লাইফ স্টাইল

কক্সবাজারের আদি নাম জনে নিন :: আছে সেই 'পালংকি' নামে রেস্তোরা

কক্সবাজারের আদি নাম জনে নিন :: আছে সেই 'পালংকি' নামে রেস্তোরা

দৃষ্টি নিউজ: আপনি যদি কক্সবাজার ভ্রমনে যান, তাহলে কোথায় খাবেন? যেকোনো স্থানে ভ্রমণে গেলে কোথায় কোথায় ঘুরবেন, কোথায় থাকবেন যেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তেমনি কোথায় খাবেন এবং কি খাবেন; তাও কিন্তু অনেকের আগ্রহের বিষয়। তবে ভ্রমণপ্রিয়দের প্রথম পছন্দ 'কক্সবাজার'। কক্সবাজারের আদি নাম কি এবং কীভারে এর উৎপত্তি তা জেনে নেওয়া যাক। কক্সবাজারের আদি নাম পালংকি। স্থানীয় ভাষায় পাল্কিকে বলা হয় পালংকি। জনশ্রুতি আছে; মুঘল সম্রাট শাহ সুজা এক হাজার পাল্কি নিয়ে আরাকান যাওয়ার পথে এই অঞ্চলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে এখানে যাত্রা বিরতি করেন। কালের পরিক্রমায় সহস্র পাল্কির সেই বিশ্রাম স্থলই ‘পালংকি’ নামে পরিচিতি পায়। পরর্তীতে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ শাসক কক্স সাহেব তার নিজের নামে এই অঞ্চলে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘পালংকি’ নাম পাল্টে হয়ে যায় ‘কক্সবাজার’। কিন্তু পালংকি নামটি আবার ফিরে এসেছে। তবে ভিন্নভাবে। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া খাটি বাঙালি রন্ধন প্রণালী ও খাবারের সম্ভার নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে ‘পালংকি’ রেস্তোরা। পালংকি রেস্তেরার প্রতিটি খাবারে লুকিয়ে আছে বাংলার ঘ্রাণ আর ঐতিহ্য। বাঙালি স্বাদের অতুলনীয় এই আয়োজন যেকোনো ভোজনপ্রিয় বা ভোজন-বিলাসীকে মুগ্ধ করবেই। ইফতার থেকে শুরু করে যেকোনো মৌসুমের রসনাবিলাসি মানুষ এখানে হবে পরিতৃপ্ত। কারণ এইসব খাবারের সাথে মিশে রয়েছে দাদী-নানীর রান্নার ছোঁয়া। কুমড়ো ফুলের ফ্রাই, কলার মোচা দিয়ে তৈরী বিশেষ চপ, লইট্টা মাছের বাহারি সমাহার, ডাব-চিংড়ি, নারিকেলের পুডিং কিংবা পাহাড়ি মোরগের অসাধারণ সব রেসিপি এখানকার নিয়মিত আয়োজনগুলোর মধ্যে অন্যতম। সদ্য ধরা টুনা মাছ, লবস্টার, চিংড়ি, পমফ্রেট, অক্টোপি এবং স্কুইডসহ সামুদ্রিক খাবারও বাছাই করা যেতে পারে। চিনিগুড়া চালের ভাত ও ঘি মিশিয়ে তৈরি ডাল এখানকার খাবারের অন্যতম আকর্ষণ। অষ্টভূজা নাম থেকেই বোঝা যায়, আটটি ভিন্ন ধরণের ভর্তা এবং ভাজির একটি থালা। এই থালাটি সম্ভবত সমগ্র পালংকির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তবে আপনি আটটি ভর্তা এবং ভাজির মধ্যে কোনটি এবং কখন খেতে চান তা আপনাকেই ঠিক করে নিতে হবে। এখানের খাবার গুলির মধ্যে বিভিন্ন রকম পাতুরি এক অনন্য সংযোজন। পাতুরি হল বাঙালিদের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার যা মাছের তৈরি এবং পাতায় মুড়ে অল্প ভাপে রান্না করা হয়। শতবর্ষের প্রাচীন রন্ধন প্রণালীতে তৈরিকৃত ঐতিহ্যবাহী অথেন্টিক ভেটকি পাতুরি, ইলিশ পাতুরিসহ বিভিন্ন রকমের পাতুরি খেতে হলে এখানেই যেতে হবে। গ্রাম্য বা দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি সামূদ্রিক খাবার, বারবিকিউ এবং গ্রিল পাশ্চাত্যের বিভিন্ন খাবারের প্রতি যাদের দুর্বলতা রয়েছে তারা এখানে পাবেন মনের মত রকমারি খাবার। পালংকি নামে কক্সবাজারে দুটি রেস্তোরা রয়েছে। এটার অবস্থান শহরের কেন্দ্রস্থলে। কলাতলির ডলফিন মোড়ে। এক্কেবারেই হাতের নাগালে। মূল সড়কের সাথে লাগোয়া। শহরে অবস্থিত যেকোনো হোটেল থেকে পায়ে হেটে পৌছে যাওয়া যাবে এখানে অনায়াসে। পালংকি'র আরেকটি রেস্তোরার অবস্থান শহর থেকে কিছুটা দূরে। স্থানটির নাম জালিয়াপালং। একান্ত নিরিবিলি পরিবেশে। ইনানী বীচের কাছে এটা অবস্থিত। একারনে এটা পালংকি ইনানী নামে পরিচিত। মেরিন ড্রাইভ ধরে সমূদ্র তীরের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আপনি চলে যাবেন পালংকি ইনানী রেস্তোরায়। সমূদ্র তীরে অবস্থিত এই রেস্তোরায় বসে আপনি একই সাথে সমূদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন এবং পালংকি রেস্তোরার অসাধারণ খাবারের অপূর্ব স্বাদ আস্বাদন করতে পারবেন। এখানকার ভিতর এবং বাইরের পরিবেশ যেকোেনা রুচিশীল-প্রকৃতিপ্রেমীকে মুগ্ধ করবেই। সমুদ্রের নোনা হাওয়া, পাহাড়ের সবুজ, এবং প্লেটে পরিবেশিত ঐতিহ্যের স্বাদ; সব মিলিয়ে আপনার ভ্রমণ হোক ছন্দময় এক আনন্দ অভিজ্ঞতা। তাই কক্সবাজার গেলে শুধু সমুদ্রের সৌন্দর্য নয়, ‘পালংকি’ রেস্তোরাঁর ঐতিহ্যবাহী স্বাদ নিতে ভুলবেন না।

১১ জুলাই ২০২৬

নব্বই ছুঁইছুঁই জয়গুন বেওয়ার ঘরে প্রতিমন্ত্রীর উপহার

নব্বই ছুঁইছুঁই জয়গুন বেওয়ার ঘরে প্রতিমন্ত্রীর উপহার

দৃষ্টি রিপোর্ট: বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, দৃষ্টিও ঝাপসা। স্বামী রাজ আলী পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। চার ছেলে ও তিন মেয়ের জননী হলেও জীবনের শেষ বিকালে এসে নিদারুণ একাকীত্ব আর চরম অভাবের মুখোমুখি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কোনাবাড়ী এলাকার জয়গুন বেওয়া। প্রায় ৯০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধার জীবন কাটছিল চরম মানবেতর অবস্থায়। তবে অবশেষে এ খবর জানতে পেরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপির মানবিক উদ্যোগে দূর হলো তার দীর্ঘদিনের অসহায়ত্ব, বৃদ্ধার মুখে ফুটল স্বস্তির হাসি। জানা যায়, জয়গুন বেওয়ার সন্তানরা যার যার আলাদা সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তারাও এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং আর্থিকভাবে চরম অসচ্ছল। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসারে বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব নেওয়া তাদের জন্য হয়ে উঠেছিল এক বড় মানসিক ও আর্থিক বোঝা। এরই মধ্যে সম্প্রতি তার বড় ছেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষররণ শয্যাশায়ী হওয়ায় পরিবারটির ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। হাঁটাচলা বন্ধ হওয়া জয়গুন বেওয়ার দিন কাটছিল অনাহারে-অর্ধাহারে, এক বুক নীরব কান্না বুকে চেপে। সমাজ ও সংসারের এই অবহেলার বৃত্তে বন্দি থাকা জয়গুন বেওয়ার দুর্দশার খবরটি পৌঁছায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কান পর্যন্ত। স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে খবরটি জানার পর প্রতিমন্ত্রী বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীন মিয়াকে নির্দেশ দেন বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে সোমবার (২২ জুন) দুপুরে কোনাবাড়ী এলাকায় জয়গুন বেওয়ার জীর্ণ কুটিরে সরেজমিনে হাজির হন ইউএনও শাহীন মিয়া। তিনি বৃদ্ধার শয্যাপাশে বসেন, পরম মমতায় তার শারীরিক অবস্থা ও পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পরিবারের এই চরম বিপর্যয়কর অবস্থা বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে জয়গুন বেওয়ার হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং দুই প্যাকেট জরুরি খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে তার চিকিৎসা ও দেখভালের জন্য আরও বড় ধরনের সরকারি সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়। জীবনের শেষ সময়ে এসে এমন অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পেয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বৃদ্ধা জয়গুন বেওয়া। পরম মমতায় হাত উঁচিয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং প্রশাসনের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া বলেন, ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছি। কোনো নাগরিক যেন এভাবে মানবেতর জীবনযাপন না করেন, সে বিষয়ে আমাদের প্রশাসন সদা তৎপর। জয়গুন বেওয়ার পরিবারের পাশে আমরা ভবিষ্যতেও থাকব।’ একবিংশ শতাব্দীর এই ব্যস্ত সময়ে জয়গুন বেওয়ার পাশে প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া যেন প্রমাণ করল- পৃথিবীতে এখনো ফুরিয়ে যায়নি মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সুখ-দুঃখের খবর রাখা আমার দায়িত্ব। কোনো অসহায় মানুষ যেন চিকিৎসা, খাদ্য বা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন- সেটি নিশ্চিত করতে আমি সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছি। এছাড়া প্রশাসনকেও মানবিকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

০৩ জুলাই ২০২৬

২০ মিনিট ফুটবল খেললে শরীর সুস্থ থাকে

২০ মিনিট ফুটবল খেললে শরীর সুস্থ থাকে

দৃষ্টি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা আবারও তুঙ্গে। শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬, আর কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশন ও স্টেডিয়ামে চোখ রাখছেন প্রিয় দল ও তারকাদের দিকে। তবে ফুটবল কেবল একটি জনপ্রিয় খেলা বা বিনোদনের মাধ্যমই নয়- এটি হতে পারে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের অন্যতম কার্যকর উপায়ও। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৫ দিন, প্রতিদিন ২০ থেকে ৬০ মিনিট শারীরিক ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। দৌড়ানো, দ্রুত হাঁটা, সাঁতার, সাইক্লিং কিংবা অন্যান্য ব্যায়ামের মতো ফুটবলও শরীরের জন্য সমান উপকারী। বরং দলগতভাবে খেলার কারণে এতে আনন্দ, উদ্দীপনা ও সামাজিক যোগাযোগের বাড়তি সুবিধাও যুক্ত হয়। ফুটবল খেললে শরীরে কী ঘটে? গবেষণায় দেখা গেছে, অপেশাদার পাঁচজনের ইনডোর ফুটবল ম্যাচে মাত্র ৩০ মিনিট খেললেই খেলোয়াড়দের হৃদস্পন্দন দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছে যায়। ফলে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস এবং রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। এছাড়া মাত্র ১৫ মিনিট খেলায় প্রায় ১১০ থেকে ২০০ কিলোক্যালরি পর্যন্ত শক্তি খরচ হতে পারে, যা জগিং বা স্কিইংয়ের সমতুল্য এবং অনেক ক্ষেত্রে টেনিসের চেয়েও বেশি কার্যকর। নিয়মিত ফুটবল খেলার স্বাস্থ্য উপকারিতা ১. হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায় নিয়মিত ব্যায়াম রক্তনালিকে নমনীয় রাখে এবং ধমনীতে চর্বি জমার প্রবণতা কমায়। ফলে করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট অ্যাটাক এবং ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পায়। ২. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ব্যায়ামের ফলে রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে এবং হৃদ্‌যন্ত্রকে কম চাপ দিয়ে রক্ত পাম্প করতে হয়, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ৩. হাড় ও পেশি শক্তিশালী করে ফুটবল খেলতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন পেশি ও হাড় সক্রিয় থাকে। এতে হাড়ের ঘনত্ব বজায় থাকে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে হাঁটু, গোড়ালি ও কোমরের আঘাত প্রতিরোধেও সহায়তা করে। ৪. স্থূলতা প্রতিরোধে কার্যকর নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ ও নড়াচড়ার কারণে অতিরিক্ত চর্বি কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, বিশেষ করে কোমরের চারপাশে জমা চর্বি হ্রাস পায়। ৫. মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় ব্যায়ামের সময় শরীরে এমন কিছু হরমোন নিঃসৃত হয় যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে উদ্বেগ, অবসাদ ও মানসিক চাপ কমতে পারে। ৬. কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে কোলন ও স্তন ক্যানসারের হার তুলনামূলকভাবে কম। বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণেও উপকারী : শুধু রোগ প্রতিরোধ নয়, নিয়মিত ফুটবল খেলা বা ব্যায়াম অনেক রোগ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস: স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। হাঁপানি: অনেক রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যায়ামে শ্বাস-প্রশ্বাসের সক্ষমতা উন্নত হয়। উচ্চ কোলেস্টেরল: ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমিয়ে উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়াতে সহায়তা করে। সিওপিডি: হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করে ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ: নিয়মিত ব্যায়ামে রক্তচাপ ও বিশ্রামকালীন হৃদস্পন্দন উভয়ই কমতে পারে। শুধু খেলা নয়, প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জীবনধারা- বিশ্বকাপের উত্তেজনা হয়তো সবাইকে মাঠে নামতে অনুপ্রাণিত করবে। তবে সুস্থ থাকতে ফুটবলের পাশাপাশি আরও কিছু অভ্যাস জরুরি- সুষম খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও অন্যান্য ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চলা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ। ফুটবল তাই শুধু গোল আর জয়ের গল্প নয়; এটি হতে পারে সুস্থ শরীর, প্রফুল্ল মন এবং দীর্ঘ জীবনের অন্যতম সঙ্গী। বিশ্বকাপের আবহে প্রিয় দলের খেলা দেখার পাশাপাশি নিজেও যদি সপ্তাহে কয়েক দিন মাঠে নামা যায়, তাহলে সেই জয় হবে নিজের স্বাস্থ্যের জন্যও। সূত্র: ব্যাংকক হসপিটাল

১২ জুন ২০২৬

মাত্র ৫ মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে দীর্ঘায়ু

মাত্র ৫ মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে দীর্ঘায়ু

দৃষ্টি ডেস্ক: ব্যস্ত সকাল, ডেস্কে কাজের পাহাড় কিংবা দিনশেষে ক্লান্ত শরীর- এই চক্করে পড়ে জিমের মেম্বারশিপ কার্ডটা হয়তো অনেকেরই ওয়ালেটেই বন্দি হয়ে আছে। প্রতিদিন এক বা দেড় ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর কথা ভাবলেই যেখানে অলসতা জেঁকে বসে, সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞান শোনাল এক দারুণ আশার বাণী। প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের ছোটখাটো শারীরিক পরিশ্রমই বদলে দিতে পারে আপনার জীবন। দীর্ঘায়ু বা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে পারেন। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে জিম বা দীর্ঘ সময়ের ভারী ওয়ার্কআউট করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘায়ু পেতে কিংবা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রমই যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ার প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক বৃহৎ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো মাঝারি ব্যায়াম সামগ্রিকভাবে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ১ জনের অকাল মৃত্যু রোধ করতে পারে। গবেষকদের মতে, যারা একেবারেই নিষ্ক্রিয় থাকেন, তাদের জন্য এই সামান্য পরিবর্তনও দারুণ উপকারী। পাশাপাশি দৈনিক বসে থাকার সময় থেকে মাত্র ৩০ মিনিট কমাতে পারলেই প্রায় ৭% শতাংশ অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘এক্সারসাইজ স্নাকিং’ বা ‘স্ন্যাকটিভিটি’ বলছেন। অর্থাৎ, সারাদিনে একবারে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম না করে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেওয়া। যেমন- রান্না করার সময় বা টিভি দেখার ফাঁকে কয়েকটি স্কোয়াট বা পুশ-আপ দেওয়া, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, গন্তব্যের কিছুটা দূরে গাড়ি পার্ক করে ৫ মিনিট হেঁটে যাওয়া কিংবা ঘরের মেঝে জোরে জোরে মোছা বা নাচ করা। গবেষকদের মতে, এই ছোট ছোট শারীরিক পরিশ্রমগুলো আমাদের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে বারবার উদ্দীপিত করে, যা শরীরচর্চা থামানোর পরও কিছুক্ষণ সচল থাকে। এ ছাড়া, ৬০ ও ৭০ এর কোঠায় থাকা মানুষদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যারোবিক ব্যায়ামের সঙ্গে পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম যুক্ত করলে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও কমে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের ব্যায়ামের পরামর্শ এখনো বহাল থাকলেও, গবেষকরা বলছেন- কিছু না করার চেয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট নড়াচড়া করাও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বড় অর্জন। তাই আজ থেকেই ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে জীবনে গতি আনুন, সুস্থ থাকুন দীর্ঘদিন। সূত্র: বিবিসি

২১ মে ২০২৬

জেনে নিন আজকের রাশিফল

জেনে নিন আজকের রাশিফল

জ্যোতিষ ড. কে সি পাল: আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করায় পাশ্চাত্য মতে আপনি মিথুন রাশির জাত ব্যক্তি। আপনার ওপর আজ রাশি অধিপতি বুধ, দেবগুরু বৃহস্পতি ও সেনাপতি মঙ্গলের প্রভাব বিদ্যমান। আপনার সঙ্গে মীন রাশির বন্ধুত্ব শুভফল প্রদান করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য দিনটি স্মরণীয় হবে। কর্ম ব্যবসায় বাড়তি দায়িত্ব ভার বর্তাবে। পিতামাতা গুরুজনদের পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। নিত্য নতুন প্লান প্রোগ্রাম বাস্তবায়িত হবে। দীর্ঘদিনের আটকে থাকা কাজ সচল হবে। মেষ [২১ মার্চ-২০ এপ্রিল] : কর্মের সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে। ধৈর্য সাহস মনোবল জনবল বাড়বে। গৃহ বাড়িতে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান হবে। বিদেশ গমন ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথ খুলতে পারে। রাগ জেদ হঠকারী সিদ্ধান্ত ঘাতক বলে প্রমাণিত হবে। বৃষ [২১ এপ্রিল-২০ মে] : শূন্য পকেট পূর্ণ হয়ে উঠবে। গৃহবাড়ি ভূমি সম্পত্তি ও যানবাহন ক্রয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে। অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের অভাব ঘুচবে। ব্যাংক ব্যালেন্স ফুলেফেঁপে উঠবে। বিদেশ গমনেচ্ছুদের বিদেশ গমনের পথ খুলবে। দীর্ঘদিনের ধারকর্জ ঋণ মুক্তির পথ প্রশস্ত হবে। মিথুন [২১ মে-২০ জুন] : নিত্যনতুন স্বপ্ন পূরণের সম্ভবনা। ঝটকা উপার্জনের পথ খুলবে। পরিবারে ছোট্ট মুখের আগমন ঘটতে পারে। গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র আসতে পারে। দুর্যোগের মেঘ কাটতে আরম্ভ করবে। প্রেমীযুগলের জন দিনটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। কর্কট [২১ জুন-২০ জুলাই] : ব্যবসা-বাণিজ্যে লোকসান গুনতে হবে। দাম্পত্য সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠা বজায় রাখতে জীবনসাথীর মতামতকে গুরুত্ব দিন। দূর থেকে আসা কোনো অপ্রিয় সংবাদ আসতে পারে। সংকটকালে স্বজনরা দূরে থেকে মজা দেখবে। দ্বিচক্রযান বর্জন করুন। সিংহ [২১ জুলাই-২০ আগস্ট] : সফলতার চাবি হাতের মুঠোয় আসবে। ধারকর্জ ঋণমুক্ত হবে। বিজয়ের বরমাল্য হাত বাড়িয়ে ধরবে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যা বুদ্ধি জ্ঞান গরিমা দিয়ে জীবন গড়বে। পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটতে পারে। বিদেশে অবস্থানরতদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথ খুলবে। কন্যা [২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর] : কর্ম অর্থ যশ খ্যাতি প্রতিপত্তি পূর্ণ রাজকীয় দিন উপভোগ করবেন। নিত্যনতুন বাণিজ্যিক স্বপ্ন পূরণ হবে। শিক্ষার্থীরা মৌজমস্তিতে কাটাবে। লৌকিকতা পরিহার করুন। শত্রু ও বিরোধীপক্ষরা পরাস্ত হবে। নেশা মদ্য থেকে দূরে থাকুন। তুলা [২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর] : ভাগ্যলক্ষ্মী আপনাদের দ্বারে এসে টোক্কা মারবে। নিত্যনতুন প্ল্যানপ্রোগ্রাম বাস্তবায়িত হবে। মন ধর্ম ও পরোপকারের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। সন্তানদের ক্যারিয়ার চমকে দেবে। পিতামাতার কাছ থেকে ভরপুর সহযোগিতা পাবেন। প্রেমীযুগলের প্রেম সমাজে স্বীকৃতি পাবে। বৃশ্চিক [২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর] : সন্তানদের গতিবিধির ওপর নজর দিন। টাকা-পয়সা হাতে আসার আগেই খরচের খাত তৈরি হয়ে যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব বিরাজ করবে। শ্রমিক-কর্মচারী ওপর তীক্ষ্ম নজর রাখুন। অপরিচিত কাউকে আশ্রয় দেওয়া খাল কেটে কুমির আনার সমান হবে। ধনু [২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর] : বিবাহযোগ্যদের বিবাহের সানাই বাজবে। প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার সম্ভাবনা। পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটবে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহবিবাদের মীমাংসা হবে। সঞ্চয়ী ও মিতব্যয়ী হতে হবে। জীবনসঙ্গীরা কর্ম পেতে পারে। মকর [২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি] : কর্মে অমনোযোগ ও ব্যবসায় মন্দাভাব বিরাজ করবে। আয় উপার্জনের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্যতা রক্ষা করা কঠিন হবে। সিজনাল রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়তে পারে। শিক্ষার্থীদের মন ফেসবুক ইউটিউব প্রেম প্রসঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। কুম্ভ [২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি] : গৃহবাড়ি ও যানবাহন বদলের জন্য দিনটি রেকর্ড হয়ে থাকবে। কর্ম ব্যবসায় বাড়তি দায়িত্ব পাবেন। হারানো পিতৃমাতৃ ধন সম্পদ সম্পত্তি প্রাপ্তির সম্ভাবনা। শিক্ষার্থীদের মনোবাসনা পূর্ণ হবে। শত্রুরা পিছু হটবে। গৃহবাড়িতে কোনো না কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান হবে। মীন [১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ] : জীবনসাথী ও শ্বশুরালয় থেকে ভরপুর সহযোগিতা পাবেন। হারানো ধন সম্পদ সম্পত্তি পুনরুদ্ধার হবে। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। দ্বিচক্রযান বর্জনীয়। চতুর্দিক থেকে তরতাজা উন্নতি করবেন। কন্যা সন্তানদের সাফল্যে গৌরবান্বিত হবেন।

২১ মে ২০২৬

মে মাসে জোড়া রাজযোগ- ডাবল ধামাকায় ভাগ্যে ম্যাজিক কোন কোন রাশির?

মে মাসে জোড়া রাজযোগ- ডাবল ধামাকায় ভাগ্যে ম্যাজিক কোন কোন রাশির?

দৃষ্টি ডেস্ক: জ্যোতিষ বিচার অনুযায়ী মে মাসটি তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। এই মাসে থাকবে বুধাদিত্য রাজযোগ ও মালব্য রাজযোগ। জানুন জোড়া রাজযোগের প্রভাবে মে ২০২৬ কেমন কাটবে বিভিন্ন রাশির জাতকদের। মে মাসের রাশিচক্র বিশ্লেষণ করেছেন ভারতের জ্যোতিষ শ্রমণা গোস্বামী। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী এই বছরের মে মাস নানা কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মে মাসে নিজের রাশি বৃষতে গোচর করবে শুক্র। বৃষ রাশিতে এসে শুক্রের শক্তি বৃদ্ধি হওয়ার ফলে গঠিত হবে মালব্য রাজযোগ। পাশাপাশি মে মাসে বুধ ও সূর্য মিথুন রাশিতে একত্র অবস্থান করবে। বুধ ও সূর্যের যুতিতে বুধাদিত্য রাজযোগ গঠিত হবে। এই শুভ যোগের প্রভাবে মে ২০২৬ বিভিন্ন রাশির জাতকদের কার কেমন কাটবে তা জেনে নিন। মেষ রাশি: কর্মক্ষেত্রে লাভের যোগ থাকবে। বড় কাজের দায়িত্ব পাবেন। চাকরিজীবীদের পদোন্নতি সম্ভব। পৈতৃক সম্পত্তির অংশ পাবেন। সুখবর পেতে পারেন। বৃষ রাশি: অতিরিক্ত কাজের কারণে স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে। প্রশানসিক ক্ষেত্রে বড় বিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারেন। শত্রু আপনার গতিবিধির ওপর নজর রাখবে। আপনার পেছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র হতে পারে। চাকরিজীবীরা বিপদে পড়তে পারেন। মিথুন রাশি: বড়সড় আর্থিক লোকসান সম্ভব। কারও কথা শুনে অর্থ লগ্নি করবেন না। কর্মক্ষেত্রে ওঠাপড়া থাকবে। চাকরিজীবীদের জন্য সময়টা প্রতিকূল। কোনও মিথ্যা দায়ে অভিযুক্ত করা হতে পারে। কর্কট রাশি: নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান করুন। কাজের চাপের কারণে অসুস্থ হতে পারেন। নতুন কাজে সবার সহযোগিতা পাবেন। আর্থিক দিক দিয়ে সময়টা ভালো। বন্ধু বা শ্বশুরবাড়ির তরফে আর্থিক সাহায্য পেতে পারেন। সিংহ রাশি: আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন হবে। কর্মক্ষেত্রে বড় সাফল্য পেতে পারেন। ব্য়বসায় লাভ হবে। আর্থিক ভাবে উন্নতি হতে পারে। চাকরিতে পদোন্নতি হবে। কন্যা রাশি: কর্মক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটাবেন। স্বাস্থ্য ভালো থাকবে না। মাসের শেষের দিকে লাভের যোগ রয়েছে। তুলা রাশি: জীবনে নানা সমস্যা থাকবে। পরিবারের সদস্যদের শরীর খারাপ হতে পারে। আর্থিক দিক দিয়ে চিন্তিত থাকবেন। ব্যবসায় লোকসান হতে পারে। বন্ধুদের থেকে আর্থিক সাহায্য পেতে পারেন। বৃশ্চিক রাশি: মাসের শুরুতে আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন হবে। বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে। কর্মক্ষেত্রে লাভবান হবেন। ব্যবসায়ীদের জন্য এই মাসটি ভালো। আর্থিক দিক দিয়ে লাভ হবে। ধনু রাশি: কর্মক্ষেত্রে লাভের যোগ রয়েছে। বহুদিন ধরে ব্যবসায় থাকা সমস্যা দূর হবে। পরিবারে শুভ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। চাকরিজীবীদের অধিক দৌঁড়ঝাপ করতে হবে। রাজনীতিবিরা বিশেষ পদ পেতে পারেন। মকর রাশি: সেপ্টেম্বর মাস নানা সমস্যায় ভরপুর। নতুন কাজ শুরু করলে সময় নষ্ট হবে। গোপন কথা ফাঁস হওয়ায় কাজ ভেস্তে যেতে পারে। পরিবারে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ দেখা দিতে পারে। কর্মক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্য নিতে হবে। কুম্ভ রাশি: আর্থিক জীবনে ওঠাপড়া থাকবে। পরিবারের কোনও সদস্যের স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে বিরোধীরা সক্রিয় হবেন। মাসের শেষে কেরিয়ারে লাভের যোগ রয়েছে। সন্তানের পড়াশোনার কারণে চিন্তিত থাকবেন। মীন রাশি: মাসের শুরুতে কর্মক্ষেত্রে লাভের যোগ রয়েছে। নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। পরিবার ও জীবনসঙ্গীর সহযোগিতা লাভ করবেন। আবহাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। পরিবারের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন।

২১ মে ২০২৬

নিরাপদ লিচু চেনার উপায়

নিরাপদ লিচু চেনার উপায়

দৃষ্টি ডেস্ক: কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টি আর ঝড়-ঝাপ্টার আবহাওয়ার মধ্যে বাজারে এসে গেছে রসালো লিচু। পুষ্টিগুণে ভরা এই লাল টুকটুকে এই ফল দেখলেই জিভে পানি আসে অনেকের। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না- লিচু নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া অনেক বেশি জরুরি। কারণ অনেক সময় লিচুকে বেশি লাল ও টাটকা দেখাতে ব্যবহার করা হয় কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল। এমনকি অপরিপক্ব লিচুকেও বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়। তাই বাজার থেকে লিচু কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খোসার রং দেখেই অনেকটা বোঝা যায়- লিচু কেনার সময় প্রথমেই খেয়াল করুন এর খোসার রং। বিভিন্ন জাতের লিচুর রং ভিন্ন হতে পারে- কোনোটি গাঢ় লাল, কোনোটি হালকা কমলা বা বাদামি আভাযুক্ত। তবে ভালো ও পরিপক্ব লিচুর রং সাধারণত স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল হয়। অস্বাভাবিক চকচকে বা অতিরিক্ত টকটকে লাল রঙের লিচু দেখলে সতর্ক থাকুন। অনেক সময় ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে এসব লিচুর গায়ে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়। বেশি নরম লিচু এড়িয়ে চলুন- লিচু হাতে নিয়ে হালকা চাপ দিয়ে দেখুন। যদি খুব বেশি নরম লাগে, তাহলে সেটি অতিরিক্ত পাকা বা ভেতর থেকে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভালো লিচু হবে টানটান ও সতেজ। অতিরিক্ত নরম লিচুর ভেতরে অনেক সময় পচা অংশ বা টক গন্ধও থাকতে পারে। গন্ধ বুঝে কিনুন- পাকা লিচুর একটি স্বাভাবিক মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ থাকে। নাকের কাছে ধরলেই সেই সুগন্ধ টের পাওয়া যায়। অন্যদিকে কেমিক্যাল দেওয়া বা অপরিপক্ব লিচুতে সাধারণত সেই স্বাভাবিক সুবাস থাকে না। যদি লিচুতে অদ্ভুত বা কড়া গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি না কেনাই ভালো। কৃত্রিম রং আছে কি না পরীক্ষা করুন- অনেক সময় কাঁচা লিচুকে পাকা দেখাতে এর গায়ে রং ব্যবহার করা হয়। তাই বাসায় এনে লিচু কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। যদি পানির রং লালচে হয়ে যায় বা হাতে রং লাগে, তাহলে বুঝতে হবে লিচুর গায়ে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে। দাগ বা ফাটল আছে কি না দেখুন- ভালো লিচুর খোসা সাধারণত পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। খোসায় বাদামি দাগ, ফাটল বা পচা অংশ থাকলে সেই লিচু এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে ডাঁটির অংশ পচা থাকলে ভেতরেও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই সম্ভব হলে ডালযুক্ত ও টাটকা লিচু কেনাই ভালো। খোসা সহজে ছাড়ালে বুঝবেন পাকা- লিচুর খোসা ছাড়িয়েও এর মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পাকা ও মিষ্টি লিচুর খোসা সাধারণত সহজেই খুলে আসে। যদি খোসা শক্তভাবে আটকে থাকে বা ভেতরে বাদামি দাগ দেখা যায়, তাহলে সেটি ভালো নাও হতে পারে। কেনার পর যা করবেন- বাজার থেকে লিচু এনে সরাসরি না খেয়ে আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। চাইলে ঘণ্টাখানেক পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ময়লা বা কৃত্রিম রঙের কিছু অংশ দূর হতে পারে। সতর্কভাবে লিচু কিনলে গরমের এই জনপ্রিয় ফল খাওয়ার আনন্দ যেমন বাড়বে, তেমনই স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব।

২০ মে ২০২৬

ঈদযাত্রায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ মহাসড়কে জটের শঙ্কা

ঈদযাত্রায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ মহাসড়কে জটের শঙ্কা

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল: ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসতেই যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার মানুষের ঘরমুখী যাত্রা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেনের চওড়া রাস্তা দিয়ে যানবাহনগুলো দ্রুত চলে এলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এ মহসড়কে যানজটের আসল নেপথ্য কারণ- যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ওয়ানওয়ে (একমুখী) যাতায়াত ব্যবস্থা। ফোর লেনের বিপুল সংখ্যক গাড়ির চাপ যমুনা সেতুর সরু ওয়ানওয়ে সামলাতে পারেনা। ফলে প্রতি বছরই ঈদ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এবারও ঈদুল আযহায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে ভোগান্তি বাড়াবে। মহাসড়কে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যমুনাসেতু প্রশস্তকরণ বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি ক্রমশ: জোরদার হচ্ছে। জানাগেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মহাসড়কে জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে চলে আসে। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এই অংশের কাজের অগ্রগতি মাত্র ৮০ শতাংশ। ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস এবং সার্ভিস লেনের কাজ চলমান থাকায় রাস্তা এমনিতেই সংকুচিত। এর ওপর যমুনা সেতুতে দুই দিকে একই সাথে গাড়ি চলাচলের পর্যাপ্ত লেনের অভাব বা ওয়ানওয়ে যাতায়াতের কারণে ফোর লেনের গতিশীল গাড়িগুলো সেতুর প্রবেশমুখে এসে আটকে যাচ্ছে। এই অতিরিক্ত গাড়ির চাপ নেওয়ার ক্ষমতা সেতুর না থাকায় পেছনের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। কখনো কখনো তা ৪০ কিমি পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং তদারকির অভাবেই এই অংশের কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি। এদিকে, ঈদুল আযহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিরসনে রোববার(১৭ মে) বিকালে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান, যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানায়, যমুনা সেতুর ওয়ানওয়ে যাতায়াতের এই ‘বটলনেকে’র কারণে টাঙ্গাইল অংশে প্রতিবছরই যানজট হয়। বরাবরের মতো এবারও নানা কারণে মহাসড়কের ১৩টি নির্দিষ্ট স্পটে সবচেয়ে বেশি যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্পটগুলো হচ্ছে- যমুনা সেতু, যমুনা সেতু গোলচত্বর, জোকার চর, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, এলেঙ্গা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, ঘারিন্দা ওভার ব্রিজ, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস, করটিয়া বাইপাস, পাকুল্ল্যা, মির্জাপুর শহরের আঞ্চলিক সড়ক, মির্জাপুরের হাটুভাঙ্গা। জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসন বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা ও বিকল্প রুটের কথাও ভাবছে। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে যানজট এড়াতে কিছু গাড়িকে ভূঞাপুর হয়ে আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যমুনা সেতু গোল চত্বরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে হলে সেতু পারাপারে বিশেষ ট্রাফিক সমন্বয় এবং হাইওয়ে পুলিশের ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, সিদ্দিক হোসেন, তুলা মিয়া, আজমত আলী, রঘুনাথ শীল, পিযুস কান্তি সাহা, হাজী শরিফুল ইসলাম সহ অনেকেই জানায়, প্রতিবছর ঈদের আগে ও পরে বিভিন্ন স্পটে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, মহাসড়কে লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ি নামানো এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট হয়। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে সেতুর ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তাই যমুনাসেতু ওয়ানওয়ে হওয়ায় সেতুর প্রশস্ততা বাড়ানো বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তারা জানায়, মহাসড়কে যানজটের প্রধান কারণ হলো ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গাড়ি চলাচল করা। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তাছাড়া অতিরিক্ত গাড়ির চাপের মধ্যে ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর কোনো গাড়ি বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটালে তাৎক্ষণিক মহাসড়কে প্রায় ২০-৩০ বা ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। কারণ, মহাসড়ক থেকে ওই গাড়ি সরাতেই অন্তত আধা ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। ঈদের সময়ে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে যেন কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করতে না পারে- তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মহাসড়কের পাশে বসবাসে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা জানান, নির্দিষ্ট কিছু স্পট দিয়ে হঠাৎ বড় রাস্তায় ছোট ছোট যানবাহন উঠে পড়ে- যা যানজট সৃষ্টি করে। এদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এছাড়া কোরবানির ঈদের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে ট্রাকে গরু ওঠানামা করানো হয়। মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়ি চালক আব্দুল লতিফ, রাসেল আহাম্মেদ, হাসু মিয়া, রাকিব হোসেন সহ অনেকেই জানান, সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে ছুটি হলে সবাই একসঙ্গে ঢাকা ছাড়তে মরিয়া হয়ে ওঠে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ একবারে এই মহাসড়কে এসে পড়ে। ঈদের মাত্র দুই-একদিন আগে হঠাৎ সব ছুটি একসঙ্গে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সবার মাঝে আগে বাড়ি ফেরার প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ায় মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়ে। মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আউয়াল জানান, ঈদযাত্রা উপলক্ষে মহাসড়কের দুই পাশেই ফোর লেনের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ঈদযাত্রায় যানবাহন চলাচলের জন্য ফোরলেন সড়কটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এবার মহাসড়কে কোনো যানজট হবে না। তবে যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। বাসেক’র যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, কোরবানির ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু দিয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক টোল আদায় চালু রাখা হবে। সেতুর দুই প্রান্তেই ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হবে। এর মধ্যে মোটরবাইক চালকদের সুবিধার্থে দুই প্রান্তেই ২টি করে আলাদা বুথ থাকবে। তবে বর্ধিত জনসংখ্যা ও ফোরলেনের মহাসড়কের গাড়ির চাপ যমুনাসেতুর ওয়ানওয়ে নিতে পারছেনা। ফলে যানজট নিরসনের চেষ্টা করেও সফলতা পাওয়া যাচ্ছেনা। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, এবার মহাসড়কে যানজটের কোনো আশঙ্কা নেই। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক, পণ্যবাহী গাড়ি এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের পাশে বা আশেপাশে কোনো ধরনের অস্থায়ী গরুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শরীফও পুলিশ সুপারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বিএনপি সরকার দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করছে। উত্তরবঙ্গের এবারের ঈদ যাত্রা যেন স্বস্তিদায়ক ও আরামদায়ক হয় এবং দুর্ঘটনায় যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে- সেজন্য চালক, যাত্রী, পথচারী ও প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি জানান, যানজট নিরসনে সরকার সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে কাজ করবে বিশেষ ‘স্বেচ্ছাসেবী টিম’। মহাসড়ক ও পশুর হাট ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশাসনকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২০ মে ২০২৬

এলেঙ্গায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের চেষ্টার দায়ে জরিমানা

এলেঙ্গায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের চেষ্টার দায়ে জরিমানা

এলেঙ্গা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে অসুস্থ ষাঁড় গরু জবাইয়ের প্রস্তুতির দায়ে চাঁন মিয়া (৬০) নামে এক মাংস বিক্রেতাসহ তিন ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১৮ মে) সকালে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদা খানম লিজার নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমান আদালত ওই অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে চাঁন মিয়া নামে এক মাংস বিক্রেতা অসুস্থ একটি ষাঁড় জবাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যাম আদালতের বিচারক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের তফসিলভুক্ত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে গরুটি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত জবাই না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া বাজারে অপরিকল্পিতভাবে পোল্ট্রি মুরগি রেখে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি ও দুর্গন্ধ ছড়ানোর দায়ে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী হুমায়ুনকে ১০ হাজার টাকা; একই বাজারে মাংসের দোকানের পাশে পশুর চামড়া রেখে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে মাংস বিক্রেতা রজব আলীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। প্রশাসনের এমন অভিযানে বাজারে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান ক্রেতারা। এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদা খানম লিজা জানান, অসুস্থ পশু জবাই, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য বিক্রি কিংবা পরিবেশ দূষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় কালিহাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইম আল সালাউদ্দিনসহ কালিহাতী থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৮ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলে সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে যানজট নিরসনে করণীয় নির্ধারনে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার(১৭ মে) বিকালে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ’র উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, টাঙ্গাইল সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান, বাসেক’র যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক প্রমুখ। সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সভায় বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

১৭ মে ২০২৬

তামাক পণ্যের কর ও বর্ধিত মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন

তামাক পণ্যের কর ও বর্ধিত মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন

দৃষ্টি নিউজ: আগামি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাক পণ্যের উপর কর বৃদ্ধি ও বর্ধিত মূল্য নির্ধারণের দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র (ডরপ) এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সচেতন নাগরিক ও বিড়ি শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করে। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার উদ্বেগজনক, সর্বোচ্চ ৩৫.৩শতাংশ। তামাকজনিত রোগের প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটেছে- যা একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট নির্দেশ করে। তাছাড়া ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা- যা এই খাত থেকে অর্জিত আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। এই ক্ষতি কমাতে, তামাক খাতকে শুধু রাজস্ব আয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে, কার্যকর কর আরোপের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন, ডরপ-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জেবা আফরোজা, অ্যাডভোকেসি কো অর্ডিনেটর শিলভানা আক্তার, টাঙ্গাইল আঞ্চলিক বিড়ি শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি নাজমুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মিয়া, সদস্য জয়নব বিবি, সাংবাদিক বোরহান তালুকদার প্রমুখ।

০৪ মে ২০২৬

সাংবাদিকতায় আজীবন সম্মাননা পেলেন শফিক রেহমান

সাংবাদিকতায় আজীবন সম্মাননা পেলেন শফিক রেহমান

দৃষ্টি রিপোর্ট: বিশিষ্ট সাংবাদিক যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেছেন, বাংলাদেশে যেন সহিংসতা না থাকে। মানুষ যেন একে অপরকে ভালোবাসে। সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে দেশে বসবাস করতে পারে। সাংবাদিকরা এ জন্য তাদের লেখনীর মাধ্যমে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এবিএম মূসা-সেতারা মূসা ফাউন্ডেশনের দেয়া আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করে শফিক রেহমান এই মন্তব্য করেন। খ্যাতিমান সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবিএম মূসার ৯৪তম ও তার স্ত্রী নারী সাংবাদিকতার অন্যতম অগ্রদূত সেতারা মূসার ৮৫তম জন্মদিন উপলক্ষে এই আজীবন সম্মাননা প্রদান ও স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্মারক বক্তব্য দিয়েছেন দি নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ। সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে নজরুল সংগীত ‘আমার আপনার চেয়ে আপন’ পরিবেশন করেন শিল্পী মৃদুলা সমাদ্দার। এরপর সাংবাদিক শফিক রেহমানের জীবনী পাঠ করেন অহনা শেখ। শফিক রেহমানকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন মূসা দম্পতির বড় মেয়ে ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি মরিয়ম সুলতানা মূসা। সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য ও তাদের ছোট মেয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শারমিন মূসা। পরে এবিএম মূসা ও সেতারা মূসার জীবনী পাঠ করা হয়। সম্মাননা প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শফিক রেহমান বলেন, ‘এবিএম মূসার সঙ্গে আমার একটা গভীর সম্পর্ক ছিল। তাকে সবাই এবিএম মূসা নামে চিনলেও তার আসল নাম আবু বকর মুস্তফা, তা অনেকের অজানা। তিনি পাকিস্তান অবজারভারে কাজ করার সময় অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত অনেক স্মৃতি আছে।’ এবিএম মূসার সঙ্গে তার শেষ দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে শফিক রেহমান বলেন, ‘তিনি শেষ পর্যন্ত সাংবাদিক হিসেবেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি মৃত্যুর আগে আমাকে বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু তা হয়তো আর হবে না।’ তিনি বলেন, “হসপিটালে তার শেষ দিনগুলোতে আমি দেখেছি তিনি একা ছিলেন। কারণ, একজন যখন সাহসী হন, তখন তিনি মাঝে মধ্যে একা হয়ে যান। ইদানীং একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় যে ‘সাহস আগে নাকি সত্য আগে’। আমি মনে করি, সাহস আগে, সত্য পরে। যেমন আবু সাঈদ যদি সাহস দেখিয়ে না দাড়াত, তবে সত্য আজ পরিচিত হতো না।” যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, ‘সাংবাদিকদের জীবনে অনেক ক্রান্তিকাল আসে। কিন্তু সাংবাদিকদের সাহসী হতে হবে। আর নির্ভীকভাবে সত্য প্রকাশ করার জন্য সাংবাদিকদের বিকল্প আর্থিক আয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।’ নিজের দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি বলেন, জীবনের শুরুতেই তিনি এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। বিকল্প ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন বলেই নির্ভীকভাবে সত্য কথা লিখতে পেরেছেন।’ বাংলাদেশে ‘ভালোবাসা দিবস’র প্রবর্তক শফিক রেহমান বলেন, ‘ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। ভালোবাসা থাকলে সহিংসতা থাকবে না।’ তিনি যায়যায়দিন পত্রিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার হাত থেকে ১৮ বছর আগে যা কেড়ে নেয়া হয়েছিল, তা হয়তো ভবিষ্যতে অন্য কেউ কেড়ে নিতে পারে। কিন্তু ভালোবাসার দিন আর কেউ কেড়ে নিতে পারে না। ভালোবাসার মধ্য দিয়ে যদি আমরা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে না পারি, তবে এই শহরে অনেক হানাহানি হবে। আমি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলব, আপনাদের লেখায় যেন ভালোবাসা ও সহযোগিতার বাণী ফুটে ওঠে।’ শফিক রেহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আমাকে একুশে পদক দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি তা গ্রহণ করিনি। কারণ, আমি চাইনি আমার সাংবাদিক সত্ত্বার ওপর কোনো দলীয় তকমা লাগুক। দীর্ঘ ২৪ বছর পর অন্তর্র্বর্তী সরকারের সময় এই পদকটি আমি পেয়েছি এবং সেটি আমি কোনো দলীয়ভাবে নিইনি বলে আমার নিরপেক্ষতা রক্ষিত হয়েছে।’ অনুষ্ঠানে ‘জনমুক্তি প্রয়াসী লড়াকু সাংবাদিকতা : বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে’ শীর্ষক দীর্ঘ স্মারক বক্তব্য দেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, এবিএম মূসা এ দেশের রাজনীতি-সচেতন সাংবাদিকতার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। কোনো রাষ্ট্র যখন তার নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যনীতি চর্চা করে, তখন সেই সমাজের সব পরিসরে তার ছায়া ও প্রভাব পড়তে বাধ্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পূর্বকালে, পাকিস্তানি রাষ্ট্র ও তার পশ্চিম ভিত্তিক শাসক শ্রেণি বাঙালি জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্য নীতি গ্রহণ ও চর্চা করেছে। এবিএম মূসা এই বিষয়টি লক্ষ করেছেন এবং সক্রিয় প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেছেন। বিভিন্ন পরিসরে এই সব ছোট-বড় প্রতিবাদ সমন্বিত রূপ ধারণ করেই বাংলাদেশের বৈষম্য বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল। নূরুল কবীর বলেন, সাংবাদিকতা মোটেও কোনো রাজনীতি-নিরপেক্ষ নিরীহ পেশা নয়। এবিএম মূসা রাজনীতি-সচেতন ছিলেন, এমনকি নির্দিষ্ট দলীয় আনুগত্যও তার ছিল। তবে সাংবাদিকতা চর্চার পরিসরে তিনি কখনই দলান্ধ ছিলেন না। রাজনৈতিক সাংবাদিকতা ছাড়াও সাংবাদিকতার নানা পরিসরে এবিএম মূসার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শফিক রেহমানের স্ত্রী ও ডেমক্রেসি ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমান। আরো বক্তব্য দেন কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান অধ্যাপক অলিউর রহমান, ধন্যবাদ জানান ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ আফতাব উদ্দিন। সূত্র: যায়যায়দিন

০৩ মে ২০২৬

ভোটের কালি না শুকাতেই বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

ভোটের কালি না শুকাতেই বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি নিউজ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, আঙুল থেকে ভোটের কালি না শুকাতেই বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ‘টাঙ্গাইল জেলার ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী পুনঃখনন এবং টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় নদীতীর প্রতিরক্ষা’ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হলো। শনিবার (২ মে) সদর উপজেলার করটিয়ার ক্ষুদিরামপুর এলাকায় পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নদী বাঁচলে টাঙ্গাইল বাঁচবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটবে, অন্যদিকে টাঙ্গাইল পৌরসভা ভাঙন ও বন্যা থেকে রক্ষা পাবে। বর্তমান সরকার জলাশয় ও নদী রক্ষায় বদ্ধপরিকর। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের পলি জমে ভরাট এবং দখল-দূষণের শিকার হওয়া ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী খনন করার ফলে এই অঞ্চলের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষি ও পরিবেশের আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় নদীতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের ফলে শহরের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশ, টাঙ্গাইলের ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং টাঙ্গাইল পৌর এলাকার নদী তীরবর্তী জনপদ রক্ষায় ওই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

০২ মে ২০২৬

পথচারীদের তৃষ্ণা নিবারণে ‘সবুজ পৃথিবী’র টিউবওয়েল স্থাপন

পথচারীদের তৃষ্ণা নিবারণে ‘সবুজ পৃথিবী’র টিউবওয়েল স্থাপন

দৃষ্টি নিউজ: টাঙ্গাইল শহরের গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানে পথচারীদের জন্য ‘সবুজ পৃথিবী’র পক্ষ থেকে টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। ​মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে শহরের আদালতপাড়াস্থ বড় পুকুর পাড়ে প্রধান অতিথি হিসেবে টিউবওয়েল স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদার। সবুজ পৃথিবীর উপদেষ্টা দিলআরা বেগম মিনার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সেবকের নির্বাহী পরিচালক নাজমুজ সালেহীন, সবুজ পৃথিবীর পরিচালক সারমিন আলম, সবুজ পৃথিবীর প্রতিষ্ঠাতা সহিদ মাহমুদ। উন্মুক্তস্থানে স্থাপন করা টিউবওয়েলটির মাধ্যমে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারবেন।

২৮ এপ্রিল ২০২৬

টাঙ্গাইলে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

টাঙ্গাইলে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

দৃষ্টি নিউজ: ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইলে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) র‌্যালি ও আলেঅচনাসভার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। টাঙ্গাইলের জেলা জজ আদালতের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে আদালত অঙ্গনের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা জজ আদালতের সভাকক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির সভাপতি মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. মো. আবদুল মজিদ, ল্যান্ড সার্ভের আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ মোশারফ হোসাইন, পারিবারিক আদালতের বিচারক বেগম ফাতেমা জাহান স্বর্ণা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস, পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন এফএম মাহবুবুল আলম মঞ্জু, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, জেলা লিগাল এইড অফিসার মিনহাজ উদ্দিন ফরাজি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোনায়েম হোসেন খান আলম এবং আদালতের সরকারি কৌশলী শফিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ । সভায় গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়, দুস্থ ও সাধারণ মানুষের সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

২৮ এপ্রিল ২০২৬

কুকুরের কামড়ে ৯ শিশুসহ ৫৪ জন আহত

কুকুরের কামড়ে ৯ শিশুসহ ৫৪ জন আহত

সখীপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভা সহ কালিয়া, গজারিয়া, বহেড়াতৈল, কাকড়াজান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জন শিশুও রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব ঘটনা ঘটে। আহতরা সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে আবদুর রশিদ নামে একজনকে রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, গত রোববার(২৬ এপ্রিল) দুপুরের পর কুকুরের আক্রমণে আহত হয়ে ৫-৭ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। পরে ওই দিনই একে একে ৩১ জন কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে চিকিৎসা নেন। সোমবার(২৭ এপ্রিল) বিকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আরও ২৩ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদিকে হঠাৎ কুকুরের আক্রমণে আহত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীরা পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত মেহেরা বেগম (৫০) বলেন, আমার নাতনিকে কোলে নিয়ে সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি কুকুর এসে নাতনিকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করলে আমি হাত দিয়ে বাধা দিই। এ সময় কুকুরটি আমার হাতেই কামড় বসিয়ে দেয়। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানো রোগীর পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন বরাদ্দ নেই। জরুরি ভিত্তিতে কয়েকজনকে হাসপাতাল থেকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। অনেকে বাইরে থেকেও ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া বেশি ক্ষত হওয়া কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি কুকুরের বিষয়ে উপজেলার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

২৭ এপ্রিল ২০২৬

একটি ভিডিওর কল্যাণে রাতারাতি ভাইরাল তাইজুল

একটি ভিডিওর কল্যাণে রাতারাতি ভাইরাল তাইজুল

দৃষ্টি ডেস্ক: ‌‘জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? সাদাডা কত, লালডা কত? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হইতাম’ দোকানিকে এমন প্রশ্ন করে এখন দেশব্যাপী আলোচিত নাম তাইজুল ইসলাম। কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাজু ভাই ২.০’ এর তাইজুল ইসলামকে (৩০) কয়েকদিন আগেও তেমন কেউই চিনতেন না। ফেসবুকে ফলোয়ার ছিল মাত্র কয়েক হাজারের মতো। সেই তাইজুল ইসলামের ফলোয়ার এখন লাখ লাখ। মাত্র একটি ভিডিওর কল্যাণে রাতারাতি ভাইরাল বনে গেছেন তিনি। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম। অভাব-অনটনের কারণে কোনোদিন স্কুলের বারান্দায় পা রাখা হয়নি তার। তবে অজপাড়াগাঁয়ে বাস করা এই যুবকের একটি ভিডিও সম্প্রতি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে। ‌‘জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? সাদাডা কত, লালডা কত? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হইতাম’ দোকানিকে এমন প্রশ্ন করে এখন দেশব্যাপী আলোচিত নাম তাইজুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এখন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামেই পরিচিত। হুহু করে বাড়ছে তার ফলোয়ার। ‘তাজু ভাই ২.০’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে মহান স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে স্থানীয় নারায়ণপুর বাজারে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও করেন। ভিডিওতে তিনি দোকানির কাছে জানতে চান, জিলাপি ‘সরকারি রেটে’ বিক্রি হচ্ছে কি-না। তার এই সহজ-সরল উপস্থাপনার ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, তাজু ভাই স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে জিলাপি বিক্রি নিয়ে গ্রাম্য ভাষায় কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক এখানে দোকানপাট, অনেক জিলাপি ভাজতেছে। তার কাছে আমি প্রশ্ন করবো জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?’ এরপরই তিনি দোকানিকে প্রশ্ন করেন, ‘জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? যদি জনগণকে বলতেন তাহলে অনেক খুশি হইতাম।’ এ ভিডিওর পর তাইজুল ইসলামের ফলোয়ার বাড়ছে হুহু করে। বর্তমানে তার ফলোয়ার লাখ লাখ। ভাইরাল হওয়ার আগে যা ছিল মাত্র ছয় হাজার। জিলাপি বিক্রির ওই ভিডিওটি এরইমধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ দেখেছেন। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদল তার সরলতার প্রশংসা করলেও অন্যদল তাকে নিয়ে ট্রোল বা ব্যঙ্গ করছেন। ব্যক্তিজীবনে তাইজুল ইসলাম নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার)। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কাজের ফাঁকে শখের বশে এমন মজার ভিডিও তৈরি করেন তিনি। এ বিষয়ে তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই আমি ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না। আপনারা সাংবাদিকরা নারায়ণপুরে আসেন না, আমাদের এলাকার খবর করেন না তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে ট্রোল করলেও আমার কষ্ট নেই। আমি শুধু চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।’ নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ওই ছেলের বাড়ি আমার পরিষদের সামনেই। তবে সে যে ভিডিও করে ভাইরাল হয়েছে, তা প্রথম শুনলাম।’

০৬ এপ্রিল ২০২৬