DristyTV

একটি ভিডিওর কল্যাণে রাতারাতি ভাইরাল তাইজুল

D
Dristy TVপ্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ০১:৪৪
একটি ভিডিওর কল্যাণে রাতারাতি ভাইরাল তাইজুল

দৃষ্টি ডেস্ক:

‌‘জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? সাদাডা কত, লালডা কত? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হইতাম’ দোকানিকে এমন প্রশ্ন করে এখন দেশব্যাপী আলোচিত নাম তাইজুল ইসলাম। কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাজু ভাই ২.০’ এর তাইজুল ইসলামকে (৩০) কয়েকদিন আগেও তেমন কেউই চিনতেন না। ফেসবুকে ফলোয়ার ছিল মাত্র কয়েক হাজারের মতো। সেই তাইজুল ইসলামের ফলোয়ার এখন লাখ লাখ। মাত্র একটি ভিডিওর কল্যাণে রাতারাতি ভাইরাল বনে গেছেন তিনি।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম। অভাব-অনটনের কারণে কোনোদিন স্কুলের বারান্দায় পা রাখা হয়নি তার। তবে অজপাড়াগাঁয়ে বাস করা এই যুবকের একটি ভিডিও সম্প্রতি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে। ‌‘জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? সাদাডা কত, লালডা কত? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হইতাম’ দোকানিকে এমন প্রশ্ন করে এখন দেশব্যাপী আলোচিত নাম তাইজুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এখন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামেই পরিচিত। হুহু করে বাড়ছে তার ফলোয়ার।

‘তাজু ভাই ২.০’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে মহান স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে স্থানীয় নারায়ণপুর বাজারে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও করেন। ভিডিওতে তিনি দোকানির কাছে জানতে চান, জিলাপি ‘সরকারি রেটে’ বিক্রি হচ্ছে কি-না। তার এই সহজ-সরল উপস্থাপনার ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, তাজু ভাই স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে জিলাপি বিক্রি নিয়ে গ্রাম্য ভাষায় কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক এখানে দোকানপাট, অনেক জিলাপি ভাজতেছে। তার কাছে আমি প্রশ্ন করবো জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?’ এরপরই তিনি দোকানিকে প্রশ্ন করেন, ‘জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? যদি জনগণকে বলতেন তাহলে অনেক খুশি হইতাম।’ এ ভিডিওর পর তাইজুল ইসলামের ফলোয়ার বাড়ছে হুহু করে। বর্তমানে তার ফলোয়ার লাখ লাখ। ভাইরাল হওয়ার আগে যা ছিল মাত্র ছয় হাজার।

জিলাপি বিক্রির ওই ভিডিওটি এরইমধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ দেখেছেন। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদল তার সরলতার প্রশংসা করলেও অন্যদল তাকে নিয়ে ট্রোল বা ব্যঙ্গ করছেন।

ব্যক্তিজীবনে তাইজুল ইসলাম নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার)। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কাজের ফাঁকে শখের বশে এমন মজার ভিডিও তৈরি করেন তিনি।

এ বিষয়ে তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই আমি ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না। আপনারা সাংবাদিকরা নারায়ণপুরে আসেন না, আমাদের এলাকার খবর করেন না তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে ট্রোল করলেও আমার কষ্ট নেই। আমি শুধু চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।’

নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ওই ছেলের বাড়ি আমার পরিষদের সামনেই। তবে সে যে ভিডিও করে ভাইরাল হয়েছে, তা প্রথম শুনলাম।’