লাবনী সিদ্দিকী, ঢাকা:
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। একই সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের তৎপরতা, মাদক, জমি দখল এবং আবাসিক হোটেলগুলোতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত একটি ফ্যাসিস্ট সরকার এই রাষ্ট্রটি ভোগদখল করে রেখেছিল। তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, জনগণের ওপর জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যাপক দুর্নীতি করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। সেই অন্ধকার অবস্থা থেকে আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার গঠিত হয়েছে। দেশের এই নতুন পরিস্থিতিতে আমাদের আন্তরিকতা ও চেষ্টার কোনো কমতি নেই। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রশাসনের সকলে মিলে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে।
ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে আমাদের আলাদাভাবে নজরদারি রাখতে হবে। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের অনেকে বর্তমানে ঢাকা সিটিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তারা যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে।’
রাজধানী ও আশপাশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে এখন একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন এবং জেলা সিভিল সার্জন। এছাড়া বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মাদক ও জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামি তিন মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্রের চাকরি করেন। তাই রাষ্ট্রকে কীভাবে আরও ভালো রাখা যায়, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই প্রশাসনের সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত।’