আজ- ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ শনিবার  সকাল ১০:৫০

লতিফ সিদ্দিকীর আসনে ভোট মঙ্গলবার ॥ সেনা মোতায়েনের দাবি

 

দৃষ্টি নিউজ:

dristy-dir-40
প্রাজ্ঞ রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর পদত্যাগে শূন্য টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনে উপ-নির্বাচন ৩১ জানুয়ারি। রোববার(২৯ জানুয়ারি) মধ্য রাতে প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে। মঙ্গলবার(৩১ জানুয়ারি) ভোট গ্রহন অনুষ্ঠানে জেলা নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি গ্রহন করছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করেছে এনপিপি প্রার্থী ইমরুল কায়েস(আম)।
জানাগেছে, এ উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারি(নৌকা), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট(বিএনএফ)- এর প্রার্থী আতাউর রহমান খান(টেলিভিশন) ও ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির(এনপিপি) প্রার্থী ইমরুল কায়েস(আম) এই তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচার-প্রচারণার শেষ মুহুর্তে আ’লীগ প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারি ও এনপিপি প্রর্থী ইমরুল কায়েস নির্বাচনের মাঠে ছিলেন। অপর প্রার্থী বিএনএফ’র আতাউর রহমান খান(বড় ভাই) ভোট গ্রহনের তারিখ পরিবর্তনের আবেদন নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বি কোন শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় সরগরম হয়ে ওঠেনি নির্বাচনী এলাকা। নির্বাচনে এক প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী প্রচারণা চালালেও নির্বাচনী মাঠে কোন প্রভাব ফেলতে পারেননি। ভোটাররা এখন থেকেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে এমপি হিসেবে মেনে নিয়েছেন। কারণ তিনি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে ভোটাররা বিশ্বাস করেন।
গত ২৪ জানুয়ারি(মঙ্গলবার) দুপুরে নির্বাচন কমিশন ৩১ জানুয়ারি(মঙ্গলবার) ভোট গ্রহনের দিন ঘোষণা করার পর থেকে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে অবিরাম প্রচারণায় অংশ নেন। উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সভা, সমাবেশ ও ওঠান বৈঠক করে প্রচারণা চালান। বিএনএফ প্রার্থী আতাউর রহমান খান(বড় ভাই) ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি প্রচারণা চালান। ২৭ জানুয়ারি দুপুরে তিনি ভোট গ্রহনের সময় পিছিয়ে প্রচারণার সময় বাড়ানোর আবেদন নিয়ে ঢাকায় চলে যান। প্রচারণার শেষ মুহুর্তেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এনপিপি প্রার্থী ইমরুল কায়েস(আম) ২৭ জানুয়ারি প্রচারণায় নামেন। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি কালিহাতী পৌরসভা, বল্লা, পাইকড়া, সহদেবপুর, নাগবাড়ী, পারখী, বীরবাসিন্দা, কোকডহড়া, দশকিয়া, সল্লা, গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন, এলেঙ্গা পৌরসভা, কামান্না, পৌজান, বালিয়াটা, হাসড়া, তেজপুর, গন্ধিনা, রতনগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় নির্বাচনী সভা করেন।
প্রচারণার শেষ দিন রোববার(২৯ জানুয়ারি) বিকালে কালিহাতী কলেজ মাঠে আ’লীগ নেতা এবিএম নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নির্বাচনী শেষ জনসভায় বক্তব্য রাখেন, আ’লীগ প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারি, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বিকম সহ জেলা ও উপজেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে, রোববার(২৯) জানুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার রামপুর বাজারে বক্তব্য রাখেন, এনপিপি প্রার্থী ইমরুল কায়েস, ন্যাপ-ভাসানীর মহাসচিব হাসরত খান ভাসানী ও ন্যাপ-ভাসানীর টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আ. করিম।
আ’লীগ প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারি জানান, এ আসনে ২০১৫ সালের ২০ মার্চ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তখন থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিলম্ব হলেও নৌকার প্রচারণা থেমে থাকেনি, তাই ইসি ভোট গ্রহনের আগে প্রচারণার জন্য কম সময় দেওয়ায় নির্বাচনে কোন প্রভাব পড়বেনা। তিনি বলেন, কালিহাতীর মানুষ দীর্ঘদিন অভিভাবকহীন ছিল, উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। মঙ্গলবার(৩১ জানুয়ারি) অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহনে কালিহাতীবাসী তাকে এমপি হিসেবে রায় দেবেন।
এনপিপি প্রার্থী ইমরুল কায়েস জানান, প্রচার-প্রচারণার জন্য তিনি খুব অল্প সময় পেয়েছেন- যা দুইটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে প্রচারণার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা জরুরি। আমি সেনা মোতায়েন করার জন্য লিখিত আবেদন করেছি। জনগন ভোট দিতে পারলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
বিএনএফ প্রার্থী আতাউর রহমান খান মোবাইল ফোনে জানান, ভোট গ্রহনের তারিখ পরিবর্তনের আবেদন নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কালিহাতীতে তাঁর সংগঠন রয়েছে। ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি মাত্র পাঁচ দিন উপ-নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত সময় নয়। নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়নে একটি করে সভা করতেও নূন্যতম ১৫দিন সময় দরকার। তাই তিনি সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে দৌঁড়ঝাপ করছেন। তিনি প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানান।
এদিকে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ২৮ জানুয়ারি(শনিবার) দুপুরে কালিহাতী ডিগ্রি কলেজে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ। শাহনেওয়াজ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপে করতে যেখানে যে পদপে নেওয়া দরকার আপনারা তা নেবেন। নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে তিনি কালিহাতী সদরে বন বিভাগের রেস্ট হাউজে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম খান, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু নাসার উদ্দিন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ আহমদ ও কালিহাতী থানার ওসি খন্দকার আখেরুজ্জামান মিয়া।
জেলা নির্বাচন অফিসার ও উপ-নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা রোববার(২৯ জানুয়ারি) ১২টায় শেষ হচ্ছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা ভোট গ্রহনে অধীর অপেক্ষায় রয়েছি। সেনা মোতায়েনে করার বিষয়টি ইসির ঊর্ধতন কর্মকর্তারা দেখছেন, আমরা নির্দেশনা অনুয়ায়ী কাজ করছি।
কালিহাতী উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন, দুই লাখ ৯০ হাজার ৫৫জন। এরমধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ৪৬ হাজার ৮০০ এবং পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৩ হাজার ২৫৫জন। উপজেলার ১০৭টি ভোট কেন্দ্রের ৬৬১টি কক্ষে ৩১ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহন করা হবে।
প্রকাশ, নিউ ইয়র্কে এক সভায় বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃৃত এবং মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পর ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী পদত্যাগ করেন। এতে শূন্য হয়ে যায় ওই আসন। এই সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। এ আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেন কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তবে ঋণখেলাপের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
এর বিরুদ্ধে কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে তা ওই বছরের ১৮ অক্টোবর খারিজ হয়। এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট কাদের সিদ্দিকীর রিট আবেদনের ওপর রায় দেন। এতে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। ফলে স্থগিতাদেশ উঠে যায়। তখন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী বলেছিলেন, রায়ের পর টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো আইনগত বাধা থাকছে না। আর ওই উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না কাদের সিদ্দিকী। এরপর আসনটিতে ২০ মার্চ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগে আবেদন করেন কাদের সিদ্দিকী। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এর ফলে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ হারান তিনি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno