আজ- শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
২ মাঘ, ১৪৩২ | রাত ১০:৫২
১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
২ মাঘ, ১৪৩২
১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ২ মাঘ, ১৪৩২

টাঙ্গাইলের আদালতে দুই আসামির স্বীকারোক্তি

মহাসড়কে যুবতীকে দলবদ্ধ যৌন নিগ্রহ

দৃষ্টি নিউজ:

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্তবাসে যুবতীকে রাতভর যৌননিগ্রহ চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত বাস চালক ও চালকের সহযোগী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শুক্রবার(১৬ জানুয়ারি) সন্ধায় টাঙ্গাইলের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজমের আদালতে তারা জবানবন্দি দেয়। টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

 

 

 

 

টাঙ্গাইল কোর্ট ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন জানান, জব্দকৃত সাভার পরিবহন লিমিটেড নামে বাসের চালক মো. আলতাফ (২৫) ও চালকের সহযোগী মো. রাব্বি(২১) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজম জবানবন্দি গ্রহণ করে তাদেরকে জেল-হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাদেরকে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। কোর্ট ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন প্রাথমিকভাবে আর কোন তথ্য জানাতে অপরগতা প্রকাশ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আলতাফ দিনাজপুর সদর উপজেলার নরদেরাই গ্রামের বাসিন্দা। সাগরের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরহাট গ্রামে এবং রাব্বি হবিগঞ্জের সদর উপজেলার আব্দুল পাগা গ্রামের বাসিন্দা।

 

 

 

 

 

 

 

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আলতাফ দিনাজপুর সদর উপজেলার নরদেরাই গ্রামের বাসিন্দা। সাগরের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরহাট গ্রামে এবং রাব্বি হবিগঞ্জের সদর উপজেলার আব্দুল পাগা গ্রামের বাসিন্দা।

 

 

 

 

 

 

এরআগে গত বুধবার(১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকা থেকে আশুলিয়ায় যাওয়ার জন্য ওই যুবতী সাভার পরিবহন লিমিটেড নামক একটি বাসে ওঠেন। এ সময় বাসে আরও দুজন যাত্রী ছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর ওই দুই যাত্রী বাস থেকে নেমে যান। এ সময় ওই যুবতীকে একা পেয়ে চালক আলতাফ, হেলপার সাগর ও চালকের সহযোগী রাব্বি তার উপর যৌন নিগ্রহ চালান। এ সময় যৌননিগ্রহের(ধর্ষণের) দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করা হয়। পরে সাভার, আশুলিয়া ও চন্দ্রা এলাকার বিভিন্ন সড়কে সারা রাত বাস নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন। চিৎকার করলে যৌননিগ্রহের(ধর্ষণের) ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং যুবতীর মুঠোফোন ও কানের দুলও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

বাসটি বৃহস্পতিবার(১৫ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় থামে। এ সময় হাইওয়ে পুলিশের টহল দল বাসটির কাছে গেলে ওই যুবতী কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং পুলিশের কাছে যৌননিগ্রহের(ধর্ষণের) বিষয়টি বলেন। তখন যুবতীকে উদ্ধারের পাশাপাশি চালক, হেলপার ও চালকের সহযোগীকে আটক করে হাইওয়ে পুলিশ টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করে। পাশাপাশি বাসটিও জব্দ করা হয়। এ সময় জব্দকৃত বাসটিও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

 

 

 

 

 

 

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রুহুল আমিন জানান, অভিযুক্তদের আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর ওই যুবতী(ভিকটিম) বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই যুবতীকে(ভিকটিম) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেডিকেল টেস্টের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং শুক্রবার বিকালে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই যুবতী(ভিকটিম) হাসপাতালে যাওয়ার পর ওইদিন রাত দশটার দিকে মেডিকেল টেস্ট করা হয়েছে। মেডিকেল টেস্টে ঘটনার আলামত পাওয়া গেছে ওই যুবতী হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন।

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন স্যোশাল মিডিয়াতে

Facebook
Twitter
LinkedIn
X
Print
WhatsApp
Telegram
Skype

সর্বশেষ খবর

এই সম্পর্কিত আরও খবর পড়