ধর্ম
টাঙ্গাইলে দুর্গোৎসবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মতবিনিময় সভা
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে পুলিশ লাইনস মাল্টিপারপাস শেডে জেলা পুলিশ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার। এ সময় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজুয়ান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিব সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় জেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং পূজা চলাকালীন সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সমস্যা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে জেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।প্রকাশ, জেলায় এবার ১৩৫৭টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
০৭ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপূজায় ছুটি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নির্দেশনা
দৃষ্টি নিউজ:দুর্গাপূজার ছুটি টানা পাঁচ দিন করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। আগামি ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মদিবস হিসেবে অফিস করতে হবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন।সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে সরকারি ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হয়েছে। এরপর ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) ও ২৪ অক্টোবর(শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি।২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ভোগ করবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে এই টানা ছুটি নিশ্চিত করতে ১৭ অক্টোবরকে (শনিবার) কর্মদিবস হিসেবে রাখা হয়েছে। ওই দিন সরকারি অফিস-আদালতের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে।চলতি বছর ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।অতিরিক্ত এক দিনের সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবার দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
০৬ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গোৎসবে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে মতবিনিময় সভা
বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী:টাঙ্গাইল শহরের শ্রী শ্রী কালিবাড়ীস্থ নাট মন্দির প্রাঙ্গণে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(৫ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল সদর থানার উদ্যোগে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর প্রধান উপদেষ্টা ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি শ্যামল হোড়ের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইলের জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জি, টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, অফিসার ইনচার্জ(ওসি-তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জি, জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক পিনাকী দে, সদস্য সচিব শংকর সরকার, শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর উপদেষ্টা মনিন্দ্র মোহন ঘোষ, সহ-সভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন কৃষ্ণ চৌধুরী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টির সহকারী পরিচালক রমেশ চন্দ্র সরকার, শ্রী শ্রী ছোট কালিবাড়ীর সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সরকার।প্রকাশ, টাঙ্গাইল জেলায় এবার ১৩৫৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এরমধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ২৩৩টি মণ্ডপ রয়েছে।
০৫ অক্টোবর ২০২৬
‘সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মের ভূমিকা অপরিহার্য’
দৃষ্টি রিপোর্ট:‘শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সুসংহত করতে ধর্মের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সুসংহত করতে ধর্মের ভূমিকা অপরিহার্য। কোন সমাজ থেকে যখন ধর্মের সঠিক শিক্ষা হারিয়ে যায়, তখন সেই সমাজ অন্যায় অবিচারে পূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমানেও তাই হয়েছে- মানুষের নৈতিক ও চারিত্রিক অধঃপতন চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে কঠোর থেকে কঠোরতর আইন করেও অপরাধ দমন করা যাচ্ছে না। শনিবার (৩ অক্টোবর) টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে হেযবুত তওহীদ ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, হেযবুত তওহীদের শীর্ষনেতা এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।টাঙ্গাইল জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি ডা. নাজম আল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান টিটুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা খাদিজা খাতুন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও নারী বিভাগের প্রধান রুফায়দাহ পন্নী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক বাপ্পা প্রমুখ।বক্তারা বলেন, ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত আমলের ধর্ম নয়, এটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। মানুষের ইহকাল ও পরকাল, উভয় জগতের সমাধান রয়েছে এখানে। রাসুলুল্লাহ (স:) ও তার সাহাবীরা ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সমাজ থেকে অন্যায় অশান্তি দূর করেছিলেন।প্রধান অতিথি হেযবুত তওহীদের শীর্ষনেতা এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম এ সময় সবাইকে ধর্মের সঠিক শিক্ষার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
০৩ অক্টোবর ২০২৬
মির্জাপুরে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের অভিযোগ
মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নে রাতের আঁধারে একটি দুর্গামন্দিরের চারটি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে জামুর্কী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় রাধা-গোবিন্দ মন্দিরসংলগ্ন আর্য্য সমিতির দুর্গামন্দিরে ওই ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রতিমাগুলোতে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ শেষ করে মণ্ডপটি ঢেকে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) সকালে মণ্ডপ পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখা যায়- দুর্গা প্রতিমার মাথা, গণেশ ও অসুরসহ মোট চারটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি-তদন্ত) মো. লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুজা কমিটির লোকজন রাত ১০ টার দিকে প্রতিমাগুলো অক্ষত অবস্থায় রেখে রাতে ঘুমাতে যায়। সকালে মন্দিরের পাশে ফুল তুলতে এসে স্থানীয় এক নারী প্রতিমাগুলোর মাথা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
০১ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত
আরিফুর রহমান টগর:টাঙ্গাইলে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত, আলোচনা, বিশেষ মোনাজাত ও বর্ণাঢ্য জশনে জুলুছ আয়োজনে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হয়েছে। দিনব্যাপি আয়োজিত নানা কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য আলোচনায় বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবন, মানবিক আদর্শ, নৈতিক শিক্ষা ও সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরা সহ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও কল্যাণের জন্য মহানবীর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান। বুধবার (২৬ আগস্ট) জেলা ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য নানা কর্মসূচিতে দিবসটি পালন হয়।অনুষ্ঠানের মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। প্রধান আলোচক ছিলেন সরকারি এমএম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির আল কাদেরী।দিঘুলিয়া পীর (হাজীবাগ দরবার শরীফ) আলহাজ্ব প্রফেসর মো. আব্দুর কুদ্দুস খসরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, অধ্যাপক আলী আশরাফ খান ও ডা. মোহাম্মদ মোরশেদ আলম মাসুদ।অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, করটিয়া আহমেদাবাদ শরীফের পীর আলহাজ্ব শাহ সুফি মোহাম্মদ সাইফুল্লাহিল কাতেয়ী, আহমেদাবাদ দরবার শরীফ গোমযানি-দেলদুয়ারের পীর আলহাজ্ব শাহ সুফি হাফেজ ক্বারী মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ আল আহমদী, টাঙ্গাইল জেলা গাউছিয়া কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাই, সরকারি এমএম আলী কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর খন্দকার আরিফ মাহমুদ, মাহবুবীয়া দায়রা শরীফের পীর আলহাজ্ব ডাক্তার এসএস কাদরী।অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক ছিলেন, আলালপুর মাদ্রাসার সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব মাওলানা মো. আব্দুল ওহাব সিরাজী, মাওলানা নজরুল ইসলাম, কাদেরিয়াতে বইয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জালালী, খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি হাসরত খান ভাসানী, অধ্যাপক মাসুদ আলম খান, অধ্যাপক মো. আব্দুর রহমান, পীরজাদা মো. মনিরুজ্জামান, হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা মুফতি সাইদুল ইসলাম সাঈদ, হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ হেদায়েতুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. শফিউল্লাহ, মাওলানা মো. আল আমিন আহমাদি, মাওলানা মোহাম্মদ ফজর উদ্দিন, পীরজাদা মীর বুলবুল, হাফেজ মাওলানা মো. মিনহাজ উদ্দিন, মাওলানা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মনজুর আল আহমাদি, মৌলভী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ সোহেল, হাফেজ মোহাম্মদ ফয়সাল প্রমুখ।বিভিন্ন বয়সী মুসল্লির অংশগ্রহণের জশনে জুলুছ শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে শুরু হয়ে নিরালার মোড়, ভিক্টোরিয়া রোড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, হবিবুর রহমান প্লাজা, রেজিস্ট্রি পাড়া রোড, ঢাকা ক্লিনিক ও প্রেসক্লাব সম্মুখ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।জশনে জুলুছে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন আর নবীপ্রেমী মুসল্লিদের উচ্চারিত স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। এতে বিভিন্ন দরবার শরীফের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বসহ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
দৃষ্টি নিউজ:সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বড় কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্যামল হোড়।শহরের বড় কালীবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। টাঙ্গাইল বড় কালীবাড়ির আয়োজনে ৩দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শোভাযাত্রা, লীলা কীর্তন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জি, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লব, বড় কালীবাড়ির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন কৃষ্ণ চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎত সাহা লিটন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রিপন কুমার সরকার সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজ পবিত্র আশুরা
দৃষ্টি নিউজ: মুসলিম উম্মাহর জন্য ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি গভীর শোকের দিন পবিত্র আশুরা আজ শুক্রবার(২৬ জুন)। বাংলাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করা হচ্ছে। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শহীদ হন। অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে মুসলমানদের কাছে এ ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণকারী সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা পালন, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করবেন। অনেক মসজিদ ও ইসলামি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে গতকাল দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে। আশুরা উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আজ তাজিয়া মিছিল ও অন্যান্য ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হবে। তাজিয়া মিছিলে ধারালো অস্ত্র বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
২৬ জুন ২০২৬
মাংস কাটার খাইট্টার কদর বেড়েছে
দৃষ্টি রিপোর্ট: কোরবানির ঈদে টাঙ্গাইল জেলা শহর ও ১২টি উপজেলায় মাংস কাটার কাঠের খাইট্টার ব্যবসা জমে উঠেছে। কোরবানির পশু জবাইয়ের পর মাংস প্রক্রিয়াকরণের কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় উপকরণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাংস কেটে টুকরো করার কাজে ব্যবহৃত কাঠের পাটাতন খাইট্টা। কসাইরা পশুর মাংস কাটার কাজে এই কাঠের খাইট্টা ব্যবহার করে থাকেন। তবে অনেকেই পশু জবাইয়ে মাংস প্রক্রিয়াকরণের এই কাঠের খাইট্টা নিজেরা কিনে থাকেন। সারা বছর কসাইখানায় খাইট্টার ব্যবহার হলেও, ঈদুল আজহার সময় এর চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় সারাদেশের আনাচে-কানাচে এই খাইট্টার কদর লক্ষ্য করার মতো বেড়ে যায়। কোরবানির সময় গ্রাম থেকে শহরের বাড়ি পর্যন্ত এর বিস্তৃতি ঘটে। ঈদের দিন জবাই করা বিপুল পশু প্রক্রিয়া করতে প্রচুর পরিমাণ কাঠের গুড়ি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। একটি গরু প্রক্রিয়া করতে প্রায় দুই থেকে তিনটি গুঁড়ির প্রয়োজন হয়ে থাকে। একটি ছাগলের জন্য একটি খাইট্টা যথেষ্ট। সাধারণত এলাকার তেতুল গাছের গুঁড়ি করাতে ফেলে ছোট ছোট গোলাকৃতির টুকরো তৈরি করে খাইট্টা বানানো হয়। এলাকাভেদে এর বিভিন্ন নাম আছে। কোথাও এটাকে বলে খাইট্টা, কোথাও আবার বলে খটিয়া, কাইটে, গুঁড়ি, শপার ইত্যাদি। খাইট্টা সব কাঠ দিয়ে তৈরি করা যায় না। এটি তৈরি করতে হয় এমন কাঠ দিয়ে, যাতে চাপাতির কোপে কাঠের গুঁড়া না ওঠে। কোরবানির মাংস কাটার জন্য এসব খাইট্টার অধিকাংশই তেঁতুল গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি। গাছ ব্যবসায়ী লিটন মিয়া জানান, তেঁতুল গাছের কাঠ দিয়েই খাইট্টা বানাতে হয়। কারণ হিসেবে তিনি জানান, তেঁতুল কাঠে সহজে চাপাতির কোপ বসবে না। তাই, কাঠের গুঁড়াও উঠবে না। এতে মাংস নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। আর দুদিন পরই ঈদ। মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসব খাইট্টার পসরা নিয়ে বসেছেন। খাইট্টা ব্যবসায়ীরা জানায়, ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকার মধ্যে তেতুঁল কাঠের খাইট্টা মিলছে। এখনও খাইট্টা বিক্রি হচ্ছে, ঈদের এক দিন আগে প্রচুর পরিমানে খাইট্টা বিক্রি হবে। খাইট্টা কিনতে আসা ব্যক্তিরা জানায়, কোরবানির মাংস কাটতে খাইট্টা খুব জরুরি। আর তেঁতুল কাঠের খাইট্টায় মাংস প্রস্তুত করা ভালো হয়। কাঠের গুড়া খুব কম ওঠে। খাইট্টার চাহিদা বেশি থাকায় বিভিন্ন বাজার ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন আকারের খাইট্টা বিক্রি করছেন। পছন্দ অনুযায়ী ক্রেতারা দর দাম করে তাদের প্রয়োজনীয় খাইট্টা কিনছেন।
২৬ মে ২০২৬
অবৈধ উপায়ে আসা পশুর কোরবানি কতটা সমীচীন? :: প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৃষ্টি রিপোর্ট: অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন প্রশ্ন করে এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম) বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন, এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ বা চোরাই পথে পশু প্রবেশের ঘটনা ঘটে। তিনি দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে অবৈধভাবে আসা পশু বর্জনের আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে নয়, সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। যুবসমাজকে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিএনপির প্রচার সম্পাদক টুকু বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দেশীয় উৎপাদন, খামারি ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এবিএম খালেদুজ্জামান। কর্মশালায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২১ মে ২০২৬
টুং-টাং শব্দে চলছে কামারদের ব্যস্ততা
দৃষ্টি রিপোর্ট: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। লোহা গরম করে পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের নিরবচ্ছিন্ন কাজ। আগুনের তাপে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। বছরের এ সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি কাজ ও আয়ের সুযোগ পান তারা। রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কামারশালাগুলোতে চলছে দা, বটি ও চাপাতি তৈরির ব্যস্ততা। ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে কাজের চাপ। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের দা, বটি, কুড়াল ও চাপাতি তৈরি করছেন কামাররা। রূপগঞ্জের পূর্বগ্রাম এলাকার কামারশালার মালিক জাকিরুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এবার কাজের চাপ কিছুটা বেশি। তবে অধিকাংশ মানুষ নতুন সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরোনো যন্ত্রপাতিও মেরামত করাচ্ছেন। তিনি বলেন, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় এবার পণ্যের দামও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে একটি বড় দা বা বঁটি আকার ও ওজনভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চাপাতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ছুরি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কামাররা জানায়, সারা বছর কাজ তুলনামূলক কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে তাদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। তবে কয়লা, লোহা ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। একটি ছুরি শান দিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং নতুন দা বা চাপাতি তৈরি করতে আকারভেদে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ঈদ মৌসুমে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সারা বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন কামারশিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষরা।
২১ মে ২০২৬
ঈদযাত্রায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ মহাসড়কে জটের শঙ্কা
মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল: ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসতেই যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার মানুষের ঘরমুখী যাত্রা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেনের চওড়া রাস্তা দিয়ে যানবাহনগুলো দ্রুত চলে এলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এ মহসড়কে যানজটের আসল নেপথ্য কারণ- যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ওয়ানওয়ে (একমুখী) যাতায়াত ব্যবস্থা। ফোর লেনের বিপুল সংখ্যক গাড়ির চাপ যমুনা সেতুর সরু ওয়ানওয়ে সামলাতে পারেনা। ফলে প্রতি বছরই ঈদ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এবারও ঈদুল আযহায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে ভোগান্তি বাড়াবে। মহাসড়কে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যমুনাসেতু প্রশস্তকরণ বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি ক্রমশ: জোরদার হচ্ছে। জানাগেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মহাসড়কে জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে চলে আসে। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এই অংশের কাজের অগ্রগতি মাত্র ৮০ শতাংশ। ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস এবং সার্ভিস লেনের কাজ চলমান থাকায় রাস্তা এমনিতেই সংকুচিত। এর ওপর যমুনা সেতুতে দুই দিকে একই সাথে গাড়ি চলাচলের পর্যাপ্ত লেনের অভাব বা ওয়ানওয়ে যাতায়াতের কারণে ফোর লেনের গতিশীল গাড়িগুলো সেতুর প্রবেশমুখে এসে আটকে যাচ্ছে। এই অতিরিক্ত গাড়ির চাপ নেওয়ার ক্ষমতা সেতুর না থাকায় পেছনের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। কখনো কখনো তা ৪০ কিমি পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং তদারকির অভাবেই এই অংশের কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি। এদিকে, ঈদুল আযহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিরসনে রোববার(১৭ মে) বিকালে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান, যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানায়, যমুনা সেতুর ওয়ানওয়ে যাতায়াতের এই ‘বটলনেকে’র কারণে টাঙ্গাইল অংশে প্রতিবছরই যানজট হয়। বরাবরের মতো এবারও নানা কারণে মহাসড়কের ১৩টি নির্দিষ্ট স্পটে সবচেয়ে বেশি যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্পটগুলো হচ্ছে- যমুনা সেতু, যমুনা সেতু গোলচত্বর, জোকার চর, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, এলেঙ্গা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, ঘারিন্দা ওভার ব্রিজ, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস, করটিয়া বাইপাস, পাকুল্ল্যা, মির্জাপুর শহরের আঞ্চলিক সড়ক, মির্জাপুরের হাটুভাঙ্গা। জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসন বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা ও বিকল্প রুটের কথাও ভাবছে। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে যানজট এড়াতে কিছু গাড়িকে ভূঞাপুর হয়ে আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যমুনা সেতু গোল চত্বরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে হলে সেতু পারাপারে বিশেষ ট্রাফিক সমন্বয় এবং হাইওয়ে পুলিশের ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, সিদ্দিক হোসেন, তুলা মিয়া, আজমত আলী, রঘুনাথ শীল, পিযুস কান্তি সাহা, হাজী শরিফুল ইসলাম সহ অনেকেই জানায়, প্রতিবছর ঈদের আগে ও পরে বিভিন্ন স্পটে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, মহাসড়কে লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ি নামানো এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট হয়। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে সেতুর ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তাই যমুনাসেতু ওয়ানওয়ে হওয়ায় সেতুর প্রশস্ততা বাড়ানো বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তারা জানায়, মহাসড়কে যানজটের প্রধান কারণ হলো ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গাড়ি চলাচল করা। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তাছাড়া অতিরিক্ত গাড়ির চাপের মধ্যে ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর কোনো গাড়ি বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটালে তাৎক্ষণিক মহাসড়কে প্রায় ২০-৩০ বা ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। কারণ, মহাসড়ক থেকে ওই গাড়ি সরাতেই অন্তত আধা ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। ঈদের সময়ে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে যেন কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করতে না পারে- তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মহাসড়কের পাশে বসবাসে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা জানান, নির্দিষ্ট কিছু স্পট দিয়ে হঠাৎ বড় রাস্তায় ছোট ছোট যানবাহন উঠে পড়ে- যা যানজট সৃষ্টি করে। এদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এছাড়া কোরবানির ঈদের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে ট্রাকে গরু ওঠানামা করানো হয়। মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়ি চালক আব্দুল লতিফ, রাসেল আহাম্মেদ, হাসু মিয়া, রাকিব হোসেন সহ অনেকেই জানান, সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে ছুটি হলে সবাই একসঙ্গে ঢাকা ছাড়তে মরিয়া হয়ে ওঠে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ একবারে এই মহাসড়কে এসে পড়ে। ঈদের মাত্র দুই-একদিন আগে হঠাৎ সব ছুটি একসঙ্গে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সবার মাঝে আগে বাড়ি ফেরার প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ায় মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়ে। মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আউয়াল জানান, ঈদযাত্রা উপলক্ষে মহাসড়কের দুই পাশেই ফোর লেনের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ঈদযাত্রায় যানবাহন চলাচলের জন্য ফোরলেন সড়কটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এবার মহাসড়কে কোনো যানজট হবে না। তবে যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। বাসেক’র যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, কোরবানির ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু দিয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক টোল আদায় চালু রাখা হবে। সেতুর দুই প্রান্তেই ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হবে। এর মধ্যে মোটরবাইক চালকদের সুবিধার্থে দুই প্রান্তেই ২টি করে আলাদা বুথ থাকবে। তবে বর্ধিত জনসংখ্যা ও ফোরলেনের মহাসড়কের গাড়ির চাপ যমুনাসেতুর ওয়ানওয়ে নিতে পারছেনা। ফলে যানজট নিরসনের চেষ্টা করেও সফলতা পাওয়া যাচ্ছেনা। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, এবার মহাসড়কে যানজটের কোনো আশঙ্কা নেই। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক, পণ্যবাহী গাড়ি এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের পাশে বা আশেপাশে কোনো ধরনের অস্থায়ী গরুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শরীফও পুলিশ সুপারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বিএনপি সরকার দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করছে। উত্তরবঙ্গের এবারের ঈদ যাত্রা যেন স্বস্তিদায়ক ও আরামদায়ক হয় এবং দুর্ঘটনায় যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে- সেজন্য চালক, যাত্রী, পথচারী ও প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি জানান, যানজট নিরসনে সরকার সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে কাজ করবে বিশেষ ‘স্বেচ্ছাসেবী টিম’। মহাসড়ক ও পশুর হাট ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশাসনকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২০ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে যানজট নিরসনে করণীয় নির্ধারনে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার(১৭ মে) বিকালে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ’র উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, টাঙ্গাইল সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান, বাসেক’র যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক প্রমুখ। সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সভায় বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ মে ২০২৬
হাইওয়ে ও পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি
মু. আবিদ মল্লিক জয়: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে কোরবানির পশুর রেকর্ড জোগান তৈরি হয়েছে। চাহিদা মিটিয়েও এবার জেলায় প্রায় ৪০ হাজার গবাদি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে এই বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও ভারতীয় গরুর অবৈধ অনুপ্রবেশ, পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, জাল টাকার কারবারিদের দৌরাত্ম্য, হাইওয়ে ও হাটে চাঁদাবাজি এবং অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জেলার হাজার হাজার খামারি ও সাধারণ ক্রেতারা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় গড়ে ওঠা ২৬ হাজার ৭৫৯টি ছোট-বড় খামারে এবার কোরবানির জন্য মোট দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি পশু সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। জেলায় এবার কোরবানির পশুর সার্বিক চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ১৭৮টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও ৩৯ হাজার ৯৮৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। জানাগেছে, কোরবানির এই বিশাল পশুর সমাগমকে ঘিরে টাঙ্গাইলের পাঁচ শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলো এখন অনেকটা উৎসবমুখর। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে ভূঞাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দাসী গরুর হাট- যা দেশীয় পশুর এক বিশাল সরবরাহ কেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত বেবীস্ট্যান্ড পশুর হাট এবং শহরতলির করটিয়া ও রসুলপুর, তোরাপগঞ্জ হাটগুলোতেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী হাটের পাশাপাশি এবার টাঙ্গাইলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন পশুর হাট ও ডিজিটাল কেনাবেচা। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন খামারিদের নিজস্ব উদ্যোগে ফেসবুক পেজ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন ও দামসহ বিস্তারিত তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। এর ফলে ঘরে বসেই অনেক ক্রেতা পছন্দের পশু কিনতে পারছেন- যা হাটের বাড়তি চাপ ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। জেলার সামগ্রিক উদ্বৃত্ত পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার পশুর হাটসহ দেশের অন্যান্য জেলার ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে- যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে কোটি কোটি টাকার তারল্য প্রবাহ সৃষ্টি করবে। খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, জেলার প্রাণি সম্পদের এই বিপুল সম্ভাবনা এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে। খামারিদের প্রধান সমস্যা পশুখাদ্যের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি। চড়া দামে খড়, ভুষি ও খৈল কিনে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে পশু লালন-পালন করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় গরুর অবৈধ চোরাচালান। খামারিদের দাবি, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় পশুর বাজার ধসে পড়বে। এর ফলে জেলার ২৬ হাজারেরও বেশি খামারি তাদের আসল পুঁজি হারিয়ে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়বেন। পাশাপাশি হাটে অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়, পকেটমার ও মলম পার্টির উপদ্রব, ক্রেতা-বিক্রেতাদের হঠাৎ অসুস্থতা এবং জাল টাকার চক্রের সক্রিয়তা মাঠপর্যায়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি। গবাদি পশু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন- এই সংকট থেকে দেশীয় খামারিদের রক্ষা, ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাবনাময় এই খাতকে বাঁচাতে অবিলম্বে অন্তত ছয়টি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, চিকিৎসা ক্যাম্প ও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন, চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি, হাসিল বা টোল আদায়ে সতর্কতা, জাল টাকা রোধে ব্যাংকের বুথ স্থাপন এবং হাইওয়ে ও পশুরহাটে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের চৌ-বাড়িয়ায় রহমান এগ্রো ফার্মের মালিক দেওয়ান সুমন আহমেদ জানান, দিন দিন গো-খাদ্যোর বাড়তি দামে খামারিরা হতাশায় ভুগছেন। গত বছর ঈদে তিনি ৩৮টি ষাড় গরু বিক্রি করেছেন। এবছরও ৩৪টি ষাড় গরু বিক্রির ইচ্ছে রয়েছে। কালিহাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইম আল সালাউদ্দিন জানান, এ উপজেলায় এক হাজার ৭০৩টি গরু ও ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। ২০ হাজার ৫৬৯টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার ৯৭১টি। এর মধ্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে দুই হাজার ৫৯৮টি পশু। খামারিরা কুরবানির ঈদে তাদের পালিত পশু বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছে। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, সদরে প্রান্তিক খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া পশুর হাটে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল আলম জানান, ইতোমধ্যে জেলায় খামারিদের মানসম্পন্ন গরু-ছাগল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ প্রশিক্ষণে লব্ধ জ্ঞান খামারিরা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন খান জানান, জেলায় কুরবানির জন্য দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি পশুর মধ্যে রয়েছে ষাড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য পশু। এবার কুরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ১৭৮টি পশু। উদ্বৃত রয়েছে ৩৯ হাজার ৯৮৩টি। ইতোমধ্যে জেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী কুরবানির হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া খামারি, পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তায় যা যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থাই করা হচ্ছে।
১৭ মে ২০২৬