আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি শেখ রবিউল আলম

জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি শেখ রবিউল আলম

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অধিবেশনে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে শুধু শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠনই যথেষ্ট নয়; কার্যকর বাস্তবায়ন, সমন্বয় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। মন্ত্রী পরিবহন, স্বাস্থ্য, পুলিশ, শিক্ষা, অর্থ, পরিবেশ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ রবিউল আলম। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। অনুলিখন: লাবনী সিদ্দিকী

২২ জুলাই ২০২৬

খামেনির প্রথম জানাজায় জনতার মহাসমুদ্র

খামেনির প্রথম জানাজায় জনতার মহাসমুদ্র

দৃষ্টি ডেস্ক: আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আয়োজিত এই জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষ ভিড় করেন। জানাজা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই মোসাল্লার প্রধান প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আগামী কয়েক দিনে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির জানাজার নামাজে রোববার (৫ জুলাই) তেহরানে লাখো শোকাহত মানুষ অংশ নিয়েছেন। ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত এই জানাজার নামাজে ইমামতি করেন আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। এই জানাজার নামাজ তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে শুধু আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্য নামাজ আদায় করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে নিহত বোশরা হোসেইনি খামেনি, মেসবাহ আল-হুদা বাকেরি এবং জাহরা হাদ্দাদ আদেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আর তৃতীয় ধাপে আলী খামেনির নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানির জন্য জানাজার নামাজ আদায় করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর প্রথম দিনই তারা নিহত হন। শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, শনিবার থেকেই মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার তেহরানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে মূল জানাজার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পরদিন মঙ্গলবার(৭ জুলাই) পবিত্র শহর কোমে শোভাযাত্রা ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। বুধবার(৮ জুলাই) সেখানে তার স্মরণে বিশেষ বিদায় ও জানাজার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ইরাকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) ইরানের মাশহাদে এনে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।

০৫ জুলাই ২০২৬

হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা

হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা

দৃষ্টি ডেস্ক: ওমান উপকূলে পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার পর গতকাল ইরানের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানও আবার মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এরমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও শনিবার (২৭ জুন) জানিয়েছে, অজ্ঞাত একটি বস্তু হরমুজে ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে। ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন হামলার বিষয়টি জানিয়েছেন। অজ্ঞাত বস্তুটি ট্যাংকারের কমান্ড সেন্টারের ওপর পড়েছে উল্লেখ করে ক্যাপ্টেন বলেছেন জাহাজটির সব ক্রু সুস্থ আছেন এবং হামলার জেরে পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও। বাহরাইনে ইরানের ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে বাহরাইন জানিয়েছে, আজ সকালে ইরান তাদের ভূখণ্ডে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এ ড্রোন সরাসরি আঘাত হেনেছে কি না সেটি নিশ্চিত নয়। বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ড্রোন হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, শনিবার সকালের এ হামলা বাহরাইনে ভৌগলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। ইরান নতুন হামলায় বেশ কয়েকটি ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে বাহরাইন। তবে এগুলো কোন জায়গায় টার্গেট করা হয়েছে সেটি স্পষ্ট করেনি দেশটি। বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে ইরানের ড্রোন হামলা সাধারণ নাগরিকের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। এরসঙ্গে এ অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটিকেও হুমকিতে ফেলা হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

২৭ জুন ২০২৬

অবশেষে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে সই করল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

অবশেষে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে সই করল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

দৃষ্টি ডেস্ক: দীর্ঘ অপেক্ষা আর নানান নাটকীয়তার পর স্থায়ী ভাবে যুদ্ধ শেষ করতে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধ বন্ধের স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে যেতে এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তারা ইলেকট্রনিকভাবে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। উভয় পক্ষই বলছে, চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে এবং মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শান্তিচুক্তির মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ক্রয় না করা, সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষ করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়। প্যারিসের অদূরে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জোট জি–৭–এর শীর্ষ সম্মেলন পরবর্তী এক নৈশভোজের সময় সমঝোতা স্মারকটি সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় ট্রাম্পের পাশে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ফার্স্ট লেডি ব্রিজিট ম্যাক্রোঁ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রাসাদ ছাড়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এটা সই হয়েছে। ভার্সাইতে আমি এটায় সই করেছি। ট্রাম্পের সমঝোতা স্মারকে সই করার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ লেখেন, আজ রাতে ভার্সাইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তিতে সই করেছেন। ইরানের পক্ষ থেকেও দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সমঝোতা স্মারকে সই করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদ সংস্থা ইরনাকে বলেন, সমঝোতা স্মারকটি ইলেকট্রনিকভাবে সই হয়েছে। এটা নিয়ে আনুষ্ঠানিকতার পরিকল্পনা নেই ইরানের। তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতা সই করার মধ্য দিয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের খসড়াটি চূড়ান্ত হয়েছে—এখন এ চুক্তির বাস্তবায়নের সময় এসেছে। সূত্র: বিবিসি ও আল-জাজিরা

১৮ জুন ২০২৬

কী থাকছে  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে

কী থাকছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে

দৃষ্টি ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক-এর খসড়া নিয়ে নতুন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ইরানের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ১৪ দফা সমঝোতা খসড়ায় ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত অর্থ ৬০ দিনের চূড়ান্ত আলোচনাকালীন সময়ে মুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সূত্রটি জানায়, এখন পর্যন্ত এটি খসড়ার সবচেয়ে বিস্তারিত প্রকাশিত সংস্করণ। জানা গেছে, প্রস্তাবিত চুক্তিটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে, যদিও এখনো তা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়ায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা হলো- ১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের স্থায়ী ও অবিলম্বে অবসান। ২. ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সম্মান প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি। ৩. ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। ৪. ইরান সংলগ্ন অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন না করার অঙ্গীকার। ৫. ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। ৬. তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং ইরানের আর্থিক সম্পদে পূর্ণ প্রবেশাধিকার প্রদান। ৭. যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা উপস্থাপন। ৮. পারমাণবিক ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া। ৯. পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে এনপিটি-তে ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত। ১০. আলোচনার সময় নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতি না বাড়ানোর মার্কিন প্রতিশ্রুতি। ১১. আলোচনার ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত অর্থ মুক্ত করা; এর অর্ধেক আলোচনা শুরুর আগেই প্রদান। ১২. চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠন। ১৩. চূড়ান্ত চুক্তিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব হিসেবে অনুমোদন। ১৪. আলোচনার শুরু শর্তসাপেক্ষ-অর্থ মুক্তি, তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের পরই চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বিষয়টি আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া নতুন তথ্য অনুযায়ী, খসড়ায় লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে অতিরিক্ত নিশ্চয়তা সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত খসড়াটি এখনো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

১৬ জুন ২০২৬

গভীর রাতে ভূমিকম্পে কাঁপল ৫ দেশ

গভীর রাতে ভূমিকম্পে কাঁপল ৫ দেশ

দৃষ্টি ডেস্ক: ভুটানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশসহ এশিয়ার পাঁচটি দেশ। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পে বাংলাদেশ-ভুটানের পাশাপাশি ভারত, চীন এবং নেপালেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। হঠাৎ এই ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভুটান জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভুটানের পুনাখা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভূগর্ভের গভীরে। ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, রোববার রাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভূমিকম্পের তথ্য পাওয়া গেছে। মূলত রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোতে কম্পনের তীব্রতা বেশি ছিল। তবে রাজধানী ঢাকা এবং সিলেটসহ দেশের অন্য প্রান্ত থেকেও বাসিন্দারা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। ৫ দেশে কম্পন, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নেই ভুটানে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয়তার কারণে হিমালয় অঞ্চলের এই দেশগুলো সব সময়ই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে। উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় ভুটানের বিস্তীর্ণ অংশ এবং নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে তীব্র ঝাঁকুনি তৈরি হয়। সতর্কতা হিসেবে বাসিন্দারা দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় চলে আসেন। ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো (বিশেষ করে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ) এবং চীনের সীমান্তসংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। জিএফজেড জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ দেশের কোথাও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছে। কেন এই ঘন ঘন ভূমিকম্প? ভূবিজ্ঞানীদের মতে, ভুটান ও সমগ্র হিমালয় অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। ভারতীয় এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে এই অঞ্চলের অবস্থান। এই দুটি প্লেট প্রতিনিয়ত একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে বা একটি অপরটির ওপর ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে এই অঞ্চলে ছোট-বড় ভূমিকম্প একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববারের এই ভূমিকম্পে বাংলাদেশে কোথাও কোনো ফাটল বা ধসের খবর না পাওয়া গেলেও, মাঝরাতের এই আকস্মিক কম্পন দেশের বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে বড় ধরনের ভীতি তৈরি করে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ইউএসজিএস

০৮ জুন ২০২৬

মাত্র ৫ মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে দীর্ঘায়ু

মাত্র ৫ মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে দীর্ঘায়ু

দৃষ্টি ডেস্ক: ব্যস্ত সকাল, ডেস্কে কাজের পাহাড় কিংবা দিনশেষে ক্লান্ত শরীর- এই চক্করে পড়ে জিমের মেম্বারশিপ কার্ডটা হয়তো অনেকেরই ওয়ালেটেই বন্দি হয়ে আছে। প্রতিদিন এক বা দেড় ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর কথা ভাবলেই যেখানে অলসতা জেঁকে বসে, সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞান শোনাল এক দারুণ আশার বাণী। প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের ছোটখাটো শারীরিক পরিশ্রমই বদলে দিতে পারে আপনার জীবন। দীর্ঘায়ু বা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে পারেন। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে জিম বা দীর্ঘ সময়ের ভারী ওয়ার্কআউট করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘায়ু পেতে কিংবা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রমই যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ার প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক বৃহৎ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো মাঝারি ব্যায়াম সামগ্রিকভাবে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ১ জনের অকাল মৃত্যু রোধ করতে পারে। গবেষকদের মতে, যারা একেবারেই নিষ্ক্রিয় থাকেন, তাদের জন্য এই সামান্য পরিবর্তনও দারুণ উপকারী। পাশাপাশি দৈনিক বসে থাকার সময় থেকে মাত্র ৩০ মিনিট কমাতে পারলেই প্রায় ৭% শতাংশ অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘এক্সারসাইজ স্নাকিং’ বা ‘স্ন্যাকটিভিটি’ বলছেন। অর্থাৎ, সারাদিনে একবারে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম না করে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেওয়া। যেমন- রান্না করার সময় বা টিভি দেখার ফাঁকে কয়েকটি স্কোয়াট বা পুশ-আপ দেওয়া, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, গন্তব্যের কিছুটা দূরে গাড়ি পার্ক করে ৫ মিনিট হেঁটে যাওয়া কিংবা ঘরের মেঝে জোরে জোরে মোছা বা নাচ করা। গবেষকদের মতে, এই ছোট ছোট শারীরিক পরিশ্রমগুলো আমাদের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে বারবার উদ্দীপিত করে, যা শরীরচর্চা থামানোর পরও কিছুক্ষণ সচল থাকে। এ ছাড়া, ৬০ ও ৭০ এর কোঠায় থাকা মানুষদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যারোবিক ব্যায়ামের সঙ্গে পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম যুক্ত করলে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও কমে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের ব্যায়ামের পরামর্শ এখনো বহাল থাকলেও, গবেষকরা বলছেন- কিছু না করার চেয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট নড়াচড়া করাও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বড় অর্জন। তাই আজ থেকেই ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে জীবনে গতি আনুন, সুস্থ থাকুন দীর্ঘদিন। সূত্র: বিবিসি

২১ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস পালিত

টাঙ্গাইলে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস পালিত

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০তম দিবস পালন করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মিছিল মানববন্ধন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এদিন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচতে যোগ দেয়। মানববন্ধন চলাকালে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার নাজিম উদ্দিন, সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন মালা, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক মনির, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ সজল, কাগমারী এমএম আলী কলেজের সাবেক ভিপি নুরুল ইসলাম, শহর যুবদলের সভাপতি রাশেদ খান সোহাগ, জেলা ছাত্রদলের সদস্য আজাদ মিয়া এবং সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল আলীম প্রমুখ।

১৬ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত

টাঙ্গাইলে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত

দৃষ্টি নিউজ: টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) দুপুরে শহরের বটতলায় প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য ও ডেইলি অবজারভারের সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন লিংকন, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন নয়ন, রুহুল আমীন এবং আবু কাওছার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে সাংবাদিকদের আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। সভায় সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

০৩ মে ২০২৬

ইরানের ১৪ প্রস্তাব :: ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষের আহ্বান

ইরানের ১৪ প্রস্তাব :: ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষের আহ্বান

দৃষ্টি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাল্টা হিসেবে ১৪ দফা পরিকল্পনা দিয়েছে ইরান। প্রস্তাবে ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার কথা বলা হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফা পরিকল্পনার জবাবে এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র দুই মাসের যুদ্ধবিরতি চাইলেও তেহরান স্পষ্ট করেছে- তারা যুদ্ধ বন্ধের স্থায়ী সমাধান চায়। তাসনিম নিউজ আরও জানায়, প্রস্তাবনায় ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যুদ্ধক্ষতিপূরণ, লেবাননসহ সব ধরনের সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালির জন্য ‘নতুন একটি ব্যবস্থা’ তৈরির কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অ্যাক্সিওস সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ অবরোধ শেষ করা এবং ইরান ও লেবাননের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার জন্য এক মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা দুটি সূত্রের বরাতে বলেছে, একটি চুক্তি হলে এরপর আরও এক মাস আলোচনা চালানো হবে, যাতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যায়। সূত্র: আল–জাজিরা

০৩ মে ২০২৬

পুরোদমে চালু হচ্ছে ভারতের ভিসা

পুরোদমে চালু হচ্ছে ভারতের ভিসা

দৃষ্টি রিপোর্ট: ঢাকা-দিল্লি পুরোদমে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম ফের চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যা গত দেড় বছরের কূটনৈতিক উত্তেজনার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি বড় প্রচেষ্টা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ক্যাটাগরির ভিসা ইস্যু শুরু করেছে। অন্যদিকে ভারত আগামি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ভিসা কার্যক্রমে ফিরবে। ভারত ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিলে দিল্লি সফরের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দ্বিপক্ষীয় যেসব বিষয় তুলে ধরেছিলেন। ভিসা স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি সেই তালিকার ওপরের দিকে ছিল। নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা, চেন্নাইসহ বাংলাদেশের সব ভিসাকেন্দ্র বর্তমানে চালু রয়েছে। ফলে ভিসা কার্যক্রমে ফিরতে নয়াদিল্লির কাছ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দেখতে চাইছে ঢাকা। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে আমাদের কিছু কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছিল। পরে ফেব্রুয়ারিতে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।’ ভারতের ভিসা কার্যক্রমে ফেরার বিষয়ে কূটনীতিকরা বলেছেন, বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের পরেই ভিসা সেবা পুরোদমে চালু হতে পারে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। গেল বছরের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে এই দূরত্ব আরো বেড়ে যায়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস এবং ছায়ানট ভবনে হামলা হয়। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করার পাশাপাশি মিশনে ইটপাটকেলও ছোড়ে। এরপর চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) কার্যক্রম ২১ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। পরের দিন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ। এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল আসার আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তারেক রহমানকে এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার পর বিকালে তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। ওই ফোনালাপে তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এ সঙ্গে কাজ করার আশা ব্যক্তও করেন তিনি। অন্যদিকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানায় ঢাকা। তবে ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের’ কারণে তিনি শপথ অনুষ্ঠাতে আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে মোদির পরিবর্তে শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সেই ধারবাহিকতায় ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে ভিসা ও কনস্যুলার সেবায় ফিরেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ভিসা কার্যক্রমে ভারতও ফিরছে বলে খবর এসেছে।

০২ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত

টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত

দৃষ্টি নিউজ: টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য উৎসবের মধ্য দিয়ে মহান মে দিবস এবং জাতীয় স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার(১ মে) ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত- আসবে এবার নব প্রভাত’ প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক শরীফা হক। এদিন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দেশ-বিদেশের শ্রমিকদের কল্যাণে মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। আলোচনা সভায় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক আহমেদ বেলাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) মো. রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও সেইফটি ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্কই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। টাঙ্গাইলের পরিবহন খাত, তাঁত শিল্প, বিড়ি শিল্প এবং কৃষি খাতের শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও সভায় উল্লেখ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নির্মাণ শ্রমিক সংগঠনগুলো পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। অনেক সংগঠনের পক্ষ থেকে দুপুরে দুস্থ শ্রমিকদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়গুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমের উপযুক্ত মূল্য এবং আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে জীবন উৎসর্গকারী শ্রমিকদের স্মরণে প্রতিবছর ১ মে বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

০১ মে ২০২৬

মে দিবস এখনও চেনেনা উপকূলের জেলেরা

মে দিবস এখনও চেনেনা উপকূলের জেলেরা

দৃষ্টি রিপোর্ট: বরগুনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক জেলের কাছে মে দিবস এখনও তেমন পরিচিত নয়। তারা এ বিষয়ে আগ্রহীও নন। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন সমুদ্রে ছুটে চলা এসব শ্রমজীবী মানুষ অধিকাংশ সময়ই ব্যস্ত থাকেন মাছ ধরার কাজে। ফলে দিবসটির ইতিহাস ও তাৎপর্য সম্পর্কে তাদের মধ্যে সচেতনতা খুবই কম। বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটার পশ্চিমে সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদী, পূর্বে বিষখালী নদী এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ মৎস্য পেশার ওপর নির্ভরশীল। যাদের বলা হয় জেলে শ্রমিক। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে প্রতিনিয়ত জীবিকা নির্বাহ করলেও তারা এখনও শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। জেলেদের ভাষায়, আমাদের কোনো দিবস নেই, আমরা শুধু কাজ করে খাই। জীবন বাজি রেখে যারা প্রতিনিয়ত সমুদ্রে মাছ শিকার করেন, এমন কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা আক্ষেপ করে বলেন, মোগো মে দিবস নাই, মোগো কোনো দিবস নাই, মে দিবস আবার কী? জেলে ফারুক হোসেন বলেন, সাগরে যাই দাদন নিয়ে মাছ ধরতে। মাছ পেলে ১৬ ভাগের ৮ ভাগ মালিকের, আর বাকি ৮ ভাগ ৮ থেকে ১৮ জন জেলের মধ্যে ভাগ হয়। বাজার-সদাইয়ের খরচ শেষে লাভ থাকলে টাকা পাই, না থাকলে কিছুই পাই না। এত কষ্ট করে মাছ ধরি, তবু আজ পর্যন্ত শ্রমিক হিসেবে আমাদের কেউ দেখে না। অপর জেলে আবদুর জব্বার (৬৩) বলেন, ৪২ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরি। জীবন বাজি রেখে পরিবারের মায়া ছেড়ে সাগরে যাই। কতবার যে ঝড়ে-জলোচ্ছ্বাসে পড়েছি, তার হিসাব নেই। এখন বয়স হয়েছে, তবুও জীবিকার জন্য সমুদ্রে যেতে হয়। তিনি মাছ ধরার পাশাপাশি জাল বুনার কাজও করেন। জেলে ইসমাইল হোসেন বলেন, দিবস দিয়ে কী হবে? কাজই বড়। কাজ না করলে খাব কী? সাগরে ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরি, আবার কূলে এসে জাল বুনি। সারাদিন জাল বুনে ৪০০ থেকে ৪৩০ টাকা পাই, তাও নিয়মিত না। পাথরঘাটার ছগির হোসেন, আলতাফ মিয়া, হায়দার আলী, এমাদুলসহ অধিকাংশ মানুষই মৎস্য পেশার ওপর নির্ভরশীল। পরিবার-পরিজন ছেড়ে অনিশ্চিত সাগরে জীবন বাজি রেখে তারা মাছ শিকার করেন। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি)মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ৩.৫০ শতাংশ। এত অবদান থাকা সত্ত্বেও মৎস্য শ্রমিকরা এখনও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। এমনকি মে দিবসেও তাদের কোনো গুরুত্ব নেই। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) গবেষক এস. এম. জাকির হোসেন বলেন, উপকূলের জেলেরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। কখনো জলদস্যুদের কবলে পড়ে প্রাণ হারান, কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে। কিন্তু এখনও তাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, জেলেদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই, সাগরে থাকাকালীন তারা ২৪ ঘণ্টাই কাজ করেন, তবুও তারা শ্রমিক হিসেবে গণ্য হন না। উপকূলের জেলেদের অধিকার নিয়ে কাজ করা অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, মৎস্য খাতে শুধু মাছ ধরাই নয়, জাল বোনা, ট্রলার মেরামত, বরফ উৎপাদনসহ নানা কাজে হাজারো শ্রমিক জড়িত। জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা সত্ত্বেও এই শ্রমিকদের বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা বা নীতিগত উদ্যোগ নেই। অনেক সময় ট্রলার ডুবে বা জলদস্যুদের হামলায় জেলেদের প্রাণহানি ঘটে। তিনি আরও বলেন, শহরের গার্মেন্টস বা শিল্পখাতের শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, উপকূলের জেলেদের ক্ষেত্রে তা হয় না। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জেলেদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত ৭ বছরে বৈরি আবহাওয়ায় বরিশাল বিভাগে সমুদ্রগামী ২৫৯ জন জেলের মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা আরও বেশি। এছাড়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৮৮ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

০১ মে ২০২৬

মহান মে দিবস আজ

মহান মে দিবস আজ

দৃষ্টি রিপোর্ট: আজ শুক্রবার ১ মে, মহান মে দিবস। এই দিনটিকে বলা হয় মেহনতি মানুষের বিজয়ের দিন, আনন্দ ও সংহতি প্রকাশের দিন এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অনুপ্রেরণার দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে শিকাগোর হে মার্কেট দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মসময় ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত শ্রমিকদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রতিবছর দিবসটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে সারা দুনিয়ার মেহনতি মানুষ বিশেষ মর্যাদায় দিবসটি পালন করে আসছে। বাংলাদেশেও শ্রমিক সংগঠনগুলো যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালন করে থাকে। এ বছরও একইভাবে দিবসটি পালন করা হবে। মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাঁদের কল্যাণে যুগান্তকারী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেই শহীদ জিয়া নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরো বলেন, ‘মে দিবস বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৮৮৬ সালের এ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন, তাঁদের সেই আত্মত্যাগ শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজও আমাদের প্রেরণা ও শক্তি জোগায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাঁদের কল্যাণে যুগান্তকারী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার শ্রম আইন সংস্কার, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের যৌক্তিক মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে পেনশন ব্যবস্থা চালু, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, বন্ধ শিল্প চালু, ন্যায্যমূল্যে খাবার সরবরাহ, স্থায়ী শ্রমিক ও কর্মচারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতসহ শ্রমিকসমাজের ভাগ্যোন্নয়নে নানা কর্মসূচি ও নীতি গ্রহণ করেছে। আমি আশা করি, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই দিনে আমি দেশে-বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশের সকল শ্রমজীবী-কর্মজীবী ভাই-বোন, যাঁরা জীবন-জীবিকার জন্য, সর্বোপরি দেশের উন্নয়নের জন্য কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। সুতরাং তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানতম অঙ্গীকার। আমি মনে করি, শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব।’

০১ মে ২০২৬

হুরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান

হুরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান

দৃষ্টি ডেস্ক: একদিনের বিরতি শেষে আবারও হুরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। শনিবার(১৮ এপ্রিল) দুপুরে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিশেষ বিবৃতিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে শুক্রবার(১৭ এপ্রিল) মাত্র একদিনের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই ফের সামরিক নির্দেশে জলপথটি বন্ধ করে দেওয়া হলো। জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় ইরান সরকার এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হুরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক অতি সংবেদনশীল এলাকা। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই পথে যাতায়াত করে। তাই যেকোনো ধরণের নিয়ন্ত্রণ বা অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত হানে। ইরানি সামরিক কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। আগের মতোই প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর তদারকিতে থাকবে। তারা আরও জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। কোনো ধরণের বহিরাগত হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না।

১৮ এপ্রিল ২০২৬

সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

দৃষ্টি ডেস্ক: পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরই মধ্যে ‘ব্যর্থ সংলাপ’ শেষে ইরানের সঙ্গে ‘শান্তি চুক্তি’ ছাড়াই পাকিস্তান ছেড়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শান্তির জন্য ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সংলাপ’ শেষে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারার জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ত্রিপক্ষীয় ম্যারাথন বৈঠকের পর পাকিস্তান ছাড়ার আগে ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নমনীয়তা ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ভ্যান্স বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে- এটাই ভালো খবর। কিন্তু খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেছেন, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করছে বিপরীত পক্ষের আন্তরিকতা, সদিচ্ছার ও সৎ অবস্থানের ওপর। তিনি ওয়াশিংটনকে ‘অতিরিক্ত ও অবৈধ দাবি’ পরিহার করে ইরানের ‘বৈধ অধিকার ও স্বার্থ’ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এমন কিছু বিষয় দাবি করেছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি। হরমুজ প্রণালি, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি ও আরও বেশ কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্তগুলো তেহরান মেনে নেয়নি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রথমবারের মতো শনিবার সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে এই সরাসরি আলোচনা রোববার পর্যন্ত গড়ায়। ঐতিহাসিক এ শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। ইরান প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আয়োজক হিসেবে দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। শান্তি আলোচনা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আরও বলেন, আমরা এখানে একটি খুবই সহজ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি- এটাই আমাদের চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন দেখা যাক ইরান তা গ্রহণ করে কি না। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে জানিয়েছি আমাদের ‘রেড লাইন’ কী, কোন বিষয়ে আমরা ছাড় দিতে পারি এবং কোন বিষয়ে পারি না। কিন্তু ইরানি প্রতিনিধিদল আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ করেনি। ইরান কী প্রত্যাখ্যান করেছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যান্স বলেন, সব বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাই না, কারণ ২১ ঘণ্টা গোপনে আলোচনার পর প্রকাশ্যে আলোচনা করতে চাই না। তবে মূল বিষয় হলো- আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন সক্ষমতাও অর্জনের চেষ্টা করবে না, যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ‘মূল লক্ষ্য’ এবং আলোচনার মাধ্যমে সেটিই অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে। ভ্যান্স বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ‘ধ্বংস করা হয়েছে’, তবে মূল প্রশ্ন হলো- ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে মৌলিক প্রতিশ্রুতি দেবে কি না। আমরা এখনো সেই প্রতিশ্রুতি দেখিনি, তবে আশা করি দেখব। আলোচনায় ইরানের জব্দকৃত সম্পদের বিষয়টি উঠেছিল কি না—এ প্রশ্নে ভ্যান্স বলেন, এসব বিষয়সহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি, যেখানে ইরান আমাদের শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ‘যথেষ্ট নমনীয়’ ও ‘সহনশীল’ ছিল বলে দাবি করেন তিনি। ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিনিধি দলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘সৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করতে। আমরা সেটাই করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো অগ্রগতি করতে পারিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসমাইল বাগাই বলেন, পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতায় শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া নিবিড় আলোচনা এখন পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে অসংখ্য বার্তা ও খসড়া বিনিময় হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও লিখেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আলোচনার মূল বিষয়গুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে ও এই অঞ্চলে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান। এদিকে একটি দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ ইরানের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়েছে, ইরান বলছে ‘বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে’ এবং আলোচনায় যাওয়ার ক্ষেত্রে ‘ইরানের কোনো তাড়াহুড়ো নেই’। ইরানের ওই সূত্র বলেছে, ইরান আলোচনায় যুক্তিসঙ্গত উদ্যোগ ও প্রস্তাব দিয়েছে। এখন বিষয়গুলো বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনা করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব। যুদ্ধের মতোই আলোচনাতেও যুক্তরাষ্ট্র ভুল হিসাব করেছে। সতর্ক করে ওই সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি যুক্তিসঙ্গত চুক্তিতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অনেক শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ব্যাপক সামরিক হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলে এবং দখলকৃত ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে যায় দুই দেশ। তারই ধারাবাহিকতায় গত দুই দিন ইসলামাবাদের এ শান্তি আলোচনা হয়। সূত্র: ডন, বিবিসি ও আল-জাজিরা

১২ এপ্রিল ২০২৬

নেতানিয়াহুর ‘কৌশলগত পরাজয়’ ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ইসরাইল

নেতানিয়াহুর ‘কৌশলগত পরাজয়’ ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ইসরাইল

দৃষ্টি ডেস্ক: যে যুদ্ধে কোনো পক্ষই জয়ী হতে পারেনি, সেখানে সবচেয়ে বড় ‘পরাজিত পক্ষ’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে হুমকি-ধমকি, জাতিসংঘে নানামুখী নাটকীয়তা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টদের যুদ্ধের জন্য প্ররোচিত করার পর শেষ পর্যন্ত এক অস্পষ্ট ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো শুরু থেকেই ইসরাইলের ‘ইরানে শাসন পরিবর্তন বা বিপ্লব’ ঘটার ভবিষ্যৎবাণীকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। ইসরাইলের ধারণা ছিল এই যুদ্ধ বড়জোর কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে, কিন্তু সেই হিসাবও পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হলো। এমনকি যুদ্ধবিরতির দুই দিন আগেও নেতানিয়াহু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এটি স্বাক্ষর না করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে তার অবস্থান পরিবর্তন করে ইসরাইলকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে কার্যত সরিয়ে রেখে সমঝোতায় পৌঁছান। ইসরাইলের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে এই ঘটনাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, ইসরাইল তখন আলোচনার টেবিলে পর্যন্ত ছিল না। সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, জনগণ ধৈর্য ধরেছে, কিন্তু নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তার অহংকার ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের বছরের পর বছর সময় লাগবে।’ একইভাবে বামপন্থি ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা ইয়ার গোলান এই যুদ্ধবিরতিকে ‘চরম কৌশলগত ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ঐতিহাসিক বিজয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে ইসরাইলের নিরাপত্তাকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। নেতানিয়াহুর যুদ্ধের যেসব মূল লক্ষ্য ছিল- যেমন থিওক্র্যাটিক শাসনের পতন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দখল বা ইরানের রাষ্ট্রের কাঠামোগত ধ্বংস সাধন- এর কোনটিই অর্জিত হয়নি। বরং এক মাসব্যাপী বিশ্বের দুটি বড় সামরিক শক্তির (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) হামলা থেকে টিকে গিয়ে ইরানের ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর’ (আইআরজিসি) রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ হয়ে নেতানিয়াহু এখন দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখে তার কৃতিত্ব জাহির করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু হিজবুল্লাহর মতো দক্ষ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনী আরও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এছাড়া গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির ভাবমূর্তি আগেই চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনের বছরে এই ব্যর্থতা নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধাক্কা। তিনি যে ইরানকে ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে বছরের পর বছর প্রচার করেছেন, সেই পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তার কট্টরপন্থি ছেলে। ট্রাম্পের ১০ দফা পরিকল্পনায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারও পরোক্ষভাবে স্বীকৃত হতে পারে বলে জল্পনা চলছে- যা ওবামা আমলের পরমাণু চুক্তির কাছাকাছি একটি অবস্থান, অথচ নেতানিয়াহু এই চুক্তিটি ধ্বংস করতেই এতদিন ধরে চেষ্টা করছিলেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর সামরিক বিশ্লেষক আমোস হারেলের মতে, নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা ছিল অবাস্তব কল্পনাপ্রসূত এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের তোয়াক্কা না করে নেওয়া এক হঠকারী সিদ্ধান্ত। ফলে গাজা এবং লেবাননের পর এখন ইরানের ক্ষেত্রেও তার ‘চূড়ান্ত বিজয়’-এর বুলি কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি হিসেবেই প্রমাণিত হলো। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধের কথা বলে নেতানিয়াহু টিকে ছিলেন, সেই যুদ্ধে মার্কিন সমর্থন নিয়ে এক মাস লড়াই করেও ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরাইলি জনগণের কাছে এখন বড় প্রশ্ন- নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উপযোগিতা আর কতটুকু?

০৯ এপ্রিল ২০২৬

ইউরোপগামী নৌযান বাংলাদেশিসহ ১০৫ যাত্রী নিয়ে সাগরে ডুবে গেল

ইউরোপগামী নৌযান বাংলাদেশিসহ ১০৫ যাত্রী নিয়ে সাগরে ডুবে গেল

দৃষ্টি ডেস্ক: ইউরোপ যাওয়ার পথে আবারও নৌকাডুবির শিকার হয়েছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ডুবে যাওয়া সেই নৌকাটি থেকে ৩২ জনকে জীবিত এবং ২ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ইতালির কোস্টগার্ড বাহিনী। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। জীবিত উদ্ধার ব্যক্তিরা সবাই পুরুষ। বাংলাদেশি ছাড়াও পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন তাদের মধ্যে। ইতালির কোস্টগার্ড এবং ইতালীয় এনজিও সংস্থা মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান (এমএসএইচ)- এর বরাত দিয়ে রোববার (৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। জীবিত উদ্ধার অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইতালির কোস্টগার্ডকে বলেছেন, খুবই কঠিন আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সাগরের বড় বড় ঢেউয়ের মুখে টিকতে না পেরে ডুবে গেছে তাদের নৌযানটি। সি-ওয়াচ নামের একটি জার্মান সংস্থা ভূমধ্যসাগরে পর্যবেক্ষন কার্যক্রম ও উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করে। নৌযানটি ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য বিমান পাঠিয়েছিল সি-ওয়াচ। সেই বিমান থেকে তোলা ছবি ও ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, সাগরে উল্টে যাওয়া একটি কাঠের নৌকার তলদেশের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। রোববার(৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শনিবার(৪ এপ্রিল) বিকালে একটি কাঠের তৈরি একটি নৌযান ভূমধ্যসাগরের এসএআর (সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ) জোন-এলাকায় ডুবে গেছে। এই এলাকাটি লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন। নৌযানটি লিবিয়ার তাজাউর (উপকূলীয় শহর) থেকে রওনা হয়েছিল এবং মোট ১০৫ জন যাত্রী ছিলেন সেটিতে। এই যাত্রীদের মধ্যে শিশু, নারী, পুরুষ- সবাই ছিলেন। নৌযানটি লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় তেলের খনি বৌরি অয়েল ফিল্ড থেকে ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তরপূর্বে ডুবেছে। ভূমধ্যসাগরের লিবীয় উপকূল থেকে বৌরি অয়েলফিল্ডের দূরত্ব ১২২ কিলোমিটার। ডুবে যাওয়া নৌযানটি থেকে ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় এবং ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই মরদেহ এবং জীবিত যাত্রীদের ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান। এক্সবার্তায় নিখোঁজ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে শোক জানানোর পাশাপশি ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিরাপদ অভিবাসননীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এসএসএইচ।

০৬ এপ্রিল ২০২৬

সীমান্তে বিষাক্ত সাপ ও কুমির ছাড়বে ভারত!

সীমান্তে বিষাক্ত সাপ ও কুমির ছাড়বে ভারত!

দৃষ্টি রিপোর্ট: ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমি পাহারায় বিষাক্ত সাপ ও কুমিরের মতো প্রাণি ব্যবহার করার সম্ভাবনা যাচাই করছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ’দ্য ফেডারেল’ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। বৃহৎ সীমান্ত নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএসএফ ইতিমধ্যেই প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে নজরদারি বাড়িয়েছে। সীমান্তের কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া, নজরদারি ড্রোন, জিপিএস-সমর্থিত ট্র্যাকিং ও লোকেটিং গ্যাজেট, থার্মাল ইমেজার এবং বিদ্যুতায়িত ফেনসিং ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথ ও জলাভূমিতে এসব পদ্ধতি কার্যকর নয়। এই কারণে সাপ ও কুমিরের ব্যবহার বিবেচনা করা হচ্ছে। বিএসএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ২০ মার্চ নয়াদিল্লি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাবের পাশাপাশি পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্তে মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগহীন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের আউটপোস্ট চিহ্নিত করে ম্যাপ তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদক্ষেপের অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তথ্যও সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। ’দ্য ফেডারেল’-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, বিএসএফের পূর্ব অঞ্চলের সমস্ত সেক্টর হেডকোয়ার্টারকে নদীপথের ফাঁকা জায়গাগুলোতে সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে সাপ ও কুমির ধরার কাজ কারা করবে, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কত পরিমাণ সরীসৃপ প্রয়োজন, বা কোন নদীপথে সাপ ও কুমির ছাড়ার হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় বিএসএফ বহু বছর ধরে গুলি চালানোর জন্য সমালোচিত। এবার অনুপ্রবেশ ও বেআইনি কার্যকলাপ রোধে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয় এমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিষাক্ত সরীসৃপ ব্যবহারের চিন্তা করছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের সীমান্তের কিছু অংশ ইতিমধ্যেই বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে, যাতে সীমান্তে মানুষের অবৈধ চলাচল রোধ করা যায়।

০৫ এপ্রিল ২০২৬