অপরাধ

মির্জাপুরে পৈতৃক জমি বনাম দখলের লড়াই

মির্জাপুরে পৈতৃক জমি বনাম দখলের লড়াই

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৈতৃক জমি দখল ও মারধরের অভিযোগে আজগানা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. বাদল মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই ঘটনায় যুবদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জমির মালিকের ছেলেকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগে মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে।মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার কুড়িপাড়া মৌজার আরএস ৮১৩ ও ৮১৪ নম্বর দাগের ১২ শতাংশ জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। জমির দাবিদার তোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগ, জমিটি তার মা ওয়ারিশসূত্রে পেয়েছিলেন এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে এটি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে গত ১৯ জুন সকালে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বাদল মিয়া, তার দুই ভাই রিপন ও শিপন এবং ছেলে রাকিব হোসেন দলবল নিয়ে ওই জমিতে জোরপূর্বক বেড়া দেওয়ার চেষ্টা চালান।অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আবু কাউসার বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তোফাজ্জল হোসেন গত ১৭ আগস্ট টাঙ্গাইল আদালতে মামলা এবং ৩০ আগস্ট মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার পর থেকে বিবাদীরা তাদের লাগাতার হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও বাদী পক্ষের দাবি। এদিকে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালত নোটিশ জারি করেছেন। নোটিশে বিরোধপূর্ণ জমিতে যার যার দখলাবস্থা বজায় রেখে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কুড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ডালিমন বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগ করছে তোফাজ্জল। জমিটিতে বেড়া দেওয়াতে চলাচল করতে তাদেরও অসুবিধা হচ্ছে।আজগানা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার গোলাম মোস্তফা জানান, তোফাজ্জল জমিটি শুরু থেকেই দখলে আছেন। হঠাৎ করেই বিবাধীরা জমিটি দখল দেওয়ার চেষ্টা করছে।ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন জানান, ১২ শতাংশ জমিটি তারা যুগ যুগ ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ১৯৬২ সালে তার মায়ের নামে ওয়ারিশসূত্রে এসএ রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে বিএস রেকর্ডেও জমিটি তাদের নামে চূড়ান্তভাবে প্রচারিত হয়েছে। তারা যথারীতি নাম-খারিজ করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। সম্প্রতি যুবদল নেতা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমিটি নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন।তবে জমি দখলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. বাদল মিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে আনা জমি দখলের অভিযোগটি রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে ওই জমি দলিলমূলে তার দাদার সম্পত্তি এবং তার বাবা এই সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ। তারা কারও জমি দখল করতে যাননি বরং নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার ও সুরক্ষার জন্যই সেখানে বেড়া দিয়েছেন।টাঙ্গাইল জেলা যুব দলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব জাহিদ হোসেন মালা জানান, জেলা যুব দলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ দেশের বাইরে রয়েছেন। ওই ঘটনায় উভয়পক্ষই তার কাছে এসেছিলেন, কাগজপত্র দিয়ে গেছেন। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে- জেলা যুব দলের আহ্বায়ক দেশে এলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওই ঘটনায় তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে বাদল মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০৩ অক্টোবর ২০২৬

মির্জাপুরে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের অভিযোগ

মির্জাপুরে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের অভিযোগ

মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নে রাতের আঁধারে একটি দুর্গামন্দিরের চারটি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে জামুর্কী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় রাধা-গোবিন্দ মন্দিরসংলগ্ন আর্য্য সমিতির দুর্গামন্দিরে ওই ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রতিমাগুলোতে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ শেষ করে মণ্ডপটি ঢেকে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) সকালে মণ্ডপ পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখা যায়- দুর্গা প্রতিমার মাথা, গণেশ ও অসুরসহ মোট চারটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি-তদন্ত) মো. লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুজা কমিটির লোকজন রাত ১০ টার দিকে প্রতিমাগুলো অক্ষত অবস্থায় রেখে রাতে ঘুমাতে যায়। সকালে মন্দিরের পাশে ফুল তুলতে এসে স্থানীয় এক নারী প্রতিমাগুলোর মাথা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

০১ অক্টোবর ২০২৬

টাঙ্গাইলে দুই প্রতিষ্ঠানে ভোক্তার থাবা

টাঙ্গাইলে দুই প্রতিষ্ঠানে ভোক্তার থাবা

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও বাসি খাবার সংরক্ষণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের অপরাধে দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনী বাজারে টাঙ্গাইলের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে ওই অভিযান চালানো হয়।এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি করায় ‘জলযোগ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’কে ২০ হাজার টাকা এবং ফ্রিজে বাসি খাবার বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করায় ‘মুন্সির হোটেল’কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এবিষয়ে টাঙ্গাইলের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর সব সময় বাজার তদারকি করে থাকে। বৃহস্পতিবার দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

০১ অক্টোবর ২০২৬

তদন্ত কমিটি গঠন ও ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ

তদন্ত কমিটি গঠন ও ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের বাসাইলে এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জালিয়াতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সাথে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দে শনা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এলজিইডি’র ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরের supRB এর প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর ও টাঙ্গাইল এলজিইডি’র পক্ষ থেকে গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। মঙ্গলবার(২২ সেপ্টেম্বর) দিনভর প্রকল্প এলাকায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন ও অংশীজনদের মতামত-বক্তব্য গ্রহণ করেছে।এলজিইডি’র সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর কর্তৃক গঠিত ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাকিল হোসেন ও একই প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকিউল আলম। টাঙ্গাইল এলজিইডি কর্তক ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- টাঙ্গাইল এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. তৌহিদুর রহমান(আহ্বায়ক), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী ইফতেখার আহম্মেদ(সদস্য সচিব), টাঙ্গাইল এলজিইড ‘র সহকারী প্রকৌশলী সাকিব-উল-হাফিজ(সদস্য), উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান(সদস্য) ও ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. আলোব্বর হোসেন(সদস্য)। সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর) গঠিত তদন্ত কমিটি সমূহকে ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ‘বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া সড়কে ৯০.০৬ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজ’ নির্মাণ কাজ চলছে। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ যৌথভাবে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মো. ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেভি)’।অভিযোগ উঠেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলা প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে না জানিয়ে অন্ধকারে তড়িঘড়ি করে ব্রিজের Wheel Guard এর স্ল্যাব ঢালাই কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ঢালাইয়ের ভেতর রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী ফাত্তাউর রহমান ব্রিজের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে শো’কজ করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এই অনিয়মের খবর গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে অবহিত না করে রাতের অন্ধকারে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত।নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পত্র প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে ওই ত্রুটিপূর্ণ ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ঢালাই ভেঙে সাইট থেকে অপসারণ করতে হবে। পরবর্তীতে ল্যাবে পরীক্ষা করে মালামালের গুণগতমান নিশ্চিত পূর্বক উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নিয়ম মোতাবেক পুনরায় ঢালাই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ঠিকাদারি চুক্তি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন বিভাগের ১২ একর জমি দখলের অভিযোগ

বন বিভাগের ১২ একর জমি দখলের অভিযোগ

দৃষ্টি রিপোর্ট:প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সুশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুর্নীতির এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুল। বিভাগীয় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য ও বিত্তবানদের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে গত এক দশকে তিনি কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এছাড়া বন বিভাগের প্রায় ১২ একর জমি দখল করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ধলিপাড়া এলাকার সাবেক ফরেস্টগার্ড মৃত ছামান আলীর ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুল নিজ এলাকায় বন বিভাগের প্রায় ১২ একর শাল বন জবরদখল করেছেন। দামি দামি গজারি গাছ কেটে সরকারি বনের সেই জমিতেই গড়ে তুলেছেন মাল্টা বাগান, গরুর খামার ও একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন। মাল্টা বাগানটি আবার লিজ দিয়েছেন স্থানীয় সাইফুল ইসলামকে। শিক্ষা প্রশাসনে নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নূর মোহাম্মদ গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী পাবনা সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা শবনম। ঢাকা ও পাবনা- এই দুই অঞ্চলের শিক্ষা প্রশাসনকে কার্যত জিম্মি করে রেখেছেন এই দুই কর্মকর্তা।অভিযোগ রয়েছে- সাধারণ শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, নিয়মবহির্ভূত পদায়ন এবং অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। বদলি ও পদোন্নতির ফাঁদে ফেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে এই সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছে।অনুসন্ধানে নূর মোহাম্মদের বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সখীপুর পৌরসভায় একাধিক বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি, অভিজাত ফ্ল্যাট ও নামীদামি ব্র্যান্ডের গাড়ির মালিক বনে গেছেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের ও বেনামে জমা রয়েছে কোটি কোটি টাকা। একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয় দিয়ে এত অল্প সময়ে কীভাবে এই পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হওয়া সম্ভব- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ শিক্ষা অধিদপ্তরের সৎ কর্মকর্তারা।এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরও ভয়ংকর অভিযোগ রয়েছে। নূর মোহাম্মদ ও শাহিদা শবনম সুকৌশলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের অনৈতিক ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিং করতেন। পরবর্তীতে সম্মানহানি ও মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে এই চক্র।লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন অনেকেই মুখ না খুললেও, সম্প্রতি তাদের এই বেপরোয়া অপকর্মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ভুক্তভোগী কতিপয় ব্যক্তি এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। ওই শিক্ষা কর্মকর্তা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় থাকলেও নির্বিকার প্রশাসন। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পার পেয়ে যাচ্ছেন তারা। তদন্ত থমকে যাওয়া কিংবা ধামাচাপা পড়ার কারণে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।এদিকে নুর মোহাম্মদ ওরফে বাবুলের মাল্টা বাগান লিজ নেওয়া সাইফুল ইসলাম জানান, আটিয়া বন অধ্যাদেশের কারণে জমির কাগজপত্রে জটিলতা রয়েছে। এ কারণে ভূমি অফিস খাজনা নিচ্ছেনা এবং এজন্যই ওই জমির উপর ব্যাংক ঋণও দিচ্ছেনা।সরেজমিনে নানাজনের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুলের সাক্ষাত না পেয়ে তার মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।কালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জামাল মিয়া জানান- নুর মোহাম্মদ নামে নয়, এলাকায় তিনি বাবুল হিসেবে পরিচিত। এলাকায় তাকে ভালো মানুষ হিসেবেই জানে। তবে বনের জায়গা দখলের বিষয়ে তিনি জানান, এতদাঞ্চলের সবারই ‘আটিয়া বন অধ্যাদেশ’র কারণে খাজনা-খারিজ(নামজারি) করতে পারছেনা।টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব জানান, বনের জয়গা জবরদখল করার এখতিয়ার কারো নেই। যদি জবরদখলের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে প্রকাশ্যে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইলে প্রকাশ্যে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

দৃষ্টি রিপোর্ট:ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দরুণ এলাকার পরিত্যক্ত একটি ফিলিং স্টেশনে রোববার(২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছুরমান রেজা নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ছুরমান রেজা সদর উপজেলার ভাটচান্দা গ্রামের হানিফ রেজার ছেলে ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য। এ বিষয়ে ছুরমান রেজার ভাই হালিম রেজা জানান, তিনি ব্যবসার পাশাপাশি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কি থেকে কি হলো কিছুই বুঝতে পারছেন না। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্বৃত্তদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মূল রহস্য জানানো যাবে।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলায় গ্রেপ্তার ১

মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলায় গ্রেপ্তার ১

মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলা চালিয়ে তিন কর্মচারীকে মারধর করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত হৃদয় খান ওরফে সেকেন্দার (২৪) উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কাবেল মিয়ার ছেলে।স্থানীয়রা জানায়, একটি ট্রাক হাটুভাঙ্গা সেতু পার হওয়ার সময় চালক টোল পরিশোধের জন্য এক হাজার টাকার নোট দেন। ওই নোটের ভাংতি দিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় চালক ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাকটি রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় টোল আদায়ের কর্মচারীরা ট্রাকটি সরিয়ে নিতে বললে চালক ও হেলপার তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা টোলকর্মীদের মারধর করেন। পরে ওই চালক আরও কয়েকজনকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে এসে টোল আদায়ের কর্মচারীদের ওপর হামলা চালান।এ সময় টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমানের স্ত্রীর বোন হামলা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানির করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমানের স্ত্রী মোছা. ফারহানা বেগম বাদী হয়ে শনিবার রাতে মির্জাপুর থানায় দুই জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।মামলায় অভিযুক্ত লাভলু ওরফে লখাইয়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর ট্রাকের চালক টোল দিতে এক হাজার টাকার নোট দিলে টোলপ্লাজার কর্মীরা ৯০০ টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাঁর চালক ও হেলপারকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।হাটুভাঙ্গা টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমান জানান, একটি কুচক্রী মহল হাটুভাঙা সেতুর টোল আদায় বন্ধ করতে নানা ধরনের পাঁয়তারা করছে। হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেও দাবি করেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাশেদ ফজল জানান, ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হৃদয় খান ওরফে সেকেন্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহাসড়কে চালককে জিম্মি করে মাইক্রোবাস ছিনতাইয়ের চেষ্টা

মহাসড়কে চালককে জিম্মি করে মাইক্রোবাস ছিনতাইয়ের চেষ্টা

দৃষ্টি রিপোর্ট:যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে চালককে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাইক্রোবাস নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে ডাকাত দল। এসময় হাইওয়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায় ডাকাত দলের সদস্যরা। পরে গাড়ি থেকে দুটি রামদা ও শাবলযুক্ত একটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, একটি মাইক্রোবাস গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হয়। চালক খোরশেদকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে গাড়িটি রিজার্ভ করা হয়। পরে চন্দ্রাসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যায়ক্রমে ৫ থেকে ৭ জন ব্যক্তি গাড়িতে ওঠেন।চালকের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কিছুদূর যাওয়ার পর ওই ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে তাদের নির্দেশ অনুযায়ী গাড়ি চালাতে বলেন। একপর্যায়ে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে প্রায় ২০০ গজ পূর্বে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা গাড়িটিকে দেখতে পান। পুলিশ দেখে চালক ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করে সাহায্য চান। এসময় হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত গাড়িটির দিকে এগিয়ে গেলে গাড়িতে থাকা ৫ থেকে ৭ জন ব্যক্তি নেমে বিভিন্ন দিকে দৌঁড়ে পালিয়ে যান। পরে চালক খোরশেদকে উদ্ধার করে পুলিশ। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি রামদা ও শাবলযুক্ত একটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়।এ ব্যাপারে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র, মাইক্রোবাস ও চালককে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাতেই কালিহাতী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তিন বছরের ছেলে খুন

মায়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তিন বছরের ছেলে খুন

সখীপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের সখীপুরে মায়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে আশরাফুল ইসলাম নামে তিন বছরের এক শিশুকে খুন হয়েছে। এ ঘটনায় তার ৯ বছরের বোন সিরজাতুন গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার(১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের খালিয়ারবাইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল ইসলাম ওই এলাকার শাহীন আলমের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধু আকলিমা আক্তার ঘরে থাকা কেক কাটার একটি ধারালো ছুরি দিয়ে তার দুই সন্তানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে শিশু আশরাফুল ও সিরজাতুন গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। তাদের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দুই শিশুকে পাশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সিরজাতুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই ‘জুলাই যোদ্ধা’ গ্রেপ্তার

৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই ‘জুলাই যোদ্ধা’ গ্রেপ্তার

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা থেকে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই ‌‘জুলাই যোদ্ধাকে’ গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-দক্ষিণ)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়। এরআগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন, ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিতুলিয়াপাড়ার আজাহার আলীর ছেলে জুলাই যোদ্ধা হাছান আলী (৩৭) এবং একই উপজেলার শালদাইর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মাহমুদুল হাসান (৩৪)। তারা দুজনই উপজেলা আহত জুলাই যোদ্ধা সমিতির নেতা। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে মোট ৩০০ পিস ইয়াবা জব্দ করে পুলিশ।জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-দক্ষিণ) উপ-পরিদর্শক(এসআই) রাইজ উদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত দুই জুলাই যোদ্ধাকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, এসব ইয়াবা তারা গাবসারা থেকে নিয়ে এসে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বিক্রির জন্য ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। একই সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের তৎপরতা, মাদক, জমি দখল এবং আবাসিক হোটেলগুলোতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত একটি ফ্যাসিস্ট সরকার এই রাষ্ট্রটি ভোগদখল করে রেখেছিল। তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, জনগণের ওপর জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যাপক দুর্নীতি করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। সেই অন্ধকার অবস্থা থেকে আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার গঠিত হয়েছে। দেশের এই নতুন পরিস্থিতিতে আমাদের আন্তরিকতা ও চেষ্টার কোনো কমতি নেই। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রশাসনের সকলে মিলে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে।ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে আমাদের আলাদাভাবে নজরদারি রাখতে হবে। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের অনেকে বর্তমানে ঢাকা সিটিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তারা যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে।’রাজধানী ও আশপাশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে এখন একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন এবং জেলা সিভিল সার্জন। এছাড়া বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।মাদক ও জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামি তিন মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রের চাকরি করেন। তাই রাষ্ট্রকে কীভাবে আরও ভালো রাখা যায়, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই প্রশাসনের সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত।’

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালোবাজারে পাচারকালে ৩৯৫ বস্তা সারসহ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

কালোবাজারে পাচারকালে ৩৯৫ বস্তা সারসহ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

মধুপুর প্রতিনিধি:কালোবাজারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া ৩৯৫ বস্তা সারসহ মিঠু নামে এক ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সার ও ট্রাক জব্দ করে মধুপুর থানায় রাখা হয়েছে। জব্দকৃত সারের আনুমানিক মূল্য চার লাখ ৩৯ হাজার ৪৫০ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার মেসার্স মেজবাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ১২৭ বস্তা টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও ২৬৮ বস্তা এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার শুক্রবার(৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পাচার করছিলেন। খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার জলছত্র এলাকা থেকে সারসহ ট্রাকটি আটক করে। এ সময় ট্রাকচালক মিঠু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে।কালোবাজারে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যরা হচ্ছেন- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকার মো. আবু ইসহাকের ছেলে মো. আসাদুজ্জামান এবং মো. রুবেল মিয়া নামে এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন। আসাদুজ্জামান মেসার্স মা-বাবা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। ওই ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক(এসআই) বিমলচন্দ্র পাইন বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি-তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রাক ও সার জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে চালক মিঠুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সার পাচারে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালিহাতীতে ঘুষ নিয়ে সাজানো হয় মাদকের নাটক!

কালিহাতীতে ঘুষ নিয়ে সাজানো হয় মাদকের নাটক!

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে তল্লাশির নামে ৬৫ বছরের প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্য রাস্তায় চড়-থাপ্পড় মেরে থানায় নিয়ে নির্যাতন, পকেট থেকে টাকা ছিনতাই এবং পরিবারের কাছ থেকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ আদায়ের এক লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত এসআই মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বর্তমানে কালিহাতী থানার বল্লা ইউনিয়ন বিটের দায়িত্বে রয়েছেন। এই অন্যায়ের প্রতিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী আ. ছালামের অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট বিকালে বল্লা বাজারের মেইন রোডে দাঁড়িয়ে ছিলেন বল্লা চকপাড়া গ্রামের মৃত লেবু মিয়ার ছেলে প্রতিবন্ধী আ. ছালাম। এ সময় এসআই আসাদুজ্জামান অপর এক পুলিশ সদস্যসহ মোটরসাইকেলে এসে তাকে তল্লাশি করতে চান। ছালাম নিজের কাছে অবৈধ কিছু নেই বলা মাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন ওই এসআই। পরে হাতকড়া পরিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানার দোতলায় আটকে রেখে তাকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ বানানোর জন্য চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। এক পর্যায়ে নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে প্রতিবন্ধী আ. ছালাম নিজের কাছে ‘২ পুরিয়া গাঁজা’ থাকার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। স্বীকারোক্তি আদায়ের পর এসআই আসাদুজ্জামান প্রথমে ছালামের পকেটে থাকা ১৯ হাজার ৫০০ টাকা কেরে নেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার অসহায় পরিবারের কাছ থেকে আরও ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু মোট ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ পকেটে ভরেও শেষ রক্ষা হয়নি ওই প্রতিবন্ধীর। ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং নিজের পিঠ বাঁচাতে পরদিন ৩ আগস্ট তাকে এসিল্যান্ড অফিসে হাজির করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের সাজা দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৫ দিন কারাভোগের পর গত ১৮ আগস্ট মুক্তি পেয়েই এই আইনি লড়াইয়ে নামেন তিনি।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআই আসাদুজ্জামান বল্লা ইউনিয়ন বিটের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় সাধারণ মানুষকে নানাভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছেন। তার এই লাগামহীন হয়রানিতে বল্লা এলাকায় তীব্র গণরোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্ত এই পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।এ বিষয়ে প্রতিবন্ধী আ. ছালামের দেওয়া অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার(কালিহাতী সার্কেল) মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটির বিষয়ে তিনি সাক্ষ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন। তিনি যথাসময়ে পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবেন।

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাসাইলে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত বাড়িতে ১০ ঘোড়া জবাই

বাসাইলে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত বাড়িতে ১০ ঘোড়া জবাই

বাসাইল প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা সদরের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে ১০টি ঘোড়া দুর্র্বৃত্তরা জবাই করে ৭টির মাংস নিয়ে গেছে এবং ৩টি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে গেছে। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার(৩০ আগস্ট) ভোরে বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী এলাকার পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী এলাকার পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ১০টি ঘোড়া জবাই করে। এসময় ৭টি ঘোড়ার মাংস নিতে পারলেও তিনটি জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস নিতে পারেনি। সকালে স্থানীয়রা তিনটি জবাই করা ঘোড়া ও ৭টি ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুড়ি পড়ে থাকতে দেখতে পায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।ধারণা করা হচ্ছে- অন্য জায়গা থেকে ঘোড়া নিয়ে এসে এই নির্জন পরিত্যক্ত জায়গায় মাংস বিক্রির জন্য জবাই করা হয়েছে। ভোর হওয়ার কারণে ৭টি ঘোড়ার মাংস নিতে পারলেও তিনটি জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস নিতে পারেনি।স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ মিয়া জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দেখতে যান। ওখানে ১০টি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে। এরমধ্যে ৭টির মাংস নিয়ে গেছে আর তিনটি রেখে গেছে। তারা হয়তো কোন হোটেলে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে গেছে। এরআগেও উপজেলার নাইকানীবাড়ী ও গাজীর ভাঙ্গা এলাকায় ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া ফেলে গিয়েছিল।বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আলমগীর কবির জানান, পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে ১০টি ঘোড়া জবাই করেছে দুর্বৃত্তরা। রাত ১টা থেকে ৪টার মধ্যে ঘোড়াগুলো জবাই করা হয়েছে। ভোর হয়ে যাওয়ায় ৭টি ঘোড়ার মাংস নিয়ে তিনটি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে রেখে চলে গেছে।বাসাইল পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ৩টি জবাইকৃত ঘোড়াসহ ৭টির মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুড়ি সেখান থেকে এনে অন্যত্র পুতে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিস্কার করা হয়েছে।

৩০ আগস্ট ২০২৬

মাদকাসক্ত ছেলের হাতে ভ্যান চালক বাবা খুন

মাদকাসক্ত ছেলের হাতে ভ্যান চালক বাবা খুন

নাগরপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে ভ্যান চালক বাবা আব্দুর রহিম ভূইয়া(৫৫) খুন হয়েছেন। ছেলেকে টাকা দিতে দেরি হওয়ায় শীলপাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ওই উপজেলার বেকড়া আটগ্রাম ইউনিয়নের কোনাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, রোববার সকালে ভ্যানচালক আব্দুর রহিম ভূইয়া নিজের ঘরে ভাত খেতে বসেন। এসময় মাদকাসক্ত ছেলে মোস্তফা ভূইয়া(২০) বাবার কাছে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং এক পর্যায়ে ঘরে থাকা শীলপাথর দিয়ে বাবার মাথায় জোরে আঘাত করেন। এতে বাবা আব্দুর রহিম মাটিতে লুটিয়ে পরেন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত মোস্তফা একজন মাদকাসক্ত। তিনি কিছুদিন আগে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে অমানষিক নির্যাতন করছিলেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেছেন।নিহতের স্ত্রী শিরিন বেগম ও বড় মেয়ে সালমা জানান, মোস্তফা একজন মানষিক ভারসম্যহীন। মাঝেমধ্যেই বাড়িতে পাগলামী করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কদ্দুস জানান, অভিযুক্ত মোস্তফা একজন মাদকাসক্ত। টাকা-পয়সা নিয়ে বাবার সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে।নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহুরুল ইসলাম জানান, হত্যার পর ছেলে মোস্তফা ভূইয়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে ভাইকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

৩০ আগস্ট ২০২৬

শান্তিতে ঘুমানোর দাবিতে দেউপাড়ায় মানববন্ধন ও গণবিক্ষোভ

শান্তিতে ঘুমানোর দাবিতে দেউপাড়ায় মানববন্ধন ও গণবিক্ষোভ

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল-ধলাপাড়া সড়কের ঘাটাইল উপজেলার দেউপাড়া ইউনিয়নের কেরানীবাড়ী চৌরাস্তায় গণবিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে মাদকের বিস্তার ও চুরি রোধ এবং রাতে শান্তিতে ঘুমানোর দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়।গণবিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন, ঘাটাইল উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও দেউপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মো. জুয়েল রানা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুল্লাহ আলামিন, দেউপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা, স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য হযরত আলী, ওয়ার্ড যুব দলের সাধারণ সম্পাদক খোকন সিকদার, বিএনপি কর্মী মিয়া চান, আক্তার হোসেন, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেউপাড়া ইউনিয়নে বিশেষ করে কালিকাপুর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের দৌড়াত্মে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা করছে। স্থানীয় যুবক-কিশোররা ওই মাদক সেবন করে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকের অবাধ বিস্তারের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রায়ই চুরি হওয়ার কারণে এলাকার মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছেনা- এলাকাবাসী শান্তিতে ঘুমাতে চায়।বক্তারা আরো বলেন, মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষে হাছান মিয়া ঘাটাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী দুই চোরকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক ব্যবসায়ী ও চোর সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের নাম প্রকাশ করে দিয়েছে। তার পরও মাদক প্রতিরোধে পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বক্তারা অনতিবিলম্বে মাদক ও চুরি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।গণবিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্থানীয় চার শতাধিক নারী-পুরুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা অংশ নেয়। পরে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি সম্বলিত ‘গণস্বাক্ষর’ আবেদনপত্রে এলাকাবাসীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

২৯ আগস্ট ২০২৬

চাঁদাবাজদের আতঙ্কে জুট মিল ম্যানেজারের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়!

চাঁদাবাজদের আতঙ্কে জুট মিল ম্যানেজারের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়!

বুলবুল মল্লিক:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে চাঁদা না পেয়ে পাটকলের ম্যানেজারকে হুমকি দেওয়ার পর আতঙ্কে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভূঞাপুর থানাধীন সারপলশিয়া মৌজায় অবস্থিত ‘ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ কোম্পানিতে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিলের সুপারভাইজার মো. আক্তার হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করলেও পুলিশ কেবল চাঁদাবাজির ধারায় তা রেকর্ড করেছে। আসামিদের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে ম্যানেজারের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা তো নেওয়া হয়ইনি, উল্টো ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করতে দিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।সরেজমিনে মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূঞাপুরের সারপলশিয়া এলাকায় ২০১৮ সালে উৎপাদনে আসা ‘ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ নামক জুট মিলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. সাজিদুর রহমান ওরফে শাহজাহান(৫৫)। তিনি ওই উপজেলার ভারই গ্রামের সাবেক পোষ্টমাষ্টার মৃত হাসান আলীর ছেলে। বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় পাথাইলকান্দি গ্রামের আসলামের ছেলে ওয়ারেস(২৫), সারপলসিয়া গ্রামের বাছেদের ছেলে মো. শামীম (৩০) এবং পাথাইলকান্দি গ্রামের মৃত আ. হাই তালুকদারের ছেলে মো. লিখন(৩০) মিলের ম্যানেজারের নিকট বিভিন্ন সময়ে সরাসরি এবং মোবাইল ফোনে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হুমকি দিয়ে আসছিল।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ আগস্ট (শনিবার) সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা তাদের দলবল নিয়ে মিলে ঢুকে ম্যানেজারের সাথে চরম অসদাচরণ করে এবং ২৪ আগস্টের মধ্যে চাঁদা না দিলে ম্যানেজারকে হত্যা করে লাশ গুম করার আল্টিমেটাম দেয়। সে সময় মিলের সুপারভাইজার আক্তার হোসেন, প্রোডাকশন ম্যানেজার মো. রমজান আলী, হিসাব রক্ষক মো. ইয়াসিন আরাফাতসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা তাদের চলে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তারা চলে যায়নি। ফলে চাঁদাবাজদের অব্যাহত হুমকিতে ম্যানেজার সাজিদুর রহমান চরম ভীতসন্তপ্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে গত ২৪ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে অভিযুক্ত চাঁদাবাজরা মোটরসাইকেল যোগে পুনরায় মিলে ঢুকে ম্যানেজারকে খুঁজতে থাকে। এই খবর পেয়ে পূর্বের হুমকিতে আতঙ্কিত থাকা ম্যানেজার সাজিদুর রহমান ওরফে শাহজাহান তীব্র মানসিক আঘাতে মিলের ভেতরেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ম্যানেজারের এই রহস্যজনক ও আকস্মিক মৃত্যুর পর পুলিশ কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করার অনুমতি দেয়।স্থানীয় কয়েকব্যক্তি জানায়, এলাকার বালু ব্যবসায়ীরা জায়গা ভাড়া নিয়ে ট্রাক যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করেছে। জুট মিলের ট্রাক ওই রাস্তা বিনাভাড়ায় ব্যবহার করে থাকে- সেই বিষয়েই ওয়ারেস, শামীম, লিখন সহ কয়েকজন মিলে গিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছেন।মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের বেশিরভাগ মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, ময়নাতদন্ত না করিয়ে পুলিশ প্রকারান্তরে চাঁদাবাজদের আড়াল করার এবং মৃত্যুর ঘটনার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।মিলের সহকারী প্রোডাকশন ইনচার্জ ফরিদুল ইসলাম ও ফেরদৌস ওয়াহিদ সহ সাধারণ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ওয়ারেস, শামীম, লিখনদের সরাসরি হুমকির কারণেই ম্যানেজার স্ট্রোক করে মারা গেছেন। অথচ পুলিশ মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল ও গুরুতর বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়ে কেবল চাঁদাবাজির সাধারণ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে।মামলার বাদী ও মিলের সুপারভাইজার আক্তার হোসেন জানান, ২০১৮ সালের আগে স্থাপিত জুট মিলটিতে প্রায় ৫০০ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করছে। এ পর্যন্ত কোনোপ্রকার কথা হয়নি। হঠাৎ করেই ওয়ারেস, শামীম, লিখন সহ ৫-৬ ব্যক্তি চাঁদা আদায়ে উঠেপড়ে লাগে। ম্যানেজার চাঁদাবাজদের চাপ সহ্য করতে না পেরে আতঙ্কিত হয়ে মিলেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মামলার এজাহারে সে কথা উল্লেখ থাকার পরও পুলিশ সাধারণ চাঁদাবাজির ধারায় মামলা(নং-২০, তাং-২৬/৮/২৬ইং, ধারা-১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৮৫/৫০৬ পেনাল কোড) রেকর্ড করা করেছে। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত হওয়া একজন মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও পুলিশ তা না করে মরদেহ দাফন করার অনুমতি দিয়ে অন্যায় করেছে।নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল জানান, জুট মিলের ম্যানেজার অসুস্থ ছিলেন এবং তিনি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। ওখানে পাওনা টাকা নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়েছে- চাঁদাবাজির কোনো বিষয় আছে বলে তিনি জানেন না।ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, জুট মিলের ঘটনায় চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্ট্রোক করে ম্যানেজারের মৃত্যু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চাঁদাদাবিকারীদের সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি জানান, যেহেতু স্ট্রোক করে ম্যানেজারের মৃত্যু হয়েছে, তাই পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত করতে দেয়নি। মরদেহ পারিবারিকভাবে ধর্মীয় রীতিতে দাফন করা হয়েছে।

২৯ আগস্ট ২০২৬

পিকআপভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনায় ফেলার সময় চালক আটক

পিকআপভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনায় ফেলার সময় চালক আটক

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পিকআপভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় কোটি টাকার সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলতে গিয়ে চালক আজমতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। বুধবার (২৬ আগস্ট) মধ্যরাতে উপজেলার গোবিন্দাসী টি রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দিনগত মধ্যরাতে একটি মালবোঝাই পিকআপ গোবিন্দাসীর টি রোডের কালা সড়ক ধরে যুমনা নদীর দিকে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছিল। ওষুধগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার প্রস্তুতিকালে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। এসময় চালক আজমত আটক হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক পিকআপ ও চালককে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।আটক পিকআপ চলক ও মালিক আজমতের দাবি, পিকআপ ভর্তি ওষুধগুলো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা সরকারি হাসপাতালের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলে দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এরআগেও ঘাটাইলের বনাঞ্চলের গভীরে নিয়ে হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো ফেলে দিয়েছিলেন। এবারও একইভাবে ওষুধগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল ওষুধগুলো তাদের হাসপাতালের বলে স্বীকার করেছেন এবং এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, জনগণ ওষুধ ও পিকআপ আটক করেছে। পরে পুলিশে সোপর্দ করলে থানায় নিয়ে আসা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

২৭ আগস্ট ২০২৬

নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটি চাপা

নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটি চাপা

নাগরপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মুক্তিপন না পেয়ে শামিম (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘাতকের বাড়ির পাশে মাটি চাপা দেওয়া মরদেহ পুলিশ মঙ্গলবার(২৫ আগস্ট) সকালে উদ্বার করেছে। নিহত নাগরপুর উপজেলার শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের (সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) শেষ বর্ষের ছাত্র। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে অনিককে(২৮) গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছ থেকে হত্যাকান্ডের শিকার কলেজ ছাত্র শামিমের সেলফোন উদ্বার ও তার তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্বার করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ আগস্ট(শুক্রবার) বিকালে শামিম নিখোঁজ হন। নিখোঁজের ২ দিন পর ২৩ আগস্ট নিহতের বাবা বিল্লাল মল্লিক নাগরপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ২১ আগস্ট বিকালে ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে অনিক মোবাইল ফোনে শামিমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামিম নিখোঁজ হয়। অবশেষে শামিমের বাবা নাগরপুর থানায় সাধারণ ডাইরী করেন। শামিমের কল লিষ্টের সূত্র ধরে সোমবার (২৪ আগষ্ট) রাতে অনিককে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার বাড়ির পাশে মাটি চাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করে। পুলিশ তার (অনিকের) বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে তার দেওয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে শামিমের বস্তাবন্দি অর্র্ধগলিত মরদেহটি উদ্বার করে।এ প্রসঙ্গে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্বার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনিক নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনিক একজন মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারী। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

২৫ আগস্ট ২০২৬