ছবি

পৌজান বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ছয় দোকান ভস্মীভুত

পৌজান বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ছয় দোকান ভস্মীভুত

কালিহাতী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভুত হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের পৌজান বাজারে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানায়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে বাজারের সজল চন্দ্র সাহা ও গৌতম কুমার দেবের মুরগির ফিডের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডে সজল চন্দ্র সাহা ও গৌতম কুমার দেবের মুরগির ফিডের দোকান, বাবুর টেলিভিশন মেকানিকের দোকান, আব্দুল কাদেরের জুতার দোকান, রাজীব কুমারের সেলুন, সোহেল রানার মুরগির ফিডের দোকান এবং সাধন চন্দ্র সাহার মনোহরি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে কালিহাতী ও এলেঙ্গা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- ছয়টি দোকান ভস্মীভুত হয়ে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এ বিষয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান জানান, তারা রাত ১২টা ৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। ফায়ার সার্ভিসের এক ইউনিটে আটজন সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ আরও যাচাই করা হচ্ছে।

১০ ঘণ্টা আগে

দুর্গম শুশুয়াচরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

দুর্গম শুশুয়াচরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের দুর্গম শুশুয়াচরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(২২ আগস্ট) দিনব্যাপী যমুনা নদীর চরাঞ্চল ভূঞাপুরের অর্জুণা ইউনিয়নের শুশুয়াচরে হিউম্যান কনসার্ন আমেরিকার উদ্যোগে ওই মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশুদের অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমে সাধারণ রোগ, নারী ও শিশু রোগ, চর্ম ও যৌন রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ওজন পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।এদিন দুপুরে দুর্গম শুশুয়াচরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার সামি হামদি, হিউম্যান কনসাল্ট ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল সিইও মাহমুদা খান, হিউম্যান কনসার্ন আমেরিকার সিইও মাসুম মাহবুব। এসময় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ৭০ বছরের বৃদ্ধ বছির খা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা হাতের পাখনায় ব্যথায় ভুগছি। ডাক্তার দেখানোর জন্য নৌকাপাড়ি দিয়ে ভূঞাপুর কিংবা সিরাজগঞ্জ যেতে হয়। আজকে এখানে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখলাম এবং ওষুধ পেলাম। খুব ভালো লাগছে।৬০ বছরের বৃদ্ধা জরিনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোমরও পায়ের ব্যাথা রয়েছে। টাকার অভাবে শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারি নাই। আজকে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখলাম। একইসঙ্গে ওষুধও দেওয়া হয়েছে।মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সোনিয়া ইসলাম ফারিন বলেন, ২-৩ বছর ধরে আমি কোমর ও পেটের ব্যথায় ভুগছি। কোনো ডাক্তার দেখিয়েও ব্যথা কমেনি- তাই আজকে এখানে ডাক্তার দেখাতে এসেছি।হিউম্যান কনসার্ন আমেরিকার সিইও মাসুম মাহবুব বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ। ভূঞাপুর উপজেলার দুর্গম চরের গ্রামগুলোতে তেমন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই। সে হিসেবে আমরা চিন্তা করলাম কীভাবে এসব মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া যায়। তারই ধারাবাহিকতায় ভূঞাপুরে দুর্গমচরে ৪টি গ্রামে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। প্রথমদিন আজকে চরশুশুয়া গ্রামের ৩০০ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।

২২ আগস্ট ২০২৬

‘আটিয়া বন অধ্যাদেশ’ বাতিল করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

‘আটিয়া বন অধ্যাদেশ’ বাতিল করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট:মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি বলেছেন, আটিয়া বন অধ্যাদেশ ৮২’র একটি কালো আইন। এই আইন বাতিল করার জন্য আমি বন ও পরিবেশ মন্ত্রীকে বলেছি, বারবার বলব; বহুবার সংসদে বলেছি। যতবার সুযোগ পাবো ততবারই সংসদে বলবো, এই কালো আইন বাতিল করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। বন বিভাগের লোকজন আপনারা আপনাদের কাজ করবেন জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ঐতিহ্যবাহী তালতলা চত্বরে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, এ সরকার সিল মেরে, রাতে ভোট দিয়ে, জোর করে নির্বাচিত হয় নাই- জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তন করতে পেরেছি। তাই জনগণের চোখের ভাষা বুঝে জনগণকে ভালবেসে তার কাজ করে দিতে হবে। আপনারা জনগণকে ভালোবাসবেন আমি জনগণের উন্নয়ন করব। কেউ দখলদারি চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হবেন না।তিনি বন বিভাগের লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সখীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরকার শহীদ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিমুদ্দিন মাস্টার, সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মাস্টার, টাঙ্গাইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম ঝলক, সদস্য সচিব সালহে মোহাম্মদ শাফী ইথেন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হাসান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ডালিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম সিকদার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বুলবুল আহমেদ প্রমুখ।

২২ আগস্ট ২০২৬

শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

দৃষ্টি নিউজ:গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে তিনি এ শপথ গ্রহণ করেন। নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, অন্তবর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা।এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি কূটনীতিক, তিন বাহিনী প্রধান, সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে বাজানো হয় জাতীয় সংগীত। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় শপথের মূল আনুষ্ঠানিকতা। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।রাষ্ট্রপতির শপথ ও নতুন মন্ত্রীদের শপথকে কেন্দ্র করে পুরো বঙ্গভবন এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। মূলভবনসহ পুরো বঙ্গভবন এলাকা নতুন সাজে সাজানো হয়।নিরাপত্তার স্বার্থে বঙ্গভবন ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পোশাকে ও সাদা পোশাকে নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের নির্দিষ্ট পাস ও কয়েক দফা গাড়ি চেকিংয়ের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়েছে।

২১ আগস্ট ২০২৬

হিথ্রো বিমানবন্দরে প্রতিমন্ত্রী টুকুকে ফুলেল শুভেচ্ছা

হিথ্রো বিমানবন্দরে প্রতিমন্ত্রী টুকুকে ফুলেল শুভেচ্ছা

দৃষ্টি রিপোর্ট:মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি যুক্তরাজ্যে পৌঁছলে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ সংবর্ধনা জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় দুপুরে হিথ্রো বিমানবন্দরে ইউকে টাঙ্গাইল জেলা সমিতি, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মাইনুল আলম খান কনক, মিজানুর, ফাহমিদা, মিজান, হুমায়ুন, টিটু ও আহাদসহ আরও অনেকে।ইউকে টাঙ্গাইল জেলা সমিতির সদস্য মাইনুল আলম খান কনক বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর যুক্তরাজ্য আগমন উপলক্ষে তাঁকে শুভেচ্ছা, সংবর্ধনা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করা হয়েছে।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টায় ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে পারিবারিক সফরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সফর শেষে আগামি ২৯ আগস্ট তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

২১ আগস্ট ২০২৬

সাত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড, সাত জনের যাবজ্জীবন

সাত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড, সাত জনের যাবজ্জীবন

দৃষ্টি নিউজ: জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা ও ভাতিজাকে হত্যার দায়ে ১০ বছর পর সাত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড ও সাত জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায়ে একই সাথে মৃতদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ওই রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- শাখাওয়াত, সোহেল, আলআমিন সাদ্দাম, অন্তর, উজ্জ্বল ও ফয়জুর এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- চান মিয়া, জিয়ার, শাহ আলম, কাওছার, সুমন, রিফাত ও মোস্তফা। সাজাপ্রাপ্তরা সবাই এবং মামলার বাদীপক্ষ জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান- পূর্বের একটি বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গানবাজনার কথা বলে শাখাওয়াত ও সোহেল নামে দুই আসামি চাচা মহর আলী ও ভাতিজা স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নিয়ে দুজনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।এ ঘটনায় নিহত স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ২২ জনকে আসামি করে ওই বছরের ১৯ মে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত ওই রায় ঘোষণা করে।

২০ আগস্ট ২০২৬

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

আব্দুস সাত্তার:নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

২০ আগস্ট ২০২৬

জাপানের ইয়োমিকাতা ও ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

জাপানের ইয়োমিকাতা ও ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাপানে উচ্চশিক্ষা, জাপানি ভাষা শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাপানের টোকিওভিত্তিক ‘ইয়োমিকাতা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টার’-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার(১৯ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ এবং ইয়োমিকাতা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টারের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ওই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির, গবেষণা সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।চুক্তির আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা, জাপানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং, মেন্টরিং ও পেশাগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাডেমিক নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধিতে কাজ করবে। এ ছাড়া দুই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে যৌথ সেমিনার, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ হচ্ছে- ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাপানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও কারিগরি পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা।

২০ আগস্ট ২০২৬

৯০ ভোট জেনেও কেন অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী!

৯০ ভোট জেনেও কেন অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী!

দৃষ্টি নিউজ:রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট না থাকার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও অলি আহমদকে সরিয়ে নেয়নি জোট। বরং ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।জামায়াত নেতাদের বক্তব্য, এই নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের প্রার্থী থাকা এবং সংসদ সদস্যদের ভোটে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। অলি আহমদের প্রার্থিতার বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ইতোমধ্যে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।তিনি বলেন, ১১ দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চার ধারা তৈরির জন্য। তার ভাষায়, এখানে জয়-পরাজয় মুখ্য নয়; প্রতিদ্বন্দ্বিতাই মূল বিষয়।জামায়াতের এই নেতা বলেন, অতীতে সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিত। এবার সেই ধারার বাইরে গিয়ে ১১ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী থাকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।অলি আহমদের প্রার্থিতা নিয়ে জামায়াতের আরেকটি যুক্তি হলো, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ থাকলে নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেন, গণভোটের রায় কার্যকর হলে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ পেতেন এবং সেক্ষেত্রে অলি আহমাদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন।জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও বলা হচ্ছে, এই নির্বাচন শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সংসদে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান জানান দেওয়ার একটি সুযোগ। ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের পাওয়া ভোট ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তাদের শক্তির একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হবে। তবে বাস্তব ভোটের হিসাবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৯০ জন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে রয়েছেন। বিপরীতে বিএনপির রয়েছে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন। ফলে অলি আহমদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এরপরও প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে ভোটে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট।২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের জন্য ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ রেখে তফসিল ঘোষণা করে ইসি। বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাইয়ে বৈধ হলে কোনো প্রার্থীই প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ভোটগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

২০ আগস্ট ২০২৬

বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির দূত

বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির দূত

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::২০২৬ সালের বিশ্ব রাজনীতি ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চালচিত্র এক গভীর ও অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের তীব্র প্রভাব প্রমাণ করেছে সনাতন ধারার আবেগসর্বস্ব ও স্লোগানভিত্তিক রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ কার্যকারিতা হারিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার, জলবায়ু বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক নব্য-বাস্তবতার এই যুগে বাংলাদেশের টিকে থাকা এবং এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে সম্পূর্ণ নতুন এক রাজনৈতিক দর্শনের ওপর। বর্তমান বাস্তবতায় আবেগ নয় বরং বিজ্ঞানমনস্ক, দূরদর্শী এবং গবেষণানির্ভর ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা’-ই সংকটের গোলকধাঁধা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চলছে তীব্র মেরুকরণ। পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যুদ্ধ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক প্রভাবের বাইরে নয়। এই অবস্থায় কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন গভীর কৌশলগত বিশ্লেষণ, দক্ষ কূটনীতি এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি নির্ধারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়াতে হলে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে গবেষণালব্ধ। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের প্রচলিত কর্মসংস্থান কাঠামোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সনাতন শ্রমশক্তির ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার দিন শেষ। এখন প্রয়োজন মেধা-ভিত্তিক অর্থনীতি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে জাতি হিসেবে আমরা এক বিশাল বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুখে পড়ব। বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা এখানে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কারিগরি দক্ষতার উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল তৈরিতে পথ দেখাবে। তদুপরি, মহামারী-উত্তর অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আমাদের নব্য-বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাজার নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে বৈদেশিক ঋণের ব্যবস্থাপনা- সব ক্ষেত্রেই আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি খাতের নীতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রতিফলন এবং ডেটা-চালিত (data-driven) সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।চলতি ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং প্রযুক্তি, তথ্য ও অর্থনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ধারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের সস্তা শ্রমের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে মেধা ও দক্ষতার ওপর জোর দিতে হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জেনারেটিভ এআই এবং রোবোটিক অটোমেশনের কারণে শ্রমবাজার দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। যে সব দেশ প্রযুক্তির এই গতিপ্রকৃতি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে- তারা তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ছে। দেশের ভেতরে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে তুঙ্গে। সমকালীন তরুণ সমাজ সস্তা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবমুখী ও প্রায়োগিক রূপরেখা দেখতে চায়।টেকসই উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মেধাভিত্তিক ও তথ্য-উপাত্তনির্ভর রোডম্যাপের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান তিনটি চালিকাশক্তির নিরিখে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যেতে পারে- ক) আইটি সেক্টর: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও মেধার বিশ্বায়নে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিনির্ভর। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) সাম্প্রতিক সমীক্ষা ও ২০২৬ সালের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও করপোরেট খাতের প্রায় ২৫% মধ্যম সারির চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়বে, যদি না আমরা দ্রুত দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারি। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেঙ্গালুরু যেখানে বার্ষিক আইটি রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি এখনো ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বৃত্তে আটকে আছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০,০০০ আইটি গ্র্যাজুয়েট বের হলেও, বৈশ্বিক চাহিদার সাথে কারিকুলামের অমিলের কারণে প্রায় ৪২% গ্র্যাজুয়েট সরাসরি আন্তর্জাতিক মানের কাজ পাওয়ার যোগ্যতা হারাচ্ছেন। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় এজেন্ডায় এআই গভর্ন্যান্স, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং সেমিকন্ডাক্টর মাইক্রোচিপ ডিজাইনে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি। ভারতের আইআইটি (IIT) বা সিলিকন ভ্যালির আদলে বিশেষায়িত টেক-হাব তৈরি করে তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং থেকে উদ্যোক্তায় রূপান্তর করার মহাপরিকল্পনা নিতে হবে।খ) বৈদেশিক রেমিট্যান্স: বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রধানতম উৎস হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। তবে গত কয়েক দশক ধরে অনুসৃত ‘শুধু অদক্ষ শ্রমিক’ পাঠানোর কৌশল ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো (যেমন- সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০) এখন মেগা সিটি, পর্যটন ও হাই-টেক প্রজেক্টের দিকে ঝুঁঁকছে, যার ফলে সেখানে সাধারণ নির্মাণ শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত কমছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি দিলেও তাদের প্রায় ৭৫% থেকে ৮০% সম্পূর্ণ অদক্ষ। ফলে ফিলিপাইন বা শ্রীলঙ্কার একজন দক্ষ নার্স, প্রকৌশলী বা আইটি কর্মী যেখানে প্রতি মাসে গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ডলার দেশে পাঠান, সেখানে একজন বাংলাদেশি সাধারণ শ্রমিক কঠোর পরিশ্রম করেও পাঠাতে পারেন মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার। আমাদের রেমিট্যান্স নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নার্সিং, কেয়ার-গিভিং, আধুনিক ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রযুক্তিতে ডিপ্লোমাধারী দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করতে হবে। মেধাভিত্তিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন নতুন উন্নত দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করাই হবে আগামী দিনের রেমিট্যান্স সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। মুদ্দা কথা, অদক্ষ শ্রমের অবসান করে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।গ) কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। অসময়ী বন্যা, দীর্ঘায়িত খরা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ দেশের খাদ্য উৎপাদনকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছর দেশে আবাদি কৃষি জমি কমছে প্রায় ০.৫% হারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, স্মার্ট ও প্রিসিশন এগ্রিকালচার (Precision Agriculture) তথা প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে প্রবর্তন না করলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে প্রধান দানাদার শস্যের উৎপাদন ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এটি ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁঁকিতে ফেলবে। নেদারল্যান্ডসের মতো একটি ক্ষুদ্র দেশ যেখানে শুধু বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, গ্রিনহাউস প্রযুক্তি এবং ডাটানির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, আমাদেরও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, আইওটি (IoT) সেন্সর দিয়ে মাটির আর্দ্রতা মাপা এবং লবণাক্ততা ও খরা-সহিষ্ণু হাইব্রিড জাতের বীজ উদ্ভাবনে গবেষণাগারে বরাদ্দ দ্বিগুণ করতে হবে। রাজনীতি কেবল ক্ষমতা কেন্দ্রিক কৌশল বা জনসভার সস্তা করতালির মাধ্যম নয়; আধুনিক যুগে রাজনীতি হলো রাষ্ট্রপরিচালনা ও জনকল্যাণের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনটি বুদ্ধিবৃত্তিক স্তম্ভ অত্যন্ত জরুরি। যেমন- ১. থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতি (গবেষণা ও তথ্যনির্ভর পলিসি), ২. যাগ্যতার মূল্যায়ন (মেধাবীদের নীতি-নির্ধারণে আনা) এবং ৩. প্রযুক্তি-বান্ধব সুশাসন (দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল সেবা)। থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতির বিকাশ: রাজনৈতিক দলগুলোকে পেশী শক্তি ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা উইং বা ‘থিঙ্ক-ট্যাংক’ গড়ে তুলতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিদদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় পলিসি খসড়া তৈরি করতে হবে। যোগ্যতার মূল্যায়ন (Meritocracy): নীতিনির্ধারণী ও সংসদীয় পর্যায়ে চাটুকারিতা কিংবা আর্থিক লেনদেনের বদলে খাঁটি মেধা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হলে রাষ্ট্র পরিচালনার চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ সুশাসন: সরকারি ও প্রশাসনিক সব ধরনের সেবা সম্পূর্ণভাবে ব্লকচেইন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে একদিকে যেমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ হবে। এই রূপান্তরের জন্য তীব্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাহসের প্রয়োজন।বর্তমানে জটিল ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অর্থনৈতিক সমীকরণের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আবেগ কিংবা তাৎক্ষণিক লোকদেখানো সস্তা সিদ্ধান্ত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকট দূর করা অসম্ভব। অতীতে ভুল পরিকল্পনার মাশুল এই জাতিকে বহু বছর ধরে গুনতে হয়েছে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য সুনিশ্চিত করতে হলে আমাদের রাজনীতিকে হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক এবং রাষ্ট্রপরিচালনাকে হতে হবে দূরদর্শী ও বিজ্ঞানমনস্ক। মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং সুপরিকল্পিত রোডম্যাপের মাধ্যমেই বাংলাদেশ একটি স্বাবলম্বী, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে। তাই সময় ও ইতিহাসের অমোঘ দাবি মেনে দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়- চলমান সব সংকটের আবর্তে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির একমাত্র দূত’।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

২০ আগস্ট ২০২৬

বিন্না ঘাস বা ছন কী ও কেন এ নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের

বিন্না ঘাস বা ছন কী ও কেন এ নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের

দৃষ্টি ডেস্ক:বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে, পতিত জমি কিংবা চরাঞ্চলে অনায়াসে বেড়ে ওঠে এক ধরনের লম্বা ঘাস। নাম বিন্না ঘাস, যার পরিচিতি ভেটিভার নামেও। এতদিন পথের ধারে কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে পড়ে থাকা এই ঘাসই এবার নদীভাঙন, মাটির ক্ষয়, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন অবকাঠামো রক্ষায় বড় পরিসরে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মাটি শক্তভাবে আটকে থাকে এবং বৃষ্টির পানি বা স্রোতের কারণে মাটির ক্ষয় কমে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ঢাল, নদীর তীর, রাস্তার পাশ ও বাঁধ রক্ষায় এই ঘাস ব্যবহার করা হয়।এ কারণেই বাংলাদেশে কোন কোন প্রকল্পে বিন্না ঘাস ব্যবহার করা সম্ভব, তা যাচাই করতে সরকার টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে এই ঘাস ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম প্রায় দুই দশক ধরে বিন্না ঘাস নিয়ে গবেষণা করছেন। সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত এই গবেষক মনে করেন, প্রকৌশলগতভাবে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা গেলে বিন্না ঘাস সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে মাটির ক্ষয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।অধ্যাপক শরীফুল ইসলামের গবেষণা অনুযায়ী, বিন্না ঘাসের শিকড় অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা দুই থেকে চার মিটার পর্যন্ত মাটির গভীরে যেতে পারে। এই শিকড় মাটির কণাগুলোকে শক্তভাবে আটকে রাখে। ফলে ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশের মাটি সহজে ধসে পড়তে পারে না।বাংলাদেশে বিন্না ঘাস বেন্না ঘাস, খসখস কিংবা ছন নামেও পরিচিত। এটি একটি বহুবর্ষজীবী ঘাস। লম্বা ও সরু পাতার এই ঘাস ঘন ঝোপের মতো বেড়ে ওঠে এবং সাধারণত দেড় থেকে তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদের মতে, দেখতে সাধারণ হলেও বিন্না ঘাসের শিকড়ের কার্যকারিতা অসাধারণ। মাটির নিচে এর শিকড় জালের মতো ছড়িয়ে গিয়ে ভূমির বিভিন্ন স্তরকে ধরে রাখে। এ কারণেই ভূমিক্ষয় ও পাহাড়ধস ঠেকাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।শুধু মাটি ও অবকাঠামো রক্ষাই নয়, বিন্না ঘাসের অর্থনৈতিক ব্যবহারও রয়েছে। এর শিকড় থেকে সুগন্ধযুক্ত তেল পাওয়া যায়। সুগন্ধি, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সুগন্ধি পণ্য তৈরিতে এই তেল ব্যবহার করা হয়।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরেই ভেটিভার বা বিন্না ঘাসকে ভূমিক্ষয় নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে নদীর তীর, রাস্তার ঢাল, বাঁধ, পাহাড়ি এলাকা ও কৃষিজমি রক্ষায় এর ব্যবহার রয়েছে। দ্য ভেটিভার নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনালও ঢাল স্থিতিশীলতা ও ভূমিক্ষয় রোধে ভেটিভার ব্যবহারের জন্য প্রকৌশলভিত্তিক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।গবেষকদের মতে, বিন্না ঘাস লাগানোর কয়েক মাসের মধ্যেই এর শিকড় মাটির গভীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বৃষ্টির সময় ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশ দিয়ে পানির স্রোত নামার সময় শিকড়গুলো মাটিকে ধরে রেখে ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চরম ঠান্ডা থেকে প্রচণ্ড গরম-বিভিন্ন ধরনের পরিবেশেও এই ঘাস টিকে থাকতে পারে। বাংলাদেশে বিন্না ঘাসের ওপর দীর্ঘদিনের গবেষণায় ভূমিক্ষয়, পাহাড়ধস ও বাঁধ রক্ষায় এর সম্ভাবনা নিয়ে একাধিক কাজ হয়েছে।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সব জায়গায় বিন্না ঘাস দিয়ে বাঁধ বা মাটি রক্ষা করা সম্ভব নয়। খরস্রোতা নদীর তীব্র স্রোতের মুখে থাকা বাঁধে শুধু বিন্না ঘাস যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ, কংক্রিট ব্লক, রড বা অন্যান্য প্রকৌশলগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে পাহাড়ের ঢাল, রাস্তার পাশ, খালের পাড় কিংবা অপেক্ষাকৃত কম স্রোতের এলাকায় এটি কার্যকর হতে পারে।এই ঘাস ব্যবহারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো কম খরচ। প্রচলিত রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ব্লক বা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার অনেক সাশ্রয়ী হতে পারে বলে গবেষকদের দাবি। একই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাবও তুলনামূলক কম।বাংলাদেশে বিন্না ঘাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পেছনে রয়েছে নদীভাঙন, খাল রক্ষা ও অবকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের পাশাপাশি খালের পাড়, নদীর তীর, বাঁধ ও রাস্তার মাটি ক্ষয় থেকে রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।গত ৬ আগস্ট সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বিন্না ঘাসকে কংক্রিট ব্লক ও জিও-ব্লকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। নদী ও খালের পাড়, উপকূলীয় বাঁধ, চর ও হাওর এলাকার রাস্তা এবং সড়ক ও রেলপথের পাশের মাটি রক্ষায় এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বিন্না ঘাস ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এসব ফলাফলের ভিত্তিতে এখন বড় পরিসরে প্রকল্প নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবিত ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে নদীর তীর ও খালের পাড়ের ক্ষয়রোধ, উপকূলীয় বাঁধ সুরক্ষা, চর ও হাওর এলাকার রাস্তা স্থিতিশীল রাখা, পাহাড়ি ঢাল রক্ষা এবং সড়ক ও রেলপথের পাশের মাটি ক্ষয় কমানো। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রকল্পেও পর্যায়ক্রমে এর ব্যবহার বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।বুয়েটের গবেষকদের দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং দেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ইতিবাচক ফলের পর এবার সরকারি পর্যায়ে বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এতদিন মাঠে-ঘাটে অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই সাধারণ ঘাসই এখন বাংলাদেশের নদী, পাহাড়, বাঁধ ও সড়ক রক্ষায় একটি সাশ্রয়ী ‘প্রাকৃতিক প্রযুক্তি’ হিসেবে নতুন গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে।সূত্র: বিবিসি

২০ আগস্ট ২০২৬

মওলানা ভাসানীর একটি স্মৃতিও নষ্ট হতে দিব না: ভিসি

মওলানা ভাসানীর একটি স্মৃতিও নষ্ট হতে দিব না: ভিসি

দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর যা যা স্মৃতি আছে- ইনশাআল্লাহ একটিও আমি নষ্ট হতে দিব না।’ বুধবার(১৯ আগস্ট) বিকালে মওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখিত, ভাবতেই পারিনি এই রিসার্চ সেন্টারের করুন অবস্থা। এখানে পরিচালক আছে, দুইজন ডেপুটি ডাইরেক্টর আছে, একজন কর্মচারীও আছে। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতিগুলো খারাপ অবস্থায় থাকবে- এটা কল্পনাই করা যায় না।তিনি আরও বলেন, মওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টারের একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান অলমোস্ট শেষ। আগামী ২৫ তারিখে ফাইনাল প্রেজেন্টেশন হবে। এইখানে মওলানা ভাসানীর আলাদা রিসার্চ সেন্টার এর জন্য ১০ তলা ভবনের একটি প্রস্তাব দেওয়া আছে।প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওনার মত ব্যক্তিত্বকে যে, আমরা সংরক্ষণ করতে পারি নাই, এটা জাতি হিসেবে আমাদের ব্যর্থতা। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ব্যাপারে সারা পৃথিবীতে যারা যারা গবেষণা করেছে তাদের প্রত্যেকের সাথে আমি যোগাযোগের চেষ্টা করছি এবং সবাইকে বলেছি আমাকে লিংক দিতে। আমরা একটা স্মারক গ্রন্থ বের করব, যে স্মারক গ্রন্থের ভেতরে মওলানা ভাসানীর উপরে যারা যারা কাজ করেছে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউক্রেন তাদের লেখা আমি আহ্বান করছি এবং আমি কমিটিকে বলেছি সব ধরনের সহযোগিতা করবো ইনশাল্লাহ। যারা মওলানা ভাসানীকে ভালোবাসে ওনাকে নিয়ে দেশে-বিদেশে গবেষণা করে তাদেরকে নিয়ে মওলানা ভাসানী রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান।এসময় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. আনিছুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ, আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল নাসির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

১৯ আগস্ট ২০২৬

প্রতিটি মানুষের কাছে টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দিতে হবে: আইসিটি মন্ত্রী

প্রতিটি মানুষের কাছে টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দিতে হবে: আইসিটি মন্ত্রী

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত ও মানসম্মত মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল অপারেটর রবি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি। বুধবার(১৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবি’র করপোরেট কার্যালয়ে ‘ঢাকা নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন- শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রাম পর্যায়ে উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নয়নে মোবাইল অপারেটরদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এসব উদ্যোগের সুফল যেন সরাসরি সাধারণ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা মডার্নাইজেশন প্রকল্পের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সারাদেশের গ্রাহকরাও একই ধরনের উন্নত সেবা পাবেন।গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কল ড্রপ, প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়া, ডাটা ও ব্যালান্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের আরও কার্যকর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্যাকেজের শর্ত, মেয়াদ এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা একা সবকিছু করতে পারে না; শিল্পখাতের সবাইকে একটি টিম হিসেবে কাজ করতে হবে। গত ছয় মাসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করা হয়েছে।উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ মোবাইল অপারেটরদের ডেটা প্যাকেজের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাদারা এবং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।রবির তথ্যমতে, বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে, কল ড্রপ ২০ শতাংশ কমেছে এবং বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরে ইনডোর কভারেজ ও সংযোগ আগের তুলনায় তিন গুণ উন্নত হয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্কের কারণে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচও ২০ শতাংশ কমেছে।

১৯ আগস্ট ২০২৬

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

অসুস্থ ক্রিকেটার ইকবালের মানবেতর জীবন

মোস্তফা কামাল নান্নু: এক সময় ব্যাট হাতে মাঠ মাতানো ক্রিকেটার ইকবাল খান এখন শয্যাশায়ী। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দুই পায়ে স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কথা বলাও। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। এর মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এখন বৃদ্ধ বাবা-মা, বন্ধু ও স্বজনরাই তাঁর একমাত্র ভরসা।ইকবাল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রতন খানের ছেলে। এক সময় বিকেল হলেই ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে ছুটতেন তিনি। ক্রিকেট ও ফুটবলে পারদর্শী ইকবালের খেলা দেখতে গ্রামের মানুষ ভিড় করতেন। পাশাপাশি ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে করে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইকবাল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। ধারদেনা করে কয়েকবার চিকিৎসা করানো হলেও অর্থের অভাবে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে যান। এখন বাড়ির একটি ঘরেই কাটছে তাঁর দিন। কথা বলতে না পারলেও চোখের দৃষ্টিতে নিজের কষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।ইকবালের বাবা রতন খানের বয়স ৬৫ বছর। এই বয়সেও চায়ের দোকান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে ওষুধ ও পরিবারের খাবার জোগাড় করেন। ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করতে করতে নিঃস্ব পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বসতভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। ইকবালের বন্ধু ও স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তাঁকে সহায়তা করেছেন। তবে চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়।পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ইকবাল তাঁর বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। মেধাবী ও বিনয়ী এই তরুণের এমন অবস্থা দেখে কষ্ট হয়। তাঁর চিকিৎসায় সরকারি ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, ইকবালের অসুস্থতার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তাঁকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।ইকবাল এখন শুধু চিকিৎসা ও মানুষের সহযোগিতা চান। তাঁর পরিবারের আশা, সহায়তা পেলে আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন তিনি।

১৯ আগস্ট ২০২৬

অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত

অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:‘দুর্ঘটনা দুর্যোগে, সবার পাশে-সবার আগে’ স্লোগানে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন অংশীজনদের সমন্বয়ে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অনসাইড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(১৯ আগস্ট) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গনে ওই মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বিভিন্ন অংশীজনদের বাস্তবায়নে আয়োজিত ওই মক ড্রিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক শরীফা হক।এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো. এনায়েত হোসেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

১৯ আগস্ট ২০২৬

প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর খেলার উদ্বোধন

প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর খেলার উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর খেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে প্রিণ্ট মিডিয়ার বটতলাস্থ কার্যালয়ে ওই খেলার আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাংবাদিক মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, সহ-সভাপতি আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আগামীর সময় ও বিজয় টিভির টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আবু জুবায়ের উজ্জ্বল, যুগ্ম-সম্পাদক এশিয়া টেলিভিশনের সাংবাদিক শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক ঢাকা প্রতিদিন ও ইসলামিক টিভির সাংবাদিক ইমরুল হাসান বাবুসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে খেলাধুলার আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইনডোর খেলা সাংবাদিকদের মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।পরে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে খেলার বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

১৮ আগস্ট ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (BAC) কর্তৃক স্বীকৃতি অর্জনে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘BAC অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য কারিকুলাম ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত নিশ্চয়তা সেলের (IQAC) কনফারেন্স রুমে IQAC-এর উদ্যোগে ওই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। ‘BAC অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য কারিকুলামের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন IQAC-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. শাহ আদিল ইশতিয়াক আহমদ। পরবর্তীতে তিনি ‘কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতির হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ’ পরিচালনা করেন।এছাড়া IQAC-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. খায়রুল ইসলাম ‘কোর্স ফাইল প্রস্তুত ও সংরক্ষণ’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রশিক্ষণে IQAC-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির ‘CLO/PLO সংশোধন ও CLO অর্জন নিশ্চিতকরণে মূল্যায়ন কৌশল’ এবং ‘কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতি’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।প্রশিক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। এতে অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সহায়তা, কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতি, কোর্স ফাইল সংরক্ষণ, CLO/PLO সংশোধন, মূল্যায়ন কৌশল এবং গুণগত নিশ্চয়তা (QA) কার্যক্রমসহ BAC অ্যাক্রেডিটেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

১৮ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে পুজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক ঝন্টুর পরোলোকগমন

টাঙ্গাইলে পুজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক ঝন্টুর পরোলোকগমন

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গুণ ঝন্টু পরোলোক গমন করেছেন(দিব্যান লোকান্ স্বগচ্ছতু)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, তার মরদহ দেশে আনার পর কাগমারী রাণী দ্বীনমনি মহাশশ্মানে শেষ কৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। প্রদীপ কুমার গুণ ঝন্টুর মৃত্যুতে টাঙ্গাইলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। প্রদীপ কুমার গুণ ঝন্টু টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোডের মনি সাইকেল স্টোরের সত্ত্বাধিকারী ছিলেন।

১৮ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে তিন প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা

টাঙ্গাইলে তিন প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে খাদ্যে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহার, বাসি খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (১৭ আগস্ট) শহরের বড় কালীবাড়ি রোড ও পার্ক বাজারে অভিযান চালিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ওই জরিমানা আদায় করেন। অভিযানে বড় কালীবাড়ি রোডের গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে উৎপাদিত দইয়ের মেয়াদের তারিখ পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দই ও মিষ্টান্ন উৎপাদনের দায়ে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া শ্রীকৃষ্ণ নিরামিষ ভোজনালয়কে খাদ্যে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহার ও বাসি খাবার সংরক্ষণের দায়ে ২০ হাজার টাকা এবং আদি ইন্দুটি দই ঘরকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

১৭ আগস্ট ২০২৬