দুর্যোগ/দুর্ঘটনা

হঠাৎ ঝাপটায় শ’ শ’ কৃষকের স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড

হঠাৎ ঝাপটায় শ’ শ’ কৃষকের স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড

মধুপুর প্রতিনিধি:চাঁদের হাসি মেখে উঁকি দিচ্ছিল কলার কাঁদি, আনারসের বাগানেও ফুল বের হচ্ছে, পেঁপে ও সবজি বাগানেও ছিল আশানুরূপ ফলন। ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকরা। স্বপ্ন দেখছিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর। অসময়ে হঠাৎ ঝড়ের ঝাপটায় স্থানীয় শ’ শ’ কৃষকের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। কোথাও সারি সারি কলাগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস ও পেঁপের বাগান। ঝড়ে সবজি ক্ষেতেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে মাত্র কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে প্রায় ১১শ’ বিঘা জমির বিভিন্ন জাতের ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে। আকস্মিক ঝড়ের ওই থাবায় কৃষকের সেই স্বপ্ন লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে।ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল অরনখোলা, শোলাকুড়ী ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নে হঠাৎ ঝড়ের ঝাপটা শুরু হয়। আকস্মিক মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ের থাবায় বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের ফসল লন্ডভণ্ড হয়ে যায়- একই সঙ্গে কপাল পুড়ে শ’ শ’ কৃষকের।স্থানীয় কৃষকরা জানায়, তাৎক্ষণিক ঝড়ের তীব্রতায় অধিকাংশ কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে। ফলন্ত কলাগাছ উপড়ে বা হেলে পড়ায় তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পেঁপের বাগানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সবজি বাগানও ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক ধারদেনা করে বাগানে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে ঝড়ের এই ক্ষয়ক্ষতি তাদের আর্থিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিবে।হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম বলেন, ‘জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে বিনিয়োগ করেছি। অনেক দিন ধরে পরিচর্যা করছি। ফসল বিক্রি করে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবো, সেটাই বুঝতে পারছি না।’একই গ্রামের কৃষক লালচাঁদ বলেন, ‘একটি কলাগাছ তৈরি করতে কয়েক মাস সময় ও টাকা লাগে। ফলন আসার পর যদি গাছ ভেঙে যায়, তাহলে পুরো বিনিয়োগই নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি সামাল দেওয়া খুবই কঠিন।’অরনখোলা ইউনিয়নের আমলিতলা এলাকার আজিজুল বলেন, ‘৪৫ শতাংশ জমিতে ৫০০ কলা চাষ করেছি। এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি। এই কলা বিক্রি করেই ঋণের টাকা পরিশোধ করব। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ এক মিনিটের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল।’সাইফুল ইসলাম জানান, ২৮ বিঘা জমিতে ৫ হাজার কলা চাষ করেছিলেন তিনি। ২০ দিন আগে ৪১০ টাকা দরে সেই কলা বিক্রি করা হয়েছিল এবং ক্রেতা জালাল উদ্দীন এর বিপরীতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়েছেন। ঝড়ের ঝাপটায় সব সর্বনাশ হয়ে গেল।এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, ‘মধুপুরে কয়েক মিনিটের ঝড়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আপাতত: আমার কাছে যে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এসেছে, সেই তালিকা অনুযায়ী কলার বাগান রয়েছে প্রায় ৯০০ বিঘা এবং পেঁপে বাগান রয়েছে প্রায় ২০০ বিঘা।তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষকদের কিছু কলার বাগান আগে থেকেই বিক্রি করা ছিল এবং ক্রেতারা অগ্রীম টাকাও দিয়েছেন। এখন শুধু ক্রেতারা ধাপে ধাপে কলার কাঁদি কেটে নেওয়ার কথা ছিল। এ কারণে কৃষক এবং পাইকাররাও লোকসানের মুখে পড়েছেন।

০৮ অক্টোবর ২০২৬

বাসাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

বাসাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

বাসাইল প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন দু’তলা ভবনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রায়হান মিয়া(২০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বাসাইল পৌরসভার প্রশিকা এলাকায় প্রবাসী আনিসের বাড়িতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রায়হান দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বাসিন্দা বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি কয়েকদিন ধরে আনিসের নির্মাণাধীন ভবনে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন। জানা গেছে, শনিবার সকালে আনিসের নির্মাণাধীন দু’তলা ভবনে রায়হান রডের কাজ করছিলেন। এ সময় রডটি ওপরের দিকে ওঠালে পল্লীবিদ্যুতের তারের সঙ্গে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রায়হান গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’

০৩ অক্টোবর ২০২৬

দেলদুয়ারে পুকুর থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

দেলদুয়ারে পুকুর থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

দেলদুয়ার প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পুকুর থেকে ওহাব মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারপাখিয়া গ্রামের জনৈক জনির পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ওহাব সদর ইউনিয়নের মাদারকোল গ্রামের মৃত ঘুতু মিয়ার ছেলে। তিনি দির্ঘদিন ধরে উপজেলা খাদ্য গুদামে স্বস্ত্রীক পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওহাব মানসিক রোগী ছিলেন। রোববার(৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরই কোনো এক সময় তিনি পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন।খাদ্য গুদামের ওসি এলএসডি মিরাজুল ইসলাম জানান, রোববার বিকালে নিখোঁজের পর থেকে তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছিল। তিনি মৃগি রোগী ছিলেন।দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, বারপাখিয়ার একটি পুকুরে ভাসমান মরদেহের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইল সহ সারাদেশে বাড়তে পারে বৃষ্টি

টাঙ্গাইল সহ সারাদেশে বাড়তে পারে বৃষ্টি

দৃষ্টি রিপোর্ট:আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামি পাঁচদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে আগামি ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু কিছু জায়গায় ঝড়ো হাওয়া এবং দমকা বাতাস বইতে পারে বলে জানানো হয়েছে।পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গাজীপুর, রংপুর, ঢাকা, যশোর ও ময়মনসিংহের অনেক এলাকায় এবং টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। এসব অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাতের এই ধারা সপ্তাহজুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বেশি হতে পারে।দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিনে কিছু এলাকায় ‘গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি’, আবার কিছু এলাকায় ‘মাঝারি ধরনের’ ও ‘ভারী’ বৃষ্টির আভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাতের এ ধারা অব্যাহত থাকলে কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, তবে জলাবদ্ধতার কারণেও দুর্ভোগ তৈরি হতে পারে। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে নিম্নাঞ্চলের মানুষদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।টাঙ্গাইল অঞ্চল সহ সারাদেশের ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস রোববার (৬ সেপ্টেম্বর): আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। দিনভর বজ্রঝড় ও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর): দেশের বিভিন্ন বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। টাঙ্গাইলে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে সর্বোচ্চ ৩২° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬° সেলসিয়াস হতে পারে।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর): আকাশ মেঘলা থাকবে এবং কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় ও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা ৩১° থেকে ২৬° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর): কিছু এলাকায় রোদের দেখা মিললেও রাতের দিকে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে সর্বোচ্চ ৩৩° সেলসিয়াস হতে পারে।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর): দিনভর আকাশ মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বাড়তে পারে এবং রাতে বজ্রপাতের শঙ্কা রয়েছে।

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠেলাগাড়ি উল্টে চালক নিহত

ঠেলাগাড়ি উল্টে চালক নিহত

কালিহাতী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতী-রতনগঞ্জ সড়কে সেতু থেকে নামার সময় লাকড়ি বোঝাই ঠেলাগাড়ি উল্টে চালক আলমাস আলী (৫০) নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের রতনগঞ্জ বাজার সেতুতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলমাস আলী সখীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা।স্থানীয়রা জানায়, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রতনগঞ্জ বাজারের নতুন সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে পাশের পুরোনো সেতুর আংশিক ঢালু অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। শনিবার সকালে আলমাস আলী লাকড়ি বোঝাই ঠেলাগাড়ি ঠেলে রতনগঞ্জ বাজারে যাচ্ছিলেন। সেতু দিয়ে নামার সময় হঠাৎ ঠেলাগাড়িটি উল্টে গেলে তিনি ওই ঠেলাগাড়ির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। আলমাস আলী সখীপুরে মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে একজন অফিসার পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কুলের পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

স্কুলের পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

আব্দুস সাত্তার:টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা করোনেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে আশিক(১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আশিক কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বাসিন্দা মাইদুল ইসলামের ছেলে। তার বাবা পরিবার নিয়ে কালিহাতী উপজেলার বল্লা পশ্চিমপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বল্লা করোনেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুকুরে সাঁতার কাটতে নামে আশিক। একপর্যায়ে সে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে উদ্ধার করতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানের পর পুকুর থেকে আশিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আশিকের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

২৭ আগস্ট ২০২৬

পৌজান বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ছয় দোকান ভস্মীভুত

পৌজান বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ছয় দোকান ভস্মীভুত

কালিহাতী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভুত হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের পৌজান বাজারে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানায়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে বাজারের সজল চন্দ্র সাহা ও গৌতম কুমার দেবের মুরগির ফিডের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডে সজল চন্দ্র সাহা ও গৌতম কুমার দেবের মুরগির ফিডের দোকান, বাবুর টেলিভিশন মেকানিকের দোকান, আব্দুল কাদেরের জুতার দোকান, রাজীব কুমারের সেলুন, সোহেল রানার মুরগির ফিডের দোকান এবং সাধন চন্দ্র সাহার মনোহরি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে কালিহাতী ও এলেঙ্গা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- ছয়টি দোকান ভস্মীভুত হয়ে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এ বিষয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান জানান, তারা রাত ১২টা ৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। ফায়ার সার্ভিসের এক ইউনিটে আটজন সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ আরও যাচাই করা হচ্ছে।

২৩ আগস্ট ২০২৬

সখীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক ব্যক্তির মৃত্যু

সখীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক ব্যক্তির মৃত্যু

সখীপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের সখীপুরে অটোভ্যানে চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহআলম (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার(১৫ আগস্ট) সকাল আটটার দিকে উপজেলার কুতুবপুর উত্তর ইছামারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহআলম ওই এলাকার বুজরুত আলীর ছেলে।পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, শনিবার সকালে অটোভ্যান চার্জ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এলে শাহআলম বিদ্যুতায়িত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. মুরাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৫ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

টাঙ্গাইলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

বুলবুল মল্লিক:টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিং। জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৩৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২৩ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতির কারণে দিন-রাত জুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট- এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১০ মেগাওয়াট। অপরদিকে, গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১১৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি সরবরাহ পাওয়ায় জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১ বা ২ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। বাসাবাড়িতে ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় গরমে দিনভর চরম অস্বস্তিতে থাকতে হচ্ছে সব বয়সী মানুষকে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারছেন না- যার প্রভাব পড়ছে তাদের কর্মক্ষমতা ও স্বাস্থ্যে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে মিল-ইন্ডাস্ট্রিজ ও বড় বড় কলকারখানাগুলোতে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। এতে জ্বালানি খরচ জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই বাড়তি জেনারেটর খরচ বহন করতে না পেরে সরাসরি লোকসানের মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানের ব্যবসা-বাণিজ্যও।টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পেও লোডশেডিংয়ের কালো ছায়া পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দিনের বড় অংশজুড়ে তাঁত চালানো বন্ধ রাখতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, কর্মহীন হয়ে পড়ছেন সাধারণ তাঁতশ্রমিকরা। একই অবস্থা জেলার পোলট্রি খামারগুলোতেও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো যাচ্ছে না। তীব্র গরমে দম আটকে প্রতিদিন খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে ক্ষুদ্র খামারিরা বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।এটিএম লুঙ্গি ফেব্রিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ আর উৎপাদন বন্ধ মানে লোকসান। দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, পল্লী বিদুতের আওতায় জেলায় বিদ্যুৎ চাহিদা ২০০ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ পাচ্ছেন ১১৩ মেগাওয়াট। ঘাটতির কারনে ঘন ঘন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের(বিউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবাইদুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় সাময়িক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।

১৪ আগস্ট ২০২৬

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু:সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে পরিচালিত সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশ শুক্রবার(৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।এদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ মহাসমাবেশে নিরাপদ সড়ক, রেলপথ ও নৌপথ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নীতি, গবেষণা, প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে নিসচা প্রণীত ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।দিনব্যাপী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়।ফিরে দেখা- ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয় সহধর্মিণী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় দায়িত্বে রূপ দেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর গত ৩৩ বছরে নিসচা শুধু একটি সংগঠন নয় বরং একটি জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এই পথচলায় সংগঠনটি জনসচেতনতা সৃষ্টি, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কার্যক্রম, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, নীতিগত সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন এবং দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়’নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চলচ্চিত্রের মহানায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ৩৩ বছরের এ আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীর আত্মত্যাগ আন্দোলনটিকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের জীবন রক্ষার এই আন্দোলনে আরও কিছুদিন কাজ করার তৌফিক দান করেন। আমিও দেশের প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করছি।’চিত্র নয়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো দাবি নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই; আমরা মানুষের জীবনের পক্ষে।’তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও দৃঢ় বাস্তবায়ন।’তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে না পারবে, ততদিন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য কোনো সমালোচনা নয় বরং সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে একটি দুর্ঘটনামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’গবেষণা, প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা এখন আর শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নির্ভুল তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।’তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তারা দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তারা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।’মিরাজুল মইন জয় বলেন, ‘বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে একটি কেন্দ্রীয় সড়ক দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার (National Road Crash Database) গড়ে তোলার, যেখানে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, রেলওয়ে এবং নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার তথ্য সমন্বিত হবে। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’তিনি বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগ, স্পিড ক্যামেরা, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল-টাইম দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ তথ্য ও জনসম্পৃক্ততা সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া ১২ দফা সুপারিশপত্র কোনো দাবিপত্র নয় বরং একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা।’নিসচার তথ্যভান্ডার কাজে লাগানোর আহ্বাননিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত দুর্ঘটনার তথ্য, জনমত, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা নিসচার অন্যতম বড় শক্তি।’তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করেন না; তারা দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, স্থানীয় সমস্যা এবং মানুষের প্রত্যাশা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত করেন। এই বিশাল তথ্যভান্ডার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘নিসচার প্রায় ১২০টি শাখা এবং হাজারো সড়কযোদ্ধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। সরকার চাইলে এই স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।’সরকারের চলমান উদ্যোগকে স্বাগতনিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত 'Safe System Approach'-এর আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা, গতি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়ন, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালীকরণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জাতীয় অঙ্গীকারকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।নিসচার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ নিরাপদ, টেকসই ও মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।সংস্কৃতির মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানপ্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নয়; মানুষের মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমেও সম্ভব। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি বলেন, ‘নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি, পথনাটক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন হয়ে উঠবে।’মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরাপদ সড়ক বিষয়ক সচেতনতামূলক নাট্যোৎসব, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রচারণা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। নিরাপদ সড়ক একটি সামাজিক আন্দোলন আর সামাজিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সংস্কৃতির বিকল্প নেই।’আইন, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বউদ্বোধরী বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি বলেন, ‘সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’তিনি বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মতো সংগঠনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।’গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনের সমন্বয়ের আহ্বানবিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদান অনন্য। ব্যক্তিগত বেদনাকে তিনি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন, যা আজ নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষণা, প্রকৌশল, তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিসচার ৩৩ বছরের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র হস্তান্তরঅনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর পক্ষ থেকে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের হাতে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও ১২ দফা সুপারিশপত্র’ তুলে দেওয়া হবে।সুপারিশপত্রে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, কেন্দ্রীয় দুর্ঘটনা তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, চাঁদাবাজি ও পরিবহন সিন্ডিকেট নির্মূল, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ, সড়ক-রেল-নৌপথের সমন্বিত নিরাপত্তা, শিক্ষাক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপদ সড়ককে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) মনে করে, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। রাষ্ট্রের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, সুশাসন, গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নিসচা সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। সংগঠনটি আশা করে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মানবিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিবহন খাতের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নিসচার প্রায় ১২০টি শাখার প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রতিনিধি ও সড়কযোদ্ধা এতে অংশ নেন। পরে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

০৮ আগস্ট ২০২৬

ঘাটাইলে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

ঘাটাইলে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

ঘাটাইল প্রতিনিধি:টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘাটাইলের ক্যান্টনমেন্ট মোড় এলাকায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক মজনু মিয়া নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত মজনু মিয়া জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়ড়া পাটাদহ গ্রামের জহুরুল আকন্দের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা মালঞ্চ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মঙ্গলবার সকালে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট মোড় এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপভ্যানটি দুমরে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক মজনু মিয়ার মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এলাহী জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মালঞ্চ পরিবহনের বাসটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০৪ আগস্ট ২০২৬

সারাদেশে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে পাঁচ দিন

সারাদেশে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে পাঁচ দিন

দৃষ্টি নিউজ: আগামি পাঁচ দিন ঢাকা সহ সারা দেশে ঝড়বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও বজ্রসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের শঙ্কাও রয়েছে এ সময়। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাস সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি অংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয়, দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে। এরপর শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে সোমবার (২৭ জুলাই) পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে এ সময়। পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) অস্থায়ী ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এ সময়। বর্ধিত পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

২৪ জুলাই ২০২৬

দেশের ১৭ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস

দেশের ১৭ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস

দৃষ্টি নিউজ: আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার (২২ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জনানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার(২১ জুলাই) রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

২২ জুলাই ২০২৬

তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

দৃষ্টি নিউজ: তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্ট তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার, (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বেড়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ডিমলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পানি বাড়তে থাকলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

২২ জুলাই ২০২৬

যমুনার গ্রাসে টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক

যমুনার গ্রাসে টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক

দৃষ্টি রিপোর্ট: প্রমত্ত্বা যমুনার প্রবল থাবায় আকষ্মিক ভাঙনের মুখে পড়েছে টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে গোপালপুরের শাখারিয়া অংশ। সোমবার(২০ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া স্রোতের তীব্র গর্জনে মঙ্গলবার(২১ জুলাই) ভোরে আঞ্চলিক মহাসড়কটির একাংশ যমুনার পেটে চলে গেছে। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা। বর্তমানে সব ধরনের যানবাহনকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে মূল্যবান সময় এবং দ্বিগুণ যাতায়াত ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। সড়কের একাধিক অংশ নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানায়, আঞ্চলিক মহাসড়কের শাখারিয়া অংশে সোমবার দিনগত রাতে ভাঙন দেখা দিলে তারা বাঁশ ও গাছ কেটে তীব্র স্রোত ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের অভিযোগ, প্রতি বছর নদী ভাঙলে পানি উন্নয়ন বোর্ড তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে। কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। যমুনার ভয়াল গ্রাস থেকে সড়ক ও জনপদ রক্ষা করতে হলে জিও ব্যাগের পরিবর্তে অনতিবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খবর পেয়ে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে। ভাঙন কবলিত অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। যমুনার তীব্র স্রোতের কারণে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিত মহাসড়কের পশ্চিমাংশে জিওব্যাগের সঙ্গে মাটি ফেলে আলাদা বাঁধ তৈরির চেষ্টা করছেন। কিছুটা সফলও হয়েছেন, এখনও ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। স্থানীয় রাকিব হাসান, মোর্শেদুর রহমান, আব্দুর রশিদ সহ অনেকেই জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে তারা মিলে রাতে নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। তারা যেটা করেছেন, সেটা শুধু সাময়িক প্রতিরোধ। নদীতীর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে জিওব্যাগ কোন কাজে আসবে না। প্রতিবছর বন্যায় এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি সংকটে পড়ে। অঞ্চলিক মহাসড়কের কয়েকটি অংশে গত বর্ষায়ও একই অবস্থা হয়েছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল হালিম তালুকদার জানান, যমুনা নদী বেশ কয়েকদিন ধরেই আগ্রাসী হয়ে ওঠেছে। টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক এ এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মহাসড়কে যমুনার থাবা পড়লে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, সাবেক উপমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নুরই আলম জানান, টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে গোপালপুর উপজেলার নলিন বাজারের উত্তরে শাখারিয়া এলাকার স্লুইসগেটের দক্ষিণ পাশে ব্লক বসানো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কয়েকটি অংশে যমুনার করাল থাবা আঘাত করে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ব্লক সে থাবা সামলাতে না পারায় ভাঙন শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পাউবোর শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ভাঙন প্রতিরোধে গাছ-জিওব্যাগ ডাম্পিং করে। তিনি জানান, এ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেলে মুহূর্তে গোপালপুর ও ভূঞাপুরের অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রাম সহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি এবং যোগাযোগ বিচ্ছন্ন হয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল মোর্শেদ জানান, টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। গত দুই দিনই তিনি ওই আঞ্চলিক মহাসড়ক পরিদর্শন করেছেন। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের(পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন জানান, স্থানীয়দের কাছে সংবাদ পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং জিওব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের যে সব জায়গা সংস্কার করা দরকার সেগুলো সংস্কার করলেই আঞ্চলিক মহাসড়ক সড়ক নিরাপদ থাকবে।

২১ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়কে বাস-বাইক সংঘর্ষে নারী নিহত

টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়কে বাস-বাইক সংঘর্ষে নারী নিহত

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ধনবাড়ী উপজেলার নল্যা বাসস্ট্যান্ডের কাছে শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরবাইকের সংঘর্ষে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় বাইকের অপর দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত নারী রিতা আক্তার(৫০) ভূঞাপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। তিনি স্বামী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে জামালপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পুলিশ জানায়, ভূঞাপুর থেকে জামালপুরগামী একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে জামালপুর থেকে ঢাকাগামী একটি অজ্ঞাতনামা যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই রিতা আক্তার নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় রিতার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন(৬০) ও ছেলে আরিফ(২৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর(রেফার) করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নূরুস সালাম সিদ্দিক জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

১০ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলে বন্যার আগাম পূর্বাভাস ভিত্তিক প্রস্তুতি মহড়া অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলে বন্যার আগাম পূর্বাভাস ভিত্তিক প্রস্তুতি মহড়া অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে সম্ভাব্য মৌসুমি বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর ১০ দিন আগে থেকেই কীভাবে ধাপে ধাপে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করে জীবন, জীবিকা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায় এবং বন্যাকালে নৌদুর্ঘটনা ঘটলে কীভাবে দ্রুত উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা যায় সে লক্ষ্যে ‘আগাম পূর্বাভাস ভিত্তিক বন্যা প্রস্তুতি মহড়া’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) দুপুরে অনুষ্ঠিত মহড়ায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) মো. সেলিম মিঞা। ষ্টার্ট নেটওয়ার্ক সহযোগিতায় ও মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর বাস্তবায়নে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর তীরে বালিয়াপাড়া এলাকায় ওই প্রস্তুতি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মাহমুদ নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শেখ আব্দুস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) মোহাম্মদ একরামুল হক, মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান, প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান, ম্যানেজার(এডমিন) রবিউল ইসলাম, মনিটরিং অফিসার সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।

০৯ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলে ৬ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩০ জনের, রেলে মৃত ১৮

টাঙ্গাইলে ৬ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩০ জনের, রেলে মৃত ১৮

মু. আবিদ মল্লিক জয়: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও উত্তরবঙ্গের গাড়িচালকদের মাত্রাতিরিক্ত ওভারটেকিং প্রবণতা, সার্ভিসলেন আটকে রাখায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। গত ছয় মাসে এই মহাসড়কে একের পর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৩০টি তাজা প্রাণ। এই সময়ে ছোট-বড় ১০৮টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৩ জন। একই সময়ে রেল লাইনের টাঙ্গাইল অংশে ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৮ জন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে মহাসড়কে দুর্ঘটনার তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। মে মাসেই সর্বোচ্চ ৩৯ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন। এর মধ্যে গত ২৫ মে দুপুরে কালিহাতী উপজেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একটি ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়, যেখানে আহত হন ৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের বাড়িই ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারসো ইউনিয়নে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে ১২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ জন, মার্চে ২৩ জন, এপ্রিলে ২৪ জন এবং জুন মাসে ১৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ৯ জন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ৭ জন করে, এপ্রিলে ১৮ জন এবং জুনে ৬ জন রয়েছেন। অপরদিকে, মহাসড়কের পাশাপাশি অরক্ষিত রেলপথেও বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। গত ছয় মাসে টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মার্চে ৮ জন, এপ্রিলে ২ জন এবং মে মাসে ৫ জনের মৃত্যু হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জুন মাসে কোনো ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল পুলিশ স্টেশনের মুন্সি আবুল বাশার। এদিকে, দুর্ঘটনা পরবর্তী সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে টাঙ্গাইলের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে মোট ৫২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বা তাদের পরিবারকে চেকের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে। মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রহিম, রাফসান জামিল, আরমান শেখ, সাইফুল্লাহ সহ অনেকেই জানান, যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণ। এটি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা। এই মহাসড়কের যে অংশে সার্ভিস লেন আছে, সেখানে বিভিন্ন যানবাহন রেখে আটকে রাখা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে উঠে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত এখনো কোনো সার্ভিস লেন নেই। মহাসড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ থাকায় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রবল। দুই পাশের বালুর স্তূপ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তারা। টাঙ্গাইলের বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান শফিক জানান, এই মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনের দুর্ঘটনার হার বেশি। দুর্ঘটনার জন্য উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলোর বেপরোয়া গতিকে দায়ী করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, অদক্ষ চালক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলো পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা হচ্ছে। এতে প্রাণহানিও ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ অংশীজনদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তারা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করে থাকেন। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রবিউল ইসলাম পরামর্শ দেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য প্রথমত চালককে সচেতন থাকতে হবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবেনা। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাঁক রয়েছে। বাঁকগুলোতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা ঘটবেই। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। তিনি জানান, সার্ভিস লেন থেকে মহাসড়কে উঠে অনেক মোটরসাইকেল চালকেরা গাড়ি চালাচ্ছেন। সেটা থেকে তাদেরকে বিরত থাকতে হবে এবং অতিরিক্ত গতি থেকে সরে আসতে হবে। এছাড়া দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ হলো ওভারটেক করা। এ বিষযে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

০৯ জুলাই ২০২৬

মধুপুরে প্রাইভেটকারের চাপায় ভারসাম্যহীন নারী নিহত

মধুপুরে প্রাইভেটকারের চাপায় ভারসাম্যহীন নারী নিহত

মধুপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে মধুপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রাইভেটকারের চাপায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত নারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে আঞ্চলিক মহাসড়কে মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের নেকিবাড়ি বাসস্ট্যাণ্ডে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, এদিন সকালে নেকিবাড়ি বাসস্ট্যাণ্ড এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন ওই নারী। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। নিহত নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল আঙুলের ছাপ ও প্রযুক্তির সহায়তায় নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে। মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

০৭ জুলাই ২০২৬