দৃষ্টি নিউজ:

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের বাবনাপাড়া (বটতলা সংলগ্ন) গ্রামে বাক প্রতিবন্ধী কবির আহম্মেদের বসতবাড়ির জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই নৌ বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে প্রতিবন্ধী কবির আহম্মেদ টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
জানাগেছে, নাগরপুর বাবনাপাড়া গ্রামের মরহুম ডা. আবুল কাশেমের ৭ সন্তানের মধ্যে বাক প্রতিবন্ধী(বধির) কবির আহম্মেদ তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়। তাদের পৈত্রিক বাড়িটি নাগরপুরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় প্রতি শতাংশ ভূমির মূল্য ২৫-৩০ লাখ টাকা।
মরহুম ডা. আবুল কাশেমের বাড়িটি বাবনাপাড়া মৌজার ২২৬৬ হাল খতিয়ানের ২২৩৭ হাল দাগে ৮২ শতাংশ ভূমির উপর ব্যস্ততম সড়কের পাশে নির্মিত। ব্যস্ততম সড়কের পাশে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবন গড়ে উঠেছে।
বসত বাড়িটি পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা হওয়ায় সড়কের পাশ থেকে মরহুম ডা. আবুল কাশেমের তিন ছেলে সন্তান সামর্থানুযায়ী ঘর তুলে দোকান ভাড়া দিয়েছিল। বর্তমানে দোকান ঘর ভেঙ্গে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
বড় ছেলে মো. কবির আহম্মেদ বাক প্রতিবন্ধী হওয়ায় কৌশলে চতুরতার সাথে তাকে বাড়ির মাঝ থেকে পৈত্রিক অংশ নামকাওয়াস্তে বুঝিয়ে দিয়ে অন্য দুই ভাই সড়কের পাশে পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।
দুই ভাইয়ের মধ্যে নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি ও অপর ভাই এসএম তারেক মাহমুদ বাড়ির লম্বালম্বি ১৭.৬৭ শতাংশ হারে ভূমি নিয়েছেন এবং বড় ভাই বাক প্রতিবন্ধী কবির আহম্মেদকে দিয়েছেন ১৫.৬৭ শতাংশ।
পরে নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে বোনদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাক প্রতিবন্ধী কবির আহম্মেদের দুই শতাংশ জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।
প্রতিবন্ধী কবির আহম্মেদ বাঁধা দেওয়ায় মো. নাসির উদ্দিন তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দেন। প্রতিবন্ধী কবির আহম্মেদের মা ও বোনদেরকে মো. নাসির উদ্দিন ইতোপূর্বে পিটিয়ে আহত করেছেন। তার ভয়ে অন্যরা কবির আহম্মেদের পক্ষে কথা বলতে সাহস পান না।
ছোট ভাই এসএম তারেক মাহমুদ জানান, তার মেঝ ভাই মো. নাসির উদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবন্ধী বড় ভাইয়ের জায়গা দখল করে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, তিনি প্রতিবন্ধী ভাইয়ের জায়গা দখল করেননি। তার ছোট ভাই এসএম তারেক মাহমুদ সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক।
তারেক মাহমুদই প্রতিবন্ধী ভাইয়ের সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়ে সমাধানের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত ই জাহান জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। অভিযোগের তদন্ত করে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
