স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ২২ জনকে আসামি করে ওই বছরের ১৯ মে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত ওই রায় ঘোষণা করে।
২০ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলে তিন প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে খাদ্যে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহার, বাসি খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (১৭ আগস্ট) শহরের বড় কালীবাড়ি রোড ও পার্ক বাজারে অভিযান চালিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ওই জরিমানা আদায় করেন। অভিযানে বড় কালীবাড়ি রোডের গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে উৎপাদিত দইয়ের মেয়াদের তারিখ পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দই ও মিষ্টান্ন উৎপাদনের দায়ে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া শ্রীকৃষ্ণ নিরামিষ ভোজনালয়কে খাদ্যে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহার ও বাসি খাবার সংরক্ষণের দায়ে ২০ হাজার টাকা এবং আদি ইন্দুটি দই ঘরকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১৭ আগস্ট ২০২৬
হবিগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ শহরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জিএম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, একই সময়ে ও একই স্থানে পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণার কারণে সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জারি করা আদেশ অনুযায়ী হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ৫ (পাঁচ) বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, স্লোগান, পিকেটিং, উসকানিমূলক কার্যক্রম এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে- এমন সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২৯ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলে হেরোইন পাঁচারের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে হেরোইন পাঁচারের দায়ে হোসেন আলী(৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর একজনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার(২৭ জুলাই) টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ হাফিজুর রহমান ওই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত হোসেন আলীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো. হোসেন আলী সখীপুর উপজেলার কাহারতা গ্রামের রামখাঁ’র ছেলে এবং পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে হিরু মিয়া ওরফে হায়দারকে(৫৫)। তিনি সখীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাদশা মিয়ার ছেলে। টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলী (পিপি) শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, বিগত ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সখীপুরের কালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাছ থেকে হোসেন আলী ও হিরু মিয়াকে আটক করে। এ সময় হোসেন আলীর কাছ থেকে ৯০ গ্রাম এবং হিরু মিয়ার কাছ থেকে ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। পুলিশের অভিযানের সংবাদ পেয়ে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের আলহাজ মিয়া ও সুমী আক্তার পালিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। পরদিন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান বাদি হয়ে সখীপুর থানায় ওই দুইজনকে অভিযুক্ত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, বিগত ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ৯ ব্যক্তি সাক্ষ দেন। যাবজ্জীবন দণ্ডিত আসামি হোসেন আলী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পলাতক রয়েছেন। দণ্ডিত হিরু মিয়াকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
২৭ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলে দুটি হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে পৃথক দুটি হত্যা মামলার রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল জজ আদালত পৃথক দুটি মামলার রায়ে ওই দণ্ড ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে নাজিরুল ইসলাম জিহাদ এবং দেলদুয়ার উপজেলার বর্ণী গ্রামের সোহরাব হোসেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৮ জুন ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মেহেদী মোস্তফা রাজীবকে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান ওই মামলায় নাজিরুল ইসলাম জিহাদকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন। অন্যদিকে স্পেশাল জজ আদালত সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৫ মে দেলদুয়ার উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামে হাজেরা বেগম ও তাঁর মেয়ে নাসরিন আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেন স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দ্রনা। এ মামলায় সোহরাব হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল জজ আদালত পৃথক দুটি মামলার রায়ে ওই দণ্ড ঘোষণা করেন।
২২ জুলাই ২০২৬
মধুপুরে ৬টি অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ
মধুপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত করাতকলের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ। অভিযানে ৬টি অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ, একজনকে ৩ হাজার টাকা অর্থদ- এবং বিপুল পরিমাণ করাতকলের যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। সোমবার (২১ জুলাই) টাঙ্গাইল বন বিভাগের মধুপুর রেঞ্জের চাড়ালজানি বিট ও মহিষমারা বিট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন, মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নঈম উদ্দিন। টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ও মধুপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা রোকসানা জাহান, ডেপুটি রেঞ্জার সাইফুল ইসলাম, রেঞ্জার ফয়সাল হোসেনসহ বন বিভাগের বিভিন্ন বিটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযান চালানোকালে উপস্থিত ছিলেন। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মহিষমারা বিটের আওতায় কুড়ালিয়া ইউনিয়নের লাউফুলা বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং কেওটাই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে একাধিক করাতকল চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে ৬টি অবৈধ করাতকল চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে লাউফুলা বাজার এলাকায় পিন্টু ও হাসান আলীর মালিকানাধীন দুটি করাতকলসহ আরও কয়েকটি এবং কেওটাই এলাকায় পরিচালিত অবৈধ করাতকলগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে কেওটাই এলাকার মো. লিটন মিয়া অবৈধ করাতকল পরিচালনার দায় স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৩ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করেন। এ সময় করাতকল পরিচালনায় ব্যবহৃত ৫টি জেনারেটর চালিত ইঞ্জিন, করাতের চেইন, হুইল, প্লেটসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামাল বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে। টাঙ্গাইল বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার সাইফুল ইসলাম জানান, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ করাতকল পরিচালনার মাধ্যমে বনজ সম্পদ পাচার ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এসব অবৈধ কার্যক্রম রোধে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
২১ জুলাই ২০২৬
মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন
দৃষ্টি রিপোর্ট: দেশের অন্য নয়টি জেলার সাথে টাঙ্গাইলেও লিগ্যাল এইড আইনের সংশোধিত বিধান অনুযায়ী কতিপয় ক্ষেত্রে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ঢাকায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান টাঙ্গাইলসহ দেশের দশটি জেলায় একসঙ্গে ভার্চুয়ালী এই মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অন্য জেলাগুলো হচ্ছে- বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার ও পঞ্চগড়। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইলের চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার তানজিনা চৌধুরী। এ সময় টাঙ্গাইলের শিশু সংহিতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. মো. আব্দুল মজিদ (জেলা ও দায়রা জজ), ল্যান্ড সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোশাররফ হোসাইন (জেলা ও দায়রা জজ), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাবি্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াছ, টাঙ্গাইলের স্পেশাল মেডিয়েটর কে এম শহীদ আহাম্মেদ (সাবেক জেলা ও দায়রা জজ) এবং জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. মিনহাজ উদ্দিন ফরাজিসহ বিভিন্ন আদালতের বিচাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোনায়েম হোসেন খান আলমসহ লিগ্যাল এইডের তালিকাভুক্ত আইনজীবীরা এতে অংশ নেন। যে সকল বিষয়ে আদালতে মামলা করার আগে অবশ্যই লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতার জন্য যেতে হবে সেগুলো হচ্ছে- পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ, সম্পত্তি বন্টন, অগ্রক্রয় ও পিতা-মাতার ভরণপোষন সংক্রান্ত বিরোধ এবং যৌতুক সম্পর্কিত অভিযোগ। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী এসব বিষয়ে লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতা না হলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করা যাবে।
২১ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলে জাল টাকা লেনদেনের দায়ে এক আসামির ১০ বছর কারাদণ্ড
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে জাল বা নকল টাকা লেনদেন করায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ওয়াজ উদ্দিন নামে এক আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক(জেলা ও দায়রা জজ) মো. হাফিজুর রহমান ওই দণ্ডাদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি ওয়াজ উদ্দিন(৪৮) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুুর গ্রামের আছর উদ্দিনের ছেলে। টাঙ্গাইলের পিপি অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, বিগত ২০২১ সালের ২৭ জুন সকালে ওয়াজ উদ্দিন একটি দোকানে গিয়ে চারটি স্পিড (কোমল পানীয়) কিনে দোকানদারকে এক হাজার টাকার একটি নোট দেন। নোটটি দেখে জাল বা নকল মনে হলে দোকানদার উপস্থিত লোক জনকে দেখান। তারাও নোটটি জাল বলে সন্দেহ করেন। সঙ্গে সঙ্গে দেলদুয়ার থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে ওয়াজ উদ্দিনকে আটক করে। এ সময় তার দেহ তল্লাশী করে আরো চারটি এক হাজার টাকার জাল নোট পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দেলদুয়ার পশ্চিম পাড়া গ্রামের দোকানদার জয়েন উদ্দিন বাদি হয়ে দেলদুয়ার থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ প্রকাশ্য ও গোপনে তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২ মার্চ আসামি ওয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট জমা দেয়। টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক(জেলা ও দায়রা জজ) মো. হাফিজুর রহমান বিচার শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামি ওয়াজ উদ্দিনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেন। জনাকীর্ণ আদালতে রায় ঘোষণার সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, অ্যাডভোকেট মো. কামরুজ্জামান তরফদার(খোকন)।
১৩ জুলাই ২০২৬
সংঘবদ্ধ যৌননিগ্রহের দায়ে তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ যৌননিগ্রহের চাঞ্চল্যকর মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রধান আসামিকে আরও অতিরিক্ত ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রধান আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আনম ইলিয়াস জনাকীর্ণ আদালতে ওই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- জামালপুর সদর উপজেলার কটারবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে আ. রহিম, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কামারিয়া গ্রামের মৃত মুকছেদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি এবং একই এলাকার ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সামছুল হক সামছু। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের বিপুল অঙ্কের অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি আ. রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় (অপহরণ) ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ওই আইনের ৯(৩) ধারায় (সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বা যৌননিগ্রহ) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। প্রধান আসামির এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া অপরাধে সমানভাবে সহায়তাকারী অপর দুই আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছুকে যৌননিগ্রহের(ধর্ষণের) ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিলু মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, বিগত ২০২৩ সালের ২২ জুন আসামিরা ভুক্তভোগী ওই নারীকে বিয়ের পাত্র দেখানোর প্রলোভন দেখায়। এরপর তাকে জামালপুর থেকে কৌশলে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দোখলা বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন বনের ভেতর নিয়ে প্রথমে প্রধান আসামি আ. রহিম এবং পরবর্তীতে অপর দুই আসামি শফিকুল ও সামছুল ভুক্তভোগীর উপর সংঘবদ্ধভাবে যৌননিগ্রহ(ধর্ষণ করে) চালায়। এই নৃশংস ঘটনার পর ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মধুপুর থানার এসআই আব্দুস সাত্তার ঘটনার তদন্ত শেষে একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত মঙ্গলবার ওই রায় প্রদান করেন। রায়ের পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কঠোর নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিলু সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারী ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এটি সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি দৃষ্টান্তমূলক বার্তা দেবে। অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শাহানশাহ সিদ্দিকী মিন্টু। তিনি জানান, আসামিপক্ষ ন্যায় বিচার পাননি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।
০৭ জুলাই ২০২৬
জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
দৃষ্টি নিউজ: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এই মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রসিকিউশনের তদন্ত দল ইনুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু করে এবং একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। বিস্তারিত শুনানি নিয়ে গত বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
৩০ জুন ২০২৬
ভাতিজাকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে চাচার ফাঁসির আদেশ
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে পাঁচ বছর বয়সী ভাতিজা কেএম রাহেনুল ইসলাম আরাফকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর হত্যার দায়ে চাচা মো. নুরনবীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার(৩০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ ন ম ইলিয়াস এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি নুরনবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডিত মো. নুরনবী টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নব ধুলটিয়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের আতাউর রহমান ও মোছা. লুৎফা বেগমের ছেলে। নিহত শিশু আরাফ একই এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার রাসেলের ছেলে এবং মামলার বাদী মো. নাসির উদ্দিনের নাতি। মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর মুক্তিপণের দাবিতে গোপালপুরের গাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে শিশু কেএম রাহেনুল ইসলাম আরাফকে কয়েকজনের সহযোগিতায় অপহরণ করেন তার চাচা নুরনবী। অপহরণের পর মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর ১১ অক্টোবর তার দাদা মো. নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে নুরনবী আটক হওয়ার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক এলাকা থেকে আরাফের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত শেষে গোপালপুর থানার এসআই মামুন ভূঞা ২০২৫ সালের ২৭ মে আদালতে নুরনবীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। পরে নুরনবীকে কারাগারে পাঠানো হয়। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি ওমরাও খান দিপু জানান, শিশু আরাফকে হত্যার দায়ে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭ ধারায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে অপহরণের দায়ে তাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরাধের আলামত নষ্ট ও লাশ গুম করার অপরাধে পেনাল কোডের ২০১ ধারায় তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তিনি জানান, আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির ওপর আরোপিত এই অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ টাকা ভুক্তভোগী মৃত শিশুর (ডিসিস্ট) পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন। উক্ত আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক এই ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আসামি পক্ষের আইনজীবী মহসীন সিকদার জানান, হত্যাকান্ডের কোন প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই। এছাড়া আসামী নুরনবীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে না পাঠিয়ে তিন দিনে স্বীকারোক্তি আদায়ের পরে আদালতে পাঠায়। এ মামলায় উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।
৩০ জুন ২০২৬
শিশুপুত্র হত্যার দায়ে মায়ের ১৩ বছর কারাদন্ড
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে শিশুপুত্রকে হত্যার দায়ে মায়ের ১৩ বছর সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার(২৯ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ওই রায় ঘোষণা করেন। দন্ডিত মা আয়না বেগম(২৪) মির্জাপুর উপজেলার শিবপুর চন্দনপাড়া গ্রামের মো. জহিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে। টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলী (পিপি) শফিকুল ইসলাম ওরফে রিপন জানান, আয়না বেগম সন্তান জন্মের পর তার বাবার বাড়ি লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামে অবস্থান করছিলেন। বিগত ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে আয়না বেগমের স্বামী জহিরুল ইসলাম সংবাদ পান যে, তার ১৮ দিন বয়সের শিশুপুত্রকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ খবর পাওয়ার পর তিনি তার শশুর বাড়ি লাউহাটী গ্রামে যান। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শশুর বাড়ির পাশে খালের পানিতে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৮ দিনের শিশু রায়হানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে জহিরুল ইসলাম বাদি হয়ে তার স্ত্রী আয়না বেগমের বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, তদন্ত শেষে দেলদুয়ার থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মনোয়ার হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিগত ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রায় দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর আয়না বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি আরো জানান, রায়ে দন্ডিত আয়না বেগমকে তার শিশুপুত্র রায়হানকে হত্যার দায়ে ১০ বছর এবং মরদেহ গুম করার অভিযোগে ৩ বছরসহ ১৩ বছর কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
২৯ জুন ২০২৬
প্রতিবেশিকে হত্যার দায়ে বাবা-ছেলে সহ ৮ জনের যাবজ্জীবন
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে বাড়ির সীমানার বিরোধে প্রতিবেশি বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার দায়ে বাবা-ছেলে সহ একই পরিবারের ৭ জন এবং অপর এক সহযোগীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থদণ্ড অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদে অতিরিক্ত কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। রোববার (২৮ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন ওই রায় দেন। দণ্ডিত আসামিরা হচ্ছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছোট বিন্যাফৈর (চরপাড়া) গ্রামের দবির উদ্দিন(৬৫) এবং তার পাঁচ ছেলে রফিক মিয়া (৪৫), তোফাজ্জল হোসেন (৩৫), ময়দান আলী (৩৩), হাসেম আলী (৪২) ও আ. রহমান (৩৮), হাসেম আলীর স্ত্রী শিল্পী বেগম (৩২) এবং একই গ্রামের মৃত ইনছাদ আলীর ছেলে হযরত আলী (৫০)। আদালত সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছোট বিন্যাফৈর (চরপাড়া) গ্রামের মোহাম্মদ আলীর(৭০) বাড়ির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশি আসামিদের সাথে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে বিগত ২০২২ সালের ২৪ জুলাই সকালে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মোহাম্মদ আলীকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে এবং লোহার রড ও বাাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের কন্যা মর্জিনা আক্তার বাদি হয়ে ওইদিনই টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই মো. রেহানুল ইসলাম একই বছরের ৩০ নভেম্বর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। বিচার শেষে এজাহার নামীয় আটজন আসামিকেই যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি হাসেম আলী ব্যতিত অন্য সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আসামিদের টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ওই আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান স্বপন এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শামীমুল আক্তার শামীম।
২৯ জুন ২০২৬
ভূঞাপুরে ওষুধের পাঁচ দোকানে জরিমানা
ভূঞাপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা সদরের বাসস্ট্যাণ্ডে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পাঁচটি ফার্মেসীতে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঔষধ প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সমন্বয়ে নকল, ভেজাল, আনরেজিস্টার্ড, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল জাতীয় ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত ওই অভিযান চালায়। টাঙ্গাইল ঔষধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক তাহমিদ জামিল জানান, ওই অভিযানে পাঁচটি ফার্মেসীকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রি, আনরেজিস্টার্ড ওষুধ বিক্রি, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি এবং সংরক্ষণের অপরাধে ‘ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন-২০২৩’ এর ৪০(খ), ৪০(গ) ও ৪০(ঘ) ধারার লংঘনে পাঁচটি মামলায় ২০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। ওষুধের বাজার ব্যবস্থপনা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
২৩ জুন ২০২৬
রামিসা হত্যা : ১ জুন সোহেল-স্বপ্নার বিচার শুরু
দৃষ্টি নিউজ: রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে যৌন নিগ্রহের পর হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার বিচার শুরু হবে আগামি ১ জুন। রোববার (২৫ মে) বিকালে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন। অভিযোগ গঠন হলে সেদিনই তাদের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে। একইদিনে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে উক্ত অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। ৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে সাক্ষী করা হয়েছে ১৫ জনকে। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন সকালে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। গত ১৯ মে সকালে রামিসা আক্তারের উপর যৌন নিগ্রহ চালানোর পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
২৪ মে ২০২৬
পিটিয়ে মাকে খুনের দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাকে খুনের দায়ে ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৪ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান ওই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম জহিরুল ইসলাম (৩২)। তিনি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দুয়াজানী গ্রামের মৃত আব্দুল মিয়ার ছেলে। টাঙ্গাইলের পিপি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, নাগরপুরের বঙ্গ বকুটিয়া গ্রামের বাবুল মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নূরবানু (৪২) তিন ছেলেকে নিয়ে দুয়াজানী মধ্যপাড়া গ্রামে বসবাস করতেন। নূরবানুর প্রথম স্বামী আব্দুল মিয়ার মৃত্যুর পর তিন ছেলেসহ বাবুল মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়। বিগত ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে মেঝ ছেলে জহিরুল ইসলাম নিজ বাড়িতে তার গর্ভধারিনী মা নূরবানুকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে খুন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ওইদিনই নূরবানুর দ্বিতীয় স্বামী বাবুল মিয়া নাগরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে হত্যার দায় স্বীকার করে জহিরুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি জেল-হাজতে রয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় নাগরপুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মনোয়ার হোসেন ২০২২ সালে ২৮ মে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। রোববার জহিরুল ইসলামের উপস্থিতিতেই বিচারক রায় ঘোষণা করেন। পরে আসামিকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
২৪ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে ভোক্তার অভিযানে কসমেটিকসের দোকানে জরিমানা
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল শহরের মাহমুদুল হাসান কলেজ মার্কেটের দুটি কসমেটিকসের দোকানে অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ওই জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল। ভোক্তা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মার্কেটটির তুলি ও অন্তু বিউটি কনসেপ্ট নামে দুটি কসমেটিকসের দোকানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পণ্যের মূল্যতালিকা সংরক্ষণ না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন প্রসাধনী বিক্রিসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে দোকান দুটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় শহরের রাবনা বাইপাস এলাকায় অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গণপরিবহনের চালক ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান পরিচালনাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২৩ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট: ‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে- চলো যাই গ্রাম আদালতে’ স্লোগানে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(২৩ মে) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ(৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইব্রাহিম, ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার সাঈদ আহমেদ, উপজেলা সমন্বয়কারী মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ। কর্মশালায় বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
২৩ মে ২০২৬
এলেঙ্গায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের চেষ্টার দায়ে জরিমানা
এলেঙ্গা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে অসুস্থ ষাঁড় গরু জবাইয়ের প্রস্তুতির দায়ে চাঁন মিয়া (৬০) নামে এক মাংস বিক্রেতাসহ তিন ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১৮ মে) সকালে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদা খানম লিজার নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমান আদালত ওই অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে চাঁন মিয়া নামে এক মাংস বিক্রেতা অসুস্থ একটি ষাঁড় জবাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যাম আদালতের বিচারক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের তফসিলভুক্ত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে গরুটি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত জবাই না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া বাজারে অপরিকল্পিতভাবে পোল্ট্রি মুরগি রেখে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি ও দুর্গন্ধ ছড়ানোর দায়ে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী হুমায়ুনকে ১০ হাজার টাকা; একই বাজারে মাংসের দোকানের পাশে পশুর চামড়া রেখে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে মাংস বিক্রেতা রজব আলীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। প্রশাসনের এমন অভিযানে বাজারে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান ক্রেতারা। এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদা খানম লিজা জানান, অসুস্থ পশু জবাই, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য বিক্রি কিংবা পরিবেশ দূষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় কালিহাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইম আল সালাউদ্দিনসহ কালিহাতী থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ মে ২০২৬