জেলার রাজনীতিতে তোলপাড়
দৃষ্টি নিউজ:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ ও টাঙ্গাইল-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম সমর্থন দেওয়ায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার(১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের বিশেষ কর্মীসভায় বঙ্গবীর ওই সমর্থন ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনে তাঁর বড় ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে তিনি সমর্থন করেছেন। সেলক্ষে আগামি নির্বাচনে তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার জন্য স্ব স্ব স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ নিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, বঙ্গবীরের এহেন অবস্থান জেলার অন্য ৬টি সংসদীয় আসনেও পড়বে।
বঙ্গবীরের সখীপুরস্থ দীপ কুড়ি কুশি কুটিরে দলের বিশেষ কর্মী সভায় কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যেহেতু আমরা দলীয়ভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যায় নাই- আমাদের কোনকিছু করা উচিত না। তারপরও আমি ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচন করতে চাই। যেহেতু দাড়িয়াপুরের চেয়ারম্যান আসিফকে গ্রেপ্তার করিয়েছে আহমেদ আযম খান আবার তাকে জেল থেকে বের করেও এনেছে আহমেদ আযম খান। এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটাক্ষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তার সমর্থকরা সখীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবীবের ওপর হামলা করেছে। তাঁর এই ধরণের অপকর্ম বন্ধ করতে আমি টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রাসেলের নির্বাচন করতে চাই।’ এ ছাড়া গত রমজান মাসে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ইফতার মাহফিল করতে না দেওয়ার ঘটনাকেও তিনি আহমেদ আযম খানের বিরোধিতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বঙ্গবীর বলেন, ‘বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখীপুর) আসনে দলীয় প্রার্থী আহমেদ আযম খান নিজেকে ‘বাতেন বাহিনীর’ মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাসাইল-সখীপুরে কাদেরিয়া বাহিনী ছাড়া কারো অস্তিত্ব ছিলনা। তিনি চরম মিথ্যাবাদী। আমি মিথ্যাবাদীকে কখনো সমর্থন করতে পারিনা, মহান আল্লাহও মিথ্যাবাদীকে ঘৃণা করেন। আহমেদ আযম খান পাকিস্তানি হানাদারদের চেয়ে খারাপ। আমি তারেক রহমানের ধানের শীষের নির্বাচন করতে যেতে পারি, কিন্তু ভুলেও আহমেদ আযম খানের নির্বাচনকে সমর্থন করবোনা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তারেক রহমানের পক্ষে জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান নিলেও এই আসনে আহমেদ আযম খানের বিরোধিতা করব। তিনি এমপি হলে বাসাইল-সখীপুরের উন্নয়ন হবে না বরং এলাকার ও আমাদের দলের ক্ষতি হবে। সে কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল এমপি হলে অন্তত আমাদের ক্ষতি হবে না।’
কাদের সিদ্দিকী তার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘সংসদে যাতে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা যায়- এইজন্য আমি বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছি। এতে আমার রাজনীতি থাকুক আর নাই থাকুক। আমি নির্বাচনে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলার জন্য কালিহাতীতে প্রচারণায় সাপোর্ট দিয়েছি।’
টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখীপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করা প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের তোমাদের নেতারা যে অন্যায় করেছে, তারা আল্লাহর কাছে মাফ চাইলে আল্লাহ যেভাবে মাফ করে পুরো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধে তোমাদের ভূমিকার জন্য মাফ চাইলে আমি তোমাদের সবচেয়ে পক্ষের লোক হতাম। কিন্তু আমি তো স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে থাকতে পারিনা। আমি মুক্তিযোদ্ধা। দেশকে স্বাধীন করেছি। আমি স্বাধীনতাকে বুকে নিয়ে কবরে যেতে চাই।’
একপর্যায়ে তিনি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পতন নিয়ে বলেন, মহান আল্লাহকে না মানার কারণেই তার পতন হয়েছে। তার মধ্যে অহমিকা ভর করেছিল। তিনি মানুষকে মানুষ মনে করেন নাই- তাই আল্লাহর তরফ থেকে তার পতন হয়েছে।
সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুস সবুর খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত বিশেষ কর্মীসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস সিকদার, গাজীপুর জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুর রহমান, জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম সরকার, কালিহাতী উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ইথার সিদ্দিকী, বাসাইল উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি রাহাত খান টিপু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না। এরই মধ্যে টাঙ্গাইল-৪ ও টাঙ্গাইল-৮ এ দুটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গণে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
