তথ্য ও প্রযুক্তি
ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’
দৃষ্টি বিনোদন:আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও পুরস্কৃত হলো বাংলাদেশের সিনেমা। ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘মাস্টার’। ২০০৫ সাল থেকে ইতালির লুকা শহরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই উৎসব। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চার অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের ২২তম আসর। শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম।এবারের লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে ‘মাস্টার’ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি সিনেমা প্রতিযোগিতা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’, ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি। এসব সিনেমাকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’।উৎসবের জুরিবোর্ড তাদের ঘোষণায় ‘মাস্টার’ সিনেমার প্রশংসা করে জানিয়েছে, একটি স্থানীয় গল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বর্তমান সংকটকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।জুরিদের মতে, বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন একজন শিক্ষকের গল্প দেখতে পান, যিনি ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থের বদলে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে দৌড়ানো এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফাদে পড়ে তার সেই নীতি কীভাবে ফিকে হয়ে যায়, সেটিই সাবলীলভাবে দেখানো হয়েছে ‘মাস্টার’ সিনেমায়।রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ও প্রযোজিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ নিয়ে আসা একজন আদর্শবান শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতা ও আপসের যাতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, তা নিয়েই এগিয়েছে ‘মাস্টার’-এর গল্প। আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ, তাসনুভা তামান্না প্রমুখ।লুকা চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা সুমিত। তিনি বলেন, ‘লুকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই অর্জন মাস্টার সিনেমাটির সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে এ বছর বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। এতগুলো দুর্দান্ত কাজের মাঝে আমার টিমের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করার জন্য বিচারকমণ্ডলীর কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে সেরা নির্বাচিত হয় ‘মাস্টার’। নির্মাতা সুমিত জানিয়েছেন, সিনেমাটি দেশের দর্শকদের দেখানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
০৬ অক্টোবর ২০২৬
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং উন্নয়নে কৌশল ও করণীয় নিয়ে সেমিনার
দৃষ্টি রিপোর্ট:আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও উন্নত করতে কৌশলগত পরিকল্পনা ও করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং উন্নয়নের জন্য কৌশলগত শিক্ষা ও কাঠামো’ (Strategic Lessons and Frameworks for University Ranking Improvement) শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) কনফারেন্স রুমে আইকিউএসি’র উদ্যোগে ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার টেইলর্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. গাজী মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির।প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নত করা শুধু একটি সূচকে ভালো করার বিষয় নয়; বরং শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রভাব ও আন্তর্জাতিকীকরণ, শিল্প ও সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য-উপাত্তের যথাযথ ব্যবস্থাপনার সমন্বিত ফল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মানোন্নয়নের সঙ্গে র্যাঙ্কিং কার্যক্রমকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।মূলপ্রবন্ধে অধ্যাপক ড. গাজী মাহবুবুল আলম আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন সূচক, র্যাঙ্কিং উন্নয়নের কৌশল, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা, তথ্যের মান ও নির্ভরযোগ্যতা এবং অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
০৫ অক্টোবর ২০২৬
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক র্যাংকিং ও একাডেমিক উৎকর্ষতা অর্জনে সেমিনার অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ‘Roadmap to Academic Excellence: Mastering BAC Accreditation and International Ranking Frameworks’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় একাডেমিক ভবনের ১২ তলাস্থ সেমিনার হলে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (IQAC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন IQAC-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (BAC) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ্ এমরান। অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়ার টেইলরস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. গাজী মাহবুবুল আলম।সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মানদণ্ড নির্ধারিত হয় তার গবেষণা, গুণগত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে হলে আমাদের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন এবং গ্লোবাল র্যাংকিং ফ্রেমওয়ার্ক সম্পর্কে শুধু জানলেই হবে না, সে অনুযায়ী বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আজকের এই সেমিনার আমাদের শিক্ষকদের সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে সাহায্য করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষক ও অফিস প্রধানরা অংশগ্রহন করেন।
০৪ অক্টোবর ২০২৬
কালিহাতীর বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত
এলেঙ্গা প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি ও পাসের লক্ষ্যে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ওবায়দুল হক নাসির।ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে মা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মোল্লাসহ অন্যান্যরা।সমাবেশে বক্তারা এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ ফলাফল নিশ্চিত করতে মায়েদের সচেতন ভূমিকা ও নিয়মিত তদারকির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা শেষে বিদ্যালয়ে অতি সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া মিড-ডে মিল কার্যক্রম পরিদর্শন করেন অতিথিরা।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও তাদের মায়েরা উপস্থিত ছিলেন।
০১ অক্টোবর ২০২৬
মুক্তচিন্তার দেয়াল ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব
মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় দশকে এসে মানবসভ্যতা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জটিল প্যারাডক্স বা বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। একদিকে আমাদের হাতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বায়োটেকনোলজি এবং বিগ ডেটার মতো মহাবিস্ফোরণ; অন্যদিকে ঠিক সমান্তরালভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে মানুষের স্বাধীন, মৌলিক ও মুক্তচিন্তার পরিধি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, ইন্টারনেটের চশমায় তথ্যের অবাধ প্রবাহে পৃথিবী এখন সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত, গণতান্ত্রিক এবং সংযুক্ত। কিন্তু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এক অদৃশ্য দেয়াল আমাদের সামষ্টিক চিন্তাশক্তিকে বন্দি করে ফেলছে- যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটছে এক গভীর, সর্বগ্রাসী বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বে। এই সংকটটি কেবল রাজনৈতিক মেরুকরণ বা সামাজিক অস্থিরতার অংশ নয়; এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিবর্তন, নিউরো-বায়োলজিক্যাল রূপান্তর এবং আধুনিক পুঁজিবাদের প্রযুক্তিগত কার্যকারণ। যখন কোনো সমাজে প্রশ্ন করার সাহস হারিয়ে যায় এবং চিন্তার ওপর স্থবিরতা ভর করে, তখন সভ্যতার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। বিজ্ঞান বলে- মানুষের মস্তিষ্ক কোনো স্থির বা জড় বস্তু নয়, এটি সদা পরিবর্তনশীল এবং অভিযোজনক্ষম- যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ (Neuroplasticity)। আমরা যখন কোনো নতুন, জটিল বা আমাদের বিশ্বাসের বিপরীতধর্মী চিন্তার মুখোমুখি হই, তখন মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর মধ্যে নতুন সিন্যাপটিক সংযোগ বা পথ তৈরি হয়। একেই বলে মুক্তচিন্তার এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জৈবিক ভিত্তি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের কগনিটিভ ক্ষমতা বা বোধশক্তি বিকশিত হয়। কিন্তু সমসাময়িক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবসায়িক অ্যালগরিদম এই নিউরোপ্লাস্টিসিটিকে উল্টো পথে চালিত করছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং সার্চ ইঞ্জিনগুলো আমাদের মনের অজান্তেই তৈরি করছে ‘ইকো চেম্বার’ (Echo Chamber) এবং ‘ফিল্টার বাবল’ (Filter Bubble)। সিলিকন ভ্যালির তৈরি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের ঠিক সেই তথ্য, সংবাদ বা মতামতগুলোই বারবার আমাদের স্ক্রিনে নিয়ে আসে- যা আমাদের পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ক্ষোভ বা মতাদর্শের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কে এক ধরনের ক্ষতিকর ‘কনফরমেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা নিজের মতকে অন্ধভাবে সত্য বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা চূড়ান্ত রূপ নেয়। যখন একজন মানুষ বছরের পর বছর ধরে কেবল তার নিজের মতের প্রতিধ্বনি শুনতে পায়, তখন তার মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (Prefrontal Cortex)- যা যুক্তিবাদী চিন্তা, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দায়ী, তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা ও নমনীয়তা হারাতে শুরু করে। মানুষ তখন ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এটিই মুক্তচিন্তার প্রথম এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক দেয়াল- যা আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের ব্রেইনের ভেতর অলক্ষ্যে তৈরি করে দিচ্ছে।আমরা এখন বাস করছি ‘ইনফরমেশন ওভারলোড’ বা তথ্যের অতিপ্রবাহের এক উন্মাদ যুগে। মানব ইতিহাসের আর কোনো সময়ে মানুষ এত তথ্যের সংস্পর্শে আসেনি। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, তথ্যের এই মাত্রাতিরিক্ত সুনামি মানুষের মনোযোগের পরিধি বা ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ (Attention Span) নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে মানুষের গভীর মনোযোগ ধরে রাখার গড় সময়কাল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তথ্যের এই মহাসমুদ্র মানুষকে ‘তথ্যসমৃদ্ধ’ (Informed) করছে ঠিকই, কিন্তু তাকে ‘প্রজ্ঞাবান’ (Wise) বা ‘জ্ঞানী’ করে তুলছে না। গভীর অধ্যয়ন, দীর্ঘমেয়াদী মননশীলতা এবং কোনো বিষয়ের গভীরে গিয়ে কার্যকারণ সম্পর্ক বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আধুনিক মানুষের ভেতর লোপ পাচ্ছে। কোনো বিষয়ের মূল জেনেসিস বা উৎস না জেনে, কেবল ওপর ওপর ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে সোশ্যালে তর্ক করার এবং রায় দিয়ে দেওয়ার এই সর্বজনীন প্রবণতাই হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব। আমরা এখন সত্য অনুসন্ধান করছি না বরং হেডলাইন এবং রিলস বা শর্টস-এর ১৫ সেকেন্ডের ভিজ্যুয়াল বিনোদনে নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষুধা মেটানোর সস্তা চেষ্টা করছি। এর ফলে সমাজে এমন এক শ্রেণির ইনফ্লুয়েন্সার তৈরি হচ্ছে- যাদের চিন্তায় কোনো মৌলিকত্ব নেই, আছে কেবল জনপ্রিয় সস্তা আবেগের অন্ধ অনুকরণ। প্রজ্ঞার স্থান দখল করে নিয়েছে সস্তা তথ্যের আসক্তি।মুক্তচিন্তার দ্বিতীয় বড় দেয়ালটি মনস্তাত্ত্বিক নয় বরং এটি সমাজতাত্ত্বিক। একে আমরা বলতে পারি আধুনিক ‘ক্যান্সেল কালচার’ (Cancel Culture) বা ভিন্নমত বর্জনের সংস্কৃতি। সমাজবিজ্ঞানের বুনিয়াদি তত্ত্ব অনুযায়ী- একটি সুস্থ, গতিশীল ও প্রগতিশীল সমাজের মেরুদণ্ড হলো ভিন্নমতের সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভিন্নমতকে যুক্তির দ্বারা খণ্ডন করার ধৈর্য বা মেধা সমাজ হারিয়ে ফেলছে। এর বদলে ভিন্নমতাবলম্বীকে সামাজিকভাবে বয়কট, ডিজিটাল মবলিং (অনলাইন আক্রমণ), চরিত্রহনন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক চাপ প্রয়োগ করে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। যখন কোনো সমাজে বা রাষ্ট্রে প্রশ্ন করার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় কিংবা কোনো প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করাকে বিপজ্জনক করে তোলা হয়, তখন সেখানে বিজ্ঞান, দর্শন এবং সাহিত্যের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ইতিহাস সাক্ষী- গ্যালিলিও, সক্রেটিস বা জর্দানো ব্রুনোদের যুগেও শাসকেরা মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে কঠোর দেয়াল তুলেছিল। আজকের ডিজিটাল যুগেও ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন মোড়কে সেই একই দেয়াল তোলা হচ্ছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম কোনো নতুন বা প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ভয় পাচ্ছে। এই ভয় এবং এর থেকে জন্ম নেওয়া ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ (Self-censorship) সমাজকে এক স্থবির, অনুকরণপ্রিয় এবং মেরুদণ্ডহীন প্রজন্মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে- যা দীর্ঘমেয়াদে বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।আমাদের প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থাও এই বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব ও স্থবিরতা তৈরির জন্য সমভাবে দায়ী। আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান (Pedagogy) বলে, শিক্ষার মূল ও প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানো। অর্থাৎ শিক্ষার্থীকে শেখানো হবে কোনো কিছুকে অন্ধভাবে না মেনে ‘কেন’, ‘কীভাবে’, ‘কার স্বার্থে’ এবং ‘কোথায়’- এই মৌলিক প্রশ্নগুলো উত্থাপন করতে। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে উঠেছে মাত্রাতিরিক্ত জিপিএ কেন্দ্রিক, মুখস্থনির্ভর এবং নিখাদ বাজারমুখী। আমরা শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্ককে একেকটি ডেটা স্টোরেজ বা কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বানিয়ে ফেলছি, যেখানে বছরের শুরুতে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য ইনপুট দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার খাতায় তা হুবহু আউটপুট হিসেবে উগরে দেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সৃজনশীলতা, মৌলিক দর্শন বা মানবিক মূল্যবোধের কোনো স্থান নেই। এই যান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক করপোরেট বিশ্বের জন্য হয়তো খুব দক্ষ ‘কেরানি’, ‘ক্যাডার’ বা ‘শ্রমিক’ তৈরি করতে পারছে; কিন্তু সমাজ পরিচালনার জন্য, ঐতিহাসিক সংকট উত্তরণের জন্য কিংবা মানবতাকে পথ দেখানোর জন্য কোনো দূরদর্শী ‘বুদ্ধিজীবী’, ‘চিন্তাবিদ’ বা ‘দার্শনিক’ তৈরি করতে পারছে না। জ্ঞান যেখানে কেবল জীবিকা অর্জনের হাতিয়ার, সেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব অবধারিত।এই গভীর অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ কী? বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান এবং মানবসভ্যতার ইতিহাস আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পথ দেখায়- (ক) কগনিটিভ ডাইভারসিটি (Cognitive Diversity) বা চিন্তার বৈচিত্র্যকে আলিঙ্গন করা: আমাদের সচেতনভাবে এমন সব বই, প্রবন্ধ, ইতিহাস বা মনস্তাত্ত্বিক মতামত পড়তে হবে, যা আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি মস্তিষ্কের নিউরনের কার্যকারিতা ও সিন্যাপটিক সংযোগ বাড়ায়, মনকে নমনীয় করে এবং অন্ধ গোঁড়ামি দূর করে। (খ) ডিজিটাল ডিটক্স এবং গভীর পঠন (Deep Reading): স্ক্রিন ও সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশনের দাসত্ব কমিয়ে বই পড়ার মূল ধারায় ফিরে আসতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো জটিল বা তাত্ত্বিক বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার চর্চা-যাকে ক্যাল নিউপোর্ট ‘ডিপ ওয়ার্ক’ (Deep Work) বলেছেন-তা আমাদের চিন্তার হারিয়ে যাওয়া গভীরতা ও ধারণক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারে। (গ) প্রশ্ন করার স্বাধীনতার প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক স্বীকৃতি: পরিবার, বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রশ্ন করার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং উৎসাহিত করতে হবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে- ভুল প্রশ্ন বা অবান্তর প্রশ্নও সমাজের জন্য কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয়, কিন্তু প্রশ্ন না করার সংস্কৃতি বা প্রশ্ন করতে ভয় পাওয়া একটি জীবন্ত সভ্যতার জন্য সবচেয়ে আত্মঘাতী।মুক্তচিন্তা কোনো তাত্ত্বিক বিলাসিতা বা কেতাবি শব্দ নয়; এটি মানবসভ্যতার টিকে থাকার, বিকশিত হওয়ার এবং বিবর্তিত হওয়ার সবচেয়ে মৌলিক ও অপরিহার্য শর্ত। চার্লস ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বিবর্তনবাদ যেমন বলে- পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে যে প্রজাতি খাপ খাওয়াতে পারে না, সে প্রকৃতির নিয়মেই বিলুপ্ত হয়ে যায়; ঠিক তেমনি সমাজতত্ত্ব ও ইতিহাসের দর্শন বলে- যে সমাজ বা জাতি সময়ের সাথে সাথে চিন্তার বিবর্তন ঘটাতে পারে না, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে পারে না, সেই জাতি সভ্যতার প্রতিযোগিতায় জরায়ুতেই মারা যায় বা অন্যের বুদ্ধিবৃত্তিক দাসে পরিণত হয়। মুক্তচিন্তার যে অদৃশ্য দেয়ালগুলো আজকে প্রযুক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের হাত ধরে আমাদের চারপাশে অবলীলায় গড়ে উঠছে, তা যদি আমরা আমাদের যৌথ প্রজ্ঞা, নৈতিক সাহস এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আঘাত করে ভাঙতে না পারি, তবে একবিংশ শতাব্দীর এই চোখধাঁধানো প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কেবলই এক কংক্রিটের প্রাণহীন কঙ্কাল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে। আর তার ভেতরে বাস করবে এক দিশাহীন, প্রজ্ঞাহীন, যুক্তিহীন এবং চরম দেউলিয়া মানবসমাজ। এখনই সময় সেই দেয়ালগুলো ভেঙে চিন্তার আকাশকে উন্মুক্ত করার, মানুষের মগজকে অ্যালগরিদমের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
০১ অক্টোবর ২০২৬
টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের কমিটি পুনর্গঠন
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার(২৫ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৩ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।সংগঠনের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সদস্যদের ভোটে এটিএন বাংলার প্রতিনিধি মো. নাসির উদ্দিন সভাপতি এবং এনটিভির প্রতিনিধি মহব্বত হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই কমিটি এখনও বহাল রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অপর একটি কমিটি গঠনের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় টাঙ্গাইলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের অনুরোধে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।সংগঠনটির অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ওই কমিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে, একই সঙ্গে টেন্ডারবাজির অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনায় টাঙ্গাইলের টেলিভিশন সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।এ পরিস্থিতিতে সংগঠনের সভা ডেকে কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে ১৩ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।নতুন কমিটিতে রয়েছেন, সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন (এটিএন বাংলা), সহ-সভাপতি কাজী তাজউদ্দিন রিপন (একুশে টেলিভিশন) ও মির্জা মাসুদ রুবল (মাই টিভি)।সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন, মহব্বত হোসেন (এনটিভি), যুগ্ম-সম্পাদক শফিকুজ্জামান মোস্তফা (এশিয়ান টিভি) ও আবু জোবায়ের উজ্জল (বিজয় টিভি), কোষাধ্যক্ষ আহমেদ রাসেল (এসএ টিভি), সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুমি আক্তার পলি (গ্লোবাল টিভি), ক্রীড়া সম্পাদক কেএ মিল্টন (এটিএন নিউজ) এবং দপ্তর সম্পাদক ইমরুল হাসান বাবু (ইসলামিক টিভি)।কার্যকরী সদস্য মোসলেম উদ্দিন আহমেদ (চ্যানেল আই), হাবিবুল্লাহ কামাল (বাংলা টিভি) ও আব্দুর রাজ্জাক (৭১ টিভি)।সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা হচ্ছেন- আতোয়ার রহমান আজাদ (বাংলা ভিশন), একরামুল হক খান তুহিন (মাছরাঙা টিভি), মহিউদ্দন সুমন (জিটিভি), কামাল হোসেন (আর টিভি), সোহেল শরীফ (চ্যানেল ওয়ান), আনিসুর রহমান খান (মাইটিভি, দেলদুয়ার-নাগরপুর), সিরাজ আল মাসুদ (গ্রীণ টিভি), নাঈম খান রাব্বি (স্টার নিউজ), জশিউর রহমান (বৈশাখী টিভি-নাগরপুর), মাসুদ কায়সার (গ্রীণ টিভি), ছানোয়ার হোসেন (বাংলা টিভি-মির্জাপুর)।সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০৯ সালে ‘টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরাম’ নামে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়।প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন চ্যানেল আইয়ের টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এটিএন বাংলার প্রতিনিধি মো. নাসির উদ্দিন।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক
দৃষ্টি নিউজ:আগামী বছরের (২০২৭ সালের) ৩১ জানুয়ারি মধ্যে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)।চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি হাট ও বাজারের স্থায়ী শেড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন বাজারে নির্মিত চার-পাঁচতলা ভবনের ছাদের আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।এতে আরও বলা হয়েছে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান দাপ্তরিক মূল ভবন ও আওতাধীন ভবনগুলোতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ রাখতে হবে বলেও চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ বলেছে, ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়া যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় বাড়বে।‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫’ এর বিধি ১০-এর (ঙ) ও (চ) অনুযায়ী হাট ও বাজার থেকে পাওয়া ইজারার আয়ের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে এবং আরও ১০ শতাংশ উপজেলার অন্তর্গত হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়।নির্দেশনা অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হবে সংশ্লিষ্ট হাট-বাজার কর্তৃপক্ষকে।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাচ্ছে ইজিবাইকের পেটে!
বুলবুল মল্লিক:টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ। একবার বিদ্যুৎ গেলে ৩-৪ ঘণ্টা পর আসে, আর আসলেও তা স্থায়ী হয় মাত্র আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা। এই তীব্র গরমে একদিকে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ, অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে স্থানীয় কলকারখানাগুলোতে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকলেও প্রতি মাসে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভুতুড়ে বিল।অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার এই ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক। বিদ্যুৎ বিভাগ ও গ্যারেজ মালিকদের তথ্যমতে, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাধারণত ১৫ অ্যাম্পিয়ারের ৪ থেকে ৫টি ব্যাটারিতে চলে। এসব ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ থেকে দেড় ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে একটি অটোরিকশার ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করতে দৈনিক ৮ থেকে ১২ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ লাগে।টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় চলাচলকারী প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রতিদিন গড়ে ৭ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। মেগাওয়াটের হিসাবে যার পরিমাণ ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রায় দুটি উপজেলার দৈনিক চাহিদার কাছাকাছি। প্রতিদিন রাত ৮টার পর যখন বিদ্যুতের জাতীয় চাহিদা (পিক আওয়ার) সবচেয়ে বেশি থাকে, ঠিক তখনই জেলার বিভিন্ন গ্যারেজে সারি সারি অটোরিকশা চার্জে বসানো হয়। শ’ শ’ যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর তীব্র বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে- যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীনে টাঙ্গাইল সদরের তিনটি ফিডারে (বৈল্লা, কচুয়াডাঙ্গা ও ময়মনসিংহ রোড) মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ জন। এখানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১০০ থেকে ১১০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট (চাহিদার ৪১ শতাংশ) বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতির মাঝেই কেবল পিডিবির আওতাধীন এলাকাতেই দৈনিক ৩৩ হাজারেরও বেশি ব্যাটারিচালিত যান চার্জ দেওয়া হচ্ছে- যার মধ্যে শহর ও আশপাশের এলাকায়ই রয়েছে ১৫ হাজার যান।অন্যদিকে, টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকা আরও বিস্তৃত। জেলা সদরের কিছু অংশ, কালিহাতী, বাসাইল, সখিপুরের কিছু অংশ, মির্জাপুর, নাগরপুর, দেলদুয়ার এবং সিরাজগঞ্জের চৌহালীর কিছু অংশ নিয়ে গঠিত পল্লী বিদ্যুতের বিশাল অঞ্চলে মোট গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ ৫১ হাজার। এসব এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ২১০ মেগাওয়াট। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় গড়ে মাত্র ৪৭ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে প্রতিদিন ৮৫ থেকে ৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।এছাড়া দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বাসাবাড়িতে ফ্যান, লাইট ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ে। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও তখন বিদ্যুতের ব্যবহার থাকে বেশি। ঠিক সেইসময় থেকেই জেলার বিভিন্ন গ্যারেজে সারি সারি ইজিবাইক ও অটোরিকশা চার্জে বসানো হয়। অথচ চার্জিং লোড বাদ দিলে ৩০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি কমতে পারত। বেশিরভাগ অটোরিকশা গ্যারেজে চার্জ দেওয়া হলেও অনেক যান বাসাবাড়িতেও চার্জ দেওয়া হয়। ফলে দিন দিন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্বক প্রকট আকার ধারণ করছে।বিদ্যুতের এমন ভয়াবহ হাহাকারে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তাদের দাবি, পিক আওয়ারে অটোরিকশা চার্জ দেওয়া বন্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে এবং জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ না বাড়ালে জেলার শিল্পোৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবন অচিরেই সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে।টাঙ্গাইল পৌরসভার একটি স্কুলের শিক্ষক রুমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গরমে রাতে ঘুমাতে পারি না। যদি দেখা যায় এক ঘণ্টা কারেন্ট থাকে, তাহলে দুই ঘণ্টা থাকে না। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে খুবই কষ্টে আছি।’দেলদুয়ারের পাহাড়পুর গ্রামের ছরোয়ার হোসেন বলেন, ‘হিসাব ছাড়াই দিনরাত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে গ্রামের গ্যারেজ গুলোতে শ’ শ’ অটো চার্জ দেওয়া হয়। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে লোডশেডিং কমানো কঠিন হবে।’নাগরপুরের নয়াপাড়া গ্রামের অটোরিক্সাচালক ছানোয়ার বলেন, ‘সারাদিন যা আয় হয়, তার বড় অংশই চার্জিংয়ে চলে যায়। প্রতিটি গাড়ি চার্জ দিতে গ্যারেজে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দিতে হয়। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এভাবে চার্জ দিচ্ছি। কারণ এই গাড়ি দিয়ে আমাদের কর্ম করে খেতে হয়।’তবে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা এখন শহর ও গ্রামীণ এলাকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম। একই সঙ্গে হাজারও মানুষের জীবিকারও উৎস। তবে নিয়ন্ত্রণহীন চার্জিং ব্যবস্থা বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় আনা, অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন তৈরি এবং বিদ্যুতের পিক আওয়ারে চার্জিং সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।টাঙ্গাইল পিডিবির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর তালুকদার বলেন, ‘যেখান আমরা গ্রাহকদের চাহিদামত বিদ্যুৎ দিতে পারছি না। সেখানে হাজার হাজার ইজিবাইক ও অটোচার্জ দিতে প্রচুর বিদ্যুত খরচ হচ্ছে। তবে আমরা তাদের বন্ধও করতে পারছিনা। পৌর কর্তৃপক্ষ এবং বিআরটিএ সরব না হলে এগুলো বন্ধ হবে না। কারণ হাজার হাজার ইজিবাইক ও অটোরিক্সা তাদের অনুমতি(!) না নিয়েই চলাচল করছে। তবে আমরা অবৈধ লাইন নিয়ে যারা চার্জিং- এর গ্যারেজ বানিয়ে চার্জ দিচ্ছে সেখানে অভিযান পরিচালনা করছি।’
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মায়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তিন বছরের ছেলে খুন
সখীপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের সখীপুরে মায়ের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে আশরাফুল ইসলাম নামে তিন বছরের এক শিশুকে খুন হয়েছে। এ ঘটনায় তার ৯ বছরের বোন সিরজাতুন গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার(১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের খালিয়ারবাইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল ইসলাম ওই এলাকার শাহীন আলমের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধু আকলিমা আক্তার ঘরে থাকা কেক কাটার একটি ধারালো ছুরি দিয়ে তার দুই সন্তানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে শিশু আশরাফুল ও সিরজাতুন গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। তাদের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দুই শিশুকে পাশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সিরজাতুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গুজব ও ডিপফেক : সত্য-মিথ্যার নতুন সংকট
মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল::মানবসভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে তথ্য ও জ্ঞানের আদান-প্রদানই ছিল ক্ষমতার মূল নিয়ামক ও প্রগতির চালিকাশক্তি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর উত্তর-আধুনিক পর্বে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও পঞ্চম প্রজন্মের (5G) প্রযুক্তির জ্যামিতিক বিকাশ তথ্যপ্রবাহের চিরন্তন ব্যাকরণকে আমূল ওলটপালট করে দিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক তথ্য-বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, যেখানে তথ্যের অবাধ ও গণতান্ত্রিক অভিগম্যতার সমান্তরালে এক চরম বিপর্যয়কর সংকটের অশুভ উত্থান ঘটেছে- যার নাম ‘গুজব ও ডিপফেক’। এই যমজ সংকট আজ কেবল সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে নাড়া দিচ্ছে না বরং তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমিকতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সনাতন কাঠামোকেও এক অস্তিত্ববাদী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তির এই অনৈতিক অপব্যবহারের ফলে বস্তুনিষ্ঠ সত্য ও কৃত্রিম মিথ্যার মধ্যকার যে সুক্ষ্ম বিভাজিকা ছিল- তা আজ চরমভাবে বিলুপ্তপ্রায়। ফলশ্রুতিতে মানবসমাজ অবতীর্ণ হয়েছে এক গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক (Epistemological), সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের অতল গহ্বরে।গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য (Misinformation & Disinformation) ছড়ানোর অপকৌশল মানব ইতিহাসের এক প্রাচীন ব্যাধি। আদিম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে আধুনিক বিশ্বযুদ্ধ-সবখানেই প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সাইবার-বাস্তবতায় এর বিস্তারের গতি ও ব্যাপ্তি ভৌগোলিক সীমানাকে অতিক্রম করে মহাজাগতিক রূপ ধারণ করেছে। এই ক্ষয়িষ্ণু প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও অত্যাধুনিক সংযোজন হলো ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম শাখা ‘ডিপ লার্নিং’ (Deep Learning) এবং জালিয়াতি বা ‘ফেক’ (Fake) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রযুক্তি মূলত জেনারেটিভ অ্যাডভারসারিয়াল নেটওয়ার্কস (GANs) নামক শক্তিশালী অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর মাধ্যমে যেকোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির কণ্ঠস্বর (Voice Cloning), মুখাবয়ব (Facial Re-enactment) এবং দৈহিক অঙ্গভঙ্গি অবিকল নকল করে কৃত্রিম অডিও ও ভিডিও ফাইল প্রস্তুত করা হয়। এর ভয়াবহতা এখানেই যে, একজন ব্যক্তি যে কথা কখনো উচ্চারণ করেননি কিংবা যে কর্মকাণ্ডে কখনো লিপ্ত হননি, তাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেই দৃশ্যপটে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলস্বরূপ, টেক্সট বা লেখনীভিত্তিক গুজবের সনাতন যুগ পেরিয়ে মানবজাতি এখন প্রবেশ করেছে ‘অতি-বাস্তবসম্মত’ (Hyper-realistic) অডিও-ভিজুয়াল মিথ্যার এক গোলকধাঁধায়- যেখানে চোখের দেখা কিংবা কানের শোনাকেও আর ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়ার উপায় নেই।ডিপফেক এবং সিন্থেটিক মিডিয়ার (Synthetic Media) বিধ্বংসী প্রভাব আজ আর কোনো তাত্ত্বিক আশঙ্কা নয় বরং এক কঠোর ও নির্মম বাস্তব। আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের যে পরিসংখ্যান ও খতিয়ান পাওয়া যায়- তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ব্রুকিং ইনস্টিটিউশন (Brookings Institution) -এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারনেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা উৎপাদিত ভুয়া ও বিকৃত তথ্যের পরিমাণ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ডিপট্রেস’(Deeptrace) -এর এক বৈশ্বিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইন্টারনেটে লভ্য ডিপফেক ভিডিওর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এবং এর একটি বিশাল অংশ সমাজ ও রাজনীতির স্থিতিশীলতা বিনষ্টের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।উন্নত দেশগুলোতে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে ‘গুজব ও ডিপফেক’ আকাশচুম্বী তো বটেই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রযুক্তির এই নেতিবাচক জোয়ার থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য-যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের (যেমন: রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব, বিডি ফ্যাক্টচেক) বার্ষিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার রাজনৈতিক, ধর্মীয়, গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কুৎসাভিত্তিক গুজব ও ডিপফেক কনটেন্ট সনাতন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিগত সাধারণ নির্বাচনগুলোর সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে চরিত্র হননের এক কুৎসিত সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া, স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয়ে ভুয়া অডিও ক্লিপ ও বিকৃত ছবি প্রচার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার একাধিক নারকীয় ঘটনা ঘটেছে- যা দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর এক প্রচণ্ড আঘাত।গবেষণাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রযুক্তির উৎকর্ষের চেয়েও মানুষের আদিম মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাই গুজব ও ডিপফেক বিস্তারের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-র গবেষকদের পরিচালিত একটি যুগান্তকারী মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বস্তুনিষ্ঠ সত্য খবরের তুলনায় একটি ভুয়া বা কাল্পনিক খবর ৬ গুণ দ্রুত মানবসমাজে পরিব্যপ্ত হয় এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের দ্বারা এটি ৭০ শতাংশ বেশি শেয়ার বা পুনঃপ্রচারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর মূল কারণ হলো মানুষের ‘কনফার্মেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা ‘নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত’। মানুষ স্বভাবগতভাবেই সেই তথ্য বা বিবরণীকে অতি দ্রুত সত্য বলে গ্রহণ করে, যা তার নিজের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাস, অন্ধ আবেগ কিংবা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের অনুকূলে যায়। ডিপফেক প্রযুক্তি মূলত মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক ফ্রন্টলাইনকেই আক্রমণ করে। যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘোর বিরোধী কোনো রাজনৈতিক চরিত্রের একটি চরম আপত্তিকর বা বিতর্কিত ভিডিও স্ক্রিনে দেখতে পান, তখন তার যৌক্তিক মস্তিষ্ক সেটির সত্যতা বা কারিগরি নির্ভুলতা যাচাই করার পূর্বেই মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেটিকে সত্য বলে রায় দিয়ে দেয়। এই মানসিক অসচেতনতাই অপতথ্য ও কৃত্রিম মিথ্যার সাম্রাজ্যকে দিন দিন আরও শক্তিশালী করে তুলছে।সমাজ, রাষ্ট্র ও সামগ্রিক নৈতিকতার অবক্ষয়ে ডিপফেক- এর বহুমাত্রিক অভিঘাত লক্ষণীয়। যেমন- (১) গণতন্ত্রের সংকট ও জনমতের ভাঙন: ডিপফেক প্রযুক্তির অবাধ বিস্তারের ফলে যেকোনো রাষ্ট্রীয় নির্বাচন বা জাতীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে কোনো প্রার্থীর এমন কোনো ভুয়া ও স্পর্শকাতর স্বীকারোক্তির ভিডিও প্রকাশ করা সম্ভব, যা জনমতকে সম্পূর্ণ উল্টো খাতে প্রবাহিত করতে পারে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর অসারতা প্রমাণিত হলেও, ততক্ষণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়ে যায়। (২) নারীর নিরাপত্তা ও জেন্ডারভিত্তিক সাইবার সহিংসতা: বিশ্বব্যাপী ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এর প্রায় ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রই হলো নারীর অনুমতিবিহীন পর্নোগ্রাফি বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত। এই প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমাজের প্রভাবশালী বা সাধারণ নারীদের সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার করা হচ্ছে- যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার, মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং সামাজিক মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। (৩) গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার সংকট ও ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’: যখন নাগরিক সমাজ বুঝতে পারে যে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রমাণাদিও কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব, তখন সমাজে এক চরম সংশয়বাদের জন্ম হয়। এর ফলে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকেও মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’ (Liar’s Dividend)- যেখানে প্রকৃত অপরাধীরাও নিজেদের বাস্তব অপরাধের ভিডিওকে ‘ডিপফেক’ বা ‘সাজানো’ বলে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।এই সর্বগ্রাসী সংকট থেকে উত্তরণের পথ কোনো একক ও সরল সমীকরণে আবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রযুক্তি খাতের এক সমন্বিত, বহুমাত্রিক ও কঠোর প্রতিরোধমূলক মহাপরিকল্পনা। যেমন- (ক) প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ (Algorithmic Countermeasures): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষাক্ত ছোবল থেকে বাঁচতে আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে (AI vs AI)। মেটা, গুগল, ওপেনএআই-এর মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে- যাতে তারা এমন শক্তিশালী ওয়াটারমার্কিং এবং ক্রিপ্টোগ্রাফিক মেটাডেটা প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে যেকোনো এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ইন্টারনেটে আপলোড হওয়া মাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডিপফেক’ হিসেবে চিহ্নিত বা ফ্ল্যাগড হয়ে যায়। (খ) আইনকাঠামোর আধুনিকায়ন ও কঠোর প্রয়োগ: বাংলাদেশের বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইন বা অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আইনগুলোকে আরও সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী করতে হবে। বিশেষ করে ‘ডিপফেক জালিয়াতি’ ও ‘ডিজিটাল ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন’-কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে- যাতে অপরাধীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সৃষ্টি হয়। (গ) মূলধারার গণমাধ্যমের রূপান্তর ও ফ্যাক্ট-চেকিং সেল: মূলধারার সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে কেবল দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় না নেমে, তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি বড় গণমাধ্যমে একটি সুসজ্জিত এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ফেক নিউজ ও ডিপফেক ডিটেকশন সেল’ থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। (ঘ) ডিজিটাল লিটারেসি ও সামাজিক প্রতিরোধ: একটি সমাজকে ভেতর থেকে সচেতন না করলে কেবল আইন দিয়ে অপরাধ দমন অসম্ভব। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের পাঠ্যসূচিতে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা ‘তথ্য সাক্ষরতা’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সাধারণ নাগরিককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার পূর্বে ‘থিংক বিফোর ইউ লিঙ্ক’ (Think Before You Link) নীতি অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।ডিপফেক এবং গুজব কেবল প্রযুক্তির বিবর্তনের কোনো নিরীহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটি মূলত সত্যের চিরন্তন ধারণার ওপর এক সুপরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক আঘাত। আমরা যদি এখনই সামষ্টিক বুদ্ধিমত্তা, কঠোর আইনি কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে এই ইনফোডেমিক বা তথ্যের মহামারীকে রুখে দিতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানবসভ্যতা এক অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে- যেখানে সত্য হবে আপেক্ষিক আর মিথ্যা হবে সর্বজনীন। সত্য ও মিথ্যার এই যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষে লড়াই করাটা আজ কেবল কোনো নৈতিক দায়িত্ব নয় বরং এই ডিজিটাল মহাবিশ্বে আমাদের মানবিক অস্তিত্ব, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক চূড়ান্ত ও অনিবার্য সংগ্রাম।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গুণগত ও অর্থবহ কানেক্টিভিটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য : আইসিটি মন্ত্রী
লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, শুধুমাত্র সংযোগ নয়- গুণগত ও অর্থবহ কানেক্টিভিটিই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। সোমবার(৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (APT)-এর ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭তম সভার (AWG-37) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন মোবাইল সাবস্ক্রিপশন রয়েছে এবং ১০৮ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক ফোরজি সেবা ব্যবহার করছেন। দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ফোরজি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং এক লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়- গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে AI, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ফাইভজি সহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।তিনি বলেন, AWG আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ ওয়্যারলেস প্রযুক্তির প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তিনি AWG-37-এর আয়োজনের সফলতা কামনা করেন।ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতি, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপিটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আশা করি, এই সভার মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অব.) মো. এমদাদ উল বারী।এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত AWG-37 সভায় বেতার যোগাযোগ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, উদীয়মান প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা এবং আইনি সীমা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। সভায় এসব বিষয়ে আঞ্চলিক সুপারিশ প্রণয়ন ও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।বাংলাদেশে AWG-37 আয়োজন দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান, কমিশনারবৃন্দ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ এপিটির সেক্রেটারি জেনারেল Dr. Masanori Kondo. এবং এপিটির ওয়ারলেস গ্রুপের সভাপতি Dr. Daejung Kim উপস্থিত ছিলেন।
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির দূত
:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::২০২৬ সালের বিশ্ব রাজনীতি ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চালচিত্র এক গভীর ও অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের তীব্র প্রভাব প্রমাণ করেছে সনাতন ধারার আবেগসর্বস্ব ও স্লোগানভিত্তিক রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ কার্যকারিতা হারিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার, জলবায়ু বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক নব্য-বাস্তবতার এই যুগে বাংলাদেশের টিকে থাকা এবং এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে সম্পূর্ণ নতুন এক রাজনৈতিক দর্শনের ওপর। বর্তমান বাস্তবতায় আবেগ নয় বরং বিজ্ঞানমনস্ক, দূরদর্শী এবং গবেষণানির্ভর ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা’-ই সংকটের গোলকধাঁধা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চলছে তীব্র মেরুকরণ। পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যুদ্ধ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক প্রভাবের বাইরে নয়। এই অবস্থায় কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন গভীর কৌশলগত বিশ্লেষণ, দক্ষ কূটনীতি এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি নির্ধারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়াতে হলে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে গবেষণালব্ধ। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের প্রচলিত কর্মসংস্থান কাঠামোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সনাতন শ্রমশক্তির ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার দিন শেষ। এখন প্রয়োজন মেধা-ভিত্তিক অর্থনীতি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে জাতি হিসেবে আমরা এক বিশাল বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুখে পড়ব। বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা এখানে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কারিগরি দক্ষতার উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল তৈরিতে পথ দেখাবে। তদুপরি, মহামারী-উত্তর অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আমাদের নব্য-বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাজার নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে বৈদেশিক ঋণের ব্যবস্থাপনা- সব ক্ষেত্রেই আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি খাতের নীতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রতিফলন এবং ডেটা-চালিত (data-driven) সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।চলতি ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং প্রযুক্তি, তথ্য ও অর্থনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ধারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের সস্তা শ্রমের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে মেধা ও দক্ষতার ওপর জোর দিতে হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জেনারেটিভ এআই এবং রোবোটিক অটোমেশনের কারণে শ্রমবাজার দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। যে সব দেশ প্রযুক্তির এই গতিপ্রকৃতি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে- তারা তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ছে। দেশের ভেতরে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে তুঙ্গে। সমকালীন তরুণ সমাজ সস্তা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবমুখী ও প্রায়োগিক রূপরেখা দেখতে চায়।টেকসই উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মেধাভিত্তিক ও তথ্য-উপাত্তনির্ভর রোডম্যাপের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান তিনটি চালিকাশক্তির নিরিখে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যেতে পারে- ক) আইটি সেক্টর: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও মেধার বিশ্বায়নে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিনির্ভর। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) সাম্প্রতিক সমীক্ষা ও ২০২৬ সালের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও করপোরেট খাতের প্রায় ২৫% মধ্যম সারির চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়বে, যদি না আমরা দ্রুত দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারি। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেঙ্গালুরু যেখানে বার্ষিক আইটি রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি এখনো ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বৃত্তে আটকে আছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০,০০০ আইটি গ্র্যাজুয়েট বের হলেও, বৈশ্বিক চাহিদার সাথে কারিকুলামের অমিলের কারণে প্রায় ৪২% গ্র্যাজুয়েট সরাসরি আন্তর্জাতিক মানের কাজ পাওয়ার যোগ্যতা হারাচ্ছেন। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় এজেন্ডায় এআই গভর্ন্যান্স, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং সেমিকন্ডাক্টর মাইক্রোচিপ ডিজাইনে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি। ভারতের আইআইটি (IIT) বা সিলিকন ভ্যালির আদলে বিশেষায়িত টেক-হাব তৈরি করে তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং থেকে উদ্যোক্তায় রূপান্তর করার মহাপরিকল্পনা নিতে হবে।খ) বৈদেশিক রেমিট্যান্স: বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রধানতম উৎস হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। তবে গত কয়েক দশক ধরে অনুসৃত ‘শুধু অদক্ষ শ্রমিক’ পাঠানোর কৌশল ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো (যেমন- সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০) এখন মেগা সিটি, পর্যটন ও হাই-টেক প্রজেক্টের দিকে ঝুঁঁকছে, যার ফলে সেখানে সাধারণ নির্মাণ শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত কমছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি দিলেও তাদের প্রায় ৭৫% থেকে ৮০% সম্পূর্ণ অদক্ষ। ফলে ফিলিপাইন বা শ্রীলঙ্কার একজন দক্ষ নার্স, প্রকৌশলী বা আইটি কর্মী যেখানে প্রতি মাসে গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ডলার দেশে পাঠান, সেখানে একজন বাংলাদেশি সাধারণ শ্রমিক কঠোর পরিশ্রম করেও পাঠাতে পারেন মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার। আমাদের রেমিট্যান্স নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নার্সিং, কেয়ার-গিভিং, আধুনিক ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রযুক্তিতে ডিপ্লোমাধারী দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করতে হবে। মেধাভিত্তিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন নতুন উন্নত দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করাই হবে আগামী দিনের রেমিট্যান্স সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। মুদ্দা কথা, অদক্ষ শ্রমের অবসান করে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।গ) কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। অসময়ী বন্যা, দীর্ঘায়িত খরা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ দেশের খাদ্য উৎপাদনকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছর দেশে আবাদি কৃষি জমি কমছে প্রায় ০.৫% হারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, স্মার্ট ও প্রিসিশন এগ্রিকালচার (Precision Agriculture) তথা প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে প্রবর্তন না করলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে প্রধান দানাদার শস্যের উৎপাদন ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এটি ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁঁকিতে ফেলবে। নেদারল্যান্ডসের মতো একটি ক্ষুদ্র দেশ যেখানে শুধু বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, গ্রিনহাউস প্রযুক্তি এবং ডাটানির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, আমাদেরও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, আইওটি (IoT) সেন্সর দিয়ে মাটির আর্দ্রতা মাপা এবং লবণাক্ততা ও খরা-সহিষ্ণু হাইব্রিড জাতের বীজ উদ্ভাবনে গবেষণাগারে বরাদ্দ দ্বিগুণ করতে হবে। রাজনীতি কেবল ক্ষমতা কেন্দ্রিক কৌশল বা জনসভার সস্তা করতালির মাধ্যম নয়; আধুনিক যুগে রাজনীতি হলো রাষ্ট্রপরিচালনা ও জনকল্যাণের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনটি বুদ্ধিবৃত্তিক স্তম্ভ অত্যন্ত জরুরি। যেমন- ১. থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতি (গবেষণা ও তথ্যনির্ভর পলিসি), ২. যাগ্যতার মূল্যায়ন (মেধাবীদের নীতি-নির্ধারণে আনা) এবং ৩. প্রযুক্তি-বান্ধব সুশাসন (দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল সেবা)। থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতির বিকাশ: রাজনৈতিক দলগুলোকে পেশী শক্তি ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা উইং বা ‘থিঙ্ক-ট্যাংক’ গড়ে তুলতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিদদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় পলিসি খসড়া তৈরি করতে হবে। যোগ্যতার মূল্যায়ন (Meritocracy): নীতিনির্ধারণী ও সংসদীয় পর্যায়ে চাটুকারিতা কিংবা আর্থিক লেনদেনের বদলে খাঁটি মেধা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হলে রাষ্ট্র পরিচালনার চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ সুশাসন: সরকারি ও প্রশাসনিক সব ধরনের সেবা সম্পূর্ণভাবে ব্লকচেইন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে একদিকে যেমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ হবে। এই রূপান্তরের জন্য তীব্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাহসের প্রয়োজন।বর্তমানে জটিল ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অর্থনৈতিক সমীকরণের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আবেগ কিংবা তাৎক্ষণিক লোকদেখানো সস্তা সিদ্ধান্ত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকট দূর করা অসম্ভব। অতীতে ভুল পরিকল্পনার মাশুল এই জাতিকে বহু বছর ধরে গুনতে হয়েছে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য সুনিশ্চিত করতে হলে আমাদের রাজনীতিকে হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক এবং রাষ্ট্রপরিচালনাকে হতে হবে দূরদর্শী ও বিজ্ঞানমনস্ক। মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং সুপরিকল্পিত রোডম্যাপের মাধ্যমেই বাংলাদেশ একটি স্বাবলম্বী, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে। তাই সময় ও ইতিহাসের অমোঘ দাবি মেনে দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়- চলমান সব সংকটের আবর্তে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির একমাত্র দূত’।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
২০ আগস্ট ২০২৬
প্রতিটি মানুষের কাছে টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দিতে হবে: আইসিটি মন্ত্রী
লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত ও মানসম্মত মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল অপারেটর রবি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি। বুধবার(১৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবি’র করপোরেট কার্যালয়ে ‘ঢাকা নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন- শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রাম পর্যায়ে উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নয়নে মোবাইল অপারেটরদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এসব উদ্যোগের সুফল যেন সরাসরি সাধারণ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা মডার্নাইজেশন প্রকল্পের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সারাদেশের গ্রাহকরাও একই ধরনের উন্নত সেবা পাবেন।গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কল ড্রপ, প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়া, ডাটা ও ব্যালান্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের আরও কার্যকর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্যাকেজের শর্ত, মেয়াদ এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা একা সবকিছু করতে পারে না; শিল্পখাতের সবাইকে একটি টিম হিসেবে কাজ করতে হবে। গত ছয় মাসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করা হয়েছে।উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ মোবাইল অপারেটরদের ডেটা প্যাকেজের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাদারা এবং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।রবির তথ্যমতে, বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে, কল ড্রপ ২০ শতাংশ কমেছে এবং বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরে ইনডোর কভারেজ ও সংযোগ আগের তুলনায় তিন গুণ উন্নত হয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্কের কারণে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচও ২০ শতাংশ কমেছে।
১৯ আগস্ট ২০২৬
সুখবর দিল ফেসবুক
দৃষ্টি নিউজ:ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধের পদ্ধতিতে দেশের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ঋণ বা ডেবিট কার্ডের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। এই সুবিধা এখনো সবার জন্য চালু হয়নি, তবে পরীক্ষামূলকভাবে অনেক ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বিল সফলভাবে পরিশোধ করেছেন।বিভিন্ন ব্যবহারকারীর শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার বিল পরিশোধের অংশে ব্যাংক কার্ডের পাশাপাশি বিকাশের নামও যুক্ত হয়েছে। কয়েকজন ব্যবহারকারী এই পদ্ধতিতে বিল পরিশোধ করতে পেরেছেন বলেও জানা গেছে।বাংলাদেশে ফেসবুকের বিজ্ঞাপনের বিল দিতে আন্তর্জাতিক কার্ড, দ্বৈত মুদ্রা সুবিধা এবং বিভিন্ন ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হতো। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও এই প্রক্রিয়া ছিল ব্যয়বহুল ও জটিল। বিকাশ যুক্ত হলে স্থানীয় মুদ্রায় আরও সহজে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মেটা সাধারণত নতুন বিল পরিশোধ সুবিধা ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। তাই এখনো এটি সব ব্যবহারকারীর কাছে দৃশ্যমান না হলেও পরীক্ষা সফল হলে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মেটার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুবিধা কবে সবার জন্য চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরীক্ষামূলকভাবে এই সুবিধা চালুর উদ্যোগকে বাংলাদেশের ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১২ আগস্ট ২০২৬
যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে
দৃষ্টি নিউজ:যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম। বোর্ড সদস্যরা সশরীরে এবং ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাবের ওপর মতামত দেন।বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু সাইটে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি ইজারা দেওয়া হবে। সেখানে ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।সভার শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বোর্ডের আলোচ্যসূচি এবং পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পরে বোর্ড সদস্যরা বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।এ ছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন আরও কার্যকর করতে পুনর্বাসন ভিলেজে ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বহাল এবং সেতু নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণায় দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে সেন্টার ফর ব্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (সিবিআরটি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমূলক সুবিধা আরও যুগোপযোগী করতে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট বিধিমালা, ২০১০’-এ ‘বার্ষিক বৃত্তি প্রদান’-এর পরিবর্তে ‘বার্ষিক শিক্ষা অনুদান সহায়তা’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি সময়ের দাবি এবং এ ধরনের প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মন্ত্রী বোর্ডের গৃহীত সব সিদ্ধান্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, যমুনা সেতু এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে অব্যবহৃত সরকারি জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
০৪ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলে উচ্চ প্রোটিনের ‘সুপার ব্যানানা’ আবিষ্কার
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের কুরতুবী মাদরাসার আলিম শাখার ছাত্রীরা উচ্চ প্রোটিনের ‘সুপার ব্যানানা’ আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তারা মুসুর ডালের জিনে দিয়ে তৈরি করেছে উচ্চ প্রোটিনের ‘সুপার ব্যানানা’। তাদের এ আবিষ্কারের স্বীকৃতিও মিলেছে। চলতি বছরের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের মেলায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও টাঙ্গাইল জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে। সেখানে পুরষ্কৃত না হলেও বিচারক থেকে শুরু করে আমন্ত্রিতদের ভুয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘সুপার ব্যানানা’ হচ্ছে- একটি কলা যা উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাদ অপরিবর্তিত রেখে কলাকে অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ করা যাবে। এটি অপুষ্টি দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এ প্রযুক্তি আবিষ্কারক দলের ছাত্রীরা হচ্ছেন- মাদরাসার প্রথম বর্ষের ফাতেমাতুজ জহুরা, অনামিকা আলফি আমরি, মিফতাহুল জান্নাত মায়া, মেঘলা আক্তার ও ফারজানা আক্তার। উদ্ভাবক দলের দলনেত্রী ফাতেমাতুজ জহুরা জানান, এই প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ হচ্ছে- কলার ডিএনএ নিষ্কাশন করা এবং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রোটিন সমৃদ্ধ কলার একটি মডেল তৈরি করা। এ প্রজেক্টে মুসুর ডাল থেকে ডিএইচডিপিএস জিন নির্বাচন করা হয়েছে- যা লাইসিন সমৃদ্ধ প্রোটিন উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লাইসিন একটি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড যা মানবদেহের বৃদ্ধি, টিস্যু গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিভিন্ন জৈবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণ কলায় লাইসিনের পরিমাণ কম থাকায় জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এর পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষক ছাত্রীরা জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে তারা জীববিজ্ঞান ল্যাব ক্লাসে ডিএনএ প্রযুক্তি নিয়ে তারা কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই তাদের মাথায় আসে নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের ধারণা। কোন চিন্তা-ভাবনা না করে শুরু করে দেন গবেষণা। তাদের গাইড শিক্ষক আরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চলতে থাকে গবেষণা। প্রবল আগ্রহ ও কঠোর সাধনা শুরু হয়। তাদের সময়ের বড় অংশ কাটতে থাকে ল্যাবে-গবেষণার কাজে। মাত্র এক মাসের মাথায়ই তারা সাফল্যের দেখা পান। উদ্ভাবন করেন-স্বাদ অপরিবর্তিত রেখে কলাকে অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ করা সম্ভব। তারা এ প্রজেক্টের নাম দেন, ‘প্রোটিন সমৃদ্ধ কলা তৈরির জন্য কলার ডিএনএ নিষ্কাশন ও রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ মডেল’। চলতি বছরের ৮ ও ৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদর উপজেলা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে উপজেলা পর্যায়ে কুরতুবী আলিম মাদরাসার ছাত্রীদেরা নতুন উদ্ভাবন প্রথম স্থান অর্জন করে। একই মাসের ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল জেলা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে। এরপর বিভাগীয় পর্যায়ে গিয়ে দ্বিতীয় হয়ে অংশগ্রহণ করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায়। জাতীয় পর্যায়ে পুরষ্কৃত হতে না পারলেও প্রশংসিত হয়েছে এ আবিষ্কার। কুরতুবী আলিম মাদরাসার ছাত্রীরা জানায়, কলা পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ফল। এটি শক্তি, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের ভালো উৎস হলেও এতে কিছু অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিশেষ করে লাইসিনের পরিমাণ কম থাকে। আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফসলের পুষ্টিমান বৃদ্ধি করা সম্ভব। রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক জীবের উপকারী জিন অন্য জীবের মধ্যে প্রবেশ করানো যায়। এই প্রজেক্টে কলার ডিএনএ নিষ্কাশনের পাশাপাশি মুসুর ডালের ডিএইচডিপিএস জিন কলার মধ্যে সংযুক্ত করার একটি তাত্ত্বিক মডেল তৈরি করা হয়েছে- যার মাধ্যমে লাইসিন সমৃদ্ধ ও অধিক পুষ্টিকর কলা উৎপাদনের ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রজেক্টের উদ্দেশ সম্পর্কে ছাত্রীরা জানায়- কলার ডিএনএ নিষ্কাশন করা, রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা, মুসুর ডালের ডিএইচডিপিএস জিন কলার ডিএনএ-তে সংযুক্ত করার মডেল তৈরি করা, লাইসিন সমৃদ্ধ ও প্রোটিনযুক্ত কলা উৎপাদনের ধারণা প্রদান করা, কলার স্বাদ ও গুণগত মান অপরিবর্তিত রাখা, অপুষ্টি দূরীকরণে জৈবপ্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরা এবং কৃষি ও অর্থনীতিতে জেনেটিক পরিবর্তিত ফসলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা। এ প্রযুক্তি আবিষ্কারের জন্য তারা কিছু উপকরণ বেছে নিয়েছেন। তারা মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- পাকা কলা, লবণ, গরম পানি, ডিশ ওয়াশিং লিকুইড, ব্লেন্ডার/চামচ, কফি ফিল্টার বা পাতলা কাপড়, টেস্ট টিউব/গ্লাস, ঠান্ডা অ্যালকোহল বা ইথানল এবং কাঠি বা টুথপিক। ছাত্রীরা জানায়, বাণিজ্যিকভাবে প্রোটিন সমৃদ্ধ কলা উৎপাদন, অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ ফসল তৈরি, বৃহৎ পরিসরে গবেষণা ও চাষাবাদ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জৈবপ্রযুক্তি গবেষণায় অংশগ্রহণ করা আবিষ্কৃত প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। তবে এজন্য তাদের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এজন্য তাদের উন্নত ল্যাব সুবিধা প্রয়োজন। জেনেটিক পরিবর্তিত খাদ্য নিয়ে সামাজিক ও নৈতিক বিতর্ক থাকতে পারে। বাণিজ্যিক ব্যবহারের আগে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন বলে তারা উল্লেখ করেন। ছাত্রীদের আবিষ্কারের গাইড শিক্ষক আরিফুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহ অনেক বেশি। ওদের একটু ধারণা দেওয়া হলে ওরা ভালো কিছু করতে পারবে। ছাত্রীরা দেখিয়েছে, জিন ট্রান্সফারের মাধ্যমে কিভাবে অত্যাবশকীয় এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ প্রোটিন উৎপাদন করা যায়। কুরতুবী আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম জানান, দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে- যাতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। টাঙ্গাইলের কুরতুবী মাদরাসার চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান জানান, এই উদ্ভাবন দেশের জন্য উজ্জ্বল ভূমিকা রাখবে। এই সাফল্য তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের দুয়ারে খুব সহজেই প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
২৫ জুন ২০২৬
টাঙ্গাইলে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ’ ৭ম ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(২০ জুন) সকালে শহরের আশেকপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে ওই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর মো. মোজাম্মেল হক খান। দেশের আইটি প্রতিষ্ঠান ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড’ এই প্রকল্পের পরিচালনায় জেলার ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ’ ৭ম ব্যাচের পরীক্ষায় ২০১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এ সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি ও জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফাতেমা বেগম, সহ-সভাপতি ও জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রথীন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের জেলা কো-অর্ডিনেটর মো. জুয়েল রানা উপস্থিত ছিলেন। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের জেলা শাখার সহকারী কো-অর্ডিনেটর তৌহিদুর রহমান, প্রশিক্ষক ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার সঙ্গীতা সরকার, ডিজিটাল মার্কেটিং ও প্রশিক্ষক অমিত মন্ডল, প্রশিক্ষক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার মাহবুবুর রহমান সহ ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধিরা ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। লিখিত পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফল এসএমএস -এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের জানানো হবে এবং আগামিকাল রোববার(২১ জুন) মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ফ্রিল্যান্সিং-এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে দেশের ৬৪ জেলায় যুব ও যুব মহিলাদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
২০ জুন ২০২৬
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা
দৃষ্টি রিপোর্ট: বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল আয়োজিত জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ওই প্রতিযোগিতানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। শনিবার(১৬ মে) ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির সহযোগী বাস্তবায়নে দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইঞ্জিনিয়রিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান, সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। এছাড়া বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল নাসিরসহ অন্যান্য শিক্ষক ও আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসে দেশের মেধাবী তরুণ শিক্ষার্থীদের এমন একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজনে অংশ নিতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সঙ্গে পথচলার এক অনুপ্রেরণাময় শুরু। আজ আমি যাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, তোমরাই আগামি দিনের বিজ্ঞানী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং দেশের নেতৃত্বদানকারী নাগরিক। তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও জ্ঞানই সবচেয়ে বড় শক্তি। যে জাতি প্রযুক্তিতে দক্ষ, সেই জাতিই বিশ্বে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং, যুক্তিভিত্তিক চিন্তা ও সাধারণ জ্ঞানের চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশ, প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতায় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় জুনিয়র (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম), সেকেন্ডারী (৯ম থেকে ১০ম) ও সিনিয়র একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির গ্রুপে ২৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কুইজ প্রতিযোগিতায় জুনিয়র (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম) ও সিনিয়র (একাদশ থেকে দ্বাদশ) শ্রেণির ১০১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ৩টি গ্রুপের বিজয়ী ৮ জনকে এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় ২টি গ্রুপের বিজয়ী ২০জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
১৭ মে ২০২৬
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া উপাচার্য শহিদুল ইসলাম
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের সন্তোষস্থ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ড. শহিদুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপাচার্য হিসেবে তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনবোধে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। নতুন উপাচার্যের নিয়োগে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন, নতুন প্রশাসনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার পরিবেশ সম্প্রসারণ, সেশনজট নিরসন, আবাসন সংকট সমাধান এবং ক্যাম্পাসের সামগ্রিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন ও স্বচ্ছ একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
১৫ মে ২০২৬