কৃষি

টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্স মেলা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্স মেলা অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:‘টাকা আসে, ভবিষ্যৎ গড়ে’- স্লোগানে টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্স মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ওই মেলার আয়োজন করা হয়। ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন, প্রধান অতিথি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।ব্যুরো বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।বক্তারা বলেন, রেমিট্যান্স কেবল একটি পরিবারের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যই নিশ্চিত করে না বরং এর সঠিক ও পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের সুন্দর, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।মেলায় বিভিন্ন সংস্থার প্রায় অর্ধশত স্টল অংশ নেয়। এসব স্টলে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারা তাঁদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করেন। মেলায় প্রবাসী পরিবারের সদস্য, স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা ও যুবসমাজের উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করার মতো।

১৫ অক্টোবর ২০২৬

সখীপুরে ধানক্ষেত থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

সখীপুরে ধানক্ষেত থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

সখীপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের সখীপুরে দ্বিতীয় স্ত্রীর (তালাকপ্রাপ্ত) বাড়ির পাশের ধানক্ষেত থেকে দুলু মিয়া(৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের চটানপাড়া মগার মার্কেট এলাকার ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি পুলিশ উদ্ধার করে। নিহত দুলু মিয়া ওই গ্রামের মৃত কাঞ্জু মিয়ার ছেলে। তিনি বড়চওনা রফিকরাজু স্কুলের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।স্থানীয়রা জানায়, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশের ধানক্ষেতের কাছে দুলু মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।দুলু মিয়ার প্রথম স্ত্রী আসমা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তালাক হলেও ওই বাড়িতে দুলু মিয়ার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আমরা বার বার বলেও তাঁকে ফেরাতে পারিনি। ওরাই আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে।অন্যদিকে, দুলু মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী জরিনা বেগম জানান, তালাকের পর দুলু মিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন।নিহতের ছেলে আজহার মিয়া জানান, তাঁর বাবা দুলু মিয়া গত রাতে দোকানে চা পান করে বাড়িতে ফেরেন। পরে আবার বাইরে বের হন। এরপর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তাঁর বাবার মরদেহ ধানক্ষেতের পাশে ‘আইল’ এ পড়ে থাকতে দেখেন।সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

১৪ অক্টোবর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের অনিয়মে কোনো ছাড় নয় : প্রতিমন্ত্রী টুকু

ফ্যামিলি কার্ডের অনিয়মে কোনো ছাড় নয় : প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট:মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড পর্যায়ক্রমে সবাই পাবেন। এ কার্ড বিতরণে কেউ কোনো অনিয়ম করার চেষ্টা করলে তা আমাদেরকে জানাবেন। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিত করা হবে। কাজেই কাউকে দৌঁড়াদৌঁড়ি বা তদবির করার প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।তিনি বলেন, আমরা বিএনপি যখন যা বলি, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, ফ্যামিলি কার্ড দেব। আজকে সেটির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলো। কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম, টাঙ্গাইল থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটির উদ্বোধন করেছেন। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। মন্দিরের পুরোহিতদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাত মাসে এই সরকার নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করে যাচ্ছে।নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কেউ কেউ বেহেশতের টিকিট পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। এ ব্যাপারেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা কাউকে মিথ্যা আশ্বাস দিই না। টাঙ্গাইলের উন্নয়নে আমি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা হবে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক সহযোগিতা করবে প্রশাসন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শহীদুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আদিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হক সানু, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া।পরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া চালের ডিও বিতরণ করা হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের পূজামণ্ডপের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে দেওয়া আর্থিক অনুদান বিতরণ কার্যক্রমেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপি সহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

১৪ অক্টোবর ২০২৬

হঠাৎ ঝাপটায় শ’ শ’ কৃষকের স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড

হঠাৎ ঝাপটায় শ’ শ’ কৃষকের স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড

মধুপুর প্রতিনিধি:চাঁদের হাসি মেখে উঁকি দিচ্ছিল কলার কাঁদি, আনারসের বাগানেও ফুল বের হচ্ছে, পেঁপে ও সবজি বাগানেও ছিল আশানুরূপ ফলন। ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকরা। স্বপ্ন দেখছিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর। অসময়ে হঠাৎ ঝড়ের ঝাপটায় স্থানীয় শ’ শ’ কৃষকের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। কোথাও সারি সারি কলাগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস ও পেঁপের বাগান। ঝড়ে সবজি ক্ষেতেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে মাত্র কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে প্রায় ১১শ’ বিঘা জমির বিভিন্ন জাতের ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে। আকস্মিক ঝড়ের ওই থাবায় কৃষকের সেই স্বপ্ন লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে।ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল অরনখোলা, শোলাকুড়ী ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নে হঠাৎ ঝড়ের ঝাপটা শুরু হয়। আকস্মিক মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ের থাবায় বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের ফসল লন্ডভণ্ড হয়ে যায়- একই সঙ্গে কপাল পুড়ে শ’ শ’ কৃষকের।স্থানীয় কৃষকরা জানায়, তাৎক্ষণিক ঝড়ের তীব্রতায় অধিকাংশ কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে। ফলন্ত কলাগাছ উপড়ে বা হেলে পড়ায় তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পেঁপের বাগানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সবজি বাগানও ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক ধারদেনা করে বাগানে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে ঝড়ের এই ক্ষয়ক্ষতি তাদের আর্থিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিবে।হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম বলেন, ‘জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে বিনিয়োগ করেছি। অনেক দিন ধরে পরিচর্যা করছি। ফসল বিক্রি করে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবো, সেটাই বুঝতে পারছি না।’একই গ্রামের কৃষক লালচাঁদ বলেন, ‘একটি কলাগাছ তৈরি করতে কয়েক মাস সময় ও টাকা লাগে। ফলন আসার পর যদি গাছ ভেঙে যায়, তাহলে পুরো বিনিয়োগই নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি সামাল দেওয়া খুবই কঠিন।’অরনখোলা ইউনিয়নের আমলিতলা এলাকার আজিজুল বলেন, ‘৪৫ শতাংশ জমিতে ৫০০ কলা চাষ করেছি। এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি। এই কলা বিক্রি করেই ঋণের টাকা পরিশোধ করব। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ এক মিনিটের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল।’সাইফুল ইসলাম জানান, ২৮ বিঘা জমিতে ৫ হাজার কলা চাষ করেছিলেন তিনি। ২০ দিন আগে ৪১০ টাকা দরে সেই কলা বিক্রি করা হয়েছিল এবং ক্রেতা জালাল উদ্দীন এর বিপরীতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়েছেন। ঝড়ের ঝাপটায় সব সর্বনাশ হয়ে গেল।এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, ‘মধুপুরে কয়েক মিনিটের ঝড়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আপাতত: আমার কাছে যে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এসেছে, সেই তালিকা অনুযায়ী কলার বাগান রয়েছে প্রায় ৯০০ বিঘা এবং পেঁপে বাগান রয়েছে প্রায় ২০০ বিঘা।তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষকদের কিছু কলার বাগান আগে থেকেই বিক্রি করা ছিল এবং ক্রেতারা অগ্রীম টাকাও দিয়েছেন। এখন শুধু ক্রেতারা ধাপে ধাপে কলার কাঁদি কেটে নেওয়ার কথা ছিল। এ কারণে কৃষক এবং পাইকাররাও লোকসানের মুখে পড়েছেন।

০৮ অক্টোবর ২০২৬

গোপালপুরে বাসর ঘরে বরের মৃত্যু

গোপালপুরে বাসর ঘরে বরের মৃত্যু

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিয়ের রাতে বাসর ঘরে অসুস্থ হয়ে আয়নাল হক (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামে ওই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া আয়নাল হক ওই গ্রামের মৃত দানেশ আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম। নববধূকে ঘরে তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আয়নাল হক জেলা শহরে ভাড়া বাসায় থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালাতেন এবং পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসাও করতেন। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার ছিল। তবে গত জুলাই মাসে তার প্রথম স্ত্রী দুই সন্তান রেখে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে আয়নাল হকের এক বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে যান। এরপর থেকে দুই সন্তানকে লালন-পালন করা নিয়ে তীব্র হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের চাপ ও প্রতিবেশি লোকজনের অনুরোধে আয়নাল হক বুধবার রাতে পাাশের খামারপাড়া গ্রামের আ. বারীর মেয়ে রুবিনা খাতুনকে (২০) দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে নতুন স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরেন তিনি। কিন্তু গভীর রাতে বাসরঘরের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই আয়নাল হক হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম জানান, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর নববধূকে বাড়ি নিয়ে এসে বাসর ঘরেই এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।এ বিষয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন জানান, তিনি একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি সত্য। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেননি বা লিখিতভাবে কিছু জানাননি। যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে- প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন।

০৮ অক্টোবর ২০২৬

মির্জাপুরে ২০ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে গেল ব্যক্তি উদ্যোগে

মির্জাপুরে ২০ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে গেল ব্যক্তি উদ্যোগে

মু. আবিদ মল্লিক জয়:সরকারি কোনো প্রকল্প নয়, নেই কোনো সংস্থার অর্থায়ন। স্রেফ গ্রামীণ জনপদের মানুষের চিরচেনা দুর্ভোগ লাঘবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনন্য এক নজির সৃষ্টি করেছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার এক সমাজসেবক। মির্জাপুর উপজেলার ৯নং বহুরিয়া ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের ৬২টি গ্রামীণ সড়ক টানা তিন বছর ধরে নিজের অর্থে সংস্কার করেছেন। বর্তমানেও সড়ক সংস্কার করে চলেছেন ওই ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মরহুম জয়নাল সিকদারের ছেলে বিএনপি নেতা আব্দুস ছাত্তার সিকদার।একসময় যেসব কাদামাটির পথ, খানাখন্দ আর বর্ষার পানিতে তলিয়ে থাকা রাস্তা ছিল বহুরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নিত্যদিনের অভিশাপ। আব্দুস ছাত্তার সিকদারের কল্যাণে আজ সেখানে লেগেছে স্বস্তির ছোঁয়া। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগের ফলে বদলে গেছে পুরো গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংস্কারের পূর্বে এই ২০টি গ্রামের সড়কগুলোর অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীর ভোগান্তির কোনো শেষ ছিল না। অনেক সময় ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে গ্রামে জরুরি যানবাহন পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারত না। সাধারণ মানুষের এই অবর্ণনীয় কষ্ট ছুঁয়ে যায় আব্দুস ছাত্তার সিকদারকে। কোনো ক্ষমতার মোহে নয় বরং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি নিজ খরচে এগিয়ে আসেন। গত তিন বছরে প্রায় তিন শতাধিক মাহিন্দ্র ট্রাকে করে ভাঙা ইট(রাবিশ) ফেলে চলাচলের উপযোগী করেছেন এসব সড়ক। তাঁর বাবা মরহুম জয়নাল সিকদারও পরোপকারী ও সমাজসংস্কারক ছিলেন।বহুরিয়া ইউনিয়নের গবড়া গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলম, হাবিবুর রহমান মুন্না, চান্দুলিয়া গ্রামের লিটন মিয়া, আমজাদ হোসেন, কোট বহুরিয়া গ্রামের শরিফুল সিকদার সুজন, রফিকুল আলম, বহুরিয়া গ্রামের আল এমরান খান, আনিছুর রহমান খান, আড়াইপাড়া গ্রামের আক্কাস আলী, নাজমুল ইসলাম, গেড়ামেরা গ্রামের ময়নাল হোসেন, ইন্নছ আলী সহ অনেকেই জানান, ছাত্তার সিকদারের এই সেবামূলক কার্যক্রম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বর্ষায় বা বছরের যেকোনো সময়ে কোনো রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেই স্থানীয়রা তাঁকে খবর দেন। আর খবর পাওয়া মাত্রই তাঁর নিজস্ব ইটভাটা থেকে পৌঁছে যায় ইটের গাড়ি। এমনকি মানুষের জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় রাস্তায় ফেলার জন্য তাঁর ইটভাটায় সবসময় আলাদা করে ভাঙা ইট(রাবিশ) জমিয়ে রাখা হয়।চেয়ারম্যানের সন্তান হিসেবে বাবার জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাকে বজায় রেখে আব্দুস ছাত্তার সিকদার এলাকায় আজ এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। সরকারি বরাদ্দের আশায় বসে না থেকে একজন সাধারণ নাগরিকও যে চাইলে সমাজকে বদলে দিতে পারেন, মির্জাপুরের আব্দুস ছাত্তার সিকদার তা প্রমাণ করে দেখালেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।ওই ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমান, আরশেদ আলী, কোরবান আলী, গৃহবধু নাজমেআরা বেগম, মর্জিনা আক্তার সহ অনেকেই জানান, গ্রামীণ উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। এমন বাস্তবতায় জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের অর্থ ব্যয় করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় ছাত্তার হয়ে উঠেছেন এলাকার জনপ্রিয় একজন মানুষ। শুধু রাস্তা সংস্কারই নয়, এলাকার মানুষের বিপদে-আপদেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ হোসাইন বলেন, দক্ষিণ মির্জাপুরে বিশেষ করে বহুরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ আমলে কোন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড হয়নি। যা বরাদ্দ এসেছে তা হরিলুট করে ভাগ বাটোয়ারা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পকেট ভারি করেছেন। ছাত্তার নিজস্ব অর্থায়নে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন।মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস ছাত্তার সিকদার জানান, নিজের জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। তিন বছর ধরে এভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এলাকার মানুষ চাইলে এবং দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তবে নির্বাচনে অংশ নেই বা না নেই মানুষের সেবা করা অব্যাহত থাকবে।মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) মো. জালাল উদ্দিন খান জানান, তিনি মির্জাপুরে নতুন যোগদান করেছেন। বহুরিয়া ইউনিয়নের ছাত্তার সাহেবের সমাজসেবামূলক কাজ দেখে তিনি খুবই খুশি। সবাই যদি যার যার জায়গা থেকে সড়ক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে সচেতন হয়, তাহলে সড়কের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং জনসাধারণ সুবিধা পাবে।এ বিষয়ে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, গ্র্রামীণ সড়কগুলো সচল রাখা এবং জনগণের চলাচলের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি বা সামাজিক উদ্যোগ সব সময়ই প্রশংসনীয়। আব্দুস ছাত্তার সিকদার সাহেব জনপ্রতিনিধি না হয়েও সড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে যেভাবে অবদান রাখছেন, তা সত্যিই একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ এলজিইডির গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁর এই মহৎ কাজকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

০৭ অক্টোবর ২০২৬

ছিনতাইকারীদের হামলায় ট্রাকচালক নিহত, আটক ২

ছিনতাইকারীদের হামলায় ট্রাকচালক নিহত, আটক ২

এলেঙ্গা প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ছিনতাইকারীদের হামলায় মো. রাজীব হোসেন (৩২) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মিন্টু (৩২) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। নিহত রাজীব হোসেন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ঠ্যাংজোড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।রোববার (৪ অক্টোবর) ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে এলেঙ্গা পৌরসভা এলাকায় শাপলা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের পাশে ওই ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম থেকে পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন চালক রাজীব হোসেন। মহাসড়কের ওই স্থানে ট্রাক থামিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নামার পর কয়েকজন ছিনতাইকারী তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।এদিকে, হামলার সময় রাজীবের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য মিন্টুকে (৩২) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। আটক মিন্টু কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার উত্তরপাড়া গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে।এ সময় স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারী দলের আরও ৩-৪ জন সদস্য ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফারুক নামে আরো একজনকে আটক করে।কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, আটককৃত দু’জনকে ও ট্রাকটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

০৪ অক্টোবর ২০২৬

কালিহাতীর বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কালিহাতীর বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

এলেঙ্গা প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি ও পাসের লক্ষ্যে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ওবায়দুল হক নাসির।ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে মা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মোল্লাসহ অন্যান্যরা।সমাবেশে বক্তারা এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ ফলাফল নিশ্চিত করতে মায়েদের সচেতন ভূমিকা ও নিয়মিত তদারকির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা শেষে বিদ্যালয়ে অতি সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া মিড-ডে মিল কার্যক্রম পরিদর্শন করেন অতিথিরা।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও তাদের মায়েরা উপস্থিত ছিলেন।

০১ অক্টোবর ২০২৬

মির্জাপুরে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের অভিযোগ

মির্জাপুরে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের অভিযোগ

মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নে রাতের আঁধারে একটি দুর্গামন্দিরের চারটি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে জামুর্কী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় রাধা-গোবিন্দ মন্দিরসংলগ্ন আর্য্য সমিতির দুর্গামন্দিরে ওই ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রতিমাগুলোতে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ শেষ করে মণ্ডপটি ঢেকে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) সকালে মণ্ডপ পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখা যায়- দুর্গা প্রতিমার মাথা, গণেশ ও অসুরসহ মোট চারটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি-তদন্ত) মো. লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুজা কমিটির লোকজন রাত ১০ টার দিকে প্রতিমাগুলো অক্ষত অবস্থায় রেখে রাতে ঘুমাতে যায়। সকালে মন্দিরের পাশে ফুল তুলতে এসে স্থানীয় এক নারী প্রতিমাগুলোর মাথা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

০১ অক্টোবর ২০২৬

টাঙ্গাইলে দুই প্রতিষ্ঠানে ভোক্তার থাবা

টাঙ্গাইলে দুই প্রতিষ্ঠানে ভোক্তার থাবা

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও বাসি খাবার সংরক্ষণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের অপরাধে দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনী বাজারে টাঙ্গাইলের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে ওই অভিযান চালানো হয়।এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি করায় ‘জলযোগ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’কে ২০ হাজার টাকা এবং ফ্রিজে বাসি খাবার বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করায় ‘মুন্সির হোটেল’কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এবিষয়ে টাঙ্গাইলের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর সব সময় বাজার তদারকি করে থাকে। বৃহস্পতিবার দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

০১ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তচিন্তার দেয়াল ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব

মুক্তচিন্তার দেয়াল ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় দশকে এসে মানবসভ্যতা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জটিল প্যারাডক্স বা বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। একদিকে আমাদের হাতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বায়োটেকনোলজি এবং বিগ ডেটার মতো মহাবিস্ফোরণ; অন্যদিকে ঠিক সমান্তরালভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে মানুষের স্বাধীন, মৌলিক ও মুক্তচিন্তার পরিধি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, ইন্টারনেটের চশমায় তথ্যের অবাধ প্রবাহে পৃথিবী এখন সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত, গণতান্ত্রিক এবং সংযুক্ত। কিন্তু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এক অদৃশ্য দেয়াল আমাদের সামষ্টিক চিন্তাশক্তিকে বন্দি করে ফেলছে- যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটছে এক গভীর, সর্বগ্রাসী বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বে। এই সংকটটি কেবল রাজনৈতিক মেরুকরণ বা সামাজিক অস্থিরতার অংশ নয়; এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিবর্তন, নিউরো-বায়োলজিক্যাল রূপান্তর এবং আধুনিক পুঁজিবাদের প্রযুক্তিগত কার্যকারণ। যখন কোনো সমাজে প্রশ্ন করার সাহস হারিয়ে যায় এবং চিন্তার ওপর স্থবিরতা ভর করে, তখন সভ্যতার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। বিজ্ঞান বলে- মানুষের মস্তিষ্ক কোনো স্থির বা জড় বস্তু নয়, এটি সদা পরিবর্তনশীল এবং অভিযোজনক্ষম- যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ (Neuroplasticity)। আমরা যখন কোনো নতুন, জটিল বা আমাদের বিশ্বাসের বিপরীতধর্মী চিন্তার মুখোমুখি হই, তখন মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর মধ্যে নতুন সিন্যাপটিক সংযোগ বা পথ তৈরি হয়। একেই বলে মুক্তচিন্তার এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জৈবিক ভিত্তি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের কগনিটিভ ক্ষমতা বা বোধশক্তি বিকশিত হয়। কিন্তু সমসাময়িক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবসায়িক অ্যালগরিদম এই নিউরোপ্লাস্টিসিটিকে উল্টো পথে চালিত করছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং সার্চ ইঞ্জিনগুলো আমাদের মনের অজান্তেই তৈরি করছে ‘ইকো চেম্বার’ (Echo Chamber) এবং ‘ফিল্টার বাবল’ (Filter Bubble)। সিলিকন ভ্যালির তৈরি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের ঠিক সেই তথ্য, সংবাদ বা মতামতগুলোই বারবার আমাদের স্ক্রিনে নিয়ে আসে- যা আমাদের পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ক্ষোভ বা মতাদর্শের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কে এক ধরনের ক্ষতিকর ‘কনফরমেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা নিজের মতকে অন্ধভাবে সত্য বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা চূড়ান্ত রূপ নেয়। যখন একজন মানুষ বছরের পর বছর ধরে কেবল তার নিজের মতের প্রতিধ্বনি শুনতে পায়, তখন তার মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (Prefrontal Cortex)- যা যুক্তিবাদী চিন্তা, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দায়ী, তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা ও নমনীয়তা হারাতে শুরু করে। মানুষ তখন ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এটিই মুক্তচিন্তার প্রথম এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক দেয়াল- যা আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের ব্রেইনের ভেতর অলক্ষ্যে তৈরি করে দিচ্ছে।আমরা এখন বাস করছি ‘ইনফরমেশন ওভারলোড’ বা তথ্যের অতিপ্রবাহের এক উন্মাদ যুগে। মানব ইতিহাসের আর কোনো সময়ে মানুষ এত তথ্যের সংস্পর্শে আসেনি। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, তথ্যের এই মাত্রাতিরিক্ত সুনামি মানুষের মনোযোগের পরিধি বা ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ (Attention Span) নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে মানুষের গভীর মনোযোগ ধরে রাখার গড় সময়কাল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তথ্যের এই মহাসমুদ্র মানুষকে ‘তথ্যসমৃদ্ধ’ (Informed) করছে ঠিকই, কিন্তু তাকে ‘প্রজ্ঞাবান’ (Wise) বা ‘জ্ঞানী’ করে তুলছে না। গভীর অধ্যয়ন, দীর্ঘমেয়াদী মননশীলতা এবং কোনো বিষয়ের গভীরে গিয়ে কার্যকারণ সম্পর্ক বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আধুনিক মানুষের ভেতর লোপ পাচ্ছে। কোনো বিষয়ের মূল জেনেসিস বা উৎস না জেনে, কেবল ওপর ওপর ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে সোশ্যালে তর্ক করার এবং রায় দিয়ে দেওয়ার এই সর্বজনীন প্রবণতাই হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব। আমরা এখন সত্য অনুসন্ধান করছি না বরং হেডলাইন এবং রিলস বা শর্টস-এর ১৫ সেকেন্ডের ভিজ্যুয়াল বিনোদনে নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষুধা মেটানোর সস্তা চেষ্টা করছি। এর ফলে সমাজে এমন এক শ্রেণির ইনফ্লুয়েন্সার তৈরি হচ্ছে- যাদের চিন্তায় কোনো মৌলিকত্ব নেই, আছে কেবল জনপ্রিয় সস্তা আবেগের অন্ধ অনুকরণ। প্রজ্ঞার স্থান দখল করে নিয়েছে সস্তা তথ্যের আসক্তি।মুক্তচিন্তার দ্বিতীয় বড় দেয়ালটি মনস্তাত্ত্বিক নয় বরং এটি সমাজতাত্ত্বিক। একে আমরা বলতে পারি আধুনিক ‘ক্যান্সেল কালচার’ (Cancel Culture) বা ভিন্নমত বর্জনের সংস্কৃতি। সমাজবিজ্ঞানের বুনিয়াদি তত্ত্ব অনুযায়ী- একটি সুস্থ, গতিশীল ও প্রগতিশীল সমাজের মেরুদণ্ড হলো ভিন্নমতের সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভিন্নমতকে যুক্তির দ্বারা খণ্ডন করার ধৈর্য বা মেধা সমাজ হারিয়ে ফেলছে। এর বদলে ভিন্নমতাবলম্বীকে সামাজিকভাবে বয়কট, ডিজিটাল মবলিং (অনলাইন আক্রমণ), চরিত্রহনন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক চাপ প্রয়োগ করে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। যখন কোনো সমাজে বা রাষ্ট্রে প্রশ্ন করার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় কিংবা কোনো প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করাকে বিপজ্জনক করে তোলা হয়, তখন সেখানে বিজ্ঞান, দর্শন এবং সাহিত্যের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ইতিহাস সাক্ষী- গ্যালিলিও, সক্রেটিস বা জর্দানো ব্রুনোদের যুগেও শাসকেরা মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে কঠোর দেয়াল তুলেছিল। আজকের ডিজিটাল যুগেও ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন মোড়কে সেই একই দেয়াল তোলা হচ্ছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম কোনো নতুন বা প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ভয় পাচ্ছে। এই ভয় এবং এর থেকে জন্ম নেওয়া ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ (Self-censorship) সমাজকে এক স্থবির, অনুকরণপ্রিয় এবং মেরুদণ্ডহীন প্রজন্মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে- যা দীর্ঘমেয়াদে বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।আমাদের প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থাও এই বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব ও স্থবিরতা তৈরির জন্য সমভাবে দায়ী। আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান (Pedagogy) বলে, শিক্ষার মূল ও প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানো। অর্থাৎ শিক্ষার্থীকে শেখানো হবে কোনো কিছুকে অন্ধভাবে না মেনে ‘কেন’, ‘কীভাবে’, ‘কার স্বার্থে’ এবং ‘কোথায়’- এই মৌলিক প্রশ্নগুলো উত্থাপন করতে। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে উঠেছে মাত্রাতিরিক্ত জিপিএ কেন্দ্রিক, মুখস্থনির্ভর এবং নিখাদ বাজারমুখী। আমরা শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্ককে একেকটি ডেটা স্টোরেজ বা কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বানিয়ে ফেলছি, যেখানে বছরের শুরুতে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য ইনপুট দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার খাতায় তা হুবহু আউটপুট হিসেবে উগরে দেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সৃজনশীলতা, মৌলিক দর্শন বা মানবিক মূল্যবোধের কোনো স্থান নেই। এই যান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক করপোরেট বিশ্বের জন্য হয়তো খুব দক্ষ ‘কেরানি’, ‘ক্যাডার’ বা ‘শ্রমিক’ তৈরি করতে পারছে; কিন্তু সমাজ পরিচালনার জন্য, ঐতিহাসিক সংকট উত্তরণের জন্য কিংবা মানবতাকে পথ দেখানোর জন্য কোনো দূরদর্শী ‘বুদ্ধিজীবী’, ‘চিন্তাবিদ’ বা ‘দার্শনিক’ তৈরি করতে পারছে না। জ্ঞান যেখানে কেবল জীবিকা অর্জনের হাতিয়ার, সেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব অবধারিত।এই গভীর অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ কী? বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান এবং মানবসভ্যতার ইতিহাস আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পথ দেখায়- (ক) কগনিটিভ ডাইভারসিটি (Cognitive Diversity) বা চিন্তার বৈচিত্র্যকে আলিঙ্গন করা: আমাদের সচেতনভাবে এমন সব বই, প্রবন্ধ, ইতিহাস বা মনস্তাত্ত্বিক মতামত পড়তে হবে, যা আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি মস্তিষ্কের নিউরনের কার্যকারিতা ও সিন্যাপটিক সংযোগ বাড়ায়, মনকে নমনীয় করে এবং অন্ধ গোঁড়ামি দূর করে। (খ) ডিজিটাল ডিটক্স এবং গভীর পঠন (Deep Reading): স্ক্রিন ও সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশনের দাসত্ব কমিয়ে বই পড়ার মূল ধারায় ফিরে আসতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো জটিল বা তাত্ত্বিক বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার চর্চা-যাকে ক্যাল নিউপোর্ট ‘ডিপ ওয়ার্ক’ (Deep Work) বলেছেন-তা আমাদের চিন্তার হারিয়ে যাওয়া গভীরতা ও ধারণক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারে। (গ) প্রশ্ন করার স্বাধীনতার প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক স্বীকৃতি: পরিবার, বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রশ্ন করার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং উৎসাহিত করতে হবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে- ভুল প্রশ্ন বা অবান্তর প্রশ্নও সমাজের জন্য কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয়, কিন্তু প্রশ্ন না করার সংস্কৃতি বা প্রশ্ন করতে ভয় পাওয়া একটি জীবন্ত সভ্যতার জন্য সবচেয়ে আত্মঘাতী।মুক্তচিন্তা কোনো তাত্ত্বিক বিলাসিতা বা কেতাবি শব্দ নয়; এটি মানবসভ্যতার টিকে থাকার, বিকশিত হওয়ার এবং বিবর্তিত হওয়ার সবচেয়ে মৌলিক ও অপরিহার্য শর্ত। চার্লস ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বিবর্তনবাদ যেমন বলে- পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে যে প্রজাতি খাপ খাওয়াতে পারে না, সে প্রকৃতির নিয়মেই বিলুপ্ত হয়ে যায়; ঠিক তেমনি সমাজতত্ত্ব ও ইতিহাসের দর্শন বলে- যে সমাজ বা জাতি সময়ের সাথে সাথে চিন্তার বিবর্তন ঘটাতে পারে না, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে পারে না, সেই জাতি সভ্যতার প্রতিযোগিতায় জরায়ুতেই মারা যায় বা অন্যের বুদ্ধিবৃত্তিক দাসে পরিণত হয়। মুক্তচিন্তার যে অদৃশ্য দেয়ালগুলো আজকে প্রযুক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের হাত ধরে আমাদের চারপাশে অবলীলায় গড়ে উঠছে, তা যদি আমরা আমাদের যৌথ প্রজ্ঞা, নৈতিক সাহস এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আঘাত করে ভাঙতে না পারি, তবে একবিংশ শতাব্দীর এই চোখধাঁধানো প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কেবলই এক কংক্রিটের প্রাণহীন কঙ্কাল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে। আর তার ভেতরে বাস করবে এক দিশাহীন, প্রজ্ঞাহীন, যুক্তিহীন এবং চরম দেউলিয়া মানবসমাজ। এখনই সময় সেই দেয়ালগুলো ভেঙে চিন্তার আকাশকে উন্মুক্ত করার, মানুষের মগজকে অ্যালগরিদমের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

০১ অক্টোবর ২০২৬

‘বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রতিযোগিতা থাকবে- সিন্ডিকেট নয়’

‘বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রতিযোগিতা থাকবে- সিন্ডিকেট নয়’

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে ‘প্রতিযোগিতা আইন ২০১২ ও এর প্রয়োগের বিষয়ে স্টেকহোল্ডাদের দায়িত্ব এবং ব্যবসা বাণিজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(২৮ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য ড. মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থায় সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রতিযোগিতা থাকবে, অবশ্যই কোনো ধরনের সিন্ডিকেট নয়। ব্যবসা-বাণিজ্যে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট, মনোপলি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি প্রতিরোধে প্রতিযোগিতা আইনের সঠিক প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরীফা হকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইসতিদার আলম, কমিশনের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ যুবায়ের, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামছুন নাহার স্বপ্না প্রমুখ।জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরীফা হক বলেন, টাঙ্গাইলের ব্যবসা-বাণিজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং বাজারে কোনো ধরনের অসাধু প্রতিযোগিতা যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে। তিনি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে আইন মেনে সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।মুক্ত আলোচনা পর্বে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তারা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান চিত্র, বাজার মনিটরিং এবং প্রতিযোগিতা আইন বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে নিজ নিজ মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। বক্তারা বাজারে সুস্থ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দেন।মতবিনিময় সভায় জেলা শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এবং অংশীজনরা(স্টেকহোল্ডার) অংশগ্রহণ করেন।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভূঞাপুরে ১৭ মৌজার বিআরএস জরিপ বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন

ভূঞাপুরে ১৭ মৌজার বিআরএস জরিপ বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন

‎‎আ. রশিদ তালুকদার, ভূঞাপুর:‎টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের গাবসারা ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার বিআরএস জরিপ বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে গোবিন্দাসী-টাঙ্গাইল রোডে এলাকার ১৩ গ্রামের মানুষ ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ‎জানা যায়, ১৯৯৩ সালে ভূঞাপুর উপজেলায় বিআরএস জরিপের কাজ শুরু করে ভূমি মন্ত্রণালয়। তারই ধারাবাহিকতায় গাবসারা ইউনিয়নের ১৭টি মৌজায় ১৯৯৬ সালে নকশার কাজ শেষ করে ডিপি খতিয়ান তৈরির পর ভূমি মালিকদের মধ্যে মাঠ পরচা বিতরণ করে। ১৯৯৭ সালে প্রায় ১০ হাজার খতিয়ানের উপর প্রায় ৩৩০ ধারায় আপত্তি দেওয়া হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত সেসব আপত্তি যথাযথ শুনানীর মাধ্যমে নিস্পত্তি করা হয়। ওইসব মৌজার ১৬টি সিটের নকশা ভেঙ্গে ১৭টি সিট তৈরি করায় কিছু কিছু দাগ নম্বরে জমির পরিমান সামান্য কম-বেশি পরিলক্ষিত হয়।‎ সে সময় নকশার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও পরবর্তীতে বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাধানের আর্শ্বাস দেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ‎কিন্তু পরবর্তীতে কোন সমাধান না করে গত ৩ সেপ্টেম্বর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ভূমি রেকর্ড শাখার পরিচালক মো. মোমিনুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জপির কার্যক্রম স্থগিত করে পুনরায় ডিজিটাল জরিপ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।এদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ এসব মৌজায় হাল নাগাদ খাজনা পরিশোধ রশিদ ও খারিজ বাধ্যতামূলক হওয়ায় জমি বেচা-কেনা, খাজনা-নাম খারিজ, ব্যাংক ঋণ বন্ধ থাকায় মহাবিপদে পড়েছে এলাকার মানুষ। অনেক দরিদ্র পরিবার নানা সমস্যায় জমি বিক্রি করতে চাইলেও বিক্রি করতে পারছে না। অন্যদিকে নতুন এ আদেশের কারণে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অতি সল্প সময়ের মধ্যে সম্প্রতি জারিকৃত আদেশ বাতিল করে বিআরএস জরিপ বহাল রাখা হোক।‎‎স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ এ এলাকার মানুষকে বিপদে ফেলে রাখা হয়েছে। দিন যত যাচ্ছে আরো জটিলতা বাড়ছে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান বলেন, বিষয়টি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে আলোচনা করে ঊর্দ্ধতন কর্তপক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপিত

টাঙ্গাইলে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ স্লোগানে টাঙ্গাইলে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে রোববার(২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।এদিন সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মিলিত হয়।টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান, জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, হোটেল ব্যবসায়ী পূরবী বাবুল সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।https://www.youtube.com/watch?v=sOqnXh11-tIআলোচনা সভায় বক্তারা টাঙ্গাইল একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে পর্যটন খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।বক্তারা বলেন, টাঙ্গাইল পর্যটনের জন্য একটি সম্ভাবনাময় জেলা। টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শাড়ি, চমচম, আনারস, বিভিন্ন ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি সহ নানা সবুজ প্রকৃতি সমৃদ্ধ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে এখানে পর্যটন বিকাশের সুযোগ রয়েছে। এসব পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। একই সঙ্গে জেলার পর্যটন সম্ভাবনা স্থাপনাগুলোতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করা যেতে পারে।কর্মসূচিতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট:মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। রাজপথে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা বিএনপির আয়োজনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে’ অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘একটা গোষ্ঠী, ফ্যাসিস্ট এই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। জনগণ দ্বারা বিতাড়িত হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে। ইকোপূর্বে তারা গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়ন করেছে। এই দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, নির্বিচারে গুলি করেছে। তারা আজ আবার বিভিন্ন কায়দায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।’বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দল বিএনপিকে এত সহজে ষড়যন্ত্র করে পার পাবেন ভাবলে আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। জনগণ ভোটের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। জনগণের দাবি ও অধিকার নিয়ে যখনই কেউ ষড়যন্ত্র করেছে, তারাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগণই তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেবে।’রাজপথে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছে। কাজেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই রাজপথে যারা বিশৃঙ্খলা করবে, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেব, ইনশাআল্লাহ।’সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। সঞ্চালনা করেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু।এর আগে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে সমাবেশে অংশ নেন।সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শফিকুল রহমান লিটন, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল, টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক (ভিপি মনির), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিমুদ্দিন বিপ্লব, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব জাহিদ হোসেন মালা, জেলা মহিলা বিএনপির সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন এবং টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দূর্জয় হোড় শুভ।এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক

হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক

দৃষ্টি নিউজ:আগামী বছরের (২০২৭ সালের) ৩১ জানুয়ারি মধ্যে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)।চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি হাট ও বাজারের স্থায়ী শেড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন বাজারে নির্মিত চার-পাঁচতলা ভবনের ছাদের আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।এতে আরও বলা হয়েছে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান দাপ্তরিক মূল ভবন ও আওতাধীন ভবনগুলোতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ রাখতে হবে বলেও চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ বলেছে, ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়া যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় বাড়বে।‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫’ এর বিধি ১০-এর (ঙ) ও (চ) অনুযায়ী হাট ও বাজার থেকে পাওয়া ইজারার আয়ের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে এবং আরও ১০ শতাংশ উপজেলার অন্তর্গত হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়।নির্দেশনা অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হবে সংশ্লিষ্ট হাট-বাজার কর্তৃপক্ষকে।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের টানা সাত দিন ছুটির সুযোগ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের টানা সাত দিন ছুটির সুযোগ

দৃষ্টি নিউজ:দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী অক্টোবর মাসে সরকারি ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ৭ দিন পর্যন্ত ছুটি ভোগ করতে পারবেন। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার)। এদিন মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকবে সাধারণ ছুটি।সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি। ১৮ অক্টোবর (রোববার) মহাসপ্তমী এবং (১৯ অক্টোবর) সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে এই ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন তারা।১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটি এবং ২০ ও ২১ অক্টোবরের সরকারি ছুটি মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা চারদিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন।২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এক দিনের ছুটি নিতে পারলে এরপরের দুইদিনের সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। ফলে, সব মিলিয়ে একটানা ৭ দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য।এই সুবিধা কেবল সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্য সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির এই সুযোগ থাকবে না।দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা চালু থাকতে পারে। এছাড়া, এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালুই থাকে।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মির্জাপুরের কামারপাড়া ব্রিজ এক অন্তহীন দুর্ভোগের নাম

মির্জাপুরের কামারপাড়া ব্রিজ এক অন্তহীন দুর্ভোগের নাম

বুলবুল মল্লিক:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর নির্মাণের ছয় বছর পার হলেও ব্রিজের সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। মূল ব্রিজের কাজ অসম্পূর্ণ রাখার পর এবার সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণকাজে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। ফলে নিত্যদিনের যাতায়াতে তীব্র ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ। বর্তমানে অচল পড়ে থাকা এই ব্রিজে উঠতে স্থানীয়দের ব্যবহার করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।এলজিইডি সূত্রে জানাগেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কামারপাড়া নদীর ওপর ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ব্রিজের রেলিং নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি পড়ে আছে। মূল কাঠামোর কাজ শেষে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন আটকে থাকে সংযোগ সড়ক নির্মাণ। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুন মাসে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হলেও গত ১৫ মাসে তার অর্ধেকও সম্পন্ন হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই স্থানীয়দের ঝুঁঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো বেয়ে ব্রিজে উঠে নদী পার হতে হচ্ছে।সরেজমিনে কামারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়- জনদুর্ভোগের এক চরম চিত্র। ব্রিজের উত্তর পাশে নামমাত্র কিছু মাটি ফেলে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হলেও তা এখন প্রায় বন্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একদিন কাজ করলে সাতদিন কাজ বন্ধ রাখে। ফলে মূল রাস্তা থেকে প্রায় ৫০ ফুট খাড়া ও আঁকাবাঁকা ঢালু পথ বেয়ে অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণভাবে মানুষ ব্রিজে উঠছেন। অন্যদিকে, ব্রিজের দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে ব্রিজের ওপর পর্যন্ত একটি বাঁশের সাঁকো দেওয়া হয়েছে। সময় ও শ্রম বাঁচাতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শ’ শ’ মানুষ এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।কামারপাড়া গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার বয়স সত্তরে পৌঁছেছে। অনেক ইচ্ছা ছিল এই ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে পার হয়ে বাজারে যাবো। কাজের যে অবস্থা তাতে সেই আশা পূরণ হবে কিনা আল্লাহই জানেন। কর্তৃপক্ষের এদিকে দ্রুত নজর দেওয়া উচিত।’একই গ্রামের বাসিন্দা আবজাল হোসেন ব্রিজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। কামারপাড়া নদীর ওপর ব্রিজটি সম্পূর্ণ হলে মির্জাপুর থেকে ধামরাই হয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়া সম্ভব হবে। এতে মির্জাপুরের সাথে ধামরাই ও মানিকগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। দক্ষিণ মির্জাপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, মির্জাপুর-কামারপাড়া-ধানতারা সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক। তাছাড়া মির্জাপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই সড়কটি একটি চমৎকার বিকল্প রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।’ধীরগতির বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর পার্টনার মো. ইসলাম বলেন, ‘মূল ব্রিজটি হতে অনেক বেশি সময় লেগেছে, তাও আবার কিছুটা অসম্পূর্ণ। আসলে সংযোগ সড়কের কাজটা একটু জটিল। তাছাড়া ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা ছিল- যা নিরসন করতে বেশ সময় লেগেছে। এর ওপর দীর্ঘ একটা সময় বৃষ্টি থাকায় কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে কাজ শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা কাজ সম্পূর্ণ করতে পারব।’ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ব্রিজের মূল কাজে এমনিতেই অনেক বেশি সময় নেওয়া হয়েছে। এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় অনেকদিন কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরবর্তীতে আমি ঠিকাদার এবং স্থানীয়দের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহা করতে সক্ষম হয়েছি। এখন জমি সংক্রান্ত সব ঝামেলা শেষ, কাজও চলছে। তবে জনভোগান্তি কমাতে কাজের গতি আরো অনেক বাড়ানো দরকার বলে আমি মনে করি।’মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি মির্জাপুরে যোগদান করেই এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিয়েছি। কামারপাড়া ব্রিজের বাকি থাকা পুরো কাজ এবং সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের ইতিপূর্বেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের জটিলতা এখন নিরসন হয়েছে।’টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বা জনভোগান্তি তৈরি করা বরদাশত করা হবে না। কামারপাড়া ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি সংক্রান্ত যেসব আইনি ও স্থানীয় জটিলতা ছিল- তা ইতোমধ্যেই সমাধান করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের গতি বাড়িয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির প্রকৌশল বিভাগ থেকে কাজের নিয়মিত তদারকি চলছে। দ্রুতই ওই সেতুটি জনগণের যোগাযোগের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা যাবে।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তদন্ত কমিটি গঠন ও ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ

তদন্ত কমিটি গঠন ও ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের বাসাইলে এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জালিয়াতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সাথে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দে শনা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এলজিইডি’র ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরের supRB এর প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর ও টাঙ্গাইল এলজিইডি’র পক্ষ থেকে গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। মঙ্গলবার(২২ সেপ্টেম্বর) দিনভর প্রকল্প এলাকায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন ও অংশীজনদের মতামত-বক্তব্য গ্রহণ করেছে।এলজিইডি’র সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর কর্তৃক গঠিত ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাকিল হোসেন ও একই প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকিউল আলম। টাঙ্গাইল এলজিইডি কর্তক ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- টাঙ্গাইল এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. তৌহিদুর রহমান(আহ্বায়ক), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী ইফতেখার আহম্মেদ(সদস্য সচিব), টাঙ্গাইল এলজিইড ‘র সহকারী প্রকৌশলী সাকিব-উল-হাফিজ(সদস্য), উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান(সদস্য) ও ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. আলোব্বর হোসেন(সদস্য)। সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর) গঠিত তদন্ত কমিটি সমূহকে ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ‘বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া সড়কে ৯০.০৬ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজ’ নির্মাণ কাজ চলছে। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ যৌথভাবে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মো. ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেভি)’।অভিযোগ উঠেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলা প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে না জানিয়ে অন্ধকারে তড়িঘড়ি করে ব্রিজের Wheel Guard এর স্ল্যাব ঢালাই কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ঢালাইয়ের ভেতর রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী ফাত্তাউর রহমান ব্রিজের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে শো’কজ করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এই অনিয়মের খবর গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে অবহিত না করে রাতের অন্ধকারে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত।নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পত্র প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে ওই ত্রুটিপূর্ণ ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ঢালাই ভেঙে সাইট থেকে অপসারণ করতে হবে। পরবর্তীতে ল্যাবে পরীক্ষা করে মালামালের গুণগতমান নিশ্চিত পূর্বক উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নিয়ম মোতাবেক পুনরায় ঢালাই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ঠিকাদারি চুক্তি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬