অর্থনীতি
তদন্ত কমিটি গঠন ও ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের বাসাইলে এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জালিয়াতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সাথে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দে শনা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এলজিইডি’র ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরের supRB এর প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর ও টাঙ্গাইল এলজিইডি’র পক্ষ থেকে গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। মঙ্গলবার(২২ সেপ্টেম্বর) দিনভর প্রকল্প এলাকায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন ও অংশীজনদের মতামত-বক্তব্য গ্রহণ করেছে।এলজিইডি’র সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর কর্তৃক গঠিত ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাকিল হোসেন ও একই প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকিউল আলম। টাঙ্গাইল এলজিইডি কর্তক ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- টাঙ্গাইল এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. তৌহিদুর রহমান(আহ্বায়ক), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী ইফতেখার আহম্মেদ(সদস্য সচিব), টাঙ্গাইল এলজিইড ‘র সহকারী প্রকৌশলী সাকিব-উল-হাফিজ(সদস্য), উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান(সদস্য) ও ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. আলোব্বর হোসেন(সদস্য)। সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর) গঠিত তদন্ত কমিটি সমূহকে ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ‘বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া সড়কে ৯০.০৬ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজ’ নির্মাণ কাজ চলছে। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ যৌথভাবে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মো. ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেভি)’।অভিযোগ উঠেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলা প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে না জানিয়ে অন্ধকারে তড়িঘড়ি করে ব্রিজের Wheel Guard এর স্ল্যাব ঢালাই কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ঢালাইয়ের ভেতর রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী ফাত্তাউর রহমান ব্রিজের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে শো’কজ করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এই অনিয়মের খবর গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে অবহিত না করে রাতের অন্ধকারে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত।নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পত্র প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে ওই ত্রুটিপূর্ণ ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ঢালাই ভেঙে সাইট থেকে অপসারণ করতে হবে। পরবর্তীতে ল্যাবে পরীক্ষা করে মালামালের গুণগতমান নিশ্চিত পূর্বক উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নিয়ম মোতাবেক পুনরায় ঢালাই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ঠিকাদারি চুক্তি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাচ্ছে ইজিবাইকের পেটে!
বুলবুল মল্লিক:টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ। একবার বিদ্যুৎ গেলে ৩-৪ ঘণ্টা পর আসে, আর আসলেও তা স্থায়ী হয় মাত্র আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা। এই তীব্র গরমে একদিকে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ, অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে স্থানীয় কলকারখানাগুলোতে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকলেও প্রতি মাসে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভুতুড়ে বিল।অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার এই ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক। বিদ্যুৎ বিভাগ ও গ্যারেজ মালিকদের তথ্যমতে, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাধারণত ১৫ অ্যাম্পিয়ারের ৪ থেকে ৫টি ব্যাটারিতে চলে। এসব ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ থেকে দেড় ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে একটি অটোরিকশার ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করতে দৈনিক ৮ থেকে ১২ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ লাগে।টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় চলাচলকারী প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রতিদিন গড়ে ৭ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। মেগাওয়াটের হিসাবে যার পরিমাণ ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রায় দুটি উপজেলার দৈনিক চাহিদার কাছাকাছি। প্রতিদিন রাত ৮টার পর যখন বিদ্যুতের জাতীয় চাহিদা (পিক আওয়ার) সবচেয়ে বেশি থাকে, ঠিক তখনই জেলার বিভিন্ন গ্যারেজে সারি সারি অটোরিকশা চার্জে বসানো হয়। শ’ শ’ যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর তীব্র বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে- যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীনে টাঙ্গাইল সদরের তিনটি ফিডারে (বৈল্লা, কচুয়াডাঙ্গা ও ময়মনসিংহ রোড) মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ জন। এখানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১০০ থেকে ১১০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট (চাহিদার ৪১ শতাংশ) বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতির মাঝেই কেবল পিডিবির আওতাধীন এলাকাতেই দৈনিক ৩৩ হাজারেরও বেশি ব্যাটারিচালিত যান চার্জ দেওয়া হচ্ছে- যার মধ্যে শহর ও আশপাশের এলাকায়ই রয়েছে ১৫ হাজার যান।অন্যদিকে, টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকা আরও বিস্তৃত। জেলা সদরের কিছু অংশ, কালিহাতী, বাসাইল, সখিপুরের কিছু অংশ, মির্জাপুর, নাগরপুর, দেলদুয়ার এবং সিরাজগঞ্জের চৌহালীর কিছু অংশ নিয়ে গঠিত পল্লী বিদ্যুতের বিশাল অঞ্চলে মোট গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ ৫১ হাজার। এসব এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ২১০ মেগাওয়াট। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় গড়ে মাত্র ৪৭ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে প্রতিদিন ৮৫ থেকে ৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।এছাড়া দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বাসাবাড়িতে ফ্যান, লাইট ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ে। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও তখন বিদ্যুতের ব্যবহার থাকে বেশি। ঠিক সেইসময় থেকেই জেলার বিভিন্ন গ্যারেজে সারি সারি ইজিবাইক ও অটোরিকশা চার্জে বসানো হয়। অথচ চার্জিং লোড বাদ দিলে ৩০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি কমতে পারত। বেশিরভাগ অটোরিকশা গ্যারেজে চার্জ দেওয়া হলেও অনেক যান বাসাবাড়িতেও চার্জ দেওয়া হয়। ফলে দিন দিন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্বক প্রকট আকার ধারণ করছে।বিদ্যুতের এমন ভয়াবহ হাহাকারে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তাদের দাবি, পিক আওয়ারে অটোরিকশা চার্জ দেওয়া বন্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে এবং জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ না বাড়ালে জেলার শিল্পোৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবন অচিরেই সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে।টাঙ্গাইল পৌরসভার একটি স্কুলের শিক্ষক রুমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গরমে রাতে ঘুমাতে পারি না। যদি দেখা যায় এক ঘণ্টা কারেন্ট থাকে, তাহলে দুই ঘণ্টা থাকে না। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে খুবই কষ্টে আছি।’দেলদুয়ারের পাহাড়পুর গ্রামের ছরোয়ার হোসেন বলেন, ‘হিসাব ছাড়াই দিনরাত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে গ্রামের গ্যারেজ গুলোতে শ’ শ’ অটো চার্জ দেওয়া হয়। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে লোডশেডিং কমানো কঠিন হবে।’নাগরপুরের নয়াপাড়া গ্রামের অটোরিক্সাচালক ছানোয়ার বলেন, ‘সারাদিন যা আয় হয়, তার বড় অংশই চার্জিংয়ে চলে যায়। প্রতিটি গাড়ি চার্জ দিতে গ্যারেজে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দিতে হয়। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এভাবে চার্জ দিচ্ছি। কারণ এই গাড়ি দিয়ে আমাদের কর্ম করে খেতে হয়।’তবে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা এখন শহর ও গ্রামীণ এলাকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম। একই সঙ্গে হাজারও মানুষের জীবিকারও উৎস। তবে নিয়ন্ত্রণহীন চার্জিং ব্যবস্থা বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় আনা, অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন তৈরি এবং বিদ্যুতের পিক আওয়ারে চার্জিং সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।টাঙ্গাইল পিডিবির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর তালুকদার বলেন, ‘যেখান আমরা গ্রাহকদের চাহিদামত বিদ্যুৎ দিতে পারছি না। সেখানে হাজার হাজার ইজিবাইক ও অটোচার্জ দিতে প্রচুর বিদ্যুত খরচ হচ্ছে। তবে আমরা তাদের বন্ধও করতে পারছিনা। পৌর কর্তৃপক্ষ এবং বিআরটিএ সরব না হলে এগুলো বন্ধ হবে না। কারণ হাজার হাজার ইজিবাইক ও অটোরিক্সা তাদের অনুমতি(!) না নিয়েই চলাচল করছে। তবে আমরা অবৈধ লাইন নিয়ে যারা চার্জিং- এর গ্যারেজ বানিয়ে চার্জ দিচ্ছে সেখানে অভিযান পরিচালনা করছি।’
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলায় গ্রেপ্তার ১
মির্জাপুর প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় হামলা চালিয়ে তিন কর্মচারীকে মারধর করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোলপ্লাজায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত হৃদয় খান ওরফে সেকেন্দার (২৪) উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কাবেল মিয়ার ছেলে।স্থানীয়রা জানায়, একটি ট্রাক হাটুভাঙ্গা সেতু পার হওয়ার সময় চালক টোল পরিশোধের জন্য এক হাজার টাকার নোট দেন। ওই নোটের ভাংতি দিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় চালক ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাকটি রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় টোল আদায়ের কর্মচারীরা ট্রাকটি সরিয়ে নিতে বললে চালক ও হেলপার তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা টোলকর্মীদের মারধর করেন। পরে ওই চালক আরও কয়েকজনকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে এসে টোল আদায়ের কর্মচারীদের ওপর হামলা চালান।এ সময় টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমানের স্ত্রীর বোন হামলা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানির করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমানের স্ত্রী মোছা. ফারহানা বেগম বাদী হয়ে শনিবার রাতে মির্জাপুর থানায় দুই জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।মামলায় অভিযুক্ত লাভলু ওরফে লখাইয়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর ট্রাকের চালক টোল দিতে এক হাজার টাকার নোট দিলে টোলপ্লাজার কর্মীরা ৯০০ টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাঁর চালক ও হেলপারকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।হাটুভাঙ্গা টোলের ইজারাদার মাসুদুর রহমান জানান, একটি কুচক্রী মহল হাটুভাঙা সেতুর টোল আদায় বন্ধ করতে নানা ধরনের পাঁয়তারা করছে। হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেও দাবি করেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাশেদ ফজল জানান, ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হৃদয় খান ওরফে সেকেন্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পোল্ট্রি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৃষ্টি রিপোর্ট: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরা। তাদের টিকিয়ে রাখা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সদরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন-২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, পোল্ট্রি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় কমানো, মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে খামারিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তারাও সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্রোটিন পাবেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনেছেন, যাতে তারা কৃষির মতো সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা পেতে পারেন।নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরে টুকু বলেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ও ওষুধ ব্যবহারে সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। ভেজাল খাদ্য ও মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আয়োজিত কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাকিল আহমেদ এবং বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ফিয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগাম সবজি চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন
বুলবুল মল্লিক:আশ্বিনের শুরুতেই টাঙ্গাইলের দিগন্তজোড়া মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে আগাম শীতকালীন সবজির সবুজ সমারোহ। শীত আসতে এখনো বেশ কিছু দিন বাকি থাকলেও, আগাম সবজি চাষে এখন তুমুল ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকরা। বিশেষ করে সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত পাহাড়ি অঞ্চল মধুপুর, ঘাটাইল, ধনবাড়ি, সখিপুর এবং যমুনা-ধলেশ্বরীর অববাহিকার চরাঞ্চলের কৃষিজমিগুলো এখন হরেক রকমের সবজিতে ভরে উঠেছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম সবজির বাম্পার ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় চাষিরা।সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সারি সারি শাক-সবজির আবাদ। বেশিরভাগ কৃষি জমিতে মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো, লালশাক ও পুঁইশাকসহ হরেক রকমের শীতকালীন সবজির চাষ শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে আগাম জাতের লালশাক, মূলা ও লাউ বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে বাজারে এসব নতুন সবজির চড়া চাহিদা থাকায় বেশ ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। অধিক ফলন ও কাঙ্ক্ষিত লাভের আশায় কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করছেন এতদাঞ্চলের কৃষক-কৃষাণীরা। কেউ নতুন চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ চারাগাছের গোড়ায় মাটি দিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যস্ত নিড়ানি ও রোগবালাই দমনে বালাইনাশক স্প্রে করায়। শুধু পুরুষরাই নন, সবজি পরিচর্যা ও চারা উৎপাদনে সমান তালে ভূমিকা রাখছেন গ্রামীণ নারীরাও।সরেজমিনে স্থানীয় চাষিরা জানায়, সাধারণ সময়ের চেয়ে আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বেশি লাভ করা যায়। এই লাভজনক দিক বিবেচনা করে গত কয়েক বছর ধরে টাঙ্গাইলে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে আগাম সবজি চাষের ধুম পড়েছে। চরাঞ্চল ও পাহাড়ি অঞ্চলের উর্বর মাটি আগাম সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছরই এখানে আবাদের পরিধি বাড়ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই অঞ্চলের সবজি প্রতিদিন ট্রাকবোঝাই হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে।মধুপুর উপজেলার দরিহাসিল গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে কৃষক রায়হান কাজী ফুলকপি ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে সবুজে সবুজে ভরে উঠতে শুরু করেছে তার ফসলী জমি। সারি সারি ক্যাপটেন ও উইনার জাতের ফুলকপি শোভা পাচ্ছে তার ৭০শতাংশ জমিতে। রোগবালাই দমন করতে বাঁধাকপি ক্ষেত পরিদর্শন করে পরামর্শ দিচ্ছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম।কৃষক রায়হান কাজী জানান, তিনি ১৫-২০ দিন আগে ৭০ শতাংশ জমিতে ১৬ হাজার ক্যাপটেন ও উইনার জাতের ফুলকপি চারা রেপান করেছেন। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকার কিছু বেশি। মাস দুই পর কপি বিক্রি করতে পারবেন। ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারলে খরচ বাদে ২-৩ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের ফুলমালীর চালা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ১ মাস আগে ৪০ শতাংশ জমিতে শিম ও লাউ চাষ করেছেন। গাছ গুলো অনেক ভালো হয়েছে ও কিছু কিছু গাছে ফল আসা শুরু হয়েছে। তিনি আশা করেন এ বছর ভালো ফলন হবে। ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারলে তিনি লাভবান হতে পারবেন।টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা দুলাল হোসেন জানান, কৃষকদের আগাম সবজি চাষে উৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং মানসম্মত বীজ ব্যবহারের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবারও জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হবে। প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে কৃষকরা তাদের কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন অর্থাৎ ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সোয়েব মাহমুদ জানান, এ বছর টাঙ্গাইল জেলায় শীতকালীন সবজি চাষে ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টর কৃষি জমি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ২২০ মেট্রিকটন। কিছু কিছু এলাকায় অধিক লাভের আশায় কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করেছে। তবে আগামি অক্টোবর মাস থেকে শীতকালীন সবজি চাষে পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে পড়বেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে সবজি চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে এবং কৃষকরাও লাভবান হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলে দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে অসহায় দুস্থ, গরীব মানুষ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। যবুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৩৯ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। সুবিধাভোগীদের মধ্যে অসহায় ও দুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা এবং গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার জন্য এই অর্থ প্রদান করা হয়।টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব শামছুন নাহার স্বপ্না।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, ‘জেলা পরিষদ সবসময়ই সাধারণ এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে। মেধা বিকাশ ও দুস্থদের চিকিৎসায় এই অনুদান সামান্য হলেও তাদের জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’ জেলা পরিষদের এই ধরনের মানবিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা, কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী এবং উপকারভোগী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে বুধবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের মেইনে রোডে অবস্থিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির।
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিম-মাংসের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে : প্রতিমন্ত্রী টুকু
লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:কৃষির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের পোল্ট্রি খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। একই সঙ্গে প্রান্তিক খামারিদের মুরগি ও ডিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (BPICC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রি খাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মান নিশ্চিত করতে হবে। খামারিরা যেন তাদের উৎপাদিত ডিম ও মুরগির ন্যায্যমূল্য পান, আবার সাধারণ মানুষও যেন সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের ডিম ও মাংস কিনতে পারেন, সে বিষয়টি সমন্বয় করে এগোতে হবে।তিনি বলেন, ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়ানো গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং এর ফলে দামও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে পোল্ট্রি খাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং ডিম, মাংস ও পোল্ট্রি ফিডের মান নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, খামারি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে কাজ করলে এ খাত আরও শক্তিশালী হবে। দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও মানসম্মত আমিষের জোগান নিশ্চিত করতে পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (FIAB) ও বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (BPICC)-এর সভাপতি মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (BAB)-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, FIAB-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আহসানউজ্জামান, WPSA-BB-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, BPICC-এর সচিব এটিএম মোস্তফা কামাল এবং নরিশ (Nourish)-এর পরিচালক রফিকুল ইসলাম (বাবু)সহ পোল্ট্রি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কালোবাজারে পাচারকালে ৩৯৫ বস্তা সারসহ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার
মধুপুর প্রতিনিধি:কালোবাজারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া ৩৯৫ বস্তা সারসহ মিঠু নামে এক ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সার ও ট্রাক জব্দ করে মধুপুর থানায় রাখা হয়েছে। জব্দকৃত সারের আনুমানিক মূল্য চার লাখ ৩৯ হাজার ৪৫০ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার মেসার্স মেজবাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ১২৭ বস্তা টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও ২৬৮ বস্তা এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার শুক্রবার(৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পাচার করছিলেন। খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার জলছত্র এলাকা থেকে সারসহ ট্রাকটি আটক করে। এ সময় ট্রাকচালক মিঠু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে।কালোবাজারে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যরা হচ্ছেন- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকার মো. আবু ইসহাকের ছেলে মো. আসাদুজ্জামান এবং মো. রুবেল মিয়া নামে এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন। আসাদুজ্জামান মেসার্স মা-বাবা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। ওই ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক(এসআই) বিমলচন্দ্র পাইন বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি-তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রাক ও সার জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে চালক মিঠুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সার পাচারে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কালিহাতীতে সরকারের ১৫ কোটি টাকা গচ্চার আশঙ্কা!
মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কোনো প্রকার পানি প্রবাহ না থাকা সত্ত্বেও একটি পরিত্যক্ত ডোবার ওপর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। পানি প্রবাহহীন এই স্থানে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন করে সেতু নির্মাণকে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার ‘মহাপচয়’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো জনস্বার্থ ছাড়াই কেবল কাগজ-কলমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখানে সেতু না করে স্থানটি মাটি ভরাট করে সোজা সড়ক নির্মাণ করলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা কমবে, অন্যদিকে সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।সংশ্লিষ্ট সওজ বিভাগ ও দরপত্র সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নতুন একটি ৩৮ মিটার দীর্ঘ আরসিসি-পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য প্রথমে ১৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরবর্তীতে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ শেষে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ‘তুর্ন এন্টাপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে জানা যায়, প্রস্তাবিত সেতু এলাকার চারপাশে এখন ঘনবসতি এবং অসংখ্য পাকা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর গড়ে উঠেছে। ভৌগোলিক বাস্তবতায় এখানে কোনো নদী, খাল বা বিলের অস্তিত্ব নেই। এমনকি অর্ধশত বছর আগেই এই এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে এটি একটি সাধারণ ডোবা ছাড়া আর কিছুই নয়।উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম, আজগর আলী, শামীম মন্ডল সহ অনেকেই জানান, এমন একটি মৃত ডোবার ওপর পুরাতন জরাজীর্ণ সেতুটি ভেঙে নতুন করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি সেতু নির্মাণের এই বিশাল আয়োজন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এটিকে স্রেফ সরকারি অর্থের অপচয়ের একটি নতুন প্রকল্প বলে আখ্যায়িত করেছে স্থানীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ।এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বর্তমানে থাকা সেতুটির কারণে ব্যস্ততম এই আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড অংশে একটি বিপজ্জনক মোড়ের (ব্লাইন্ড স্পট) সৃষ্টি হয়েছে। এই ত্রুটিপূর্ণ বাঁকের কারণে প্রতিনিয়ত এখানে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ঝরছে তাজা প্রাণ। এছাড়া সেতুর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আশেপাশের বাণিজ্যিক এলাকার সার্বিক উন্নয়নও থমকে রয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের জোর দাবি, সেতুর পরিবর্তে এই স্থানে মাটি ভরাট করে সোজা ও প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হোক। এতে মহাসড়কটি নিরাপদ হবে, দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামবে এবং যানজটমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়ে নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ‘ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং’ (বিএমডব্লিউ)-এর নিয়মিত পরিদর্শন, সমীক্ষা ও টেকনিক্যাল প্রতিবেদন অনুযায়ীই এই সেতুটি পুনর্নিমাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক মহাসড়কের চেইনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ডিজাইন অনুমোদন করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে এই আত্মঘাতী ও অপচয়মূলক প্রকল্পটি দ্রুত পুনঃমূল্যায়ন করা হোক। সেই সাথে সেতুর পরিবর্তে সোজা সড়ক নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি মো. আবুল মনছুর জানান, রাষ্ট্রের টাকা অপচয়রোধসহ দুঘর্টনারোধে সেতুরস্থানে সোজা করে সড়ক নির্মাণ করা হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ হবে একই সঙ্গে সরকারি অর্থ জনগনের কাজে আসবে। যেখানে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা কমার বদলে আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরী খান জানান, কোন জলাশয় বন্ধ করার এখতিয়ার তাদের নেই। ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা কমবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।তিনি জানান, গত ৭ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন নতুন সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন।
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলের চমচম যাবে বিদেশে
বুলবুল মল্লিক:জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ি, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ির চমচম এবং স্থানীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্র্যান্ডিং করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ওই জমকালো উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে ওই ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তাঁতশিল্পের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো পৌর উদ্যানকে সাজানো হয়েছে এক অপরূপ সাজে। সারিবদ্ধ ২২টি স্টলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে টাঙ্গাইলের আদি ও আসল ঐতিহ্যের ছোঁয়া। মিষ্টিপ্রেমীদের জিভে জল আনতে স্টলে স্টলে শোভা পাচ্ছে কিংবদন্তিতুল্য পোড়াবাড়ির চমচম, রসালো রসমালাই, রসে টইটম্বুর কালোজাম এবং যুগ যুগ ধরে প্রসিদ্ধ দই-সন্দেশসহ নানা পদের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। মেলায় আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে জিআই স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ি। এছাড়া তাঁতি ও কারিগরদের তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্প এবং স্থানীয় কুটির শিল্প পণ্যের প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করছে।উদ্বোধনের পর সময় গড়ানোর সাথে সাথে মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বিকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের নিয়ে মেলায় ছুটে আসেন হাজারো মানুষ। উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যান।মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, একই ছাদের নিচে টাঙ্গাইলের খাঁটি ও বিখ্যাত সব মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার এবং ঐতিহ্যবাহী শাড়ি দেখার এই সুযোগ সত্যি প্রশংসনীয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে টাঙ্গাইলের শতবর্ষী ইতিহাস তুলে ধরতে এই আয়োজন দারুণ ভূমিকা রাখছে।আয়োজকদের মতে, এই সুইট ফেস্টিভ্যাল কেবল একটি মেলা নয়; এটি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক অনন্য মিলনমেলা। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মিষ্টি প্রস্তুতকারক, কারিগর, তাঁতশিল্পী ও তরুণ উদ্যোক্তারা এখানে তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও টাঙ্গাইলের পণ্যের এক বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী ওই প্রাণের উৎসব আগামি ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, টাঙ্গাইল একটি ভীষণ সম্ভাবনাময় জেলা। এই জেলার পর্যটন সম্ভাবনা অফুরন্ত। সেই সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে- যার অন্যতম সুইট ফেস্টিভ্যাল।তিনি জানান, এ উৎসবের তিনটি প্রধান লক্ষ্য হলো ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল হিসেবে শতবর্ষী মিষ্টি শিল্পকে বিশ্বে তুলে ধরা, ঐতিহ্যকে ধারণ করে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে জেলার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু এ জেলার নয়, বরং বাংলাদেশের গর্ব। টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচমকে বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লিটারে পাঁচ টাকা বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম
দৃষ্টি রিপোর্ট:বোতলজাত সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীদের মূল্য সমন্বয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে সরকারের কাছে ১০ টাকা বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কক্ষে ভোজ্যতলের ব্যবসায়ীরা বৈঠক করে। বৈঠকে লিটারপ্রতি ৫ টাকা তেলের মূল্য সমন্বয়ের অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এখন ৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে বাজারে এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম হবে ২০৪ টাকা। যা আগে ছিল ১৯৯ টাকা।এদিকে দাম বাড়ানোর পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে আমদানিকারকরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি দাম বাড়ানোর। এটা আমরা সমন্বয় করে দিয়েছি।বাণিজ্য সচিব বলেন, বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম আবার বাড়ানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা তখনকার বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।’নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পাশাপাশি সম্প্রতি চিনির দাম বাড়ার পর এবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।’
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪৮০৯ কোটি টাকা
দৃষ্টি ডেস্ক:আগস্ট মাসের ৩০ দিনে দেশে ২৮৩ কোটি বা ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রোববার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৯৮০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চলতি বছরের আগস্টের প্রথম ৩০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৩ কোটি ডলার। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ৩০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ।চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত দেশে ৫৬৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।চলতি আগস্টের প্রথম ২৯ দিনেও ৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এই ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল), বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক পিএলসি, বিদেশি খাতের ব্যাংক আল ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলে তিন প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে খাদ্যে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহার, বাসি খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (১৭ আগস্ট) শহরের বড় কালীবাড়ি রোড ও পার্ক বাজারে অভিযান চালিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ওই জরিমানা আদায় করেন। অভিযানে বড় কালীবাড়ি রোডের গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে উৎপাদিত দইয়ের মেয়াদের তারিখ পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দই ও মিষ্টান্ন উৎপাদনের দায়ে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া শ্রীকৃষ্ণ নিরামিষ ভোজনালয়কে খাদ্যে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহার ও বাসি খাবার সংরক্ষণের দায়ে ২০ হাজার টাকা এবং আদি ইন্দুটি দই ঘরকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১৭ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
বুলবুল মল্লিক:টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিং। জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৩৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২৩ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতির কারণে দিন-রাত জুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট- এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১০ মেগাওয়াট। অপরদিকে, গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১১৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি সরবরাহ পাওয়ায় জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১ বা ২ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। বাসাবাড়িতে ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় গরমে দিনভর চরম অস্বস্তিতে থাকতে হচ্ছে সব বয়সী মানুষকে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারছেন না- যার প্রভাব পড়ছে তাদের কর্মক্ষমতা ও স্বাস্থ্যে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে মিল-ইন্ডাস্ট্রিজ ও বড় বড় কলকারখানাগুলোতে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। এতে জ্বালানি খরচ জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই বাড়তি জেনারেটর খরচ বহন করতে না পেরে সরাসরি লোকসানের মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানের ব্যবসা-বাণিজ্যও।টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পেও লোডশেডিংয়ের কালো ছায়া পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দিনের বড় অংশজুড়ে তাঁত চালানো বন্ধ রাখতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, কর্মহীন হয়ে পড়ছেন সাধারণ তাঁতশ্রমিকরা। একই অবস্থা জেলার পোলট্রি খামারগুলোতেও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো যাচ্ছে না। তীব্র গরমে দম আটকে প্রতিদিন খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে ক্ষুদ্র খামারিরা বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।এটিএম লুঙ্গি ফেব্রিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ আর উৎপাদন বন্ধ মানে লোকসান। দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, পল্লী বিদুতের আওতায় জেলায় বিদ্যুৎ চাহিদা ২০০ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ পাচ্ছেন ১১৩ মেগাওয়াট। ঘাটতির কারনে ঘন ঘন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের(বিউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবাইদুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় সাময়িক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলে অগ্রণী ব্যাংকের রোড শো অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:‘লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ স্লোগানে টাঙ্গাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ‘রোড শো’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(১০ আগস্ট) শহরের ছয়আনি বাজারের টাঙ্গাইল শাখার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য ‘রোড শো’ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অগ্রনী ব্যাংক পিএলসি টাঙ্গাইল শাখা আয়োজিত অভিন্ন বাংলা কিউ আর (BANGLA QR) লেনদেনে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘রোড শো’তে অংশ নেন, অগ্রণী ব্যাংকের অঞ্চল প্রধান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান রাসেল আহম্মেদ, আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মাহফুজুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. নূর মোহাম্মদ রাজ্য প্রমুখ সহ আঞ্চলিক কার্যালয় ও টাঙ্গাইল শাখার সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী, গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।টাঙ্গাইল শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান রাসেল আহম্মেদ বলেন, ‘বাংলা কিউআর (BANGLA QR) এ লেনদেন করি, ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিনির্মানে এই আয়োজন। ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও জনবান্ধব করতে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অগ্রণী ব্যাংক। আধুনিক ব্যাংকিং সেবা ও ডিজিটাল লেনদেনে প্রসারের মাধ্যমে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি।
১০ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের ২৩লাখ টাকার অনুদান বিতরণ
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ, গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবাপ্রার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উপকারভোগীদের হাতে ২৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জেলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অনুদানপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী এবং অর্থাভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ সবসময় বদ্ধপরিকর। এই আর্থিক সহায়তা অসহায় পরিবারগুলোর সংকট কিছুটা হলেও লাঘব করবে। আগামিতেও এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
০৬ আগস্ট ২০২৬
ওয়ালটনের ক্রেতা সুরক্ষার অর্থ বিতরণ
দৃষ্টি রিপোর্ট: দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যের ব্র্যান্ড ওয়ালটন গ্রুপের কিস্তিতে পণ্য কেনা ক্রেতা সুরক্ষায় দেড় লাখ টাকা পেলেন মৃত শফিকুল ইসলামের দুই মেয়ে। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকালে টাঙ্গাইল শহরের পূর্ব আদালতপাড়াস্থ বড়কালিবাড়ী পুকুর পাড়ে ওয়ালটন প্লাজা-১ এর উদ্যোগে ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা’ নীতিতে মৃত্যু সহায়তার নগদ দেড় লাখ টাকা গ্রহণ করেন মরহুমের দুই মেয়ে নবনী ও লিভা। ওয়ালটন গ্রুপের ক্রেতা মৃত্যু সহায়তার টাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহ্ সালেহ্ মোহাম্মদ শাফী ইথেন, পৌরসভার ১৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. সুজাউল করিম মানিক, ওয়ালটন গ্রুপের চিফ ডিভিশনাল অফিসার(ডিভিশন-২) মো. শাহাদত হোসেন, ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার(ডিভিশন-২) মো. ওবায়দুর রহমান তালুকদার, প্রজেক্ট ইনচার্জ নাহিদ, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার(টাঙ্গাইল এরিয়া) এসএম হাসানুল আউয়াল, রিজিওনাল ক্রেডিট ম্যানেজার(টাঙ্গাইল এরিয়া) মো. রেজাউল করিম, ওয়ালটন প্লাজা আদালত রোড টাঙ্গাইলের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার অনুপ কুমার সাহা প্রমুখ। সহায়তা গ্রহণকালে মরহুম শফিকুল ইসলামের শ্বশুর ও ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মীর ওয়াজেদ হোসেন লিউ, মরহুমের বন্ধু ও বিশিষ্ট ফার্নিচার ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ ধর, মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সুমন ঘোষসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২৭ জুলাই ২০২৬
hhhs
dfhgkd
২৩ জুলাই ২০২৬
দুই লাখ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন বছরের বাজেট পাস
দৃষ্টি নিউজ: জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। যা আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হবে। নতুন বাজেটে কর, ভ্যাট ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়। এর আগে গতকাল (সোমবার) কয়েকটি সংশোধনীসহ অর্থবিল পাস করে জাতীয় সংসদ। সংশোধিত অর্থবিলে করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়ে কর ও শুল্কসংক্রান্ত সব প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নির্দিষ্টকরণ আইন ২০২৬ পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অনুকূলে বরাদ্দ দিয়ে মঞ্জুরি দাবি পাস করা হয়। ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সদস্যরা ১৩৪৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব প্রদান করেন। তার মধ্যে কিছু সংখ্যক ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনা করে তা নামঞ্জুর করা হয়। পরে সময় বাঁচানোর জন্য বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো প্রত্যাহার করে নিলে মঞ্জুরিগুলো দ্রুত পাস করা হয়। নির্দিষ্টকরণ বিলের মাধ্যমে পাস হলো নতুন বছরের বাজেট নিদিষ্টকরণ বিলে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য ব্যয় নির্বাহে রাষ্ট্রপতিকে ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকার অনধিক পরিমাণ অর্থ সংযুক্ত তহবিল হতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার মধ্যে সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়, গৃহীত হয় ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ কোটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, বাকি ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় হিসেবে রাখা হয়েছে। নির্দিষ্টকরণ বিল উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অন্যান্য মঞ্জুরি দাবিগুলো উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। আর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন। এর আগে গত সোমবার বেশকিছু সংশোধনী এনে অর্থ বিল ২০২৬ পাস করা হয়। গত বছরের তুলনায় ১৮.৭৩ শতাংশ বেড়েছে বাজেট ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাবে এবার বাজেটে যোগ হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে চলতি বাজেটের তুলনায় যা ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি, ইতিহাসের রেকর্ড বৃদ্ধি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা, যা এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাজেটে রাজস্ব খাত থেকে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা, এনটিআর খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বাজেটে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো আগামীতেও বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে বিদেশি উৎস থেকে ৪৬ শতাংশ অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে; যা জিডিপির ১ দশমিক ৭ শতাংশ। বাজেট ঘাটতির ৫৪ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো যা বরাদ্দ পেল মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর জন্য বরাদ্দগুলো হলো- রাষ্ট্রপতির কার্যালয় : ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, জাতীয় সংসদ : ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় : ৩,৮৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ : ১০৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট : ২৯১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় : ৪,৪০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় : ৫,০৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন : ১৩৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, অর্থ বিভাগ : ৮,৩০,৫৫১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় : ৩৭৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ : ৪,৬৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ : ৩,৫৬৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ : ৬৯,২৪৮ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার টাকা, পরিকল্পনা বিভাগ : ৩৬,২৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ : ২৩১ কোটি টাকা, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ : ৬৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় : ৩২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : ১,৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় : ৪২,৪৯৭ কোটি ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ : ৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, আইন ও বিচার বিভাগ : ২,১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : ৩১,০৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ : ৪৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় : ৪৬,৭৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ : ৫৭,৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় : ১৮,১১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ : ৪৯,৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ : ২,০৪৯ কোটি ২ লাখ টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় : ৩০,৪৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫,১৯৬ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় : ৪৬৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় : ৫,০৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় : ১,১৮৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ৮২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ২,৯৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় : ২,৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগ : ৪০,২৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ : ১,১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয় : ১,৬৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় : ৮৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় : ৫১১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ : ২,৩৮৯ কোটি ২ লাখ টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয় : ২৮,৮৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় : ২,৭২৭ কোটি ৫১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় : ২,২৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয় : ২,৪৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় : ১০,৫৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয় : ৩২,৪১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় : ১০,৩৪৯ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার টাকা, পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ: ৩৬,৯১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় : ৯৯৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, নৌ পরিবহন ৯,০৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় : ১,৮৮৪ কোটি ১১ লাখ টাকা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ : ২,১৪১ কোটি ২২ লাখ টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ১,৪৫৭ কোটি ৮২ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ : ১৪,৯৯৬ কোটি ২ লাখ টাকা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ৭,৫১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, দুর্নীতি দমন কমিশন : ১৯৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, সেতু বিভাগ : ২,৯০৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ : ১৮,৪৫৭ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ : ১৩,৪৬৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
৩০ জুন ২০২৬