আজ- মঙ্গলবার | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ | বিকাল ৪:১২
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১১ ফাল্গুন, ১৪৩২
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২

কালিহাতীতে পরকীয়ায় স্বামী খুন ॥ স্ত্রী ও প্রেমিক আটক

দৃষ্টি নিউজ:

সাথী খাতুন ও তার পরকীয়া প্রেমিক উজ্জল

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পরকীয়ার জেরে স্বামী তোফাজ্জল হোসেন তোতাকে খুনের ঘটনায় পুলিশ স্ত্রী সাথী খাতুন ও পরকীয়া প্রেমিক উজ্জলকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার(২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার পাথালিয়া এলাকা থেকে তাদেরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় নিহত তোফাজ্জল হোসেন তোতার ছোট ভাই তারা মিয়া বাদী হয়ে নিহতের স্ত্রী সাথী খাতুন(৩১) ও পাথালিয়া গ্রামের সেকান্দর আলীর ছেলে পরকীয়া প্রেমিক উজ্জল(২৯) এবং একই গ্রামের মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিলকে(৪৫) অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, তোফাজ্জল হোসেন তোতার স্ত্রী সাথী খাতুনের সাথে উজ্জলের পরকীয়া গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তা দৈহিক মেলামেশায় রূপ নেয়। বিষয়টি তোফাজ্জল হোসেন তোতা জানার পর উভয়কেই বাধা-নিষেধ দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ ডিসেম্বর সকালে রাজমিস্ত্রির কাজ করার উদ্দেশে তোফাজ্জল হোসেন তোতা বাড়ি থেকে বের হয়ে ফিরে আসে নাই মর্মে সাথী খাতুন ২০ ডিসেম্বর কালিহাতী থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরী(জিডি) করেন। এ খবর শুনে তোতার স্বজনরা তোফাজ্জল হোসেন তোতাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করতে থাকে। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে জানতে পারে ১৯ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তোফাজ্জল হোসেন পাথালিয়া বাজারে ঘুরাফেরা করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।

এদিকে আব্দুল জলিলের বাড়ির পাশে তোতার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়। পরদিন দুপুরে ওই গ্রামের মোকছেদ আলী তার বাড়ির পূর্ব পাশে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মাটির পাট ও স্ল্যাব পরিবর্তন করেন। এলাকাবাসী বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানায়। তোতার নিখোঁজ সংক্রান্ত বিষয়টি খোঁজাখুজি করতে থাকাবস্থায় উল্লেখিত বিষয়টি এলাকার লোকজনদের সন্দেহ হলে কালিহাতী থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে ২১ ডিসেম্বর(শনিবার) বিকালে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেপটিক ট্যাংক থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে। লাশটি দেখে স্থানীয় লোকজন নিখোঁজ তোতার লাশ বলে সনাক্ত করে। এ ঘটনায় শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার পাথালিয়া এলাকা থেকে স্ত্রী সাথী খাতুন ও প্রেমিক উজ্জলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হাসান আল মামুন জানান, গত বৃহস্পতিবার(১৯ ডিসেম্বর) রাতে তোফাজ্জল হোসেন তোতা নিখোঁজ হন। সে পরিপ্রেক্ষিতে তার স্ত্রী থানায় প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। ওই ডায়েরীর সূত্রধরে তোতা মিয়াকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে তার স্ত্রীসহ পরকীয়া প্রেমিক উজ্জল দুজন মিলে তোতাকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে রাখে। পুলিশ সেখান থেকে তোতার লাশ উদ্ধার করে।

শেয়ার করুন স্যোশাল মিডিয়াতে

Facebook
Twitter
LinkedIn
X
Print
WhatsApp
Telegram
Skype

সর্বশেষ খবর

এই সম্পর্কিত আরও খবর পড়