অর্থনীতি

ডিম-মাংসের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে : প্রতিমন্ত্রী টুকু

ডিম-মাংসের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে : প্রতিমন্ত্রী টুকু

লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:কৃষির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের পোল্ট্রি খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। একই সঙ্গে প্রান্তিক খামারিদের মুরগি ও ডিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (BPICC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রি খাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মান নিশ্চিত করতে হবে। খামারিরা যেন তাদের উৎপাদিত ডিম ও মুরগির ন্যায্যমূল্য পান, আবার সাধারণ মানুষও যেন সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের ডিম ও মাংস কিনতে পারেন, সে বিষয়টি সমন্বয় করে এগোতে হবে।তিনি বলেন, ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়ানো গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং এর ফলে দামও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে পোল্ট্রি খাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং ডিম, মাংস ও পোল্ট্রি ফিডের মান নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, খামারি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে কাজ করলে এ খাত আরও শক্তিশালী হবে। দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও মানসম্মত আমিষের জোগান নিশ্চিত করতে পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (FIAB) ও বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (BPICC)-এর সভাপতি মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (BAB)-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, FIAB-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আহসানউজ্জামান, WPSA-BB-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, BPICC-এর সচিব এটিএম মোস্তফা কামাল এবং নরিশ (Nourish)-এর পরিচালক রফিকুল ইসলাম (বাবু)সহ পোল্ট্রি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

২ ঘণ্টা আগে

কালোবাজারে পাচারকালে ৩৯৫ বস্তা সারসহ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

কালোবাজারে পাচারকালে ৩৯৫ বস্তা সারসহ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

মধুপুর প্রতিনিধি:কালোবাজারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া ৩৯৫ বস্তা সারসহ মিঠু নামে এক ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সার ও ট্রাক জব্দ করে মধুপুর থানায় রাখা হয়েছে। জব্দকৃত সারের আনুমানিক মূল্য চার লাখ ৩৯ হাজার ৪৫০ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার মেসার্স মেজবাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ১২৭ বস্তা টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও ২৬৮ বস্তা এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার শুক্রবার(৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পাচার করছিলেন। খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার জলছত্র এলাকা থেকে সারসহ ট্রাকটি আটক করে। এ সময় ট্রাকচালক মিঠু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে।কালোবাজারে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যরা হচ্ছেন- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকার মো. আবু ইসহাকের ছেলে মো. আসাদুজ্জামান এবং মো. রুবেল মিয়া নামে এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন। আসাদুজ্জামান মেসার্স মা-বাবা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। ওই ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক(এসআই) বিমলচন্দ্র পাইন বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি-তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রাক ও সার জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে চালক মিঠুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সার পাচারে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালিহাতীতে সরকারের ১৫ কোটি টাকা গচ্চার আশঙ্কা!

কালিহাতীতে সরকারের ১৫ কোটি টাকা গচ্চার আশঙ্কা!

মু. আবিদ মল্লিক জয়:টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কোনো প্রকার পানি প্রবাহ না থাকা সত্ত্বেও একটি পরিত্যক্ত ডোবার ওপর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। পানি প্রবাহহীন এই স্থানে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন করে সেতু নির্মাণকে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার ‘মহাপচয়’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো জনস্বার্থ ছাড়াই কেবল কাগজ-কলমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখানে সেতু না করে স্থানটি মাটি ভরাট করে সোজা সড়ক নির্মাণ করলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা কমবে, অন্যদিকে সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।সংশ্লিষ্ট সওজ বিভাগ ও দরপত্র সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নতুন একটি ৩৮ মিটার দীর্ঘ আরসিসি-পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য প্রথমে ১৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরবর্তীতে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ শেষে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ‘তুর্ন এন্টাপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে জানা যায়, প্রস্তাবিত সেতু এলাকার চারপাশে এখন ঘনবসতি এবং অসংখ্য পাকা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর গড়ে উঠেছে। ভৌগোলিক বাস্তবতায় এখানে কোনো নদী, খাল বা বিলের অস্তিত্ব নেই। এমনকি অর্ধশত বছর আগেই এই এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে এটি একটি সাধারণ ডোবা ছাড়া আর কিছুই নয়।উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম, আজগর আলী, শামীম মন্ডল সহ অনেকেই জানান, এমন একটি মৃত ডোবার ওপর পুরাতন জরাজীর্ণ সেতুটি ভেঙে নতুন করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি সেতু নির্মাণের এই বিশাল আয়োজন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এটিকে স্রেফ সরকারি অর্থের অপচয়ের একটি নতুন প্রকল্প বলে আখ্যায়িত করেছে স্থানীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ।এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বর্তমানে থাকা সেতুটির কারণে ব্যস্ততম এই আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড অংশে একটি বিপজ্জনক মোড়ের (ব্লাইন্ড স্পট) সৃষ্টি হয়েছে। এই ত্রুটিপূর্ণ বাঁকের কারণে প্রতিনিয়ত এখানে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ঝরছে তাজা প্রাণ। এছাড়া সেতুর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আশেপাশের বাণিজ্যিক এলাকার সার্বিক উন্নয়নও থমকে রয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের জোর দাবি, সেতুর পরিবর্তে এই স্থানে মাটি ভরাট করে সোজা ও প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হোক। এতে মহাসড়কটি নিরাপদ হবে, দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামবে এবং যানজটমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়ে নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ‘ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং’ (বিএমডব্লিউ)-এর নিয়মিত পরিদর্শন, সমীক্ষা ও টেকনিক্যাল প্রতিবেদন অনুযায়ীই এই সেতুটি পুনর্নিমাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক মহাসড়কের চেইনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ডিজাইন অনুমোদন করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে এই আত্মঘাতী ও অপচয়মূলক প্রকল্পটি দ্রুত পুনঃমূল্যায়ন করা হোক। সেই সাথে সেতুর পরিবর্তে সোজা সড়ক নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি মো. আবুল মনছুর জানান, রাষ্ট্রের টাকা অপচয়রোধসহ দুঘর্টনারোধে সেতুরস্থানে সোজা করে সড়ক নির্মাণ করা হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ হবে একই সঙ্গে সরকারি অর্থ জনগনের কাজে আসবে। যেখানে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা কমার বদলে আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরী খান জানান, কোন জলাশয় বন্ধ করার এখতিয়ার তাদের নেই। ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা কমবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।তিনি জানান, গত ৭ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন নতুন সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন।

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের চমচম যাবে বিদেশে

টাঙ্গাইলের চমচম যাবে বিদেশে

বুলবুল মল্লিক:জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ি, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ির চমচম এবং স্থানীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্র্যান্ডিং করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ওই জমকালো উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে ওই ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তাঁতশিল্পের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো পৌর উদ্যানকে সাজানো হয়েছে এক অপরূপ সাজে। সারিবদ্ধ ২২টি স্টলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে টাঙ্গাইলের আদি ও আসল ঐতিহ্যের ছোঁয়া। মিষ্টিপ্রেমীদের জিভে জল আনতে স্টলে স্টলে শোভা পাচ্ছে কিংবদন্তিতুল্য পোড়াবাড়ির চমচম, রসালো রসমালাই, রসে টইটম্বুর কালোজাম এবং যুগ যুগ ধরে প্রসিদ্ধ দই-সন্দেশসহ নানা পদের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। মেলায় আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে জিআই স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ি। এছাড়া তাঁতি ও কারিগরদের তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্প এবং স্থানীয় কুটির শিল্প পণ্যের প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করছে।উদ্বোধনের পর সময় গড়ানোর সাথে সাথে মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বিকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের নিয়ে মেলায় ছুটে আসেন হাজারো মানুষ। উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যান।মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, একই ছাদের নিচে টাঙ্গাইলের খাঁটি ও বিখ্যাত সব মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার এবং ঐতিহ্যবাহী শাড়ি দেখার এই সুযোগ সত্যি প্রশংসনীয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে টাঙ্গাইলের শতবর্ষী ইতিহাস তুলে ধরতে এই আয়োজন দারুণ ভূমিকা রাখছে।আয়োজকদের মতে, এই সুইট ফেস্টিভ্যাল কেবল একটি মেলা নয়; এটি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক অনন্য মিলনমেলা। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মিষ্টি প্রস্তুতকারক, কারিগর, তাঁতশিল্পী ও তরুণ উদ্যোক্তারা এখানে তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও টাঙ্গাইলের পণ্যের এক বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী ওই প্রাণের উৎসব আগামি ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, টাঙ্গাইল একটি ভীষণ সম্ভাবনাময় জেলা। এই জেলার পর্যটন সম্ভাবনা অফুরন্ত। সেই সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে- যার অন্যতম সুইট ফেস্টিভ্যাল।তিনি জানান, এ উৎসবের তিনটি প্রধান লক্ষ্য হলো ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল হিসেবে শতবর্ষী মিষ্টি শিল্পকে বিশ্বে তুলে ধরা, ঐতিহ্যকে ধারণ করে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে জেলার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু এ জেলার নয়, বরং বাংলাদেশের গর্ব। টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচমকে বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লিটারে পাঁচ টাকা বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

লিটারে পাঁচ টাকা বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

দৃষ্টি রিপোর্ট:বোতলজাত সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীদের মূল্য সমন্বয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে সরকারের কাছে ১০ টাকা বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কক্ষে ভোজ্যতলের ব্যবসায়ীরা বৈঠক করে। বৈঠকে লিটারপ্রতি ৫ টাকা তেলের মূল্য সমন্বয়ের অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এখন ৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে বাজারে এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম হবে ২০৪ টাকা। যা আগে ছিল ১৯৯ টাকা।এদিকে দাম বাড়ানোর পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে আমদানিকারকরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি দাম বাড়ানোর। এটা আমরা সমন্বয় করে দিয়েছি।বাণিজ্য সচিব বলেন, বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম আবার বাড়ানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা তখনকার বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।’নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পাশাপাশি সম্প্রতি চিনির দাম বাড়ার পর এবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।’

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪৮০৯ কোটি টাকা

আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪৮০৯ কোটি টাকা

দৃষ্টি ডেস্ক:আগস্ট মাসের ৩০ দিনে দেশে ২৮৩ কোটি বা ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রোববার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৯৮০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চলতি বছরের আগস্টের প্রথম ৩০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৩ কোটি ডলার। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ৩০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ।চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত দেশে ৫৬৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।চলতি আগস্টের প্রথম ২৯ দিনেও ৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এই ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল), বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক পিএলসি, বিদেশি খাতের ব্যাংক আল ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে তিন প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা

টাঙ্গাইলে তিন প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিদপ্তরের জরিমানা

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে খাদ্যে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহার, বাসি খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (১৭ আগস্ট) শহরের বড় কালীবাড়ি রোড ও পার্ক বাজারে অভিযান চালিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ওই জরিমানা আদায় করেন। অভিযানে বড় কালীবাড়ি রোডের গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে উৎপাদিত দইয়ের মেয়াদের তারিখ পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দই ও মিষ্টান্ন উৎপাদনের দায়ে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া শ্রীকৃষ্ণ নিরামিষ ভোজনালয়কে খাদ্যে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহার ও বাসি খাবার সংরক্ষণের দায়ে ২০ হাজার টাকা এবং আদি ইন্দুটি দই ঘরকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

১৭ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

টাঙ্গাইলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

বুলবুল মল্লিক:টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিং। জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৩৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২৩ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতির কারণে দিন-রাত জুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট- এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১০ মেগাওয়াট। অপরদিকে, গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১১৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি সরবরাহ পাওয়ায় জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১ বা ২ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। বাসাবাড়িতে ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় গরমে দিনভর চরম অস্বস্তিতে থাকতে হচ্ছে সব বয়সী মানুষকে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারছেন না- যার প্রভাব পড়ছে তাদের কর্মক্ষমতা ও স্বাস্থ্যে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে মিল-ইন্ডাস্ট্রিজ ও বড় বড় কলকারখানাগুলোতে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। এতে জ্বালানি খরচ জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই বাড়তি জেনারেটর খরচ বহন করতে না পেরে সরাসরি লোকসানের মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানের ব্যবসা-বাণিজ্যও।টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পেও লোডশেডিংয়ের কালো ছায়া পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দিনের বড় অংশজুড়ে তাঁত চালানো বন্ধ রাখতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, কর্মহীন হয়ে পড়ছেন সাধারণ তাঁতশ্রমিকরা। একই অবস্থা জেলার পোলট্রি খামারগুলোতেও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো যাচ্ছে না। তীব্র গরমে দম আটকে প্রতিদিন খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে ক্ষুদ্র খামারিরা বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।এটিএম লুঙ্গি ফেব্রিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ আর উৎপাদন বন্ধ মানে লোকসান। দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, পল্লী বিদুতের আওতায় জেলায় বিদ্যুৎ চাহিদা ২০০ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ পাচ্ছেন ১১৩ মেগাওয়াট। ঘাটতির কারনে ঘন ঘন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের(বিউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবাইদুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় সাময়িক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।

১৪ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে অগ্রণী ব্যাংকের রোড শো অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলে অগ্রণী ব্যাংকের রোড শো অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট:‘লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ স্লোগানে টাঙ্গাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ‘রোড শো’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(১০ আগস্ট) শহরের ছয়আনি বাজারের টাঙ্গাইল শাখার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য ‘রোড শো’ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অগ্রনী ব্যাংক পিএলসি টাঙ্গাইল শাখা আয়োজিত অভিন্ন বাংলা কিউ আর (BANGLA QR) লেনদেনে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘রোড শো’তে অংশ নেন, অগ্রণী ব্যাংকের অঞ্চল প্রধান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান রাসেল আহম্মেদ, আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মাহফুজুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. নূর মোহাম্মদ রাজ্য প্রমুখ সহ আঞ্চলিক কার্যালয় ও টাঙ্গাইল শাখার সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী, গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।টাঙ্গাইল শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান রাসেল আহম্মেদ বলেন, ‘বাংলা কিউআর (BANGLA QR) এ লেনদেন করি, ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিনির্মানে এই আয়োজন। ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও জনবান্ধব করতে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অগ্রণী ব্যাংক। আধুনিক ব্যাংকিং সেবা ও ডিজিটাল লেনদেনে প্রসারের মাধ্যমে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি।

১০ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের ২৩লাখ টাকার অনুদান বিতরণ

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের ২৩লাখ টাকার অনুদান বিতরণ

দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ, গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবাপ্রার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উপকারভোগীদের হাতে ২৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জেলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অনুদানপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী এবং অর্থাভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ সবসময় বদ্ধপরিকর। এই আর্থিক সহায়তা অসহায় পরিবারগুলোর সংকট কিছুটা হলেও লাঘব করবে। আগামিতেও এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

০৬ আগস্ট ২০২৬

ওয়ালটনের ক্রেতা সুরক্ষার অর্থ বিতরণ

ওয়ালটনের ক্রেতা সুরক্ষার অর্থ বিতরণ

দৃষ্টি রিপোর্ট: দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যের ব্র্যান্ড ওয়ালটন গ্রুপের কিস্তিতে পণ্য কেনা ক্রেতা সুরক্ষায় দেড় লাখ টাকা পেলেন মৃত শফিকুল ইসলামের দুই মেয়ে। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকালে টাঙ্গাইল শহরের পূর্ব আদালতপাড়াস্থ বড়কালিবাড়ী পুকুর পাড়ে ওয়ালটন প্লাজা-১ এর উদ্যোগে ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা’ নীতিতে মৃত্যু সহায়তার নগদ দেড় লাখ টাকা গ্রহণ করেন মরহুমের দুই মেয়ে নবনী ও লিভা। ওয়ালটন গ্রুপের ক্রেতা মৃত্যু সহায়তার টাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহ্ সালেহ্ মোহাম্মদ শাফী ইথেন, পৌরসভার ১৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. সুজাউল করিম মানিক, ওয়ালটন গ্রুপের চিফ ডিভিশনাল অফিসার(ডিভিশন-২) মো. শাহাদত হোসেন, ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার(ডিভিশন-২) মো. ওবায়দুর রহমান তালুকদার, প্রজেক্ট ইনচার্জ নাহিদ, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার(টাঙ্গাইল এরিয়া) এসএম হাসানুল আউয়াল, রিজিওনাল ক্রেডিট ম্যানেজার(টাঙ্গাইল এরিয়া) মো. রেজাউল করিম, ওয়ালটন প্লাজা আদালত রোড টাঙ্গাইলের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার অনুপ কুমার সাহা প্রমুখ। সহায়তা গ্রহণকালে মরহুম শফিকুল ইসলামের শ্বশুর ও ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মীর ওয়াজেদ হোসেন লিউ, মরহুমের বন্ধু ও বিশিষ্ট ফার্নিচার ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ ধর, মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সুমন ঘোষসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২৭ জুলাই ২০২৬

hhhs

hhhs

dfhgkd

২৩ জুলাই ২০২৬

দুই লাখ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন বছরের বাজেট পাস

দুই লাখ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন বছরের বাজেট পাস

দৃষ্টি নিউজ: জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। যা আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হবে। নতুন বাজেটে কর, ভ্যাট ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়। এর আগে গতকাল (সোমবার) কয়েকটি সংশোধনীসহ অর্থবিল পাস করে জাতীয় সংসদ। সংশোধিত অর্থবিলে করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়ে কর ও শুল্কসংক্রান্ত সব প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নির্দিষ্টকরণ আইন ২০২৬ পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অনুকূলে বরাদ্দ দিয়ে মঞ্জুরি দাবি পাস করা হয়। ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সদস্যরা ১৩৪৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব প্রদান করেন। তার মধ্যে কিছু সংখ্যক ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনা করে তা নামঞ্জুর করা হয়। পরে সময় বাঁচানোর জন্য বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো প্রত্যাহার করে নিলে মঞ্জুরিগুলো দ্রুত পাস করা হয়। নির্দিষ্টকরণ বিলের মাধ্যমে পাস হলো নতুন বছরের বাজেট নিদিষ্টকরণ বিলে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য ব্যয় নির্বাহে রাষ্ট্রপতিকে ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকার অনধিক পরিমাণ অর্থ সংযুক্ত তহবিল হতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার মধ্যে সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়, গৃহীত হয় ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ কোটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, বাকি ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় হিসেবে রাখা হয়েছে। নির্দিষ্টকরণ বিল উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অন্যান্য মঞ্জুরি দাবিগুলো উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। আর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন। এর আগে গত সোমবার বেশকিছু সংশোধনী এনে অর্থ বিল ২০২৬ পাস করা হয়। গত বছরের তুলনায় ১৮.৭৩ শতাংশ বেড়েছে বাজেট ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাবে এবার বাজেটে যোগ হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে চলতি বাজেটের তুলনায় যা ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি, ইতিহাসের রেকর্ড বৃদ্ধি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা, যা এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাজেটে রাজস্ব খাত থেকে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা, এনটিআর খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বাজেটে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো আগামীতেও বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে বিদেশি উৎস থেকে ৪৬ শতাংশ অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে; যা জিডিপির ১ দশমিক ৭ শতাংশ। বাজেট ঘাটতির ৫৪ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো যা বরাদ্দ পেল মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর জন্য বরাদ্দগুলো হলো- রাষ্ট্রপতির কার্যালয় : ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, জাতীয় সংসদ : ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় : ৩,৮৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ : ১০৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট : ২৯১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় : ৪,৪০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় : ৫,০৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন : ১৩৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, অর্থ বিভাগ : ৮,৩০,৫৫১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় : ৩৭৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ : ৪,৬৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ : ৩,৫৬৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ : ৬৯,২৪৮ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার টাকা, পরিকল্পনা বিভাগ : ৩৬,২৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ : ২৩১ কোটি টাকা, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ : ৬৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় : ৩২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : ১,৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় : ৪২,৪৯৭ কোটি ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ : ৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, আইন ও বিচার বিভাগ : ২,১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : ৩১,০৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ : ৪৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় : ৪৬,৭৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ : ৫৭,৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় : ১৮,১১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ : ৪৯,৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ : ২,০৪৯ কোটি ২ লাখ টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় : ৩০,৪৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫,১৯৬ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় : ৪৬৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় : ৫,০৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় : ১,১৮৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ৮২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ২,৯৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় : ২,৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগ : ৪০,২৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ : ১,১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয় : ১,৬৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় : ৮৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় : ৫১১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ : ২,৩৮৯ কোটি ২ লাখ টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয় : ২৮,৮৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় : ২,৭২৭ কোটি ৫১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় : ২,২৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয় : ২,৪৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় : ১০,৫৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয় : ৩২,৪১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় : ১০,৩৪৯ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার টাকা, পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ: ৩৬,৯১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় : ৯৯৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, নৌ পরিবহন ৯,০৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় : ১,৮৮৪ কোটি ১১ লাখ টাকা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ : ২,১৪১ কোটি ২২ লাখ টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ১,৪৫৭ কোটি ৮২ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ : ১৪,৯৯৬ কোটি ২ লাখ টাকা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ৭,৫১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, দুর্নীতি দমন কমিশন : ১৯৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, সেতু বিভাগ : ২,৯০৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ : ১৮,৪৫৭ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ : ১৩,৪৬৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

৩০ জুন ২০২৬

বাজেট দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে :: সিপিডির মিডিয়া ব্রিফিং

বাজেট দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে :: সিপিডির মিডিয়া ব্রিফিং

দৃষ্টি নিউজ: আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাজেটের সামষ্টিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হবে। বাস্তবসম্মত ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে প্রাক্কলনগুলো করা হলে বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও এর বাস্তবায়নযোগ্যতা অনেক বেশি সুদৃঢ় হতো। শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনসহ সিপিডির গবেষক ও কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য ও অঙ্গীকারের সঙ্গে একমত হলেও এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বড় ম্যান্ডেট ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে বাজেটে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি, উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বাজেটে আমদানি প্রতিস্থাপক ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। আমদানি প্রতিস্থাপক শিল্পকে সুরক্ষা দিতে শুল্ক, এইচডি ও এআইটির মতো কর বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে রপ্তানিমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন শুল্ক হার কমানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পদ ও আয়ের পুনর্বণ্টনের চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক যানবাহন, সোলার প্যানেলসহ পরিবেশবান্ধব খাতে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়েই মূল প্রশ্ন রয়েছে। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের প্রথম ঝুঁকি হচ্ছে সরকারের প্রাক্কলনের ভিত্তি। সম্পদ আহরণ, বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, রপ্তানি-আমদানি কিংবা জিডিপি প্রবৃদ্ধি- সব ক্ষেত্রেই যে ভিত্তির ওপর হিসাব দাঁড় করানো হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষায়, এখানেই বাজেটের একটি বড় দুর্বলতা রয়েছে। বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের শৃঙ্খলা প্রয়োজন, সেখানে ভিত্তিটাই দুর্বল। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রায় এক দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক অবস্থানে থাকলেও বাজেটে বছর শেষে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে। আবার মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি থাকলেও তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সম্পদ আহরণে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব সংগ্রহ এবং প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতায় এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটের প্রাক্কলন এমন ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে যে চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনীতিতে হঠাৎ বড় ধরনের গতি ফিরে আসবে। রপ্তানি, আমদানি, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ ও মূল্যস্ফীতিসহ প্রায় সব সূচকে আকস্মিক উন্নতি হবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাক্কলনগুলো আরও বাস্তবসম্মত হলে বাজেটের শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হতো। কারণ সেপ্টেম্বর নাগাদ যখন বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যাবে, তখন বর্তমান প্রাক্কলনের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার বড় পার্থক্য দেখা যেতে পারে। সিপিডির এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য বাস্তবসম্মত ভিত্তি নির্ধারণ করা আরও সহজ ছিল। কারণ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। সরকার আগের সময়ের নানান প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতার উত্তরাধিকার পেয়েছে। তাই সেসব বাস্তবতা স্বীকার করে আরও বাস্তবসম্মত ভিত্তির ওপর বাজেট প্রণয়ন করলে তা অধিক গ্রহণযোগ্য হতো। তিনি বলেন, সরকারের জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ও উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে দ্বিমত নেই। তবে লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বণ্টন, সম্পদের বরাদ্দ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজেটের অনেক পদক্ষেপের সঙ্গে দ্বিমতের সুযোগ নেই। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে না পারলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ চাঙ্গা করার জন্য বাজেটে বিভিন্ন প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতার ওপর।

১২ জুন ২০২৬

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ

দৃষ্টি নিউজ: জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ করা হয়েছে। এরমধ্যে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামি অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। এ সময় বাজেট ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন করা হবে। অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। উল্লেখ্য যে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে আগামী অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে বর্তমানে ঋণ পরিশোধ ও সুদ পরিশোধ বাবদ সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব বাজেট ঘাটতির ওপরও পড়েছে। তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৯ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপির ৪ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়। এবার বাজেট ঘাটতি দেশের জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্নসমৃদ্ধ খাতে সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামোর আধুনিকায়নে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগের গুণগত মান নিশ্চিত করা, অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক বহুগুণক (মাল্টিপ্লায়ার) প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

১১ জুন ২০২৬

ইব্রাহিমাবাদ-টাঙ্গাইল রুটে জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর দাবি

ইব্রাহিমাবাদ-টাঙ্গাইল রুটে জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর দাবি

দৃষ্টি রিপোর্ট: দীর্ঘদিন ধরে রুট পরিবর্তনের কারণে জামালপুর আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে যাতায়াত সুবিধা থেকে বঞ্চিত টাঙ্গাইলের কালিহাতী, ভূঞাপুর, গোপালপুর, সরিষাবাড়ী সহ বেশ কয়েকটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। ট্রেনটির রুট পুনরায় পরিবর্তন করে ইব্রাহিমাবাদ-টাঙ্গাইল রুটে চালুর দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। জানা যায়, ২০২০ সালে জামালপুর থেকে সরিষাবাড়ী, তারাকান্দি ও ইব্রাহিমাবাদ রেলওয়ে জংশন স্টেশন হয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত জামালপুর আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরু করে। ট্রেনটিতে ১১০টি এসি চেয়ার ও ৫১০টি শোভন চেয়ারসহ মোট ৬২০টি আসনের ব্যবস্থা ছিল। ট্রেনটি চালুর পর জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। কিন্তু যমুনা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজের কারণে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ট্রেনটির রুট পরিবর্তন করা হয়। একই সঙ্গে যমুনা সেতু পূর্ব স্টেশনের ইয়ার্ড রিমডেলিং ও ট্র্যাক সুইচিং পরিকল্পনার আওতায় ইব্রাহিমাবাদ থেকে ভূঞাপুর স্টেশন পর্যন্ত সব ধরণের ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়। এলাকাবাসী জানায়, রুট পরিবর্তনের ফলে কালিহাতী, ভূঞাপুর, গোপালপুর, সরিষাবাড়ী, তারাকান্দি ও আশপাশের এলাকার মানুষ রেলসেবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আগে জামালপুরে যাতায়াত সহজ হলেও বর্তমানে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। এতে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া সহ সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ রুটে যাতায়াতকারী ময়মনসিংহের জুবায়ের আহমেদ, জামালপুরের কিবরিয়া সরকার, ভূঞাপুরের নিকরাইলের, আবুল হাসেম, মাসুদ, কায়সার সহ অনেকেই জানান, উন্নয়ন কাজের জন্য সাময়িকভাবে ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হলেও এখন উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষের দিকে। জামালপুর থেকে সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি-টাঙ্গাইলে হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের যে ট্রেনটি চালু ছিল। সেই ট্রেন পুনরায় চালু করে রেলসেবার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। জামালপুর এক্সপ্রেস পুনরায় আগের রুটে চালু হলে টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং কয়েক লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। কালিহাতী উপজেলার আলিপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী জানান, জামালপুর এক্সপ্রেস যখন এ রুটে চালু ছিল তখন এতদাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক ভালো ছিল। বিশেষ করে এখানকার মানুষের জামালপুর-সরিষাবাড়ীর সাথে একটা মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ট্রেন বর্তমানে চালু না থাকায় জামালপুরের সাথে সম্পর্কটাও কিছুটা ভাটা পড়েছে। যমুনা সেতু পূর্ব ইব্রাহিমাবাদ রেলওয়ে জংশন স্টেশনের মাস্টার (চুক্তিভিত্তিক) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এখনো এ রুটে ট্রেনটি চালু করা যাচ্ছে না। ইন্টারলগিং সিস্টেম এখনো চালু হয়নি। এদিকে রেল কর্তৃপক্ষও চালুর বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা দেয়নি। তিনি জানান, নন ইন্টারলক সিস্টেমে ভূঞাপুরের সাথে লোকাল দুটি চালু করা হয়েছে। অর্থাৎ কম্পিউটার ছাড়া এনালগ পদ্ধতিতে যেসব ট্রেন চলাচল করে সেরকম দুটি লোকাল ট্রেন চালু আছে। ইন্টারলগিংয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি। আন্তঃনগর ট্রেনগুলো ইন্টারলগিং ছাড়া অর্থাৎ কম্পিউটার ছাড়া চালানো যায় না। দ্রুত ইন্টারলগিংয়ের কাজ শেষ করে ট্রেনটি চালানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি জানান, জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি যতদ্রুত সম্ভব টাঙ্গাইল রুটে চলাচলে ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটির রুট পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যাত্রীরা দাবি জানাচ্ছেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতাগ্রহণের সাথে সাথেই এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দ্রুতই জামালপুরের সাথে টাঙ্গাইলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হবে ইনশাল্লাহ।

০৯ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইল চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বেনজির আহমেদ টিটু

টাঙ্গাইল চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বেনজির আহমেদ টিটু

দৃষ্টি রিপোর্ট: দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময় পর সরাসরি ভোটে টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি’র পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমে টিটু। শনিবার(৬ জুন) রাতে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে দুই বছর মেয়াদি টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি, ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। পরিষদের অন্য নির্বাচিত কর্মকর্তারা হচ্ছেন- ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি স্বপন ঘোষ, সহ-সভাপতি খন্দকার রাশেদুল আলম, মো. নুরুল আলম, দুলাল চন্দ্র সাহা ও সৈয়দ যুবায়ের আব্দুল্লাহ। এর আগে গত সোমবার(২ জুন) টাঙ্গাইল ক্লাব মিলনায়তনে পরিচালক পদে ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে পরিচালক পদে ‘এ’ শ্রেণিতে ১৮ জন এবং ‘বি’ শ্রেণিতে ১২ জন নির্বাচিত হন। ‘এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালকরা হচ্ছেন- বেনজীর আহমেদ টিটু, মোঃ নুরুল আলম, নাজমুল আহসান, শংকর সরকার, স্বপন ঘোষ, আখতার হোসেন খান, খন্দকার রাশেদুল আলম, তারেকুল ইসলাম (ঝলক), বিশ্বজিৎ কুমার সাহা (লিটন), আনবসুর রহমান চৌধুরী, সামসুর রহমান চৌধুরী, প্রভাত কুমার ধর, দুলাল চন্দ্র সাহা, খন্দকার আব্দুল মোকাদ্দেম, মির্জা জিয়াউর রহমান, মো. নুরুল ইসলাম (রবিন), মো. সরোয়ার হোসেন খান, মো. আব্দুল্লাহ হেল কাফি। ‘বি’ শ্রেণিতে নির্বাচিত ১২ জন পরিচালক হচ্ছেন- মো. রোকনউদ্দিন, সৈয়দ যুবায়ের আব্দুল্লাহ, ইকবাল হোসেন জুয়েল, আবু সাঈদ চৌধুরী, মো. ফয়জুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, কাজী শফিকুল ইসলাম (লিটন), মো. আরিফ হোসেন, মীর মিরাজ হোসেন, আজিম উদ্দিন রবিন, পলাশ চন্দ্র বসাক ও খন্দকার নাজমুল হায়দার (সৈকত)। টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্র জানায়, তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এ’ ও ‘বি’ উভয় শ্রণি থেকে নির্বাচিত ৩০ জন পরিচালকের মধ্য থেকে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করা হয়। প্রধান নির্বচন কমিশনার জেলা আ্যডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিন পর ভোটদানের সুযোগ পেয়ে সাধারণ ভোটাররা আনন্দিত। উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে পেরেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে সবাই খুশী। এমন গনতন্ত্রিক চর্চা যেন অব্যাহত থাকে। প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনের সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকতো সেই দলের নেতারা তাদের পছন্দের লোকদের দিয়ে পরিচালনা পরিষদ গঠন করে দিতেন। সাধারণ ভোটাররা ভোটদানের সুযোগ পেতেন না।

০৭ জুন ২০২৬

তিন দশক পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন সম্পন্ন

তিন দশক পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন সম্পন্ন

দৃষ্টি রিপোর্ট: দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) টাঙ্গাইল ক্লাব মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে ‘এ’ শ্রেণিতে ১৮ জন এবং ‘বি’ শ্রেণিতে ১২ জন পরিচালক পদে নির্বাচিত হন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ‘এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালকরা হচ্ছেন- বেনজীর আহমেদ, মো. নূরুল আলম, নাজমুল আহসান, শংকর সরকার, স্বপন ঘোষ, আখতার হোসেন খান, খন্দকার রাশেদুল আলম, তারেকুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ কুমার সাহা, আনবসুর রহমান চৌধুরী, সামসুর রহমান চৌধুরী, প্রভাত কুমার ধর, দুলাল চন্দ্র সাহা, খন্দকার আবদুল মোকাদ্দেম, মির্জা জিয়াউর রহমান, মো. নূরুল ইসলাম, মো. সরোয়ার হোসেন খান, মো. আবদুল্লাহ হেল কাফি। ‘বি’ শ্রেণিতে নির্বাচিত ১২ জন পরিচালক হচ্ছেন- মো. রোকনউদ্দিন, সৈয়দ যুবায়ের আবদুল্লাহ, ইকবাল হোসেন জুয়েল, আবু সাঈদ চৌধুরী, মো. ফয়জুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, কাজী শফিকুল ইসলাম (লিটন), মো. আরিফ হোসেন, মীর মিরাজ হোসেন, আজিম উদ্দিন রবিন, পলাশ চন্দ্র বসাক ও খন্দকার নাজমুল হায়দার। চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এ’ ও ‘বি’- উভয় শ্রেণি থেকে নির্বাচিত ৩০ জন পরিচালকের মধ্য থেকে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটনা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তিন দশকের বেশি সময় আগে। তার পর থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকত, সেই দলের নেতারা তাঁদের পছন্দের লোকদের দিয়ে পরিচালনা পরিষদ গঠন করে দিতেন। সাধারণ ভোটাররা ভোটদানের সুযোগ পেতেন না। এবার ভোট দিতে পেরে সাধারন ভোটারদের মধ্যে উৎফুল্লতা লক্ষ করা গেছে।

০৪ জুন ২০২৬

ঈদের ছুটিতে রাজশাহীর আমের বাজার এলোমেলো

ঈদের ছুটিতে রাজশাহীর আমের বাজার এলোমেলো

দৃষ্টি নিউজ: ঈদের ছুটির মন্দা প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর আমের বাজারে। এতে গুটি আমের দাম কমে মণপ্রতি ৭০০ টাকায় নেমে এসেছে। গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। তবে হিমসাগরের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি রয়েছে-মণপ্রতি ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে পরিবহন ও ক্রেতাসংকটের কারণে বাজার কার্যত এলোমেলো হয়ে গেছে। সোমবার(১ জুন) রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের মোকাম পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা যায়, চাষিরা ভ্যানে করে আমের ক্যারেট নিয়ে আসছেন। আড়তদাররা ভ্যানের ওপর থেকেই আম কিনছেন। নতুন ভ্যান এলেই ব্যবসায়ীরা গিয়ে আম দেখে দাম বলছেন। ফলে চাষিদেরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কম দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে। হাটে গোপালভোগ আম বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়- যা গত ২২ মে বাজারে ওঠার সময় ছিল প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। ১৫ মে থেকে বাজারে আসা গুটি জাতের আম তখন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা নেমে আসে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। ২৫ মে থেকে বাজারে উঠছে রানিপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ আম। বর্তমানে রানিপছন্দ খুবই সীমিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। লক্ষ্মণভোগ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে- যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ৩০ মে থেকে বাজারে আসা ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। পুঠিয়ার ভুবননগর গ্রামের আমচাষি জাহিদুল ইসলাম বলেন, এক মণ গুটি আম এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে এখন আর লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠছে না। চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদের ছুটির কারণে বাজারে ক্রেতাসংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি পরিবহন সেবা সীমিত থাকায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আম পাঠানোও ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়েছে। ব্যবসায়ী হযরত আলী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক কম। কোরবানির ঈদের কারণে বাজারে চাহিদা কমে গেছে। একই ধরনের মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী মো. রনি। তিনি বলেন, ঈদের সময় মানুষ মাংস নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আমের চাহিদা কমে গেছে। পরিবহন সমস্যাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আমচাষি আজিবুর রহমান বলেন, বর্তমান দামে উৎপাদন খরচও উঠছে না। তিনি বলেন, এই দামে আম বিক্রি মানে সরাসরি লোকসান। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের ছুটি শেষ হলে পরিবহন ও বাজার স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। এদিকে, রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহের সময়সূচি ঘোষণা করেছে কৃষি বিভাগ। ঘোষণা অনুযায়ী, ১০ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাংগো ও ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া পেকে গেলে সারা বছরই কাটিমন ও বারি আম-১১ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় বেশির ভাগ মুকুল টিকে গেছে। ফলে উৎপাদন ভালো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। এতে দাম নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হয়নি। দাম বর্তমানে যেটা থাকা দরকার, বাজারে সেটাই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

০২ জুন ২০২৬