আজ- ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ শনিবার  সকাল ১১:১৪

ভূঞাপুরের চাঞ্চল্যকর ফরিদ হত্যায় আ’লীগের দুই নেতা জেল-হাজতে ॥ পুনরিমান্ড শুনানী ২১ মার্চ

 

দৃষ্টি নিউজ:

ভূঞাপুর উপজেলা আ’লীগ নেতা ফরিদ হত্যা মামলায় তাহেরুল ইসলাম তোতা এবং নুরুল ইসলাম সরকারকে শনিবার  বিকালে জেল-হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভূঞাপুর উপজেলা আ’লীগ নেতা ফরিদ হত্যা মামলায় তাহেরুল ইসলাম তোতা এবং নুরুল ইসলাম সরকারকে শনিবার বিকালে জেল-হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম ফরিদ হত্যা মামলায় উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম তোতা এবং অলোয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকারকে শনিবার(১৮ মার্চ) বিকালে আদালত জেল-হাজতে পাঠিয়েছে।
টাঙ্গাইল কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ভূঞাপুরের আ’লীগ নেতা ফরিদ হত্যা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার বিকালে তাহেরুল ইসলাম তোতা ও নুরুল ইসলাম সরকারকে আদালতে উপস্থিত করে আরো সাত দিনের পুনরিমান্ডের আবেদন করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম অঞ্জন কান্তি দাস আগামী ২১ মার্চ পুনরিমান্ডের বিষয়ে শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করে ওই দুই নেতাকে জেল-হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরআগে ফরিদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঢাকার গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার(১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম তোতা এবং অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকারকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন বুধবার(১৫ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফারজানা হাসনাতের আদালতে তাদেরকে হাজির করে পুলিশ ১০দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানী শেষে আদালত উভয়ের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অশোক কুমার সিংহ বলেন, ভূঞাপুরের আওয়ামীলীগ নেতা রকিবুল ইসলাম ফরিদ হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে কিশোর মাইনুল ইসলাম মাসুদ, শওকত রেজা সৈকত, মো. মকবুল হোসেন ও নাসির উদ্দিন রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা চারজনই টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রুপন কুমার দাসের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদেরকে জেল-হাজতে পাঠানো হয়। তাদের স্বীকারোক্তির পর ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম তোতা এবং অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকারকে গ্রেপ্তার করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কিন্তু তাদের দুজনকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এ জন্য আরো সাত দিনের পুনরিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত আগামী ২১ মার্চ পুনরিমান্ডের বিষয়ে শুনানীর দিন ধার্য করে ওই দুই আসামিকে জেল-হাজতে পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জবানবন্দিতে রকিবুল ইসলাম ফরিদকে কেন, কোথায়, কিভাবে হত্যা করেছে, কিভাবে হত্যার আলামত নষ্ট করেছে, হত্যার ঘটনায় কে অর্থ দিয়েছে, কে অর্থদাতাদের সঙ্গে কিলারদের সমন্বয় করেছে, কার কার কি কি লাভ হয়েছে ইত্যাদি সব বিষয়ে ঘটনার পূর্বাপর বর্ণনা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই হত্যাকান্ডে ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল হামিদ মিয়া ভোলা, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম তোতা ও অলোয়া ইউনিয়নের চেয়াম্যান নূরুল ইসলামের নাম ওঠে আসায় তারা সহ তাদের অনুসারীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপণে চলে যায়।
গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভূঞাপুর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম তোতা এবং অলোয়া ইউনিয়নের চেয়াম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর আসামি উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল হামিদ মিয়া ভোলাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মামলার সব খুঁটিনাটি বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অচিরেই আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রকাশ, গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সকালে ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম ফরিদের গলা কাটা লাশ তাঁর নিজ গ্রাম ভাড়ই মধ্যপাড়ার একটি পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার করা হয়। আগের দিন রাত সাড়ে নয়টার পর তিনি নিখোঁজ হন।
৬ ডিসেম্বর ফরিদের ভাই ফজলুল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ফজলুল করিম বাদী হয়ে ১৫ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে একটি সম্পূরক মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম তোতা, অপর যুগ্ম-আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য আবদুল হামিদ মিয়া ভোলা, অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সরকারসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। বিচারিক আদালত থানা ও আদালতে দায়ের করা মামলা দুটি একসঙ্গে তদন্তের আদেশ দেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno