টাঙ্গাইল জেলার সকল সংবাদ
টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’ এবং ‘ছাত্র-জনতার অঙ্গীকার, নিরাপদ সড়ক হোক সবার’- স্লোগানে টাঙ্গাইলে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন করেছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) জেলা শাখা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স।জেলা নিসচা’র সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা নিসচা’র সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম তরফদার। আলোচক হিসেবে বক্তব্য তুলে ধরেন, জেলা নিসচা’র কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম শফিকুল আলম সিদ্দিকী।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রবিউল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, জেলা বাস কোচ মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান শফিক এবং জেলা জাসাস’র সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান তুহীন।বক্তারা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সকলের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা স্মরণ করেন- ‘একটি সড়ক দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না’, কথাটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।নিসচা’র দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল জনসাধারণের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ে সচেতনতা ক্যাম্পেইন এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা। সবশেষে নিসচা’র প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সহধর্মিণী মরহুম জাহানারা কাঞ্চনসহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল এবং একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।সংগঠনটির অতীত ইতিহাস স্মরণ করে সভায় জানানো হয়, ২০০১ সালে টাঙ্গাইল জেলা নিসচা’র কমিটি গঠন করা হয়। তৎকালীন সময়ে এই জেলা কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাছুদুর রহমান মাসুদ। তাদের হাত ধরেই টাঙ্গাইলে নিসচা’র এই মানবিক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল।
৪ ঘণ্টা আগে
ষড়যন্ত্র করে হৃদয় জয় করা যায় না : প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৃষ্টি রিপোর্ট: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, ষড়যন্ত্র করে কখনো মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না। পলাতক স্বৈরাচারী চক্র দেশে ফেরার পাঁয়তারা করলেও বাংলাদেশের জনগণই তাদের প্রতিহত করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। যারা জনগণকে হত্যা করেছে, গুলি করেছে এবং পালিয়ে গেছে, তারা আবার বলছে দ্বিগুণ ভয়ঙ্কর হয়ে বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশের জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে, প্রতিহত করবে। তাদের যে বিচার হয়েছে, জনগণ সেই বিচার কার্যকর করবে- ফাঁসির রায় কার্যকর করবে ইনশাআল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা বিএনপির উদ্যোগে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হামিদুল হক মোহনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, দেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সম্পূর্ণ নিরাপদ। স্বাধীনতাবিরোধী একাত্তরের রাজাকার কিংবা নব্য ফ্যাসিবাদী শক্তি- কারও কাছেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী চক্র কিংবা একাত্তরের ঘাতকদের কারও মধ্যেই ন্যূনতম অনুশোচনা নেই। একটি দল স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেছে, তাদের রাজাকার বলা হয়। আরেকটি দল নব্য ফ্যাসিবাদ হিসেবে বিদায় নিয়েছে। তারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে, কিন্তু তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। একইভাবে একাত্তরে যারা রাজাকার ছিল, তাদেরও কোনো অনুশোচনা নেই। তারা দেশে ষড়যন্ত্র করলেও সফল হতে পারবে না। কারণ, ষড়যন্ত্র করে কখনো মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না।জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে সবাইকে পথ চলতে হবে। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি নেই।প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণের চাহিদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বিএনপির নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও সফিকুর রহমান সফিক, টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ প্রমুখ।শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হামিদুল হক মোহনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।এ সময় জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
২২ ঘণ্টা আগে
মজলুম জননেতার দর্শনের জীবন্ত স্মারক ঐতিহাসিক মুসাফিরখানা
মু. আবিদ মল্লিক জয়:পকেটে টাকা নেই, মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ-তবুও এক বেলা আহার কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বিন্দুমাত্র সংশয় জাগে না মনে। দূরদূরান্ত থেকে আসা পথচারী, অসচ্ছল মানুষ আর ভক্ত-অনুসারীদের জন্য বিগত আটটি দশক ধরে এমনই এক অনন্য ভরসাস্থল টাঙ্গাইলের সন্তোষের ঐতিহাসিক ‘মুসাফিরখানা’। যেখানে প্রায় ৮০ বছর ধরে সম্পূর্ণ নিখরচায় চলছে থাকা ও খাওয়ার এক নীরব মানবিক আয়োজন। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর জনকল্যাণমুখী দর্শনের এক জীবন্ত স্মারক এই প্রতিষ্ঠান। জানা যায়- ১৯৪৬ সালে মওলানা ভাসানী নিজ হাতে এই সেবাশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেন। আমৃত্যু যিনি কৃষক, শ্রমিক ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর সেই চিরন্তন মমত্ববোধ ও দর্শনের প্রতিফলন আজও অম্লান সন্তোষের আঙিনায়। আজকের ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও জটিল আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় যেখানে ন্যূনতম স্বার্থ ছাড়া সমানুভূতি মেলা ভার, সেখানে আটটি দশক ধরে একটি মুসাফিরখানা সচল থাকা এক বিরল দৃষ্টান্ত। এটি কেবল একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানই নয় বরং মওলানা ভাসানীর সমতা, ভ্রাতৃত্ব ও বৈষম্যহীন সমাজভাবনার এক জীবন্ত দলিল।দেশ ছাড়িয়ে এই মুসাফিরখানার খ্যাতি ও টানে সীমানা পেরিয়ে আসছেন ভিনদেশের মানুষও। সম্প্রতি ভারতের আসামের লক্ষ্মীপুরের গোয়ালপাড়া থেকে সন্তোষে আসেন তিন ব্যবসায়ী। তাঁদেরই একজন মনিরুজ্জামান অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষেরা ভাসানী হুজুরের অনুসারী ছিলেন। তাঁদের কাছে হুজুরের অনেক গল্প শুনেছি। আজ সশরীরে সন্তোষে এসে মুসাফিরখানায় যে আতিথেয়তা ও সেবা পেলাম, তা এককথায় চমৎকার। টাঙ্গাইলে এসে আমাদের দারুণ লাগছে।’আরেক ব্যবসায়ী সানিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে এসেই প্রথমে হুজুরের মাজার জিয়ারত করেছি। বাবা-মায়ের কাছে ভাসানীর গৌরবময় ইতিহাস শুনে বড় হয়েছি। আগে শুনতাম, তাঁর প্রতিষ্ঠিত মুসাফিরখানায় থাকা-খাওয়া সম্পূর্ণ ফ্রি। এখানে এসে সেই কথার বাস্তব প্রমাণ পেলাম।’ একই কথা বলেন- শামসুল, আরেফিন, নওশাদ, খালেক, আসলাম, জাহাঙ্গীর, ছিফাত, লস্কর, তামজিদুল, হরিপদ, রাখাল, সুশান্ত, আজগর, নেহাল, পারভেজ, শাকুর সহ অনেকে।মুসাফিরখানায় আগন্তুকদের পরম যত্নে আগলে রাখছেন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভক্ত-অনুসারীদের খাবারের দেখভাল করেন আমেনা বেগম। তিনি জানান, দর্শনার্থীরা এখানে এসে মওলানা ভাসানীর মাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। কেউ কেউ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাজার করে নিয়ে আসেন, আবার অনেকেই আসেন খালি হাতে। তবে আগন্তুকদের পটভূমি যা-ই হোক না কেন, সবার জন্যই সাধ্যমতো আহারের ব্যবস্থা করা হয়।এই মুসাফিরখানার রান্নাঘরে দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করছেন চান মিয়া। তিনি জানান, প্রতিদিন নিয়মিত দুবেলা খাবার পরিবেশন ছাড়াও প্রতি বৃহস্পতিবার এবং প্রতি চান্দ্র মাসের ১১ তারিখে এখানে বিশেষ তবারক বিতরণ করা হয়। এসব দিনে দূরদূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে। এখানে আসা প্রতিটি মানুষের জন্যই নিখরচায় থাকা ও খাওয়ার অবারিত সুযোগ রয়েছে। কালের বিবর্তন ও আর্থ-সামাজিক নানা পরিবর্তনের ঢেউ লাগলেও সন্তোষের এই মুসাফিরখানার ঐতিহ্যে কখনো ছেদ পড়েনি।মওলানা ভাসানীর দৌহিত্র ও ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি হাসরত খান ভাসানী বলেন, ‘১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ৮০ বছর ধরে এই কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। মূলত হুজুরের মুরিদান, ভক্ত ও মুসাফিরখানায় আসা সাধারণ মানুষের আন্তরিক সহযোগিতাতেই এই মহতী উদ্যোগ আজও সচল রয়েছে।’মওলানা ভাসানীর মানবিক দর্শনের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, ‘মওলানা ভাসানী হুজুর বলতেন- তাঁর দরগায় কেউ এলে তাকে যেন অন্তত একটি রুটি দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনানুযায়ী, আজ পর্যন্ত এখান থেকে কেউ ক্ষুধার্ত মুখে ফিরে যাননি। আল্লাহর রহমতে ভবিষ্যতেও এই সেবামূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে।’মুসাফিরখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতি ও আদর্শকে ধারণ করে তাঁর হাতে গড়া সব প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনকে নতুন করে উজ্জীবিত করা হবে। বিশেষ করে, তাঁর ঐতিহাসিক মুসাফিরখানার আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে- যাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ আরও সুচারুভাবে সেবা পেতে পারেন।উপাচার্য আরও জানান, আমাদের মূল লক্ষ্য- মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করা। এখানকার শিক্ষকরা যেমন গবেষণায় ও মেধার দিক থেকে দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবেন, তেমনি শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও দক্ষতা লাভ করবে এবং শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের শিক্ষা পেয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রাখবে।
২২ অক্টোবর ২০২৬
সাইবার নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করতে চান প্রতিভাবান সোহান
দৃষ্টি রিপোর্ট:সাইবার জগতে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি মিডিয়া ও সঙ্গীত শিল্পে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিয়মিত কাজ করতে চান সোহান আহমেদ। সোহান আহমেদ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা বল্লা গ্রামের মো. আমিনুর ইসলামের ছেলে। ইতোমধ্যে ডিজিটাল উদ্ভাবন, মিডিয়া প্রডাকশন এবং সুরের ভুবনে একই সাথে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তরুণ আইটি বিশেষজ্ঞ, ওয়েব ডিজাইনার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক সোহান আহমেদ। পেশাগত জীবনে প্রযুক্তি খাত, টেলিভিশন ব্রডকাস্ট মিডিয়া এবং ডিজিটাল মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি- ক্ষেত্রে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের শক্তিশালী অবস্থান।আইটি, ওয়েব ডিজাইন ও সাইবার সিকিউরিটি খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন সোহান আহমেদ। তিনি ওয়েবেভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘এসএআর টেক’ (SAR TECH)-এর প্রতিষ্ঠাতা। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের ওয়েবসাইট ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার সিকিউরিটি পরামর্শ এবং কারিগরি বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছেন।তিনি এটিএন বাংলা, চ্যানেল নাইনসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে এটিএন বাংলার জন্য জিএম সৈকত পরিচালিত পূজা স্পেশাল নাটক ‘দেবী’, চ্যানেল নাইনে চিত্রনায়ক শিপন মিত্র অভিনীত ও জিএম সৈকত পরিচালিত নাটক ‘ঘর জামাই’-এর অডিও-ভিডিও সম্পাদনা ও মিডিয়া প্রডাকশনের কাজ অন্যতম।এছাড়া দেশের সুপরিচিত সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি সিরিজ (G Series), সিডি চয়েজ (CD Choice) এবং সুরঞ্জলির ব্যানারে প্রচারিত কণ্ঠশিল্পী আরিয়ান হাসমি ও জিয়াদ সিদ্দিকসহ বিভিন্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সঙ্গীত শিল্পীর বেশ কিছু জনপ্রিয় গানের অডিও-ভিডিও সম্পাদনা ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণে কাজ করেছেন তিনি।স্বাধীন সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ডিজিটাল মাধ্যমে স্বত্বাধিকার রক্ষা এবং নিজস্ব প্রকাশনা সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন অডিও-ভিডিও লেবেল ‘এসএআর মিউজিক ওয়ার্ল্ড’ (SAR Music World)। এই লেবেলের অধীনে তাঁর সুরারোপিত ও পরিচালিত থেকে শুরু করে অন্যান্য জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীত শিল্পিদের একাধিক ট্র্যাক স্পোটিফাই, অ্যাপল মিউজিক, ইউটিউবসহ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে পরিবেশিত হয়ে আসছে।এ বিষয়ে টোকাই নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা, নাট্য পরিচালক ও অভিনেতা সাজু মেহেদীর সাথেও কথা হয়। তিনি সোহান আহমেদ এর ডিজিটাল কর্মকান্ডের বিষয়ে জানান, ‘সোহান আহমেদের মধ্যে আমি অসাধারণ প্রতিভা, মেধা ও সম্ভাবনা দেখতে পাই। তিনি নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি বহুদূর এগিয়ে যাবেন। তার মধ্যে ভালো কিছু করার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা সঠিকভাবে বিকশিত হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারবে।’ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সোহান আহমেদ জানান, সাইবার জগতে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বিশ্বস্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি মিডিয়া ও সঙ্গীত শিল্পে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিয়মিত কাজ করে যাওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
২১ অক্টোবর ২০২৬
দুই শতাধিক দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দৃষ্টি রিপোর্ট:সারাদেশের মতো টাঙ্গাইল সদর উপজেলায়ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সোমবার রাত থেকে শুরু করে মঙ্গলবার(২০ অক্টোবর) দিনভর টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। তিনি এই দুই দিনে উপজেলার দুই শতাধিক দুর্গাপূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।পরিদর্শনকৃত মণ্ডপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাদত বাজার পূজামন্দির, বেতকা দাসপাড়া পূজামণ্ডপ (২টি), আদালতপাড়া পূজামণ্ডপ, শ্রী শ্রী বড় কালীবাড়ি মন্দির, বাজিতপুর সাহাপাড়া পূজামণ্ডপ, থানাপাড়া পূজামণ্ডপ, হরিজন কলোনি পূজামন্দির, কাগমাড়ির বিভিন্ন পূজামণ্ডপ, কলেজপাড়া পূজামণ্ডপ, প্যারাডাইসপাড়া পূজামণ্ডপ, ছোট কালীবাড়ি পূজামন্দির, বটতলাস্থ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম মণ্ডপ, দেওলা পূজামন্দির, সাবালিয়া হরিপাগল পূজামণ্ডপ, সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া পূজামণ্ডপ, বেতকা ধোপাপাড়া পূজামণ্ডপ এবং রেজিস্ট্রিপাড়া পূজামণ্ডপ ইত্যাদি।পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে আমরা সবাইকে নিয়ে একটি সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমাদের এই দেশে কোনো ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ বলে কিছু নেই; আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং সবাই মিলে একসাথেই এই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করব।নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, যার যার ধর্ম সে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে, আর প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। এই লক্ষ্যে দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিটি পূজামণ্ডপকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সেই সাথে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করছেন। দেশের কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে, যাতে অপশক্তির যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দেওয়া যায়।এদিকে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।মতবিনিময় সভা শেষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টাঙ্গাইল শহরের ছোট কালীবাড়ি, বড় কালীবাড়িসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা পূজার সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২০ অক্টোবর ২০২৬
‘আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম’ :: শিরোচ্ছেদ হওয়া সুইটির মা
দৃষ্টি রিপোর্ট: অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হয় সুইটি আক্তারের। সেই সংসার টেকেনি। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। এরপর পরিবারের চাপে আরেকজনকে বিয়ে করেন। কিন্তু স্বামী সৌদি আরবে যাওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না।মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং বাবার সংসারের অভাব দূর করতে তিন বছর আগে সৌদি আরবে যান সুইটি আক্তার। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন তিনি। কিন্তু সৌদি আরবে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি গ্রেপ্তার হন।তখন সুইটি আক্তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবে তাঁর সঙ্গে কাজ করা অন্য নারীরা অবৈধভাবে একটি গাড়ি কিনেছেন। এ ঘটনায় তাঁদের সঙ্গে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারাগারে থাকলেও মা-বাবার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তিনি কোনো কারণে ফোন দিতে না পারলেও দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেছিলেন। সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর (গত মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে তাঁর কথা হয়। এর দুই দিন পর সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর পান মা-বাবা।সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে অনৈতিক কাজ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার পর দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড সম্প্রতি কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ১৪ অক্টোবর (গত বুধবার) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)। যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাঁরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার।মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহুরুল আলম জানান, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনাটি তাঁরা জেনেছেন। তাদের মধ্যে একজন সুইটি আক্তার। সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়। এই উপজেলার একটি গ্রামের মো. ফজল মিয়া ও জহুরা বেগমের মেয়ে সুইটি। পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি।মঙ্গলবার(২০ অক্টোবর) সকালে সুইটি আক্তারের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, উঠানে কয়েকজন জড়ো হয়ে কথা বলছেন। তাঁদের কেউ সুইটির স্বজন, কেউবা প্রতিবেশী। সুইটির মা-বাবা তখন ঘরের বারান্দায় বসে ছিলেন।মেয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেই কান্না শুরু করেন মা জহুরা বেগম। কোনোরকমে নিজেকে সামলে বললেন, ‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে।’ কান্নার কারণে কথা বলতে পারছিলেন না জহুরা বেগম। একপর্যায়ে বললেন, ‘মা তুই কত দুঃখ পাইয়া গেছস, কেউর কাছে কইলি না। আমার কাছেও কইলি না.....আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও। আমি ওরে দেহুম।’
২০ অক্টোবর ২০২৬
গৃহবধূকে দলবদ্ধ যৌননিগ্রহের দায়ে ৬ জনের যাবজ্জীবন
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে এক গৃহবধূকে(২৩) দলবদ্ধভাবে যৌননিগ্রহ চালানোর দায়ে ৬ ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আনম ইলিয়াস ওই রায় ঘোষণা করেন। টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- দেলদুয়ার উপজেলার মঙ্গহোড় গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রাজন মিয়া, মঙ্গলহোড় মধ্যপাড়া গ্রামের মো. মজনু মিয়ার ছেলে মো. রিফাত, একই গ্রামের মো. মোবারকের ছেলে আব্দুর রউফ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পয়লা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. নিলু মিয়ার ছেলে মো. আমির হামজা, কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলি এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে আল আমিন, দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল এলাকার মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে বিপ্লব মিয়া।মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভুক্তভোগী গৃহবধূ দেলদুয়ার থানার আটিয়া গ্রামে তার ফুফু শিউলী বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে ফুফুর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা তিনি ধার নেন। ওইদিন রাতে মাদারজানি যাওয়ার পথে উল্লেখিত আসামিরা জোরপূর্বক তাকে মোহন টেক্সটাইল মিলের অফিস রুমে নিয়ে যায়। এরপর দলব্ধভাবে পালাক্রমে তার উপর যৌননিগ্রহ চালায় এবং তার মোবাইল ও পার্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি পরিসেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করেন। দেলদুয়ার থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আজিজুল হক হাওলাদার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।সরকারি কৌশুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানান, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে ওই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা মূলে আসামিদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
১৯ অক্টোবর ২০২৬
নাগরপুরে আজানের সুরে থামে ঢাকের বোল
মু. আবিদ মল্লিক জয়:একই সীমানাপ্রাচীরের অভ্যন্তরে মহিমান্বিত রূপে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ ও মন্দির। একপাশে যখন ধূপের সুবাস আর দেবীর আবাহনে ঢাকের বোল, অন্যপাশে তখন ধ্বনিত হচ্ছে পবিত্র আজানের সুমধুর সুর। কোনো ধরনের উসকানি কিংবা সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা ছুঁঁতে পারেনি এই আঙিনাকে; বরং যুগ যুগ ধরে এখানে পাশাপাশি চলছে দুই ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের পরম আকুলতায় প্রার্থনা। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়িতে দেখা মিলেছে ধর্মীয় সম্প্রীতির এই চিরন্তন ও গৌরবময় উপাখ্যানের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আপামর জনসাধারণের মতে- এখানে কোনো শঙ্কা নেই বরং এই সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়া উচিত সমগ্র বাংলাদেশে।সরেজমিনে জানা যায়, নাগরপুর সদরের চৌধুরী বাড়িতে স্থানীয় শ্রী পরেশ চন্দ্র ও শৈলেশ চন্দ্র প্রথমে দেবী দুর্গার একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এর কয়েক বছর পর, ১৯৬২ সালে একই চত্বরে মুসলমানদের জন্য নির্মিত হয় ‘চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’। সেই থেকে বিগত প্রায় ৫৬ বছর ধরে একই প্রাঙ্গণে সহাবস্থান করছে এই দুই উপাসনালয়। সীমানাপ্রাচীরের পশ্চিম পাশে মন্দির এবং পূর্ব পাশে মসজিদ; যার দক্ষিণ প্রান্তেই রয়েছে মুসল্লিদের ওযুর সুব্যবস্থা।বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ। ঢাকের আওয়াজ, বর্ণিল আলোকসজ্জা আর ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজ থাকলেও সেখানে অক্ষুণ্ন রয়েছে সুগভীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা। মসজিদে আজানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হওয়ার সাথে সাথেই মন্দিরের ঢাক-ঢোল, আতসবাজিসহ সমস্ত বাদ্যযন্ত্র ও আনুষ্ঠানিকতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে থমকে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক ধরে কোনো বাহ্যিক নির্দেশনা ছাড়াই এই অলিখিত নিয়ম নিষ্ঠার সাথে প্রতিপালিত হয়ে আসছে।চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হুমায়ুন কবির এ প্রসঙ্গে জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির আপন মহিমায় বিরাজমান। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এবং স্থানীয় মুসলমানরা মসজিদকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করছেন। আজ পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি, কাউকে কোনো বিষয়ে সতর্কও করতে হয়নি। সবাই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই সম্প্রীতি টিকিয়ে রেখেছেন।পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ঝন্টু কুমার সাহা বলেন, আমাদের ধর্মীয় উৎসবে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে স্থানীয় মুসলমান ভাইয়েরা অত্যন্ত সজাগ ও সহনশীল। আমরা চাই, নাগরপুরের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক, যাতে কোথাও কোনো সাম্প্রদায়িক হানাহানির অবকাশ না থাকে।জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১,৩৫৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে মির্জাপুর উপজেলায় সর্বোচ্চ ২৭০টি এবং দেলদুয়ার উপজেলায় সর্বনিম্ন ৩৪টি মণ্ডপ রয়েছে। তবে নাগরপুরের এই ঐতিহাসিক চৌধুরী বাড়ির মণ্ডপটি এর অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে জেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত।নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বনিক জানান, বাংলাদেশ আবহমানকাল ধরেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এর একটি জীবন্ত ও উজ্জ্বল উদাহরণ নাগরপুরের চৌধুরী বাড়ি। একই প্রাঙ্গণে থেকে মুসলমানরা নামাজের সময় নামাজ আদায় করছেন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজার সময় পূজা উদযাপন করছেন। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপিত হচ্ছে।টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, জেলায় এবার ১,৩৫৭টি পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে জেলাজুড়ে নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নাগরপুরের চৌধুরী বাড়ির সহাবস্থানটি একটি বিরল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সেখানে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই। তবে জেলাজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।এ বিষয়ে টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল লাভলু জানান, এই মাটিতে ‘সংখ্যালঘু’ বলে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে ও মর্যাদার সাথে পালন করবেন- এটাই আমাদের ঐতিহ্য। একই আঙিনায় পূজার্চনা ও নামাজ আদায় হচ্ছে- যা আমাদের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ সর্বাত্মক তৎপর রয়েছে।
১৯ অক্টোবর ২০২৬
এজেন্সির কোটা ব্লক থাকায় ভারতীয় ভিসা পেতে জটিলতা :: ডেপুটি হাইকমিশনার
মির্জাপুর প্রতিনিধি:ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাদেহ বলেছেন, বাংলাদেশি বিভিন্ন এজেন্সি ভারতীয় ভিসার কোটা ব্লক করে রাখার কারণে সাধারণ ভিসাপ্রত্যাশীরা আবেদন করতে গিয়ে নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। একই সঙ্গে এই সমস্যা নিরসনে ভারতীয় হাইকমিশন জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এশিয়াখ্যাত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।ডেপুটি হাইকমিশনার বলেন, বেশ কিছু এজেন্সি ভিসার কোটা আগে থেকেই ব্লক করে রাখে। এর ফলে সাধারণ আবেদনকারীরা যথাসময়ে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পান না এবং ভিসা প্রাপ্তিতে ভোগান্তি তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি নিরসন এবং প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে ভারতীয় হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।এর আগে ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাদেহ ঐতিহাসিক কুমুদিনী হাসপাতালের লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে তিনি দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার নাটমন্দিরে উপস্থিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
১৮ অক্টোবর ২০২৬
টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের পূজামণ্ডপে আর্থিক উপহার
দৃষ্টি রিপোর্ট:শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটিকে বিশেষ আর্থিক উপহার দিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ। রোববার(১৮ অক্টোবর) সকালে জেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানে মণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে উপহারের চেক তুলে দেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির।চেক বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল হক নাসির বলেন, আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ধারা অক্ষুণ্ন রাখতে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ অনুদান নিশ্চিত করা হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু সনাতন সম্প্রদায়ের নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক উৎসবের অংশ। এই আনন্দকে সর্বজনীন রূপ দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে জেলা পরিষদের প্রশাসক আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন- এই ভূখণ্ডে কোনো ‘সংখ্যালঘু’ শব্দ থাকবে না, আমরা সবাই পরিচয়গতভাবে বাংলাদেশি। তাঁরই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হয়, সে জন্য প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাহারায় নিয়োজিত থাকবেন। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করব- এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুন্নাহার স্বপ্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলার রসুলপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী সুভাস চন্দ, সাবালিয়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ, শ্রী শ্রী কালীবাড়ি পক্ষে রিপন সরকার, ঘাটাইল উপজেলার লাহেরী বাড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপীনাথ, পাকুটিয়া চকপাড়া পূজা মন্ডপের পক্ষে বাদল চন্দ্র দাশ সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মণ্ডপ প্রতিনিধি ও সনাতন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।চেক গ্রহণকারী পূজামণ্ডপ কমিটির প্রতিনিধিরা জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে এ ধরনের সহযোগিতা পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন।প্রকাশ, এবার জেলার ৫৩টি পূজামণ্ডপে মোট পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকার চেক উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
১৮ অক্টোবর ২০২৬
টাঙ্গাইলে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকবর্তিকা, আধ্যাত্মিক সাধক ও বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এদিন বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। লালনভক্ত ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘জনসেবা চত্বরে’ এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক আলোচনা সভা ও লালনগীতির আসর অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. সেলিম মিয়া। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান তুহীন, টাঙ্গাইল ল’ কলেজের অধ্যক্ষ খান মোহাম্মদ খালেদ ও স্থানীয় লালনভক্ত, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন, শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দা সেলিনা আক্তার ও জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুন হোসাইন।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি বলেন, ‘লালন সাঁইজির দর্শন কেবল গান বা সুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের আত্মিক মুক্তির পথ দেখায়। জাত-পাত ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে তিনি যে মানবতার বাণী প্রচার করে গেছেন- তা বর্তমান সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে অত্যন্ত জরুরি।’সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, ‘লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে জেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একাডেমি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি কেবল একজন সাধকই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন বাঙালি সংস্কৃতির এক আলোকবর্তিকা।’আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী ও আমন্ত্রিত লালনভক্ত বাউল শিল্পীরা একতারা-দোতারার সুরে লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক ও দেহতত্ত্বের গান পরিবেশন করেন।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক লালন অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।
১৭ অক্টোবর ২০২৬
উদ্বোধনী ম্যাচে মুসলিম রেনেসাঁ ক্লাবের বড় জয়
দৃষ্টি রিপোর্ট:দীর্ঘ পাঁচ বছর বিরতির পর আবারও টাঙ্গাইলে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের বল মাঠে গড়িয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে লীগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলী ইমাম তপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের সভাপতি মাহমুদুল হক সানু, লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান আইয়ুব, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য আরিফুল হক প্রিন্স।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইল একসময় ক্রীড়ানগরী হিসেবে সারা দেশে পরিচিত ছিল। জেলার অনেক ফুটবলার জাতীয় দল ও ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। ফুটবলের সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সবাইকে মাঠমুখী করতে হবে।তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট, হকি, ভলিবল ও অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন খেলায় টাঙ্গাইলের খেলোয়াড়েরা যাতে ভালো করতে পারেন- সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মুসলিম রেনেসাঁ ক্লাব ৩-০ গোলে পূর্বাচল ক্লাবকে হারিয়ে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের শুভ সূচনা করে।এবারের লীগে টাঙ্গাইল শহরের ১০টি ক্লাব তিনটি গ্রুপে অংশ নিচ্ছে। ‘ক’ গ্রুপে রয়েছে মুসলিম রেনেসাঁ ক্লাব, পূর্বাচল ক্লাব, থানাপাড়া ব্যায়ামাগার ও ভাসানী ক্লাব। ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে ইয়ুথ ক্লাব, আকুর টাকুর যুব সংঘ ও সাবালিয়া জুনিয়র ফুটবল ক্লাব। ‘গ’ গ্রুপে রয়েছে উদয়ন ক্রীড়া চক্র, সাবালিয়া ক্রীড়া একাদশ ও থানাপাড়া এলিভেন বুলেটস ক্লাব।দীর্ঘ বিরতির পর লীগ শুরু হওয়ায় জেলার ফুটবলার ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের ফুটবলের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
১৬ অক্টোবর ২০২৬
‘ফ্যাসিস্টদের নজর ছিল ঘুষে, শিক্ষাকে করেছিল বাণিজ্য’ : প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৃষ্টি রিপোর্ট:বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষার মানের দিকে নজর না দিয়ে শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। টাঙ্গাইলের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ওই সভার আয়োজন করে।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, ফ্যাসিস্টদের নজর ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করে লোক নিয়োগ দিয়ে তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ-১৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া। তারা শিক্ষাকে একটি বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে গিয়েছিল।তিনি বলেন, শিক্ষা একটি আদর্শিক পেশা এবং শিক্ষকরা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। শিক্ষকদের বিভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাস থাকতে পারে, তবে শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদেরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি চাকরিজীবীদের দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে কর্মকে বিবেচনা করতে বলেছেন। দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে আমাদের পথ চলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আপনাদের যে নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে- তা পালন করতে হবে দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম থেকে।বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আল মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অপর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আকতার হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক প্রমুখ।সভায় বক্তারা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৬ অক্টোবর ২০২৬
এতিমদের নিয়ে কালবেলার ৪ বছরপূর্তি উদযাপন
দৃষ্টি রিপোর্ট:‘অগ্রযাত্রার চার বছর’ স্লোগানে গৌরবময় চার বছরের সফল পথচলা পেরিয়ে পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করেছে জাতীয় দৈনিক কালবেলা। দেশ ও মানুষের কথা বলার এই অনন্য যাত্রার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে টাঙ্গাইলে এতিম শিশুদের নিয়ে কেক কাটা, আলোচনা সভা, খাবার বিতরণ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের দারুল কুরআন ইসলামী হাফিজা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এক পুণ্যময় ও অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়।টাঙ্গাইল প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পঙ্কজ শর্মা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ এবং টাঙ্গাইল প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জ্বল। অনুষ্ঠানে স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন দৈনিক কালবেলার টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি মো. শাহ আলম।শুভেচ্ছা বক্তব্যে মো. শাহ আলম কালবেলা পরিবারের সকল পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও সহকর্মীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই কালবেলা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতিতে অবিচল রয়েছে। আগামি দিনগুলোতেও সত্য প্রকাশে এই আপসহীন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।’ এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকলের জন্য দোয়া কামনা করেন।প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দৈনিক কালবেলা বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে পাঠকহৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। দেশ ও জণগণের অধিকারের কথা তুলে ধরা এবং সমসাময়িক ঘটনাবলি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পাঠকের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে পত্রিকাটি গণমাধ্যম অঙ্গনে নিজস্ব এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পেরিয়ে পঞ্চম বর্ষে পদার্পণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে কালবেলার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং আগামিতেও দেশের উন্নয়নে এই পত্রিকা সম্মুখসারির ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আলোকিত বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি রঞ্জিত কৃষ্ণ পণ্ডিত, ডেইলি অবজারভারের জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাত হোসেন লিংকন, গ্রিন টিভির জেলা প্রতিনিধি মাসুদ কাউছার, সাংবাদিক মনির হোসেন, আনোয়ার হোসেন নয়নসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। এছাড়া এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদা রাজ্জাক, পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং মাদ্রাসার শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।আলোচনা সভা শেষে মাদ্রাসা ও এতিমখানার কোমলমতি শিশুদের সাথে নিয়ে অতিথিরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। পরে শিশুদের মাঝে উন্নতমানের দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়।শেষে দৈনিক কালবেলার সমৃদ্ধি, উত্তরোত্তর সাফল্য এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
১৬ অক্টোবর ২০২৬
দেশে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি : প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৃষ্টি রিপোর্ট: শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ব্যক্তিগত অর্থায়নে টাঙ্গাইলের ২ হাজার ৮০০ গরিব ও দুস্থ সনাতনী মানুষের মধ্যে শাড়ি-পাঞ্জাবি ও নগদ অর্থ উপহার দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের শ্রীশ্রী বড় কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে উপহার বিতরণের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। পরে সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ও সদুল্যাপুরসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ঘুরে ঘুরে প্রতিমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় এবং উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন।শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে ঈদের সময় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগত অর্থায়নেও উপহার দিয়েছি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আপনাদেরও উপহার দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, হিন্দুধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। কাজেই ভয়ভীতির কোনো বিষয় নেই। আপনারা নির্বিঘ্নে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করবেন। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এই দেশটাকে সবাই মিলে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্যামল হোড়, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী।এ সময় অন্যদের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অমল ব্যানার্জি, শ্রীশ্রী কালীবাড়ির সভাপতি স্বপন ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন কৃষ্ণ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফী, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন।উপহারসামগ্রীর মধ্যে ২ হাজার ৫০০ নারী-পুরুষের মাঝে শাড়ি-পাঞ্জাবি বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া হরিজন সম্প্রদায়ের ৩০০ জনের প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ দেওয়া হয়।
১৬ অক্টোবর ২০২৬
টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্স মেলা অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:‘টাকা আসে, ভবিষ্যৎ গড়ে’- স্লোগানে টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্স মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ওই মেলার আয়োজন করা হয়। ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন, প্রধান অতিথি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।ব্যুরো বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।বক্তারা বলেন, রেমিট্যান্স কেবল একটি পরিবারের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যই নিশ্চিত করে না বরং এর সঠিক ও পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের সুন্দর, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।মেলায় বিভিন্ন সংস্থার প্রায় অর্ধশত স্টল অংশ নেয়। এসব স্টলে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারা তাঁদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করেন। মেলায় প্রবাসী পরিবারের সদস্য, স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা ও যুবসমাজের উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করার মতো।
১৫ অক্টোবর ২০২৬
টাঙ্গাইলে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উদযাপিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’ প্রতিপাদ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বানে টাঙ্গাইলে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজে সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা এবং তাদের ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে শামিল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র যৌথভাবে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শহীদুল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. সেলিম মিয়া, জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য জোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিবন্ধী কল্যাণে নিয়োজিত ব্যক্তিরা।অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, সাদাছড়ি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীন ও নিরাপদে চলাচলের জন্য অন্যতম প্রধান সহায়ক উপকরণ। এদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সব ধরনের জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
১৫ অক্টোবর ২০২৬
সখীপুরে ধানক্ষেত থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
সখীপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের সখীপুরে দ্বিতীয় স্ত্রীর (তালাকপ্রাপ্ত) বাড়ির পাশের ধানক্ষেত থেকে দুলু মিয়া(৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের চটানপাড়া মগার মার্কেট এলাকার ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি পুলিশ উদ্ধার করে। নিহত দুলু মিয়া ওই গ্রামের মৃত কাঞ্জু মিয়ার ছেলে। তিনি বড়চওনা রফিকরাজু স্কুলের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।স্থানীয়রা জানায়, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশের ধানক্ষেতের কাছে দুলু মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।দুলু মিয়ার প্রথম স্ত্রী আসমা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তালাক হলেও ওই বাড়িতে দুলু মিয়ার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আমরা বার বার বলেও তাঁকে ফেরাতে পারিনি। ওরাই আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে।অন্যদিকে, দুলু মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী জরিনা বেগম জানান, তালাকের পর দুলু মিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন।নিহতের ছেলে আজহার মিয়া জানান, তাঁর বাবা দুলু মিয়া গত রাতে দোকানে চা পান করে বাড়িতে ফেরেন। পরে আবার বাইরে বের হন। এরপর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তাঁর বাবার মরদেহ ধানক্ষেতের পাশে ‘আইল’ এ পড়ে থাকতে দেখেন।সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
১৪ অক্টোবর ২০২৬
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন
ভূঞাপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ডিজিটাল প্রতারকের অপকর্মের ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(১৪ অক্টোবর) ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের সামনে ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির ব্যানারে ওই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা সাংবাদিক হাদি চকদার ও আরিফুজ্জামান তপুর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং ওই ডিজিটাল প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন। একজন চিহ্নিত প্রতারকের অপকর্মের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার শামিল। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অনতিবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।মানববন্ধন চলাকালে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক কালবেলা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ও দেশের কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধি খায়রুল খন্দকার, সদস্য ও বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি শিপন মিয়া, ঘাটাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন প্রমুখ।সংহতি প্রকাশ করে ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন, বৈশাখী টেলিভিশনের রাজু আহমেদ, সাংবাদিক মাসুদুল হক মাসুদ, আবদুল্লাহ সহ স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা।বক্তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে মূল অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি অতি দ্রুত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা সাজানো মামলা প্রত্যাহার না করে, তবে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
১৪ অক্টোবর ২০২৬