আজ-বুধবার ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২, ১৩ শাওয়াল ১৪৪৭

টাঙ্গাইলে মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস

জ্বালানি সংকটে আকর্ষণীয় অফারেও ক্রেতারা বিমুখ

D
Dristy TVপ্রকাশ: ১ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ০২:২৯
টাঙ্গাইলে মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস

আবু জুবায়ের উজ্জল:

জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের প্রভাব পড়েছে টাঙ্গাইলের মোটরসাইকেল শোরুমগুলোতে। মোটরসাইকেল বিক্রি কমে যাওয়ায় বিক্রেতারা আকর্ষণীয় অফারের ঘোষণা দিলেও ক্রেতার দেখা মিলছেনা। বুধবার(১ এপ্রিল) টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন মোটরসাইকেলের শোরুমে এ চিত্র দেখা গেছে।

জানা যায়, পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও কাক্সিক্ষত জ্বালানি তেল মিলছে না। ফলে, অনেক চালক মোটরসাইকেল রেখে দিয়েছেন এবং গ্রাহকরা নতুন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ হারাচ্ছেন। উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ড ইয়ামাহা, সুজুকি, হিরো, টিভিএস, বাজাজ ইত্যাদি কোম্পানির মোটরসাইকেল শোরুমগুলোতে আকর্ষণীয় ছাড়, উপহার ও ক্যাশব্যাক অফার দিয়েও ব্যবসায়ীরা ক্রেতা টানতে পারছেনা। এতে প্রায় ৫০ শতাংশ মোটরসাইকেল বিক্রি কমেছে।

ঈদুল ফিতর এবং আগামি ঈদুল আযাহার জন্য বিভিন্ন কোম্পানি ডিসকাউন্ট, উপহার, ক্যাশব্যাকসহ নানা অফার চালু করলেও জ্বালানি তেলের কৃত্তিম সংকটের কারণে সেগুলোতে খুব একটা সাড়া মিলছে না।

বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রেতাদের ভাষ্য, তেলের সংকটের কারণে প্রায় সব ব্র্যান্ডের শোরুমেই বিক্রির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার থাকলেও তুলনামূলকভাবে বিক্রি বাড়ছে না। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রত্যাশিত পরিমাণ মোটরসাইকেল বিক্রির প্রায় ৫০ শতাংশও হয়নি।

টাঙ্গাইল শহরের হিরো মোটরসাইকেলের শোরুমের ম্যানেজার আসাদুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেল শোরুমে ক্রেতাশূন্য অবস্থায় অলস সময় পার করছেন। তাদের মত সবারই একই অবস্থা। কারো কোনো বিক্রি নেই।

টিভিএস শোরুমের ম্যানেজার রাব্বি জানান, কৃত্তিম জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে মোটরসাইকেল বিক্রি কমে গেছে। একটি মোটরসাইকেলে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দেওয়া হচ্ছে। তবুও কাক্সিক্ষত ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছেনা। এ সংকটময় সময় দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবেনা। না হলে ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নেমে আসবে।

শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের ‘বাঁকামিয়ার’ ব্রিজ সংলগ্ন নিরঞ্জন আরিফ মোটরসাইকেল ওয়ার্কশপের মালিক আরিফ হোসেন জানান, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে বাইকাররা তুলনামূলক মোটরসাইকেল কম বের করছেন। এর ফলে সার্ভিস সেন্টারগুলোতেও মোটরসাইকেল কম আসছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন এ খাতের টেকনিশিয়ানরা।

টেকনিশিয়ান নিরঞ্জন জানান, চলমান জ্বালানি সংকট কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। বেশি দিন স্থায়ী হলে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে হবে।

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্প থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। মোটরসাইকেলে তেল নিতে রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট ইত্যাদি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর প্রভাবে বিআরটিএ অফিসে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে উল্লেখযোগ্য হারে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন বেড়েছে।

বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন জানান, মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল না দেওয়ায় গত মাসের তুলনায় রেজিস্ট্রেশন বেড়েছে দ্বিগুণ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন হয় ৩৬৯টি, অথচ মার্চ মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬৯টিতে।