ছুটি শেষে দর পতনে লেনদেন শুরু

পাঁচ দিনের জন্য ইরানে সামরিক হামলা স্থগিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার পর দর বেড়েছে বিশ্বের সব শেয়ারবাজারে। তবে ঢাকার বাজার উল্টো পথে। ঈদের টানা সাত দিনের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে বড় দর পতন হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া দুই-তৃতীয়াংশ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। এতে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স হারিয়েছে প্রায় ৬৯ পয়েন্ট বা সোয়া ১ শতাংশের বেশি, নেমেছে ৫২৮৫ পয়েন্টের নিচে।
এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস থেকে। কেউ কেউ বলেছেন, শেয়ারদর কিছুটা কমতে পারে, এমন ধারণা আগেই করেছিলেন তারা। আশাবাদীদের অভিমত, ট্রাম্পের ঘোষণার পর ঊর্ধ্বমুখী ধারাতে শেয়ারবাজারের লেনদেন শুরু হবে এমন প্রত্যাশা ছিল তাদের।
দর পতন হতে পারে– এমন ধারণা পোষণকারীদের যুক্তি, ঈদের ছুটির আগের এক সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী ছিল অধিকাংশ শেয়ারের দর। তাতে সূচকও বেড়েছিল প্রায় সাড়ে ৩০০ পয়েন্ট। স্বাভাবিকভাবে ছুটি শেষে লেনদেনের শুরুতে মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রির চাপ থাকার শঙ্কা ছিল। আবার ঈদের ছুটির পর বরাবরই বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কম থাকে।
বিপরীতে আশাবাদীদের যুক্তি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি করেছিল, যুদ্ধ সাময়িক স্থগিত বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সে ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি এনেছে। যদিও ইরান বলেছে, বন্ধুরাষ্ট্রদের থেকে কিছু প্রস্তাব এলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ স্থগিতের কোনো আলোচনা হয়নি।
এমন বিপরীতমুখী ভাষ্যের পরও বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। জ্বালানি তেলের দাম সোমবার ১৩ শতাংশ কমে যায়, যদিও মঙ্গলবার বেড়েছে ৩ শতাংশ। তবে সোমবারের পর গতকালও বিশ্বের প্রায় সব শেয়ারবাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
রয়টার্স প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল চীন, জাপান, হংকং, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার সব বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। হংকংয়ের হ্যাং স্যাং সূচক ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ, জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া চীনের সাংহাই এসই কম্পোজিট সূচক ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং ভারতের সেনসেক্স সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
অন্যদিকে গতকাল ঢাকার শেয়ারবাজারে কেনাবেচা হওয়া ৩৫৩ কোম্পানির মধ্যে ২৪০টির শেয়ার দর হারায়। বেড়েছে ৮৬টির এবং অপরিবর্তিত থাকে ২৭টির দর। প্রকৌশল, সিরামিক এবং চামড়া ছাড়া বাকি সব খাতের বেশির ভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে। গড়ে সর্বাধিক আড়াই শতাংশ হারে দর হারিয়েছে ব্যাংক, আর্থিক খাতের ৫৪ কোম্পানির শেয়ার। বীমা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ খাতের ১১৬ কোম্পানির মধ্যে ২১টির কম-বেশি দর বৃদ্ধির পরও গড়ে এসব খাত দর হারিয়েছে ১ থেকে সোয়া ১ শতাংশ পর্যন্ত।
প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, ব্র্যাক, সিটিসহ ব্যাংক খাতের বড় শেয়ারগুলোর দর হারানো বাজারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সক্রিয় শেয়ারগুলোর অন্যতম রবির দরও কমেছে লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের পর। ফলে সূচক নিম্নমুখী হয়। সম্ভবত সূচকে পতন দেখে আতঙ্কে অন্য সব শেয়ারের ক্রেতা কমে যাওয়ায় দর পতন হয়েছে।
মনিরুজ্জামান বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্বের অন্য সব শেয়ারবাজার ইতিবাচক হওয়ার কারণ সেগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীনির্ভর, যারা জেনে বুঝে শেয়ার কেনাবেচা করেন। বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীনির্ভর হওয়ায় তারা সূচকের পতন দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে শেয়ার বেচে দেন।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইএক্স সূচকের প্রায় ৬৯ পয়েন্ট পতনের মধ্যে ব্যাংক খাতের কারণেই কমেছে ৪২ পয়েন্ট। মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড খাত ছিল বেশ ঊর্ধ্বমুখী। তালিকাভুক্ত ৩৬ ফান্ডের মধ্যে ৩৪টির দর গড়ে ৬ শতাংশ হারে বেড়েছে, যার ২৪টির দর দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। এ ছাড়া দর পতন সত্ত্বেও ডিএসইতে শেয়ার কেনাবেচা ৩২ কোটি টাকা বেড়ে ৪৯২ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
সম্পর্কিত খবর

ঋণ বিতরণে এক হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে বিএইচবিএফসি
২৬/০৩/২০২৬

স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ১৫ হাজার টাকা
২৬/০৩/২০২৬

ঈদের মাসে ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৩ কোটি ডলার
২৬/০৩/২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জরুরি সহায়তার ঘোষণা এডিবির
২৬/০৩/২০২৬

টানা সাত দিন বন্ধের পর খুলল ব্যাংক
২৬/০৩/২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বড় কিছু প্রকল্প বাদ পড়ছে
২৬/০৩/২০২৬