অর্থনীতি

ওয়ালটনের ক্রেতা সুরক্ষার অর্থ বিতরণ

ওয়ালটনের ক্রেতা সুরক্ষার অর্থ বিতরণ

দৃষ্টি রিপোর্ট: দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যের ব্র্যান্ড ওয়ালটন গ্রুপের কিস্তিতে পণ্য কেনা ক্রেতা সুরক্ষায় দেড় লাখ টাকা পেলেন মৃত শফিকুল ইসলামের দুই মেয়ে। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকালে টাঙ্গাইল শহরের পূর্ব আদালতপাড়াস্থ বড়কালিবাড়ী পুকুর পাড়ে ওয়ালটন প্লাজা-১ এর উদ্যোগে ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা’ নীতিতে মৃত্যু সহায়তার নগদ দেড় লাখ টাকা গ্রহণ করেন মরহুমের দুই মেয়ে নবনী ও লিভা। ওয়ালটন গ্রুপের ক্রেতা মৃত্যু সহায়তার টাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহ্ সালেহ্ মোহাম্মদ শাফী ইথেন, পৌরসভার ১৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. সুজাউল করিম মানিক, ওয়ালটন গ্রুপের চিফ ডিভিশনাল অফিসার(ডিভিশন-২) মো. শাহাদত হোসেন, ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার(ডিভিশন-২) মো. ওবায়দুর রহমান তালুকদার, প্রজেক্ট ইনচার্জ নাহিদ, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার(টাঙ্গাইল এরিয়া) এসএম হাসানুল আউয়াল, রিজিওনাল ক্রেডিট ম্যানেজার(টাঙ্গাইল এরিয়া) মো. রেজাউল করিম, ওয়ালটন প্লাজা আদালত রোড টাঙ্গাইলের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার অনুপ কুমার সাহা প্রমুখ। সহায়তা গ্রহণকালে মরহুম শফিকুল ইসলামের শ্বশুর ও ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মীর ওয়াজেদ হোসেন লিউ, মরহুমের বন্ধু ও বিশিষ্ট ফার্নিচার ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ ধর, মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সুমন ঘোষসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২৭ জুলাই ২০২৬

hhhs

hhhs

dfhgkd

২৩ জুলাই ২০২৬

দুই লাখ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন বছরের বাজেট পাস

দুই লাখ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন বছরের বাজেট পাস

দৃষ্টি নিউজ: জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। যা আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হবে। নতুন বাজেটে কর, ভ্যাট ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়। এর আগে গতকাল (সোমবার) কয়েকটি সংশোধনীসহ অর্থবিল পাস করে জাতীয় সংসদ। সংশোধিত অর্থবিলে করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়ে কর ও শুল্কসংক্রান্ত সব প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নির্দিষ্টকরণ আইন ২০২৬ পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অনুকূলে বরাদ্দ দিয়ে মঞ্জুরি দাবি পাস করা হয়। ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সদস্যরা ১৩৪৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব প্রদান করেন। তার মধ্যে কিছু সংখ্যক ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনা করে তা নামঞ্জুর করা হয়। পরে সময় বাঁচানোর জন্য বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো প্রত্যাহার করে নিলে মঞ্জুরিগুলো দ্রুত পাস করা হয়। নির্দিষ্টকরণ বিলের মাধ্যমে পাস হলো নতুন বছরের বাজেট নিদিষ্টকরণ বিলে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য ব্যয় নির্বাহে রাষ্ট্রপতিকে ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকার অনধিক পরিমাণ অর্থ সংযুক্ত তহবিল হতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার মধ্যে সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়, গৃহীত হয় ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ কোটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, বাকি ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় হিসেবে রাখা হয়েছে। নির্দিষ্টকরণ বিল উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অন্যান্য মঞ্জুরি দাবিগুলো উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। আর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন। এর আগে গত সোমবার বেশকিছু সংশোধনী এনে অর্থ বিল ২০২৬ পাস করা হয়। গত বছরের তুলনায় ১৮.৭৩ শতাংশ বেড়েছে বাজেট ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাবে এবার বাজেটে যোগ হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে চলতি বাজেটের তুলনায় যা ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি, ইতিহাসের রেকর্ড বৃদ্ধি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা, যা এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাজেটে রাজস্ব খাত থেকে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা, এনটিআর খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বাজেটে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো আগামীতেও বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে বিদেশি উৎস থেকে ৪৬ শতাংশ অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে; যা জিডিপির ১ দশমিক ৭ শতাংশ। বাজেট ঘাটতির ৫৪ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো যা বরাদ্দ পেল মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর জন্য বরাদ্দগুলো হলো- রাষ্ট্রপতির কার্যালয় : ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, জাতীয় সংসদ : ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় : ৩,৮৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ : ১০৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট : ২৯১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় : ৪,৪০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় : ৫,০৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন : ১৩৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, অর্থ বিভাগ : ৮,৩০,৫৫১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় : ৩৭৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ : ৪,৬৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ : ৩,৫৬৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ : ৬৯,২৪৮ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার টাকা, পরিকল্পনা বিভাগ : ৩৬,২৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ : ২৩১ কোটি টাকা, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ : ৬৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় : ৩২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : ১,৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় : ৪২,৪৯৭ কোটি ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ : ৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, আইন ও বিচার বিভাগ : ২,১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : ৩১,০৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ : ৪৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় : ৪৬,৭৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ : ৫৭,৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় : ১৮,১১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ : ৪৯,৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ : ২,০৪৯ কোটি ২ লাখ টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় : ৩০,৪৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫,১৯৬ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় : ৪৬৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় : ৫,০৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় : ১,১৮৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ৮২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ২,৯৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় : ২,৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগ : ৪০,২৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ : ১,১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয় : ১,৬৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় : ৮৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় : ৫১১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ : ২,৩৮৯ কোটি ২ লাখ টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয় : ২৮,৮৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় : ২,৭২৭ কোটি ৫১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় : ২,২৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয় : ২,৪৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় : ১০,৫৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয় : ৩২,৪১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় : ১০,৩৪৯ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার টাকা, পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ: ৩৬,৯১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় : ৯৯৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, নৌ পরিবহন ৯,০৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় : ১,৮৮৪ কোটি ১১ লাখ টাকা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ : ২,১৪১ কোটি ২২ লাখ টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ১,৪৫৭ কোটি ৮২ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ : ১৪,৯৯৬ কোটি ২ লাখ টাকা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ৭,৫১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, দুর্নীতি দমন কমিশন : ১৯৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, সেতু বিভাগ : ২,৯০৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ : ১৮,৪৫৭ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ : ১৩,৪৬৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

৩০ জুন ২০২৬

বাজেট দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে :: সিপিডির মিডিয়া ব্রিফিং

বাজেট দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে :: সিপিডির মিডিয়া ব্রিফিং

দৃষ্টি নিউজ: আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাজেটের সামষ্টিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হবে। বাস্তবসম্মত ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে প্রাক্কলনগুলো করা হলে বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও এর বাস্তবায়নযোগ্যতা অনেক বেশি সুদৃঢ় হতো। শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনসহ সিপিডির গবেষক ও কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য ও অঙ্গীকারের সঙ্গে একমত হলেও এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বড় ম্যান্ডেট ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে বাজেটে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি, উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বাজেটে আমদানি প্রতিস্থাপক ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। আমদানি প্রতিস্থাপক শিল্পকে সুরক্ষা দিতে শুল্ক, এইচডি ও এআইটির মতো কর বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে রপ্তানিমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন শুল্ক হার কমানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পদ ও আয়ের পুনর্বণ্টনের চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক যানবাহন, সোলার প্যানেলসহ পরিবেশবান্ধব খাতে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়েই মূল প্রশ্ন রয়েছে। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের প্রথম ঝুঁকি হচ্ছে সরকারের প্রাক্কলনের ভিত্তি। সম্পদ আহরণ, বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, রপ্তানি-আমদানি কিংবা জিডিপি প্রবৃদ্ধি- সব ক্ষেত্রেই যে ভিত্তির ওপর হিসাব দাঁড় করানো হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষায়, এখানেই বাজেটের একটি বড় দুর্বলতা রয়েছে। বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের শৃঙ্খলা প্রয়োজন, সেখানে ভিত্তিটাই দুর্বল। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রায় এক দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক অবস্থানে থাকলেও বাজেটে বছর শেষে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে। আবার মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি থাকলেও তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সম্পদ আহরণে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব সংগ্রহ এবং প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতায় এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটের প্রাক্কলন এমন ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে যে চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনীতিতে হঠাৎ বড় ধরনের গতি ফিরে আসবে। রপ্তানি, আমদানি, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ ও মূল্যস্ফীতিসহ প্রায় সব সূচকে আকস্মিক উন্নতি হবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাক্কলনগুলো আরও বাস্তবসম্মত হলে বাজেটের শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হতো। কারণ সেপ্টেম্বর নাগাদ যখন বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যাবে, তখন বর্তমান প্রাক্কলনের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার বড় পার্থক্য দেখা যেতে পারে। সিপিডির এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য বাস্তবসম্মত ভিত্তি নির্ধারণ করা আরও সহজ ছিল। কারণ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। সরকার আগের সময়ের নানান প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতার উত্তরাধিকার পেয়েছে। তাই সেসব বাস্তবতা স্বীকার করে আরও বাস্তবসম্মত ভিত্তির ওপর বাজেট প্রণয়ন করলে তা অধিক গ্রহণযোগ্য হতো। তিনি বলেন, সরকারের জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ও উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে দ্বিমত নেই। তবে লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বণ্টন, সম্পদের বরাদ্দ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজেটের অনেক পদক্ষেপের সঙ্গে দ্বিমতের সুযোগ নেই। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে না পারলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ চাঙ্গা করার জন্য বাজেটে বিভিন্ন প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতার ওপর।

১২ জুন ২০২৬

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ

দৃষ্টি নিউজ: জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ করা হয়েছে। এরমধ্যে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামি অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। এ সময় বাজেট ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন করা হবে। অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। উল্লেখ্য যে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে আগামী অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে বর্তমানে ঋণ পরিশোধ ও সুদ পরিশোধ বাবদ সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব বাজেট ঘাটতির ওপরও পড়েছে। তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৯ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপির ৪ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়। এবার বাজেট ঘাটতি দেশের জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্নসমৃদ্ধ খাতে সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামোর আধুনিকায়নে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগের গুণগত মান নিশ্চিত করা, অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক বহুগুণক (মাল্টিপ্লায়ার) প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

১১ জুন ২০২৬

ইব্রাহিমাবাদ-টাঙ্গাইল রুটে জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর দাবি

ইব্রাহিমাবাদ-টাঙ্গাইল রুটে জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর দাবি

দৃষ্টি রিপোর্ট: দীর্ঘদিন ধরে রুট পরিবর্তনের কারণে জামালপুর আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে যাতায়াত সুবিধা থেকে বঞ্চিত টাঙ্গাইলের কালিহাতী, ভূঞাপুর, গোপালপুর, সরিষাবাড়ী সহ বেশ কয়েকটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। ট্রেনটির রুট পুনরায় পরিবর্তন করে ইব্রাহিমাবাদ-টাঙ্গাইল রুটে চালুর দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। জানা যায়, ২০২০ সালে জামালপুর থেকে সরিষাবাড়ী, তারাকান্দি ও ইব্রাহিমাবাদ রেলওয়ে জংশন স্টেশন হয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত জামালপুর আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরু করে। ট্রেনটিতে ১১০টি এসি চেয়ার ও ৫১০টি শোভন চেয়ারসহ মোট ৬২০টি আসনের ব্যবস্থা ছিল। ট্রেনটি চালুর পর জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। কিন্তু যমুনা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজের কারণে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ট্রেনটির রুট পরিবর্তন করা হয়। একই সঙ্গে যমুনা সেতু পূর্ব স্টেশনের ইয়ার্ড রিমডেলিং ও ট্র্যাক সুইচিং পরিকল্পনার আওতায় ইব্রাহিমাবাদ থেকে ভূঞাপুর স্টেশন পর্যন্ত সব ধরণের ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়। এলাকাবাসী জানায়, রুট পরিবর্তনের ফলে কালিহাতী, ভূঞাপুর, গোপালপুর, সরিষাবাড়ী, তারাকান্দি ও আশপাশের এলাকার মানুষ রেলসেবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আগে জামালপুরে যাতায়াত সহজ হলেও বর্তমানে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। এতে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া সহ সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ রুটে যাতায়াতকারী ময়মনসিংহের জুবায়ের আহমেদ, জামালপুরের কিবরিয়া সরকার, ভূঞাপুরের নিকরাইলের, আবুল হাসেম, মাসুদ, কায়সার সহ অনেকেই জানান, উন্নয়ন কাজের জন্য সাময়িকভাবে ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হলেও এখন উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষের দিকে। জামালপুর থেকে সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি-টাঙ্গাইলে হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের যে ট্রেনটি চালু ছিল। সেই ট্রেন পুনরায় চালু করে রেলসেবার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। জামালপুর এক্সপ্রেস পুনরায় আগের রুটে চালু হলে টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং কয়েক লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। কালিহাতী উপজেলার আলিপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী জানান, জামালপুর এক্সপ্রেস যখন এ রুটে চালু ছিল তখন এতদাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক ভালো ছিল। বিশেষ করে এখানকার মানুষের জামালপুর-সরিষাবাড়ীর সাথে একটা মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ট্রেন বর্তমানে চালু না থাকায় জামালপুরের সাথে সম্পর্কটাও কিছুটা ভাটা পড়েছে। যমুনা সেতু পূর্ব ইব্রাহিমাবাদ রেলওয়ে জংশন স্টেশনের মাস্টার (চুক্তিভিত্তিক) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এখনো এ রুটে ট্রেনটি চালু করা যাচ্ছে না। ইন্টারলগিং সিস্টেম এখনো চালু হয়নি। এদিকে রেল কর্তৃপক্ষও চালুর বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা দেয়নি। তিনি জানান, নন ইন্টারলক সিস্টেমে ভূঞাপুরের সাথে লোকাল দুটি চালু করা হয়েছে। অর্থাৎ কম্পিউটার ছাড়া এনালগ পদ্ধতিতে যেসব ট্রেন চলাচল করে সেরকম দুটি লোকাল ট্রেন চালু আছে। ইন্টারলগিংয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি। আন্তঃনগর ট্রেনগুলো ইন্টারলগিং ছাড়া অর্থাৎ কম্পিউটার ছাড়া চালানো যায় না। দ্রুত ইন্টারলগিংয়ের কাজ শেষ করে ট্রেনটি চালানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি জানান, জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি যতদ্রুত সম্ভব টাঙ্গাইল রুটে চলাচলে ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটির রুট পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যাত্রীরা দাবি জানাচ্ছেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতাগ্রহণের সাথে সাথেই এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দ্রুতই জামালপুরের সাথে টাঙ্গাইলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হবে ইনশাল্লাহ।

০৯ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইল চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বেনজির আহমেদ টিটু

টাঙ্গাইল চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বেনজির আহমেদ টিটু

দৃষ্টি রিপোর্ট: দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময় পর সরাসরি ভোটে টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি’র পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমে টিটু। শনিবার(৬ জুন) রাতে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে দুই বছর মেয়াদি টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি, ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। পরিষদের অন্য নির্বাচিত কর্মকর্তারা হচ্ছেন- ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি স্বপন ঘোষ, সহ-সভাপতি খন্দকার রাশেদুল আলম, মো. নুরুল আলম, দুলাল চন্দ্র সাহা ও সৈয়দ যুবায়ের আব্দুল্লাহ। এর আগে গত সোমবার(২ জুন) টাঙ্গাইল ক্লাব মিলনায়তনে পরিচালক পদে ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে পরিচালক পদে ‘এ’ শ্রেণিতে ১৮ জন এবং ‘বি’ শ্রেণিতে ১২ জন নির্বাচিত হন। ‘এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালকরা হচ্ছেন- বেনজীর আহমেদ টিটু, মোঃ নুরুল আলম, নাজমুল আহসান, শংকর সরকার, স্বপন ঘোষ, আখতার হোসেন খান, খন্দকার রাশেদুল আলম, তারেকুল ইসলাম (ঝলক), বিশ্বজিৎ কুমার সাহা (লিটন), আনবসুর রহমান চৌধুরী, সামসুর রহমান চৌধুরী, প্রভাত কুমার ধর, দুলাল চন্দ্র সাহা, খন্দকার আব্দুল মোকাদ্দেম, মির্জা জিয়াউর রহমান, মো. নুরুল ইসলাম (রবিন), মো. সরোয়ার হোসেন খান, মো. আব্দুল্লাহ হেল কাফি। ‘বি’ শ্রেণিতে নির্বাচিত ১২ জন পরিচালক হচ্ছেন- মো. রোকনউদ্দিন, সৈয়দ যুবায়ের আব্দুল্লাহ, ইকবাল হোসেন জুয়েল, আবু সাঈদ চৌধুরী, মো. ফয়জুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, কাজী শফিকুল ইসলাম (লিটন), মো. আরিফ হোসেন, মীর মিরাজ হোসেন, আজিম উদ্দিন রবিন, পলাশ চন্দ্র বসাক ও খন্দকার নাজমুল হায়দার (সৈকত)। টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্র জানায়, তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এ’ ও ‘বি’ উভয় শ্রণি থেকে নির্বাচিত ৩০ জন পরিচালকের মধ্য থেকে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করা হয়। প্রধান নির্বচন কমিশনার জেলা আ্যডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিন পর ভোটদানের সুযোগ পেয়ে সাধারণ ভোটাররা আনন্দিত। উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে পেরেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে সবাই খুশী। এমন গনতন্ত্রিক চর্চা যেন অব্যাহত থাকে। প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনের সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকতো সেই দলের নেতারা তাদের পছন্দের লোকদের দিয়ে পরিচালনা পরিষদ গঠন করে দিতেন। সাধারণ ভোটাররা ভোটদানের সুযোগ পেতেন না।

০৭ জুন ২০২৬

তিন দশক পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন সম্পন্ন

তিন দশক পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন সম্পন্ন

দৃষ্টি রিপোর্ট: দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) টাঙ্গাইল ক্লাব মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে ‘এ’ শ্রেণিতে ১৮ জন এবং ‘বি’ শ্রেণিতে ১২ জন পরিচালক পদে নির্বাচিত হন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ‘এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালকরা হচ্ছেন- বেনজীর আহমেদ, মো. নূরুল আলম, নাজমুল আহসান, শংকর সরকার, স্বপন ঘোষ, আখতার হোসেন খান, খন্দকার রাশেদুল আলম, তারেকুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ কুমার সাহা, আনবসুর রহমান চৌধুরী, সামসুর রহমান চৌধুরী, প্রভাত কুমার ধর, দুলাল চন্দ্র সাহা, খন্দকার আবদুল মোকাদ্দেম, মির্জা জিয়াউর রহমান, মো. নূরুল ইসলাম, মো. সরোয়ার হোসেন খান, মো. আবদুল্লাহ হেল কাফি। ‘বি’ শ্রেণিতে নির্বাচিত ১২ জন পরিচালক হচ্ছেন- মো. রোকনউদ্দিন, সৈয়দ যুবায়ের আবদুল্লাহ, ইকবাল হোসেন জুয়েল, আবু সাঈদ চৌধুরী, মো. ফয়জুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, কাজী শফিকুল ইসলাম (লিটন), মো. আরিফ হোসেন, মীর মিরাজ হোসেন, আজিম উদ্দিন রবিন, পলাশ চন্দ্র বসাক ও খন্দকার নাজমুল হায়দার। চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এ’ ও ‘বি’- উভয় শ্রেণি থেকে নির্বাচিত ৩০ জন পরিচালকের মধ্য থেকে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটনা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তিন দশকের বেশি সময় আগে। তার পর থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকত, সেই দলের নেতারা তাঁদের পছন্দের লোকদের দিয়ে পরিচালনা পরিষদ গঠন করে দিতেন। সাধারণ ভোটাররা ভোটদানের সুযোগ পেতেন না। এবার ভোট দিতে পেরে সাধারন ভোটারদের মধ্যে উৎফুল্লতা লক্ষ করা গেছে।

০৪ জুন ২০২৬

ঈদের ছুটিতে রাজশাহীর আমের বাজার এলোমেলো

ঈদের ছুটিতে রাজশাহীর আমের বাজার এলোমেলো

দৃষ্টি নিউজ: ঈদের ছুটির মন্দা প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর আমের বাজারে। এতে গুটি আমের দাম কমে মণপ্রতি ৭০০ টাকায় নেমে এসেছে। গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। তবে হিমসাগরের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি রয়েছে-মণপ্রতি ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে পরিবহন ও ক্রেতাসংকটের কারণে বাজার কার্যত এলোমেলো হয়ে গেছে। সোমবার(১ জুন) রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের মোকাম পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা যায়, চাষিরা ভ্যানে করে আমের ক্যারেট নিয়ে আসছেন। আড়তদাররা ভ্যানের ওপর থেকেই আম কিনছেন। নতুন ভ্যান এলেই ব্যবসায়ীরা গিয়ে আম দেখে দাম বলছেন। ফলে চাষিদেরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কম দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে। হাটে গোপালভোগ আম বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়- যা গত ২২ মে বাজারে ওঠার সময় ছিল প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। ১৫ মে থেকে বাজারে আসা গুটি জাতের আম তখন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা নেমে আসে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। ২৫ মে থেকে বাজারে উঠছে রানিপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ আম। বর্তমানে রানিপছন্দ খুবই সীমিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। লক্ষ্মণভোগ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে- যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ৩০ মে থেকে বাজারে আসা ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। পুঠিয়ার ভুবননগর গ্রামের আমচাষি জাহিদুল ইসলাম বলেন, এক মণ গুটি আম এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে এখন আর লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠছে না। চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদের ছুটির কারণে বাজারে ক্রেতাসংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি পরিবহন সেবা সীমিত থাকায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আম পাঠানোও ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়েছে। ব্যবসায়ী হযরত আলী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক কম। কোরবানির ঈদের কারণে বাজারে চাহিদা কমে গেছে। একই ধরনের মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী মো. রনি। তিনি বলেন, ঈদের সময় মানুষ মাংস নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আমের চাহিদা কমে গেছে। পরিবহন সমস্যাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আমচাষি আজিবুর রহমান বলেন, বর্তমান দামে উৎপাদন খরচও উঠছে না। তিনি বলেন, এই দামে আম বিক্রি মানে সরাসরি লোকসান। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের ছুটি শেষ হলে পরিবহন ও বাজার স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। এদিকে, রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহের সময়সূচি ঘোষণা করেছে কৃষি বিভাগ। ঘোষণা অনুযায়ী, ১০ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাংগো ও ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া পেকে গেলে সারা বছরই কাটিমন ও বারি আম-১১ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় বেশির ভাগ মুকুল টিকে গেছে। ফলে উৎপাদন ভালো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। এতে দাম নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হয়নি। দাম বর্তমানে যেটা থাকা দরকার, বাজারে সেটাই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

০২ জুন ২০২৬

কোরবানির উচ্ছিষ্টে লুকানো কোটি ডলারের সম্ভাবনা

কোরবানির উচ্ছিষ্টে লুকানো কোটি ডলারের সম্ভাবনা

দৃষ্টি নিউজ: ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে প্রতিবছর ব্যাপক আলোচনা হয়। কিন্তু পশুর হাড়, শিং, খুর, মাথার চামড়া, চর্বি, রক্ত, নাড়িভুঁড়ি কিংবা লেজের মতো উচ্ছিষ্ট অংশগুলো নিয়ে সচেতনতা খুবই কম দেখা যায়। এসবের বড় অংশই বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ এসব উপজাত সঠিকভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে প্রতিবছর শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কোরবানির পশুর প্রায় প্রতিটি অংশেরই শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহার রয়েছে। হাড় থেকে তৈরি হয় জেলাটিন, পশুখাদ্য ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল। শিং ও খুর ব্যবহৃত হয় বোতাম, অলংকার এবং হস্তশিল্পে। পশুর চর্বি থেকে তৈরি হয় সাবান, প্রসাধনী ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য। রক্ত ও নাড়িভুঁড়ি প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার ও পশুখাদ্য উৎপাদনও সম্ভব। কিন্তু দেশের অধিকাংশ এলাকায় কোরবানির পর এসব উপকরণ সংগ্রহের কোনো সংগঠিত ব্যবস্থা নেই। ফলে এগুলো খোলা জায়গায় ফেলে দেওয়া হয় বা মাটিচাপা দেওয়া হয়। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ বাড়ে, তেমনি নষ্ট হয় সম্ভাবনাময় একটি অর্থনৈতিক সম্পদ। কালাম ব্রাদার্স ট্যানারির মালিক হাজী মো. কামাল বলেন, ‘গরুর মাথার চামড়া দিয়ে একজোড়া ভালোমানের বুটজুতা তৈরি করা যায়। সেনাবাহিনী, পুলিশেরা সেসব জুতা ব্যবহার করে। তখন আমাদের দেশেই এইসব কারখানা ছিলো এখন আর নেই। এজন্য চাহিদাও কমে গেছে। আগে মাথার চামড়া বিক্রি হতো ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এখন সেটা রাস্তায় ফেলে দিচ্ছি। আর গোটা চামড়া বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। কি আর বলব ভাই। এ খাত ধ্বংস হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, একসময় গুরু কোনো কিছুই ফেলে দেয়া হতো না। এখন দেখন এই যে শিং, মাথার চামড়া, লেজ ফেলে দেয়া হচ্ছে। যদি দাম থাকতো তাহলে কেউ ফেলে দিতো না। আপনি কষ্ট করে সংগ্রহ করবেন তারপর যদি আপনার কষ্টের টাকা না পান তাহলে কেন এ কাজ করবেন। কেন বাজার নষ্ট হলো সেটা সরকারকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। আমরা যেটা জানি সেটা বলেছি। যখন ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি ছিলো তখন এসব জিসিনেরও চাহিদা ছিলো। আগে বিদেশি ক্রেতারা সরাসরি কিনতেন। এখন সেই সুযোগ নেই। পুরান ঢাকার পোস্তা এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী হাজী মো. শামসুল হক বলেন, কোরবানি হওয়া পশুর বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। পশুর বর্জ্য কি শিং, মাথা, চামড়া, দাঁত, লেজ, নাড়িভুঁড়ি, হাড়, অন্ডকোষ ও রক্ত - এসব সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ সরকারের নেই। সরকারতো শুধু এক চামড়া নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। অথচ এই বর্জ্য রপ্তানি করে একসময় অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। এখনও কিছু রপ্তানি হয়। তবে সেটা সীমিত। অথচ সরকার যদি একটু উদ্যোগি হতো তাহলে এখাত থেকে হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভব বলে জানান তিনি। পোস্তায় রাস্তার পাশে বসে ফেলে দেওয়া গরুর লেজের পশম বাছাই করছিলো মো. শামছু মিয়া। তিনি বলেন, গত ৪০ বছর ধরে আমি এসব কাজ করি। আগে যখন শক্তি ছিলো চামড়ার আড়তে কাজ করতাম। সেখানে ফেলে দেওয়া পশুর শিং, মাথার চামড়া ও লেজ আলাদা করে নিয়ে আসতাম। তারপর সেগুলো বাছাই করে বিক্রি করতাম। একটা গুরু মাথার চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন কেউ নেয় না। তারপর শিং এর কেজি বিক্রি করেছি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। এখন বয়সের ভারে কাজ করতে পারি না। তাই রাস্তায় ফেলে দেওয়া লেজ থেকে চুল সংগ্রহ করছি। সেটা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করবো। এক সময় সেটা ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, এক সময় এই চুল, শিং, দাঁত, খুর ও মাথা চামড়া ও হড়ের অনেক কদর ছিলো। এখন কেউ জিজ্ঞেস করে না। রাস্তায় ফেলে রেখেছে, কাল সকালে সিটি কর্রপোরেশনের লোক এসে নিয়ে যাবে। চাহিদা থাকলে তো আর কেউ ফেলে দিতো না। বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান বলেন, সচেতনতার অভাবে গবাদিপশুর হাড়, শিং, খুর, লেজ, রক্ত ও অন্যান্য উপজাত শতকোটি টাকার সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও আবর্জনার ভাগাড়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সংরক্ষণের আধুনিক সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা পেলে এই খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা গেলে বাংলাদেশ অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে যেতে পারে। বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির গবেষণা অনুযায়ী, কোরবানির ঈদে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৩৫ হাজার টন পশুবর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে রয়েছে হাড়, শিং, নাড়িভুঁড়ি, রক্ত, চর্বি, মূত্রথলি ও চামড়ার বিভিন্ন অংশ। খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব উপাদানের প্রায় সবই প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানিযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করা সম্ভব। সংগঠিতভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে শুধু ঈদকেন্দ্রিক এই খাত থেকেই শতকোটি টাকার আয় হতে পারে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, পশুবর্জ্য থেকে উন্নতমানের জৈব সার উৎপাদন করলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে পশু ও মৎস্য খাদ্যের জন্য ব্যবহৃত প্রোটিনের বড় অংশ আমদানি করতে হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি প্রোটিন আমদানিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ব্যয় হয়। অথচ পশুর উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য ব্যবহার করে প্রোটিন উৎপাদন করলে প্রতি কেজিতে খরচ হতে পারে মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকা। এতে একদিকে আমদানি নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে রপ্তানিযোগ্য নতুন খাতের বিকাশ জরুরি। কোরবানির পশুর উপজাতভিত্তিক শিল্প হতে পারে তেমনই একটি সম্ভাবনাময় খাত। আন্তর্জাতিক বাজারে জেলাটিন, পশুখাদ্য উপকরণ, বোন চার ও অন্যান্য প্রাণিজ উপজাতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশও এই বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়ার মতো হাড় ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট সংগ্রহেও জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি কর্পোরেশন, মসজিদভিত্তিক প্রচারণা এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সংগ্রহব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। ড. মাহফুজ কবির খান বলেন, কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্টকে বর্জ্য নয়, অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে দেখার সময় এসেছে। সচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন এবং সংগঠিত সংগ্রহব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে প্রতিবছর নষ্ট হওয়া বিপুল সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ঢাকার সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যার সমাধানে ধীরে ধীরে অগ্রগতি হচ্ছে। বিশেষ করে ট্যানারি শিল্প থেকে উৎপন্ন কঠিন বর্জ্য (সলিড ওয়েস্ট) ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ায় শিল্প খাতে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ট্যানারি শিল্পে উৎপন্ন কঠিন বর্জ্য মূলত তিন ধরনের র-ট্রিমিংস, ক্রোম শেভিং ডাস্ট এবং ফ্লেশিং। এসব বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, র-ট্রিমিংস বলতে পশুর মাথা, শিংসহ বিভিন্ন অবশিষ্টাংশকে বোঝায়। আগে এসব বর্জ্য নিষ্পত্তি করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বর্তমানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের বর্জ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা এসব উপকরণ দিয়ে চাবির রিং, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছে। ফলে এ খাতে একটি বাজার তৈরি হয়েছে এবং বর্জ্য নিষ্পত্তির কার্যকর পথও উন্মুক্ত হয়েছে। বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, ট্যানারি বর্জ্যের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ক্রোম শেভিং ডাস্ট নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওয়েট ব্লু পর্যায়ের পর উৎপন্ন এই বর্জ্যে উচ্চমাত্রার ক্রোমিয়াম থাকায় তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একটি চীনা প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে এই বর্জ্য সংগ্রহ করছে। তারা বিশেষ প্রক্রিয়ায় এটি ব্যবহার করছে এবং নিশ্চিত করছে যাতে কোনোভাবেই তা খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে না পারে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করার পর বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে ফ্লেশিং বা চর্বিযুক্ত তরল ও আঠালো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এসব বর্জ্য থেকে জেলাটিন উৎপাদন সম্ভব, যা ওষুধের ক্যাপসুলের আবরণসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এ বিষয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একটি চীনা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি দেশের কয়েকজন ট্যানারি মালিকও এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। সাইফুল ইসলাম বলেন, আগামি এক বছরের মধ্যে ফ্লেশিং বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও কার্যকর সমাধান পাওয়া যাবে। এতে ট্যানারি শিল্পের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ অনেকাংশে কমে আসবে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে। শতভাগ সফলতা অর্জন না হলেও শিল্পনগরীর পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে বড় ধরনের উন্নতি হবে। এর ফলে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে তিনি প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশ বোন এক্সপোর্টার অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, পশুর হাড়, শিং, দাঁত, খুর, চর্বি, রক্ত, নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য উপজাত ব্যবহার করে ওষুধ, ক্যাপসুলের কভার, সিরামিক পণ্য, খেলনা, শোপিস, সাবান, পশুখাদ্য এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব পণ্যের উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্টকে আর বর্জ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন এবং সংগঠিত সংগ্রহব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে প্রতিবছর নষ্ট হওয়া বিপুল সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তখন কোরবানির পশুর হাড়, শিং কিংবা রক্ত শুধু বর্জ্য থাকবে না; সেগুলো হয়ে উঠবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন উৎস এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সূত্র: বাংলা নিউজ

০১ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলে নদীতে ফেলা হলো কোরবানির চামড়া

টাঙ্গাইলে নদীতে ফেলা হলো কোরবানির চামড়া

মু. আবিদ মল্লিক জয়: টাঙ্গাইলে বাড়তি প্রসেসিং খরচ, তীব্র অর্থসংকট এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে চরম অস্থিরতা ও ধস নেমেছে। চামড়া কিনে বিক্রি করতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন রহিজ আলী নামে এক মৌসুমি ব্যবসায়ী। সরকার নির্ধারিত দাম কেবল লবণযুক্ত চামড়ার জন্য প্রযোজ্য হওয়ায় এবং কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয়ের অজুহাতে আড়তদাররা ন্যায্যমূল্য দিচ্ছেন না। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা পণ্যের আধিপত্য ও বকেয়া টাকা না পাওয়ার কারণে ট্যানারি মালিক ও বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনায় অনীহা দেখাচ্ছেন। ফলে চামড়ার প্রকৃত হকদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ জাতীয় সম্পদ। সরেজমিনে দেখাগেছে, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার শিল্পাঞ্চল খ্যাত বল্লা এলাকায় কাঁচা চামড়া কিনে বিক্রি করতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়ে সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন রহিজ আলী নামে এক মৌসুমি ব্যবসায়ী। গত শুক্রবার (২৯ মে) বিকালে বল্লা সেতুর নিচ দিয়ে প্রবাহিত লাঙ্গুলিয়া নদীতে তিনি বেশ কয়েকটি গরুর চামড়া ফেলে দেন। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী রহিজ আলী জানান, তিনি লাভের আশায় জেলার চর ও পাহাড়ি অঞ্চলের বাড়ি বাড়ি ঘুরে দিনভর চামড়া সংগ্রহ করে বল্লা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় জমা করেছিলেন। কিন্তু দিনশেষে কোনো পাইকার বা আড়তদার চামড়া কিনতে আসেননি। শেষ পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ বা লবণের বাড়তি খরচ জোগাতে না পেরে এবং কোনো ক্রেতা না পেয়ে তিনি তা নদীতে ফেলে দিতে বাধ্য হন। এতে তার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মূলধন খোয়া গেছে। এদিকে, রোববার(৩১ মে) টাঙ্গাইল জেলার চামড়া কেনাবেচার সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র ঘাটাইল উপজেলার পাকুটিয়া হাটেও চামড়ার মূল্য বিপর্যয় ও ক্রেতা সংকট লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিবছর কোরবানির ঈদের পর এই হাটে কোটি কোটি টাকার কাঁচা চামড়া কেনাবেচা হয়। ঢাকা, নাটোর, ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্যানারি প্রতিনিধি ও বড় পাইকাররা এখানে চামড়া সংগ্রহ করতে আসেন। তবে সপ্তাহের রোব ও বুধবার বসা বৃহৎ এ চামড়ার হাটে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ও হতাশাজনক। পাকুটিয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, চাহিদার চেয়ে পশুর চামড়ার জোগান অনেক বেশি থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই সীমিত। হাটে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচা চামড়া নিয়ে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও পাইকাররা সরকার নির্ধারিত দামের অর্ধেক দামও বলছেন না। তাদের দাবি- লবণ ও শ্রমিকের মজুরি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় তারা বেশি দামে কাঁচা চামড়া কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাস্তবভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের অভাব এবং বাজার উন্মুক্ত না থাকায় পাকুটিয়ার এই বিশাল হাটেও চামড়া অবহেলায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বল্লার চামড়াপট্টীর মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. শামছুল, মো. লাভলু মিয়া, লিটন মিয়া, আজগর আলী সহ অনেকেই জানান, নতুন সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে। তারা ভেবেছিলেন, কেনার অন্তত কাছাকাছি দাম পাওয়া যাবে। টার্গেট ছিল, প্রতি চামড়ায় ৫০ টাকা লাভ করবেন। কিন্তু অপেক্ষা আর শেষ হচ্ছেনা। চামড়া বিক্রি করতে না পেরে কেউ কেউ নদীতে ফেলে দিচ্ছেন বা মাটিতে পুঁতে ফেলছেন। তারা জানান, এখন তারা চামড়ায় লবন মেখে সংরক্ষণ করছেন। লবনের দাম বেশি ও কৃত্তিম সংকট থাকায় বেশি চামড়া তারা সংরক্ষণ করতে পারছেন না। এই চামড়ায় আরও দুইবার লবন মেখে রোদে শুকিয়ে প্রায় দুই মাস সংরক্ষণ করে পরে ঢাকার ট্যানারিতে বিক্রি করবেন। চামড়ার পাইকারি ক্রেতা বল্লা গ্রামের আলী হোসেন জানান, স্থানীয় পর্যায়ে চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং কাঁচা চামড়ার বাস্তবসম্মত মূল্য নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই চামড়া শিল্প অচিরেই আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থানীয়রা মনে করছে, কাঁচা চামড়া দ্রুত প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় লবণ, শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ঢাকার সাভারের ট্যানারি মালিকদের কাছে স্থানীয় বড় আড়তদারদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। নগদ টাকার অভাবে তারা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কিনতে পারছেন না। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা সিন্ডিকেট ও পণ্যের একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে দেশের ব্যবসায়ীরা চামড়ার সঠিক রপ্তানি মূল্য পাচ্ছেন না। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে, তা মূলত লবণযুক্ত চামড়ার জন্য। ফলে মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাঁচা চামড়ার কোনো বাস্তবভিত্তিক মূল্য কাঠামো থাকে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, চামড়া নষ্ট হওয়া ঠেকাতে এবং মান ধরে রাখতে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করা জরুরি। চর্বি পরিষ্কার থাকলে চামড়া সহজে পচে না এবং লবণের কার্যকারিতা বাড়ে। রোদ বা স্যাঁতসেঁতে মাটিতে না শুকিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত ড্রায়ারে চামড়া শুকালে আর্দ্রতা সঠিক মাত্রায় থাকে এবং চামড়ার গুণগত মান অক্ষুন্ন থাকে। তাদের মতে, টাঙ্গাইলের পাকুটিয়া বা এর আশেপাশে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে কোরবানির সময়ে সাময়িক চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিশেষ হিমাগার গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে আড়তদারদের বকেয়া টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করা এবং ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ঈদের আগে ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে নগদ ঋণ দেওয়া হলে এ ব্যবসায় প্রাণ ফিরে আসতে পারে। এছাড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যাতে চামড়া ছাড়ানোর ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে সঠিক নিয়মে লবণ দিতে পারেন- সেজন্য সরকারিভাবে বিনামূল্যে বা সুলভ মূল্যে লবণ বিতরণ এবং মনিটরিং জোরদার করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম জানান, কালিহাতী উপজেলায় সরকারের তরফ থেকে চামড়া ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার জন্য বিনামূল্যের লবন এসেছিল। তারা চামড়া ব্যবসায়ীদের মাঝে তা বিতরণ করেছেন- তবে সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়ীরা যাতে কাঁচা চামড়া ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে পারে সে দিকে তারা খেয়াল রাখছেন।

৩১ মে ২০২৬

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে টাঙ্গাইলের বৃহত্তর গোবিন্দাসী গরুর হাট

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে টাঙ্গাইলের বৃহত্তর গোবিন্দাসী গরুর হাট

দৃষ্টি রিপোর্ট: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে টাঙ্গাইল জেলার বৃহত্তম গোবিন্দাসী গরুর হাট। হাটজুড়ে এখন দেশীয় গরুর সমারোহ। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরু নিয়ে হাজির হয়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। তবে এবার বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর প্রতিই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে হাজারো গরুর হাঁকডাকে মুখর পুরো বাজার এলাকা। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা তাদের গরু নিয়ে বসেছেন। বিক্রেতারা জানান, হাটে পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ রয়েছে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার চাপও বাড়ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সন্তোষজনক। তাদের আশা, ঈদের আগের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও জমে উঠবে। হাটে আসা ক্রেতারা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম কিছুটা সহনীয় হলেও ছোট ও মাঝারি গরুর দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। কারণ সাধারণ মানুষের বাজেটের মধ্যে এসব গরুর চাহিদাই বেশি। হাট পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য ফরহাদ তালুকদার বলেন, হাটে কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োজিত রেখেছি। প্রশাসনও আমাদের সহযোগিতা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই হাটে বেচাকেনা চলবে।

২৬ মে ২০২৬

ভাইরাল সেই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে লাল গালিচায় বিদায়

ভাইরাল সেই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে লাল গালিচায় বিদায়

দৃষ্টি নিউজ: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হওয়া অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‌‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে রাজসিক সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায় জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া এগ্রো ফার্ম। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় মহিষটিকে লাল গালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায় জানানো হয়। এর আগে, দুপুর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিদায় জানানোর রাজকীয় প্রস্তুতি শুরু করেন খামারিরা। বিশালাকার মহিষটিকে গোসল করানোর পর পরানো হয় রাজকীয় পোশাক। এরপর রঙিন স্মোক (রঙিন ধোঁয়া) উড়িয়ে ও লাল গালিচায় হাঁটিয়ে বিদায় দেওয়া হয় তাকে। দীর্ঘদিন পরম যত্নে লালন-পালন করা প্রিয় পশুটিকে বিদায় দেওয়ার সময় খামারের মালিক ও কর্মচারীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, এই মহিষটির গায়ের রঙ, চুল ও চোখের গঠন দেখতে অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। এই মিল থাকার কারণেই খামারের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই শখ করে এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ব্যতিক্রমী চেহারার ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি কোরবানির হাটে তোলার আগেই লাইভ ওয়েটে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় কিনে নেন রাজধানীর জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা সামির। নাম ও চেহারার কারণে মহিষটি খামারে থাকা অবস্থাতেই দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নজর কাড়ে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এটি দেখতে খামারে ভিড় জমাতেন। রাবেয়া এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘদিনের মায়ায় জড়ানো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে বিদায় দিতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কোরবানির ত্যাগের মহিমায় তাকে হাসিমুখে বিদায় দিতেই হবে। এই রাজকীয় মহিষটির স্মৃতি আমরা আজীবন মনে রাখব। মহিষটির ক্রেতা সামির বলেন, অনেক আগেই আমি মহিষটি পছন্দ করে কিনে রেখেছিলাম। পরে হঠাৎ করেই এটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। এখন আমার এলাকার মানুষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

২৬ মে ২০২৬

যমুনার ভাঙন রোধে অচিরেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু হবে :: পানিসম্পদ মন্ত্রী

যমুনার ভাঙন রোধে অচিরেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু হবে :: পানিসম্পদ মন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অচিরেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন শেষে নদীতীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙন কবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেন, টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর বামতীরে ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামি অর্থবছর থেকে যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই নিজে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন। যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতিবছর নদীতীরের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, আমরা যা বলি তাই করি। নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- সরকার তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজ, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং ভাঙন কবলিত এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

২২ মে ২০২৬

অবৈধ উপায়ে আসা পশুর কোরবানি কতটা সমীচীন? :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

অবৈধ উপায়ে আসা পশুর কোরবানি কতটা সমীচীন? :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট: অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন প্রশ্ন করে এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম) বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন, এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ বা চোরাই পথে পশু প্রবেশের ঘটনা ঘটে। তিনি দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে অবৈধভাবে আসা পশু বর্জনের আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে নয়, সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। যুবসমাজকে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিএনপির প্রচার সম্পাদক টুকু বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দেশীয় উৎপাদন, খামারি ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এবিএম খালেদুজ্জামান। কর্মশালায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২১ মে ২০২৬

পরিবহন মালিকদের সমিতি বিএনপির দখলে!

পরিবহন মালিকদের সমিতি বিএনপির দখলে!

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান ও পৌর বিএনপির সভাপতি এসএমএ সোবহানের নেতৃত্বে বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে দখলে নেওয়া হয়েছে! তারা ধানবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও বিনিময় পরিবহনের তিনটি বাসও দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির ওই দুই নেতা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করে ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও পরিবহন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তারা মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পকেট কমিটি গঠন করে পরিবহন খাত পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ জন মালিকের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত ‘বিনিময় পরিবহন’ -এর তিনটি বাসও জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএরনপির সভাপতিদ্বয়। বর্তমানে ওই বাসগুলোর আয়ের পুরো অর্থ তারা নিজেরা নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কয়েকজন মালিক দাবি করেন, বাস মালিক শামসুল আলম ও লিটনের উপর হামলা চালিয়ে পড়ে তাদের সান্ত্বনাও দেন। পরিবহন পরিচালনায় অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধা দিলে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। হামলার শিকার বাস মালিক শামসুল আলম জানান, প্রতিবাদ করায় তার উপর হামলা করা হয়। আবার বিএনপির কয়েক নেতা শান্তনাও দেন। তারা যৌথভাবে বাস কিনেছেন। এখন বাসের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব পাচ্ছেন না। সবকিছু জোর করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান জানান, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি কখনো ওই তিন বাস দেখেন নাই এবং জানেনও না। তবে মালিকদের মধ্যে একটা সমস্যা হয়েছিল- সেটা মিমাংসা করার জন্য কয়েকবার উভয়পক্ষকে নোটিশ দিয়ে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো পক্ষই আসেননি।

২০ মে ২০২৬

এলেঙ্গায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের চেষ্টার দায়ে জরিমানা

এলেঙ্গায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের চেষ্টার দায়ে জরিমানা

এলেঙ্গা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে অসুস্থ ষাঁড় গরু জবাইয়ের প্রস্তুতির দায়ে চাঁন মিয়া (৬০) নামে এক মাংস বিক্রেতাসহ তিন ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১৮ মে) সকালে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদা খানম লিজার নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমান আদালত ওই অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে চাঁন মিয়া নামে এক মাংস বিক্রেতা অসুস্থ একটি ষাঁড় জবাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যাম আদালতের বিচারক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের তফসিলভুক্ত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে গরুটি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত জবাই না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া বাজারে অপরিকল্পিতভাবে পোল্ট্রি মুরগি রেখে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি ও দুর্গন্ধ ছড়ানোর দায়ে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী হুমায়ুনকে ১০ হাজার টাকা; একই বাজারে মাংসের দোকানের পাশে পশুর চামড়া রেখে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে মাংস বিক্রেতা রজব আলীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। প্রশাসনের এমন অভিযানে বাজারে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান ক্রেতারা। এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদা খানম লিজা জানান, অসুস্থ পশু জবাই, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য বিক্রি কিংবা পরিবেশ দূষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় কালিহাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইম আল সালাউদ্দিনসহ কালিহাতী থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৮ মে ২০২৬

হাইওয়ে ও পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি

হাইওয়ে ও পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি

মু. আবিদ মল্লিক জয়: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে কোরবানির পশুর রেকর্ড জোগান তৈরি হয়েছে। চাহিদা মিটিয়েও এবার জেলায় প্রায় ৪০ হাজার গবাদি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে এই বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও ভারতীয় গরুর অবৈধ অনুপ্রবেশ, পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, জাল টাকার কারবারিদের দৌরাত্ম্য, হাইওয়ে ও হাটে চাঁদাবাজি এবং অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জেলার হাজার হাজার খামারি ও সাধারণ ক্রেতারা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় গড়ে ওঠা ২৬ হাজার ৭৫৯টি ছোট-বড় খামারে এবার কোরবানির জন্য মোট দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি পশু সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। জেলায় এবার কোরবানির পশুর সার্বিক চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ১৭৮টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও ৩৯ হাজার ৯৮৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। জানাগেছে, কোরবানির এই বিশাল পশুর সমাগমকে ঘিরে টাঙ্গাইলের পাঁচ শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলো এখন অনেকটা উৎসবমুখর। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে ভূঞাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দাসী গরুর হাট- যা দেশীয় পশুর এক বিশাল সরবরাহ কেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত বেবীস্ট্যান্ড পশুর হাট এবং শহরতলির করটিয়া ও রসুলপুর, তোরাপগঞ্জ হাটগুলোতেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী হাটের পাশাপাশি এবার টাঙ্গাইলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন পশুর হাট ও ডিজিটাল কেনাবেচা। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন খামারিদের নিজস্ব উদ্যোগে ফেসবুক পেজ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন ও দামসহ বিস্তারিত তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। এর ফলে ঘরে বসেই অনেক ক্রেতা পছন্দের পশু কিনতে পারছেন- যা হাটের বাড়তি চাপ ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। জেলার সামগ্রিক উদ্বৃত্ত পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার পশুর হাটসহ দেশের অন্যান্য জেলার ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে- যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে কোটি কোটি টাকার তারল্য প্রবাহ সৃষ্টি করবে। খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, জেলার প্রাণি সম্পদের এই বিপুল সম্ভাবনা এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে। খামারিদের প্রধান সমস্যা পশুখাদ্যের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি। চড়া দামে খড়, ভুষি ও খৈল কিনে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে পশু লালন-পালন করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় গরুর অবৈধ চোরাচালান। খামারিদের দাবি, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় পশুর বাজার ধসে পড়বে। এর ফলে জেলার ২৬ হাজারেরও বেশি খামারি তাদের আসল পুঁজি হারিয়ে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়বেন। পাশাপাশি হাটে অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়, পকেটমার ও মলম পার্টির উপদ্রব, ক্রেতা-বিক্রেতাদের হঠাৎ অসুস্থতা এবং জাল টাকার চক্রের সক্রিয়তা মাঠপর্যায়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি। গবাদি পশু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন- এই সংকট থেকে দেশীয় খামারিদের রক্ষা, ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাবনাময় এই খাতকে বাঁচাতে অবিলম্বে অন্তত ছয়টি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, চিকিৎসা ক্যাম্প ও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন, চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি, হাসিল বা টোল আদায়ে সতর্কতা, জাল টাকা রোধে ব্যাংকের বুথ স্থাপন এবং হাইওয়ে ও পশুরহাটে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের চৌ-বাড়িয়ায় রহমান এগ্রো ফার্মের মালিক দেওয়ান সুমন আহমেদ জানান, দিন দিন গো-খাদ্যোর বাড়তি দামে খামারিরা হতাশায় ভুগছেন। গত বছর ঈদে তিনি ৩৮টি ষাড় গরু বিক্রি করেছেন। এবছরও ৩৪টি ষাড় গরু বিক্রির ইচ্ছে রয়েছে। কালিহাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইম আল সালাউদ্দিন জানান, এ উপজেলায় এক হাজার ৭০৩টি গরু ও ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। ২০ হাজার ৫৬৯টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার ৯৭১টি। এর মধ্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে দুই হাজার ৫৯৮টি পশু। খামারিরা কুরবানির ঈদে তাদের পালিত পশু বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছে। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, সদরে প্রান্তিক খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া পশুর হাটে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল আলম জানান, ইতোমধ্যে জেলায় খামারিদের মানসম্পন্ন গরু-ছাগল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ প্রশিক্ষণে লব্ধ জ্ঞান খামারিরা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন খান জানান, জেলায় কুরবানির জন্য দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি পশুর মধ্যে রয়েছে ষাড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য পশু। এবার কুরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ১৭৮টি পশু। উদ্বৃত রয়েছে ৩৯ হাজার ৯৮৩টি। ইতোমধ্যে জেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী কুরবানির হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া খামারি, পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তায় যা যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থাই করা হচ্ছে।

১৭ মে ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের তিন বন্ধুর পদোন্নতি

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের তিন বন্ধুর পদোন্নতি

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ১ম ব্যাচের তিন শিক্ষার্থী এক সঙ্গে সোনালী ব্যাংকে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত পদোন্নতির ফলাফলে তাঁরা এ সাফল্য অর্জন করেন বলে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত বিভাগের অ্যালামনাই সূত্রে জানা যায়। পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তারা হচ্ছেন- মো. আরিফুল আলম, আতিয়া আক্তার এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও আইসিটি বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁদের এই অর্জনে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় আইসিটি অ্যালামনাই, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাংকার্স ফোরাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বিভাগের অ্যালামনাই কমিটি জানায়, তাদের এই সাফল্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।

১৫ মে ২০২৬