আজ-বুধবার ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২, ২০ শাওয়াল ১৪৪৭
DristyTV

মির্জাপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি

D
Dristy TVপ্রকাশ: ৮ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩
মির্জাপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি

মির্জাপুর প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১০নং গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ৭ ইউপি সদস্য। সরকারি বরাদ্দ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের তথ্য উল্লেখ করে তাকে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. রাফিউল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা হচ্ছেন- ২নং ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ডের মজিবর রহমান, ৭নং ওয়ার্ডের লিটন হোসেন, ৮নং ওয়ার্ডের লুৎফর রহমান, ৯নং ওয়ার্ডের মো. আলাউদ্দিন, ১, ২, ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের শিউলি আক্তার ও ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য সেলিনা আক্তার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোড়াই ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবীর গোপালপুর উপজেলার কলেজছাত্র ইমন হত্যা মামলায় আসামি হন। এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আদিল খানও একাধিক মামলার আসামি। এরপর থেকেই তাঁরা দু’জনই পলাতক রয়েছেন। পরবর্তীতে একই বছরের ১ ডিসেম্বর দুই নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। গত বৃহস্পতিবার(২ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়- ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের প্রকল্প, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, উন্নয়ন সহায়তা, রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল, বার্ষিক বাজেটের ১ শতাংশ প্রকল্প, হাটবাজারের রাস্তা নির্মাণসহ ৩১টি প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়- তিনি সব ক্ষেত্রেই একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এতে পরিষদের সদস্যরা মতামত দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রকল্প বন্টনের ফলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গোড়াই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলাউদ্দিন বলেন, ডিসি অফিসে একসঙ্গে ৭মেম্বার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমাদের ঠকানো হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।

গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। যে প্রকল্পগুলোর কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। তবে রেজুলেশন করা হয়েছে। এছাড়া মেম্বাররা অনেক প্রকল্পের সভাপতি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যরা মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (স্থানীয় সরকার শাখা) মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, এরকম একটি অভিযোগ পেয়েছি। ডিসি স্যারের নির্দেশনায় বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।