আজ- ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার  সকাল ১০:২২

লাল চা ভালো নাকি দুধ চা!

 

দৃষ্টি নিউজ:

বিশ্বজুড়ে যেসব পানীয় জনপ্রিয়, তার অন্যতম চা। ছোট-বড় সবার কমবেশি পছন্দের পানীয় এটি। বিশ্বজুড়ে নানা রকম চা উৎপাদিত হয়। বিভিন্ন উপায়ে চা প্রক্রিয়াকরণ করা হয়, যার ওপর নির্ভর করে এর গুণাগুণ। যেমন কালো চা, সবুজ চা, ইষ্টক চা, উলং বা ওলোং চা ও প্যারাগুয়ে চা। এ ছাড়া সাদা চা, হলুদ চা, পুয়ের চাসহ আরও বিভিন্ন ধরনের হারবাল চা রয়েছে।


চা অনেক আগে থেকেই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। বলা হয়, চা পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে, দেহের কোষের ক্ষয় রোধ হয়। চা যেমন হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়, তেমনি আবার ক্যানসার প্রতিরোধেও এর ভূমিকা রয়েছে।


কিন্তু কোন ধরনের চা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী? দুধ চা, নাকি লাল বা রং চা? দুধ চা ভালো নাকি লাল চা- এ নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, চিনি ছাড়া লাল চা শরীরের জন্য দারুন উপকারী। এটি চোখ ভালো রাখতে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে চোখের নানা ধরনের সমস্যা দূর করে।


গবেষণা বলছে, সকালে চিনি ছাড়া এক কাপ লাল চা খেলে শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে, শক্তিও পাওয়া যায়। কারণ লাল চায়ে রয়েছে ক্যাফেইন, কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম, মিনারেল, ফ্লোরাইড, ম্যাঙ্গানিজ ও পলিফেনল। এছাড়াও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ট্যানিন, গুয়ানিন, এক্সাথিন, পিউরিনও পাওয়া যায়।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা দিনে একবার করে লাল চা পান করেন তাদের চোখে গ্লুকোমা হওয়ার আশঙ্কা শতকরা ৭৪ ভাগ কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক দল লাল চা এবং গ্লুকোমা’র দারুণ যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। তবে গ্লুকোমার ঝুঁকি কমাতে লাল চায়ের কার্যকারিতার প্রাথমিক প্রমাণ মিললেও তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।


এই প্রসঙ্গে লণ্ডনের কিংস কলেজের এক অধ্যাপক ক্রিস হ্যামণ্ড বলেছেন, লাল চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য উপাদান আমাদের শরীরের জন্য দারুন উপকারী। আর বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চোখে গ্লুকোমা হওয়া এখন পরিচিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কারণে অন্ধত্বের সংখ্যাও বাড়ছে। এই ধরনের আবিষ্কার নিঃসন্দেহে সবার উপকার করবে।


গবেষকরা বলছেন, গ্লুকোমা রোগে আক্রান্ত হলে চোখের ভেতরে চাপ বাড়তে শুরু করে। ফলে, অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে। লাল চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ এবং নিউরো প্রোটেকটিভ কেমিক্যাল চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে।


চোখ ছাড়াও চিনি ছাড়া লাল চা হজমশক্তি বাড়ায়, ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়, মস্তিষ্কের ক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন কমাতে এবং ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতেও লাল চা কার্যকরী ভূমিকা রাখে।


অন্যদিকে, দুধ চা রক্তনালির প্রসারণ ঘটাতে ব্যর্থ। কারণ, দুধের মধ্যে থাকে ক্যাসেইন নামের একটি পদার্থ, যা চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাটেচিনকে বাধাগ্রস্ত করে। এতে চায়ে দুধ মেশালে চায়ের রক্তনালি প্রসারণের ক্ষমতা একবারেই চলে যায়। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচারের গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, চায়ের প্রভাবে কোষগুলো থেকে সাধারণের তুলনায় ১৫ গুণ বেশি ইনসুলিন নির্গত হয়।


ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন নির্গত হওয়া জরুরি। কিন্তু চায়ে দুধ মেশালে এই ইনসুলিন নির্গমনের হার কমতে থাকে। চায়ে যদি ৫০ গ্রাম দুধ মেশানো হয়, তাহলে ইনসুলিনের নির্গমন ৯০ শতাংশ কমে যায়। রং চা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু দুধ চা ততটা নয়।


চায়ে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন থাকে। চা ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে, রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে, কোষের ক্ষতি কমায় এবং কারডিওভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধ করে।

কিন্তু চায়ের মধ্যে দুধ মিশ্রিত করলে ভাস্কুলার সিস্টেম এর উপর উপকারী প্রভাব দূর হয়ে যায়। চায়ের সাথে দুধ মিশ্রিতকরণের ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ‘চায়ের সাথে কয়েক ফোঁটা দুধ মিশ্রিত করলে চায়ের গুণাগুণ নষ্ট হয়।’

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করেছে

 
 
 
 
 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
আশ্রম মার্কেট ২য় তলা, জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০।
ইমেইল: dristytv@gmail.com, info@dristy.tv, editor@dristy.tv
মোবাইল: +৮৮০১৭১৮-০৬৭২৬৩, +৮৮০১৬১০-৭৭৭০৫৩

shopno