নদীর বুকে বেহুলা-লক্ষিন্দরের জীবন্ত নাট্যরূপ!

টাঙ্গাইলে লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’
D
Dristy TV
টাঙ্গাইল প্রকাশিত: ১ ঘণ্টা আগে
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।
নদীর বুকে নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ করা হয় বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।

আব্দুস সাত্তার:

নদীর বুকে ভেসে উঠল লোককথার জীবন্ত নাট্যরূপ। নদীর ঢেউ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের কিংবদন্তি যেন ফিরে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত লোকউৎসব ‘শাওনে ডালা ২০২৬’।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ব্রতী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাধনার সার্বিক আয়োজনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ঘাট থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। বিশাল আকৃতির একটি নৌকা সাজিয়ে গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয় চাঁদ সওদাগর ও বেহুলা-লক্ষিন্দরের যাত্রাপালা।

দিনব্যাপী যাত্রাপালার অংশ হিসেবে সাতটি ঘাটে চাঁদ সওদাগর ও বেহুলার ভোগ দেওয়ার আয়োজন করা হয়। শেষ ঘাট ছিল মির্জাপুরের ফতেপুর। সেখানে ছিল আয়োজনের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য- কলাগাছের ভেলায় সাপে কাটা লক্ষিন্দরকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই ঘটে তার অলৌকিক সুস্থতার ঘটনা। এই দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নুবনা মরিয়ম, ‘শাওনে ডালা’র ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা, ব্রতীর অ্যাডসিন মাইকেল মনি শাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

লোককথা ও লোকসংস্কৃতির এমন সমন্বিত আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নদীর বুকে আয়োজিত এ উৎসব আবারও মনে করিয়ে দিল- নদী শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক জীবন্ত ধারক।

একই বিষয়ের আরও খবর