দৃষ্টি নিউজ:

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে বাড়ছে ডাকাতি। ফলে মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের মাঝে আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে মহাসড়কে গুরুর ট্রাকে ডাকাতির ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি সদর থানায় ও সয়াবিন ভর্তি তেলের ট্রাকে ডাকাতির ঘটনায় ১ মার্চ মির্জাপুর থানায় মামলা হয়েছে।
মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব ঘিরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ডাকাতি বেড়ে যায়। তাই আসন্ন ঈদে মহাসড়কে পুলিশি তৎপরতা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের উপাদিক গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মো. সোলায়মান দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু কিনে ঢাকায় বিক্রি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গোলাম রাব্বি নীলফামারীর ডোমার বাসুনিয়া হাট থেকে ১১টি ষাড় কিনে ট্রাকে করে ঢাকায় নিচ্ছিলেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে গরুবাহী ট্রাকটি ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের রসুলপুর এলাকায় এলে ডাকাতরা পেছন থেকে একটি ট্রাক নিয়ে গরুবাহী ট্রাককে চাপ দেয়।
গরুবাহী ট্রাকটি থামালে অজ্ঞাত ৮-১০ জন ডাকাত ট্রাকচালক ও হেলপারকে বেঁধে তাদের খালি ট্রাকে তুলে দিয়ে ঢাকার দিকে রওনা দেয়। পরে তাদের গাজীপুরের শালনা এলাকায় ফেলে চলে যায়। ডাকাতদের বয়স ২০ থেকে ৪০ এর মধ্যে। ডাকাতরা ময়মনসিংহ ও সিরাজগঞ্জের ভাষায় কথা বলছিলেন। ১৪ লাখ টাকার গরুর পাশাপাশি ট্রাক চালকের কাছ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি সোলায়মান বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে, সিরাজগঞ্জ কাশিয়াহাটা গ্রামের তেল ব্যবসায়ী মো. শরিফুল ইসলাম ২৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ থেকে ৬০ ড্রাম সয়াবিন তেল ও সুপার তেল নিয়ে ট্রাকে করে সিরাজগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। তেলের বাজার মূল্য ৩১ লাখ টাকার বেশি। তেলবাহী ট্রাকটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কুরণী এলাকায় পৌঁছালে ৬ ডাকাত মাইক্রোবাস নিয়ে তাদের গতিরোধ করে। পরে ১ মার্চ শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন।
মধুপুরের জলছত্রের পিকআপভ্যান চালক লুৎফর রহমান বলেন, আনারস নিয়ে গাজীপুরের চৌরাস্তায় যাচ্ছি। শুনেছি ঈদের আগে আবার ডাকাতি শুরু হয়েছে। এতে রাতে গাড়ি চালাতে ভয় ও আতঙ্ক কাজ করে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করি।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন জানান, গরুর ট্রাকে ডাকাতির ঘটনায় ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শেরপুর থেকে তেলের ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
