ফয়সাল ও আলমগীরকে ১১ দিনের রিমান্ডের নির্দেশ দিল্লির আদালতের

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম এবং আলমগীর হোসেনকে ১১ দিনের এনআইএ রিমান্ডের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত।
গত সোমবার ওই দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে যায় ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। মঙ্গলবার তাদের দিল্লিতে এনআইএ'র বিশেষ আদালতে তোলা হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টের অতিরিক্ত সেশন জজ প্রশান্ত শর্মা তাদের ১১ দিনের এনআইএ রিমান্ডের নির্দেশ দেন।
এনআইএ সূত্র জানায়, আদালতের সিনিয়র পাবলিক প্রসিকিউটর রাহুল ত্যাগী ওই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যাবতীয় নথি দাখিল করে জানান, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, ফলে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আনা উচিত।
উল্লেখ্য, ৭ ও ৮ মার্চ মধ্যবর্তী সময় ফয়সাল ও আলমগীরকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
পরবর্তী সময়ে তাদের বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে প্রথমে ১৪ দিনের এসটিএফ রিমান্ডের নির্দেশ দেন আদালত। সেই রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ২২ মার্চ বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে আদালত তাদের উভয়কেই ১২ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজত (কারাগার হাজতবাস) নির্দেশ দেয়।
পরে এই মামলায় যুক্ত হয় এনআইএ। ওই দুই অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে গত সোমবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে এনআইএ আবেদন করে।
গত ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে গুলি করে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
