টাঙ্গাইল জেলার সকল সংবাদ

মধুপুর গড়ের বিপন্ন ‘আচিক’ ভাষা রক্ষার দাবি

মধুপুর গড়ের বিপন্ন ‘আচিক’ ভাষা রক্ষার দাবি

বুলবুল মল্লিক: বৈশ্বিক ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সংগতি রেখে টাঙ্গাইলের আদিবাসী-অধ্যুষিত মধুপুর গড় অঞ্চলেও রোববার(৯ আগস্ট) নানা আয়োজনে পালন করা হবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। আদিবাসীদের হাজার বছরের ঐতিহ্যগত জ্ঞান, জীবন ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে জাতিসংঘ এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান ও স্বীকৃতি: জীবন ও কল্যাণ সুরক্ষা’ (Honouring Indigenous Midwives: Safeguarding Life and Well-being)। দিবসটি উপলক্ষে মধুপুরের কয়েকটি আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আদিবাসী দিবসের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এমপি।দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আনন্দের আবহেও মধুপুরের আদিবাসীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় তাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির মূল ধারক ও মাতৃভাষা ‘আচিক’ (Achik) আজ নিজ ভূখণ্ডেই চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার মুখে পড়েছে। মধুপুর গড় অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী পাড়া ও গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, দিবসটি ঘিরে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ শিশুই তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা বলতে পারছে না। স্থানীয় প্রবীণদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, অতীতে এ অঞ্চলের গারো আদিবাসীরা আচিক ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানতেন না বা ব্যবহার করতেন না। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং বেঁচে থাকার তাগিদে এসেছে আমূল পরিবর্তন। জীবন-জীবিকা ও উচ্চশিক্ষার জন্য বনের সন্তানরা আশপাশের বাঙালিপ্রধান এলাকায় আসতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে আদিবাসী জনপদেও বাঙালিরা এসে বসতি স্থাপন করায় এক সময়ের এই বনাঞ্চলের মূল অধিবাসীরা আজ নিজ ভূমিতেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছেন। তারা জানায়, গারো শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে সম্পূর্ণ বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করতে হয়। কর্মজীবনে এসেও অফিস-আদালতসহ সব প্রাত্যহিক কাজেই তাদের বাংলা ব্যবহার করতে হয়। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের অভাবে পরিবার ও সমাজ থেকে আচিক ভাষার চর্চা প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে যাচ্ছে।আদিবাসী নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সোয়া লাখ গারো আদিবাসী রয়েছেন- যার মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারের বসবাস টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় অঞ্চলে। সম্প্রতি জলছত্র ও জয়েনশাহী সংলগ্ন পাড়াগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলপড়ুয়া শিশুরা তাদের মাতৃভাষা ভালোভাবে বলতেই পারে না। কেউ কেউ নিজ বাড়িতে মা-বাবার মুখে শুনে এই ভাষা কিছুটা বুঝতে শিখলেও, তারা নিজেরা আচিক ভাষায় কোনো উত্তর দিতে পারে না। মা-বাবা নিজের ভাষায় ডাকলেও উত্তর আসে বাংলায়।আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে মধুপুরের জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের নেতারা জানায়, জাতিসংঘের মূল থিম বা প্রতিপাদ্যের চেতনা তখনই সার্থক হবে যখন আদিবাসীদের ভাষা ও জীবন সুরক্ষার বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হবে। তারা অবিলম্বে জলছত্রসহ মধুপুর গড়ের সব সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গারো শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।মধুপুরের আদিবাসী নেতা অজয় এ মৃ জানান, আচিক ভাষার লিখিত কোনো বর্ণমালা নেই। কথিত আছে, দুর্ভিক্ষপীড়িত তিব্বত অঞ্চল ত্যাগ করে গারোরা যখন ভারতীয় উপমহাদেশে আসছিলেন, তখন যাঁর কাছে পশুর চামড়ায় লিখিত আচিক ভাষার পুঁথি-পুস্তকাদি ছিল, সেই ব্যক্তি পথে ক্ষুধার জ্বালায় সব পুঁথি-পুস্তক সেদ্ধ করে খেয়ে ফেলেন। তিনি সম্পূর্ণ ব্যাপারটি গোপন রাখেন। এ উপমহাদেশে আগমন ও বসতি স্থাপনের দীর্ঘদিন পরে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। কিন্তু তত দিনে গারো বর্ণমালা বিস্মৃতির অতল গর্ভে হারিয়ে যায়। কারণ, এ উপমহাদেশে প্রবেশের পর নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং স্থায়ী বাসযোগ্য স্থান নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ করে অভিজ্ঞ গারোরা প্রাণ হারান। ফলে আচিক ভাষার বর্ণমালা চিরতরে হারিয়ে যায়। তবে গারোদের মুখে মুখে আচিক ভাষার প্রচলন ছিল।এ প্রসঙ্গে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন মধুপুর শাখার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ঝুমুর মৃ জানান, মাতৃভাষা ধরে রাখার জন্য তারা নিজেরা বাড়িতে সব সময় আচিক ভাষায় কথা বলেন। তবু তাদের ভাষা রক্ষা করা যাচ্ছে না। বাংলার সঙ্গে ক্রমেই মিশে যাচ্ছে।জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে গড় এলাকায় ১২টি স্কুল চালু করা হয়েছিল; যেখানে গারো শিশুদের আচিক ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হতো। তিন বছর চলার পর দাতা সংস্থার অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়।আদিবাসী লেখক রাখী ম্রং জানান, ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষা নীতিমালায় শিশুদের তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় শিক্ষাব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গারো শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো এ ভাষা হারিয়ে ফেলবে।

২০ ঘণ্টা আগে

টাঙ্গাইলে নিহত বাস মালিকদের পরিবারকে অনুদান ও সম্মাননা প্রদান

টাঙ্গাইলে নিহত বাস মালিকদের পরিবারকে অনুদান ও সম্মাননা প্রদান

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে নিহত হওয়া বাস-মিনিবাস মালিকদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার(৭ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল বাস টার্মিনাল ভবনে জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির উদ্যোগে ১৪ জন নিহতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান খান শফিকের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, বাস মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ম-আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম ঝলক, সৈয়দ জাদিদুল হক জাদিদ, সদস্য সচিব নিলুফা ইয়াসমিন খান, সাবেক প্যানেল মেয়র মোমিনুল হক খান নিক্সন, বাস কোচ মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক লাভলু, ওয়ার্কশপ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শামসুল আলম প্রমুখ।এসময় প্রয়াত বাস মিনিবাস মালিকদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

০৭ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে ভাষা কর্মশালা ও পুরষ্কার বিতরণ

টাঙ্গাইলে ভাষা কর্মশালা ও পুরষ্কার বিতরণ

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের প্রকাশনা সংস্থা ছায়ানীড়ের উদ্যোগে ‘ভাষা কর্মশালা ও পুরষ্কার বিতরণ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার(৭ আগস্ট) টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- বিশিষ্ট আইনজীবী, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক ব্যারিস্টার গোলাম নবী। টাঙ্গাইলের সরকারি এমএম আলী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর খন্দকার মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আল মামুন জুয়েল, সমাজসেবী জয়িতা লুৎফা আক্তার মিতা, কবি ও সংগঠক বেগম রোকেয়া ইসলাম, শিক্ষক ও লেখক মাসুদা সুলতানা।কর্মশালার মূল আলোচক ছিলেন ছায়ানীড়ের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। এসময় টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সম্পাদক কবি মাহমুদ কামাল এবং নজরুল গবেষক ও আইনজীবী আল রুহী সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাহিত্যপ্রেমী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

০৭ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের ২৩লাখ টাকার অনুদান বিতরণ

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের ২৩লাখ টাকার অনুদান বিতরণ

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ, গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবাপ্রার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উপকারভোগীদের হাতে ২৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জেলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অনুদানপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী এবং অর্থাভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ সবসময় বদ্ধপরিকর। এই আর্থিক সহায়তা অসহায় পরিবারগুলোর সংকট কিছুটা হলেও লাঘব করবে। আগামিতেও এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

০৬ আগস্ট ২০২৬

মহিষমারা কলেজে খুন্তি-কোদালে তরুণদের নতুন বিপ্লব!

মহিষমারা কলেজে খুন্তি-কোদালে তরুণদের নতুন বিপ্লব!

মু. আবিদ মল্লিক জয়:বর্তমান প্রজন্মে বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়ে ও শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার এবং স্ক্রিন টাইমের ফলে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে অনলাইন ক্লাসের পর থেকেই নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ চরম মোবাইল আসক্তিতে পড়েছে। সারা দেশের শিক্ষার্থীরা যখন এমন ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, ঠিক তখনই এর সম্পূর্ণ বিপরীত ও ব্যতিক্রমী এক চিত্র দেখা গেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা কলেজে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা মোবাইল ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছে খুন্তি, কোদাল, কাস্তেসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি। তারা ফসলি মাঠে নেমে হাতে-কলমে শিখছে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের নানা কৌশল।খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ব্যতিক্রমী এই জীবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে মধুপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার মহিষমারা গ্রামে। ২০১৩ সালে গ্রামেরই এক আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১৩৫ শতাংশ জমির ওপর এই ‘মহিষমারা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। টাঙ্গাইল শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই মহিষমারা গ্রাম। অঞ্চলটি মূলত কৃষিনির্ভর এবং মধুপুরের বিখ্যাত আনারস চাষের অন্যতম প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র কৃষক। অর্থাভাব ও দূরত্বের কারণে স্কুল শেষ করার পর অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের কলেজে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারতেন না। এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করতেই কৃষক ছানোয়ার হোসেন এই কলেজটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই কলেজে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ডিজিটাল আসক্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে উৎপাদনমুখী ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার এই উদ্যোগটি এখন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কার্যক্রম একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করছে, অন্যদিকে তেমনি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপর উপজেলা সদর থেকেই পাকা সড়ক। অজপাড়াগাঁ পেড়িয়ে সোজা গারো বাজার। যাওয়ার পথে বিল সবুজ ধান ক্ষেতের অবারিত দিগন্ত। যেন চোখ জুড়ানো। গারো বাজারের পাশের বৃহত্তর গ্রামটির নাম মহিষমারা। মহিষমারা গ্রামের শুরুতেই কলেজটির অবস্থান। কলেজে প্রবেশ করে দেখা যায়, দুটি শ্রেণিতে ক্লাস চলছে। আর উৎপাদনমুখী শিক্ষা কর্ণারে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী কাজ করছেন।কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছানোয়ার হোসেন তাদের সবজি বীজ বোনার আগে মাটি তৈরি ব্যবস্থাপনা শেখাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা তার নির্দেশনাতে মাটি তৈরির কাজ করছেন।জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯২ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি সিলেটের একটি স্কুলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ বছর চাকরি করে ফিরে আসেন গ্রামে। গ্রামের স্কুলে দুই বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কৃষির আকর্ষণে তিনি সেই চাকরিও ছেড়ে দেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আনারস, কলা, হলুদ, ভুট্টা, মাল্টা, ড্রাগন, পেয়ারা, কফিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন।তিনি জানান, তার গ্রাম মহিষমারা এলাকার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কলেজ নেই। দরিদ্র কৃষক পরিবার তাদের সন্তানদের দূরে ছাত্রাবাসে রেখে পড়াতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নেন, নিজ এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন।আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, তার বাবার ৯৫ শতাংশ জমি আর তার নিজের ৪০ শতাংশ মিলে ১৩৫ শতাংশের উপর ২০১৩ সালে মহিষমারা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিগত ২০২২ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এই কলেজে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। সরকারের শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি পাকা ভবনও এই কলেজে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।কলেজের শিক্ষক ও এলাকাবাসী জানায়, ২০১৮ সালে কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য উৎপাদনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। এ জন্য কলেজের পূর্ব দিকে ৪০ শতাংশ জায়গায় একটি কর্ণার গড়ে তোলা হয়। শিক্ষার্থীদের ছানোয়ার হোসেন পড়াশোনার ফাঁকে হাতে-কলমে বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদন শেখান। সেখানে বিভিন্ন মৌসুমের সবজি, ফল, মসলার চারা তৈরিও শেখানো হয়। এখানে চাষবাস শিখে শিক্ষার্থীরা তাদের বাড়িতেও সবজি বাগান করতে পারেন।কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা কলেজের এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে কীটনাশকমুক্ত সবজি আবাদ শিখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করছেন। এ কারণে তাদের পিতা-মাতা অনেক খুশি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বড় হয়ে কৃষি অফিসার হবে।কলেজের প্রভাষক শহিদুল ইসলাম জানান, কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কৃষিতে উৎপাদনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। কলেজে ক্লাসের বিরতিতে এবং ছুটির পর বিভিন্ন গ্রুপ করে শিক্ষার্থীদের কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে এ কাজে অংশ নেয়।মহিষমারা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক হানান, কলেজের শিক্ষকরা অনেক পরিশ্রমী। পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষা শিক্ষার্থীদের একদিকে মোবাইল ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক থেকে যেমন রেহাই পাচ্ছে। অন্যদিকে বাড়িতেও মা-বাবাকে কৃষি কাজে সহযোগিতা করার মনোভাব সৃষ্টি তৈরি হচ্ছে।কলেজের সভাপতি ও মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকদের আন্তরিকতার ফলেই প্রান্তিক পর্যায়ের একটি কলেজ এত অল্প সময়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করলেই যে চাকরি পাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই এসব শিক্ষার্থীরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে পারে তাহলে কৃষিনির্ভর এ দেশে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

০৬ আগস্ট ২০২৬

বিবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

বিবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী:‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইলের স্বনামধন্য বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তন কক্ষে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক এসএম আনোয়ার সাদত, সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান প্রমুখ।এসময় প্রভাতী শিফট ইনচার্জ অনামিকা ভদ্র, দিবা শিফট ইনচার্জ জাহানারা তরফদার, সিনিয়র শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, আরিফুর রহমান প্রমুখ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন, সিনিয়র শিক্ষক মো. ছামছুল হক সাগর।অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আগে ছাত্রীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

০৫ আগস্ট ২০২৬

বাসাইলের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

বাসাইলের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

বাসাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রচনা-আবৃতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে দিবসের আলোচনায় অংশ নেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বেলায়েত হোসেন, সহকারী শিক্ষক আলেকজান্ডার আজাদ মিয়া, আলমগীর হোসেন, মিনহাজ উদ্দিন, লিটন মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, নার্গিস আক্তার প্রমুখ।বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র- ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

০৫ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

টাঙ্গাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল- জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন, হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, র‌্যালি, আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, মোনাজাত ইত্যাদি। এদিন সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে জেলা সদরের হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, জুলাই শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন ও মোনাজাত শেষে র‌্যালি নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতি মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ। এছাড়া আলোচনা সভায় প্রায় ৩৫জন জুলাইযোদ্ধা বক্তব্য রাখেন।ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল- স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মোনাজাত ও শিক্ষার্থীদের হলসমূহে বিশেষ খাবারের আয়োজন ইত্যাদি।কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

০৫ আগস্ট ২০২৬

ঘাটাইলে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

ঘাটাইলে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

ঘাটাইল প্রতিনিধি:টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘাটাইলের ক্যান্টনমেন্ট মোড় এলাকায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক মজনু মিয়া নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত মজনু মিয়া জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়ড়া পাটাদহ গ্রামের জহুরুল আকন্দের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা মালঞ্চ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মঙ্গলবার সকালে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট মোড় এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপভ্যানটি দুমরে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক মজনু মিয়ার মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এলাহী জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মালঞ্চ পরিবহনের বাসটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০৪ আগস্ট ২০২৬

যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে

যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে

দৃষ্টি নিউজ:যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম। বোর্ড সদস্যরা সশরীরে এবং ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাবের ওপর মতামত দেন।বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু সাইটে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি ইজারা দেওয়া হবে। সেখানে ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।সভার শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বোর্ডের আলোচ্যসূচি এবং পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পরে বোর্ড সদস্যরা বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।এ ছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন আরও কার্যকর করতে পুনর্বাসন ভিলেজে ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বহাল এবং সেতু নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণায় দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে সেন্টার ফর ব্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (সিবিআরটি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমূলক সুবিধা আরও যুগোপযোগী করতে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট বিধিমালা, ২০১০’-এ ‘বার্ষিক বৃত্তি প্রদান’-এর পরিবর্তে ‘বার্ষিক শিক্ষা অনুদান সহায়তা’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি সময়ের দাবি এবং এ ধরনের প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মন্ত্রী বোর্ডের গৃহীত সব সিদ্ধান্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, যমুনা সেতু এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে অব্যবহৃত সরকারি জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

০৪ আগস্ট ২০২৬

গোপালপুরকে ০-১ গোলে হারিয়ে টাঙ্গাইল সদর চ্যাম্পিয়ন

গোপালপুরকে ০-১ গোলে হারিয়ে টাঙ্গাইল সদর চ্যাম্পিয়ন

দৃষ্টি স্পোর্টস:বালির বাঁধ ভেঙ্গে সমুদ্রের ঢেউ যখন উপচে পড়ে, তখন বালির বাঁধটি হারিয়ে যায়। ঠিক তেমনি টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে দর্শকের ঢল কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া রক্ষা করতে পারেনি। ফুটবলের ভালোবাসায় ৩৫ হাজার দর্শকের ঢল সরাসরি মাঠের পাশে। গ্রাম্য অঞ্চলে যেমন কর্ণার ফ্লাগের কাছে দর্শক বসে খেলা দেখে, এখানে তার থেকে ব্যতিক্রম। মাঠের চর্তুপাশে দর্শকের ঠাসা একটি স্টেডিয়াম। সেই দশর্কের জোয়ারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অধিনায়ক সুমন রেজার একমাত্র গোলে গোপালপুর উপজেলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ১ আগষ্ট (শনিবার) বিকেলে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় তিল ধারনের জায়গা ছিলনা, কিছু দর্শক খেলা দেখতে না পেরে মাঠে শুধু হাঁটছে, দর্শকের ভিড়ের কোন ফাঁকে যদি একটু খেলা দেখা যায়।খেলা শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দর্শকের উপস্থিতি খুবই উৎফুল্ল ছিলেন। তিনি স্টেডিয়ামের দক্ষিণের গ্যালারি সংস্কারের পাশাপাশি নিকটের পুকুরটি সুইমিং পুল তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়ামে তৈরির পাশাপাশি টাঙ্গাইলে জিমনেসিয়াম খেলাধূলার জন্য মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, টাঙ্গাইল-২(গোপালপুর-ভূঞাপর) আসনের এমপি আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনের এমপি লুৎফর রহমান মতিন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।মাঠের লাইন ঘেঁষে দর্শক বসে খেলা দেখলেও মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল খেলাই হয়েছে। দুটি দলই শুরুতে একটু অগোছালো খেললেও ধীরে ধীরে তারা স্বাভাবিক খেলায় ফিরে আসে। দুটি দলই নিজ দলের রক্ষণ সামলে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করার চেষ্টা করেছেন। যে কারণে প্রথমার্থে গোল করার মতো কোন আক্রমনই হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় মোরসালিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, সুমন রেজা ও সৌরভ দেওয়ান গোছানো ফুটবল খেলে গোল করার চেষ্টা করতে থাকে। খেলার ৫৮ মিনিটে গোপালপুরের ডি-বক্সের বাইরে থেকে সুমন রেজা গোলবারমুখী শট একজন ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হয়ে গোপালপুরের জালে জড়ায়(১-০) ।খেলায় পিছিয়ে পড়ে গোপালপুরের রবিউল, মামুন, সিবি কয়েকবার গোল পরিশোধের চেষ্টা করেন। বিশেষ করে প্রায় ৩২ গজ দূর থেকে সদরের গোলবারমুখী স্যামুয়েলের দূরন্ত শট টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক মজনু ফিস্ট করে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা সদরের সুমন রেজা, ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় গোপালপুরের মারুফ। খেলায় ধারাভাষ্য প্রদান করেন, আব্দুল আলিম ও অনীক রহমান বুলবুল।টাঙ্গাইল সদর উপজেলা দলে ছিলেন- মজনু(গোলরক্ষক), বাম্বা(নাইজেরিয়া), মেহেদী হাসান মিঠু(আবাহনী), মুন্না, রেজাউল, অনিক, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম(মোহামেডান), শেখ মোরসালিন(আবাহনী), সৌরভ দেওয়ান, সুমন রেজা(অধিনায়ক), সুলেমান কান্তে(নাইজেরিয়ান)।গোপালপুর উপজেলা দলে ছিলেন- সুমন, তপু, হৃদয়, ইউসুফ, স্যামুয়েল(নাইজেরিয়া), সিবি(নাইজেরিয়া), রবিউল, ফিরোজ, মামুন, মিশু ও মারুফ ।টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার মাঠে রেফারীরর দায়িত্ব পালন করেন, সায়মন।

০৪ আগস্ট ২০২৬

সরকারি খাতায় ‘মৃত’ ইমান আলী দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন

সরকারি খাতায় ‘মৃত’ ইমান আলী দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার এক জীবিত ব্যক্তিকে সরকারি ভোটার তথ্যভাণ্ডারে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। ফলে তিনি শুধু ভোটাধিকারই হারাননি, নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে এখন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী ইমান আলী শেখ উপজেলা সদরের ফসলান্দি এলাকার মৃত মাজম আলী শেখের ছেলে। তার এমন দুর্ভোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় ইমান আলী শেখকে মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ তিনি জীবিত এবং পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছেন। সরকারি এ ভুলের কারণে গত জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারেননি তিনি। নির্বাচন কর্মকর্তারা তাকে জানান, সরকারি তথ্য অনুযায়ী তিনি মৃত। এরপর থেকেই তথ্য সংশোধনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করলেও এখনো কোনো সমাধান পাননি। ইমান আলী শেখ বলেন, 'আমি জীবিত, অথচ সরকারি কাগজে আমাকে মৃত বানিয়ে রাখা হয়েছে। নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে অফিসে অফিসে ঘুরছি। ভোট দিতে পারিনি। এখন যেকোনো সরকারি কাজেও সমস্যায় পড়ছি।' স্থানীয়দের দাবি, শুধু ইমান আলী শেখের তথ্য সংশোধন করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; কীভাবে একজন জীবিত মানুষকে সরকারি তথ্যভান্ডারে মৃত দেখানো হলো, তা তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো নাগরিক এমন ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা জানান, একজন জীবিত মানুষকে সরকারি নথিতে মৃত দেখানো চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতার মুখে পড়বেন ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা জানান, ভুক্তভোগী অফিসে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২২ জুলাই ২০২৬

স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক শাজাহান সিরাজের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক শাজাহান সিরাজের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কালিহাতী প্রতিনিধি: মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শাজাহান সিরাজ ফাউন্ডেশন, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজ এবং শাজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের যৌথ আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য শিল্পপতি লুৎফর রহমান মতিন। কর্মসূচির মধ্যে ছিল- মরহুমের কবর জিয়ারত এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআনখানি, দুঃস্থ শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ, কালিহাতীর বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা, স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল ইত্যাদি। এদিন সকালে ঢাকার বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। কালিহাতীতে মরহুমের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজ প্রাঙ্গণের ‘রাবেয়া সিরাজ একাডেমিক ভবন’ এর হলরুমে বিশেষ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শাজাহান সিরাজ কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এবং মরহুমের কন্যা সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লার সভাপতিত্বে বিশেষ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান আলোচক ছিলেন, মরহুমের স্ত্রী ও নারীনেত্রী রাবেয়া সিরাজ। এ সময় উপজেলা বিএনপির নেতা, মরহুমের অনুসারী ও শিক্ষকরা স্মৃতিচারণ করেন। ২০২০ সালের এই দিনে ৭৭ বছর বয়সে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শাজাহান সিরাজ অসুস্থাবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

১৪ জুলাই ২০২৬

আগামিকাল মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

আগামিকাল মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

দৃষ্টি রিপোর্ট: মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আগামিকাল মঙ্গলবার(১৪ জুলাই)। ২০২০ সালের এই দিনে ৭৭ বছর বয়সে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে শাজাহান সিরাজ ফাউন্ডেশন, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজ এবং শাজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন সকালে ঢাকার বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকা ও টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কোরআনখানি, দুঃস্থ শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ, কালিহাতীর বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরগুলোতে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থণার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া শাজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সকালে কালিহাতীতে মরহুমের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গণের ‘রাবেয়া সিরাজ একাডেমিক ভবন’-এর হলরুমে সকাল ১০টায় এক বিশেষ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শাজাহান সিরাজ কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এবং মরহুমের কন্যা সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, কলেজের দাতা সদস্য ও পরিচালনা পরিষদের প্রতিনিধি রাবেয়া সিরাজ। এছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আলোচনায় অংশ নেবেন। ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ ৬৬-এর ঐতিহাসিক ছয় দফা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্র-জনতার উত্তাল সমাবেশে তিনি মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। তিনি স্বাধীনতার পর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন এবং পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সাথে সরকারের নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। কালিহাতী ছাড়াও দিনটি উপলক্ষ্যে পারিবারিকভাবে বিভিন্ন স্থানে মিলাদ মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৩ জুলাই ২০২৬

নাগরপুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম বন্ধে স্বস্তিতে এলাকাবাসী

নাগরপুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম বন্ধে স্বস্তিতে এলাকাবাসী

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দ্রুত হস্তক্ষেপে তা বন্ধ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় নিম্নমানের ইটগুলো বাতিল করে নতুন করে গুণগত মান বজায় রেখে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে নাগরপুর উপজেলার চামটা থেকে চামটা মির্জাপুর রোড ভায়া মান্নান ভূইয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তা বিসি (বিটুমিনাস কার্পেটিং) দ্বারা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ লাখ ৯৬ হাজার ৯০১ টাকা। সড়কটি নির্মাণে ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পায় গোপালপুর উপজেলার মেসার্স কবির ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সেখানে এক ট্রাক অত্যন্ত নিম্নমানের ইট নিয়ে আসে। এই নিম্নমানের ইট দিয়েই রাস্তার সাব-বেস বা খোয়ার কাজ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে ফুসে ওঠে এলাকাবাসী। সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি টেকসই হবে না আশঙ্কায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে দ্রুত চামটা এলাকার ওই প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তদন্তে তিনি এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা পান এবং ব্যবহৃত হতে যাওয়া ইটগুলো রাস্তার কাজের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এরপর নির্বাহী প্রকৌশলী তাৎক্ষণিকভাবে ওই নিম্নমানের ইট বাতিল ঘোষণা করেন এবং সেগুলো রাস্তা থেকে অনতিবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ গুণগত মান ও সিডিউল বজায় রেখে নতুন ভালো মানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশনা দেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর এই কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভুল স্বীকার করে রাস্তা থেকে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে সরকারি সিডিউল অনুযায়ী ইটের গুণগত মান ঠিক রেখে সড়কের নির্মাণকাজ পুনারায় করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা করা হলে প্রথম বর্ষাতেই তা ধসে যেত। তাদের অভিযোগের পর নির্বাহী প্রকৌশলী কাজ বন্ধ করে ভালো ইটের ব্যবস্থা করায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এখন রাস্তার কাজ ভালো হচ্ছে। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, সরকারের উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। নাগরপুরের এই সড়কটির কাজ এখন নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করা যায়।

১২ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের গড়াঞ্চলে বন্যপ্রাণির সুরক্ষায় রোপওয়ে করিডোর

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের গড়াঞ্চলে বন্যপ্রাণির সুরক্ষায় রোপওয়ে করিডোর

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে মধুপুর গড়াঞ্চল অংশে (পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর) বন্যপ্রাণির নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে পাঁচটি বিশেষ রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করেছে বন বিভাগ। দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় বন্যপ্রাণির অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু ও দুর্ঘটনা রোধে এই অভিনভ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইল বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের আওতাধীন আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে রাস্তার দুই পাশের সুউচ্চ গাছের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে শক্ত দড়ি সংযুক্ত করে এই রোপওয়েগুলো তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বানর, হনুমান, কাঠবিড়ালিসহ বিভিন্ন বৃক্ষবাসী প্রাণিরা মাটিতে না নেমেই বনের এক পাশ থেকে অন্য পাশে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছে। বন্যপ্রাণি গবেষকদের মতে, বর্তমানে মধুপুর জাতীয় উদ্যানে প্রায় ১৯০ প্রজাতির বন্যপ্রাণির আবাস রয়েছে। এরমধ্যে ২১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৪০ প্রজাতির পাখি এবং ২৯ প্রজাতির সাপ ও অন্যান্য প্রাণি রয়েছে। বিশেষ করে, পূর্বে সিলেট ও চট্টগ্রামের চিরহরিৎ বনের অধিবাসী হিসেবে পরিচিত আইইউসিএন (ওটঈঘ) এর লাল তালিকাভুক্ত মহাবিপন্ন ‘বাংলা লজ্জাবতী বানর’-এর (ইবহমধষ ঝষড়ি খড়ৎরং) বিচরণ ইদানীং মধুপুরের শালবনেও লক্ষ্য করা গেছে। নিশাচর ও লাজুক স্বভাবের এই বিরল প্রাণিটি মূলত গাছের মগডালে বা বাঁশঝাড়ে বাস করে। বন সংকোচন ও মহাসড়কের কারণে এদের স্বাভাবিক বিচরণ ও খাদ্য সংগ্রহের পথ সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হচ্ছিল। টাঙ্গাইল বন বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, মধুপুর গড়াঞ্চলের বুক চিরে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিকভাবেই বন্যপ্রাণিদের আবাসস্থল খণ্ডিত হয়ে পড়েছে। খাদ্য সংকট ও বংশবৃদ্ধির প্রয়োজনে রাস্তা পার হতে গিয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে প্রায়ই লজ্জাবতী বানরসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণি প্রাণ হারাত। নতুন এই রোপওয়ে করিডোর চালুর ফলে এই ঝুঁঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে নির্মিত পাঁচটি রোপওয়ে করিডোরগুলোর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের পর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে বনাঞ্চলের অন্যসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে একই ধরনের করিডোর নির্মাণ করা হবে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ জানান, বনাঞ্চলসংলগ্ন মহাসড়কে এ ধরনের বন্যপ্রাণিবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্যপ্রাণির নিরাপদ চলাচলের জন্য রোপওয়ে করিডোর ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. মোশাররফ হোসেন জানান, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে মধুপুর শালবন প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বণ্যপ্রাণির মৃত্যুহার অনেক কমে আসবে। টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন জানান, মধুপুর শালবন প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় রোপওয়ে করিডোর নির্মাণের ফলে বানর, হনুমান, সিভেটসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণি নিরাপদে চলাচল করতে পারছে। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে শুরু করা হয়েছে এবং ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যানবাহনের নিচে পিষ্ট হয়ে বন্যপ্রাণির মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।

১০ জুলাই ২০২৬

মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবকের লাশ ফিরল কফিনে

মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবকের লাশ ফিরল কফিনে

দৃষ্টি নিউজ: পরিবারের হাল ধরতে এবং অভাব দূর করতে ঋণ করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন একমাত্র ছেলে জাকির হোসেন (২৫)। স্বপ্ন ছিল কঠোর পরিশ্রম করে বাবার ঋণ শোধ করবেন, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু তিন বছর পর জীবিত নয়, তিনি ফিরলেন কফিনবন্দি লাশ হয়ে। একমাত্র সন্তানের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর বাবা মো. মোজাম্মেল ও মা জরিনা বেগমের একমাত্র ছেলে মো. জাকির হোসেন জীবিকার তাগিদে তিন বছর আগে ধার-দেনা করে মালয়েশিয়ায় যান। কৈশোর জীবন থেকেই সংসারের অভাব-অনটন দেখে বড় হওয়া জাকিরের স্বপ্ন ছিল একটি সুন্দর ও সচ্ছল সংসার গড়ার। মৃত্যুর আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মালয়েশিয়ায় জ্বরে ভুগছিলেন জাকির। পরে স্ট্রোক করলে গত ২৪ জুন সেখানে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও অপেক্ষার পর গত সোমবার(৬ জুলাই) রাতে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। সরেজমিনে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে মরদেহ গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া দক্ষিণপাড়ায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। উঠানের মাঝখানে একমাত্র সন্তানের কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ বাবা মো. মোজাম্মেল। মা জরিনা বেগম ও একমাত্র বোন শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রামে যেন স্তব্ধতা নেমে এসেছে। এদিকে মালয়েশিয়ায় কম বেতনের চাকরি করায় বাবার নেওয়া ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি জাকির। বর্তমানে পরিবারের মাথায় এখনো প্রায় ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ঋণের বোঝা রয়েছে। একদিকে একমাত্র সন্তানকে হারানোর তীব্র শোক, অন্যদিকে পাওনাদারদের ঋণের বোঝা- সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই দরিদ্র পরিবারটি। যে ছেলেকে ঘিরে দিনমজুর বাবা-মা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ সেই ছেলের নিথর দেহটুকুই তাদের শেষ সম্বল। যে ছেলে সংসারের হাল ধরবে বলে বিদেশে গিয়েছিল, সে-ই আজ কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এলো নিজের চিরচেনা গ্রামে।

০৭ জুলাই ২০২৬

কালিহাতীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত

কালিহাতীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত

কালিহাতী প্রতিনিধি: ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন বরা হয়েছে। সোমবার(৬ জুলাই) এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী ও ঋণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এদিন সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের হলরুমে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েদা খানম লিজা, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইদ আল সালাউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কালিহাতী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন। এসময় ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন পল্লী উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে অগ্রদান শস্য উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় রাজবাড়ী অগ্রদান শস্য দলের ২১ জন সদস্যের মাঝে ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকার ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়। দলের সভানেত্রী মোছা. ফরিদা বেগম ও ম্যানেজার মোছা. শাহুনাহার বেগম ঋণের চেক গ্রহণ করেন। এছাড়া উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ট্রেডে ২৯ জন সদস্যকে ১ লাখ টাকা করে মোট ২৯ লাখ টাকার ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়। মনোহরি ব্যবসা খাতে ১ লাখ টাকার ঋণ সহায়তার চেক গ্রহণ করেন উদ্যোক্তা মো. ইউসুফ আলী। আলোচনা সভায় বক্তারা দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পল্লী অঞ্চলের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অফিস সহকারী সুমাইয়া খান সুমি।

০৬ জুলাই ২০২৬

সন্তানেরা ছুঁড়ে দিল রাস্তায়- প্রতিমন্ত্রী টুকু নিলেন দায়িত্ব

সন্তানেরা ছুঁড়ে দিল রাস্তায়- প্রতিমন্ত্রী টুকু নিলেন দায়িত্ব

দৃষ্টি রিপোর্ট: জীবনের শেষ বেলায় নিজের রক্ত যখন স্বার্থের টানে হয়ে যায় পাথর, তখন এক পরম মমতার হাত এসে মুছে দিল শতবর্ষী এক পিতার চোখ ফেটে বের হওয়া নোনা জল। টাঙ্গাইলের বৈল্যা এলাকায় অন্ধকার রাতে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অন্ধপ্রায় বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনের কান্নার অবসান ঘটেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপির তাৎক্ষণিক মানবিক হস্তক্ষেপে এবং পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে একবিংশ শতাব্দীর এক চরম অমানবিক অধ্যায়ের পর রচিত হলো এক মানবতার গল্প। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তার জীবন হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গ। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, আর ছোট ছেলে আলাদা সংসার করেন। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে দুই ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই পরিবারে তার অবস্থান ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী জানায়, তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বড় ছেলে শামসুলের বাড়িতেই বসবাস করতেন। ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে নাতনি ও তার স্বামী থাকতেন। কিন্তু তারা বৃদ্ধ দাদার দেখাশোনা করতে চাননি। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান। এ খবর জানতে পেরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কড়া নির্দেশনায় গভীর রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ। সেতুর পাশে অসহায়ভাবে বসে থাকা বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনকে পরম যত্নে উদ্ধার করেন তারা। একই সঙ্গে এই চরম নিষ্ঠুরতার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। ঘটনার মূল কারিগর, বৃদ্ধের সেই পাষাণ নাতনিকে ইতিমধ্যেই থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিজের দাদাকে রাতের অন্ধকারে রাস্তায় ফেলে আসার মতো অমার্জনীয় অপরাধের জন্য এখন তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রথমদিকে শতবর্ষী বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে চরম অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ছোট মেয়ে রিনা বেগম। কিন্তু খোদ প্রতিমন্ত্রী যখন নিজে তার সাথে কথা বলেন এবং একজন অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়ান, তখন গলতে শুরু করে রিনার ভেতরের দ্বিধার বরফ। প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস ও স্নেহের পর অবশেষে নিজের ভুল বুঝতে পেরে বাবার সেবা ও দেখাশোনার পবিত্র দায়িত্ব নিতে পুরোপুরি সম্মত হন রিনা বেগম। পুলিশ রাতেই মফিজ উদ্দিনকে নিরাপদে তাঁর ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়। দীর্ঘ সময় পর এক হতভাগা পিতা ফিরে পান পরম আশ্রয়ের এক টুকরো আঁচল। শুধু উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করেননি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বরং তিনি এই অসহায় পিতার জন্য নিয়েছেন এক অনন্য মানবিক সিদ্ধান্ত। বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনের চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যয়ভার এখন থেকে ব্যক্তিগতভাবে বহন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া মফিজ উদ্দিনের জন্য অতিদ্রুত সরকারি বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি মেয়ের বাড়িতে কোনো কারণে সমস্যা হয়, তবে বৃদ্ধের থাকার জন্য আলাদা একটি নিরাপদ কক্ষ ভাড়া নেওয়া হবে এবং সেই ভাড়াসহ সব আনুষঙ্গিক খরচ নিয়মিতভাবে প্রতিমন্ত্রী নিজেই পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যে পিতা নিজের শেষ সম্বলটুকুও মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে সন্তানদের নামে লিখে দিয়ে আজ পথের ফকির হয়েছিলেন, সন্তানদের চরম বিশ্বাসঘাতকতার পর আজ রাষ্ট্র এবং একজন জনপ্রতিনিধি তাঁর সেই হারানো সম্মান আর অধিকার ফিরিয়ে দিলেন। এই ঘটনা যেমন আমাদের সমাজের অন্ধকারের এক কুৎসিত রূপকে দেখায়, তেমনি প্রতিমন্ত্রীর এই বিশাল হৃদয়ের ছায়া আমাদের মনে বিশ্বাস জোগায়- পৃথিবীতে এখনো মানবিকতা ফুরিয়ে যায়নি। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে। তিনি বর্তমানে তার ছোট মেয়ের হেফাজতে রয়েছেন। নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন প্রয়োজন, এই বৃদ্ধের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব আমি নেব। একই সঙ্গে যারা তাকে এভাবে পরিত্যাগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

০৩ জুলাই ২০২৬