আইন-আদালত
প্রতিমন্ত্রী টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সহ দুই নেতা জামিনে মুক্ত
দৃষ্টি নিউজ:ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিকদল নেতা ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোকলেস মিয়া জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। একই মামলায় কারাগারে যাওয়া যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামও এদিন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। পরে নেতাকর্মীরা তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকালে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তারা মুক্তি পান। এ সময় কারাগারের বাইরে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীরা ফুলের মালা ও ফুল দিয়ে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপ-তত্ত্বাবধায়ক (জেলার) মো. ফখর উদ্দিন জানান, জামিনের কাগজপত্র যাচাই শেষে বিকাল ৫টার দিকে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম কারামুক্ত হয়েছেন।এর আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাদের আইনজীবী সোহেল খান নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুজনের জামিন মঞ্জুর করেন।২০১৭ সালের ২২ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্যান্য ধারায় তাদের খালাস দেওয়া হয়। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন। আপিলে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে খালাস এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়।
০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিমন্ত্রী টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সহ দুই নেতা রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে
দৃষ্টি নিউজ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মোকলেস মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সদস্য এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। অপর আসামি জাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২২ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ার সময় তাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ঈদগাহের প্রথম গেটের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬-এর বিচারক শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুব দল নেতা জাহিদুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্য ধারাগুলো থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়।এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম। আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়েছে।এদিকে সোমবার আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আত্মসমর্পণের পর তাদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম।তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকার সাজা দিয়েছিল। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমরা পরবর্তী সময়ে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আইনগতভাবে আবারও আবেদন করব।’অপরদিকে, আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।
০৫ অক্টোবর ২০২৬
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ৪ জনের যাবজ্জীবন
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিন জনের মৃত্যুদণ্ড এবং চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন জনাকীর্ণ আদালতে ওই রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সানিয়াত খান বাপ্পা(৩০) টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়ার সাবেক এমপি আতাউর রহমান খানের ছোট ছেলে এবং সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ভাই। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হচ্ছেন- শহরের কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ ফকির(২৫) ও সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া(৩১)। তারা প্রত্যেকেই পলাতক রয়েছেন।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন হচ্ছেন- সদর উপজেলার কাঠুয়া যুগনী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মো. সুজন(৩২), দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন(৩৪)। তারা দুজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শহরের চর কাগমারা(উত্তর কাইয়ামারা) এলাকার মো. নুরুল ইসলাম ওরফে নিলু বাবুর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম শফিক(২৫) ও সদর উপজেলার ছিটকিবাড়ি গ্রামের মো. নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ওরফে ইমন(২৫) পলাতক রয়েছে। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সদর উপজেলার দাইন্যা চৌধুরী গ্রামের অমূল্য ঘোষের ছেলে হাজতী সঞ্জিত ঘোষকে এ মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই আওয়ামী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং টাঙ্গাইলের বিতর্কিত খান পরিবারের কর্মী-সমর্থক।আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর(সরকারি কৌঁসুলী) মোহাম্মদ সাইদুর রহমান স্বপন মামলার নথি সূত্রে জানান, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের তিন বারের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে শহরের আকুরটাকুর এলাকায় প্রাতঃভ্রমণে (হাঁটতে) বের হন বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফারুক। তিনি আকুরটাকুর বটতলা কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছলে একদল সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এই হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২১ ডিসেম্বর নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।পুলিশ ঘটনার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়। তবে এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডি পুলিশ পুনরায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সিআইডির অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানির পর সোমবার দুপুরে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে শহরে আনন্দ মিছিল বের করে। মিছিলটি আদালত চত্তর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে দাইন্যা ইউপি চেয়ারম্যান ও মামলার বাদী মো. লাভলু মিয়া, নিহত রফিকুল ইসলাম ফারুকের ছেলে অনিক সহ অন্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবী একেএম শামিমুল আকতার শামিম সহ অন্যরা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন
দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইলে শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে রশিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দণ্ডিত আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ ওই রায় দেন। এছাড়াও আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত রশিদ মিয়া (৫৫) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামি যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভিকটিমকে দেওয়া হবে। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়ার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমান অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরো বলেন, যৌননিগ্রহের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা আসামি রশিদ মিয়া, তাকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেন এবং শিশুর ভরনপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে প্রকাশ করেন। শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরনপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ পূর্বক ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন আদালত।টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। এসময় প্রতিবেশি(সম্পর্কে দাদা) দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে। পরে শিশুটিকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং জোর পূর্বক যৌননিগ্রহ চালায়। এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে শিশুটি তার মায়ের কাছে যৌননিগ্রহের কথা খুলে বলে। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভিকটিম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দণ্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ভিকটিমের কন্যা সন্তানের পিতা বলে নিশ্চিত হয়।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার(১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ওই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি সখীপুর উপজেলার ইচ্ছাদিঘী গ্রামের আতিয়াপাড়ার হায়দর আলীর ছেলে মো. মেহেদী হাসান (৩৮)। রায়ে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।টাঙ্গাইলের পিপি মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, দণ্ডিত মেহেদী হাসান দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ার টাকা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রী কাকলীর ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট সকালে বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখা ছুরি বের করে কাকলীর পিঠে আঘাত করেন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কাকলীকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিনই নিহতের ভাই মো. বাদল মিয়া সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সখীপুর থানার পুলিশ গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকা থেকে আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। রায় ঘোষণা সময় আসামি মেহেদী হাসান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান ওই দণ্ডাদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল গফুর (৪২) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মালেঙ্গা (জোয়াহের আলীর চালা) গ্রামের মৃত কানছু সেখের ছেলে।টাঙ্গাইলের পিপি অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে আব্দুল গফুরের সাথে ঘাটাইলের মাকড়াই গ্রামের মৃত কোপাত আলীর মেয়ে সেলিনা খাতুনের বিয়ে হয়। পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত। বিগত ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় সেলিনা নিখোঁজ হন। পরদিন ২১ নভেম্বর বিকালে মাকড়াই গ্রামের একটি জঙ্গলের ড্রেন থেকে সেলিনার মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। পারিবারিক কলহের জের ধরে সেলিনা খাতুনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী আব্দুল গফুর।এ ঘটনায় সেলিনার ভাই আব্দুল মান্নান ২২ নভেম্বর ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ গফুরকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। একই বছর ৩১ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ।বিচার শেষে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জোবায়ের হোসেন জয়।
২৩ আগস্ট ২০২৬
সাত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড, সাত জনের যাবজ্জীবন
দৃষ্টি নিউজ: জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা ও ভাতিজাকে হত্যার দায়ে ১০ বছর পর সাত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড ও সাত জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায়ে একই সাথে মৃতদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ওই রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- শাখাওয়াত, সোহেল, আলআমিন সাদ্দাম, অন্তর, উজ্জ্বল ও ফয়জুর এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- চান মিয়া, জিয়ার, শাহ আলম, কাওছার, সুমন, রিফাত ও মোস্তফা। সাজাপ্রাপ্তরা সবাই এবং মামলার বাদীপক্ষ জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান- পূর্বের একটি বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গানবাজনার কথা বলে শাখাওয়াত ও সোহেল নামে দুই আসামি চাচা মহর আলী ও ভাতিজা স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নিয়ে দুজনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।এ ঘটনায় নিহত স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ২২ জনকে আসামি করে ওই বছরের ১৯ মে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত ওই রায় ঘোষণা করে।
২০ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলে তিন প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে খাদ্যে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহার, বাসি খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (১৭ আগস্ট) শহরের বড় কালীবাড়ি রোড ও পার্ক বাজারে অভিযান চালিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ওই জরিমানা আদায় করেন। অভিযানে বড় কালীবাড়ি রোডের গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে উৎপাদিত দইয়ের মেয়াদের তারিখ পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দই ও মিষ্টান্ন উৎপাদনের দায়ে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া শ্রীকৃষ্ণ নিরামিষ ভোজনালয়কে খাদ্যে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহার ও বাসি খাবার সংরক্ষণের দায়ে ২০ হাজার টাকা এবং আদি ইন্দুটি দই ঘরকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১৭ আগস্ট ২০২৬
হবিগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ শহরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জিএম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, একই সময়ে ও একই স্থানে পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণার কারণে সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জারি করা আদেশ অনুযায়ী হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ৫ (পাঁচ) বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, স্লোগান, পিকেটিং, উসকানিমূলক কার্যক্রম এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে- এমন সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২৯ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলে হেরোইন পাঁচারের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে হেরোইন পাঁচারের দায়ে হোসেন আলী(৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর একজনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার(২৭ জুলাই) টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ হাফিজুর রহমান ওই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত হোসেন আলীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো. হোসেন আলী সখীপুর উপজেলার কাহারতা গ্রামের রামখাঁ’র ছেলে এবং পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে হিরু মিয়া ওরফে হায়দারকে(৫৫)। তিনি সখীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাদশা মিয়ার ছেলে। টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলী (পিপি) শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, বিগত ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সখীপুরের কালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাছ থেকে হোসেন আলী ও হিরু মিয়াকে আটক করে। এ সময় হোসেন আলীর কাছ থেকে ৯০ গ্রাম এবং হিরু মিয়ার কাছ থেকে ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। পুলিশের অভিযানের সংবাদ পেয়ে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের আলহাজ মিয়া ও সুমী আক্তার পালিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। পরদিন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান বাদি হয়ে সখীপুর থানায় ওই দুইজনকে অভিযুক্ত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, বিগত ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ৯ ব্যক্তি সাক্ষ দেন। যাবজ্জীবন দণ্ডিত আসামি হোসেন আলী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পলাতক রয়েছেন। দণ্ডিত হিরু মিয়াকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
২৭ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলে দুটি হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে পৃথক দুটি হত্যা মামলার রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল জজ আদালত পৃথক দুটি মামলার রায়ে ওই দণ্ড ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে নাজিরুল ইসলাম জিহাদ এবং দেলদুয়ার উপজেলার বর্ণী গ্রামের সোহরাব হোসেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৮ জুন ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মেহেদী মোস্তফা রাজীবকে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান ওই মামলায় নাজিরুল ইসলাম জিহাদকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন। অন্যদিকে স্পেশাল জজ আদালত সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৫ মে দেলদুয়ার উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামে হাজেরা বেগম ও তাঁর মেয়ে নাসরিন আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেন স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দ্রনা। এ মামলায় সোহরাব হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল জজ আদালত পৃথক দুটি মামলার রায়ে ওই দণ্ড ঘোষণা করেন।
২২ জুলাই ২০২৬
মধুপুরে ৬টি অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ
মধুপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত করাতকলের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ। অভিযানে ৬টি অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ, একজনকে ৩ হাজার টাকা অর্থদ- এবং বিপুল পরিমাণ করাতকলের যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। সোমবার (২১ জুলাই) টাঙ্গাইল বন বিভাগের মধুপুর রেঞ্জের চাড়ালজানি বিট ও মহিষমারা বিট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন, মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নঈম উদ্দিন। টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ও মধুপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা রোকসানা জাহান, ডেপুটি রেঞ্জার সাইফুল ইসলাম, রেঞ্জার ফয়সাল হোসেনসহ বন বিভাগের বিভিন্ন বিটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযান চালানোকালে উপস্থিত ছিলেন। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মহিষমারা বিটের আওতায় কুড়ালিয়া ইউনিয়নের লাউফুলা বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং কেওটাই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে একাধিক করাতকল চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে ৬টি অবৈধ করাতকল চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে লাউফুলা বাজার এলাকায় পিন্টু ও হাসান আলীর মালিকানাধীন দুটি করাতকলসহ আরও কয়েকটি এবং কেওটাই এলাকায় পরিচালিত অবৈধ করাতকলগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে কেওটাই এলাকার মো. লিটন মিয়া অবৈধ করাতকল পরিচালনার দায় স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৩ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করেন। এ সময় করাতকল পরিচালনায় ব্যবহৃত ৫টি জেনারেটর চালিত ইঞ্জিন, করাতের চেইন, হুইল, প্লেটসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামাল বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে। টাঙ্গাইল বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার সাইফুল ইসলাম জানান, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ করাতকল পরিচালনার মাধ্যমে বনজ সম্পদ পাচার ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এসব অবৈধ কার্যক্রম রোধে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
২১ জুলাই ২০২৬
মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন
দৃষ্টি রিপোর্ট: দেশের অন্য নয়টি জেলার সাথে টাঙ্গাইলেও লিগ্যাল এইড আইনের সংশোধিত বিধান অনুযায়ী কতিপয় ক্ষেত্রে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ঢাকায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান টাঙ্গাইলসহ দেশের দশটি জেলায় একসঙ্গে ভার্চুয়ালী এই মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অন্য জেলাগুলো হচ্ছে- বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার ও পঞ্চগড়। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইলের চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার তানজিনা চৌধুরী। এ সময় টাঙ্গাইলের শিশু সংহিতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. মো. আব্দুল মজিদ (জেলা ও দায়রা জজ), ল্যান্ড সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোশাররফ হোসাইন (জেলা ও দায়রা জজ), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাবি্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াছ, টাঙ্গাইলের স্পেশাল মেডিয়েটর কে এম শহীদ আহাম্মেদ (সাবেক জেলা ও দায়রা জজ) এবং জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. মিনহাজ উদ্দিন ফরাজিসহ বিভিন্ন আদালতের বিচাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোনায়েম হোসেন খান আলমসহ লিগ্যাল এইডের তালিকাভুক্ত আইনজীবীরা এতে অংশ নেন। যে সকল বিষয়ে আদালতে মামলা করার আগে অবশ্যই লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতার জন্য যেতে হবে সেগুলো হচ্ছে- পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ, সম্পত্তি বন্টন, অগ্রক্রয় ও পিতা-মাতার ভরণপোষন সংক্রান্ত বিরোধ এবং যৌতুক সম্পর্কিত অভিযোগ। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী এসব বিষয়ে লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতা না হলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করা যাবে।
২১ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলে জাল টাকা লেনদেনের দায়ে এক আসামির ১০ বছর কারাদণ্ড
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে জাল বা নকল টাকা লেনদেন করায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ওয়াজ উদ্দিন নামে এক আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক(জেলা ও দায়রা জজ) মো. হাফিজুর রহমান ওই দণ্ডাদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি ওয়াজ উদ্দিন(৪৮) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুুর গ্রামের আছর উদ্দিনের ছেলে। টাঙ্গাইলের পিপি অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, বিগত ২০২১ সালের ২৭ জুন সকালে ওয়াজ উদ্দিন একটি দোকানে গিয়ে চারটি স্পিড (কোমল পানীয়) কিনে দোকানদারকে এক হাজার টাকার একটি নোট দেন। নোটটি দেখে জাল বা নকল মনে হলে দোকানদার উপস্থিত লোক জনকে দেখান। তারাও নোটটি জাল বলে সন্দেহ করেন। সঙ্গে সঙ্গে দেলদুয়ার থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে ওয়াজ উদ্দিনকে আটক করে। এ সময় তার দেহ তল্লাশী করে আরো চারটি এক হাজার টাকার জাল নোট পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দেলদুয়ার পশ্চিম পাড়া গ্রামের দোকানদার জয়েন উদ্দিন বাদি হয়ে দেলদুয়ার থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ প্রকাশ্য ও গোপনে তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২ মার্চ আসামি ওয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট জমা দেয়। টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক(জেলা ও দায়রা জজ) মো. হাফিজুর রহমান বিচার শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামি ওয়াজ উদ্দিনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেন। জনাকীর্ণ আদালতে রায় ঘোষণার সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, অ্যাডভোকেট মো. কামরুজ্জামান তরফদার(খোকন)।
১৩ জুলাই ২০২৬
সংঘবদ্ধ যৌননিগ্রহের দায়ে তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ যৌননিগ্রহের চাঞ্চল্যকর মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রধান আসামিকে আরও অতিরিক্ত ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রধান আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আনম ইলিয়াস জনাকীর্ণ আদালতে ওই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- জামালপুর সদর উপজেলার কটারবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে আ. রহিম, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কামারিয়া গ্রামের মৃত মুকছেদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি এবং একই এলাকার ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সামছুল হক সামছু। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের বিপুল অঙ্কের অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি আ. রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় (অপহরণ) ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ওই আইনের ৯(৩) ধারায় (সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বা যৌননিগ্রহ) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। প্রধান আসামির এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া অপরাধে সমানভাবে সহায়তাকারী অপর দুই আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছুকে যৌননিগ্রহের(ধর্ষণের) ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিলু মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, বিগত ২০২৩ সালের ২২ জুন আসামিরা ভুক্তভোগী ওই নারীকে বিয়ের পাত্র দেখানোর প্রলোভন দেখায়। এরপর তাকে জামালপুর থেকে কৌশলে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দোখলা বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন বনের ভেতর নিয়ে প্রথমে প্রধান আসামি আ. রহিম এবং পরবর্তীতে অপর দুই আসামি শফিকুল ও সামছুল ভুক্তভোগীর উপর সংঘবদ্ধভাবে যৌননিগ্রহ(ধর্ষণ করে) চালায়। এই নৃশংস ঘটনার পর ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মধুপুর থানার এসআই আব্দুস সাত্তার ঘটনার তদন্ত শেষে একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত মঙ্গলবার ওই রায় প্রদান করেন। রায়ের পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কঠোর নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিলু সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারী ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এটি সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি দৃষ্টান্তমূলক বার্তা দেবে। অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শাহানশাহ সিদ্দিকী মিন্টু। তিনি জানান, আসামিপক্ষ ন্যায় বিচার পাননি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।
০৭ জুলাই ২০২৬
জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
দৃষ্টি নিউজ: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এই মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রসিকিউশনের তদন্ত দল ইনুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু করে এবং একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। বিস্তারিত শুনানি নিয়ে গত বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
৩০ জুন ২০২৬
ভাতিজাকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে চাচার ফাঁসির আদেশ
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে পাঁচ বছর বয়সী ভাতিজা কেএম রাহেনুল ইসলাম আরাফকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর হত্যার দায়ে চাচা মো. নুরনবীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার(৩০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ ন ম ইলিয়াস এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি নুরনবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডিত মো. নুরনবী টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নব ধুলটিয়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের আতাউর রহমান ও মোছা. লুৎফা বেগমের ছেলে। নিহত শিশু আরাফ একই এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার রাসেলের ছেলে এবং মামলার বাদী মো. নাসির উদ্দিনের নাতি। মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর মুক্তিপণের দাবিতে গোপালপুরের গাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে শিশু কেএম রাহেনুল ইসলাম আরাফকে কয়েকজনের সহযোগিতায় অপহরণ করেন তার চাচা নুরনবী। অপহরণের পর মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর ১১ অক্টোবর তার দাদা মো. নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে নুরনবী আটক হওয়ার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক এলাকা থেকে আরাফের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত শেষে গোপালপুর থানার এসআই মামুন ভূঞা ২০২৫ সালের ২৭ মে আদালতে নুরনবীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। পরে নুরনবীকে কারাগারে পাঠানো হয়। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি ওমরাও খান দিপু জানান, শিশু আরাফকে হত্যার দায়ে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭ ধারায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে অপহরণের দায়ে তাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরাধের আলামত নষ্ট ও লাশ গুম করার অপরাধে পেনাল কোডের ২০১ ধারায় তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তিনি জানান, আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির ওপর আরোপিত এই অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ টাকা ভুক্তভোগী মৃত শিশুর (ডিসিস্ট) পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন। উক্ত আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক এই ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আসামি পক্ষের আইনজীবী মহসীন সিকদার জানান, হত্যাকান্ডের কোন প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই। এছাড়া আসামী নুরনবীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে না পাঠিয়ে তিন দিনে স্বীকারোক্তি আদায়ের পরে আদালতে পাঠায়। এ মামলায় উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।
৩০ জুন ২০২৬
শিশুপুত্র হত্যার দায়ে মায়ের ১৩ বছর কারাদন্ড
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে শিশুপুত্রকে হত্যার দায়ে মায়ের ১৩ বছর সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার(২৯ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ওই রায় ঘোষণা করেন। দন্ডিত মা আয়না বেগম(২৪) মির্জাপুর উপজেলার শিবপুর চন্দনপাড়া গ্রামের মো. জহিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে। টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলী (পিপি) শফিকুল ইসলাম ওরফে রিপন জানান, আয়না বেগম সন্তান জন্মের পর তার বাবার বাড়ি লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামে অবস্থান করছিলেন। বিগত ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে আয়না বেগমের স্বামী জহিরুল ইসলাম সংবাদ পান যে, তার ১৮ দিন বয়সের শিশুপুত্রকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ খবর পাওয়ার পর তিনি তার শশুর বাড়ি লাউহাটী গ্রামে যান। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শশুর বাড়ির পাশে খালের পানিতে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৮ দিনের শিশু রায়হানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে জহিরুল ইসলাম বাদি হয়ে তার স্ত্রী আয়না বেগমের বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, তদন্ত শেষে দেলদুয়ার থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মনোয়ার হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিগত ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রায় দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর আয়না বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি আরো জানান, রায়ে দন্ডিত আয়না বেগমকে তার শিশুপুত্র রায়হানকে হত্যার দায়ে ১০ বছর এবং মরদেহ গুম করার অভিযোগে ৩ বছরসহ ১৩ বছর কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
২৯ জুন ২০২৬
প্রতিবেশিকে হত্যার দায়ে বাবা-ছেলে সহ ৮ জনের যাবজ্জীবন
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে বাড়ির সীমানার বিরোধে প্রতিবেশি বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার দায়ে বাবা-ছেলে সহ একই পরিবারের ৭ জন এবং অপর এক সহযোগীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থদণ্ড অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদে অতিরিক্ত কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। রোববার (২৮ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন ওই রায় দেন। দণ্ডিত আসামিরা হচ্ছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছোট বিন্যাফৈর (চরপাড়া) গ্রামের দবির উদ্দিন(৬৫) এবং তার পাঁচ ছেলে রফিক মিয়া (৪৫), তোফাজ্জল হোসেন (৩৫), ময়দান আলী (৩৩), হাসেম আলী (৪২) ও আ. রহমান (৩৮), হাসেম আলীর স্ত্রী শিল্পী বেগম (৩২) এবং একই গ্রামের মৃত ইনছাদ আলীর ছেলে হযরত আলী (৫০)। আদালত সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছোট বিন্যাফৈর (চরপাড়া) গ্রামের মোহাম্মদ আলীর(৭০) বাড়ির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশি আসামিদের সাথে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে বিগত ২০২২ সালের ২৪ জুলাই সকালে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মোহাম্মদ আলীকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে এবং লোহার রড ও বাাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের কন্যা মর্জিনা আক্তার বাদি হয়ে ওইদিনই টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই মো. রেহানুল ইসলাম একই বছরের ৩০ নভেম্বর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। বিচার শেষে এজাহার নামীয় আটজন আসামিকেই যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি হাসেম আলী ব্যতিত অন্য সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আসামিদের টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ওই আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান স্বপন এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শামীমুল আক্তার শামীম।
২৯ জুন ২০২৬