আজ- বুধবার | ৪ মার্চ, ২০২৬
১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ | সকাল ৭:৫৪
৪ মার্চ, ২০২৬
১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২
৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

খোলা আকাশের নিচে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান!

দৃষ্টি নিউজ:


টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে একটি বাড়ির আঙ্গিনায় খোলা আকাশের নিচে। বন্যায় বিদ্যালয়ের স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এমন দুর্ভোগের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের কাজকর্ম।
জানা যায়, ২০১৭ সালের বন্যায় নদীগর্ভে বিলীন হয় গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন। এরপর থেকে একটি বাড়ির আঙ্গিনায় খোলা আকাশের নিচে ওই বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে। ওই বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত থাকলেও চারজন শিক্ষক দিয়ে তাদের পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া, তিনটি শ্রেণির পাঠদান একই স্থানে চালানোয় শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী কেউই ভালোভাবে কারো কথা শুনতে পারেনা। বন্যার পর থেকে বিদ্যালয়টির এমন বেহাল দশা স্বত্তেও রোদ-বৃষ্টি, গরম-শীতের কনকনে হাওয়াকে চোখ রাঙিয়েই চলছে এর পাঠদান। ফলে একটু বৃষ্টি নামলেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।
অভিভাবক মো. সুরুজ মিয়া বলেন, আমরা খুবই বিপাকে পড়েছি। বাচ্চাদের খোলা আকাশের নিচে পড়ার জন্য পাঠাতে পারছিনা আবার ঘরে বসিয়ে রাখতে পারছিনা। এ পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে আমাদের দাবি দ্রুত একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রতিষ্ঠার পরই বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। বেশ কয়েকবার বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে গত ভাঙনের পর বিদ্যালয়টি পুন:নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এরপরও উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পড়ছে। ফলে কমে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এ অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন তারা।
গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আজম আলী জানান, বর্ষা মৌসুমের আগেই এ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা না হলে পাঠদান কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এ প্রসঙ্গে নাগরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন শেষে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেছি। এ ব্যতিত স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় প্রায় তিন লাখ টাকা বরাদ্দ প্রাপ্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই বরাদ্দ প্রাপ্ত ওই টাকায় বিদ্যালয়টির জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে টিনের ঘর নির্মাণ করা হবে।

শেয়ার করুন স্যোশাল মিডিয়াতে

Facebook
Twitter
LinkedIn
X
Print
WhatsApp
Telegram
Skype

সর্বশেষ খবর

এই সম্পর্কিত আরও খবর পড়